33 - নেতৃত্ব অধ্যায়
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আমর 'আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জনগণ প্রশাসনিক ব্যাপারে কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা তাদের মুসলিমদের এবং কাফিররা তাদের কাফিরদের অনুসারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) যে সকল হাদীস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন তন্মধ্যে একটি হল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন এ ব্যাপারে কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা মুসলিমদের অনুসারী এবং কাফেররা কাফেরদের অনুসারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন ভাল-মন্দ উভয় ব্যাপারেই কুরায়শদের অনুসারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫২, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ কর্তৃত্ব সর্বদা কুরায়শদের মধ্যেই থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়ায় দুটি লোকও বেঁচে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও রিফা'আহ ইবনু হায়সাম ওয়াসিতী (রহঃ) ..... সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা তাকে বলতে শুনলাম, শাসন কর্তৃত্ব ধারাবাহিক চলতে থাকবে যতক্ষণ না উম্মাতের মধ্যে বারজন খলীফা অতিবাহিত হবেন। তারপর তিনি অস্ফুট আওয়াজে কিছু বললেন, যা আমি শুনতে পেলাম না। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন যে, তিনি বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশ থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মুসলিম শাসন থাকবে যতক্ষণ না তাদের মধ্যে বারজন শাসক শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কথা বললেন, যা আমি শুনতে পাইনি। তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন, তিনি বলেছেনঃ সবাই কুরায়শ বংশ থেকে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি তাতে "লোকদের মধ্যে শাসন ক্ষমতা অব্যাহত গতিতে চলতে থাকবে" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আযদী (রহঃ) ...... জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বারজন খলীফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম প্রবল শক্তিধর অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কী বললেন, আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশ থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শাসন কর্তৃত্ব অতি শক্তিশালী থাকবে বারজন খলীফা পর্যন্ত। রাবী বলেন, তারপর তিনি কিছু বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশের।*(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
নসর ইবনু ‘আলী জাহযামী আহমদ ইবনু উসমান নাওফালী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। আমার সাথে আমার পিতাও ছিলেন। আমি তখন তাকে বলতে শুনলাম, এ ধর্ম শক্তিমত্তাসম্পন্ন, সংরক্ষিত থাকবে বারজন খলীফা অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। তারপর তিনি কোন কথা বললেন, লোকজনের কথাবার্তার দরুন আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম, তিনি কী বললেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশের লোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) এর নিকট আমার গোলাম নাফি'র মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করলাম যে, আপনি আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে অবহিত করুন যা আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন। রাবী বলেন, তিনি আমাকে লিখলেনঃ জুমুআর দিন সন্ধ্যায় যে দিন (মায়েজ) আসলামীকে রজম (ব্যভিচারজনিত অপরাধের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যা) করা হয়, সেদিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এ দীন অব্যাহতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ কিয়ামত কায়িম হয় অথবা তোমরা বারজন খলীফা কর্তৃক শাসিত হও, এদের সকলেই হবে কুরায়শ থেকে। আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, মুসলিমদের একটি ছোট্ট দল জয় করবে শ্বেতভবন যা কিসরা কিংবা কিসরা বংশীয় রাজমহল। আমি আরও বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের প্রাক্কালে অনেক মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে, তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।" আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, “তোমাদের কাউকে যখন আল্লাহ কল্যাণ (সম্পদ) দান করেন তখন সে নিজের এবং তার পরিবারস্থ লোকজন দ্বারা ব্যয় শুরু করবে।" আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, "হাওযে (কাউসারে) আমি তোমাদের অগ্রগামী হবো।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৪৫৬০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ..... আমির ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু সামুরাহ আদাবীর কাছে চিঠি প্রেরণ করেন যে, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা জেনেছেন তা বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ..... পরবর্তী অংশ হাতিমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা যখন আহত হলেন তখন আমি তার কাছে গিয়ে উপস্থিত হই। লোকজন তার প্রশংসা করল তারপর বলল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন তিনি তখন বললেন, আমি আশাবাদী ও শঙ্কিত। তখন লোকেরা বললো, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করে যান। তখন তিনি বললেন, আমি কি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়ই তোমাদের বোঝা বহন করব? আমার আকাঙ্ক্ষা খিলাফাতের ব্যাপারে আমার ভাগ্যে শুধু নিস্কৃতি লাভ হোক। আমার উপর কোন অভিযোগও অর্পিত না হোক, আর আমি লাভবানও না হই। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি (তবে তার দৃষ্টান্ত) আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন তিনি অর্থাৎ- আবূ বাকর (রাযিঃ) খলীফা মনোনীত করে গেছেন, আর যদি আমি তোমাদের (খলীফা মনোনীত করা ছাড়াই) ছেড়ে যাই, তবে আমাদের উত্তম যিনি ছিলেন (অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (নীতির) উপরই তোমাদের রেখে গেছেন। রাবী আবদুল্লাহ (ইবনু উমার) বলেন, তিনি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করলেন তখনই আমি বুঝেছি যে, তিনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু আবূ উমার, মুহাম্মাদ রাফি এবং আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাফসাহ্ (রাযিঃ) এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি কি জান যে, তোমার পিতা কাউকে খলীফা মনোনীত করছেন না? আমি বললাম, তিনি এমনটি করবেন না। তিনি বললেন, তিনি তা-ই করবেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে, আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলাপ করবো। এরপর আমি নীরব থাকলাম। পরের দিন ভোর পর্যন্ত আমি তার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করিনি। রাবী বলেন, আমার মনে হলো যে, আমি আমার শপথের পাহাড় বহন করছি। অবশেষে আমি ফিরে এলাম এবং তার উমার (রাযিঃ) এর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার কাছে লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাকে তা জানালাম। তারপর আমি তাকে বললাম, আমি লোকজনকে একটি কথা বলাবলি করতে শুনে আমি তা আপনাকে বলবো বলে শপথ করেছি। লোকেরা বলছে যে, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। অথচ আপনার যদি কোন উটের রাখাল বা ছাগলের রাখাল থাকে আর সে তার পাল পরিত্যাগ করে আপনার কাছে চলে আসে, তা হলে আপনি নিশ্চয়ই মনে করবেন যে, সে পশুপালের সর্বনাশ করেছে। মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারটি তার চাইতেও গুরুতর। আমার কথা তার অন্তরে রেখাপাত করলো এবং তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, অবশ্যই মহিমাম্বিত ও গৌরবান্বিত আল্লাহ তার দীনের হিফাযাত করবেন। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত না করি তবে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তো কাউকে খলীফা মনোনীত করে যাননি। আর যদি আমি কাউকে খলীফা মনোনীত করি তবে আবূ বাকর (রাযিঃ) খলীফা মনোনীত করে গেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কথা উল্লেখ করলেন, তখনই আমি বুঝে ফেলি যে, তিনি আর কাউকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমকক্ষ করবেন না এবং তিনি কাউকে খলীফাও মনোনীত করে যাবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবন ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ...... আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবদুর রহমান! তুমি শাসন ক্ষমতা চাইবে না। কারণ যদি চাওয়ার মাধ্যমে তা পাও, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত হবে। আর যদি তুমি চাওয়া ছাড়া তা পেয়ে যাও, তবে এ ব্যাপারে তুমি (আল্লাহর তরফ থেকে) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪২৮১] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আলী ইবনু হুজর সাদী, আবূ কামিল জাহদারী ..... আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আ'লা (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) আমি এবং আমার দু’চাচাত ভাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। দু'জনের একজন বলল, হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে যে সমস্ত রাজ্যের কর্তৃত্ব প্রদান করেছেন তার কতক অংশে আমাদেরকে প্রশাসক নিযুক্ত করুন। অপরজনও অনুরূপ বলল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা এমন কাউকে নেতৃত্বে বসাই না, যে সেটির জন্য প্রার্থী হয় এবং যে তার জন্য লালায়িত হয়। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৫২৬] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন (একদা) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমার সাথে আশ'আরী বংশের দু'জন লোক ছিল। তাদের একজন ছিল আমার ডানে অপরজন আমার বামে। তারা দু’জনই (পদে) নিযুক্তি প্রার্থনা করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মেসওয়াক করছিলেন। তখন তিনি (আমাকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে আবূ মূসা অথবা হে আবদুল্লাহ! তুমি কী বল? তিনি বলেন, আমি বললাম, যে পবিত্র সত্তা আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন, তার কসম! তাদের অন্তরে যে কী রয়েছে সে সম্পর্কে তারা আমাকে মোটেও জানায়নি, আর আমি মোটেও টের পাইনি যে, তারা আপনার কাছে (পদে) নিযুক্তি প্রার্থনা করবে। রাবী বলেন, আমি যেন (স্পষ্টই) তার ওষ্ঠ মুবারকের নীচে মিসওয়াক দেখতে পাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, আমরা আমাদের কোন কাজে কখনো এমন লোককে নিযুক্তি প্রদান করি না- যে তার জন্য লালায়িত বরং তুমি যাও। হে আবূ মূসা অথবা তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ! অতঃপর তিনি তাকে ইয়ামানের গভর্নর করে পাঠালেন। এরপর তিনি মুআয ইবনু জাবালকে তার সাহায্যার্থে পাঠালেন। তিনি (মু'আয) যখন তার (আবূ মূসার) নিকট গিয়ে পৌছলেন, তখন তিনি বললেনঃ অবতরণ করুন এবং সাথে সাথে তিনি একটি আসন পেতে দিলেন। তখন তার নিকট হাত পা বাঁধা অবস্থায় একটি লোক ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটি কে? উত্তরে তিনি বললেন, লোকটি প্রথমে ইয়াহুদী ছিল, তারপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে আবার তার বাতিল ধর্মে ফিরে যায় এবং ইয়াহুদী হয়ে যায়। মু'আয (রাযিঃ) বললেন, যতক্ষণ আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিধান অনুসারে তাকে হত্যা করা না হবে, ততক্ষণ আমি বসবো না। এরূপ তারা তিনবার কথোপকথন করলেন। এরপর তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা হলো। তারপর তারা রাত্রি জাগরণ (তাহাজ্জুদ) সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করলেন। তাদের মধ্যে মু'আয (রাযিঃ) বললেন- আমার অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমি (রাত্রির কিয়দংশে) নিদ্রাও যাই আবার (কিয়দংশে) ইবাদাতে জাগরণও করি এবং আমার নিদ্রায়ও সেরূপ সাওয়াবই প্রত্যাশা করি যেরূপ সাওয়াব প্রত্যাশা করি আমার জাগরণ ও ইবাদাতে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাকে প্রশাসক পদে প্রদান করবেন? রাবী বলেন, তিনি তখন তার হাত দিয়ে আমার কাঁধে আঘাত করে বললেনঃ হে আবূ যার! তুমি দুর্বল অথচ এটি হচ্ছে একটি আমানাত। আর কিয়ামতের দিন এ হবে লাঞ্ছনা ও অনুশোচনা। তবে যে এর হক সম্পূর্ণ আদায় করবে তার কথা ভিন্ন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব এবং ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি দেখছি তুমি দুর্বল প্রকৃতির লোক আর আমি তোমার জন্য তাই পছন্দ করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। কোন দু’ব্যক্তির উপরও কর্তৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করো না এবং ইয়াতীমের সম্পদের দায়িত্বশীল হতে যেয়ো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ন্যায় বিচারকগণ (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিকটে নূরের মিম্বারসমূহে মহামহিম দয়াময় প্রভুর ডানপাৰ্শ্বে উপবিষ্ট থাকবেন। তার উভয় হাতই ডান হাত (অর্থাৎ- সমান মহিয়ান)। যারা তাদের শাসনকার্যে তাদের পরিবারের লোকদের ব্যাপারে এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বসমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭০, ইসলামিক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু শুমাসাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট কোন এক ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্য গেলাম। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথাকার লোক? আমি জবাব দিলাম, আমি একজন মিসরবাসী। তখন তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের সে গৃহযুদ্ধকালীন গভর্নর (মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর) কেমন লোক ছিলেন? রাবী বলেন, আমরা তো তার নিকট থেকে অন্যায়মূলক কিছু পাইনি। যদি আমাদের কোন ব্যক্তির উট মারা যেতো তিনি তাকে উট দিতেন। গোলাম মারা গেলে গোলাম দিতেন, কারো জীবিকার প্রয়োজন হলে তিনি তাকে তা প্রদান করতেন। তখন তিনি বললেন, আমার সহোদর মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকরের সাথে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার এ ঘরে যা বলতে শুনেছি তা তোমাকে অবহিত করা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারছি না। (তিনি বলেছিলেন) হে আল্লাহ! যে আমার উম্মাতের কোনরূপ কর্তৃত্বভার লাভ করে এবং তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে তুমি তার প্রতি রূঢ় হও, আর যে আমার উম্মাতের উপর কোনরূপ কর্তৃত্ব লাভ করে তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় হও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইনু রুমূহ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্ববান এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আমীর বা নেতা তার অধীনস্থ লোকদের উপর দায়িত্ববান এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারের লোকদের উপর দায়িত্বশীল, সে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বীয় স্বামীর বাড়ী ও সন্তানের উপর দায়িত্ববান, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। গোলাম তার মুনিবের মাল-সম্পদের উপর দায়িত্ববান, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ওহে! তোমাদের প্রত্যেকেই (স্ব-স্ব স্থানে) একজন দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু হুজুর ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) তার পিতা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, তারপর নাফি (রহঃ) সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করতে শুনেছি। যুহরী (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষ তার পিতার সম্পদের উপর দায়িত্ববান এবং সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওয়াহব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সূত্রে এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ মাকিল ইবনু ইয়াসারকে দেখতে যান যে অসুখে পরবর্তীতে তিনি মারা যান। মাকিল তাকে বলেনঃ আমি তোমার কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে আমার শ্রুত হাদীস বর্ণনা করবো। যদি আমি জানতাম যে, আমার আরও আয়ু আছে তবে আমি তোমার কাছে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে বান্দাকে আল্লাহ প্রজা সাধারণের উপর দায়িত্বশীল করেন অথচ সে যখন মারা যায় তখনও সে তার প্রজা সাধারণের প্রতি প্রতারণাকারী থাকে তবে তার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেন। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৩৬৩] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ..... হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু যিয়াদ (রহঃ) মা'কিল ইবনু ইয়াসার (রহঃ) কে দেখতে গেলেন। তিনি তখন গুরুতর রোগগ্রস্ত। তারপর আবূল আশহাব (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাবী অতিরিক্ত এও বলেছেন, আপনি ইতোপূর্বে এ হাদীস আমার নিকট কেন ব্যক্ত করেননি? তিনি বলেন, আমি তোমার কাছে ব্যক্ত করিনি, অথবা বলেছেন আমি তা তোমার কাছে ব্যক্ত করতে চাইনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ গাসসান মিসমা'ঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ...... আবূ মালীহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) মা'কিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) এর পীড়িত অবস্থায় তাকে দেখতে যান। তখন মাকিল (রাযিঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি এমন একটি হাদীস তোমার কাছে বর্ণনা করবো, যদি আমি মৃত্যুর মুখোমুখি না হতাম তবে তোমার কাছে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এমন আমীর যার উপর মুসলিমদের শাসন ক্ষমতা অর্পিত হয় অথচ এরপর সে তাদের কল্যাণ সাধনে চেষ্টা না করে বা তাদের মঙ্গল কামনা না করে; আল্লাহ তাকে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
