অল ইসলাম লাইব্রেরি

8 - দুই ঈদের সালাত অধ্যায়

1

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এবং আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-এর সাথে ঈদুল ফিতরের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তারা সবাই খুতবার আগে সালাত আদায় করেছেন এবং পরে খুতবাহ পাঠ করেছেন। তিনি বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বার থেকে) অবতরণ করলেন। যখন তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে লোকদের বসিয়ে দিচ্ছিলেন, তা যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি লোকদের মধ্য দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তার সাথে বিলাল (রাযিঃ) ছিলেন। এরপর তিনি এ আয়াতটুকু পাঠ করলেন يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لاَ يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا "হে নবী! ঈমানদার মহিলারা আপনার নিকট আসে, তখন তারা একথার ওপর বাইয়াত করবে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না"- (সূরাহ আল মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ১২)। এ আয়াত পাঠ সমাপ্ত করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমরা কি এ কথার ওপর অটল আছ? তখন মাত্র একজন মহিলাই উত্তর করল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর নবী! সে ব্যতীত তাদের মধ্যে থেকে আর কেউ প্রতি উত্তর করেননি। অবশ্যই মহিলাটি কে তখন তা জানা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তারা সদাকাহ করতে লাগল আর বিলাল (রাযিঃ) তার কাপড় বিছিয়ে দিলেন অতঃপর বললেন, তোমাদের প্রতি আমার মা-বাপ কুরবান হোক! এগিয়ে আসো। তখন মহিলারা তাদের ছোট বড় আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ের উপর ফেলতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৪, ইসলামীক সেন্টার)

2

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

3

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বরের দিন দাঁড়ালেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন। তিনি খুতবাহ দেয়ার আগে প্রথমে সালাত আদায় করেছেন, পরে জনতার উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ শেষ করে মহিলাদের কাছে এসে উপদেশ দিলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলালের হাতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিলাল তার কাপড় প্রসারিত করে রেখেছিলেন। মহিলারা এতে দান বস্তু ফেলছিল। আমি (ইবনু জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কি ঈদুল ফিত্বরের যাকাত (সদাকায়ে ফিতর)? আতা বললেন, না, বরং তা সাধারণ সদাকাই ছিল। মহিলারা তাদের মূল্যবান আংটি (দানপাত্রে) ফেলছিল এবং সম্ভব সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছিল। আমি আত্বা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, বর্তমানে কি ইমামের জন্য খুতবাহ সমাপ্ত করার পর মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে উপদেশ শুনানোর বিধি সম্মত? আতা বললেন, হ্যাঁ। আমার জীবনের রবের শপথ! এটা ইমামদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। তাদের এ কাজ না করার কি কারণ থাকতে পারে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৯১৭, ইসলামীক সেন্টার)

4

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন-আযান ইকামাত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং “আল্লাহ ভীতি" অর্জন করার আদেশ করলেন ও তার আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তিনি সমবেত জনতাকে উপদেশ দিলেন। তারপর বললেন, তোমরা সদাকাহ কর। কেননা তোমাদের বেশীর ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্যে থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একটি মেয়েলোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেননা তোমরা বেশী অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলাগণ তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের ঝুমকা, রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৮, ইসলামীক সেন্টার)

5

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদুর ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন (ঈদের জন্য) আযান দেয়া হ’ত না। ইবনু জুরায়জ বলেন, কিছু সময় পর আমি আতাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, আমাকে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযানও নেই ইকামাতও নেই। কোন ডাক বা কোন প্রকার ধ্বনিও নেই। ঐ দিন ঈদের জন্য কোন আযান ও ইকামাতের নিয়ম নেই। ইমাম (সালাতের উদ্দেশে) বের হওয়ার সময় এবং বের হওয়ার পরেও আযানের কোন প্রয়োজন নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৯, ইসলামীক সেন্টার)

