2 - পবিত্রতা অধ্যায়
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ মালিক আল আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। আলহামদু লিল্লা-হ' মিযানের পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দিবে এবং "সুবহানাল্লা-হ ওয়াল হামদুলিল্লা-হ" আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দিবে। সালাত’ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। সদাকাহ হচ্ছে দলীল। ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর "আল কুরআন' হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময়ে বিক্রি করে। তার আমল দ্বারা সে নিজেকে (আল্লাহর আযাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২য় খণ্ড, ৪২৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) অসুস্থ ইবনু আমিরকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন ইবনু আমির তাকে বললেন, হে ইবনু উমার! আপনি কি আমার জন্যে আল্লাহর কাছে দু’আ করেন না? ইবনু উমার বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তাহারাত ব্যতিরেকে সালাত কবুল হয় না। খিয়ানাতের সম্পদ থেকে সদাকাহও কবুল হয় না। আর তুমি তো ছিলে বাসরার শাসনকর্তা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবন বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ্ (রহঃ) থেকে অন্য সূত্রে আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... ইসমাঈল (রহঃ) থেকে, সকলে সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কতগুলো হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্য থেকে একটি হাদীস তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হলে পুনরায় ওযু না করা পর্যন্ত তার সালাত কবুল হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত-তুজীবী (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওযুর পানি চাইলেন। এরপর তিনি ওযু করতে আরম্ভ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি উসমান (রাযিঃ) তিনবার তার হাতের কজি পর্যন্ত ধুলেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার তার মুখমণ্ডল ধুলেন এবং ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর বাম হাত অনুরূপভাবে ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তার ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন- অতঃপর তদ্রুপভাবে বাম পা ধুলেন তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এ ওয়ূর করার ন্যায় ওযু করতে দেখেছি এবং ওযু শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর ন্যায় ওযু করবে এবং একান্ত মনোযোগের সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব বলেন, আমাদের ‘আলিমগণ বলতেন যে, সালাতের জন্য কারোর এ নিয়মের ওযুই হল পরিপূর্ণ ওযু (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উসমান এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবনু আফফানকে দেখেছেন তিনি ওযুর জন্যে এক পাত্র পানি আনিয়ে দু'হাতের উপর ঢেলে তিনবার ধুলেন। তারপর ডানহাত পানির পাত্রে প্রবেশ করিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, এরপর তিনবার মুখমণ্ডল এবং তিনবার দু'হাতের কনুই পর্যন্ত ধুইলেন। তারপর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর উভয় পা (গোড়ালি পর্যন্ত) তিনবার ধুয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর ন্যায় ওযু করার পর এমনভাবে দুরাকাআত সালাত আদায় করবে যাতে তা অন্তরে কোন কল্পনার উদয় হয়নি; তবে তার পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, উসমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি মসজিদের বারান্দায় ছিলেন। এমন সময় আসর সালাতের জন্যে মুওয়াযযিন তার নিকট আসলে তিনি ওযুর পানি চাইলেন এবং ওযু করে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাব, যদি আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত না থাকতো তাহলে আমি তোমাদেরকে হাদীসটি শুনাতাম না। (অতঃপর তিনি বললেন) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে সালাত আদায় করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব, আবূ উসামাহ হতে, অন্য সূত্রে যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব ওয়াকী’ (রহঃ) হতে, অন্য সূত্রে ইবনু আবূ উমার থেকে আবার সকলে হিশামের মাধ্যমে উপরোক্ত সূত্রেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ উসামার সূত্রে অতিরিক্ত বলা হয়েছে যে, অতঃপর তার ওযুকে সুন্দররূপে করে তারপর ফরয সালাত আদায় করে।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) ওযু শেষে বললেন যে, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাব। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহর কিতাবের মধ্যে একটি আয়াত না থাকত তাহলে আমি তোমাদেরকে কখনোই হাদীসটি শুনাতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যখন ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু করে (অর্থাৎ ভালভাবে উযুর স্থানগুলো ভিজায়) তারপর সালাত আদায় করে তখন তার এ সালাত ও পিছনের সালাতের মধ্যবর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। উরওয়াহ বলেন, আয়াতটি হলঃ "আমি যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্যে কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরেও যারা তা গোপন রাখে, আল্লাহ তাদেরকে লানাত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদেরকে অভিশাপ দেয়" (সূরাহ আল-বাকার ২ঃ ১৫৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাজ্জাজ ইবনু আশ শাইর (রহঃ) .... 'আমূর ইবনু সাঈদ ইবনুল 'আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিমের যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে উত্তমরূপে সালাতের ওযু করে, সালাতের নিয়ম ও রুকূকে উত্তমরূপে আদায় করে তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হবে তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আহমদ ইবনু আবদাহ আয যাব্বী (রহঃ) ..... হুমরান উসমানের আযাদকৃত দাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) এর জন্যে উযুর পানি আনলাম। অতঃপর তিনি ওযু করে বললেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক হাদীস বর্ণনা করা থাকে। আমি ঐ হাদীসগুলোর ব্যাপারে অবগত নই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার এ ওযুর মত ওযু করতে দেখেছি। তারপর বলেছেন, যে ব্যক্তি এভাবে ওযু করতে তার পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর তার সালাত আদায় ও মসজিদের দিকে যাওয়া অতিরিক্ত সাওয়াব বলে গণ্য হবে। ইবন আবদাহ-এর বর্ণনায় بِوَضُوءٍ কথাটি বাদ দিয়ে কেবল أَتَيْتُ عُثْمَانَ فَتَوَضَّأَ বলা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবা ইবনু সা'ঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ...... আবূ আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদিন উসমান একটি উচু স্থানে বসে ওযু করে বললেনঃ আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওযু কিরূপ ছিল তা দেখাব না? এরপর তিনি প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুলেন। কুতাইবাহ আনাস সূত্রে এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, এ সময় তার (উসমানের) কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক সাহাবা উপস্থিত ছিলেন (অর্থাৎ কেউই তার বিরোধিতা করেননি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ আলী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উসমান (রাযিঃ) এর জন্যে ওযুর পানি ব্যবস্থা করতাম। এমন একটি দিনও অতিবাহিত হতো না যেদিন সামান্য পরিমাণ পানি হলেও তা দ্বারা গোসল করতেন না। উসমান বলেছেন, একদিন আমরা যখন এ (ওয়াক্তের) সালাত শেষ করলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন। মিসআর বলেনঃ আমার মনে হয় তা ছিল আসরের সালাত। তিনি বললেনঃ আমি স্থির করতে পারছি না যে, তোমাদেরকে একটি বিষয়ে কিছু বর্ণনা করব না নীরব থাকব। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তা কল্যাণকর হয় তাহলে আমাদেরকে বলুন। আর যদি অন্য কিছু হয়, তাহলে আল্লাহ এবং তার রাসূলই অধিক অবগত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন মুসলিমের যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার ওপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করেছেন তা পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তাহলে এসব সালাত মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহর কাফফারাহ হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয তার পিতার সূত্রে, অন্য সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন সেভাবে ওযুকে পূর্ণ করে, তার পাঁচ ওয়াক্তের ফরয সালাত আদায় করলে উক্ত সালাতসমূহ মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) কাফফারাহ হয়ে যায়। ইবনু মু'আযের হাদীসে এভাবেই বলা হয়েছে। কিন্তু গুনদার বর্ণিত হাদীসে বিশরের নেতৃত্বের কথা কিংবা ফরয সালাতের কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী ..... উসমান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদিন উসমান ইবনু আফফান খুব উত্তমরূপে ওযু করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওযু করতে দেখেছি যে, সে অতি যত্ন করে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অনুরূপ ওযু করে সালাতের জন্যে মসজিদের দিকে যায় এবং তার মসজিদে যাওয়া যদি সালাত ব্যতীত অন্য কোন কারণে না হয় তবে তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের জন্যে পরিপূর্ণরূপে ওযু করে ফরয সালাত আদায়ের উদ্দেশে (মসজিদে) যায় এবং লোকেদের সাথে, অথবা তিনি বলছেনঃ জামা'আতের সাথে, অথবা বলেছেন, মসজিদের মধ্যে সালাত আদায় করে, আল্লাহ তার গুনাসমূহকে মাফ করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআহ থেকে অন্য জুমুআহ এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যায় যদি সে কাবীরাহ গুনাহতে লিপ্ত না হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
নাসর ইবনু ‘আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআহ থেকে আরেক জুমুআহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের জন্যে কাফফারাহ স্বরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ তাহির ও হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআহ থেকে আর এক জুমুআহ এবং এক রমাযান থেকে আর এক রমাযান, তার মধ্যবর্তী সময়ের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে যদি কাবীরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ওপর উট চড়ানোর দায়িত্ব ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তার এ কথা শুনতে পেলাম, "যে মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ রেখে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। উকবাহ বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলামঃ বাহ! হাদীসটি কত চমৎকার! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি 'উমার। তিনি আমাকে বললেন, তোমাকে দেখেছি, এ মাত্র এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগে বলেছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি উত্তম ও পূর্ণরূপে ওযু করে এ দু'আ পড়বে- "আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয় আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু"। তার জন্যে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির আল জুহানী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযু করে পাঠ করবে- 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শারীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম আল আনসারী (রাযিঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। রাবী বলেন, তাকে বলা হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওযু (কেমন ছিল) আমাদেরকে দেখিয়ে দিন। তখন তিনি পানির পাত্র আনালেন। তারপর তা থেকে দু'হাতের ওপর পানি ঢেলে উভয় হাত তিনবার ধুলেন তারপর পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি বের করে এক আজলা পানি দ্বারা কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরূপ তিনবার করলেন। পুনরায় পানিতে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। আবার হাত ঢুকিয়ে পানি বের করে দু'হাত কনুই পর্যন্ত দু'বার করে ধুলেন। তারপর হাত ঢুকিয়ে পানি বের করে মাথার সামনে ও পিছনে দু'হাত দিয়ে মাসাহ করলেন- তারপর, উভয় পা গিরা পর্যন্ত ধুলেন, এরপর বললেনঃ এরূপ ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওযু (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা, খালিদ ইবনু মাখলাদ, সুলাইমান ইবনু বিলাল, আমর ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে ঐ সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি "উভয় পায়ের গিরা পর্যন্ত" ধুয়েছেন এ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) .... 'আমর ইবনু ইয়াহইয়া (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদ দ্বারা এভাবেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তিনবার কুলি করলেন এবং নাকে পানি ঢেলে ঝাড়লেন, এক হাতে পানি নিয়ে করেছেন এ কথাটি তিনি বলেননি। অবশ্য এ বাক্যটির পরে নিম্নের বাক্যগুলো বর্ধিত করেছেন; মাথা মাসাহ করার সময় হাত দু’খানা মাথার সম্মুখভাগে রাখলেন এরং পরে তা টেনে মাথার পেছনভাগে নিয়ে গেলেন। অতঃপর আবার পূর্বের জায়গায় অর্থাৎ যেখান থেকে আরম্ভ করেছিলেন সেখানে নিয়ে আসলেন এবং পরে পা দু'খানা ধুলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুর রহমান ইবনু বিশ্বর আল আবদী ..... উহায়ব (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, "আমর ইবনু ইয়াহইয়া (রাযিঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সনদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে রাবী বলেন যে, তিনি তিন আজলা পানি দ্বারা কুলি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেড়েছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, তিনি একবার মাত্র মাসাহ করেছেন তবে হাতগুলো মাথার সম্মুখের দিক থেকে পেছনের টেনে নিয়েছেন। বাহয বলেছেন, উহায়ব এ হাদীসটি আমাকে লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন আর উহায়ব বলেছেনঃ এ হাদীসটি 'আমর ইবনু ইয়াহইয়া আমাকে দু'বার লিখিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু মা’রূফ এবং হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম আল মাযানী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এভাবে ওযু করতে দেখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করলেন, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়লেন, অতঃপর মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন। ডান হাত এবং বাম হাত খানাও তিনবার ধুলেন। এরপর হাতের অবশিষ্ট পানি ছাড়া নতুন পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন অতঃপর পা দু'খানা খুব ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। আবূ তাহির বলেনঃ ইবনু ওয়াহব, আমর