উকবাহ ইবনু মুকরাম আল-আম্মী ..... আবূল আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মা'কিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) পীড়িত হলেন। তখন উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) তাকে রোগগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে যান। অবশিষ্ট অংশ মা'কিল থেকে হাসান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮০, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ ..... হাসান (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী আয়েয ইবনু আমর (রাযিঃ) একদা উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) এর নিকট গেলেন। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, বৎস! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি "নিকৃষ্টতম রাখাল হচ্ছে অত্যাচারী শাসক।" তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে সাবধান থাকবে। তখন সে বললো, বসে পড়! তুমি হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের উচ্ছিষ্টের ন্যায়। জবাবে তিনি বললেন, তাদের মধ্যেও কি উচ্ছিষ্ট রয়েছে? উচ্ছিষ্ট তো তাদের পরবর্তীদের এবং অন্যান্যদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালেন এবং গনীমাতের মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি এর উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করলেন। তারপর বললেন, আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামত দিবসে যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত উট তার ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়ে আছে, আর সে আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন; তখন আমি বলবোঃ তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমি (এর পূর্বেও) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি। আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামতের দিন যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত ঘোড়া তার কাঁধের উপর সওয়ার হয়ে আছে আর সে আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। তখন আমি বলবো, তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই, আমি তো (এর পূর্বে) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি। আমি তোমাদের কাউকে যেন কিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, কোন আর্তনাদরত ব্যক্তিকে সে বয়ে নিয়ে আসছে আর আরয করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবো, তোমার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র কিছু করার নেই। আর আমি (ইতোপূর্বেই তা) তোমার নিকট প্রচার করেছি। আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় যেন উপস্থিত না পাই যে, তার ঘাড়ের উপর পতপত করে কাপড় উড়ছে আর সে ফরিয়াদ করছে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলবো যে, তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আমি তো (ইতোপূর্বেই তা) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি। আর এমন যেন না হয় যে, কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যকার কাউকে এ অবস্থায় পাই যে, তার ঘাড়ে স্বর্ণ, রৌপ্য বয়ে নিয়ে আসবে আর আরয করবে, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবো, তোমাকে সাহায্য করার কোন সাধ্য আমার নেই, আমি তো (পূর্বেই সেন্ বিষয়ে) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে ইসমাঈল (রহঃ) এর সূত্রে আবূ হাইয়্যান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সখর দারিমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমাতের মাল আত্মসাৎকরণ এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে উল্লেখ করেন। এভাবে তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাসান ইবনু খিরাশ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখিত রাবীদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্ নাকিদ (রহঃ) ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... আবূ হুমায়দ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করলেন- যাকে ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামে অভিহিত করা হতো। রাবী আমর ও ইবনু আবূ উমার বলেন, যাকাত আদায়ের জন্য। যখন সে ফিরে এলো, তখন সে বললো, এটি আপনাদের (অর্থাৎ- বায়তুল মালের) এবং ওটি আমাকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপরে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন, সে কর্মচারীর কী হলো, যাকে আমি (আদায়কারীরূপে) প্রেরণ করলাম, আর সে (যেমন দিয়ে আসে তেমন) বলে! ওটা আপনাদের আর এটি আমাকে উপটৌকন দেয়া হয়েছে? সে তার পিতার বা মাতার ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন যে তাকে উপটৌকন দেয়া হয় কি-না? মুহাম্মাদের প্রাণ যে পবিত্র সত্তার হাতে তার কসম! যে কেউ এরূপ সম্পদের কিছুমাত্র কুক্ষিগত করবে, কিয়ামতের দিন তাই সে তার ঘাড়ে বহন করে নিয়ে আসবে- তার ঘাড়ের উপর চিৎকাররত উট হবে অথবা হাম্বা-হাম্বারত গাভী হবে অথবা চিৎকাররত বকরী হবে। তারপর তিনি দু’হাত উপরের দিকে উঠিয়ে ধরলেন, এমনকি তার বগলের শুভ্রতা আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! আমি কি তোমার নির্দেশ পৌছিয়ে দিয়েছি!" এ কথা তিনি দু’বার বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুমায়দ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে যাকাত উসূলের উদ্দেশে কর্মচারী নিয়োগ করেন। সে যখন (যাকাতের উসুলকৃত) মালামাল নিয়ে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অর্পণ করলে, তখন সে বলল, এগুলো হচ্ছে আপনাদের, আর ওটা আমাকে উপটৌকন স্বরূপ দেয়া হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার ঘরে বসে থেকে দেখলে না কেন, তোমার জন্য উপঢৌকনাদি প্রেরিত হয় কি-না? তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিতে দাঁড়ালেন। এরপর রাবী সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... আবূ হুমায়দ আস-সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে বানু সুলায়ম গোত্রের যাকাত উসূল করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করেন। লোকটিকে ইবনু উতবিয়্যাহ্ বলে ডাকা হতো। যখন সে (কাজ সম্পাদন করে) আসলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিসাব-নিকাশ চাইলেন। সে বলল, এগুলো হচ্ছে আপনাদের মাল আর ওটা (আমাকে প্রদত্ত) উপটৌকন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকলে না কেন? তোমার উপটৌকন পৌছাতো, যদি তুমি সত্যবাদী হও। তারপর তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুৎবাহ দিলেন। তাতে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন, “আমি তোমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তিকে কোন কাজে নিযুক্ত করি যার দায়িত্ব আল্লাহ আমার উপর বর্তিয়েছেন। তারপর সে (কর্ম সম্পাদন করে) এসে বলে, এটা আপনাদের মাল আর এটা আমাকে উপটৌকন স্বরূপ দেয়া হয়েছে। সে কেন তার পিতা-মাতার ঘরে বসে রইলো না তার উপঢৌকন সেখানে তার কাছে এসে পৌছতো, যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে? আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যকার যে কেউ তার প্রাপ্য ব্যতিরেকে সেসব সম্পদের অংশবিশেষও কুক্ষিগত করবে, কিয়ামতের দিন সে তা বহন করে আল্লাহ তা'আলার সমীপে উপস্থিত হবে। তোমাদের মধ্যকার যে কেউ চিৎকাররত উট, গাভী বা বকরী বহন করতঃ আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবে, আমি তাকে পুরোপুরি চিনতে পারবো। তারপর তিনি দু'হাত এমনভাবে উর্ধ্বে তুললেন যে তার বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা গেল। তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমি কি (তোমার নির্দেশ) পৌছে দিয়েছি? (রাবী বলেন, সে দৃশ্যটি) আমার চোখ দেখেছে এবং সে বক্তব্য আমার কান শুনেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) বলেন, সুফইয়ান (রহঃ) সূত্রে হিশাম (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদেও উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবদাল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে আবূ উসামাহ্ (রহঃ) এর বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ আছে যে, সে আসার পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে হিসাব নিলেন। ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর হাদীসে বর্ণিত আছে– “তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ তোমাদের কেউ তা হতে কিছুমাত্র গ্রহণ করবে না। সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আমার দু'টি চোখ দেখেছে, আমার দু'টি কান শুনেছে। যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) কে তোমরা জিজ্ঞেস কর, কেননা তিনি তখন আমার সাথে উপস্থিত ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সদাকাহ্ উসূলের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করেন। সে প্রচুর মাল নিয়ে আসলো আর বলতে লাগলো এটা আপনাদের আর ওটা আমাকে উপহার দেয়া হয়েছে। তারপর রাবী অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাবী উরওয়াহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ হুমায়দ আস-সাইদী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি নিজে কি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, তার পবিত্র মুখ থেকে সরাসরি আমার কানে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আদী ইবনু উমাইরাহ্ আল-কিন্দী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আমরা তোমাদের মধ্যে যাকে আদায়কারী নিযুক্ত করি, আর সে একটি সূচ পরিমাণ বা তার চাইতেও কম মাল আমাদের কাছে গোপন করে, তাই আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে এবং তা নিয়েই কিয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে। রাবী বলেন, তখন একজন কৃষ্ণকায় আনসারী (সাহাবী) তার দিকে অগ্রসর হলেন, আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি। তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার দায়িত্বভার আপনি বুঝে নিন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কী হয়েছে? তিনি আরয করলেন, আমি আপনাকে এরূপ এরূপ (কঠিন ভাষা) বলতে শুনেছি। তখন তিনি বললেন, আমি এখনও বলছি, তোমাদের মধ্যকার যাকেই আমি কর্মচারী নিযুক্ত করি আর সে অল্প বিস্তর যা-ই আদায় করে এনে উপস্থিত করে, তারপর তাকে যা-ই দেয়া হয় তা-ই গ্রহণ করে এবং যা থেকে নিষেধ করা হয় তা থেকে বিরত থাকে (তার জন্য ভয়ের কারণ নেই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইসমাঈল (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯২, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৯৪/ক)
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম হানযালী (রহঃ) ..... ‘আদী ইবনু আমীর আল-কিন্দী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মহান আল্লাহর বাণী) “হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও রসূল এবং তোমাদের মধ্যকার শাসকের আনুগত্য করবে”— (সূরা আন নিয়া ৪ঃ ৫৯) আয়াতটি আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ ইবনু কায়স ইবনু আদী সাহমী (রাযিঃ) এর শানে নাযিল হয়েছে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি সামরিক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। ইয়া'লা ইবনু মুসলিম, সাঈদ ইবনু জুবায়রের সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে এ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে আমার আনুগত্য করলো, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করলো। আর যে আমার অবাধ্যতা করলো সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই অবাধ্যতা করলো। আর যে ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরের আনুগত্য করলো সে আমারই আনুগত্য করলো, আর যে ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরের অবাধ্যতা করলো সে আমারই অবাধ্যতা করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল জাহদারী উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয, মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরোক্ত রাবীগণের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ হাদীসে 'আমীরী' শব্দের স্থলে "আমীর" শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে হাম্মাম (রহঃ) এর সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতেও বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০১, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মনসুর ও কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি অবশ্যই আমীরের কথা শুনবে এবং মানবে তোমার সংকটকালে ও স্বাভাবিক সময়ে, অনুরাগ ও বিরাগে এবং যখন তোমার উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে তখনও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ'আরী ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পরম বন্ধু; আমাকে উপদেশ দিয়েছেন, আমি যেন (আমীরের নির্দেশ) শুনি ও মানি যদি আমীর হাত-পা কর্তিত দাসও হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ও ইসহাক (রহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতে আছে "হাত-পা কাটা হাবশী গোলামও যদি আমীর হয় (তবুও তার আনুগত্য করবে)।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৪, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে "হাত-পা কাটা গোলাম"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়ন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার দাদী থেকে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায় হাজ্জের ভাষণ দেয়ার সময় তাকে বলতে শুনেছেন "যদি তোমাদের উপর একজন গোলামকেও কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় আর সে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে পরিচালনা করে, তবে তোমরা তার কথা শুনবে এবং মেনে চলবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত রিওয়ায়াতে হাবশী গোলাম’ শব্দটি আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহর বর্ণনায় আছে "হাত-পা কাটা হাবশী গোলাম।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতে "হাত-পা কাটা হাবশী" শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নেই। তাতে বর্ধিত এতটুকু আছে- তিনি (বর্ণনাকারিণী ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়নের দাদী) মিনায় অথবা আরাফাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ বলতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬০৯, ইসলামিক সেন্টার)
