অল ইসলাম লাইব্রেরি

1 - ঈমান অধ্যায়

1

অত্র গ্রন্থের সংকলক ইমাম আবূল হুসায়ন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, আমরা এ কিতাব আল্লাহর সাহায্যে শুরু করছি এবং তাকেই যথেষ্ট মনে করছি। মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ ভিন্ন আমাদেরকে আর তাওফীকদাতা কেউ নেই। ১—(১/৮) আবূ খাইসামাহ যুহায়র বিন হারব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার থেকে বর্ণিত [1]। তিনি বলেন, বাসরার অধিবাসী মা'বাদ জুহাইনাহ প্রথম ব্যক্তি যে তাকদীর অস্বীকার করে। আমি ও হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান উভয়ে হজ্জ অথবা উমরাহ'র উদ্দেশে রওয়ানা করলাম। আমরা বললাম, যদি আমরা এ সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যে কোন সাহাবার সাক্ষাৎ পেয়ে যাই তাহলে ঐ সব লোক তাকদীর সম্বন্ধে যা কিছু বলে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করব। সৌভাগ্যক্রমে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর মসজিদে ঢুকার পথে পেয়ে গেলাম। আমি ও আমার সাখী তাকে এমনভাবে ঘিরে নিলাম যে, আমাদের একজন তার ডান এবং অপরজন তার বামে থাকলাম। আমি মনে করলাম আমার সাখী আমাকেই কথা বলার সুযোগ দেবে। (কারণ আমি ছিলাম বাকপটু)। আমি বললামঃ "হে আবূ আবদুর রহমান। আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে, তারা একদিকে কুরআন পাঠ করে অপরদিকে জ্ঞানের অন্বেষণও করে। ইয়াহইয়া তাদের কিছু গুণাবলীর কথাও উল্লেখ করলেন। তাদের ধারণা (বক্তব্য) হচ্ছে, তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রত্যেক কাজ অকস্মাৎ সংঘটিত হয়।" ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ “যখন তুমি এদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আর আমার সাথেও তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন, এদের কারো কাছে যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান-খয়রাত করে দেয় তবে আল্লাহ তার এ দান গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকদীরের উপর ঈমান না আনবে। অতঃপর তিনি বললেন, আমার পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাদের সামনে আবির্ভূত হলো। তার পরনের কাপড়-চোপড় ছিল ধবধবে সাদা এবং মাথার চুলগুলো ছিল মিশমিশে কালো। সফর করে আসার কোন চিহ্নও তার মধ্যে দেখা যায়নি। আমাদের কেউই তাকে চিনেও না। অবশেষে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে বসলো। সে তার হাটুদ্বয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে দিলো এবং দুই হাতের তালু তার (অথবা নিজের) উরুর উপর রাখলো এবং বলল, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে এই– তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ (মাবূদ) নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সওম পালন করবে এবং যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ্য হয় তখন বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। বর্ণনাকারী উমর (রাযিঃ) বলেন, আমরা তার কথা শুনে আশ্চর্যাম্বিত হলাম। কেননা সে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করছে আর (বিজ্ঞের ন্যায়) সমর্থন করছে। এরপর সে বললো, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার কিতাবসমূহ, তার প্রেরিত নবীগণ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখবে এবং তুমি তাকদীর ও এর ভালো ও মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে বললো, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইহসান এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো, যদি তাকে না দেখো তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করবে। এবার সে জিজ্ঞেস করলো। আমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বেশি কিছু জানে না। অতঃপর সে বলল, তাহলে আমাকে এর কিছু নির্দশন বলুন। তিনি বললেন, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে [2] এবং (এককালের) নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র, বকরীর রাখালদের বড় দালান-কোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় গৰ্ব-অহংকারে মত্ত দেখতে পাবে [3]। বর্ণনাকারী উমার (রাযিঃ) বলেন, এরপর লোকটি চলে গেলো। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমার! তুমি জান, এ প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জ্ঞাত আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি জিবরীল। তোমাদের কাছে তিনি তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১ম খণ্ড, ১; বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১ম খণ্ড)

2

মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মা'বাদ (আল জুহানী) তাকদীর সম্পর্কে তার মত ব্যক্ত করলে আমরা তা অস্বীকার করি। তিনি (ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার) বলেন, আমি ও হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ্জ পালন করতে গিয়েছিলাম। এরপর কাহমাস এর হাদীসের অনুরূপ সনদসহ হাদীসটি বর্ণিত আছে। তবে এ বর্ণনায় কিছু বেশ কম রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

3

মুহাম্মাদ বিন হাতিম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার এবং হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তার কাছে তাকদীর বিষয়ে ঐ সকল লোকেরা (মাবাদ ও তার অনুসারীরা) যা মন্তব্য করে তা উল্লেখ করি। তঃপর এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উমর (রাযিঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনাকারীরা যেরূপ বর্ণনা করেছেন 'আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ ঠিক অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এতে শব্দের কম বেশি আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

4

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। হাদীসটি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

5

আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ ও জুহায়র ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকেদের নিয়ে বসেছিলেন। এমন সময় একজন লোক এসে তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কি? তিনি বললেন, ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার (নাযিলকৃত) কিতাব, (আখিরাত) তার সাথে সাক্ষাৎ ও তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান রাখবে এবং পুনরুত্থান দিবসের উপরও ঈমান আনবে। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কি? তিনি বললেন, ইসলাম এই যে, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করতে থাকবে, কিন্তু তার সাথে কাউকে শারীক করবে না, ফরযকৃত সালাত কায়িম করবে, নির্ধারিত ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমযানের সওম পালন করবে। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কি? তিনি বললেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো; যদি তাকে না দেখো তা হলে তিনি তোমাকে দেখছেন (বলে অনুভব করবে)। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি কিছু জানেন না। তবে আমি তোমাকে তার (কিয়ামতের) কিছু নিদর্শন বলে দিচ্ছিঃ যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এটা তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি। আর যখন বস্ত্রহীন, জুতাহীন (ব্যক্তি) জনগণের নেতা হবে, এটাও তার একটি নিদর্শন। আর মেষ শাবক ও ছাগলের রাখালরা যখন সুউচ্চ দালানকোঠা নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে, এটাও তার একটি নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে যে পাঁচটি জিনিসের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ রাখেন, কিয়ামতের জ্ঞান তারই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নবর্ণিত আয়াত তিলাওয়াত করলেন, "আল্লাহর নিকটই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে কি আছে তা তিনিই জানেন। কোন প্রাণীই আগামীকাল কী উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে তাও জানে না। বস্তুতঃ আল্লাহই সব জানেন এবং তিনি সব বিষয়ই অবগত"- (সূরাহ লুকমান ৩১ঃ ৩৪)। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটিকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলেন। কিন্তু কাউকে পেলেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ বললেন, ইনি জিবরীল (আঃ), লোকেদের দীন শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

6

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হাইয়্যান আত তাইমী (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় "দাসী তার মনিব স্বামী জন্ম দিবে" কথাটির উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

7

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবাদের) বললেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর। কিন্তু লোকেরা তাকে প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করল। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাঁটুর কাছে বসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ “তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সওম পালন করবে।" সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কি? তিনি বললেন, ‘তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার কিতাব, আখিরাতে তার সাথে সাক্ষাৎ ও তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান রাখবে। মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রতি ঈমান রাখবে এবং তাকদীরের উপরও পূর্ণ ঈমান রাখবে। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কি? তিনি বললেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করো যেন তুমি তাকে দেখছো, আর যদি তুমি তাকে না দেখো, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করো"। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানে না। তবে আমি তার নিদর্শন ও লক্ষণসমূহ তোমাকে বলে দিচ্ছিঃ “যখন তুমি দেখবে কোন নারী তার মনিবকে প্রসব করবে এটা কিয়ামতের একটি নিদর্শন। যখন তুমি দেখবে, জুতাবিহীন, বস্ত্রহীন, বধির ও বোবা পৃথিবীতে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এটা একটি নিদর্শন। আর যখন তুমি দেখবে মেষ চালকরা সুউচ্চ দালান-কোঠা নিয়ে গর্ব করছে, এটাও কিয়ামতের নিদর্শন। যে পাঁচটি অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, কিয়ামতের জ্ঞান তারই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াত পাঠ করলেন, “অবশ্যই আল্লাহর নিকটই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। মাতৃগর্ভে কী আছে তা তিনিই জানেন। কোন জীবই আগামীকাল কী উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন স্থানে সে মরবে তাও জানেনা"- (সূরাহ লুকমান ৩১ঃ ৩৪) তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর লোকটি চলে গেলো। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের বললেন, তোমরা লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। অথচ অনেক খোজা-খুজি করা হলো কিন্তু তারা তাকে আর পেলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি জিবরীল (আঃ) তোমরা প্রশ্ন না করায় তিনি চাইলেন যেন তোমরা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

8

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জামীল ইবনু তারীফ ইবনু আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী (রহঃ) ..... তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, নাজদের বাসিন্দা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে আসলো। তার মাথার চুলগুলো ছিল এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত। আমরা তার গুন গুন আওয়াজ শুনছিলাম, কিন্তু সে কী বলছিল তা বুঝা যাচ্ছিলো না। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতি নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বললো, এ ছাড়া আমার কোন কিছু (সালাত) আছে কি? তিনি বললেন, না তবে নফল আদায় করতে পারো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে যাকাত প্রদানের কথাও বললেন। সে জিজ্ঞেস করলো, এ ছাড়া আমার উপর আরো কোন কর্তব্য আছে কি? তিনি বললেন, না। তবে নফল দান-সদাকাহ করতে পারো[1]। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল, “আমি এর বেশিও করবো না, আর কমও করবো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটি যদি তার কথার সত্যতা প্রমাণ করতে পারে তাহলে সফলকাম হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

9

তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইমাম মালিকের বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ হাদীসের শেষাংশে বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে সফলকাম হয়েছে তার বাবার কসম! যদি সে সত্য কথা বলে থাকে"। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে, যদি সে সত্য কথা বলে থাকে[1]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

10

আমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়ব আন নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আমরা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত হয়েছিলাম তাই আমরা চাইতাম যে, গ্রাম থেকে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসে তাকে প্রশ্ন করুক আর আমরা তা শুনি। তারপর একদিন গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দূত এসে বলেছে, আপনি দাবী করেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে সত্য বলেছে। আগন্তুক বলল, আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, এসব পর্বতমালা কে স্থাপন করেছেন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, কসম সে সত্তার যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এসব পর্বতমালা স্থাপন করেছেন। আল্লাহই, আপনাকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের উপর আমাদের মালের যাকাত দেয়া ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ঠিকই বলেছে। আগন্তুক বলল, যিনি আপনাকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, তার কসম, আল্লাহই কি আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের মধ্যে যে বাইতুল্লায় যেতে সক্ষম তার উপর হজ্জ ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সত্যি বলেছে। রাবী বলেন যে, তারপর আগন্তুক চলে যেতে যেতে বলল, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তার কসম, আমি এর অতিরিক্তও করবো না এবং এর কমও করবো না। এ কথা শুনেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে[1]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

11

আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আল আব্‌দী ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন প্রশ্ন করতে কুরআন মজীদে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তারপর তিনি হাদীসটির বাকী অংশ (উল্লিখিত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

12

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) বলেন যে, কোন এক সফরে এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মুখে এসে তার উটনীর লাগাম ধরে ফেললো। এ সময় তিনি সফরে ছিলেন। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! অথবা হে মুহাম্মাদ! আমাকে এমন কিছু কাজের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং আগুন (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখবে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেমে গেলেন। তিনি সাহাবাদের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয়ই তাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে, অথবা তিনি বললেনঃ তাকে হিদায়াত দান করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? রাবী বলেন, লোকটি তার কথার পুনরাবৃত্তি করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করো না, সালাত কায়িম কর, যাকাত আদায় কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, এবার উটনীটি ছেড়ে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২ ইসলামিক সেন্টারঃ)

13

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনু বিশ্বর (রহঃ) ..... আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

14

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামিমী (রহঃ) ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাযিঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে হাযির হয়ে আরয করলো, আমাকে এমন একটি 'আমলের কথা বলে দিন, যে আমল আমাকে জান্নাতের কাছে পৌঁছে দিবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, তার সাথে কোন কিছু শারীক করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। সে ব্যক্তি চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে যে 'আমলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা দৃঢ়তার সাথে পালন করলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আবূ শইবার বর্ণনায় إِنْ تَمَسَّكَ بِمَا এর স্থলে إِنْ تَمَسَّكَ بِهِ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

15

আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজের নির্দেশ দিন, যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কাউকে অংশীদার করো না, ফরয সালাত কায়িম করো, নির্ধারিত যাকাত আদায় করো এবং রমাযানের সওম পালন করো। সে লোক বললোঃ সে সত্তার শপথ। যার হাতে আমার প্রাণ, আমি কখনো এর মধ্যে বৃদ্ধিও করবো না, আর তা থেকে কমাবও না। লোকটি যখন চলে গেলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যদি কেউ কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে নেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

16

আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, নু'মান ইবনু কাওকাল (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন, যদি আমি হারামকে জেনে বর্জন করি এবং হালালকে হালাল বলে গ্রহণ করি তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

17

হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও কাসিন ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নুমান ইবনু কাওকাল (রাযিঃ) বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! বাকী অংশ উপরোক্ত বর্ণনার অনুরূপ। তবে তিনি তার বর্ণনায় "তাতে কোন কিছু বর্ধিত করব না" কথাটি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

18

সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে আরয করলেন, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, রমযানের সিয়াম পালন করি, হালালকে হালাল জানি এবং হারামকে হারাম জানি এবং যদি এর অতিরিক্ত কিছু না করি, তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উপর কিছুমাত্র বাড়াবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

19

–(১৯/১৬) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র আল হামদানী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত- আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সিয়াম পালন করা এবং হজ্জ করা। এক ব্যক্তি (এ ক্রম পাঁচটিতে) বলল, হজ্জ করা ও রমাযানের সিয়াম পালন করা। রাবী বললেন, না রমাযানের সিয়াম পালন করা ও হজ্জ করা এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

20

সাহল ইবনু উসমান আল আসকারী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তাকে ছাড়া আর সব কিছু অস্বীকার করা (অর্থাৎ ইবাদাতের মালিক তিনি একাই), সালাত করিম করা, যাকাত আদায় করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ও রমাযানের সওম পালন করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

21

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ও রমাযানের সিয়াম পালন করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

22

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলো, আপনি জিহাদে অংশগ্রহণ করছেন না কেন?[1] তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রমাযানের সওম পালন করা ও বাইতুল্লাহর হজ্জ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

23

খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল কায়স-এর (গোত্রের) একটি ওয়াফদ [1] (প্রতিনিধি দল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রাবী'আহ গোত্রের লোক। আমাদের এবং আপনার মধ্যে কাফির মুযার গোত্র বিদ্যমান। আমরা শাহরুল হারাম ব্যতীত আপনার নিকট নিরাপদে পৌছাতে পারি না। কাজে আপনি আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিন আমরা যে সবের উপর আমল করতে পারি এবং আমাদের অন্যান্যদের তৎপ্রতি আহবান জানাতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের আমি চারটি বিষয় পালনের আদেশ করছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। তারপর তাদের এ সম্বন্ধে বর্ণনা দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং তোমাদের গনীমাতলদ্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি দুব্বা, হানতাম, নাকীর, মুকাইয়্যার থেকে [2]। খালাফ তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেছেন, "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অঙ্গুলি (সংকেতসূচক) বন্ধ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

24

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জামরাহ্ (নাসর ইবনু ইমরান) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সম্মুখে তার ও ভিনদেশী লোকেদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদা জনৈক মহিলা এসে তাকে মাটির কলসীর মধ্যে নবীয [1] প্রস্তুত করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেন, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কাদের এ প্রতিনিধি দল? অথবা তিনি বললেন, কোন গোত্রের লোক? তারা বললো, রাবী'আহ গোত্রের। তিনি বললেন, ঐ গোত্রের অথবা বললেন, প্রতিনিধি দলের আগমন শুভ হোক। তাদের লজ্জিত হওয়ার ও অপমানিত হওয়ারও কোন কারণ নেই (তারা ইতোপূর্বে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এরপর তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আপনার কাছে এসেছি। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুযারা গোত্র বাস করে। তাই আমরা মাহে হারাম (সম্মানিত মাস) ছাড়া অন্য সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। আপনি আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে কোন কাজের কথা বলে দিন যেন আমরা তা আমাদের পশ্চাতের অন্যান্য লোকদের জানিয়ে দিতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের চারটি বিষয় পালনের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন। এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা জান এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তারা আরয করলো, আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিষয়ে ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল আর তোমরা সালাত করিম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং গনীমাতলদ্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ দান করবে। তিনি তাদের চারটি বিষয়ে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তা হচ্ছে দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত। চতুর্থটি সম্বন্ধে শু'বাহ বলেন, এরপর রাবী কখনো নাকীর কখনো বা মুকাইয়্যার শব্দ উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এসব বিধান হিফাযাত করবে এবং যারা আসেনি তাদের তা জানিয়ে দিবে। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াতে مَنْ وَرَاءَكُمْ (যারা আসেনি) কথাটি রয়েছে কিন্তু الْمُقَيَّرِ শব্দটি নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

25

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে শু'বাহর বর্ণনার অনুরূপ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের দুব্বা, নাকীর, হানতাম ও মুযাফফাত নামক নবীয তৈরির পাত্রের ব্যবহার নিষেধ করছি। ইবনু মুআয (রাযিঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেন যে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়স গোত্রের আশাজ (ক্ষত বিশিষ্ট দলপতিকে) বললেন, তোমাদের দু'টো বিশেষ গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন – ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

26

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব(রহঃ) ... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আগত আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎকারী এক ব্যক্তি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেছেন, কাতাদাহ আবূ নাযরার নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল কায়স গোত্রের ক'জন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর নবী! আমরা রাবী'আহ গোত্রের লোক। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুযার গোত্রের অবস্থান। তাই আমরা মাহে হারাম ব্যতীত অন্য কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদেরকে এমন কিছু কাজের নির্দেশ দিন, যা করার জন্য আমরা আমাদের পশ্চাতের অন্যান্য লোকদেরকে হুকুম করবো এবং আমরা নিজেরাও তা বাস্তবায়ন করবো যাতে এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের হুকুম করবো, আর চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করবো। তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করো না, সালাত কায়িম করো, যাকাত দাও এবং রমযানের সওম পালন কর। আর গনীমাতের সম্পদ থেকে এক পঞ্চমাংশ দান কর এবং তোমাদেরকে চারটি জিনিস (ব্যবহারে) নিষেধ করবোঃ কদুর শুকনো খোল, সবুজ রং লাগানো কলসী, আলকাতরা লাগানো হাড়ি-পাতিল ও কাষ্ঠ পাত্র ব্যবহার করতে। তারা বললো, হে আল্লাহর নবী! নাকীর (কাষ্ঠ পাত্র) সম্বন্ধে আপনি কতটুকু অবগত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। খেজুর গাছের কাণ্ড যা তোমরা খোদাই করে নাও, পরে এর মধ্যে খেজুরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করো, (অর্থাৎ খেজুরের মধ্যে পানি ঢেলে তা দ্বারা নবীয' অথবা "মদ প্রস্তুত করে থাকে)। সাঈদ বলেন, অথবা তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, খেজুরের টুকরা নিক্ষেপ করো, পরে তন্মধ্যে কিছু পানি ঢেলে দাও। অবশেষে যখন তার ফেনা থেমে যায় (অর্থাৎ তা মদে পরিণত হয়) তখন তোমরা পান করো। ফলে তোমাদের কেউ অথবা তাদের কেউ মদের নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আপন চাচাত ভাইকে তরবারি দিয়ে হত্যা করে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, উক্ত প্রতিনিধি দলের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার শরীরের মধ্যে ছিল ক্ষতের চিহ্ন। সে বলল, লজ্জাবশতঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমার ক্ষত চিহ্নটি লুকিয়ে রাখলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তা হলে আমরা পানীয় বস্তু কিসে পান করবো? তিনি বললেন, চামড়ার থলি বা মশকের মধ্যে যার মুখ রশি দ্বারা বেঁধে দেয়া হয়। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এলাকায় ইদুরের উপদ্রব খুব বেশি, ফলে চামড়ার থলি একটিও নিরাপদে থাকে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে, যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে, যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল কায়স গোত্রের ক্ষত চিহ্নওয়ালা লোকটির উদ্দেশে বললেন, অবশ্য তোমার মধ্যে এমন দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়- সহিষ্ণুতা ও ধীরতা-নম্রতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

27

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আবদুল কায়স এর) প্রতিনিধি দলের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের একাধিক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন। আবূ নাযরাহ আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিগণ যখন রাসূলুল্লাহ -এর কাছে আসলো। হাদীসটির বাকী অংশ ইবনু উলাইয়্যার বর্ণনার অনুরূপ। তবে তাতে উল্লেখ আছে যে, তোমরা এক (কাষ্ঠ পাত্রের) মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খেজুর, খুরমা এবং পানি ঢেলে দিয়ে থাকো।تقذفون এর পরিবর্তে تَذِيفُونَ রয়েছে এবং সাঈদের 'খেজুর থেকে' কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

28

মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার আল বাসরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল, তখন বললো, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, অথবা আল্লাহ আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। পানপাত্রের মধ্যে আমাদের জন্য কোন ধরনের পাত্র উপযোগী? তিনি বললেন, 'নাকীরের' পানীয় দ্রব্য পান করো না। এবার তারা বললো, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার জন্য আমাদের কুরবান করুন। 'নাকীর' কী, তা আপনি কি জানেন? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। নাকীর এক প্রকার পাত্র যা খেজুর গাছ খোদাই করে তৈরি করা হয়। তিনি আরো বললেন, 'দুববা বা হানতাম’ এর মধ্যেও পানীয় পান করতে পারবে না, তবে তোমাদের উচিত যে পাত্রের মুখ রশি দ্বারা বাধা যায় (অর্থাৎ চামড়ার মশক বা থলি) তা ব্যবহার করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

29

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (ইয়ামানের প্রশাসক নিযুক্ত করে) পাঠালেন। তিনি বললেন, তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছে যারা কিতাবধারী। সুতরাং তাদেরকে আহবান জানাবে এ সাক্ষ্য দেয়ার জন্য, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, প্রত্যহ দিন ও রাতে আল্লাহ তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা তোমার এ কথাও মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন- যা তাদের ধনীদের থেকে আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এ কথাও মেনে নেয়, তবে তাদের ভালো ভালো সম্পদগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো। আর মাযলুমের অভিশাপকে ভয় কর, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন আড়াল নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

30

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ ..... বাকী অংশ ওয়াকীর বর্ণনার অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

31

উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসতাম আল আইশী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) কে ইয়ামানের প্রশাসক করে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। তাদের প্রথম যে দা'ওয়াত দিবে তা হলো, মহান মহিমাময় আল্লাহর ইবাদাতের দিকে আহবান করা। যখন তারা আল্লাহকে চিনে নিবে তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তারা তা করলে তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন। তাদের সম্পদ ধনীদের থেকে আদায় করা হবে এবং তা তাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলে তুমি তাদের থেকে তা আদায় করবে কিন্তু তাদের উত্তম মালগুলো গ্রহণ করা থেকে সাবধান থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

32

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাযিঃ) খলীফা নিযুক্ত হলেন। এ সময় আরবের একদল লোক (যাকাত অস্বীকার করে) মুরতাদ হয়ে গেল। [আবূ বাকর (রাযিঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন] 'উমার (রাযিঃ) বললেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন?[1] অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ "আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) আর যে ব্যক্তি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বললো, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করলো। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে)। তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো [2] কেননা যাকাত হচ্ছে মালের (উপর বঞ্চিতের) অধিকার। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একখানা রশি প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা (যাকাত বাবদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রদান করতো, তবে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। এবার উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই (আবূ বকরের সিদ্ধান্তই) সঠিক এবং যথার্থ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

33

আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই- এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। সুতরাং যে কেউ "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই স্বীকার করবে সে আমা হতে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

34

আহমাদ ইবনু আবদ আয যাববী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথার সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে- তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

35

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ), আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। বাকী অংশ আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে ইবনুল মুসাইয়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী’আত সম্মত কারণ ছাড়া। তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ "আপনি তো একজন উপদেশদাতা। আপনি এদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন"- (সূরাহ আল গা-শিয়াহ্ ৮৮ঃ ২১-২২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

36

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ মালিক ইবনু আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

37

সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ মালিক তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ কথা স্বীকার করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ? আর তার হিসাব নিকাশ আল্লাহর নিকট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

38

–(৩৮/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ মালিক (রহঃ) এর সূত্রে তার পিতা তারিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে এক বলে স্বীকার করে ..... অতঃপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

39

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন এবং সেখানে তিনি আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়্যাহ্ ইবনু মুগীরাহকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে আমার চাচা! আপনি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' কথাটি বলুন। এর দ্বারাই আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। তখন আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যাহ বলে ওঠলো, হে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাত (দীন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? (অর্থাৎ সে দীন পরিত্যাগ করবে?) এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার তার কথাটি পেশ করতে থাকলেন। আবূ তালিব শেষ পর্যন্ত যে কথা বললেন তা হলো, তিনি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরই অবিচল থাকবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হয় আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবো। এ প্রসঙ্গে সুমহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, “নবী এবং ঈমানদারদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা শোভা পায় না, যদিও তারা (মুশরিকরা) নিকটাত্মীয় হয়। কেননা তারা যে জাহান্নামী হবে এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে* (সূরাহ আত তওবা ৯ঃ ১১৩)। আবূ তালিবের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, "হে নবী নিশ্চয়ই হিদায়াত আপনার হাতে নয় যে, যাকে আপনি চাইবেন হিদায়াত করতে পারবেন। বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন, আর কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে তিনিই বেশি জানেন** (সূরাহ আল কাসাস ২৮ঃ ৫৬)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

40

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরীর সূত্রে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সালিহ্-এর হাদীসটিفَأَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ এ বাক্যেই সমাপ্ত হয়েছে এবং তিনি আয়াত দুটির উল্লেখ করেননি। তিনি তার সূত্রে আরও উল্লেখ করেন يَعُودَانِ تِلْكَ الْمَقَالَةِ “তারা উভয়ই এ বক্তব্যটি পুনরাবৃত্তি করেন।" মামার বর্ণিত হাদীসে هَذِهِ الْمَقَالَةِ এর স্থলে الْكَلِمَةِ فَلَمْ يَزَالاَ بِهِ "তারা উভয়েই তার নিকট এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকে" কথার বর্ণনা রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

41

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় তাকে বলেছিলেন। আপনি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলুন, কিয়ামতের দিন আমি আপনার জন্য এর সাক্ষ্য দিব। কিন্তু তিনি তা বলতে অস্বীকার করলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ অর্থাৎ "আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না"- (সুরাহ আল-কাসাস ২৮ঃ ৫৬)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

42

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার চাচাকে বললেন, আপনি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলুন, কিয়ামত দিবসে আপনার পক্ষে আমি এর সাক্ষ্য দিবো। তিনি বললেন, আবূ তালিব ভীত হয়ে এ কথা বলেছেন, কুরায়শদের থেকে এরূপ দোষারোপের যদি আশংকা না থাকত তাহলে আমি তা পাঠ করে তোমার চোখ জুড়াতাম। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “তুমি যাকে চাইবে হিদায়াত করতে পারবে না, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন হিদায়াত করেন"- (সূরাহ্ আল-কাসাস ২৮ঃ ৫৬) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ , ৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

43

44

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উসমান (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্তরে এ বিশ্বাস রেখে মৃত্যুবরণ করলো যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।* মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর আল মুকাদ্দামী (রহঃ) ..... উসমান (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনুরূপ বলতে শুনেছি ..... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩-৪৪; ইসলামিক সেন্টারঃ)

45

আবূ বাকর ইবনু নাযর ইবনু আবূ নাযর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে একটি সফরে ছিলাম। এক পর্যায়ে দলের খাদ্যসামগ্ৰী শেষ হয়ে গেল। পরিশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কিছু সংখ্যক উট যাবাহ করার মনস্থ করলেন। রাবী বলেন যে, এতে উমর (রাযিঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি যদি সকলের খাদ্য সামগ্রী একত্রিত করে আল্লাহর নিকট দু'আ করতেন তবে উত্তম হতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাই করলেন। যার নিকট গম ছিল সে গম নিয়ে এবং যার নিকট খেজুর ছিল তা নিয়ে উপস্থিত হলো। (তালহাহ ইবনু মুসাররিফ বলেন) মুজাহিদ আরো বর্ণনা করেন যে, যার নিকট খেজুরের আঁটি ছিল সে আটি নিয়েই উপস্থিত হলো। আমি (তালহাহ) জিজ্ঞেস করলাম আঁটি দিয়ে কি করতেন? তিনি বললেন, সেটা চুষে পানি পান করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংগৃহীত খাদ্যসামগ্রীর উপর দু'আ করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাদের পাত্রসমূহ খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে নিল। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে এ বিষয় দু’টোর প্রতি নিঃসন্দেহে বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

46

সাহল ইবনু উসমান ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ কিংবা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় লোকদের খুবই খাদ্যাভাব দেখা দেয় তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যাবাহ করে তার গোশত খাই এবং তার চর্বি ব্যবহার করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাবাহ করতে পার। রাবী বলেন, এমন সময় উমার (রাযিঃ) আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি এমন করা হয় তাহলে বাহন কমে যাবে। বরং আপনি লোকেদেরকে তাদের অবশিষ্ট খাদ্য নিয়ে আসতে বলুন, তাতে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে বারাকাতের দু’আ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বারাকাত দান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ ঠিক আছে। তিনি একটি চাঁদর আনতে বললেন এবং তা বিছালেন, এরপর সকলের অবশিষ্ট খাদ্য চেয়ে পাঠালেন। রাবী বলেন, তখন কেউ এক মুঠো গম নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ বা এক টুকরো রুটি নিয়ে আসলো, এভাবে কিছু পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রী চাঁদরে জমা হলো। রাসূলুল্লাহ বারাকাতের দু’আ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ পাত্রগুলো খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে নাও। সকলেই আপন আপন পাত্র ভরে নিল, এমনকি এ বাহিনীর কোন পাত্রই আর অপূর্ণ থাকল না। এরপর সকলেই পরিতৃপ্তি সহকারে আহার করলেন। কিছু রয়েও গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে এ কথা দু’টোর উপর ঈমান রেখে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

47

দাউদ ইবনু রুশায়দ ..... উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক এবং মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল, আর নিশ্চয় ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা, তার বান্দীর (মারইয়ামের) পুত্র ও তার সে কালিমা- যা তিনি মারইয়ামকে পৌছিয়েছেন এবং তার পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি রূহ মাত্র, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে প্রবেশ করাতে চাইবেন, প্রবেশ করাবেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

