অল ইসলাম লাইব্রেরি

6 - মুসাফিরের সালাত অধ্যায়

1

2

আবুত তহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত ফরয করার সময় আল্লাহ তা'আলা দু' রাকাআত করে ফারয (ফরয) করেছিলেন। তবে পরে বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাতে বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন সালাত পূর্বের মতো দু' রাকাআতই রাখা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪১, ইসলামীক সেন্টার)

3

আলী ইবনু খাশ্‌রম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। প্রথমে সালাত ফারয (ফরয) হয়েছিল দু' রাকাআত করে। পরবর্তী সময়ে সফরকালীন সালাত দু' রাকাআত ঠিক রাখা হয়েছে কিন্তু বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত পূর্ণাঙ্গ (অর্থাৎ চার রাকাআত) করা হয়েছে। বর্ণনাকার যুহরী বলেছেনঃ আমি উরওয়াহকে জিজ্ঞেস করলাম- তাহলে কী কারণে আয়িশাহ (রাযিঃ) সফরকালীন সালাত পুরো আদায় করতেন? জবাবে উরওয়াহ বললেনঃ ‘আয়িশাহ উসমানের ব্যাখ্যার মতো এ হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪২, ইসলামীক সেন্টার)

4

আবূ বকর ইবনু শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঘিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে এ আশঙ্কা থাকলে সালাত কসর করে আদায় করতে তোমাদের কোন দোষ হবে না"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ১০১)। কিন্তু এখন তো লোকেরা নিরাপত্তা লাভ করেছেন। (সুতরাং এখন কসর সালাত আদায় করার প্রয়োজন কী?) এ কথা শুনে উমার ইবনুল খাত্তাব বললেনঃ তুমি যে কারণে বিস্মিত হয়েছ আমিও ঠিক একই কারণে বিস্মিত হয়েছিলাম (অর্থাৎ আমিও কসর সালাত আদায়ের কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না)। তাই উক্ত বিষয়ে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটি তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সদাকাহ বা দান। সুতরাং তোমরা তার দেয়া সদাকাহ গ্রহণ কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

5

মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকুদ্দামী (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রহঃ) বলেন- আমি উমর ইবনুল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

6

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মানসূর, আবুর রাবি ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের নবীর জবানীতে আল্লাহ তা'আলা বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত চার রাকাআত, সফরের সালাত দু' রাকাআত এবং ভীতিকর অবস্থানকালীন সালাত এক রাকাআত ফারয (ফরয) করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

7

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জবানীতে মুসাফিরের সালাত দু' রাকাআত, মুকীম বা বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত চার রাকাআত এবং ভীতিকর অবস্থার সালাত এক রাকাআত ফারয (ফরয) করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

8

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মূসা ইবনু সালামাহ আল হুযালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি মাক্কায় অবস্থানকালে যদি ইমামের পিছনে সালাত আদায় না করি তাহলে কীভাবে সালাত আদায় করব। জবাবে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেন, দু' রাকাআত সালাত আদায় করবে। এটি আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

9

মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয্‌ যারীর, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ থেকে একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

10

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাক্কার কোন একটি পথে আসিম ইবনু উমার এর সাথে চলছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের সাথে করে যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং মাত্র দু' রাক’আত আদায় করলেন। তারপর তিনি তার কাফিলার মধ্যে ফিরে আসলেন। আমরাও তার সাথে ফিরে আসলাম। তিনি সেখানে বসে পড়লে আমরাও তার সাথে বসে পড়লাম। এ সময় যে স্থানে তিনি সালাত আদায় করেছিলেন সে স্থানে তার দৃষ্টি পড়লে কিছু সংখ্যক লোককে সেখানে দাঁড়ানো দেখতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা ওখানে কী করছে? আমি বললাম, তার সুন্নাত পড়ছে। তিনি এ কথা শুনে বললেনঃ ভাতিজা, আমাদেরকে যদি সুন্নাত আদায় করতে হত তাহলে আমি ফারয (ফরয) সালাতও পূর্ণ আদায় করতাম। আমি সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে থেকে দেখেছি আমৃত্যু তিনি দু' রাকাআতের অধিক আদায় করেননি। আমি সফরে আবূ বকরের সাথে থেকে দেখেছি আল্লাহ তাকে ওফাত দান না করা পর্যন্ত তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। আমি সফরে উমারের সাথে দেখেছি তিনি দু' রাকাআত সালাতই আদায় করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের উত্তম নমুনা রয়েছে"- (সূরাহ আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

11

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... হাফস্ ইবনু আসিম থেকে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি সাংঘাতিকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লাম। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার আমাকে দেখতে আসলেন। সে সময় আমি তাকে সফরে সুন্নাত সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- আমি সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গী হয়েছি। কিন্তু কখনো তাকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। আর আমি যদি সফরে সুন্নাত সালাত আদায় করতাম তাহলে ফারয (ফরয) সালাতও পূর্ণ করে আদায় করতাম। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ "আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের জন্য উত্তম নীতিমালা রয়েছে"– (সূরাহ আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫০, ইসলামীক সেন্টার)

12

খালাফ ইবনু হিশাম, আবূর রাবি আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বিদায় হাজ্জের সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ থেকে যুহরের সালাত চার রাকাআত আদায় করে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং যুলহুলায়ফাতে পৌছে আসরের সালাত দু' রাকাআত আদায় করেছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫১, ইসলামীক সেন্টার)

13

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সফরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাদীনায় যুহরের সালাত চার রাকাআত আদায় করে বের হয়েছি এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌছে তার সাথে আসরের সালাত মাত্র দু' রাকাআত আদায় করেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫২, ইসলামীক সেন্টার)

14

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযীদ আল হুনায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে সফররত অবস্থায় সালাতে কসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ দূরত্বে সফরে বের হতেন তখনই দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযীদ আল হুনায়ী তিন মাইল দূরত্বের কথা বলেছেন, না তিন ফারসাখ দূরত্বের কথা বলেছেন তাতে শু'বার সন্দেহ রয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

15

যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুরাহবীল ইবনু আস সিমত্ব (রাযিঃ) এর সাথে সতের বা আঠার মাইল দূরবর্তী এক গ্রামে গেলাম। তিনি সেখানে (চার রাকাআতের পরিবর্তে) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

16

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) এ সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (শু'বাহ) শুরাহবীল না বলে মুহাম্মাদ ইবনুস সিমত (রহঃ) উল্লেখ করেছেন। তিনি তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হিমস এর আঠার মাইল দূরবর্তী "দূমীন" নামে পরিচিত একটি স্থানে উপনীত হলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

17

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সফরে) আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মদীনাহ থেকে মাক্কার দিকে বের হলাম। (এ সফরে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ওয়াক্তের সালাতই দু' রাকাআত করে আদায় করেছেন এবং মাদীনায় ফিরে এসেছেন। বর্ণনাকারী ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন- আমি আনাস ইবনু মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি মক্কায় ক'দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন। জবাবে আনাস ইবনু মালিক বললেনঃ দশদিন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

18

কুতায়বাহ্‌, আবূ কুরায়ব (রহ:) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

19

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা মদীনাহ থেকে হাজের উদ্দেশে যাত্রা করলাম ...। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

20

ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি হাজ্জের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

21

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (বহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমার এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মিনা এবং অন্যান্য স্থানে মুসাফিরের মতো দু' রাকাআত করে সালাত আদায় করেছিলেন। আর আবূ বাকর, উমার তাদের খিলাফাত যুগে এবং উসমান তার খিলাফাতের প্রথম দিকে সফরকালের সালাত দু' রাকাআত করে আদায় করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণ চার রাক’আত আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬০, ইসলামীক সেন্টার)

22

যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এতে 'মিনাতে' কথাটি উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যান্য স্থানে কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬১, ইসলামীক সেন্টার)

23

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাতে (ফারয (ফরয) সালাত চার রাকাআতের পরিবর্তে) দু' রাকাআত আদায় করেছেন। পরে আবূ বকর তার খিলাফতকালে তাই করেছেন। আবূ বকরের পর উমারও তাই করেছেন। কিন্তু পরে চার রাকাআত আদায় করেছেন। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করলে চার রাকাআত আদায় করতেন। কিন্তু যখন তিনি একাকী সালাত আদায় করতেন দু’ রাকাআত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬২, ইসলামীক সেন্টার)

24

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আবূ কুরায়ব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ...... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

25

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে মুসাফিরের ন্যায় দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আবূ বাকর, উমার এবং উসমানও তাদের খিলাফতকালে আট বছর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহে) ছয় বছর যাবৎ তাই করেছেন। হাফস বর্ণনা করেছেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার মিনাতে অবস্থানকালে সালাত দু' রাকাআত আদায় করতেন এবং পরে তার বিছানায় চলে আসলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা, আপনি আরও দু' রাকাআত সালাত আদায় করলে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আমাকে যদি এরূপ করতে হত তাহলে আমি ফারয (ফরয) সালাত পূর্ণাঙ্গ করে (চার রাকাআত) আদায় করতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

26

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত। তবে তারা তাদের বর্ণিত হাদীসে মিনাতে অবস্থানকালে কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে এভাবে সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

27

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান মিনাতে অবস্থানকালে আমাদের সাথে নিয়ে ফারয (ফরয) সালাত চার রাকাআত আদায় করলেন। বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে অবহিত করা হলে তিনি "ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাই-হি র-জিউন” পড়লেন। পরে তিনি বললেনঃ আমি মিনাতে অবস্থানকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আবূ বাকর সিদ্দীকের সাথেও দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আমি মিনাতে অবস্থানকালে উমার ইবনুল খাত্ত্বাবের সাথেও দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। চার রাকাআতের পরিবর্তে দু' রাকাআত সালাতই যদি আমার জন্য মাকবুল হ’ত তাহলে কতই না ভাল হ’ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

28

আবৃ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ও ইবনু খশরাম (রহঃ) ..... সকলেই আ'মাশ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

29

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ (রহঃ) ..... হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনাতে অবস্থানকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু রাকাআত সালাত আদায় করেছি। অথচ লোকজন নিরাপদ ও আতঙ্কহীন ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

30

আহমাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... হরিসাহ ইবনু ওয়াহব আল খুযাঈ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি তখন দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছিলেন। তখন তার পিছনে বহু সংখ্যক লোক ছিল। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ হারিসাহ ইবনু ওয়াহব খুযাঈ উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার ইবনুল খাত্ত্বাবের ভাই। তারা একই মায়ের গর্ভজাত সন্তান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

31

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নাফি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ঝড় ও শীতের রাতে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) সালাতে আযান দিলেন। আযানে তিনি বললেনঃ তোমরা যার যার বাড়ীতে সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি বললেন যে, শীতের রাত অথবা মেঘাচ্ছন্ন রাত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে এ কথা ঘোষণা করতে আদেশ দিতেনঃ 'তোমরা বাড়ীতে সালাত আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭০, ইসলামীক সেন্টার)

32

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শীত ও ঝড়-বৃষ্টি কবলিত এক রাতে সালাতের আযান দিলেন। তিনি তার আযান শেষে উচ্চস্বরে বলেন, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানস্থলে সালাত আদায় করে নাও। শোন! তোমরা অবস্থানস্থলে সালাত আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফররত অবস্থায় শীত বা বর্ষণমুখর রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করে নাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭১, ইসলামীক সেন্টার ১৪৭৯- ক)

33

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি 'যজনান' নামক স্থানে সালাতের আযান দিলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার বললেনঃ তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার-এর কথা, “তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই সালাত আদায় করে নাও" কথাটি দ্বিতীয়বার বললেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭২, ইসলামীক সেন্টার)

34

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গী ছিলাম। ইতোমধ্যে বৃষ্টি হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কেউ চাইলে নিজের জায়গাতে অবস্থান করে সেখানেই সালাত আদায় করে নিতে পারো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

35

আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী (রহঃ)..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এক বৃষ্টিঝরা দিনে তিনি মুয়াৰ্যযিনকে বললেনঃ আজকের আযানে যখন তুমি “আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" বলে শেষ করবে তার পরে কিন্তু "হাইয়া আলাস্ সলা-হ” বলবে না। বরং বলবে, “সল্লু ফী বুয়ুতিকুম" অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই সালাত আদায় করে নাও। হাদীসের বর্ণনাকারী (আবদুল্লাহ ইবনু হারিস) বলেছেনঃ এরূপ করা লোকজন পছন্দ করল না বলে মনে হ'ল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেনঃ তোমরা এ কাজকে আজগুবি মনে করছ? অথচ যিনি আমার চেয়ে উত্তম তিনি এরূপ করেছেন। জুমুআর সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তোমরা কাঁদাযুক্ত পিচ্ছিল পথে কষ্ট করে চলবে তা আমি পছন্দ করিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

36

আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবদুল হামীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রহঃ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, এক বৃষ্টিকর দিনে আবদুল্লাহ ইবনু "আব্বাস আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। এতটুকু বর্ণনা করে তিনি পূর্বোক্ত ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি জুমুআর দিনের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, যিনি আমার চেয়ে উত্তম অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। আবূ কামিল বলেছেনঃ হাম্মদ আসিম এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনু হারিস থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

37

আবূর রাবী আল আতাকী (আয যাহরানী) (রহঃ) ... আইয়ুব ও আসিম আল আহওয়াল (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

38

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃষ্টিকর জুমুআর দিনে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এর (নিযুক্ত) মুয়াযযিন আযান দিলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বললেনঃ তোমরা কর্দময় ও পিচ্ছিল পথে চলবে তা আমার পছন্দ হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

39

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বৃষ্টিঝরা জুমু’আর দিনে তার (নিযুক্ত) মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। মা'মার-এর হাদীসে রয়েছে, বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে উক্ত বর্ণনাকারীর অনুরূপ এবং মামার-এর বর্ণিত হাদীসে এ কথাও আছে যে, যিনি আমার চেয়ে উত্তম অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

40

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে তার (নিযুক্ত) মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। এভাবে তিনি অন্য বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

41

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সওয়ারীর মুখ যেদিকেই থাক না কেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীর পিঠে বসে নফল সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮০, ইসলামীক সেন্টার)

42

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উটের মুখ যে দিকেই থাকুক না কেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটের পিঠে বসেই নফল সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮১, ইসলামীক সেন্টার)

43

উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ থেকে মদীনায় আসার পথে যে দিকেই তার মুখ হোক না কেন সওয়ারীতে বসে সালাত আদায় করতেন। এ ব্যাপারেই আয়াত (অর্থ) "তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাবে সেটিই আল্লাহর দিক"- (সুরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১১৫) অবতীর্ণ হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮২, ইসলামীক সেন্টার)

44

আবূ কুরায়ব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সকলে 'আবদুল মালিক (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনুল মুবারাক ও ইবনু আবূ যায়িদাহ বর্ণিত হাদীসে এ কথা উল্লেখিত হয়েছে যে, হাদীসটি বর্ণনার পর আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) "তোমরা যেদিকেই মুখ কর না কেন সবই আল্লাহর দিক"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১১৫)। এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে বললেন, এ আয়াতটি এ ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

45

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে খায়বারের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

46

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমারের সাথে মাক্কার পথ ধরে চলছিলাম। ভোর হয়ে যাচ্ছে মনে করে এক সময় সওয়ারী থেকে নেমে বিতর সালাত আদায় করলাম এবং পরে তার কাছে গিয়ে পৌছলাম। তখন দেখে সওয়ার থেকে নেমে বিতর সালাত আদায় করলাম। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমার বললেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনে কি তোমার অনুসরণের জন্য উত্তম আদর্শ নেই। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তা অবশ্যই আছে। তিনি বললেন, উটের পিঠে বসেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

47

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওয়ারীর মুখ যেদিকেই থাক না কেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফরে) সওয়ারীর পিঠে সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৬, ইসলামীক সেন্টার ১৪৯৪) আবদুল্লাহ ইবনু দীনার বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু উমরও এরূপ করতেন। (অর্থাৎ সফরে তিনি সওয়ারীর পিঠে আরোহণরত অবস্থায় নফল সালাত আদায় করতেন। সওয়ার কোন দিকে মুখ করে চলছে তাতে কোন দোষ আছে বলে মনে করতেন না।)

48

ঈসা ইবনু হাম্মদ আল মিসরী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীর উপর বসেই বিতর সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

49

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওয়ার যে দিকেই মুখ করে চলুক না কেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীর উপর বসে নফল সালাত আদায় করতেন এবং সওয়ারীর উপরেই বিতর সালাত আদায় করতেন। তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ারীর উপর ফারয (ফরয) সালাত আদায় করতেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

50

আমর ইবনু সাওওয়াদ ও হারমালাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রবী'আহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি সফররত অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের বেলা নফল সালাত সওয়ারীর পিঠে বসে যেদিকে সওয়ারীর মুখ ছিল সেদিকে মুখ করে আদায় করতে দেখেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

51

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) যখন শাম (যা বর্তমানে সিরিয়া) থেকে (অথবা শামে) আসলেন, তখন আমরা তার সাথে আইন্‌ত তাম্‌র নামক স্থানে সাক্ষাৎ করলাম। তখন দেখলাম তিনি একটি গাধার পিঠে বসে ঐ দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। বর্ণনাকারী হুমাম কিবলার বাম দিকে ইশারা করে দেখালেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমি আপনাকে কিবলাহ ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে দেখলাম যে, তিনি বললেনঃ যদি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে না দেখতাম তাহলে আমিও এরূপ করতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯০, ইসলামীক সেন্টার)

52

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন সফরে দ্রুত চলতে হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯১, ইসলামীক সেন্টার)

53

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। কোন সফরে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে দ্রুত পথ চলতে হলে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পর তিনি মাগরিব এবং ইশার সালাত একত্র করে আদায় করতেন। এ ব্যাপারে তিনি বলতেনঃ সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন দ্রুত চলতে হত তখন তিনি মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯২ ইসলামীক সেন্টার)

54

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আম্‌র আন নাকিদ (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু উমার) বলেছেনঃ আমি দেখেছি সফরে দ্রুত পথ চলার প্রয়োজন হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব এবং ইশার সালাত একসাথে আদায় করে নিতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

55

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি সফরে কখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দ্রুত চলতে মাগরিব এবং ইশার সালাত দেরী করে একসাথে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

56

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার পূর্বেই যদি তিনি সফরে রওয়ানা হতেন তাহলে আসরের সালাতের সময় পর্যন্ত দেরী করতেন এবং তারপর কোথাও থেমে যুহর ও আসরের সালাত একসাথে আদায় করতেন। কিন্তু রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই যদি সূর্য ঢলে পড়ত তাহলে তিনি যুহরের সালাত আদায় করে তারপর যাত্রা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

57

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকাকালীন দু' ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করতে মনস্থ করলে যুহর সালাত আদায় করতে বিলম্ব করতেন। পরে আসরের ওয়াক্ত শুরু হলে তিনি যুহর ও ‘আসরের সালাত এক সাথে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

58

আবুত তহির ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। সফররত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন তাড়াহুড়ো থাকলে আসরের সময় পর্যন্ত যুহরের সালাত আদায় করতে দেরী করতেন এবং ‘আসরের প্রাথমিক সময়ে যুহর ও আসরের সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর এ অবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাতও দেরী করে পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভা অন্তর্হিত হওয়ার সময় মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

