50 - তওবা অধ্যায়
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ রববুল আলামীন ইরশাদ করেছেনঃ আমার উপর বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে আছি। সে যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, শূন্য মাঠে তোমাদের কেউ হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে আনন্দিত হয় আল্লাহ তা’আলা বান্দার তাওবার কারণে এর চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। যদি কেউ একবিঘত সমান আমার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে একহাত অগ্রসর হই। যদি কেউ একহাত সমান আমার প্রতি অগ্রসর হয়, তাহলে আমি একগজ সমান তার প্রতি অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০০, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব আল কা'নবী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন লোক হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে সমান আনন্দিত হয়, তোমাদের তাওবার কারণে আল্লাহ তা’আলা এর চেয়েও বেশি খুশী হন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০২, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হারিস ইবনু সুওয়াইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) অসুস্থ ছিলেন। তার সেবা করার জন্য কোন এক সময় আমি তার নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমাকে দুটি হাদীস বর্ণনা করলেন। একটি নিজের পক্ষ হতে এবং অন্যটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা তার মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়াপানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সাথে থাকে খাদ্য পানীয় সহ একটি সওয়ারী। এরপর ঘুম হতে সজাগ হয়ে দেখে যে, সওয়ার কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহার সামগ্রী বহনকারী সওয়ারীটি তার কাছে। (সওয়ারী এবং পানাহার সামগ্ৰী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ্ (রহঃ) উক্ত সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তার হাদীসে আছে, মরুভূমির সে ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... উমারাহ ইবনু উমায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হারিস ইবনু সুওয়াইদকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ আমার কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এবং অপরটি তার নিজের তরফ থেকে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তার মুমিন বান্দার তাওবার কারণে বেশি খুশী হন। জারীর এর হাদীসের অবিকল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৫, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) খুতবাহ দিতে গিয়ে বললেন, আল্লাহ তার বান্দার তাওবার কারণে ঐ লোক হতেও বেশি আনন্দিত হন যে তার একটি উটের উপর সহায় সম্বল বহন করে সফরে বের হয়েছে। আর অবশেষে এক জনমানবহীন মাঠে উপস্থিত হয়। এমতাবস্থায় দুপুর হয়ে যায়। তখন সে নেমে বৃক্ষের তলায় বিশ্রাম করতে থাকে। সে গভীর ঘুমে নিমগ্ন হয় এবং তার উটটি চলে যায়। সে সজাগ হয়ে ঐ টিলায় দৌড়ে গেল, অতঃপর সে কোন কিছু দেখতে পেল না। তারপর সে অপর টিলায় দৌড়ে উঠল কিন্তু সেখানেও কোন কিছু দেখতে পেল না। তারপর সে তৃতীয় এক টিলার উপরে উঠে, কিন্তু সেখানেও কোন কিছু দেখতে পেল না। অবশেষে হতাশ হয়ে সে বিশ্রামাগারে ফিরে গিয়ে সেখানে এসে বসে থাকে। এমন সময় হঠাৎ হাঁটতে হঁটতে উটটি তার কাছে চলে আসে। অমনি সে তার হাতে এর লাগাম চেপে ধরে। আল্লাহ তার মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ উট প্রাপ্ত লোকের চেয়েও বেশি খুশী হন। বর্ণনাকারী সিমাক (রহঃ) বলেন, শা’বী (রহঃ) বলেছেন, নু'মান এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে আমি (সিমাক) নুমান (রাযিঃ) কে হাদীসটি মারফু’ভাবে বর্ণনা করতে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও জাফর ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ সম্বন্ধে তোমরা কী বললে যে, এক লোক যার নিকট পানাহারের কোন কিছু নেই, এমন মরুভূমিতে উট চলে যায় এবং এর লাগাম মাটিতে টেনে চলতে থাকে, অথচ এর উপর রয়েছে সে লোকের পানাহারের সামগ্রী। তারপর সে তা খোঁজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর এহেন মুহুর্তে উক্ত সওয়ার কোন বৃক্ষের তলা দিয়ে যাওয়ার সময় যদি এর লাগাম ঐ গাছের কাণ্ডের সাথে আটকে যায়, আর আটকানো অবস্থায় যদি সে লোকটি সেটি পেয়ে যায়, তাহলে এ লোক কি পরিমাণ খুশী হবে? সহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সে অত্যন্ত খুশী হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্বীয় বান্দার তাওবার কারণে সওয়ারী প্রাপ্ত ঐ লোকের থেকেও আল্লাহ তা’আলা অনেক বেশি খুশী হন। জাফার (রহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু ইয়াদ তাঁর পিতা হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তওবা করে তখন আল্লাহ ঐ লোকের চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে মরুভূমিতে নিজ সওয়ারীর উপর আরোহিত ছিল। তারপর সওয়ারটি তার হতে হারিয়ে যায়। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। এরপর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় এসে আরাম করে এবং তার উটটি সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হঠাৎ উটটি তার কাছে এসে দাঁড়ায়। অমনিই সে, তার লাগাম ধরে ফেলে। এরপর সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার রব। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে ভুল করে ফেলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭০৮, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর মৃত্যু সমুপস্থিত তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনা একটি হাদীস আমি তোমাদের নিকট হতে গোপন রেখেছিলাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, যদি তোমরা পাপ না করতে তবে আল্লাহ তা’আলা এমন মাখলুক বানাতেন যারা পাপ করতো এবং আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১০, ইসলামিক সেন্টার)
