অল ইসলাম লাইব্রেরি

30 - বিচার অধ্যায়

1

আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি লোকের দাবী অনুসারে তাদের দিয়ে দেয়া হতো তবে কোন কোন লোক অপর ব্যক্তির জান-মাল দাবি করে বসতো। তাই বিবাদীর জন্য শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২১, ইসলামিক সেন্টার)

2

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদী থেকে (আল্লাহর নামে) শপথ নেয়ার মাধ্যমে ফায়সালা দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২২, ইসলামিক সেন্টার)

3

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদী থেকে (কসম) শপথ গ্রহণ এবং একজন সাক্ষীর মাধ্যমে মুকদ্দমা নিষ্পত্তি করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৩, ইসলামিক সেন্টার)

4

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মুকাদ্দামা নিয়ে আমার কাছে আগমন করে থাক এবং তোমাদের একজন অপরজন অপেক্ষা অধিক বাকপটু হয়ে যুক্তি খাটিয়ে স্বীয় দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কর। আমি কথা শুনে তার অনুকূলে রায় প্রদান করি। সুতরাং এতে যদি তার ভাইয়ের হকের কিছু তাকে প্রদান করি (বাস্তবে হয়ত এতে তার কোন অধিকারই নেই) তখন তার কর্তব্য হবে তা গ্রহণ না করা। কেননা, এতে যেন আমি তাকে জাহান্নামের এক খণ্ড আগুন প্রদান করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৪, ইসলামিক সেন্টার)

5

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৫, ইসলামিক সেন্টার)

6

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হুজরার দ্বার প্রান্তে জনৈক ঝগড়াকারীর শোরগোল শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, আমি তো একজন মানুষ আর আমার কাছে কোন মুকদ্দমা দায়েরকারী আসে। তাদের একজনের চেয়ে অন্যজন খুব ভাল করে কথা বলতে জানে। আমি তখন মনে করি সেই সঠিক, তাতে আমি তার পক্ষে রায় প্রদান করি। আমি যার পক্ষে (অপর) মুসলিমদের হকের ব্যাপারে রায় দেই, তা বস্তুত জাহান্নামের একটি টুকরা। অতএব সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৬, ইসলামিক সেন্টার)

7

আমর আন নাকিদ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে একই সূত্রে ইউনুস (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর মামার (রহঃ) এর হাদীসে جلبة এর পরিবর্তে لَجَبَةَ خَصْمٍ بِبَابِ أُمِّ سَلَمَةَ উল্লেখ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ঝগড়াকারীর শোরগোল উম্মু সালামার (হুজরার) দরজাতে শুনতে পেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৭, ইসলামিক সেন্টার)

8

আলী ইবনু হুজুর সাদী (রহঃ) ...... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, হিন্দা বিনত উতবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। তিনি আমার এবং আমার সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করেন না। তবে আমি তাকে না জানিয়েই তার সম্পদ থেকে প্রয়োজনীয় খরচাদি গ্রহণ করে থাকি। এতে কি আমার কোন পাপ হবে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার সম্পদ থেকে ততটুকু গ্রহণ করতে পার, যা তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৮, ইসলামিক সেন্টার)

9

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) হিশাম (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩২৯, ইসলামিক সেন্টার)

10

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিন্দা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে লাঞ্ছিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। আর এখন পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার পরিজনকে সম্মানিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে মহান আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তা আরো বাড়বে। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন কৃপণ স্বভাবের লোক। তবে আমি যদি তার বিনা অনুমতিতে তার সন্তান-সন্ততির জন্য তার সম্পদ থেকে খরচ করি, এতে কি আমার কোন অন্যায় হবে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের জন্য তুমি যথাবিধি খরচ করলে কোন দোষ হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩০, ইসলামিক সেন্টার)