59

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীতিকর অবস্থা কিংবা সফররত অবস্থা ছাড়াই যুহর এবং আসরের সালাত একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

60

আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ‘আওন ইবনু সাল্লাম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফররত বা ভীতিকর অবস্থা ছাড়াই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় অবস্থানকালে যুহর এবং ‘আসরের সালাত একসাথে আদায় করেছেন। আবূয যুবায়র বলেছেনঃ (এ হাদীস শুনে) আমি সাঈদ ইবনু যুবায়রকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন? তিনি বললেনঃ তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমিও তেমনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে (বিষয়টি) জিজ্ঞেস করেছিলাম। জবাবে তিনি আমাকে বলেছিলেন, এ দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইচ্ছা ছিল তার উম্মাতের মনে যেন কোন প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না থাকে।* (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

61

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাবুক যুদ্ধকালে কোন এক সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একাধিক) সালাত একসাথে আদায় করেছিলেন। সুতরাং তিনি যুহর এবং আসর আর মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছিলেন। সাঈদ ইবনু যুহারর বর্ণনা করেছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি কী কারণে এরূপ করেছিলেন জবাবে সাঈদ ইবনু যুবায়র বললেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতকে বাধ্য করতে বা কষ্ট দিতে চাননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০০, ইসলামীক সেন্টার)

62

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাবুক অভিযানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। (এ সফরে) তিনি যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে একই ওয়াক্তে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০১, ইসলামীক সেন্টার)

63

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক অভিযানকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাত এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করেছেন। আবূ তুফায়ল বর্ণনা করেছেনঃ আমি মুআয ইবনু জাবালকে জিজ্ঞেস করলাম, কী কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন? জবাবে মুআয ইবনু জাবাল বললেন- তিনি তার উম্মাতকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলতে বা কষ্ট দিতে চাননি (এ কারণেই তিনি এরূপ করেছেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০২, ইসলামীক সেন্টার)

64

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ [শব্দগুলো আবূ কুরায়ব এর] (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় অবস্থানরত কোন ভীতিকর পরিস্থিতি কিংবা বৃষ্টি-বাদল ছাড়াই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, আসর, মাগরিব এবং ইশার সালাত আদায় করেছেন। (ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে) এ কথার উল্লেখ রয়েছে যে, সাঈদ ইবনু যুবায়র বলেছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন এজন্যে যাতে তার উম্মাতের কোন কষ্ট না হয়। তবে আবূ মু'আবিয়াহ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলা হ'ল- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী উদ্দেশে এরূপ করেছেন? জবাবে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়েছেন তার উম্মাতের যেন কোন কষ্ট না হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৩, ইসলামীক সেন্টার)

65

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আট রাকাআত (ফরয) সালাত এবং একত্রে সাত রাকাআত সালাত আদায় করেছি। আমি বললামঃ হে আবূশ শা'সা! আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দেরী করে শেষ ওয়াক্তে এবং ‘আসরের সালাত প্রথমভাগে আদায় করেছেন। আর তেমনি মাগরিবের সালাত দেরী করে এবং ইশার সালাত প্রথমভাগে আদায় করেছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমিও তাই মনে করি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৪, ইসলামীক সেন্টার)

66

আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মাদীনায় অবস্থানরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত রাকাআত ও আট রাকাআত সালাত একত্রে আদায় করেছেন। অর্থাৎ যুহর ও আসরের আট রাকাআত একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাকাআত এক সাথে আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৫, ইসলামীক সেন্টার)

67

আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আসরের সালাতের পর আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আমাদের সামনে বক্তব্য পেশ করতে থাকলেন। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল এবং তারকারাজি দৃষ্টিগোচর হতে থাকল। তখন লোকজন বলতে শুরু করল, সালাত! সালাত! (অর্থাৎ সালাতের সময় চলে যাচ্ছে, সালাত আদায় করুন)। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক বলেনঃ এ সময় বানু তামীম গোত্রের একজন লোক তার কাছে আসল এবং শান্ত ও বিরত না হয়ে বারবার আস্ সালাত (সালাত! সালাত!) বলে চলল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি আমাকে সুন্নাত (রসূলের পদ্ধতি) শিখাচ্ছ? পরে তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাত এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একত্র করে আদায় করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক বলেন, এ কথা শুনে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জাগল। তাই আমি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কথার সত্যতা স্বীকার করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৬, ইসলামীক সেন্টার)

68

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক আল উকায়লী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলল-সালাতের সময় হয়েছে, সালাত আদায় করুন। কিন্তু তিনি চুপ করে রইলেন। সে আবার বলল- সালাত আদায় করুন। তিনি এবারও চুপ করে থাকলেন। লোকটি পুনরায় বলল- সালাতের সময় হয়েছে, সালাত আদায় করুন। এবার আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেনঃ তুমি আমাকে সালাত সম্পর্কিত ব্যাপারে শিখাচ্ছ? আমরা তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে দু' ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় করতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৭, ইসলামীক সেন্টার)

69

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন তার পক্ষ থেকে শাইতানের জন্য কোন অংশ নির্ধারণ না করে। অর্থাৎ সে যেন এরূপ মনে না করে যে, সালাত শেষে ডান দিকে ছাড়া অন্য কোন দিকে মুখ ফিরানো যাবে না। কেননা আমি অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বাম দিকে মুখ ফিরাতে দেখেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৮, ইসলামীক সেন্টার)

70

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আলী ইবনু খশরাম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। উভয়ে আ'মাশ এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫০৯, ইসলামীক সেন্টার)

71

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান আস সুদ্দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি সালাত শেষ করে কোন দিকে মুখ ফিরাব- ডানে না বায়ে? তিনি বললেনঃ আমি অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি (সালাত শেষ করে) ডান দিকে মুখ ফিরাতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১০, ইসলামীক সেন্টার)

72

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডানদিকে (মুখ) ফিরাতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১১, ইসলামীক সেন্টার)

73

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করতাম তখন পিছনে তার ডান দিকে দাঁড়ানো পছন্দ করতাম যাতে তিনি ঘুরে বসলে আমাদের দিকে মুখ করে বসেন। বারা ইবনু আযিব বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, “হে আমার রব! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরায় জীবিত করবে; অথবা বলেছেন, একত্রিত করবে সেদিনের 'আযাব থেকে আমাকে রক্ষা কর।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১২, ইসলামীক সেন্টার)

74

আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মিসআর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- তবে এ সানাদে বর্ণিত হাদীসটিতে তিনি “আমাদের দিকে ঘুরে বসেন" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৫১৩, ইসলামীক সেন্টার)

75

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইবনু রাফি (রহঃ) শাবাবাহ (রহঃ) হতে, তিনি ওয়ারকা (রহঃ) সূত্রে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৫, ইসলামীক সেন্টার ১৫২৩- ক)

76

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফারয (ফরয) সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তখন উক্ত ফারয (ফরয) ব্যতীত অন্য কোন সালাত আদায় করা যাবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১৬. ইসলামীক সেন্টার ১৫২৩-খ)

77

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যাকারিয়্যা ইবনু ইসহাকু (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১৭, ইসলামীক সেন্টার)

78

হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছে। হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন- অতঃপর আমি 'উমার ইবনু খাত্ত্বাবের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। তবে তিনি হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১৮, ইসলামীক সেন্টার)

79

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ আল কা'নবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মালিক বুহায়নাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন ফজরের সালাতের ইকামাত দেয়া হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কিছু বললেন যা আমরা বুঝতে পারলাম না। সালাত শেষে আমরা তাকে ঘিরে ধরলাম। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বললেন? সে বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মনে হচ্ছে কেউ ফজরের সালাত চার রাকাআত আদায় করছে। কা'নবী বর্ণনা করেছেন- ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ তার পিতা বুহায়নাহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম মুসলিম বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু মালিক তার পিতা বুহাইনাহ থেকে বর্ণনা করেন কা'নবীর এ উক্তি ভুল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫১৯, ইসলামীক সেন্টার)

80

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু বুহায়নাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ফজরের সালাতের ইকামাত দেয়া হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, মুয়াযযিন ইকামাত দিচ্ছে আর সে লোকটি সালাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি কি ফজরের (ফরয) সালাত চার রাকাআত আদায় করবে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৫২০ [১৫২৩], ইসলামীক সেন্টার

81

আবূ কামিল আল জাহদারী, হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাব, ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব শব্দগুলো তার (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে আসল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। লোকটি মসজিদের এক পাশে গিয়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতে শামিল হ'ল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরার পর তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে অমুক! তুমি কোন দু' রাকাআত সালাতকে ফারয (ফরয) সালাতরূপে গণ্য করলে? একাকী যে দু' রাকাআত আদায় করলে সে দু রাকাআতকে, না আমাদের সাথে যে দু' রাকাআত আদায় করলে সে দু' রাকাআতকে*? (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৫২১, ইসলামীক সেন্টার)

82

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ উসায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন বলবে, "আল্ল-হুম্মাফ তাহলী আবওয়া-বা রহমতিক" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি তোমার অনুগ্রহের দরজা আমার জন্য খুলে দাও।)। যখন বের হয়ে যাব, তখন বলবে- “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফা্যলিক” (অর্থাৎ- আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহপ্রার্থ)। ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আমি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- আমি সুলায়মান ইবনু হিলালের একটি গ্রন্থ থেকে এ হাদীসটি লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি আরো বলেছেন যে, ইয়াহইয়া আল হিমানী আবূ উসায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২২, ইসলামীক সেন্টার)

83

হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী (রহঃ) ..... 'আবদুল মালিক ইবনু সাঈদ ইবনু সুওয়াইদ আল আনসারী (রাযিঃ) এবং আবূ হুমায়দ অথবা আবূ উসায়দ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৩, ইসলামীক সেন্টার)

84

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগেই যেন দু' রাকাআত সালাত আদায় করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৪, ইসলামীক সেন্টার)

85

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনে মধ্যে বসে আছেন। সুতরাং আমিও গিয়ে সেখানে বসে পড়লাম। এ দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ সবার আগে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে তোমার কী অসুবিধা ছিল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি দেখলাম আপনি বসে আছেন এবং আরো অনেক লোক বসে আছে (তাই আমিও বসে আদায় করেছি)। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ কোন সময় মসজিদে প্রবেশ করলে দু' রাকাআত সালাত আদায় না করে বসবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৫, ইসলামীক সেন্টার)

86

আহমাদ ইবনু জাওওয়াস আল হানাফী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি আমাকে তা পরিশোধ করে দিলেন এবং অধিক পরিমাণেই দিলেন। আমি একদিন মসজিদে তার কাছে গেলে তিনি আমাকে বললেনঃ দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৬, ইসলামীক সেন্টার)

87

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট থেকে একটি উট কিনে ছিলেন। অতঃপর তিনি মাদীনায় আগমন করলে আমাকে মসজিদে এসে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে বললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৭, ইসলামীক সেন্টার)

88

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে গিয়েছিলাম। (ফিরে আসার সময়) আমার উটটি বেশ দেরী করল। সেটি বেশ ক্লান্ত-শ্রান্তও হয়ে পড়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আগেই এসে পৌছেছিলেন। আর আমি পরদিন সকালে পৌঁছলাম। আমি মসজিদে এবং সেখানে মসজিদের দরজায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি এখন এসে পৌছলে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এখন উটটি রেখে মসজিদে দু' রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেনঃ এরপর আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করে আসলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৮, ইসলামীক সেন্টার)

89

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মাহমূদ ইবনু গয়লান (রহঃ) ..... কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিবাভাগে বেশ কিছু বেলা করা ব্যতীত সফর থেকে ফিরে আসতেন না। সফর থেকে ফিরে তিনি প্রথমেই মসজিদে যেতেন এবং সেখানে তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর সেখানে কিছুক্ষণ বসতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫২৯, ইসলামীক সেন্টার)

90

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ না, তিনি সালাতুয যুহা আদায় করতেন না। তবে যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩০, ইসলামীক সেন্টার)

91

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহা বা চাশতের সালাত আদায় করতেন। তিনি বললেনঃ না, তবে তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩১, ইসলামীক সেন্টার)

92

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে 'যুহা’ বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে আমি নিজে চাশতের সালাত আদায় করে থাকি। অনেক কাজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করা সত্ত্বেও এ আশঙ্কায় তা করতেন না যে, লোকজন সে অনুযায়ী কাজ করলে তা ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩২, ইসলামীক সেন্টার)

93

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... মুআযাহ (রহঃ) আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যুহা’ বা চাশতের সালাত কয় রাকাআত আদায় করতেন? জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ তিনি 'যুহা’ বা চাশতের সালাত সাধারণতঃ চার রাকাআত আদায় করতেন এবং অনেক সময় ইচ্ছামত আরো বেশী আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

94

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু জা'ফার ও শু'বাহ এর মাধ্যমে ইয়াযীদ থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াযীদ তার বর্ণনায় "মা-শা-আল্লা-হ" (আল্লাহ যা চান) কথাটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

95

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যুহা' বা চাশতের সালাত চার রাকাআত আদায় করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেশীও আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

96

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

97

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র উম্মু হানী ছাড়া আর কেউ-ই আমাকে এ কথা বলেনি যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে 'যুহা’ বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছে। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেন যে, মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে গিয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (তিনি এ কথাও বলেছেন যে,) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আর কখনো এত সংক্ষিপ্ত করে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকূ’ ও সিজদাগুলো পূর্ণরূপে আদায় করছিলেন। ইবনু বাশশার তার বর্ণিত হাদীসে 'কাত্‌তু' (কখনো) শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

98

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু নাওফাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোন লোকের সন্ধান পেতে আমি খুবই আকাঙ্ক্ষী ছিলাম এবং এ ব্যাপারে লোকদের জিজ্ঞেসও করতাম যে, এমন কেউ আমাকে এ মর্মে জ্ঞাত করতে পারবে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুয 'যুহা' বা চাশতের সালাত আদায় করেছেন। তবে একমাত্র আবূ ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী ছাড়া আর কাউকেই এমন পাইনি যে, আমাকে এ ব্যাপারে কিছু অবহিত করতে পেরেছে। তিনি (উম্মু হানী) আমাকে জানিয়েছেন যে, মাক্কাহ বিজয়ের দিন সূর্যোদয়ের পর বেলা কিছু বাড়লে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। একটি কাপড় আনা হ’ল এবং তা দিয়ে পর্দা করে দিলে তিনি গোসল করলেন। তারপর সালাতে দাঁড়ালেন এবং আট রাকাআত সালাত আদায় করলেন। উম্মু হানী (রাযিঃ) বলেছেন- এ সালাত তার কিয়াম (দাঁড়ানো) দীর্ঘতর ছিল, না রুকূ’ দীর্ঘতর ছিল, না সিজদা দীর্ঘতর ছিল তা আমি জানি না। তবে কিয়াম, রুকূ’ ও সিজদা সবগুলোই মনে হয় এক রকমের দীর্ঘ ছিল। উম্মু হানী (রাযিঃ) বলেছেনঃ এর আগে কিংবা পরে আর কখনও আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে 'সালাতুয যুহা’ বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখিনি। হাদীসটির বর্ণনাকারী মুরাদী এটি ইউনুস এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি 'আখবারানী' অর্থাৎ ইউনুস আমাকে বলেছেন কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

99

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু হানী (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস আবূ মুররাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আবূ তুলিবের কন্যা উম্মু হানী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন। (তিনি বলেছেন) মক্কাহ বিজয়ের বছরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি গোসল করছেন আর তার কন্যা ফাতিমাহ একটি কাপড় দিয়ে তাকে পর্দা করে রেখেছেন। উম্মু হানী বলেন- আমি তাকে সালাম দিলাম। তখন তিনি জানতে চাইলেন, কে? আমি বললামঃ আমি আবূ তুলিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি (খুশীতে) বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম। অতঃপর গোসল শেষ করে তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার ভাই আলী ইবনু আবূ তুলিব বলেছেনঃ তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর পুত্র অমুককে হত্যা করে ছাড়বেন অথচ আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। সব শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেনঃ এ ঘটনা ছিল 'যুহা' বা চাশতের সময়ের। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

100

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ... উম্মু হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মক্কাহ বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে তার দু' প্রান্ত দু' দিকে উঠিয়ে আট রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪০, ইসলামীক সেন্টার)

101

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসম আয যুবাঈ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি দিন শুরু হওয়ার সাথে সাথে তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি অস্থি-বন্ধনী ও গিটের উপর সদাকাহ ওয়াজিব হয়। সুতরাং প্রতিটি তাসবীহ অর্থাৎ সুবহানাল্ল-হ' বলা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হয়। প্রতিটি তাহমীদ অর্থাৎ আলহমদুলিল্লা-হ' বলা তার জন্য সদাকাহ হিসেবে গণ্য হয়। প্রতিটি 'আল্ল-হু আকবার’ তার জন্য এবং নাহী আলিন মুনকার অর্থাৎ খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখার প্রতিটি প্রয়াসও তার জন্য অনুরূপ সদাকাহ বলে গণ্য হয়। তবে 'যুহা’ বা চাশ্‌তের মাত্র দু' রাকাআত সালাত যদি সে আদায় করে তাহলে তা এ সবগুলো সমকক্ষ হতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪১, ইসলামীক সেন্টার)

102

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজ করতে উপদেশ দিয়েছেন। সেগুলো হ’ল- প্রতি মাসে তিনটি করে সওম (রোযা) পালন করতে, "যুহা" বা চাশতের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করতে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪২, ইসলামীক সেন্টার)

103

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

104

সুলায়মান ইবনু মা'বাদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজ করতে আদেশ করেছেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি আবূ হুরায়রাহ থেকে আবূ উসমান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

105

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূদ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি কাজ করতে আদেশ করেছেন। আমার জীবদ্দশায় তা কখনো পরিত্যাগ করব না। (তিনি আমাকে আদেশ করেছেন) প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করতে যুহা বা চাশতের সালাত আদায় করতে আর বিতর সালাত আদায় করার আগে না ঘুমাতে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

106

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উন্মুল মুমিনীন হাফসাহ তাকে বললেন যে, ফজরের সালাতের আযানের পর মুয়াযযিন যখন থেমে যেত এবং ভোরের আলো প্রকাশ পেত তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারয (ফরয) সালাতের ইকামাত দেয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

107

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ও ইবনু রুমূহ, যুহায়রব ইবনু হারব, উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ, যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ... হাফসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাজর উদিত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকা করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

108

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাকাম (রহঃ) ..... হাফসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজির উদিত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকা করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

109

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

110

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... হাফসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আলো প্রকাশিত হওয়ার পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫০, ইসলামীক সেন্টার)

111

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযান শোনার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন আর তা সংক্ষিপ্ত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫১, ইসলামীক সেন্টার)

112

‘আলী ইবনু হুজর, আবূ কুরায়ব, আবূ বাকর ও ইবনু নুমায়র, আমর আন নাকিদ (রহঃ) ...... সকলে হিশাম (রহঃ)-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ উসামাহ বর্ণিত হাদীসে "যখন ফাজর উদিত হলো" কথাটি উল্লেখ আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫২, ইসলামীক সেন্টার)

113

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

114

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত এত সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করতেন যে, আমি বলতাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি সালাতের দু' রাকাআতে সূরাহ ফাতিহাহ পড়েছেন? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

