অল ইসলাম লাইব্রেরি

56 - তাফসীর অধ্যায়

1

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কয়েকটি হাদীস আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বনী ইসরাঈলদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় সিজদাবনতঃ হয়ে প্রবেশ কর এবং বলো حِطَّةٌ আমাদেরকে ক্ষমা কর। তাহলে আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিব। কিন্তু তারা এ কথার পরিবর্তন করতঃ পাছার উপর ভর করে হেচড়াতে হেঁচড়াতে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল এবং (ক্ষমা মার্জনার স্থলে) حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ অর্থাৎ- যবের শীষে দানা দাও বলতে থাকল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪২, ইসলামিক সেন্টার)

2

আমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়র আন নাকিদ, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইন্তিকালের পূর্বে ও ইন্তিকাল পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। যেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সেদিনও তার প্রতি অনেক ওয়াহী অবতীর্ণ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৩, ইসলামিক সেন্টার)

3

আবু খাইসামাহ যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী লোকেরা উমর (রাযিঃ) কে বলল, তোমরা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকো তা যদি আমাদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হত, তবে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসবের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন, কোথায় ও কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যখন তা অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও জানি। আয়াতটি আরাফার দিন অবতীর্ণ হয়েছিল; রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন। রাবী সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নি’আমাত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিলাম"- (সূরা আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩)। এ আয়াতটি যেদিন অবতীর্ণ হয়েছিল তা জুমুআর দিন ছিল কি-না, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৪, ইসলামিক সেন্টার)

4

আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... ত্বরিক ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন জনৈক ইয়াহুদি উমার (রাযিঃ) কে বলল الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا‏ অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম”— (সূরা আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩) এ আয়াতটি আমাদের ইয়াহুদী সম্প্রদায় সম্বন্ধে অবতীর্ণ হলে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। আমরা জানি, কোন দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। রাবী বলেন, এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেন, কোন দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, কোন সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন, তাও আমি সম্যক অবগত আছি। এ আয়াতটি মুযদালিফার রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আরাফার মাঠে ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৫, ইসলামিক সেন্টার)

5

(…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) এর কাছে এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবের মধ্যে এমন একটি আয়াত আপনারা তিলাওয়াত করে থাকেন। যদি তা আমাদের ইয়াহুদী সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হত তাহলে ঐ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাযিঃ) প্রশ্ন করলেন আয়াতটি কি? সে বলল, আয়াতটি হল الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا‏অর্থাৎ "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম"— (সূরা আল মায়িদাহ ৫ঃ ৩)। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেন, যে দিন, যে স্থানে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে অবশ্যই আমি তা জানি। আয়াতটি জুমুআর দিন আরাফাতের মাঠে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৬, ইসলামিক সেন্টার)

6

আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করলেনঃ “তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে স্ত্রীলোকেদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়। (সূরা আন নিসার) দু’, তিন অথবা চার" এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হে ভাগ্নে! যেসব ইয়াতীম মেয়েরা তাদের তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবকদের সম্পদের অংশীদার হত তার সম্পদের লালসা ও রূপ-যৌবনের সৌন্দর্যের প্রতি উক্ত অভিভাবক তাকে অন্যরা যে পরিমাণ মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে প্রস্তুত ইনসাফের নীতি অনুযায়ী উক্ত পরিমাণ মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে চাইতো না। এ আয়াতে তাদেরকে ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে তাদের মুহরানা প্রদানের ব্যাপারে সর্বোত্তম রীতি-নীতি অনুসরণ করলে তা স্বতন্ত্র কথা। অন্যথায় তাদের পছন্দমত অন্য মেয়েদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উরওয়াহ বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কতিপয় লোক বিষয়টি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ "এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান করো না অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও নিপীড়িত শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। আর যে সৎকাজ তোমরা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৭)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ এর দ্বারা প্রথম আয়াতটিকে বুঝানো হয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে দু’, তিন অথবা চার। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ এর মানে হচ্ছে, অর্থ-সম্পদ ও রূপযৌবন কম থাকার কারণে তোমাদের কেউ ইয়াতীম মেয়েদেরকে বিবাহ করতে অপছন্দ করলে-তাদেরকে অর্থ সম্পদ ও রূপ যৌবনবতী ইয়াতীম স্ত্রীলোককে পছন্দ হলেও বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন না থাকার কারণে পছন্দনীয় না হলেও যদি ইনসাফের ভিত্তিতে মুহরানা পরিশোধ করে তবে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৭, ইসলামিক সেন্টার)

