অল ইসলাম লাইব্রেরি

15 - হজ্জ অধ্যায়

1

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জানতে চাইল যে, মুহরিম ব্যক্তি কী ধরনের পোশাক পরবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুহরম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। তবে কোন ব্যক্তি চপ্পলের অভাবে মোজা পরিধান করলে তাকে পায়ের গোছার নীচ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলতে হবে। তোমরা এমন কাপড় পরিধান কর না যা জাফরান বা ওয়ারস এর রংয়ে রঞ্জিত করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

2

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আমর আন্‌ নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, টুপী, পায়জামা, জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু তার চপ্পল না থাকলে সে পায়ের গোছার নিম্নাংশ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলে তা পরিধান করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

3

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম ব্যক্তিকে জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, কারও চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরিধান করবে এবং পায়ের গোছার নীচ বরাবর এর উপরিভাগ কেটে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬০, ইসলামীক সেন্টার)

4

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ রবী' আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ভাষণে বলতে শুনেছি, মুহরিম ব্যক্তির কাপড় না থাকলে সে পায়জামা পরতে পারবে এবং তার চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬১, ইসলামীক সেন্টার)

5

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও আবূ গাসসান আর রাযী (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দিতে শুনেছেন- এরপর তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬২, ইসলামীক সেন্টার)

6

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ কুরায়ব, আলী ইবনু খাশরম ও আলী ইবনু হুজুর (রাহিমাহমুল্লাহ) সকলেই আমর ইবনু দীনারের সূত্রে এ সনদে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুবাহ ছাড়া তাদের কারও বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "আরাফাতে ভাষণ দিয়েছেন" কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

7

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কাপড় নেই সে পায়জামা পরিধান করতে পারে, আর যার চপ্পল নেই সে মোজা পরতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

8

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনু ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাযিঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত অথবা বলেন, হলুদ রং এর চিহ্নযুক্ত জুব্বা পরিহিত অবস্থায় জিরানাহ নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, “উমরাহ পালনের সময় আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন? এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছিল এবং তিনি একটি কাপড় আচ্ছাদিত অবস্থায় ছিলেন। ইয়া'লা (রাযিঃ) বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া অবস্থায় যদি আমি তাকে দেখতে পেতাম। তখন উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) বললেন, ওয়াহী নাযিল হওয়ার মুহুর্তে তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখে খুশি হবে কি? ইয়া'লা (রাযিঃ) বলেন, এরপর উমর (রাযিঃ) কাপড়ের এক কোণ উন্মুক্ত করলেন এবং আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম যে, তার মুখ দিয়ে উঠতি বয়সের উটের আওয়াজের মতো আওয়াজ বের হচ্ছে। যখন তার এ অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, উমরাহ সম্বন্ধে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেন, তোমার দেহ থেকে হলুদ রং ধুয়ে ফেল, অথবা বললেন, সুগন্ধির চিহ্ন। তোমার জুব্বাহ খুলে ফেল। অতঃপর তুমি হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরামে থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

9

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমায়্যাহ (রাযিঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। তখন তিনি জিরানাহ নামক স্থানে ছিলেন এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছেই ছিলাম। লোকটি (খালূক্‌ জাতীয়) সুগন্ধিযুক্ত একটি জুব্বাহ পরিহিত ছিল। সে বলল, আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছি এবং আমার পরিধানে এ জুব্বাহ রয়েছে এবং আমি খালূক্‌ জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি হাজের (হজ্জের/হজের) ইহরামে থাকলে কী করতে? সে বলল, আমি নিজের এ পরিধেয় খুলে এবং নিজের দেহ থেকে এ সুগন্ধি ধুয়ে ফেলতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরামে থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

10

যুহায়র ইবনু হারব, আবদ ইবনু হুমায়দ ও আলী ইবনু খাশরম (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) কে বলতেন, আহা! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যখন ওয়াহী নাযিল হয়, আমি যদি সে অবস্থায় তাকে দেখতে পেতাম! একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানায় অবস্থান করছিলেন এবং একটি কাপড়ের সাহায্যে তার উপর ছায়া বিস্তার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে তার কিছু সংখ্যক সাহাবাও ছিলেন- যাদের মধ্যে উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত জুব্বাহ পরিহিত অবস্থায় তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি জুব্বায় সুগন্ধি মেখে তা পরিহিত অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছে, তার সম্পর্কে আপনার কী অভিমত? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, অতঃপর নীরব রইলেন। এ সময় তার উপর ওয়াহী আসল। উমার (রাযিঃ) হাতের ইশারায় ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাযিঃ) কে বললেন, এদিকে আসো। ইয়া'লা (রাযিঃ) এসে নিজের মাথা (কাপড়ের মধ্যে) ঢুকিয়ে দিলেন (এবং দেখলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং তার মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরুচ্ছে। অতঃপর এ অবস্থা দূরীভূত হল এবং তিনি বললেন, এই মাত্র যে ব্যক্তি আমার নিকট উমরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল- সে কোথায়? লোকটিকে খুঁজে এনে তার নিকট উপস্থিত করা হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জুব্বাহ খুলে ফেল। অতঃপর যে নিয়মে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর, ঠিক সে নিয়মে 'উমরাহ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

11

উকবাহ ইবনু মুকরম আল আম্মী ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জি'রানাহ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। লোকটি উমরার জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ছিল। তার দাড়ি ও মাথার চুল হলুদ রং এ রঞ্জিত ছিল এবং তার পরনে ছিল একটি জুব্বাহ। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেঁধেছি এবং আমি কী অবস্থায় আছি তা আপনি দেখছেন। তিনি বললেন, তুমি জুব্বাহ খুলে ফেল এবং হলুদ রং ধুয়ে ফেল। অতঃপর হাজ্জে (হজ্জে/হজে) যে সব অনুষ্ঠান পালন কর, উমরাতেও তাই কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

12

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... সাফওয়ান তার পিতা সূত্রে (ইবনু উমাইয়্যাহ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তার নিকট এক ব্যক্তি জুব্বাহ পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হল। তাতে (খালূক জাতীয়) সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছি, আমাকে কী করতে হবে? তিনি তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। যখন তার উপর ওয়াহী নাযিল হতে আরম্ভ হল তখন উমর (রাযিঃ) তাকে ছায়া দেয়ার জন্য একখণ্ড কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন। আমি (ইয়ালা) উমর (রাযিঃ) কে বলেছিলাম, তার উপর যখন ওয়াহী নাযিল হয় তখন আমি তার সঙ্গে কাপড়ের অভ্যন্তরভাগে আমার মাথা ঢুকাতে চাই। যখন ওয়াহী নাযিল হল, উমার (রাযিঃ) তাকে একখণ্ড কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন। আমি তার নিকট এসে কাপড়ের ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে দিলাম এবং তাকে দেখলাম। এ অবস্থা দূরীভূত হলে তিনি বললেন, এই মাত্র উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি তার সামনে দাঁড়াল। তিনি বললেন, তোমার পরিধানের জুব্বাহ খুলে ফেল এবং সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেল। অতঃপর যেভাবে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন কর, ঠিক সেভাবে উমরাহ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

13

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ্ (রহিমাহুমুল্লাহ) ...... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য আল জুহফাই নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলামকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এগুলো ঐসব এলাকার লোকদের মীকাত এবং এর বাইরের যে সব লোক হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার উদ্দেশে ঐসব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে, এভাবে যারা আরো ভিতরে, তারা সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মাক্কাহ (মক্কা) থেকে তালবিয়াহ্ পাঠ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৬৭০, ইসলামীক সেন্টার)

