অল ইসলাম লাইব্রেরি

28 - কসামা ও কিসাস অধ্যায়

1

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া এবং রাফি ইবনু খাদীজ হতে বর্ণিত। তারা উভয়েই বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যায়দ (রাযিঃ) ও মুহাইয়্যিসাহ্ ইবনু মাসউদ বাড়ী থেকে বের হয়ে খাইবার পর্যন্ত এলেন। এরপর সেখান থেকে উভয়েই আলাদা হয়ে গেলেন। তারপর মুহাইয়্যিসাহ্ (রাযিঃ) আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে একস্থানে খুন হওয়া অবস্থায় পেলেন। তখন তিনি তাকে দাফন করলেন। এরপর তিনি এবং হুওয়াইয়িসাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) ও আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলেন। আর তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। আবদুর রহমান (রাযিঃ) তার উভয় সাথীর আগে কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে কথা বলার জন্য সামনে এসো। সুতরাং তিনি চুপ করে গেলেন এবং তার সাখী দু'জন কথা বললেন। আর তিনি তাদের দু'জনের সাথে কথা বললেন। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আবদুল্লাহ বিন সাহলের (হত্যা ও) হত্যাস্থান বিষয়ে কথা বললেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন। তোমরা কি এ ব্যাপারে পঞ্চাশবার হলফ (শপথ) করতে পারবে (যে হত্যকারী পার্শ্ববর্তী ইয়াহুদী সম্প্রদায়) তাহলে নিহত ব্যক্তির কিসাস বা দিয়াত প্রাপ্তির ব্যাপারে হকদার হবে। প্রতি উত্তরে তারা বলল, আমরা কিভাবে এ ব্যাপারে হলফ (শপথ) করবো? আমরা তো সেখানে তখন উপস্থিত ছিলাম না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীরা পঞ্চাশবার হলফ করে তোমাদের দাবী নাকচ করে দিবে। তারা তখন বলল, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের হলফ গ্রহণ করে নেব? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঐ অবস্থা অবলোকন করলেন, তখন তার দিয়াত দিয়ে দিলেন (নিজের থেকে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৫, ইসলামিক সেন্টার)

2

উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারিরী (রহঃ) ..... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ এবং রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা মুহাইয়িসাহ্ ইবনু মাসউদ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) উভয়েই খাইবারের দিকে গমন করলেন। তারা সেখানের এক খেজুর বাগানের নিকট থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) তথায় নিহত হলেন। (এই খুনের জন্য) তারা ইয়াহুদী সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করলেন। এরপর তার ভাই আবদুর রহমান এবং চাচাত ভাই হুওয়াইয়্যিসাহ ও মুহাইয়্যিসাহ (রাযিঃ), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমন করলেন। আবদুর রহমান (রাযিঃ) তার ভাই এর ব্যাপারে কথোপকথন করলেন। আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান দাও। অথবা বললেন, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরই কথা আরম্ভ করা উচিত। তখন তারা দু’জন সাথীদের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে পঞ্চাশবার হলফ করে বলতে হবে, তাহলে তার দিয়্যাত প্রদান করা হবে। তখন তারা বলল, ব্যাপারটি এমন যে আমরা তথায় তখন উপস্থিত ছিলাম মা। এমতাবস্থায় আমরা কিভাবে হলফ করে বলবো? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে ইয়াহুদীদের মধ্য থেকে কেউ পঞ্চাশবার হলফ করে তোমাদের খুনের দাবী নাকচ করে দেবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তারা তো কাফির সম্প্রদায়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে তার "দিয়াত" আদায় করে দিলেন। সাহল (রাযিঃ) বলেন, এরপর একদা আমি তাদের উট রাখার স্থানে প্রবেশ করলাম। তখন ঐ উটের মধ্য হতে একটি উটনী আমাকে তার পা দ্বারা লাথি মারল। হাম্মাদ (রহঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন- অথবা এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৬, ইসলামিক সেন্টার)

3

আল-কাওয়ারিরী (রহঃ) .... সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি فَعَقَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ (তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে তাঁর "দিয়্যত" আদায় করে দেন) এ কথা বলেছেন। কিন্তু তার বর্ণিত হাদীসে فَرَكَضَتْنِي نَاقَةٌ (উটনী আমাকে লাথি মারল) এ কথা বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৭, ইসলামিক সেন্টার)

4

আমর আন নাকিদ ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাযিঃ) থেকে তাদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৮, ইসলামিক সেন্টার)

