18 - তালাক অধ্যায়
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে তিনি (ইবনু উমার) তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তলাক (তালাক) দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তাকে [(আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে] আদেশ কর, যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ’আত করে (পুনঃ স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে) নেয়। অতঃপর তার (হায়য হতে) পবিত্র হবার পরে পুনঃ হায়য এবং তার পরে পুনঃ পবিত্র (তুহর) হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। এরপর পরবর্তী সময় তার ইচ্ছা হলে তাকে (স্ত্রী রূপে) রেখে দিবে। আর ইচ্ছা হলে সহবাসের পূর্বে তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। এটা হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫১৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৫১৫ [ক)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও ইবনু রুমহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... নাফি' (রহঃ) সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার এক স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় এক তলাক (তালাক) দিয়ে দেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হুকুম দিলেন যেন সে স্ত্রীকে রাজ’আত করে নেয়। অতঃপর পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃরায় আর একটি হায়য হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে। এরপর তার (এ পরবর্তী) হায়য হতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। তখন যদি তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার ইচ্ছা হয় তবে পবিত্র হবার সময় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। এটাই হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদানের আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন। ...... ইবনু রুমহ (রহঃ) তার রিওয়ায়াতে অধিক বলেছেন- এবং এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তাদের (প্রশ্নকর্তাদের) যে কাউকে বলতেনঃ দেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে (যতক্ষণ) একবার কিংবা দু’বার ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরূপ (রাজ'আত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি তাকে তিন তলাক (তালাক) দিয়ে দিলে তবে সে (স্ত্রী) তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে- যতক্ষণ না তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে সে বিয়ে করে। আর তোমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে বিধান দিয়েছিলেন তাতে তুমি তার প্রতি অবাধ্যতা দেখালে। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেনঃ রাবী লায়স (রহঃ) (কুতায়বাহ প্রমুখের শায়খ) তার 'একটি ত্বলাক (তালাক) (তালাক)' কথাটি স্পষ্ট করে দিয়ে উত্তম কাজ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫১৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমি আমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলাম, তখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাযিঃ) বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রাজ'আত (পুনঃ গ্রহণ) করে। অতঃপর পবিত্র হয়ে পুনরায় আর একটি মাসিকে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দিবে। পরে যখন পবিত্র হবে তখন তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে (যৌন সঙ্গম মুক্ত তুহর কালে) তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে কিংবা তাকে (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। কেননা, এটাই হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তলাক (তালাক) দেয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা আদেশ করেছেন। রাবী উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি শায়খ নাফি’ (রহঃ) কে বললাম, ধার্য করা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫১৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে নাফি’ (রহঃ) এর উদ্দেশে, উবায়দুল্লাহ (রহঃ) এর বক্তব্যটি এতে উল্লিখিত হয়নি। এছাড়া ইবনুল মুসান্না (রহঃ) তার রিওয়ায়াতে বলেছেনفَلْيَرْجِعْهَا সে যেন প্রত্যাহার করে এবং আবূ বাকর (রহঃ) বলেছেনفَلْيُرَاجِعْهَا সে যেন ফিরিয়ে নেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫১৯, ইসলামীক সেন্টার
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রীকে তার ঋতুকালীন অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে (ইবনু উমারকে) হুকুম দিলেন যে, স্ত্রীকে সে রাজ'আত (পুনঃপ্রহণ) করে নিবে। এরপর তাকে অপর একটি ঋতুতে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিবে। অতঃপর (ঋতু হতে) পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। পরে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগেই তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। এটাই হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার জন্য মহামহীয়ান আল্লাহ হুকুম করেছেন। রাবী (নাফি') বলেন, পরবর্তীতে স্ত্রীর হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে ইবনু উমার (রাযিঃ) বলতেন, যদি তুমি তাকে এক কিংবা দু'ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে থাক, নিশ্চয় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হুকুম দিয়েছেন যে, সে তাকে রাজ’আত করে নিবে। অতঃপর আর একটি হায়যে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে, এরপর পবিত্রতা (তুহর) পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। অতঃপর স্পর্শ (যৌন সঙ্গম) করার আগেই ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে (যদি ইচ্ছা কর)। আর যদি তুমি তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে থাক তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের অবাধ্য হয়েছ তোমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার ব্যাপারে তিনি তোমাকে যে আদেশ প্রদান করেছেন সে ব্যাপারে এবং সে স্ত্রী তোমার সঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলাম- তখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাযিঃ) তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলেন। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। পরে বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রাজ'আত করে নেয়- যতক্ষণ না যে হায়য কালে তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছে সেটি ব্যতীত আর একটি হায়যে সে ঋতুমতী হয়। তখন যদি তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়া তার মনঃপুত হয় তবে যেন তার হায়য থেকে পবিত্র হওয়া অবস্থায় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তলাক (তালাক) দেয়। তিনি আরো বললেন, এটিই হল ইদ্দাতের (সময় নির্ণয়ের) জন্য ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদান যেমন আল্লাহ হুকুম করেছেন। (সালিম বলেন) আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে এক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। সেটি তার ত্বলাক (তালাক) (তালাক) গণনা করা হল (অর্থাৎ এক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) ধরা হল) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অনুসারে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে (স্ত্রীকে রাজ'আত করে নিয়েছিলেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২১, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... (পূর্বোক্ত সানাদের ন্যায়) যুহরী (রহঃ) সূত্রে ঐ সানাদে বর্ণিত। তবে এতে রাবী (সরাসরি ইবনু উমারের উক্তি উদ্ধৃত করে) বলেছেন যে, ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেছেন, পরে আমি তাকে রাজ'আত করে নিলাম এবং তাকে যে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি দিয়েছিলাম তা তার জন্য একটি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) রূপে হিসাব করা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকুর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... সালিম (রহঃ) সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে তার ঋতুবতী অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকাশে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর যেন সে তাকে রাজ’আত করে নেয়। পরে যেন তাকে তুহর (পবিত্র) অবস্থায় কিংবা গর্ভাবস্থায় (অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে) ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৩, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম আল আওদী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে- যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল- ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তাকে হুকুম কর যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ’আত করে নেয়। অবশেষে সে আর একটি হায়যে ঋতুমতী হবার পরে আবার পবিত্র হলে, তখন তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে কিংবা (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৪, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজর আস্ সাদী (রহঃ) ... ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ বছর আমি এ অবস্থায় অবস্থান করলাম যে, আমি অবিশ্বস্ত মনে করি না এমন লোক আমাকে এ মর্মে হাদীস শোনাচ্ছিল যে, ইবনু উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীর ঋতুবতী অবস্থায় তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার পরে তাকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হয়েছিলেন। আমি এ বর্ণনাকারীদের প্রতি অনাস্থা ও সন্দেহ পোষণ করছিলাম না অথচ আমি ছিলাম প্রকৃত হাদীসের পরিচয় লাভে বঞ্চিত। অবশেষে আমি আবূ গাল্লাব ইউনুস ইবনু জুবায়র আল বাহিলী (রহঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি ছিলেন স্থিরমতি-আস্থাভাজন। তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি (নিজে) ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি (ইবনু উমর) তাঁকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে তার হায়য চলাকালে এক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তখন তাকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হলেন। তিনি (আবূ গাল্লাব) বলেছেন, তবে আর কী! যদি নাকি তিনি (ইবনু উমার) অপারগ হয়ে থাকেন ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। (তাতে কার কী আসে যায়) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ রবী ও কুতায়বাহ্ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... (পূর্বোক্ত সানাদের রাবী) আইয়্যুব (রহঃ) এর সূত্রে ঐ সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন .... উমর (রযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে রিওয়ায়াত করেছেন। এ সানাদের হাদীসে রাবী বলেছেন, পরে উমার (রাযিঃ) এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তার (ইবনু উমারের) প্রতি আদেশ প্রদান করলেন। যাতে অবশেষে তাকে (স্ত্রীকে) যৌন সঙ্গমবিহীন তুহর (পবিত্র) অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে পারে। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, তার (স্ত্রীর) ইদ্দাত (ইদ্দত) (এর সময়) এর পূর্ব ভাগে (আগমন কালে) তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... (মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন সূত্রে) ইউনুস ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল (এর হকুম কি?)। তিনি বললেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জান কি সে তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিল? তখন উমর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে হুকুম করলেন যে, সে (ইবনু উমার) তাকে (স্ত্রী) রাজ’আত করে নিবে। এরপর তার ইদ্দাতের (নিশ্চয়তাযুক্ত সময়ের) প্রতীক্ষায় থাকবে। ইউনুস (রহঃ) বলেন, তখন আমি তাকে (ইবনু উমারকে) বললাম, কোন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে তখন ঐ ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি হিসাবে গণনা করা হবে কি? তিনি বললেন, তবে আর কি যদি নাকি সে অক্ষম হয়ে গিয়ে থাকে কিংবা বোকামি করে থাকে (তাহলে কি তার এ কাজের পরিণতি দেখা দিবে না?) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলাম- তখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। তখন উমর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তার কাছে বিষয়টি আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেন তাকে রাজ'আত করে নেয়। পরে যখন সে (হায়য হতে) পবিত্র হবে তখন ইচ্ছা করলে তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিবে। রাবী ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললাম, সেটি (ত্বলাক (তালাক)) কি হিসাবে করা হবে? তিনি বললেন, কোন বিষয় তাকে বাধা দিবে- বলত যদি সে অপরাগ হয়ে থাকে এবং আহম্মকি করে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫২৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার (রাযিঃ) কে তার সে স্ত্রী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যাকে তিনি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাকে আমি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলাম- যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। আমি বিষয়টি উমর (রাযিঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আলোচনা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। পরে যখন সে পাক হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তার পাক অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, আমি কেন সেটা গণনায় ধরবো না? যদি আমি অক্ষম হই অথবা নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করি (তাহলে কি আমার এ কাজ গণনায় আসবে না)? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেই। উমার (রাযিঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে রাজ’আত করে। পরে যখন সে পবিত্র হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তাকে পবিত্র অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়। আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত ত্বলাক (তালাক) (তালাক) টি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে কী করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... (পূর্বোক্ত সানদের ন্যায়) শু'বাহ (রহঃ) সূত্রে এ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এ দু'জনের হাদীসেيراجعها এর স্থলেلِيَرْجِعْهَا (তাকে ফিরিয়ে আনে) রয়েছে এবং এদের হাদীসে আরো রয়েছে যে, আনাস (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি সেটি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, তবে আর কী হবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩২, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু ত্বাউস (রহঃ) এর পিতা (তাউস) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনলেন। তখন ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার কে জান কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তিনি তো তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তখন উমার (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাকে সংবাদ অবহিত করলে তিনি তাকে (স্ত্রীকে) পুনঃগ্রহণ করে নেয়ার জন্য তাকে আদেশ প্রদান করলেন। ইবনু তাউস (রহঃ) বলেন, আমি তাকে (পিতাকে) এর অধিক বলতে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘আযযাহ এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) আবদুর রহমান ইবনু আয়মান (রহঃ) কে ইবনু উমর (রাযিঃ) এর কাছে প্রশ্ন করতে শুনলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) তখন শুনছিলেন- “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?” ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ইবনু উমার (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিল যখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাযিঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছে। "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, সে যেন তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। সুতরাং (এভাবে) তিনি তাকে (স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, যখন (হায়য হতে) পবিত্র হয়ে যাবে তখন (ইচ্ছে করলে) যেন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয় কিংবা রেখে দেয়। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, এবং (এ সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেনঃ (অর্থ) "হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে ইচ্ছা কর তখন তাদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিও তাদের ইদ্দাতের (সময় আগমনের) অগ্রভাগে"- (সূরা আত ত্বলাক (তালাক) ৬৫ঃ ১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে পূর্বোক্ত বর্ণনার ন্যায় রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি উরওয়াহ (রহঃ) এর আযাদকৃত গোলাম আবদুর রহমান ইবনু আয়মান (রাযিঃ) কে ইবনু উমর (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছেন আর আবূ যুবায়র (রহঃ) তখন হাজ্জাজ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ শুনছিলেন এবং তাতে কিছু অধিক তথ্য রয়েছে। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, উরওয়ার মাওলা বলে রাবী বিচ্যুতির শিকার হয়েছেন। মূলত হবে "আযযার মাওলা"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহিমাহুমাল্লাহ) .... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর যুগে ও উমার (রাযিঃ) এর খিলাফাতের প্রথম দু' বছর পর্যন্ত তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) এক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) সাব্যস্ত হত। পরে উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে দেই...(তবে তা-ই কল্যাণকর হবে)। সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ আস্ সাহবা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আপনার সে সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদীস) হতে কিছু উপস্থাপন করুন না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর যুগে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) কি এক (ত্বলাক (তালাক) (তালাক)) ছিল না? তিনি বললেন, তা ছিল তো; পরে যখন উমর (রাযিঃ) এর যুগে লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যপরি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে লাগল তখন উমর (রাযিঃ) সেটিকে (অর্থাৎ তিন তলাকের যথার্থ বিধি)– তাদের জন্য কার্যকর করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ আস্ সাহবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) এর সময়ে কি তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) কে এক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) ধরা হত? তিনি বলেন, হ্যাঁ এরূপই ছিল। তবে উমার (রাযিঃ) এর যামানায় লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যপরি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিতে লাগল। অতঃপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন ত্বলাক (তালাক)ে পরিণত করেন।)* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... হিশাম দাসতাওয়ায়ী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে (লিখিতরূপে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাঈদ) বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করা সম্বন্ধে বলতেন যে, তা কসম (ইয়ামীন) সাব্যস্ত হবে, তার কাফফারাহ আদায় করবে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) (এ প্রসঙ্গে) আরো বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের)لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ (আয়াত উদ্ধৃত করে) "তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪০, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু বিশ্র আল হারীরী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম (ঘোষণা) করলে তা কসম সাব্যস্ত হবে, তার কাফফারাহ আদায় করবে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... উবায়দ ইবনু উমায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আসর পরবর্তী সময় হুজরাসমূহে আবর্তন কালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাযিঃ) এর গৃহে অবস্থান করে সেখানে মধু পান করেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি ও হাফসাহ মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু'জনের মাঝে যার কাছেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- “আমি আপনার মুখে মাগাফীর’-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি।* আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাকে অনুরূপ বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং আমি তো যায়নাব বিনতু জাহশ এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না। তখন নাযিল হল- (অর্থঃ) “হে নবী। আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নবী তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন"- (সূরা আত তাহরীম ৬৬ঃ ১-৪)। এতে “যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ্ (রাযিঃ) উদ্দেশ্য। এবং "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন" দ্বারা বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল 'আলা ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহিমাহুমাল্লাহ) (আবূ উসামাহ সূত্রে) ..... হিশামের পিতা (উরওয়াহ্) সূত্রে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্ট দ্রব্য (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তার নিয়ম ছিল- আসরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর গিয়ে আসতেন এবং তাদের সান্নিধ্যে-সন্নিকটে গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফসাহ (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার কাছে স্বাভাবিকভাবে আবদ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আবদ্ধ রইলেন। আমি (আয়িশাহ্) এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হল- তাকে (হাফসাকে) তার গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পান করিয়েছিল। (আয়িশাহ বলেন) আমি বললাম, ওহে আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তার জন্য কৌশলের ফাঁদ পাতব। আমি বিষয়টি সাওদাহ্ এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাকে বলবে, হে আল্লাহর রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- 'না'। তখন তুমি তাকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের?- আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে দুৰ্গন্ধ পাওয়া যাবে- এটা ছিল তার কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসাহ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাকে বলবে, ঐ মধুর মৌমাছি- উরফুত (গাছের কষ) চুষেছে।" আর আমিও তাকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সফিয়াহ! তাই বলবে। পরে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদাহ (রাযিঃ)-এর কাছে গেলেন- 'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাযিঃ) এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তার কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন দরজায়- তোমার ভয়ে (তা আর করা হল না)। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকটবর্তী হলে সে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেন, 'না'। সে (সাওদাহ্) বলল, তবে এ ঘ্রাণ কিসের? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাফসাহ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদাহ্ বলল, (তবে তাই) তার মৌমাছি উরফুত বা মাগাফিরের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেছে।” পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাকে অনুরূপ বললাম। অতঃপর সফিয়্যাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে গেলে সেও অনুরূপ বলল। পরে (আবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাহ এর নিকট গেলে সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সাওদাহ (রাযিঃ) বলতে লাগল, আল্লাহর কসম আমরা তো তাকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, চুপ থাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
(ইমাম মুসলিম এর শাগরিদ) আবূ ইসহাক ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, হাসান ইবনু বিশর (রহঃ) আবূ উসামাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে আমাকে অবিকল এ হাদীস শুনিয়েছেন। সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) আলী ইবনু মিসহার ও হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) এর সূত্রে ঐ সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহিমাহমাল্লাহ) ..... আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের ইখতিয়ার প্রদানে আদিষ্ট হলে বিষয়টি আমাকে দিয়ে সূচনা করলেন। তিনি বললেন, “আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উপস্থাপন করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করলে তোমার কোন লোকসান হবে না।” “আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিত অবগত ছিলেন যে, আমার মা-বাপ আমাকে তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাবার পরামর্শ দিতে প্রস্তুত হবেন না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইখতিয়ারের বিষয়ের বিবরণ প্রদানে) বললেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেনঃ "হে নবী আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন! তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদের বিদায় দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রসূল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন”— (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২৮-২৯)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার মা-বাপের সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ এবং তার রসূল ও আখিরাতকেই ইখতিয়ার করছি"। তিনি বলেন, পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য স্ত্রীগণ তেমনই করেন যেমন আমি করেছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুআযাহ আল আদাবিয়্যাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আপনি তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন"- (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৫১) আয়াত নাযিল হবার পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক স্ত্রীর পালার দিনে (অন্যদের জন্য) আমাদের কাছে অনুমতি চাইতেন। তখন মুআযাহ্ (রহঃ) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার নিকট অনুমতি চাইলে আপনি তাকে কী বলতেন? তিনি বললেন, আমি বলতামঃ এ বিষয়টি আমার অধিকারে থাকলে তো কাউকে আমি আমার উপর অগ্রাধিকার দিতাম না। অর্থাৎ অনুমতি প্রার্থনার বিষয়টি অধিকারমূলক ছিল না। বরং তা ছিল নৈতিক ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সৌজন্যমূলক আচরণ মাত্র। সুতরাং সেখানে অনুমতি না দেয়ার অবকাশ ছিল না। অন্যথায় আমি অনুমতি প্রদানে রায়ী হতাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) এর সূত্রে পূর্বোক্ত সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তা ত্বলাক (তালাক) (তালাক) মনে করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীকে ইখতিয়ার প্রদানে আমার কোন পরোয়া নেই- একবার শতবার কিংবা হাজারবার যদি সে আমাকে পছন্দ করে থাকে। আর আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এতে কি ত্বলাক (তালাক) (তালাক) হয়ে গিয়েছে? (না এতে ত্বলাক (তালাক) হয়নি) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তা (ইখতিয়ার প্রদান করা) ত্বলাক (তালাক) (তালাক) বলে গণ্য হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক (তালাক) (তালাক) বলে গণ্য হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫০, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহিমাহুমুল্লাহ) ...... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এরপর আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এটা আমাদের উপর ত্বলাক (তালাক) (তালাক) বলে গণ্য হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে আসওয়াদ (রহঃ) এর সূত্রে মাসরূক (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫২, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তার দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) কে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর উমর (রাযিঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিন্তাযুক্ত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তার চতুস্পার্শ্বে তার সহধর্মিণীগণ উপবিষ্টা ছিলেন। তিনি [বর্ণনাকারী জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ)] বলেন, “উমর (রাযিঃ) বললেন নিশ্চয়ই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাকে হাসাবে। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি খারিজাহ এর কন্যাকে [উমার (রাযিঃ) এর স্ত্রী] আমার কাছে খোরপোষ তলব করতে দেখতেন তাহলে (তৎক্ষণাৎ) আপনি তার দিকে অগ্রসর হয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করতেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতুস্পার্শ্বে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবী করছে। অমনি আবূ বাকর (রাযিঃ) আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর দিকে ছুটলেন এবং তার গর্দানে আঘাত করলেন। উমার (রাযিঃ)ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফসাহ (রাযিঃ) এর দিকে অগ্রসর হয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করলেন। তারা উভয়ে বললেন, তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন জিনিস দাবী করছ যা তার কাছে নেই। তখন তারা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম আমরা আর কখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তার কাছে নেই। এরপর তিনি তাদের (তার সহধর্মিণীগণের) থেকে এক মাস কিংবা উনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন। এরপর তার প্রতি এ আয়াত নাযিল হল- (অর্থ) "হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিণীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন"- (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৮-২৯)। তিনি [জাবির (রাযিঃ)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামীল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে আয়িশাহ্! আমি তোমার কাছে একটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তার রসূল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিণীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাদের যে কেউ সে বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তাকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্থায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণ থেকে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমি মসজিদে নাবাবীতে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম লোকেরা হাতে কংকর নিয়ে নাড়াচাড়া করছে (যা দুশ্চিন্তার সময় স্বাভাবিকভাবে ঘটে থাকে)। তারা বলাবলি করছিল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনা ছিল তাদের উপর পর্দার নির্দেশ আসার পূর্বেকার। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি আজই প্রকৃত ঘটনা জেনে নিব। তাই আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকটে গেলাম। আমি তাকে বললাম, হে আবূ বাকর তনয়া! তোমার অবস্থা কি এ পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাবের পুত্র! আমার ব্যাপার নিয়ে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? আগে নিজের ঘরের খবর নিন। তিনি বলেন, তখনই আমি হাফসাহ বিনতু উমর (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। আমি তাকে বললাম, হে হাফসাহ! তোমার অবস্থা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কষ্ট দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! আমি জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে ভালবাসেন না। আর আমি না হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তোমাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দিতেন। এ কথা শুনে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় আছেন? সে হাফসাহ (রাযিঃ) বলল, তিনি ঐ চিলেকোঠায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চৌকাঠটি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ড দিয়ে নির্মিত যা দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠানামা করতেন। আমি রাবাহ-কে ডাকলাম এবং বললাম, হে রাবাহ আমার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। তখন রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। আমি বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। এরপর রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল এবং আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে এবারও কিছুই বলল না। তখন আমি উচ্চস্বরে বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। সে সময় আমি ভেবেছিলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ত ধারণা করছেন আমি আমার কন্যা হাফসার কারণেই এখানে এসেছি। আল্লাহর কসম! যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গর্দান উড়িয়ে দিবার নির্দেশ দিতেন তাহলে আমি অবশ্যই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এ সব কথা আমি উচ্চস্বরেই বলছিলাম। তখন সে (রাবাহ) আমাকে ইশারায় উপরে উঠতে বলল। তখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলাম। সে সময় তিনি খেজুর পত্র নির্মিত একটি চাটাইয়ের উপর কাত হয়ে শোয়া ছিলেন। আমি সেখানে বসে পড়লাম। তিনি তার চাঁদরখানি তার শরীরের উপরে টেনে দিলেন। তখন এটি ছাড়া তার পরনে অন্য কোন কাপড় ছিল না আর বাহুতে চটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি স্বচক্ষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামানাদির দিকে তাকালাম। আমি সেখানে একটি পাত্রে এক সা' (আড়াই কেজি পরিমাণ) এর কাছাকাছি কয়েক মুঠো যব দেখতে পেলাম। অনুরূপ বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা (যা দিয়ে চামড়ায় রং করা হয় ) কামরার এক কোণায় পড়ে আছে দেখলাম। আরও দেখতে পেলাম ঝুলন্ত একখানি চামড়া যা পাকানো ছিল না। তখন তিনি বলেন, এসব দেখে আমার দু' চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে খাত্ত্বাবের পুত্র! কিসের তোমার কান্না পেয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কেন অমি কাদব না। এই যে চাটাই আপনার শরীরের পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর এই হচ্ছে আপনার কোষাগার। এখানে সামান্য কিছু যা দেখলাম তাছাড়া তো আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে ঐ যে রোমক বাদশাহ ও পারস্য সম্রাট, কত বিলাস ব্যসনে ফলমূল ও ঝরণায় পরিবেষ্টিত হয়ে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর রসূল এবং তার মনোনীত ব্যক্তি। আর আপনার কোষাগার হচ্ছে এই! তখন তিনি বললেন, হে খাত্ত্বাব তনয়! তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া (পার্থিব ভোগ বিলাস)। আমি বললাম, নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। এরপর উমার (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন প্রবেশ করেছিলাম তখন তার চেহারায় রাগের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সহধর্মিণীগণের কোন আচরণ আপনার মনোকষ্টের কারণ হয়েছে কি? আপনি যদি তাদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদান করে থাকেন (তাতে আপনার কিছু আসে যায় না) সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার সঙ্গে আছেন। তার সকল মালাক, জিবরীল, মীকাঈল, আমি, আবূ বাকর (রাযিঃ) সহ সকল ঈমানদার আপনার সঙ্গে আছেন। তিনি [উমার (রাযিঃ)] বলেন, আল-হামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কোন কথা বলি তাতে প্রায়ই আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ আমার কথা সত্য প্রমাণিত করবেন। তখন ইখতিয়ার সম্পর্কিত এ আয়াত নাযিল হল “যদি নবী তোমাদের সকলকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর সহধর্মিণী দিবেন"। (সুরাহ আত তাহরীম ৬৬ঃ ৫) “আর তোমরা দু’জন যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের সাহায্য কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহই তার বন্ধু এবং জিবরীল (আঃ), সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণও। অধিকন্তু সমস্ত মালায়িকাহও তার সাহায্যকারী।" (সুরাহ আত তাহরীম ৬৬ঃ ৪) আয়িশাহ্ বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) ও হাফসাহ্ (বিনতু উমার) (রাযিঃ) এ দু'জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য সহধর্মিণীগণের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তাদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম মুসলিমরা (চিন্তামুক্ত হয়ে) মাটির কংকর মারছে এবং বলছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দিয়েছেন। এখন আমি কি তাদের কাছে গিয়ে জানিয়ে দিব যে, আপনি আপনার সহধর্মিণীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ তোমার মনে চাইলে। এভাবে আমি তার সঙ্গে আলাপ করতে লাগলাম। পরিশেষে দেখলাম তার চেহারা থেকে রাগের ছাপ একেবারে মুছে গেছে এবং তিনি এমনভাবে হাসি দিলেন যে, তার দাত দেখা গেল। তার দাঁত ছিল সকলের চাইতে সুন্দর। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে নিচে নেমে এলেন এবং আমিও খেজুর গাছের কাণ্ড নির্মিত (সিড়ির) কাষ্ঠ ধরে নিচে নেমে এলাম। তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে নিচে নামলেন যেন তিনি সমতল জমিনে হাটছেন। তিনি তার হাত দিয়ে কাণ্ডটি স্পর্শ করেননি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো এ বালাখানায় উনত্রিশ দিন অবস্থান করছেন। তিনি বললেন, মাস উনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। এরপর আমি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলাম, তিনি তার সহধর্মিণীগণকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেননি। তখন এ আয়াত নাযিল হল- “যখন শান্তি কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা বিষয়টি আল্লাহর রসূল এবং নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট উপস্থাপন করত তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা এর যথার্থতা নিরূপণ করতে সক্ষম হত।” মোটকথা আমি উমার (রাযিঃ) এ বিষয়টির সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সক্ষম হয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা ইখতিয়ার সম্পর্কিত আয়াত নাযিল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ এক বছর যাবৎ ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, একটি আয়াত সম্পর্কে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু আমি তার গাম্ভীর্যের কারণে তাকে জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি। একবার তিনি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পালনের জন্য রওনা হলেন, আমিও তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। যখন আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম এ সময় তিনি (প্রকৃতির) প্রয়োজনে পিলুগাছের ঝোপের দিকে গেলেন। আমি তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করে ফিরে এলেন। এরপর আমি তার সঙ্গে রওনা করলাম। (এক সুযোগ পেয়ে) আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মধ্যে থেকে কোন দু’জন তার অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফসাহ (রাযিঃ) ও ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)। তিনি [আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)] বলেন, আমি তাকে [উমর (রাযিঃ) কে] বললামঃ আল্লাহর কসম! দীর্ঘ এক বছর যাবৎ এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করব বলে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কারণে সাহস পাইনি। তিনি [উমর (রাযিঃ)] বললেন, কখনো এরূপ করবে না বরং আমার কাছে কোন বিষয়ের জ্ঞান আছে বলে তোমার ধারণা হলে তুমি অবশ্যই সে সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবে। যদি তা আমার জানা থাকে তাহলে তোমাকে অবহিত করবই। রাবী [আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)] বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! জাহিলিয়্যাত যুগে আমরা নারী জাতির জন্য কোন অধিকার স্বীকার করতাম না। এরপর আল্লাহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারণের ছিল তা নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি বলেন, আমি কোন একদিন এক বিষয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে এসে বলল, আপনি যদি এরূপ এরূপ করতেন তাহলে বেশ ভাল হত। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? তুমি এখানে এলে কেন? আমি যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন? তখন সে বলল, হে খাত্ত্বাবের পুত্র! আপনি তো আমাকে মুখ খুলতেই দিচ্ছেন না, কী আশ্চর্য! অথচ আপনার (স্নেহের) কন্যাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে প্রতি উত্তর করে, যার ফলে তিনি সারাদিন রাগান্বিত অবস্থায় অতিবাহিত করেন। উমার (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি (তড়িঘড়ি) আমার চাঁদর গুটিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সোজা হাফসার কাছে পৌছলাম। আমি তাকে বললাম, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর করে থাক, যাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা দিন রাগান্নিত থাকেন? হাফসাহ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা সত্যিই তার কথার প্রত্যুত্তর দিয়ে থাকি। তখন আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তির ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তুষ্টির ভীতি প্রদর্শন করছি। হে আমার কন্যা! ঐ মেয়েটি যেন তোমাকে ধোকায় ফেলতে না পারে যাকে তার সৌন্দর্য ও তার প্রতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরাগ গর্বিতা করে ফেলেছে (এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বুঝাতে চাইছেন)। এরপর আমি সেখান থেকে বেরিয়ে উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। আমি তার সঙ্গে কথা বললাম। তখন উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) আমাকে বললেন, কী আশ্চর্য হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি সব কিছুতেই দখল নিতে চাচ্ছ? এমন কি তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সহধর্মিণীগণের মধ্যকার বিষয়ে দখল নিতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, এ বিষয়ে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর কথা আমাকে এমনভাবে জব্দ করল যে, আমি হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। তাই আমি তার নিকট হতে কেটে পড়লাম। এদিকে আমার একজন আনসার বন্ধু ছিলেন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাজলিসে অনুপস্থিত থাকলে তিনি আমাকে জানাতেন এবং তিনি তার মাজলিসে অনুপস্থিত থাকলে আমি তার কাছে এসে তাকে (আলোচ্য বিষয়ে) জানাতাম। সে সময়ে আমরা জনৈক গাসসানী বাদশার আক্রমণের আশংকা করছিলাম। কারণ তখন আমাদের মাঝে সংবাদ (গুজব) ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সে আমাদের উপর হামলার পায়তারা করছে। তাই ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তায় আমাদের অন্তর ছিল আচ্ছন্ন। ইত্যবসরে আমার আনসারী বন্ধুটি এসে দরজা খটখটাতে লাগলেন এবং বললেন, খুলে দিন আমি বললাম, তাহলে গাসসানীরা কি এসেই পড়ল। তিনি (আমার আনসারী বন্ধুটি) বললেন, (না, গাসসানীরা আসেনি) তবে তার চাইতেও সাংঘাতিক কিছু। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। উমার (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, হাফসাহ ও আয়িশার নাক ধূলোয় মলিন হোক। এরপর আমি আমার কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার বালাখানায় দেখতে পেলাম। সেটা ছিল এমন ছাদযুক্ত কামরা যাতে খেজুর কাণ্ড নির্মিত সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক সিঁড়ির কামরার দরজায় পাহাড়ারত ছিল। তখন আমি তাকে বললাম, আমি 'উমার। আমাকে অনুমতি এনে দাও। সে অনুমতি নিয়ে এলে আমি ভিতরে প্রবেশ করে এ ঘটনা বিশদভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে খুলে বললাম। আমি যখন উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছলাম, তখন তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তিনি তখন একটি সাদামাটা চাটাইয়ের উপর (কাত হয়ে শায়িত) ছিলেন, তার ও চাটাইয়ের মাঝখানে অন্য কিছুই ছিল না। তার মাথার নিচে ছিল চামড়ার তৈরি একটি বালিশ যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি ছিল। তার পায়ের কাছে ছিল স্তুপীকৃত বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা এবং শিয়রের কাছে ঝুলন্ত ছিল একটি কাচা চামড়া। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাই-এর দাগ দেখতে পেলাম, এতে আমি কাঁদলাম। তিনি বললেন, (হে খাত্ত্বাব তনয়) তুমি কাঁদছ কেন? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! পারস্য সম্রাট ও রোমক সম্রাট কত বিলাসব্যসনে কাটাচ্ছে আর আপনি হলেন আল্লাহর রসূল, (আপনার অবস্থা এই)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হে উমার) তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, তাদের জন্য কেবল দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস) আর তোমার জন্য রয়েছে আখিরাত (চিরস্থায়ী সুখ শান্তি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার (রাযিঃ) এর সঙ্গে রওনা হয়ে যখন মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌছলাম, তখন তিনি বিস্তারিতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। সুলায়মান ইবনু বিলাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি [ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)] বলেনঃ আমি 'উমার (রাযিঃ) কে বললাম, সে দু'জন মহিলার ঘটনা আমাকে বলবেন কি? তিনি বললেন, তারা ছিল হাফসাহ ও উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)। তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, এরপর আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) হুজরার দিকে এলাম তখন সব ঘরেই কান্নাকাটি অব্যাহত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীগণের সঙ্গে এক মাস ঈলা করেছিলেন। যখন উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল তখন তিনি তাদের কাছে ফিরে এলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (দীর্ঘদিন যাবৎ) মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, ঐ দু'জন মহিলা সম্পর্কে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করব যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা দান করেছিল। আমি দীর্ঘ একটি বছর অপেক্ষা করলাম কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না। শেষ পর্যন্ত মাক্কায় (মক্কায়) রওনা হবার পথে আমি তার সফর সঙ্গী হলাম। পথযাত্রায় তিনি যখন মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌছলেন তখন তিনি তার প্রয়োজন পূরণের (ইসতিনজা ইত্যাদির জন্য) ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। এরপর তিনি বললেন, আমাকে এক বদনা পানি দাও। আমি এক বদনা পানি সহ তার কাছে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি হাজত সমাধান করে ফিরে এলেন তখন আমি (ওযুর) পানি ঢেলে দেয়ার জন্য তার কাছে গেলাম। তখন আমি সে প্রশ্নের কথা স্মরণে আনলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! সে মহিলা দু’জন কারা ছিল? তখন আমার কথা শেষ না হতেই তিনি বললেন, সে দু'জন ছিল ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) ও হাফসাহ (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্যালী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহিমাছমাল্লাহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণের মধ্যে থেকে দু’জন মহিলা সম্পর্কে উমার (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করার জন্য বহুদিন যাবৎ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলাম যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের দু'জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন"। (সূরা আত তাহরীম ৬৬ঃ ৪) পরিশেষে উমর (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পালনের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং আমিও হজ্জ পালনের জন্য তার সফরসঙ্গী হলাম। এরপর (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করে ফেরার পথে) আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলার সময় উমার (রাযিঃ) এক পার্শ্বে মোড় নিলেন। আমিও পানির বদনাসহ তার সঙ্গে রাস্তার পাশে গেলাম। তিনি তার হাজত পূরণ করলেন এবং আমার কাছে এলেন। আমি তার উভয় হাতে পানি ঢাললাম, তিনি ওযু করে নিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণের মধ্যে সে দু'জন মহিলা কারা ছিল যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ উমর (রাযিঃ) বললেন, হে ইবনু আব্বাস। এতো তোমার জন্য আশ্চর্যের বিষয় বলে মনে হচ্ছে (তুমি এত বিলম্বে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?) যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি [উমর (রাযিঃ)] জিজ্ঞাসিত বিষয়টি (ইবনু আব্বাসের এ বিষয়ে বিলম্বে প্রশ্ন করাকে) অপছন্দ করলেও তা বর্ণনা করতে কিছুই গোপন করলেন না। তিনি বললেন, তারা দু’জন ছিল হাফসাহ ও আয়িশাহ (রাযিঃ)। এরপর তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমরা কুরায়শ বংশের লোকেরা (জাহিলিয়্যাত যুগে) আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভুত্ব করে চলতাম। যখন আমরা মাদীনায় এলাম তখন এমন লোকদের দেখতে পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করছিল। এমনি পরিবেশে আমাদের নারীরা তাদের (মাদীনাহবাসীদের) নারীদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে দেয়। তিনি বলেন, সে সময় মাদীনার উচ্চভূমির অধিবাসী বানু উমাইয়্যাহ্ ইবনু যায়দের বংশধরদের মধ্যে আমার বসতবাটি ছিল। এরপর একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম। সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করতে লাগল। আমি আমার সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই অপ্রিয় মনে করলাম। সে বলল, আপনার সঙ্গে আমার কথার প্রত্যুত্তর করাকে অপছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর কসম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণও তো তার সঙ্গে কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ তাকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তখন আমি রওনা করে (আমার মেয়ে) হাফসার কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে প্রত্যুত্তর কর? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের যে কেউ এরূপ আচরণ করে সে আসলেই দুর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কি কেউ বিপদমুক্ত ও নিরাপদ হতে পারে যদি আল্লাহ তার রসূলের ক্রোধের কারণে ক্রুদ্ধ হন। এরূপ হলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তুমি কখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তার কথার প্রত্যুত্তরে লিপ্ত হয়ো না এবং তার কাছে কোন কিছু দাবী করবে না, তোমার মনে যা চায় তা আমার কাছে চাইবে। তোমার সতীন তোমার চাইতে অধিকতর সুন্দরী এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তোমার তুলনায় অধিকতর প্রিয়পাত্রী। সে যেন তোমাকে ধোকায় পতিত না করে ফেলে। এর দ্বারা তিনি [উমর (রাযিঃ)] আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বুঝাতে চাইছেন। তিনি বলেন, আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। আমরা দুই বন্ধু পালাক্রমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (তার মাজলিসে) যেতাম। একদিন তিনি উপস্থিত থাকতেন, অপরদিন আমি উপস্থিত হতাম। এভাবে তিনি আমাকে ওয়াহী ইত্যাদির খবর দিতেন, আমিও অনুরূপ খবর তাকে পৌছাতাম। সে সময় আমরা বেশ করে আলোচনা করতে ছিলাম যে, গাসসানী বাদশাহ নাকি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ঘোড়ার ক্ষুরে নাল লাগাচ্ছে। একদিন আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন এবং ইশার সময় (রাত্রিকালে) আমার কাছে (ফিরে) এলেন। তিনি এসে আমার ঘরের দরজা খটখটালেন এবং আমাকে ডাকলেন। আমি তার ডাক শুনে তার কাছে ছুটে এলাম। তিনি বললেন, একটা বিরাট কাণ্ড ঘটে গেছে। আমি বললাম, সে কী? গাস্সানীরা তাহলে এসে গেছে নাকি? তিনি বললেনঃ না, তারা আসেনি বরং ব্যাপার তার চাইতেও সাংঘাতিক ও দীর্ঘতর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফসাহ হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্ব থেকেই ধারণা পোষণ করে আসছিলাম যে, এমন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এরপর আমি ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি হাফসার কাছে উপস্থিত হলাম। তখন সে কাঁদছিল। আমি বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। সে (শ্বাসরুদ্ধ করে) বলল, আমি জানি না। তবে তিনি তার ঐ বালাখানায় নির্জনবাস করছেন। তখন আমি তার কৃষ্ণাঙ্গ খাদিমের কাছে বললাম, উমারের (প্রবেশের) জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। এরপর সে ভিতরে প্রবেশ করল এবং পরক্ষণেই বেরিয়ে এসে আমার দিকে তাকাল। এরপর সে বলল, আমি তাঁর (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) কাছে আপনার কথা উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন (কিছুই বলছেন না)। অতঃপর আমি চলে এলাম এবং মিম্বারের কাছে এসে বসে পড়লাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সেখানে একদল লোক বসা আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আমি খানিকটা বসলাম। এরপর আমার মনের প্রবল আকাঙ্খা আমার উপর প্রভাব বিস্তার করল। তখন আমি সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটির কাছে চলে এলাম এবং তাকে বললাম, 'উমারের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমাকে বলল, আমি আপনার বিষয়টি তার সামনে উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। আমি যখন পিছনে ফিরে চললাম অমনি সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপনি প্রবেশ করুন; তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি খেজুর পাতার তৈরি একটি চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে আরাম করছেন যা তার পাজরে চাটাইয়ের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আপনার সহধর্মিণীগণকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন? তিনি তার মাথা উচিয়ে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহর রসূল! আপনি বিষয়টি ভেবে দেখুন; আমরা যখন মাদীনায় এলাম তখন দেখতে পেলাম, এখানকার পুরুষ লোকদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভুত্ব বিস্তার করে আসছে। এতে তাদের দেখাদেখি আমাদের স্ত্রীরাও তাদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে দিয়েছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হলাম। অমনি সে আমার কথার প্রত্যুত্তর শুরু করে দিল। আমি তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই খারাপ মনে করলাম। সে বলে ফেলল, আপনার সঙ্গে প্রত্যুত্তর করাকে আপনি এত খারাপ মনে করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণও তো তার কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে, এমনকি তাদের কেউ কেউ তাকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি বললাম, তাদের মধ্যে কেউ এমন আচরণ করলে সে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কারো উপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হওয়ার কারণে যদি আল্লাহ ক্রুদ্ধ হয়ে যান তাহলে তার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু স্বরে হেসে উঠলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে বলে দিয়েছি যে, তোমার সতীন সৌন্দর্যে তোমার তুলনায় অগ্ৰগামিনী এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তোমার চাইতে অধিকতর আদরিণী- তা যেন তোমাকে ধোকার জালে আবদ্ধ করতে না পারে। এতে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করতে চাই। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পার। অতঃপর আমি বললাম এবং মাথা উঠিয়ে তার কোঠার (এদিক ওদিক) তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহর কসম! আমি সেখানে তিনখানি চামড়া ব্যতীত নয়ন জুড়ানো তেমন কিছু দেখতে পাইনি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন তিনি আপনার উম্মাতকে প্রাচুর্য দান করেন। পারসিক ও রোমকদের তো বৈষয়িক সুখ সমৃদ্ধ দান করা হয়েছে অথচ তারা আল্লাহর ইবাদাত (আনুগত্য) করে না। তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি সন্দেহের জালে আচ্ছন্ন আছো। আসলে তারা তো এমন সম্প্রদায় যাদের পার্থিব জীবনে ক্ষণিকের তরে সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি তার সহধর্মিণীগণের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, দীর্ঘ একমাস তাদের সঙ্গে একত্রে অতিবাহিত করবেন না। শেষাবধি আল্লাহ তাকে এ আচরণের জন্য তিরস্কার করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ আমর ইবনু হাফস্ (রাযিঃ) (তার স্বামী) অনুপস্থিতিতে তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেন। এরপর সামান্য পরিমাণ যবসহ উকীলকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে তিনি ফাতিমাহ (রাযিঃ) তার উপর ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট হন। সে (উকীল) বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে (খোরপোষরূপে) কোন কিছু দেয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। তখন তিনি ফাতিমাহ বিনত কায়স (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে তার নিকট সব খুলে বললেন। (তার কথা শুনে) তিনি বললেন, তোমার জন্য তার তোমার স্বামী আবূ আমর ইবনু হাফস্ (রাযিঃ) এর দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি তাকে উম্মু শারীক এর ঘরে গিয়ে ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি এও বললেন, সে মহিলা (উম্মু শারীক) এমন একজন স্ত্রীলোক যার কাছে আমার সাহাবীগণ ভীড় করে থাকেন। তুমি বরং ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) এর বাড়িতে গিয়ে ইদ্দাত পালন করতে থাক। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে প্রয়োজনবোধে তুমি তোমার পরিধানের বস্তু খুলে রাখতে পারবে। ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, যখন আমার ইদ্দাত পূর্ণ হল তখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম যে, মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) ও আবূ জাহম (রাযিঃ) আমাকে বিবাহের পায়গাম পাঠিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ জাহম এমন লোক যে, তার কাঁধ থেকে লাঠি নামিয়ে রাখে না। আর মু'আবিয়াহ তো কপৰ্দকহীন গরীব মানুষ। তুমি উসামাহ ইবনু যায়দের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও। কিন্তু আমি তাকে পছন্দ করলাম না। পরে তিনি আবার বললেন, তুমি উসামাকে বিয়ে কর। তখন আমি তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। আল্লাহ এতে (তার ঘরে) আমাকে বিরাট কল্যাণ দান করলেন। আর আমি ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ফাতমিাহ্ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় তার স্বামী তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেন। এরপর তার স্বামী তার জন্য (ইদ্দাতকালীন সময়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য) সামান্য পরিমাণ খোরপোষ দিয়েছিলেন। তিনি তা দেখে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এ বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোচরে আনব। যদি খোরপোষ আমার প্রাপ্য হয় তবে তা আমি এ পরিমাণ উসুল করব যাতে সুচারুভাবে আমার প্রয়োজন পূরণ হয়। আর যদি খোরপোষ আমার পাপ্য না-ই হয় তাহলে আমি তার নিকট থেকে কিছুই গ্রহণ করব না। তিনি বলেন, এরপর আমি বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উত্থাপন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই, বাসস্থানও নেই (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬০, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) কে (তার স্বামী কর্তৃক ত্বলাক (তালাক) (তালাক) সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে, তার মাখযূমী স্বামী তাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে খোরপোষ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি সেখান থেকে সরে পড় এবং ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে গিয়ে তার কাছে অবস্থান কর। কারণ সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার গাত্রবস্ত্র (গায়ের কাপড়) খুলে রাখতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... যাহহাক ইবনু কায়স-এর ভগ্নী ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী আবূ হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) তাকে একত্রে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রদান করেন। এরপর তিনি ইয়ামান চলে যান। তখন তার (আবূ আমর-এর) পরিবারের লোকজন তাকে (ফাত্বিমাকে) বলল, তোমার জন্য আমাদের দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই। এরপর খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) একদল লোকসহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তখন তিনি মায়মুনাহ্ (রাযিঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। তারা বললেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আবূ হাফস তার স্ত্রীকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। এখন তার স্ত্রী কি খোরপোষ পাবে? বললেনঃ না, তার জন্য কোন খোরপোষ নেই, তার উপর ইদ্দাত পালন করা ওয়াজিব। তিনি তাকে বলে পাঠালেন যে, তুমি আমাকে না জানিয়ে বিবাহের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। তিনি তাকে ইদ্দাত পালনের জন্য উম্মু শারীক এর ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাকে লোক মারফত জানিয়ে দিলেন যে, উম্মু শারীক এমন একজন মহিলা যার কাছে প্রাথমিক হিজরাতকারী সাহাবীগণ আসা যাওয়া করে থাকেন। সুতরাং তুমি অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। কারণ সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার দোপাট্টা (ওড়না) নামিয়ে রাখলে সে তোমাকে দেখতে পাবে না। যখন তার ইদ্দাত পূর্ণ হল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু হুজুর ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহিমাহমুল্লাহ) ..... ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বানু মাখযুম এর এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলাম। তিনি আমাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন তখন আমি তার পরিবার পরিজনের কাছে লোক পাঠিয়ে খোরপোষের দাবী জানালাম। এরপর তারা (বর্ণনাকারীত্রয়) আবূ সালামার সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু কাসীরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে গেলেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনু আমর বর্ণিত হাদীসে “আমাকে বাদ দিয়ে তুমি তোমার সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নিও না” বলে উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৩ ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবূ আমর ইবনু হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাকে চূড়ান্ত তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। তখন তিনি ফাতিমাহ বিনত কায়স (রাযিঃ) ভাবলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবেন এবং তার স্বামীর ঘর থেকে অন্যত্র অবস্থানের ব্যাপারে তার নিকট থেকে সিদ্ধান্ত জেনে নিবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। মারওয়ান (উমাইয়্যা গভর্নর) ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলার (স্বামীর) ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে তার (আবূ সালামার) বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন। উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) ও ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর বিষয়টি (স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করা) প্রত্যাখ্যান করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) এ সানাদে উরওয়ার উক্তিসহ বর্ণনা করেছেন যে, “আয়িশাহ (রাযিঃ) ফাতিমার উক্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ আমর ইবনু হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) আলী ইবনু আবূ তলিব (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী ফাতিমাহ বিনতু কায়সকে অবশিষ্ট এক তলাকের কথা বলে পাঠালেন (দু' তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবনু হিশাম ও আবূ রাবী'আকে নিজের পক্ষ থেকে তার (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তারা দু'জন তাকে (ফাতিমাকে) বললেন, আল্লাহর কসম তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাদের দু'জনের উক্তি সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, ইবনু উম্মু মাকতুমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার নিকট গাত্র বস্ত্র খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এরপর যখন তার ইদ্দাত পূর্ণ হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উসামাহ ইবনু যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন। পরবর্তীকালে (উমাইয়্যাহ্ গভর্নর) মারওয়ান এ হাদীসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে কাবীসাহ ইবনু যুআয়বকে তার কাছে পাঠান। তখন তিনি তার (কাবীসার) কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেন। এ খবর শুনে মারওয়ান বললেন, একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমি এ হাদীস শুনিনি। আমরা এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি। ফাত্বিমাহ্ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পৌছলে তিনি বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্যে কুরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ "তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।" তিনি বলেন, এ আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রাজ'আতের অধিকার আছে। তাই তিন তলাকের পর নতুন করে আর কী থাকতে পারে? এরপর তোমরা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তার জন্য কোন খোরপোষ নেই? এরপরও তোমরা তাকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তার (ফাতিমাহ বিনতু কায়স) কাছে গেলাম এবং তার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, এরপর আমি বাসস্থান ও খোরপোষের জন্য তার বিরুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বিচারপ্রার্থী হলাম। তিনি বলেন, তিনি আমার পক্ষে বাসস্থান ও খোরপোষের রায় দেননি। উপরন্তু তিনি আমাকে ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমাহ বিনত কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে ইবনু ত্বাব নামক টাটকা খেজুর দ্বারা আপ্যায়িত করলেন এবং গম ও মূলত ছাতুর শরবত পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সে ইদ্দাত পালন করবে কোথায়? তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ইদ্দাত (ইদ্দত) পালনের অনুমতি দিলেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ কোনটাই নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭০, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্যালী (রহঃ) ..... ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। এতে আমি তার ঘর থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। (এ পর্যায়ে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই 'আমর ইবনু উম্মু মাকতুমের বাড়িতে চলে যাও এবং তার ঘরেই ইদ্দাত পালন করতে থাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু জাবালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদের সঙ্গে সেখানকার বড় মসজিদে বসা ছিলাম। শা'বীও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ফাতিমাহ বিনতু কায়স বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের সিদ্ধান্ত দেননি। তখন আসওয়াদ তার হাতে এক মুঠো কংকর নিয়ে শা'বীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, সর্বনাশ! তুমি এমন ধরনের হাদীস বর্ণনা করছ? (অথচ) উমর (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর সুন্নাত এমন একজন মহিলার উক্তির কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা জানি না, সে স্মরণ রাখতে পেরেছে অথবা ভুলে যে তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করে দিয়ে না এবং তারাও যেন ঘর থেকে বের না হয়। তবে তারা স্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে ভিন্ন কথা”— (সূরা আত ত্বলাক (তালাক) ৬৫ঃ ১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭২, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ আয যাব্বী (রাযিঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে আবূ আহমাদ আম্মার ইবনু রুযায়ক সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ বকর ইবনু আবূ জাহম ইবনু সুখায়র আল আদাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তার স্বামী তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের অধিকার দেননি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে। এরপর আমি তাকে ইদ্দাত পূর্ণ হওয়ার কথা জানালাম। তখন মু'আবিয়াহ (রাযিঃ), আবূ জাহম (রাযিঃ) ও উসামাহ (রাযিঃ) তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু'আবিয়াহ তো একজন গরীব মানুষ, তার কোন ধনসম্পদ নেই। আর আবূ জাহম-সে তো স্ত্রীদের প্রহারকারী। তবে উসামাহ- তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে পার। তখন তিনি তার হাতের ইশারায় বললেন, উসামাহ্ তো এরূপ। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য করাই তোমার জন্য কল্যাণকর। তিনি বললেন, তখন আমি তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। (আল্লাহ আমাকে প্রাচুর্য ও বিত্তবৈভবে পরিপূর্ণ করে দিলেন) ফলে আমি ঈর্ষার কেন্দ্রে পরিণত হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ বাকর ইবনু আবূ জাহম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমাহ বিনতু কায়সকে বলতে শুনেছি যে, আমার স্বামী আবূ আমর হাফস্ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী'আহ-কে আমার নিকটে আমাকে ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেয়ার সংবাদ দিয়ে পাঠান। তিনি তার সাথে আমার খোরপোষের জন্য পাঁচ সা' (এক সা' সাড়ে তিন কেজির সমান) খেজুর এবং পাঁচ সা' যব পাঠিয়ে দেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমার জন্য কি খোরপোষ এ পরিমাণ? আমি তোমাদের ঘরে ইদ্দাত করব না। তিনি (আইয়্যাশ) বললেন, না তা হতে পারে না। তিনি (ফাত্বিমাহ) বললেন, আমি তখন কাপড় চোপড় পরিধান করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, সে তোমাকে কত ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছে? আমি বললাম, তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক)। তিনি বললেন, সে (আয়্যাশ) ঠিকই বলেছে। তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি তোমার চাচাতো ভাই ইবনু উম্মু মাকতুমের ঘরে গিয়ে ইদ্দাত পালন কর। সে একজন অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে সেখানে কাপড় চোপড় খুলে রাখতে পারবে। এরপর তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে। তিনি (ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) বলেন, আমার ইদ্দাতকাল অতিবাহিত হলে বেশ কয়েকজন লোক আমার কাছে বিয়ের পায়গাম পাঠালেন। তার মধ্যে মু'আবিয়াহ ও আবূ জাহমও ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু'আবিয়াহ তো একজন গরীব মানুষ, নগণ্য সম্পদের অধিকারী আর আবূ জাহম তো নারীদের প্রতি কঠোর (অথবা বললেন) সে স্ত্রীদের লাঠিপেটা করে অথবা এরূপ কিছু বললেন। তবে উসামাহ ইবনু যায়দকেই গ্রহণ করা তোমার জন্য উচিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ বাকর ইবনু আবূ জাহম (রাযিঃ) বলেন, আমি এবং আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স এর কাছে গেলাম। এরপর আমরা তাকে (তার ত্বলাক (তালাক) (তালাক) সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আবূ আমর হাফস্ ইবনু মুগীরার স্ত্রী ছিলাম। একবার তিনি নাজরানের যুদ্ধে রওনা হয়ে গেলেন। এরপর আবূ বকর ইবনু আবূ জাহম (রাযিঃ) ইবনু মাহদী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন যে, “তিনি (ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স) বলেন, আর আমি তাকে বিয়ে করলাম। এরপর আল্লাহ ইবনু যায়দের দ্বারা আমাকে সম্মানিত করলেন এবং আমাকে তার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবূ বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর শাসনামলে আমি এবং আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বললেন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য বাসস্থান এবং খোরপোষের ফায়সালা দেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ) আবদুর রহমান ইবনু হাকাম এর কন্যাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেন এবং তাকে তার থেকে বের করে দেন। উরওয়াহ (রহঃ) এতে তাদের ভৎসনা করেন। তারা বললেন, ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ)ও তো ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। উরওয়াহ বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে এলাম এবং তার কাছে এ ঘটনা উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর জন্য কোন কল্যাণ নেই যে, সে এ হাদীস বর্ণনা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন, আমার আশংকা হয় যে, তিনি আমার উপর চড়াও হবেন। তখন তিনি তাকে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি চলে গেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর জন্য এ কথা বলায় কোন কল্যাণ নেই যে, তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮১, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (রহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে বললেন, হাকামের অমুক মেয়েটির সম্পর্কে আপনি কি অবহিত নন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন? এরপর সে ঘর থেকে বের হয়েছে। তিনি বললেন, আপনি কি ফাতিমার উক্তি শুনেননি? তখন তিনি (উরওয়াহ্) বললেন, তার উক্তি বর্ণনার মধ্যে তার জন্য কোন কল্যাণ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মায়মূন, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি তার (খেজুর বাগানের) খেজুর পাড়ার ইচ্ছা করলেন। এক ব্যক্তি তাকে বাইরে যেতে বাধা দিলেন। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ তুমি তোমার বাগানের খেজুর পাড়ার জন্য বাইরে যেতে পার। কারণ সম্ভবত তা থেকে অন্যদের সদাকাহ করবে অথবা অন্য কোন ভাল কাজ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম যুহরীকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন যে, তিনি যেন সুবায়'আহ বিনতু হারিস আসলামীর কাছে চলে যান। এরপর তাকে তার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। যখন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফাতাওয়া চাইছিলেন এবং তিনি তাকে যা বলেছিলেন তখন উমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাকে লিখে পাঠালেন যে, সুবায়'আহ তাকে জানিয়েছেন- তিনি বানু আমির ইবনু লুঈ গোত্রের সা'দ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাদরী সাহাবী এবং বিদায় হাজজের (হজ্জের/হজের) সময় ওফাত পান। সে সময়ে তিনি গর্ভবতী ছিলেন। তার স্বামীর ইন্তিকালের অব্যবহিত পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের পয়গামদাতাদের জন্য সাজসজ্জা করতে লাগলেন। তখন বানু আবদুদ দার গোত্রের আবূ সানাবিল ইবনু বা'কাক নামক এক ব্যক্তি তার কাছে এলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, মতলব কী? আমি তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখতে পাচ্ছি। সম্ভবত তুমি বিবাহ প্রত্যাশী? আল্লাহর কসম চার মাস দশদিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পারবে না। সুবায়'আহ বললেন, যখন সে লোকটি আমাকে এ কথা বলল, তখন কাপড়-চোপড় পরিধান করে সন্ধ্যাবেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে সে বিষযে জানিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই আমার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, আমি ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সস্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই প্রসূতির জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে আমি দূষণীয় মনে করি না, যদিও সে তখন নিফাসের ইদ্দাত পালনরত থাকে। তবে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে স্বামী যেন স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর কাছে সমবেত হলেন। তারা এমন একজন মহিলার কথা আলোচনা করছিলেন যিনি তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক দিন পরেই সন্তান প্রসব করেছেন। তখন ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তার ইদ্দাত হবে দু'টির মধ্যে দীর্ঘতরটি। আবূ সালামাহ (রাযিঃ) বললেন, তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দু’জনে বিতর্ক শুরু করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি আমার ভাতিজা আবূ সালামার পক্ষে। এরপর তারা সবাই ইবনু আব্বাসের মুক্তদাস কুরায়বকে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বলল যে, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেছেন, সুবায়'আহ আসলামিয়াহ তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক রাত পরই সন্তান প্রসব করেন এবং তিনি সে বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করেন। তখন তিনি তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু রুমূহ, আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাদি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে "তারা সাবাই উম্মু সালামার কাছে সংবাদ পাঠালেন" এবং তিনি (লায়স) কুরায়বের নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যায়নাব বিনতু আবূ সালামাকে উম্মু সালামাহ্ ও উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। তিনি তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) কাছে উত্থাপন করলেন যে, আমার মেয়ের স্বামী মারা গিয়েছে। (তার শোক পালন করতে গিয়ে) তার চোখে অসুখ হয়েছে। সে এখন তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে চায়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (জাহিলিয়াত যুগে স্বামীর মৃত্যুতে) তোমাদের কেউ এক বছর পূর্তি পর্যন্ত উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। আর এখন তো মাত্র চারমাস দশদিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনত উম্মু সালামাকে বলতে শুনেছি যে, উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) এর একজন নিকট আত্মীয় ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠান এবং তার দু' বাহুতে মেখে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি তা এজন্য করলাম যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করা যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
আর যায়নাব (রাযিঃ) এ হাদীসখানা তার মা উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনতু উম্মু সালামাকে তার মায়ের সূত্রে বলতে শুনেছি যে, এক মহিলার স্বামী মারা গেল। লোকেরা তার চোখের ব্যাপারে আশংকাবোধ করল। তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তারা তার কাছে মহিলার চোখে সুরমা ব্যবহারের অনুমতি চাইল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহিলিয়্যাত যুগে স্বামীর মৃত্যুতে তোমাদের কেউ কেউ সাদা-মাটা কাপড়-চোপড় কিংবা ছিড়ে-ফাড়া বস্ত্র পরিধান করে একটি সংকীর্ণ কক্ষে পুরো এক বছর (ইদ্দাত পালনের জন্য) অতিবাহিত করত। এরপর কোন কুকুর তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে সে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করে বাইরে বের হয়ে পড়ত। এ কুসংস্কারের পরিবর্তে চারমাস দশদিন পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে তোমরা কি সক্ষম হবে না? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি চোখে সুরমা ব্যবহার সংক্রান্ত উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মধ্যে থেকে কোন একজনের বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন “মুহাম্মাদ ইবনু জাফার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। যায়নাব তার নাম উল্লেখ করেননি।” - (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯০, ইসলামীক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... যায়নাব বিনতু আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাবীবাহ (রাযিঃ) এর কাছে তার পিতা আবূ সুফইয়ানের ইনতিকালের খবর পৌঁছল তখন তৃতীয় দিনে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার দু'হাতে গায়ে ভাল করে তা মেখে নিলেন। আর বললেন, আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। কেননা সে তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও ইবনু রুমূহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... হাফসাহ (রাযিঃ) কিংবা আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে পৃথকভাবে অথবা তাদের দু'জন থেকে যৌথভাবে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে কিংবা যে মহিলা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে লায়স বর্ণিত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উমারের কন্যা হাফসাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাবী কর্তৃক বর্ণিত এ বর্ণনাটি লায়স ও ইবনু দীনার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ আছে "কারণ সে তার (স্বামীর) জন্য চারমাস দশদিন শোক পালন করবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ রবী' ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সফিয়্যাহ বিনতু আবূ উবায়দ (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সহধর্মিণী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন না করে। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু রবী' (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা তার কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করবে না। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন পর্যন্ত শোক পালন করবে। এ সময় সীমায় (ইদ্দাতের মেয়াদকালে) সে রঙিন কাপড় চোপড় পরিধান করবে না। তবে কালো রঙে রঞ্জিত চাঁদর পরিধান করতে পারবে। সে চোখে সুরমা লাগাবে না এবং কোন সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং সে হায়য থেকে পবিত্র হলে (পবিত্রতার নিদর্শন স্বরূপ) কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত। তবে এ হাদীসে 'আমর আন্ নাকিদ ও ইয়াযীদ ইবনু হারূন (রহঃ) উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, সে তার হায়য থেকে পবিত্র হওয়ার পর কুস্ত্ব ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
(…) আবু রবী আয-যাহরানী (রহ) ... উম্মু আতিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন পর্যন্ত শোক পালনের নিয়ম ছিল। আমরা চোখে (ইদ্দতকালীন) সময়ে সুরমা লাগাতাম না, কোন প্রকার সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করতাম না এবং রঙ্গিন কাপড়-চোপড় পরতাম না। তবে আমাদের মধ্য থেকে কোন মহিলা যখন হায়য থেকে পবিত্র হয়ে গোসল করত তখন দুর্গন্ধ দূর করার জন্য তাকে কুসত ও আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৬০০, ইসলামিক সেন্টার)