14

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার অধিবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য আল-জুহফাহ, নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালাম্‌লামকে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এগুলো উল্লেখিত এলাকার লোকদের মীকাত এবং বাইরের যেসব লোক হাজ্জ ও উমরার উদ্দেশে ঐ সব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক মীকাতের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা যে স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে ইচ্ছা করে, সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মাক্কাহ (মক্কা) থেকে ইহরাম বাঁধবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭১, ইসলামীক সেন্টার)

15

যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনাবাসীগণ যুল হুলায়ফাহ থেকে এবং সিরিয়াবাসীগণ আলজুহফাহ্ থেকে, নাজদবাসীগণ কারন থেকে ইহরাম বাঁধবে। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, আমার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালাম্‌লাম থেকে ইহরাম বাধবে” কিন্তু এ কথা আমি সরাসরি তার নিকট থেকে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

16

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মাদীনাবাসীদের মুহাল (মীকাত) যুল হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের মুহাল মাহইয়া'আহ (মুহাই’আহ) অর্থাৎ আল জুহফাহ এবং নাজদবাসীদের মুহাল কারন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, লোকেরা বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়ামানবাসীদের মুহাল ইয়ালাম্‌লাম, কিন্তু আমি তা তার নিকট থেকে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

17

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাবাসীদের যুল হুলায়ফাহ্ থেকে, সিরিয়ার অধিবাসীদেরকে আল জুহফাহ্ থেকে এবং নাজদবাসীদেরকে কারন থেকে ইহরাম বাধার নির্দেশ দিয়েছেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তিনি আরও বলেছেন, ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালাম্‌লাম থেকে ইহরাম বাঁধবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

18

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

19

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট মুহাল স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছেন। এরপর তিনি হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি মনে করি যে, জাবির (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে সরাসরি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

20

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে মুহাল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তার জওয়াবে আবূ যুবায়র (রহঃ) তাকে বলতে শুনেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি (রাবীর ধারণায় তিনি এ হাদীস তার সাথে সংযুক্ত করেছেনঃ) মাদীনাবাসীদের মুহাল যুল হুলায়ফাহ্, অপর একটি পথ হচ্ছে আল জুহফাহ, ইরাকবাসীদের মুহাল হচ্ছে যাতু ইরাক, নাজদবাসীদের মুহাল হচ্ছে কারন এবং ইয়ামানবাসীদের মুহাল হচ্ছে ইয়ালাম্‌লাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

21

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়াহ্ নিম্নরূপ ছিলঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হাযির হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার দরবারে উপস্থিত আছি। তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। যাবতীয় প্রশংসা ও নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব তোমার। তোমার কোন শারীক নেই।" নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) নিজের তরফ থেকে তালবিয়ার সাথে আরও যোগ করতেনঃ "তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার খিদমাতের সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল কাজ তোমারই জন্য"* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

22

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকট যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াত, তখন তিনি তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতেন। তিনি বলতেন, "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা ... লা- শারীকা লাকা।" আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলতেন, এ হচ্ছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়াহ। নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সাথে আরও যোগ করতেনঃ “লাব্বায়কা লাব্বায়ক...ওয়াল আমলু"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

23

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে তালবিয়াহ শিখেছি...অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮০, ইসলামীক সেন্টার)

24

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা...লা- শারীকা লাকা”। তিনি এর সাথে আর কোন কথা যোগ করতেন না। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফায় দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। অতঃপর তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে যুল হুলায়ফার মসজিদের সামনে দণ্ডায়মান হতো তখন তিনি ঐসব শব্দ সহকারে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আরও বলতেন, উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তালবিয়াহ্ পাঠ করতেন এবং বলতেন, “লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়ক...ওয়ার রগবাউ ইলায়কা ওয়াল 'আমলু।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮১, ইসলামীক সেন্টার)

25

“আব্বাস ইবনু আবদুল আল আযম আম্বারী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা বলত, "লাব্বায়কা লা- শারীকা লাকা"। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, তোমাদের ক্ষতি হোক, ক্ষান্ত হও, ক্ষান্ত হও (সামনে আর বলে না)। তারা এর সাথে আরও বলত, “কিন্তু হে আল্লাহ! তোমার আরও একজন শারীক আছে- তুমিই যার মালিক এবং সে কিছুরই মালিক নয়।” তারা এ কথা বলত আর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮২, ইসলামীক সেন্টার)

26

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন, তোমাদের এ বায়দা নামক স্থান সম্পর্কে তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকটেই ইহরাম বাঁধতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

27

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) কে যখন বলা হল, বায়দা* নামক স্থানে ইহরাম বাঁধতে হবে তখন তিনি বললেন, এ বায়দাকে কেন্দ্র করেই তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে গাছের নিকট ইহরাম বেঁধে লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করতেন- যেখান থেকে তার উট তাকে নিয়ে রওনা হতো।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

28

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবায়দ ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখছি- যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে ইবনু জুরায়জ! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোন রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করেন। আমি আরও দেখেছি যে, আপনি হলুদ বর্ণ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মাক্কা (মক্কা)-তে অবস্থানকালে (যিলহাজ্জ মাসের) আট তারিখে ইহরাম বাঁধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাঁধে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রুকনসমূহের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোন রুকন স্পর্শ করতে দেখিনি।* আর পশমবিহীন স্যান্ডেলের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওযুও করতেন। আমিও তাই এ ধরনের স্যান্ডেল পছন্দ করি। হলুদ রং-এর সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ রং ব্যবহার করতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রং পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলতে হয় যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তখনি তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি যখন তার উট যাত্রা শুরু করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

29

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... উবায়দ ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ মিলিয়ে ১২ বার করেছি। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান। আমি আপনাকে চারটি কাজ করতে দেখেছ.....অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের সমর্থবোধক। কিন্তু তালবিয়াহ্ পাঠ প্রসঙ্গে রাবী (ইবনু কুসায়ত্ব) সাঈদ মাকবুরীর বিপরীত বর্ণনা করেছেন, তবে তার উল্লেখ ব্যতীত আর সব বর্ণনায় কোন বিরোধ হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

30

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পাদানীতে পা রাখতেন এবং তার বাহন দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে রওনা করত, তখন তিনি যুল হুলায়ফায় "লাব্বায়কা" ধ্বনি উচ্চারণ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

31

হারন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বর্ণনা করতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে রওনা হতো, তখন তিনি "লাব্বায়কা" ধ্বনি উচ্চারণ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

32

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে তার বাহনে আরোহণ করলেন, অতঃপর তা যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি 'লাব্বায়কা' ধ্বনি উচ্চারণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

33

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহিমাহমাল্লাহ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি শুরু করার প্রারম্ভে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফায় রাত যাপন করেন এবং এখানকার মসজিদে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯০, ইসলামীক সেন্টার)

34

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাস (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইহরাম বাঁধার সময় এবং (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপনান্তে) ইহরামমুক্ত হবার পর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বেও আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯১, ইসলামীক সেন্টার)

35

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইহরাম বাঁধার প্রাক্কালে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর কিন্তু বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯২, ইসলামীক সেন্টার)

36

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রযিঃ) .... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার জন্য ইহরামের পোশাক পরিধান করার পূর্বে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