115

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত ফজরের সময় অর্থাৎ ভোর হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। সালাত দু' রাকাআত এত সংক্ষিপ্ত হ’ত যে, আমার মনে প্রশ্ন জাগত- তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি সালাতে সূরাহ ফাতিহাহ পড়েছেন? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

116

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফারয (ফরয) সালাতের) পূর্বের দু রাকাআত সুন্নাত আদায় করার প্রতি যত কঠোরভাবে খেয়াল রাখতেন অন্য কোন নফল সালাতের প্রতি ততখানি রাখতেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

117

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফজরের দু' রাকাআত নফল সালাতের জন্য আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যত ব্যস্ততা প্রকাশ করতে দেখেছি অন্য কোন নফল সালাতের জন্য ততটা ব্যস্ততা প্রকাশ করতে দেখিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

118

মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... 'আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাত দুনিয়া ও তার সব কিছুর থেকে উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

119

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে বলেছেন যে, ঐ দু' রাকাআত সালাত আমার কাছে সারা দুনিয়ার সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

120

মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু'রাকআত সালাতে قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ‏ ও قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ পড়েছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬০, ইসলামীক সেন্টার)

121

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু' রাকাআত সুন্নাত সালাতের প্রথম রাকাআতে সূরাহ বাকারার قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا‏ (সূরাহ বাকারাহ ২ঃ ১৩৬)) আয়াতটি এবং দ্বিতীয় রাকাতেآمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ‏ (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ৬৪) আয়াতটি পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬১, ইসলামীক সেন্টার)

122

আবূ বাকর আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু'রাকাআত সুন্নাত সালাতে (সূরাহ বাকারার আয়াত) قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا‏ সূরাহ বাকারাহ ২ঃ ১৩৬) আয়াতটি এবং দ্বিতীয় রাকাআতে تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ৬৪) আয়াতটি পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬২, ইসলামীক সেন্টার)

123

‘আলী ইবনু খশরাম (রহঃ) ...... উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) মারওয়ান আল ফাযারী হতে একই সানাদে হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

124

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আমর ইবনু আওস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রোগে আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ান মৃত্যুবরণ করেছেন- সে রোগ শয্যায় থাকাকালে তিনি আমার কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা খুবই খুশীর বা আনন্দের। তিনি বলেছেনঃ আমি উম্মু হাবীবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, দিন ও রাতে যে ব্যক্তি মোট ১২ রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে তার বিনিময়ে জান্নাত ও ঐ ব্যক্তির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ বলেছেনঃ আমি যে সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সালাত সম্পর্কে শুনেছি তখন থেকে আর কখনো তা আদায় করা পরিত্যাগ করিনি। আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ান বলেছেনঃ এ সালাত সম্পর্কে যখন আমি উম্মু হাবীবার কাছে শুনেছি, তখন থেকে আর ঐ সালাতগুলো কখনো পরিত্যাগ করিনি। আমর ইবনু আওস বলেছেনঃ যে সময়ে এ সালাত সম্পর্কে আমি আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ান এর নিকট থেকে শুনেছি সে সময় থেকে আর কখনো তা পরিত্যাগ করিনি। নুমান ইবনু সালিম বলেছেনঃ যে সময় আমি এ হাদীসটি আমর ইবনু আওস-এর নিকট থেকে শুনেছি তখন থেকে কখনো আর তা পরিত্যাগ করিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

125

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... নুমান ইবনু সালিম (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, (হাদীসটি হ’ল) যে ব্যক্তি দিনে ১২ রাকাআত নফল (সুন্নাত) সালাত আদায় করে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়*।(ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

126

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। (তিনি বলেছেন) কোন মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফারয (ফরয) ছাড়াও আরো ১২ রাকাআত নফল সালাত আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন- এরপর আর কখনো এ সালাতসমূহ আদায় করতে বিরত থাকিনি। আর আমর ইবনু আওস বলেছেন- পরবর্তী সময়ে কখনো আমি এ সালাত আদায় করতে বিরত হই না। নুমান ইবনু সালিমও অনুরূপ কথাই বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

127

আবদুর রহমান ইবনু বিশ্বর ও আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আল আবদী (রহঃ) ..... উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম বান্দা যদি উত্তমরূপে ওযু করে আল্লাহর উদ্দেশে প্রতিদিন সালাত আদায় করে- এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

128

যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুহরের পূর্বে দু' রাকাআত, পরে দু' রাকাআত, মাগরিবের সালাতের পর দু' রাকাআত, ইশার সালাতের পর দু' রাকাআত এবং জুমুআর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছি। তবে মাগরিব, ইশা ও জুমু’আর সালাতের পরের দু' রাকাআত সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার বাড়ীতে আদায় করেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

129

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নফল সালাত সম্পর্কে আয়িশাহকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের (ফারয (ফরয) সালাতের) পূর্বে আমার ঘরে চার রাকাআত নফল আদায় করতেন। তারপর গিয়ে মসজিদে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতেন। পরে ঘরে এসে আবার দু' রাকাআত নফল আদায় করতেন। অতঃপর লোকজনের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন এবং ঘরে এসে দু' রাকাআত নাফল আদায় করতেন। আবার ইশার সালাত লোকজনের সাথে আদায় করে আমার ঘরে এসে দু’রাকাআত নফল আদায় করতেন। আর রাতের বেলা বিতরসহ নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের বেলা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করতেন, আবার দীর্ঘ সময় বসে বসেও নফল সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়তেন তখন দাঁড়িয়েই রুকূ’ ও সিজদা করতেন। আবার যখন বসে কিরআত করতেন তখন রুকূ’ ও সিজদা বসেই করতেন। আর ফজরের সময় বা ভোর হলেও দু' রাকাআত নাফল আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

130

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন তখন দাঁড়িয়েই রুকূ’ আদায় করতেন। আর যখন বসে সালাত আদায় করতেন তখন বসেই রুকূ’ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭০, ইসলামীক সেন্টার)

131

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পারস্যে অবস্থানকালীন সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি বসে বসে সালাত আদায় করতাম। পরে আমি আয়িশাহকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭১, ইসলামীক সেন্টার)

132

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক আল উকায়লী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রিকালীন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে এবং দীর্ঘ সময় বসে সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরআত পড়তেন তখন দাঁড়িয়েই রুকূ করতেন এবং যখন বসে কিরআত পড়তেন তখন বসেই রুকূ’ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭২, ইসলামীক সেন্টার)

133

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক আল উকায়লী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (নাফল) সালাত সম্পর্কে আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সালাতই দাঁড়িয়ে এবং বসে আদায় করতেন। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করতেন তখন দাঁড়িয়েই রুকূ’ করতেন। আর যখন বসে সালাত শুরু করতেন তখন বসেই রুকূ’ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

134

আবূর রাবী' আয যাহরানী ইবনুর রাবী আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের সালাতে বসে কিছু পড়তে (কিরাআত করতে) দেখিনি। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বৃদ্ধ হয়ে পড়লে বসে বসেই কিরআত করতেন এবং শেষের সূরার ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত যখন অবশিষ্ট থাকত তখন দাঁড়িয়ে ঐ আয়াতগুলো পড়তেন এবং রুকূ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

135

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নফল সালাত বসে আদায় করতেন তখন বসে বসেই কিরআত পড়তেন। এভাবে যখন আনুমানিক ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত পর্যন্ত পড়তে অবশিষ্ট থাকত তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিরাআত করতেন। অতঃপর রুকূ’ ও সিজদা করতেন। পরে দ্বিতীয় রাকাআতে পুনরায় অনুরূপ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

136

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাতে বসে কিরাআত পড়তেন। অতঃপর রুকূ’ করতে মনস্থ করলে উঠে এতটুকু সময় পর্যন্ত দাঁড়ালেন, যে সময়ের মধ্যে একজন লোক চল্লিশ আয়াত পর্যন্ত পড়তে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

137

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রাতের বেলার দু' রাকাআত সালাত বসে কীভাবে আদায় করতেন জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু' রাকাআত সালাতে কিরআত পড়তেন। তারপর রুকূ’ করার সময় উঠে দাঁড়িয়ে রুকূ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

138

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বসে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, লোকজন তাকে বৃদ্ধ করে দেয়ার পর আদায় করতেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

139

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

140

মুহাম্মদ ইবনু হাতিম ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্বে বেশীর ভাগ সালাত বসে বসে আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮০, ইসলামীক সেন্টার)

141

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স যখন বেশী হয়ে শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি অধিকাংশ সালাত বসে বসে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮১, ইসলামীক সেন্টার)

142

ইয়াহইয়াহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... হাফসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কখনো বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। পরবর্তী সময়ে তার ওয়াফাতের এক বছর পূর্বে তাকে বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি অতি উত্তমরূপে স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে সুরাহ পড়তেন। এ কারণে তার সালাত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যেত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮২, ইসলামীক সেন্টার)

143

আবূত তহির, হারমালাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... সবাই যুহরী থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে (ইবনু ইউসুফ ও মা'মার) "এক বছর অথবা দু' বছর পূর্বে" কথাটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

144

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত না আদায় করে (অর্থাৎ বসে সালাত আদায়ের মত বার্ধক্যে পৌছার পূর্বে) মারা যাননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

145

যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ বসে সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাতের সমকক্ষ। আবদুল্লাহ ইবনু আমর বর্ণনা করেছেন, এরপর একদিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে দেখলাম তিনি বসে সালাত আদায় করেছেন। আমি তার মাথার উপর আমার হাত রাখলাম। তিনি বললেনঃ হে 'আবদুল্লাহ ইবনু আম্‌র কী ব্যাপার? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আপনি বলেছেনঃ কেউ বসে সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাতের সমান হয়। কিন্তু এখন দেখেছি আপনি নিজেই বসে সালাত আদায় করছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে আমি তোমাদের কারো মত না*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

146

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উভয়ে মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুবাহ (রহঃ) ইয়াহইয়া আল আ'রাজ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

147

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আশিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা এগার রাক'আত সালাত আদায় করতেন। তার মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। সালাত শেষ করে তিনি ডান পাশে ফিরে শুতেন। অতঃপর ভোরে মুয়াযযিন আসলে তিনি (উঠে) সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

148

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

149

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত আদায় করতেন বিতর এবং এতে একেবারে শেষে ছাড়া কোন বৈঠক করতেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯০, ইসলামীক সেন্টার)

150

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ এবং আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... সকলে হিশাম (রহঃ) থেকে একই সানাদে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯১, ইসলামীক সেন্টার)

151

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা ফজরের দু' রাকাআত সুন্নাতসহ তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯২, ইসলামীক সেন্টার)

152

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রমযান মাসের (রাতের) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে কিংবা অন্য কোন সময়ে রাতের বেলা এগার রাকাআতের বেশী সালাত আদায় করতেন না। প্রথম চার রাকাআত তিনি এমনভাবে আদায় করতেন যে, তার সৌন্দর্য সম্পর্কে আর কী জিজ্ঞেস করবে? তারপর চার রাকাআত তিনি এত সুন্দর করে আদায় করতেন যে, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে আর কি জিজ্ঞেস করবে? এরপর তিনি আরো তিন রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বিতর সালাত আদায়ের পূর্বেই ঘুমাতেন? জবাবে তিনি বললেন, হে আয়িশাহ আমার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু আমার হৃদয়-মন ঘুমায় না (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

153

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (রাতের) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তের রাকাআত আদায় করতেন। প্রথমে তিনি আট রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর বিতর আদায় করতেন। সবশেষে বসে বসে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। পরে রুকূ করার সময় উঠে দাঁড়িয়ে রুকূ’ করতেন। অতঃপর ফজরের সালাতের আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়েও দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

154

যুহারর ইবনু হারব-ইয়াহইয়া ইবনু বিশ্বর আল হারীর (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। ..... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে দাঁড়িয়ে নয় রাকাআত সালাত আদায় করার কথা উল্লেখ আছে এবং তার মধ্যে বিতরের সালাতও অন্তর্ভুক্ত আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

155

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মাজান আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন তো। তিনি বললেনঃ রমাযান ও অন্যান্য মাসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু' রাকাআত (সুন্নাত) সালাতসহ রাতের বেলা মোট তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

156

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের এক বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর এক রাকাআত বিতর এবং দু' রাকাআত ফজরের সুন্নাতসহ মোট তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

157

আহমাদ ইবনু ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ এর কাছে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন এবং শেষভাগে জাগতেন। এ সময় যদি স্ত্রীদের সাহচর্য লাভের প্রয়োজন হ’ত তাহলে তা পূরণ করতেন এবং এরপর আবার ঘুমাতেন। ফজরের আযানের সময় (তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে) তিনি ত্বড়িত উঠতেন। আল্লাহর শপথ। তিনি ["আয়িশাহ (রাযিঃ)] বলেননি যে, তিনি গোসল করতেন। তার উদ্দেশে- আকাঙ্ক্ষা আমি ভাল করেই জানতাম। তিনি নাপাক না হয়ে থাকলে কোন লোক শুধু সালাতের জন্য যেভাবে ওযু করে থাকে সেভাবে ওযু করতেন এবং তারপর ফজরের দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

158

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যে সালাত আদায় করতেন তাতে সর্বশেষে আদায় করতেন বিতর সালাত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

159

হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর 'আমল সম্পর্কে আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত 'আমলকে পছন্দ করতেন। মাসরূক বলেন, আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলামঃ তিনি সালাত আদায় করতেন কোন সময়? আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ তিনি যখন মোরগের ডাক শুনতেন তখন উঠে সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০০, ইসলামীক সেন্টার)

160

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ঘরে অথবা আমার কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় সব সময় 'সুবহে কাযিব’ (সাহরীর শুরু) এর সময় হয়ে যেত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০১, ইসলামীক সেন্টার)

161

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, নাসর ইবনু আলী ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের দু' রাকাআত নফল (সালাত) আদায় করার পর আমি জাগ্রত থাকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন। অন্যথায় শুয়ে পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০২, ইসলামীক সেন্টার)

162

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৩, ইসলামীক সেন্টার)

163

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা সালাত আদায় করতেন। তার বিতর পড়া হয়ে গেলে তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে লক্ষ্য করে বলতেনঃ হে ‘আয়িশাহ! ওঠে এবং বিতর পড়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৪, ইসলামীক সেন্টার)

164

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতের বেলা সালাত আদায় করতেন তখন আয়িশাহ (রাযিঃ) তার সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। সালাত শেষে যখন তার শুধুমাত্র বিতর পড়া বাকি থাকত তখন তিনি আয়িশাহকে জাগিয়ে দিতেন। আর তিনি [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] তখন উঠে বিতর আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৫, ইসলামীক সেন্টার)

165

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর আদায় করেছেন। এমন কি কোন কোন সময় রাতের শেষভাগেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিতর সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৬, ইসলামীক সেন্টার)

166

আবূ বকর ইবনু আবৃ শায়বাহ্‌ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন অংশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত আদায় করেছেন। তিনি রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে, শেষভাগে এবং এমনি ভোরে বিতর আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৭, ইসলামীক সেন্টার)

167

আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সারা রাতের মধ্যে যে কোন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত আদায় করেছেন। এমনকি তিনি শেষ রাতেও বিতর আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৮, ইসলামীক সেন্টার)

168

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... যুরারাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির (রহঃ) আল্লাহর পথে (আজীবন) লড়াই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। তাই তিনি মাদীনায় আগমন করলেন। তিনি চাচ্ছিলেন এ উদ্দেশে তিনি তার জমি-জমা বিক্রি করে তা দ্বারা অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়া কিনবেন এবং রোমান অর্থাৎ খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু জিহাদ করবেন। তাই মদীনায় এসে তিনি মাদীনাহবাসী কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করলে তারা তাকে ঐরুপ করতে নিষেধ করলেন। তারা তাকে এ কথাও জানালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় ছয়জন লোকের একটি দল এ একই কাজ করতে চাইলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেছিলেন; আমার জীবন ও কর্মে কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নেই? তারা (মাদীনাহবাসী) যখন তাকে এ কথাটি শুনালেন তখন তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলেন (রুজ’আত করলেন) এবং কিছু লোককে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখলেন। কেননা এ কাজের (জিহাদের) জন্য তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এর কাছে এসে তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তাকে বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে আমি এমন একজন লোকের সন্ধান কি তোমাকে দিব না? তিনি (সাদ ইবনু হিশাম ইবনু আমির) বললেনঃ তিনি কে? আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেনঃ তিনি হলেন আয়িশাহ (রাযিঃ)। তার কাছে গিয়ে তুমি জিজ্ঞেস করবে, তারপর তোমাকে দেয়া তার জবাব আমাকে এসে জানাবে। আমি তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। প্রথমে আমি হাকীম ইবনু আফলাহ-র কাছে গেলাম। আমি তাকে আমার সাথে তার (আয়িশাহ) এ দু' দলের ব্যাপারে কোন কিছু বলতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি তা না শুনে বরং একটি পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বলেনঃ তখন আমি তাকে কসম দিয়ে যেতে বললাম। তাই তিনি যেতে রাজি হলেন। আমরা আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দান করলেন। আমরা তার কাছে গেলে তিনি হাকীম আফলাহকে চিনতে পারলেন। তাই বললেনঃ আরে, এ যে হাকীম? তিনি (হাকীম ইবনু আফলাহ) বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাথে কে আছে? তিনি বললেনঃ সা'দ ইবনু হিশাম (ইবনু আমির)। তিনি প্রশ্ন করলেন। কোন হিশাম? হাকীম ইবনু আফলাহ বললেনঃ ‘আমিরের পুত্র হিশাম। এ কথা শুনে তিনি তার প্রতি খুব স্নেহপ্রবণ হলেন এবং তার ব্যাপারে ভাল মন্তব্য করলেন। কাতাদাহ্ বর্ণনা করলেনঃ আফলাহ উহুদের যুদ্ধে শাহীদ হয়েছিলেন। এরপর আমি বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। এ কথা শুনে তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি কুরআন পড় না? আমি বললাম- হ্যাঁ, পড়ি। তিনি বললেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক তো ছিল কুরআন। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বলেছেন : আমি তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম উঠে চলে আসি এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করি। কিন্তু আমার মনে আবার একটি নতুন ধারণা জাগল। তাই আমি বললামঃ আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের ইবাদাত (কিয়ামুল লায়ল) সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। তিনি এবার আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সূরাহ "ইয়া আইইয়্যুহাল মুয্‌যাম্‌মিল" পড় না? আমি বললাম- হ্যাঁ পড়ি। তিনি বললেনঃ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এ সূরার প্রথমভাগে “কিয়ামুল লাইল" বা রাতের ইবাদাত বন্দেগী ফারয (ফরয) করে দিয়েছেন। তাই এক বছর পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ রাতের বেলা ইবাদাত করেছেন। মহান আল্লাহ বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ আসমানে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন (অর্থাৎ বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ করেননি)। অবশেষে (বারো মাস পরে) এ সূরার শেষে আল্লাহ তা'আলা রাতের ইবাদাতের হুকুম লঘু করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন। আর এ কারণে রাত জেগে ইবাদাত যেখানে ফারয (ফরয) ছিল সেখানে তা নাফল বা ঐচ্ছিক হয়ে গেল। সা'দ ইবনু হিশাম বলেনঃ আমি বললাম, হে উন্মুল মু'মিনীন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ আমরা তার জন্য মিসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর রাতের বেলা মহান আল্লাহ যখন চাইতেন তখন তাকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক করতেন। ওযু করতেন এবং নয় রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। এতে অষ্টম রাকাআত ছাড়া বসতেন না। এ বৈঠকে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতেন, তার প্রশংসা করতেন এবং তার কাছে প্রার্থনা করতেন। অতঃপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে আমরা তা শুনতে পেতাম। এবার সালাম ফিরানোর পর ঘরে বসেই তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর বললেনঃ হে বৎস! এ এগার রাকাআত সালাত তিনি রাতে আদায় করতেন। পরবর্তী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গিয়েছিল এবং শরীরও কিছুটা ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি সাত রাকাআত বিতর আদায় করতেন। এক্ষেত্রেও তিনি শেষের দু রাকাআত সালাত পূর্বের মতো করেই আদায় করতেন। হে বৎস! এভাবে তিনি নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সালাত আদায় করলে তা সর্বদা নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যখন ঘুমের প্রাবল্য বা ব্যথা-বেদনার কারণে তিনি রাতে ইবাদাত (সালাত আদায়) করতে পারতেন না, তখন দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে পুরো কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন বা সকাল পর্যন্ত সারা রাত আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ছাড়া সারা মাস সিয়াম (রোযা) পালন করেছেন এমনটি আমি কখনো দেখিনি। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বর্ণনা করেছেন পরে আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে এসে আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তিনি সঠিক বলেছেন। আমি যদি তার কাছে থাকতাম বা তার কাছে যেতাম তাহলে নিজে তার মুখ থেকে হাদীসটি শুনতে পেতাম। সা'দ ইবনু হিশাম বললেনঃ আমার যদি জানা থাকত যে, আপনি তার কাছে যান না, তাহলে আপনাকে আমি তার কথা বলতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৯, ইসলামীক সেন্টার)