5

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... বুশায়র ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, বানু হারিসাহ গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যায়দ আনসারী ও মুহাইয়্যিসাহ ইবনু মাসউদ ইবনু যায়দ আনসারী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে খাইবারে গমন করেন। সেখানকার অধিবাসী ছিল ইয়াহুদী সম্প্রদায়। তখন ইয়াহুদী ও মুসলিমদের মধ্যে চুক্তি বলবৎ ছিল। কোন প্রয়োজনের তাকিদে তখন সেখান থেকে উভয়েই পৃথক হয়ে গেলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) নিহত হলেন। তাঁকে একটি হাউযের মধ্যে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন তার সাথী তাকে দাফন করলেন। এরপর তিনি মাদীনায় ফিরে এলেন। নিহত ব্যক্তির ভাই আবদুর রহমান ইবনু সাহল, মুহাইয়্যিসাহ ও হুওয়াইয়্যিসাহ (রাযিঃ) এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর মৃত্যুর ঘটনা এবং যে স্থানে নিহত হলেন সবই বর্ণনা করলেন। বুশায়র (রহঃ) ধারণা করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তোমরা এ ব্যাপারে পঞ্চাশবার হলফ করে বলবে, তাহলে তোমরা তোমাদের নিহত ব্যক্তির অথবা তোমাদের সাথীর দিয়াতের (খুনের জরিমানা) হকদার হবে। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো তখন সেখানে প্রত্যক্ষ দেখিনি এবং উপস্থিতও ছিলাম না। তিনি ধারণা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা পঞ্চাশবার এ ব্যাপারে হলফ করে তোমাদের খুনের দাবী নাকচ করে দেবে। তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কিভাবে একটি কাফির সম্প্রদায়ের হলফ গ্রহণ করতে পারি? বুশায়র (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের পক্ষ হতে তার 'দিয়াত' আদায় করে দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৯, ইসলামিক সেন্টার)

6

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... বুশায়র ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, বানু হারিসাহ গোত্রের এক আনসারী ব্যক্তি যাকে আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যায়দ নামে ডাকা হতো, সে এবং তার এক চাচাতো ভাই যাকে মুহাইয়্যিসা ইবনু মাসউদ ইবনু যায়দ নামে ডাকা হতো ... এর পরবর্তী হাদীসের অংশটুকু লায়স (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তার হাদিসের শেষকথা فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ (তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে তার দিয়াত আদায় করেছেন) পর্যন্ত বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমার নিকট বুশায়র ইবনু ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাযিঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, "নিশ্চয় ফরয হিসেবে আদায়কৃত ঐ সমস্ত দিয়াতের উট রাখার স্থানে একটি উটনী আমাকে লাথি মেরেছিল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০০, ইসলামিক সেন্টার)

7

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাদের মধ্য হতে একদল লোক খাইবারের দিকে গমন করল। এরপর তারা সেখান হতে পৃথক হয়ে গেল। তারপর তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেল। এভাবে হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুনের বদল (দিয়াত) বাতিল হয়ে যাওয়াকে অপছন্দ মনে করলেন। অতএব, তিনি সদাকাহর উট থেকে একশ' উট দিয়াত হিসেবে প্রদান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০১, ইসলামিক সেন্টার)

8

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ...... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তার সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে গণ্য 'আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়্যিসাহ্ (রাযিঃ) উভয়েই খাইবারের দিকে গমন করলেন দুর্গম পথ দিয়ে। এরপর এক ব্যক্তি মুহাইয়্যিসাহ (রাযিঃ) এর নিকট এসে খবর দিল যে, 'আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) নিহত হয়েছেন এবং তাকে একটি নর্দমা অথবা কূপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি তথাকার ইয়াহুদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমরাই তাকে হত্যা করেছে। তারা আল্লাহর শপথ করে বলল, আমরা তাকে হত্যা করিনি! এরপর তিনি স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলেন এবং তাদের কাছে ঐ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরিশেষে তিনি এবং তার বড় ভাই হুওয়াইয়িসাহ ও আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাযিঃ) (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে) আগমন করলেন। এরপর মুহাইয়্যিসাহ (রাযিঃ) কথা বলার জন্য অগ্রসর হলেন, যিনি (নিহত ব্যক্তির সঙ্গে) খাইবারে ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাইয়্যিসাহ (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করে বললেন, বড় জন বড় জন। অর্থাৎ বয়স্ক ব্যক্তিকে কথা বলতে দাও। তখন হুওয়াইয়িসাহ্ (রাযিঃ) কথাবার্তা বললেন, এরপর মুহাইয়্যিসাহ্ (রাযিঃ)-ও কথা বললেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয়ত তারা তোমাদের সাথীর খুনের বদলা (দিয়াত ) আদায় করে দিবে, নতুবা যুদ্ধের জন্য তৈরি হবে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে ঐ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। প্রতি উত্তরে তারা লিখল যে, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমরা তাকে হত্য করিনি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুওয়াইয়িসাহ, মুহাইয়্যিসাহ্ ও আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি শপথের মাধ্যমে তোমাদের সার্থীর রক্তপণ আদায়ের হকদার হতে সক্ষম হবে? তারা বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীরা তোমাদের কাছে হলফ করে বলুক। তারা তখন বলল, তারাতো (ইয়াহুদী) মুসলিম নয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে তার দিয়্যাত (খুনের বদলা) আদায় করে দিলেন। এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একশ’ উটনী প্রদান করলেন এবং ঐগুলো তাদের বাড়ীতে পৌছিয়ে দেয়া হল। সাহল (রাযিঃ) বলেন, ঐগুলোর মধ্য হতে একটি লাল রংয়ের উটনী আমাকে লাথি মেরেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০২, ইসলামিক সেন্টার)