37

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইহরাম বাঁধার সময় এবং ইহরাম মুক্ত হবার পর আমি তাকে সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

38

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজের (হজ্জের/হজের) সময় নিজ হাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যারীরাহ (ভারতীয় সুগন্ধি) মেখে দিয়েছি- ইহরাম মুক্ত হবার সময় এবং ইহরাম বাঁধার সময়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

39

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উসমান ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইহরাম বাঁধার সময় তাকে কী জিনিস দিয়ে সুগন্ধিযুক্ত করেছিলেন? তিনি বললেন, সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্রব্যের (কস্তুরীর) সাহায্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

40

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির সাহায্যে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত করতাম, অতঃপর তিনি ইহরাম বাঁধতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

41

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্রব্যের সাহায্যে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ইহরাম বাঁধার প্রাক্কালে এবং ইহরামমুক্ত হবার পর কিন্তু তাওয়াফে ইফাযাহ* করার পূর্বে সুগন্ধিযুক্ত করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

42

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ রবী', খালাফ ইবনু হিশাম ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহিমাহুমুল্লাহ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে কস্তুরীর ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, অথচ তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী খালাফের বর্ণনায়, “তিনি তখন ইহরামাবস্থায় ছিলেন” কথার উল্লেখ নেই। তবে তার বর্ণনায় আছে, "এটা তার ইহরামের সময়কার সুগন্ধি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

43

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহিমাহুমাল্লাহ) ...... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে কস্তুরীর ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, তিনি তখন তালবিয়াহ্ পাঠ করছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০০, ইসলামীক সেন্টার)

44

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি, তিনি তখন তালবিয়াহ পাঠ করছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০১, ইসলামীক সেন্টার)

45

আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহিমাহুমাল্লাহ) ... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি...ওয়াকী (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০২, ইসলামীক সেন্টার)

46

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৩, ইসলামীক সেন্টার)

47

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য দেখছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৪, ইসলামীক সেন্টার)

48

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইহরাম বাঁধার সংকল্প করতেন তখন তিনি যথাসাধ্য সর্বোত্তম সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। অতঃপর আমি তার মাথায় ও দাড়িতে তৈলের চাকচিক্য দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৫, ইসলামীক সেন্টার)

49

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিঁথিতে তার ইহরামের অবস্থায় কস্তুরীর চাকচিক্য দেখতে পাচ্ছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৬, ইসলামীক সেন্টার)

50

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হাসান ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৭, ইসলামীক সেন্টার)

51

আহমাদ ইবনু মানী' ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে কস্তুরী মিশ্ৰিত সুগন্ধি মেখে দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৮, ইসলামীক সেন্টার)

52

সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ কামিল (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মুহাম্মদ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে সুগন্ধি মেখেছে, অতঃপর মুহরিম অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়েছে। তিনি বললেন, আমি ভোর বেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা মাখা অধিক পছন্দনীয় মনে করি। অতঃপর আমি (মুহাম্মদ) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে অবহিত করলাম যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, “আমি ভোরবেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা লাগানো অধিক শ্রেয় মনে করি।" তখন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ইহরাম বাধার সময় সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। এরপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিলেন, এরপর ভোরবেলা ইহরাম বাধলেন।”* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৯, ইসলামীক সেন্টার)

53

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহে সুগন্ধি মেখে দিতাম। অতঃপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিতেন, অতঃপর ভোরবেলা সুগন্ধি ঝাড়তে ঝাড়তে ইহরাম বাঁধতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১০, ইসলামীক সেন্টার)

54

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ ভোরবেলা সুগন্ধির চিহ্ন দূরীভূত করা অবস্থায় ইহরাম বাঁধার তুলনায় ভোরবেলা আলকাতরা মাখা অবস্থায় ইহরাম বাঁধা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। রাবী বলেন, এরপর আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে ইবনু উমারের উক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহে খুশবু লাগিয়েছি। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইহরাম অবস্থায় ভোর করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১১, ইসলামীক সেন্টার)

55

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সা'ব ইবনু জাসসামাহ আল লায়সী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বন্য গাধা (গোশত) হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) স্বরূপ দিলেন। আর তিনি তখন আবওয়া অথবা ওয়াদান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার কাছে তা ফেরত পাঠালেন। সা’ব (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেহারা মলিন দেখে বললেন, আমি তোমাকে তা ফেরত দিতাম না, শুধু ইহরামের কারণেই তা ফেরত দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১২, ইসলামীক সেন্টার)

56

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবন রুমহ, কুতায়বাহ, আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (সা'ব) তাকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলাম। ইমাম মালিক (রহঃ) যেরূপ বর্ণনা করেছেন। লায়স ও সালিহ এর বর্ণনায় রয়েছে- সা’ব ইবনু জাস্‌সামাহ্ (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৩, ইসলামীক সেন্টার)

57

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ...... যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে উল্লেখ আছে। তিনি (সা’ব) বলেন, আমি তাকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) দিয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৪, ইসলামীক সেন্টার)

58

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’ব ইবনু জাসসামাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য বন্য গাধার গোশত উপটৌকন পাঠিয়েছিলেন। আর তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী বলেন, তাই তিনি এ উপঢৌকন তাকে ফেরত দিলেন এবং বললেন, আমরা যদি ইহরাম অবস্থায় না থাকতাম তবে তোমার এ উপটৌকন অবশ্যই গ্রহণ করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৫, ইসলামীক সেন্টার)

59

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাব ইবনু জাস্‌সামাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বন্য গাধার পায়ের গোশত হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) দেন। তখন তা থেকে রক্ত ঝরছিল। আর হাকাম এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বন্য গাধার পেছনের অংশের কথা উল্লেখ আছে। আর হাবীব এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সা'ব) বন্য গাধার উরুর পার্শ্বের গোশত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য উপঢৌকন পাঠান। কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৬, ইসলামীক সেন্টার)

60

যুহায়র ইবনু হাব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) তার নিকট এলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিকার করা জন্তুর গোশত উপটৌকন দেয়া হয়েছিল। সেটা যে হারাম এ কথা আপনি আমাকে কিভাবে অবহিত করেছিলেন? রাবী (ত্বাউস) বলেন, তিনি বললেন, তাকে শিকারকৃত জন্তুর একটি অঙ্গ হাদিয়াহ দেয়া হয়েছিল, তিনি তা ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আমরা এ গোশত খেতে পারি না, কারণ আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৭, ইসলামীক সেন্টার)

61

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম, এমনকি 'ক্বাহাহ্' নামক স্থানে গিয়ে পৌছলাম। আমাদের কতক ইহরাম অবস্থায় এবং কতক ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার সঙ্গীরা একটা কিছুর দিকে তাকাচ্ছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম, তা একটি বন্য গাধা। অতএব আমি আমার ঘোড়ার জীন বাঁধলাম এবং বল্লম তুলে নিলাম। এরপর ঘোড়ার পিঠে চেপে বসলাম। এ অবস্থায় আমার চাবুক নিচে পড়ে গেল। আমি আমার সঙ্গীদের তা তুলে দিতে বললাম, তারা ইহরাম অবস্থায় ছিল। তাই তারা আল্লাহর শপথ করে বলল, আমরা তোমাকে এ ব্যাপারে কিছুমাত্র সাহায্য করতে পারব না। অতঃপর আমি নিচে নেমে এসে তা তুললাম। অতঃপর ঘোড়ায় চড়ে গাধার পশ্চাদ্ধাবন করলাম। তা ছিল একটি টিলার আড়ালে। আমি বল্লমের আঘাতে এটাকে হত্যা করলাম। অতঃপর আমার সঙ্গীদের কাছে নিয়ে এলাম। তাদের কতক বলল, তা খাও, আর কতক বলল, খেও না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখভাগে ছিলেন। আমি ঘোড়া হাকিয়ে তার নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা হালাল, অতএব তোমরা তা খাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৮, ইসলামীক সেন্টার)