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়ন এর দাদী উম্মুল হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়ন বলেন যে, আমি তাকে বলতে শুনেছি- আমি বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ আদায় করি। তিনি (রাবী) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন অনেক কথাই বলেছিলেন। এরপর আমি তাকে বলতে শুনলাম, যদি তোমাদের উপর কোন হাত-পা কাটা গোলামকেও আমীর নিযুক্ত করা হয় (ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়ন বলেন)- আমার ধারণা হয় তিনি (দাদী আরও) বলেছেন- কালো (অর্থাৎ- কৃষ্ণকায় হাবশী গোলাম) আর সে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে পরিচালিত করে তবে তোমরা তার কথা শুনবে এবং মানবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১০, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হচ্ছে শোনা ও মানা তার প্রতিটি প্রিয় ও অপ্রিয় ব্যাপারে যতক্ষণ না তাকে আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ করা হয়। যদি আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ তাকে দেয়া হয় তাহলে তা শুনবেও না এবং মানবেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, এবং মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) উবাইদুল্লাহ (রহঃ) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী পাঠান এবং এক ব্যক্তিকে তার আমীর নিযুক্ত করে দেন। সে একটি অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত করলো এবং তাদেরকে তাতে ঝাপ দিতে নির্দেশ দিল। একদল লোক তাতে ঝাপ দিতে প্রস্তুতি নিলো এবং অপর একদল বলল, আমরা (ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তো) আগুন থেকেই পালিয়ে এসেছি। (সুতরাং আগুনে ঝাপ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না) যথাসময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে সে ব্যাপারটি উথাপিত হলো। তখন তিনি যারা আগুনে ঝাপ দিতে প্রস্তুত হয়েছিল তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা তাতে প্রবেশ করতে তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতেন। পক্ষান্তরে অপরদলকে লক্ষ্য করে তিনি ভাল কথা বললেন। তিনি আরো বললেন, আল্লাহর অবাধ্যতা হয় এমন কাজে আনুগত্য নেই। আনুগত্য কেবলই ভাল কাজে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব এবং আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক অভিযানে একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং জনৈক আনসারীকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাদেরকে তার কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে আদেশ করলেন। তারপর কোন বিষয়ে তারা তাকে রাগান্বিত করে তুলল। সে তখন বলল, আমার জন্য কাঠ কুড়িয়ে এনে একত্রিত করো। তারা তা করলো। এরপর সে বলল, আগুন প্রজ্জ্বলিত কর। তখন তারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করল। তারপর সে বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার কথা শুনার এবং আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দেননি? তারা বলল, জী-হ্যাঁ। তখন সে বলল, তাহলে তোমরা এবার এ আগুনে ঝাপ দাও। তখন তারা পরস্পরে পরস্পরের দিকে তাকাতে শুরু করলো। তারপর তারা জবাব দিলো- আমরা তো এ আগুন থেকে বাচার জন্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরণাপন্ন হয়েছি। তারা আগুনে ঝাঁপ দিলেন না। তার ক্রোধ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারপর যখন তারা ফিরে এলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিষয়টি উত্থাপন করলো তখন তিনি বললেন, যদি তারা তখন আগুনে ঝাপ দিতো, তাহলে আর বেরোতে পারতো না। আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৫, ইসলামিক সেন্টার ৪৬১৬/(ক)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... উবাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বাই’আত হলাম এ মর্মে যে, আমরা শুনবো ও মানবো, সংকটের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়, খুশীর অবস্থায় ও অপছন্দের অবস্থায় এবং আমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দিলেও। আর এ মর্মে যে, আমরা যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্ব বরণ করে নিতে কোনরূপ কোন্দল করবো না। আর এ মর্মে যে, আমরা যেখানেই থাকবো হক কথা বলব। আল্লাহর ব্যাপারে কোন ভৎসনাকারীর ভৎসনাকে ভয় করবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উবাদাহ্ ইবনু ওয়ালীদের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বাই’আত হই। এরপর ইবনু ইদ্রীস এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৮, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওয়াহব ইবনু মুসলিম (রহঃ) ..... যুনাদাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমরা উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) এর খিদমাতে গেলাম। তখন তিনি রোগগ্রস্ত। আমরা আরয করলাম, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আমাদেরকে এমন কোন হাদীস বলুন- যা দ্বারা আল্লাহ আমাদেরকে উপকৃত করবেন, যা আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমরা বাই’আত হলাম। তিনি তখন আমাদেরকে যে শপথ গ্রহণ করান তার মধ্যে ছিল- আমরা শুনবো ও মেনে চলব, আমাদের খুশী অবস্থায় ও বিরক্ত অবস্থায়, আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিলেও সুযোগ্য ব্যক্তির সাথে আমরা নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল করবো না। তিনি বলেন- যাবৎ না তোমরা তার মধ্যে প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাবে এবং তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আল্লাহর সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬১৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম বা শাসক ঢাল স্বরূপ। তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হয় এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। সে যদি তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ও ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে, তবে তার জন্য সে পুরস্কৃত হবে। আর যদি ন্যায় ব্যতীত অন্য কিছু আদেশ করে তবে সে পাপের জন্য দায়ী হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সাথে পাঁচ বছর থেকেছি। আমি তার কাছে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলদের পরিচালনা করতেন নবীগণ। তাদের মধ্যকার একজন নবী মৃত্যুবরণ করলে অপর একজন নবী তার স্থলাভিষিক্ত হতেন। আমার পরে আর কোন নবী নেই বরং খলীফাগণ হবেন এবং তারা সংখ্যায় প্রচুর হবেন। তখন সাহাবীগণ বললেনঃ তাহলে আপনি (এ ব্যাপারে) আমাদেরকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ যার হাতে প্রথম বাই’আত বা আনুগত্যের শপথ করবে, তারই আনুগত্য করবে এবং তাদেরকে তাদের হক প্রদান করবে, আল্লাহই তাদেরকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তারা কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ'আরী (রহঃ) ..... হাসান ইবনু ফুরাত (রহঃ) সূত্রে উপরোক্ত বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ সাঈদ আশাজ্জ, আবূ কুরায়ব, ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম, আলী ইবনু খাশরাম ও উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও তোমাদের অপছন্দনীয় অনেক কিছু ঘটবে। তখন সাহাবাগণ বললেন, আমাদের মধ্যকার যারা তা পাবে তাদের ব্যাপারে আপনার নির্দেশ কী হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব তোমরা পালন করে যাবে, আর তোমাদের প্রাপ্য হক তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৩, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু আবদ রাব্বিল কা'বা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) কাবার ছায়ায় বসেছিলেন। লোকজন তাকে চারপাশ থেকে ঘিরেছিল। আমি তাদের নিকট গেলাম এবং তার পাশেই বসে পড়লাম। তখন তিনি বললেন, কোন সফরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা একটি অবস্থান গ্রহণ করলাম। আমাদের মধ্যকার কেউ তখন তার তাবু ঠিকঠাক করছিল, কেউ তীর ছুড়ছিল, কেউ তার পশুপাল দেখাশুনা করছিল। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নকীব হাঁক দিল নামাযের ব্যবস্থা প্রস্তুত! তখন আমরা গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে মিলিত হলাম। তিনি বললেনঃ আমার পূর্বে এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি যার উপর এ দায়িত্ব বর্তায়নি যে, তিনি তাদের জন্য যে মঙ্গলজনক ব্যাপার জানতে পেরেছেন তা উম্মাতদেরকে নির্দেশনা দেননি এবং তিনি তার জন্য যে অনিষ্টকর ব্যাপার জানতে পেরেছেন, সে বিষয়ে তাদেরকে সাবধান করেননি। আর তোমাদের এ উম্মাত (উম্মাতে মুহাম্মাদ)-এর প্রথম অংশে তার কল্যাণ নিহিত এবং এর শেষ অংশ অচিরেই নানাবিধ পরীক্ষা ও বিপর্যয়ের এবং এমন সব ব্যাপারের সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় হবে। এমন সব বিপর্যয় একাদিক্রমে আসতে থাকবে যে, একটি অপরটিকে ছোট প্রতিপন্ন করবে। একটি বিপর্যয় আসবে তখন মু'মিন ব্যক্তি বলবে- এটা আমার জন্য ধ্বংসাত্মক, তারপর যখন তা দূর হয়ে অপর বিপর্যয়টি আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। সুতরাং, যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ ও আখিরাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যেন মানুষের সাথে এমনি আচরণ করে যে আচরণ সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি কোন ইমাম (বা নেতা) এর হাতে বাই’আত হয়— আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে তার হাতে হাত দিয়ে এবং অন্তরে সে ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন সাধ্যানুসারে তার আনুগত্য করে যায়। তারপর যদি অপর কেউ তার সাথে (নেতৃত্ব লাভের অভিলাষে) ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় তবে ঐ পরবর্তী জনের গর্দান উড়িয়ে দেবে। (রাবী বলেন) তখন আমি তার নিকটে ঘেষলাম এবং তাকে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি সত্যিই আপনি (নিজ কানে) কি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন? তখন তিনি তার দু’কান ও অন্তঃকরণের দিকে দু'হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, আমার দু’কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তঃকরণ তা সংরক্ষণ করেছে। তখন আমি তাকে লক্ষ্য করে বললাম, ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মু'আবিয়্যাহ্ (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর নিজেদের মধ্যে পরস্পরে হানাহানি করি অথচ আল্লাহ বলেছেন, "হে মু’মিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যতীত এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান"- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ২৯)। রাবী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারসমূহে তুমি তার আনুগত্য করবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়গুলোতে তার অবাধ্যতা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ..... আবদুর রহমান ইবনু আবদ রাব্বিল কা'বাহ সায়িদী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদল লোককে কা'বার নিকট দেখলাম। অতঃপর আ'মাশ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, জনৈক আনসার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করলো এবং বললো আপনি ওমুককে যেভাবে কর্মচারী নিযুক্ত করেছেন, সেভাবে আমাকেও কি কর্মচারী নিয়োগ করবেন না? তখন তিনি বললেন, আমার পরে তোমরা অনেক পক্ষপাতিত্ব দেখবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে যে পর্যন্ত না তোমরা হাওয (কাওসার)-এ আমার সাথে মিলিত হও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৭, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ওয়ায়িল হাযরামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালামাহ্ ইবনু ইয়াযীদ আল জু'ফী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ মর্মে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর নবী! যদি আমাদের উপর এমন শাসকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তারা তাদের হক তো আমাদের কাছে দাবী করে কিন্তু আমাদের হক তারা দেয়না। এমতাবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী করতে বলেন? তিনি তার উত্তর এড়িয়ে গেলেন। তিনি আবার তাকে প্রশ্ন করলেন। আবার তিনি এড়িয়ে গেলেন। এভাবে প্রশ্নকারী দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আশ'আস ইবনু কায়স (রাযিঃ) তাকে (সালামাকে) টেনে নিলেন এবং বললেন, তোমরা শুনবে এবং মানবে। কেননা তাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তাদের উপর বর্তাবে আর তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তোমাদের উপর বর্তাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬২৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। এ বর্ণনাতে আছে, আশ'আস ইবনু কায়স তাকে টেনে নিলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা শুনবে ও মানবে। কেননা তাদের দায়িত্বের বোঝা তাদের উপর এবং তোমাদের দায়িত্বের বোঝা তোমাদের উপর বর্তাবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ..... আবূ ইদরীস খাওলানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযাইফাহ্ ইবনু ইয়ামান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কল্যাণের বিষয়ে প্রশ্ন করতো আর আমি তার নিকট প্রশ্ন করতাম অকল্যাণ সম্পর্কে এ ভয়ে যে, পরে না তা আমাকে পেয়ে বসে। তাই আমি (কোন এক সময়) প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ছিলাম অজ্ঞতা ও অমঙ্গলের মধ্যে। তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য এ কল্যাণ প্রদান করলেন। এ কল্যাণের পরও কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর আমি বললাম, ঐ অকল্যাণের পর কি আবার কল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তাতে ধুম্ৰতা আছে। আমি বললাম, কী সে ধুম্ৰতা? তিনি বললেন, তখন এমন একদল লোকের উদ্ভব হবে যারা আমার প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করবে, আমার প্রদর্শিত হিদায়াতের পথ ছেড়ে অন্যত্র হিদায়াত তুমি খুঁজবে। দেখবে তাদের মধ্যে ভাল মন্দ উভয়টাই। তখন আমি আরয করলাম, এ কল্যাণের পর কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারীদের উদ্ভব হবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে তারা তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করবে। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাদের পরিচয় ব্যক্ত করুন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের বর্ণ হবে আমাদেরই মতো এবং তারা আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমরা সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন? তিনি বললেন, তোমরা মুসলিমদের জামাআত ও ইমামের সাথে আঁকড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোন জামা'আত বা ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তা হলে সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকবে- যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাত দিয়ে আঁকড়ে থাক এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু আসকার তামীমী ও আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ছিলাম অকল্যাণের মধ্যে; তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে আসলেন। আমরা তাতে অবস্থান করছি। এ কল্যাণের পিছনে কি আবার কোন কল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এ কল্যাণের পিছনে কি আবার কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বললেন, আমার পরে এমন সব নেতার উদ্ভব হবে, যারা আমার হিদায়াতে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে না এবং আমার সুন্নাতও তারা অবলম্বন করবে না। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন সব ব্যক্তির উদ্ভব হবে, যাদের আত্মা হবে মানব দেহে শাইতানের আত্মা। রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, তখন আমরা কী করবো হে আল্লাহর রসূল! যদি আমরা সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই? বললেন, তুমি আমীরের কথা শুনবে এবং মানবে যদি তোমার পিঠে বেত্ৰাঘাত করা হয় বা তোমার ধন-সম্পদ কেড়েও নেয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে এবং মানবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩২, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামা'আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। আর যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্ৰপ্রীতির জন্য ক্রুদ্ধ হয় অথবা গোত্র প্রীতির দিকে আহবান করে অথবা গোত্রের সাহায্যার্থে যুদ্ধ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির কোন ব্যাপার থাকে না) আর তাতে নিহত হয়, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করে। আর যে ব্যক্তি আমার উন্মাতের উপর আক্রমণ করে, আমার উম্মাতের ভালমন্দ সকলকেই নির্বিচারে হত্যা করে। মু'মিনকেও রেহাই দেয় না এবং যার সাথে সে ওয়াদাবদ্ধ হয় তার ওয়াদাও রক্ষা করে না, সে আমার কেউ নয়, আমিও তার কেউ নই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং মৃত্যুবরণ করলো, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করলো এবং যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্রের টানে ক্রুদ্ধ হয় এবং গোত্র প্রীতির জন্যেই যুদ্ধ করে। সে আমার উম্মাত নয়। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মাত থেকে বেরিয়ে আমার উম্মাতেরই পুণ্যবান ও পাপাচারী সকলের গর্দান কাটে, মুমিনদেরকেও রেহাই দেয় না এবং যার সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় তার অঙ্গীকারও পালন করে না, সে আমার উম্মাত নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না এবং ইবনু বাশশার এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন কিন্তু ইবনু মুসান্না তার বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ করেননি। পক্ষান্তরে ইবনু বাশশার তার বর্ণনায় "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" বলে উল্লেখ করেছেন যা উপযুক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু রাবী' (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্যের পথ অবলম্বন করে। কেননা যে ব্যক্তি জামা'আত থেকে সামান্য পরিমাণ সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুই বরণ করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের কোন কার্যকলাপ অপছন্দ করে, তার উচিত ধৈর্যধারণ করা। কেননা যে কোন ব্যক্তিই শাসকের থেকে (তার আনুগত্য থেকে) বেরিয়ে গিয়ে বিঘৎ পরিমাণ সরে যাবে এবং তারপর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