7

(…/...) হাসান আল হুলওয়ানী ও আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... উরওয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেনঃ "তোমরা যদি শঙ্কিত হও যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৩) এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন অতঃপর রাবী ইউনুসের সানাদে যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি رَغْبَةَ أَحَدِكُمْ عَنِ الْيَتِيمَةِ الَّتِي تَكُونُ فِي حَجْرِهِ حِينَ تَكُونُ قَلِيلَةَ الْمَالِ وَالْجَمَالِ এর পরিবর্তেمِنْ أَجْلِ رَغْبَتِهِمْ عَنْهُنَّ إِذَا كُنَّ قَلِيلاَتِ الْمَالِ وَالْجَمَالِ অর্থাৎ "যখন তারা সামান্য সম্পদ ও কম সৌন্দর্যের অধিকারী হয় তখন আর তাদের তত্ত্বাবধায়করা এদেরকে বিয়ে করতে সম্মত হয় না" কথাটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৮, ইসলামিক সেন্টার)

8

(…) আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী, "তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ পুরুষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে ইয়াতীম মহিলা এবং এ পুরুষই হচ্ছে তার ওলী ও অভিভাবক। আর এ মেয়েটির আছে কিছু ধন-সম্পদ। কিন্তু তার পক্ষ সমর্থন করার জন্য সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ওলী এ ধরনের মেয়েকে তার সম্পদের উদ্দেশে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দিতে এবং তার সাথে নিষ্ঠুরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে না। এ ব্যক্তি সম্পর্কেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ তোমরা যদি শঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মাঝে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় দু’, তিন অথবা চার। অর্থাৎ- যে মহিলাদেরকে আমি তোমাদের জন্য হালাল করেছি তাদেরকে বিবাহ করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তুমি নিষ্ঠুর আচরণ করছ তাদের থেকে দূরে থাকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৯, ইসলামিক সেন্টার)

9

(…) আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ “এবং ইয়াতীম মেয়ে সম্পর্কে যাদের অধিকার তোমরা দান করো না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও অসহায় শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৭) বিষয়ে বলেন, এ আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে, যে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যার সাথে সে সম্পদের মধ্যে শারীক আছে। কিন্তু সে তাকে বিয়ে করা অপছন্দ করছে এবং অপর কোন লোকের সঙ্গে তার বিয়ে হোক এটাও অপছন্দ করছে এ আশঙ্কায় যে, সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যাবে। পরিশেষে সে তাকে এমনিই ছেড়ে রাখছে; নিজেও তাকে বিবাহ করছে না এবং অন্য কারো কাছে বিবাহও দিচ্ছে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫০, ইসলামিক সেন্টার)

10

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে বিধান জানতে চায়, বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের ব্যাপারে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন”— (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে রয়েছে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে যার সম্পদে এমনকি খেজুর বাগানেও উক্ত নারী অংশীদার। সে তাকে বিয়ে করতেও আগ্রহী নয় এবং অন্যের কাছে বিয়ে দিতেও আগ্রহী নয়। কেননা তাহলে সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যায়। ফলে সে তাকে বিয়ের ব্যবস্থা না করে এমনিই ফেলে রাখে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫১, ইসলামিক সেন্টার)

11

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পন্থায় আহার করে"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৬)। তিনি বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের ধন-সম্পদের ঐ তত্ত্বাবধায়ক সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, যে তার সম্পদের তত্ত্বাবধান করছে এবং সেটা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। যদি তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি গরীব হয় তবে সে ন্যায়ানুগ পরিমাণ তা হতে পারিশ্রমিক হিসেবে আহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫২, ইসলামিক সেন্টার)

12

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ "যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত থাকে এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পরিমাণ ভোগ করে"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, সে যদি নিতান্তই গরীব হয় তবে সে যেন তার সম্পদ হতে ন্যায়ানুগ পন্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৩, ইসলামিক সেন্টার)

13

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৪, ইসলামিক সেন্টার)