(…) হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবু আইয়্যুব আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন পাপ না থাকতো যা আল্লাহ মাফ করে দেন, তবে অবশ্যই আল্লাহ এমন সম্প্রদায় বানাতেন যাদের পাপ হত এবং তিনি তা মাফ করে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তার কসম করে বলছি, তোমরা যদি পাপ না করতে তবে অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে এমন সম্প্রদায় বানাতেন যারা পাপ করে ক্ষমা চাইতো এবং তিনি তাদের মাফ করে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী ও কাতান ইবনু নুসায়র (রহঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাতিব হানযালাহ আল উসাইয়িদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, হে হানযালাহ! তুমি কেমন আছ? তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, হানযালাহ্ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। সে সময় তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ তুমি কি বল্ছ? হানযালাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত জাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। সুতরাং আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্নিকটে থেকে বের হয়ে আপনজন স্ত্রী-সন্তান এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই তখন আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম আমারও একই অবস্থা। নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ করবো। তারপর আমি এবং আবু বকর (রাযিঃ) রওনা করলাম এবং এমনকি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! হানযালাহ্ মুনাফিক হয়ে গেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা কী? আমি বললাম, আমরা আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দেন, যেন আমরা তা সরাসরি দেখতে পাই। তারপর আমরা যখন আপনার নিকট হতে বের হই এবং স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হই সেসময় আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন আমি তার কসম করে বলছি! আমার কাছে থাকাকালে তোমাদের যে অবস্থা হয়, যদি তোমরা সবসময় এ অবস্থায় অনড় থাকতে এবং সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকরে পড়ে থাকতে তাহলে অবশ্যই ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও রাস্তায় তোমাদের সাথে মুসাফাহ করত। কিন্তু হে হানযালাহ! এক ঘণ্টা (আল্লাহর যিকরে) আর এক ঘণ্টা (দুনিয়াবী কাজে ব্যয় করবে) অর্থাৎ আস্তে আস্তে (চেষ্টা কর)। এ কথাটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... হানযালাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে ওয়ায করলেন এবং জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি গৃহে আসলাম এবং সন্তান-সন্ততিদের সাথে খেল-তামাশা করলাম এবং স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করলাম। এরপর আমি বাড়ি থেকে রওনা করলাম। পথে আবু বাকর (রাযিঃ) এর সাথে দেখা করলাম। আমি তার সাথে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমিও তো এমনই করি, যেমন তুমি বললে। তারপর আমরা দু’জনই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! হানযালাহ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তারপর তিনি বললেন, তা কী? তারপর আমি আমার সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলাম। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমিও তো এমনই করি যেমন হানযালাহ করেছে। তিনি বললেন, হে হানযালাহ! কিছু সময় আল্লাহর স্মরণের জন্য এবং কিছু সময় দুনিয়াবী কাজের জন্য। ওয়ায নাসীহাতের মুহুর্তে তোমাদের মন যেমন থাকে, সবসময় যদি তা এ রকম থাকত তবে ফেরেশতাগণ অবশ্যই তোমাদের সাথে মুসাফাহ করত। এমনকি প্রকাশ্যে রাস্তায় তারা তোমাদের সালাম করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... হান্যালাহ আত তামীমী আল উসাইয়িদী আল কাতিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তারপর সুফইয়ান (রাযিঃ) হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীসম্বয়ের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৫, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন আল্লাহ তা’আলা মাখলুক সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তার কিতাবে লিপিবদ্ধ করলেন এবং তা তার নিকট আরশের উপরে রয়েছে। (তিনি লিখেছে) আমার গোস্বার উপর রহমত বিজয়ী থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৬, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, আমার গোস্বাকে আমার রহমত অতিক্রম করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৭, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যখন