62

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ্ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। মাক্কার (মক্কার) একটি পথে যখন আমরা পৌছলাম তখন তিনি তার কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চেপে বসলেন এবং সঙ্গীদেরকে তার চাবুকটি তুলে দিতে বললেন। তারা তা তুলে দিতে রাজী হলেন না। তিনি তাদেরকে নিজের বল্পমটি তুলে দিতে বললেন, এবারও তারা তার কথায় রাজী হলেন না। এরপর তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং ঘোড়া হাকিয়ে গাধাটি শিকার করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং কতক তা প্রত্যাখ্যান করলেন। অতএব তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এতো খাদ্য, মহামহিম আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৯, ইসলামীক সেন্টার)

63

কুতায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, বন্য গাধা সম্পর্কিত হাদীসটি এ সূত্রেও আবূ নায্‌র বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু যায়দ ইবনু আসলামের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২০, ইসলামীক সেন্টার)

64

সালিহ ইবনু মিসমার আস্ সুলামী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা হুদায়বিয়ার বছর রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে গেলেন। তার সঙ্গীগণ ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) ইঁহরাম বাধলেন না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করা হল যে, শত্রুরা গয়কাহ নামক স্থানে ওঁৎ পেতে আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখলেন। আবূ কতাদাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি তার সাহাবীগণের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কতক আমার দিকে চেয়ে হাসছিল। আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আমি বর্শার আঘাতে তার গতিরোধ করলাম এবং সাহাবীগণের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা এর গোশত খেলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকাবোধ করলাম। অতএব আমি তার কাছে পৌছার জন্য কখনো ঘোড়া হাকিয়ে, আবার কখনো পদব্রজে অগ্রসর হতে লাগলাম। মধ্যরাতে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কোথায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়েছো? সে বলল, আমি তাকে তাহিন নামক স্থানে ছেড়ে এসেছি এবং তিনি সুফইয়া নামক স্থানে দুপুরের সময়টা যাত্রা বিরতি করার মনস্থ করেছেন। আমি (আবূ কাতাদাহ) তার সাথে মিলিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করছেন। অতএব আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতএব তিনি তাদের জন্য অপেক্ষা করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একটি শিকার ধরেছি এবং তার কিছু অংশ আমার কাছে অবশিষ্ট আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে বললেন, তোমরা খাও। তারা ইহরাম অবস্থায় রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২১, ইসলামীক সেন্টার)

65

আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে রওনা হলেন এবং আমরাও তার সফরসঙ্গী হলাম। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিন্ন পথ ধরলেন এবং আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) সহ কতিপয় সাহাবাকে (অন্য পথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে) বললেন, তোমরা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী পথ ধরে অগ্রসর হও। আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, অতএব তারা সমুদ্র উপকূল বরাবর পথ ধরলেন। তারা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথে মোড় নিলেন, তখন আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) ছাড়া আর সকলে ইহরাম বাঁধলেন, তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। এ অবস্থায় পথ চলতে চলতে তারা কতকগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন এবং আবূ কতাদাহ্ (রাযিঃ) এগুলোকে আক্রমণ করে একটি গাধী শিকার করলেন। তারা যাত্রা বিরতি দিয়ে গাধীর গোশত খেলেন। আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, তারা বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের গোশত খেলাম। এরপর তারা এর অবশিষ্ট গোশত সঙ্গে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ইহরাম বেঁধেছি কিন্তু আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) ইহরাম বাঁধেননি। এ অবস্থায় আমরা কয়েকটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবূ কতাদাহ্ (রাযিঃ) এগুলোর উপর ঝাপিয়ে পড়ে একটি গাধী শিকার করেন। আমরা যাত্রা বিরতি দিয়ে এর গোশত খেয়েছি। অতঃপর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকৃত পশুর গোশত আহার করব কি অথচ আমরা মুহরিম? আমরা অবশিষ্ট গোশত সাথে করে নিয়ে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ কি তা শিকার করার নির্দেশ অথবা ইঙ্গিত করেছে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তাহলে অবশিষ্ট গোশতও খেতে পার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২২, ইসলামীক সেন্টার)

66

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উসমান ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সানাদ সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। শায়বানের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কেউ কি তাকে (গাধীটি) আক্রমণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে অথবা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে?" আর শুবাহ্‌র বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি (শিকারের দিকে) ইঙ্গিত করেছিলে অথবা সাহায্য করেছিলে" অথবা "শিকার করেছিলে"। শু'বাহ বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’টো বাক্য বলেছেন কিনা তা আমার মনে নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৩, ইসলামীক সেন্টার)

67

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছাড়া আর সকলেই উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। আমি একটি বন্য গাধা শিকার করলাম এবং আমার মুহরিম সঙ্গীদের এর গোশত খাওয়ালাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে অবহিত করলাম যে, শিকারের অবশিষ্ট গোশত আমাদের সাথে আছে। তিনি বললেন, “তোমরা তা খাও"; তখন তারা ছিলেন মুহরিম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৪, ইসলামীক সেন্টার)

68

আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহু আয যাব্বী (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কতাদাহ্ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (সফরে) রওনা হলেন। তারা সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) হালাল অবস্থায় ছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি? তারা বললেন, এর পায়ের গোশত আমাদের সাথে আছে। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে আহার করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৫, ইসলামীক সেন্টার)

69

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, কুতায়বাহ ও ইসহাক (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) ইহরামকারী একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু তিনি ইহরামমুক্ত ছিলেন। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা পূর্ববৎ। এতে আছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেউ কি শিকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে অথবা কোনরূপ নির্দেশ দিয়েছে? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! না। তিনি বললেন, তাহলে এটা খেতে পার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৬, ইসলামীক সেন্টার)

70

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মু'আয ইবনু আবদুর রহমান ইবনু উসমান আত তায়মী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় ত্বলহাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। তাকে (শিকার করা) পাখির গোশত উপটৌকন দেয়া হল। এ সময় তিনি ঘুমে ছিলেন। আমাদের কতক তা খেল এবং কতক বিরত থাকল। ত্বলহাহ (রাযিঃ) ঘুম থেকে উঠে গোশত আহরণকারীদের অনুকূলে মত প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (ইহরাম অবস্থায়) তা (শিকার করা প্রাণীর গোশত) খেয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৭, ইসলামীক সেন্টার)

71

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ এমন চার প্রকার দুষ্ট জন্তু হারাম এবং হারামের বাইরে নিধন করা যায়ঃ চিল (এবং শকুন), কাক, ইঁদুর এবং হিংস্র কুকুর। তিনি (উবায়দুল্লাহ) বলেন, আমি কাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম, সাপের বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বললেন, তা হীনভাবে হত্যা করতে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৮, ইসলামীক সেন্টার)

72

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচ প্রকার দুষ্ট জন্তুকে হারাম এবং হারামের বাইরে নিধন করা যায়ঃ সাপ, আব্‌কা (যার বুক ও পিঠ সাদা বর্ণের) কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর এবং চিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭২৯, ইসলামীক সেন্টার)