9

আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ...... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন আনসার সাহাবার নিকট হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুনের ব্যাপারে হলফ করে বলা الْقَسَامَةَ যা জাহিলী যুগে চলত তা পূর্বের ন্যায় বলবৎ রেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৩, ইসলামিক সেন্টার)

10

মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ...... ইবনু শিহাব থেকে একই সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এ কথা অতিরিক্ত করেছেন যে,وَقَضَى بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ نَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ فِي قَتِيلٍ ادَّعَوْهُ عَلَى الْيَهُودِ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে (দিয়াতের) ব্যাপারে নিম্পত্তি করেছিলেন, যা তারা ইয়াহুদীদের উপর (হত্যার) দাবী উত্থাপন করছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৪, ইসলামিক সেন্টার)

11

হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী (রাযিঃ) ..... আনসারী লোকদের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু জুরাইজ (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৫, ইসলামিক সেন্টার)

12

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, 'উরাইনাহ' গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক মাদীনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। (সেখানের আবহাওয়া তাদের অনুকূলে না হওয়ায়) তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন; তোমরা ইচ্ছে করলে সদাকাহর ঐ সব উটের কাছে যেতে পার এবং তার দুধ ও মূত্র পান করতে পার। তারা তা-ই করল এবং এতে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাখালদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাদেরকে হত্যা করল। পরিশেষে তারা ইসলাম ত্যাগ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাল সম্পদ নিয়ে পলায়ন করে। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন, তারা তাদেরকে গ্রেফতার করল। এরপর তাদের হাত-পা কেটে দিল এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলল এবং তাদেরকে রৌদ্রে নিক্ষেপ করল। এভাবে তারা মারা গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৬, ইসলামিক সেন্টার)

13

আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, "উকল" গোত্রের আটজনের একটি দল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলামের উপর বাই’আত করল। অতঃপর মাদীনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল হওয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি আমাদের রাখালের সাথে গমন করে উটের মূত্র এবং দুগ্ধ পান করতে পারবে? তখন তারা বলল, জী- হ্যাঁ। এরপর তারা বের হয়ে গেলে এবং এর (উটের) মূত্র ও দুগ্ধ পান করল। এতে তারা সুস্থ হয়ে গেল্‌ অতঃপর তারা রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেলে। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন। তারা তাদেরকে পাকড়াও করে নিয়ে এল। তাদের প্রতি নির্দেশ জারি করা হল। তখন তাদের হাত-পা কৰ্তন করা হল এবং তপ্ত লৌহ শলাকা চোখে প্রবেশ করানো হলা। এরপর তাদেরকে রৌদ্রে নিক্ষেপ করা হলো। অবশেষে তারা মারা গেল। ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) ... বর্ণনা وَطَرَدُوا الإِبِلَ এর স্থলে وَاطَّرَدُوا النَّعَمَ উল্লেখ রয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর তাদের চোখগুলো উপড়ে ফেলা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৭, ইসলামিক সেন্টার)

14

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট 'উকল' অথবা 'উরাইনাহ' গোত্রের একদল লোক এলো। মাদীনার আবহাওয়া তাদের (বসবাসের) জন্য উপযোগী হয়নি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ‘লিকাহর’ (দুগ্ধবতী উটনীর) নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে আরো নির্দেশ দিলেন এর মূত্র ও দুগ্ধ পান করার জন্য। এ হাদীসটি হাজ্জাজ ইবনু আবূ উসমানের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন যে, এবং তাদের চক্ষুসমূহ উপড়ে ফেলা হল আর তারা রৌদ্রে নিক্ষিপ্ত হল। তারা পানি পান করতে চাইল, কিন্তু তাদেরকে পানি পান করানো হল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৮, ইসলামিক সেন্টার)

15

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) আহমাদ ইবনু উসমান নাওফেলী (রহঃ) ... আবূ কিলাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি 'উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর পিছনে বসা ছিলাম। তিনি জনগণের কাছে জানতে চাইলেন, তোমরা 'কাসামাহ' (খুনের ব্যাপারে হলফ করা) সম্পর্কে কী বল? আম্বাসাহ (রহঃ) বললেন, আমাদের কাছে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এমন এমন হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আনাস (রাযিঃ) বিশেষ করে আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একদল লোক আগমন করল। এরপর আনাস আইয়্যুব এবং হাজ্জাজ এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ কিলাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি যখন হাদীসের বর্ণনা শেষ করলাম, তখন বললাম, হে আম্বাসাহ! আপনি কি আমার উপর মিথ্যার অভিযোগ আনলেন? তখন তিনি বললেন, না। আমার কাছে আনাস (রাযিঃ) এরূপেই হাদীস বর্ণনা করেছেন। হে সিরিয়াবাসী! তোমরা সর্বদাই কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তোমাদের মাঝে এই লোক বিদ্যমান থাকবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তার মত লোক তোমাদের মাঝে অবস্থান করবেন। (অর্থাৎ এ দ্বারা তিনি আবূ কিলাবার স্মরণশক্তির প্রশংসা করলেন।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২০৯, ইসলামিক সেন্টার)

