34 - শিকার ও যবেহ অধ্যায়
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি শিকারের উদ্দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেই এবং সেগুলো শিকার ধরে আমার জন্য রেখে দেয়, (নিজেরা খায় না) আমি কুকুরগুলোকে ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে ছাড়ি। তিনি বললেনঃ যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকো তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, যদি এরা শিকারকে হত্যা করে? তিনি বললেনঃ যদিও হত্যা করে ফেলে তবে তার সাথে যদি অন্য কুকুর শারীক না হয়। আমি তাকে বললাম, আমি শিকারের উদ্দেশে মি'রায' (কাঠ বা তীক্ষ ছড়ি) নিক্ষেপ করে থাকি এবং শিকার পেয়েও থাকি? তিনি বললেনঃ তুমি মি'রায নিক্ষেপ করার পর তাতে শিকারের সম্মুখভাগ প্রবিষ্ট হয়ে শিকার মারা গেলে তবে তুমি তা খেতে পারো। আর যদি নিক্ষিপ্ত ফলকের চ্যাপ্টা (বিপরীত) দিকের আঘাতে শিকার মারা যায়, তবে তুমি তা খেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম খণ্ড-৪৮১৯, ইসলামিক সেন্টার ৬ষ্ঠ খণ্ড)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা এমন সম্প্রদায় যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করে থাকি। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছাড়লে তাদের শিকার করা পশু খেতে পারো, যদিও তারা তা মেরে ফেলে। তবে কুকুর তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তা খাবে না। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে হয়তো এ শিকার নিজের জন্যেই ধরেছে। আর যদি এ শিকারে অন্য কুকুর শারীক হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা খাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২০, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আম্বারী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এর ধারালো অংশ দ্বারা শিকার মারা গেলে তুমি তা খেতে পারবে, আর যদি এর পাশের অংশের আঘাতে শিকার মারা যায় তবে তা (কুরআনে বর্ণিত) ওয়াকীয' বা পিটিয়ে নিহত করার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তুমি তা খাবে না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কুকুর সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার কুকুর ছেড়ে থাকলে তুমি তা খেতে পারো। যদি কুকুর শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা সেটা সে তার নিজের জন্যেই ধরেছে। আমি বললাম, যদি আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখি এবং কে শিকার ধরেছে তা ঠিক করতে না পারি? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েছ, অন্যটির উপর নাওনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ...... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু নাফি আবদী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মি'রায সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম ... (অবশিষ্ট অংশ) পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রায’ দ্বারা শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তিনি বললেনঃ ধারালো অংশ দ্বারা নিহত হলে খেতে পারো। আর যদি তীরের পার্শ্ব ভাগ লেগে নিহত হয় তাহলে সেটা ‘ওয়াকীয’ শ্ৰেণীভুক্ত। আমি তাকে কুকুরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ সে তোমার জন্য যে শিকার ধরে রাখবে এবং তা থেকে সে না খায়, তাহলে তুমি তা খেতে পার। কারণ তার শিকার করাই ছিল যাবাহ গণ্য হবে। তবে যদি তুমি তার পাশে অন্য কুকুর দেখ এবং তোমার আশঙ্কা হয় যে, শিকার ধরায় সেটাও শামিল ছিল এবং সে কুকুরই হয়তো শিকার হত্যা করেছে, তবে তুমি তা খেও না। কেননা তুমি তো শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লা-হ' বলেছ, অন্য কুকুরের উপর তা বলনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... যাকারিয়া ইবনু আবূ যায়িদাহ্ (রহঃ) হতে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনু আবদুল হামিদ (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) ছিলেন আমাদের প্রতিবেশী, ব্যবসায়ের অংশীদার এবং নাহরাইন-এ আমাদের সহকর্মী। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, আমি আমার কুকুরকে (শিকারের উদ্দেশে) ছেড়ে থাকি এবং পরে আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুরও দেখতে পাই, সেটির সাথে শিকারও দেখতে পাই। আমি অবহিত নই কোন কুকুরটি শিকার ধরেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি কেবল তোমার কুকুর ছাড়ার সময়ই আল্লাহর নাম নিয়েছ; অন্যটির উপরে আল্লাহর নাম নাওনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৭, ইসলামিক সেন্টার)
ওয়ালীদ ইবনু শুজা আস-সাকূনী (রহঃ) ..... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নেবে। তারপর যদি সে তোমার জন্য শিকার ধরে রাখে এবং তুমি তা জীবিত পাও, তবে তুমি তাকে যবহ করবে। আর যদি মৃত পাও অথচ সে এর কোন অংশ খায়নি, তাহলে তুমি তা খেতে পার। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখ আর শিকারও মৃত, তবে তা খাবে না। কেননা তুমি তো অবহিত নও, কোন্ কুকুরটি শিকার হত্যা করেছে। আর তুমি তীর ছোড়ার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই ছুড়বে। অতঃপর শিকার একদিন পর্যন্ত নিরুদ্দেশ থাকার পর তা পেলে, তাতে যদি তোমার তীরের ক্ষত আঘাত ব্যতীত অন্য চিহ্ন না দেখ, তবে ইচ্ছে হলে তা খেতে পারো। তবে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পেলে তা খেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ...... আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে তখন বিসমিল্লা-হ' বলবে। যদি শিকার মৃত পাও, তবে তা খেতে পার। কিন্তু যদি তা পানিতে পাও তবে খেও না। কারণ তুমি তো অবহিত নও যে, পানিই তাকে হত্যা করেছে, নাকি তোমার তীর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮২৯, ইসলামিক সেন্টার)
হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... আবূ সা'লাবাহ খুশানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আহলে কিতাবের এলাকায় থাকি, আমরা তাদের পাত্রে আহার করে থাকি এবং আমরা শিকারের এলাকায় থাকি। আমি আমার ধনুক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করি, পাশাপাশি অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারাও শিকার করে থাকি। অতএব আমার জন্য কোনটি হালাল তা আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যে বললে তোমরা কিতাবধারীদের এলাকায় বাস করো এবং তাদের পাত্রে আহার করো; যদি তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র পাও তবে তাদের পাত্রে আহার করো না। আর যদি অন্য পাত্র না পাও, তবে তা ধুয়ে নেয়ার পর খাবে। তুমি যে বললে, তোমরা শিকারের এলাকায় বসবাস করো। এর বিধান হলো, তোমার ধনুক দ্বারা শিকার হত্যা করার সময় আল্লাহর নাম নিয়ে ধনুক ছুড়বে, তারপর তা খাবে। আর তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে তাও প্রেরণের সময় আল্লাহর নাম নিবে, অতঃপর তা খাবে। আর তোমার অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করবে তা যাবাহ করার সুযোগ পেলে তা খাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ তাহির ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... হাইওয়াহ্ (রহঃ) হতে এ সানাদে এ হাদীসটি ইবনু মুবারাক (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনু ওয়াহব তার হাদীসে ধনুক দ্বারা শিকারের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ...... আবূ সা'লাবাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তুমি তীর নিক্ষেপের পর শিকার যদি নিরুদ্দেশ হয়ে যায় এবং পরে তা পেয়ে যাও, তাহলে শিকার দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তা খেতে পারো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩২, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ (রহঃ) ..... আবূ সালাবাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে কেউ তার শিকার তিনদিন পরে পেলে তা দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ সা'লাবাহ খুশানী (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তাতে তিনি দুর্গন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। আর তিনি কুকুর (এর শিকার) সম্পর্কে বলেছেনঃ তিন দিন পরেও তা খেতে পারবে- তবে পচে গেলে তা ফেলে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) .... আবূ সা'লাবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন। ইসহাক এবং ইবনু আবূ উমার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আরো রয়েছে, যুহরী বলেছেন, আমরা এ হাদীসটি সিরিয়ায় আসার পূর্বে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... আবূ সা'লাবাহ খুশানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের হিংস্র জন্তু খেতে বারণ করেছেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীসটি হিজাযে আমাদের আলিমদের কাছে শুনিনি। শেষ পর্যন্ত আবূ ইদরীস (রহঃ) তা আমার কাছে বর্ণনা করেন। আর তিনি ছিলেন সিরিয়ার ফিকাহবিদদের অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) ..... আবূ সা'লাবাহ খুশানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ তাহির, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে এ সানাদে ইউনুস ও আমর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তারা সকলেই খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সালিহ্ ও ইউসুফ এর বর্ণনায় খাওয়ার কথা উল্লেখ নেই। তাদের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি হিংস্র পশু থেকে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল প্রকার হিংস্র জন্তুই খাওয়া হারাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ তাহির (রহঃ) ... মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আম্বারী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের হিংস্র জন্তু এবং সব ধরনের নখরধারী পাখি খেতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) হাজ্জাজ ইবনু শা'ইর (রহঃ) ..... শু’বাহ্ (রহঃ) এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪০, ইসলামিক সেন্টার, নেই)