73

আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি অনিষ্টকর প্রাণীকে হারামের ভিতর হত্যা করা যায় বিচ্ছু, ইঁদুর, কাক, চিল ও হিংস্ৰ কুকুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩০, ইসলামীক সেন্টার)

74

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩১, ইসলামীক সেন্টার)

75

উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি দুষ্ট জন্তু হারামের মধ্যেও হত্যা করতে হবেঃ ইঁদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল এবং হিংস্র কুকুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩২, ইসলামীক সেন্টার)

76

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে এ সানাদে আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি দুষ্ট অনিষ্টকর জন্তু হারাম ও হারামের বাইরে নিধনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ ইয়াযীদ ইবনু যুরা'য় (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

77

আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি জন্তুর প্রতিটিই অনিষ্টকর। ইহরাম অবস্থায় তা হত্যা করা যাবেঃ কাক, চিল, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু ও ইঁদুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

78

যুহয়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সলিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি জন্তু নিধনে কোন দোষ নেই, হারামের ভিতরে ও ইহরাম অবস্থায়ঃ ইঁদুর, কাক, চিল, বিচ্ছু ও হিংস্ৰ কুকুর। ইবনু আবূ উমার তার বিওয়ায়াতে "হারাম শরীফে বা ইহরাম অবস্থায়" কথাটুকু উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

79

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি জন্তুর প্রত্যেকটিই অনিষ্টকর, কেউ তা হত্যা করলে তার কোন দোষ হবে নাঃ বিচ্ছু, কাক, চিল, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

80

আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করল, মুহরিম ব্যক্তি কোন্‌ কোন্‌ জন্তু হত্যা করতে পারে? তিনি বললেন, আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈকা সহধর্মিণী অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইদুর, বিচ্ছু, চিল, হিংস্র কুকুর ও কাক হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন অথবা রাবী বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

81

শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু উমর (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করল, মুহরিম ব্যক্তি কোন কোন জন্তু হত্যা করতে পারে? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈকা সহধর্মিণী বলেছেন যে, তিনি হিংস্র কুকুর, ইঁদুর, বিচ্ছু, চিল, কাক ও সাপ হত্যা করার নির্দেশ দিতেন। এমনকি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায)রত অবস্থায়ও তা হত্যা করা যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

82

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমন পাঁচটি জন্তু আছে যা মুহরিম ব্যক্তি হত্যা করলে কোন দোষ হবে নাঃ কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর এবং হিংস্র কুকুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

83

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে মুহরিম ব্যক্তির জন্য কোন কোন প্রাণী হত্যার বৈধতা ঘোষণা করতে শুনেছেন? নাফি (রহঃ) আমাকে বললেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এমন পাঁচ প্রকারের প্রাণী আছে, কোন ব্যক্তি তা হত্যা করলে তার কোন গুনাহ হবে নাঃ কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪০, ইসলামীক সেন্টার)

84

কুতায়বাহ, ইবনু রুমূহ, শায়বান ইবনু ফাররুখ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র, আবূ কামিল ও ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু মালিক (রহঃ) ও ইবনু জুরায়জের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং একমাত্র ইবনু জুরায়জ (রহঃ) ব্যতীত নাফি "ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি" কথাটি আর কেউ বলেননি। এ বর্ণনায় ইবনু জুরায়জ (রহঃ) ইবনু ইসহাক (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪১, ইসলামীক সেন্টার)

85

ফাযল ইবনু সাহল (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, পাঁচ ধরনের প্রাণী, এর কোন একটি হারাম শরীফে বা ইহরাম অবস্থায় হত্যা করা হলে কোন দোষ নেই....পূর্বের হাদীসের অনুরূপ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪২, ইসলামীক সেন্টার)

86

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন পাঁচ ধরনের প্রাণী আছে, ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি সেগুলো হত্যা করলে তাতে তার কোন গুনাহ হবে নাঃ বিচ্ছু, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, কাক ও চিল। হাদীসের মূল পাঠ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়ার বর্ণনা থেকে নেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

87

উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী ও আবূ রবী' (রহঃ) ..... কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং আমি তখন চুলায় আমার হাড়ি বা পাতিলের নীচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম-আর উকুন আমার চেহারার উপর গড়িয়ে পড়ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মাথার পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও অথবা একটি কুরবানী কর। আইয়্যুব (রহঃ) বলেন, আমার মনে নেই তিনি (মুজাহিদ) কোন শব্দটি আগে বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

88

‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী, যুহায়র ইবনু হারব ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আইয়ূব (রহঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

89

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে এবং এ কারণে সে মাথা মুড়িয়ে ফেলে, তবে তাকে ফিদইয়্যাহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদাকাহ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে”— (সূরা আল বাকরাহ ২ঃ ১৯৬)। রাবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম এবং তিনি বললেন, আরও নিকটে আসো। অতএব আমি নিকটবর্তী হলাম এবং তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? ইবনু আওন (রহঃ) (নিজস্ব সূত্র পরম্পরায়) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, হ্যাঁ। কা'ব (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সওম অথবা সদাক্কাহ কর ছয়জন মিসকীনের মাঝে এক ফারাক (তিন সা) পরিমাণ, অথবা সহজলভ্য হলে কুরবানীর মাধ্যমে ফিদইয়্যাহ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৭৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

90

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দাঁড়ালেন এবং তখন তার মাথা থেকে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার মাথা কামিয়ে ফেল। রাবী বলেন, অতএব আমার সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে (এবং এ কারণে মাথা মুড়িয়ে ফেলবে) তবে তাকে ফিদইয়্যাহ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদাকাহ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে”— (সূরা আল বাকরাহ ২ঃ ১৯৬)। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা এক ফারাক (তিন সা) খাদ্য ছয়জন মিসকীনকে দান কর অথবা কুরবানী কর- যা সহজলভ্য হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

91

মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন- মক্কায় প্রবেশের পূর্বে তিনি যখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের হাড়ির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তার (মাথা থেকে) মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তোমার মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক খাদ্য দান কর (এক ফারাক-এ তিন সা'), অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা একটি কুরবানী কর। ইবনু আবূ নাজীহ এর বর্ণনায় আছে, “অথবা একটি বকরী কুরবানী কর।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

92

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্ৰব করছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে তিন সা' খেজুর খেতে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

93

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মা'কিল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, “ফিদইয়াহ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদাকাহ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" কা'ব (রাযিঃ) বললেন, তা আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে? আমি বললাম, না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, “ফিদইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে, সদাক্বাহ করতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে অর্ধ সা' করে খাদ্য দান কর। কা'ব (রাযিঃ) বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫০, ইসলামীক সেন্টার)

94

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলেন। তার মাথা ও দাড়িতে উকুন ধরে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতে পেরে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং একজন নাপিতও ডাকলেন। সে তার মাথা মুড়িয়ে দিল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বললেন, আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম নই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিনদিন সওম পালনের অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে এক সা' করে খাদ্য দান করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তা'আলা বিশেষ করে তার প্রসঙ্গে নাযিল করলেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে...”। অতঃপর এ আয়াতের নির্দেশ সাধারণভাবে সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫১, ইসলামীক সেন্টার)

95

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়ে ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫২, ইসলামীক সেন্টার)

96

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু বুহায়নাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) যাবার পথে নিজের মাথার মধ্যস্থলে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