ইবনু হারিস এর উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আমর আন নাকিদ ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঢিলা ব্যবহার করে, তখন যেন বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করে। আর তোমদের কেউ যখন ওযু করে তখন যেন নাকের ভেতর পানি প্রবেশ করায় এবং নাক ঝেড়ে সাফ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) বলেনঃ এগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) আমাদের কাছে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে এও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন ওযু করবে তখন উভয় নাকের ছিদ্রে পানি টেনে নিবে, এরপর ঝেড়ে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ওযু করবে, সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়ে, আর যে ঢিলা ব্যবহার করবে, সে যেন বেজোড় সংখ্যক ব্যবহার করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইনু মানসূর ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ অবশিষ্টাংশ অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
বিশর ইবনুল হাকাম আল আবদী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠবে সে যেন নাকে পানি দিয়ে তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়। কেননা, শয়তান তার নাকের ভেতর রাত্রি যাপন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ঢিলা ব্যবহার করবে তখন বেজোড় সংখ্যা নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী, আবূ তাহির ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এর ইন্তিকালের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত হই। সে সময়ে 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকরও এলেন এবং 'আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সামনে ওযু করতে লাগলেন। তখন আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবদুর রহমান পূর্ণভাবে ওযু কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, পায়ের ঐ গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের শাস্তি রয়েছে (যেগুলো শুকনো থাকে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু ওয়াহব, হাইওয়াহ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান এর মাধ্যমে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ এর আযাদকৃত গোলাম আবূ আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবূ মা'ন আর রাকাশী (রহঃ) ..... সালিম মাওলা আল মাহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাযিঃ) সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস এর জানাযার উদ্দেশে বের হলাম। আমরা আয়িশাহ (রাযিঃ) এর ঘরের দরজায় সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি (সালিম) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... শাদ্দাদ ইবনু হাদ (রহঃ) এর আযাদকৃত গোলাম সালিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদা আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি 'আয়িশাহ (রাযিঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মক্কা থেকে মদীনায় ফিরে আসছিলাম। পথিমধ্যে আমরা যখন এক জায়গায় পানির কাছে পৌছলাম, তখন কিছু সংখ্যক লোক আসরের সালাতের সময় তাড়াহুড়া করল। এরা ওযুও করল তাড়াহুড়া করে। আমরা যখন তাদের কাছে পৌছলাম, তখন তাদের পায়ের গোড়ালিসমূহ এমনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে যে, তাতে পানি পৌছেনি। এ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওযু করার সময় পায়ের গোড়ালি যে সব স্থানে পানি পৌছেনি সেগুলোর জন্য জাহান্নাম। তাই তোমরা ভালভাবে ওযু করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) সুফইয়ান এর সূত্রে এবং ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার শু'বাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে উভয়ে উক্ত সনদে মানসূর থেকে বর্ণনা করেন তবে শু'বাহ বর্ণিত হাদীসে "পরিপূর্ণভাবে ওযু করো" কথাটি নেই। এ হাদীসের সনদে "আবূ ইয়াহইয়া" শব্দের সাথে "আল আ'রাজ" যুক্ত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
শাইবান ইবনু ফাররূখ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেনঃ কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পিছনে পড়ে যান। অবশেষে তিনি আমাদের পেলেন যখন আসরের সময় উপস্থিত এবং আমরা ওযু করতে গিয়ে পা মাসাহ করছি। তখন তিনি ঘোষণা দিলেন, ধ্বংস ঐ গোড়ালিগুলোর জন্যে, যে সব স্থানে পানি পৌঁছেনি; যেগুলোর ঠিকানা জাহান্নাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
‘আবদুর রহমান ইবনু সাল্লাম আল জুমাহী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার গোড়ালি ধোয়নি। তখন তিনি বললেন, ধ্বংস ঐ গোড়ালিগুলোর জন্য, যে সব স্থানে পানি পৌছেনি; যেগুলোর ঠিকানা জাহান্নাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকজন লোককে দেখলেন, তারা পাত্র থেকে পানি নিয়ে ওযু করছে। তখন তিনি বললেনঃ পরিপূর্ণরূপে ওযু করো। কারণ, আমি আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ ধ্বংস ঐ গোড়ালিগুলোর জন্যে, যে সব স্থানে পানি পৌছেনি; যেগুলোর ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধ্বংস ঐ গোড়ালিগুলোর জন্যে, যে সব স্থানে পানি পৌছেনি; যেগুলোর ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ওযু করতে তার পায়ের ওপর নখ পরিমাণ অংশ ছেড়ে দেয়। তা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও, আবার ভালভাবে ওযু করে আসো। লোকটি ফিরে গেল। তারপর (পুনরায়) ওযু করে সালাত আদায করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম কিংবা মু'মিন বান্দা (রাবীর সন্দেহ) ওযুর সময় যখন মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সাথে অথবা (তিনি বলেছেন) পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় এবং যখন সে দু'টি হাত ধৌত করে তখন তার দু'হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে পা দুটি ধৌত করে, তখন তার দু'পা দিয়ে হাটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়, এমনকি সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু মামার ইবনু রিবাঈ আল কায়সী (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযু করে এবং তা উত্তমরূপে করে, তার দেহ থেকে সমস্ত পাপ ঝরে যায়, এমনকি তার নখের ভিতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ বিন 'আলা, কাসিম বিন যাকারিয়্যা ও আবদ বিন হুমায়দ (রহঃ) …. নুআয়ম ইবনু আবদুল্লাহ আল মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে ওযু করতে দেখেছি। তিনি খুব ভালভাবে মুখমণ্ডল ধুলেন, এরপর ডান হাত ধুলেন এবং বাহুর কিছু অংশ ধুলেন। পরে বাম হাত ও বাহুর কিছু অংশসহ ধুলেন। এরপর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর ডান পায়ের নালার কিছু অংশসহ ধুলেন, এরপর বাম পায়ের নালার কিছু অংশসহ একইভাবে ধুলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এভাবে ওযু করতে দেখেছি। তিনি আরো বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ের ওযুর স্থান জ্যোতির্ময় হবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা সক্ষম তারা যেন নিজ নিজ মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ের জ্যোতি বাড়িয়ে নেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... নুআয়ম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে ওযু করতে দেখলেন। ওযু করতে তিনি মুখমণ্ডল ও হাত দুটি এমনভাবে ধুলেন যে, প্রায় কাঁধ পর্যন্ত ধুয়ে ফেললেন। এরপর পা দুটি এমনভাবে ধুলেন যে, পায়ের নালার কিছু অংশ ধুয়ে ফেললেন। এভাবে ওযু করার পর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমার উম্মত ওযুর প্রভাবে কিয়ামতের দিন দীপ্তিময় মুখমণ্ডল ও হাত-পা নিয়ে উঠবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম তারা অধিক বিস্তৃত দীপ্তিসহ উঠতে সে যেন চেষ্টা করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার হাওযে কাওসার হবে আদান (ইয়ামানের বন্দর নগরী) থেকে আইলা (আরবের উত্তরাঞ্চলীয় শহর) এর যত দূরত্ব তার থেকেও বেশি দীর্ঘ। আর তা হবে বরফের থেকেও সাদা এবং দুধ মধু থেকেও মিষ্টি। আর তার পাত্রের সংখ্যা হবে তারকারাজির চেয়েও অধিক। আমি কিছু সংখ্যক লোককে তা থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকবো যেমনিভাবে লোকে তার হাওয থেকে অন্যের উট ফিরিয়ে দেয়। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের এমন চিহ্ন হবে যা অন্য কোন উম্মতের হবে না। ওয়ূর বিনিময়ে তোমাদের মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় ও হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায় তোমরা আমার কাছে আসবে"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব ও ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের কিছুলোক কিয়ামতের দিন আমার কাছে হাওযে কাওসারে উপস্থিত হবে। আর আমি তাদেরকে তা থেকে এমনভাবে বিতাড়িত করব, যেভাবে কোন ব্যক্তি তার উটের পাল থেকে অন্যের উটকে বিতাড়িত করে থাকে। (এ কথা শুনে) লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ আল্লাহর নবী! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের এমন এক চিহ্ন হবে যা অন্য কারোর হবে না। ওযুর প্রভাবে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ের দীপ্তি ও উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়বে। উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত অবস্থায় তোমরা আমার নিকট আসবে। আর তোমাদের একদল লোককে জোর করে আমার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তাই তারা আমার কাছে পৌছাতে পারবে না। তখন আমি বলব, হে আমার প্রভু! এরাতো আমার লোক। এর জবাবে একজন ফেরেশতা আমাকে বলবে, আপনি জানেন না, আপনার অবর্তমানে (ইনতিকালের পরে) তারা কি কি নতুন কাজ (বিদ'আত) করেছে! (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার হাওয (হাওযে কাওসার) আইলা থেকে আদান এর দূরত্ব পরিমাণ দীর্ঘ। সে মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তা থেকে কিছু মানুষকে এমনভাবে তাড়াবো যেমন কোন ব্যক্তি অপরিচিত উটকে তার পানির কূপ থেকে তাড়িয়ে দেয়। লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেদিন আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ওযুর প্রভাবে তোমাদের চেহারা ও হাত-পা থেকে উজ্জ্বল জ্যোতি ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় তোমরা আমার নিকট উপস্থিত হবে। এটা তোমাদের ছাড়া অন্য উম্মতের জন্যে হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, সুরায়জ ইবনু ইউনুস, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হজর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরস্থানে এসে বললেন, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে কবরবাসী মু’মিনগণ! ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে এসে মিলব। আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবা। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তারা আমাদের ভাই। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেন, "কেন, যদি কোন ব্যক্তি সাদা রঙের কপাল ও সাদা রঙের হাত-পা বিশিষ্ট ঘোড়া অনেকগুলো কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে সে কি তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারবে না? তারা বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, তারা (আমার উম্মত) সেদিন এমন অবস্থা আসবে যে, ওযুর ফলে তাদের মুখমণ্ডল, হাত-পা জ্যোতির্ময় হবে। আর হাওযের পাড়ে আমি হব তাদের অগ্রনায়ক। জেনে রাখ, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাওয থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে যেমনিভাবে বেওয়ারিশ উটকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি তাদেরকে ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, "এরা আপনার পরে (আপনার দীনকে) পরিবর্তন করে দিয়েছিল"। তখন আমি বলব, “দূর হও, দূর হও”। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গেলেন ও বললেন, মু'মিনদের বাসস্থানে (কবরস্থানে) তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে এসে শামিল হব। অবশিষ্টাংশ ইসমাঈল ইবনু জাফার এর বর্ণিত (পূর্বের) হাদীসের অনুরূপ। তবে মালিক এর হাদীসের এতটুকু বেশি আছে, অবশ্যই কিছু লোককে এ হাওয থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর পেছনে ছিলাম। (দেখলাম) তিনি সালাতের জন্যে ওযু করছেন। তিনি হাতের বগল পর্যন্ত ধুলেন। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরাইরাহ! এটা কেমন ধরনের ওযু? তিনি অবাক হয়ে বললেন, হে বানী ফররূখ যদি আমি জানতাম তোমরা এখানে আছো, তাহলে আমি এ ধরনের ওযু করতাম না। আমি আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যে স্থান পর্যন্ত ওযুর পানি পৌছবে সে স্থান পর্যন্ত মু'মিন ব্যক্তির উজ্জ্বলতা অথবা সৌন্দর্যও পৌছবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন কাজ জানাবো না, যা করলে আল্লাহ (বান্দার) পাপরাশি দূর করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন। তিনি বললেন অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদে আসার জন্যে বেশি পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর আর এক সালাতের জন্যে প্রতীক্ষা করা; আর এ কাজগুলোই হল সীমান্ত প্রহরা*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ..... মালিক ও শু'বাহ (রাযিঃ), উভয়েই আলা ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) থেকে একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহর হাদীসের ربَاطِ এর উল্লেখ নেই এবং মালিক এর হাদীসে فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ দু'বার উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আমুর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনদের জন্যে এবং যুহায়র এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, আমার উম্মতের জন্যে যদি কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল 'আলা (রহঃ) ..... মিকদাম এর পিতা শুরায়হ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ঢুকে সর্বপ্রথম কোন কাজটি করতেন? তিনি বললেন, সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাইরে থেকে এসে) বাড়িতে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম তখন মিসওয়াকের এক অংশ তার জিহবার উপর ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাহাজ্জুদের জন্যে উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা ঘষে মুখ পরিষ্কার করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে উঠতেন এরপর অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। এ হাদীসে তাহাজ্জুদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা ঘষে মুখ পরিষ্কার করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে রাত কাটালেন। (তিনি দেখলেন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠলেন এবং