48

আহমাদ ইবনু ইবরাহীম ..... উমায়র ইবনু হানী (রাযিঃ) থেকে এ সনদে উপরের বর্ণনার অনুরূপই বর্ণিত হয়েছে, তবে আরো রয়েছে, তার 'আমল যা-ই হোক না কেন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কিন্তু 'জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়েই সে চাইবে' এ বাক্যটি এ বর্ণনায় উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

49

কুতাইবাহ বিন সাঈদ (রহঃ) ..... সুনাবিহী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন। সুনাবিহী বলেন, উবাদাহ ইবনু সীমিত (রাযিঃ) যখন মৃত্যু শয্যায় তখন আমি তার নিকট গেলাম, (তাকে দেখে) আমি কেঁদে ফেললাম। এ সময় তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, থামো, কাদছো কেন? আল্লাহর কসম! আমাকে যদি সাক্ষী বানানো হয়, আমি তোমার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিবো, আর যদি সুপারিশ করার অধিকারী হই তবে তোমার জন্য সুপারিশ করবো। আর যদি তোমার কোন উপকার করতে পারি, নিশ্চয় সেটাও করবো। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এ যাবৎ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যে কোন হাদীস শুনেছি, যার মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে, তা আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে বর্ণনা করেছি। কিন্তু একটি মাত্র হাদীস (যা এতদিন আমি তোমাদেরকে বলিনি) আজ এখনই তা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করবো। কেননা বর্তমানে আমি মৃত্যুর বেষ্টনীতে আবদ্ধ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেয় যে, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

50

হাদ্দাব ইবনু খালিদ আল আযদী (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাহনের পিছনে বসা ছিলাম। আমার ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাঝে হাওদার কাঠের টুকরা ব্যতীত কোন ব্যবধান ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে মুআয ইবনু জাবাল! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। অতঃপর তিনি কিছু দূর অগ্রসর হয়ে পুনরায় বললেন, 'হে মুআয ইবনু জাবাল! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। তিনি বললেন, তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক রয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসূলই তা উত্তম জানেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা তার ইবাদাত করবে এবং তার সঙ্গে কোন কিছুকে শারীক করবে না। অতঃপর কিছু দূর চললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার বললেন, হে মু'আয ইবনু জাবাল! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি জান, এগুলো করলে আল্লাহর কাছে বান্দার কী হক আছে? আমি বললাম, আল্লাহ তার রাসূলই ভালো জানেন। নবী বললেন, "আল্লাহ তা'আলা তাকে শাস্তি দিবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

51

আবূ বাকর ইবনু আবূ শইবাহ (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গাধা উফায়র এর পিঠে তার পিছনে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মুআয! তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভলো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তার সঙ্গে কোন কিছু শারীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো, যে তার সঙ্গে শারীক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দিবেন না। মু'আয বললেন, ‘আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদের এ সংবাদ জানিয়ে দেব না? তিনি বললেন, না; লোকেদের এ সংবাদ দিও না, তাহলে তারা এর উপর ভরসা করে থাকবে। (অর্থাৎ, ‘আমল করা ছেড়ে দিবে) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১ ইসলামিক সেন্টারঃ)

52

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে মুআয! তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক? তিনি বললেন, 'আল্লাহ তার রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা হল, আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তার সঙ্গে অন্য কিছুকে শারীক না করা। তিনি বললেন, ‘তুমি কি জান, তা করলে আল্লাহর নিকট বান্দার হক কী? মুআয বললেন, "আল্লাহ তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তাদের তিনি শাস্তি দিবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

53

কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা ..... মুআয (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম। তারপর তিনি বললেন, তুমি কি জান মানুষের উপর আল্লাহর হক কী? ..... বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

54

–(৫২/৩১) যুহারর ইবনু হারব ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, একদা আমরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামা'আতে আবূ বাকর এবং উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝ থেকে ওঠে গেলেন। দীর্ঘক্ষণ অতিক্রান্তের পর আমরা শঙ্কিত হলাম যে, তিনি কোথাও কোন বিপদের সম্মুখীন কিনা। তাই আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আর আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম। আমি বানু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের নিকট এসে উপনীত হলাম। আর বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশের কোন পথ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে জাদওয়াল’ বলা হয়। অতঃপর আমি নিজেকে শেয়ালের ন্যায় সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপনীত হলাম। তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ নাকি? আমি বললাম, জী-হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? আমি বললাম, আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে আসলেন, আর দীর্ঘক্ষণ পরও ফিরে না যাওয়ায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা আমাদের এ আশঙ্কা হল। আর আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়ি। আমি এ দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সঙ্কুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যান্যরা আমার পেছনে আছে। তিনি তার জুতা জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমার জুতা জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে বলোঃ "যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, সর্বপ্রথম উমার (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! জুতা জোড়া কার? আমি বললাম, আল্লাহর রসূলের। তিনি আমাকে এ জুতা জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, "যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিবে" তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম। আর তিনি বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! তুমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর) নিকট ফিরে চলো। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কাদো কাদো অবস্থায় ফিরে আসলাম। আমার পেছনে পেছনে উমর (রাযিঃ) সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, আমার সাথে উমারের সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং আপনি আমাকে যে সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন তাকে এটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পিছন দিকে পড়ে যাই। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার নিকট) ফিরে আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমার! কোন বস্তু তোমাকে এমন কাজ করতে উদ্যত করলো? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা জোড়াসহ আবূ হুরাইরাহকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে বলো, যে ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে এ সাক্ষ্য দিবে যে, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমার (রাযিঃ) বললেন, এরূপ করবেন না, কেননা আমার আশংকা হচ্ছে এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে, কাজেই লোকদেরকে আমল করার সুযোগ দিন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাদেরকে ছেড়ে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

55

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) একই বাহনের পৃষ্ঠে উপবিষ্ট ছিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে মুআয ইবনু জাবাল! মুআয (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি উপস্থিত, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় বললেন, হে মুআয ইবনু জাবাল! মুআয (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি উপস্থিত, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় বললেন, হে মুআয ইবনু জাবাল! মুআয (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাযির, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদি কোন বান্দা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ। তার বান্দা ও রাসূল- তবে আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। মু'আয (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ দিব? যাতে তারা সুসংবাদ পায়। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে লোকেরা এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। পরে সত্য কথা গোপন রাখার গুনাহের ভয়ে মুআয (রাযিঃ) মৃত্যুর সময় এ খবরটি শুনিয়ে গেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

56

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমাকে মাহমুদ ইবনু রাবী' ইতবান ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, মাহমূদ বলেন, আমি মদীনায় আসলাম এবং ইতবানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনার সূত্রে একটি হাদীস আমার কাছে পৌছেছে (সুতরাং ঘটনাটি আমাকে সবিস্তারে বলুন)। তিনি (ইতবান) বললেন, আমার দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়ায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ মর্মে সংবাদ পাঠালাম যে, আমার ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন এবং আমি সে জায়গাটি সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিবো। তিনি (ইতবান) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তার সাথে তার কতিপয় সাহাবাও আসলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করেই সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর তার সাহাবাগণ আপোষে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। তাদের আলোচনার এক পর্যায়ে এসে তারা মালিক ইবনু দুখশুম* সম্পর্কে মস্ত বড় আপত্তিকর বদদু'আ করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বদদু'আ করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ বাসনাও প্রকাশ করলেন যে, যদি তার উপর আকস্মিক কোন দুর্ঘটনা নেমে আসতো তাহলে খুবই উত্তম হতো। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত সমাপ্ত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলে, সে (মালিক) কি এ কথার সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল"? লোকেরা বলল, সে মুখে বলে ঠিকই কিন্তু তার অন্তরে এর প্রতি কোন উপাস্য নেই। তিনি বললেন, "যে কেউ এ সাক্ষ্য দিবে যে, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল" সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অথবা তিনি বলেছেন, আগুন তাকে গ্রাস করবে না। আনাস (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমার নিকট খুবই চমৎকার মনে হয়েছে। তাই আমি আমার পুত্রকে বললাম, এটা লিখে নাও। সুতরাং সে তা লিখে নিলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

57

আবূ বকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ইতবান (রাযিঃ) অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ বলে খবর পাঠালেন, আপনি আমার ঘরে তাশরীফ আনুন এবং আমার জন্য একটি সালাতের স্থান নির্দিষ্ট করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গীদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন এবং মালিক ইবনু দুখশুম নামক এক ব্যক্তির কথা সেখানে উল্লেখ করা হলো ..... তারপর বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবনু মুগীরার মতো হাদীসটি বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

58

মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আবূ উমার আল মাক্কী ও বিশ্বর ইবনু হাকাম (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সন্তুষ্ট চিত্তে স্বীকার করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

59

উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের শাখা সত্তরটির চেয়েও বেশি, আর লজ্জা শরম ঈমানের একটি শাখা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

60

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশি। অথবা ষাটটির কিছু বেশি। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) এ কথা স্বীকার করা, আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

61

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... সলিমের পিতা আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিলেন শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

62

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক আনসারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন; সে আনসারী তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে নাসীহাত করছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ

63

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, লজ্জা-সন্ত্রম কল্যাণকেই ডেকে আনে। বুশীয়র ইবনু কা'ব বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তকে লিখা আছে যে, এর (লজ্জা) মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং প্রশান্তি নেমে আসে। তার কথা শুনে ইমরান বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখ নিঃসৃত বাণীই করছি। আর তুমি আমাকে বলছ, তোমাদের বইয়ের কথা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

64

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একদল ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। আমাদের মাঝে বুশায়র ইবনু কা'বও ছিলেন। তখন 'ইমরান (রাযিঃ) আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লজ্জার সবটাই মঙ্গলজনক। রাবী বলেন যে, কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা সবটাই কল্যাণকর। বুশায়র ইবনু কাব (রহঃ) বলেন, কোন কোন কিতাবে বা হিকমাতের গ্রন্থে আমরা পেয়েছি যে, লজ্জা থেকেই আল্লাহর জন্য গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির উৎপত্তি এবং তা থেকে দুর্বলতারও উৎপত্তি। রাবী বলেন, এ কথা শুনে ইমরান (রাযিঃ) রেগে গেলেন এমনকি তার দুই চোখ লাল হয়ে গেল। ইমরান (রাযিঃ) বলেন, সাবধান! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস বলছি আর তার মুকাবিলায় তুমি পুথির কথা বলছ। এরপর ইমরান (রাযিঃ) পুনরুক্তি করলেন। আর বুশায়রও তার কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। এতে ইমরান (রাযিঃ) খুবই রেগে গেলেন। রাবী বলেন যে, আমরা বলতে লাগলাম, হে আবূ নুজায়দ! (ইমরানের উপনাম) সে আমাদেরই লোক। তার মধ্যে ত্রুটি নেই। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাম্মাদ ইবনু যায়দের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪, ৬৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)

65

66

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবূ কুরায়ব ..... সুফইয়ান ইবনু 'আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন যে, আমাকে এ সম্পর্কে আপনার পরে অন্য কারো কাছে জিজ্ঞেস করতে না হয়। আবূ উসামার হাদীসে রয়েছে- আপনি ছাড়া আর কাউকে জিজ্ঞেস করব না। তিনি বললেন, ‘বল আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। অতঃপর এর উপর অবিচল থাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

67

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করল যে, কোন ইসলাম উত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি লোকদের পানাহার করাবে এবং পরিচিত এবং অপরিচিত সবাইকে সালাম করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

68

আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সাবহ আল মিসরী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আল আস (রাযিঃ) বলেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল, সর্বোত্তম মুসলিম কে?' তিনি বললেন, সে ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

69

হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, সত্যিকার মুসলিম সে যার মুখ ও হাত থেকে অন্যান্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

70

সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল উমাবী (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বললেন, উত্তম ইসলাম হলো তার, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। ইবরাহীম ইবনু সাঈদ আল জাওহারী (রাযিঃ) ..... বুরায়দ ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে এ সনদে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সর্বোত্তম মুসলিম কে? রাবী হাদীসের বাকী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

71

72

ইসহাক ইবনু ইবরাহীন, মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করবে। (১) অন্য সবার তুলনায় যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক প্রিয়। (২) যে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার বান্দাকে ভালোবাসে। (৩) এবং যাকে আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তারপর সে কুফরের দিকে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করে যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

73

74

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে উল্লেখ আছে, তিনি বলেনঃ "ইয়াহুদী অথবা নাসারা ধর্মের দিকে পুনর্বার ফিরে যাওয়ার চেয়ে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকেই ভালো মনে করে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

75

যুহায়র ইবনু হারব ও শইবন ইবনু আবূ শইবাহ (রাযিঃ) ... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা (রাবী আবদুল ওয়ারিসের বর্ণনায় কোন ব্যক্তি) ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্য লোকদের চাইতে অধিকতর প্রিয় না হব।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

76

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং অন্যান্য লোকেদের চাইতে অধিকতর প্রিয় না হব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

77

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা যা পছন্দ করো তা অন্য ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে। আরো বর্ণনায় রয়েছে, প্রতিবেশীর জন্যও পছন্দ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

78

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সে মহান সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা যা পছন্দ করো তা অন্য ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে। অথবা তোমার প্রতিবেশীর জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

79

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

80

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানদের সমাদর করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

81

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাযিঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

82

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পরবর্তী অংশ রাবী আবূ হাসীনের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে "তার প্রতিবেশীর প্রতি যেন ভালো ব্যবহার করে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

83

যুহারর ইবনু হারব ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ শুরায়হ আল খুযাঈ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা নিরবতা অবলম্বন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

84

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... তারিক ইবনু শিহাব (আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবার হাদীসে) বলেনঃ মারওয়ান ঈদের দিন সালাতের পূর্বে খুতবাহ দেয়ার (বিদ'আতী) প্রথা প্রচলন করে। এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, খুতবার আগে সালাত" (সম্পন্ন করুন)। মারওয়ান বললেন, এখন থেকে সে নিয়ম পরিত্যাগ করা হল। সাথে সাথে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) ওঠে বললেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ গৰ্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

85

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে মারওয়ানের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আর এ হাদীসটি শু'বাহ ও সুফইয়ানের বর্ণিত হাদীসের মতোই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

86

আমর আন নাকিদ এবং আবূ বকর ইবনু নাযর ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার পূর্বে আল্লাহ তা'আলা যে নবীকেই কোন উম্মতের মধ্যে পাঠিয়েছেন, তাদের মধ্যে তার জন্য একদল অনুসারী ও সাহাবা ছিল। তারা তার সুন্নাতকে সমুন্নত রাখত এবং তার নির্দেশের অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের অবর্তমানে কতগুলো মন্দ লোক স্থলাভিষিক্ত হয়। তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে তার জন্য তাদেরকে নির্দেশ করা হয়নি। অতএব যে ব্যক্তি তাদের হাত (শক্তি) দ্বারা মুকাবিলা করবে, সে মু'মিন। যে ব্যাক্তি জিহ্বা (মুখ) দারা মুকাবিলা করবে সে মু'মিন এবং যে ব্যাক্তি অন্তর দ্বারা মুকাবিলা করবে সেও মু'মিন এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান স্তর নেই। আবূ নাফি বলেন, আমি এ হাদীসটি 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললাম। তিনি আমার সামনে এটা অস্বীকার করলেন। পরে এক সময় ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কানাত (মদীনার কাছাকাছি একটি) নামক স্থানে আসলেন 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) অসুস্থ ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে দেখার জন্য আমাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। আমি তার সাথে গেলাম। যখন আমরা বসে পড়লাম, তখন আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে অবিকল সেরূপই বর্ণনা করলেন, যেরূপ আমি ইবনু উমার (রাযিঃ) কে বর্ণনা করেছিলাম। সালিহ বলেন, আবূ রাফি থেকে হুবহু এরূপই বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

87

আবূ বাকর ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন নবীর জন্য এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ সহচর জুটেছিল, যারা তার নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করেছেন এবং তার সুন্নাতকে সমুন্নত রেখেছেন।" হাদীসের অবশিষ্টাংশ হুবহু সালিহ-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় ইবনু মাসউদের আগমন ও তার সাথে ইবনু উমারের একত্রিত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

88

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব এবং ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত দিয়ে ইয়ামানের দিকে ইশারা করে বললেন, জেনে রাখ, ঈমান সেখানেই। কঠোর ও পাষাণ হৃদয় হচ্ছে শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যে বসবাসকারী সে সব লোক যারা উটের লেজের গোড়া থেকে চীৎকার দিয়ে থাকে, অর্থাৎ রাবী'আহ ও মুযারা গোত্র। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

89

আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইয়ামানের অধিবাসীরা এসেছে; তাদের হৃদয় বড়ই কোমল। ঈমান রয়েছে ইয়ামানবাসীদের মধ্যে, ধর্মীয় গভীর জ্ঞান রয়েছে ইয়ামানবাসীদের মধ্যে এবং হিকমাত রয়েছে ইয়ামানবাসীদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

90

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না এবং 'আমর আন্‌ নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতোই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

91

আমর আন নাকিদ ও হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসীরা এসেছে। তারা নম্রচিত্ত ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ধর্মীয় গভীর জ্ঞান ইয়ামানবাসীদের মধ্যে এবং হিকমাতও ইয়ামানবাসীদের মধ্যে রয়েছে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

92

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুফরের মূল উৎস হচ্ছে পূর্ব দিকে। অহংকার ও দাম্ভিকতা রয়েছে উচ্চস্বরে চিৎকারকারী পশুপালক ঘোড়া ও উট ওয়ালাদের মধ্যে। আর নম্ৰতা রয়েছে বকরীওয়ালাদের মধ্যে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

93

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঈমানের উৎস হচ্ছে ইয়ামানবাসীদের মধ্যে, আর কুফরের উৎস হচ্ছে পূর্ব দিকে এবং নম্রতা বকরীওয়ালাদের মধ্যে। আর অহংকার ও রিয়া চিৎকারকারী ঘোড়া ও উট পালকদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

94

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, অহংকার ও দাম্ভিকতা চিৎকারকারী উট পালকদের মধ্যে এবং নম্রতা বকরীওয়ালাদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

95

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিনী (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেন। তবে এতে এ বাক্য অতিরিক্ত রয়েছে "ঈমান ইয়ামানবাসীদের মধ্যে এবং হিকমাত ইয়ামানবাসীদের মধ্যে"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

96

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামানের লোকেরা উপস্থিত হয়েছে। তারা নম্রচিত্ত ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান ইয়ামানীদের মধ্যে এবং হিকমাত ইয়ামানীদের। নম্রতা বকরীওয়ালাদের মধ্যে এবং অহংকার ও দাম্ভিকতা, চিৎকারকারী উট পালকের মধ্যে, যাদের অবস্থান সূর্যোদয়ের দিকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

97

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামানের লোকেরা উপস্থিত হয়েছে। তারা নম্রচিত্ত ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান ইয়ামানীদের মধ্যে এবং হিকমাত ইয়ামানীদের। আর কুফরের উৎস হচ্ছে পূর্ব দিকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

98

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদেই অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় কুফরের উৎস রয়েছে পূর্ব দিকে' কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

99

মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না ও বিশ্বর ইবনু খালিদ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদে জারীর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে বর্ণনাকারী শু'বাহ, অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন অহংকার ও দাম্ভিকতা উট মালিকদের মধ্যে, আর নম্রতা ও গাম্ভীর্য বকরীর মালিকদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

100

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মনের কঠোরতা ও অন্তরের নিষ্ঠুরতা পূর্ব দিকের মানুষের মধ্যে আর ঈমান হিজাযবাসীদের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

101

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অন্যকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের তা বলে দিব না, কি করলে তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার সৃষ্টি হবে? তা হলো, তোমরা পরস্পর বেশি সালাম বিনিময় করবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

102

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আন। পরবর্তী অংশ আবূ মু'আবিয়াহ ও ওয়াকী’ এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

103

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ আল মাক্কী (রহঃ) ..... তামীম আদ দারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সদুপদেশ দেয়াই দীন। আমরা আরয করলাম, কার জন্য উপদেশ? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তার কিতাবের, তার রাসূলের, মুসলিম শাসক এবং মুসলিম জনগণের*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

104

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... তামীম আদ দারী (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উপরোক্ত হাদীসের মতোই বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

105

উমাইয়্যাহ ইবনু বিসতাম (রহঃ) ..... তামীম আদ দারী (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

106

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালাত আদায়ের, যাকাত দেয়ার এবং প্রত্যেক মুসলিম কল্যাণ সাধন করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট বাই’আত করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

107

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জারীর ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ করার শর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট বাই’আত করেছি*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

108

সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে শ্রবণ ও আনুগত্যের বাই’আত গ্রহণ করলে তিনি আমাকে শিখিয়ে দিলেন, (বলো) যতদূর আমার সাধ্যে কুলায় (কেননা সাধ্যের অতিরিক্ত করতে বান্দা অপারগ)। আর প্রত্যেক মুসলিমের উপদেশ দেয়ার ব্যাপারেও (বাই’আত করেছি)। ইয়াকুব তার বর্ণনায় বলেন, সাইয়্যার আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ . ১০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

109

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইমরান আত তুজীবী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকাবস্থায় মু'মিন থাকে না, চুরি করার সময় চোরও ঈমানদার থাকে না, মদ্যপায়ীও মদ্যপান করার সময় মু'মিন থাকে না। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) অন্য সূত্রে এর সাথে এটাও বলেছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে মূল্যবান সামগ্ৰী ছিনতাইকারী যখন ছিনতাই করতে থাকে তখন সে মু'মিন থাকে না*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

110

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না ..... বাকী অংশ লুটতরাজের বর্ণনাসহ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে মূল্যবান সামগ্ৰী কথাটির উল্লেখ নেই। ইবনু শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব ও আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আবূ বকরের হাদীসের বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি النُّهْبَةَ 'ছিনতাইয়ের' কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

111

মুহাম্মদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে উকায়লের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ছিনতাইয়ের কথাও বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি ذَاتَ شَرَفٍ 'মূল্যবান' কথাটি বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

112

হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সূত্রে সকলেই যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

113

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে সকলেই যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে 'আলা ও সাফওয়ান ইবনু সুলায়মের বর্ণিত হাদীসে 'জনসম্মুখে' বাক্যটি উল্লেখ নেই। আর হাম্মামের হাদীসে রয়েছে- "লুটপাটকারীরা যখন লুটতরাজে ব্যতিব্যস্ত আর মুমিনরা তার প্রতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছে, এমতাবস্থায় সে মু'মিন থাকে না" কথাটির উল্লেখ রয়েছে। হাম্মাম তার হাদীসে আরো বলেছেনঃ খিয়ানাতকারী যখন খিয়ানাত করে তখন মু'মিন থাকে না। সুতরাং তোমরা সাবধান থেকো, তোমরা সাবধান থেকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

114

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। চোর যখন চৌর্য বৃত্তিতে লিপ্ত হয় তখন সে মু'মিন থাকে না। মদ্যপ ব্যক্তি যখন মদপানে লিপ্ত হয় তখন সে মুমিন থাকে না। তবে এরপর আর তাওবার দরজা খোলা থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

115

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) মারফু সনদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত ..... এরপর শু'বার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

116

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ চারটি (দোষ) যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এ দোষগুলোর একটি বর্তমান রয়েছে তার ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থেকে যায়। (১) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে; (২) সে সন্ধি চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে; (৩) সে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৪) সে ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। সুফইয়ান এর হাদীসের মধ্যে রয়েছেঃ “আর যদি কারোর মধ্যে এ দোষগুলোর একটি বিদ্যমান থাকে, তাহলে তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব রয়েছে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

117

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটি- (১) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে; (২) ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে; (৩) এবং তার কাছে আমানত রাখা হলে সে তা খিয়ানত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

118

আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের আলামত তিনটি- (১) সে কথা বললে মিথ্যা বলে; (২) ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে; (৩) এবং তার কাছে আমানাত রাখা হলে খিয়ানাত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

119

উকবাহ ইবনু মুকরাম আল আম্মী (রহঃ) ..... তার উস্তায ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি উপরোক্ত সনদে ইবনু আবদুর রহমান থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি- যদিও সে সওম পালন করে এবং সালাত আদায় করে এবং মনে করে যে, সে মুসলিম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

120

আবূ নাসর আত তামমার ও আবদুল আ'লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ)..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত 'আলা (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে ..... যদিও সে সওম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং মনে করে যে, সে মুসলিম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

121

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে আখ্যায়িত করলে সে কুফুরী তাদের উভয়ের কোন একজনের উপর অবশ্যই ফিরে আসবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

122

(…/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ এবং ‘আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ তার ভাইকে কাফির’ বলে সম্বোধন করলে উভয়ের একজনের উপর তা ফিরে আসবে। যাকে কাফির বলা হয়েছে সে কাফির হলো তো হলোই, নতুবা কথাটি বক্তার উপরই ফিরে আসবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

123

যুহারর ইবনু হারব (রহ) ... আবূ যার (রযিঃ) বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জেনে শুনে নিজ পিতার পরিবর্তে অন্য কাউকে পিতা বলে, সে কুফুরী করল। আর যে ব্যক্তি এমন কিছুর দাবী করে যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয় এবং সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়। আর কেউ কাউকে কাফির বলে ডাকলে বা আল্লাহর দুশমন' বলে ডাকল, যদি সে তা না হয় তাহলে এ কুফুরী সম্বোধনকারীর প্রতি ফিরে আসবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

124

হারূন ইবনু সাঈদ আল লাইলী (রহঃ) ..... ইরাক ইবনু মালিক (রহঃ) এর সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাকে বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ে না। কেননা যে ব্যক্তি নিজের পিতৃপরিচয় দিতে ঘৃণাবোধ করলো, সে কুফরী করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

125

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... সা'দ আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আমার উভয় কর্ণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছে যে, ইসলাম গ্রহণের পর যে ব্যক্তি জেনে শুনে নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় তার জন্য জান্নাত হারাম। আবূ বাকরাহ বলেন, আমিও রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ কথা শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

126

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... সা'দ ও আবূ বাকরা (রাযিঃ) উভয়ে বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার দুই কান শুনেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

127

মুহাম্মাদ ইবনু বাককার ইবনু আর রাইয়্যান ও ‘আওন ইবনু সাল্লাম এবং মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ...'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেয়া গুনাহের কাজ এবং তার সাথে মারামারি করা কুফুরী। রাবী যুবায়দ বলেন, আমি (আমার উসতায) আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ রিওয়ায়াত করতে শুনেছেন? তিনি (আবূ ওয়ায়িল) বললেন, হ্যাঁ। তবে রাবী শু'বার হাদীসে আবূ ওয়ায়িলের সাথে যুবায়রের উক্ত কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

128

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু আল মুসান্না এবং ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

129

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জের দিনে আমাকে বললেন, লোকেদের চুপ করাও। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার পরে তোমরা পরস্পর হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে কফিরে পরিণত হয়ো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

130

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

131

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল বাহিলী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের দিন তিনি বলেছেন, তোমাদের জন্য আফসোস অথবা (বললেন) দুর্ভোগ তোমাদের! আমার পরে তোমরা পরস্পর হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে কাফিরে পরিণত হয়ো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

132

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ওয়াকিদ এর সূত্রে শু'বার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

133

আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দু'টাে স্বভাব মানুষের মাঝে রয়েছে, যা কুফুর বলে গণ্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা* এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা**। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

134

‘আলী ইবনু হুজুর আস সা’দী (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জারীর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যে দাস তার মনিবের কাছে থেকে পালিয়ে গেল, সে কুফরী করল। যতক্ষণ না সে তার প্রভুর কাছে ফিরে আসে। মানসূর বলেন, আল্লাহর কসম! এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এখানে বাসরায় আমার থেকে এ হাদীস বর্ণিত হোক তা আমি অপছন্দ করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

135

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে দাস পালিয়ে যায় তার থেকে (আল্লাহর রসূলের) যিম্মাদার শেষ হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

136

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন দাস পালিয়ে যায়, তখন তার সালাত কবুল হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

137

ইয়াইহয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াহ্‌ প্রান্তরে (বৃষ্টিপাতের পরে) ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত সম্পন্ন করে তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জান তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা উত্তরে বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ কতিপয় আমার বান্দা সকালে উঠেছে মু'মিনরূপে এবং কতিপয় বান্দা উঠেছে কাফিররূপে। যারা বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টিপাত হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী, আর যারা বলেছে যে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

138

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও 'আম্‌র ইবনু সাওওয়াদ আল আমির এবং মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের রব কি বলেছেন? তিনি বলেছেন, আমি যখন আমার বান্দার উপর অনুগ্রহ করি, তখনই তাদের একদল তা অস্বীকার করে এবং তারা বলে নক্ষত্র, নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের কাজ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

139

মুহাম্মদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী এবং 'আমূর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আকাশ থেকে কোন বারাকাত (বৃষ্টি) অবতীর্ণ করলে একদল লোক সকালে তা অস্বীকার করে, বৃষ্টিপাত করান আল্লাহ তা'আলা আর তারা বলতে থাকে যে, অমুক অমুক নক্ষত্র। মুরাদীর হাদীসে 'অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে' কথার উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

140

ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় লোকদের উপর বৃষ্টি হলে তিনি বললেন, ভোরবেলা কতক লোক (আল্লাহর) শোকরগুজার ও কৃতজ্ঞ হয় এবং তাদের কতক আবার অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। তাদের কিছু সংখ্যক বলে এটা (বৃষ্টি) আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ও রহমতে বর্ষিত হয়েছে। আর তাদের কতক লোক বলে, অমুক অমুক নক্ষত্ৰ সত্যে প্রমাণিত হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হলোঃ না, আমি শপথ করছি তারকাসমূহের অবস্থিতি (স্থানের) ..... এখান থেকে ..... "তোমরা তোমাদের রিযককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ" - (সূরাহ ওয়াকি'আহ ৫৬ঃ ৭৫-৮২) এ পর্যন্ত নাযিল হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

141

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে মুনাফিকের নিদর্শন, আর আনসারদের প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে মুমিনের নিদর্শন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

142

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঈমানের নিদর্শন হচ্ছে আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর নিদর্শন হচ্ছে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

143

যুহায়র ইবনু হারব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন, মুমিনরাই তাদের ভালোবাসে এবং মুনাফিকরাই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যারা তাদের ভালোবাসে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আল্লাহ তাদের ঘৃণা করেন। শু'বাহ বলেন, আমি রাবী আদীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি বারা (রাযিঃ) থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন, বারা (রাযিঃ) স্বয়ং আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

144

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত বিশ্বাস করে সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

145

উসমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ শাইবাহ এবং আবূ বাকর আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে আনসারদের প্রতি শক্ৰতা রাখতে পারে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

146

আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম! যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মু'মিন ব্যক্তিই আমাকে ভালোবাসবে, আর মুনাফিক ব্যক্তি আমার সঙ্গে শক্রতা পোষণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

147

মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির আল মিসরী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে রমণীগণ! তোমরা দান করতে থাকো এবং বেশি করে ইসতিগফার কর। কেননা, আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের বেশির ভাগই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। আর দীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চাইতে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি প্রশ্নকারিণী জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেন, তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটির প্রমাণ হল দু'জন স্ত্রী লোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর স্ত্রীলোক (প্রতি মাসে) কয়েক দিন সালাত থেকে বিরত থাকে আর রামাযান মাসে সিয়াম ভঙ্গ করে; (ঋতুবতী হওয়ার কারণে) এটাই দীনের ত্রুটি। আবূ তাহির ইবনু হাদ-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