97

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... নুবায়হ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (ইহরাম অবস্থায়) আ'বান ইবনু উসমান (রহঃ) এর সাথে রওনা হলাম। আমরা মালাল নামক স্থানে পৌছলে উমার ইবনু উবায়দুল্লাহর চোখে পীড়া দেখা দিল। রাওহা নামক স্থানে পৌছে তার চোখের ব্যথা আরও তীব্রতর হল। তিনি (নুবায়হ) আ'বান ইবনু উসমান (রহঃ) এর কাছে (কী করতে হবে তা) জিজ্ঞেস করার জন্য একজনকে পাঠালেন, তিনি বলে পাঠালেন, চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দাও, কারণ উসমান (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তির চক্ষুরোগ দেখা দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৭৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

98

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্‌যালী (রহঃ) ..... নুবায়হ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উবায়দুল্লাহ ইবনু মা'মার এর পুত্র উমারের চোখ ফুলে উঠলে তিনি সুরমা লাগানোর ইচ্ছা করলেন। কিন্তু আ'বান ইবনু উসমান (রাযিঃ) তাকে চোখে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং মুসব্বারের প্রলেপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এও বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

99

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযিঃ) আবওয়া নামক স্থানে পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধৌত করতে পারবে, কিন্তু মিসওয়ার (রাযিঃ) বললেন, সে মাথা ধৌত করতে পারবে না। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে (অর্থাৎ 'আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়নকে) এ সম্পর্কিত মাসআলাহ্ জানার জন্য আবূ আইয়ুব আল আনসারী (রাযিঃ) এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে কুপের দু' খুঁটির মাঝে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তিনি একখণ্ড কাপড় টাঙ্গিয়ে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলেন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আপনার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন? আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) তার হাত টানানো কাপড়ের উপর রাখলেন এবং তা (সামান্য) নীচু করলেন- যাতে তার মাথা আমার দৃষ্টিগোচর হল। অতঃপর তিনি তার গোসলে সাহায্যকারী ব্যক্তিকে পানি ঢালতে বললেন। অতএব সে তার মাথায় পানি ঢালল। এরপর তিনি উভয় হাত সামনে ও পিছনে সঞ্চালন করে নিজের মাথা মললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

100

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু আসলাম (রাযিঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) তার উভয় হাত সামনে-পিছনে সঞ্চালন করে সম্পূর্ণ মাথা ভালভাবে মললেন। এরপর মিসওয়ার (রাযিঃ) ইবনু “আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আমি আর কখনও আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

101

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার উটের পিঠ থেকে পড়ে গেল। ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং মারা গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার দু' কাপড়েই কাফন দাও এবং তার মাথা অনাবৃত রাখ। কারণ আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

102

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

103

‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এসেছিল। সে উট থেকে পড়ে গেল এবং তার ঘাড় মটকে গেল। ফলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও এবং তার পরনের দু' কাপড়ে তাকে কাফন দাও এবং তার মাথার চুল আবৃত করো না। কারণ সে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উপস্থিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬১, ইসলামীক সেন্টার)

104

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এসেছিল ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, "তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।" এতে আরও আছে, কোথায় সে উটের পিঠ থেকে পড়ে গেল তা সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬২, ইসলামীক সেন্টার)

105

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে ইহরাম অবস্থায় তার বাহন পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও, তার পরিধেয় বস্ত্র দু'টি দিয়ে তার কাফন দাও, কিন্তু তার মুখমণ্ডল ও মাথা অনাবৃত রাখ। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

106

মুহাম্মাদ ইবনুস্ সব্বাহ ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিল। তার উষ্ট্রী তার ঘাড় ভেঙ্গে দিল, ফলে সে মারা গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও, তার পরিধেয় বস্ত্র দু'খানা দিয়ে তাকে কাফন পরাও, কিন্তু তার দেহে সুগন্ধি মাখিও না এবং তার মাথাও আবৃত করো না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় উঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

107

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে তার উট নীচে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় (এবং সে মারা যায়)। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে, সুগন্ধি না লাগাতে এবং মাথা অনাবৃত রাখতে নির্দেশ দেন। কারণ কিয়ামতের দিন তাকে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

108

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও আবূ বাকর ইবনু নাফি' (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে উপস্থিত হল। হঠাৎ সে তার উষ্ট্রীর পিঠ থেকে পড়ে গেল এবং ঘাড় মটকে যাওয়ার ফলে মারা গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে, তার পরিধেয় দুখণ্ড বস্ত্রে কাফন দিতে, সুগন্ধি না লাগাতে এবং মাথা কাফনের বাইরে রাখতে নির্দেশ দিলেন। শু'বাহ (রহঃ) বলেন, অতঃপর আবূ বিশর আমাকে এভাবে বললেন, তাকে এভাবে কাফন পরাও যাতে তার মাথা ও মুখমণ্ডল বাইরে থাকে। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় উঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

109

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তিকে তার বাহন নিচে ফেলে দিলে ঘাড় মটকে সে মারা যায়। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে এবং তার মুখমণ্ডল খুলে রাখতে। রাবী বলেন, আমি মনে করি যে, তার মাথা অনাবৃত রেখে কাফন পরাতে নির্দেশ দিলেন। কারণ তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৭৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

110

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিল। তার উষ্ট্রী তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, এতে সে মারা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল দাও, তার দেহে সুগন্ধি মাখিও না এবং তার মুখমণ্ডলও ঢেকে দিও না। কারণ তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

111

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী আল হামদানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা'আহ বিনতু যুবায়র (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন এবং তাকে বললেন, তুমি হাজ্জের ইচ্ছা পোষণ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! কিন্তু আমি প্রায়ই অসুস্থ থাকি। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর এবং শর্ত রাখ ও বল, হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে আটকিয়ে দিবে (সেখানে আমি ইহরাম খুলব)। তিনি মিকদাদ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

112

আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র ইবনু আবদুল মুত্ত্বলিব কন্যা যুবা'আহ (রাযিঃ) এর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র সংকল্প করেছি- কিন্তু আমি অসুস্থ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এই শর্ত কর যে, আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে আটকিয়ে দিবে সেখানে আমি ইহরাম খুলব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭০, ইসলামীক সেন্টার)

113

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭১, ইসলামীক সেন্টার)

114

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যুবায়র ইবনু আবদুল মুত্ত্বালিব কন্যা যুবা'আহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললেন, আমি একজন পীড়িত (ভারী) মহিলা এবং আমি হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র সংকল্প রাখি। আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং শর্ত কর যে, আল্লাহ! তুমি আমাকে যেখানে আটকিয়ে দিবে সেখানে আমি ইহরাম খুলব। রাবী বলেন, তিনি হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালনে সক্ষম হয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭২, ইসলামীক সেন্টার)

115

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যুবা'আহ (রাযিঃ) হজ্জের ইচ্ছা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শর্তসাপেক্ষে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ মুতাবিক তাই করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

116

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবূ আইয়ুব আল গয়লানী ও আহমাদ ইবনু খিরাশ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা'আহ (রাযিঃ) কে বললেন, তুমি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর এবং শর্ত রাখ যে, আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে থামিয়ে দিবে, সেখানে আমি ইহরাম খুলব। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা'আহ (রাযিঃ) কে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

117

হান্নাদ ইবনুস্ সারী, যুহায়র ইবনু হারব ও উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতু উমায়স (রাযিঃ) আশ শাজার নামক স্থানে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযিঃ) এর মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

