অল ইসলাম লাইব্রেরি

31 - লুকতা অধ্যায়

1

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাকে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তার থলে এবং তার বাঁধন ভাল করে চিনে রাখবে। তারপর এক বছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দেবে। এ সময়ের মধ্যে যদি এর মালিক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দিবে। অন্যথায় তা তোমার ইচ্ছাধীন*। তারপর সে হারানো ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ তা তোমার জন্য অথবা তোমার অন্য কোন ভাইয়ের জন্য অথবা নেকড়ের (খাবারের) জন্য। তারপর সে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ এ নিয়ে তোমার ভাবনা কী? তার সাথে আছে পানির মশক (পেটের মধ্যে কয়েকদিনের পানি ধারণের থলে) জুতোর মত পায়ের পাতা (মরুভূমিতে চলার উপযোগী)। সে নিজেই পানি পান করবে এবং গাছের পাতা খাবে যতক্ষণ না মালিক তাকে পেয়ে যায়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় আমি (মালিকের নিকট) عِفَاصَهَا পড়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার)

2

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তুমি এক বছর পর্যন্ত সেটার প্রচার করবে এবং (এরপর) তুমি থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে। তারপরে তুমি তা খরচ করতে পার। আর যদি তার প্রকৃত মালিক আসে, তবে তাকে তা আদায় করে দিবে। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! হারানো বকরির বিধান কী? তিনি বললেনঃ তা তুমি ধরে নিয়ে রাখ। কেননা, এটি তুমি নিবে কিংবা তোমার ভাই নিবে কিংবা নেকড়ে নিয়ে যাবে*। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তবে যদি হারানো উট হয়? বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হলেন, এমনকি তার গাল দু'টি লাল হয়ে গেল। অথবা তিনি বলেছেনঃ তার চেহারা লাল হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, তাকে নিয়ে তোমার ভাবনা কী? তার সাথে আছে তার জুতো আর পানির মশক; সেটির মালিক সেটিকে পেয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫০, ইসলামিক সেন্টার)

3

আবূ তাহির (রহঃ) ...... রাবি'আহ ইবনু আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) হতে একই সূত্রে মালিক (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি বাড়তি বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। বর্ণনাকারী বলেন, 'আমর (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, যখন এর কোন দাবীদার না আসে ততক্ষণ তা খরচ করে যাবে, মালিক এসে গেলে তা দিয়ে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫১, ইসলামিক সেন্টার)

4

আহমাদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম আওদী (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালেদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল.....অতঃপর তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফর (রাযিঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি এও বলেছেন, "তখন তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল ও ললাট লাল হয়ে গেল এবং তিনি রাগাম্বিত হলেন"। এবং আরও বাড়তি বলেছেন, আর তা এক বছর ঘোষণা করবে। যদি এর মালিক না আসে, তবে তা তোমার নিকট আমানাত হিসেবে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫২, ইসলামিক সেন্টার)

5

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ), রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবা যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সোনার অথবা রূপার হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তুমি এর বন্ধন ও থলে চিনে রাখবে; তারপর একবছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিবে। এরপরও যদি তুমি মালিকের সন্ধান না পাও, তবে তা তুমি ব্যয় করে ফেলতে পার। কিন্তু তা তোমার নিকট আমানাত হিসেবে থাকবে। যদি কোন সময় এর দাবীদার আসে তবে তা তুমি তাকে দিয়ে দিবে। তারপর সে হারানো উট সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কী? তুমি এ প্রসঙ্গ বাদ দাও। কেননা এর সাথে এর জুতা আছে এবং পানি সংরক্ষণের থলে আছে। সে নিজেই পানির ঘাটে যেতে পারে এবং বৃক্ষ থেকে খেতে পারে। অবশেষে একদিন তার মনিব তাকে পেয়ে যাবে। তারপর সে বকরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ তুমি সেটি নিয়ে যাও। কেননা, তা তুমি নিবে অথবা তোমার ভাই নিবে অথবা নেকড়ে খেয়ে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৩, ইসলামিক সেন্টার)

6

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাবী'আহ্ (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, “তিনি এতে এত রাগাম্বিত হলেন যে, তার গাল দু’টো রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল" তারপর ..... অবশিষ্ট হাদীস উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তারপর যদি এর মালিক আসে এবং তার থলে এবং (মুদ্রার) সংখ্যা ও বন্ধন সঠিকভাবে চিনতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে। নচেৎ তা তোমারই থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৪, ইসলামিক সেন্টার)