148

149

হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) এর সূত্রে এবং ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইবনু উমার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

150

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

151

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সাজদায় যায়, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে পড়ে এবং বলতে থাকে হায়! আমার দুর্ভাগ্য! ইবনু কুরায়বের বর্ণনায় রয়েছে, হায়রে, আমার দুর্ভাগ্য! নবী আদম সাজদার জন্য আদিষ্ট হলো। তারপর সে সিজদা করলো এবং এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হলো। আর আমাকে সাজদার জন্য আদেশ করা হলো, কিন্তু আমি তা অস্বীকার করলাম, ফলে আমার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

152

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আমাশ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে "আমি অমান্য করলাম ফলে আমার জন্য নির্ধারিত হলো জাহান্নাম"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

153

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী এবং উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

154

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্য সালাত পরিত্যাগ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

155

মানসূর ইবনু আবী মুবাহিম এবং মুহাম্মাদ ইবনু জাফার ইবনু যিয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, যে হজ্জ কবুল হয়। মুহাম্মাদ ইবনু জাফরের রিওয়ায়াতে আছে। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনা। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী সূত্রেও এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

156

আবূ রাবী' আয যাহরানী এবং খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সর্বোত্তম 'আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আমি আবার প্রশ্ন করলামঃ কোন ধরনের গোলাম আযাদ করা উত্তম? তিনি বললেন, সে গোলাম আযাদ করা উত্তম যে মুনিবের কাছে অধিক প্রিয় এবং অধিক মূল্যবান। আমি আরজ করলাম, আমি যদি তা করতে না পারি। তিনি বললেন, তাহলে অন্যের কর্মে সাহায্য করবে অথবা কর্মহীনের কাজ করে দিবে। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমি এমন কোন কাজ করতে অক্ষম হই? তিনি বললেন, তোমার মন্দ আচরণ থেকে লোকেদের মুক্ত রাখবে। এ হলো তোমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি সাদাকাহ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

157

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি এবং "আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ যার (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় একটু শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে, অর্থ একই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

158

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময় মত সালাত আদায় করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তার কষ্ট হবে এ ভেবে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

159

মুহাম্মাদ ইবনু আবি উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইরনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী! কোন আমল জান্নাতের অধিক নিকটবর্তী করে? তিনি বললেন, সঠিক ওয়াক্তে সালাত আদায় করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর কোনটি, হে আল্লাহর নবী? তিনি বললেন, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর কোনটি, হে আল্লাহর নবী? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

160

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় 'আমল কোনটি? তিনি বললেন, সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি আমাকে এ কথাগুলো বললেন, যদি আমি আরো প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি অরো অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

161

মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... শু’বার সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ وَمَا سَمَّاهُ لَنَا "তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের গৃহের দিকে ইশারা করলেন, কিন্তু আমাদের সম্মুখে তার নাম উল্লেখ করেননি" কথাগুলো বর্ধিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

162

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা আমলসমূহের মধ্যে বা আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

163

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী স্থির করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটা তো বড় গুনাহ বটে। এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আপন সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করা যে, সে তোমার আহারের সঙ্গী হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

164

উসমান ইবনু শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্যস্ত করবে অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তুমি তোমার সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করবে যে, সে তোমার আহারে ভাগ বসাবে।' সে বললো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে।’ এ উক্তির সমর্থনে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন, "আর তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে”— (সূরাহ আল-ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

165

আমূর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়র ইবনু মুহাম্মাদ আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের কবীরাহ গুনাহ* সম্পর্কে বলব না? তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। (তারপর বললেন, সেগুলো হলো- (১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) পিতামাতার অবাধ্য হওয়া; (৩) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিংবা কথা বলা। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং (শেষোক্ত) কথাটি বারবার বলতে লাগলেন। এমন কি আমরা মনে মনে বলছিলাম, আহা তিনি যদি থামতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

166

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কাবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তা হলো, আল্লাহর সাথে শারীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কথা বলা।' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

167

মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে আবদুল হামীদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরাহ গুনাহের বর্ণনা করেন অথবা তাকে কাবীরাহ গুনাহের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শারীক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের সবচাইতে বড় গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তিনি বললেন, মিথ্যা কথা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। রাবী শু'বাহ বলেন, আমার প্রবল ধারণা যে, কথাটি হল ... "মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

168

হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে তোমরা বেঁচে থেকো। প্রশ্ন করা হলো- হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) যাদু করা; (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা; (৪) ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা; (৫) সুদ খাওয়া; (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সাধ্বী, সরলমনা ও ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

169

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পিতা-মাতাকে গালি দেয়া কাবীরাহ গুনাহ। সাহাবা কিরাম প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ কি তার পিতা-মাতাকে গালি দিতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কোন ব্যক্তি অন্যের পিতাকে গালি দেয় প্রত্যুত্তরে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। কেউ বা অন্যের মাকে গালি দেয় জবাবে সেও তার মাকে গালি দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

170

আবূ বকর ইবনু আবূ শইবাহ, মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার এবং মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু ইবরাহীম (রাযিঃ) এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

171

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও ইবরাহীম ইবনু দীনার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যার অন্তরে অণুপরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, মানুষ চায় যে, তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এ-ও কি অহঙ্কার? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

172

মিনজাব ইবনু আল হারিস আত তামীমী ও সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

173

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

174

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অন্য বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শারীক করে মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বলি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শারীক না করা অবস্থায় মারা যায় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

175

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুবায়ব (রহ) ... জাবির (রাযিঃ) বলেন যে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল- ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওয়াজিবকারী (অবশ্যম্ভাবী) দু'টাে বিষয় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

176

আবূ আইয়ুব আল গাইলামী, সুলাইমান ইবনু আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকেও শারীক না করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সম্মুখে উপস্থিত হবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে শারীক স্থির করে, তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

177

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

178

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের যে কেউ শিরক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি (আবূ যার) বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। তিনি বললেন, যদিও ব্যভিচার করে ও চুরি করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

179

যুহায়র ইবনু হারব ও আহমাদ ইবনু খিরাশ (রহঃ) ... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন যে, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং তার গায়ের উপর একখানা চাঁদর ছিল। আবার এসে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। পরে আবার এসে দেখি, তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন। আমি তার নিকটে বসলাম। তারপর তিনি বললেন, যে কোন বান্দা (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) বলবে এবং এ বিশ্বাসের উপর মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি আরয করলাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদিও সে ব্যভিচার ও চুরি করে। এ কথাটি তিন তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হলো। চতুর্থবারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদিও আবূ যার এর নাক ধূলিমলিন হয়, (অর্থাৎ আবূ যার এর অপছন্দ হলেও) রাবী বলেন, আবূ যার (রাযিঃ) এ কথা বলতে বলতে বের হলেন, যদিও আবূ যার এর নাক ধূলিমলিন হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ

180

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি মত? যদি আমি কোন কাফিরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই, আর সে আমার উপর আক্রমণ করে তরবারি দ্বারা আমার এক হাত কেটে ফেলে, অতঃপর সে এক বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে আমার আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করে এবং এ কথা বলে যে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। হে আল্লাহর রাসূল, সে এ কথা বলে যে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। হে আল্লাহর রাসূল! তার এ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ না তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলেছে আর এটা কাটার পরই ঐ কথা বলছে? এমতাবস্থায় আমি কি তাকে হত্যা করবো? এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে তাকে হত্যা করার পূর্বে তুমি যে অবস্থায় ছিলে, সে তোমার সে অবস্থায় এসে যাবে। আর ঐ কালিমা বলার পূর্বে সে যে অবস্থায় ছিল, তুমি সে অবস্থায় এসে যাবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

181

–(১৫৬/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবদ ইবনু হুমায়দ, ইসহাক ইবনু মূসা আনসার ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আওযাঈ ও ইবনু জুরায়জ তাদের হাদীসে বলেন, সে লোকটি বলেছিল, আমি আল্লাহর উদ্দেশে ইসলাম গ্রহণ করলাম, যেমন পূর্বোক্ত হাদীসে লায়স বর্ণনা করেছেন। আর মা'মার বর্ণিত হাদীসে 'যখন আমি তাকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলাম তখন সে বললো' কথাটির উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

182

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মিকদাদ ইবনু 'আমর ইবনু আসওয়াদ আল কিন্দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যুহরী গোত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমি যুদ্ধের ময়দানে কোন কফিরের সম্মুখীন হই। বাকী অংশ লায়স বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

183

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এক জিহাদ অভিযানে পাঠালে আমরা প্রত্যুষে জুহাইনার" (একটি শাখা গোত্র) আলহুরাকায় গিয়ে পৌছলাম। এ সময়ে আমি এক ব্যক্তির পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে ধরে ফেলি। অবস্থা বেগতিক দেখে সে বললো, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' কিন্তু আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেললাম। কালিমা পড়ার পর আমি তাকে হত্যা করেছি বিধায়, আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হলো। তাই ঘটনাটি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি তাকে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলার পর হত্যা করেছো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে অস্ত্রের ভয়ে জান বাঁচানোর জন্যেই এরূপ বলেছে। তিনি রাগাম্বিত হয়ে বললেন, তুমি তার অন্তর চিড়ে দেখেছো, যাতে তুমি জানতে পারলে যে, সে এ কথাটি ভয়ে বলেছিল? (রাবী বলেন), তিনি এ কথাটি বারবার আবূত্তি করতে থাকলেন। আর আমি মনে মনে অনুশোচনা করতে থাকলাম, হায়! যদি আমি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো কোন মুসলিমকে হত্যা করব না, যেভাবে এ ভুড়িওয়ালা (উসামাহ) মুসলিমকে হত্যা করেছে। রাবী বলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বললো, আল্লাহ তা'আলা কি এ কথা বলেননি যে, "তোমরা তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে জিহাদ করো, যে পর্যন্ত ফিৎনা দূরীভূত না হয়, আর আল্লাহর দীন পরিপূর্ণ না হয়ে যায়? এর জবাবে সাদ (রাযিঃ) বললেন, আমরা জিহাদ করি, যাতে ফিৎনা না থাকে, কিন্তু তুমি আর তোমার সঙ্গীগণ এ উদ্দেশে যুদ্ধ কর, যেন ফিৎনা সৃষ্টি হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

184

ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... উসামাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুহাইনাহ গোত্রের হুরাকাহ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের পাঠালেন। আমরা খুব ভোরে সে সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ করলাম এবং আমরা তাদের পরাজিত করলাম। আমি এবং একজন আনসার এক ব্যক্তির পিছু নিলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলল, আনসার তার মুখে “লাইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" কালিমা শুনে নিবৃত্ত হলেন। কিন্তু আমি তাকে বল্লম দ্বারা এমন আঘাত করলাম যে, তাকে মেরেই ফেললাম। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ খবরটি পৌছলো। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, হে উসামাহ! তুমি কি তাকে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলার পরেও হত্যা করে ফেলেছো? আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে ব্যক্তিতো আত্মরক্ষার জন্য এ কথা বলেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার বললেন, তুমি কি তাকে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলার পরে হত্যা করেছো? এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার আমার প্রতি একথা বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে এ আকাঙ্খা উদয় হলো যে, হায়! আজকের এ দিনের আগে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

185

আহমাদ ইবনু আল হাসান ইবনু খিরাশ (রহঃ) ..... জুনদাব ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রের ফিতনার যুগে ‘আস্'আস ইবনু সালামাহকে বলে পাঠালেন যে, তুমি তোমার কিছু বন্ধুকে আমার জন্য একত্র করবে, আমি তাদের সাথে কথা বলব। আস'আস তাদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা যখন সমবেত হলো, জুনদাব তখন হলুদ বর্ণের বুরনুল (এক ধরনের টুপি) পরে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, তোমরা আগের মত কথাবার্তা বলতে থাক। এক পর্যায়ে যখন জুনদাব বললেন, তখন তিনি তার মাথার বুরনুসটি নামিয়ে ফেললেন। বললেন, আমি তোমাদের নিকট এসেছি। আমি তোমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিছু হাদীস বর্ণনা করতে চাই। তা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের একটি বাহিনী মুশরিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাঠালেন। উভয় দল পরস্পর সম্মুখীন হলো এবং মুশরিক বাহিনীতে এক ব্যক্তি ছিল। সে যখনই কোন মুসলিমকে হামলা করতে ইচ্ছা করত, সে তাকে লক্ষ্য করে ঝাপিয়ে পড়ত এবং শহীদ করে ফেলত। একজন মুসলিম তার অসতর্ক মুহুর্তের অপেক্ষা করতে লাগলেন। জুনদাব বলেন, আমাদের বলা হলো যে, সে ব্যক্তি ছিল উসামাহ ইবনু যায়দ। তিনি যখন তার উপর তলোয়ার উত্তোলন করলেন তখন সে বলল, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। তবুও উসামাহ্ (রাযিঃ) তাকে হত্যা করলেন। দ্রুত যুদ্ধে জয়লাভের সুসংবাদ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে উপস্থিত হল। তিনি তার নিকট যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। সে সব ঘটনাই বর্ণনা করুন, এমন কি সে ব্যক্তির ঘটনাটিও বললো যে, তিনি কি করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহকে ডেকে পাঠালেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি সে ব্যক্তিকে হত্যা করলে কেন? উসামাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে অনেক মুসলিমকে আঘাত করেছে এবং অমুক অমুককে শহীদ করে দিয়েছে। এ বলে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন। আমি যখন তাকে আক্রমণ করলাম এবং সে তলোয়ার দেখল অমনি বলে উঠল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তাকে মেরে ফেললে? তিনি বললেনঃ জি-হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কিয়ামত দিবসে যখন সে (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাগফিরাতের জন্য দু’আ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কিয়ামত দিবসে যখন সে (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তারপর তিনি কেবল এ কথাই বলছিলেন, কিয়ামতের দিন যখন (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

186

যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্ৰধারণ করবে সে আমাদের (মুসলিমদের) দলভুক্ত নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

187

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ... সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার উত্তোলন করবে সে আমাদের (মুসলিমদের) দলভুক্ত নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

188

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু বারুরাদ আল আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের (মুসলিমদের) দলভুক্ত নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

189

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ এবং আবূল আহওয়াস মুহাম্মাদ ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্ৰধারণ করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়, আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোকা দিবে সেও আমাদের দলভুক্ত নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

190

ইয়াহইয়াহ ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য শস্যের একটি স্তুপের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করলেন। তিনি স্তুপের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলেন ফলে হাতের আঙ্গুলগুলো ভিজে গেলো। তিনি বললেন, হে স্তুপের মালিক! এ কি ব্যাপার? লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে। তিনি বললেন, সেগুলো তুমি স্তুপের ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে লোকেরা দেখে নিতে পারতো। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি ধোকাবাজি করে, আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

191

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ এবং ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গাল থাপড়াবে, জামা কাপড় ছিড়ে ফেলবে অথবা জাহিলী যুগের ন্যায় বিলাপ করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। ইবনু নুমায়ব ও আবূ বকর বলেছেন, "আলিফ" ছাড়াই হবে। অর্থাৎ أو شق ودعا পরিবর্তে وَشَقَّ وَدَعَا বলেছেন*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

192

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) .... আমাশ (রহঃ) এর সূত্রে উপরোক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা وَشَقَّ وَدَعَا বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

193

–(১৬৭/১০৪) আল হাকাম ইবনু মূসা আল কানতারী (রহঃ) .... আবূ বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা (রহঃ) বলেন যে, আবূ মূসা (রাযিঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার মাথা তার পরিবারের এক মহিলার কোলে ছিল। সে মহিলা চিৎকার করে উঠলো। তিনি তাকে তা থেকে বাধা দিতে পারেননি। যখন তার জ্ঞান ফিরলো তখন বললেন, আমি তার থেকে সম্পর্কহীন, যার থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন। যে ব্যক্তি (মৃতের শোকে) উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে, মাথার চুল ছিড়ে ফেলে, কাপড় ছিড়ে ফেলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

194

আবদ ইবনু হুমায়দ ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও আবূ বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা (রহঃ) বলেন যে, আবূ মূসা আশ'আর (রাযিঃ) বেহুশ হয়ে পড়েন। তার স্ত্রী উম্মু 'আবদুল্লাহ চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে তার নিকট আসলেন। তারা বলেন, অতঃপর তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং বললেন, তুমি কি জান না? তারপর তিনি তাকে এ হাদীস শোনান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি সে ব্যক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন যে ব্যক্তি মাথার কেশ মুণ্ডন করে, চিৎকার করে কান্নাকাটি করে এবং জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

195

আবদুল্লাহ ইবনু মুতী, হাজ্জাজ ইবনু শাইর, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) .... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী ইয়ায আল আশ'আরীর হাদীসে لَيْسَ مِنَّا (সে আমার দলভুক্ত নয়) কথাটি রয়েছে। তিনি بَرِيءٌ (বিচ্ছিন্ন) শব্দটি বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

196

শাইবান ইবনু ফাররূখ ও আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) বলেন যে, হুযাইফাহ (রাযিঃ) এর নিকট খবর পৌছল যে, এক ব্যক্তি চোগলখোর করে বেড়ায়। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কোন চোগলখোরই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

197

–(১৬৯/...) ‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সা’দী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু আল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সাধারণ লোকজনের কথাবার্তা শাসনকর্তার নিকট পৌছাত। একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। উপবিষ্ট লোকেরা বললো, এ সে ব্যক্তি যে লোকজনের কথাবার্তা শাসনকর্তার নিকট পৌছায়। রাবী বললেন, এরপর সে উপস্থিত হল এবং আমাদের পাশে বসে পড়ল। তখন হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,কোন চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

198

–(১৭০/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ এবং মিনজাব ইবনু হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু হারিস (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমরা হুযাইফাহ (রাযিঃ) এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এলো ও আমাদের সাথে বসে পড়লো। তখন হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) তাকে শোনানোর উদ্দেশে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

199

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটি তিনবার পাঠ করলেন। আবূ যার (রাযিঃ) বলে উঠলেন, তার তো ধ্বংস হবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? তিনি বললেন, যে লোক পায়ের গোছার নীচে কাপড় ঝুলিয়ে চলে, কোন কিছু দান করে খোটা দেয় এবং মিথ্যা শপথ করে পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

200

আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ আল বাহিলী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না। (১) যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে খোটা দেয়; (২) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে দোকানদারী করে এবং (৩) যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করে। বিশর ইবনু খালিদ (রাযিঃ) ..... শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সুলাইমানকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ তা'আলা কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

201

202

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা কথা বললেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। রাবী আবূ মু'আবিয়াহ বলেন, তাদের প্রতি তাকাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (এরা হলো) ব্যভিচারী বুড়ো, মিথ্যাবাদী শাসক বা রাষ্ট্রপ্রধান ও অহঙ্কার দরিদ্র ব্যক্তি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

203

–(১৭৩/১০৮) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, এদের দিকে নযরও দেবেন না এবং এদেরকে পবিত্রও করবেন না, বরং এদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। যে ব্যক্তির নিকট অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও তা পথিককে দেয় না। যে ব্যবসায়ী আসরের পর* তার পণ্য সামগ্ৰী ক্রেতার নিকট আল্লাহর কসম করে বিক্রি করে আর বলে, আমি এ পণ্য এতো এতো মূল্যে ক্রয় করেছিলাম, আর ক্রেতা তাকে সত্যবাদী মনে করে, কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার তার উল্টো। যে ব্যক্তি ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধান) হাতে কেবল পার্থিব স্বার্থে বাই’আত করে, যদি ইমাম তাকে কিছু পার্থিব সুযোগ দেয়, তাহলে সে তার বাই’আতের প্রতিজ্ঞা পূরণ করে, আর যদি তা থেকে কিছু না দেয় তাহলে আর প্রতিজ্ঞা পূরণ করে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

204

যুহায়র ইবনু হারব এবং সাঈদ ইবনু 'আমর আল আশ'আসী (রাযিঃ) এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী জারীর বর্ণিত হাদীসে যে ব্যক্তি তার পণ্যের ব্যাপারে অন্যের সাথে দাম দরাদরি করে' কথাটির উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

205

আমর আন নাকিদ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে যতদূর সম্ভব মারফু সনদে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে) বর্ণনা করেন যে, তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ তা'আলা কথা বলবেন না, তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (তারা হলো) যে ব্যক্তি আসরের সালাতের পর কোন মুসলিমের মালের উপর শপথ করে তা আত্মসাৎ করে। হাদীসের বাকী অংশ আ'মাশের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০০, ই-সে)

206

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দ্বারা সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে উক্ত বিষপান করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি নিজে পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নীচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পড়তে থাকবে, এভাবে সে ব্যক্তি তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

207

যুহারর ইবনু হারব, সাঈদ ইবনু 'আমর আল আশ'আসী এবং ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... তারা সকলে উপরোল্লিখিত সনদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। শু'বার বর্ণনায় সুলাইমানের সূত্রে বর্ণিত আছে, “আমি যাকওয়ানকে বলতে শুনেছি"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

208

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ), ইসহাক ইবনু মানসূর, আবদ আল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... সাবিত ইবনু যাহহাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করবে সে যেরূপ বলেছে সেরূপ হবে। আর যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে তাকে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে সে বস্তু দ্বারা শাস্তি দিবেন। এ হলো রাবী সুফইয়ানের বর্ণনা। আর রাবী শু'বার বর্ণনা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করবে সে যেরূপ বলেছে সেরূপই হবে। যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা নিজেকে যাবাহ করবে, কিয়ামত দিবসে উক্ত জিনিস দ্বারা তাকে যাবাহ করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

209

আবূ গাস্সান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... সাবিত ইবনু যাহহাক (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে বস্তুর মানৎ কার্যকরী নয়, যার মালিক সে নয়। মু'মিনকে অভিশাপ করা তাকে হত্যা করার সমান। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে কিয়ামত দিবসে উক্ত বস্তু দ্বারা তাকে শাস্তি দেয়া হবে। যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা দাবী করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য স্বল্পতাই বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি বিচারকের সামনে দৃঢ়তার সাথে মিথ্যা শপথ করবে (তার অবস্থাও মিথ্যাদাবীদারের অনুরূপ হবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

210

211

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

212

মুহাম্মাদ বিন রাফি এবং আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দোযখী বলে চিহ্নিত করলেন, যে আমাদের মাঝে মুসলিম হিসেবে পরিচিত ছিল। যখন আমরা যুদ্ধে লিপ্ত হলাম, ঐ লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ করলো, সে আহত হয়ে গেলো। এ সময় কেউ এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কিছুক্ষণ আগে আপনি যার সম্পর্কে বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী আজ সে ভীষণভাবে জিহাদ করে মারা গেছে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামে চলে গেছে। কিন্তু এতে কোন কোন মুসলিম সন্দেহে পতিত হল। ইত্যবসরে কেউ এসে বললো, লোকটি এখনও মরেনি, তবে সে মারাত্মকভাবে আহত। পরে যখন রাত হলো, সে জখমের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ সংবাদ জানানো হলো। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিশ্চিত আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন তখন তিনি লোকদের মাঝে ঘোষণা করলেন, মুসলিম ব্যতীত কোন ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অবশ্য আল্লাহ তা'আলা পাপী ব্যক্তির দ্বারাও এ দীনের সাহায্য ও শক্তি প্রদান করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

213

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ আস্ সাইদী (রাযিঃ) বলেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সেনাবাহিনীর দিকে অগ্রসর হলে অপরপক্ষও তাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গীদের মধ্যে সে সময় এমন এক ব্যক্তি ছিল যে, সেদিন বীরত্বের সাথে লড়েছিল। কোন কাফিরকে দেখামাত্র সে তার পিছনে লেগে যেতো এবং তরবারি দ্বারা খতম করে দিত। লোকেরা তার বীরত্ব দেখে বলাবলি করছিল যে, অমুক ব্যক্তি আজ যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে আমাদের কেউ তা পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মনে রেখো! সে ব্যক্তি জাহান্নামী। উপস্থিত লোকদের একজন বললো, আমি সর্বক্ষণ তার সাথে থাকবো। তারপর সে ব্যক্তি তার পিছনে থাকলো। যেখানে সে থামত সেও তথায় থেমে যেতো। তখন সে দ্রুতবেগে কোথাও যেতো সেও তার সাথে দ্রুতবেগে তথায় গমন করতো। শেষ পর্যন্ত সে ব্যক্তি মারাত্মকভাবে জখম হলো। তারপর ক্ষতের জ্বালার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে তরায় মৃত্যু কামনা করলো। সে তার তরবারি জমিনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় স্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়লো এবং নিজেকে হত্যা করলো। তাকে অনুসরণকারী লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গেলো এবং সাক্ষ্য প্রদান করলো, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন, ব্যাপার কি? সে বলল, আপনি একটু আগে যে ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলেছিলেন এবং লোকেরা এতে আশ্চর্যাম্বিত হয়েছিল; আমি বলেছিলাম, আমি তার সাথে সাথে থেকে তোমাদেরকে খবর দিব। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। অবশেষে সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং তরায় মৃত্যুর জন্য নিজের তরবারি জমিনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় স্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে দিল। তারপর এর উপর ঝুঁকে পড়লো এবং নিজেকে হত্যা করলো। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি জান্নাতের কাজ করছে অথচ সে জাহান্নামী হয় আবার লোকের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি জাহান্নামের কাজ করছে অথচ সে জান্নাতবাসী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

214

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... শাইবান (রহঃ) বলেন যে, আমি হাসান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, পূর্বের যুগে এক ব্যক্তির ফোঁড়া হয়েছিল, ফোঁড়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তার তূণ থেকে একটি তীর বের করলো। আর তা দিয়ে আঘাত করে করে ফোড়াটি চিড়ে ফেলল। তখন তা থেকে সজোরে রক্তক্ষরণ শুরু হলো, অবশেষ সে মারা গেল। তোমাদের প্রতিপালক বলেন, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। তারপর হাসান আপন হাত মসজিদের দিকে প্রসারিত করে বললেন, আল্লাহর কসম! জুনদাব (ইবনু 'আবদুল্লাহ বাজালী) এ মসজিদেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

215

মুহাম্মাদ ইবনু বাকর আল মুকাদামী (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) বলেন যে, জুনদাব ইবনু 'আবদুল্লাহ আল বাজালী এ মসজিদে বসেই আমাদেরকে নাসীহাত করেছেন। তারপর আমরা তা ভুলে যাইনি। আর আমরা আশঙ্কা করি না যে, জুনদাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি মিথ্যারোপ করেছেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তির ফোঁড়া হয়েছিল...... তারপরের অংশ উপরের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

216

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, খাইবারে অমুক অমুক শহীদ হয়েছেন। অবশেষে এক ব্যক্তি প্রসঙ্গে তারা বললেন যে, সেও শহীদ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কখনই না। গনীমাতের মাল থেকে চাঁদর আত্মসাৎ করার কারণে আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! যাও লোকেদের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, জান্নাতে কেবলমাত্র প্রকৃত মুমিন ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করে দিলাম, "সাবধান! শুধুমাত্র প্রকৃত মুমিনরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

217

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে খাইবারের অভিযানে বের হলাম। আল্লাহ আমাদেরকে জয়যুক্ত করলেন। গনীমাত হিসেবে আমরা স্বর্ণ বা রৌপ্য লাভ করিনি। বরং যা পেলাম তা ছিল আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি। অতঃপর আমরা ওখান থেকে এক সমভূমির দিকে রওয়ানা হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে তার একটি গোলাম ছিল। জুযাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি গোলামটি তাকে উপহার দিয়েছিল। তাকে রিফা'আহ ইবনু যায়দ নামে ডাকা হত। সে যুবায়ব গোত্রের লোক ছিল। যখন আমরা সমতল ভূমিতে অবতরণ করলাম, গোলামটি উঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাওদা খুলছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি তীর এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলো। আর তাতেই সে তৎক্ষণাৎ মারা গেলো। এ দেখে আমরা বলে উঠলামঃ খুশীর বিষয় তার, মুবারক হোক! সে শাহাদাত লাভ করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন কখনো নয়। সে মহান সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! বণ্টন করা ছাড়াই খাইবার যুদ্ধের গনীমাত থেকে সে যে চাঁদর নিয়েছে তা আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে। তার এ কথা শুনে সমস্ত লোক ভীত হয়ে পড়লো। এক ব্যক্তি জুতার একটি কিংবা দুটি ফিতা নিয়ে এসে বললো হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি খাইবারের দিন তুলে নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই একটি অথবা দুটি জুতার ফিতা আগুনের ফিতায় রূপান্তরিত হতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

218

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) বলেন যে, তুফায়ল ইবনু 'আমুর দাওসী (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আপনার জন্য একটি মাযবুত দুর্গ ও সেনাবাহিনী হোক? রাবী বলেন, দাওস গোত্রে জাহিলী যুগের একটি দুর্গ ছিল (তিনি এদিকে ইঙ্গিত করেন)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কবুল করলেন না। কারণ, আল্লাহ তাআলা আনসারদের জন্য এ সৌভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়ল ইবনু 'আমর (রাযিঃ) এবং তার গোত্রের একজন লোকও তার সঙ্গে মদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। তুফায়ল ইবনু আমর (রাযিঃ) এর সাথে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। সে রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেলল। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়। তুফায়ল ইবনু আমর দাওসী (রাযিঃ) স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবূত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছে? সে বললো, আল্লাহ তা'আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফায়ল (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দু'টো আবৃত দেখছি? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমি স্বেচ্ছায় যে অংশ নষ্ট করেছে তা আমরা কখনো ঠিক করব না। তুফায়ল (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'আ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি তার হাত দু'টোকেও ক্ষমা করে দিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

219

আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ্ আয যাব্বী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের আগে ইয়ামান থেকে এক বাতাস প্রবাহিত করবেন যা হবে রেশম অপেক্ষাও নরম। যার অন্তরে দান পরিমাণ ঈমান থাকবে তার রূহ ঐ বাতাস কবয করে নিয়ে যাবে। রাবী আবূ আলকামাহ مِثْقَالُ حَبَّةٍ বর্ণনায় আছে। আর রাবী আবদুল আযীয مِثْقَالُ ذَرَّةٍ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

220

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আধার রাতের মতো ফিতনা আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মু'মিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মু'মিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দীন বিক্রি করে বসবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

221

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলো, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উচু করবে না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তার সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলবে না; এতে তোমাদের ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে অথচ তোমরা টেরও পাবে না"- (সূরাহ আল হুজুরাত ৪৯ঃ ২)। তখন সাবিত (রাযিঃ) নিজের ঘরে বসে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি একজন জাহান্নামী। এরপর থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবা সা'দ ইবনু মুআযকে সাবিত (রাযিঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, হে আবূ আমরা সাবিতের কি হলো? সা'দ (রাযিঃ) বললেন, সে আমার প্রতিবেশী, তার কোন অসুখ হয়েছে বলে তো জানি না। আনাস (রাযিঃ) বলেন, পরে সা'দ (রাযিঃ) সাবিতের কাছে গেলেন এবং তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য উল্লেখ করলেন। সাবিত (রাযিঃ) বলেন, এ আয়াত নাযিল হয়েছে। আর তোমরা জান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর আমার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে উচু হয়ে যায়। সুতরাং আমি তো জাহান্নামী। সা'দ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে সাবিতের কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, না, বরং সে তো জান্নাতী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