16

হাসান ইবনু আবূ শুয়ায়েব হাররানী, আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উকল সম্প্রদায়ের আটজন লোক এলো- এ হাদীস উপরে বর্ণিত হাদীসের মতই, শুধু "তাদেরকে তিনি দাগ দেননি" (তপ্ত লৌহ শলাকা দ্বারা কর্তিত স্থানে পুড়ে দেয়া) এ কথাটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১০, ইসলামিক সেন্টার)

17

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উরাইনাহ গোত্রের একদল লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তার কাছে বাই’আত নিল। মদীনায় অবস্থানকালে তাদের মস্তিষ্কে বিভ্ৰাটজনিত রোগ দেখা দিল।الْمُومُ শব্দের অর্থالْبِرْسَامُ মস্তিষ্কের রোগ, কিংবা হৃৎপিণ্ডের রোগ অথবা উদর রোগ। এরপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের বর্ণনাকারীর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। শুধু এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) কাছে তখন বিশজনের মত আনসারী যুবক ছিল। তাদেরকে তিনি ওদের (ধরার) জন্য প্রেরণ করলেন। এবং তাদের সঙ্গে একজন এমন অভিজ্ঞ লোক প্রেরণ করলেন, যিনি তাদের পদচিহ্ন দেখে গন্তব্য স্থল নির্ণয় করতে সক্ষম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১১, ইসলামিক সেন্টার)

18

হাদ্দাব ইবনু খালিদ, ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হাম্মাম এর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে যে, উরাইনাহ্ গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করল। আর সাঈদ (রাযিঃ) এর হাদীসে 'উকল' এবং 'উরাইনাহ্' এর কথা উল্লেখ আছে। এরপর তিনি উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১২, ইসলামিক সেন্টার)

19

ফাযল ইবনু সাহল আ'রাজ (রহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোকদের চোখে গরম লোহা ঢুকিয়ে দেন। কেননা তারা রাখালদের চক্ষুসমূহে গরম লোহা ঢুকিয়ে দিয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৩, ইসলামিক সেন্টার)

20

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা এক ইয়াহুদী একটি মেয়েকে কয়েকটি রূপার টুকরার জন্য পাথর দ্বারা হত্যা করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাকে এমন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হল যে, তখনও তার জীবন অবশিষ্ট ছিল। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে কি অমুক ব্যক্তি মেরেছে? সে তখন মাথা নেড়ে উত্তর দিল, না। এরপর তিনি তাকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, তখনও সে মাথা নেড়ে উত্তর দিল, না। আবার তিনি তাকে তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বলল, হ্যাঁ এবং মাথা নেড়ে ইঙ্গিত করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়াহুদীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করল) তখন তাকে তিনি দু'টি পাথরের মাঝে চাপা দিয়ে হত্যা করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৪, ইসলামিক সেন্টার)

21

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী ও আবূ কুবায়ব (রহঃ) ..... শু'বাহ থেকে উল্লিখিত সনাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর ইবনু ইদ্রীসের বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে,فَرَضَخَ رَأْسَهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ (তখন তিনি তার মাথা দু'টি পাথরের মাঝে রেখে পিষে দিলেন।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৫, ইসলামিক সেন্টার)

22

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী ব্যক্তি কোন এক আনসারী মেয়েকে তার গহনার জন্য হত্যা করল। এরপর তাকে একটি কূপে ফেলে দিল এবং তার মাথা পাথর দ্বারা পিষে দিল। এরপর তাকে পাকড়াও করা হল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হল। তিনি নির্দেশ দিলেন, তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তার উপর পাথর নিক্ষেপ করার জন্য। তখন তার প্রতি পাথর নিক্ষেপ করা হল। অবশেষে সে মারা গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৬, ইসলামিক সেন্টার)

23

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আইয়্যুব (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে অনুরূপভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৭, ইসলামিক সেন্টার)

24

হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা এক ক্রীতদাসীকে এমন অবস্থায় পাওয়া গেল যে, তার মাথা দুটি পাথরের মাঝে রেখে পিষে দেয়া হয়েছে। তখন তারা (পরিবারের লোকেরা) তাকে জিজ্ঞেস করল, কে তোমাকে এমন করেছে, অমুক- অমুক ব্যক্তি? এভাবে (জিজ্ঞেস করতে করতে) তারা এক ইয়াহুদীর নাম উল্লেখ করল। তখন সে মাথা নেড়ে (হ্যাঁ সূচক) উত্তর দিল। তখন ইয়াহুদীকে আটকানো হল। সে তা স্বীকার করল। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথা পাথর দ্বারা পিষে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৮, ইসলামিক সেন্টার)