6

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনু যুবায়র-এর নিকট প্রথমে লোকেরা যখন বাইয়্যাত নিচ্ছিল- ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার কাছে এ সংবাদ পাঠালেন যে, ঈদুল ফিত্বরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযান দেয়া হতো না। অতএব তুমি ঈদের সালাতের জন্য আযানের প্রচলন করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তার সময় আযানের প্রচলন করেননি। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এ কথাটুকু ইবনুয যুবায়র-এর নিকট বলে পাঠান যে, খুতবাহ সালাতের পরে হবে, আর এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত সমাপন করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২০, ইসলামীক সেন্টার)

7

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, হাসান ইবনুর রাবী', কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একবার দু'বার নয়, অনেক বার দু'ঈদের সালাত আযান ও ইকামাত ব্যতীত আদায় করেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২১, ইসলামীক সেন্টার)

8

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২২, ইসলামীক সেন্টার)

9

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন। তারা নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সদাকাহ কর, সদাকাহ কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল মহিলাগণ। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তার হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দেখি কাসীর ইবনু সালত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সালাতের দিকে টানা হেঁচড়া করছি। যখন আমি তার এ মনোভাব দেখলাম আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সালাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সাঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৩, ইসলামীক সেন্টার)

10

আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা মেয়েদেরকে ও পর্দানশীন মেয়ে লোকদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বলি এবং তিনি ঋতুবতী নারীদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন মুসলিমদের সালাতের স্থান থেকে কিছুটা পৃথক থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৪, ইসলামীক সেন্টার)

11

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু 'আতিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদের মাঠে বের হওয়ার আদেশ করা হত এমনকি গৃহবাসিনী পর্দানশীন মহিলা ও প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীকেও অনুমতি দেয়া হতো। উম্মু আতিয়াহ বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হয়ে আসত এবং সব লোকের সাথে তাকবীর পাঠ করত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৫, ইসলামীক সেন্টার)

12

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে বের করে দেই- পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সবাইকে। তবে ঋতুবতী মহিলারা সালাত থেকে বিরত থাকবে। বাকী পুণ্যের কাজে ও মুসলিমদের দু'আয় শারীক হবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো কারো চাদর ওড়না নেই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য বোন তাকে নিজ চাদর বা ওড়না পরিয়ে দিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৬, ইসলামীক সেন্টার)

13

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

14

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) আবূ ওয়কিদ আল লায়সী (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বর ও আযহার সালাতে কি কিরআত পাঠ করতেন? আবূ ওয়াকিদ (রাযিঃ) বললেন, তিনি এতে "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" (সূরাহ কাফ) এবং "ইক্বতারাবাতিস সা-আতু ওয়ান শাক্বক্বাল কামার" (সূরাহ কামার) পাঠ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৯, ইসলামীক সেন্টার)

15

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ ওয়াকিদ আল লায়সী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে কোন সূরাহ পড়েছেন? আমি উত্তরে বললাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "ইক্বতারাবাতিস সা-আতু” (সূরাহ কামার) এবং "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" (সূরাহ কাফ) পাঠ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩০, ইসলামীক সেন্টার)

16

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমার কাছে আনসার সম্প্রদায়ের দু'টি মেয়ে গান গাচ্ছিল। আনসারগণ বু’আস যুদ্ধের সময় এ গানটি গেয়েছিল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তারা অবশ্য (পেশাগত) গায়িকা ছিল না। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, একি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ বকর প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসবের ব্যবস্থা আছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের উৎসবের দিন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩১, ইসলামীক সেন্টার)

17

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... উভয়ে হিশাম (রহঃ) একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- দু'টি বালিকা দফ বাজিয়ে খেলা করছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩২, ইসলামীক সেন্টার)