হুরায়ম ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্র প্রীতির দিকে আহ্বান জানায় এবং গোত্রপ্রীতির কারণেই সাহায্য করে, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আম্বারী (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রাযিঃ) এর নিকট এলেন তখন হাররা (হৃদয় বিদারক) এর ঘটনা ঘটেছে এবং যুগটা ছিল ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়ার যুগ। তখন তিনি (ইবনু মুতী') বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা তোমাকে শুনাতে। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে তার কোন দলীল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো আর তার ঘাড়ে আনুগত্যের কোন চুক্তি নেই তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪০, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪১, ইসলামিক সেন্টার)
আমর ইবনু আলী (রহঃ) হতেও নাফি (রহঃ) বর্ণিত উক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু নাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আরফাজাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, অচিরেই নানা প্রকার ফিৎনা-ফাসাদের উদ্ভব হবে। যে ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ উম্মাতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস চালাবে, তোমরা তরবারি দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেবে, সে যে কেউ হোক না কেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু খিরাশ, কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, হাজ্জাজ ..... আরফাজা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে তাতেجَمِيعٌ শব্দের স্থলে جَمِيعًا ব্যবহৃত হয়েছে এবং فَاضْرِبُوا বা গর্দান মারবে স্থলেفَاقْتُلُوهُ তোমরা তাকে হত্যা করবে' ব্যবহৃত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আরফাজা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমাদের এক নেতার অধীনে একতাবদ্ধ থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি এসে তোমাদের শক্তি খর্ব করতে উদ্যত হয় অথবা তোমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় তাকে তোমরা হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যাহ্ ওয়াসিতী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দু' খলীফার জন্য বাই’আত গ্রহণ করা হয় তবে তাদের শেষোক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আযদী (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই এমন কতক আমীরের উদ্ভব ঘটবে তোমরা তাদের চিনতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। যে ব্যক্তি তাদের স্বরূপ চিনল সে মুক্তি পেল এবং যে ব্যক্তি তাদের অপছন্দ করল নিরাপদ হলো। কিন্তু যে ব্যক্তি তাদের পছন্দ করল এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হল)। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ গাসসান মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের উপর এরূপ কতিপয় আমীর নিযুক্ত করা হবে তোমরা তাদের চিনতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। যে তাদের অপছন্দ করল সে মুক্তি পেল এবং যে প্রত্যাখ্যান করল সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে (তাদের প্রতি) সন্তুষ্ট থাকল এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো) লোকেরা জানতে চাইল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে। (অপছন্দ করল) অর্থাৎ, যে অন্তর থেকে তাদের অপছন্দ করল এবং অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ হাদীসে كَرِهَ স্থলে أَنْكَرَ এবং أَنْكَرَ শদের স্থলে كَرِهَ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) হাসান ইবনু রাবী’ বাজালী (রহঃ) ... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এরপর রাবী ইবনু মুবারক পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে যান। তবে তিনি ঐ হাদীসে উল্লেখিতمَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ বাক্যাংশ উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ভালবাস আর তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে। তারা তোমাদের জন্য দু'আ করে, তোমরাও তাদের জন্য দু'আ কর। পক্ষান্তরে তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর আর তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও আর তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়। বলা হল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি তাদেরকে তরবারি দ্বারা প্রতিহত করবো না? তখন তিনি বললেন, না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়িম রাখবে। আর যখন তোমাদের শাসকদের মধ্যে কোনরূপ অপছন্দনীয় কাজ দেখবে; তখন তোমরা তাদের সে কাজকে ঘৃণা করবে; কিন্তু (তাদের) আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫১, ইসলামিক সেন্টার)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক আশজা'ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছেন তারা যারা তোমাদেরকে ভালবাসেন এবং তোমরাও তাদেরকে ভালবাস। তোমরা তাদের জন্য দু'আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দুআ করেন। আর তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং যারা তোমাদেরকে ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, না, যে যাবৎ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়িম রাখবে। তবে যার উপর কোন শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর কোন নাফরমানী করতে দেখবে তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানীতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না। এ হাদীসের একজন রাবী ইবনু জাবির (রহঃ) বলেন, আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনাকারী রুযায়ককে আমি এ হাদীস বর্ণনাকালে বললাম, আল্লাহর কসম! হে আবূ মিকদাম! সত্যিই কি আপনি মুসলিম ইবনু কারযাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে হুবহু বলতে শুনেছেন? রাবী বলেন, তখন তিনি তার দু'হাটুর উপর ভর করে কিবলামুখী হয়ে গেলেন এবং বললেন, সে আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই আমি নিশ্চয়ই মুসলিম ইবনু কারযাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আওফ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মূসা আনসারী (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ, আমরা তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) হাতে বাই’আত হলাম। আর 'উমার (রাযিঃ) তার হাত ধরে (বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন) সামুরা নামক গাছের তলে এবং তিনি বলেছেন, আমরা এ মর্মে তার হাতে বাই’আত হলাম যে, আমরা পলায়ন করবো না। কিন্তু "আমরা মৃত্যুবরণ করবো" এ শপথ গ্রহণ করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে মৃত্যুর শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা তো তার কাছে এ মর্মে শপথ করেছি যে, আমরা পলায়ন করবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি শুনতে পেলেন যে, জাবিরকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল, হুদাইবিয়ার দিন সাহাবীদের সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদশ’। আমরা তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) হাতে বাই’আত হলাম, আর উমর (রাযিঃ) তার হাতে ধরে (বাই’আত হয়েছিলেন) সামুরাহ নামক গাছের তলে। জাদ ইবনু কায়স আনসারী ছাড়া আমরা সকলেই সেদিন তার হাতে বাই’আত হয়েছিলাম। আর সে তার উটের পেটের নীচে আত্মগোপন করে বসে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইব্রাহীম ইবনু দীনার (রহঃ) …... আবূ যূবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি জাবির (রাযিঃ) এর নিকট শুনতে পেলেন, তাকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফাহ্ নামক স্থানে বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন কি? তিনি বললেন না, বরং তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছেন, আর হুদাইবিয়ার বৃক্ষের নিকট ব্যতীত অন্য কোন বৃক্ষের নিকট তিনি বাই’আত গ্রহণ করেননি। রাবী ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়ার কুপের নিকট দু'আ করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আহমাদ ইবনু আবদা (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিনে আমরা (সংখ্যায়) ছিলাম চৌদ্দশ’। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আজকের দিন তোমরা গোটা দুনিয়াবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, যদি আমি দেখতে পারতাম তবে তোমাদেরকে অবশ্যই সে গাছটির জায়গা দেখিয়ে দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) সালিম ইবনু আবূ জা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে গাছ তলায় (বাই’আতকারী) নবী সহচরদের (সংখ্যা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা যদি (সেদিন) এক লাখও হতাম তবুও (হুদাইবিয়ার কূপের পানি) আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা সংখ্যায় ছিলাম পনের শ'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, ইবনু নুমায়র ও রিফা'আহ ইবনু হাইসাম (রহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যদি সংখ্যায় এক লাখও হতাম তবুও অবশ্যই আমাদের জন্য (হুদাইবিয়ার কূপের সে বারাকাতপ্রাপ্ত পানি) যথেষ্ট হতো, আমরা সংখ্যায় ছিলাম পনের শ'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬০, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... সালিম ইবনু আবূ জাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, সেদিন আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, চৌদ্দশ’। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬১, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বৃক্ষতলে বাই’আত গ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা ছিল তেরশ। আর আসলাম গোত্রীয় লোকদের সংখ্যা ছিল মুহাজিরদের এক অষ্টমাংশ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬২, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু মুসান্না ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... শুবাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজেকে বৃক্ষ দিবসে দেখেছি (আমি তথায় উপস্থিত ছিলাম)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন লোকদের বাই’আত গ্রহণ করছিলেন, এ অবস্থায় আমি তার মাথার উপর থেকে বৃক্ষের একটি ডাল সরিয়ে রেখেছিলাম। আমরা তখন সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ'। রাবী বলেন, আমরা তার কাছে মৃত্যুর বাই’আত গ্রহণ করিনি, বরং আমরা পলায়ন করব না মর্মে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইউনুস (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) তার পিতা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সে স্থানটি দেখেছি, তবে পরে যখন সেখানে গেলাম, তখন আর তা চিনতে পারলাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাহ্ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, হুদাইবিয়ার দিন আপনারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে কিসের শপথ গ্রহণ করেছিলেন? তিনি বললেন, মৃত্যুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক আগন্তুক তার কাছে আসলো এবং বলল, ইনি হচ্ছেন হানযালার পুত্র। ইনি লোকের নিকট থেকে বাই’আত নিচ্ছেন। জিজ্ঞেস করলেন, কিসের বাই’আত? বললেন, মৃত্যুর বাই’আত। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে আমরা আর কারো হাতে মৃত্যুর উপর বাই’আত নেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা হাজ্জাজের দরবারে উপনীত হলেন। সে বলল, হে আকওয়ার পুত্র! তুমি কি ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয়ে মরুবাস শুরু করেছো? তিনি বললেন, না; বরং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাকে মরুবাসের (বেদুঈনের জীবন-যাপনের) অনুমতি দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, আবূ জাফার (রহঃ) ..... মুজাশি' ইবনু মাসউদ সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে তার নিকট হিজরাতের বাই’আত গ্রহণের উদ্দেশে আসলাম। তখন তিনি বললেন, হিজরাতের দিন শেষ হয়ে গেছে, তার অধিকারীরা ইতোমধ্যেই তা করে ফেলেছেন। (সে ফাযীলাত আর কারো পাবার অবকাশ নেই) তবে ইসলাম, জিহাদ ও সৎকাজের উপর অটল থাকার বাই’আত হতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... মুজাশি ইবনু মাসউদ সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের পর একদা আমি আমার ভাই আবূ মা'বাদ (রাযিঃ) কে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসলাম। তখন আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তাকে হিজরাতের বাই’আত করান। তিনি তখন বললেন, হিজরাতের দিন অতিক্রান্ত, তার যোগ্য পাত্ররা সে সুযোগ নিয়ে নিয়েছে। আমি বললাম, তাহলে এখন কিসের উপর বাই’আত নিবেন? তিনি বললেন, ইসলাম, জিহাদ ও সৎকাজের বাই’আত হতে পারে। আবূ উসমান (রহঃ) বলেন, আমি আবূ ম'বাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে মুজাশি (রহঃ) এর কথা জানালাম। তিনি বললেন, সে যথার্থই বলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) এ সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেছেন, আমি তার ভাইয়ের সাথে দেখা করলাম, তখন তিনি বললেন, মুজাশি যথার্থ বলেছে, তবে তিনি আবূ মা'বাদের নাম রিওয়ায়াতে উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয় দিবসে তথা মাক্কাহ বিজয়ের দিন বলেছেন, আর হিজরাত নেই (হিজরাতের অবকাশ বাকী নেই) বরং এখন আছে জিহাদ আর নেক-নিয়্যাত। আর যখন তোমাদেরকে জিহাদে বের হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা (জিহাদের উদ্দেশে) বের হয়ে যাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবনু মানসূর, ইবনু রাফি’, ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হিজরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেন, (মাক্কাহ্) বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়্যাত রয়েছে। যখন তোমাদেরকে জিহাদে বের হওয়ার জন্য ডাক দেয়া হয়, তখন তোমরা বের হয়ে যাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ বাহিলী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে একদা জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হিজরাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ওহে! তোমার জন্য আফসোস! হিজরাতের অবস্থা তো কঠিন ব্যাপার। তোমার কাছে কি উট আছে? সে বলল, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তুমি কি তার যাকাত দিয়ে থাকো? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি দরিয়ার ওপার থেকেই 'আমল করে যাও, কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমার কোন আমলই বিফল করে দিবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ..... আওযাঈ (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমার কোন আমলই নিস্ফল হতে দিবেন না। তিনি এ হাদীসে আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি পানি পান করানোর দিন ওগুলোকে (উটনীগুলোকে) দোহন করে থাকো? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু 'আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... নবী সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন মহিলাগণ যখন হিজরাত করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (মাদীনায়) আসতেন তখন আল্লাহ তা'আলার বাণী অনুযায়ী পরীক্ষা করা হতো। (সে বাণী হচ্ছে) "হে নবী। যখন মুমিন মহিলাগণ আপনার কাছে এ মর্মে বাই’আত হতে আসে যে তারা আল্লাহর সাথে অপর কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না ..." (সূরাহ মুমতাহিনাহ্ ৬০ঃ ১২) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, মু'মিন মহিলাদের যে কেউ এসব অঙ্গীকারাবদ্ধ হতো এতেই তারা বাই’আতের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন তারা মৌখিকভাবে এসব অঙ্গীকার করতো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলতেন, তোমরা চলে যাও, তোমাদের বাই’আত গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত কোন দিন কোন (অপরিচিত) মহিলার হাতকে স্পর্শ করেনি। তবে তিনি মৌখিকভাবে বাই’আত গ্রহণ করতেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম আল্লাহর নির্দেশিত পথ ছাড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিন মহিলাদের ওয়াদা গ্রহণ করেননি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত কোন দিন কোন (অপরিচিত) মহিলার হাত স্পর্শ করেনি। তাদের ওয়াদাবদ্ধ হওয়ার পরই তিনি মৌখিকভাবে বলে দিতেন, তোমাদের বাই’আত গ্রহণ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮১, ইসলামিক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আইলী ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে মহিলাদের বাই’আত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিন তার হাত দিয়ে কোন (বেগানা) মহিলাকে স্পর্শ করেননি, তবে তিনি মৌখিকভাবে তাদের বাই’আত গ্রহণ করতেন। আর যখন তিনি তাদের মৌখিক অঙ্গীকার নিয়ে নিতেন তখন (মুখেই) বলে দিতেন, এবার চলে যেতে পার, আমি তোমাদের বাই’আত নিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শ্রবণ করার ও অনুকরণের (আনুগত্যের) বাই’আত গ্রহণ করতাম। তিনি আমাদেরকে বলে দিতেন, যতদূর তোমাদের সাধ্যে কুলাবে (তা পালন করবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ দিবসে (যুদ্ধে) আমাকে পর্যবেক্ষণ করলেন তখন আমার বয়স চৌদ্দ বছর। তিনি আমাকে (যুদ্ধের জন্য) অনুমতি দিলেন না। খন্দকের দিন তিনি আমাকে পর্যবেক্ষণ করলেন। তখন আমার বয়স পনের বছর। তিনি আমাকে (যুদ্ধে গমনের) অনুমতি দিলেন। নাফি' বলেন, আমি 'উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে এ হাদীস তার নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি তখন খলীফা ছিলেন। তিনি বললেন, এটাই হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও প্রাপ্ত বয়স্কদের সীমারেখা। তিনি তার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে এ মর্মে ঘোষণা দিলেন, তারা যেন পনের বছর বয়সের লোকদেরকে ভাতা প্রদান করেন এবং তার কম বয়সের যারা তাদেরকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলে নির্ধারণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ থেকে উক্ত সূত্রে এ হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের বর্ণিত হাদীসে আছে, আমি তখন চৌদ্দ বছরের। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ছোট বলে গণ্য করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শত্রু এলাকায় কুরআন মাজীদ নিয়ে ভ্রমণ করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ও ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শক্র দেশে কুরআন নিয়ে সফর করতে বারণ করতেন এই ভয়ে যে, তা শক্ররা পেয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী ও আবূ কামিল (রহ) .… ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কুরআন মজীদ নিয়ে সফর করবে না, কেননা শক্র থেকে আমি তা নিরাপদ মনে করি না। রাবী আইয়্যুব (রাযিঃ) বলেন, শক্ররা হস্তগত করে তোমাদের সাথে তা নিয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু আবূ উমর ও ইবনু রফি (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসের মধ্যবর্তী রাবী ইবনু উলাইয়াহ ও সাকাফীর বর্ণনায় فَإِنِّي أَخَافُ এবং আমি আশংকা করি রয়েছে। আর সানদের জন্য সূত্রের মধ্যবর্তী রাবী সুফইয়ান ও যাহহাক ইবনু উসমানের বর্ণনায় مَخَافَةَ أَنْ يَنَالَهُ الْعَدُوُّ দুশমন পেয়ে যাবে এ আশংকায়' কথাটি রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮৯, ইসলামিক সেন্টার ৪৬৯০/ক)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের দৌড়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন হাফইয়া থেকে সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত। আর যে ঘোড়াগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি সেগুলোর দৌড়ের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করান সানিয়া থেকে মসজিদে বানু যুৱায়ক পর্যন্ত। ইবনু উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন সে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রাবী', আবূ কামিল, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আলী ইবনু হুজুর, আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ, ইবনু আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) সকলেই নাফি' (রহঃ) সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে পূর্ববর্তী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাদ ও ইবনু উলাইয়্যাহ সূত্রে আইয়্যুব (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে এতটুকু বেশী বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ (ইবনু উমার) বলেন, আমি সে প্রতিযোগিতায় প্রথম হই এবং আমার ঘোড়াটি আমাকে নিয়ে লাফিয়ে মসজিদে উঠে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়ার ললাটে কল্যাণ কিয়ামত পর্যন্ত নিহিত থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ, ইবনু রুমূহ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে মালিক (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী জাহযামী ও সালিহ্ ইবনু হাতিম ইবনু ওয়ারদান (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার হাতের আঙ্গুল দিয়ে একটি ঘোড়ার ললাটের কেশ বিন্যাস করতে দেখলাম আর তিনি তখন বলছিলেন, ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদান ও গনীমাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উরওয়াহ আল বারিকী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেঃ ঘোড়ার ললাটে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত আছে। আর তা হল প্রতিদান ও গনীমাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উরওয়াহ বারিকী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কল্যাণ পেচিয়ে রাখা হয়েছে ঘোড়ার ললাটের সাথে। রাবী বলেন, তখন তাকে বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কিসের দ্বারা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সাওয়াব এবং গনীমাত কিয়ামত দিবস পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হুসায়ন (রহঃ) হতে এ সানাদে বর্ণনা করেন, তবে তিনি "উরওয়াহ ইবনু জা'দ" উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... উরওয়াহ আল বারিকী (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। (এ সানাদের রাবী শাবীব ইবনু গারকাদাহ) সাওয়াব ও গনীমাতের কথা উল্লেখ করেননি। (তবে আবূল আহওয়াসের বর্ণনায় আছে।) আর আবূ সুফইয়ানের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি উরওয়াহ বারিকী (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন, তিনি শুনেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ ইবনু জা'দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে তিনি সাওয়াব ও গনীমাতের উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০০, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বারাকাত রয়েছে ঘোড়ার কপালে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আবূ তাইয়্যাহ্ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'শিকাল' ঘোড়া পছন্দ করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৩, ইসলামিক সেন্টার)
(….) মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়র ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) ..... সুফইয়ান (রহঃ) হতে বর্ণিত। সুফইয়ান (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে বর্ধিত এতটুকু আছে এবং শিকাল হচ্ছে ঘোড়ার ডান পায়ে ও বাম হাতে (আগের পায়ে) অথবা ডান হাত ও বাম পায়ে শ্বেত বর্ণ হওয়া। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ওয়াকী’ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রিওয়ায়াত করেন। ওয়াহ্ব বর্ণিত সানাদে আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদের পরে নাখ'ঈ' শব্দটি ছাড়াই বর্ণনা করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা সে ব্যক্তির দায়িত্ব স্বহস্তে তুলে নিয়েছেন যে ব্যক্তি তারই রাস্তায় বের হয়। আমারই রাস্তায় জিহাদ, আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রসূলের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই তাকে ঘর থেকে বের করে তখন আমারই যিম্মায় বর্তায় যে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবো নতুবা সে তার যে বাসস্থান থেকে বেরিয়েছিল, তার প্রাপ্য সাওয়াব গনীমাতসহ তাকে সেখানে ফিরিয়ে আনবো। কসম সে পবিত্র সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আল্লাহ তা'আলার পথে যে ব্যক্তি যে পরিমাণই যখম হয় না কেন, কিয়ামতের দিন সে ঠিক যখম অবস্থায়ই আসবে; তার বর্ণ হবে রক্ত বর্ণ আর ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর। কসম সে পবিত্র সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি মুসলিমদের জন্য কষ্টকর না হতো তবে আমি কখনো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের অভিযানে লিপ্ত দলে যোগদান না করে ঘরে বসে থাকতাম না। কিন্তু আমার কাছে এমন সামর্থ্য নেই যে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেন তাদের সকলকে বাহন দান করবো, আর তাদের নিজেদেরও সে সঙ্গতি নেই (যে, নিজেরাই নিজেদের বাহন নিয়ে বের হবে)। আর তাদের জন্যে এটা খুবই কষ্টকর হবে যে, (আমি যুদ্ধে বেরোবার পর আমার সঙ্গে না গিয়ে) তারা পিছনে পড়ে থাকবে। কসম সে পবিত্র সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমার একান্ত ইচ্ছা হয় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি আর তাতে শহীদ হই, তারপর আবার জিহাদ করি, আবারও শহীদ হই, আবারও জিহাদ করি, আবারও শহীদ হই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শইবাহ এবং আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... উমরাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির দায়িত্ব নিয়েছেন, যে তারই পথে জিহাদ করে, তাকে ঘর থেকে বের করে কেবল তারই রাস্তায় জিহাদ আর তারই কালিমায় বিশ্বাস। সে দায়িত্বটি হচ্ছে, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, না হয় তার প্রাপ্য সাওয়াব ও গণীমাতসহ সে স্থানে ফিরিয়ে আনবেন যেখান থেকে সে (জিহাদে) বেরিয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৮, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ এমন কেউ নেই যে আল্লাহর পথে আঘাত পায় আর আল্লাহই সম্যক জানেন, যে কেউ তার পথে যখম হবে সে কিয়ামতের দিন এরূপ অবস্থায় আসবে যে, তার আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দিয়ে রক্ত বের হবে, তার রং হবে রক্তের; কিন্তু সুবাস হবে কস্তরীর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭০৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ্ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তন্মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে মুসলিম যে যখমেই আক্রান্ত হয়, কিয়ামতের দিন তা ঠিক যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল সেরূপ হবে; রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে যার রং রক্তেরই রং হবে আর সুবাস হবে কম্ভরীর। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ সে পবিত্র সত্তার কসম! যদি মুমিনদের জন্য কষ্টকর না হতো তবে আমি কোন সেনাদলের যারা আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয় তাদের পিছনে বসে থাকতাম না। কিন্তু আমার সে সামর্থ্য নেই যা দিয়ে আমি তাদের সকলকে বাহন দিতে পারি, আর না তাদেরই সে সামর্থ্য আছে যে, (নিজ থেকে বাহন নিয়ে যুদ্ধযাত্রাকালে) আমার অনুসরণ করবে, আর আমার (যুদ্ধ অভিযানে বের হয়ে যাওয়ার) পর ঘরে বসে থাকতে তাদের মনে ভাল লাগবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১০, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যদি মু'মিনের জন্যে কষ্টকর না হতো, তবে (যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে) আমি কোন সেনাদলের পিছনে বসে থাকতাম না। পরবর্তী অংশ উপরোক্ত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ আর এ সানাদে বর্ণিত আছে যে, কসম সে পবিত্র সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ। আমি মনে প্রাণে কামনা করি আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তারপর জীবন লাভ করি। আবূ যুর'আহ কর্তৃক আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১১, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু আবূ 'উমার (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্যে কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি পছন্দ করতাম যেন কোন সেনাদলের পিছনে থেকে না যাই। পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী দের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১২, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয় আল্লাহ তার দায়িত্ব নিয়ে নেন। এ উক্তি পর্যন্ত; কোন সেনাদলের যে দল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে তার পিছনে থাকতাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কেউ নেই যে মৃত্যুবরণ করেছে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে আর সে দুনিয়ায় ফিরে আসতে প্রসন্ন বোধ করে যদিও বা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছু তারই হয় তবুও। শহীদ ছাড়া; সে কামনা করবে ফিরে আসতে যেন আবার দুনিয়ায় শহীদ হতে পারে। তা এজন্যে যে, সে শাহাদাতের ফাযীলাত প্রত্যক্ষ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ এমন কেউ নেই যে জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তারপর দুনিয়ায় ফিরে আসাটা পছন্দ করবে যদিও বা গোটা দুনিয়ার সবকিছু তারই হয়, কেবল শহীদ ছাড়া; কেননা সে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করে যেন আরও দশবার শহীদ হয়, তা এজন্যে যে, সে মর্যাদা প্রত্যক্ষ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৫, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদের তুল্য আর কী আছে? তিনি বললেন, তোমরা তা করতে পারবে না। রাবী বলেন, প্রশ্নকারীরা কথাটা দু’বার বা তিনবার করে ফিরিয়ে বললেন। প্রত্যেকবারই তিনি বললেন, তোমরা তা পারবে না। তৃতীয়বার তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন ব্যক্তির মতো, যে সর্বদা সিয়াম পালনকারী, সালাতে দণ্ডায়মান, আল্লাহর আয়াতের পূর্ণ অনুগত, সিয়ামে বা কিয়ামে যে ক্লান্তিবোধ করে না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ প্রত্যাবর্তন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সুহায়ল (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারের নিকটেই ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো- ইসলাম গ্রহণের পর যদি আমি আর কোন সৎ কাজই না করি তাতে আমার কোন পরওয়া নেই; তবে আমি হাজীদেরকে পানি পান করাব। অপর একজন বলে উঠলো, মুসলিম হওয়ার পর যদি আমি আর কোন সৎ কাজই না করি তাতে আমার কোন পরোয়া নেই, তবে আমি মাসজিদুল হারামের মেরামত প্রভৃতি করে যাব। অপর একজন বলে উঠলো, আল্লাহর পথে লড়াই তোমরা যা যা বলেছে তার চাইতে উত্তম। তখন উমর (রাযিঃ) তাদেরকে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের নিকটে তোমরা চিৎকার করো না। সেটা ছিল জুমুআর দিন। বরং যখন জুমুআর সালাত হয়ে যাবে, তখন আমি তার নিকটে গিয়ে তোমরা যে ব্যাপারে বিতর্ক করছে তা জিজ্ঞেস করে নেবো, তখন আল্লাহ তা'আলা (সে প্রেক্ষিতে) নাযিল করলেনঃ “যারা হাজীদের পানি সরবরাহ করে এবং মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করে তোমরা কি তাদেরকে ওদের সমান করো, যারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনে ..." (সূরা আত-তওবা ৯ঃ ১৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারের কাছে ছিলাম'। বাকী হাদীস আবূ তওবা্-এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭১৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে, সে সব কিছুর চেয়ে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে যে বান্দা একটি সকাল ব্যয় করে, তা দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সে সব কিছুর চেয়েও উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২১, ইসলামিক সেন্টার)
– (১১৪/…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ), যুহায়র ইবনু হারব ..... সাহল ইবনু সাদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর পথে একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তার মধ্যকার যাবতীয় সম্পদ থেকে অধিক কল্যাণকর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২২, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি না আমার উম্মাতের কতিপয় লোক হতো ..... এরপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন তাতে তিনি আরও বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সে সবের চাইতেও উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ), ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, যুহায়র ইবনু হারব … আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি সকাল অথবা একটি বিকাল আল্লাহর পথে অতিবাহিত করা ঐসব বস্তুর চাইতে উত্তম যেগুলোর উপর সূর্য উদিত হয়ে অস্ত যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুহযায (রহঃ) ..... আবূ আইয়্যুব আনসারী (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ..... সম্পূর্ণ অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৫, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব (প্রতিপালক) রূপে, ইসলামকে দ্বীনরপে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবীরূপে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট, তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) তাতে অবাক হয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যে কথাটি আবার বলুন। তিনি তাই করলেন, তারপর বললেন, আর একটি আমল এমন রয়েছে, যার দ্বারা বান্দা জান্নাতে এমন একশটি মর্যাদার স্তর লাভ করবে যার দুটো স্তরের মধ্যে ব্যবধান হবে আসমান ও যমীনের ব্যবধান তুল্য। তখন তিনি বললেন, ঐ আমলটি কী, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ আল্লাহর পথে জিহাদ! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা তাদের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং তাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান হচ্ছে সর্বোত্তম আমল। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আপনি কি মনে করেন যে, আমি যদি আল্লাহর পথে নিহত হই তাহলে আমার সকল পাপ মোচন হয়ে যাবে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যা, যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের আশায় আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে (শক্রর মুখোমুখি অবস্থায়) আল্লাহর রাস্তায় নিহত হও। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী বললে হে! তখন সে ব্যক্তি (আবার) বলল, আপনি কি মনে করেনঃ আমি যদি আল্লাহর পথে নিহত হই তাহলে কি আমার সকল গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি যদি ধৈর্যধারণকারী, সাওয়াবের আশায় আশান্বিত হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে শত্রুর মুখোমুখী অবস্থায় নিহত হও, অবশ্য ঋণের কথা আলাদা। কেননা, জিবরাঈল (আঃ) আমাকে এ কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আল্লাহর পথে নিহত হই ..... লায়সের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৮, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবনু আজলান (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো, তিনি তখন মিম্বারের উপর উপবিষ্ট ছিলেন। সে ব্যক্তি বলল, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আমার তরবারি দ্বারা নিহত হই .....। বাকী অংশ মাকবুরীর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭২৯, ইসলামিক সেন্টার)
যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সালিহ্ মিসরী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঋণ ব্যতীত শহীদের সকল গুনাহ্ই ক্ষমা করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনু আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ঋণ ব্যতীত সকল বিষয়ে ক্ষমা করিয়ে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাযিঃ) কে এ আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যাতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনো তোমরা মৃত মনে করো না বরং তারা জীবিত, তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত"- (সূরা আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৬৯)। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) জিজ্ঞেস করেছিলাম তখন তিনি বললেন, তাদের রুহসমূহ সবুজ পাখীর উদরে রক্ষিত থাকে, যা আরশের সাথে ঝুলন্ত দীপাধারে বাস করে। জান্নাতের সর্বত্র তারা যেখানে চায় সেখানে বিচরণ করে। অবশেষে সে দীপাধারগুলোতে ফিরে আসে। একবার তাদের প্রভু তাদের দিকে পরিপূর্ণভাবে তাকালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি কোন আকাঙ্ক্ষা আছে? জবাবে তারা বলল, আমাদের আর কি আকাঙ্খা থাকতে পারে, আমরা তো যেভাবে ইচ্ছা জান্নাতে ঘোরাফেরা করছি। আল্লাহ তা'আলা তাদের সাথে এরূপ তিন তিনবার করলেন। যখন তারা দেখলো জবাব না দিয়ে প্রশ্ন থেকে রেহাই পাচ্ছে না তখন তারা বলল, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আকাঙ্খা হয় যদি আমাদের রূহুগুলোকে আমাদের দেহসমূহে ফিরিয়ে দিতেন আর পুনরায় আমরা আপনারই পথে নিহত হতে পারতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন দেখলেন, তাদের আর কোন প্রয়োজনই নেই, তখন তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলো (আর প্রশ্ন করা হলো না)।- (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩২, ইসলামিক সেন্টার)
মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, সে মু'মিন যে তার জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। সে ব্যক্তি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, যে মু’মিন কোন পাহাড়ী উপত্যকায় নির্জনে বসে তার প্রতিপালকের ইবাদাত করে এবং স্বীয় অনিষ্ট থেকে লোকজনকে রক্ষা করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি যে তার জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। সে ব্যক্তি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তারপর হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোন নিভৃত উপত্যকায় তার প্রতিপালকের ইবাদাতে মনোনিবেশ করে থাকে এবং লোকজনকে তার নিজ ক্ষতিকারক বিষয়াদি থেকে বাঁচায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিয়ী (রহঃ) .... ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উপত্যকায় অবস্থানকারী লোক, তারপর 'ঐ ব্যক্তি' তিনি বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সর্বোত্তম জীবন হলো সে ব্যক্তির জীবন যে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্যে ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে। শক্রর উপস্থিতি ও শক্রর দিকে ধাবমান হওয়ার শব্দ শুনামাত্র ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ে যথাস্থানে সে শক্রকে হত্যা এবং নিজ শাহাদাতের সন্ধান করে। অথবা ঐ লোকের জীবনই উত্তম যে ছাগপাল নিয়ে কোন পাহাড় চূড়ায় বা (নির্জন) উপত্যকায় বসবাস করে আর যথারীতি সালাত আদায় করে, যাকাত দান করে এবং আমৃত্যু তার প্রভুর ইবাদাতে নিমগ্ন থাকে। লোকটি কেবল মঙ্গলের মধ্যেই রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি (কুতুইবাহ) বলেছেন, বা'জাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বদর فِي رَأْسِ شَعَفَةٍ مِنْ هَذِهِ الشَّعَفِ এ শব্দের পরিবর্তেفِي شِعْبَةٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ শব্দে ইয়াহইয়া থেকে ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এতে রয়েছে,فِي شِعْبٍ مِنَ الشِّعَابِ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা ঐ দু’ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করবে অথচ উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন, তা কেমন করে হবে হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে শহীদ হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা হত্যাকারীর প্রতি সদয় দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলবে এবং সেও আল্লাহর পথে জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূয যিনাদ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪০, ইসলামিক সেন্টার
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাদ ইবনু মুনব্বিহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেকগুলো হাদীস বর্ণনা করেন, তন্মধ্যে এটিও ছিল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা এমন দু’ব্যক্তির জন্য হাসবেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করবে অথচ তাদের উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ আরয করলেন, তা কেমন করে হবে হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, একজন নিহত হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারপর আল্লাহ অপরজনের প্রতিও সদয় হবেন এবং তাকেও ইসলামের হিদায়াত দান করবেন। তারপর সেও আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং শহীদ হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আবূ আইয়্যুব, কুতাইবাহ্ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাফির এবং তার হত্যাকারী (মু'মিন) কখনও জাহান্নামে একত্রিত হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪২, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আওন হিলালী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দু’ব্যক্তি জাহান্নামে একত্রিত হবে না যে, একের উপস্থিতি অন্যকে বিব্রত করে। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কারা এ দু’ব্যক্তি? তিনি বললেন, সে মু'মিন ব্যক্তি যে কোন কাফিরকে হত্যা করেছে তারপর নিজে ন্যায় পথে চলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি একটি উটিনী লাগামসহ নিয়ে এসে বলল, এটা আল্লাহর পথে (দান করলাম)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তুমি সাতশ উটিনী লাভ করবে যার প্রত্যেকটি লাগামসহ হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, “আমার বাহন হালাক হয়ে গেছে, আপনি আমাকে একটি বাহন দিন।” তিনি বললেনঃ আমার কাছে তো তা নেই। সে সময় এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি এমন এক ব্যক্তির সন্ধান তাকে দিচ্ছি, যে তাকে বাহন দিতে পারে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন ভাল আমলের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্যে 'আমলকারীর সমান সাওয়াব রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, বিশর ইবনু খালিদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের জনৈক যুবক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যুদ্ধে যেতে চাই অথচ আমার কাছে যুদ্ধোপকরণ বলতে কিছুই নেই। তখন তিনি বললেন, অমুকের কাছে যাও, সে যুদ্ধের জন্য সজ্জিত হয়েছিল; কিন্তু পরে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন সে ব্যক্তি তার কাছে গেল এবং বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আপনি যেন সেসব যুদ্ধ সামগ্ৰী আমাকে দিয়ে দেন যার দ্বারা আপনি নিজে সজ্জিত হয়েছিলেন। তখন সে ব্যক্তি (সম্ভবতঃ তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে) বলল, হে অমুক! আমি যে যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়েছিলাম তা একে দিয়ে দাও এবং তার মধ্য থেকে কিছুই রেখে দিও না। আল্লাহর কসম! তার সামান্যতম অংশও যেন তুমি রেখে না দাও তাহলে আল্লাহ তাতে তোমাকে বারাকাত দান করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন গাজীকে যুদ্ধসাজে সজ্জিত করে দিল, সেও জিহাদ করলো, যে ব্যক্তি কোন গাজীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারবর্গের দেখাশুনা করলো, সেও জিহাদই করলো। (অর্থাৎ, সেও জিহাদকারীর সমান সাওয়াব লাভ করবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী যাহরানী (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে জিহাদকারী কোন গাজীকে যুদ্ধসাজে সজ্জিত করে দিল সেও জিহাদই করলো, আর যে ব্যক্তি কোন গাজীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবার-পরিজনের পরিচর্যা করলো, সেও জিহাদই করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুযায়ল বংশের অন্তর্ভুক্ত বানূ লিহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠান। তখন তিনি বলেন, প্রতি দু'ব্যক্তির একজন যেন বাহিনীতে যোগদান করে, তবে সাওয়াব তারা দু’জনেই লাভ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫১, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
(…) সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠান। তখন তিনি বললেন, প্রতি দু’ব্যক্তির মধ্যে একজনকে অবশ্যই যুদ্ধে বেরিয়ে যাওয়া উচিত, তারপর তিনি বাড়ীতে অবস্থানকারীদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যকার যে কেউ যুদ্ধে গমনকারীর পরিবার-পরিজন ও তার সহায়-সম্পদের দেখাশুনা করবে সেও যুদ্ধে গমনকারীর অর্ধেক সাওয়াব লাভ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাহিদদের রমণীদের ইজ্জত রক্ষা বাড়ীতে অবস্থানকারীদের জন্যে তাদের মাতাদের ইজ্জতের তুল্য। বাড়ীতে অবস্থানকারী যে ব্যক্তিই কোন মুজাহিদের পক্ষে তার পরিবার বর্গের দেখাশুনার দায়িত্বে থাকে এবং তাতে সে কোনরূপ খিয়ানাত বা বিশ্বাস ভঙ্গ করে, কিয়ামতের দিন সে মুজাহিদকে তার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার খিয়ানাতকারীর নেক ‘আমল থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা নিয়ে যাবে। তোমাদের ধারণা কী? (অর্থাৎ, সে কি আর কম নেবে? সমুদয় সাওয়াবই সে কেড়ে নিয়ে যাবে।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাকী অংশ সাওরী (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... 'আলকামাহ্ ইবনু মারসাদ (রহঃ) হতে এ সানাদে হাদীস রিওয়ায়াত করেন, তিনি আরও রিওয়ায়াত করেন যে, মুজাহিদকে বলা হবে তুমি তার নেক আমল থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা নিয়ে নাও। এ কথাটি বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, তোমাদের কী ধারণা? (মুজাহিদ কি তখন তার কোন সাওয়াব আর বাকী রাখবে?) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বারা (রাযিঃ) কে কুরআন মাজীদের আয়াতঃ "মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়" সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ (রাযিঃ) কে একটি হাড় নিয়ে আসতে আদেশ করলেন এবং তিনি তাতে তা লিখলেন। তখন ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) তার (অন্ধত্বের) ওযর সম্পর্কে অনুযোগ করলেন। এ বিষয়ে নাযিল হলোঃ "মু'মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়।" শুবাহ (রহঃ) বলেন, আমার কাছে সাদ ইবনু ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি সূত্রে তিনি যায়দ (রহঃ) হতে এ আয়াত সম্পর্কে “যারা বসে থাকে তারা সমান নয়।” বাকী হাদীস বারা (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। ইবনু বাশশার তার বর্ণনায় বলেছেন, সাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) তার পিতা থেকে তিনি এক ব্যক্তি থেকে তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াত নাযিল হল তখন উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) সে ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আলাপ করলেন। তখন নাযিল হলো غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ অর্থাৎ, যাদের কোন ওযর নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী ও সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আমর (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি (এসে) বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি (আল্লাহর রাস্তায়) নিহত হই তবে কোথায় থাকবো। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জান্নাতে। লোকটি তখন তার হাতের খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো, অবশেষে শহীদ হলো। সুওয়াইদ (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে, উহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬০, ইসলামিক সেন্টার)
–(১৪৪/১৯০০) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু নবীতের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। তিনি বলেন, আহমাদ ইবনু জানাব মিসসীসী (রহঃ) বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের অন্তর্ভুক্ত একটি কবীলা বানু নবীতের এক ব্যক্তি আসলো এবং বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আপনি তার বান্দা ও রসূল। তারপর সে অগ্রসর হলো এবং যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে শহীদ হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে খুবই সহজ কাজ করলো তবে তাকে প্রচুর সাওয়াব দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু নাযর ইবনু আবূ নাযর, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুসায়সা (রাযিঃ) কে আবূ সুফইয়ানের বাণিজ্যিক কাফিলার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্যে পাঠান। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। তখন আমি ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া ঘরে আর কেউই ছিল না। রাবী বলেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, তিনি (আনাস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহধর্মিণীর কথাও বলেছেন কি-না। এরপর তিনি সমুদয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং (লোকজনকে লক্ষ্য করে) তিনি বললেন, আমি দুশমনের খোজে বের হচ্ছি। যার সওয়ারী মওজুদ আছে সে যেন আমাদের সঙ্গে সওয়ার হয়ে যায়। তখন কিছুলোক মাদীনার উপরাঞ্চল থেকে তাদের সওয়ারী নিয়ে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন, না; কেবল যাদের সওয়ারী প্রস্তুত আছে তারাই যাবে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রওনা করলেন এবং মুশরিকদের পূর্বেই বদরে গিয়ে পৌছলেন। এর পরপরই মুশরিকরা এসে পৌছলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ যেন কোন ব্যাপারে আমার অগ্রবর্তী না হয়, যতক্ষণ না আমি তার সামনে থাকি। এরপর মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। রাবী বলেন, উমায়র ইবনু হুমাম আনসারী (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার ন্যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমায়র বলে উঠলেন, বাহ, বাহ, কী চমৎকার! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ, বাহ্, বলতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো হে! তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! বরং আল্লাহর কসম! আমি তার অধিবাসী হওয়ার আশায়ই এরূপ বলেছি। তখন তিনি বললেন, তুমি নিশ্চয়ই তার অধিবাসী (হবে)। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার তৃণ থেকে কয়েকটি খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমি যদি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তাও হবে এক দীর্ঘ জীবন। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার কাছে রক্ষিত খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিলেন তারপর জিহাদে প্রবৃত্ত হলেন এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি- আর তিনি ছিলেন তখন শত্রুর মুখোমুখি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ রয়েছে তরবারির ছায়ার নীচে। তখন আলুথালু এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আবূ মূসা! আপনি কি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি তার সাথীবর্গের কাছে ফিরে গেলো। তারপর বলল, আমি তোমাদেরকে (বিদায়ী) সালাম জানাচ্ছি। এরপর সে তার তরবারির কোষ ভেঙ্গে ফেলে তা দূরে নিক্ষেপ করলো। তারপর নিজ তরবারিসহ শক্ৰদের কাছে গিয়ে তা দিয়ে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমাদের সঙ্গে এমন কিছু লোক দিন যারা আমাদেরকে কুরআন এবং সুন্নাহ্ শিক্ষা দেবেন। তখন তিনি আনসারদের সত্তর ব্যক্তিকে তাদের সাথে পাঠালেন। তাদেরকে কুররা (কারী সমাজ) বলা হতো। এদের মধ্যে আমার মামা হারামও ছিলেন। তারা কুরআন তিলওয়াত করতেন এবং রাত্রে এর অর্থ অনুধাবন ও শিক্ষায় নিমগ্ন থাকতেন, আর দিনের বেলায় জলাশয়ে গিয়ে পানি এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রি লব্ধ অর্থে সুফফাবাসীগণ এবং নিঃস্ব ফকীরদের জন্যে আহার্য সামগ্ৰী ক্রয় করতেন। এদেরকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন। ওরা তাদের উপর আক্রমণ করলো এবং তারা গন্ত ব্যস্থলে পৌছার পূর্বেই তাদেরকে হত্যা করলো। তখন তারা বললেন, হে আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের নবীর নিকট সংবাদ পৌছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌছে গিয়েছি এবং আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। রাবী বলেন, এক লোক আনাস (রাযিঃ) এর মামা হারাম (রাযিঃ) এর পিছন দিক দিয়ে এসে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা (শহীদ) করে দিল। হারাম (রাযিঃ) বলে উঠলেন, কা'বার প্রভুর কসম! আমি সাফল্যমণ্ডিত হয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের ভাইগণ নিহত হয়েছেন। আর (অন্তিম মুহূর্তে) তারা বলেছেন, হে আল্লাহ আমাদের নবীকে সংবাদ পৌছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌছে গেছি এ অবস্থায় যে, আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার যে চাচার নামানুসারে আমার নামকরণ করা হয়েছে সে আনাস (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে শরীক হতে পারেননি। রাবী বলেন, এটা ছিল তার জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি (প্রায়ই) বলতেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যে যুদ্ধটি করেছিলেন, তাতে আমি শরীক হতে পারলাম না। এরপর যদি আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার কোন যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দান করেন তাহলে আমি কী করি তা আল্লাহ দেখবেন। রাবী বলেন, এর বেশী কিছু বলতে তিনি ভয় পেতেন। তারপর উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাবী বলেন, সাদ ইবনু মু'আয (রাযিঃ) যখন অগ্রসর হলেন তখন আনাস (রাযিঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ আমর কোথায় (যাচ্ছে)? আহা! জান্নাতের ঘ্রাণ আমি উহুদ প্রান্ত থেকে পাচ্ছি। রাবী বলেন, তারপর তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন এমন কি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেলেন। রাবী বলেন, তারপর তার মৃত লাশে আশিটিরও অধিক তরবারি, বর্শা ও তীরের চিহ্ন পাওয়া যায়। রাবী আনাস (রাযিঃ) বলেন, তার বোন এবং আমার ফুফু রুবাইয়্যি' বিনতু নাযর (রাযিঃ) বলেন, (শহীদের ক্ষত-বিক্ষত দেহের) কেবল তার আঙ্গুলের জোড়া দেখেই তাকে আমি সনাক্ত করেছি। (অন্য কোন পরিচয়ই অবশিষ্ট ছিল না।) তখন আয়াত নাযিল হলোঃ “এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে দেখিয়েছে। তাদের কেউ অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছে, আর কেউ তার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা মোটেই পরিবর্তিত হয়নি”— (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৩)। রাবী বলেন, সাহাবীগণ মনে করতেন যে এ আয়াতটি তার এবং তার সঙ্গী-সাথীদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছিল।
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, জনৈক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি গনীমাত লাভের জন্য যুদ্ধ করে, অন্য এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে স্মরণীয় হওয়ার জন্যে, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে নিজের উচ্চমর্যাদা প্রদর্শনের জন্যে। এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে বলে গণ্য হবে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে ব্যক্তিই আল্লাহর পথে (যুদ্ধ করে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রাযিঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলো, যে ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি গোত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশে যুদ্ধ করে এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ (বলে গণ্য হবে)? তখন (জবাবে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি এ উদ্দেশে যুদ্ধ করে যে, আল্লাহর বাণী সমুন্নত হবে, (কেবল) সে আল্লাহর রাস্তায় (বলে গণ্য হবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে। তারপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর পথে যুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। তখন সে ব্যক্তি বলল, এক ব্যক্তি ক্রোধের বশে যুদ্ধ করে এবং গোত্রের টানে যুদ্ধ করে। তখন তিনি তার দিকে মাথা তুলে তাকালেন। তার এ মাথা তোলা শুধু এজন্যেই ছিল যে সে লোকটি দণ্ডায়মান অবস্থায় ছিল। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এজন্যে যুদ্ধ করে যে, আল্লাহর বাণী সমুন্নত হবে, কেবল সে আল্লাহর রাহে (যুদ্ধ করে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল-হারিসী (রহঃ) ..... সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকজন যখন আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সিরিয়াবাসী নাতিল (রহঃ) বললেন, হে শায়খ! আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদীস আমাদেরকে শুনান। তিনি বলেন, হ্যাঁ! (শুনাবো)। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তার নিয়ামাতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে।) তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, এর বিনিময়ে কী আমল করেছিলে? সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে বলে, তুমি বীর। তা বলা হয়েছে, এরপর নির্দেশ দেয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাযির করা হবে। আল্লাহ তা'আলা তার প্রদত্ত নি’আমাতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে) তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, এত বড় নি’আমাত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে কুরআন অধ্যয়ন করেছি। জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন কারী। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে যাকে আল্লাহ তা’আলা সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রদত্ত নিআমাতসমূহের কথা তাকে বলবেন। সে তা চিনতে পারবে (এবং স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, এসব নি’আমাতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছো? জবাবে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোন খাত নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ কর, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছে। তুমি বরং এ জন্যে তা করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে 'দানবীর’ বলে অভিহিত করে। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭০, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। তিনি তার বর্ণনায় 'তাফাররাজা' এর স্থলে 'তাফাররাজা' এবং 'নাতিল আহলিশ শাম' এর স্থলে 'নাতিলুশ শাম' বলে উল্লেখ করেছেন। অবশিষ্ট হাদীস খালিদ ইবনু হারিস (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বাহিনী আল্লাহর পথে জিহাদ করলো এবং তাতে গনীমাত লাভ করলো তারা এ দুনিয়াতেই আখিরাতের দুই-তৃতীয়াংশ বিনিময় নগদ পেয়ে গেল। তাদের জন্য কেবল এক-তৃতীয়াংশ বিনিময় অবশিষ্ট রইলো। আর যে বাহিনী কোন গনীমাত লাভ করলো না, তাদের পূর্ণ বিনিময়ই পাওনা রয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাহল তামীমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাহিনী মাত্রই যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করলো এবং গনীমাত লাভ করলো, তারপর নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করলো তারা আখিরাতের দুই-তৃতীয়াংশ বিনিময়ই নগদ পেয়ে গেল। আর যারা খালি হাতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসলো, তাদের পুরো বিনিময়ই পাওনা রয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মসলামাহ্ (রহঃ) ..... উমার ইবনু খাত্তাব (রযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আমলের ফলাফল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল এবং কোন ব্যক্তি কেবল তাই লাভ করবে যা সে নিয়্যাত করে। যার হিজরাত আল্লাহ ও তার রসূলের উদ্দেশে, তার হিজরাত আল্লাহ ও রসূলের উদ্দেশ্য হিজরাত বলে গণ্য হবে, আর যার হিজরাত পার্থিব কোন লাভ বা কোন মহিলাকে বিবাহের গ্রহণের উদ্দেশে হবে তার হিজরাত সে উদেশের হিজরাত বলেই গণ্য হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ, আবূ রাবী' আতাকী, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা হামদানী ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ... সুফইয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) কে মিম্বারে উপবিষ্ট অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বরাতে বলতে শুনেছি .....। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা করে আল্লাহ তাকে তা (অর্থাৎ, তার সাওয়াব) দিয়ে থাকেন যদিও সে শাহাদাত লাভের সুযোগ না পায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে শহীদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন যদিও সে আপন শয্যায় ইন্তিকাল করে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাহম আনতাকী (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, অথচ কখনো জিহাদ করলো না বা জিহাদের কথা তার মনে কোন দিন উদিতও হলো না, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করলো। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেন, আমাদের মত হলো, এ হুকুম একান্তই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের জন্য প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা কোন এক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, মাদীনায় এমন কতিপয় লোক রয়েছে যারা তোমাদের প্রতিটি পথ চলায় এবং প্রান্তর অতিক্রম করায় তোমাদেরই সঙ্গে রয়েছে। (সাওয়াব লাভের বেলায়)। রোগ ব্যাধি তাদেরকে আটকে রেখেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে "তারা প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের সঙ্গে শরীক রয়েছেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাযিঃ) এর ঘরে যেতেন। তিনি তাকে আপ্যায়ন করতেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) ছিলেন, উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) এর স্ত্রী। একদা তিনি তার ঘরে গেলেন এবং তিনি তাকে (চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী) আপ্যায়ন করলেন। তারপর তিনি তার (রসূলাল্লাহর) মাথার উকুন দেখতে বসলেন এবং এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর তিনি যখন জাগ্রত হলেন তখন তিনি হাসছিলেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসির কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু সংখ্যক লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হলো, যারা আল্লাহর পথের যোদ্ধারূপে রাজা-বাদশাহের ন্যায় সাগর পৃষ্ঠে সিংহাসনে আসীন হবেন। অথবা বলেছেন, রাজা-বাদশাহর মতো সিংহাসনে আসীন হবেন। রাবী সন্দেহ পোষণ করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাক্যটি বলেছেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন তিনি আমাকেও তাদের সঙ্গে শামিল করেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে দু'আ করলেন। এরপর তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। আবার জেগে হাসতে লাগলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হয়, আল্লাহর পথের যোদ্ধারূপে... পূর্বের বাক্যের অনুরূপ। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন! তিনি যেন আমাকেও তাদের সঙ্গে শামিল করেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম সারির একজন। তারপর উম্মু হারাম বিনতু মিলহান মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) এর আমলে (সত্যিসত্যি) সমুদ্রপৃষ্ঠে (সাইপ্রাসের যুদ্ধ উপলক্ষে) আরোহণ করেন এবং সমুদ্র থেকে বের হওয়ার কালে সওয়ার থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮১, ইসলামিক সেন্টার)