(…/...) আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার হিংস্র জন্তু এবং নখরধারী শিকারী পাখি (খেতে) নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪১, ইসলামিক সেন্টার, নেই)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন ......। অবশিষ্ট অংশ শু'বাহ হতে হাকাম (রহঃ) এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪২, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদাহকে আমাদের আমীর বানিয়ে আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন কুরায়শদের একটি কাফিলাকে রোধ করার জন্য। তিনি আমাদের সাথে এক থলে খেজুর দিয়ে দিলেন। এছাড়া আমাদের জন্য অন্য কিছু দেয়ার মত পেলেন না। আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) আমাদেরকে একটি করে খেজুর দিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এই একটি মাত্র খেজুর দিয়ে আপনারা কিভাবে কী করতেন? আমি বললাম, আমরা তা চুষতাম যেভাবে শিশুরা চুষে থাকে। তারপর পানি পান করতাম, আর এটাই আমাদের দিবারাত্রের জন্য যথেষ্ট হতো। এছাড়া আমরা আমাদের লাঠি দিয়ে গাছের পাতা পেড়ে পানিতে তা ভিজিয়ে নিয়ে তা খেতাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা সাগর উপকূল দিয়ে চলতে লাগলাম। হঠাৎ সমুদ্রোপকূলে উঁচু ঢিবির মতো কী যেন একটি আমাদের সামনে ভেসে উঠলো। আমরা সেটির কাছে গিয়ে দেখলাম, তা একটি জন্তু, যাকে 'আম্বর' বলে অভিহিত করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) বললেন, এতো মৃত জন্তু। তারপর বললেন, না, বরং আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেরিত দূত এবং আমরা আল্লাহর পথেই আছি। এখন তো তোমরা প্রাণান্তকর অবস্থায় রয়েছ, সুতরাং তোমরা তা খেতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দীর্ঘ একমাস আমরা তিনশ' লোক তা খেয়েই কাটালাম এবং আমরা মোটাতাজা হয়ে উঠলাম। রাবী বলেন, আমি দেখেছি, কিভাবে কলসীর পর কলসী ভরে তৈল (চর্বি) আমরা তার চক্ষুর কোটর থেকে বের করি এবং তার দেহ থেকে এক একটি ষাড় পরিমাণ গোশতের টুকরা কেটে নেই। তারপর আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) আমাদের মধ্যকার তের জনকে ডেকে নিলেন এবং ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে বসিয়ে দিলেন। তিনি জন্তুটির পাঁজরের একটি অস্থি তুলে দাঁড় করিয়ে আমাদের সর্বাধিক বড় উটটির উপর হাওদা চড়ালেন আর সে উটটি দিব্যি তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। তারপর অবশিষ্ট গোশত আমরা সিদ্ধ করে আমাদের পাথেয় রূপে নিয়ে আসলাম। যখন আমরা মাদীনায় ফিরে এলাম তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এটা হচ্ছে রিযক যা আল্লাহ তোমাদের জন্যই বের করেছিলেন। তোমাদের কাছে তার অবশিষ্ট কিছু গোশত আছে কি আমাকে তা খেতে দিতে পারবে? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার কিছু অংশ পাঠালাম এবং তিনি তা খেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল জাব্বার ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। আমরা তিনশ' আরোহী ছিলাম এবং আবূ উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাযিঃ) ছিলেন আমাদের দলনেতা। আমরা কুরায়শের একটি কাফেলার জন্য ওৎ পেতে ছিলাম। অর্ধমাস পর্যন্ত আমরা সমুদ্রোপকূলে অবস্থান করলাম। তখন আমরা খুবই খাদ্যাভাবে পড়লাম এবং আমরা (বাধ্য হয়ে) গাছের পাতা খেলাম। তাই এ বাহিনীর নাম দেয়া হলো 'জাইশুল খাবাত' বা লতা-পাতার বাহিনী। এ সময় সমুদ্র আমাদের জন্য একটি জন্তু (বিরাট মাছ) নিক্ষেপ করলো- যাকে 'আম্বর' বলা হয়। আমরা অর্ধমাস পর্যন্ত তা খেলাম এবং তার তেল আমাদের গায়ে মালিশ করলাম, তাতে আমাদের দেহ মোটাতাজা হয়ে উঠলো। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) জন্তুটির পাঁজরের একটি হাড় নিয়ে খাড়া করলেন, তারপর বাহিনীর সবচেয়ে লম্বা লোকটি এবং উচ্চতর উটটির উপরে তুলে ধরলেন। তারপর ঐ ব্যক্তিটিকে ঐ উটের উপর চড়িয়ে দিলেন। আর সে অনায়াসে এর নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে অনেকগুলো লোক একত্রে বসলেন। রাবী বলেন, আর আমরা তার চোখ থেকে এত এত কলস ভর্তি চর্বি বের করি। বর্ণনাকারী আরও বলেন, তখন আমাদের নিকট এক বস্তা খেজুর ছিল। আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) প্রথমে আমাদের প্রত্যেককে এক মুষ্টি করে খেজুর দিলেন। তারপর শেষদিকে তিনি আমাদের জনপ্রতি একটি করে খেজুর দিতেন। যখন তাও শেষ হয়ে গেল তখন আমরা অভাব অনুভব করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবদুল জাব্বার ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আমর (রহঃ) কে 'জাইশুল খাবাত সম্পর্কে বলতে শুনেছেনঃ এক ব্যক্তি প্রথমে তিনটি উট যবাহ করল, তারপর আরও তিনটি, অতঃপর আরও তিনটি। তারপর আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। বাহিনীতে আমরা ছিলাম তিনশ’ জন। আমরা আমাদের রসদপত্র আমাদের কাঁধে বহন করেছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদাহ ইবনু জাররাহ (রাযিঃ)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করে তিনশ' লোকের একটি বাহিনী পাঠালেন। তাদের পাথেয় প্রায় শেষ হয়ে গেলে আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ) সকলের পাথেয় একই পাত্রে জমা করে আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন খাদ্য সরবরাহ করতেন। তখন আমাদের প্রত্যেকের ভাগে দৈনিক একটি করে খেজুর পড়তো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাহিনীকে সমুদ্রোপকূলে প্রেরণ করেন। আমি সে দলেই ছিলাম। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ 'আমর ইবনু দীনার ও আবূ যুবায়র (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে ওয়াহব ইবনু কায়সান (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, সেনাবাহিনী আঠার দিন পর্যন্ত মাছটি খেয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাজ্জাজ ইবনু শা'ইর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাহিনীকে জুহাইনাহ গোত্রের এলাকায় পাঠালেন এবং এক লোককে তার সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। অবশিষ্ট অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। খাইবার যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাথে মুত্'আহ বিবাহ করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৩৪৩১] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫০, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ভিন্ন সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ তাহির, হারমালাহ, ইসহাক ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে ইউনুস এর বর্ণনায় রয়েছে, গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫১, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ সালাবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত (খাওয়া) হারাম করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে বারণ করেছেন। [দ্রষ্টব্য হাদীস ১২৪৮] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…) হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... 'উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেন অথচ সেদিন লোকদের খাদ্যাভাব ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আলী ইবনু মুসহির শাইবানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) কে গৃহপালিত গাধার গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, খাইবারের দিন আমাদের ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছিল। এখনে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গেই ছিলাম। শহরের বাইরে আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। সুতরাং আমরা সেগুলো যাবাহ করলাম। আমাদের ডেগচীসমূহ যখন টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোষণা করল, ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবং গাধার গোশতের সামান্য অংশও খেয়ো না। আমি বললাম, কোন ধরনের গাধার গোশত হারাম? রাবী বলেন, আমরা নিজেরা এ বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং বললাম, একেবারেই হারাম অথবা গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বাদ না দিয়ে রান্না করার কারণেই তা হারাম করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... সুলাইমান শাইবানী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, খাইবারের রাতগুলোতে আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হই। অতঃপর খাইবারের দিন আমরা গৃহপালিত গাধা পেয়ে তাতে ঝাপিয়ে পড়লাম এবং সেগুলো যাবাহ করলাম। যখন এর গোশত ডেগচীতে টগবগ করছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোযণা করল যে, ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও এবং গাধাগুলোর গোশত একটুও খেয়ো না। রাবী বলেন, তখন কিছু লোক বললো, যেহেতু গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ বের করা হয়নি তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম করেছেন। অন্যরা বললো, না, তা চিরকালের জন্যই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) বলেন, আমি বারা এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। যখন আমরা তা রান্না করছি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোষণা করলো, তোমাদের ডেগচীগুলো উল্টিয়ে ফেলে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) বলেন, খাইবার যুদ্ধের দিন আমরা কিছু গৃহপালিত গাধা পেলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোষণা করলো, ডেগচীগুলো উল্টে ফেলে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৮, ইসলামিক সেন্টার, নেই)
আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সাবিত ইবনু উবায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত কাঁচা বা রান্না করা যাই হোক তা ফেলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর তিনি কখনো তা খেতে নির্দেশ দেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ..... আসিম (রহঃ) হতে এ সানাদে উক্ত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬০, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউসুফ আযদী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবহিত নই, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষেধ করার কারণ কি এটা ছিল কিনা যে, এগুলো লোকের সওয়ারী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই সওয়ারী নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এরূপ অপছন্দ করলেন। অথবা খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত তিনি চিরদিনের জন্য হারাম করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খাইবার অভিমুখে রওনা হলাম। আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ী করলেন। বিজয় দিবসের সন্ধ্যা বেলায় অনেক (চুলায়) আগুন জ্বালানো হয়। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, এসব কিসের আগুন? কি রান্না হচ্ছে? কোন জিনিসের উপর তোমরা আগুন জ্বালিয়েছ? লোকেরা বললো, গোশত রান্না করা হচ্ছে। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কিসের গোশত? জবাবে লোকেরা বললো, গৃহপালিত গাধার গোশত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এগুলো ফেলে দাও এবং হাড়ি-পাতিলগুলো ভেঙ্গে ফেল। তখন এক ব্যক্তি বলল, আমরা এগুলো ফেলে দিয়ে হাড়ি-পাতিলগুলো ধুয়ে নিব কি? তিনি বললেন, এটাও করতে পারো। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৬৬৮] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬২, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবূ বাকর ইবনু নাযর (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে এ সানাদে (অনুরূপ) হাদীস বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ 'উমার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবার জয় করেন তখন আমরা শহরের বাইরে কিছু গাধা পেলাম। আমরা কিছু গাধা (যাবাহ করে) রান্না করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোষণা করলোঃ জেনে রাখো, আল্লাহ ও তার রসূল তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিযেধ করেছেন। কেননা তা শাইতানের ঘৃণ্য কাজ। রাবী বলেন, তারপর ডেগচীগুলো গোশতসহ উল্টিয়ে ফেলা হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের দিন এক আগম্ভক এসে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! গাধাগুলো যাবাহ করে খাওয়া হচ্ছে। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! গাধাগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলে তদনুযায়ী তিনি ঘোষণা করলেনঃ 'আল্লাহ এবং তার রসূল উভয়েই তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কারণ তা ঘৃণ্যবস্তু বা অপবিত্র। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর পাতিলগুলো গোশতসহ উল্টে ফেলে দেয়া হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ রাবী' আতাকী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিযেধ করেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, খাইবারে আমরা ঘোড়া এবং বন্য গাধার গোশত খেয়েছি। পক্ষান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ তাহির, ইয়াকুব দাওরাকী ও আহমাদ ইবনু উসমান নাওফালী (রহঃ) ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৭, ইসলামিক সেন্টার ৪৮৬৮/ক)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা ঘোড়া যাবাহ করে খেয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৮ ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) হতে এ সানাদে (অনুরূপ) হাদীস বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ….. ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি তা খাই না, এবং তা হারামও বলি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭০, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা এক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আমি তা খাই না এবং তা (খাওয়া) হারামও বলি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে বসা অবস্থায় দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তা খাই না এবং তা (খাওয়াকে) হারামও বলি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭২, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী', কুতাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) সূত্রে ও ইবনু উমার (রাযিঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে লায়স কর্তৃক নাফি'র মাধ্যমে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে আইয়্যুব বর্ণিত হাদীসে আরো রয়েছে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত নিয়ে আসা হলো। তিনি তা খাননি এবং হারামও বলেননি। আর উসামাহ্ (রাযিঃ)-এর হাদীসে রয়েছে, ‘এক লোক মসজিদে দাঁড়ালো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে বসা ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তার কতিপয় সাহাবী ছিলেন। যাদের মধ্যে সা'দ (রাযিঃ)-ও ছিলেন। তাদের সম্মুখে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত আনা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক স্ত্রী উচ্চস্বরে বললেন, এটা কিন্তু দব্বের গোশত! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা খেয়ে নাও, কারণ এটা হালাল, তবে এটা আমার খাদ্য নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ..... তওবা্ আম্বরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শা'বী (রহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাসান (রাযিঃ) এর হাদীসটি শুনেছেন? আমি তো প্রায় দু’বছর কিংবা দেড় বছর ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম, কিন্তু তাকে এ হাদীসটি ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্য কিছু বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবীর মধ্যে সা'দ (রাযিঃ)-ও ছিলেন, অতঃপর (বাকী অংশ) মুআয (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাইমূনাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। তখন ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পরিবেশন করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নেয়ার জন্য হাত বাড়ালেন। তখন মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) এর বাড়িতে উপস্থিত জনৈক মহিলা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা খেতে চাইছেন সে সম্বন্ধে তোমরা তাকে জানাও। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খাবার থেকে) তার হাত তুলে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি হারাম? তিনি বললেন, না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকার প্রাণী নয়, তাই আমি তা অপছন্দ করি। খালিদ (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি তা টেনে নিয়ে খেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দৃশ্য দেখছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) যাকে সাইফুল্লাহ বলা হয়, তার হতে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে ঢুকলেন। তিনি ছিলেন তার ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর খালা। এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) দেখতে পান, যা তার (মাইমূনাহর) বোন হুফাইদাহ বিনতু হারিস নাজদ থেকে এনেছিল। তিনি দব্বটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পরিবেশন করলেন। তার অভ্যাস ছিল কোন খাদ্যের বিবরণ ও তার নাম উল্লেখ না করা পর্যন্ত তিনি সে দিকে কম-ই হাত বাড়াতেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দব্বটির দিকে হাত বাড়ালে উপস্থিত জনৈকা মহিলা বললেন, তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যা পেশ করছে সে সম্বন্ধে তাকে জানিয়ে দাও। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! এটা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত তুলে নিলেন। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটা কি হারাম? তিনি বললেন, না। তবে যেহেতু এটা আমার এলাকাতে নেই তাই আমি এটা পছন্দ করি না। খালিদ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি ওটা টেনে নিয়ে খাচ্ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখছিলেন। তবে তিনি আমাকে নিষেধ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু নাযর ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) তাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তার খালা মাইমূনাহ্ বিনতু হারিস (রাযিঃ) এর ঘরে যান। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত পরিবেশন করা হয়, যা উম্মু হুফায়দ বিনতু হারিস নাজদ থেকে নিয়ে এনেছিলেন। তিনি ছিলেন বানু জাফার গোত্রের এক ব্যক্তির সহধর্মিণী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বস্তুর বিবরণ না জানা পর্যন্ত তা খেতেন না। বাকী অংশ বর্ণনাকারী ইউনুস (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, ইবনু আসাম মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তার ঘরেই ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার ৪৮৮০)।
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাইমূনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে ছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দুটি ভুনা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পেশ করা হলো। বাকী অংশ উক্ত হাদীসসমূহের অনুরূপ। তবে বর্ণনাকারী (মা'মার) "মাইমূনাহ (রাযিঃ) থেকে ইয়াযীদ ইবনু আসাম (রহঃ) এর সূত্র" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) এর ঘরে থাকা অবস্থায় তার নিকটে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত পরিবেশন করা হয়। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) তার সাথেই ছিলেন। ইবনু মুনকাদির বাকী অংশ যুহরী (রহঃ) এর সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও আবূ বাকর ইবনু নাফি' (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা উম্মু হুফায়দ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু ঘি, পনির এবং কয়েকটি দব্ব হাদিয়া স্বরূপ পাঠালেন। তিনি ঘি ও পনির থেকে কিছু খেলেন এবং দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) অরুচিকর হওয়ার দরুন খাওয়া বর্জন করলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তরখানে তা খাওয়া হয়। তা হারাম হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তরখানে তা খাওয়া হতো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আসাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাদীনার এক নববিবাহিত ব্যক্তি আমাদেরকে দাওয়াত করলো এবং আমাদের সামনে তেরটি দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পরিবেশন করা হলো। কিছু লোক তা খেলো আর কিছু লোক তা বর্জন করলো। পরদিন আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তার পাশের লোকজন নানা উক্তি করতে লাগলো, এমনকি তাদের একজন বললোঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এটি খাইও না, নিষেধও করি না এবং হারামও বলি না। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তোমরা যা বলছ তা সঠিক নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হালাল ও হারাম নির্ণয় করার জন্যই পাঠানো হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মাইমূনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে ছিলেন। তার সাথে ফাযল ইবনু আব্বাস, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ও অন্য এক মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তখন তাদের কাছে একটি পাত্র পেশ করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখন মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) তাকে বললেন, এটা দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) এর গোশত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত গুটিয়ে নিয়ে বললেন, এ গোশত আমি কখনোও খাইনি। তিনি তাদের বললেন, তোমরা খেতে পারো। ফাযল, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) এবং ঐ মহিলা তাথেকে খেলেন। মাইমূনাহ (রাযিঃ) বললেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা খান, তাছাড়া অন্য কিছু আমি খাব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রাযিঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) আনা হলে তিনি তা খেতে অস্বীকার করে বললেন, জানি না হয়তো এটা ঐসব উম্মাত থেকে হতে পারে, যাদের বিকৃত করা হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ) কে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি তোমরা খেও না। তিনি তা নোংরা হিসেবে অবহিত করলেন। তিনি আরও বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে হারাম করেননি। মহান আল্লাহ এর দ্বারা অনেক লোককে উপকৃত করেছেন। কেননা, জনসাধারণের খাদ্য এ থেকে আসে। আমার নিকট থাকলে আমিও তা খেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এমন এলাকায় থাকি, যেখানে দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পাওয়া যায়। সুতরাং এ ব্যাপারে আপনি আমাদের কী আদেশ করেন? অথবা বললেন, আপনি এ ব্যাপারে আমাদের কী ফাতাওয়া দেন? তিনি বললেনঃ আমাকে জানানো হয়েছে যে, বনী ইসরাঈলের একটি সম্প্রদায়কে বিকৃত করে দেয়া হয়েছিল। এরপর তিনি আদেশও করেননি, নিষেধও করেননি। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে উমার (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর দ্বারা অনেক লোককে উপকৃত করবেন। কারণ এটা এ উম্মাতের অধিকাংশের খাবার। আমার নিকট থাকলে আমি অবশ্যই তা খেতাম। তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি কেবল অপছন্দ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আমি এমন নিম্নাঞ্চলে বাস করি যেখানে প্রচুর দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) পাওয়া যায়। এটা আমার পরিবারের সাধারণ খাদ্য। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কোন জবাব দিলেন না। আমরা তাকে বললাম, আবার জিজ্ঞেস করো। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলে তিনি এবারও কোন জবাব দিলেন না। অতঃপর তৃতীয়বারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেনঃ হে বেদুঈন মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলের একটি সম্প্রদায়ের প্রতি অভিসম্পাত করেন, অথবা ক্রোধান্বিত হয়ে তাদের আকৃতি বিকৃত করে স্থলচর প্রাণীতে রূপান্তরিত করে দেন। আমি অবহিত নই যে, এটা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত কিনা। সুতরাং আমি তা খাইও না এবং এ থেকে নিষেধও করি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাতটি যুদ্ধে যোগদান করেছি, তখন আমরা টিডডি খেয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) সকলেই ইবনু উয়ায়নাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে আবূ ইয়া'ফুর (রহঃ) হতে উল্লিখিত সানাদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ বাকর (রহঃ) তার বর্ণনায় সাতটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। ইসহাক বলেছেন, ছয়টি এবং ইবনু আবূ উমার (রহঃ) বলেছেন, ছয়টি কিংবা সাতটি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ ইয়াকুব (রহঃ) হতে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাতটি যুদ্ধ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা চলতে চলতে মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌছলে সেখানে একটি খরগোশকে ধাওয়া করলাম। লোকজনও সেটাকে ধাওয়া করলো এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তিনি বলেন, অবশেষে আমি ধাওয়া করে ওটা ধরে ফেলি এবং আবূ তালহার কাছে নিয়ে আসি। তিনি এটাকে যাবাহ করলেন এবং এর পেছনের অংশ ও উভয় রান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। আমি এগুলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এলে তিনি তা গ্রহণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ...... শু’বাহ্ (রহঃ) হতে এ সানাদে হাদীসটি বর্ণিত। তবে ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, এর পিছনের অংশ কিংবা উভয় রান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯১, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয 'আম্বারী (রহঃ) ..... ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) তার সঙ্গীদের একজনকে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে তাকে বললেন, পাথর মারবে না। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর মারা অপছন্দ করতেন। অথবা বলেছেন, নিষেধ করতেন। কারণ এর দ্বারা শিকার করাও যায় না এবং শক্রকে ঘায়েল করাও যায় না; বরং এটি দাত ভাঙ্গে এবং চক্ষুতে ক্ষত করে। পরবর্তীতে তাকে আবারো পাথর ছুড়তে দেখে তিনি বললেন, আমি তোমাকে জানালাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ পছন্দ করতেন না, অথবা তা নিষেধ করতেন। তবুও তোমাকে পাথর ছুড়তে দেখছি? আমি তোমার সাথে এত এত দিন কথা বলব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ দাউদ সুলাইমান ইবনু মা'বাদ (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আমর বলেন, কাহমাস (রহঃ) এ সানাদে আমাদের কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট ছোট পাথর ছুড়তে বারণ করেছেন। ইবনু জা'ফার (রহঃ) তাঁর বর্ণনাতে বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেনঃ এটা শক্রকে পরাভূত করে না, শিকারও মারতে পারে না বরং এটা দাঁত ভাঙ্গে এবং চোখে আঘাত করে। ইবনু মাহদী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন, এটা শক্রকে আঘাত করে না। তিনি “চোখে আঘাত করার কথা” উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) এর একজন নিজের লোক ছোট ছোট পাথর ছুড়লে তিনি তাকে তা করতে বারণ করেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এটা না শিকার করতে পারে আর না শক্রকে পরাভূত করতে পারে; বরং এটি দাঁত ভাঙ্গে আর চোখে আঘাত করে। সাঈদ (রহঃ) বলেন, লোকটি যখন পুনরায় এ কাজ করল তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে হাদীস শোনাচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিষেধ করেছেন, এরপরও তুমি কঙ্কর নিক্ষেপ করছো? তোমার সঙ্গে আমি কখনো কথা বলবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... শাদ্দাদ ইবনু আওস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি দুটি কথা মনে রেখেছি, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর ইহসান অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গে হত্যা করবে; আর যখন যাবাহ করবে তখন দয়ার সঙ্গে যাবাহ করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার যাবাহকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৭ ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) হুশায়ম, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, আবূ বাকর ইবনু নাফি' গুনদার, শু'বাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী, মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ সুফইয়ান থেকে, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) জারীর মানসূর থেকে, তারা সকলে খালিদ হাযযা (রহঃ) হতে ইবনু উলাইয়্যাহ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের সানাদ ও অর্থের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... শু'বাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু যায়দ ইবনু আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) এর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আমার দাদা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর সাথে হকাম ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) এর গৃহে গেলাম। সেখানে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি একটি মুরগী বেঁধে তার দিকে তীর নিক্ষেপ করছিল। তিনি বলেন, তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জন্তু বেঁধে সেটিকে তীরের লক্ষ্য বানাতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ), আবূ কুরায়ব (রহঃ) প্রমুখ সকলেই শুবাহ্ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) .... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এমন কোন বস্তুকে (তীর বা বন্দুকের) লক্ষ্যবস্তু বানিও না যার মধ্যে প্রাণ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু জাফার ও আবদুর রহমান ইবনু মাহদী উভয়ে শু'বাহ হতে উল্লেখিত ধারাবাহিকতায় উপরের হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নেই, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি মুরগী বেঁধে সেটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করছিল। তারা ইবনু উমারকে দেখে মুরগীটি ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, কে এ কাজ করলো? যে এমন কাজ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লা'নাত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) কতিপয় কুরায়শ যুবকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার একটি পাখি বেঁধে সেটির দিকে তীর নিক্ষেপ করছিল। আর প্রত্যেকটি নিশানা ব্যর্থ হওয়ার কারণে তারা পাখির মালিকের জন্য একটি করে তীর নির্ধারণ করছিল। তারপর তারা ইবনু উমার (রাযিঃ) কে দেখে আলাদা হয়ে গেল। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, কে এ কাজ করলো? যে ব্যক্তি এরূপ করেছে তার প্রতি আল্লাহর লা'নাত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লা'নাত করেছেন, যে কোন জীব-জন্তকে লক্ষ্যস্থল বানায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে, ভিন্ন সূত্রে আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে, আর একটি সূত্রে হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রাণীকে বেঁধে হত্যা করতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯০৩, ইসলামিক সেন্টার)