22 - মুসাকাত অধ্যায়
আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারবাসীদের উৎপন্ন ফল-ফসলের আধাআধি শর্তে খাইবারের জমি বর্গা দিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮১৮, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু হুজর সা’দী (রহঃ) …. ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের জমি উৎপন্ন ফল ও ফসলের আধাআধির শর্তে দিয়েছিলেন। তিনি নিজ স্ত্রীদেরকে বছর প্রতি একশ’ ওসাক প্রদান করতেন। তন্মধ্যে আশি ওসাক খুরমা আর বিশ ওসাক যব। উমার (রাযিঃ) যখন খলীফা হন তখন খাইবারের জমি তিনি ভাগে ভাগ করে দেন। তিনি নবী সহধর্মিণীদেরকে ইখতিয়ার দেন যে, তারা ভূমি ও পানি নিবেন। (অর্থাৎ- নিজেদের দায়িত্বে চাষাবাদের ব্যবস্থা করবেন) অথবা বার্ষিক হারে ওসাক গ্রহণ করবেন। তারা এ ব্যাপারে ভিন্নভিন্ন মত গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কেউ ভূমি ও পানি নিলেন আর কেউ বার্ষিক হারে ওসাক গ্রহণ করলেন। আয়িশাহ ও হাফসাহ্ (রাযিঃ) ভূমি ও পানি নিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮১৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের জমি খাইবারবাসীদের উৎপন্ন শস্য ও ফলের অর্ধেকের শর্তে ব্যবস্থা দিয়েছিলেন এরপর হাদীসটি আলী ইবনু মুসহিরের বর্ণিত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন। তবে এ কথাটি তিনি উল্লেখ করেননি যে, আয়িশাহ ও হাফসাহ্ (রাযিঃ) জমি ও পানি নিয়েছিলেন। তিনি এ কথা বলেছেন যে, উমার (রাযিঃ) নবী সহধর্মিণীদের ইখতিয়ার দেন জমি নিতে, তবে সেখানে পানির উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের পর ইয়াহুদীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিবেদন করে তাদের শ্রমের বিনিময়ে তাদেরকে তথায় থাকতে দেয়ার জন্যে এই শর্তে যে, উৎপন্ন ফসল ও ফলের অর্ধেক তারা পাবে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উপরোক্ত শর্তে যতদিন আমরা চাই ততদিনের জন্যে থাকার অনুমতি দিলাম। এরপরে আবদুল্লাহ থেকে ইবনু নুমায়র ও ইবনু মুসহিরের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাতে এতটুকু বাড়তি আছে যে, খাইবারের প্রাপ্ত অর্ধেক ফলকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হত। আর তা থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২১, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, খাইবারের বাগান ও যমীন খাইবারের ইয়াহুদীদেরকে এ শর্তে প্রদান করেন যে, তারা নিজেদের মাল খরচ করে তাতে কাজ করবে, আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ফলের অর্ধেক প্রাপ্ত হবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু রাফি ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে হিজাজের মাটি থেকে বিতাড়িত করে দেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবার জয় করেন তখন তিনি তাদের তথা হতে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। খাইবার যখন বিজিত হলো তখন তা আল্লাহ্, তার রসূল ও মুসলিমদের সম্পত্তি হিসেবে পরিণত হয়। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহুদীদের বিতাড়িত করার ইচ্ছা পোষণ করেন। পরে ইয়াহুদীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তথায় তাদের থাকার অনুমতি প্রার্থনা করে এই শর্তে যে, তারা শ্রম বিনিয়োগ করবে এবং উৎপাদিত ফলের অর্ধেক নিবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতদিন এ শর্তের উপর আমাদের ইচ্ছা, থাকার অনুমতি দিলাম। এরপর তারা তথায় রয়ে গেল। পরে “উমর (রাযিঃ) তাদের 'তায়মা' ও ‘আরীহায়’ বিতাড়িত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ফলজ বৃক্ষ রোপন করবে তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয় তা তার জন্যে দান স্বরূপ, যা কিছু চুরি হয় তাও দান স্বরূপ, বন্য জন্তু যা খেয়ে নেয় তাও দান স্বরূপ। পাখী যা খেয়ে নেয় তাও দান স্বরূপ। আর কেউ কিছু নিয়ে গেলে তাও তার জন্যে দান স্বরূপ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবা ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু মুবাশশির নাখীয়া নাম্নী এক আনসারী মহিলার খেজুর বাগানে প্রবেশ করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এই খেজুর গাছ কি কোন মুসলিম ব্যক্তি লাগিয়েছে, না কোন কাফির ব্যক্তি? মহিলা উত্তর দিল মুসলিম। তিনি বললেন, "যে কোন মুসলিম গাছ লাগায় বা ক্ষেত করে, আর তা থেকে মানুষ কিংবা জীব জন্তু অথবা অন্য কিছুতে ভক্ষণ করে তবে তা তার পক্ষে দান স্বরূপ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম ও ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম যদি বৃক্ষ রোপণ করে বা ক্ষেত করে, আর তা থেকে কোন হিংস্র জন্তু কিংবা পাখী অথবা অন্য কিছুতে খেয়ে নেয় তবে এর জন্যে সে সাওয়াব পাবে। ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) বলেছেন- পাখী বা এমন কিছু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৬, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উম্মু মা'বাদ এর বাগানে ঢুকলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মু মা'বাদ! এ গাছ কে লাগিয়েছে? কোন মুসলিম ব্যক্তি না কোন কাফির? সে জানাল, মুসলিম। তিনি বললেন, কোন মুসলিম যদি কোন গাছ লাগায়, আর তা থেকে মানুষ কিংবা চতুষ্পদ জন্তু অথবা পাখী খেয়ে নেয়, তবে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তা তার জন্যে সদাকাহ হিসেবে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) হতে, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) একসাথে আবূ মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) থেকে, আমর আন নাকিদ (রহঃ) আম্মার ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) হতে এবং আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ইবনু ফুযায়ল (রহঃ) হতে এবং এরা প্রত্যেকেই আ'মাশ এর সূত্রে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তবে আম্মার (রহঃ) হতে আমরের বর্ণনায় ও মু'আবিয়াহ থেকে আবূ বাকরের বর্ণনায় উন্মু মুবাশশির (রাযিঃ) এর নাম বাড়তি এসেছে। আর ইবনু ফুযায়লের বর্ণনায় যায়দ ইবনু হারিসার স্ত্রীর নাম যোগ করা হয়েছে। আর মু'আবিয়ার থেকে ইসহাকের যে বর্ণনা তাতে তিনি কখনও বা তার নাম বাদ দিয়েই বর্ণনা করেন। আর তারা সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ঐরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেরূপ বর্ণনা করেছেন 'আতা' (রহঃ), আবূ যুবায়র ও আমর ইবনু দীনার (রহঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৮ ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ গুবারী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম যদি বৃক্ষ রোপন কিংবা ফসল উৎপাদন করে আর তা থেকে পাখী কিংবা মানুষ অথবা চতুষ্পদ জন্তু কিছু খায় তবে তা তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ স্বরূপ হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮২৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উম্মু মুবাশশির নাম্নী এক আনসারী মহিলার খেজুর বাগানে গমন করেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, এ খেজুর গাছ কে লাগিয়েছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি না কোন কাফির ব্যক্তি? তারা বলল, একজন মুসলিম। এরপর উপরে উল্লিখিত রাবীদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যদি তোমার কোন এক ভাইয়ের নিকট ফল বিক্রি করো, তারপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে তার থেকে কিছু আদায় করা তোমার জন্যে হালাল নয়। তোমার ভাইয়ের অর্থ না-হকভাবে কিরূপে গ্রহণ করবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩১, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান হুলওয়ানী (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩২, ইসলামিক সেন্টার
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, খেজুরের রং পরিবর্তন হয়ে পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে তা বিক্রি করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। আমরা আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রং পরিবর্তন হওয়া বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, লাল রং বা হলদে রং ধারণ করা। বল তো দেখি, আল্লাহ যদি ফল নষ্ট করে দেন তবে কোন অধিকারে তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে অর্থ কিরূপে হালাল করতে পার? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন ফলের রং পরিবর্তন হওয়ার আগে বিক্রি করতে। তারা বলল, রং পরিবর্তন হওয়ার মানে কী? তিনি বললেন, লাল রং ধারণ করা। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ যদি ফল ক্ষতিগ্রস্ত করে দেন তাহলে কিসের বিনিময়ে তুমি তোমার ভাইয়ের অর্থ গ্রহণ করবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রলেছেনঃ আল্লাহ যদি ফলের মধ্যে পূর্ণতা দান না করেন তাহলে কিভাবে তোমাদের একজন অপর ভাইয়ের অর্থ বৈধ করবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