25

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ালা ইবনু মুন্‌ইয়া অথবা ইবনু উমাইয়াহ (রাযিঃ) এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হল। তখন একজন অপর জনের হাতে দাঁত দিয়ে কামড় বসিয়ে দিল। সে যখন আপন হাত তার মুখ থেকে সজোরে টেনে আনল তখন তার সম্মুখভাগের একটি দাঁত খসে গেল। ইবনু মুসান্না (একটির স্থলে) দুটি দাঁত বলেছেন। উভয়েই তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের একজন কি এমনভাবে দাঁত দিয়ে কামড় দিলে যেমনভাবে উট কামড় দেয় তবে এর জন্য কোন (দিয়্যাত) ক্ষতিপূরণ নেই। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৩৭০] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২১৯, ইসলামিক সেন্টার)

26

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু ইয়া'লা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২০, ইসলামিক সেন্টার)

27

আবূ গাসসান মিসমাঈ (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিল। তখন সে সজোরে তার হাত টেনে নিল। এতে সে ব্যক্তির দাঁত খসে পড়ল। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ দায়ের করা হ'ল। তখন তিনি তা নাকচ করে দেন এবং বলেন, তুমি তো প্রতিপক্ষের গোশত খেতে চেয়েছিলে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২১, ইসলামিক সেন্টার)

28

আবূ গাসসান মিসমাঈ (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনু ইয়া'লা (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, ইয়ালা ইবনু মুন্‌ইয়া (রাযিঃ) এর এক শ্রমিকের হাতে এক ব্যক্তি কামড় বসিয়ে দিল। তখন সে সজোরে তার হাত টেনে নিল। এতে ঐ ব্যক্তির দাঁত খসে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে মুকাদ্দমা দায়ের করা হল। তখন তিনি তা নাকচ করে দেন এবং বলেন যে, তুমি তো তার হাত এমনভাবে চিবাতে চেয়েছিলে যেমনভাবে উট চিবায়। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৩৭১] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২২, ইসলামিক সেন্টার)

29

আহমাদ ইবনু উসমান নাওফিলী (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিল। সে তখন তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার একটি দাঁত অথবা দুটি দাঁত খসে পড়ল। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আমার কাছে কী চাও? তুমি কি চাও যে, আমি তাকে নির্দেশ করবো তার হাত তোমার মুখের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেবে, আর তুমি তা কামড়াবে যেমন উট চিবিয়ে থাকে? তুমি ইচ্ছে করলে তোমার হাত তার মুখের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিতে পার, সে তখন তা দাতে কর্তন করবে, এরপর তুমিও তা সজোরে টেনে নিও। [দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৩৬৬] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৩, ইসলামিক সেন্টার)

30

শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু মুনয়াহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ দায়ের করল— যে অপর এক ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিয়েছিল। সে যখন তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার দুটি দাঁত পড়ে গেল। অর্থাৎ- যে ব্যক্তি দাঁত দ্বারা কামড় দিয়েছিল তার দাঁত পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ অভিযোগ নাকচ করে দিলেন এবং বললেনঃ তুমি তার হাত এমনভাবে চর্বন করতে চেয়েছিলে যেমন উট চর্বন করে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৪, ইসলামিক সেন্টার)

31

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইয়ালা ইবনু উমাইয়াহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাবুকের যুদ্ধ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়া'লা বলতেন, ঐ যুদ্ধ আমার নিকট একটি নির্ভরযোগ্য (পুণ্যের) কাজ ছিল। আতা (রহঃ) ..... সাফওয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, ইয়া'লা (রাযিঃ) বলেছেন, আমার একজন শ্রমিক ছিল সে এবং অপর এক ব্যক্তি পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনের হাতে কামড় বসিয়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, সাফওয়ান (রাযিঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন তাদের দু'জনের মধ্যে কে অন্যের হাতে কামড় দিয়েছিল। যে ব্যক্তির হাতে কামড় দিয়েছিল সে ব্যক্তি কামড় দাতার মুখ থেকে তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার সম্মুখের দু'টি দাঁতের একটি দাঁত পড়ে গেল। তখন উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে অভিযোগ পেশ করল, তখন তিনি দাঁত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৫, ইসলামিক সেন্টার)

32

আমর ইবনু যুররাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৬, ইসলামিক সেন্টার)

33

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাবী' (রাযিঃ) এর ভগ্নি হারিসার মাতা এক ব্যক্তিকে আহত করল। এ ব্যাপারে তারা (তার আত্মীয়রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ আনলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কিসাস আল কিসাস (বদলা) অর্থাৎ- এতে কিসাস আরোপিত হবে। তখন উম্মু রাবী' বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অমুকের (উম্মু হারিসার) নিকট হতে কি কিসাস নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তাঁর নিকট হতে কিসাস না নেয়া হোক। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! (অর্থাৎ- তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন) হে উম্মু রাবী'! কিসাস নেয়া তো আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ। তিনি বললেন, জী না। আল্লাহর শপথ নিয়ে আরয করছি, তার নিকট হতে কখনও কিসাস (বদলা) না নেয়া হোক। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বারবার এ কথা বলছিলেন। পরিশেষে আহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ নিতে সম্মত হল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে এমনও লোক আছে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে কোন কথা বলে তখন আল্লাহ তা'আলা তা সত্যে পরিণত করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৭, ইসলামিক সেন্টার)

34

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। কিন্তু তিনটি কাজের যে কোন একটি করলে (তা বৈধ)। ১. বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে; ২. জীবনের বিনিময়ে জীবন, অর্থাৎ কাউকে হত্যা করলে; ৩. এবং স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগকারী, যে (মুসলিমদের) দল থেকে বিচ্ছিন্ন (মুরতাদ) হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৮, ইসলামিক সেন্টার)

35

ইবনু নুমায়র, ইবনু আবূ উমার, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... আমাশ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৯, ইসলামিক সেন্টার)

36

আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা'বূদ নেই; এমন কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মা'বূদ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। কিন্তু তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত- ১. যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী হয়। আহমাদ (রহঃ) الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ অথবা الْجَمَاعَةَ শব্দ বর্ণনায় সন্দেহ করেছেন; ২ বিবাহিত ব্যভিচারী এবং ৩. জীবনের বিনিময়ে জীবন। অর্থাৎ- কিসাস গ্রহণ। আ'মাশ (রহঃ) বলেন যে, আমি ইবরাহীমের নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলাম, তিনিও আসওয়াদ (রহঃ) এর সূত্রে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩০, ইসলামিক সেন্টার)

37

হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) হতে উভয় সানাদে সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণিত হাদীসে (সেই সত্তার কসম যিনি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই) এ কথার উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩১, ইসলামিক সেন্টার)

38

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি অত্যাচারিত হয়ে খুন হয়, তবে সে খুনের একাংশ (পপি) আদম (আঃ) এর প্রথম পুত্র (কাবিল) এর উপর বর্তায়। কেননা সে সর্বপ্রথম খুনের প্রথা প্রচলন করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩২. ইসলামিক সেন্টার)

39

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে জারীর এবং ইসহাক (রহঃ) এর হাদীসে لأَنَّهُ سَنَّ الْقَتْلَ (কেননা সে খুনের প্রথা প্রচলন করেছে) এ কথার উল্লেখ আছে। কিন্তু أَوَّلَ (প্রথম) কথাটির উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৩, ইসলামিক সেন্টার)

40

উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম খুনের বিচার করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৪, ইসলামিক সেন্টার)

41

উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব, বিশর ইবনু খালিদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাদের কেউ কেউ শুবাহ্ (রহঃ) হতে يُقْضَى (বিচার করা হবে) কথাটি বর্ণনা করেছেন। আর কেউ কেউ يُحْكَمُ بَيْنَ النَّاسِ (মানুষের মাঝে হুকুম (বিচার) করা হবে) বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৫, ইসলামিক সেন্টার)

42

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। (অর্থাৎ- তাতে যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম) এর তিন মাস হল ধারাবাহিক- ১. যুল কাদা, ২. ফুলহাজ্জাহ্ এবং ৩. মুহররাম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জামাদিউস্ সানী এবং শা'বানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়ত এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ এ-কি "যুলহাজ্জাহ্" মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এ-কি (মাক্কা) শহর নয়। আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ কোন দিন? আমরা বললাম আল্লাহ ও তার রসূল অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেনঃ এ-কি ইয়াওমুন্নাহার (ঈদুল আযহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন। তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেন। এগুলো তেমন মর্যাদাপূর্ণ যেমন তোমাদের কাছে আজকার দিবস, এ নগর এবং এ মাসও পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ে না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌছে দিবে। সম্ভবতঃ উপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌছে দিবে, তারা কেউ কেউ হয়ত এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। এরপর তিনি বললেনঃ ওহে! শুনো, আমি কি আল্লাহর নির্দেশ পৌছে দেইনি? ইবনু হাবীব তার বর্ণনায় وَرَجَبُ مُضَرَ (রজব নিষিদ্ধ মাস) বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর অপর বর্ণনায়فَلاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي (তোমরা আমার পরে ধর্মান্তরিত হয়ে না) বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৬, ইসলামিক সেন্টার)

43

নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ঐদিন (ইয়াওমুন্নাহার) উপস্থিত হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উটের উপর উঠলেন। এক ব্যক্তি তার উটের লাগাম ধরে রেখেছিল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা জান কি, আজ কোন্‌ দিন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক জ্ঞাত। আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এ নাম ব্যতীত অপর কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ আজকের দিন কি ইয়াওমুন্নাহারের নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল। তিনি বললেনঃ এটা কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা কি যিলহাজ্জ মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেনঃ এটি কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এতে মনে করলাম যে, তিনি হয়ত এর অন্য কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেন, এ-কি (মাক্কাহ্) শহর নয়। আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয় তোমাদের জান-মাল এবং সম্মান (বিনষ্ট করা) তোমাদের উপর এরূপ হারাম, যেরূপ তোমাদের জন্য আজকের দিন, এ মাস এবং এ নগরের পবিত্রতা বিনষ্ট করা হারাম। তোমাদের উপস্থিতগণ অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী অবশ্যই পৌছে দিবে। এরপর তিনি কাল ও সাদা রং-মিশ্রিত দুটি ছাগলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং ঐ দুটি যাবাহ করলেন ও যাবাহকৃত ছাগলের এক অংশ আমাদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৭, ইসলামিক সেন্টার)