7

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

8

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও আবূ বাকর ইবনু নাফি (রহঃ) ..... সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং যায়দ ইবনু সূহান ও সালমান ইবনু রাবী'আহ যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমি একটি চাবুক পেয়ে তা উঠিয়ে নিলাম। তখন আমার সাখী দু'জন আমাকে বললেন, তুমি তা রেখে দাও। আমি বললাম, না বরং আমি এটির ঘোষণা করব। যদি এটির মালিক আসে তো ভাল, অন্যথায় আমি এটি নিয়ে ব্যবহার করব। তিনি বলেন, আমি উভয়ের কথা প্রত্যাখ্যান করলাম। তারপর যখন আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলাম, তখন এক সময় আমার হাজ্জে (হজ্জে/হজে) যাওয়ার সুযোগ এলো। তখন আমি মাদীনায় গেলাম এবং উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি চাবুকের ঘটনা এবং সঙ্গীদ্বয়ের কথা তাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একটি থলে পেয়েছিলাম। তাতে একশ’ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ছিল। আমি সেটি নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তা এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দেবে। বর্ণনাকারী বললেন, আমি সেটির ঘোষণা দিলাম, কিন্তু তা চিনে নিতে পারে এমন কাউকে পেলাম না। পরে আমি তার কাছে এলাম, তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর পর্যন্ত প্রচার কর। তারপরও আমি তার কোন দাবীদার পেলাম না। তারপর আবার আমি তার কাছে এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর তার ঘোষণা দাও। তারপরও আমি কাউকে সেটির দাবীদার পেলাম না। তিনি বললেনঃ তুমি এটির সংখ্যা, থলে ও তার বন্ধন সংরক্ষণ করে রাখবে। যদি এর মালিক আসে, তবে ভাল। অন্যথায় তুমি তা ভোগ করবে। তারপর তা আমি ভোগ করলাম। তারপর যখন মাক্কায় এলাম তখন সেটির মালিকের সাক্ষাৎ পেলাম। বর্ণনাকারী সন্দেহ করে বলেন, আমার খেয়াল নেই যে, তিনি কি তিন বছরের কথা বলেছিলেন, না এক বছরের। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৭, ইসলামিক সেন্টার)

9

আবদুর রহমান ইবনু বিশর আবদী (রহঃ) .... সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি যায়দ ইবনু সূহান এবং সালমান ইবনু রাবী'আহ (রহঃ) এর সাথে বের হলাম এবং আমি একটি চাবুক পেলাম। তারপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ ..... (তা আমি ব্যবহার করলাম) পর্যন্ত বর্ণনা করেন। শু'বাহ (রহঃ) বলেন, পরে আমি তাকে দশ বছর পর বলতে শুনেছি যে, তিনি সেটা এক বছর পর্যন্ত প্রচার করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৮, ইসলামিক সেন্টার)

10

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনু বাশ্‌র (রহঃ) সকলেই সালামাহ্ ইবনু কুহয়ল (রহঃ) হতে একই সূত্রে শুবাহ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত সকলের বর্ণিত হাদীসেই তিন বছর কথাটি উল্লেখ আছে। আর সুফইয়ান, যায়দ ইবনু আবূ উনাইসাহ ও হাম্মাদ ইনু সালামাহ্ (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে, "যদি কোন ব্যক্তি এরপর আসে এবং তার গণনা, থলে ও তার বন্ধনের বর্ণনা দিতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে।" আর সুফইয়ান (রহঃ) ..... ওয়াকী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অন্যথায় তা তোমার মালের মতই। আর ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর বর্ণনায় "অন্যথায় তুমি তা ব্যবহার করতে পারবে" বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৫৯, ইসলামিক সেন্টার)

11

আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু উসমান তাইমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬০, ইসলামিক সেন্টার)

12

আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হারানো বস্তু উঠিয়ে রাখল সে যদি তা প্রচার না করে তবে সে পথভ্রষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬১, ইসলামিক সেন্টার)