মাখলুক সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তার কিতাবের মধ্যে নিজের কাছে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। (তাতে তিনি লিখে রেখেছেন) আমর গোস্বার উপর রহমত বিজয়ী থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৮, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা তার রহমতকে একশ’ ভাগ করে নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে আটকিয়ে রেখেছেন এবং একভাগ পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছেন। রহমতের এ অংশ হতেই সৃষ্টজীব পরস্পর একে অন্যের প্রতি দয়া করে, এমনকি প্রাণী পর্যন্ত; যে স্বীয় ক্ষুরকে নিজ সন্তানাদির গায়ে লাগার ভয়ে তা তুলে নিয়ে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা একশ’ ভাগ রহমত সৃষ্টি করে একভাগ সৃষ্টির মধ্যে রেখে দিয়েছেন এবং নিরানব্বই ভাগ নিজের নিকট লুকায়িত রেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর একশ’ ভাগ রহমত আছে। তন্মধ্যে একভাগ রহমত তিনি জিন, ইনসান, চতুষ্পদ জন্তু ও কীট-পতঙ্গের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। এ এক ভাগ রহমতের কারণেই সৃষ্ট জীব পরস্পর একে অপরের প্রতি দয়া করে এবং এ এক ভাগ রহমতের মাধ্যমে বন্য পশু নিজ সন্তানের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। মহান আল্লাহ তার একশ’ ভাগ রহমতের নিরানব্বই ভাগ রহমত নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। এর দ্বারা তিনি কিয়ামতের দিন স্বীয় বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২১, ইসলামিক সেন্টার)
হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... সালমান আল ফারসী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার একশ’ ভাগ রহমত আছে। তার মধ্যে একভাগ রহমতের দ্বারাই সৃষ্ট জীব পরস্পর একে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। বাকী নিরানব্বই ভাগ রহমত রাখা হয়েছে কিয়ামত দিনের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ..... মু’তামির এর পিতা থেকে উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আকাশমণ্ডলী ও জমিন সৃষ্টির সময়ে আল্লাহ তা’আলা একশ’ রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকটি রহমত আকাশ ও জমিনের দূরত্বের সমপরিমাণ। এ একশ’ রহমত হতে একভাগ রহমত দুনিয়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর তাগিদেই মা তার সন্তানের প্রতি এতটুকু স্নেহপরায়ণা হয়ে থাকে এবং বন্য পশু-পাখী একে অপরের প্রতি অনুরক্ত হয়। যখন কিয়ামত দিবস হবে তখন আল্লাহ তা’আলা এ রহমত দ্বারা (একভাগকেও নিরাব্বই ভাগের সাথে মিলিয়ে একশ’) পূর্ণ করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী এবং মুহাম্মাদ ইবনু সাহল আত তামীমী (রহঃ) ...... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় কয়েকজন বন্দী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হলো। বন্দীদের মধ্যে থেকে একজন নারী কেবলই অনুসন্ধানে রত ছিল। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশুকে পাওয়া মাত্র তাকে কোলে নিয়ে পেটের সাথে জড়িয়ে ধরে তাকে দুগ্ধ পান করাত। এ দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রশ্ন করলেন, এ মহিলাটি কি তার সন্তানদেরকে আগুনে ফেলতে রাজি হবে? আমরা বললাম, না। আল্লাহর শপথ! সে কোন সময় তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারবে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সন্তানের উপর এ মহিলাটির দয়া হতেও আল্লাহ বেশি দয়ালু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে যে কি পরিমাণ শাস্তি রয়েছে, ঈমানদারগণ যদি তা জানত তবে কেউ তার কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা করত না। এমনিভাবে আল্লাহর কাছে যে পরিমাণ দয়া আছে, অবিশ্বাসীরা যদি তা জানত তবে কেউ তার জান্নাত থেকে নিরাশ হত না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মারযুক্ বিনতু মাহদী ইবনু মাইমূন (রহঃ) ...... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক লোক যে জীবনে কক্ষনো কোন প্রকার সাওয়াবের কাজ করেনি, যখন সে মারা যাবে তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, মৃত্যুর পর তোমরা তাকে পুড়ে ফেলবে সেটার অর্ধেক স্থলভাগে বাতাসে উড়িয়ে দিবে এবং অর্ধেক পানিতে নিক্ষেপ করবে। কারণ আল্লাহর কসম! আমাকে যদি আল্লাহ পুনঃ একত্রিত করতে পারেন তাহলে তিনি আমাকে অবশ্যই এমন আযাব দিবেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে কখনো দেননি। তারপর লোকটি যখন ইন্তিকাল করল তখন তার পরিবারের লোকেরা তার নির্দেশ অনুযায়ী তদ্রুপ করল। তখন আল্লাহ তা’আলা স্থলভাগকে আদেশ দিলে সে তার মধ্যস্থিত যা কিছু আছে (ছাই) একত্রিত করলো। এরপর পানিতে মিশ্রিত ভাগকে নির্দেশ দিলেন। সেও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি এমনটি কেন করলে? সে বলল, হে আমার রব! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা’আলা সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৭, ইসলামিক সেন্টার)