169

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নিজের জমিজমা বিক্রি করার জন্য মাদীনায় আসলেন ...... পূর্বোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১০, ইসলামীক সেন্টার)

170

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি হুবহু পূর্বে বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ কোন হিশাম? তখন আমি বললাম ‘আমির এর পুত্র হিশাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ ‘আমির কত উত্তম মানুষ ছিলেন। তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত লাভ করেছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১১, ইসলামীক সেন্টার)

171

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... যুরারাহ ইবনু আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) ছিলেন তার প্রতিবেশী। তিনি যুরারাহকে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কথা জানালেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সাঈদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন যাতে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন হিশাম এর কথা বলছ? তখন হাকীম ইবনু আফলাহ বললেনঃ ‘আমিরের পুত্র হিশামের কথা বলছি। এ কথা শুনে 'আয়িশাহ বলে উঠলেন- 'আমির কত ভাল লোক ছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উহুদ যুদ্ধে শারীক হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। এ হাদীসে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, হাকীম ইবনু আফলাহ বললেনঃ যদি আমার জানা থাকত যে, আপনি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে যান না তাহলে আমি আপনাকে তার সম্পর্কে বলতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১২, ইসলামীক সেন্টার)

172

সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রিকালীন কোন সালাত কাযা হয়ে গেলে দিনের বেলা তিনি বারো রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৩, ইসলামীক সেন্টার)

173

‘আলী ইবনু খশরাম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আমল বা কাজ করলে তা সর্বদা অর্থাৎ নিয়মিতভাবে করতেন। আর রাতের বেলা ঘুমিয়ে পড়লে বা অসুস্থ হলে পরিবর্তে দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কখনো ভোর পর্যন্ত সারারাত জেগে ইবাদাত করতে এবং রমযান মাস ছাড়া এক নাগাড়ে পুরো মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৪, ইসলামীক সেন্টার)

174

হারূন ইবনু মা’রূফ এবং আবূত তহির ও হারমালাহ (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ তার (রাতের বেলার) অযীফাহ্ বা করণীয় কাজ কিংবা তার কিছু অংশ করতে ভুলে গেলে তা যদি সে ফাজর ও যুহরের সালাতের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে আদায় করে নেয় তাহলে তা এমনভাবে তার জন্য লিখে নেয়া হবে যেন সে তা রাতের বেলায়ই সম্পন্ন করেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৫, ইসলামীক সেন্টার)

175

যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... কাসিম আশ শায়বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) একদল লোককে 'যুহা’ বা চাশতের সালাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ এখন তো লোকজন জেনে নিয়েছে যে, এ সময় ব্যতীত অন্য সময় সালাত আদায় করা উত্তম বা সর্বাধিক মর্যাদার। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 'সালাতুল আওয়াবীন’ বা আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী বান্দাদের সালাতের সময় হ’ল তখন সূর্যতাপে উটের বাচ্চাদের পা গরম হয়ে যায়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৬, ইসলামীক সেন্টার)

176

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবাবাসীদের এলাকায় গেলেন। সে সময় তারা সালাত আদায় করছিলেন। এ দেখে তিনি বললেনঃ 'সালাতুল আওওয়াবীন’ বা চাশতের সালাতের উত্তম সময় হ'ল যখন সূৰ্যতাপে বালু গরম হাওয়ার কারণে উটের বাচ্চাগুলো পা উত্তপ্ত হতে শুরু করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৭, ইসলামীক সেন্টার)

177

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। যখন তোর হওয়ার সম্ভাবনা দেখবে তখন এক রাক’আত সালাত আদায় করে নিবে। যে সালাত সে আদায় করেছে এভাবে তা বিতরে পরিণত হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৮, ইসলামীক সেন্টার)

178

আবূ বাকর ইবনু আবূ শয়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (হাদীসের শব্দগুলো তার) এবং যুহরী (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের (নাফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। তবে ভোর হয়ে আসছে দেখলে এক রাকাআত বিতর আদায় করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬১৯, ইসলামীক সেন্টার)

179

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) জনৈক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল- হে আল্লাহর রসূল! রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে হবে? জবাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রাতের সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করবে। অতঃপর যখন ভোর হয়ে আসছে বলে মনে করবে তখন এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২০, ইসলামীক সেন্টার)

180

আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রসূল! রাতের সালাত কিভাবে আদায় করতে হবে? আমি সে সময় প্রশ্নকারী ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে (দাঁড়িয়ে) ছিলাম। জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু' রাকাআত দু' রাকাআত সালাত আদায় করবে। আর বিতর পড়ে তোমার সালাত শেষ করবে। (আবদুল্লাহ ইবনু উমার বলেন) এক বছর পর জনৈক ব্যক্তি তাকে একই প্রশ্ন করল। আমি জানি না এ ব্যক্তি পূর্বের প্রশ্নকারী সে ব্যক্তি না অন্য আরেক ব্যক্তি। এবারও আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে একই স্থানে ছিলাম। তিনি তাকে পূর্বের মতই জবাব দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২১, ইসলামীক সেন্টার)

181

আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়ে (আবূ কামিল ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী) পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তাদের বর্ণিত হাদীসে 'অতঃপর এক বছর পরে তাকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল' এবং এর পরের কথাগুলোর উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২২, ইসলামীক সেন্টার)

182

হারূন ইবনু মা’রূফ, সুরায়জ ইবনু ইউনুস এবং আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৩, ইসলামীক সেন্টার)

183

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাতের বেলায় নফল সালাত আদায় করবে সে যেন বিতর সালাত সর্বশেষে আদায় করবে। কেননা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতে আদেশ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৪, ইসলামীক সেন্টার)

184

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনুল মুসান্না (রহঃ) সকলেই উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের রাতের সালাত বিতর দিয়ে শেষ কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৫, ইসলামীক সেন্টার)

185

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ রাতের বেলা সালাত আদায় করলে সে যেন ফজরের পূর্বে শেষ সালাত হিসেবে বিতর আদায় করে নেয়। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (সাহাবীগণের) এভাবে (সালাত আদায় করতে) আদেশ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৬, ইসলামীক সেন্টার)

186

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ রাতে বিতর সালাতের সময়। আর বিতর সালাত এক রাকাআত মাত্র (অথবা শেষ রাতে বিতর সালাত এক রাকাআত আদায় করবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৭ ইসলামীক সেন্টার)

187

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতর সালাত রাতের শেষাংশে এক রাকাআত মাত্র আদায় করতে হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৮, ইসলামীক সেন্টার)

188

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ মিজলায (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (আবদুল্লাহ) (রাযিঃ)-কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ এক রাকাআত সালাত রাতের শেষ ভাগে আদায় করতে হবে। তিনি (আবূ মিজলায) আরো বলেছেনঃ আমি একইভাবে ইবনু উমার (আবদুল্লাহ) (রাযিঃ)-কেও বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও বলেছিলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি বিতর সালাত এক রাকাআত, (সালাত) রাতের শেষ ভাগে আদায় করতে হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬২৯, ইসলামীক সেন্টার)

189

আবূ কুরায়ব ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উচ্চস্বরে ডাকল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি রাতের সালাত কীভাবে বিতর বা বেজোড় সালাত আদায় করব? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন কেউ রাতে (নাফল) সালাত আদায় করলে দু' রাকাআত দু' রাকাআত করে আদায় করবে। অতঃপর ভোর হওয়ার আভাস পেলে এক রাকাআত সালাত আদায় করে নিবে। এ এক রাকাআত সালাত সে যত সালাত আদায় করছে সেগুলোকে বিতর বা বেজোড় করে দিবে। আবূ কুরায়ব তার বর্ণনায় 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর নাম উল্লেখ না করে উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩০, ইসলামীক সেন্টার)

190

খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের সালাতের পূর্বের দু' রাকাআত সালাতে আমি কিরাআত দীর্ঘায়িত করে থাকি- এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আনাস ইবনু সীরীন বলেন- এ সময় আমি বললামঃ আমি তো আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি না। (আমার এ কথা বলার পর) তিনি বললেনঃ তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি! তুমি কি আমাকে হাদীসটা (পুরো) বলতে দিবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং পরে এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আর ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত নফল এমনভাবে আদায় করতেন যেন তিনি ইকামাত' বা তাকবীর শুনতে পাচ্ছেন। খালাফ ইবনু হিশাম তার বর্ণনাতে “ফজরের পূর্বের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে আপনার মতামত কী” কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি 'সালাত’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩১, ইসলামীক সেন্টার)

191

ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম" ..... পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনাতে তিনি এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, আর তিনি রাতের শেষভাগে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। তার বর্ণনাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার বললেনঃ আরে থামো থামো! তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩২, ইসলামীক সেন্টার)

192

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত (নফল সালাত) দু' রাকাআত করে আদায় করবে। তবে যখন দেখবে যে, সকাল হয়ে যাচ্ছে তখন এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হ'ল- দু' দু' রাকাআত কীভাবে আদায় করতে হবে? তিনি বললেনঃ প্রতি দু' রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরাবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

193

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভোর (ফাজর) হবার পূর্বেই বিতর সালাত আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

194

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ফজরের ওয়াক্তের পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

195

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ রাতে জাগতে পারবে না বলে কারো আশঙ্কা হলে সে যেন রাতের প্রথমভাগেই (ইশার সালাতের পর) বিতর আদায় করে নেয়। আর কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে আগ্রহী থাকে (অর্থাৎ শেষ রাতে জগতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারে) তাহলে সে যেন শেষভাগে বিতর আদায় করে নেয়। কেননা শেষ রাতের সালাতে (মালাকগণের) উপস্থিতি থাকে। আর এটাই সর্বোত্তম ব্যবস্থা। হাদীসটি বর্ণনাকারীর আবূ মু'আবিয়াহ مَشْهُودَةٌ শব্দের পরিবর্তে مَحْضُورَةٌ শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৬ ইসলামীক সেন্টার)

196

সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যদি শেষ রাতে জগতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে তাহলে বিতর সালাত আদায় করে ঘুমাবে। আর যার শেষরাতে জাগতে পারার আত্মবিশ্বাস বা নিশ্চয়তা আছে সে শেষ রাতে বিতর আদায় করবে। কেননা শেষ রাতের কুরআন পাঠে মালায়িকাহ উপস্থিত থাকে। আর এটা সর্বাপেক্ষা উত্তমও বটে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

197

আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিরআত পড়া হয় সে সালাতই সর্বোত্তম সালাত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

198

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ কোন সালাত সবচেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে যে সালাত আদায় করা হয় সে সালাত সবচেয়ে উত্তম। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ বলেছেন যে, হাদীসটি আবূ মু'আবিয়াহ আ'মাশের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

199

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ সারা রাতের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় আছে যে সময়ে কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। আর ঐ বিশেষ সময়টি প্রত্যেক রাতেই থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪০, ইসলামীক সেন্টার)

200

সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের মধ্যে একটি বিশেষ সময় আছে, সে সময় কোন মুসলিম বান্দা যদি আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণ প্রার্থনা করে তাহলে তিনি তাকে তা দান করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪১, ইসলামীক সেন্টার)

201

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক মহান ও কল্যাণময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কে এমন আছ, যে এখন আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। এখন কে এমন আছ যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। আর কে এমন আছ, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪২, ইসলামীক সেন্টার)

202

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ কে এমন আছ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে এমন আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। কে মন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব, ফজরের আলো ছড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ 'আলা এরূপ বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

203

ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অর্ধেক অথবা দু' তৃতীয়াংশ অতিক্রম হলে মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কোন প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে দেয়া হবে? কোন আহবানকারী আছে কি যার আহবানে সাড়া দেয়া হবে? কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে ক্ষমা করা হবে? আল্লাহ তা'আলা ভোর প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এরূপ বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

204

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ নিজের দু' হাত প্রসারিত করে বলেনঃ যিনি কখনো দরিদ্র হবেন না, কিংবা যুলম করেন না এমন সত্তাকে ঋণ দেয়ার জন্য কে আছ? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

205

আবূ শায়বাহ-এর দু' পুত্র উসমান ও আবূ বাকর এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবকাশ দেন বা দেরী করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে বলতে থাকেনঃ কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি (যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব)? কোন তওবাকারী আছে কি (যে তওবা করবে আর আমি তার তওবা কবুল করব)? কোন প্রার্থনাকারী আছে কি (যে প্রার্থনা করবে আর আমি তার প্রার্থনা কুবুল করব)? কোন আহবানকারী আছে কি (আমি যার আহবানে দিব)? এভাবে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

206

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ-এর মাধ্যমে আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ ও বেশী স্পষ্ট। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

207

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তারাবীহ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

208

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমযান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমযান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (অর্থাৎ মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত)। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে এবং উমর (রাযিঃ) এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫০, ইসলামীক সেন্টার)

209

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমান ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সালাত আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫১, ইসলামীক সেন্টার)

210

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাতে জাগরণ করতে গিয়ে তা পেয়ে গেল, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি ঈমান ও সাওয়াবের আশায়' কথাটি বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫২, ইসলামীক সেন্টার)

211

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তার সাথে কিছু সংখ্যক লোকও সালাত আদায় করল। পরের রাতেও তিনি মসজিদে সালাত আদায় করলেন। লোকজন সংখ্যায় অনেক বেশী হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও অনেক লোক এসে একত্ৰ হ’ল। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তাদের সাথে যোগ দিলেন না। সকাল বেলা তিনি সবাইকে বললেনঃ (গত রাতে) তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তবে শুধু এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের সাথে যোগদান করিনি যে, তোমাদের ওপর তা ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। তিনি (আয়িশাহ) বলেছেনঃ ঘটনাটি রমযান মাসে সংঘটিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

212

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ী থেকে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, অনেক লোকও তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরো বেশী লোক (মসজিদে) একত্রিত হ’ল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। রাতেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তার সাথে সালাত আদায় করল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশী হ'ল যে, মসজিদে জায়গা সংকুলান হ’ল না। কিন্তু রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক সালাত বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফজরের ওয়াক্তে বের হলেন। ফজরের সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর "আম্মাবাদ" বলে শুরু করলেন। তিনি বললেনঃ গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ সালাতটি তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

213

মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা'ব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর রমযান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইনশা-আল্ল-হ বললেন না (অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই 'লায়লাতুল কদর' আছে)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হ’ল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটি সেই রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষণ হ'ল- সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

214

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে 'যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন' শুবাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু (আবদাল্লাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

215

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

216

‘আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হাইয়্যান আল আবদী (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনাহ এর (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীর) ঘরে কাটালাম। (আমি দেখলাম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে মুখমণ্ডল এবং দু' হাত ধুলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমালেন। পরে পুনরায় উঠে মশকের পাশে গেলেন এবং এর বন্ধন খুলে ওযু করলেন। ওযুতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন (অর্থাৎ ওযু করতে খুব যত্নও নিলেন না আবার একেবারে খুব হালকাভাবেও ওযু করলেন না)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেশী পানি ব্যবহার করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি সে সময় উঠলাম এবং তার কাজকর্ম দেখার জন্য জেগে ছিলাম বা সতর্কভাবে তা লক্ষ্য করছিলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা যেন না ভেবে বসেন তাই আড়মোড়া ভাঙ্গলাম। এবার আমি ওযু করলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন, অতঃপর আমিও তার বাঁ পাশে দিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে এনে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত তের রাকাআত শেষ হ’ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি (ঘুমের মধ্যে তাঁর) নাক ডাকতে শুরু করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বভাবতঃ যখনই ঘুমাতেন তখন নাক ডাকত। পরে বিলাল (রাযিঃ) তাকে সালাতের কথা বলে গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাও, ওয়া কী সামঈ নূরাও ওয়া আই ইয়ামীনী নুরাওঁ, ওয়া আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ, ওয়া ফাওকী নূরাওঁ, ওয়া তাহতী নূরাওঁ, ওয়া আমামী নূরাওঁ, ওয়া খালফী নূরাওঁ,ওয়া আয্‌যিমলী নূরাওঁ" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়ে আলো দান কর, আমার চোখে আলো দান কর, আমার কানে বা শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর। আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছনে আলো দান কর এবং আমার আলোকে বিশাল করে দাও।)। বর্ণনাকারী কুরায়ব বলেছেনঃ তিনি এরূপ আরো সাতটি কথা বলেছিলেন যা আমি ভুলে গিয়েছি। হাদীসের বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু কুহায়ল বলেন- এরপর আমি আব্বাস (রাযিঃ) এর এক পুত্রের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐগুলো (অবশিষ্ট সাতটি) আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করলেনঃ আমার স্নায়ুতন্ত্ৰীসমূহে, আমার শরীরের গোশতে, আমার রক্তে, আমার চুলে এবং আমার গাত্রচর্মে আলো দান কর। এছাড়াও তিনি আরো দুটি বিষয় উল্লেখ করে বললেনঃ এ দু'টিতে তিনি আলো চেয়েছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

217

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মুনাহ (রাযিঃ) ছিলেন তার খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। এরপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পরে তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমণ্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরাহ্ আ-লি ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন[1]। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু' রাকাআত, এরপর আরো দু' রাকাআত এবং পরে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিতর পড়লেন[2]।তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

218

মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... মাখরামাহ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পুরনো মশকের কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করে ওযু করলেন। তিনি বেশী পানি খরচ না করেই উত্তমরূপে ওযু করলেন তারপর আমাকে ঝাকুনি দিলেন। তখন আমি উঠলাম। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশটুকু মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬০, ইসলামীক সেন্টার)