222

কাতান ইবনু নুসায়র (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস ছিলেন আনসারদের খতীব। যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ "তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উচু করো না।" বাকী অংশ হাম্মাদ বর্ণিত উল্লেখিত রিওয়ায়াতের অনুরূপ। তবে এ রিওয়ায়াতে সা'দ ইবনু মুআয এর উল্লেখ নেই। আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সাখর আদ দারিমী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন এ আয়াত নায়িল হলঃ অর্থাৎ "তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উচু করো না।" এ বর্ণনায় সাদ ইবনু মুআয এর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

223

224

হুরায়ম ইবনু ‘আবদুল আ'লা আল আসাদী (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলো .....। এতেও সা'দ ইবনু মু'আয এর উল্লেখ নেই। তবে শেষে আছে, আমরা তাকে ভাবতাম, একজন জান্নাতী লোক আমাদের মাঝে বিচরণ করছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

225

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, কিছু সংখ্যক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, জাহিলী যুগে আমরা যা করেছি এর জন্যও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে তাকে জাহিলী যুগের আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও মন্দ করবে তাকে জাহিলী ও ইসলাম উভয় যুগের (মন্দ) কাজের জন্য পাকড়াও করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

226

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট প্রশ্ন করলাম- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলী যুগে যা করেছি এর জন্যও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে ভাল কাজ করবে জাহিলী যুগে সে কি করেছে তার জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর মন্দ কাজ করে তাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাকড়াও করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

227

মিনজাব ইবনু হারিস আত তামীমী (রহঃ) ... আমাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

228

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না আল আনায়ী, আবূ মা'ন আর রাকাশী ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... ইবনু শামাসাহ আল মাহরী (রহঃ) বলেন, আমরা 'আমর ইবনু আস (রাযিঃ) কে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে দেখতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি দেয়ালের দিকে মুখ করে অনেক্ষণ কাঁদছিলেন। তার পুত্র তাকে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত বিভিন্ন সুসংবাদের উল্লেখ পূর্বক সান্তুনা দিচ্ছে যে, আব্বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেননি? রাবী বলেন, তখন তিনি পুত্রের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, আমার সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয় হচ্ছে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল-হ” এ কালিমার সাক্ষ্য দেয়া। আর আমি অতিক্রম করেছি আমার জীবনের তিনটি পর্যায়। এক সময় তো আমি এমন ছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচরণে আমার চেয়ে কঠোরতর আর কেউই ছিল না। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কবজায় পেয়ে হত্যা করা ছিল আমার সবচাইতে প্রিয় ভাবনা। যদি সে অবস্থায় আমার মৃত্যু হত তবে নিশ্চিত আমাকে জাহান্নামে যেতে হত। এরপর আল্লাহ যখন আমার অন্তরে ইসলামের অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালাম যে, আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দিন, আমি বাই’আত করতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন, তখন আমি আমার হাত টেনে নিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমর, কি ব্যাপার? বললাম, পূর্বে আমি শর্ত করে নিতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কি শর্ত করবে? আমি উত্তর করলাম, আল্লাহ যেন আমার সব গুনাহ মাফ করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমর! তুমি কি জান না যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়। আর হিজরত পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়? আর হজ্জ পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়? আমর বলেন, এ পর্যায়ে আমার অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপেক্ষা বেশি প্রিয় আর কেউ ছিল না। আমার চোখে তিনি অপেক্ষা মহান আর কেউ নেই। অপরিসীম শ্রদ্ধার কারণে আমি তার প্রতি চোখভরে তাকাতেও পারতাম না। আজ যদি আমাকে তার দৈহিক আকৃতির বর্ণনা করতে বলা হয় তবে আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। কারণ চোখ ভরে আমি কখনোই তার প্রতি তাকাতে পারিনি। ঐ অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হত তবে অবশ্যই আমি জান্নাতী হওয়ার আশাবাদী থাকতাম। পরবর্তীকালে আমরা নানা বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছি, তাই জানি না, এতে আমার অবস্থান কোথায়? সুতরাং আমি যখন মারা যাব, তখন যেন কোন বিলাপকারিণী অথবা আগুন সে জানাযার সাথে না থাকে। আমাকে যখন দাফন করবে তখন আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে এবং দাফন সেরে একটি উট যাবাহ করে তার গোশত বণ্টন করতে যে সময় লাগে ততক্ষণ আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন তোমাদের উপস্থিতির কারণে আমি আতঙ্ক মুক্ত অবস্থায় থাকি ও চিন্তা করতে পারি যে, আমার প্রতিপালকের দূতের কি জবাব দিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

229

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমুন ও ইবরাহীম ইবনু দীনার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, মুশরিকদের কিছু লোক যারা ব্যাপকভাবে হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল, তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি যে দীনের প্রতি মানুষদের আহবান জানাচ্ছেন, এতো অনেক উত্তম বিষয়। তবে আমাদের পূর্বকৃত গুনাহসমূহের প্রায়শ্চিত্ত সম্পর্কে আপনি যদি আমাদের নিশ্চিতভাবে কিছু অবহিত করতেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ “এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না; যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে"- (সূরাহ্ আল ফুরকান ২৫ঃ ৬৮)। আরো নাযিল করেনঃ "হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না”— (সূরাহু আয যুমারঃ ৫৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

230

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... হাকিম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, জাহিলী যুগে আমি যে সব নেক কাজ করতাম, আমি কি তার কোন প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর করলেনঃ তোমার পূর্বকৃত সৎকর্মের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। রাবী বলেন, হাদীসে উক্ত التَّحَنُّثُ শব্দটির অর্থ التَّعَبُّدُ নির্জনে ইবাদত করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

231

হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... হাকিম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সদাকাহ, দাসমুক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা ইত্যাদি যে সব নেক কাজ জাহিলী যুগে আমি করতাম তার কি কোন প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, তোমার পূর্বকৃত সৎকর্মের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

232

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাহিলী যুগে যে সকল নেক কাজ করতাম আমি কি তার কোন প্রতিদান পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমার সে সব নেক কাজের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! জাহিলী যুগে যে সব নেক কাজ আমি করেছি ইসলামী জিন্দেগীতেও আমি তা করে যাব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

233

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাযিঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) জাহিলী যুগে একশ' ক্রীতদাসকে মুক্তি দিয়ে দিলেন, মাল বোঝাই একশ' উট দান করেছিলেন, ইসলাম গ্রহণ করার পরেও তিনি একশ' ক্রীতদাস আযাদ করেন এবং মালামাল বোঝাই একশ' উট সদাকাহ করেন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে এসে প্রশ্ন করেন। এরপর বর্ণনাকারী উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

234

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, (আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ) “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম দ্বারা কলুষিত করেনি নিরাপত্তা তাদের জন্য, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত"- (সূরাহ আল আন’আম ৬ঃ ৮২)। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে তা সাহাবাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হল। তারা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর আদৌ অত্যাচার করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা যা মনে করেছ বিষয়টি তা নয়, বরং এর মর্মার্থ হচ্ছে লুকমান তার পুত্রকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ “হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শারীক করো না, নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলম"- (সূরাহ্ লুকমান ৩১ঃ ১৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

235

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আলী ইবনু খাশরাম, মিনজাব ইবনু হারিস আত তামীমী এবং আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আমাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। আবূ কুরায়ব (রহঃ) বলেন, ইবনু ইদরীস (রহঃ) বলেছেন, প্রথমতঃ আমার পিতা আমাকে আ'বান ইবনু তাগলিব থেকে আমাশ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীকালে আমি নিজেই আমাশ থেকে সরাসরি এ হাদীস শুনেছি (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

236

মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয যারীর ও উমাইয়্যাহ ইবনু বিসতাম আল ‘আইশী (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ "আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনের অভ্যন্তরে যা আছে তা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে তার হিসাব গ্রহণ করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৮৪)। রাবী বলেন, তখন বিষয়টি সাহাবাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হল। তাই সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত, সিয়াম, জিহাদ, সদাকাহ প্রভৃতি যে সমস্ত আমল আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী ছিল এ যাবৎ আমাদেরকে সেগুলোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এ বিষয়টি তো আমাদের ক্ষমতার বাইরে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আহলে কিতাব-ইয়াহুদী ও খৃষ্টানের ন্যায় তোমরাও কি এমন কথা বলবে যে, শুনলাম কিন্তু মানলাম না। বরং তোমরা বল; শুনলাম ও মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ নির্দেশ শুনে সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আমরা শুনেছি ও মেনেছি, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তুমিই আমাদের শেষ প্রত্যাবর্তনস্থল। রাবী বলেন, সাহাবাদের সকলে এ আয়াত পাঠ করলেন এবং মনেপ্রাণে তা গ্রহণ করে নিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন : “রাসূল ঈমান এনেছেন তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনগণও তাদের সকলেই আল্লাহর, তার ফেরেশতাগণের, তার কিতাবসমূহের এবং তার রাসূলগণের ঈমান এনেছে। (তারা বলে) আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম! হে আমাদের রব! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই আর তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৮৫)। যখন তারা সর্বোতভাবে আনুগত্য প্রকাশ করলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে নাযিল করলেনঃ "আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার পক্ষে করা অসম্ভব। সে ভাল যা উপার্জন করে তা তারই এবং মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই। হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করে ফেলি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না।" আল্লাহ তা'আলা বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো ইরশাদ হলঃ "হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো ইরশাদ হলঃ "হে আমাদের রব! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।" আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো ইরশাদ হল, "আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও, আমাদের উপর দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান কর”— (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৮৬)। আল্লাহ তা'আলা বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

237

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যে, (মহান আল্লাহর বাণীঃ) "তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব গ্রহণ করবেন"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৮৪)। এ আয়াতটি নাযিল হলে সাহাবাগণ খুবই উদ্বিগ্ন হলেন, আর কোন বিষয়ে তারা এতো উদ্বিগ্ন হননি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, বরং তোমরা বল, শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম এবং মেনে নিলাম। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন। তিনি নাযিল করলেন, আল্লাহ তা'আলা কারোর উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা উপার্জন করে তা তারই, আর মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই। হে আমাদের রব। যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করে ফেলি তবে আমাদের পাকড়াও করো না। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করলেনঃ হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। আল্লাহ তা'আলা আরও ঘোষণা করলেনঃ "(বলুন) আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের রব।" আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

238

সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কথা বা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের জন্য তাদের মনে কল্পনাগুলোকে মাফ করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

239

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের জন্য কথা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত তাদের মনের কল্পনাগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন। যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) এর সূত্রেও হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩২, ২৩৩; ইসলামিক সেন্টারঃ)

240

241

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, আমার বান্দা কোন পাপ কর্মের কথা ভাবলেই তা লিখবে না বরং সে যদি তা করে তবে একটি পাপ লিখবে। আর যদি সে কোন নেক কাজের নিয়্যাত করে কিন্তু সে যদি তা না করে, তাহলেও এর প্রতিদানে তার জন্য একটি সাওয়াব লিখবে। আর তা সম্পাদন করলে লিখবে দশটি সাওয়াব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

242

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, আমার বান্দা যখন কোন ভাল কাজের নিয়্যাত করে অথচ এখনো তা করেনি, তখন আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখি; আর যদি তা কাজে পরিণত করে তবে দশ থেকে সাতশ' গুণ পর্যন্ত সাওয়াব লিখি। পক্ষান্তরে যদি মন্দ কাজের নিয়্যাত করে অথচ এখনো তা কাজে পরিণত করেনি তবে এর জন্য কিছুই লিখি না। আর তা কাজে পরিণত করলে একটি মাত্র পাপ লিখি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

243

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ যখন আমার কোন বান্দা মনে মনে কোন ভাল কাজ করার কল্পনা করে, তখন সে কাজ না করতেই আমি তার জন্যে একটি সাওয়াব লিখে রাখি। আর যদি সে কাজটি সম্পন্ন করে তখন তার দশগুণ নেকী লিখে রাখি। আর যদি সে অন্তরে অন্তরে কোন মন্দ কাজ করার কল্পনা করে, তখন সে কাজ না করা পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেই। আর যদি সে কাজটি করে ফেলে তখন একটি মাত্র গুনাহ লিখে রাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ ফেরেশতারা বলেন- হে প্ৰভু! তোমার অমুক বান্দা একটি মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করেছে অথচ তিনি স্বচক্ষে তা দেখেন, তখন তিনি তাদেরকে (ফেরেশতাদেরকে) বলেনঃ তাকে পাহারা দাও। (অর্থাৎ দেখ সে কি করে)। যদি সে এ কাজটি করে, তা হলে একটি গুনাহ লিখ। কেননা সে আমার ভয়েই তা বর্জন করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ ইসলামে নিষ্ঠাবান হয় তখন তার প্রত্যেকটি নেক কাজ যা সে করে তার জন্যে দশ থেকে সাতশ' গুণ পরিমাণ নেকী লিখা হয় এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের জন্য কেবলমাত্র একটি করে গুনাহ লিখা হয়। এভাবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত) চলতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

244

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে ব্যক্তি নেক কাজের ইচ্ছা করে অথচ সম্পাদন করেনি, তার জন্য একটি সাওয়াব লিখা হয়। আর যে ইচ্ছা করার পর কার্যত সম্পাদন করে অনন্তর তার ক্ষেত্রে সাতশ' গুণ পর্যন্ত সাওয়াব লিখা হয়। পক্ষান্তরে যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করে আর তা না করে, তার কোন গুনাহ লিখা হয় না; আর তা করলে (একটি) গুনাহ লিখা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

245

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা ভালো এবং মন্দ উভয়টিকে লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছা করে অথচ তা এখনও বাস্তবে পরিণত করেনি, তার জন্যে আল্লাহ নিজের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। আর যদি সে কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছা করে এবং তা বাস্তবেও পরিণত করে, তখন আল্লাহ নিজের কাছে দশ থেকে সাতশ' বা আরো অনেক গুণ বেশী সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। আর যদি সে কোন মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করে এবং তা বাস্তবে পরিণত না করে, তখন আল্লাহ নিজের কাছে একটি পরিপূর্ণ সাওয়াব লিখেন, কিন্তু যদি সে মন্দ কাজটি বাস্তবে পরিণত করে, তখন আল্লাহ তা'আলা কেবলমাত্র একটি পাপই লিপিবদ্ধ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

246

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাদ আবূ উসমান (রহঃ) থেকে উল্লেখিত সনদে 'আবদুল ওয়ারিস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেন। তবে এ হাদীসের বর্ণনাকারী নিম্নের বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, "আল্লাহ উক্ত গুনাহ মাফ করে দেন। আল্লাহর বিরুদ্ধে গিয়ে একমাত্র সে ধ্বংস হয় যার ধ্বংস অনিবার্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

247

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবা তার সামনে এসে বললেন, আমাদের অন্তরে এমন কিছু খটকার সৃষ্টি হয় যা আমাদের কেউ মুখে উচ্চারণ করতেও মারাত্মক মনে করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই তোমাদের তা হয়? তারা জবাব দিলেন, জী, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটিই স্পষ্ট ঈমান। (কারণ ঈমান আছে বলেই সে সম্পর্কে ওয়াসওয়াসা ও সংশয়কে মারাত্মক মনে করা হয়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

248

মুহাম্মদ ইবনু বাশশার, মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু জাবালাহ ইবনু আবূ রওওয়াদ ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

249

ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব আস সাফফার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এটাই সত্যিকারের ঈমান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

250

হারূন ইবনু মা’রূফ ও মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে এমন প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয় যে, এ সৃষ্টিজগত তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করল কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যার অন্তরে এমন প্রশ্নের উদয় হয় সে যেন বলে, “আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি"*।(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

251

মাহমূদ ইবনু গাইলান (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শয়তান তোমাদের নিকট এসে বলে, আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে সে বলে, আল্লাহ। এরপর রাবী পূর্ব হাদীসটির অনুরূপ এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি এর সঙ্গে وَرُسُلِهِ শব্দটি বর্ধিত বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

252

যুহারর ইবনু হারব ও "আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ শইতান তোমাদের কারো নিকট আসে এবং বলে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে? পরিশেষে এ প্রশ্নও করে, কে তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? এ পর্যায়ে পৌছলে তোমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর এবং এ ধরনের ভাবনা থেকে বিরত হও*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

253

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ শয়তান আল্লাহর বান্দার কাছে আসে এবং কুমন্ত্রণা দিয়ে বলে; এটা কে সৃষ্টি করেছে? .... (বাকী অংশ) পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

254

আবদুল ওয়ারিস ইবনু 'আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মানুষ তোমাদেরকে জ্ঞানের কথা জিজ্ঞেস করবে, এক পর্যায়ে তারা এ কথাও জিজ্ঞেস করবে, আল্লাহ তো আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করল কে? রাবী বলেন, তখন আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এক ব্যক্তির হাত ধরা অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন। আমাদের দুই ব্যক্তি এ ধরনের প্রশ্ন করেছে, আর এ হলো তৃতীয় জন। বর্ণনাকারী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছে আর এ হলো দ্বিতীয় জন। যুহায়র ইবনু হারব ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, মানুষ সর্বদা...। এরপর রাবী আবদুল ওয়ারিসের রিওয়ায়াতের ন্যায় বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ করেননি। তবে হাদীসটির শেষে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যই বলেছেন কথাটি সংযুক্ত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

255

256

আবদুল্লাহ ইবনু আর রূমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ! মানুষ তোমাকে প্রশ্ন করতে থাকবে। এমন কি এ প্রশ্নও করবে, আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করল কে? আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, পরবর্তীকালে একদিন আমি মসজিদে (নবাবীতে) উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে কতিপয় বেদুঈন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, হে আবূ হুরাইরাহ! এ তো আল্লাহ তা'আলা। তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হাতে কিছু কংকর নিয়ে তাদের প্রতি তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, বেরিয়ে যাও, বেরিয়ে যাও, আমার বন্ধু (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য কথাই বলে গেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

257

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই লোকেরা তোমাদেরকে সব বিষয়ে জিজ্ঞেস করবে। এমন কি তারা বলবে, আল্লাহ তো সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাকে সৃষ্টি করল কে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

258

আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু যুরারাহ আল হাযরামী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ আপনার উম্মত সর্বদা এটা কে সৃষ্টি করল। এ ধরনের প্রশ্ন করতে থাকবে। এমনকি এ প্রশ্নও করবে যে, সকল সৃষ্টিই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তা হলে আল্লাহকে সৃষ্টি করল কে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

259

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে রাবী ইসহাক তার রিওয়ায়াতে “আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আপনার উম্মত" ... এ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

260

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক বিনষ্ট করে তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে রেখেছেন। তখন জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! অতি সামান্য বস্তু হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আরাক (বাবলা গাছের মত এক ধরনের কাঁটাযুক্ত) গাছের ডাল হলেও এ শাস্তি দেয়া হবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫২. ইসলামিক সেন্টারঃ)

261

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ উমামাহ আল হারিসী (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

262

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে অথচ সে মিথ্যাবাদী। এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী বলেন, আশ'আস ইবনু কায়স তথায় প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আবূ আবদুর রহমান (আবদুল্লাহ) তোমাদেরকে কি বর্ণনা করলেন? তদুত্তরে সকলে উক্ত হাদীসটির কথা বললেন। তিনি বললেন, আবূ আবদুর রহমান সত্যই বর্ণনা করেছেন, ঘটনাটি আমাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছিল। ব্যাপার হলো ইয়ামানে জনৈক ব্যক্তির সাথে আমারও একখণ্ড ভূমি ছিল। এর মীমাংসা করার জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে উপস্থিত হই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার দাবীর স্বপক্ষে তোমার নিকট কোন প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা হলে বিবাদীর কসম নেয়া হবে। আমি বললাম, এ ব্যক্তি তো কসম করবেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ গ্রাস করে অথচ সে মিথ্যাবাদী আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়, “যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের কসম তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য রয়েছে মর্মম্ভদ শাস্তি"- (সূরাহ্ আলে ইমরান ৩ঃ ৭৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

263

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন সম্পদ আত্মসাৎ করবে আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। পরে বর্ণনাকারী আমাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি (ইয়ামানের ভূমির স্থলে) এ কথা বলেন, জনৈক ব্যক্তির সাথে আমার সাথে একটি কূপ নিয়ে বিরোধ ছিল। আমরা এর মীমাংসার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হই। তখন তিনি বললেন, তোমার দু'জন সাক্ষী লাগবে অথবা বিবাদী থেকে কসম নেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

264

ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম করবে আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রমাণ হিসেবে এ আয়াত পাঠ করেনঃ “যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, (পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মদ্ভদ শাস্তি রয়েছে)- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ৭৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

265

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, হান্নাদ ইবনু আস সারী এবং আবূ আসিম আল হানাফী (রহঃ) ..... ওয়ায়িল (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ওয়ায়িল (রাযিঃ) বলেন, হাযরামাওতের জনৈক ব্যক্তি কিনদীর এক ব্যক্তিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়। হাযরামাওতবাসী লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার একটি পৈতৃক ভূমি জোর করে দখল করে। কিনদী বলে উঠল না, এতো আমারই সম্পত্তি এবং আমারই দখলে আছে। এতে আমি চাষাবাদ করি, এতে কারোর কোন অধিকার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাযরামাওতবাসীকে বললেনঃ তোমার কোন সাক্ষী আছে? সে উত্তর দিল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হলে এ বিষয়ে বিবাদী কসম করবে। হাযরামাওতবাসী বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এতো অসৎ লোক, কসম করার বিষয়ে তার আদৌ পরোয়া নেই। আর সে কোন কিছুরই বাছ বিচার করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এছাড়া তার কাছ থেকে তোমার নেয়ার আর কোন পথ নেই। এরপর কিনদী শপথ করতে উদ্যোগ নিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি সে (কিনদী) অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য শপথ করে তবে সে অবশ্যই আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার মুখ ফিরিয়ে নিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

266

যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ওয়ায়িল ইবনু হুজুর (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে দু' ব্যক্তি তার নিকট এসে একটি ভূমি সম্পর্কে বিচার প্রার্থনা করে। তন্মধ্যে একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী যুগে এ ব্যক্তি আমার ভূমি জোর করে দখল করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, বিচার প্রার্থনাকারী ছিল ইমরুল কায়স ইবনু আবিস আল কিনদী আর তার বিবাদী ছিল রাবি'আহ ইবনু আবদান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। লোকটি বলল, আমার কোন সাক্ষী নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হলে বিবাদী থেকে কসম নেয়া হবে। লোকটি বলল, তবে তো সে মিথ্যা কসম করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এছাড়া তার কাছ থেকে তোমার নেয়ার আর কোন পথ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বিবাদী যখন শপথ করার জন্য প্রস্তুত হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে অন্যায়ভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ করবে সে আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী ইসহাক তার বর্ণনায় رَبِيعَةُ بْنُ عَيْدَانَ (রাবী'আহ ইবনু আইদান) উল্লেখ করেন*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

267

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ আমার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয় তবে আমি কি করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তোমার সম্পদ নিতে দিবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে এ নিয়ে মারামারি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তার সাথে মারামারি করবে। লোকটি বলল, আপনি কি বলেন যদি সে আমাকে হত্যা করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তা হলে তুমি শহীদ বলে গণ্য হবে*। লোকটি বলল, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি তাকে হত্যা করি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ সে জাহান্নামী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

268

আল হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী, ইসহাক ইবনু মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... উমার ইবনু আবদুর রহমানের আযাদকৃত গোলাম সাবিত (রাযিঃ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ানের মধ্যে যখন কিছু সম্পদ নিয়ে ঝগড়া দেখা দেয়। আর তারা উভয়ে লড়াইয়ের জন্য উদ্যত হয়ে পড়ে। তখন খালিদ ইবনু আস 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর এর নিকট গেলেন এবং বুঝাতে চেষ্টা করলেন। তখন 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর বললেন, তুমি কি জান না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আহমাদ ইবনু উসমান আস নাওফালী (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে উল্লেখিত সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

269

270

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) বলেন, মাকিল ইবনু ইয়াসার-এর মৃত্যুশয্যায় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তার সাক্ষাতে যান। মাকিল তাকে বললেন, আজ তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা এমন একটি হাদীস শুনাব যা আমি আরো বেঁচে থাকব বলে জানলে তা কিছুতেই শুনাতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা যাকে জনগণের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু খিয়ানাতকারীরূপে যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

271

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মাকিল ইবনু ইয়াসারের অসুস্থ অবস্থায় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তার সাক্ষাতে গেলেন এবং কিছু জানতে চাইলেন। তখন মাকিল (রাযিঃ) বলেন, আজ তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমি আগে তোমাকে বর্ণনা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা যাকে জনগণের শাসনভার প্রদান করেন আর সে যদি খিয়ানাতকারীরূপে মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। উবাইদুল্লাহ বললেন, আপনি কি আজ পর্যন্ত এ হাদীস আমাকে বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, না কখনো বর্ণনা করিনি। অথবা রাবী এ কথা বলেছেন, না, বর্ণনা করতে ইচ্ছুক ছিলাম না*।(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

272

আল কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) বলেন, আমরা মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) এর অসুস্থতাকালে তার কুশলাদি জানতে গিয়েছিলাম। এমন সময় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তথায় উপস্থিত হন। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) তাকে বললেন, আজ তোমাকে একটি হাদীস শুনাব যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি...। পরে তিনি উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৩ ইসলামিক সেন্টারঃ)

273

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ মালীহ (রহঃ) থেকে, মাকিল ইবনু ইয়াসার এর অসুস্থতাবস্থায় তাকে দেখতে উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ উপস্থিত হলে তাকে মাকিল বলেন, আজ আমি তোমাকে একটি হাদীস বলব, আমি মৃত্যুশয্যায় না থাকলে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিমদের দায়িত্বে নিযুক্ত কোন আমীর (শাসক) যদি তাদের কল্যাণ কামনা না করে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রয়াস না চালায় তবে সে মুসলিমদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

274

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুটি কথা বলেছিলেন, সে দুটির একটি তো আমি স্বচোখেই দেখেছি আর অপরটির অপেক্ষা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানব হৃদয়ের মূলে আমানাত নাযিল হয়*। তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়। অনন্তর তারা কুরআন শিখেছে এবং সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছে। তারপর তিনি আমাদেরকে আমানাত উঠিয়ে নেয়ার বর্ণনা দিলেন। বললেন, মানুষ ঘুমাবে আর তখন তার অন্তর হতে আমানাত তুলে নেয়া হবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে একটি নুকতার মত। এরপর আবার সে ঘুমায় তখন তার অন্তর থেকে আমানাত তুলে নেয়া হবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে ফোস্কার মত; যেন একটি আগুনের ফুলকি যা তুমি তোমার পায়ে রগড়ে দিলে। তখন তাতে ফোস্কা পড়ে যায় এবং তুমি তা ফোলা দেখতে পাও অথচ তাতে (পুঁজ-পানি ব্যতীত) কিছু নেই। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি কাকর নিয়ে তার পায়ে ঘসলেন এবং বললেন, যখন এমন অবস্থা হয়ে যাবে তখন মানুষ বেচাকেনা করবে কিন্তু কেউ আমানত শোধ করবে না। এমন কি বলা হবে যে, অমুক বংশে একজন আমানাতদার আছেন। এমন অবস্থা হবে যে, কাউকে বলা হবে বড়ই বাহাদুর, হুশিয়ার ও বুদ্ধিমান অথচ তার অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে না। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এমন এক যুগও গেছে যখন যে কারোর সাথে লেনদেন করতে দ্বিধা করতাম না। কারণ সে যদি মুসলিম হতো তবে তার দীনদারীই তাকে আমার হাক পরিশোধ করতে বাধ্য করত। আর যদি সে খৃষ্টান বা ইয়াহুদী হতো তবে তার প্রশাসক তা শোধ করতে তাকে বাধ্য করত। কিন্তু বর্তমানে আমি অমুক অমুক ব্যতীত কারে সাথে লেনদেন করতে রাজি না। ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আমাশ (রহঃ) এর সূত্রে পূর্ব বর্ণিত সনদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫, ২৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

275

276

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুলাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা উমার (রাযিঃ) এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফিতনাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছ? উপস্থিত একদল বললেন, আমরা শুনেছি। উমর (রাযিঃ) বললেন, তোমরা হয়তো একজনের পরিবার ও প্রতিবেশীর ফিতনার কথা মনে করেছ। তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, সালাত, সিয়াম ও সদাকার মাধ্যমে এগুলোর কাফফারাহ হয়ে যায়। কিন্তু তোমাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বড় বড় ফিতনার কথা বর্ণনা করতে শুনেছ, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ধেয়ে আসবে। হুযাইফাহ (রাযিঃ) বলেন, প্রশ্ন শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম, আমি (শুনেছি)। উমার (রাযিঃ) বললেন, তুমি শুনেছ, মাশাআল্লাহ। হুযাইফাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে। যে অন্তরে তা গেঁথে যায় তাতে একটি করে কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে তাতে একটি উজ্জ্বল দাগ পড়বে। এমনি করে দুটি অন্তর দু'ধরনের হয়ে যায়। এটি সাদা পাথরের ন্যায়; আসমান ও জমিন যতদিন থাকবে ততদিন কোন ফিতনা তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর অপরটি হয়ে যায় উল্টানো সাদা মিশ্রিত কালো কলসির ন্যায়, তার প্রবৃত্তির মধ্যে যা গেছে তা ছাড়া ভাল-মন্দ বলতে সে কিছুই চিনে না। হুযাইফাহ (রাযিঃ) বললেন, "উমর (রাযিঃ) কে আমি আরো বললাম, আপনি এবং সে ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। অচিরেই সেটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমার (রাযিঃ) বললেন, সর্বনাশ! তা ভেঙ্গে ফেলা হবে? যদি ভেঙ্গে ফেলা না হত তাহলে হয়ত পুনরায় বন্ধ করা যেত। হুযাইফাহ (রাযিঃ) উত্তর করলেন, না ভেঙ্গে ফেলাই হবে। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি 'উমার (রাযিঃ) কে এ কথাও শুনিয়েছি, সে দরজাটি হল একজন মানুষ; সে নিহত হবে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে। এটি কোন গল্প নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস। বর্ণনাকারী আবূ খালিদ বলেনঃ আমি সাদকে জিজ্ঞেস করলাম,أَسْوَدُ مُرْبَادًّا এর অর্থ কি? উত্তরে তিনি বললেন, কালো-সাদায় মিশ্রিত রং। আমি বললাম,الْكُوزُ مُجَخِّيًا এর অর্থ কি? তিনি বললেন, উল্টানো কলসি'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

277

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... রিব'ঈ (রহঃ) বলেন, হুযাইফহ্ (রাযিঃ) এর নিকট থেকে ফিরে এসে আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, গতকাল যখন আমি আমীরুল মু'মিনীন উমার (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম, তখন তিনি তার সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমাদের মধ্যে কার ফিতনা সম্পৰ্কীয় হাদীস স্মরণ আছে...। এরপর রাবী আবূ খালিদ বর্ণিত পূর্বের হাদীসটির ন্যায় বর্ণনা করেন তবে তিনি এর আবূ মালিক বর্ণিত ব্যাখ্যার উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