বাইরে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন এর পরে সূরাহ্ আ-লি ইমরানের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন "আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে ..... অতএব আপনি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন" পর্যন্ত পড়লেন– (সূরাহ্ আ-লি “ইমরান ৩ঃ ১৯০-১৯১)। অতঃপর ঘরে ফিরে এসে মিসওয়াক ও ওযু করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে শুয়ে পড়লেন। পুনরায় কিছুক্ষণ পরে উঠে বাইরে গেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। অতঃপর ফিরে এসে (আবার) মিসওয়াক করে ওযু করলেন; অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফিতরাহ্ (স্বভাব) পাঁচটি অথবা বলেছেন, পাঁচটি কাজ হলো ফিতরাহ এর অন্তর্ভুক্ত- খাতনা করা, ক্ষুর দ্বারা নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং গোফ কাটা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি কাজ ফিতরাহ বা (সুষ্ঠু স্বভাব) খাতন করা, নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করে ফেলা, গোফ ছাটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। গোফ ছাটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভীর নীচের লোম ছেচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যেন আমরা তা চল্লিশ দিনের অধিক দেরি না করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা গোফ কেটে ফেল (অর্থাৎ ঠোটের ওপর থেকে কেটে দেয়া) এবং দাড়ি ছেড়ে দাও অর্থাৎ বড় হতে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোঁফ ছোট করতে এবং দাড়ি বড় করে রাখতে আদেশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাহল ইবনু উসমান (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ কর-মোচ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রবি) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মোচ কেটে ফেলে এবং দাড়ি লম্বা করে অগ্নি পূজকদের বিরুদ্ধাচরণ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্তঃ মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া, নখ কাটা এবং আঙ্গুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভীর নীচের পশম মুন্ডন করা এবং পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। যাকারিয়্যা বলেন, হাদীসের রাবী মুসআব বলেন, দশমটির কথা আমি ভুলে গিয়েছি। সম্ভবতঃ সেটি হবে কুলি করা। এ হাদীসের বর্ণনায় কুতাইবাহ আরো একটি বাক্য বাড়ালেন যে, ওয়াকী বলেন, انْتِقَاصُ الْمَاءِ অর্থাৎ ইস্তিঞ্জা করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) একই সনদে মুসআব ইবনু শাইবাহ্ (রহঃ) এর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় এ কথাও আছে যে, তার পিতা বলেছেনঃ আমি দশম বস্তুটি ভুলে গেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তাকে বলা হল, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে সকল কাজই শিক্ষা দেন; এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ম-কানুনও! তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন পায়খানা ও প্রস্রাবের সময় কিবলামুখী হয়ে বসতে, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে, তিনটি টিলার কম দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা একবার আমাকে বলল, আমরা দেখছি তোমাদের সঙ্গী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে সব কাজই শিক্ষা দেয়, এমনকি প্রস্রাব পায়খানার নিয়ম নীতিও তোমাদেরকে শিক্ষা দেয়! (জবাবে) তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন ডান হাতে শৌচ কাজ করতে, (ইস্তিঞ্জার সময়) কিবলামুখী হয়ে বসতে এবং তিনি আমাদেরকে আরো নিষেধ করেছেন গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড় অথবা গোবর ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী বলেছেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমরা প্রস্রাব বা পায়খানায় গেলে কিবলার দিকে মুখ করে কিংবা কিবলাহ পেছনে রেখে বসো না বরং পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করে বস। আবূ আইয়ুব বলেছেন, এক সময় আমরা শাম দেশে (সিরিয়ায়) গেলে দেখলাম, তাদের পায়খানাগুলো কিবলামুখী করে নির্মিত। কাজেই আমরা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহর কাছে ইসতিগফার করতাম। জবাবে সুফইয়ান বললেন, হ্যাঁ (আমি তার নিকট থেকে এ হাদীসটি শুনেছি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু আল হাসান ইবনু খিরাশ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ প্রস্ৰাব-পায়খানা করতে বসলে কখনো যেন সে কিবলার দিকে মুখ করে সেদিকে পিছন দিয়েও না বসে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... ওয়াসি ইবনু হাব্বান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে সালাত আদায় রত ছিলাম। আর 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তখন কিবলার দিকে পিছন করে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। অতঃপর আমি সালাত শেষ করে তার দিকে ঘুরে বসলাম। তখন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কিছু লোকে বলে, “তুমি যখন বসবে তখন কিবলার দিকে মুখ করে বসো না এবং বাইতুল মুকাদ্দাস-এর দিকেও না।" অথচ একবার আমি একটি ঘরের ছাদের উপর উঠে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু'টি ইটের উপর বসা অবস্থায় দেখলাম। তিনি তখন ইস্তিঞ্জার জন্যে বাইতুল মুকাদ্দাস এর দিকে মুখ করে বসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আমার বোন হাফসার ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইস্তিঞ্জায় বসা অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি শাম (সিরিয়া) এর দিকে মুখ করে এবং কিবলার দিকে পিঠ করে বসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করার সময় তার পুরুষাঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে এবং পায়খানার পর ডান হাত দিয়ে যেন ইস্তিঞ্জা (ঢিলা ব্যবহার) না করে এবং (পানি পান করার সময়) পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় (শৌচাগারে) যায় তখন সে যেন ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে, ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করতে এবং ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু গোসলের পবিত্রতা অর্জন করতে, চুল আঁচড়ানোর সময় এবং জুতা পরার সময় ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সব কাজেই- জুতা পরায়, চুল আঁচড়ানোতে এবং পবিত্রতা অর্জনে ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা লা'নাতকারীর দুটি কাজ থেকে দূরে থাকো। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, লানাতের সে কাজ দুটি কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, মানুষের (যাতায়াতের) চলাফেরার রাস্তায় অথবা তাদের (বিশ্রাম নেয়ার) ছায়ায় প্রস্রাব পায়খানা করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগানে ঢুকলেন। একটি বদনাসহ একজন বালক তার পিছনে পিছনে গেল। সে ছিল আমাদের সকলের চেয়ে বয়ঃকনিষ্ঠ। সে বদনাটি একটি কুল গাছের কাছে রেখে দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন শেষ করে আমাদের কাছে এলেন। তিনি পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে ঢুকতেন তখন আমি এবং আমার মতই একটি বালক পানির লোটা ও একখানা ছোট বর্শা বয়ে নিয়ে যেতাম। অতঃপর তিনি পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নির্জনে দূরবতী ময়দানে ইস্তিঞ্জার জন্যে যেতেন তখন আমি তার কাছে পানি নিয়ে যেতাম। তিনি তা নিয়ে ইস্তিঞ্জা (শৌচকাজ) করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবূ কুরায়ব ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... হাম্মাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জারীর (রাযিঃ) একবার প্রস্রাব করলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। তাকে বলা হল, আপনি কি এ রকম করে থাকেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি প্রস্রাব করেছেন, তারপর ওযু করেছেন এবং তার উভয় মোযার উপর মাসাহ করেছেন। আ'মাশ বলেন, ইবরাহীম বলেছেন যে, এ হাদীসটি (হাদীস বিশারদ) লোকেরা আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছেন। কারণ জারীর (রাযিঃ) সূরাহ আল মায়িদাহ নাযিলের পর ইসলাম গ্রহণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার, মিনজাব ইবনু ইবনু হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আ'মাশ থেকে এ সনদেই আবূ মু'আবিয়ার হাদীসের অর্থের অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে ঈসা ও সুফইয়ানের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহর সঙ্গী-সাথীদের নিকট অত্র হাদীসটি পছন্দনীয় বলে মনে হত। কারণ জারীর (রহঃ) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সূরাহ আল মায়িদাহ অবতীর্ণ হবার পর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (কোন এক সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি কোন এক জাতির ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা এসে পৌছলেন। অতঃপর সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন, আমি তখন দূরে সরে গেলাম। তিনি বললেন, কাছে এসো। আমি তার নিকটে গেলাম এমনকি একেবারে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি ওযু করলেন। অতঃপর তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) প্রস্রাবের ব্যাপারে খুবই কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তিনি একটি বোতলে প্রস্রাব করতেন এবং বলতেন, বনী ইসরাঈলদের কারো চামড়ায় (পরিধেয় বস্ত্রে) যদি প্রস্রাব লাগত তখন কাচি দিয়ে সে স্থান কেটে ফেলত। অতঃপর হুযাইফাহ (রাযিঃ) এ কথা শুনে বললেন, আমি চাই যে, তোমাদের সঙ্গী (আবূ মূসা) এ ব্যাপারে এত কঠোরতা না করলেই ভাল হত। (কারণ) একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তিনি একটি দেয়ালের পিছনে জনৈক জাতির আবর্জনা ফেলার জায়গায় পৌছলেন। অতঃপর তোমরা যেমনভাবে দাঁড়াও, তেমনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। আমি তার থেকে দূরে সরে ছিলাম। তিনি আমার দিকে ইশারা করলেন অতঃপর আমি বললাম এবং একেবারে তার পিছনে এসে দাঁড়ালাম। তিনি তার প্রয়োজন শেষ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু আল মুহাজির (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত (প্রাকৃতিক প্রয়োজন) পূরণের জন্যে বের হলেন তারপর মুগীরাহ (রাযিঃ) একটি পানি ভর্তি বদনা নিয়ে তার অনুসরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত শেষ করলে তিনি তাকে পানি ঢেলে দিলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং উভয় মোজার ওপর মাসাহ করলেন। ইবনু রুমহ-এর বর্ণনায় حِينَ যখন শব্দের স্থলে যে পর্যন্ত حَتَّى শব্দের উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করলেন। তারপর উভয় মোজার ওপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ তিনি এক স্থানে থেকে হাজাত পূরণ করলেন। এরপর ফিরে এলেন এবং আমার কাছে রাখা একটি বদনা থেকে আমি তার দিকেও পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ওযু করলেন এরপর তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, মুগীরাহ বদনা (সঙ্গে) নাও। আমি বদনা (সঙ্গে) নিলাম। তারপর তার সাথে বেরিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটতে হাঁটতে আমার থেকে আড়ালে চলে গেলেন। তারপর তিনি তার হাজাত পূরণ করলেন ও ফিরে এলেন। তখন তার গায়ে ছিল একটি শামী জুব্বা যার আস্তিন ছিল চাপা (অপ্রশস্ত)। তিনি আস্তিন থেকে তার হাত বের করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু (অপ্রশস্ত হবার কারণে) তা আটকে গেল। অতঃপর তিনি জুব্বার নিচ থেকে তার হাত বের করলেন। আমি তার ওপর পানি ঢেলে দিলাম। তিনি সালাতের জন্যে যেমন ওযু করা হয়- তেমনি ওযু করলেন। তারপর তার উভয় মোজার ওপর মাসাহ করে সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) হতে রণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত পূরণের জন্যে বের হলেন। (হাজাত শেষে) তিনি যখন ফিরে এলেন তখন লোটা নিয়ে আমি তার কাছে গেলাম। আমি তাকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তার উভয় হাত ধুলেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর উভয় বাহু ধোয়ার ইচ্ছা করলেন; কিন্তু জুব্বায় (অপ্রশস্ততার কারণে) তা আটকে গেল। তিনি জুব্বার নিচ দিয়ে বের করে উভয় বাহু ধুয়ে ফেললেন এবং মাথা মাসাহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন এবং আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, “তোমার সাথে কি পানি আছে"? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। তারপর হাঁটতে হাঁটতে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন। তখন আমি বদনা থেকে তাকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তার মুখমণ্ডল ধুলেন তখন তার গায়ে ছিল একটি পশমের জুব্বা। তিনি তা থেকে হাত বের করতে না পেরে জুব্বার নীচ দিয়ে বের করলেন। তারপর তার উভয় বাহু ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করলেন। আমি তার উভয় মোজা খুলে দিতে চাইলাম। কিন্তু (বাধা দিয়ে) তিনি বললেন, ওভাবেই থাকতে দাও। কারণ আমি ও দু'টি পবিত্র অবস্থায় পায়ে দিয়েছি। (এই বলে) তিনি তার উভয় মোযার ওপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওযু করালেন। তিনি ওযু করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। মুগীরাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এ দু'টিকে পবিত্রাবস্থায় পরেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বায়ী (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছে রয়ে গেলেন। আমিও তার সাথে পিছনে পড়লাম। তিনি হজ্জত পূরণ করে বললেন, তোমার সাথে কি পানি আছে? আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে এলাম। তিনি উভয় হাতের কজি পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল ধুলেন তারপর উভয় বাহু বের করতে চাইলেন; কিন্তু জোব্বার আস্তিনে আটকে গেল। এতে জুব্বার নীচ থেকে তিনি হাত বের করলেন এবং জুব্বাকে কাঁধের উপর রেখে দিলেন। উভয় হাত তিনি ধুলেন, মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ি ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। তারপর তিনি সওয়ার হলেন এবং আমিও সওয়ার হলাম। আমরা যখন আমাদের জাতির কাছে পৌছলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল। 