219

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহর (খালা) ঘরে আমি ঘুমালাম আর সেই রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে তিনি ওযু করে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাঁড় করালেন। ঐ রাতে তিনি তের রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ঘুমালেন। ঘুমের মধ্যে তিনি নাক ডাকলেন। আর তিনি যখনই ঘুমাতেন নাক ডাকত। পরে মুয়াযযিন তার কাছে আসলেন তিনি (মসজিদে) চলে গেলেন এবং নতুন ওযু না করেই সালাত আদায় করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী 'আমর বলেছেন, আমি বুকায়র ইবনুল আশাজ্জ এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার কাছেও তিনি হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬১, ইসলামীক সেন্টার)

220

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে আমি আমার খালা মায়মুনাহ বিনতু হারিস এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) যখন উঠবেন তখন আপনি আমাকে জাগিয়ে দিবেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলে আমিও উঠলাম এবং তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে তার ডান পাশে নিলেন। পরে যখনই আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম তখন তিনি আমার কানের নিম্নভাগ ধরে টান দিচ্ছিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন- তিনি এগার রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে থাকলেন। আমি তার নাক ডাকানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি সংক্ষিপ্তাকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬২, ইসলামীক সেন্টার)

221

ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার খালা (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে ঝুলিয়ে রাখা একটি পুরনো মশক থেকে পানি নিয়ে হালকাভাবে ওযু করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসের আযাদকৃত ক্রীতদাস কুরায়ব বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, তখন আমিও উঠলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম এবং পরে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। এরপর সালাত আদায় করে তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাকও ডাকলেন। পরে বিলাল এসে তাকে সালাতের সময়ের কথা জানালে তিনি গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু নতুন ওযু করলেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী সুফইয়ান বলেছেন, এ ব্যবস্থা শুধু (ঘুমানোর পর নতুন ওযু না করে সালাত আদায় করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আমরা এ কথা জানি যে, তার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু হৃদয়-মন ঘুমায় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

222

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আমার খালা মায়মুনাহ এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সালাত আদায় করেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখলাম। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বলেছেনঃ (রাতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে প্রস্রাব করলেন এবং মুখমণ্ডল ও দু' হাতের কজি পর্যন্ত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে আবার উঠে মশকের পাশে গেলেন, এর বাঁধন খুললেন এবং বড় থালা বা কাষ্ঠ নির্মিত প্লেটে পানি ঢাললেন। পরে হাত দিয়ে তা নীচু করলেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি উত্তম ওযু করলেন (অর্থাৎ অত্যধিক যত্নের সাথে ওযু করলেন না, আবার খুব হালকাভাবেও করলেন না)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও উঠে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মোট তের রাকাআত সালাত দ্বারা তার সালাত শেষ হ’ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নাক ডাকতে শুরু করল। আমরা নাক ডাকানোর আওয়াজ শুনে তার ঘুমানো বুঝতে পারতাম। তারপর সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে অথবা সাজদায় গিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বলে দু'আ করতে থাকলেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাওঁ ওয়া আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া আন শিমালী নূরাও ওয়া আমা-মী নূরাও ওয়া খলফী নুরাও ওয়া ফাওকী নুরাওঁ ওয়া তাহতী নুরাও ওয়াজ আল্‌লী নূরান আও কু-লা ওয়াজ'আলনী নুরা-" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়-মনে আলো দান কর, আমার শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাম দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর এবং আমার জন্য আলো সৃষ্টি কর। অথবা তিনি বললেনঃ আমাকে আলোতে পরিণত করে দাও।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

223

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর কাছে ছিলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি গুনদার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু উল্লেখ করলেন। এতে তিনি "ওয়াজ'আলনী নূরান" অর্থাৎ আমাকে আলো বানিয়ে দাও কথাটি বলতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করলেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

224

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও হান্নাদ ইবনুস সারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন কিন্তু হাতের কজিদ্বয় ও মুখমণ্ডল ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। বর্ণনাতে তিনি বলেছেনঃ পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মশকের পাশে গেলেন, এটির বাঁধন খুললেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি ওযু করলেন। এরপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে মশকের পাশে গিয়ে ওটির বন্ধন খুললেন এবং ওযু যেমনটি হওয়া দরকার তেমনি করলেন। আর তিনি আমাকে এতে বলেছেন, "আযিম্ লী নূরান" অর্থাৎ- (হে আল্লাহ) আমার আলোকে বড় করে দাও। তবে এতে তিনি "ওয়াজ'আলনী নূরান" অর্থাৎ- "আমাকে নূর বা আলো বানিয়ে দাও কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

225

আবূত তহির (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলেন। তিনি বলেছেনঃ রাতের বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে একটি মশকের পাশে গেলেন এবং তা থেকে পানি ঢেলে ওযু করলেন। এতে তিনি অধিক পানি ব্যবহার করলেন না বা ওযু সংক্ষিপ্তও করলেন না। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ রাতে উনিশটি কথা বলে দু'আ করলেন। সালামাহ ইবনু কুহায়ল বলেছেন- কুরায়ব ঐ কথাগুলো সব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তার বারোটি মাত্র মনে রাখতে পেরেছি আর অবশিষ্টগুলো ভুলে গিয়েছি। তিনি তার দু'আয় বলেছিলেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার হৃদয় মনে আলো দান কর, আমার জিহবা বা বাকশক্তিতে আলো দান কর। আমার শ্রবণশক্তিতে আলো দান কর, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছন দিকে আলো দান কর, আমার নিজের মধ্যে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার আলোকে বিশালতা দান কর।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

226

আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাতে আমার খালা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মুনাহ এর ঘরে ঘুমালেন। উক্ত রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কিভাবে সালাত আদায় করেন তা দেখা ছিল আমার উদ্দেশ্য। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেনঃ তিনি তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। ..... এতটুকু বলার পর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক আছে যে, তিনি উঠে ওযু ও মিসওয়াক করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

227

ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন রাতে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে ঘুমালেন। রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক ও ওযু করলেন। এ সময় তিনি (কুরআন মজীদের এ আয়াতগুলো) পড়ছিলেনঃ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ পালাক্রমে আগমন নির্গমনে সুধী ও জ্ঞানীজনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে"- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৯০)। এভাবে তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। এরপর উঠে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়াম, রুকূ’ ও সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন এবং শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডেকে ঘুমালেন। তিনবার তিনি এরূপ করলেন এবং এভাবে তিনি ছয় রাকাআত সালাত আদায় করলেন প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করলেন, ওযু করলেন এবং এ আয়াতগুলো পড়লেন। সর্বশেষে তিন রাকাআত বিতর পড়লেন। অতঃপর মুয়াৰ্যযিন আযান দিলে তিনি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন। তখন তিনি এ বলে দুআ করেছিলেনঃ “আল্ল-হুম্মাজ আল ফী ক্বলবী নুরাওঁ ওয়াফী লিসা-নী নুরাওঁ ওয়াজ'আল ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়াজ'আল ফী বাসারী নুরাও ওয়াজ'আল মিন খলফী নূরাওঁ ওয়ামিন আমা-মী নূরাওঁ ওয়াজ'আল মিন ফাওকী নুরাও ওয়ামিন তাহতী নুরান, আল্ল-হুম্মা আত্বিনী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ আমার হৃদয়-মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ আমাকে নূর বা আলো দান কর।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

228

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমি আমার খালা (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাত আদায় করতে উঠলেন। তিনি মশকের পাশে গিয়ে ওযু করলেন এবং তারপর সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তাকে এরূপ করতে দেখে আমিও উঠে মশকের পানি দিয়ে ওযু করলাম। তারপর তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পিঠের দিক থেকে আমার হাত ধরে সোজা তার পিঠের দিক দিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আত্বা বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নফল সালাত আদায়কালে এরূপ করেছিলেন। জবাবে তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বললেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭০, ইসলামীক সেন্টার)

229

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমার পিতা আব্বাস আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। সেদিন আমার খালা মায়মূনাহ-এর ঘরে ছিলেন। উক্ত রাতে আমি তার সাথে কাটালাম। রাতে তিনি সালাত আদায় করতে উঠলে আমিও উঠলাম এবং গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭১, ইসলামীক সেন্টার)

230

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ ও কায়স ইবনু সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭২, ইসলামীক সেন্টার)

231

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

232

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত দেখব। রাতের বেলা প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর অনেক অনেক দীর্ঘায়িত করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা এর পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। পরে আরো দু' রাকাআত আদায করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকেও কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর বিতর অর্থাৎ এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং এভাবে মোট তের রাকাআত সালাত হ'ল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

233

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এক সময়ে আমরা এক (পানির কিনারে) ঘাটে গিয়ে পৌছলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির তুমি কি ঘাট পার হবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপর পাড়ে গিয়ে অবতরণ করলে আমিও পার হলাম। (জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে,) এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলে আর আমি তার ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। (তিনি বর্ণনা করেছেন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ওযু করলেন এবং একখানা মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। কাপড়খানার আঁচল বিপরীত দিকের দু কাঁধে দিলেন। তখন আমি গিয়ে তার পিছনে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমার কান ধরে নিয়ে তার ডান পাশে খাড়া করে দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

234

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবৃ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতে উঠলে সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত (প্রথম দু' রাকাআত) সালাত শুরু করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

235

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতে সালাত আদায় করতে শুরু করলে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত দিয়ে শুরু করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

236

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাতের বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ বলে দু'আ করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা নুরুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা ক্বইয়্যামুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আৱযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না আনতাল হাক্কু ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু ওয়াক্বাওলুকাল হাক্কু ওয়ালিকা-উকা হাক্কুন ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন ওয়ান্না-রু হাক্কুন ওয়াস সা-আতু হাক্কুন, আল্লহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলায়কা আনাব্‌তু ওয়াবিকা খাসামতু ওয়া ইলায়কা হা-কামতু ফাগফিরলী মা- ক্বদ্দাম্‌তু ওয়া আখখারতু ওয়া আস্‌রারতু ওয়া আলানতু আনতা ইলা-হী লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। তুমি আসমান ও জমিনের নূর বা আলো। তোমার জন্যই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও জমিনের ব্যবস্থাপক। তোমার জন্যই সব প্রশংসা তুমিই আসমান ও জমিনের এবং এ সবের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক। তুমিই হাক্ব বা সত্য। তোমার ওয়া’দা সত্য, তোমার সব বাণী সত্য তোমার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য। জান্নাত সত্য, জাহান্নামও সত্য এবং কিয়ামতও সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার ওপরই তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করেছি, তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমারই জন্যে অন্যদের সাথে বিবাদ করেছি এবং তোমার কাছেই ফায়সালা চেয়েছি। তাই তুমি আমার আগের ও পরের এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত সব পাপ ক্ষমা করে দাও। একমাত্র তুমিই আমার ইলাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

237

আমর আন নাকিদ, ইবনু নুমায়র ও ইবনু আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুধু দুটি শব্দ ছাড়া ইবনু জুরায়জ বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহ মালিক বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহের অনুরূপ। দুটি স্থানের একটি ইবনু জুরায়জ قَيَّامُ শব্দের পরিবর্তে قَيِّمُ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আর অপর স্থানটিতে শুধু وَمَا أَسْرَرْتُ এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু উয়াইনাহ বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ হাদীসটিতে কিছু অতিরিক্ত শব্দ আছে এবং অনেকগুলো শব্দের ব্যাপারে তিনি মালিকের এবং ইবনু জুরায়জ-এর সাথে পার্থক্য করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

238

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এই একই সানাদে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের শব্দ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮০, ইসলামীক সেন্টার)

239

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, আবদ ইবনু হুমায়দ ও আবূ মা'ন আররাক্বাশী (রহঃ) .... 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উন্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন সালাত আদায় করতেন তখন কীভাবে তার সালাত শুরু করতেন? জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ রাতে যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ দু'আটি পড়ে সালাত শুরু করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা রব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইসরা-ফীলা ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্ব শাহা-দাতি আনতা তাহকুমু বায়না ইবা-দিকা ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফ নাহদিনী লিমাখ তুলিফা ফীহি মিনাক হাক্কি বি ইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশা-উ ইলা সিরা-ত্বিম মুসতাকীম" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে তুমিই সেগুলোর ফায়সালা করবে। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে পথ দেখাও। তুমিই তো যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকো।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮১, ইসলামীক সেন্টার)

240

মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকাদ্দামী (রহঃ) ..... ‘আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন এ বলে শুরু করতেনঃ "ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযা হানীফাওঁ ওয়ামা- আনা মিনাল মুশরিকীনা ইন্না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীনা লা শারীকা লাহু ওয়াবি যা-লিকা উমিরতু ওয়া আনা- মিনাল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আনতা রব্বী ওয়া আনা- আবদুকা যলামতু নাফসী ওয়া'তারাফতু বিযাম্বি ফাগফিরলী যুনুবী জামী'আন ইন্নাহু লা- ইয়াগকরুত্ব যুনুবা ইল্লা- আনতা ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহদী লিআহসানিহা- ইল্লা- আনতা ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়্যিআহা- লা- ইয়াসরিফু 'আন্নী সাইয়্যিআহা- ইল্লা- আনতা লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা ওয়াল খয়রু কুল্লুহু কী ইয়াদায়কা ওয়াশ শুররু লায়সা ইলায়কা আনা- বিকা ওয়া ইলায়কা তাবা-রাকত ওয়াতা আ-লায়তা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুব ইলায়ক" (অর্থাৎ- আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি সারা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তার কোন শারীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী। হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম বাদশাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আর আমি তোমার বান্দা। আমি নিজে আমার প্রতি যুলুম করেছি। আমি আমার পাপ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমার সব পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম আখলাক বা নৈতিকতার পথ দেখাও। তুমি ছাড়া এ পথ আর কেউ দেখাতে সক্ষম নয়। আর আখলাক বা নৈতিকতার মন্দ দিকগুলো আমার থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ মন্দগুলোকে দূরে রাখতে সক্ষম নয়। আমি তোমার সামনে হাজির আছি- তোমার আনুগত্য করতে প্রস্তুত আছি। সব রকম কল্যাণের মালিক তুমিই। অকল্যাণের দায়-দায়িত্ব তোমার নয়। আমার সব কামনা-বাসনা তোমার কাছেই কাম্য। আমার শক্তিসামর্থ্যও তোমারই দেয়া। তুমি কল্যাণময়, তুমি মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছেই তওবা করছি।)। আর রুকূ করার সময় বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা লাকা রাকা'তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামতু খশা'আ লাকা সামঈ ওয়া বাসার ওয়া মুখখী ওয়া আযমী ওয়া আসাবী"- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশেই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং সব স্নায়ুতন্ত্রী তোমার কাছে নত ও বশীভূত হ’ল)। আর রুকূ’ থেকে উঠে বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়াতি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- বায়নাহুমা- ওয়ামিলআ মা- শি'তা মিন শাইয়িন বাদু”— (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক, সব প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। আসমান ভর্তি প্রশংসা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য)। আর যখন সাজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামৃত্যু সাজাদা ওয়াজহী লিল্লায়ী খলাকাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়াশাক্বকা সাম'আহু ওয়া বাসারাহ্ তাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খ-লিকীন”— (অর্থা- হে আল্লাহ! তোমারই উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম। তোমারই প্রতি আমি ঈমান পোষণ করেছি। তোমারই উদ্দেশে আমি আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল সে মহান সত্তার উদ্দেশে সিজদা করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দান করেছেন আর কান ও চোখ ফুটিয়ে শোনা ও দেখার উপযোগী করে তৈরি করেছেন। মহা কল্যাণময় আল্লাহ, তিনি কতই না উত্তম সৃষ্টিকার)। অতঃপর সবশেষে তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মাগফিরলী মা- ক্বদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা আসসারতু ওয়ামা আ'লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ'লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে এবং প্রকাশ্যে কৃত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আর যে সব ব্যাপারে আমি বাড়াবাড়ি করেছি তাও ক্ষমা করে দাও। আমার কৃত যেসব পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চাইতে বেশী জান তাও ক্ষমা করে দাও। তুমিই আদি এবং তুমিই অন্ত, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।) (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮২, ইসলামীক সেন্টার)

241

যুহায়র ইবনু হারব এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'রাজ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ সালাত শুরু করার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বলতেন তারপরে “ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী” বলতেন। এরপর শেষের দিকে “ওয়া আনা- আওওয়ালুল মুসলিমীন” বলতেন। এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেনঃ যখন তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ” এবং তিনি “ওয়া সাওওয়ারাহ ফা আহসানা সুওয়ারাহু”-ও বলতেন (অর্থাৎ- তিনি আকৃতি দান করেছেন এবং উত্তম আকৃতি দান করেছেন।)। এ বর্ণনাতে আরো আছে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন “আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী মা- কুদ্দামতু” কথাটি থেকে শুরু করে পূর্বোক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত বলতেন। আর তিনি তাশাহহুদ ও সালামের কথা বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

242

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু নুমায়র [শব্দগুলো তার] (রহঃ) ..... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ' আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরাহ আল বাকরাহ) দ্বারা পুরো দু' রাকাআত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকূ করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরাহ আ-লি ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে তিনি বলতে থাকলেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম" (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি'আল্ল-ই লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তার প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-" (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার এ সাজদায়ও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো। হাদীসটির বর্ণনাকারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে উঠে) বললেন, "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হামদ" (আল্লাহ শুনেন যে ব্যক্তি তার প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

243

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সালাতে তিনি কিরআত এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, আমি একটি মন্দ ইচ্ছা করে বসলাম। আবূ ওয়ায়িল বলেছেন তাকে (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে) জিজ্ঞেস করা হ’ল, আপনি কী ধরনের মন্দ ইচ্ছা করেছিলেন? জবাবে তিনি বললেনঃ আমি বসে পড়ার এবং তার পিছনে এ সালাত পরিত্যাগ করার ইচ্ছা করেছিলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

244

ইসমাঈল ইবনু খলীল ও সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আ'মাশ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

245

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক (রহঃ)..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বলা হ’ল যে, সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটায় (অর্থাৎ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে না) এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ ঐ লোকটি এমন যার কানে শাইতান পেশাব করে দিয়েছে অথবা বলেছেন, দু' কানে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

246

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন রাতের বেলা তার ও ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় কর না? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ রসূল! আমরা সবাই তো আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি ইচ্ছা করলে আমাদেরকে জাগিয়ে দিতে পারেন। 'আলী (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি এ কথা বললে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন, আমি শুনলাম তখন তিনি উরুর উপরে সজোরে হাত চাপড়ে বলছেনঃ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিতর্ক করতে অভ্যস্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

247

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নিদ্রা যায় তখন শাইতান তার মাথার শেষ প্রান্তে অর্থাৎ ঘাড়ে তিনটা গিরা দেয়। প্রত্যেকটা গিরাতেই সে ফুঁক দিয়ে বলে, এখনো অনেক রাত আছে (ঘুমিয়ে থাক) তাই যখন সে ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তখন একটি গিরা খুলে যায়। এরপর সে ওযু করলে আরো একটি গিরাসহ মোট দুটি গিরা খুলে যায়। আর যখন সে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করে তখন সবগুলো গিরা খুলে যায়। এভাবে সে কর্মতৎপর ও প্রফুল্ল মনের অধিকারী হয়ে সকালে জেগে উঠে। অন্যথায় মানুষ বিমর্ষ ও অলস মন নিয়ে জেগে উঠে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