278

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না, আমর ইবনু আলী ও উকবাহ ইবনু মুকরাম আল আমী (রহঃ) ... রিবাঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনাহ সম্পর্কে কি বলেছেন এ সম্পর্কে তোমাদের কেউ আমাকে হাদীস বর্ণনা করতে পারবে? তখন হুযাইফাহ (রাযিঃ)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি পারব...। এরপর রিবাঈ এর সূত্রে বর্ণিত আবূ মালিক এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদীসে এও উল্লেখ করেন যে, হুযাইফাহ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে যে হাদীস বর্ণনা করেছি তা কোন বানোয়াট কথা নয়; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই তা বর্ণনা করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

279

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ও ইবনু আবূ উমর (রাযিঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ইসলাম শুরুতে অপরিচিত ছিল, অচিরেই তা আবার শুরুর মতো অপরিচিত হয়ে যাবে*। সুতরাং এরূপ অপরিচিত অবস্থায়ও যারা ইসলামের উপর টিকে থাকবে তাদের জন্য মুবারাকবাদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

280

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আল ফাযল ইবনু সাহল আল আ'রাজ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, অপরিচিতের ন্যায় ইসলাম শুরু হয়েছিল, অচিরেই তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে তার গর্তে প্রবেশ করে তদ্রুপ ইসলামও দুই মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

281

আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে আপন গর্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তদ্রুপ ইসলামও সংকুচিত হয়ে মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

282

যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীতে 'আল্লাহ আল্লাহ বলার মতো লোক থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘আল্লাহু আল্লাহু বলার মতো একটি মানুষ অবশিষ্ট থাকতে কিয়ামত হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৩, ২৭৪; ইসলামিক সেন্টারঃ)

283

284

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি নির্দেশ দিলেন, কতজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তার হিসাব করে আমাকে বল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের সম্পর্কে কিছু আশঙ্কা করেন? আমাদের সংখ্যা ছয়শ' থেকে সাতশ পর্যন্ত। তিনি বললেন, তোমরা জান না, হয়ত তোমরা কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে*। রাবী বলেন, এরপর এক সময় আমরা এমন পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হই যে, আমাদের কোন কোন লোককে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আত্মগোপন করে সালাত আদায় করতে হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

285

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কিছু মাল বণ্টন করছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে কিছু দিন, কেননা সে নিশ্চয়ই একজন মু'মিন ব্যক্তি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বরং বল যে, সে একজন মুসলিম। সাহাবা বললেন, আমি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছি, তিনিও তিনবারই আমাকে ঐ একই উত্তর দিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অপরজন আমার নিকট অধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি কাউকে এ কারণে দিয়ে থাকি যে, আল্লাহ তা'আলা যেন তাকে উল্টো করে জাহান্নামে না ফেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

286

যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোককে কিছু মাল দিলেন। তখন সা'দ (রাযিঃ) তাদের মধ্যে বসেছিলেন। সা'দ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না, অথচ আমার দৃষ্টিতে সে ছিল পাওয়ার বেশি উপযুক্ত। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি তাকে তো মু'মিন বলে জানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বরং বল সে মুসলিম। আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তার সম্পর্কে আমি যা জানি তা আমার নিকট প্রবল হয়ে উঠল, তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে অবশ্যই মু'মিন বলে ধারণা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বরং বল সে মুসলিম। আমি কিছুক্ষণ চুপ রইলাম। পুনরায় তার সম্পর্কে আমি যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল, তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম, আমি তো তাকে অবশ্যই মুমিন বলে জানি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং বল সে মুসলিম। অন্যজন আমার নিকট অধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি কাউকে এ আশঙ্কায় কিছু দান করে থাকি যে, আল্লাহ তা'আলা যেন তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ না করেন*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

287

হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন লোককে কিছু দিলেন। তখন আমি তাদের মধ্যে বসা ছিলাম। এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম এবং চুপে চুপে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

288

হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু সা'দকে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তবে তিনি তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, সা'দ (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘাড় ও বাহুর মাঝখানে সজোরে হাত রেখে বললেন, হে সাদ! তুমি কি এজন্য বিতর্ক করতে চাও? আমি কাউকে দান করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

289

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ইবরাহীম (আঃ) এর তুলনায় আমাদের মনে অধিক সন্দেহ জাগতে পারে[1]। তিনি বলেছিলেনঃ "হে আমার প্রতিপালক কিভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন, আমাকে দেখান? আল্লাহ বললেনঃ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না? তিনি উত্তরে বললেন, কেন করব না? তবে এটা কেবল আমার চিত্তের প্রশান্তির জন্য"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৬০)। আল্লাহ তা’আলা লুত (আঃ) এর উপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি কোন শক্তিশালী জনগোষ্ঠীর আশ্রয় গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন[2]। ইউসুফের দীর্ঘ কারাবরণের ন্যায় আমাকেও যদি কারাগারে অবস্থান করতে হত, তবে আমি রাজদূতের আহবানে সাড়া দিতাম[3]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

290

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব ও আবূ উবায়দ (রহঃ) উভয়ে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। যেরূপ বর্ণনা করেছেন ইউনুস (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে। তবে মালিক (রহঃ) তার হাদীসে কথাটির পর উল্লেখ করেন যে, "বরং আমার অন্তরের প্রশান্তির জন্যে"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে মালিক এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮০, ২৮১; ইসলামিক সেন্টারঃ)

291

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেন, প্রত্যেক নবীকে সে পরিমাণ মু'জিযা দেয়া হয়েছে, যে পরিমাণ মু'জিযার প্রতি মানুষ ঈমান এনেছে। পক্ষান্তরে আমাকে যে মু'জিযা প্রদান করা হয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহ প্রেরিত ওয়াহী*। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমার অনুসারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হবে বলে আশা রাখি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

292

ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

293

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিহ্ আল হামদানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। ইমাম শা'বীর নিকট এসে জনৈক খুরাসানী ব্যক্তিকে প্রশ্ন করতে দেখলাম। সে বলল, হে আবূ 'আমর! আমাদের অঞ্চলে কতিপয় খুরাসানীর মতামত হল, যে ব্যক্তি নিজের দাসীকে আযাদ করে দিয়ে তাকে বিয়ে করল সে যেন নিজে কুরবানীর উটের উপর সওয়ার হল (অর্থাৎ তারা তা নিন্দনীয় কাজ মনে করে।) শা'বী উত্তরে বললেন, আমাকে আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তিন ধরনের লোককে দ্বিগুণ সাওয়াব দান করা হবে। (তারা হলো) (১) যে আহলে কিতাব তার নবীর প্রতি ঈমান এনেছে এবং পরে আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং সত্য বলে মেনে নিয়েছে এবং আমার অনুসরণ করেছে সে দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। (২) যে দাস আল্লাহ তা'আলার হাক আদায় করেছে এবং তার মালিকের হকও আদায় করেছে, সেও দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে। (৩) যে ব্যক্তি তার দাসীকে উত্তম খাবার দিয়েছে, উত্তমরূপে আদব-কায়দা শিখিয়েছে, তারপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; সেও দ্বিগুণ সাওয়াবের অধিকারী হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর শা'বী উক্ত খোরাসানীকে বললেন, কোন বিনিময় ছাড়াই তুমি এ হাদীস নিয়ে যাও। অথচ এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হাদীসের জন্যও এক সময় মদীনা পর্যন্ত লোকেরা সফর করত। আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু আবূ উমার ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... সালিহ (রহঃ) থেকে পূর্বোল্লিখিত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৪, ২৮৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)

294

295

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! শীঘ্রই তোমাদের মাঝে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে একজন ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক হিসেবে অবতীর্ণ করা হবে[1]। তখন তিনি ক্রুশ (চিহ্ন) ধ্বংস করবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিযয়াহ কর রহিত করবেন[2]। তখন সম্পদ এত বেশী হবে যে তা গ্রহণ করার কেউ থাকবে না। 'আবদুল আ'লা ইবনু হাম্মাদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সনদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (তবে প্রত্যেক রিওয়ায়াতে কিছু ব্যবধান যেমন) ইবনু উয়াইনাহ তার রিওয়ায়াতে إِمَامًا مُقْسِطًا وَحَكَمًا عَدْلاً কথাটির উল্লেখ করেন। ইউনুস তার রিওয়ায়াতেحَكَمًا عَادِلاً এর উল্লেখ করেছেন إِمَامًا مُقْسِطًا উল্লেখ করেননি। সালিহ তার রিওয়ায়াতে লায়স বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ حَكَمًا مُقْسِطًا বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনায় আরও রয়েছে, সে সময় এক একটি সিজদা পৃথিবী ও পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ অপেক্ষা অধিক শ্রেয় বলে বিবেচিত হবে। তারপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেনঃ ইচ্ছা করলে তোমরা এ আয়াতটি পড়তে পারঃ “কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে [ঈসা (আঃ)] কে বিশ্বাস করবেই এবং কিয়ামতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন'- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ১৫৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬, ২৮৭; ইসলামিক সেন্টারঃ)

296

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রাযিঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর কসম ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ প্রশাসকরূপে আসবেন এবং ক্রুশ চূর্ণ করবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিযয়াহ্ তথা কর রহিত করবেন। মোটা তাজা উটগুলো বন্ধনমুক্ত করে দেয়া হবে কিন্তু তা নেয়ার জন্য কেউ চেষ্টা করবে না। পরস্পর শক্রতা, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না এবং সম্পদ গ্রহণের জন্য মানুষকে ডাকা হবে কিন্তু তা কেউ গ্রহণ করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৮ ইসলামিক সেন্টারঃ)

297

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের জীবন কতই না ধন্য হবে, যখন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন এবং তোমাদেরই একজন তোমাদের ইমাম হবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

298

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের জীবন কতই না ধন্য হবে, যে সময়ে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে তোমাদের মাঝে পাঠানো হবে আর তিনি তোমাদের নেতৃত্ব দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯০ ইসলামিক সেন্টারঃ)

299

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কতই না ধন্য হবে, যে সময় ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) আসবেন এবং তোমাদেরই একজন তোমাদের নেতৃত্ব প্রদান করবেন*। ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম বলেন, আমি ইবনু আবূ যিবকে জিজ্ঞেস করলাম, আওযাঈ আমাদেরকে যুহরীর সূত্রে, তিনি নাফি হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ আর তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে" শব্দে হাদীস বর্ণনা করছেন। তদুত্তরে তিনি বললেন, إِمَامُكُمْ مِنْكُمْ “তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে" কথাটির মর্ম জান কি? আমি বললাম, বলুন। তিনি বললেন, অর্থাৎ তোমাদের প্রতিপালক প্রেরিত কিতাব ও তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসৃত আদর্শের অবলম্বনে তিনি তোমাদের নেতৃত্ব প্রদান করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯১ ইসলামিক সেন্টারঃ)

300

ওয়ালীদ ইবনু শুজা', হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একদল সত্য দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন। মুসলিমদের আমীর বলবেন, আসুন সালাতে আমাদের ইমামাতি করুন! তিনি বলবেন না, আপনাদেরই একজন অন্যদের জন্য ইমাম নিযুক্ত হবেন। এ হলো আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত এ উম্মতের সম্মান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯২ ইসলামিক সেন্টারঃ)

301

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পশ্চিম দিকে সূর্যোদয়ের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, আর যখন পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠবে তখন সকল মানুষ একত্রে ঈমান আনবে। কিন্তু যে ইতঃপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি সে সময়ে ঈমান আনায় তার কোন কল্যাণ সাধিত হবে না। আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৩, ২৯৪; ইসলামিক সেন্টারঃ)

302

303

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এ তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনেনি বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি, এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমানে কোন উপকার হবে না। (১) পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়, (২) দাজ্জাল (এর আবির্ভাব) ও (৩) দাব্বাতুল আরয (ভূখণ্ড হতে এক প্রকার প্রাণীর আবির্ভাব)*।(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

304

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা'আলার) আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয় উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথারীতি আরশের নীচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি"- (সূরাহ আল আনআম ৬ঃ ১৫৮)*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

305

আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জান এ সূর্য কোথায় গমন করে? ..... এরপর রাবী ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

306

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদা আমি মসজিদে নবাবীতে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। সূর্য ঢলে পড়লে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আবূ যার! জান এ সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তার গন্তব্যে যায় এবং আল্লাহর নিকট সাজদার অনুমতি চায়। তখন তাকে অনুমতি দেয়া হয়। পরে একদিন যখন তাকে বলা হবে যেদিক থেকে এসেছো সেদিকে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উঠবে। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরাআত অনুসারে তিলাওয়াত করেনঃ এ তার গন্তব্যস্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

307

আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে "এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে"- (সূরাহ ইয়া-সীন ৩৬ঃ ৩৮)। এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেনঃ আরশের নীচে হল তার গন্তব্যস্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

308

আবূ তাহির আহমাদ ইবনু 'আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) .... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ওয়াহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। আর তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সকালের সূর্যের মতই সুস্পষ্টরূপে সত্যে পরিণত হত। অতঃপর তার কাছে একাকী থাকা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তারপর তিনি হেরা গুহায় নির্জনে কাটাতে থাকেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য কিছু খাদ্য সামগ্ৰী সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তারপর তিনি খাদীজার কাছে ফিরে যেতেন এবং আরো কয়েক দিনের জন্য অনুরূপভাবে খাদ্য সামগ্ৰী নিয়ে আসতেন। তিনি হিরা গুহায় য়খন ধ্যানে রত ছিলেন, তখন তার নিকট ফেরেশতা আসলেন, এরপর বললেন, পড়ুন! তিনি বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন ফেরেশতা আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হল। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এরং দ্বিতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হল। পরে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। এরপর আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তৃতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুবই কষ্ট হল। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন। আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। পাঠ করুন। আর আপনার প্রতিপালক মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”— (সূরাহ ‘আলাক ৯৬ঃ ১-৫)। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ওয়াহী নিয়ে ফিরে এলেন। তার স্কন্ধের পেশীগুলো কাপছিল। খাদীজাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট এসে বললেন, তোমরা আমাকে চাঁদর দ্বারা ঢেকে দাও, তোমরা আমাকে চাঁদর দ্বারা ঢেকে দাও। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তার ভীতি দূর হল। এরপর খাদীজাহ্ (রাযিঃ) কে সকল ঘটনা উল্লেখ করে বললেন, খাদীজাহ আমার কি হল? আমি আমার নিজের উপর আশঙ্কা করছি। খাদীজাহ (রাযিঃ) বললেনঃ না, কখনো তা হবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি স্বজনদের খোজ-খবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথি সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। এরপর খাদীজাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু আসাদ ইবনু আবদুল উয্যা এর নিকট নিয়ে আসেন। ওয়ারাকাহ ছিলেন খাদীজাহ (রাযিঃ) এর চাচাত ভাই, ইনি জাহিলিয়াতের যুগে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী লিখতে জানতেন এবং ইন্‌জীল কিতাবের আরবী অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন বৃদ্ধ এবং তিনি দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। খাদীজাহ্ (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ চাচা, (সম্মানার্থে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে "হে চাচাত ভাই” এ কথার উল্লেখ রয়েছে) আপনার ভাতিজা কি বলছে শুনুন তো! ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল বললেন, হে ভাতিজা! কি দেখেছিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন সব কিছু বিবৃত করলেন। ওয়ারাকাহ বললেন, এ তো সে সংবাদবাহক যাকে আল্লাহ মূসা (আঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সে সময় যুবক থাকতাম, হায়! আমি যদি সে সময় জীবিত থাকতাম, যখন আপনার জাতিগোষ্ঠী আপনাকে দেশ থেকে বের করে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্যি কি আমাকে তারা বের করে দিবে? ওয়ারাকাহ্ বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তিই আপনার মত কিছু (নুবুওয়াত ও রিসালাত) নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছে, তার সঙ্গেই এরূপ দুশমনী করা হয়েছে। আর আমি যদি আপনার সে যুগ পাই তবে অবশ্যই আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা করব*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

309

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে ওয়াহীর সূচনা হয়...। অতঃপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ ইউনুসের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে কিছুটা শব্দগত পার্থক্য রয়েছে। যেমন- খাদীজাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনো দুশ্চিন্তায় নিক্ষেপ করবেন না। খাদীজাহ (রাযিঃ) ওয়ারাকাকে সম্বোধন করে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলে তা শুনেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

310

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহা থেকে এমন অবস্থায় খাদিজাহ (রাযিঃ) এর নিকট (বাড়ি) ফিরলেন যে, ভয়ে তার অন্তর কাপছিল। এরপর হাদীসের অবশিষ্ট ঘটনা ইউনুস ও মা'মারের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসের প্রথম অংশে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর বক্তব্য "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে ওয়াহী আসার প্রথম অবস্থা ছিল সত্য-স্বপ্ন" এ বাক্যটির উল্লেখ নেই। তবে মা'মার "আল্লাহর শপথ আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না" এ বাক্য বর্ণনায় ইউনুসের অনুসরণ করেছেন এবং এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, "খাদীজাহ ওয়ারাকাকে বললেন, হে আমার চাচাত ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলেন, তা শুনেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

311

আবূ তাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাগণ ওয়াহীর বিরতি প্রসঙ্গে পরস্পর কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াহীর বিরতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমি পথ চলছিলাম সে মুহুর্তে আকাশ হতে একটি শব্দ শুনে মাথা তুলে তাকালাম, দেখি সে হিরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন সে ফেরেশতা জমিন ও আসমানের মধ্যস্থলে কুরসীর উপর বসে আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এ দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আর দ্রুত বাড়ী ফিরে এসে বলতে লাগলাম, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও। তারা আমায় কম্বল দ্বারা ঢেকে দিল। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "অর্থাৎ "হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন। আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন' (সূরাহ আল মুদাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। এখানে 'অপবিত্রতা' বলে 'প্রতিমাকে' বুঝানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী অবতরণ আরম্ভ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

312

আবদুল মালিক ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, অতঃপর আমার কাছে ওয়াহী আসা বন্ধ থাকল, একদিন আমি পথ চলছিলাম। হাদীসের বাকী অংশ ইউনুসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো বলেছেনঃ “তাঁকে (জিবরীল) দেখে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জমিনে পড়ে গেলাম।" ইবনু শিহাব বলেন, আবূ সালামাহ বলেছেন, আর রুজয' অর্থ হচ্ছে মূর্তি, প্রতিমা'। তিনি আরো বলেছেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী আসতে লাগলো। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদীসে উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এরপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! ... এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন” (সূরাহ আল মুদাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। এ আয়াতটি সালাত ফরয হবার পূর্বেই নাযিল হয়।রুজয অর্থ প্রতিমা' এবং মা'মার এ হাদীসে উকায়লের ন্যায় বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৪, ৩০৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)

313

314

যুহরর ইবনু হারব (রহঃ) ... ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহকে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (সূরাহ্ আল মুদ্দাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। আমি বললাম اقْرَأْ (সূরাহ আল ‘আলাক ৯৬ঃ ১-৫)। তিনি বললেন, আমিও জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি বললাম, জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদেরই তা-ই বর্ণনা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি একমাস হিরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকার মাঝখানে যখন পৌছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনো কাউকে দেখতে পেলাম না। পুনঃ আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফেরেশতা অর্থাৎ জিবরীল (আঃ) শূন্যে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। আমার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদীজার নিকট আসলাম। বললাম, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। তারা আমাকে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢাললো। অনন্তর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন"- (সূরাহ আল মুদ্দাসসির ৭৪ঃ ১-৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

315

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেনঃ সে ফেরেশতা আসমান জমিনের সাথে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

316

শাইবান ইবনু ফার্‌রূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার জন্য বুরাক পাঠানো হল[1]। বুরাক গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সাদা রঙের জন্তু। যতদূর দৃষ্টি যায় এক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদাস পর্যন্ত এসে পৌছলাম। তারপর অন্যান্য আম্বিবায়ে কিরাম তাদের বাহনগুলো যে খুঁটির সাথে বাঁধতেন, আমি সে খুঁটির সাথে আমার বাহনটিও বাঁধলাম। তারপর মসজিদে প্রবেশ করলাম ও দু' রাকাআত সালাত আদায় করে বের হলাম। জিবরীল (আঃ) একটি শরাবের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে আমার কাছে এলেন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম। জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি ফিতরাহকেই গ্রহণ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে গেলেন এবং আসমান পর্যন্ত পৌছে দ্বার খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞেস কলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হল। সেখানে আমি আদম (আঃ) এর দেখা পাই তিনি আমাকে মুবারাকবাদ জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে উর্ধ্বলোক নিয়ে চললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাকে কি আনতে পাঠানো হয়েছিল? বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে আমি ঈসা ইবনু মারইয়াম ও ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া (আঃ) দুই খালাত ভাইয়ের দেখা পেলাম। তারা আমাকে মারহাবা বললেন, আমার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে চললেন এবং তৃতীয় আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইউসুফ (আঃ) এর দেখা পেলাম। সমুদয় সৌন্দর্যের অর্ধেক দেয়া হয়েছিল তাকে। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে চতুর্থ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইদরীস (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। আল্লাহ তা'আল তার সম্পর্কে ইরশাদ করেছেনঃ “এবং আমি তাকে উন্নীত করেছি উচ্চ মর্যাদায়" (সূরাহ আল হাদীদ ৫৭ঃ ১৯)। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে পঞ্চম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে?”[2] তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে হারূন (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে মূসা (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু’আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) সপ্তম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইবরাহীম (আঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি বাইতুল মামুরে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছেন[3]। বাইতুল মামুরে প্রত্যেহ সত্তর হাজার ফেরেশতা তাওয়াফের উদ্দেশে প্রবেশ করেন যারা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পান না। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায়[4] নিয়ে গেলেন। সে বৃক্ষের পাতাগুলো হাতির কানের ন্যায় আর ফলগুলো বড় বড় মটকার মত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে বৃক্ষটিকে যখন আল্লাহর নির্দেশে যা আবূত করে তখন তা পরিবর্তিত হয়ে যায়। সে সৌন্দর্যের বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যে ওয়াহী করার তা ওয়াহী করলেন। আমার উপর দিনরাত মোট পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করলেন, এরপর আমি মূসা (আঃ) এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উপর কি ফরয করেছেন। আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং একে আরো সহজ করার আবেদন করুন। কেননা আপনার উম্মত এ নির্দেশ পালনে সক্ষম হবে না। আমি বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাদের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন আমি আবার প্রতিপালকের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, হে আমার রব! আমার উম্মতের জন্য এ হুকুম সহজ করে দিন। পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দেয়া হল। তারপর মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, আমার থেকে পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত এও পারবে না। আপনি ফিরে যান এবং আরো সহজ করার আবেদন করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবে আমি একবার মূসা (আঃ) ও একবার আল্লাহর মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম। শেষে আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! যাও দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করা হল। প্রতি ওয়াক্ত সালাতে দশ ওয়াক্ত সালাতের সমান সাওয়াব রয়েছে। এভাবে (পাঁচ ওয়াক্ত হল) পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান। যে ব্যক্তি কোন নেক কাজের নিয়্যাত করল এবং তা কাজে রূপায়িত করতে পারল না, আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখব; আর তা কাজে রূপায়িত করলে তার জন্য লিখব দশটি সাওয়াব। পক্ষান্তরে যে কোন মন্দ কাজের নিয়্যাত করল অথচ তা কাজে পরিণত করল না তার জন্য কোন গুনাহ লিখা হয় না। আর তা কাজে পরিণত করলে তার উপর লিখা হয় একটি মাত্র গুনাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর আমি মূসা (আঃ) এর নিকট নেমে এলাম এবং তাকে এ বিষয়ে অবহিত করলাম। তিনি তখন বললেন, প্রতিপালকের কাছে ফিরে যান এবং আরো সহজ করার প্রার্থনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ বিষয়টি নিয়ে বারবার আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আসা-যাওয়া করেছি, এখন আবার যেতে লজ্জা হচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

317

আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আল আবদী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার নিকট ফেরেশতা আসলেন এবং তারা আমাকে নিয়ে যমযমে গেলেন। আমার বুক চিরে ফেলা হল। তারপর যমযমের পানি দিয়ে আমাকে গোসল করানো হল। এরপর নির্ধারিত স্থানে আমাকে ফিরিয়ে আনা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

318

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিবরীল (আঃ) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাকে ধরে শোয়ালেন এবং বুক চিরে ফেরে তার হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তার বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, এ অংশটি হল শয়তানের। এরপর হৃদপিণ্ডটিকে একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তার দুধ মায়ের (হালীম এর) কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বুকে সে সেলাই এর চিহ্ন দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

319

হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... শারীক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ নামির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কা'বার মসজিদ থেকে মি'রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে রাত সম্পর্কে আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ওয়াহী প্রাপ্তির পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মাসজিদুল হারামে নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন। এরূপে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত সাবিতুল বুনানীর হাদীসেরই অনুরূপ বর্ণনা করে যান। তবে এ বর্ণনায় শব্দের কিছু আগপাছ ও কমবেশি রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

320

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজিবী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি মক্কাতে ছিলাম। আমার ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল। তখন জিবরীল (আঃ) অবতরণ করলেন। তিনি আমার বুক ছিড়ে ফেললেন। এরপর তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। তারপর হিকমাত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি পাত্র আনা হল এবং এতে তা রাখা হল, পুনঃ তা আমার বুকে ঢেলে বুক বন্ধ করে দিলেন। এরপর আমার হাত ধরলেন এবং ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা করলেন। আমরা যখন প্রথম আসমানে গিয়ে পৌছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) এ আসমানের দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন, তিনি বললেন কে? বললেন, জিবরীল। দারোয়ান বললেন, আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দারোয়ান বললেন, তার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দেয়া হল। আমরা প্রবেশ করে দেখি, এক ব্যক্তি তার ডানে একদল মানুষ এবং বায়ে একদল মানুষ। যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বা দিকে তাকান তখন কাঁদেন। তিনি আমাকে বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী! হে সুযোগ্য সন্তান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিবরীলকে বললাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি আদম (আঃ) আর ডান ও বায়ের এ লোকগুলো তার বংশধর। ডান দিকের লোকেরা হচ্ছে জান্নাতবাসী আর বাম দিকের লোকেরা হচ্ছে জাহান্নামবাসী। আর এ কারণেই তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন এবং বা দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌছলেন এবং এর দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি প্রথম আসমানের দারোয়ানের ন্যায় প্রশ্নোত্তর করে দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা এবং ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে দেখা করেছেন। আদম (আঃ) প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (আঃ) ৬ষ্ঠ আসমানে। এ ছাড়া অন্যান্য নবীর অবস্থান সম্পর্কে এ রিওয়ায়াতে কিছু উল্লেখ নেই। আনাস (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও জিবরীল (আঃ) ইদরীস (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য ভ্রাতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? জিবরীল (আঃ) উত্তর দিলেন ইনি ইদরীস (আঃ)। তারপর আমরা মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা (আঃ)। তারপর আমরা ঈসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, ইনি ঈসা (আঃ)। তারপর আমরা ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী। সুযোগ্য সন্তান। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি ইবরাহীম (আঃ)। ইবনু শিহাব, ইবনু হাযম, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বাহ আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে আরো উর্ধ্বে চললেন। আমরা এমন এক স্তরে পৌছলাম যে তথায় আমি কলম এর খশখশ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ইবনু হাযম ও আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেন। আমি এ নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি উত্তরে বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। মূসা (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান; কেননা, আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। তাই আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি আবার ফিরে এসে মূসা (আঃ)-কে জানালে তিনি বললেন, না। আপনি পুনরায় ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মত এতেও সক্ষম হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে তিনি বললেন, এ নির্দেশ পাঁচ, আর পাঁচই পঞ্চাশের সমান করে দিলাম, আমার কথার কোন রদবদল নেই। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে আসি। তিনি তখনো বললেন, আপনি ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। আমি বললামঃ আমার লজ্জা লাগছে। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা নিয়ে চললেন, আমরা পৌঁছলাম। তা এত বিচিত্র রঙে আবৃত যে, আমি বুঝতে পারছি না যে, আসলে তা কী? তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। তথায় ছিল মুক্তার গম্বুজ আর তার মাটি ছিল মিশকের। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

321

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) সম্ভবত তার সম্প্রদায়ের জনৈক মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদিন আমি কা'বা শরীফের নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। তখন তিন ব্যক্তির মধ্যবর্তী একজনকে কথা বলতে শুনতে পেলাম। যা হোক তিনি আমার নিকট এসে আমাকে নিয়ে গেলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল, তাতে যমযমের পানি ছিল। এরপর তিনি আমার বক্ষদেশ এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পার্শ্বস্থ একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত' বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, “বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এরপর আমার হৃদপিণ্ডটি বের করা হল এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করে দেয়া হল। ঈমান ও হিকমাতে আমার হৃদয় পূর্ণ করে দেয়া হল। এরপর আমার নিকট বুরাক নামের একটি সাদা জন্তু উপস্থিত করা হয়। এটি গাধা থেকে কিছু বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট। যতদূর দৃষ্টি যায় একেক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। এর উপর আমাকে আরোহণ করানো হল। আমরা চললাম এবং দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছলাম। জিবরীল (আঃ) দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দ্বাররক্ষী বললেন, তার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দিলেন এবং বললেন, মারহাবা! কত সম্মানিত আগন্তুকের আগমন হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তারপর আমরা আদম (আঃ -এর নিকট আসলাম....এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করে যান। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় আসমানে ঈসা ও ইয়াহইয়া, তৃতীয় আসমানে ইউসুফ, চতুর্থ আসমানে ইদরীস, পঞ্চম আসমানে হারূন (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে গিয়ে পৌছি এবং মূসা (আঃ)-এর নিকট গিয়ে তাকে সালাম দেই। তিনি বললেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা। এরপর আমরা তাকে অতিক্রম করে চলে গেলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। আওয়াজ এলে তুমি কেন কাঁদছে? তিনি জবাব দিলেন, প্ৰভু! এ বালককে আপনি আমার পরে পাঠিয়েছেন, অথচ আমার উম্মত অপেক্ষা তার উম্মত অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমরা আবার চললাম এবং সপ্তম আসমানে গিয়ে পৌছলাম ও ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসলাম। সাহাবা তা এ হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, সেখানে তিনি চারটি নহর দেখেছেন*। তন্মধ্যে দুটি প্রকাশ্য ও দুটি অপ্রকাশ্য। সবগুলোই সিদরাতুল মুনতাহার গোড়া হতে প্রবাহিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল! এ নহরগুলো কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহরদ্বয় তো জান্নাতের নহর আর প্রকাশ্যগুলো নীল ও ফুরাত। অর্থাৎ এ দুটি নহরের সাদৃশ্য রয়েছে জান্নাতের ঐ দুটি নহরের সাথে। এরপর আমাকে বাইতুল মা'মুর-এ উঠানো হল। বললাম, হে জিবরীল! এ কি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে বাইতুল মামুর। প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা (তাওয়াফের জন্য) প্রবেশ করে। তারা একবার তাওয়াফ সেরে বের হলে কখনো আর ফের তাওয়াফের সুযোগ হয় না তাদের। তারপর আমার সম্মুখে দুটি পাত্র পেশ করা হল- একটি শরাবের, অপরটি দুধের। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি ঠিক করেছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকেও আপনার ওয়াসীলায় ফিতরাহ-এর উপর কায়িম রাখুন। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়... এভাবে বর্ণনাকারী হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