18

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ বাকর (রাযিঃ) আইয়্যামে তাশরীকের দিনে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখেন যে, তার কাছে দুটি বালিকা গান করছে এবং দফ বাজাচ্ছে। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর দিয়ে মাথা ঢাকা অবস্থায় ছিলেন। আবূ বকর (রাযিঃ) এটা দেখে বালিকাদ্বয়কে খুব শাসলেন বা ধমক দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলেন, হে আবূ বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এ দিনগুলো হ’ল ঈদের দিন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তার চাদর দ্বারা ঢেকে দিচ্ছেন, যখন আমি আবিসিনিয়ার যুবকদের (কৃষ্ণাঙ্গ) খেলার দৃশ্য অবলোকন করছিলাম। তখন আমি সবেমাত্র বালিকা। অতএব তোমরা অল্পবয়স্কা বালিকাদের সখের মূল্যায়ন কর। অল্পবয়স্ক বালিকারা অনেকক্ষণ আমোদ-ফুর্তিতে মেতে থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

19

আবূত তহির (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম, তিনি আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা তাদের অস্ত্র দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে নবাবীতে তাদের যুদ্ধের কলাকৌশল দেখাচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার চাদর দ্বারা আড়াল করে দিচ্ছেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ আমি নিজে ফিরে না আসি। অতএব অল্পবয়স্কা বালিকাদের খেল-তামাশার প্রতি যে লোভ রয়েছে তার মূল্যায়ন কর (তার সখ পূর্ণ কর)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

20

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) [শব্দগুলো হারূনের] ...... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, আমার কাছে দুটি বালিকা জাহিলিয়্যাত যুগে সংঘটিত বু'আস যুদ্ধের গান গাইছে। তিনি বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন সময় আবূ বকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে শাইতনের বাদ্য চলছে? (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে বললেন, হে আবূ বাকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এরপর তিনি যখন অন্যমনস্ক হলেন, আমি বালিকাদ্বয়কে আস্তে খোচা দিলাম। তারা বের হয়ে চলে গেল। এটা ঈদের ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা ঢাল-বল্লম দ্বারা রণকৌশল ও খেল-তামাশা করছিল। তখন হয়ত আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন করেছি না হয় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন তুমি কি তা দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম- জি হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তার পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গণ্ডদেশ তার গণ্ডদেশের উপর সংলগ্ন হ'ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী আরফিদাহ! তোমরা তোমাদের খেলা চালিয়ে যাও। অনেকক্ষণ পর আমি যখন একটু বিরক্তবোধ করলাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হয়েছে তো? আমি বললাম, জি হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

21

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক আবিসিনীয় লোক মাদীনায় পৌছে ঈদের দিন মসজিদে নবাবীতে (অস্ত্র নিয়ে) খেলা করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি তার কাঁধের উপর মাথা রেখে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম। অনেকক্ষণ এ দৃশ্য উপভোগ করে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

22

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উভয়ে হিশাম (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তারা 'মসজিদের' কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

23

ইব্রাহীম ইবনু দীনার, উকবাহ ইবনু মুকরাম আল আম্মী ও "আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) [শব্দাবলী উকুবাহ-এর] ... উবায়দ ইবনু উমায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমাকে আয়িশাহ (রাযিঃ) জানিয়েছেন, তিনি ক্রীড়া প্রদর্শনকারীদের বলে পাঠালেন যে, তিনি তাদেরকে দেখতে আগ্রহী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমি উভয়ে দরজার উপর দাঁড়ালাম। আমি তার দু’কানের মাঝে ও কাঁধ সংলগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখেছিলাম তারা মসজিদে (হাতিয়ার নিয়ে) খেলছিল। আতা বলেন, তারা পারস্যের অথবা আবিসিনিয়ার অধিবাসী ছিল। আর ইবনু আতীক আমাকে বলেনঃ বরং তারা আবিসিনিয়ার অধিবাসী ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

24

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আবিসিনীয় লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে খেলাধূলা করছিল। এমন সময় উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) সেখানে আসলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) প্রস্তর খণ্ড তুলে তাদের প্রতি নিক্ষেপ করতে উদ্যত হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এদেরকে খেলতে দাও হে উমার! (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৩৯, ইসলামীক সেন্টার)