13

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন কোন ব্যক্তির পশুর দুধ তার অনুমতি ব্যতীত দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার কুটিরে কিছু সঞ্চিত হোক, তারপর অন্য কেউ তার ভাণ্ডার ভেঙ্গে খাদ্য সামগ্ৰী বের করে নিয়ে যাক? এমনিভাবে পশুদের স্তন তাদের ধনাগার স্বরূপ, তাতে তারা তাদের খাদ্য সামগ্ৰী সঞ্চয় করে। অতঃপর কেউ যেন কারো পশুর দুগ্ধ মালিকের বিনানুমতিতে দোহন না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬২, ইসলামিক সেন্টার)

14

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ রাবি, আবূ কামিল, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) সকলেই ইবনু উমর (রাঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মালিক (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাদের হাদীসে فَيُنْتَثَلَ রয়েছে। কিন্তু লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে “তার খাদ্য সামগ্ৰী স্থানান্তর করে নিয়ে যায়" অংশটি মালিক (রাযিঃ) এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৩, ইসলামিক সেন্টার)

15

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ...... আবূ শুরাইহ্ আদাবী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান শুনেছে এবং দু'চক্ষু দেখেছে, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালভাবে নিজ মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ভালভাবে মানে কী? তখন তিনি বললেন, তাকে একদিন ও এক রাত্রি আপ্যায়ন করবে। আর (সাধারণভাবে) মেহমানদারীর সময়কাল তিন দিন। এর চাইতে বেশি দিন মেহমানদারী করা তার জন্য সদাকাহ্ স্বরূপ। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে। [দ্রষ্টব্য হাদীস ১৭৬] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৪, ইসলামিক সেন্টার)

16

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ...... আবূ শুরাইহ খুযাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মেহমানদারী তিন দিন এবং উত্তমরূপে মেহমানদারী একদিন ও একরাত্রি। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে তার ভাই এর নিকট অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করবে। তখন সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করবে? তিনি বললেন, সে (মেহমান) তার নিকট (এমন বেশী দিন) থাকবে, অথচ তার (মেযবানের) এমন সম্বল নেই যা দ্বারা সে তার মেহমানদারী করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৫, ইসলামিক সেন্টার)

17

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) .... আবূ শুরায়হ খুযাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান শুনেছে, আমার দুচক্ষু দেখেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি লায়স এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কারো জন্যে বৈধ নয় তার ভাই এর নিকট এত সময় অবস্থান করা, যাতে সে তাকে পাপে ফেলে দেয়। বাকী অংশ ওয়াকী' (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৬, ইসলামিক সেন্টার)

18

কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... উভয়ে উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের (বিভিন্ন স্থানে) পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ যদি তোমরা কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ কর, আর তারা তোমাদের জন্য এমন সব আসবাব পত্র প্রদান করার হুকুম করে যা মেহমানদারীর জন্য প্রয়োজন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে তবে তোমরা তাদের থেকে মেহমানদারীর হক আদায় করে নেবে, যা তাদের করণীয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৭, ইসলামিক সেন্টার)

19

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি সওয়ারীতে আরোহণ করে তার কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার কাছে আরোহণের কোন অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোন বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই। তারপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বললেন। এমনকি আমাদের মনে হল যে, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোন অধিকার নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৮, ইসলামিক সেন্টার)

20

আহমাদ ইবনু ইউসুফ আযদী (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাদের কিছু সওয়ারীর বাহন যাবাহ করার কথা ইচ্ছা করেছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে আমরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য একত্রিত করলাম। আমরা একটি চামড়া বিছালাম এবং তাতে লোকদের খাদ্যদ্রব্য জমা করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটির প্রশস্ততা অনুমান করার জন্য দাঁড়ালাম এবং আমি আন্দাজ করলাম সেটি একটি ছাগল বসার স্থানের সমান। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ’। রাবী বলেন, আমরা সকলেই তৃপ্তির সাথে খেলাম। তারপর আমাদের নিজ নিজ খাদ্য রাখার থলে পূর্ণ করে নিলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওযুর জন্য কি পানি আছে? বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি তার পাত্রে সামান্য পানি নিয়ে এগিয়ে এল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা একটি বড় পাত্রে ঢেলে দিলেন। এরপর আমরা চৌদ্দশ' লোক সকলেই তার থেকে পানি ঢেলে ঢেলে ওযু করলাম। তারপর আরো আটজন লোক এসে বলল, ওযুর জন্য কি পানি আছে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওযুর পানি সমাপ্ত হয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৬৯, ইসলামিক সেন্টার)