বিশর ইবনুল হাকাম, ইবরাহীম ইবনু দীনার ও আবদুল জব্বার ইবনু আলী (রহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফলের মূল্য গ্রহণ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইবরাহীম (রহঃ) সুফইয়ানের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক ব্যক্তির ক্রয় করা ফল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক ঋণী হয়ে পড়ে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে সাহায্য কর। লোকজন তাকে সাহায্য করল, কিন্তু প্রাপ্ত ঋণ পরিশোধের পরিমাণ হলো না। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাওনাদারদের বললেন, যা তোমরা পেয়েছ তা গ্রহণ কর; এর অতিরিক্ত আর পাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... বুকায়র ইবনুল আশাজ্জ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
আমাদের একাধিক সাথী আমার নিকট ইসমাঈল ইবনু আবূ উওয়াইস (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা দরজার নিকটে দু'ব্যক্তির উচ্চ কণ্ঠে ঝগড়া শুনতে পান। তাদের একজন অন্যজনের নিকট কোন এক বিষয়ে অব্যাহতি দেয়ার ও সদয় হওয়ার আবেদন করছে। আর অপরজন বলছে যে, আল্লাহর শপথ আমি তা করতে পারব না। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাদের দু'জনের কাছে গেলেন এবং বললেন, পুণ্যের কাজ না করার জন্যে আল্লাহর নামে শপথকারী কোথায়? একজন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি। এরপর তিনি বললেন, সে যেটি চায় করতে পারে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু কা'ব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে একদা মসজিদের মধ্যে ইবনু আবূ হাদরাদ নামীয় এক ব্যক্তির নিকট স্বীয় প্রাপ্য ঋণের তাগাদা করেন। উভয়ের আওয়াজ উচ্চ হতে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে আওয়াজ ঘর থেকে শুনতে পান এবং ঘরের পর্দা উঠিয়ে বাইরে তাদের নিকট চলে আসেন। তিনি কাবকে ডেকে বললেন, হে কা'ব। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় তাকে তার প্রাপ্য ঋণের অর্ধভাগ ক্ষমা করে দিতে বললেন। কা'ব (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি তাই করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঋণ গ্রহীতাকে) বললেন, যাও অবশিষ্ট (বাকী অর্ধেক) পরিশোধ করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদিন আলী ইবনু আবূ হাদরাদের নিকট তার প্রাপ্য ঋণের তাগাদা করেন। এরপর তিনি ইবনু ওয়াহ্বের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪১, ইসলামিক সেন্টার)
ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ হাদরাদ আসলামীর নিকট কিছু মাল পাওনা ছিলেন। তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং শক্ত তাগাদা দেন। উভয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলেন এবং এক পর্যায়ে শোরগোল সৃষ্টি হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের কাছে এলেন এবং কাবকে ডেকে হাতের ইশারায় বললেন, অর্ধেক। সুতরাং কা'ব (রাযিঃ) ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করেন এবং অর্ধেক পরিত্যাগ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪১, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অথবা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দেউলিয়া ঘোষিত কোন লোকের কাছে তার মাল অবিকলভাবে পায় কিংবা কোন মানুষের নিকট পায় যাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে তবে সে তার মাল ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় বেশী হকদার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ রাবী' ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব..... আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ..... ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে যুহাইর বর্ণিত হাদীসের অর্থ মিলে বর্ণনা করেন। আর তাদের মধ্যে কেবল ইবনু রুমহ (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেছেন- কোন ব্যক্তি দেউলিয়া সাব্যস্ত হলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৩, ইসলামিক সেন্টা)
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, দেউলিয়া লোকের নিকট যদি কোন বস্তু পাওয়া যায় এবং স্থানান্তরিত না হয়ে থাকে তাহলে বিক্রেতাই ঐ বস্তুর প্রাপক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩৮৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন লোককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয় আর কোন লোক স্বীয় সম্পদ অবিকলভাবে তার কাছে পায়, তবে সে ব্যক্তিই তা পাওয়ার বেশী হক রাখে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহাইর ইবনু হারব (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) হতে উক্ত রূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য এ বর্ণনার শেষে বলা হয়েছে সে ব্যক্তিই অন্যান্য সকল পাওনাদারদের চেয়ে বেশী হকদার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৬. ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ, হাজ্জাজ ইবনু শায়িব (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, আর তার নিকট কোন মাল বিক্রেতা তার বিক্রিত মাল অপরিবর্তিত অবস্থায় পায় তখন সে-ই সে মাল পেতে বেশী হকদার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস (রহঃ) ..... হুয়াইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের এক ব্যক্তির রুহের সাথে ফিরিশতাগণ সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেনঃ বিশেষ কোন সৎকাজ তুমি করেছ কি? সে বলল, না। তারা বললেনঃ মনে করে দেখো। সে বললঃ আমি মানুষের সাথে লেনদেন করতাম। তারপর অসচ্ছল ব্যক্তিদের সুযোগ দিতে ও সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতে আমি আমার লোকদের নির্দেশ দিতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর আল্লাহ তা'আল বললেনঃ “ওকে ছেড়ে দাও।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু হুজুর ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... রিবঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)-ও আবূ মাসউদ (রাযিঃ) একত্রিত হন। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) বললেনঃ এক ব্যক্তির তার প্রভুর (আল্লাহ) সাথে সাক্ষাৎ হয়। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কী কী সাওয়াবের কাজ করেছ? সে বললঃ আমি তেমন কোন সৎকাজ করিনি; তবে আমি একজন ধনী লোক ছিলাম। আমি মানুষের কাছে পাওনা চাইতাম এভাবে যে, সচ্ছলদেরকে সময় দিতাম আর গরীবদেরকে মুক্ত করে দিতাম। এরপর আল্লাহ নির্দেশ দিলেন; আমার বান্দাকে মাফ করে দাও। আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপই বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে প্রবেশ করে। তাকে জিজ্ঞেস করা হল তুমি কেমন আমল করতে? রাবী বলেনঃ এরপর সে স্মরণ করে বা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। সে বললঃ আমি মানুষের সাথে কেনা-বেচা করতাম। দরিদ্র লোকদেরকে আমি অবকাশ দিতাম এবং মুদ্রা বা টাকা মাফ করে দিতাম। এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। এরপর আবূ মাসউদ বলেনঃ এরূপই আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে তার এমন এক বান্দাকে হাযির করা হয়, যাকে তিনি প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করেন, দুনিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? রাবী বলেনঃ আর আল্লাহর নিকট কেউ কোন কথা গোপন রাখতে পারে না। সে বললঃ হে আমার রব! আপনি আপনার সম্পদ আমাকে দান করেছিলেন। আমি মানুষের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করতাম। সুতরাং সচ্ছল ব্যক্তির সহিত আমি সহনশীলতা প্রদর্শন করতাম আর গরীবকে সময় দিতাম। আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ এ ব্যাপারে (হে বান্দা) তোমার চেয়ে আমি অধিকযোগ্য। তোমরা আমার বান্দাকে ছেড়ে দাও। উকবাহ ইবনু আমির জুহানী ও আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) বলেন, এরূপই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক লোকের হিসেব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোন প্রকার ভাল আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেনদেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্যে সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ বললেনঃ এ ব্যাপারে (অর্থাৎ ক্ষমা করার ব্যাপারে) আমি তার চেয়ে অধিক যোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫২, ইসলামিক সেন্টার)
মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম ও মুহাম্মাদ ইবনু জাফার ইবনু যিয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক লোক মানুষের সাথে লেনদেন করত। সে তার গোলামকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবগ্রস্তের কাছে যাবে তখন তাকে ক্ষমা করে দিবে। হয়ত আল্লাহ আমাদেরকেও ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে মিলিত হলো। আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি শুনেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূল হায়সাম খালিদ ইবনু খিদাশ ইবনু আজলান (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) একবার তার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণকারী একজনকে খোঁজ করেন। সে তার থেকে লুকিয়ে ছিল। পরে তিনি তাকে পেয়ে যান। সে বললঃ আমি অভাবগ্রস্ত। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! সে বললঃ আল্লাহর শপথ। তিনি বললেনঃ তাহলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিক সে যেন ঋণগ্রস্ত অক্ষম লোকের সহজ ব্যবস্থা করে কিংবা ঋণ মওকুফ করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সক্ষম ব্যক্তির ঋণ আদায়ে গড়িমসি করা অত্যাচারের শামিল। তোমাদের কারো প্রতি ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব দিলে সে যেন তা গ্রহণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন; উট দ্বারা পাল দিয়ে তার মজুরী নিতে এবং চাষের ও জমির বিনিময়ে পানি বিক্রি করতে। এসব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পানি ব্যবহারে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। কারণ এর দ্বারা ঘাস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পানি তোমরা বন্ধ করে রেখ না। কারণ এর দ্বারা তোমরা ঘাস উৎপাদন বন্ধ করে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬২, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু উসমান নাওফালী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমনিতে জন্ম নেয় ঘাস বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি বিক্রি করা যাবে না।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচার দ্বারা উপার্জিত অর্থ এবং গণকের গণনা দ্বারা উপার্জিত অৰ্থ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে এবং আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) হতে এবং তারা উভয়ে যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু রুমহের বর্ণনায় লায়স (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে শুনেননি (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, নিকৃষ্ট উপার্জন বেশ্যা বৃত্তির উপার্জন এবং কুকুরের মূল্য আর রক্ত মোক্ষণকারীর (শিঙ্গা লাগানোর) আয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... রফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুকুরের মূল্য নিকৃষ্ট, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারের আয় নিকৃষ্ট এবং রক্ত মোক্ষণকারীর উপার্জন নিকৃষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) এর সূত্রে এ হাদীস উক্তরূপে বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ) এর নিকট কুকুর ও বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহুইযা (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্যে আদেশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে মাদীনার চারপাশে লোক পাঠালেন যাতে কুকুর হত্যা করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩৮৭২, ইসলামিক সেন্টার)
হুমায়দ ইবনু মাস'আদাহ্ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর মাদীনার ভেতরে ও তার চারপাশের কুকুর ধাওয়া করা হত। আর কোন কুকুরই আমরা না মেরে ছেড়ে দিতাম না। এমনকি বেদুঈনদের দুগ্ধবতী উস্ত্রীর সাথে যে কুকুর থাকত (পাহারার জন্য) তাও আমরা হত্যা করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে হুকুম দিয়েছেন। তবে শিকারী কুকুর, বকরী পাহারা দানের কুকুর অথবা অন্য জীবজন্তু পাহারা দেয়া কুকুর ব্যতীত। অতঃপর ইবনু উমারের নিকট বলা হলো যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) তো ক্ষেত পাহারার কুকুরের কথাও বলে থাকেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আবূ হুরাইরার ক্ষেত আছে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্য আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। অতঃপর কোন বেদুঈন নারী কুকুরসহ আগমণ করলে আমরা তাও হত্যা করে ফেলতাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হত্যা করতে নিষেধ করেন এবং বলেন চোখের উপর সাদা দু' টিকা বিশিষ্ট ঘন কালো রঙের কুকুর তোমরা হত্যা কর, কেননা তা হলো শাইতান (অর্থাৎ- অতি নিকৃষ্ট)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে বলেন। পরে তিনি বলেছেনঃ এদের এবং কুকুরের কী অবস্থা। অতঃপর শিকারী কুকুর ও বকরীর পাল পাহারার ব্যাপারে তিনি অনুমতি প্রদান করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... শুবাহ্ (রহঃ) হতে উক্তরূপে বর্ণনা করেন। আর ইবনু হাতিম ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে বলেনঃ "এবং তিনি অনুমতি দিয়েছেন বকরীর পাল পাহারার, শিকারী এবং ক্ষেত পাহারার কুকুরের ক্ষেত্রে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কুকুর পালন করে যা গৃহপালিত জীব-জন্তু পাহারা দেয়ার জন্যেও নয় কিংবা শিকার করার জন্যেও নয়, তাহলে প্রতিদিন তার সাওয়াব থেকে দু’কীরাত হ্রাস পেতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতার হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর কিংবা গৃহপালিত পশুর পাহারার কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালন করবে, প্রতিদিন তার সাওয়াব থেকে দু’কীরাত করে কমতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর অথবা জীবজন্তু পাহারা দেয়ার কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালন করবে প্রতিদিন তার আমল থেকে দু’কীরাত করে কমতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া, আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ্ তার পিতা হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জীবজন্তু পাহারার কুকুর বা শিকারী কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালন করবে তার আমল থেকে প্রতিদিন এক কীরাত করে কমে যাবে। আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, "কিংবা ক্ষেত পাহারার কুকুর।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮১, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) তার পিতার সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর অথবা গৃহপালিত পশু পাহারার কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালন করবে, তার 'আমল থেকে প্রতিদিন দু’কীরাত করে কমতে থাকবে। সালিম (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলতেন- "কিংবা ক্ষেত পাহারার কুকুর।" আর তিনি ক্ষেত খামারের মালিক ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮২, ইসলামিক সেন্টার)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ...... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরের মালিক জীব জন্তু পাহারা বা শিকারের কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালন করবে প্রতিদিন তার 'আমল থেকে দু’কীরাত করে কমতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ক্ষেত কিংবা বকরীর পাল পাহারার কুকুর অথবা শিকারী কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর রাখবে, প্রতিদিন তার সাওয়াব থেকে এক কীরাত করে কমতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, শিকার কিংবা জীবজন্তু পাহারার প্রয়োজন ছাড়া যে ব্যক্তি কুকুর পালন করে, প্রতিদিন তার সাওয়াব থেকে দু’কীরাত করে কমতে থাকে। আর আবূ তাহিরের বর্ণনায় "ক্ষেত পাহারার জন্যে" কথাটি নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জীবজন্তু পাহারার অথবা শিকারী অথবা ক্ষেত পাহারার কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর রাখবে, তার সাওয়াব থেকে প্রতিদিন এক কীরাত করে কমে যাবে। যুহরী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমারের নিকট আবূ হুরাইরার বক্তব্যটি উল্লখ করা হলে তিনি বললেনঃ আল্লাহ আবূ হুরাইরার প্রতি রহমত করুন! তিনি ছিলেন একজন কৃষক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুকুর রাখবে তার আমল থেকে প্রতিদিন এক কীরাত করে কমতে থাকবে, তবে ক্ষেত পাহারার কিংবা জীবজন্তু পাহারার কুকুর ব্যতীত! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত রূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু মুনযির (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর এর সূত্রে উক্ত রূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কুকুর রাখবে যা শিকারী অথবা বকরীর পাল পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত তাহলে প্রতিদিন তার আমল থেকে এক কীরাত করে কমতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সুফইয়ান ইবনু যুহায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন শানুআহ গোত্রের লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি এমন কুকুর পালন করবে যা তার ক্ষেতের বা জীবজন্তু পাহারার কাজে ব্যতীত হয়, তবে প্রতিদিন তার নেক ‘আমল থেকে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকে। রাবী বললেনঃ আপনি কি এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ মসজিদের প্রভুর শপথ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তাদের নিকট একবার সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র আশ-শানায়্যিয়ু প্রতিনিধি হয়ে আগমন করেন। অতঃপর তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উপরের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... হুমায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর নিকট শিঙ্গা দিয়ে উপার্জন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা (নিজ শরীরে) লাগিয়েছেন। আবূ তাইবাহ তাকে শিঙ্গা দিয়েছে। তিনি তাকে দু’সা খাদ্য বস্তু দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মুনিবের সাথে আলোচনা করেন। এতে তারা তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও শিঙ্গা তার মধ্যে একটি উত্তম ব্যবস্থা অথবা (বলেছেন) এটা তোমাদের ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... হুমায়দ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর নিকট শিঙ্গা দিয়ে মজুরী গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। অতঃপর তিনি এরূপ বর্ণনা করেন। তাছাড়া তিনি বলেন, তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও শিঙ্গা লাগানো এবং ‘কুসতুল বাহরী (চন্দন কাঠ) ব্যবহার তার মধ্যে অতি উত্তম ব্যবস্থা। অতএব তোমরা তোমাদের শিশুদের কণ্ঠনালী চেপে বসিয়ে দিয়ে কষ্ট দিও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু হাসান ইবনু খিরাশ (রহঃ) ..... হুমায়দ (রহঃ) এর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিঙ্গা লাগিয়ে থাকে এমন বালককে ডেকে পাঠান। সে তার শরীরে শিঙ্গা লাগায়। অতঃপর তিনি তাকে এক সা’ অথবা এক মুদ বা দু’মুদ পরিমাণ পরিশোধ করতে আদেশ করেন এবং তার সম্পর্কে আলোচনা করেন। এতে তার উপর থেকে কর হ্রাস করে দেয়া হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে তার মজুর দিয়েছেন এবং তিনি নাকে ঔষধ ঢেলে ব্যবহার করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু বায়াযাহ্ এর একটি গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিঙ্গা লাগায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মজুরী প্রদান করেন এবং তার মালিকের সাথে আলোচনা করেন। এতে সে তার উপর থেকে ধার্যকৃত দৈনিক মজুরীর হার কমিয়ে দেয়। যদি তা হারাম হতো তা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দিতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাদীনায় খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহ তা'আলা মদের বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। হয়তো এ ব্যাপারে তিনি শীঘ্রই কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ দান করবেন। সুতরাং কারো নিকট এর কিছু থাকলে সে যেন তা বিক্রি করে দেয় এবং কাজে লাগায়। রাবী বলেন, অল্প কয়েক দিন পরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা মদ হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং যার নিকট এ আয়াত পৌছবে এবং তার নিকট এর কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে সে যেন তা পান না করে এবং বিক্রি না করে। রাবী বলেন, তখন যাদের নিকট তা ছিল, তা নিয়ে তারা মাদীনার রাস্তায় নেমে আসলো এবং ঢেলে দিলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবন ওয়ালাতা আস সাবাঈ মিস্রী (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট আঙ্গুরের রস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক মশক মদ উপহার স্বরূপ নিয়ে আসে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সেটা হারাম করে দিয়েছেন? সে বলল, না। অতঃপর সে এক ব্যক্তির সাথে কানাকানি করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে গোপনে কী বললে? সে বলল, আমি তাকে এটা বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, যিনি (আল্লাহ) এটা পান করা হারাম করেছেন তিনি এর বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, এরপর সে মশকের মুখ খুলে দিলো এবং তার মধ্যে যা কিছু ছিল সব পড়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা আল-বাকারাহ-এর শেষের আয়াতগুলো লোকদের পড়ে শোনান। এরপর মদের বেচাকেনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূরা আল-বাকারাহ-র সুদ সম্পৰ্কীয় শেষের আয়াতগুলো নাযিল হলো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দিকে বের হয়ে আসেন এবং মদের বেচাকেনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাক্কাহ বিজয়ের বছরে মাক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ ও তার রসূল হারাম ঘোষণা করেছেন মদ, মৃতজন্তু, শুকর ও মূর্তি বিক্রয় করা। তখন জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রসূল! মৃতজন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? কেননা এটা নৌকায় লাগান হয়, চামড়ায় মালিশ করা হয় এবং মানুষ এর দ্বারা আগুন জ্বালায়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তা হারাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ ইয়াহুদী জাতিকে তখনই ধ্বংস করেছেন, যখন আল্লাহ তাদের মৃতের চর্বি হারাম করেন আর তারা তা গলিয়ে বিক্রি করেছে এবং তার মূল্য খেয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকুর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাক্কাহ বিজয়ের বছরে লাইসের হাদীসের অনুরূপ বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "উমর (রাযিঃ) এর নিকট এ খবর এলো যে, সামুরা (রাযিঃ) মদ বিক্রি করেছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ সামুরার ধ্বংস করুন। সে-কি জানে না যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদী জাতির উপর অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের উপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল। এরপর তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৫, ইসলামিক সেন্টার)
উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিস্তাম (রহঃ) ..... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে উল্লিখিত রূপ বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করে দিন। তিনি তাদের উপর চর্বি হারাম করেছেন, তারপর তারা তা বিক্রি করে মূল্য ভক্ষণ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৭, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদী জাতিকে ধ্বংস করুন। তাদের উপর চর্বি হারাম করা হয়েছে, তারপর তারা তা বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান না হলে বিক্রি করো না, সেটার এক অংশ অন্য অংশ অপেক্ষা বেশী করো না। আর রূপার বিনিময় রূপা সমান সমান না হলে বিক্রি করো না এবং সেটার এক অংশ অপর অংশ অপেক্ষা বেশী করো না। আর সেটার কোনটিকেই নগদের বিনিময়ে বাকীতে বিক্রি করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯০৯, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুম্হ (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত যে, লায়স গোত্রের এক ব্যক্তি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলল যে, আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা বর্ণনা করেছেন, কুতাইবাহর বর্ণনা রয়েছে এটা শুনে আবদুল্লাহ নাফি' (রহঃ) কে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন। আর ইবনু রুমূহ (রহঃ)-এর বর্ণনা মতে নাফি' (রহঃ) বলেন, এরপর আবদুল্লাহ (রহঃ) চলে গেলেন, আমি ও লায়সী গোত্রের লোকটি আমাকে জানিয়েছে যে, আপনি এ কথা প্রচার করছেন- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার বিনিময়ে রূপা সমান পরিমাণ ব্যতীত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, তদ্রুপ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ পরিমাণের সমান ব্যতীত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তখন আবূ সাঈদ (রাযিঃ) আপন অঙ্গুলি দ্বারা তার দু'চোখ ও দু’কানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আমার চক্ষুদ্বয় দেখেছে ও কর্ণদ্বয় শুনেছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে যে, তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করো না এবং রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি করো না, সমান সমান পরিমাণ ব্যতীত। আর তোমরা সেটার এক অংশকে অন্য অংশ অপেক্ষা বেশী করো না এবং হাতে হাতে ব্যতীত নগদের বিনিময়ে বাকীতে বিক্রি করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১০, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য ওজন ও পরিমাণ সমান সমান হওয়া ব্যতিরেকে বিক্রি করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১২. ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির, হারূন ইবনু সাঈদ আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এক দীনারকে দু’দীনারের বিনিময়ে এবং এক দিরহামকে দু'দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ কথা বলতে বলতে আগালাম যে, দিরহাম বিনিময় করতে পারে এমন কে আছে? তখন তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকটেই ছিলেন- তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণ আমাদেরকে দেখাও এবং তুমি পরে এসো। আমাদের গোলাম যখন আসবে তখন তোমার রৌপ্য দিয়ে দিব। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেনঃ কখনো নয়; আল্লাহর শপথ! হয় তুমি তার দিরহাম এখনই প্রদান করো, অন্যথায় তার স্বর্ণ তাকে ফিরিয়ে দাও। কারণ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ নগদ নগদ বিক্রি না হলে সুদ হবে, গমের বিনিময়ে গম নগদ নগদ এবং হাতে হাতে বিক্রি না হলে সুদ হবে, যবের বিনিময়ে যব নগদ নগদ না হলে সুদ হবে এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর নগদ বিক্রি না হলে তাও সুদে পরিণত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে উক্ত রূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৫, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ কিলাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তথায় মুসলিম ইবনু ইয়াসারও ছিলেন। এমন সময় আবূল আশ'আসের আগমন হলো। তারা বলল, আবূল আশ'আস, আমিও বললাম, আবূল আশ’আস (এসেছেন)। অতঃপর তিনি বসলেন। আমি তাকে বললাম, আমাদের ভাইদের কাছে উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) এর হাদীসটি শোনান। তিনি বললেন, আচ্ছা আমরা একবার এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। মু'আবিয়াহ্ (রাযিঃ) ছিলেন সেনাপতি। প্রচুর পরিমাণ গনীমাত আমাদের হাতে আমাদের এ গনীমাতের মধ্যে রূপার একটা পাত্রও ছিল। মুআবিয়াহ (রাযিঃ) সেটা লোকদের বেতন-ভাতার বিনিময়ে বিক্রি করার জন্যে একজনকে আদেশ দান করেন। লোকেরা সবাই এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করল। উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌছলে তিনি দণ্ডায়মান হন এবং বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিষেধ করতে শুনেছি- স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবণের বিনিময়ে লবণ বিক্রি করতে, পরিমাণে সমান সমান ও নগদ নগদ ছাড়া। যে অতিরিক্ত দিবে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করবে সে সুদের কাজ-কারবার করল। এরপর লোকজন যা কিছু নিয়েছিল তা ফেরত দিলো এবং মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌছে দিলো। তিনি ভাষণ দিতে দাড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, মানুষের একী অবস্থা হলো, তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন বহু হাদীস বর্ণনা করেন যা আমরা তার থেকে শুনিনি অথচ আমরা তার নিকট উপস্থিত থাকতাম এবং তারই নৈকট্য পেতাম। এরপর উবাদাহ (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং বর্ণনার পুনরাবৃত্তি করে বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনেছি তা অবশ্যই বর্ণনা করব, যদিও মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) তা অপছন্দ করেন অথবা বলেছেন যে, যদিও মু'আবিয়াহ্ তাতে দুঃখিত হন। এতে আমার কিছু আসে যায় না, তার বাহিনীতে এক কালো রাত্র না থাকি। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, তিনি এ কথাই বলেছেন কিংবা এর অনুরূপ কিছু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ সমান সমান পরিমাণ ও হাতে হাতে (নগদ) হবে। অবশ্য এ দ্রব্যগুলো যদি একটি অপরটির ব্যতিক্রম হয় (অর্থাৎ- পণ্য এক জাতীয় না হয়) তোমরা যেরূপ ইচ্ছা বিক্রি করতে পার যদি হাতে হাতে (নগদে) হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবণের বিনিময়ে লবণ সমান সমান ও নগদ নগদ হতে হবে। এরপর কেউ যদি বাড়তি কিছু প্রদান করে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করে তবে তা সুদ হয়ে যাবে। গ্রহণকারী ও প্রদানকারী এতে একই রকম হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯১৯, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান হতে হবে। অতঃপর উপরের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল 'আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব ও লবণের বিনিময়ে লবণ সম পরিমাণ ও হাতে হাতে হতে হবে। কেউ যদি বেশী দেয় বা বেশী নেয় তবে সুদ হবে। তবে যদি এর শ্রেণী পরিবর্তন হয়। (তবে কম-বেশী জায়িয হবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... ফুযায়ল ইবনু গাযওয়ান (রহঃ) হতে এ সানাদে বর্ণিত। তবে তিনি "হাতে হাতে" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবনু ‘আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য পরিমাপে সমান সমান ও রকমে একই প্রকার করতে হবে। যে অতিরিক্ত দিবে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করবে, তা সুদ হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ কা'নবী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দীনারের (স্বর্ণ মুদ্রা) বিনিময়ে দীনার, উভয়ের মধ্যে কোনটি বেশী হতে পারবে না এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম উভয়ের মধ্যে কোনটি বেশী হতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... মূসা ইবনু আবূ তামীম (রহঃ) এর সানাদে উল্লিখিত হাদীস অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন (রহঃ) ..... আবূল মিনহাল (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক শরীক মৌসুম পর্যন্ত বা হাজ্জ পর্যন্ত কিছু রূপা বাকীতে বিক্রি করে। অতঃপর সে আমার কাছে আসে এবং আমাকে জানায়। আমি বললাম, এ কাজটি ঠিক হয়নি। সে বলল, আমি এটা বাজারে বিক্রি করেছি কিন্তু কেউ তো আমাকে এ থেকে বারণ করেনি। এরপর আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) এর নিকট এসে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন আমরা এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করতাম। তিনি বললেন, যদি নগদ নগদ হয় তাহলে কোন আপত্তি নেই, আর যদি বাকীতে হয় তবে সুদ হবে। তুমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) এর নিকট যাও, যেহেতু তিনি আমার চেয়ে বড় ব্যবসায়ী। অতঃপর আমি তার নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও অনুরূপ বললেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৬, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আম্বারী (রহঃ) .... আবূল মিনহাল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে সারফ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন যায়দ ইবনু আরকামকে জিজ্ঞেস করো। কেননা তিনি অধিক বিজ্ঞ ব্যক্তি। এরপর উভয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য বাকীতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ..... আবূ বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য ও স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান না হলে বিনিময় করতে নিষেধ করেছেন এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন, যেভাবে আমরা চাই এবং রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয় করতে যেরূপে আমরা ইচ্ছা করি। অতঃপর এক ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল তিনি বললেন, হাতে হাতে (নগদ)। লোকটি বলল, এরূপই আমি শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, অতঃপর উক্তরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯২৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সার্হ্ (রহঃ) ...... ফুযালাহ ইবনু উবাদাহ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারে অবস্থানকালে তার নিকট গনীমাতের একটি হার উপস্থিত করা হয়। তাতে পুতি ও স্বর্ণ লাগান ছিল। হারটি বিক্রি হচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারের সাথে যুক্ত স্বর্ণের ব্যাপারে আদেশ দান করেন। অতঃপর কেবল সেটাকেই (স্বর্ণ) আলাদা করা হয়। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ সমান ওজনে বিক্রি করতে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩০, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ফুযালাহ্ ইবনু উবায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাইবারের যুদ্ধের দিনে বারো দীনার এর বিনিময়ে একটি হার ক্রয় করি। তাতে স্বর্ণ ও পুতি ছিল। এরপর আমি তা আলাদা করলাম এবং বারো দীনারের চেয়ে অধিক পেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বিষয়টি আমি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আলাদা না করে বিক্রি করা যাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে উক্ত রূপ বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ (রহঃ) ..... ফুযালাহ্ ইবনু উবায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবার দিবসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। ইয়াহুদীদের সাথে এক উকিয়া স্বর্ণ দু' বা তিন দীনারের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করতাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্বর্ণের সমান সমান ওজন ব্যতিরেকে বিক্রি করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... হানাশ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে ফুযালাহ ইবনু উবায়দের সঙ্গে ছিলাম। আমার ও আমার সাথীদের অংশে একটি হার আসে যার মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও জওহার খচিত ছিল। আমি সেটা খরিদ করে রাখতে ইচ্ছা করলাম। তাই ফুযালাহ ইবনু উবায়দকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এর স্বর্ণ আলাদা করে এক পাল্লায় রাখ আর তোমার স্বর্ণ অন্য পাল্লায় রাখ এবং পরিমাপে সমান সমান না হলে গ্রহণ করো না। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন সমান সমান না হলে গ্রহণ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
হারূন ইবনু মা’রূফ ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... মা'মার ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এক সা' গমসহ তার গোলামকে পাঠিয়ে দেন এবং বলে দেন যে, এটা বিক্রি করে তা দিয়ে যব কিনে আনে। গোলাম চলে যায় এবং এক সা' ও সা’য়ের কিছু অতিরিক্ত গ্রহণ করে। যখন সে মা'মারের নিকট উপস্থিত হলো এবং যখন তাকে এ বিষয়ে অবহিত করল মা'মার (রহঃ) তাকে বলল, তুমি এরূপ কেন করেছ? পুনরায় যাও ও তাকে ফেরত দাও, সমপরিমাণ ব্যতীত কিছুতেই গ্রহণ করবে না। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য সমান সমান হতে হবে। আর ঐ সময়ে যব ছিল আমাদের খাদ্য। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো এটা তো সেটার অনুরূপ নয়। তিনি বললেন, অনুরূপ হওয়ার আশংকা আমি বোধ করছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারে আমির নিযুক্ত করেন। সে জানীব জাতীয় (উন্নত মানের) খেজুর নিয়ে আসে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, খাইবারের সমস্ত খেজুরই কি এ রকম? সে বলল, না; আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা মিশ্ৰিত খেজুরের দু' সা' এর বিনিময়ে এক সা ক্রয় করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ করো না বরং সমান সমানভাবে করো অথবা একটি বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে অন্যটি খরিদ করিও, অনুরূপভাবে ওজনের ক্ষেত্রেও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে খায়বরের আমির নিযুক্ত করেন। সে জানীব শ্রেণীর খেজুর নিয়ে তার নিকট আগমন করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ খাইবারের সব খেজুর কি এ শ্রেণীর? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল। আল্লাহর কসম! এরূপ নয়। আমরা এ শ্রেণীর এক সা' দু'সার বদলে এবং দু’সা তিন সা’র বদলে খরিদ করে থাকি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এরূপ করো না। মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো। তারপর দিরহামের বিনিময়ে জানীব খরিদ করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর, মুহাম্মাদ ইবনু সাহল তামীমী ও আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বার্নী জাতীয় খেজুর নিয়ে বিলাল (রাযিঃ) আগমন করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কোত্থেকে এনেছ? বিলাল (রাযিঃ) বলল, আমাদের নিকট নিম্ন শ্রেণীর খেজুর ছিল আমি তা থেকে দু’সা এক সা' এর বিনিময়ে বিক্রি করেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খাওয়ানোর জন্যে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ হায় আফসোস! এতো সাক্ষাত সুদ, এরূপ করো না, বরং যখন তুমি খেজুর ক্রয় করতে চাও, তখন এটাকে বিক্রি করবে, তারপর এর মূল্য দ্বারা ক্রয় করবে। ইবনু সাহল (রহঃ) তার বর্ণনায় 'তখন’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু খেজুর আনা হয়। তিনি বললেন, আমাদের খেজুর অপেক্ষা এ খেজুর তো খুবই উত্তম। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের দু’সা খেজুর এক সা'র বিনিময়ে বিক্রি করেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ তো সুদ। এটা ফেরত দাও, তারপর আমাদের খেজুর বিক্রি কর এবং এ জাতীয় খেজুর আমাদের জন্যে ক্রয় করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে মিশ্ৰিত খেজুর আমাদের দেয়া হত আর তা হচ্ছে মিশ্ৰিত খেজুর। আমরা এর দু' সা এক সা’র বিনিময়ে বিক্রি করে দিতাম। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। তিনি বললেন, দু সা' খেজুর এক সার বিনিময়ে, দু’সা গম এক সা’র বিনিময়ে এবং দু’দিরহাম এক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করা চলবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪০, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ নাযরাহ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে সারফ (স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বললেন, সেটা কি নগদ নগদ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এতে কোন আপত্তি নেই। অতঃপর আমি সাঈদকে জানালাম এবং বললাম, আমি ইবনু আব্বাসের নিকট সারফ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, সেটা কি নগদ নগদ? আমি বলেছি, হ্যাঁ। তিনি বলেছেন, কোন ক্ষতি নেই। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, আমি শীঘ্রই তাকে লিখে দিচ্ছি। অতঃপর তিনি আর তোমাদেরকে এ ফাতাওয়া দিবেন না। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! কতিপয় যুবক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু খেজুর নিয়ে আসে। সে বলল, এটা আমাদের দেশের খেজুরের মধ্যে অথবা আমাদের এ বছরের খেজুরের মধ্যে কিছুটা খারাপ ছিল। অতঃপর আমি এটা গ্রহণ করি এবং কিছুটা বৃদ্ধি করি। তিনি বললেন, বেশী দিয়েছ তো সুদ প্রদান করেছ, এর কাছেও যেয়ো না। যখন তোমার খেজুরের মধ্যে কোন খেজুর খারাপ দেখবে তখন তা বিক্রি করে দিও, পরে যে খেজুর পছন্দ করো তা ক্রয় করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪১, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ নাযরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট বায়-এ সারফ (স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তারা এতে কোন দোষ মনে করেননি। পরবর্তীকালে একবার আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। তার নিকট সারফ বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, যা বাড়তি হবে তা সুদ। কিন্তু তাদের দু'জনের মতের কারণে আমি এর প্রতিবাদ করলাম। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তাই তোমার কাছে বর্ণনা করছি। একদা তার নিকট খেজুরের বাগানের এক মালিক এক সা' ভাল মানের খেজুর নিয়ে আসে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেজুরও এ শ্রেণীরই ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ তুমি কোথায় পেলে? সে বলল, আমি দু ‘সা খেজুর নিয়ে বাজারে যাই এবং তার বদলে এ এক সা' ক্রয় করি। কেননা বাজারে এটির মূল্য এতো এবং ওটির মূল্য এতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আফসোস তোমার প্রতি, তুমি সুদের কাজ করেছ। যখন তুমি এরূপ চাও, তখন তোমার খেজুর কোন বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করে দিবে। পরে তোমার বস্তুর বিনিময়ে যে প্রকার খেজুর চাও কিনবে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, সুতরাং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর সুদ হওয়ার অধিক যোগ্য নাকি রৌপ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত রৌপ্য সুদ হওয়ার বেশী যোগ্য। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি ইবনু উমার (রাযিঃ) এর নিকট এসেছি এবং তিনি আমাকে নিষেধ করেছেন। আর আমি ইবনু আব্বাসের কাছে যাইনি। রাবী বলেন, আবূস সাহবা (রহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এ ব্যাপারে ইবনু আব্বাসের কাছে মাক্কায় জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তিনি তা পছন্দ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দীনারের বিনিময়ে দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম সমান সমান হওয়া চাই। যে বেশি দিবে বা বেশি নিবে সে সুদের কারবার করল। আমি তাকে বললাম, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তো অন্য কিছু বলে থাকেন। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং জিজ্ঞেস করেছি যে, আপনি এটা যা বলছেন, তা-কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, না-কি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা শুনিনি এবং আল্লাহর কিতাবেও পাইনি বরং উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাকী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সুদ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্ নাকিদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রাযিঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) জানিয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদ কেবল বাকীতে হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নগদ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সুদ হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আতা ইবনু আবূ রাবাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করেন, 'সারফ’ সম্পর্কে আপনার যে বক্তব্য, তার কিছু কি আপনি রসূলুল্লাহ থেকে শুনেছেন, না-কি আল্লাহর কিতাবে কিছু পেয়েছেন? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, কোনটিই আমি বলছি না। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তো আপনারা অধিক জানেন এবং আল্লাহর কিতাবেও তা আমি জানি না। বরং উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদ কেবল বাকীর ক্ষেত্রেই হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন সুদখোরের প্রতি ও সুদদাতার প্রতি। রাবী বলেন, আমি বললামঃ এর লেখকের প্রতি ও সাক্ষী দু’জনের প্রতিও। তিনি বললেন, আমরা কেবল তাই বর্ণনা করি যা আমরা শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাববাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও উসমান ইবনু আবূ শাইবা (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা'নাত করেছেন সুদখোরের উপর, সুদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও তার সাক্ষী দু'জনের উপর এবং বলেছেন এরা সবাই সমান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র হামদানী (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছিঃ অর্থাৎ- বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, রাবী বলেন; (এ সময় নু'মান তার আঙ্গুল দুটি দ্বারা কানের দিকে ইশারা করেন, নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে সে পশু তার ভেতরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক রাজারই সংরক্ষিত এলাকা থাকে, সাবধান আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার হারামকৃত বিষয়গুলো। জেনে, রেখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত দেহই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো, তা হলো 'কালব' হৃদয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ...... যাকারীয়্যা (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে এরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ও কুতাইবাহ্ (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। অবশ্য যাকারিয়্যা (রহঃ) বর্ণিত হাদীস তাদের হাদীস থেকে অধিক পূর্ণ ও অধিক পরিচিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) ..... নু'মান ইবনু বাশীর ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত- যিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সঙ্গী। তিনি হিম্সে লোকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। অতঃপর তিনি শা'বী (রহঃ) হতে যাকারিয়্যা (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন তার উক্তিঃ “আশঙ্কা রয়েছে সেটার ভেতরে চলে যাওয়ার” পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার ক্লান্ত উটের উপর আরোহী হয়ে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি উটটি ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করেন। তিনি বলেন, এরপর আমার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমার জন্য দুআ করেন এবং উটটিকে আঘাত করেন। এরপর উট এমনভাবে চলতে থাকে যে, যেমন আর কখনও চলেনি। তিনি বলেন, এটি আমার নিকট এক উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করো। আমি বললাম, না। তিনি আবারও বললেন, আমার নিকট এটিকে বিক্রি করে দাও। অতঃপর এক উকিয়ার বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিলাম এবং আমার বাড়ী পর্যন্ত তাতে আরোহী হওয়ার শর্ত করলাম। যখন আমি পৌঁছলাম তখন তার নিকট উট নিয়ে আসলাম। তিনি আমাকে তার মূল্য পরিশোধ করলেন। পরে ফিরে গেলাম। তিনি আমার পেছনে ডাকতে পাঠালেন এবং বললেন, আমি কি তোমার উট নেয়ার জন্য মূল্য কম বলেছিলাম? তোমার উট নিয়ে যাও এবং তোমার দিরহামও তুমি নিয়ে যাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে ইবনু নুমায়রের হাদীসের মতই বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জিহাদে যাই। আমি একটি ধীরগতির উটের পিঠে চলছিলাম, তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার উটের কী হয়েছে? আমি বললাম, অসুখ হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশ্চাতে গেলেন এবং উটকে ধমক দিলেন ও দুআ করলেন। এরপর তা সকল উটের আগে আগে চলতে থাকে। তিনি বললেন, এখন তোমার উটের অবস্থা কী? আমি বললাম, ভালই; আপনার বারাকাতের পরশ লেগেছে। তিনি বললেন, এটি আমার নিকট বেচে দিবে কি? আমি লজ্জিত হলাম। কারণ এটা ছাড়া আমাদের অন্য কোন পানি বহনকারী উট ছিল না। অবশেষে বললাম, হ্যাঁ। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এটা এ শর্তে বিক্রি করলাম যে, মাদীনাহ পর্যন্ত তার উপর আরোহণ করা আমার অধিকারে থাকবে। তিনি বললেন, এরপর আমি আরয করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি সদ্য বিবাহিত। তাই আমি তার নিকট অনুমতি চাইলাম (তাড়াতাড়ি চলে আসার), তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। সুতরাং অন্যান্য লোকের আগেই আমি মাদীনার দিকে রওয়ানা হলাম। যখন শেষ সীমায় পৌছলাম তখন আমার মামার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমার কাছে উটের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে সে সব কথা জানালাম যা এ ব্যাপারে আমি করেছি। তিনি এজন্যে আমাকে তিরস্কার করলেন। জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করি তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি কুমারী মেয়ে বিবাহ করেছো, না পূর্ব বিবাহিতাকে? বললাম, আমি পূর্ব বিবাহিতা নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন, কেন কুমারী বিবাহ করেনি? যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার কয়েকজন ছোট ছোট বোন রেখে আমার পিতা মারা যান অথবা (বলেন) শাহাদাত বরণ করেন। তাই আমি পছন্দ করিনি তাদের নিকট তাদেরই মত আর একজনকে বিবাহ করে আনতে যে তাদের সুশিক্ষা দিতে ও দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে না। এ কারণে আমি পূর্ব বিবাহিতা নারীকে বিবাহ করেছি, যাতে সে তাদের দেখাশুনা করতে পারে ও সুশিক্ষা দিতে পারে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় পৌছলেন, আমি ভোরে উটসহ তার নিকট হাযির হলাম। তিনি তার মূল্য আমাকে প্রদান করেন এবং উটও ফেরত দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাক্কাহ্ থেকে মদীনায় আগমন করি। অতঃপর আমার উট অসুস্থ হয়ে পড়ে, অতঃপর পূর্ণ ঘটনাসহ তিনি হাদীস বর্ণনা করেন। আর এ বর্ণনায় আছে যে, তিনি আমাকে বললেন, আমার নিকট তোমার এ উট বিক্রি করো। আমি বললাম, না, বরং এটা আপনারই। তিনি বললেন, না, বরং আমার নিকট বিক্রি করো। আমি বললাম, না, বরং এটা তো আপনারই হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন না, বরং এটা আমার নিকট বিক্রি কর। আমি বললাম, তাহলে আমার উপর এক ব্যক্তির এক উকীয়াহ স্বর্ণ পাওনা আছে তার বিনিময়ে এটা আপনার। তিনি বললেন, আমি এটা নিয়ে এলাম। তুমি এতে আরোহী হয়ে মাদীনাহ পর্যন্ত যেতে পারবে। জাবির (রাযিঃ) বললেন, যখন আমি মাদীনায় পৌঁছলাম তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে বললেন, একে এক উকীয়াহ্ স্বর্ণ দাও এবং কিছু বাড়তি দাও। অতঃপর তিনি আমাকে এক উকীয়াহ স্বর্ণ দিলেন এবং এক কীরাত বাড়তি দিলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ বাড়তি বস্তু কখনও আমার থেকে আলাদা হবে না। রাবী বলেন, অতঃপর তা আমার নিকট একটি থলির মধ্যে থাকত। সিরিয়াবাসীরা হাররা দিবসে তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমার উট পিছনে থেকে যায়, অতঃপর হাদীসটি পূর্ণ বর্ণনা করেন। আর তাতে বলেনঃ অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটটিকে খোঁচা দিলেন। তারপর সর্বদা আমাকে বেশি দিতে থাকেন এবং বলতে থাকে, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন তখন আমার উট ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তারপর তিনি উটটিকে খোঁচা দিলেন। এতে সে দৌড়াতে শুরু করল। পরে আমি এটার লাগাম টেনে ধরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা শোনার জন্যে, কিন্তু তা আমি পেরে উঠলাম না। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে একত্রিত হন এবং বলেন, আমার নিকট একে বিক্রি করো। সুতরাং পাঁচ উকিয়্যার বিনিময়ে আমি বিক্রি করি। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি এ শর্ত করলাম যে, মাদীনাহ পর্যন্ত আমি এতে সওয়ার হয়ে যাব। তিনি বলেন, মাদীনাহ পর্যন্ত তুমি সওয়ার হতে পারবে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, যখন আমি মাদীনায় পৌছলাম তখন উটসহ আমি তার নিকট গেলাম। তিনি আমাকে আরো এক উকিয়্যাহ বাড়তি দেন এবং পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটটিও আমাকে প্রদান করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
উকবাহ ইবনু মুকরাম আম্মী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোন এক সফরে সঙ্গী থাকি। রাবী বলেন, হয়ত তিনি যুদ্ধে সফরের কথা বলেছেন এবং পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে আরও বাড়তি আছে যে, তিনি বললেনঃ হে জাবির! আমি কি মূল্য পরিশোধ করেছি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মূল্য তোমার, উটও তোমার, মূল্য তোমার, উটও তোমার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আঘ আম্বরী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার থেকে একটি উট দু' উকিয়াহ ও এক দিরহাম বা দু' দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেন। যখন তিনি সিরার নামক স্থানে পৌছেন, তখন একটি গাভী যাবাহ করার জন্যে আমাকে আদেশ দেন। তারা সকলেই তা খেলেন। যখন তিনি মদীনায় পৌছেন তখন আমাকে মসজিদে আসার ও দু’রাকাআত আদায়ের হুকুম করেন। তিনি আমাকে উটের মূল্য ওজন করে দেন এবং কিছু বেশী দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ ঘটনা বর্ণনা করেন। এতে তিনি আরও বলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে দাম বলেন আমার থেকে সে দামে তা ক্রয় করেন। তিনি দু' উকীয়াহ ও এক দিরহাম এবং দু দিরহামের কথা উল্লেখ করেননি। আর তিনি গাভী যাবাহ করার কথা বলেন। সুতরাং তা নহর করা হয় ও পরে গোশত বণ্টন করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, আমি চার দীনার মূল্যে তোমার উট নিলাম, আর এর পিঠে চড়ে তুমি মদীনায় যেতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ্ (রহঃ) ..... আবূ রাফি’ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির থেকে একটি উটের বাচ্চা ধায় নেন। এরপর তার নিকট সদাকাহর উট আসে। তিনি আবূ রাফি'কে সে ব্যক্তির উটের ধার শোধ করার আদেশ দান করেন। আবূ রাফি' রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এসে জানালেন যে, সদাকাহর উটের মধ্যে আমি সেরূপ দেখছি না, তার চেয়ে উৎকৃষ্ট উট আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাই তাকে দাও। সে ব্যক্তিই উত্তম যে ধার পরিশোধে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৩ ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের একটি বাচ্চা ধার নেন, এরপর উক্তরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে তিনি বলেন যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ভাল যে দেনা পরিশোধে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এক ব্যক্তির ঋণ ছিল। সে তার সাথে কঠোর ব্যবহার করে। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাকে (শাসন করতে) উদ্যত হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পাওনাদারের কিছু বলার অধিকার আছে। তারপর তিনি সাহাবীদেরকে বললেনঃ তোমরা তার জন্যে একটি উট খরিদ করো এবং তাকে সেটি দিয়ে দাও। তারা বললেন, আমরা যে উট পাই তা তার উটের চেয়ে উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওটা খরিদ করো ও তাকে দিয়ে দাও, কারণ তোমাদের বা তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে দেনা পরিশোধ করার ব্যাপারে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উট ঋণ করে আনেন। অতঃপর এর থেকে বড় একটি উট তাকে দিয়ে বলেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তমভাবে ঋণ শোধ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ধার নেয়া উট দাবী করতে থাকে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার উটের চেয়ে উৎকৃষ্ট উট তাকে দাও এবং বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যে ধার পরিশোধের ক্ষেত্রে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, ইবনু রুমূহ ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন গোলাম এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হিজরাতের উপর বাই’আত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারেননি যে, সে লোকটি গোলাম। অতঃপর তার মনিব তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে চলে আসেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ আমার কাছে একে বিক্রি করে দাও। তারপর তিনি দু'জন কালো রং বিশিষ্ট গোলামের বিনিময়ে একে খরিদ করেন। এরপর থেকে তিনি বাই’আত নিতেন না যতক্ষণ না জিজ্ঞেস করতেন যে, সে গোলাম কি-না? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদীর থেকে বাকীতে কিছু খাদ্য বস্তু ক্রয় করেন। অতঃপর তার বর্মটি বন্ধক হিসেবে তাকে প্রদান করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম হানয়ালী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদী থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী খরিদ করেন এবং তার লৌহ বর্মটি তার কাছে বন্ধক রাখেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা এক ইয়াহুদীর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের শর্তে কিছু খাদ্য সামী খরিদ করেন এবং স্বীয় লৌহ বৰ্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুবুহু বর্ণনা করেন। তবে তাতে লোহার ব্যাপারে উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনায় আগমন করেন তখন মদীনাবাসীরা এক বা দু' বছর মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের ফল অগ্রিম ক্রয় করত। অতঃপর তিনি বলেন, যে কেউ খেজুর অগ্রিম ক্রয় করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপে এবং নির্ধারিত ওজনে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সময়ের জন্য ক্রয় করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন আর সে সময়ে মাদীনার লোকজন খেজুর অগ্রিম ক্রয় করত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ যে অগ্রিম ক্রয় করতে চায়, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ ও নির্ধারিত ওজনে ক্রয় করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) সকলেই ইবনু উয়াইনাহর সূত্রে ইবনু আবূ নাজীহ্ (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে আবদুল ওয়ারিস (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... সুফইয়ানের সূত্রে ইবনু আবূ নাজীহ্ (রহঃ) হতে আপন সানাদে ইবনু উয়াইনাহর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং সুফইয়ান (রহঃ) এতে নির্ধারিত সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলমাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... মা'মার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুদামজাতকারী ব্যক্তি পাপাচারী। অতঃপর সাঈদকে বলা হলো, আপনি তো গুদামজাত করেন। সাঈদ (রহঃ) বললেন যে, মা'মার এ হাদীস বর্ণনা করছেন- তিনিও গুদামজাত করে থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী (রহঃ) ..... মামার ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাপাচারী লোক ব্যতীত কেউ গুদামজাত করে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইমাম মুসলিম বলেনঃ আমাদের জনৈক সাথি 'আমর ইবনু আওনের সুত্রে ... আদী ইবনু কা'ব গোত্রের জনৈক মা’মার ইবনু আবূ মা’মার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর ইয়াহইয়া থেকে সুলাইমান ইবনু বিলাল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৭৯. ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কসমে পণ্য-দ্রব্যের কাটতি হয়, তবে তা লাভ ধ্বংসকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা বিরত থাকো ব্যবসায়ের মধ্যে অধিক কসম খাওয়া থেকে। কেননা সেটা পণ্য বিক্রয়ে সহায়তা করে কিন্তু বারাকাত বিনষ্ট করে করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮১, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জমি অথবা বাগানে যদি কারও কোন শরীক থাকে, তবে ঐ শরীকের অনুমতি না নিয়ে সে তা বিক্রি করতে পারবে না। সে চাইলে গ্রহণ করবে আর না চাইলে ছেড়ে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব শরিকী বিষয়ে শুফু'আর পক্ষে হুকুম দিয়েছেন যা বিভক্ত করা যায় না- জমি হোক বা বাগান। আপন শরীককে না জানিয়ে তা বিক্রি করা বৈধ নয়। সে ইচ্ছে করলে রাখবে আর ইচ্ছে করলে ছেড়ে দিবে। যদি সে বিক্রি করে এবং শরীককে অবগত না করে তাহলে সে শরীকই তা পাওয়ার অধিকতর হকদার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি শারীকি বিষয়ে শুফ'আর অধিকার আছে- জমি হোক বা বাড়ী অথবা প্রাচীর। বিক্রি করা তার পক্ষে বৈধ হবে না শরীকের নিকট পেশ করা ব্যতীত। অতঃপর হয়ত সে গ্রহণ করবে অথবা পরিত্যাগ করবে। যদি সে না বলে তবে তার শরীকই সেটার বেশী অধিকারী যতদিন তাকে খবর দেয়া না হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার প্রাচীরের গায়ে কাঠ স্থাপন করতে যেন আপন প্রতিবেশীকে বারণ না করে। এরপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, কী ব্যাপার! আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে অমনোযোগী দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তা দিয়ে তোমাদের ঘাড়ে ছুড়ে মারবো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ তাহির, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) .... যুহরী (রহঃ) সূত্রে এ সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... সা'ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারও এক বিঘত (অর্ধহাত) জমি জোর দখল করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার গলায় সাত স্তর যমীন বেড়িরূপে পরিয়ে দেবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আরওয়া' নামক এক মহিলা বাড়ীর কিছু অংশ নিয়ে তার সাথে ঝগড়া বাধায়। তিনি বললেন, তোমরা ওকে বলতে দাও এবং তার দাবিকৃত জমি ছেড়ে দাও। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে কেউ অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমি জবর দখল করবে কিয়ামতের দিন তাকে সাত স্তর জমিনের বেড়ি (তার গলায়) পরিয়ে দেয়া হবে। হে আল্লাহ! আরওয়া যদি মিথ্যাবাদিনী হয় তবে তার চোখ অন্ধ করে দিন এবং তার ঘরেই তার কবর করুন। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি আরওয়াকে অন্ধ অবস্থায় দেখেছি, প্রাচীরে প্রাচীরে সে আঘাত খেয়ে খেয়ে চলত। সে বলতো, সাঈদ ইবনু যায়দের বদদুআ আমার লেগেছে। একদিন সে বাড়ীর মধ্যে চলাচল করছিল। বাড়ীর মধ্যে এক কুয়ার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে তাতে পড়ে যায়, কুয়াই তার কবর হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। আরওয়া বিনতু উওয়ায়স সাঈদ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর উপর দাবী করেন যে, তিনি আরওয়ার জমির কিছু অংশ জবর দখল করেছেন। সে মারওয়ান ইবনু হাকামের (উমাইয়াহ্ শাসক) নিকট এর বিচার দাবি করে। সাঈদ বললেনঃ আমি কী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে ঐ কথা শোনার পরে তার জমির কিছু অংশ জবর দখল করতে কেমন করে পারি? তিনি বললেন, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কী কথা শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি জোরপূর্বক দখল করবে তাকে সাত স্তর পর্যন্ত জমির বেড়ি (তার গলায়) পরিয়ে দেয়া হবে। মারওয়ান বললেন, এরপর আপনার নিকট আর প্রমাণের কথা জিজ্ঞেস করব না। এরপর সাঈদ বললেন, হে আল্লাহ! আরওয়া যদি মিথ্যাবাদিনী হয় তবে তার দু' চক্ষু অন্ধ করে দিন এবং তার জমিতে তাকে মৃত্যু দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে অন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেনি। পরে তার জমিতে চলার সময় হঠাৎ এক গর্তে পড়ে মারা যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জোরপূর্বক এক বিঘত পরিমাণ জমি দখল করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত স্তর জমির বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৯০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি এক বিঘত জমি না-হকভাবে জবর দখল করে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সাত স্তর যমীনের বেড়ি পরিয়ে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৯১, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন। তার ও তার গোত্রের মাঝে একটি জমি নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে গমন করেন এবং তাকে সে বিষয়ে বলেন। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, হে আবূ সালামাহ! জমি থেকে বেঁচে থাকো। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি যুলম করে নিবে তাকে সাত স্তর জমির বেড়ি পরানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৯২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) তাকে বলেছেন যে, তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হন। অতঃপর উক্তরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা রাস্তার ব্যাপারে মতবিরোধ করবে তখন তা সাত হাত প্রশস্ত করতে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার)