46 - তাকদীর অধ্যায়
আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র আল হামদানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদিকুল মাসদুক (ন্যায়পরায়ণ ও ন্যায়নিষ্ঠরূপে প্রত্যায়িত) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকের শুক্ৰকীট তার মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন একত্রিত করা হয়। তারপর হুবহু চল্লিশ দিন জমাট রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর হুবহু চল্লিশ দিনে তা একটি গোশত টুকরায় পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতাকে প্রেরণ করা হয়। সে তাতে রূহ ফুকে দেয়। আর তাকে চারটি কালিমা (বিষয়) লিপিবদ্ধ করার আদেশ করা হয়। রিযক, মৃত্যুক্ষণ, কর্ম, বদকার ও নেক্কার। সে সত্তার শপথ যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝ হতে কেউ জান্নাতীদের ‘আমলের ন্যায় আমল করতে থাকে। অবশেষে তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র একহাত দূরত্ব থাকে। অতঃপর ভাগ্যের লিখন তার উপর জয়ী হয়ে যায়। ফলে সে জাহান্নামীদের কর্ম শুরু করে। এরপর সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়। আর তোমাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি জাহান্নামের কাজ-কর্ম করতে থাকে। ফলে জাহান্নামের মাঝে ও তার মাঝে মাত্র একহাত দূরত্ব থাকে। তারপর ভাগ্যলিপি তার উপর জয়ী হয়। ফলে সে জান্নাতীদের ন্যায় আমল করে। অবশেষে জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮২, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবু সাঈদ আল আশাজ্জ ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল হামীদ, ঈসা ইবনু ইউনুস, ওয়াকী ও শুবাহ ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) সকলে আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (আ'মাশ) ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের কারো সৃষ্টি (শুককীট) তার মায়ের গর্ভে চল্লিশ রাত্রি একত্রিত রাখা হয়। আর তিনি শু’বার সানাদে মুআয বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, চল্লিশ রাত কিংবা চল্লিশ দিন। কিন্তু জারীর ও ঈসা (রহঃ) এর হাদীসে কেবলমাত্র أَرْبَعِينَ يَوْمًا (চল্লিশ দিবসের) কথা উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... হুযইফাহ্ ইবনু আসীদ (রহঃ) হতে মারফু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জরায়ুতে চল্লিশ অথবা পয়তাল্লিশ দিন রেণু জমা থাকার পর সেখানে ফেরেশতা গমন করে। অতঃপর সে বলতে থাকে, হে আমার প্রভু! সে কি হতভাগ্য না সৌভাগ্যবান? তখন উভয়টাতে লিপিবদ্ধ করা হয়। তারপর সে বলতে থাকে, হে আমার রব! সে কি পুরুষ না মহিলা? তখন আদেশ অনুসারে উভয়টা লিপিবদ্ধ করা হয়। তার আমল, আচরণ, মৃত্যুক্ষণ ও জীবনোপকরণ লিপিবদ্ধ করা হয়। তারপর ফলকটিকে পেঁচিয়ে দেয়া হয়। তাতে কোন অতিরিক্ত করা হবে না এবং ঘাটতিও হবে না! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবু তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, দুর্ভাগ্য সে লোক, যে তার মায়ের গর্ভ হতে দুর্ভাগা আর সৌভাগ্যবান লোক সে, যে অন্যের নিকট হতে উপদেশ লাভ করে। অতঃপর তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের মধ্য থেকে একজন সহাবা যাকে হুযাইফাহ ইবনু আসীদ আল গিফারী বলা হয় তার কাছে আসলেন। তখন তিনি তার নিকট আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর কথা বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমলহীন কোন লোক কিভাবে দুর্ভাগ্যবান হতে পারে? অতঃপর তিনি [হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)] তাকে বললেন, তুমি কি এতে আশ্চর্য হচ্ছ? আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, যখন (মাতৃগর্ভে) শুক্ৰকীটের উপর বিয়াল্লিশ দিন চলে যায় তখন আল্লাহ তা’আলা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তিনি ওটাকে (শুক্রকে) একটি রূপ দান করে, তার কান, চোখ, চামড়া, গোশত ও হাড় সৃষ্টি করে দেয়। তারপর ফেরেশতা বলে, হে আমার রব! সেটা কি পুরুষ, না মহিলা হবে? তখন তোমার প্রভু যা চান সিদ্ধান্ত দেন এবং ফেরেশতা আদেশ অনুসারে তা লিখে ফেলেন। তারপর সে বলতে থাকে, হে আমার রব! তার মৃত্যুক্ষণ কত হবে? তখন তোমার রব যা চান তাই বলেন এবং সে অনুযায়ী ফেরেশতা লিখেন। তারপর সে বলতে থাকে, হে আমার রব। তার জীবিকা কি হবে? তখন তোমার রব তার মর্জি অনুযায়ী ফায়সালা করেন এবং ফেরেশতা তা লিপিবদ্ধ করেন। এরপর ফেরেশতা তার হাতে একটি লিপিবদ্ধ কিতাব নিয়ে বের হন। সে এটাকে বৃদ্ধিও করে না এবং ঘাটতিও করে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আহমাদ ইবনু উসমান আবূ নাওফালী (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে শুনেছেন। তিনি আমর ইবনুল আল হারিস (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবু খালাফ (রহঃ) .... আবু তুফায়ল বলেন, আমি আবূ সারীহাহ হুযাইফাহ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাযিঃ) এর নিকট গেলে তিনি বলেন, আমি আমার এ কান দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, বীর্য জরায়ুতে চল্লিশ রাত স্থির থাকে। তারপর একজন ফেরেশতা তাকে আকৃতি প্রদান করেন। রাবী যুহায়র (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন, "যাকে তিনি তৈরি করেন" তখন তিনি বলতে থাকেন, হে আমার প্রভু! সে-কি পুরুষ না মহিলা? তারপর আল্লাহ তাকে পুরুষ কিংবা মহিলা সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনি (ফেরেশতা) বলতে থাকেন, হে আমার রব। আপনি তাকে পূর্ণ সৃষ্টি করবেন না অপূর্ণ? তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ অথবা অপূর্ণ সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি বলেন, হে আমার প্রভু! তার জীবনোপকরণ, মৃত্যুক্ষণ, চরিত্র কি হবে? তারপর আল্লাহ তা’আলা তাকে হতভাগ্যবান কিংবা সৌভাগ্যবান বানিয়ে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবা হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তার আদেশ অনুসারে কোন কিছু সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা করেন তখন জরায়ুতে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করে দেন চল্লিশের কিছু বেশি দিন পরে। তারপর তিনি তাদের হাদীসের হুবহু হাদীস উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল, ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা জরায়ুতে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করে দেন। তখন ফেরেশতা বলতে থাকেন, হে আমার প্রভু! এখন তা শুক্র। হে আমার রব! এখন তা জমাট রক্ত। হে আমার প্রতিপালক এখন গোশতের খণ্ড। তারপর যখন আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত করেন তখন ফেরেশতা বলেন, হে আমার প্রতিপালক সে-কি পুরুষ না মহিলা, দুর্ভাগ্যবান, না সৌভাগ্যবান হবে? তার রিযক কি হবে? তার আয়ুষ্কাল কি হবে? তারপর এমনিভাবে মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় সবকিছু লিখে দেয়া হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকী গারকাদে* একটি জানাযা সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তার পাশাপাশি বসলাম। তার সাথে ছিল একটি ছড়ি। তিনি মাথা নিচু করেছিলেন। সে সময় তিনি তার ছড়ি দ্বারা জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার পরিণাম আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্ধারণ করেননি এবং সে দুর্ভাগ্যবান হবে বা সৌভাগ্যবান হবে, তা লিপিবদ্ধ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন জনৈক লোক আবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি আমাদের ভাগ্যলিপির উপর অটুট থেকে ‘আমল ত্যাগ করব না? তখন তিনি বললেন, যে লোক সৌভাগ্যবান সে সৌভাগ্যবানদের ‘আমলের দিকে ধাবিত হবে। যে হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত সে হতভাগার আমলের প্রতি ধাবিত হবে। তারপর তিনি বললেন, তোমরা আমল করো। প্রত্যেকের পথ সহজ করে দেয়া হয়েছে। অবশ্যই সৌভাগ্যবান লোকদেরকে সৌভাগ্যের আমল করা সহজ করে দেয়া হচ্ছে। হতভাগ্যদেরকে হতভাগ্যের ‘আমল সহজ করে দেয়া হচ্ছে। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, "সুতরাং যে দান করল, তাকওয়া অর্জন করল এবং যা উত্তম তা সত্যায়ন করল, আমি তাদের জন্যে সফল তার পথ সুগম করে দিব এবং যারা বখিলী করল এবং নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী মনে করল আর যা উত্তম তা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, আমি তার জন্যে কঠোর বিফল পথ সহজ করে দিব"- (সূরা আল লায়ল ৯২ঃ ৫-১০)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবু বকর ইবনু আবু শইবাহ ও হান্নাদ ইবনু আস্ সারী (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (মানসূর) বলেন, তাছাড়া তিনি বলেছেন, "একটি লাকড়ি ধারণ করলেন এবং ছড়ি" শব্দটি তিনি বলেননি। ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) আবুল আহওয়াস (রহঃ) এর সানাদে তার হাদীসে বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়লেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯১, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ, ইবনু নুমায়র ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টুকরা লাকড়ি হাতে নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি তা দ্বারা জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি নিজের মাথা উঠালেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তার ঠিকানা জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্ধারিত নেই। তারা সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাহলে আমরা কেন কাজ-কর্ম করব? আমরা কি ভরসা করব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, বরং তোমরা আমল করতে থাকো। যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ করা হয়েছে। তারপর তিনি পাঠ করলেন, "সুতরাং যারা দান-সদাকাহ করল, তাকওয়া অর্জন করল এবং যা ভাল তা সত্যায়ন করল, ..... ..... আমি কঠোর পরিণামের পথ সহজ করে দিব, এ পর্যন্ত"- (সূরা আল লায়ল ৯২ঃ ৫-১০)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুরাকাহ্ ইবনু মালিক ইবনু জুশুম (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন, অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের সামনে আমাদের দীন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন, যেন আমরা এই মাত্র সৃষ্ট হয়েছি। আজকের ‘আমল কি ঐ বিষয়ের উপর যার সম্পর্কে কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর তার উপর চলছে? নাকি আমরা ভবিষ্যতে তার সামনাসামনি হব? তিনি বললেন, না; বরং কলম যা কিছু লিখার লিখে শুকিয়ে গেছে ও সে অনুযায়ী তাকদীর জারী হয়ে গেছে। সুরাকাহ বললেন, তাহলে কিসের জন্য ‘আমল করার প্রয়োজন? যুহায়র বলেন, অতঃপর আবূ যুবায়র কিছু কথা বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। অতঃপর আমি (লোকেদের) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি বললেন। জবাবে বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমল করতে থাকো; প্রত্যেকের জন্য সে পথ সহজ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবু তাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আমলকারীকে তার “আমলের পথ সহজ করে দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৫, ইসলামিক সেন্টার, নেই)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! জাহান্নামীদের হতে জান্নাতীদের সুনির্দিষ্ট হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি (রাবী) বলেন, বলা হলো, তাহলে আমলকারী কিসের জন্য ‘আমল করবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক লোকের জন্যে সে কর্মটি সহজ করে দেয়া হবে, যার জন্যে তাকে বানানো হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) শাইবান ইবনু ফাররূখ, আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইবনুল মুসান্না (রহঃ) সব সানাদেই ইয়াযীদ আর রিশক (রহঃ) হতে এ সূত্রে হাম্মদ এর হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এছাড়া আবদুল ওয়ারিস বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, সে বলেছে, আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... আবুল আসওয়াদ আদ দিয়ালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসায়ন (রহঃ) আমাকে বললেন, আজকাল মানুষেরা যা আমল করে এবং তাতে যা কষ্ট করে, সে ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তা-কি এমন বিষয় যা তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীতে সাব্যস্ত হয়ে গেছে যা তাদের উপর পূর্ব নির্ধারিত? নাকি ভবিষ্যতে করা হবে যা তাদের নিকট তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে আসছেন এবং যাদের উপর দলীল-প্রমাণ সাব্যস্ত হয়েছে? আমি বললাম, বরং বিষয়টি তো তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীত সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তিনি (রাবী) বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, তা কি যুলম হবে না? তিনি বললেন, এতে আমি অত্যন্ত ঘাবড়ে গেলাম এবং বললাম, প্রতিটি বিষয় আল্লাহর মাখলুক এবং তার আওতাধীন। সুতরাং তিনি যা করেন, সে বিষয়ে জবাবদিহিতা নেই অথবা তাদেরকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। কিন্তু তারা যা করে সে বিষয়ে তাদের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করে আপনার অনুভূতি অনুমান করতে চেয়েছিলাম। মুযাইনাহ্ গোত্রের দু' ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লোকেরা আজকাল যেসব আমল করে এবং পরিশ্রম করে, সেগুলো কি তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীত সাব্যস্ত হয়ে গেছে, আগে নির্দিষ্টতা থেকে? নাকি ভবিষ্যতে যে আমল করা হবে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট নিয়ে আসছেন এবং তাদের উপর দলীল প্রমাণ সাব্যস্ত আছে? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং বিষয়টি তাদের উপর সিদ্ধান্ত করা হয়েছে এবং অতীতে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে? আল্লাহর কিতাবে তার সত্যায়নঃ "আর শপথ মানুষের এবং তার যিনি তাকে সম্পূর্ণ করেছেন, এরপর তার উপর তিনি পাপ-পুণ্যের জ্ঞান ঢেলে দিয়েছেন"- (সূরা আশ শামস ৯১ঃ ৭-৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক দীর্ঘকাল জান্নাতীদের ন্যায় আমল করবে। এরপর জাহান্নামীদের আমলের সাথে তার আমল পরিসমাপ্ত হয়। আর এক লোক দীর্ঘকাল ধরে জাহান্নামীদের আমলের ন্যায় আমল করবে। তারপর জান্নাতীদের ‘আমলের সাথে তার ‘আমল পরিসমাপ্ত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ আস্ সাইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত “আমলের বিবেচনায় জান্নাতীদের ‘আমলের ন্যায় আমল করবে; অথচ সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আর কোন ব্যক্তি জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত ‘আমলের বিবেচনায় জাহান্নামীদের ‘আমলের ন্যায় ‘আমল করবে, অথচ সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, ইবরাহীম ইবনু দীনার, ইবনু আবু উমার আল মাক্কী ও আহমাদ ইবনু আব্দাহ আয যাব্বী (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) এর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে মাহরুম করেছেন এবং জান্নাত হতে আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন। এরপর আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি তো মূসা (আঃ)। আল্লাহ তা’আলা তার সঙ্গে কথা বলতে আপনাকে চয়ন করেছেন এবং আপনাকে লিখিত কিতাব (তাওরাত) দিয়েছেন। আপনি কি এমন বিষয়ে আমাকে ভৎসনা করছেন যা আমার সৃষ্টির চল্লিশ বৎসর আগে আল্লাহ তা’আলা নির্ধারণ করে রেখেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর বাক-বিতণ্ডায় জয়ী হলেন। আর ইবনু আবু উমার ও ইবনু আবদাহ বর্ণিত হাদীসে তাদের একজন বলেছেন, লিখে দিয়েছেন; অপরজন বলেছেন, তিনি তার হস্তে আপনার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পরের বাদানুবাদ করেন। এতে আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) আদম-কে বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যিনি মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং জান্নাত হতে তাদেরকে বের করেছেন। তারপর আদম (আঃ) বললেন, আপনি তো সে লোক (নবী) যাকে আল্লাহ তা’আলা সকল বস্তুর জ্ঞান দান করেছেন এবং তাকে মনোনীত করে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন? মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ। আদম (আঃ) বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে ভৎসনা করেছেন, যা আমার জন্মের আগেই আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মূসা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মূসা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আনসারী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তাদের রবের নিকট ঝগড়া করলেন*। অতঃপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে আল্লাহ তা’আলা নিজ হস্তে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তিনি তাঁর রূহকে ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তার ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা্ করিয়েছেন এবং তার জান্নাতে আপনাকে আবাসন করে দিয়েছেন। তারপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানবজাতিকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন। এরপর আদম (আঃ) বললেন, আপনি তো সে মূসা (আঃ) যাকে আল্লাহ তা’আলা রিসালাত দিয়েছেন তার সাথে কথা বলার জন্য বাছাই করেছেন এবং আপনাকে দান করেছেন তক্তিসমূহ, তাতে সব বিষয়ের বর্ণনা লিখিত রয়েছে এবং নির্জনে আলাপচারিতার জন্যে নৈকট্য দান করেছেন। সুতরাং আমার জন্মের কত বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছেন তা-কি আপনি দেখেছেন? মূসা (আঃ) বললেন, চল্লিশ বৎসর পূর্বে। আদম (আঃ) বললেন, আপনি কি তাতে পাননি- আদম তার রবের আদেশ অমান্য করেছেন এবং পথভ্রষ্ট হয়েছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আদম (আঃ) বললেন, এরপর আপনি আমাকে আমার এমন কর্মের জন্য কেন