248

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কিছু কিছু সালাত বাড়ীতে আদায় করবে। (বাড়ীতে কোন সালাত না আদায় করে) বাড়ীকে তোমরা কবর সদৃশ করে রেখো না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯০, ইসলামীক সেন্টার)

249

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বাড়ীতেও সালাত আদায় কর। বাড়ীগুলোকে কবর সৃদশ করে রেখে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯১, ইসলামীক সেন্টার)

250

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে সালাত আদায় করবে তখন সে যেন বাড়ীতে আদায় করার জন্যও তার সালাতের কিছু অংশ রেখে দেয়। কেননা তার সালাতের কারণে আল্লাহ তা'আলা তার বাড়ীতে বারাকাত ও কল্যাণ দান করে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯২, ইসলামীক সেন্টার)

251

আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ'আরী ও মুহাম্মাদ ইবনুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় আর যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দুটি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

252

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরসমূহকে কবর সদৃশ করে রেখো না (অর্থাৎ নফল সালাতসমূহ বাড়ীতে আদায় করবে, কারণ যে ঘরে সূরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শাইতান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

253

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুর পাতা অথবা চাটাই দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট কামরা তৈরি করে তাতে সালাত আদায় করতে গেলেন। এ দেখে কিছু সংখ্যক লোক এসে তার সাথে সালাত আদায় করলেন। যায়দ ইবনু সাবিত বলেনঃ অন্য এক রাতেও লোকজন এসে জমা হ'ল। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সে রাতে) দেরী করলেন এবং এমনকি তিনি সে রাতে আসলেন না। তাই লোকজন উচ্চস্বরে তাকে ডাকাডাকি করল এবং বাড়ীর দরজায় কঙ্কর ছুড়তে শুরু করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হয়ে তাদের মাঝে এসে বললেনঃ তোমরা যখন ক্রমাগত এরূপ করছিলে তখন আমার ধারণা হ’ল যে, এ সালাত হয়ত তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হবে। অতএব তোমরা বাড়িতেই (নাফল) আদায় করবে। কেননা ফারয (ফরয) সালাত ছাড়া অন্যসব সালাত বাড়ীতে আদায় করা মানুষের জন্য সর্বোত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

254

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাই দ্বারা ঘিরে মসজিদের মধ্যে একটি কামরা বানালেন এবং কয়েক রাত পর্যন্ত সেখানে সালাত আদায় করলেন। তা দেখে কিছু লোক সেখানে সমবেত হ’ল। এতটুকু বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। এর বর্ণনাতে এতটুকু অধিক বর্ণনা হয়েছে যে, এ সালাত যদি তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হত তাহলে তোমরা তা আদায় করতে সক্ষম হতে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

255

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখানা চাটাই ছিল। রাতের বেলা তিনি এ চাটাই দিয়ে একটি কামরা বানাতেন এবং তার মধ্যে সালাত আদায় করতেন। লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ সালাত আদায় করত এবং দিনের বেলা বিছিয়ে নিত। এক রাতে লোকজন বেশী ভীড় করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকজনকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে লোকজন যতটা আমল তোমরা স্থায়ীভাবে করতে সক্ষম হবে ততটা আমল করবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ইবাদাতের সাওয়াব দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমারই ইবাদাত বন্দেগী করতে করতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর কম হলেও আল্লাহর কাছে স্থায়ী 'আমল সর্বাপেক্ষা বেশী পছন্দনীয়। (বর্ণনাকার বলেন) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসারী ও বংশধরগণ যে আমল করতেন তা স্থায়ীভাবে সর্বদাই করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

256

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আল্লাহ তা'আলার কাছে কোন ধরনের আমল সবচাইতে বেশী প্রিয়। জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ কম হলেও যে আমল স্থায়ী (সে আমল আল্লাহ তা'আলার কাছে সবচাইতে বেশী প্রিয়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

257

যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আমল কেমন ছিল। তিনি কি কোন নির্দিষ্ট ইবাদাতের জন্য কোন বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করে নিতেন? জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ না। তবে তার আমল ছিল স্থায়ী প্রকৃতির। আর তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করতে পারেন সেও সে কাজ করতে পারবে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

258

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে এমন ‘আমল সবচেয়ে প্রিয় যা কম হলেও স্থায়ীভাবে করা হয়। হাদীসের বর্ণনাকারী কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেছেনঃ ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) কোন আমল শুরু করলে তা স্থায়ী ও অবশ্য করণীয় করে নিতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০০, ইসলামীক সেন্টার)

259

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন মসজিদের দুটি খুঁটির মাঝে রশি বেঁধে টানানো আছে। এ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কিসের জন্য? সবাই বললঃ এটা যায়নাবের রশি। তিনি সালাত আদায় করতে করতে যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন তখন এ রশিটা দিয়ে নিজেকে আটকে রাখেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি খুলে ফেল। তোমরা সানন্দ সগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে সালাত আদায় করবে। সালাত আদায় করতে করতে কেউ যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে তখন বসে আদায় করবে। যুহায়র বর্ণিত হাদীসেقَعَدَ শব্দ আছে যার অর্থ হ'ল সে যেন বসে পড়ে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০১, ইসলামীক সেন্টার)

260

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০২, ইসলামীক সেন্টার)

261

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে বলেছেন যে, হাওলা বিনতু তুওয়াইত ইবনু হাবীব ইবনু আসাদ ইবনু আবদুল উযযা একদিন তার কাছে গেলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার কাছে গেলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ হ'ল হাওলা বিনতু তুওয়াইত। লোকজন বলে থাকে যে, সে রাতে ঘুমায় না। অর্থাৎ সারারাত ইবাদাত-বন্দেগী করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় বিস্মিত হয়ে বললেনঃ সে রাতেও ঘুমায় না? তোমরা নাফল আমল ততটুকু কর যতটুকু তোমাদের সাধ্য আছে। আল্লাহর কসম, তিনি পুরস্কার দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমরাই (ইবাদাতে) ক্লান্ত হয়ে পড়বে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৩, ইসলামীক সেন্টার)

262

আবৃ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু কুরায়ব-যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ...... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আমার কাছে আসলেন যখন আমার কাছে একজন মহিলা উপস্থিত ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? আমি বললামঃ এ সেই মহিলা যে রাতের বেলা না ঘুমিয়ে সালাত আদায় করে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ তোমরা ততটুকু পরিমাণ আমল করবে যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহ তা'আলা (তোমাদের আমলের) সাওয়াব বা পুরস্কার দিতে অক্ষম হবেন না। বরং তোমরাই আমল করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দীনের ততটুকু আমল অত্যধিক পছন্দনীয় ছিল 'আমলকারী যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আবূ উসামাহ বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত আছে, উক্ত মহিলা ছিলেন বানী আসাদ গোত্রের একজন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৪, ইসলামীক সেন্টার)

263

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ সালাত আদায়কালে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শুয়ে ঘুমিয়ে নিবে এবং তন্দ্রা বা ঘুম দূর হলে পরে আবার সালাত আদায় করবে। কারণ, তোমরা কেউ হয়ত তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত আদায় করলে দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনার স্থলে নিজেকে ভৎসনা (বদ দু'আ) করে ফেলবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৫, ইসলামীক সেন্টার)

264

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্‌বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) আমার কাছে আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হ’ল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাতে সালাত আদায় করতে ওঠে আর (ঘুমের প্রভাবে) তার কুরআন তিলাওয়াতে আড়ষ্টতা আসে অর্থাৎ সে কি বলছে সে সম্পর্কে তার কোন চেতনা না থাকে তাহলে যেন সে শুয়ে (ঘুমিয়ে) পড়ে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৬, ইসলামীক সেন্টার)

265

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে শুনে বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক সূরার অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি অমুক সূরাহ থেকে বাদ দেয়ার উপক্রম করেছিলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৭, ইসলামীক সেন্টার)

266

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে জনৈক ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত শুনছিলেন। (তার তিলাওয়াত শুনে) তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে এমন একটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার স্মৃতি থেকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৮, ইসলামীক সেন্টার)

267

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন হিফযকারীর দৃষ্টান্ত হ'ল পা বাঁধা উট। যদি এর মালিক এটির প্রতি লক্ষ্য রাখে তাহলে ধরে রাখতে পারবে। আর যদি তার বাঁধন খুলে দেয় তাহলে সেটি ছাড়া পেয়ে চলে যাবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৯, ইসলামীক সেন্টার)

268

যুহারর ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু শায়বাহ, ইবনু নুমায়র, ইবনু আবূ উমার, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ...... সকলে নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু উকবাহ বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অধিক বর্ণনা করা হয়েছে যে, "কুরআনের হাফিয যদি রাতে ও দিনে কুরআন মাজীদ পড়ে তাহলে তা স্মরণে রাখে, অন্যথায় ভুলে যায়।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১০, ইসলামীক সেন্টার)

269

যুহারর ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ এভাবে বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি তাহলে তা তার জন্য খুবই খারাপ। বরং তাকে তো ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কুরআনকে স্মরণ রাখ। কারণ কুরআন মানুষের হৃদয় থেকে পা বাঁধা পলায়নপর চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পলায়নপর। ছাড়া পেলেই পালিয়ে যায় অর্থাৎ স্মরণ রাখার চেষ্টা না করলেই ভুলে যায়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১১, ইসলামীক সেন্টার)

270

ইবনু নুমায়র এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) [শব্দাবলী তার] .... শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেনঃ এই পবিত্র গ্রন্থের আবার কখনো বলেছেন এ কুরআনের রক্ষণাবেক্ষণ কর। কেননা মানুষের মন থেকে তা এক পা বাঁধা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও (অধিক বেগে) পলায়নপর। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) আরো বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা কেউ যেন এ কথা না বলে যে, আমি (কুরআন মাজীদের) অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তার থেকে আয়াতগুলো বিস্মৃত হয়ে গিয়েছে (এরূপ বলা উত্তম)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১২, ইসলামীক সেন্টার)

271

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... শাকীক ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তির পক্ষে এরূপ কথা বলা খুবই খারাপ যে, সে অমুক অমুক সূরাহ বা অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছে। বরং বলবে যে ঐগুলো (সূরাহ বা আয়াত) তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৩, ইসলামীক সেন্টার)

272

আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আল আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (আশ'আরী) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কুরআন হিফযের প্রতি লক্ষ্য রাখ। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আমি সে মহান সত্তার শপথ করে বলছি, কুরআনের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াতসমূহ মানুষের মন থেকে পা বাঁধা উটের চেয়েও অধিক পলায়নপর (অর্থাৎ কুরআন মাজীদের মুখস্থ সূরাহ বা আয়াত তাড়াতাড়ি বিস্মৃতিতে চলে যায়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৪, ইসলামীক সেন্টার)

273

আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হাবর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাযিঃ) পর্যন্ত এর সানাদ সূত্রটি পৌছিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবীর উত্তম ও মিষ্টি করে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ তা'আলা যেভাবে শুনে থাকেন অন্য কোন জিনিস সেভাবে শুনেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৫, ইসলামীক সেন্টার)

274

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া, ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... উভয়ে ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে একই সানাদ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যেমন তিনি (আল্লাহ) শুনে থাকেন সুস্পষ্ট স্বরে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর তিলাওয়াত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৬, ইসলামীক সেন্টার)

275

বিশর ইবনুল হাকাম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মহান আল্লাহ এতটা খুশি হন না যতটা খুশি হয়ে থাকেন সুকণ্ঠের অধিকারী কোন নবীর প্রতি যিনি সুললিত কণ্ঠে ও সশব্দে তা তিলাওয়াত করে থাকেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৭, ইসলামীক সেন্টার)

276

ইবনু আখী ইবনু ওয়াহব (রহঃ) ... ইবনুল হাদ (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) উল্লেখ করেছেন এবং سَمِعَ (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন) উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৮, ইসলামীক সেন্টার)

277

হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নবী কর্তৃক সুমিষ্ট কণ্ঠে উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহ তা'আলা যেভাবে শুনেন অন্য কিছুই আর সেভাবে শুনেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৯, ইসলামীক সেন্টার)

278

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব তার বর্ণনাতেكَإِذْنِهِ এ শব্দটা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২০, ইসলামীক সেন্টার)

279

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু কায়স অথবা বলেছেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) (আবূ মূসা) আল আশ'আর-কে দাউদ এর মতো মিষ্টি কণ্ঠ দান করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২১, ইসলামীক সেন্টার)

280

দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আবূ মূসা (আল আশ'আরী) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা (রাযিঃ) কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ গতরাতে আমি যখন তোমার কুরআন পাঠ শুনছিলাম তখন যদি তুমি আমাকে দেখতে তাহলে খুব খুশী হতে। তোমাকে তো দাউদ এর মতো সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২২, ইসলামীক সেন্টার)

281

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল আল মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের বছরে সফরকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীতে বসে সূরাহ আল ফাতহ পড়ছিলেন। আর কিরাআতে তিনি তারজী' (দ্বিরুক্তি) করছিলেন। মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ বলেছেন আমি যদি আমার পাশে অধিক মাত্রায় লোকজনের জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে কিরআত করেছিলেন সেভাবে কিরআত করে তোমাদেরকে শুনাতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৩, ইসলামীক সেন্টার)

282

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটনীর পিঠে বসে সূরাহ আল ফাতহ পাঠ করেছেন। মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল তারজী’সহ (সূরাহ আল ফাতহ) পাঠ করে শুনলাম। মু'আবিয়াহ বলেছেন, লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করে যেভাবে (সূরাহটি পাঠ করে) শুনিয়েছেন আমিও সেভাবে শুনাতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৪, ইসলামীক সেন্টার)

283

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে খালিদ ইবনু হারিস বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীতে বসে সূরাহ আল ফাতহ পড়তে পড়তে পথ অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৫, ইসলামীক সেন্টার)

284

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। সে সময় তার কাছে মজবুত লম্বা দু'টি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময়ে একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হ’ল। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করল। এসব কথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৬, ইসলামীক সেন্টার)

285

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) [শব্দগুলো ইবনুল মুসান্না-এর] ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৭, ইসলামীক সেন্টার)

286

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে বলতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা تَنْقُزُ শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৮, ইসলামীক সেন্টার)

287

হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একরাতে উসায়দ ইবনু হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করল। তিনি(কিছুক্ষণ পর)পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করল।(কিছুক্ষণ পরে) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহইয়াকে পদপিষ্ট করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মতো কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মতো জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না। তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়টি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করল। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি কুরআন পাঠ করতে থাকতে। ইবনু হুযায়র বলেন, আমি পুনরায় পাঠ করলাম। ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ শুরু করে। আবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মতো কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মতো কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব শুনে বললেন। ওসব ছিল মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ)। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৯, ইসলামীক সেন্টার)

288

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আল আশ'আর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মু’মিন আল কুরআন মাজীদ পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল কমলালেবু যা স্বাদে ও গন্ধে উত্তম। আর যে মু’মিন আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ’ল খেজুর যার সুগন্ধ না থাকলেও স্বাদে মিষ্ট। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল রায়হানাহ ফুল যার সুগন্ধি আছে এবং স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ'ল হানযালাহ (মাকাল) যার কোন সুগন্ধি নেই এবং স্বাদও খুব তিক্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩০, ইসলামীক সেন্টার)

289

হাদ্দাব ইবনু খালিদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাম বর্ণিত হাদীসে الْمُنَافِقِ শব্দটিকে الْفَاجِرِ শব্দ দ্বারা বদল করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩১, ইসলামীক সেন্টার)

290

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঐসব মালাকগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়ে সে ব্যক্তির জন্য দু'টি পুরস্কার নির্দিষ্ট আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩২, ইসলামীক সেন্টার)

291

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি আছে "আর যে ব্যক্তি তার জন্য কঠোর ও কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে তার জন্য দু'টি পুরস্কার আছে।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

292

হাদ্দাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কা'ব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তা'আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবনু কাব কাঁদতে শুরু করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

293

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান আল্লাহ তোমার সামনে আমাকে (সূরাহ) لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا‏ পড়ার জন্য আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কাব বললেনঃ তিনি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক) বলেন, এ কথা শুনে তিনি (উবাই ইবনু কাব) কেঁদে ফেললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

294

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করে অনুরূপ বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

295

আবূ বাকর ইবনু আবূ শারবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কুরআন শুনতে ভাল লাগে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন- তাই এরপর আমি সূরাহ আন নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا‏ "হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কি করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে আমি মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

296

হান্নাদ ইবনুস সারী ও মিনহাজ ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেনঃ আমাকে (কুরআন) পাঠ করে শোনাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

297

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) বললেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালবাসি। হাদীস বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেনঃ অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) সূরাহ্‌ আন নিসার প্রথম থেকেفَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا "হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উন্মাতের মধ্যে থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"— (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শুনালেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিস’আর বলেছেনঃ মা’ন আমার কাছে হাদীসটি জাফার ইবনু আমর ইবনু হুরায়স তার পিতা হুরায়স-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিস'আর-এর সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, "যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

298

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) আমি হিমস এ ছিলাম। একদিন কিছু সংখ্যক লোক আমাকে বলল, আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান। আমি তাদেরকে সূরাহ ইউসুফ পাঠ করে শুনলাম। এমন সময় সবার মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আল্লাহর শপথ। সূরাটি এরূপ অবতীর্ণ হয়নি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেনঃ আমি তাকে বললাম- তোমার জন্য দুঃখ। আল্লাহর শপথ, এ সূরাটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেনঃ ‘খুব সুন্দর পড়েছ।' এভাবে তখনও আমি তার (লোকটির) সাথে কথা বলছিলাম। এ অবস্থায় আমি তার মুখ থেকে শরাবের গন্ধ পেলাম। আমি তাকে বললাম- তুমি শরাব পান কর আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চাও? আমার হাতে কোড়া না খেয়ে তুমি এখানে যেতে পারবে না। অতঃপর আমি তাকে কোড়া মেড়ে শরাব পানের শাস্তি দিলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪০, ইসলামীক সেন্টার)

299

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আলী ইবনু খশরাম, আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... সকলেই আ'মাশ (রহঃ) হতে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ মু'আবিয়াহ বর্ণিত হাদীসে তিনি আমাকে বললেনঃ 'খুব সুন্দর হয়েছে' কথাটির উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪১, ইসলামীক সেন্টার)

300

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কি চাও যে, যখন বাড়ী ফিরবে তখন বাড়ীতে গিয়ে তিনটি বড় বড় মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী দেখতে পাবে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ সালাতে তিনটি আয়াত পড়লে তা তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনীর চেয়ে উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪২, ইসলামীক সেন্টার)

301

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উক্‌বাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তখন আমরা সুফফাহ বা মসজিদের চত্বরে অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ চাও যে, প্রতিদিন "বুত্বহান" বা আকীকের বাজারে যাবে এবং সেখানে থেকে কোন পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই বড় কুঁজ বা চুঁটবিশিষ্ট দু'টি উটনী নিয়ে আসবে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এরূপ চাই। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তোমরা কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দু'টি আয়াত শিক্ষা দিবে না কিংবা পাঠ করবে না? এটা তার জন্য ঐরুপ দু'টি উটনীর চেয়েও উত্তম। এরূপ তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। আর অনুরূপ সমসংখ্যক উটনীর চেয়ে তত সংখ্যক আয়াত উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