14

আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ "যখন তারা তোমাদের (বিপক্ষে) উপর হতে ও নীচ হতে সমাগত হয়েছিল— (ভয়ের কারণে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গিয়েছিল, তোমাদের প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে নানা রকম বিরূপ ধারণা পোষণ করছিলে" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ১০) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি খন্দক যুদ্ধের দিন অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৫, ইসলামিক সেন্টার)

15

আবূ বাকর ইবনু আবু শইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “কোন সহধর্মিণী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে স্বামী-স্ত্রী যদি সমঝোতা করতে চায় তাদের কোন দোষ নেই এবং সমঝোতা (সন্ধি) সর্বাবস্থায়ই উত্তম”- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, যার সাহচর্যে সে দীর্ঘদিন ছিল। এখন সে তাকে তালাক দিতে চায়। আর মহিলা বলে, আমাকে তালাক দিও না বরং আমাকে তোমার সাথে থাকতে দাও। তবে তোমার জন্য আমার পক্ষ হতে অন্য স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি থাকল। এ প্রসঙ্গে উপরোল্লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৬, ইসলামিক সেন্টার)

16

(…) আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর অসদাচরণ ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে তবে তারা আপোষ-মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোন দোষ নেই বরং সমঝোতাই (সন্ধিই) উত্তম”— (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, সম্ভবতঃ সে তার প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ অনুভব করে না। অথচ সে তার দীর্ঘ সাহচর্যে ছিল এবং তার সন্তান-সন্ততিও রয়েছে। ফলে সে তার স্বামী হতে পৃথক হওয়া অপছন্দ করছে। তখন উক্ত মহিলা তাকে বলছে, তুমি আমার পক্ষ হতে মুক্ত (অন্য স্ত্রী গ্রহণে অনুমতি থাকল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৭, ইসলামিক সেন্টার)

17

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... উরওয়াহ্ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (উরওয়াহ) বলেন, “আয়িশাহ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেনঃ হে ভাগ্নে! লোকেদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের জন্য মাফ চাইতে আদেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের গাল-মন্দ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৮, ইসলামিক সেন্টার)

18

(…/...) আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৯, ইসলামিক সেন্টার)

19

উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফাবাসী লোকেরা মহান আল্লাহর এ বাণীকে কেন্দ্র করে মতভেদে লিপ্ত হলঃ "কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা’নাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৯৩) এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলে আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে আসলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছে। সুতরাং অন্য কোন আয়াত সেটাকে মানসুখ করতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬০, ইসলামিক সেন্টার)

20

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... শু’বাহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইবনু জাফার এর বর্ণনায় আছে فِي آخِرِ مَا أُنْزِلَ ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আর নায্‌র এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে إِنَّهَا لَمِنْ آخِرِ مَا أُنْزِلَتْ নিশ্চয় ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬১, ইসলামিক সেন্টার)

21

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা আমাকে নিম্নোক্ত দুটি আয়াতের ব্যাপারে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করার জন্য আদেশ দিলেন। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, "কেউ স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করলে"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৯৩) এর হুকুম সম্বন্ধে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, কোন আয়াত এ আয়াতটিকে রহিত করেনি। আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে, "এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মা’বূদকে আহ্বান করে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না"- (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। এ সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এ আয়াতটি মুশরিকদের বিষয়ে নাযিল হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬২, ইসলামিক সেন্টার)

22

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "এবং তারা আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে স্থায়ী হবে লাঞ্ছিত অবস্থায়"- (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। উক্ত আয়াতটি মাক্কায় অবতীর্ণ হবার পর মুশরিকরা বলতে আরম্ভ করল যে, ইসলাম গ্রহণ করলে আমাদের কি উপকার হবে, আমরা তো আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করেছি, যাদেরকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাদের হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়েছি। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন, “তারা নয় যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপরাশি পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৭০)। অতঃপর ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল এবং ইসলাম সম্বন্ধে যথাযথ উপলব্ধি অর্জন করল তারপর হত্যা করল, তার তওবা কবুলযোগ্য নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৩, ইসলামিক সেন্টার)