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) তাদের সালাতে ইমামতি করছিলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে এক রাকাআত পড়ে ফেলেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন টের পেয়ে তিনি পিছিয়ে আসছিলেন; কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (সেখানে থাকতে) ইশারা করলেন। এতে তিনি (আবদুর রহমান ইবনু আওফ) তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি যখন সালাম ফিরালেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপর আমাদের থেকে যে রাকাআত ছুটে গিয়েছিল তা পূর্ণ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসতাম ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় মোজার উপর এবং মাথার সম্মুখভাগ ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে তার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, আমি মুগীরাহ (রাযিঃ) এর পুত্র থেকে শুনেছি সে তার পিতা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ওযু করলেন। মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ী ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানজালী (রহঃ) ..... শুরায়হ ইবনু হানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে আসলাম, মোজার উপর মাসাহ করার মাসআলাহ জিজ্ঞেস করতে। তিনি বললেন, আবূ তালিবের পুত্র (‘আলী (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে এ মাসআলাহ জিজ্ঞেস কর। কারণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করত। অতঃপর আমরা তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকারীর জন্যে তিন দিন তিন রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং বাড়ীতে অবস্থানকারীদের জন্যে একদিন এক রাত। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) যখন তার উস্তায আমর এর উল্লেখ করতেন তখন তার প্রশংসা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক (রহঃ) ..... হাকাম (রহঃ) হতে একই সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... শুরায়হ ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আলীর কাছে যাও। কারণ এ ব্যাপারে সে আমার চেয়ে বেশি জানে। আমি আলী (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ উল্লেখ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ (রহঃ) সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ তার পিতা বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই ওযুর দ্বারা কয়েক ওয়াক্ত সালাত পড়েছেন এবং মোজার উপর মাসাহ করেছেন। তা দেখে উমার বললেন, আপনি আজ এমন কিছু করলেন যা কখনো করেননি। জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমার! আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী ও হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠবে তখন সে যেন তিনবার হাত না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢুকায়। কারণ সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আর ওয়াকী কর্তৃক হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ‘আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে অবিকল বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কেউ জাগ্রত হবে তখন সে তার হাত পাত্রে ঢুকাবার পূর্বে যেন তা তিনবার ধুয়ে নেয়। কারণ সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, নাসর ইবনু আলী, আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আবদুর রহমান ইবনু যায়দ এর আযাদকৃত গোলাম সাবিত থেকে বর্ণিত। প্রত্যেকের বর্ণনাতেই حَتَّى يَغْسِلَهَا "হাত না ধোয়া পর্যন্ত" রয়েছে। এসব বর্ণনাতে কেউ-ই তিনবারের কথা উল্লেখ করেননি। তবে আমরা ইতোপূর্বে জাবির ইবনু মুসাইয়্যিব (রহঃ), আবূ সালামাহ্ (রহঃ), আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ), আবূ সালিহ্ (রহঃ) ও আবূ রাযীন (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত যে হাদীস উল্লেখ করেছি, তাতে তারা সবাই তিনবারের কথা উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
‘আলী ইবনু হুজুর আস সা’দী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ দিবে তখন সে যেন পাত্রের বস্তু ফেলে দেয়। তারপর পাত্রটি সাতবার ধুয়ে ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনুল সাব্বাহ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণিত আছে; তবে পাত্রের বস্তু ফেলার কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্র থেকে যখন কুকুরে পান করবে তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন (সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হল) সাতবার তা ধুয়ে ফেলা। তবে প্রথমবার মাটি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ লাগিয়ে পান করবে, তখন (সে পাত্র পবিত্র করার নিয়ম হল), সাতবার ধুয়ে ফেলা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহ) ..... ইবনুল মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বললেন, তাদের কি হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো? তারপর শিকারী কুকুর এবং বকরীর (পাহারা দেয়ার) কুকুর পোষার অনুমতি দেন এবং বলেন যে, যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন সাতবার ধুয়ে ফেলবে এবং অষ্টমবার মাটি দিয়ে মেজে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) …. শুবাহ (রহঃ) হতে উক্ত সনদে অবিকল বর্ণিত আছে। তবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এর বর্ণনায় একটু অতিরিক্ত আছে। তা হল, "তিনি বকরী পাহারা দেয়ার, শিকার করার এবং চাষাবাদ করার কুকুর রাখার অনুমতি দিয়েছেন।" ইয়াহইয়া ছাড়া আর কারো বর্ণনায় চাষাবাদের কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ও কুতাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমা পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন জমা পানিতে প্রস্রাব করে তা দিয়ে যেন গোসল না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এমনটি করো না যে, চলন্ত নয় এমন জমা পানিতে প্রস্রাব করবে তারপর আবার তা থেকে গোসল করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন বিন সাঈদ আল আইলী, আবূ তাহির ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আব হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নাপাক অবস্থায় যেন জমা পানিতে গোসল না করে। তখন আবূ সায়িব জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ হুরাইরাহ! তাহলে সে কিভাবে গোসল করবে? জবাবে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ বিন সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) এক বেদুঈন এসে মসজিদের মধ্যে প্রস্রাব করতে শুরু করল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে বাধা দিতে দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থামো, তাকে প্রস্রাব করতে বাধা দিও না। আনাস বলেন, লোকটির প্রস্রাব করা শেষ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি আনিয়ে তার প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ বিন আল মুসান্না, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন এসে মসজিদের এক কোনে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে থাকলে লোকজন চিৎকার করে তাকে বিরত রাখার চেষ্টা করল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থাম, তাকে বাধা দিও না। তার প্রস্রাব করা শেষ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি আনতে আদেশ দিলেন এবং প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহারর বিন হারব (রহঃ) ..... ইসহাকের চাচা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে নববীতে বসে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ এক বেদুঈন এসে মসজিদের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে লাগল, তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ থামো থামো’ বলে তাকে প্রস্রাব করতে বাধা দিলেন। আনাস বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে বাধা দিও না, বরং তাকে ছেড়ে দাও লোকেরা তাকে ছেড়ে দিল, সে প্রস্রাব সেরে নিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কাছে ডেকে বললেনঃ এটা হলো মাসজিদ। এখানে প্রস্রাব করা কিংবা ময়লা আবর্জনা ফেলা যায় না। বরং এ হল আল্লাহর যিকর করা, সালাত আদায় করা এবং কুরআন পাঠ করার স্থান। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটা যেভাবে বলেছেন তাই আনাস বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে এক বালতি পানি আনে আদেশ করলেন। সে এক বালতি পানি আনলে তিনি তা প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শিশুদেরকে আনা হতো। তিনি তাদের জন্যে বারাকাত ও কল্যাণের দু'আ করতেন এবং 'তাহনীক (কিছু চিবিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দিতেন) করতেন। একদিন একটি শিশুকে আনা হল, (তিনি তাকে কোলে তুলে নিলেন) শিশুটি তার কোলে প্রস্রাব করে দিল, পরে তিনি পানি চেয়ে নিলেন এবং প্রস্রাবের উপর পানির ছিটা দিলেন, আর তা ধুলেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একবার একটি শিশুকে আনা হল। শিশুটি তার কোলে প্রস্রাব করে দিল। তারপর তিনি পানি আনিয়ে প্রস্রাবের উপর (ছিটা) ঢেলে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) হতে এ সূত্রে ইবনু নুমায়রের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... উম্মু কায়স বিনতু মিহসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার শিশু পুত্র সহ, যে তখনও খাদ্য খাওয়া শুরু করেনি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন। তার শিশু পুত্রটি তখনও কঠিন খাদ্য খেতে শুরু করেনি। তিনি শিশুটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে রেখে দিলেন। সে তার কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, তাতে তিনি পানি ছিটিয়ে দেয়া ছাড়া অধিক কিছুই করলেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ বকর ইবনু আবূ শইবাহ (রহঃ), আমুর আন নাকিদ (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) সকলেই ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) এর মাধ্যমে যুহরী (রহঃ) থেকে এ সনদে বর্ণনা করেন এবং তিনি বলেন, “অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পানি আনিয়ে তা ছিটিয়ে দিলেন"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসউদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু কায়স বিনতু মিহসান (রাযিঃ) যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বাই’আত গ্রহণকারিণী প্রথম মুজাহির মহিলাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন বানু আসাদ ইবনু খুযাইমাহ গোত্রের উক্কাশাহ ইবনু মিহসান (রাযিঃ) এর বোন। রাবী বলেন, তিনি (উম্মু কায়স) আমাকে জানান যে, তিনি একবার তার এক পুত্রকে যে তখনো খাবার গ্রহণের বয়সে পৌছেনি-নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, তিনি আমাকে জানান যে, তার সে পুত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনিয়ে তার কাপড়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা মোটেই ধুলেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আলকামাহ ও আল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর ঘরে মেহমান হল। আয়িশাহ (রাযিঃ) দেখলেন, ভোরে সে তার কাপড় ধৌত করছে (অর্থাৎ রাত্রে তার স্বপ্ন দোষ হয়েছিল) তা দেখে আয়িশাহ বললেনঃ মূলত তোমার পক্ষে এটুকুই যথেষ্ট হতো যে, তুমি বীর্য দেখে থাকলে কেবলমাত্র সে স্থানটি ধুয়ে নিতে। আর যদি তা না দেখে থাক, তাহলে (মনের সন্দেহ দূর করার জন্যে) জায়গাটিতে পানি ছিটিয়ে নিতে পারতে। কেননা, এমনও হয়েছে আমি নিজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য রগড়িয়ে ফেলেছি, আর তিনি সে কাপড় পরেই সালাত আদায় করেছেন*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উমর ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... 'আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বীর্য সম্পর্কে বলেন, আমি তা (বীর্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে নখ দিয়ে আঁচড়ে ফেলতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে বীর্য রগড়িয়ে ফেলা সম্পর্কে, আবূ মা’শার থেকে বর্ণিত খালিদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু উওয়াইনাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সুলাইমান ইবনু ইয়াসারকে জিজ্ঞেস করলাম যে, বীর্য কোন লোকের কাপড়ে লেগে গেলে সে শুধু সে বীর্য ধুয়ে ফেলবে না কাপড়টাই ধুয়ে ফেলবে? তিনি বললেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বীর্য ধুয়ে ফেলতেন তারপর সে কাপড়েই সালাতের জন্যে বেরিয়ে যেতেন আর আমি (পিছন থেকে) সে কাপড়ে ধোয়ার চিহ্ন দেখতে পেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ কুরায়ব ও ইবনু আবূ যায়িদাহ (রহঃ) এরা সকলেই আমর ইবনু মাইমূন থেকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু যায়িদার হাদীস ইবনু বিশর এর অনুরূপ যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিজে) বীর্য ধুলেন। আর ইবনুল মুবারক (রহঃ) ও ‘আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে ধুয়ে ফেলতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু জাওওয়াস আল হানাফী আবূ ‘আসিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শিহাব আল খাওলানী (রহঃ) বলেন, আমি একবার আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মেহমান ছিলাম। (রাতে) আমার কাপড়েই স্বপ্নদোষ হল। আমি সে কাপড় দুটি পানিতে ডুবিয়ে পরিষ্কার করছিলাম। আয়িশাহ (রাযিঃ) এর এক দাসী আমাকে এ রকম করতে দেখে তাকে গিয়ে জানাল। আয়িশাহ (রাযিঃ) লোক পাঠিয়ে আমাকে বললেন, তুমি তোমার কাপড় দুটিকে এ রকম করছ কেন? তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু শিহাব) বলেন, আমি বললাম, ঘুমন্ত ব্যক্তি তার স্বপ্নে যা দেখে আমি তাই দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কাপড় দুটিতে কিছু দেখতে পেয়েছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি যদি কিছু দেখতে, তবে তা ধুয়ে ফেলতে। আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য নখ দিয়ে আঁচড়ে ফেলতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন একটি মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো যদি কাপড়ে হারিযের রক্ত লেগে যায় তখন সে কী করবে? তিনি বললেনঃ রক্তের জায়গাটি খুব ভালভাবে রগড়াবে, তারপর ঘষে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলবে, তারপর ঐ কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ও আবূ তাহির (রহঃ) এর সকলেই হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ), আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল 'আলা (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি বললেন, (জেনে রাখ) এ দু' কবরবাসীকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে কোন কঠিন (কাজের) দরুন তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখোরী করত। আর অপরজন তার প্রস্রাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তিনি [ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)] বলেনঃ অতঃপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে দু’টুকরো করলেন। তারপর প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে গেড়ে দিলেন। আর বললেনঃ সম্ভাবনা আছে, আযাব কিছুটা হালকা করা হবে যতদিন পর্যন্ত এ দুটি না শুকিয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল আযদী (রহঃ) ..... সুলাইমান আল আ'মাশ হতে এ সূত্রে বর্ণিত আছে। তবে তিনি বলেন, "আর অপরজন প্রস্রাব হতে পবিত্রতা অর্জন করত না"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)