302

হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আবূ উমামাহ আল বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে শাফা’আতকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরাহ অর্থাৎ সূরাহ আল বাকারাহ এবং সূরাহ্ আ-লি ইমরান পড়। কিয়ামতের দিন এ দুটি সূরাহ এমনভাবে আসবে যেন তা দু খণ্ড মেঘ অথবা দু'টি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সূরাহ আল বাকারাহ পাঠ কর। এ সূরাটিকে গ্রহণ করা বারাকাতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীগণ এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদীসটির বর্ণনাকারী আবূ মু'আবিয়াহ বলেছেন- আমি জানতে পেরেছি যে, বাতিলের অনুসারী বলে যাদুকরদের কথা বলা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

303

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ মু'আবিয়াহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (তুলনায়) উভয়স্থানে এবং সে দুটি যেন বলেছেন এবং তিনি আবূ মু'আবিয়াহ (রহঃ) এর উক্ত 'আমার কাছে তথ্য পৌছেছে' ..... উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

304

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআন অনুযায়ী যারা ‘আমল করত তাদেরকে আনা হবে। সূরাহ আল বাকারাহ ও সূরাহ আ-লি ইমরান অগ্রভাগে থাকবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ দু'টি সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন যা আমি কখনো ভুলিনি। তিনি বলেছিলেনঃ এ সূরাহ দুটি দু খণ্ড ছায়াদানকারী মেঘের আকারে অথবা দু'টি কালো চাদরের মতো ছায়াদানকারী হিসেবে আসবে যার মধ্যখানে আলোর ঝলকানি অথবা সারিবদ্ধ দু' ঝাক পাখীর আকারে আসবে এবং পাঠকারীদের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দিতে থাকবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

305

হাসান ইবনুর রাবী’ ও আহমাদ ইবনু জাওওয়াস আল হানাফী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসেছিলেন। সে সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হ'ল- ইতোপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এ দরজা দিয়ে একজন মালায়িকাহ পৃথিবীতে নেমে আসলেন। আজকের এ দিনের আগে আর কখনো তিনি পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেনঃ আপনি আপনাকে দেয়া দু'টি নূর বা আলোর সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর ঐ দু'টি নূর হ’ল ফা-তিহাতুল কিতাব বা সূরাহ আল ফাতিহাহ এবং সূরাহ আল বাকারাহ-এর শেষাংশ। এর যে কোন হারফ আপনি পড়বেন তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

306

আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহর পাশে আবূ মাসউদ (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে বললাম সূরাহ আল বাকারার দু'টি আয়াত সম্পর্কে আপনার বর্ণিত একটি হাদীস আমি জানতে পেরেছি। আসলে সেটা হাদীস কিনা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরাহ আল বাকারাহ এর শেষ দুটি আয়াত এমন যে, যে ব্যক্তি কোন রাতে ঐ দু'টি পড়বে তা তার সে রাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

307

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

308

মিনজাব ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরাহ আল বাকারার শেষের এ দু'টি আয়াত পড়বে তা সে রাতে ঐ ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। এ হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, একদিন আবূ মাসউদ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন এমন সময় আমি তাকে এ হাদীসটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫০, ইসলামীক সেন্টার)

309

‘আলী ইবনু খশরাম, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫১, ইসলামীক সেন্টার)

310

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫২, ইসলামীক সেন্টার)

311

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূদ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে নিরাপদ থাকবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

312

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তবে শু'বাহ (রহঃ) বলেছেন, সূরাহ আল কাহফ এর শেষ থেকে আর হাম্মাম বলেন, সূরাহ আল কাহফ-এর প্রথম থেকে যেমনটি বলেছেন হিশাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

313

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ... উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আবূল মুনযিরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আবূল মুনযির আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? আবূল মুনযির বলেন, জবাবে আমি বললামঃ এ বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেনঃ হে আবূল মুনযির! আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? তখন আমি বললাম, اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ (এ আয়াতটি আমার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ)। এ কথা শুনে তিনি আমার বুকের উপর হাত মেরে বললেনঃ হে আবূল মুনযির! তোমার জ্ঞানকে স্বাগতম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

314

যুহারর ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূদ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (একদিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করতে সক্ষম? সবাই জিজ্ঞেস করলেন, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়ব? তিনি বললেনঃ “কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" সূরাটি কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

315

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার এ অংশটুকু উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা সমগ্র কুরআন মাজীদকে তিনটি অংশে ভাগ করেছেন আর "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" (সূরাহ আল ইখলাস)-কে একটি অংশ বলে নির্দিষ্ট করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

316

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সবাইকে লক্ষ্য করে) বললেনঃ তোমরা এক জায়গায় জমায়েত হও। কারণ আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পড়ে শুনাব। সুতরাং যাদের জমায়েত হওয়ার তারা জমায়েত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন এবং "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" সূরাটি পড়লেন। তারপর তিনি গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। তখন আমরা একে অপরকে বলতে থাকলাম, আমার মনে হয় আসমান থেকে কোন খবর এসেছে আর সে জন্যই তিনি ভিতরে প্রবেশ করেছেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করে শোনাব। জেনে রাখ এটি (সূরাহ ইখলাস) কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

317

ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ে শুনাচ্ছি। তারপর তিনি "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ, আল্ল-হুস সামাদ" সূরাটি শেষ পর্যন্ত পড়ে শোনালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৯, ইসলামীক সেন্টার ১৭৬৬)।

318

আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওয়াহব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তিকে সেনাদলের নেতা করে পাঠালেন। সে সালাতে তার অনুসারীদের ইমামাত করতে গিয়ে কুরআন পড়ত এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই "কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ" (সূরাহ ইখলাস) পড়ে শেষ করত। সেনাদল ফিরে আসলে তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি বললেন। তিনি বললেনঃ জিজ্ঞেস কর যে, সে কেন এরূপ করে থাকে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, যেহেতু এ সূরাতে মহান দয়ালু আল্লাহর গুণাবলীর উল্লেখ আছে, তাই ঐ সূরাটি পাঠ করতে ভালবাসি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬০, ইসলামীক সেন্টার)

319

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আজ রাতে যে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর মতো আর কখনো দেখা যায়নি। সেগুলো হ'ল- "কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক” (সূরাহ আল ফালাক) এবং "কুল আউযু বিরব্বিন না-স" (সূরাহ আন না-স)-এর আয়াত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬১, ইসলামীক সেন্টার)

320

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) আমাকে বললেনঃ আমার প্রতি এমন কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে যার অনুরূপ আর কখনো দেখা যায়নি। আর সেগুলো হ'ল মু'আববিযাতায়ন বা সূরাহ আল ফালাক ও সূরাহ আন না-স এর আয়াতসমূহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬২, ইসলামীক সেন্টার)

321

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... উভয়ে ইসমাঈল (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ উসামার উকবাহ ইবনু আমির আল জুহানী থেকে এবং তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মানিত সাহাবীগণের অন্যতম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

322

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ‘আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। একটি হ’ল- এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী রাত-দিন আমল করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা'আলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন। সে রাত-দিন তা (আল্লাহর পথে) খরচে করে। (এ দু' ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায়। অর্থাৎ এদের সাথে আমল ও দানের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুকূল ইলম ও মালের আকাঙ্ক্ষা করা যায়। তবে ঐ ব্যক্তির ইলম বিলুপ্ত হয়ে যাক কিংবা ঐ মালদারের মাল ধ্বংস হয়ে যাক- এরূপ কামনা করা যাবে না)*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

323

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ জায়িয নয়। একটি হ’ল- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা এ কিতাবের (কুরআন) জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে তদনুযায়ী দিন-রাত আমল করে; এ ক্ষেত্রে ঈর্ষা পোষণ করার অর্থ তার চেয়ে বেশী করার (জ্ঞান আহরণের) চেষ্টা করা। আর অপরটি হ'ল- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন আর সে রাত-দিন তা থেকে সদাকাহ করে (এ ব্যক্তির সাথে এ অর্থে ঈর্ষা পোষণ করা যে, তার চেয়ে বেশী দান করবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

324

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু' প্রকারের লোক ছাড়া কারো সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক প্রকারের লোক হল- যাকে আল্লাহ অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন এবং হাক্ব পথে তা ব্যয় করার তাওফীক তাকে দিয়েছেন। আর অন্য ব্যক্তি হ’ল যাকে আল্লাহ তা'আলা হিকমাহ বা সঠিক জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী কাজ করে এবং তা অন্যদের শিক্ষা দেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

325

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আমির ইবনু ওয়াসিলাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাফি' ইবনু আবদুল হারিস (রাযিঃ) উসফান নামক স্থানে উমর (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। উমর (রাযিঃ) তাকে মাক্কায় (রাজস্ব আদায়কারী) নিয়োগ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি প্রাস্তরবাসীদের জন্য কাকে কাজে নিয়োগ করেছ? সে বলল- ইবনু আবযা-কে। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইবনু আবযা কে? সে (নাফি') বলল, আমাদের আযাদকৃত ক্রীতদাসের একজন। উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করেছ? নাফি বললেন- সে (ক্রীতদাসটি) মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের একজন ভাল কারী বা আলিম। আর সে ফারায়িয শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ। তখন উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন। অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

326

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ-দারিমী ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আমির ইবনু ওয়াসিলাহ আল লায়সী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাফি ইবনু আবদুল হারিস আল খুযাঈ (রাযিঃ) উসফান নামক স্থানে উমার ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন ..... এভাবে তিনি যুহরী থেকে ইবরাহীম ইবনু সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

327

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি যেভাবে সূরাহ আল ফুরকান তিলাওয়াত করি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ)-কে অন্যভাবে তিলাওয়াত করতে শুনলাম অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরাটি আমাকে এভাবে পড়িয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ আমি তাকে বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তাকে পড়ে শেষ করার অবকাশ দিলাম। তারপর তাকে গলায় চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে গিয়ে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে যেভাবে সূরাহ আল ফুরকান পড়তে শিখিয়েছিলেন এ লোকটিকে তার থেকে ভিন্ন রকম করে সূরাটি পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন- তুমি পড়। তখন সে আবার সেভাবে পড়ল যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তারপর পড়ার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি পড়। সুতরাং আমি পড়লেও তিনি বললেনঃ এভাবেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে যতটুকু যেভাবে তোমাদের কাছে সহজ সেভাবেই পড়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

328

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীম (ইবনু হিযাম) কে সূরাহ আল ফুরকান পড়তে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পরের অংশটুকু পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আমি তাকে সালাতের মধ্যেই বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭০, ইসলামীক সেন্টার)

329

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) থেকে সানাদসহ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭১, ইসলামীক সেন্টার)

330

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমাকে একটি রীতিতে কুরআন মাজীদ পড়ালে আমি তা পড়ে নিলাম। আমি তার কাছে অতিরিক্ত চাইলে তিনি অতিরিক্ত বা অন্য রীতিতে পড়ে শুনতাম। এভাবে তিনি সাত সাতটি রীতি বা আঞ্চলিক নিয়মে আমাকে কুরআন মাজীদ পড়ে শুনিয়েছেন। ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমি এ মর্মে অবহিত হয়েছি যে, এ সাতটি পদ্ধতি, রীতি বা নিয়মে কুরআন মাজীদ পড়ার কারণে হালাল হারামের ব্যাপারে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয় না বরং তা একই থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭২, ইসলামীক সেন্টার)

331

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

332

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) .... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে সালাত শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে কিরআত পড়ল যা আমার নিকট অভিনব মনে হ'ল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়ল। আমরা সালাত শেষ করে সকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে যে, আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে অতঃপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরআত পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের কিরাআত সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে মিথ্যা অবিশ্বাসের উদ্ৰেক হ’ল, এমনকি জাহিলী যুগেও এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি। আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘৰ্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীতবিহবল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে উবাই! আমার নিকট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ি। আমি অনুরোধ করে বললাম, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হ’ল, তা দু' হরফে (পদ্ধতিতে) পড়ুন। আমি তাকে পুনরায় অনুরোধ করলাম যে, আমার উম্মাতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। তৃতীয়বারে আমাকে বলা হ’ল, তা সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করুন এবং আমার এ সাতবারের প্রতিবার প্রত্যুত্তরের পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট প্রার্থনা করতে পারেন (যা আমি কবুল করব)। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি আমি সেদিনের জন্য স্থগিত করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইবরাহীম (আঃ) পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

333

আবূ বাকর ইবনু আবূ শয়বাহ (রহঃ) ...... আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি মসজিদে উপবিষ্ট থাকাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। তিনি এমন এক পদ্ধতিতে কিরআত পড়লেন ... বর্ণনাকারী সংক্ষেপে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

334

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিফার গোত্রের জলাশয়ের (কুপের) নিকট ছিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে এক হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না। জিবরীল (আঃ) তৃতীয়বার এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আমার উন্মাতকে তিন হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আমার উম্মাত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহর নিকট তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। জিবরীল (আঃ) চতুর্থবার তার নিকট এসে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে সাত হারফে (পদ্ধতিতে) কুরআন শিক্ষা দেন। তারা এর যে কোন পদ্ধতিতে পাঠ করলে তা যথার্থ হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

335

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৭৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

336

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহীক ইবনু সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলেন, হে আবদুর রহমানের পিতা। নিম্নোক্ত শব্দটি আপনি কীভাবে পড়েন, ‘আলিফ সহযোগে না ইয়া' সহযোগে অর্থাৎمِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ অথবাمِنْ مَاءٍ غَيْرِ يَاسِنٍ বর্ণনাকারী আবু ওয়াইল (রহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, এ শব্দটি ছাড়া তুমি কি কুরআনের সবটুকু আয়ত্ত করে ফেলেছ? সে বলল, আমি তো মুফাস্‌সাল (সূরাহসমূহ) এক রাকাআতেই পড়ি। ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, দ্রুত গতিতে অর্থাৎ কবিতা পড়ার ন্যায় দ্রুত গতিতে? কোন কোন লোক কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। বরং (সুষ্ঠুভাবে পড়লে) তা যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং উপকারে আসে। সালাতের মধ্যে রুকু’-সিজদা হ’ল সর্বাধিক ফযীলাতপূর্ণ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা আমি অবশ্যই জানি। তিনি প্রতি রাকাআতে দু'টি সূরাহ মিলিয়ে পড়তেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ান, আলকামাহ্ (রহঃ)ও তার পিছনে পিছনে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে এসে বলেন, 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন। ইবনু নুমায়র-এর রিওয়ায়াতে আছেঃ বাজীলাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট এলো। তার এ বর্ণনায় "নাহীক ইবনু সিনান" নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

337

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহীক ইবনু সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট এলো ...... (পূর্ববর্তী সানাদের) ওয়াকী (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছেঃ "আলকামাহ্ (রহঃ) তার নিকট প্রবেশের জন্য এলেন। আমরা তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাকাআতে যে সূরাহ পড়তেন তার দৃষ্টান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর কুরআন সংকলনের বিশটি মুফাস্‌সাল সূরাহ (সূরাহ কাফ থেকে পরবর্তী সূরাহ সমূহ)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

338

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আ'মাশ (রহঃ) একই সানাদে পূর্বোক্ত দু'জনের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরো আছে, আমি অবশ্যই সে দৃষ্টান্তগুলো জানি যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন। প্রতি রাকাআতে দু'টি করে সূরাহ, এভাবে দশ রাকাআতে বিশটি সূরাহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮০, ইসলামীক সেন্টার)

339

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ফজরের সালাত আদায় করার পর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আমরা দরজার নিকট এসে সালাম করলে তিনি আমাদেরকে (ভিতরে প্রবেশের) অনুমতি দিলেন। আমরা কিছুক্ষণ দরজায় থেমে থাকলাম। তখন বাদী বের হয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি তাসবীহ পড়ছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অনুমতি দেয়ার পরও তোমাদের প্রবেশে কী বাঁধা ছিল? আমরা বললাম না, তেমন কোন বাঁধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়ত ঘরের মধ্যে কে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বললেন, তুমি উম্মু 'আবদের পুত্রের পরিবার সম্পর্কে অলসতার ধারণা করলে। বর্ণনাকারী বললেন, অতঃপর তিনি তাসবীহ পাঠে রত হলেন, শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী দেখ, সূর্য উদিত হ’ল কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী। দেখ তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাদী। দেখো তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? সে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এ দিনটি আমাদের ফেরত দিয়েছেন। অধস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ “এবং আমাদের অপরাধের কারণে আমাদের ধ্বংস করেননি।" বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের একজন বলল, গত রাতে আমি (সালাতে) মুফাস্‌সাল সূরাহ সম্পূর্ণটা পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, কবিতা পাঠের মতো দ্রুত আমরা অবশ্যই কুরআনের সূরাহসমূহের পাঠ শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব সূরাহ্ (সালাতে) পড়তেন আমি সেসব সূরাহ মুখস্থ করে রেখেছিঃ মুফাসসাল সূরাহসমূহ থেকে আঠারো সূরাহ এবং হা-মীম গ্রুপের দুটি সূরাহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮১, ইসলামীক সেন্টার)

340

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাজীলাহ গোত্রের নাহীক ইবনু সিনান নামীয় জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি এক রাকাআতেই মুফাসসাল সূরাহ পড়ে থাকি। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, কবিতা আবৃত্তির মতো দ্রুত গতিতে সালাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব সূরাহ পড়তেন তার দৃষ্টান্তসমূহ আমার জানা আছে। তিনি প্রতি রাকাআতে দুটি সূরাহ পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮২ ইসলামীক সেন্টার)

341

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আমর ইবনু মুররাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি আজ রাতে সমস্ত মুফাসসাল সূরাহ সালাতের এক রাকাআতেই পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, কবিতা আবৃত্তির ন্যায় দ্রুত গতিতে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আরো বলেন, আমি অবশ্যই সেসব দৃষ্টান্ত অবহিত আছি, যেসব সূরাহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে মিলিয়ে পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মুফাসসাল সূরাহগুলো থেকে বিশটি সূরার উল্লেখ করলেন, যার দু'টি করে সূরাহ প্রতি রাকাআতে পড়া হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

342

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রযিঃ) মসজিদের মধ্যে কুরআন শিক্ষাদনরত অবস্থায় আমি জনৈক ব্যক্তিকে তার নিকট জিজ্ঞেস করতে দেখলাম যে, সে বলল, আপনি فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ আয়াত কিভাবে পড়েনمُدَّكِرٍ শব্দে দাল হরফ সহযোগে অথবা مُذكِرٍ জাল হরফ সহযোগে? তিনি বলেন বরং مُدَّكِرٍ দাল সহযোগে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

343

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ শব্দ পাঠ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

344

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সিরিয়ায় পৌছলাম, আবূদ দারদা (রাযিঃ) আমাদের কাছে আগমন করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর কিরআত পড়ে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমি। তিনি বলেন, তুমি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে এ আয়াত وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কীভাবে পড়তে শুনেছ? তিনি বললেন, আমি তাকে উক্ত আয়াত এভাবে পড়তে শুনেছি وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى‏ আবূদ দারদা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আয়াতটি এভাবে পড়তে শুনেছি। কিন্তু এরা চায়, আমি যেন وَمَا خَلَقَ সহযোগে পড়ি। আমি তাদের অনুসরণ করব না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