অপর এক সানাদে যুহরী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, জনৈক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল; অথচ তাকে কোন আহারও প্রদান করেনি এবং জমি থেকে কীট-পতঙ্গ বা ঘাসপাতা খাবার জন্য তাকে ছেড়েও দেয়নি। এমনিভাবে বিড়ালটির মৃত্যু হয়। যুহরী (রহঃ) বলেন, উপরোল্লিখিত হাদীস দু’টো এ কারণেই আলোচনা করা হয়েছে, যেন মানুষ আমল পরিত্যাগ করে আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে (পাপরাশিতে ডুবে না থাকে) এবং যেন মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে (আযাবের ভয়ে) নিরাশ না হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবু রাবী’, সুলাইমান ইবনু দাউদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, একজন গোলাম তার নিজের আত্মার প্রতি যুলম করেছিল অর্থাৎ সীমাহীন পাপ করেছিল। তারপর তিনি فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ পর্যন্ত মা'মার এর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে বিড়ালের কাহিনী সম্পর্কিত মহিলার হাদীসটি বর্ণনা করেননি। তবে যুবাইদী (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে, তারপর আল্লাহ তা’আলা— যারা তার সর্বাঙ্গ গ্রাস করেছে তাদের বললেন, তার যে যে অংশে তোমরা খেয়ে ফেলেছে, তা সমম্বিত করে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭২৯, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করলে, (তিনি বলেছেন,) আগের যুগের এক লোক ছিল। আল্লাহ তা’আলা তাকে অনেক সন্তান এবং অনেক প্রাচুর্য দিয়েছিলেন। সে তার সন্তান-সন্ততিদের বলল, আমি যা তোমাদের আদেশ করব অবশ্যই তোমরা তা করবে নচেৎ আমি অন্য কাউকে আমার ধন-সম্পদের উত্তরাধিকার করে দিব। আমি যখন মরে যাবো তখন তোমরা আমাকে আগুনে জুলিয়ে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় যে, সে এও বলেছে যে, তারপর আমাকে পিষে বাতাসে উড়িয়ে দিবে। কারণ আল্লাহর কাছে আগে আমি কোন সাওয়াব পাঠাইনি। আল্লাহ তা’আলা আমাকে সাজা দেয়ার উপর শক্তি রাখেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ বিষয়ে সে তার সন্তানদের থেকে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করল। এরপর তারা তার পিতার ক্ষেত্রে তেমনি করল। আমার রবের কসম! এরপর আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, এ কর্ম করার বিষয়ে কিসে তোমাকে উৎসাহিত করেছে? সে বলল, আপনার ভয়ে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে আর কোন আযাব দেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী, আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ ও ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা সকলেই শুবার সানাদের ন্যায় উক্ত হাদীসটি শুবার হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। শাইবান এর হাদীসে رَاشَهُ اللَّهُ -এর স্থলে رَغَسَهُ (আল্লাহ তাকে দান করেছেন) বর্ণিত আছে। আর আত তামিমির হাদিসের মধ্যেلَمْ أَبْتَهِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا এর স্থলেلَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا বর্ণিত আছে। কাতাদাহ্ (রহঃ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, সে আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ই একত্রিত করেনি। শইবান এর হাদিসে আছে مَا ابْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا আর আবূ আওয়ানার হাদিসে আছে مَا امْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا বা অক্ষরের স্থলে মীম অক্ষর আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় রব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জনৈক বান্দা পাপ করে বলল, হে আমার রব! আমার পাপ মার্জনা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে ধরেন। এ কথা বলার পর সে আবার পাপ করল এবং বলল, হে আমার রব! আমার পাপ ক্ষমা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার এক বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে শাস্তি দিতে পারেন। তারপর সে পুনরায় পাপ করে বলল, হে আমার রব! আমার পাপ মাফ করে দাও। এ কথা শুনে আল্লাহ তা’আলা পুনরায় বলেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন প্রভু আছে, যিনি বান্দার পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে পাকড়াও করেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে বান্দা! এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল করো। আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দিয়েছি। বর্ণনাকারী আবদুল আ’লা বলেন, "এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল করো" কথাটি আল্লাহ তা’আলা তৃতীয়বারের পর বলেছেন, না চতুর্থবারের পর বলেছেন, তা আমি জানি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩২, ইসলামিক সেন্টার)
আবু আহমাদ (রহঃ) ...... আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ আন নার্সী (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩২, ইসলামিক সেন্টার)
আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এক লোক পাপ করল এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। এরপর রাবী হাম্মাদ ইবনু সালামার অবিকল হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মাঝে أَذْنَبَ ذَنْبًا কথাটি তিনবার বর্ণিত আছে এবং তৃতীয়বারের পর রয়েছে- আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। তাই এখন সে যা ইচ্ছা তা আমল করুক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর তুলনায় আত্মপ্রশংসা বেশি পছন্দকারী কেউ নেই। এজন্যই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। এমনিভাবে আল্লাহর তুলনায় বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্নও কেউ নেই। এজন্যই প্রকাশ্য এবং গোপনীয় সকল প্রকার অশ্লীলতাকে তিনি হারাম ঘোষণা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, আবু কুরায়ব ও আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কোন সত্তা নেই। এজন্যেই প্রকাশ্য-গোপনীয় সকল প্রকার অশ্লীলতাকে তিনি হারাম ঘোষণা করেছেন এবং আল্লাহ তা’আলা থেকে আত্মপ্রশংসা বেশি পছন্দকারীও আর কোন সত্তা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই। এ কারণেই প্রকাশ্য ও গোপনীয় সকল প্রকার অশ্লীলতাকে তিনি হারাম করে দিয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ থেকে অধিক আত্মপ্রশংসা পছন্দকারীও কেউ নেই। এ কারণেই তিনি তার স্বীয় সত্তার প্রশংসা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মপ্রশংসা পছন্দকারী কেউ নেই। এজন্যই তিনি তার স্বীয় সত্তার প্রশংসা করেছেন। এমনিভাবে আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্ম-মর্যাদাবোধ সম্পন্নও কোন লোক নেই। এজন্যই তিনি সকল প্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন। আল্লাহর চেয়ে বেশি পরিমাণে ওযর-আপত্তি গ্রহণকারীও আর কেউ নেই। এজন্যই তিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং রসূল পাঠিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা স্বীয় আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করেন এবং মুমিনগণও স্বীয় আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করে। আল্লাহর আত্মমর্যাদায় আঘাত আসে যখন মুমিন আল্লাহ কর্তৃক হারাম কর্মে অগ্রসর হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/২৭৬২) ইয়াহইয়া (রহঃ), আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/২৭৬১) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাজ্জাজের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ রিওয়ায়াতের মধ্যে আসমা (রাযিঃ) এর কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকাদ্দামী (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা হতে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন আত্মমর্যাদা হিফাযাত করে। আল্লাহ তা’আলা সর্বাধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ‘আলা (রহঃ) হতে এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৩৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবু কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) এক লোক কোন মহিলাকে চুম্বন করে। তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এ বিষয়টি বর্ণনা করল। রাবী বলেন, তখন আয়াত নাযিল হলোঃ "সালাত প্রতিষ্ঠা করবে দিনের দু' প্রান্তে এবং রাতের কিয়দংশে। নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমূহকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ"- (সূরা হুদ ১১ঃ ১১৪)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ বিধান কি একমাত্র আমার জন্য? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের যে কেউ এ ‘আমল করবে তার জন্যও (এ বিধান)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, সে জনৈক মহিলাকে চুম্বন করেছে বা স্বীয় হাত দ্বারা ছুয়েছে কিংবা এ রকম কোন কিছু করেছে। এ বলে সে যেন এর কাফফারার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জানতে চাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আল্লাহ তা’আলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তিনি ইয়াযীদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…) উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সুলাইমান আত তাইমী (রহঃ) এর সানাদে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জনৈক লোক যিনায় জড়িয়ে পড়া ব্যতীত এক মহিলার সঙ্গে কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণ করল। এরপর সে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর কাছে আসলো। উমার (রাযিঃ) তার এ কর্মটিকে মারাত্মক অন্যায় মনে করলেন। অতঃপর সে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট আসলো। তিনিও কর্মটি কঠিন অপরাধ মনে করলেন। পরিশেষে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। তারপর বর্ণনাকারী হাদীসটি ইয়াযীদ এবং মু’তামির এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ ও আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! মাদীনার এক প্রান্তে এক মহিলাকে কাবু করার জন্যে চেষ্টা তদবীর করেছি। সহবাস ব্যতিরেকে তার সাথে আমি একান্তে মিলিত হয়েছি। আমিই সে, লোক। আপনি আমার ব্যাপারে যা ইচ্ছা সিদ্ধান্ত দিন। তখন উমর (রাযিঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তো তোমার অন্যায়কে লুক্কায়িত রেখেছেন। তুমিও যদি তোমার স্বীয় বিষয়টি গোপন রাখতে। রাবী বলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আর কোন জবাব দেননি। এরপর লোকটি উঠে যেতে লাগল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে তার পিছনে পাঠালেন। যেন সে তাকে ডেকে আনে। অতঃপর তিনি তার সামনে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ “সালাত প্রতিষ্ঠা করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের কিয়দংশে। অবশ্যই নেককর্ম অসৎকর্মকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এ হলো তাদের জন্য এক উপদেশ।” তখন লোকেদের মধ্য হতে জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর নবী! এ বিধান কি তার জন্য নির্দিষ্ট? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং সকল মানুষের জন্যই এ বিধান কার্যকর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু আহওয়াস এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তবে এ হাদীসের মধ্যে আছে, তখন মুআয (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এ হুকুম কি শুধু তার জন্য, না আমাদের সবার জন্য সার্বিকভাবে প্রযোজ্য? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং তোমাদের সবার জন্য সার্বিকভাবে প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি হদ যোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। অতএব আপনি আমার উপর তা প্রয়োগ করুন। রাবী বলেন, তখন সালাতের সময় হলো এবং লোকটি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করল। সালাত আদায় হয়ে গেলে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি 'হদ' যোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনি আল-কুরআনের বিধানানুসারে আমার উপর হদ কার্যকর করুন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাদের সাথে সালাত আদায় করছিলে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে মাফ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫০, ইসলামিক সেন্টার)
নাসর ইবনু ‘আলী আল জাহযামী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু উমমাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন এবং আমরাও তার সাথে বসে ছিলাম। তখন জনৈক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! হদ যোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। অতএব আপনি আমার উপর হদ কার্যকর করুন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। সে আবার বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি হদ্দ যোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনি আমার উপর হদ কার্যকর করুন। এবারও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। লোকটি তৃতীয়বার পুনরাবৃত্তি করল। এমন সময় সালাত শুরু হলো। সালাত শেষ হয়ে গেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন। রাবী আবু উমামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, লোকটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পশ্চাদ্ধাবন করল। আবু উমামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে কি উত্তর দেন তা দেখার জন্য তিনি সালাত শেষে ফিরে এলে আমিও তার অনুসরণ করলাম। তারপর প্রশ্নকারী লোকটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে আবার বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার উপর হদ হওয়ার মতো অপরাধ করে ফেলেছি। তাই আমার উপর হদ কার্যকর করুন। আবু উমামাহ (রাযিঃ) বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঘর হতে বের হবার সময় খেয়াল করেছে কি? তুমি কি ভালভাবে উযূ করেনি? সে বলল, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহর রসূল! এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আমাদের সাথে সালাত আদায় করেনি? সে বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার হদ্দ মাফ করে দিয়েছেন কিংবা বললেন, তোমার পাপ মাফ করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫১, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের আগেকার লোকেদের মধ্যে এক লোক ছিল। সে নিরানব্বই লোককে হত্যা করেছে। তারপর জিজ্ঞেস করল, এ দুনিয়াতে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান লোক কে? তাকে এক আলিম দেখিয়ে দেয়া হয়। সে তার নিকট এসে বলল যে, সে নিরাব্বই লোককে হত্যা করেছে। এমতাবস্থায় তার জন্য কি তওবা আছে? আলিম বলল, না। তখন সে আলিমকেও হত্যা করে ফেলল। সুতরাং সে আলিমকে হত্যা করে একশ’ সম্পূর্ণ করল। অতঃপর সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, এ দুনিয়াতে সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তখন তাকে জনৈক ‘আলিম লোকের সন্ধান দেয়া হলো। সে ‘আলিমকে বলল যে, সে একশ’ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, তার জন্য কি তওবা্ আছে? আলিম লোক বললেন, হ্যাঁ। এমন কে আছে যে ব্যক্তি তার মাঝে ও তার তাওবার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক দেশে যাও। সেখানে কিছু লোক আল্লাহর ইবাদাতে নিমগ্ন আছে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদাতে লিপ্ত হও। নিজের ভূমিতে আর কক্ষনো প্রত্যাবর্তন করো না। কেননা এ দেশটি ভয়ঙ্কর খারাপ। তারপর সে চলতে লাগল। এমনকি যখন সে মাঝপথে পৌছে তখন তার মৃত্যু আসলো। এবার রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতার মধ্যে তার ব্যাপারে বাক-বিতণ্ডা দেখা গেল। রহমতের ফেরেশতারা বললেন, সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাওবার উদ্দেশে এসেছে। আর আযাবের ফেরেশতারা বললেন, সে তো কক্ষনো কোন সৎ কাজ করেনি। এমতাবস্থায় মানুষের আকৃতিতে এক ফেরেশতা আসলেন। তারা তাকে তাদের মাঝে মধ্যস্থতা বানালেন। তিনি উভয়কে বললেন, তোমরা উভয় স্থান পরিমাপ কর (নিজ ভূখণ্ড ও যাত্রাকৃত ভূখণ্ড)। এ দুটি ভূখণ্ডের মধ্যে যা সন্নিকটবর্তী হবে সে অনুযায়ী তার ফায়সালা হবে। তারপর উভয়ে পরিমাপ করে দেখলেন যে, সে ঐ ভূখণ্ডেরই বেশি নিকটবর্তী যেখানে পৌছার জন্যে সংকল্প করেছে। অতঃপর রহমতের ফেরেশতা তার রূহ কবয করে নিলেন। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, হাসান (রহঃ) বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন তার মৃত্যু এলো, তখন সে বুকের উপর ভর দিয়ে কিছু এগিয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫২, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই লোককে হত্যা করে বলাবলি করে বেড়াতে লাগল, তার কি তওবা্ (‘র সুযোগ) আছে? অবশেষে সে এক বিশিষ্ট ‘আলিমের নিকট এসে এ ব্যাপারে জানতে চায়। ‘আলিম বলল, তোমার জন্য তওবা্ (র সুযোগ) নেই। তখন সে আলিমকে হত্যা করল। তারপর সে পুনরায় লোকদের জিজ্ঞেস করতে থাকলো। তারপর সে এক জনপদ হতে অন্য জনপদের দিকে যাত্রা করলো যেখানে কিছু সৎ লোকের বসবাস ছিল। অতঃপর যখন সে রাস্তায় ভ্রমণরত ছিল তখন তার মৃত্যু এসে গেল। তখন সে বুকের উপর ভর করে সম্মুখে এগিয়ে গেল। তারপর সে মারা গেল। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতা তার সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লো। তখন দেখা গেল যে, সে সৎ লোকদের জনপদের দিকে এক বিঘত পরিমাণ বেশি নিকটবর্তী রয়েছে। তাই তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) এ সানাদে মুআয ইবনু মুআয এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে বর্ণনা করেছে যে, তখন আল্লাহ এ ভূমির প্রতি আদেশ করলেন যেন তা দূরবর্তী হয়ে যায় এবং ঐ ভূমির প্রতি আদেশ করলেন যেন তা নিকটবর্তী হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবু মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন খ্রীস্টান বা ইয়াহুদী দিয়ে বলবেন, এ হচ্ছে তোমার জন্যে জাহান্নামের অগ্নি হতে মুক্তিপণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ্ (রহঃ)...... আবূ বুরদার পিতা আবু মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোন মুসলিম মারা যায় তখন আল্লাহ তা’আলা তার স্থানে একজন ইয়াহুদী বা খ্রীস্টান লোককে জাহান্নামে প্রবেশ করান। তারপর উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) আবু বুরদাহ (রাযিঃ) কে যিনি ভিন্ন কোন মা’বুদ নেই সে আল্লাহর শপথ দিয়ে তিনবার প্রশ্ন করলেন যে, তার পিতা কি সত্যিই এ কথাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে তার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি শপথ করে বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। এ কথাটি সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেনি। রাবী বলেন, “উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) তাকে কসম দিয়েছেন সাঈদ এ কথা বলেননি এবং ‘আওন এর কথাটিও অস্বীকার করেননি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে আফফান এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে রয়েছে ‘আওন উতবার ছেলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু আব্বাদ ইবনু জাবালাহ ইবনু আবু রাওওয়াদ (রহঃ) .... আবু বুরদাহ (রহঃ) এর সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিছু মুসলিম পাহাড়সম পাপ নিয়ে কিয়ামতের মাঠে আসবে এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের পাপ মার্জন করে দিবেন। আর তা ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানদের উপর রেখে দিবেন। রাবী হাদীসের শেষের কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাবী আবু রাওহ (রহঃ) বলেন, কার পক্ষ থেকে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তা আমি জানি না। আবু বুরদাহ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর কাছে বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার পিতা এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সরাসরি শুনে তোমার কাছে বর্ণনা করেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবনু উমর (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন, নাজওয়া (আল্লাহ ও বান্দার গোপন কথা) সম্পর্কে আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিভাবে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিনে মুমিন ব্যক্তিকে তার প্রভুর নিকটবর্তী করা হবে। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার উপর পর্দা ঢেলে দিবেন এবং তার পাপের ব্যাপারে তার থেকে জবানবন্দি নিবেন। তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি তোমার পাপ সম্বন্ধে জান কি? সে বলবে, হে রব! আমি জানি। এরপর তিনি বলবেন, তোমার এ পাপ দুনিয়ায় আমি লুক্কায়িত রেখেছিলাম। আজ তোমার এ পাপগুলোকে আমি মাফ করে দিলাম। এরপর তার নেকীর ‘আমলনামা তার কাছে দেয়া হবে। এরপর কাফির ও মুনাফিক লোকদেরকে উপস্থিত সকল মানুষের সম্মুখে ডেকে বলা হবে, এরাই তারা যারা আল্লাহ তা’আলার উপর মিথ্যারোপ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কা’ব (রাযিঃ) চক্ষু রোগে আক্রান্ত হবার পর উবাইদুল্লাহ তাকে পরিচালনা করতেন। তিনি তার কাওমের মাঝে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান লোক ছিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের হাদীস বেশি হিফাযাতকারী ছিলেন। তিনি বলেনঃ যে তিনজন লোকের তওবা আল্লাহ গ্রহণ করেছিলেন, আমার পিতা কা'ব ইবনু মালিক (রাযিঃ) ঐ তিন লোকের অন্যতম ছিলেন। আমি তাকে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত যুদ্ধ করেছেন এর মধ্যে তিনি দুটি ছাড়া আর কোন যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেছনে থাকেননি। তারপর তিনি পূর্বের অনুরূপ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু সৈন্য সামন্ত নিয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের সংখ্যা দশ হাজারের চেয়েও বেশি ছিল। কোন তালিকায় তাদের নাম লিখে রাখা ছিল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬২, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ রাবী আল আতাকী, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস এবং মা'মার এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ এর হাদীসে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে অজ্ঞতামূলক আচরণ করতে উত্তেজিত করেছিল। মা'মার তার বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহ-এর হাদীসের মধ্যে ইউনুসের বর্ণনার মতো এতে রয়েছে ---- অর্থাৎ- ‘গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করলো।’ সালিহ-এর হাদীসে এটাও রয়েছে যে, উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হাস্সান ইবনু সাবিত (রাযিঃ) কে কটু বাক্য বলার বিষয়টিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, হাস্সান তো নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেছেন, "আমার পিতা-মাতা, আমার ইযযত সবই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইজ্জত-সম্মানের জন্যে রক্ষাকবচ।" এতে এটাও বর্ধিত রয়েছে যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যে লোকের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমি কক্ষনো কোন মহিলার-আবরণ খুলিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শাহীদ হন। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম-এর হাদীসে রয়েছেঃمُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ কিন্তু আবদুর রাযাক (রহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুর বাযযককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, لْوَغْرَةُ অর্থ কঠিন গরম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
অনুবাদ উপলব্ধ নেই
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমার সম্পর্কে মানুষেরা যখন কুৎসা রটাতে শুরু করল, যা আমি জানি না, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বক্তব্য দেয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে তাশাহহুদ পড়লেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, অতঃপর যারা আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে অপবাদ রটাচ্ছে তাদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর শপথ আমি আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে খারাপ কোন কিছুই জানি না এবং তারা যার ব্যাপারে অপবাদ রটাচ্ছে তার সম্পর্কেও খারাপ কিছু আমি জানি না। আমার অনুপস্থিতিতে সে আমার ঘরে কক্ষনো প্রবেশ করেনি এবং আমি যখন সফরে বের হয়েছি সেও তখন আমার সঙ্গে সফরে বের হয়েছে। অতঃপর বর্ণনাকারী সম্পূর্ণ ঘটনাসহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এতে বর্ধিত রয়েছে যে, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে আমার বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলল, আল্লাহর শপথ আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মধ্যে আমি কোন ক্রটি দেখিনি। তবে তিনি নিদ্রায় যেতেন, আর বকরী এসে মথিত আটা খেয়ে ফেলত। অথবা বললেন, খামীর খেয়ে ফেলত। বর্ণনাকারী হিশাম এতে সন্দেহ করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহাবা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সত্য কথা বলো। এমনকি তারা তার সম্মুখে ঘটনা উত্থাপন করলেন। তখন বারীরাহ বললেন, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর শপথ! স্বর্ণকার খাটি স্বর্ণের টুকরা সম্পর্কে যেমন জানে আমিও আয়িশাহ সম্বন্ধে অনুরূপ জানি। যে লোক সম্পর্কে এ অপবাদ রটানো হচ্ছিল তার কাছে এ সংবাদ পৌছার পর তিনিও বললেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শপথ আমি কক্ষনো কোন মহিলার আবরণ খুলিনি। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, পরে তিনি আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ হন। এতে আরো বর্ধিত রয়েছে যে, অপবাদ রটনাকারীদের মাঝে ছিলেন মিসতাহ, হামনাহ্ ও হাস্সান। আর মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনু উবাই সে ছিল ঐ লোক যে খুঁজে খুঁজে বের করে এসব জমা করত। সে এবং হামনাই এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হাব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মু ওয়ালাদের (দাসীদের) সঙ্গে এক লোকের প্রতি অভিযোগ আসে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ) কে বললেন, যাও, তার শিরশ্ছেদ কর। আলী (রাযিঃ) তার কাছে গিয়ে দেখলেন, সে কূয়ার মধ্যে শরীর ঠাণ্ডা করছে। ‘আলী (রাযিঃ) তাকে বললেন, বেরিয়ে এসো। সে আলী (রাযিঃ) এর দিকে হাত এগিয়ে দিলো। তিনি তাকে বের করলেন এবং দেখলেন, তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কাটা, তার লিঙ্গ নেই। তখন আলী (রাযিঃ) তাকে হত্যা করা হতে বিরত থাকলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে তো লিঙ্গকাটা, তার যে লিঙ্গ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৬, ইসলামিক সেন্টার)