322

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী এতে ... এরপর আমার নিকট ঈমান ও হিকমাত ভর্তি একটি রেকারী আনা হল এবং আমার বুকের উপরিভাগ হতে পেটের নিম্নাংশ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল ও যামযামের পানি দিয়ে ধৌত করে হিকমাত ও ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হল, এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

323

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মি'রাজ ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেনঃ মূসা (আঃ) হচ্ছেন শানুয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায় দীর্ঘদেহী, গন্দুম (গম) বর্ণের। ঈসা (আঃ) মধ্যমাকৃতি সুঠাম দেহ বিশিষ্ট। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের রক্ষী মালিক এবং দাজ্জালের উল্লেখ করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

324

আবূদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মি'রাজের রাত্রে আমি মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে গিয়েছি। তিনি দেখতে গন্দুম বর্ণের, দীর্ঘদেহী, অনেকটা যেন শানুয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে দেখেছি, তার রং ছিল শ্বেতলোহিত; সুঠামদেহী আর তার চুলগুলো ছিল স্বাভাবিক। বর্ণনাকারী বলেন, যে নিদর্শনসমূহ কেবল তাকেই দেখানো হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে জাহান্নামের রক্ষী মালিককে এবং দাজ্জালকে দেখানো হয়। “অতএব, তুমি তার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ করো না”— (সূরাহ আস্ সিজদা ৪১ঃ ২৩)।এ আয়াতের তাফসীরে কাতাদাহ্ (রহঃ) বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

325

আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও সুরায়হ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আযরাক উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন বললেনঃ এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগণ উত্তর দিলেন, আযরাক উপত্যকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যেন মূসা (আঃ) কে গিরিপথ থেকে অবতরণ করতে দেখছি, তিনি উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করছিলেন*। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারশা গিরিপথে আসলেন। তিনি বললেন, এটি কোন গিরিপথ? সঙ্গীগণ বললেন, হারশা গিরিপথ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যেন ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ) কে দেখছি। তিনি সুঠামদেহী লাল উটের পিঠে আরোহিত; গায়ে একটি পশমী জোব্বা, আর তার উটের রশিটি খেজুরের ছাল দিয়ে তৈরি। ইবনু হাম্বাল তার হাদীসে বলেনঃ হুশায়ম বলেছেন, এর অর্থ খেজুর বৃক্ষের ছাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

326

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যকার এক স্থানে সফর করছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগণ উত্তর করলেন, আযরাক উপত্যকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যেন এখনো মূসা (আঃ) কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি তার কর্ণদ্বয়ের ছিদ্রে অঙ্গুলি রেখে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করে এ উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা (আঃ) এর দেহের বর্ণ ও চুলের আকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু রাবী দাউদ তা স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনু "আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমরা সামনে আরো অগ্রসর হলাম এবং একটি গিরিপথে এসে পৌছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন গিরিপথ? সঙ্গীগণ বললেন, হারশা কিংবা লিফত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যেন এখনো ইউনুস (আঃ) কে দেখতে পাচ্ছি তালবিরাহ পাঠ করা অবস্থায় তিনি গিরিপথে গিরিপথ অতিক্রম করে যাচ্ছেন। তার গায়ে একটি পশমী জুব্বা, আর তিনি একটি লাল উটের পিঠে আরোহিত। তার উটের রশিটি খেজুর বৃক্ষের ছাল দ্বারা তৈরি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

327

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থিত সবাই দাজ্জালের আলোচনা উঠালেন। তখন কোন একজন বললেন, তার (দাজ্জালের) দু’ চোখের মাঝামাঝিতে 'কাফির শব্দ খচিত আছে। তখন ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু বলেছেন বলে আমি শুনিনি। তবে এতটুকু বলতে শুনেছি যে, ইবরাহীম (আঃ) এর আকৃতি জানতে হলে তোমাদের এ সাথীরই (নিজের দিকে ইঙ্গিত) দিকে তাকাও। (তিনি অনুরূপই ছিলেন) আর মূসা (আঃ) ছিলেন গন্দুমী বর্ণের সুঠামদেহী। তাকে লাল বর্ণের একটি উটের পিঠে আরোহিত দেখেছি। আমি যেন এখনো তাকে তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় উপত্যকার ঢালু দিয়ে নামতে দেখছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

328

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার নিকট নবীগণকে উপস্থিত করা হল, তখন মূসা (আঃ) কে দেখলাম একজন মধ্যম ধরনের মানুষ, অনেকটা শানুয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। আর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে দেখলাম, তার নিকটতম ব্যক্তি হলেন উরওয়াহ ইবনু মাসউদ। ইবরাহীম (আঃ) কে দেখালাম; তার অনেকটা কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন তোমাদের এ সাথী অর্থাৎ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জিবরীল (আঃ) কে দেখলাম তার কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন দিহইয়া। ইবনু রুমহ এর বর্ণনায় আছে, দিহইয়া ইবনু খলীফার ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

329

মুহাম্মাদ ইবু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজ রজনীতে আমি মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা করেছি। এরপর নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দেহের আকৃতি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আকৃতি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃদু কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট। দেখতে শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঈসা (আঃ) এর সাথে দেখা করেছি। এরপর তিনি ঈসা (আঃ) এর আকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি মধ্যম ধরনের লোহিত বর্ণের পুরুষ। মনে হচ্ছিল এক্ষুণি যেন গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ইবরাহীম (আঃ) কে দেখেছি। তার সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশী তার সাদৃশ্যের অধিকারী। এরপর আমার সম্মুখে দু'টি পাত্র পেশ করা হয়, এর একটি দুধের ও অপরটি শরাবের। আমাকে বলা হল, এর মধ্যে যেটা আপনার ইচ্ছা সেটা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করে তা পান করলাম। জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনাকে ফিতরাহ-এরই হিদায়াত করা হয়েছে। আপনি যদি শরাব গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মত গোমরাহ হয়ে যেত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

330

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একরাতে (স্বপ্নে) আমি কা'বা শরীফের কাছে আমাকে দেখতে পেলাম। গোধূম (গম) বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের যত লোক তোমরা দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল তার। এ ধরনের চুলের অধিকারী যত ব্যক্তি তোমরা দেখেছ তাদের মধ্যে তিনি হলেন সবচেয়ে সুন্দর। তিনি এ চুল আঁচড়িয়ে রেখেছেন আর তা থেকে পানি ঝরছিল। দু'জনের উপর বা বর্ণনাকারী বলেন, দু'জনের কাঁধের উপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম*। তারপর দেখি আরেক ব্যক্তি, অধিক কোকড়ানো চুল, ডান চক্ষুটি টেরা যেন একটি আঙ্গুর ফুলে রয়েছে। জিজ্ঞেস করলামঃ এ কে? বলা হল, এ হচ্ছে মাসীহুদ দাজ্জাল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

331

মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের সম্মুখে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা টেরা চোখ বিশিষ্ট নন। জেনে রাখ দাজ্জালের ডান চোখ টেরা যেন ফোলা একটি আঙ্গুর। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একবার আমি স্বপ্নে আমাকে কা'বার কাছে পেলাম। গোধূম বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের তোমরা যত লোক দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। চুল তার কাঁধ পর্যন্ত বুলছিল। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তা থেকে তখন পানি ঝরছিল। তিনি দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তারই পেছনে দেখলাম, আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল। তার ডান চোখ ছিল টেরা। সে দেখতে ছিল ইবনু কাতান এর ন্যায়। সেও দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, মাসীহুদ দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

332

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি (স্বপ্নযোগে) কা'বার নিকটে খাড়া চুল বিশিষ্ট বাদামী রঙের এক ব্যক্তিকে দু'জন লোকের (কাঁধের) উপর হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি। তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল অথবা বলেছেন, ফোটা ফোটা পানি পড়ছিল। আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? লোকেরা বললো, ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অথবা বলেছেন, আল মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)। সালিম বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ) সঠিকভাবে অবগত নন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনটি বলেছেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তার পেছনে আমি এমন এক ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থুলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা (কাফির) ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো মাসীহে দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

333

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মি'রাজের সংবাদে) কুরায়শরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিল। তখন আমি হজ্জরে আসওয়াদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তা'আলা আমার সম্মুখে বাইতুল মাকদাসকে তুলে ধরেন, আর আমি চোখে দেখেই তার সকল নিদর্শনাবলী উল্লেখ করে যেতে লাগলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

334

হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়েছিলাম। তখন দেখি যে, আমি কা'বা তাওয়াফ করছি। বাদামী বর্ণের মধ্যমাকৃতির এক ব্যক্তিকে সেখানে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তিনি দু’জনের কাধে ভর করে তাওয়াফ করছেন। আর তার মাথা হতে টপটপ করে পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো অথবা' শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি ইবনু মারইয়াম (আঃ)। তারপর আমি চোখ ফিরিয়ে তাকালাম; লোহিত বর্ণের মোটা এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল কোঁকড়ানো। তার চোখ ছিল টেরা, যেন একটি ফোলা আঙ্গুর। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, এ হল দাজ্জাল। তার নিকটতম সদৃশ হল ইবনু কাতান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

335

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ছিলাম। এ সময় কুরায়শরা আমাকে আমার মি'রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদাসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদাসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল তার জবাব দিতে লাগলাম। এরপর নবীদের এক জামা'আতেও আমি নিজেকে উদ্ভাসিত দেখলাম। মূসা (আঃ) কে সালাতে দণ্ডায়মান দেখলাম। তিনি শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় মধ্যমাকৃতি। তার চুল ছিল কোকড়ানো। ঈসা (আঃ) কেও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তিনি তোমাদের এ সাখীর মতোই দেখতে অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর সালাতের সময় হল, আমি তাদের ইমামাত করলাম। সালাত শেষে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ওকে সালাম করুন। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আগেই সালাম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

336

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রাজ রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত[1]। জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয় তা সে পর্যন্ত গিয়ে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয় তাও এ পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ “যখন প্রান্তবর্তী বাদরী বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার, তা দ্বারা আচ্ছাদিত হলো"- (সূরাহু আন নাজন ৫৩ঃ ১৬) এবং বলেন, এখানে 'যা দ্বারা' কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গসমূহ। তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনটি বিষয় দান করা হল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সূরাহ আল-বাকারার শেষ দু' আয়াত এবং শিরক মুক্ত উম্মতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ[2]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

337

আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... শাইবানী (রহঃ) বলেন, আমি যির ইবনু হুবায়শকে "তাদের মধ্যে দু' ধনুকের ব্যবধান ছিল কিংবা তারও কম"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯)। এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) কে দেখেছিলেন, তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

338

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) “তিনি যা দেখেছেন তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১১)। আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) কে দেখেছিলেন তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

339

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ থেকে "তিনি তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৮)। এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে তার আকৃতিতে দেখেছিলেন, তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

340

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে "নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহু আন নাজম ৫৩ঃ ১৩) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

341

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে অন্তর দ্বারা অনুভূতির মাধ্যমে দেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

342

আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ “তিনি যা দেখেছেন, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি" "এবং নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরো একবার দেখেছেন"- (সূরাহ্ আন নাজম ৫৩ঃ ১১ ও ১৩) আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দু'বার অন্তকরণ দ্বারাই দেখেন। (অর্থাৎ বাহ্যিক চোখে প্রত্যক্ষ করেননি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

343

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহমাহ এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

344

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মাজলিসে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বলছেন, হে আবূ আয়িশাহ। তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল। রাবী মাসরূক বলেন, আমি তো হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উন্মুল মুমিনীন! থামুন। আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কি বলেননিঃ “তিনি (রাসূল) তো তাকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন- (সূরাহ আত তাকভীর ৮১ঃ ২৩)। অন্যত্র “নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৩)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমিই এ উম্মতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ)। কেবলমাত্র এ দু'বারই আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তার বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু৷ আয়িশাহ (রাযিঃ) আরো বলেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদৰ্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত"- (সুরাহ আল আন’আম ৬ঃ ১০৩)। এরূপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ "মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে, অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে যে তার অনুমতিক্রমে তিনি চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আশ শূরা ৪২ঃ ৫১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তার বার্তা প্রচারই করলেন না (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ৬৭)। তিনি [আয়িশাহ (রাযিঃ)] আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ওয়াহী ব্যতীত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, "বল, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত গায়ব সম্পর্কে কেউ জানে না" (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৬৫)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

345

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) হতে উক্ত সনদে ইবনু উলাইয়্যাহ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এতটুকু অতিরিক্ত আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর অবতীর্ণ ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তবে তিনি এ আয়াতটি অবশ্য গোপন করতেনঃ "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ দান করেছেন এবং আপনিও যার [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পোষ্য পুত্র যায়দ] প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছিলেন "তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তা প্রকাশকারী। আপনি লোককে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকে ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সঙ্গত" (সূরাহু আল আহযাব ৩৩ঃ ৩৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

346

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবকে দেখেছেন কি? জবাবে তিনি (আতঙ্ক বা আশ্চর্যের সাথে) বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। অতঃপর হাদীসের পূর্ণ বিবরণ বর্ণনা করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দাউদের হাদীসটিই পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

347

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললাম (আপনিতো বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? “এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওয়াহী পৌছাবার ছিল তা পৌছে দিল"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯-১১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তার আসল রূপে। তার দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

348

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) নূর, তা আমি কি রূপে দেখবো? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০ ইসলামিক সেন্টারঃ)

349

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি আবূ যার (রাযিঃ) কে বললাম, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখা পেতাম তবে অবশ্যই তাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, আমি নূর দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১ ইসলামিক সেন্টারঃ)

350

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেনঃ (১) আল্লাহ কখনো নিদ্রা যান না। (২) নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। (৩) তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে মীযান (দাড়িপাল্লা) নামান এবং উত্তোলন করেন। (৪) দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। (৫) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাযিঃ)-এর আরেক বর্ণনায় لنُّورُ (আলো) এর পরিবর্তে النَّارُ (আগুন) শব্দের উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সে আবরণ খুলে দেয়া হয়, তবে তার নূরের আলোচ্ছটা সৃষ্টি জগতের দৃশ্যমান সব কিছু ভস্ম করে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২ ইসলামিক সেন্টারঃ)

351

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী আবূ মু'আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি (مِنْ خَلْقِهِ) সৃষ্টি জগতের শব্দ উল্লেখ করেননি এবং তিনি (حِجَابُهُ النُّورُ) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত' শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

352

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে আলোচনা করে বলেন, আল্লাহ তা'আলা কখনো নিদ্রা যান না আর নিদ্রা তার জন্য শোভাও পায় না, তিনি তুলাদণ্ড উঁচু এবং নীচু করেন, তার নিকট রাতের পূর্বেই দিনের আমল উত্থিত হয় এবং দিনের পূর্বে রাতের 'আমল উত্থিত হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৪ ইসলামিক সেন্টারঃ)

353

নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... 'আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দু'টি জান্নাত এমন যে, এগুলোর বাসনপত্র ও সমুদয় সামগ্রী রূপার তৈরি। অন্য দুটি জান্নাত এমন, যেগুলোর পাত্রাদি ও সমুদয় সামগ্ৰী স্বর্ণের তৈরি। 'আদন নামক জান্নাতে জান্নাতীগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন। এ সময় তাদের ও আল্লাহর মাঝে তার মহিমার চাঁদর ব্যতীত আর কোন অন্তরায় থাকবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৫ ইসলামিক সেন্টারঃ)

354

উবাইদুল্লাহ ইবনু 'উমার ইবনু মাইসারাহ (রাযিঃ) ..... সুহায়ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা কি চাও, আমি আরো অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেই? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারাগুলো আলোকজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জান্নাতে দাখিল করেননি এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত দেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর আল্লাহ তা'আলা আবরণ তুলে নিবেন। আল্লাহর দর্শন লাভের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় জিনিস আর কিছুই তাদের দেয়া হয়নি*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৬ ইসলামিক সেন্টারঃ)

355

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি আরো বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ "যারা ভাল আমল করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরো অধিক কিছু (আল্লাহর দর্শন)" (সূরাহ ইউনুস ১০ঃ ২৬)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৭ ইসলামিক সেন্টারঃ)

356

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, কয়েকজন সাহাবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের মাঝে কষ্ট হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের কষ্টবোধ হয়? তারা বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তদ্রুপ তোমরা তাকেও দেখবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ সকল মানুষকে জমায়েত করে বলবেন, পৃথিবীতে তোমাদের যে যার ইবাদাত করেছিলে আজ তাকেই অনুসরণ কর। তখন যারা সূর্যের উপাসনা করতো, তারা সূর্যের সাথে থাকবে। যারা চন্দ্রের উপাসনা করতো, তারা চন্দ্রের সাথে থাকবে। আর যারা আল্লাহদ্রোহীদের (তাগুতের) উপাসনা করতো, তারা আল্লাহদ্রোহীদের সাথে জমায়েত হয়ে যাবে। কেবল এ উম্মত অবশিষ্ট থাকবে। তন্মধ্যে মুনাফিকরাও থাকবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট এমন আকৃতিতে উপস্থিত হবেন যা তারা চিনে না। তারপর (আল্লাহ তা'আলা) বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক (সুতরাং তোমরা আমার পিছনে চল)। তারা বলবে, নাউযুবিল্লাহ। আমাদের প্রভু না আসা পর্যন্ত আমরা এখানেই দাড়িয়ে থাকবো। আর তিনি যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারবো। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট তাদের পরিচিত আকৃতিতে আসবেন, বলবেনঃ আমি তোমাদের প্রভু। তারা বলবে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের প্রতু। এ বলে তারা তাকে অনুসরণ করবে। এমন সময়ে জাহান্নামের উপর দিয়ে সিরাত (সাকো) বসানো হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আর আমি ও আমার উম্মতই হব প্রথম এ পথ অতিক্রমকারী। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কেউ মুখ খোলারও সাহস করবে না। আর রাসূলগণও কেবল এ দু'আ করবেন। হে আল্লাহ! নিরাপত্তা দাও, নিরাপত্তা দাও। আর জাহান্নামে থাকবে সা'দান বৃক্ষের কাটার মত অনেক কাটাযুক্ত লৌহদণ্ড। তোমরা সাদান বৃক্ষটি দেখেছ কি? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা সাদান বৃক্ষের কাটার মতই, তবে সেটা যে কত বিরাট তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। পাপ কাজের জন্য কাটার আংটাগুলো ছোবল দিতে থাকবে। তাদের কেউ কেউ মু'মিন (যারা সাময়িক জাহান্নামী) তারা রক্ষা পাবে, আর কেউ তো শাস্তি ভোগ করে নাযাত পাবে। এরপর আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা হতে অবসর হলে স্বীয় রহমতে কিছু সংখ্যক জাহান্নামীদের (জাহান্নাম হতে) বের করতে দেয়ার ইচ্ছা করবেন তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন যারা কালিমায় বিশ্বাসী ও শিরক করেনি যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা রহম করতে চাইবেন যে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো। আর যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা দয়া করতে চেয়েছেন তারা ঐ সকল লোক যারা 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলত। অতঃপর ফেরেশতাগণ তাদের সনাক্ত করবেন। তারা সিজদা চিহ্নের সাহায্যে তাদের চিনবেন। কারণ, অগ্নি মানুষের দেহের সবকিছু জ্বালিয়ে ফেললেও সাজদার স্থান অক্ষত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা সাজদার চিহ্ন নষ্ট করা হারাম (নিষিদ্ধ) করে দিয়েছেন। মোটকথা, ফেরেশতাগণ এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে এমন অবস্থায় যে, তাদের দেহ আগুনে দগ্ধ। তাদের উপর 'মাউল-হায়াত’ (সঞ্জীবনী পানি) ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর পানিসিক্ত উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। তারপর আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করবেন। শেষে এক ব্যক্তি থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল হবে জাহান্নামের দিকে। এই হবে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। সে বলবে, হে আমার প্রভু! (অনুগ্রহ করে) আমার মুখটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিন। কারণ জাহান্নামের দুর্গন্ধ আমাকে অসহনীয় কষ্ট দিচ্ছে; এর লেলিহান অগ্নিশিখা আমাকে দগ্ধ করে দিচ্ছে। আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত সে তার নিকট দু'আ করতে থাকবে। পরে আল্লাহ বলবেন, তোমার এ দু'আ কবুল করলে তুমি কি আরো কিছু কামনা করবে? সে বিভিন্ন ধরনের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলবে যে, জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিবেন। তার চেহারা যখন জান্নাতের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, আর সে জান্নাত দেখবে, তখন আল্লাহ যতদিন চান সে নীরব থাকবে। পরে আবার বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেবল জান্নাতের দরজা পর্যন্ত আমাকে পৌছে দিন। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি না অঙ্গীকার দিয়েছিলে যে, আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না। হে আদম সন্তান! তুমি হতভাগা ও তুমি সাংঘাতিক ওয়াদাভঙ্গকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! এই বলে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে থাকবে। আল্লাহ বলবেন, তুমি যা চাও তা যদি দিয়ে দেই তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, আপনার ইজ্জতের কসম! আর কিছু চাইব না। এভাবে সে তার অক্ষমতা (আল্লাহর কাছে) পেশ করতে থাকবে যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা হয়। তারপর তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হবে। এবার যখন সে জান্নাতের দরজায় দাঁড়াবে, তখন জান্নাত তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। সে জান্নাতের সমৃদ্ধি ও সুখ দেখতে থাকবে। সেখানে আল্লাহ যতক্ষণ চান সে ততক্ষণ চুপ করে থাকবে। পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন, তুমি না সকল ধরনের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলেছিলে, আমি যা দান করেছি এর চাইতে বেশি আর কিছু চাইবে না? হে হতভাগা আদম সন্তান! তুমি তো ভীষণ ওয়াদাভঙ্গকারী। সে বলবে, হে আমার রব। আমি যেন আপনার সৃষ্টির সবচেয়ে দুর্ভাগা না হই। সে বার বার দু'আ করতে থাকবে। পরিশেষে তার অবস্থা দেখে আল্লাহ তা'আলা হেসে ফেলবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। (জান্নাতে প্রবেশের পর) আল্লাহ তাকে বলবেন, (যা চাওয়ার) চাও। তখন সে তার সকল কামনা চেয়ে শেষ করবে। এরপর আল্লাহ নিজেই স্মরণ করায়ে বলবেন, অমুক অমুকটা চাও। এভাবে তার কামনা শেষ হয়ে গেলে আল্লাহ বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হল। আতা ইবনু ইয়াযীদ বলেন, এবং আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত এ হাদীসের কোন কথাই রদ করেননি। তবে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) যখন এ কথা উল্লেখ করলেন, "আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হল" তখন আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ! বরং তা সহ আরো দশগুণ দেয়া হবে। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে "এর সম-পরিমাণ" এ শব্দ স্মরণ রেখেছি। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে "আরো দশগুণ" এ শব্দ সংরক্ষিত রেখেছি। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) পরিশেষে বলেন, এ ব্যক্তি হবে জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

357

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? ..... এরপর রাবী ইবরাহীম ইবনু সাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

358

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে এটিও ছিল, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের জান্নাতীকে বলা হবে যে, তুমি কামনা কর। সে কামনা করতে থাকবে এবং আরো কামনা করবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার যা কমন করার তা কি করেছ? সে বলবে, জী! আল্লাহ বলবেন, যা কামনা করেছ তা এবং এর অনুরূপ তোমাকে প্রদান করা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

359

সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কতিপয় লোক তাকে জিজ্ঞেস করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ! তিনি আরো বললেনঃ দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? চন্দ্রের চৌদ্দ তারিখে মেঘমুক্ত অবস্থায় চন্দ্র দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? সকলে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক তদ্রুপ কিয়ামত দিবসে তোমাদের বারাকাতময় মহামহিম প্রতিপালককে দেখতে কোনই কষ্ট অনুভব হবে না যেমন চন্দ্র ও সূর্য দেখতে কষ্ট অনুভব কর না। সে দিন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে, যে যার উপাসনা করতো সে আজ তার অনুসরণ করুক। তখন আল্লাহ ব্যতীত তারা অন্য দেব-দেবী ও মূর্তিপূজার বেদীর উপাসনা করত তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না; সকলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সৎ হোক বা অসৎ যারা আল্লাহর ইবাদাত করত তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবীদের (যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকী থাকবে)। এরপর ইয়াহুদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কার ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র উযায়র-এর। তাদেরকে বলা হবে মিথ্যা বলছো। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে আল্লাহ! আমাদের খুবই পিপাসা পেয়েছে। আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। প্রার্থনা শুনে তাদেরকে ইঙ্গিত করে মরীচিকাময় জাহান্নামের দিকে জমায়েত করা হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাপিয়ে পড়বে। এরপর খৃস্টানদেরকে ডাকা হবে, বলা হবে, তোমরা কার ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র মাসীহ এর (ঈসার) উপাসনা করতাম। বলা হবে, মিথ্যা বলছ। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। জিজ্ঞেস করা হবে, এখন কি চাও? তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের দারুন পিপাসা পেয়েছে, আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও পানির ঘাটে যাবার ইঙ্গিত করে জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে জমায়েত করা হবে। এটিকে মরীচিকার ন্যায় মনে হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ অপর অংশকে গ্রাস করে নিবে। তারা তখন জাহান্নামে ঝাপিয়ে পড়তে থাকবে। শেষে সৎ হোক বা অসৎ এক আল্লাহর উপাসক ব্যতীত আর কেউ (ময়দানে) অবশিষ্ট থাকবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা পরিচিত আকৃতিতে তাদের নিকট আসবেন। বলবেন, সবই তাদের স্ব স্ব উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে, আর তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! যেখানে আমরা বেশী মুখাপেক্ষী ছিলাম সে দুনিয়াতেই আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হইনি। তখন আল্লাহ বলবেন, আমিই তো তোমাদের প্রতু। মু'মিনরা বলবে, "আমরা তোমার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" আল্লাহর সঙ্গে আমরা কিছুই শারীক করি না। এ কথা তারা দুই বা তিনবার বলবে। এমন কি কেউ কেউ অবাধ্যতা প্রদর্শনেও অবতীর্ণ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, আচ্ছা, তোমাদের নিকট এমন কোন নিদর্শন আছে যদ্বারা তাকে তোমরা চিনতে পার? তারা বলবে অবশ্যই আছে। এরপর পায়ের সাক' (গোছা) উন্মোচিত হবে। তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা করত, সে মুহুর্তে তাদেরকে আল্লাহ সিজদা করতে অনুমতি দিবেন এবং তারা সবাই সিজদাবনত হয়ে পড়বে। আর যে কারো ভয়-ভীতি কিংবা লোক দেখানোর জন্য সিজদা করতো তার মেরুদণ্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সিজদা করতে ইচ্ছা করবে তখনই তারা চিত হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর তারা তাদের মাথা উঠাবে এবং তিনি তার আসলরূপে আবির্ভূত হবেন। অতঃপর বলবেন, আমি তোমাদের রব, তারা বলবে, হ্যাঁ! আপনি আমাদের রব। তারপর জাহান্নামের উপর "জাসর" (পুল) স্থাপন করা হবে। শাফাআতেরও অনুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! "জাসর" কি? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এটি এমন স্থান যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাটা, দেখতে নাজদের সা'দান বৃক্ষের কাটার ন্যায়। মুমিনগণের কেউ তো এ পথ চোখের পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ উত্তম অশ্ব গতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ তো অক্ষত অবস্থায় নাযাত পাবে, আর কেউ তো হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাযাতপ্রাপ্ত। আর কতককে কাটাবিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মু'মিনগণ তাদের ঐ সব ভাইদের স্বার্থে আল্লাহর সাথে এত অধিক বিতর্কে লিপ্ত হবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে লিপ্ত হয় না। তারা বলবে, হে রব! এরা তো আমাদের সাথেই সিয়াম, সালাত আদায় করত, হজ্জ করত। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আন। উল্লেখ্য এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না।) মুমিনগণ জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাটু পর্যন্ত দেহ আগুন ছাই করে দিবে। উদ্ধার শেষ করে মুমিনগণ বলবে, হে রব যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরো একদলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের কথা বলেছিলেন তাদের কাউকেও রেখে আসিনি। সাহাবা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটি যদি চাও তবে তিলাওয়াত করতে পারঃ "আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না এবং অণু পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তার নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪০)। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ ফেরেশতারা সুপারিশ করলেন, নবীগণও সুপারিশ করলেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, কেবলমাত্র আরহামুর রাহিমীন পরম দয়াময়ই রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে যারা কখনো কোন সৎকর্ম করেনি এবং আগুনে জ্বলে লাল হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশ মুখের নাহরুল হায়াতে ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পানি ভেজা উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) তোমরা কি কোন বৃক্ষ কিংবা পাথরের আড়াল কোন শস্যদানা অঙ্কুরিত হতে দেখনি? যেগুলো সূর্য কিরণের মাঝে থেকে সেগুলো হলদে ও সবুজ রূপ ধারণ করে আর যেগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে থাকে সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হয় আপনি যেন গ্রামাঞ্চলে পশু চরিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর তারা নহর থেকে মুক্তার ন্যায় ঝকঝকে অবস্থায় ওঠে আসবে এবং তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে যা দেখে জান্নাতীগণ তাদের চিনতে পারবেন। এরা হর ‘উতাকাউল্লাহ-আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা সৎ আমল ব্যতীতই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেনঃ যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর যা কিছু দেখছ সব কিছু তোমাদেরই। তারা বলবে, হে রব! আপনি আমাদেরকে এত দিয়েছেন যা সৃষ্টজগতের কাউকে দেননি। আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের জন্য আমার নিকট এর চেয়েও উত্তম বস্তু আছে। তারা বলবে, কি সে উত্তম বস্তু? আল্লাহ বলবেনঃ সে হল আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন : শাফা'আত সম্পৰ্কীয় এ হাদীসটি আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদ যুগবাতুর মিসরী এর নিকট পাঠ করতে বললাম, আপনি লায়স ইবনু সা'দ থেকে নিজে এ হাদীসটি শুনেছেন? আমি কি আপনার পক্ষ থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারি? তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ! এরপর আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদকে হাদীসটি এ সূত্রে শুনিয়েছি যে, ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের প্রভুকে দেখতে পাবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে ভীড়ের কারণে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম, না ...। এভাবে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত তুলে ধরলাম। এ হাদীসটি হাফিয ইবনু মাইসারাহ বর্ণিত হাদিসেরই অনুরুপ। তিনিبِغَيْرِ عَمَلٍ عَمِلُوهُ وَلاَ قَدَمٍ قَدَّمُوهُ এ অংশটুকুর পর فَيُقَالُ لَهُمْ لَكُمْ مَا رَأَيْتُمْ অর্থাৎ তাদের বলা হবেঃ তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা দেখছ। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে রিওয়ায়াতে পৌছেছে যে, জাসর (পুল) চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম ও তরবারি অপেক্ষা অধিক তীক্ষ। তাছাড়া লায়সের হাদিসে فَيَقُولُونَ رَبَّنَا أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ বাক্যটির পরবর্তী অংশগুলো উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