118

আবূ গাসসান মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আসমা বিনতু উমায়স (রাযিঃ) যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে সন্তান প্রসব করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

119

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে হাদী অর্থাৎ কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে উমরার সাথে হাজ্জের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর উমরাহ ও হাজ্জের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বযের মাঝে সাঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, হাজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং উমরাহ পরিত্যাগ কর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। আমাদের হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (আমার ভাই) আবদুর রহমানের সাথে তানঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ পালন করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাঁধার) স্থান। যে সব লোক শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হাজ্জের তওয়াফ করল আর যারা উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে ইহরাম বেঁধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

120

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের কেউ শুধু উমরার ইহরাম বঁধল, আর কেউ শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। এভাবে আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং সাথে কুরবানীর পশুও এনেছে, তারা কুরবানী করার পরই কেবল ইহরামমুক্ত হবে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে, তারা যেন হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পূর্ণ করে। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমার হায়য শুরু হয়ে গেল এবং আরাফাহ দিবস পর্যন্ত চলতে থাকল। আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মাথার চুল খুলে ফেলতে, তাতে চিরুণী করতে, হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধতে এবং উমরাহ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম এবং হাজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে (আমার ভাই) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরকে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তানইম থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ করার নির্দেশ দিলেন- যেহেতু আমি উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম; অথচ আমি উক্ত উমরাহ সমাপ্ত করতে পারিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

121

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানীর পশু নেইনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে যেন তার উমরার সাথে হজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করব? তিনি বললেন, তোমরা চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, উমরাহ স্থগিত রাখ এবং হজ্জের ইহরাম বাধ। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) 'আবদুর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরাহ করালেন- যেহেতু আমি উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

122

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি একত্রে হাজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সেও যেন তাই করে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন এবং তার সাথের লোকেরাও তাই করল। কতিপয় লোক উমরাহ ও হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল এবং কতিপয় লোক শুধু উমরার ইহরাম বাঁধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮০, ইসলামীক সেন্টার)

123

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রাযিঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, বিদায় হজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কাহ) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি উমরার ইহরাম বাঁধতাম। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে গেলাম। আরাফাহ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং উমরাহ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাসসাব এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা'আলা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করার তাওফীক দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তার বাহনের পেছনে বসিয়ে তান'ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা'আলা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ সমাপনের তাওফীক দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাকাহ বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮১, ইসলামীক সেন্টার)

124

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলাম। হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তাই করুক ... হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আবদাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮২, ইসলামীক সেন্টার)

125

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার, কতক হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের এবং কতক শুধু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। আমি উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত (উভয়ের) হাদীসের অনুরূপ। তবে উরওয়াহর বর্ণনায় আছে, "আল্লাহ তা'আলা আয়িশাহ (রাযিঃ) কে তার হাজ্জ ও উমরাহ সমাপনের তাওকীক দিলেন।" আর হিশামের বর্ণনায় আছে, “এজন্য (উমরার ইহরাম পরিত্যাগ করে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধার কারণে তাকে) হাদী বা কুরবানীও করতে হয়নি, সওমও পালন করতে হয়নি, সদাকাহও দিতে হয়নি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

126

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক উমরার উদ্দেশে, কতক হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। যারা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (উমরাহ সমাপনন্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামুক্ত হতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

127

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ‘আমর আন্‌ নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) …. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হজ্জের উদ্দেশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা এটা আদম (আঃ) এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করবে না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

128

সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম। তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা এটা আদম (আঃ) এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করো না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের বললেন, তোমরা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে উমরার ইহরাম বাঁধল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাযিঃ), 'উমার (রাযিঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের (হজ্জের/হজের)) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তওয়াফে ইফাযাহ্* করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হাজ্জ ও উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করছি। রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তানঈম পৌছলাম। সেখান থেকে আমি আবার উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

129

আবূ আইয়্যুব আল গয়লানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন- আমি তখন কাঁদছিলাম...অবশিষ্ট বর্ণনা (পূর্ববর্তী) মাজিশূনের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে (হাদী) কুরবানীর পশু ছিল, তারা অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় (হাজ্জের (হজ্জের/হজের)) ইহরাম বাঁধলেন।" তার বর্ণনায় আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেই “আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার উত্তমরূপে মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমার মাথা বারংবার পালানের খুঁটির সাথে টক্কর খাচ্ছিল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

130

ইসমাঈল ইবনু আবূ উওয়াইস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছিলেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

131

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের মাসসমূহে, হাজের (হজ্জের/হজের) সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধিনিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা উমরাহ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি উমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদম (আঃ) এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্‌সাবে অবতরণ করলেন এবং আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে) উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তানঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম এবং সাফামারওয়াহ সাঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উমরাহ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তার সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তার তওয়াফ করলেন, অতঃপর মাদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

132

–(১২৪/...) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ কিরআন হাজ্জের (হজ্জের/হজের) এবং তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯০, ইসলামীক সেন্টার)

133

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করার জন্য এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯১, ইসলামীক সেন্টার)

134

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যিলকদাহ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার (মক্কার) নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আম্‌রাহ) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৭৯২, ইসলামীক সেন্টার)

135

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ উমর (রাযিঃ) এ সানাদেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

136

–(১২৬/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও কাসিম (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ)) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান'ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ উমরার সাওয়াব পাবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

137

ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতের সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে...অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

138

যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র হজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মাক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশুর সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হজ্জ ও উমরাহ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান'ঈম যাও এবং (সেখানে) উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উন্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ (রাযিঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মাক্কার (মক্কার) উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

139

সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা উমরাহ কোনটিরই উল্লেখ করিনি। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

140

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহাজ্জ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মাক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, তুমি কি জান না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্ততঃ করছে? রাবী হাকাম বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্ততঃ করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

141

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহাজ্জ মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে (মাক্কায়) পৌছলেন ... পূর্বোক্ত গুনদার এর হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, “তারা ইতস্ততঃ করেছে" উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

142

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মাক্কায়) পৌছলেন এবং বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) ব্যতীত)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবদুর রহমানের সাথে তানঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে উমরাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০০, ইসলামীক সেন্টার)

143

হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সারিফ নামক স্থানে ঋতুবতী হলেন এবং আরাফাহ্ দিবসে পবিত্র হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সাঈ তোমার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়টির জন্য যথেষ্ট। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৮০১, ইসলামীক সেন্টার)

144

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) .... সফিয়্যাহ বিনতু শায়বাহ বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দুটি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তান’ঈম যাওয়ার জন্য। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তান'ঈম পৌছে) উমরার ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর (মাক্কায় (মক্কায়) ফিরে এসে (ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) শেষে) হাসাবাহ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০২, ইসলামীক সেন্টার)

145

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে (বাহনে) তার পিছনে বসিয়ে তান'ঈম নিয়ে যাবার জন্য— যাতে তিনি তাকে (তানঈম থেকে) উমরাহ করান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৮০৩, ইসলামীক সেন্টার)

146

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর আয়িশাহ্ (রাযিঃ) উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মাসিক ঋতু শুরু হল। অবশেষে আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে কাবাহ্ ঘর তওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, “সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।" অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন আরাফাহ দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তালবিয়াহ দিবসে (৮ই যিলহাজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম। এদিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ক্ৰন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহরও তওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ) এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হাজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কা'বাহ ঘর তওয়াফ করলেন এবং সাফা মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন তোমার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়টিই পূর্ণ হল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার অবস্থা এই যে, হাজ্জ (হজ্জ/হজ) না করা পর্যন্ত আমি (উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করতে পারিনি, কিন্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে “আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে চলে যাও এবং তান'ঈম থেকে তাকে উমরাহ করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০৪, ইসলামীক সেন্টার)