11

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিন্দা বিনত উতবা ইনু রবী'য়াহ, এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! (মুসলিম হওয়ার পূর্বে) পৃথিবীর মধ্যে অন্যকোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে লাঞ্ছিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। আর আজ (মুসলিম হওয়ার পর) পৃথিবীর মধ্যে অন্য কোন পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনকে সম্মানিত করুন- এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমার কাছে আর কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে মহান আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন, তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তারপর হিন্দা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফইয়ান একজন বড় কৃপণ স্বভাবের লোক। এমতাবস্থায় আমি যদি আমাদের সন্তানাদির খাবার (তারই অজান্তে) তার সম্পদ থেকে প্রদান করি তবে কি এতে আমার কোন দোষ হবে? তিনি বললেন, না। তবে তা যথাবিধি হতে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩১, ইসলামিক সেন্টার)

12

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য তিনি যা পছন্দ করেন, তা হলঃ ১. তোমরা তারই ইবাদাত করবে, ২. তার সঙ্গে কিছুই শারীক করবে না এবং ৩. তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে ধারণ করবে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যে সকল বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেনঃ ১. নিরর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩২, ইসলামিক সেন্টার)

13

শাইবান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেনঃ “এবং তিনি তোমাদের প্রতি তিনটি কাজে রাগাম্বিত হন”। “এবং তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না” বাক্যটি তিনি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৩, ইসলামিক সেন্টার)

14

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন মায়েদের অবাধ্য হওয়া, জীবন্ত কন্যা সন্তানকে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং অন্যের হক আদায় না করা এবং না-হক কোন বস্তু প্রার্থনা করা। আর তিনটি বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন। তা হলঃ ১. নিরর্থক কথা-বার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৪, ইসলামিক সেন্টার)

15

কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর হারাম করেছেন" স্থলে বলেছেন "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের উপর হারাম করেছেন"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৫, ইসলামিক সেন্টার)

16

আবূ বাকুর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... শাবি (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর লেখক আমাকে বলেছেন যে, মুআবিয়াহ্ (রাযিঃ) মুগীরাহ (রাযিঃ) এর কাছে পত্র লিখলেন, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, এমন কিছু বিষয় আমাকে লিখে অবহিত করুন। তখন তিনি তাকে লিখলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য তিনটি কাজ অপছন্দ করেনঃ ১. অনর্থক কথাবার্তা বলা, ২. সম্পদ বিনষ্ট করা এবং ৩. বেশী বেশী প্রশ্ন করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৬, ইসলামিক সেন্টার)

17

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ওয়াররাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ্ (রাযিঃ) মুআবিয়াহ্ (রাযিঃ) এর নিকট পত্র লিখলেনঃ “আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তিনটি বিষয় হারাম করেছেন এবং তিনটি কাজ নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি হারাম করেছেন। পিতা-মাতার নাফরমানী, জীবন্ত কন্যা সন্তানকে মাটিতে পুঁতে রাখা এবং পাওনাদারের হক আদায় না করা। আর তিনি তিনটি কাজ নিষিদ্ধ করেছেন, তা হলোঃ ১. অনর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং ৩, ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৭, ইসলামিক সেন্টার)

18

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ..... আমর ইবনু আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যদি কোন বিচারক যথাযথ চিন্তা-গবেষণার পর সমাধান প্রদান করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছেন, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। আর যদি তিনি চিন্তা-গবেষণা করে রায় প্রদান করেন তারপরও তিনি ভুল করেন, তবুও তার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৮, ইসলামিক সেন্টার)

19

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের শেষাংশে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন, রাবী ইযাযীদ বলেন, আমি হাদীসটি আবূ বকর ইবনু আমর ইবনু হাযম (রহঃ) এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন যে, আমার কাছে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে আবূ সালামাহ্ (রহঃ) এরূপ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৩৯, ইসলামিক সেন্টার)

20

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী..... ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) এর সূত্রে হাদীসটি উভয় সূত্রে আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) এর বর্ণিত রিওয়ায়াতের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪০, ইসলামিক সেন্টার)