—(১৬১/...) খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর খালা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে এলেন এবং আমাদের এখানেই মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করলেন। তারপর তিনি যখন জাগলেন তখন তিনি হাসছিলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! তখন জবাবে তিনি বললেন, আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হলো যে, আমার উম্মাতের মধ্যকার একদল লোক রাজা-বাদশাহদের সিংহাসনে আরোহণের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠে আরোহণ করবে। তখন আমি আরয করলাম, আপনি আমার জন্য দু'আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল করে নেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল থাকবে। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পুনরায় জেগে আবারও হাসতে থাকেন। আমি তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি পূর্বের মতো উত্তর দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল রাখেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে উবাদাহ ইবনু সীমিত (রাযিঃ) তাকে বিয়ে করেন। তিনি সমুদ্রযুদ্ধে যাত্রা করেন এবং তাকেও সঙ্গে নিয়ে যান। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন তখন একটি খচ্চর তার সামনে আনা হলো। তিনি তাতে আরোহণ করলেন তখন খচ্চরটি তাকে নীচে ফেলে দেয়। তাতে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (এবং এভাবে তিনি শহীদ হন।)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে ঘুমালেন, তারপর মুচকি হাসতে লাগলেন। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের একদল লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হলো যারা এ সবুজ সাগরের পিঠে আরোহণ করবে ...... তারপর হাম্মাদ ইবনু যায়দের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনাসের খালা বিনতু মিলহানের কাছে এলেন এবং তার কাছে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। তারপর ইসহাক ইবনু আবূ তালহাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু বাহরাম দারিমী (রহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, একটি দিবস ও একটি রাতের সীমান্ত প্রহরা একমাস সিয়াম পালন এবং ইবাদাতে রাত জাগার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আর যদি এ অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, তাতে তার এ আমলের সাওয়াব জারী থাকবে যে আমল সে করত এবং তার (শহীদসুলভ) রিযক অব্যাহত রাখা হবে এবং সে ব্যক্তি ফিৎনাসমূহ থেকে নিরাপদে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবু তাহির (রহঃ) ..... সালমান আল-খায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লায়সের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি পথ চলাকালে একটি কাটাযুক্ত গাছের ডাল রাস্তায় পেয়ে তা সরিয়ে দিল, তখন আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিদানে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি আরও বললেন, শহীদ পাচ প্রকারঃ ১. প্লেগগ্রস্ত, ২. উদরাময়গ্রস্ত, ৩. ডুবন্ত,৪. কোন কিছু চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জীবনদানকারী) শহীদ। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৬৬৫৯] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের মধ্যকার কাদেরকে শহীদ বলে গণ্য কর? তারা বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জীবন দেয় সে তো শহীদ।" তিনি বললেন, তবে তা আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা অতি অল্প হবে। তখন তারা বললেন, তাহলে তারা কারা হে আল্লাহর রসূল! বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে (জিহাদে) নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে (অন্য কোন সৎকাজে) মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ। যে ব্যক্তি প্লেগে মারা যায় সেও শহীদ, যে ব্যক্তি উদরাময়ে মারা যায় সেও শহীদ। ইবনু মিকসাম (রহঃ) বলেন, আমি তোমার পিতার উপর এ হাদীসের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায় এমন ব্যক্তিও শহীদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
(…/…) আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান ওয়াসিতী (রহঃ) ...... সুহায়ল (রহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সুহায়ল (রহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু মিকসাম (রহঃ) বলেন, আমি তোমার পিতার উপর এ হাদীসের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি তাতে অতিরিক্ত এতটুকুও বলেছেন, যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মরলো সেও শহীদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) অপর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করে বর্ধিত এতটুকু বলেছেন, যে ব্যক্তি ডুবে মরলো, সেও শহীদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯০, ইসলামীক সেন্টার)
হামিদ ইবনু উমার আল-বাকরাবী (রহঃ) ..... হাফসাহ বিনতু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আবূ 'আমরা কিসে মারা গেলেন? আমি বললাম, প্লেগগ্রস্ত হয়ে তিনি তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্লেগ হচ্ছে প্রত্যেকটি মুসলিম ব্যক্তির জন্য শাহাদাত স্বরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯১, ইসলামীক সেন্টার)
(…) ওয়ালীদ ইবনু শুজা (রহঃ) ..... ‘আসিম (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯২, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু মা’রূফ (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারের উপর আসীন অবস্থায় আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলার বাণী "এবং তোমরা তাদের মুকাবিলায় শক্তি সঞ্চয় করে রাখো।" জেনে রাখো, শক্তি হচ্ছে তীর নিক্ষেপ করা, জেনে রাখো শক্তি হচ্ছে তীর নিক্ষেপ করা, জেনে রাখো শক্তি হচ্ছে তীর নিক্ষেপ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু মা’রূফ (রহঃ) ...... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, অচিরেই অনেক ভূ-খণ্ড তোমাদের অধীনে আসবে। আর শক্রদের মুকাবিলায় আল্লাহই তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হবেন। তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তীর নিক্ষেপণ খেলার প্রশিক্ষণ ছেড়ে না দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ...... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ইবনু মুহাজির (রহঃ) ..... ফুকায়ম লাখমী (রহঃ) একদা উকবা ইবনু আমির (রাযিঃ) কে বললেন, দু লক্ষ্যস্থলের মধ্যে বারবার আনাগোনার মধ্যে এ বৃদ্ধ বয়সে নিশ্চয়ই আপনার কষ্ট হয়ে থাকবে। তিনি বললেন, আমি যদি একটি কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে না শুনতাম, তবে এ কষ্টটুকু করতাম না। রাবী হারিস বলেন, আমি ইবনু শামাসাহকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কথাটি কি? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তীর পরিচালনা শিখলো তারপর তার চর্চা ছেড়ে দিল সে আমাদের কেউ না অথবা তিনি বলেছেন, সে পাপ করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর, আবু রাবী' আতাকী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। এমনকি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ, কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটিই থাকবে। কুতাইবাহ বর্ণিত হাদীসে "আর তারা তেমনি থাকবে" অংশটুকু নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের একদল লোক সর্বদাই মানব জাতির উপর বিজয়ী থাকবে। এমনকি এভাবে তাদের কাছে আল্লাহর আদেশ এসে পড়বে তাদের বিজয়ী থাকাবস্থায়ই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি- মারওয়ানের হাদীসের সম্পূর্ণ অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ দীন (ইসলাম) প্রতিষ্ঠিত থাকবে। মুসলিমদের একটি দল এর পক্ষে লড়তে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০০, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের একটি জামা'আত সর্বদাই সত্যের স্বপক্ষে জিহাদ করে কিয়ামত পর্যন্ত বিজয় হতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০১, ইসলামীক সেন্টার)
মানসূর ইবনু আবু মুযাহিম (রহঃ) ..... 'উমায়র ইবনু হানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) কে মিম্বারের উপর আসীন অবস্থায় বলতে শুনেছি "আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মাতের একটি জামা’আত আল্লাহর আদেশের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করবে বা বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনই ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। এভাবে আল্লাহর আদেশ তথা কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা তখনও লোকের উপর বিজয়ী থাকবে।" [দ্রষ্টব্য হাদীস ২৩৮৯] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০২, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আসাম বলেন, আমি মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) কে এমন একটি হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বরাতে অন্য কোন হাদীস মিম্বারের উপর থেকে বলতে তাকে আমি শুনিনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান দিয়ে থাকেন এবং মুসলিমদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই করবে। যারা তাদের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে তাদের উপর তারা কিয়ামত অবধি বিজয়ী থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৩, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওয়াহব (রহঃ) .... আবদুর রহমান ইবনু শুমাসাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মাসলামাহ্ ইবনু মুখাল্লাদ (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কিয়ামত কেবল সৃষ্টির নিকৃষ্টতম লোকদের উপরই কায়িম হবে। ওরা সম্প্রদায়ের লোকদের চেয়েও নিকৃষ্টতর হবে। তারা আল্লাহর কাছে যে বস্তুর জন্যই দুআ করবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন। তারা যখন এ আলোচনায় ছিলেন এমন সময় উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) সেখানে এলেন। তখন মাসলামাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে উকবাহ! শুনুন, আবদুল্লাহ কী বলছেন? তখন উকবাহ (রাযিঃ) বললেন, তিনিই তা ভাল জানেন। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মাতের একটি দল আল্লাহর বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়ে যাবে। তারা তাদের শক্রদের মুকাবিলায় অত্যন্ত কঠিন হবে। যারা বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এভাবে চলতে চলতে তাদের নিকট কিয়ামত এসে যাবে, তবে তারা এর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, হ্যাঁ। তারপর আল্লাহ একটি বায়ু প্রবাহ প্রেরণ করবেন, সে বায়ু প্রবাহটি হবে কস্তরীর সুঘ্ৰাণের ন্যায় এবং তার পরশ হবে রেশমের পরশের মত। সে বায়ু এমন একটি লোককেও বাকী রাখবে না যার অন্তরে একটি শস্য দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে। তাদের সকলকে তা কবজ করে নেবে। তারপর কেবল নিকৃষ্টতম লোকগুলোই বাকী থাকবে এবং তাদের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পশ্চিম দেশীয়রা বরাবর হকের উপর বিজয়ী থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা উর্বর ভূমি দিয়ে চলাচল করো তখন উটকে ভূমি থেকে তার পাওনা আদায় করতে দিও। আর যখন দুর্ভিক্ষগ্রস্ত ভূমি দিয়ে পথ অতিক্রম করো তখন তাড়াতাড়ি পথ অতিক্রম করবে এবং যখন কোথাও রাত্রি যাপনের জন্য অবতরণ করবে তখন রাস্তায় অবস্থান করবে না। কেননা তা হচ্ছে জন্তুদের রাতে চলার পথ এবং ছোট ছোট অনিষ্টকর প্রাণীদের রাত্রিকালীন আশ্রয়স্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন উর্বর ভূমি দিয়ে পথ অতিক্রম কর তখন উটকে ভূমি থেকে তার অংশ দাও (অর্থাৎ তাদেরকে কিছুক্ষণ বিচরণের জন্যে ছেড়ে দাও)। আর যখন দুর্ভিক্ষগ্রস্ত বা অনুর্বর ভূমি দিয়ে পথ অতিক্রম কর তখন তাড়াতাড়ি (তাদের চলার শক্তি বাকী থাকতে) তা অতিক্রম করে যাও। আর যখন রাত্রি যাপনের জন্য কোথাও অবতরণ কর তখন পথ (তাঁবু খাটানো) থেকে সরে থাকবে। কেননা তা হচ্ছে জীবজন্তু ও সাপ বিচ্ছ ইত্যাদির রাত্রিবেলার আশ্রয়স্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব, ইসমাঈল ইবনু আবূ উরায়স, আবূ মুসআব যুহরী, মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর ক্লেশের অংশ, তা তোমাদের কোন ব্যক্তির ঘুম ও পানাহারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং তোমাদের কাজ শেষ হয়ে গেলেই সে যেন দ্রুততার সাথে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যায়। রাবী ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) বলেন, আমি (রাবী) মালিককে বললাম, সুমাই কি আপনাকে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন? তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো (গভীর) রাতে (সফর থেকে ঘরে) পরিবার-পরিজনের নিকট আসতেন না; বরং সকালে বা সন্ধ্যায় তাদের নিকট আসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮০৯, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, তবে এতেلاَ يَطْرُقُ এর স্থলেلاَ يَدْخُلُ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮১০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এক অভিযানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তারপর আমরা যখন মাদীনায় আসলাম এবং ঘরে ফিরতে উদ্যত হলাম তখন তিনি বললেন, একটু অপেক্ষা কর, আমরা রাতে বা সন্ধ্যায় বাড়ীতে প্রবেশ করবো এতে যাদের সহধর্মিণীদের চুল অবিন্যস্ত তারা নিজেদের চুল বিন্যস্ত করে নিবে এবং যাদের স্বামী প্রবাসে ছিল তারা গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করার অবকাশ পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮১১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি রাতের বেলা সফর থেকে ফিরে তখন সে যেন রাতের আগন্তকের মতো অতর্কিতভাবে পরিবারবর্গের কাছে গিয়ে উপস্থিত না হয় যাতে দীর্ঘকাল অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী তার গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করার এবং এলোমেলো চুলবিশিষ্ট নারী তার চুল বিন্যাস করার সুযোগ পায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮১২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... সাইয়্যার (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮১৩, ইসলামিক সেন্টার)
–(১৮৩/...) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সফরের পর বাড়ী ফিরে তখন রাতের অপ্রত্যাশিত আগন্তুকের মতো পরিবারের নিকট উপস্থিত হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮১৪, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
অনুবাদ উপলব্ধ নেই