44

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সেদিন (ইয়াওমুন্নাহারের দিন) উপস্থিত হ’ল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটের উপর উপবেশন করলেন। রাবী বলেন, এক ব্যক্তি তার লাগাম ধরে রেখেছিল। রাবী'র সন্দেহزِمَامِ শব্দের পরিবর্তে خِطَامِ (লাগাম) শব্দ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি ইয়াযীদ ইবনু যুরাই (রাযিঃ -এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৮, ইসলামিক সেন্টার)

45

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমূন, মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু জাবালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াওমুন্নাহার- অর্থাৎ- ঈদুল আযহার দিন আমাদের সামনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বললেনঃ আজ কোন দিন? এরপর বর্ণনাকারীগণ, ইবনু আওনের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। কিন্তু তারা وَأَعْرَاضَكُمْ (তোমাদের মান-সম্মান) এ শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং ثُمَّ انْكَفَأَ إِلَى كَبْشَيْنِ وَمَا بَعْدَهُ (অতঃপর তিনি দুটি ছাগলের দিকে দিকে দৃষ্টিপাত করলেন) এবং এর পরবর্তী অংশটুকুও উল্লেখ করেননি। আর তিনি তার বর্ণিত হাদীসে তোমাদের এ দিন, এ মাস এবং এ শহরের পবিত্রতার ন্যায়' থেকে يَوْمِ تَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ اشْهَدْ (যেদিন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। শুনো! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌছে দিয়েছি? তখন সকলেই বললো, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন) এ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৯, ইসলামিক সেন্টার)

46

উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয 'আম্বারী (রহঃ) ..... আলকামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তার পিতা তার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসেছিলাম। এমন সময় একটি লোক অপর এক ব্যক্তিকে চামড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে আগমন করল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? (তখন সে বলল, যদি সে তা স্বীকার না করতো, তবে আমি তার উপর সাক্ষী দাড় করাতাম।) সে তখন বলল, হ্যাঁ আমি তাকে হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছ? সে বলল, আমি এবং সে গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলাম। এমন সময় সে আমাকে গালি দিল। এতে আমার রাগ চড়ে গেল। তখন আমি কুঠার দ্বারা তার মাথায় আঘাত করলাম। এভাবে আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার কি এমন কোন সম্পদ আছে যদদ্বারা দিয়াত' (রক্তপণ) পরিশোধ করবে? তখন সে বলল, আমার কাছে একটি কম্বল ও কুঠার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা কি তোমার নিকট থেকে এগুলো কিনে নিয়ে তোমাকে মুক্ত করিয়ে নেবে? সে বলল, আমার সম্প্রদায়ের কাছে আমার এতখানি মর্যাদা নেই। অতএব তিনি তার বন্ধনের দড়ি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের দিকে ছুড়ে দিলেন এবং বললেনঃ তুমি তোমার সাখীকে আটকে রাখ। সে তখন তাকে নিয়ে চলে গেল। যখন সে পিছনের দিকে যাচ্ছিল, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে তাকে হত্যা করে-তবে সেও তার সমকক্ষ হয়ে গেল। এ কথা শুনে সে ফিরে এলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি শুনলাম, আপনি বলেছেনঃ 'যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সে তার সমান হয়ে যাবে। আমি তো তাকে আপনার নির্দেশেই ধরে এনেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এ চাওনা যে, সে তোমার এবং তোমার ভাইয়ের পাপের বোঝা গ্রহণ করুক। তখন সে বলল, তাই কি হবে? তিনি বললেন হ্যাঁ। তখন সে বলল, যদি তাই হয়, (তবে ভাল)। এ বলে সে তার বন্ধনের দড়ি নিক্ষেপ করল এবং তাকে মুক্ত করে দিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪০, ইসলামিক সেন্টার)

47

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ওয়ায়িল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তিকে হাযির করা হল, যে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। তখন তিনি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে তার কাছে হতে কিসাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। তখন সে তাকে নিয়ে চলল এমন অবস্থায় যে, তার গলায় একটি চামড়ার দড়ি ছিল, যদ্বারা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। যখন সে ফিরে যাচ্ছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক লোক ঐ ব্যক্তির সাথে গিয়ে মিলিত হল এবং তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ বাণী শোনাল। সে তখন হত্যাকারীকে ছেড়ে দিল। ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, আমি এ ঘটনা হাবীব ইবনু সাবিত (রহঃ) এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে ইবনু আশওয়া (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য তাকে (ইতোপূর্বে) বলেছিলেন, কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪১, ইসলামিক সেন্টার)

48

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, হুযায়ল গোত্রের দু'জন মহিলা একে অপরের প্রতি তীর নিক্ষেপ করল তাতে আহত মহিলার গর্ভপাত হয়ে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে (দন্ড স্বরূপ আহতকারী মহিলাকে) একটি গোলাম অথবা একটি দাসী আযাদ করে দেয়ার হুকুম দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪২, ইসলামিক সেন্টার)