23

আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর আল আবদী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললাম, যে লোক স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে কি? তিনি বললেন, না, গ্রহণযোগ্য হবে না। এরপর আমি তার কাছে সূরা আল ফুরকানে বর্ণিত উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করলাম, “যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মা’বুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারও করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে”— (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। তিনি বললেন, এটা তো হচ্ছে মাক্কী আয়াত। মাদানী আয়াত সেটাকে মানসুখ করে দিয়েছে। আর তা হলো, "যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার আযাব জাহান্নাম"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৯৬)। কিন্তু ইবনু হাশিম এর বর্ণনায় রয়েছে যে, অতঃপর আমি তার কাছে সূরা আল ফুরকানে উল্লেখিত إِلاَّ مَنْ تَابَ (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৭০) আয়াতটি তিলাওয়াত করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৪, ইসলামিক সেন্টার)

24

আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তোমার কি জানা আছে? হারূন (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা কোনটি? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা হলো إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ। ইবনু আবূ শাইবার বর্ণনায়آخر (সর্বশেষ) এর পরিবর্তে تَعْلَمُ أَىُّ سُورَةٍ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৫, ইসলামিক সেন্টার)

25

ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ..... আবু উমায়স (রহঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তিনি তার বর্ণনায় آخِرَ سُورَةٍ বলেছেন। আর তিনি ইবনু সুহায়ল’ না বলে শুধু 'আবদুল মজীদ' বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৬, ইসলামিক সেন্টার)

26

আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আহমাদ ইবনু আবদাহ আয যাব্বী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক একটি ছোট্ট বকরীর পাল চরাচ্ছিল, এমতাবস্থায় কতক মুসলিম তার কাছে আগমন করলে সে বলল, 'আস্‌সালামু আলাইকুম'। এতদসত্ত্বেও তারা তাকে পাকড়াও করল। অতঃপর তারা তাকে হত্যা করতঃ তার এ ছোট্ট বকরীর পালটি নিয়ে নিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলোঃ "যারা তোমাদেরকে সালাম করে, ইহ-জীবনের সম্পদের লালসায় তাকে বলো না, তুমি ঈমানদার নও"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৯৪)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) السَّلاَمَ বলেছেন, তবে কেউ কেউ سلم আলিফ ছাড়া পাঠ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৭, ইসলামিক সেন্টার)

27

আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারী লোকেরা হজ্জ সমাপ্তি শেষে বাড়ী ফেরার পর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছন দিক থেকে ঘরে প্রবেশ করত। অতঃপর এক আনসারী সহাবা দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এ ব্যাপারে তাকে কিছু (ভাল-মন্দ) বলা হলে "পেছন দিক দিয়ে তোমাদের বাড়ীতে ঢুকাতে কোন সাওয়াব নেই" (সুরাহ্ আল বাকারাহ ২ঃ ১৮৯) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৮, ইসলামিক সেন্টার)

28

—(২৪/৩০২৭) ইউনুস ইবনু আবদুল আ’লা আস্ সাদাফী (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের ইসলাম গ্রহণ করা ও নিম্নোক্ত আয়াত তথা "যারা ঈমান আনে আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর কি ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি" (সূরা আল হাদীদ ৫৭ঃ ১৬) এর দ্বারা আমাদেরকে উপহাস করার মধ্যে চার বছরের ব্যবধান ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৯, ইসলামিক সেন্টার)

29

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও আবু বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীলোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত এবং বলত, কে আমাকে একটি কাপড় ধার দিবে? এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বীয় লজ্জাস্থান ঢাকা। আর এটাও বলত, আজ খুলে যাচ্ছে কিয়দংশ বা পূর্ণাংশ। তবে যে অংশটা খুলে সেটা আমি আর কখনো হালাল করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, "প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বন করবে"- (সূরা আল আ’রাফ ৭ঃ ৩১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭০, ইসলামিক সেন্টার)

30

আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল তার বাদীকে বলত, যাও বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করে নিয়ে এসো। তখন আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, “তোমাদের বাদীদেরকে সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত করতে বাধ্য করবে না। আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে তাদের (দাসীদের) উপর জবর-দস্তির পর আল্লাহ তো (দাসীদের জন্য) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আন নূর ২৪ঃ ৩৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭১, ইসলামিক সেন্টার)

31

আবু কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর দু’জন বাদী ছিল। একজনের নাম ছিল মুসাইকাহ এবং অপরজনের নাম ছিল উমাইমাহ। সে দু’জন বাদীকে দিয়ে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাতো। তাই তারা এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “তোমাদের বাদীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে জোর-জবরদস্তি করবে না। আর যে তাদেরকে জোর জবরদস্তি করে তবে তাদের (বাদীদের) উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭২, ইসলামিক সেন্টার)

32

আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় খোঁজ করে"- (সূরা আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদা একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করলো। (একদল মানুষ) তাদের (জিনদের) পূজা করতো। কিন্তু পূজায় রত এ লোকগুলো তাদের পূজাতেই অটল থাকল। অথচ জিনের একদল ইসলাম গ্রহণ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৩, ইসলামিক সেন্টার)

33

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

34

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে"- (সূরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অত্র আয়াতটি আরবের এক দল লোক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা কতগুলো জিনের আরাধনা করত। অতঃপর জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করলো; কিন্তু তাদের ইবাদাতে রত এ মানুষগুলো তা বুঝতে পারল না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সুরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৫, ইসলামিক সেন্টার)

35

আবদুল্লাহ ইবনু মুতী' (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সূরা আত তওবা। বরং এটা হচ্ছে অপমানকারী সূরাহ্। এ সূরাতে কেবল مِنْهُمْ - مِنْهُمْ (এদের মধ্যে, এদের মধ্যে) বর্ণিত হয়েছে। ফলে মানুষেরা ধারণা করতে লাগল যে, এ সূরায় আমাদের কেউ আলোচনা ব্যতীত অবশিষ্ট থাকবে না, সকলের দুর্বলতা তুলে ধরবে। অতঃপর আমি বললাম, সূরা আল আনফাল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, এ সূরা তো বাদর যুদ্ধের পটভূমিতে নাযিল হয়েছে। এরপর আমি সূরা আল হাশরের কথা বললাম। তিনি বললেন, এতো বানু নায়ীর গোত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৬, ইসলামিক সেন্টার)

36

আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উমর (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ প্রদান করতঃ প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করলেন। অতঃপর বললেন- মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হওয়ার অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হতো, গম, যব, খেজুর, আঙ্গুর এবং মধু হতে। আর যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার প্রত্যাশা। যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে দাদার (পরিত্যক্ত সম্পত্তি), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে (আরো স্পষ্ট) বলে যেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৭, ইসলামিক সেন্টার)

37

আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারে উঠে খুৎবাহ রত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, অতঃপর হে লোক সকল! মদ হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হয়। আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব হতে। আর যা মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত করে দেয় তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার মনের কামনা, যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (নিম্নোক্ত কতিপয় বিষয়ে) আরো বিশদভাবে সুস্পষ্টভাবে বলে যেতেন তবে তো আমরা এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌছে যেতে পারতাম। আর তা হচ্ছে, দাদার (মীরাস বণ্টন), কালালাহ্ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের কতিপয় বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান বলে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৮, ইসলামিক সেন্টার)

38

আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবু হাইয়্যান (রহঃ) হতে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু উলাইয়্যাহ আবু ইদরীস এর মতো তার হাদীসে (আঙ্গুর) বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। আর রাবী ঈসা ইবনু মুসহির (রহঃ) এর ন্যায় তার হাদীসের মধ্যে عِنَبِ (আঙ্গুর) শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৭৯, ইসলামিক সেন্টার)

39

আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শপথ করে বলতেন, "তারা দু’টি বিবদমান পক্ষ তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে"- (সূরা আল হাজ্জ ২২ঃ ১৯) আল্লাহর এ বাণী ঐ লোকেদের সম্বন্ধেই অবতীর্ণ হয়েছে, যারা বদরের দিন যুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবতরণ করেছিল। এদের একদিকে ছিলেন হামযাহ, ‘আলী ও উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রাযিঃ) আর অপরদিকে ছিল, উতবাহ ও শাইবাহ রাবী’আর দু' পুত্র এবং ওয়ালীদ ইবনু উতবাহ্। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৮০, ইসলামিক সেন্টার)

40

(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শপথ করে বলতেন, هَذَانِ خَصْمَانِ‏ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে- অতঃপর হুশায়মের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৮১, ইসলামিক সেন্টার)