21

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমাকে একটি পত্র লেখালেন। তখন আমি সিজিস্তানের বিচারক আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকরাহ্ (রহঃ) কে লিখলাম যে, আপনি রাগান্বিত অবস্থায় দু'জনের মধ্যে বিচার ফায়সালা দেবেন না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু'জনের মধ্যে বিচার না করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪১, ইসলামিক সেন্টার)

22

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, শাইবান ইবনু ফাররূখ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ ‘আওয়ানাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪২, ইসলামিক সেন্টার)

23

আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আওন হিলালী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মীয় কাজের বিষয়ে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই (দলীলবিহীন), তা পরিত্যাজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৩, ইসলামিক সেন্টার)

24

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যার তিনটি বাসস্থান ছিল। অতঃপর সে (মৃত্যুকালে) প্রত্যেক বাসস্থানের এক তৃতীয়াংশ দান করার ওয়াসিয়্যাত করে যায়। কাসিম বললেন, এ সকল অংশকে এক বাসস্থানে একত্রিত করা হবে। এরপর তিনি বললেন, আমাকে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করলো যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৪, ইসলামিক সেন্টার)

25

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কি আমি উত্তম সাক্ষীদের সম্পর্কে জানাবো না? উত্তম সাক্ষী হল সে ব্যক্তি, যে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাকে সাক্ষ্যের জন্য আহবানের আগেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৫, ইসলামিক সেন্টার)

26

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা দু'জন মহিলা তাদের নিজ নিজ ছেলে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় এক বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলেকে নিয়ে যায়। তখন তাদের একজন তার সঙ্গীনীকে বলল, তোমার ছেলেকে বাঘে নিয়েছে। আর দ্বিতীয়া জন বলল, বরং তোমার ছেলেকে বাঘে নিয়েছে। এ নিয়ে উভয়ে দাউদ (আঃ) এর নিকট নালিশ নিয়ে গেল। তিনি বয়সে বড় মহিলার পক্ষে সন্তানের রায় দিলেন। তখন উভয়ে বেরিয়ে সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে সে ঘটনা বলল। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে একটি ছুরি নিয়ে এসো, আমি সন্তানটিকে কেটে উভয়ের মাঝে ভাগ করে দেবো। তখন বয়সে ছোট মহিলাটি বলল, না, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। (আমি মেনে নিলাম)। ছেলেটি ঐ মহিলারই। তখন তিনি ছোট মহিলার পক্ষে ছেলে প্রদানের রায় দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি ইতোপূর্বে سكينِ 'ছুরি শব্দটি সেদিন ব্যতীত আর কখনও শুনিনি। আমরা তাকে مُدْيَةَ বলতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৬, ইসলামিক সেন্টার)

27

সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও উমাইয়াহ ইবনু বিস্তাম (রহঃ) ..... আবূ যিনাদ (রহঃ) হতে এ সূত্রে ওয়ারকা (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৭, ইসলামিক সেন্টার)

28

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... মা'মারের মাধ্যমে হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) যে সকল হাদীস আমাদের বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একটি এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে এক খণ্ড জমি ক্রয় করে। যে ব্যক্তি জমি ক্রয় করেছিল সে তার কেনা সম্পত্তিতে একটি কলসী পেল। তাতে স্বর্ণ ছিল। যে ব্যক্তি জমিটি ক্রয় করেছিল সে বিক্রেতাকে বলল, তুমি আমার কাছ থেকে তোমার স্বর্ণ বুঝে নাও। আমি তো তোমার কাছে থেকে জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। তখন যে ব্যক্তি সম্পত্তি বিক্রি করেছিল সে বলল, আমি তো তোমার কাছে জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, তারপর উভয়েই এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে এর ফায়সালা চাইল। তখন সে বলল, তোমাদের কি কোন সন্তান আছে? তাদের একজন বলল যে, আমার একটি ছেলে আছে এবং অপর জন বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। তখন তিনি বললেন, তোমার ছেলেটিকে (তার) মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে দাও এবং এ উপলক্ষে তোমরা তোমাদের উপর তা ব্যয় কর এবং এ থেকে সদাকাহও কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৪৮, ইসলামিক সেন্টার)