49

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বানু লিহইয়ান গোত্রের এক মহিলার গর্ভপাত ঘটানোর জন্য দায়ী ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি একটি গোলাম অথবা একটি দাসী প্রদানের নির্দেশ দেন। এরপর যে মহিলাকে (ক্ষতিপূরণ হিসেবে) গোলাম প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে মরে গেল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিলেন যে, তার পরিত্যক্ত সম্পদ তার সন্তান ও স্বামীর। আর হত্যাকারীর ওয়ারিসগণের উপর দিয়াত (রক্তপণ) প্রদানের হুকুম আরোপিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৩, ইসলামিক সেন্টার)

50

আবূ তাহির, হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া তুজীবী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ল গোত্রের দু'জন মহিলা পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনকে পাথর দ্বারা আঘাত করল। এর দ্বারা সে ঐ মহিলা ও তার গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে ফেলল। তখন নিহত মহিলার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিলেন যে, সন্তানের দিয়্যাত হল একটি দাস কিংবা-দাসী প্রদান করা। নিহত মহিলার দিয়াত (রক্তপণ) হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসগণের উপর আরোপিত হবে। আর (নিহত) মহিলার ওয়ারিস হবে তার সন্তান এবং তার সাথে অন্য ওয়ারিসগণ। হামাল ইবনু নাবিগাতুল হুযালী (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কিভাবে এর ক্ষতিপূরণ প্রদান করবো, যে পান করেনি, খায়নি, কথা বলেনি এবং শব্দও করেনি? সে তো এলো আর গেল। এমন ছন্দযুক্ত বাক্য বলার কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ যেন গণকদের ভাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৪, ইসলামিক সেন্টার)

51

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুজন মহিলা পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল..... এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু রাবী তাতে وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ নিহত মহিলার ওয়ারিস হবে তার সন্তান আর তার সঙ্গে অন্যান্য ওয়ারিসগণ) এ কথা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি উল্লেখ করেছেন, فَقَالَ قَائِلٌ كَيْفَ نَعْقِلُ (তখন কোন ব্যক্তি বলল, আমরা কিভাবে এর ক্ষতিপূরণ দেব)? আর রাবী তার বর্ণনায় হামাল ইবনু মালিকের নামও উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৫, ইসলামিক সেন্টার)

52

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হান্‌যালী (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার সতীনকে কুঁড়ে ঘরের খুঁটি দ্বারা আঘাত করল। সে ছিল গর্ভবতী মহিলা। (আঘাতকারী মহিলা আঘাত দিয়ে) তাকে মেরে ফেলল। বর্ণনাকারী বলেন যে, তাদের একজন ছিল লিহইয়ান গোত্রের মহিলা। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসগণের ওপর নিহত মহিলার হত্যার (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং গর্ভে নিহত হওয়া (সন্তানের) জন্য একটি দাস (ক্ষতিপূরণ হিসেবে) প্রদানের হুকুম দিলেন। তখন হত্যাকারী মহিলার গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, আমরা এমন শিশুর কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেব যে খায়নি, পান করেনি এবং কোন শব্দও করেনি? সে তো এলো আর গেল। এ বাতিলযোগ্য। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেন বেদুঈনের মত ছন্দযুক্ত বাক্যে কথা বলল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাদের উপর (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৬, ইসলামিক সেন্টার)

53

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা তার সতীনকে তাবুর খুঁটি দিয়ে মেরে ফেলল। এ অভিযোগ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দায়ের করা হল। তখন তিনি হত্যাকারী মহিলার গোত্রের উপর দিয়্যাত প্রদানের নির্দেশ দিলেন। নিহত মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। অতএব তিনি গর্ভের বাচ্চার জন্য (দিয়াত হিসেবে) একটি দাস প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এতে তার গোত্রের এক লোক বলল, আমরা কেমন করে তার রক্তপণ আদায় করব যে খায়নি, পান করেনি এবং কোন শব্দও করেনি? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। এতো বেদুঈনের ছন্দযুক্ত কথার মত একটি কথা বলছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৭, ইসলামিক সেন্টার)

54

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে জারীর এবং মুফাযযাল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৮, ইসলামিক সেন্টার)

55

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন..... এবং সে গর্ভপাত ঘটিয়ে দিয়েছিল। তখন এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করা হল। তিনি এতে একটি গোলাম (দিয়াত হিসেবে) প্রদানের জন্য হত্যাকারী মহিলার অভিভাবকের প্রতি নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তিনি তার বর্ণিত হাদীসে دِيَةَ الْمَرْأَةِ (মহিলার দিয়াত) কথাটির উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৪৯, ইসলামিক সেন্টার)

56

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) জনগণের কাছে একবার إِمْلاَصِ الْمَرْأَةِ মহিলার গর্ভের সন্তান হত্যার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। তখন মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একদা উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি এ অপরাধের কারণে একটি দাস অথবা দাসী প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) মুগীরাহ (রাযিঃ) কে বললেন, এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে সাক্ষ্যদাতা একজন লোক নিয়ে আসুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন তার স্বপক্ষে মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাযিঃ) সাক্ষ্য প্রদান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৫০, ইসলামিক সেন্টার)