360

361

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের সনদের হাফস ইবনু মাইসারার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে শব্দগুলো কিছু কম বর্ণনা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

362

হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তার রহমতেই তিনি যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তারপর (ফেরেশতাদেরকে) বলবেনঃ যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান দেখতে পাবে তাকেও জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনবে এবং তারা এমন কিছু লোককে সেখান থেকে বের করে আনবে, যারা আগুনে জ্বলে কালো হয়ে গেছে এবং হায়াত' বা 'হায়া' নামক নহরে নিক্ষেপ করবে। তখন তারা এতে এমন সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পলিতে সতেজ হয়ে উঠে। তোমরা কি দেখনি, কত সুন্দররূপে সে শস্যদানা কেমনভাবে হলদে মাথা মোড়ানো অবস্থায় অঙ্কুরিত হয়? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

363

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উহায়ব ও খালিদ উভয়ে আমর ইবনু ইয়াহইয়ার সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর তাদেরকে (জাহান্নাম থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত লোকদের) হায়াত' নামক নহরে ফেলে দেয়া হবে। খালিদের বর্ণনায় আছে, প্লাবনে সিক্ত মাটিতে বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয়ে উঠে। উহায়বের বর্ণনায় রয়েছেঃ যেমন বীজ আপনা আপনি তরতাজা হয়ে ওঠে পানির স্রোতের কিনারায় কাদা মাটির মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

364

নাসর ইবনু ‘আলী জাহযামী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহান্নামীদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামী তাদের মৃত্যুও ঘটবে না এবং তারা বেঁচেও থাকবে না। তবে তন্মধ্যে তাদের এমন কতিপয় লোকও থাকবে যারা গুনাহের দায়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা (তাদের উপর পতিত আযাবের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে) তাদেরকে কিছুকাল নির্জীব করে রেখে দিবেন। অবশেষে তারা পুড়ে কয়লার মতো হয়ে যাবে। এ সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফাআতের অনুমতি হবে। তখন এদেরকে দলে দলে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতের নহরগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হবে। পরে বলা হবে, হে জান্নাতীরা! তোমরা এদের গায়ে পানি ঢেলে দাও! ফলতঃ স্রোতবাহিত পলিতে গজিয়ে উঠা শস্য দানার ন্যায় তারা সজীব হয়ে উঠবে। উপস্থিতদের মধ্যে একজন বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন এককালে গ্রামে অবস্থান করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

365

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে 'ফী হামীলিস্ সাইলি' কথাটি পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

366

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী লোকটিকে আমি অবশ্যই জানি। সে হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেনঃ যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে সেখানে আসবে। আর তার ধারণা হবে যে, তাতো পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে কোন স্থান নেই তাই সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু! আমিতো তা পরিপূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তা'আলা আবার তাকে বলবেনঃ যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এ ব্যক্তি সেখানে আসলে তার ধারণা হবে যে, তাতো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু! আমিতো তা পূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তাকে পুনরায় বলবেনঃ যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাকে দুনিয়ার মতো এবং তার দশগুণ দেয়া হলো। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাকে পৃথিবীর দশগুণ দেয়া হলো। অতঃপর সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? অথবা সে বলবে, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেনঃ এ হবে সবচেয়ে নিম্নশ্রেণীর জান্নাতী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

367

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ বের হয়ে আসা লোকটিকে অবশ্যই আমি জানি। সে হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। তারপর তাকে বলা হবে, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। সে গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে লোকদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা পূর্বেই জান্নাতের সকল স্থান দখল করে রেখেছে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার কি পূর্বকালের কথা (জাহান্নামের) স্মরণ আছে? সে বলবে, হ্যাঁ! তাকে বলা হবেঃ তুমি কামনা কর। সে তখন কামনা করবে। তখন তাকে বলা হবে, যাও, তোমার আশা পূর্ণ করলাম। সেই সাথে পৃথিবীর আরো দশগুণ বেশি প্রদান করলাম। লোকটি বলবে, আপনি সর্বশক্তিমান প্ৰভু! আর আপনি আমার সাথে তামাশা করছেন? সাহাবা বলেন, এ কথাটি বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

368

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সবার শেষে এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে একবার সম্মুখে হাটবে আবার একবার উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। জাহান্নামের আগুন তাকে ঝাপটা দিবে। অগ্নিসীমা অতিক্রম করার পর সে তার দিকে ফিরে দেখবে এবং বলবে, সে সত্তা কত মহিমাময় যিনি আমাকে তোমা হতে নাযাত দিয়েছেন। তিনি আমাকে এমন জিনিস দান করেছেন যা পূর্বের বা পরের কাউকেও প্রদান করেননি। এরপর তার সামনে একটি গাছ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে; (যা দেখে) সে বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে এ গাছটির নিকটবর্তী করে দিন, যেন আমি এর ছায়া গ্রহণ করতে পারি এবং এর নীচে প্রবাহিত পানি থেকে পিপাসা নিবারণ করতে পারি। আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ হে আদম সন্তান যদি আমি তোমাকে তা দান করি, তবে হয়ত তুমি আবার অন্য একটির প্রার্থনা করে বসবে। তখন সে বলবে, না, হে প্ৰভু! এর অতিরিক্ত কিছু চাইব না, বলে সে আল্লাহ তা'আলার নিকট কসম করবে এবং আল্লাহও তার ওযর গ্রহণ করবেন। কারণ সে এমন সব জিনিস প্রত্যক্ষ করেছে যা দেখে সবর করা যায় না। অতএব আল্লাহ তা'আলা তাকে এ গাছটির নিকটবর্তী করে দিবেন। আর সে তার ছায়া গ্রহণ করবে ও পানি পান করবে। তারপর আবার একটি গাছ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে; যেটি প্রথমটি অপেক্ষা অধিক সুন্দর। তা দেখেই সে প্রার্থনা করবে, হে পরওয়ারদিগার! আমাকে এ গাছের নিকটবর্তী করে দিন, যেন আমি তা থেকে পানি পান করতে পানি এবং এর ছায়া গ্রহণ করতে পারি। এরপর আর কিছুর প্রার্থনা করবো না। আল্লাহ উত্তর দিবেনঃ আদম সন্তান! তুমি না আমার কসম করে বলেছিলে, আর কোনটির প্রার্থনা জানাবে না। তিনি আরো বলবেনঃ যদি আমি তোমাকে তার নিকটবর্তী করে দেই তবে তুমি হয়ত আরো কিছুর জন্য প্রার্থনা করবে। সে আর কিছু চাইবে না বলে কসম করবে। আল্লাহ তা'আলা তার এ ওযর কবুল করবেন। কারণ সে এমন সব জিনিস প্রত্যক্ষ করছে যা দেখে সবর করা যায় না। অতঃপর তিনি তাকে এর নিকটবর্তী করে দিবেন। আর সে এর ছায়া গ্রহণ করবে ও পানি পান করবে। এরপর আবার জান্নাতের দরজার কাছে আরেকটি গাছ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে, এটি পূর্বের দুটি গাছ অপেক্ষাও সুন্দর। তাই সে বলে উঠবে, হে প্রতিপালক! আমাকে এ গাছের নিকটবর্তী করে দিন, যেন আমি এর ছায়া গ্রহণ করতে পারি ও পানি পান করতে পারি। আমি আর কিছু প্রার্থনা করবো না। আল্লাহ বলবেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি আমার নিকট আর কিছু চাইবে না বলে কসম করনি? সে উত্তরে বলবে, অবশ্যই করেছি। হে প্রভু! তবে এটিই। আর কিছু চাইবো না। আল্লাহ তার ওযর গ্রহণ করবেন, কারণ সে এমন সব জিনিস প্রত্যক্ষ করছে যা দেখে সবর করা যায় না। তিনি তাকে এর নিকটবর্তী করে দিবেন। যখন তাকে নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। আর জান্নাতীদের কণ্ঠস্বর তার কান ধ্বনিত হবে, তখন সে বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার কামনা কোথায় গিয়ে শেষ হবে? আমি যদি তোমাকে পৃথিবী এবং তার সমপরিমাণ বস্তু দান করি তবে কি তুমি পরিতৃপ্ত হবে? সে বলবে, হে প্রতিপালক আপনি ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছেন! আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। এ কথাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বর্ণনাকারী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হেসে ফেললেন। আর বললেন, আমি কেন হাসছি তা তোমরা জিজ্ঞেস কররে না? তারা বলল, কেন হাসছেন? তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অনুরূপ হেসেছিলেন। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন হাসছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এজন্য যে, ঐ ব্যক্তিটির এ উক্তি "আপনি আমার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছেন, আপনিতো সারা জাহানের প্রতিপালক” শুনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হেসেছেন বলে আমি হাসলাম। যা হোক আল্লাহ তাকে বলবেনঃ তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। মনে রেখ, আমি আমার সকল ইচ্ছার উপর ক্ষমতাবান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

369

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নিম্নতম জান্নাতী ঐ ব্যক্তি, যার মুখমণ্ডলটি আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের দিক থেকে সরিয়ে জান্নাতের দিকে করে দিবেন। তার সামনে একটি ছায়াযুক্ত গাছ উদ্ভাসিত করা হবে। সে ব্যক্তি প্রার্থনা জানাবে, হে প্রতিপালক! আমাকে এ গাছ পর্যন্ত এগিয়ে দিন। আমি এ ছায়ায় অবস্থান করতে চাই। ..... এভাবে তিনি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে يَا ابْنَ آدَمَ مَا يَصْرِينِي مِنْكَ (অর্থাৎ হে আদম সন্তান! তোমাকে আমা হতে কিসে দূরে রেখেছিল) এর উল্লেখ নেই। অবশ্য এতটুকু বলেছেন যে, আল্লাহ তাকে বিভিন্ন নি'আমাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেনঃ এটি চাও। এভাবে যখন তার সকল আকাঙ্ক্ষা সমাপ্ত হয়ে যাবে তখন আল্লাহ বলবেনঃ যাও তোমাকে এসব সম্পদ প্রদান করলাম, সেই সাথে আরও দশগুণ দান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। তখন লোকটি (জান্নাতে) তার গৃহে প্রবেশ করবে। তার সাথে ডাগর আঁখি বিশিষ্ট দু'জন হুর তার পত্নী হিসেবে প্রবেশ করবে। আর তারা বলবে, সকল প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে আমাদের জন্য এবং আমাদেরকে আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন। লোকটি বলবে, আমাকে যা দেয়া হয়েছে, এমন আর কাউকে দেয়া হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

370

371

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মূসা (আঃ) আল্লাহ তা'আলাকে জান্নাতের সর্বনিম্ন ব্যক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ... এরপর বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

372

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

373

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জাহান্নাম হতে সবার শেষে উদ্ধারপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সবার শেষে প্রবেশকারী লোকটিকে আমি অবশ্যই জানি। কিয়ামতের দিন তাকে উপস্থিত করে ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, এ ব্যক্তির সগীরা গুনাহগুলো তার সামনে পেশ কর, আর কবীরা গুনাহসমূহ (আলাদা) তুলে রাখ। সুতরাং ফেরেশতাগণ তার সম্মুখে সগীরা গুনাহগুলো উপস্থিত করবেন। আর ঐ ব্যক্তিকে (ধমকের সুরে) বলা হবে, তুমি অমুক দিন এ পাপ কাজ করেছিলে? অমুক দিন সে কাজ করেছিলে? সে বলবে, হ্যাঁ! সে কোনটি অস্বীকার করতে পারবে না। আর কবীরা গুনাহসমূহ পেশ করা হবে কিনা বলে সে ভয় করতে থাকবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, তোমার এক একটি গুনাহের পরিবর্তে এক একটি নেকী দেয়া হল। লোকটি বলবে, হে প্রতিপালক! আমি আরো অনেক অন্যায় কাজ করেছি, যেগুলো এখানে দেখছি না। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে তার মাড়ির দাঁতগুলো পর্যন্ত ভেসে উঠল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

374

ইবনু নুমায়র আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) এর সূত্রে এ সনদে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

375

উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে কুরআনে উল্লেখিত الْوُرُودِ অর্থাৎ (পুলসিরাতের উপর দিয়ে) অতিক্রম করতে হবে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, কিয়ামতের দিন আমরা এরূপে আসব। তিনি মাথা উচু করে দেখালেন। এরপর একে একে প্রত্যেক জাতিকে তাদের নিজ নিজ দেব-দেবী ও উপাস্যের নামসহ ডাকা হবে। তারপর আল্লাহ আমাদের (মু'মিনদের) নিকট এসে জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কার অপেক্ষায় রয়েছ? মুমিনগণ বলবে, আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলবেন, আমিই তে তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে না দেখব (আমরা তা মানছি না)। এরপর আল্লাহ তখন এমনভাবে উদ্ভাসিত হবেন যে, তিনি হাসছেন। অনন্তর তিনি তাদের নিয়ে চলবেন এবং মুমিনগণ তার অনুসরণ করবে। মুনাফিক কি মুমিন প্রত্যেক মানুষকেই নূর প্রদান করা হবে। তারপর তারা এর অনুসরণ করবে। জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে কাটাযুক্ত লৌহ শলাকা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সেগুলো পাকড়াও করবে। মুনাফিকদের নূর নিভে যাবে। আর মুমিনগণ নাযাত পাবেন। প্রথম দল হবে সত্তর হাজার লোকের, তাদের কোন হিসাবই নেয়া হবে না। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের চাদের ন্যায় উজ্জ্বল। তারপর আরেক দল আসবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্ত। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকলে পার হয়ে যাবে। তারপর শাফাআতের অনুমতি প্রদান করা হবে। ফলে সকলেই শাফা’আত করবে। এমনকি যে ব্যক্তি “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” স্বীকার করেছে এবং যার অন্তরে সামান্য যব পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। পরে এদেরকে জান্নাতের আঙিনায় জমায়েত করা হবে, আর জান্নাতীগণ তাদের গায়ে পানি সিঞ্চন করবেন, ফলে তারা এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে কোন উদ্ভিদ স্রোতবাহিত পানির ধারে সতেজ হয়ে উঠে। আগুনে পোড়া দাগসমূহ মুছে যাবে। এরপর তারা আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা জানাবে। আল্লাহ তাদের প্রার্থনা কবুল করবেন। তাদের প্রত্যেককে পৃথিবীর ন্যায় এবং তৎসহ আরো দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

376

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি দুই কানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইরশাদ করতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা কতিপয় লোককে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

377

আবূ রাবী ... হাম্মদ ইবনু যায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'আমর ইবনু দীনারকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা কতিপয় মানুষকে শাফাআতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ! (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

378

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। এদের মুখমণ্ডল ব্যতীত সারা দেহ জ্বলে পুড়ে গেছে। অবশেষে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

379

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... ইয়াযীদ আল ফাকীর (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, খারিজীদের একটি মত আমার মনকে দৃঢ়ভাবে কেড়ে নিয়েছিল। (কবীরা গুনাহকারী সর্বদা জাহান্নামে থাকবে, কখনো বের হবে না) (বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য লোকদের সাথে আলোচনা করাও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল।) আমরা একবার একটি দলের সাথে হাজ্জে যাত্রা করি। আমরা মদীনা দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) একটি খুটির পাশে বসে লোকদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি জাহান্নামীদের আলোচনা তুললেন। আমি বললাম, হে রসূলের সাহাবা। আপনারা এ কি বলছেন? অথচ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ "যাকে আপনি অগ্নিতে নিক্ষেপ করলেন, তাকে তো আপনি নিশ্চয়ই হেয় করলেন"- (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৯২)। আরো ইরশাদ করেনঃ “যখনই তারা জাহান্নাম হতে বেরোবার চেষ্টা করবে তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে” (সূরাহ আস সিজদা ৪১ঃ ২০)। এ বিষয়ে আপনারা কি বলছেন, জাবির (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরআন পাঠ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তা হলে তুমি মুহাম্মাদ (এর সম্মানিত) আসন, যেথায় আল্লাহ তাকে (কিয়ামত দিবসে) সমাসীন করবেন, সে আসনের কথা শুননি? বললাম, হ্যাঁ। জাবির (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সে আসনটি হচ্ছে “মাকামে মাহমূদ" যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা যাকে জাহান্নাম থেকে বের করার বের করবেন। বর্ণনাকার আরো বলেন, আলোচনাটি পুরোপুরি সংরক্ষণ করতে পারিনি বলে আমার আশঙ্কা হয়। তবে তিনি অবশ্যই এ কথা ধারণা করেছেন যে, কতিপয় মানুষ কিছুকাল জাহান্নামে অবস্থান করার পর তাদেরকে বের করা হবে। জাহান্নামে দগ্ধিভূত হয়ে যখন রোদে পোড়া তিল গাছের ন্যায় কারো বর্ণ ধারণ করবে, তখন তাদেরকে বের করে আনা হবে। এরপর তারা জান্নাতের একটি নহরে নেমে গোসল করবে। পরে সকলে কাগজের ন্যায় সাদা ধবধবে হয়ে সে নহর থেকে উঠে আসবে। ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস নিয়ে আমরা আমাদের এলাকায় ফিরে এলাম এবং (সকলকে) বললাম, অকল্যাণ হোক তোমাদের! তোমরা কি মনে কর যে, এ বৃদ্ধ (জাবির) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মিথ্যারোপ করতে পারেন? পরিশেষে আমরা সকলেই (ঐ ভ্রান্ত বিশ্বাস) থেকে ফিরে আসি। আল্লাহর কসম মাত্র এক ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমাদের এ সঠিক আকীদাহ পরিত্যাগ করেনি। আবূ নুআয়ম এরূপই বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

380

হাদ্দাব ইবনু খালিদ আল আযদী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ চার ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে আল্লাহর সমীপে উপস্থিত করা হবে। তন্মধ্যে একজন বারবার পশ্চাৎ দিকে ফিরে তাকাবে আর বলবে, হে আমার রব! যখন আমাকে এ জাহান্নাম থেকে বের করেছেন, তখন আমাকে আর সেখানে ফিরিয়ে নিবেন না। আল্লাহ তা'আলা এ লোকটিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

381

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন। হাশরের দিনে আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন সংকট মুক্তির জন্য ও সুপারিশ প্রার্থনার ব্যাপারে তারা তৎপর হবে। এখানে বর্ণনাকারী ইবনু উবায়দ يُلْهَمُونَ শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থ অন্তরে উদয় হওয়া। তারা বলবে, আমরা যদি (কাউকে) আল্লাহর নিকট সুপারিশের জন্য আনুরোধ করতাম। যেন তিনি আমাদের এ (সংকটময়) স্থান থেকে মুক্তি দেন। সে মতে, তারা আদম (আঃ) এর নিকট এসে বলবে, আপনি আদম (আঃ), আপনি মানুষের (আদি) পিতা, আল্লাহ তা'আলা স্বহস্তে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, আপনার দেহে আত্মা ফুকেছেন, আপনাকে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই তারা আপনাকে সিজদাও করেছেন। সুতরাং আপনি আমাদের পক্ষ হতে প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। যেন তিনি আমাদেরকে এ (সংকটময়) স্থান থেকে মুক্তি দেন। তিনি তার কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করবেন এবং প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করতে লজ্জাবোধ করবেন। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা নূহ (আঃ)-এর নিকট যাও। তিনি প্রথম রাসূল। আল্লাহ তা'আলা তাকেই সর্বপ্রথম রাসূলরুপে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তখন সকল মানুষ নূহ (আঃ)-এর নিকট এসে (অনুরোধ) করবে। তিনিও তার কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করবেন এবং প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করতে লজ্জাবোধ করবেন। তিনি বলবেনঃ আমি এর যোগ্য নই। তোমরা ইবরাহীমের নিকট যাও। তাকে আল্লাহ তা'আলা বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। তখন সবাই ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসবে। তিনি স্বীয় কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করবেন এবং প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করলে লজ্জাবোধ করবেন এবং বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা মূসার নিকট যাও। আল্লাহ তার সাথে কথোপোকথন করেছেন। তাঁকে আল্লাহ তাওরাত প্রদান করেছেন। তখন সবাই মূসা (আঃ) এর নিকট আসবে তিনি তার কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করবেন এবং প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করতে লজ্জাবোধ করবেন এবং বলবেন, আমি এর উপযুক্ত নই। তোমরা ঈসা (আঃ) এর নিকট যাও, তিনি আল্লাহ প্রদত্ত 'কালিমা'। তখন সবাই ঈসা (আঃ)-এর নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই, তবে তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট যাও। তিনি আল্লাহর এমন বান্দা যে, তার পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন সবাই আমার নিকট আসবে, আর আমি আল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবো। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। তখন আমি তাকে দেখামাত্র সিজদাবনত হয়ে যাবো। যতক্ষণ আল্লাহ ইচ্ছা করবেন আমাকে এ অবস্থায় রেখে দিবেন; তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, বলুন, আপনার অনুরোধ শোনা হবে, আপনি প্রার্থনা করুন তা পূর্ণ করা হবে, আপনি শাফা’আত করুন, আপনার শাফা’আত কবুল করা হবে। তারপর আমি মাথা তুলবো এবং আমার প্রতিপালকের এমন প্রশংসা করবো যা আমার রব আমাকে শিখিয়ে দিবেন। এরপর আমি সুপারিশ করবো। আমার জন্য (শাফাআতের) সীমা নির্ধারিত করে দেয়া হবে। সে মতে, আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে এনে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। পুনরায় আমি শাফাআতের জন্য আসবো এবং সিজদাবনত হব। যতক্ষণ আল্লাহ এ অবস্থায় আমাকে রাখতে ইচ্ছা করবেন, ততক্ষণ রেখে দিবেন। পরে বলা হবেঃ হে মুহাম্মাদ! (মাথা) তুলুন, বলুন, আপনার অনুরোধ শোনা হবে; প্রার্থনা করুন তা পূর্ণ করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তারপর আমি মাথা তুলব এবং আমার প্রতিপালকের এমন প্রশংসা করব যা আমার রব আমাকে শিখিয়ে দিবেন। অতঃপর আমি শাফা’আত করবো। আমার জন্য (শাফাআতের) সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। সে মতে, আমি এদেরকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। বর্ণনাকারী বলেন, নিশ্চিতভাবে স্মরণ নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় কিংবা চতুর্থবারে এ কথা উল্লেখ করেছিলেন যে, আমি বলবঃ হে আমার প্রতিপালক! কুরআন যাদেরকে বাধা দিয়েছে অর্থাৎ যার উপর জাহান্নামে সর্বদা থাকা অবধারিত হয়েছে। তারা ছাড়া জাহান্নামে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। ইবনু উবায়দ বলেন, তার বর্ণনায় কাতাদাহ (রহঃ) বলেছেন, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামে পড়ে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

382

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মুমিনগণ (হাশরের ময়দানে) একত্রিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে يُلْهَمُونَ (এ অবস্থাকে তারা খুব সঙ্কটময় মনে করবে) শব্দ ব্যবহার করেছেন। তারপর বর্ণনাকার পূর্বোল্লিখিত আবূ আওয়ানার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, এরপর আমি চতুর্থবার এসে বলব, হে প্ৰভু! আর কেউ অবশিষ্ট নেই, কেবল তারাই আছে যাদেরকে কুরআন আটকে রেখেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

383

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা মু'মিন বান্দাদেরকে একত্রিত করবেন। ফলে তারা সেটাকে অতি সঙ্কটময় মনে করবে। বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে চতুর্থাবারের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারপর আমি বলবো, হে প্রতিপালক! আর কেউ অবশিষ্ট নেই। কেবল তারাই আছে যাদেরকে পবিত্র কুরআন আটকে রেখেছে। অর্থাৎ যাদের ব্যাপারে চিরকালের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

384

মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয যারীর ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম থেকে এমন ব্যক্তিকে বের করে আনা হবে, যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলেছে এবং তার অন্তরে যব পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) রয়েছে। অতঃপর এমন ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে যে 'লা-ইলাহা-ইল্লা-হা’ বলেছে এবং তার অন্তরে এক গম পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে। তারপর এমন ব্যক্তিকে দোযখ থেকে বের করে আনা হবে, যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বলেছে এবং তার অন্তরে এক বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে। ইবনু মিনহালের বর্ণনায় আছে "ইয়াযীদ বলেছেন, আমি শু'বার সাথে সাক্ষাৎ করে হাদীসটি তাকে বর্ণনা করি। শু'বাহ বললেন, এ হাদীসটি কাতাদাহ্ (রহঃ) আমাদেরকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহ যাররাতি' এর স্থলে বলেছেন "যুরাতুন" (চানা বুট)। ইয়াযীদ বলেছেন, এটি আবূ বাসতাম অর্থাৎ শু'বার ভ্রান্তি।। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

385

আবূ রাবী আল 'আতাকী, সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মা'বাদ ইবনু হিলাল আল আনাযী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর নিকট (আলোচনার উদ্দেশে) যাত্রা করি এবং সুপারিশকারী হিসেবে সাবিতের সাহায্য নিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা যখন আনাসের নিকট গিয়ে পৌছি, তখন তিনি সালাতু যুহা (চাশত) আদায় করছিলেন। সাবিত (রাযিঃ) আমাদের জন্য অনুমতি চাইলেন। তারপর আমরা আনাস (রাযিঃ) এর মাজলিসে প্রবেশ করলাম। আনাস (রাযিঃ) সাবিতকে চৌকিতে তার পাশে বসালেন। তারপর সাবিত (রাযিঃ) আনাস (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবূ হামযাহ! আপনার এ বাসরার ভাইয়েরা আপনার নিকট থেকে শাফা’আত বিষয়ক হাদীস জানতে চাচ্ছে। তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিনে মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থায় এদিকে সেদিকে ছুটাছুটি করতে থাকবে। অবশেষে সবাই আদম (আঃ) এর নিকট এসে বলবে, আপনার সন্তানদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন, আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা ইবরাহীমের নিকট যাও। কেননা তিনি আল্লাহর বন্ধু। সবাই ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসলে তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই, তবে তোমরা মূসার নিকট যাও। কেননা, তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তখন সকলে তার নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আমি তো এর উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ঈসা (আঃ)-এর নিকট যাও। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত রূহ ও তার কালিমাহ। এরপর তারা ঈসা (আঃ)-এর নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও। এরপর তারা আমার নিকট আসবে। আমি বলব, আমিই এর জন্য যোগ্য আমি যাচ্ছি। অনন্তর আমি আমার পরওয়ারদিগারের অনুমতি প্রার্থনা করব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তার সম্মুখে দাঁড়াব এবং এমন প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করতে থাকব যা এখন আমি তা করতে সক্ষম নই; অবশ্য তখনই আল্লাহ আমাকে তা শিখিয়ে দিবেন। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; শাফা’আত করুন, আপনার শাফা’আত গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার, উম্মাতী, উম্মাতী, ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। এরপর (আমাকে) বলা হবে, চলুন, যার অন্তরে গম বা যব পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবেন তাকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনুন। আমি যাব (এবং তদানুসারে উদ্ধার করব)। পুনরায় আমার পরওয়ারদিগারের দরবারে ফিরে যাব এবং পূর্বারূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। তখন আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার উম্মাতী, উম্মাতী ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। বলা হবেঃ যান, যে ব্যক্তির অন্তরে একটি সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট থাকবে তাকেও জাহান্নাম থেকে মুক্ত করুন। এরপর আমি যাব এবং তাদের উদ্ধার করে আনবো। পুনরায় আমি পরওয়ারদিগারের দরবারের ফিরে যাব এবং পূর্বানুরূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পরব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; শাফা’আত করুন, শাফা’আত গৃহীত হবে। আমি বলবঃ হে পরওয়ারদিগার! উম্মাতী, উম্মাতী, ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। আমাকে বলা হবে, যান, যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানার চেয়েও আরো কম পরিমাণ ঈমান পাবেন তাকেও জাহান্নাম থেকে মুক্ত করুন। এরপর আমি যাব এবং তাদের উদ্ধার করে আনব। বর্ণনাকারী বলেন, আনাস (রাযিঃ) এ পর্যন্ত আমাদেরকে বলেছেন। এরপর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে পথ চলতে শুরু করলাম। এভাবে আমরা যখন "জাব্বান" এলাকায় পৌছলাম, তখন নিজেরা বললাম, আমরা যদি হাসান বাসরীর সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং তাকে সালাম পেশ করতাম তবে কতই না ভাল হত। সে সময় তিনি আবূ খলীফার ঘরে (হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভয়ে) আত্মগোপন করেছিলেন। আমরা তার বাড়িতে গেলাম এবং তাকে সালাম পেশ করলাম। আমরা তাকে বললাম, আবূ সাঈদ। আমরা আপনার ভাই আবূ হামযার দরবার থেকে আসছি। আজ তিনি আমাদেরকে শাফা’আত সম্পর্কে এমন একটি হাদীস শুনিয়েছেন, যা আর কখনো শুনিনি। তিনি বললেন, আচ্ছা শোনাও তো? তখন আমরা তাকে হাদীসটি শুনালাম। তারপর তিনি বললেন, আরও বলো। আমরা বললাম, এর চেয়ে বেশি কিছু তো আনাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেননি। তখন তিনি বললেন, অথচ আনাস (রাযিঃ) আমাদের নিকট আজ থেকে বিশ বছর পূর্বে যখন তিনি সুস্থ সবল ছিলেন তখন এ হাদীসটি শুনিয়েছেন। কিন্তু আজ তিনি তোমাদের নিকট কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। জানি না, তিনি তা ভুলে গেছেন, না তোমরা এর উপর ভরসা করে আমলের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করবে আশংকায় তিনি তা বর্ণনা করাটা পছন্দ করেননি। আমরা বললাম, আমাদের তা বর্ণনা করুন। তিনি ঈষৎ হেসে উত্তর করলেন "মানুষকে তাড়াহুড়া করার প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে"- (সূরাহ আল আম্বিয়াহ ২১ঃ ৩৭)। তোমাদেরকে তা বর্ণনা করব বলেই তো এর উল্লেখ করলাম। তারপর তিনি হাদীসটির অবশিষ্ট অংশ এরূপ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর আমি পুনরায় আমার পরওয়ারদিগারের কাছে ফিরে আসব এবং চতুর্থবারও উক্তরূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পরব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! আপনার মাথা তুলুন, আপনি বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন তা কবুল করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার! আমাকে সেসব মানুষের জন্য অনুমতি দিন যারা "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই” এ কথা স্বীকার করে। আল্লাহ বলবেন, না; এটা আপনার দায়িত্বে নয়। বরং আমার ইজ্জত, প্রতিপত্তি, মহত্ত্ব ও পরাক্রমশীলতার কসম! আমি নিজেই অবশ্য ওদের জাহান্নাম হতে মুক্তি দিব যারা এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছে যে, "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।" হাদীসটি শেষ করে বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হাসান আমাদেরকে হাদীসটি আনাস (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন বলে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য আমার বিশ্বাস তিনি এ কথা বলেছেন যে, বিশ বছর পূর্বে যখন তিনি পূর্ণ সুস্থ সবল ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