ভৎসনা করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা আমার উপর লিখে রেখেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) বাদানুবাদ করেন। তখন মূসা (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে তার ভুলে জান্নাত হতে বের করে দিয়েছে। এরপর আদম (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে মূসা (আঃ) আল্লাহ তা’আলা যাকে তার রিসালাত ও কথা বলার জন্যে বাছাই করেছেন। তারপরও তুমি আমাকে তিরস্কার করছ, এমন একটি ব্যাপারে, যা আমার জন্মের আগে আমার উপর ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত হয়েছিল। পরিশেষে আদম (আঃ) মূসা (আঃ) এর উপর জয়ী হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ‘আমর আন্ নাকিদ ও ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাদের হাদীসের মর্মের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মদ ইবনু মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ...... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, সে সময় আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু সাহল আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ হানী (রাযিঃ) এর সানাদে তার হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে তাদের হাদীসে "তার আরশ পানির উপর ছিল" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৮, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আদম সন্তানের কলবসমূহ পরম দয়াময় আল্লাহ তা’আলার দু’আঙ্গুলের মধ্যে এমনভাবে আছে যেন তা একটি কলব। তিনি যেভাবে চান সেভাবেই তা উলট পালট করেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কলব সমূহের পরিচালক হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কলব সমূহকে তোমার বশ্যতার উপর স্থির রাখুন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৯, ইসলামিক সেন্টার)
‘আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ, কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক সহাবাকে দেখতে পেয়েছি। তারা বলতেন যে, সকল বিষয় নির্ধারিত (সৃষ্ট)। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল বিষয় নির্দিষ্ট পরিমাণে সৃষ্ট, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শ গোত্রের মুশরিকরা ভাগ্যলিপির ব্যাপারে বিবাদ করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলো। তারপর এ আয়াত নাযিল হলো- "যেদিন তাদের কে নিম্নমুখী করে জাহান্নামে টেনে আনা হবে এবং (বলা হবে) জাহান্নামের আগুনের ছোয়া আস্বাদন করো। নিশ্চয়ই আমি সকল বিষয়বস্তু পরিমিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১১, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) যা বলেছেন ‘লামাম (আকর্ষণীয় বড় গুনাহ) বিষয়ে তার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ কোন বিষয় আমি দেখিনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যে ভাগ লিখেছেন, নিঃসন্দেহে তা সে পাবে। দু’চোখের ব্যভিচার দেখা, যবানের ব্যভিচার, পরস্পর কথোপকথনের ব্যভিচার, মনের ব্যভিচার কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে অথবা মিথ্যা সাব্যস্ত করে। আবদ (রহঃ) তাউস এর বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যে অংশ লিখিত রয়েছে তা অবশ্যই সে, প্রাপ্ত হবে। নিঃসন্দেহে দু’চোখের ব্যভিচার হলো তাকানো, দু’কানের ব্যভিচার হলো শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথোপকথন করা, হাতের ব্যভিচার হলো শক্ত করে ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো হেঁটে যাওয়া, হৃদয়ের ব্যভিচার হচ্ছে কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাজিব ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতিটি নবজাতক স্বভাবজাত ইসলাম নিয়ে জন্মলাভ করে। অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইয়াহুদী বানিয়ে দেয়, খ্ৰীষ্টান বানিয়ে দেয় এবং আগুনপূজারী বানিয়ে দেয়, যেমন চতুষ্পদ প্রাণী পূর্ণাঙ্গ চতুষ্পদ বাচ্চা জন্ম দেয় তোমরা কি তাতে কোন অঙ্গ কর্তিত বাচ্চা উপলব্ধি করছ? তারপর আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, ইচ্ছা করলে তোমরা এ আয়াতটি পাঠ করতে পার, “আল্লাহর ফিতরাতে যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই*- (সূরা আর রূম ৩০ঃ ৩০)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ, ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। মা'মার (রহঃ) বলেন, যেমন চতুষ্পদ প্রাণী চতুষ্পদ বাচ্চা জন্ম