345

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আলকামাহ্ (রহঃ) সিরিয়ায় এলেন। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে একটি পাঠচক্রে গিয়ে বসলেন। আলকামাহ্ (রহঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি এলে আমি লোকদের মধ্যে তার প্রতি সপ্রতিভ সঙ্কোচবোধ লক্ষ্য করলাম। তিনি আমার পাশে বসলেন, অতঃপর (আমাকে) বললেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ) যেভাবে পড়তেন, তুমি কি সেভাবে সংরক্ষণ করেছ ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

346

আলী ইবনু হুজুর আস্ সা’দী (রহঃ) ..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? আমি বললাম, ইরাকবাসী। তিনি বলেন, কোন এলাকার? আমি বললাম, কুফা এলাকার, তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর কিরআত পড়তে পার? আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি বলেন, তাহলে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى‏ সুরাটি পড়। আমি পড়লাম وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى তিনি বলেন, আবূ দারদা (রাযিঃ) হেসে দিয়ে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সূরাটি এভাবে পড়তে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

347

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌছে আবূদ দারদা (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। ..... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু উলাইয়্যাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

348

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯০, ইসলামীক সেন্টার)

349

দাউদ ইবনু রুশায়দ ও ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক সাহাবীর নিকট শুনেছি, যাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ)-ও অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯১, ইসলামীক সেন্টার)

350

যুহারর ইবনু হারব, আবূ গাসসান মিসমাঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সকলে কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে সাঈদ ও হিশাম (রাযিঃ)-এর বর্ণনায় আছেঃ ফজরের সালাতের পর সূর্য আলোকজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯২, ইসলামীক সেন্টার)

351

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আসরের সালাতের পর থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

352

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন সূর্যোদয়কালে এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করার সংকল্প না করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

353

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যান্তের সময় তোমাদের সালাতের সঙ্কল্প করো না। কারণ সূর্য শাইতানের দুই শিং এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৭৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

354

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্যের কিনারা যখন প্রকাশিত হয় তখন সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর। আবার সূর্যের কিনারা যখন অদৃশ্য হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

355

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ বাসরাহ আল গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাম্মাস নামক স্থানে আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেনঃ এ সালাত তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিকট পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ সালাত ধ্বংস করে দিল। যে ব্যক্তি এ সালাতের প্রতি যত্নবান হবে তাকে দ্বিগুণ সাওয়াব দেয়া হবে। এ সালাতের পর শাহিদ অর্থাৎ তারকা উদিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

356

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ বাসরাহ আল গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

357

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উলাইয়্যি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি উকবাহ ইবনু আমির আল জুহানী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি সময়ে আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্য যখন আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে উঠা পর্যন্ত, (২) সূর্য যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, (৩) সূর্য ক্ষীণ আলোক হওয়া থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

358

আহমাদ ইবনু জাফার আল মাকিরি (রহঃ) ..... 'ইকরামাহ (রহঃ) বলেন, শাদ্দাদ (রহঃ), আবূ উমামাহ ও ওয়াসিলাহ (রাযিঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছে এবং সিরিয়ায় আনাস (রাযিঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেছে এবং তার উচ্ছসিত প্রশংসা ও গুণগান করেছে। আবূ উসামাহ (রাযিঃ) বলেন, 'আমর ইবনু আবাসাহ আস সুলামী (রাযিঃ) বলেছেন, আমি জাহিলী যুগে ধারণা করতাম যে, সব লোকই পথভ্রষ্ট ও তাদের কোন ধর্ম নেই। তারা দেব-দেবীর পূজা করত। এ অবস্থায় আমি শুনতে পেলাম যে, মাক্কায় জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করেছেন। আমি আমার বাহনে উপবিষ্ট হয়ে তার নিকট এসে পৌছে দেখলাম যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে জনসমাগম থেকে সরিয়ে রাখেন, তার সম্প্রদায় তাকে অত্যাচার-নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মাক্কায় তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি তাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বলেনঃ আমি একজন নবী। আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, তিনি আপনাকে কোন জিনিস দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেনঃ তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, আল্লাহ এক বলে- ঘোষণা করতে এবং তার সাথে কোন কিছু শারীক না করতে পাঠিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, এ ব্যাপারে আপনার সাথে কারা আছে? তিনি বলেনঃ স্বাধীন ও দাসেরা। বর্ণনাকারী বলেন, সেকালে তার সাথে ছিলেন তার ওপর ঈমান আনয়নকারী আবূ বাকর (রাযিঃ), বিলাল (রাযিঃ) প্রমুখ। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই। তিনি বলেনঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তাতে সক্ষম হবে না। তুমি কি আমার অবস্থা এবং (ঈমান আনয়নকারী) অন্যদের অবস্থা দেখছ না? বরং তুমি তোমার পরিবারে ফিরে যাও, যখন তুমি শুনতে পাবে যে, আমি বিজয়ী হয়েছি তখন আমার নিকট এসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাই আমি আমার পরিবারে ফিরে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করলেন, আমি তখন আমার পরিবারের সাথে ছিলাম। তিনি মাদীনায় আসার পর থেকে আমি খবরাখবর নিতে থাকলাম এবং লোকজনের নিকট জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। শেষে আমার নিকট ইয়াসরিব-এর একদল লোক অর্থাৎ একদল মাদীনাহবাসী এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি মাদীনায় এসেছেন তিনি কি করনে? তারা বলেন, লোকজন অতি দ্রুত তার অনুসারী হচ্ছে, অথচ তার জাতি তাকে হত্যা করতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয়নি। অতএব, আমি মদীনায় এসে তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তো মাক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর নবী। আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং যে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ তা আমাকে শিক্ষা দিন, আমাকে সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ তুমি ফজরের সালাত আদায় কর, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার সময় শাইতানের দু’ শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে। অতঃপর তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত তুমি সালাত আদায় কর, কারণ এ সালাতে মালায়িকাহ উপস্থিত হন। অতঃপর সালাত থেকে বিরত থাক, কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর সূর্য যখন ঢলে যায় তখন থেকে সালাত আদায় কর এবং 'আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত মালাকগণ (ফেরেশতামণ্ডলী) উপস্থিত থাকেন। অতঃপর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ তা শাইতানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! ওযু সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির নিকট ওযুর পানি পেশ করা হলে সে যেন কুলি করে, নাকে পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করে, এতে তার মুখমণ্ডলের ও নাক গহ্বরের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নির্দেশ মতো মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে, এমনকি দাঁড়ির আশপাশের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর তার দু' হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়ার সাথে সাথে তার আঙ্গুলসমূহ থেকে পানির সাথে গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পদদ্বয় ধৌত করে তখন তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তার পাপসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে, তার যথাযোগ্য মর্যাদা বর্ণনা করে এবং আল্লাহর জন্য নিজের অন্তরকে পৃথক করে নেয় তাহলে সে তার জন্মদিনের মতো গুনাহমুক্ত হয়ে যায়। আমর ইবনু আবাসাহ (রাযিঃ) এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচর আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি তাকে বলেন, হে আমর ইবনু আবাসাহ। লক্ষ্য করুন আপনি বলছেন, এক স্থানেই লোকটিকে এত সাওয়াব দেয়া হবে! আমর (রাযিঃ) বলেন, হে আবূ উমামাহ! আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি, আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যু সন্নিকটে। এ অবস্থায় আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মিথ্যারোপে আমার কী ফায়দাহ। আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ হাদীস একবার, দু'বার, তিনবার, এমনকি সাতবার গুনতাম তাহলে কখনো তা বর্ণনা করতাম না, কিন্তু এর অধিক সংখ্যক বার তার নিকট শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০০, ইসলামীক সেন্টার)

359

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাযিঃ) ধারণা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যস্তকালে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

360

হাসন আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত (আদায় করা) ত্যাগ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ) আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপেক্ষায় থেক না যে, তখন সালাত আদায় করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০২, ইসলামীক সেন্টার)

361

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, 'আবদুর রহমান ইবনু আযহার ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযিঃ) প্রমুখ তাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট পাঠালেন। তারা বললেন, তুমি তাকে [আয়িশাহ (রাযিঃ) কে আমাদের পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, আপনি সে দু' রাকাআত আদায় করেন, অথচ আমরা জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ)-এর সাথে লোকজনকে এ সালাত থেকে বিরত রাখতাম। আবূ কুরায়ব (রাযিঃ) বলেন, তারা আমাকে যে বিষয়সহ পাঠিয়েছিলেন, আমি তার ঘরে প্রবেশ করে তা তাকে পৌছে দিলাম। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস কর। আমি বের হয়ে তাদের নিকট এসে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কথা তাদেরকে অবহিত করলাম। অতঃপর তারা আমাকে যে বিষয়সহ আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন, সেই একই বিষয়সহ উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর নিকট পাঠালেন। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে সালাত আদায় করতে নিষেধ করতে শুনেছি, তা সত্ত্বেও পরে আমি তাকে তা আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন এ সালাত আদায় করেছেন তার বিবরণ এই যে, তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত বানু হারাম-এর কতক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমি এক দাসীকে তার নিকট পাঠিয়ে বললাম, তুমি গিয়ে তার এক পাশে দাঁড়াবে, তারপর তাকে বলবে, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! এ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে আপনি নিষেধ করেছেন তা আমি শুনেছি, আর এখন দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, দাসী তাই করল। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষায় থাকে। তিনি সালাত থেকে অবসর হয়ে বলেনঃ হে আবূ উমাইয়্যাহ-এর কন্যা! তুমি আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছ। তার বিবরণ এই যে, আবদুল কায়স গোত্রের কতক লোক স্বগোত্রের পক্ষ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের উদ্দেশে আমার নিকট আসে। (তাদের নিয়ে) ব্যস্ত থাকার কারণে আমি যুহরের সালাতের পরবর্তী দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে পারিনি। এ হ'ল সে দু' রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৩, ইসলামীক সেন্টার)

362

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসর সালাতের পর আদায় করেছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসর সালাতের আগে ঐ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর ব্যস্ততার কারণে অথবা ভুলে গিয়ে তিনি তা আদায় করেননি। সে দু' রাকাআতই তিনি 'আসর সালাতের পর আদায় করেছেন, অতঃপর তা নিয়মিত পড়তে থাকেন। তিনি কোন সালাত আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৪, ইসলামীক সেন্টার)

363

যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট (অবস্থানকালে) আসর সালাতের পরের দু' রাকাআত কখনো ত্যাগ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৫, ইসলামীক সেন্টার)

364

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে অবস্থানকালে দুটি সালাত প্রকাশ্যে বা গোপনে কখনো ত্যাগ করেননি; ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত এবং আসর সালাতের পর দু' রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৬, ইসলামীক সেন্টার)

365

ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আসওয়াদ ও মাসরূক (রহঃ) বলেন, আমরা আয়িশাহ (রাযিঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পালার দিন আমার ঘরে অবস্থানকালে 'আসর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৭, ইসলামীক সেন্টার)

366

আবৃ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মুখতার ইবনু ফুলফুল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর নিকট আসর সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করার অপরাধে লোকদের হাতে আঘাত করতেন। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি আমাদেরকে এ সালাত আদায় করতে দেখতেন, কিন্তু তিনি তা আদায় করতে আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৮, ইসলামীক সেন্টার)

367

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাদীনায় ছিলাম। মুয়াযযিন মাগরিবের সালাতের আযান দিলে তারা তাড়াহুড়া করে স্তম্ভের নিকট গিয়ে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এমনকি কোন আগন্তুক মসজিদে প্রবেশ করলে অধিক সংখ্যক সালাত আদায়কারীর কারণে তার মনে হত যে, (ফরয) সালাত শেষ হয়ে গেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৯, ইসলামীক সেন্টার)

368

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল আল মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি দু' আযানের মাঝখানে সালাত আছে। তিনি কথাটি তিনবার বলেন। তৃতীয়বারে তিনি বলেনঃ যে তা আদায় করতে চায় তার জন্য। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১০, ইসলামীক সেন্টার)

369

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি চতুর্থবারে বলেছেনঃ যার ইচ্ছা হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১১, ইসলামীক সেন্টার)

370

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'টি দলের এক দলের সাথে এক রাকাআত সালাতুল খওফ আদায় করেন, তখন অপর দলটি শক্রবাহিনীর মুকাবিলায় রত ছিলেন। অতঃপর প্রথম দলটি দ্বিতীয় দলের স্থানে গিয়ে শক্রর মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে এবং শেষোক্ত দলটি আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে এক রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর উভয় দল পৃথক পৃথকভাবে এক রাকাআত করে সালাত আদায় করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১২, ইসলামীক সেন্টার)

371

আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতুল খওফ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ সালাত আদায় করেছি ..... পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৩, ইসলামীক সেন্টার)

372

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধে সালাতুল খওফ (শঙ্কাকালীন সালাত) আদায় করলেন। সামরিক বাহিনীর একাংশ তার সাথে সালাতে দাঁড়াল এবং অপরাংশ শক্রবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল। তিনি তার সঙ্গের দলটিকে নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তারা চলে গেল এবং অপর দলটি আসার পর তিনি তাদের নিয়ে আর এক রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর উভয় দল স্বতন্ত্রভাবে এক রাক’আত করে সালাত আদায় করে নিল। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, ভয়-ভীতি বা বিপদাশঙ্কা অধিক বৃদ্ধি পেলে আরোহী অবস্থায় বা দাঁড়ানো অবস্থায় ইশারায় সালাত আদায় করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৪, ইসলামীক সেন্টার)

373

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছি। তিনি আমাদেরকে দু' দলে বিভক্ত করলেন। একদল ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আর শক্রবাহিনী ছিল আমাদের ও কিবলার মাঝখানে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও সকলে তাকবীরে তাহরীমা বললাম। তিনি রুকূ’ করলে আমরা সকলেই রুকূ করলাম অতঃপর তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠালে আমরা সকলেই মাথা উঠালাম। অতঃপর তিনি সাজদায় গেলেন এবং তার নিকটস্থ কাতারের লোকজনও, আর খানিক দূরের কাতারটি শক্রবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা সমাপ্ত করলেন এবং তার নিকটস্থ কাতারও দাঁড়িয়ে গেল, তখন খানিক দূরের কাতারটি সাজাদায় গেল। আর এরা দাঁড়িয়ে থাকল। অতঃপর পিছনের দলটি সামনে আসল এবং সামনের দলটি পিছনে সরে গেল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ করলে আমরাও সকলে রুকূ করলাম। অতঃপর তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠালে আমরাও সকলে মাথা উঠালাম। অতঃপর তিনি সাজদায় গেলেন এবং তার নিকটবর্তী দলটি যারা প্রথম রাকাআতে পিছনে ছিল, তারাও। আর খানিক দূরের দলটি শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকটবর্তী দলটিসহ সিজদা সমাপ্ত করার পর খানিক দূরের দলটি সাজদায় গেল এবং এভাবে সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালে আমরাও সালাম ফিরালাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, যেমন তোমাদের প্রহরীগণ তাদের আমীরগণকে পাহারা দেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৫, ইসলামীক সেন্টার)

374

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুহায়নাহ গোত্রের একদল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তারা আমাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হ’ল। আমরা যখন যুহরের সালাত আদায় করলাম তখন মুশরিকরা বলল, আমরা যদি একযোগে আক্রমণ করতাম তাহলে মুসলিমদেরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতাম। জিবরীল (আঃ) বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করলে তিনিও আমাদের অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ মুশরিকরা আরো বলেছে যে, মুসলিমদের নিকট শীঘ্রই এমন একটি সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হচ্ছে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয়। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, আসর সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে তিনি আমাদের দু' কাতারে বিভক্ত করেন। আর মুশরিকরা আমাদের ও কিবলার মধ্যখানে অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমাহ বললে আমরাও তাকবীর বললাম এবং তিনি রুকূ করলে আমরাও রুকূ করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করল প্রথম কাতারটি সাজদায় গেল। অতঃপর তারা যখন দাঁড়াল তখন দ্বিতীয় কাতারটি সাজদায় গেল। অতঃপর প্রথম কাতার পিছনে সরে গেল এবং পিছনের কাতার সামনে এগিয়ে এসে প্রথম কাতারের স্থানে দাঁড়াল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলে আমরাও তাকবীর দিলাম এবং তিনি রুকূ’ করলে আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর প্রথম কাতার তার সাথে সাজদায় গেল এবং দ্বিতীয় কাতার দাঁড়িয়ে থাকল। দ্বিতীয় কাতার সিজদা করার পর সকলে বসে গেল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। আবূয যুবায়র (রহঃ) বলেন, এরপর জাবির (রাযিঃ) বিশেষভাবে বলেন, যেমন তোমাদের বর্তমান কালের শাসকগণ সালাত আদায় করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৬, ইসলামীক সেন্টার)

375

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহচরদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায়ের উদ্দেশে তাদেরকে তার পিছনে দু' কাতারে কাতারবন্দী করেন। তার নিকটবর্তী কাতারের সাথে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাঁড়ালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে থাকলেন যাবৎ না তার পিছনের কাতার এক রাকাআত সালাত আদায় করল, অতঃপর সামনে এগিয়ে আসল এবং তার নিকটবর্তী দল পেছনে সরে গেল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এদের নিয়ে আরেক রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে থাকলেন যাবৎ না পিছনে সরে যাওয়া কাতার এক রাকাআত সালাত আদায় করল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাম ফিরান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৭, ইসলামীক সেন্টার)

376

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিহ ইবনু খাওওয়াত (রহঃ) যাতুর রিকা' যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতুল খওফ আদায়কারী এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। একটি দল কাতারবন্দী হয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করল এবং অপর দল শক্রবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকল। তার সাথের দলটিকে নিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরেক রাক'আত আদায় করলো। অতঃপর তারা সরে গিয়ে শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে কাতারবান্দী হয়ে দাঁড়াল। অতঃপর পরবর্তী দলটি এগিয়ে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বসে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরো এক রাক’আত আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৮, ইসলামীক সেন্টার)

377

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হয়ে যাতুর রিকা’ নামক স্থানে পৌছে গেলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা কোন ছায়াদার গাছের নিকট পৌছলে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য (বিশ্রামের) ছেড়ে দিতাম। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরবারিখানা একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত থাকা অবস্থায় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে তার তরবারিখানা হস্তগত করে তা কোষমুক্ত করল। অতঃপর সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, তুমি কি আমাকে ভয় কর? তিনি বলেনঃ না। সে বলল, কে আমাকে আমার (আক্রমণ) থেকে রক্ষা করবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ লোকটিকে হুমকি দিলে সে তরবারিখানা খাপের মধ্যে ঢুকিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সালাতের জন্য আযান দেয়া হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দলের সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এ দলটি পিছনে সরে গেল এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপর দলের সাথে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হ’ল চার রাকাআত এবং লোকদের হ’ল দু' রাকাআত (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮১৯, ইসলামীক সেন্টার)

378

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' দলের একটির সাথে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর অপর দলের সাথে দু' রাকাআত আদায় করলেন। অতএব, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করলেন চার রাকাআত এবং অন্য সকলে আদায় করলেন দু' রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮২০, ইসলামীক সেন্টার)