386

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু গোশত আনা হলো। তার নিকট রানের গোশত পেশ করা হলো যা তার নিকট খুবই পছন্দনীয় ছিল। এরপর তিনি তা থেকে এক কামড় গ্রহণ করলেন। তারপর বললেন, কিয়ামত দিবসে আমিই হবো সকল মানুষের সর্দার। তা কিভাবে তোমরা কি জানো? কিয়ামত দিবসে যখন আল্লাহ তা'আলা শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে একই মাঠে এমনভাবে জমায়েত করবেন যে, একজনের আহবান সকলে শুনতে পাবে, একজনের দৃষ্টি সকলকে দেখতে পাবে। সূর্য নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় ও চরম দুঃখ-কষ্ট ও পেরেশানীতে নিপতিত হবে। নিজেরা পরস্পর বলাবলি করবে কী দুর্দশায় তোমরা আছ, দেখছ না? কী অবস্থায় তোমরা পৌছেছে তা উপলব্ধি করছ না? এমন কাউকে দেখছ না যিনি তোমাদের পরওয়ারদিগারের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন? তারপর একজন আরেকজনকে বলবে, তোমরা আদমের কাছে যাও। সুতরাং তারা আদমের কাছে আসবে এবং বলবে, হে আদম! আপনি মানবকুলের পিতা, আল্লাহ স্বহস্তে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার দেহে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আপনাকে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন; তারা আপনাকে সিজদা করেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট শাফা’আত করুন। আপনি দেখছেন না, আমরা যে কি কষ্টে আছি? আপনি দেখছেন না আমরা কষ্টের কোন সীমায় পৌছেছি? আদম (আঃ) উত্তরে বলবেন, আজ আমার পরওয়ারদিগার এতবেশী রাগ করেছেন, যা পূর্বে কখনো করেননি, আর পরেও কখনো এরূপ রাগ করবেন না? তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের (ফল খেতে) নিষেধ করেছিলেন আর আমি সে নিষেধ লঙ্ঘন করে ফেলেছি, নাফসী, নাফসী’ (আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারোর নিকট গিয়ে চেষ্টা করো, তোমরা নূহের নিকট যাও। তখন তারা নূহ (আঃ)-এর নিকট আসবে, বলবে, হে নূহ আপনি পৃথিবীর প্রথম রাসূল। আল্লাহ আপনাকে “চির কৃতজ্ঞ বান্দা" বলে উপাধি দিয়েছেন। আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি? আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? নূহ (আঃ) বলবেন, আজ আমার পরওয়ারদিগার এত রাগ করেছেন যে, এমন রাগ পূর্বেও কখনো করেননি আর পরেও কখনো করবেন না। আমাকে তিনি একটি দু'আ কবুলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর তা আমি আমার জাতির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে ফেলেছি। নাফসী, নাফসী (আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট যাও। তখন তারা ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসবে। বলবে, হে ইবরাহীম! আপনি আল্লাহর নবী, পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে আপনি আল্লাহর খলীল ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। আপনি আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? ইবরাহীম (আঃ) তাদেরকে বলবেন, আল্লাহ আজ এতই রাগ করে আছেন যে, পূর্বে এমন কখনো করেননি আর পরেও কখনো করবেন না। তিনি তার কিছু অসত্য (বাহ্যত) কথনের বিষয় উল্লেখ করবেন। বলবেন, নাফসী, নাফসী' (আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারো নিকট যাও। মূসার নিকট যাও। তারা মূসা (আঃ) এর নিকট আসবে, বলবে, হে মূসা। আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনাকে তিনি তার রিসালাত ও কালাম দিয়ে মানুষের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? মূসা (আঃ) তাদের বলবেনঃ আজ আল্লাহ এতই রাগ করে আছেন যে, পূর্বে এমন রাগ কখনো করেননি, আর এমন রাগ পরেও কখনো করবেন না। আমি তার হুকুমের পূর্বেই এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। নাফসী, নাফসী (আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা ঈসা (আঃ)-এর নিকট যাও। তারা ঈসা (আঃ) এর নিকট আসবে এবং বলবে, হে ঈসা। আপনি আল্লাহর রাসূল, দোলনায় অবস্থানকালেই আপনি মানুষের সাথে বাক্যালাপ করেছেন, আপনি আল্লাহর দেয়া বাণী, যা তিনি মারইয়ামের মধ্যে নিক্ষেপ করে দিয়েছিলেন, আপনি তার দেয়া আত্মা! সুতরাং আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? ঈসা (আঃ) তাদের বলবেন, আজ আল্লাহ তা'আলা এতই রাগ করে আছেন যে, এরূপ রাগ না পূর্বে কখনো করেছেন আর না পরে কখনো করবেন, তিনি কোন অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন না। তিনি বললেন, নাফসী, নাফসী’ (আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারো নিকট যাও। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন তারা আমার নিকট আসবে এবং বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল, শেষ নবী, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? তখন আমি সুপারিশের জন্য যাব এবং আরশের নীচে এসে পরওয়ারদিগারের উদ্দেশে সিজদাবনত হব। আল্লাহ আমার অন্তরকে খুলে দিবেন এবং সর্বোত্তম প্রশংসা ও হামদ জ্ঞাপনের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, যা ইতোপূর্বে আর কাউকে খুলে দেননি। এরপর আল্লাহ বলবেন, হে মুহাম্মাদ! মাথা উত্তোলন করুন, প্রার্থনা করুন, আপনার প্রার্থনা কবুল করা হবে। সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। অনন্তর আমি মাথা তুলব। বলব, হে পরওয়ারদিগার! উম্মাতী, উম্মতী’ (আমার উম্মত, আমার উম্মত') (এদেরকে মুক্তি দান করুন) তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতের যাদের উপর কোন হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতের দরজার ডান দিক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। তারা এছাড়াও অন্য দরজায় মানুষের সঙ্গে শারীক হবে। কসম ঐ সত্ত্বার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চয় জান্নাতের দু’ চৌকাঠের মধ্যকার দূরত্ব মক্কা ও হাজরের (বাহরাইনের একটি জনপদের) দূরত্বের মতো। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ও বাসরার দূরত্বেরে ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

387

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে রুটি ও গোশতের পাত্র রাখা হলো। তিনি রানের গোশত তুলে নিলেন। বস্তুতঃ তিনি বকরীর গোশতের মধ্যে এ রানের গোশতই অধিক পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি দাত দিয়ে তা একবার কেটে খেলেন। অতঃপর তিনি দাত দ্বারা আরো একবার গোশত কেটে খেলেন। তারপর বললেন, আমি কিয়ামতের দিবস মানুষের সরদার হবো। তিনি যখন তার সাহাবাদেরকে দেখলেন, এ ব্যাপারে তাদের কেউই তাকে কিছুই জিজ্ঞেস করছে না, তখন তিনি বললেন, আমি কিভাবে সেদিন সকলের নেতা হবো- এ কথা তোমরা আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছ না? এবার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল তা কিভাবে? তিনি বললেন, যেদিন সমস্ত মানুষ বিশ্ব প্রতিপালকের উদ্দেশে দণ্ডায়মান হবে। অতঃপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য ইবরাহীম (আঃ)-এর সালামের ঘটনা প্রসঙ্গে এ বর্ণনায় আরো আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবরাহীম (আঃ) নক্ষত্র সম্বন্ধে বলেছিলেন ‘এটাই আমার রব তাদের প্রতিমাগুলো ভাঙ্গার ব্যাপারে বলেছিলেনঃ এ সর্বনাশা কাজ তাদের বড়টাই করেছে এবং (তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন) আমি অসুস্থ। তখন তিনি এসব কথা স্মরণ করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! জান্নাতের দরজাসমূহের দু’ চৌকাঠের মাঝখানের দূরত্ব মক্কা ও হাজার অথবা হাজার ও মক্কার মাঝখানের দূরত্বের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, আমার জানা নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনটি আগে বলেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

388

মুহাম্মাদ ইবনু তারীফ ইবনু খলীফা আল বাজালী ও আবূ মালিক (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। মু'মিনগণ দাঁড়িয়ে থাকবে। জান্নাত তাদের নিকটবর্তী করা হবে। অবশেষে সবাই আদমের নিকট এসে বলবে, আমাদের জন্য জান্নাত খুলে দেয়ার প্রার্থনা করুন। আদম (আঃ) বলবেন, তোমাদের পিতা আদমের পদস্খলনের কারণেই তো তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং আমি এর যোগ্য নই। আমার পুত্র ইবরাহীমের নিকট যাও। তিনি আল্লাহর বন্ধু। এরপর সবাই ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট এলে তিনি বলবেন, না, আমিও এর যোগ্য নই, আমি আল্লাহর বন্ধু ছিলাম বটে, তবে তা ছিল দূরে দূরে থেকে। তোমরা মূসার নিকট যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি বাক্যালাপ করেছেন। সবাই মূসার নিকট আসবে। তিনি বলবেনঃ আমিও এর যোগ্য নই বরং তোমরা ঈসার নিকট যাও। তিনি আল্লাহর কালিমাহ ও রূহ। (সবাই তার নিকট আসলে) তিনি বলবেনঃ আমি তার উপযুক্ত নই। তখন সকলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসবে। তিনি দু'আর নিমিত্ত দাঁড়াবেন এবং তাকে অনুমতি প্রদান করা হবে। আমানাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, পুল-সিরাতের ডানে-বামে এসে দাঁড়াবে। আর তোমাদের প্রথম দলটি এ সিরাতে, বিদ্যুৎ গতিতে পার হয়ে যাবে। সাহাবা বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। আমাকে বলে দিন “বিদ্যুৎ গতির ন্যায়” কথাটির অর্থ কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আকাশের বিদ্যুৎ চমক কি কখনো দেখনি? চোখের পলকে এখান থেকে সেখানে চলে যায় আবার ফিরে আসে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পরবর্তী দলগুলো যথাক্রমে বায়ুর বেগে, পাখির গতিতে, তারপর লম্বা দৌড়ের গতিতে পার হয়ে যাবে। প্রত্যেকেই তার আমল হিসেবে তা অতিক্রম করবে। আর তোমাদের নবী সে অবস্থায় পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে এ দু'আ করতে থাকবে, আল্লাহ এদেরকে নিরাপদে পৌছিয়ে দিন, এদেরকে নিরাপদে পৌছিয়ে দিন। এরূপে মানুষের আমল মানুষকে চলতে অক্ষম করে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা এ সিরাত অতিক্রম করতে থাকবে। শেষে এক ব্যক্তিকে দেখা যাবে সে নিতম্বের উপর ভর করে পথ অতিক্রম করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, সিরাতের উভয় পাশে ঝুলানো থাকবে কাটাযুক্ত লৌহ শলাকা। এরা আল্লাহর নির্দেশক্রমে চিহ্নিত পাপীদেরকে পাকড়াও করবে। তন্মধ্যে কাউকে তো ক্ষত-বিক্ষত করেই ছেড়ে দিবে; অতঃপর সে নাজাত পাবে। আর কতক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জাহান্নামের গর্ভে নিক্ষিপ্ত হবে। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, শপথ সে সত্তার যার হাতে আবূ হুরাইরাহর প্রাণ! জেনে রেখ, জাহান্নামের গভীরতা সত্তর খারীফ (অর্থাৎ- সত্তর হাজার বছরের পথের ন্যায়।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

389

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি প্রথম ব্যক্তি যে লোকদের জান্নাতে প্রবেশ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট শাফা’আত করব। আমার অনুসারীর সংখ্যা সমস্ত নবীগণের অনুসারীদের চেয়ে বেশী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

390

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত দিবসে আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে সমস্ত নবীগণের চেয়ে সর্বাধিক এবং আমিই সবার আগে জান্নাতের কড়া নাড়বো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

391

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে লোকদের প্রবেশ সম্পর্কে আমিই হবো সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং এত অধিক সংখ্যক মানুষ আমার প্রতি ঈমান এনেছে যা অন্য কোন নবীর বেলায় হবে না। নবীদের কেউ কেউ তো এমতাবস্থায়ও আসবেন যার প্রতি মাত্র এক ব্যক্তিই ঈমান এনেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

392

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসে আমি জান্নাতের তোরণে এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইবো। তখন দ্বাররক্ষী বলবেন, আপনি কে? আমি উত্তর করবো, মুহাম্মাদ। দ্বাররক্ষী বলবেন, "আপনার জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আপনার পূর্বে অন্য কারোর জন্য দরজা খুলিনি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

393

ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবীর জন্যই বিশেষ একটি দু'আ নির্ধারিত আছে যা তিনি করবেন (যা তাদের উম্মতের জন্য গ্রহণ করা হবে। কিন্তু তার সে দু'আ দুনিয়াতেই করে ফেলেছেন।) আমি আমার বিশেষ দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য গোপনে (সংরক্ষিত) রাখার সংকল্প নিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

394

যুহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি বিশেষ দু'আ আছে। (কিন্তু তারা সে দু'আর প্রয়োগ দুনিয়াতেই করে ফেলেছেন।) আমার বিশেষ দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য গোপনে সংরক্ষিত রাখব বলে ইচ্ছা করেছি ইনশা-আল্লা-হ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

395

যুহায়র ইবনু হারব ও "আবূদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আমর ইবনু আবূ সুফইয়ান ইবনু আসীদ ইবনু জারিয়াহ আস্ সাকাফী (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

396

হারমালাহ ইবনু ইযাহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন কা'ব আল আহবারকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি বিশেষ দু’আ আছে (তার উম্মতের জন্য)। কিন্তু তারা দুনিয়াতেই তা করে ফেলেছেন। আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উন্মাতের শাফা'আতের জন্য গোপন করে রাখতে ইচ্ছা করেছি। কাব (রাযিঃ) আবূ হুরাইরাহকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শুনেছেন? আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

397

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীর জন্য একটি বিশেষ দু'আ আছে যা কবুল হবে। তন্মধ্যে সকলেই তাদের দু'আ পৃথিবীতেই করে নিয়েছে। আর আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের জন্য গোপন রেখে দিয়েছি। আমার উম্মতের যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে অথচ কোন প্রকার শিরক করেনি সে ইনশাআল্লাহ আমার এ দু'আ পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

398

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবীকে একটি বিশেষ দু'আর অনুমতি প্রদান করা হয়েছে; এর মাধ্যমে তিনি যে দু’আ করবেন, আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করবেন। সকল নবী তাদের দু'আ করে ফেলেছেন এবং তা কবুলও করা হয়েছে। আর আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য গোপনে রেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

399

উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আনসারী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাশাদ করেন, প্রত্যেক নবীকে তার উন্মাতের ব্যাপারে একটি এমন দু'আর অনুমতি দেয়া হয়েছে যা অবশ্যই কবুল করা হবে। তা তারা নিজের উন্মাতের জন্য করে ফেলেছেন। আমি ইনশাআল্লাহ সংকল্প করেছি, আমার দু'আটি পরে কিয়ামতের দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য করবো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

400

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবীর কাছে তার উম্মতের ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য একটি দু'আর অনুমতি আছে। প্রত্যেকে আপন উম্মতের কল্যাণের জন্য তা করেছেন। আর আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য অবশিষ্ট রেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

401

যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু আবূ খালাফ, কাতাদাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদের উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

402

আবূ কুরায়ব, ইবরাহীম ইবনু সাঈদ আল জওহারী ও মিসআর (রহঃ) এ সূত্রে কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী'র বর্ণনায় আছে আনসার (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী’র বর্ণনায় আছে, আনাস (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে একটি করে দু'আ প্রদান করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

403

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে কাতাদাহ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

404

মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবীকে একটি গ্রহণীয় বিশেষ দু'আর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সবাই তাদের দু'আ আপন উম্মতের কল্যাণের জন্য করে ফেলেছেন, তবে আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য গোপনে অবশিষ্ট রেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

405

ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা আস্ সাদাফী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনে ইবরাহীম (আঃ) এর দু'আ সম্বলিত আয়াতঃ "হে আমার প্রতিপালক। এ সকল প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হবে তুমি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু"— (সূরাহ ইবরাহীম ১৪ঃ ৩৬) তিলাওয়াত করেন। আর "ঈসা (আঃ) বলেছেনঃ “তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ১১৮)। তারপর তিনি তার উভয় হাত উঠালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত! আর কেঁদে ফেললেন। তখন মহান আল্লাহ বললেন, হে জিবরীল! মুহাম্মাদের নিকট যাও, তোমার রব তো সবই জানেন তাকে জিজ্ঞেস কর, তিনি কাঁদছেন কেন? জিবরীল (আঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন, তা তাকে অবহিত করলেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে জিবরীল! তুমি মুহাম্মাদ এর কাছে যাও এবং তাকে বল, “নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) আপনার উম্মতের ব্যাপারে আপনাকে সন্তুষ্ট করে দিব, আপনাকে অসন্তুষ্ট করব না"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

406

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায় আছেন (জান্নাতে না জাহান্নামে)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহান্নামে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যখন চলে যেতে লাগল, তিনি ডাকলেন এবং বললেন, আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

407

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়: “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও" (সূরাহ আশ শু'আরা ২৬ - ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরায়শদের ডাকলেন। তারা একত্রিত হলো। তারপর তিনি তাদের সাধারণ ও বিশেষ সকলকে সম্বোধন করে বললেন, হে কাব ইবনু লুওয়াই-এর বংশধর। জাহান্নাম থেকে তাদের আত্মরক্ষা কর। ওহে মুররাহ ইবনু কাব এর বংশধর। জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদ শামস এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদ মানাফ এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা নিজেদের বাঁচাও। ওহে হাশিমের বংশধর। জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা নিজেদের বাঁচাও। ওহে ফাতিমা! জাহান্নাম থেকে তুমি নিজেকে বাঁচাও। কারণ, আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। অবশ্য আমি তোমাদের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

408

উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... 'আবদুল মালিক ইবনু উমার (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে জারীর বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

409

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়ঃ "তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”— (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পর্বতের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ! হে সাফিয়্যাহ বিনতু আবদুল মুত্তালিব! হে আবদুল মুক্তালিবের বংশধর। আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করার আমার কোন ক্ষমতা নেই। তোমরা আমার কাছে আমার সম্পদের যা খুশি চাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

410

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত অবতীর্ণ হল (অর্থ) “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও"- (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে কুরায়শগণ। আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমরা নিজেদের কিনে নাও (বাঁচাও)। আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমাদের রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। ওহে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর! তোমাদের আমি রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! তোমাকেও আমি রক্ষা করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ রাসূলুল্লাহর ফুপু আমি আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমার কোন উপকার করতে পারবো না। হে রাসূলুল্লাহর কন্যা ফাতিমাহু! তোমার যা ইচ্ছা চাও। আল্লাহর (আযাব) থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

411

আমূর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

412

আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... কাবীসাহ ইবনু মুখারিক ও যুহায়র ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, "তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”— (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্বতের বৃহদাকার পাথরের দিকে গেলেন এবং তার মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তর প্রস্তর খণ্ডে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি আহ্বান জানালেন, ওহে আবদ মানাফ এর বংশধর! আমি (তোমাদের) সতর্ককারী। আমার ও তোমাদের উপমা হলো, এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুকে দেখতে পেয়ে তার লোকদের রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হল, পরে সে আশঙ্কা করল যে, শত্রু তার আগেই এসে যাবে। তখন সে 'ইয়া সাবাহ' (হায় মন্দ প্রভাত) বলে চীৎকার শুরু করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

413

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... যুহায়র ইবনু আমর ও কাবীসাহ ইবনু মুখারিক (রাযিঃ) থেকে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

414

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, "তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও"- (সূরাহ আশ শু'আরা ২৬ঃ ২১৪) এবং তাদের মধ্য থেকে তোমার নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়কেও*। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ। তারপর সবাই তার কাছে উপস্থিত হল। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন হে অমুকের বংশধর। হে অমুকের বংশধর। হে আবদ মানাফ এর বংশধর। হে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর। এতে সবাই তার কাছে সমবেত হল। নবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শক্র সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললোঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর ‘আযাব সম্পর্কে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?" তখন এ সূরাহ অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও ..... সূরার শেষ পর্যন্ত।" (সূরাহ লাহাব ১১১ঃ ১-৫) অবশ্য রাবী আ'মাশ وَ تَبَّ এর পরিবর্তে وَقَدْ تَبَّ পাঠ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

415

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাফা পর্বতে আরোহণ করেন এবং বলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত (বাকী অংশ) আবূ উসামার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ আয়াতটি অবতরণের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

416

উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকাদ্দামী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আবূ তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো আপনার হিফাযাত করতেন, আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যের প্রতি) ক্রোধান্বিত হতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ, তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে আছেন, আর যদি আমি না হতাম তবে জাহান্নামের অতল তলেই তিনি অবস্থান করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

417

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আবূ তালিব তো আপনার হিফাযাত করতেন, আপনাকে সাহায্য করতেন এবং আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যদের প্রতি) রাগ করতেন। তার এ কর্ম তার কি কোন উপকারে এসেছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ। আমি তাকে জাহান্নামের গভীরে পেয়েছিলাম, অতঃপর আমি সেখান থেকে (তার পায়ের) গ্রন্থি পর্যন্ত বের করে আগুনের উপরিভাগে নিয়ে এসেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

418

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে এবং আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... সুফইয়ান (রহঃ) থেকে ঐ সনদে পূর্ব বর্ণিত আবূ আওয়ানাহ এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

419

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার চাচা আবূ তালিব এর কথা আলোচিত হলে তিনি বলেন, হয়তো কিয়ামত দিবসে তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কাজে আসবে বলে আশা করি। তাকে জাহান্নামের উপরিভাগে এমনভাবে রাখা হবে যে, আগুন তার পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌছবে; এতেই তার মগজ উথলাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

420

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামের সবচেয়ে কম আযাব সে ব্যক্তির হবে, যাকে আগুনের দুটি জুতা পরানো হবে, ফলে এ দু'টির উত্তাপের কারণে তার মগজ উথলাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

421

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (চির) জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তি হবে আবূ তালিব এর। তাকে দুটি (আগুনের) জুতা পরিয়ে দেয়া হবে, ফলে এ দুটির কারণে তার মগজ পর্যন্ত উথলাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

422

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বক্তৃতায় বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামত দিবসে জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তি হবে ঐ ব্যক্তির যার দু' পায়ের তলায় দু'টি জ্বলন্ত কয়লা রাখা হবে, যার কারণে তার মগজ উথলাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

423

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেছেনঃ জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব ঐ ব্যক্তির হবে, যার দু'টি জুতার ফিতা হবে আগুনের। ফলে তার দহনে (চুলা উপরে রাখা) পাতিলের ন্যায় তার মগজ উথলাতে থাকবে। আর তার অনুভব হবে যে, সে বুঝি সর্বাপেক্ষা বেশী শাস্তি ভোগ করছে অথচ এটি হচ্ছে সবচেয়ে হালকা ‘আযাব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

424

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইবনু জুদআন জাহিলী যুগে আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করত এবং দরিদ্রদের আহার দিত। (আখিরাতে) এসব কর্ম তার উপকারে আসবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন উপকারে আসবে না। সে তো কোন দিন এ কথা বলেনি যে, হে আমার রব! কিয়ামতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

425

আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ..... আমর ইবনু আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চুপে চুপে নয় স্পষ্ট বলতে শুনেছি যে, জেনে রেখ! অমুক বংশ (আত্মীয়তার কারণে) আমার বন্ধু নয়, বরং আল্লাহর এবং নেককার মুমিনগণই হলেন আমার বন্ধু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

426

আবদুর রহমান ইবনু সাল্লাম ইবনু উবাইদুল্লাহ জুমাহী (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। জনৈক সাহাবা (উক্কাশাহ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, আমাকে যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করলেন, ইয়া আল্লাহ। ওকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। তারপর আরেকজন সাহাবা দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

427

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ..... পরবর্তী অংশ উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

428

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের সংখ্যা হবে সত্তর হাজার। তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাদের ন্যায় চমকাতে থাকবে। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন উক্কাশাহ ইবনু মিহসান আসাদী দাঁড়ালেন। তার গায়ে একটি চাঁদর ছিল। বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। এরপর আরেকজন আনসারী দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

429

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের একটি দলের চেহারা হবে চাদের মত (উজ্জ্বল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)

430

ইয়াহইয়া ইবনু খালাফ আল বাহিলী ..... 'ইমরান (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, তারা কারা, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যারা ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে লাগায় না এবং (জাহিলী যুগের ন্যায়) ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রের দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না বরং তারা আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াকুল করে। এ সময় উক্কাশাহ্ (রাযিঃ) ওঠে দাঁড়িয়ে বললো, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর নবী। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ উক্কাশাহ তোমার আগেই দলভুক্ত হয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)

431

যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা কারা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা ঝাড়ফুক করায় না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মেনে চলে না, অগ্নি দাগ গ্রহণ করে না, বরং সর্বদাই আল্লাহর ওপর নির্ভর করে (তারাই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)

432

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার বা সাত লক্ষ (এখানে রাবী আবূ হাযিম কোন সংখ্যাই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি) লোক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একে অন্যের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রথম ব্যক্তি শেষ ব্যক্তির প্রবেশের আগে প্রবেশ করবে না, বরং সবাই একত্রে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাদের মত চমকাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)

433

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... হুসায়ন ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ রাতে যে তারকাটি বিচ্যুত হয়েছিল তা দেখেছে কি? আমি বললাম, আমি দেখেছি। অবশ্য আমি রাতের সালাতে রত ছিলাম না; আমাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। সাঈদ বললেন, দংশন করার পর তুমি কি করেছিলে? আমি বললাম, ঝাড়ফুঁক করিয়েছি। তিনি বললেন, তোমাকে এ ঝাড়ফুঁক গ্রহণে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? আমি বললাম, সে হাদীস যা আমাদেরকে শা'বী বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, শা'বী কী হাদীস বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম, শা'বী বুরাইদাহ ইবনু হুসায়ন আল আসলামী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কুদৃষ্টি বা বিচ্ছু দংশন ব্যতীত অন্য বিষয়ে ঝাড়ফুঁক করানো উচিত নয়। তিনি বললেন, ভাল বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, স্বপ্নে আমার সামনে সকল নবীদের উপস্থিত করা হয়। অতঃপর তখন কোন কোন নবীকে দেখলাম যে, তার সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তার সঙ্গে একজন কিংবা দু'জন লোক আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তার সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেল। মনে হলো, এরা আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হল, ইনি মূসা (আঃ) ও তার উম্মত; তবে আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। আমি ওদিকে তাকালাম, দেখি বিরাট একদল, আবার বলা হল, আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন, (আমি ওদিকে তাকিয়ে দেখলাম) এক বিরাট দল। বলা হল, এরা আপনার উম্মত। এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে যারা শাস্তি ব্যতীত ও হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, অতঃপর তার ঘরে চলে গেলেন। তারা উপস্থিত সাহাবাগণ তখন এ হিসাব ও আযাববিহীন জান্নাতে প্রবেশকারী কারা হবেন? এ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। কেউ বললেন, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবা। কেউ বললেন, তারা সে সব লোক যারা ইসলামের উপর জন্মলাভ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকার শিরক করেনি এবং তারা বহু জিনিসের উল্লেখ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছিলে? সবাই বিষয়টি (খুলে) বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেনঃ এরা সে সব লোক যারা ঝাড়ফুঁক করে না বা তা গ্রহণও করে না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মানে না বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে। তখন উক্কাশাহ ইবনু মিহসান (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমার জন্যে দু'আ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি তাদেরই একজন থাকবে। তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্যেও দু'আ করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরঃ এ সুযোগ লাভ উক্কাশাহ তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)

434

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বপ্নে আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হয় ..... এভাবে বর্ণনাকারী হুসায়ন বর্ণিত হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেন। কিন্তু হাদীসটির প্রথমাংশ উল্লেখ করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)

435

হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (আবদুল্লাহ বলেন) এ শুনে আমরা (খুশিতে) আল্লা-হু আকবার ধ্বনি দিলাম। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? সাহাবা বলেন, আমরা আবার আল্লা-হু আকবর’ ধ্বনি দিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে আমি আশা করি তোমরাই জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। আর এ সম্পর্কে তোমাদের অচিরেই বলছিঃ কাফিরদের ভীড়ে তোমাদের অবস্থান এমনই স্পষ্ট হবে, যেমন কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা একটি শ্বেত ষাঁড়ের গায়ে কালো পশম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)

436

মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রায় চল্লিশজনের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি তাবুতে অবস্থান করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, কসম তার যার হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা করি যে, অবশ্যই তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। কেননা, কেবল মুসলিমই সেখানে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হবে, যেমন কাল ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)

437

মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি তার পৃষ্ঠদেশের সাহায্যে চামড়ার তাবুর সাথে হেলান দেয়া ছিলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান, মুসলিম ব্যতীত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি (অর্পিত দায়িত্ব) পৌছিয়েছি? হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো, তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? তারা বললো, হ্যাঁ; হে আল্লাহর রাসূল! তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমি আশা রাখি যে, তোমরা হবে জান্নাতীদের অর্ধেক। বস্তুতঃ অন্যান্য উম্মতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যা হবে সাদা বলদের মধ্যে একটি কালো পশমের মতো অথবা তিনি বলেছেনঃ কালে বলদের মধ্যে একটি সাদা পশমের মতো (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

438

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ আবাসী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ (কিয়ামত দিবসে) আহবান করবে, হে আদম! তিনি উত্তরে বলবেন, আমি আপনার সামনে উপস্থিত, আপনার কাছে শুভ কামনা করি এবং সকল কল্যাণ আপনারই হাতে। মহান আল্লাহ বলবেনঃ জাহান্নামী দলকে বের কর। আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করবেনঃ জাহান্নামী দল কতজনে? মহান আল্লাহ বলবেনঃ প্রতি হাজার থেকে নয়শ' নিরানব্বই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এটা সে মুহুর্ত যখন বালক হয়ে যাবে বৃদ্ধ, সকল গর্ভবতী তাদের গর্ভপাত করে ফেলবে আর মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন। রাবী বলেন, কথাগুলো সাহাবাগণের কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে সে ব্যক্তি? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ আনন্দিত হও। ইয়া'জু্য ও মাজুযেরন সংখ্যা এক হাজার হলে তোমাদের সংখ্যা হবে একজন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ কসম সে সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (সাহাবা বলেন,) আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং 'আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলাম। তারপর আবার তিনি বললেন, শপথ সে সত্তার, যার হাতে আমার জীবন! অবশ্যই আমি আশা রাখি, জান্নাতীদের মধ্যে তোমরা তাদের এক তৃতীয়াংশ হবে। সাহাবা বলেন, আমরা বললাম "আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'আল্লা-হু আকবার ধ্বনি দিলাম। তারপর আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম সে সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে এবং তোমরা অন্যান্য উম্মতের মধ্যে কারো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের ন্যায় অথবা গাধার পায়ের চিহ্নের সদৃশ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)

439

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বর্ণনা করেন, "তোমরা সকল মানুষের মধ্যে কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের মতো হবে অথবা সাদা ষাড়ের গায়ে কালো পশমের মতো হবে।" তারা “গাধার পায়ের চিহ্নের মতো" এ কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)