দিতে হয় এবং তিনি جَمْعَاءَ (পূর্ণাঙ্গ) শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ তাহির ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি বাচ্চা স্বভাবজাত ইসলামের উপর জন্মলাভ করে। তারপর তিনি বলেছেন, তোমরা পাঠ করঃ "আল্লাহর ফিতরাত যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। এ-ই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন"- (সূরা আর রূম ৩০ঃ ৩০)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৬, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি বাচ্চা স্বভাবজাত ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করছেন। তারপর তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী বানিয়ে দিয়েছে, খ্ৰীষ্টান বানিয়ে দিয়েছে এবং মুশরিক বানিয়ে দিয়েছে। অতঃপর জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে এর পূর্বে ইন্তিকাল করে তার ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ ভাল জানেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু শাইবাহ, আবু কুরায়ব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনু নুমায়র বর্ণিত হাদীসে আছে- "প্রতিটি বাচ্চা স্বভাবজাত ইসলামের উপর ভূমিষ্ঠ হয়"। আর আবূ মু’আবিয়াহ্ (রহঃ) এর সানাদে আবু বাকর (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে, "এ স্বভাবজাতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে স্পষ্ট করে কথা বলা পর্যন্ত (তার উপর বহাল থাকে)"। এবং আবু মু’আবিয়াহ্ (রহঃ) এর সানাদে আবু কুরায়ব (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে, “এমন কোন বাচ্চা নেই যা এ স্বভাবজাত ইসলামের উপর জন্মলাভ করে না, যে পর্যন্ত না সে কথা ব্যক্ত করতে পারে”। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ...... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার কিছু সংখ্যক হাদীস আলোচনা করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি শিশু স্বভাবজাত ইসলামের উপর জন্মলাভ করে তারপর বাবা-মা তাকে ইয়াহুদী বানিয়ে দেয়, না খ্ৰীষ্টান বানিয়ে দেয়, যেমন উষ্ট্রী চতুস্পদ জন্ম দিয়ে থাকে। তোমরা কি তাদের মাঝে কানকাটা কোন প্রাণী দেখতে পাও? এমনকি তোমরাই সেগুলোর কর্ণ ছিদ্র করে দাও। সহাবারা বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শিশুটি ছোট বেলায়ই মারা যাবে, তার ব্যাপারে আপনার কী মতামত? তিনি বললেন, তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১৯, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেকটি মানুষের বাচ্চাকে তার মা ফিতরাতের উপর জন্ম দিয়েছেন। পরে তার পিতামাতাই তাকে ইয়াহুদী বানিয়ে দিয়েছে, খ্ৰীষ্টান বানিয়ে দিয়েছে এবং অগ্নিপূজারী বানিয়ে দিয়েছে। যদি তার পিতা-মাতা মুসলিম হয় তবে বাচ্চাটিও মুসলিম হবে। প্রত্যেক বাচ্চাকে মা জন্মদানের সময় শাইতান (শয়তান) তার দু’পাঁজরে খোঁচা দেয়। কেবলমাত্র মারইয়াম ও তার পুত্র ঈসা (আঃ) কে শাইতান (শয়তান) খোঁচা দিতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ...... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুশরিকদের নিষ্পাপ বাচ্চার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তাদের কর্মের ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবদ ইবনু হুমায়দ, আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু বাহরাম ও সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে ইউনুস ও ইবনু আবূ যি’ব (রহঃ) এর সূত্রে তাদের দু’জনের (শু’আয়ব ও মা'কাল) হাদীসের হবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া শু’আয়ব ও মা’কাল এর বর্ণিত হাদীসে আছে, তথায় أَوْلاَدِ الْمُشْرِكِينَ এর স্থানে ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِينَ (মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি) উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২২, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইবনু উমর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের ছোট সন্তান যারা শিশু অবস্থায় ইন্তিকাল করে, তাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো। জবাবে তিনি বললেন, তারা কি আমল করত সে সম্পর্কে আল্লাহই অধিক অবগত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুশরিকদের বাচ্চাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তাদের কর্মের ব্যাপারে আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত। কেননা তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই যে ছেলেটিকে খাযির (আঃ) (আল্লাহর আদেশে) হত্যা করেছিলেন তাকে কফিরের স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদি সে জীবিত থাকত তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফুরী করতে বাধ্য করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মু’মিন জননী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি নাবালক ছেলে মারা গেলে আমি বললাম, তার জন্যে সৌভাগ্য। সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের থেকে এক চড়ুই পাখি (অর্থাৎ- নির্দ্বিধায় চলাচল করবে)। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান না যে, আল্লাহ তা’আলা তৈরি করেছেন জান্নাত এবং তৈরি করেছেন জাহান্নাম। এরপর তিনি এ জান্নাতের জন্য যোগ্য নিবাসী এবং জাহান্নামের জন্য যোগ্য নিবাসী তৈরি করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিন ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আনসার নাবালক বাচ্চার জানাযায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হলেন। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এ নাবালকটি তো সৌভাগ্যবান। সে তো জান্নাতে চড়ুই পাখিদের থেকে একটি চড়ুই পাখি। সে পাপকৰ্ম করেনি এবং পাপ তাকে স্পর্শ করেনি। তিনি বললেন, এছাড়া আরো কিছু আছে, হে আয়িশাহ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের জন্য উপযুক্ত অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে, যাদেরকে সে উদ্দেশেই সৃষ্টি করেছে, অথচ তখন তারা তাদের বাপ দাদাদের ঔরসে ছিল। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন যাদেরকে জাহান্নামের জন্য তাদের সে উদ্দেশেই পয়দা করেছেন আর তারা তখন তাদের বাপ দাদাদের ঔরসে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, সুলাইমান ইবনু মা’বাদ ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... তালহাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে ওয়াকী (রহঃ) এর সূত্রে তার হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনসঙ্গী উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহ! আমার স্বামী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার পিতা আবূ সুফইয়ান ও আমার ভাই মু’আবিয়াহ্ (রাযিঃ) এর সাথে আমাকে সাচ্ছদ্য জীবন দান করুন। আবদুল্লাহ বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো আল্লাহর নিকট নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল, দিন-কাল সুনির্ধারিত কয়েকদিন এবং বন্টনকৃত জীবনোপকরণ সম্পর্কে মুনাজাত করলে। এ বিষয়গুলো কখনো যথাসময়ের আগে বাড়বে না বা যথাসময়ের পরে বিলম্ব হবে না। যদি তুমি আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তি লাভের জন্য অথবা কবরের আযাব হতে মুক্তির জন্য দু’আ করতে তাহলে উত্তম কিংবা শ্রেয় হত। তিনি বলেন, তার নিকটে (বনী ইসরাঈলের) বানরে পরিণত হওয়ার কথা আলোচনা করা হলো। মিসআর বলেন, আমি মনে করি, শূকরে পরিণত হওয়ার কথাও আলোচনা করা হয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন তাদের কোন বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মিসআর (রাঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া ইবনু বিশর ও ওয়াকী তার হাদিসেمِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ (জাহান্নামের আগুন এবং কবরের শাস্তি থেকে) উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৩০, ইসলামিক সেন্টার)
আবু দাউদ, সুলাইমান ইবনু মা’বাদ (রহঃ), সুফইয়ান (রহঃ) এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেন آثَارٍ مَوْطُوءَةٍ এর স্থানে آثَارٍ مَبْلُوغَةٍ (সীমিত নিদর্শন) রয়েছে। ইবনু মা’বাদ (রহঃ) বলেছেন, কেউ قَبْلَ حِلِّهِ এর অর্থ করেছেন نُزُولِهِ অর্থাৎ- আগমনের পূর্বে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৩১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শক্তিধর ঈমানদার দুর্বল ঈমানদারের তুলনায় আল্লাহর নিকট উত্তম ও অতীব পছন্দনীয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে, যাতে তোমার উপকার রয়েছে তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তুমি অক্ষম হয়ে যেও না। এমন বলো না যে, যদি আমি এমন এমন করতাম তবে এমন হত না। বরং এ কথা বলে যে, আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননাلَوْ (যদি) শব্দটি শাইতানের (শয়তানের) কর্মের দুয়ার খুলে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৩২, ইসলামিক সেন্টার)