147

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদ হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০৫, ইসলামীক সেন্টার)

148

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) উপলক্ষে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) উমরার ইহরাম বাঁধলেন...অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব আয়িশাহ (রাযিঃ) যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি তান'ঈম থেকে উমরার ইহরাম বাঁধলেন। (অধঃস্তন রাবী) মাত্বার (রহঃ) বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেছেনঃ ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) যখনই হাজ্জ করতেন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যেভাবে হাজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০৬, ইসলামীক সেন্টার)

149

–(১৩৮/...) আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, (সাধারণ) পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তালবিয়ার দিন আমরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলাম এবং পূর্বেকার তওয়াফ ও সাঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কুরবানীর গরু এবং উটে সাতজন করে শারীক হবার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৮০৭, ইসলামীক সেন্টার)

150

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা ইহরামমুক্ত হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (পুনরায়) ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন- যখন আমরা মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম। অতএব আমরা আল আবত্বাহ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০৮, ইসলামীক সেন্টার)

151

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ একবার মাত্র সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর-এর বর্ণনায় আছে, “তার প্রথমবারের ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮০৯, ইসলামীক সেন্টার)

152

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরামই বাঁধলাম। রাবী আতা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার যিলহজ্জের ভোরে (মাক্কায় (মক্কায়)) পৌছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তার এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আরাফাহ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় আরাফায় পৌছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রযিঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছে। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তার কথা শুনলাম এবং তার আনুগত্য করলাম। জাবির (রাযিঃ) আরও বলেন, আলী (রাযিঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কোন ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাযিঃ) বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জু'শুম (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সময়ের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১০, ইসলামীক সেন্টার)

153

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তার এ নির্দেশ কঠোর মনে হল এবং আমাদের মনোকষ্ট হল। এ খবর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তার কাছে এ কথা পৌছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মাক্কাহ (মক্কাহ) ত্যাগ করলাম (মিনা ও আরাফার উদ্দেশে) এবং হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরাম বাঁধলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১১, ইসলামীক সেন্টার)

154

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মূসা ইবনু নাফি' (রহঃ) বলেন, আমি উমরাসহ তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে তালবিয়াহ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মাক্কা (মক্কা)-বাসীদের অনুরূপ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হয়ে যাবে। অতএব আমি আতা ইবনু আবূ রাবাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসআলাহ জিজ্ঞেস করলাম। আতা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) (ইফরাদ হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কর, সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ কর, মাথার চুল ছাট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তুতে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রুপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১২, ইসলামীক সেন্টার)

155

–(১৪৪/...) মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার ইবনু বিরূ'ঈ আল কায়সী (রহঃ) .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তা উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (উমরাহ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৩, ইসলামীক সেন্টার)

156

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ নাযরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। উমার (রাযিঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তা'আলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্'আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছে- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত'আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৪, ইসলামীক সেন্টার)

157

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রাযিঃ) এর সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, উমার (রাযিঃ) বলেন, “তোমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কে উমরাহ থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ)ও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং উমরার পূর্ণাঙ্গ হবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৫, ইসলামীক সেন্টার)

158

খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌঁছলাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য তালবিয়াহ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৬, ইসলামীক সেন্টার)

159

আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হুসায়ন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্ৰ! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বাৰ্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাঁদর আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাঁদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন- তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাঁদর তার পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (বিদায়) হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাযিঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর (মাদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হাজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছর হাজ্জে যাবেন। সুতরাং মদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে এবং তার অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তার সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে পৌছলাম- আসমা বিনতু উমায়স (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন- এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (দু' রাকাআত) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ‘কাসওয়া' নামক। উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল- আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাঁদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তার উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্ পাঠ করলেনঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ অর্থঃ “আমি তোমার দরবারে হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির, তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শারীক নেই।" লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ্ পাঠ করল- যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা হাজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ম করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তার সঙ্গে বায়তুল্লাহয় পৌছলাম- তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কাবাহ ঘর তুওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى অর্থঃ “তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর”- (সুরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১২৫)। তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তার ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন)। (জাফার বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু' রাকাআত সালাতে সূরা কুল হুওআল্ল-হু আহাদ ও কুল্‌ ইয়া আইয়্যুহাল কা-ফিরূন পাঠ করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ‏ অর্থঃ “নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম"- (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ তা'আলা যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি ক্বিলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كَلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই। তার জন্য রাজত্ব এবং তার জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন।" তিনি এ দু'আ পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়াহ পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যাবৎ না তার পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন যতক্ষণ যাবৎ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়াহ পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ তওয়াফে যখন তিনি মারওয়াহ পাহাড়ে পৌছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জুশুম (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সৰ্বকালের জন্য? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকালেন এবং দু’বার বললেন, উমরাহ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য। এ সময় ‘আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাতিমাহ (রাযিঃ) কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী (রাযিঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমাহ (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়ছেন। রাবী বলেন, আলী (রাযিঃ) ইরাকে থাকতেন, অতএব ফাতিমাহ (রাযিঃ) যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফাতিমাহ্ সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে? আলী (রাযিঃ) বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম। বাঁধলাম, যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির (রাযিঃ) বলেন, "আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাঁড়ালো একশত। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর যখন তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওনা হল। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নামিরাহ নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশ'আরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে আরাফায় পৌছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তার জন্য তাবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তার কাসওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হল। তখন তিনি বাতুনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।" “সাবধান জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবী'আহ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। "জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্ত্বালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল।" “তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হাক্ব (হক) রয়েছে। “আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।" “আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌছিয়েছেন, আপনার হাক্ব (হক) আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, "তিনবার এরূপ বললেন।” অতঃপর (মুয়াযযিন) আযান দিলেন ও ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এ দু’ সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে মাওকিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তার কাস্ওয়া উটের পেট পাথরের স্তুপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্য পর্যন্ত তিনি এভাবে উকুফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামাহ্ (রাযিঃ) কে তার বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তুপের নিকট পৌছতেন, কাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দু' ইকামাতে মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। এ সালাতের মাঝখানে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফজরের ওয়াক্ত হল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামাত সহ ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে "মাশ’আরুল হারাম" নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করলেন, তার মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমাহ তাওহীদ পড়লেন এবং তার একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সওয়ারীতে তার পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফাযল (রাযিঃ) তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত ফাযলের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফাযল (রাযিঃ) অপরদিক দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় অন্যদিক হতে ফাযল (রাযিঃ) এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি বাতুনে মুহাসসাব’ নামক স্থানে পৌছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার 'আল্ল-হু আকবার' বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যাবাহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে আলী (রাযিঃ)-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশতের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হল। তারা উভয়ে এ গোশত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে রওনা হলেন এবং মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে যুহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বানু আবদুল মুত্ত্বলিব এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের যামযামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে “আবদুল মুত্ত্বালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিবে, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৭, ইসলামীক সেন্টার)

160

উমার ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ..... জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট এলাম এবং তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম ... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবনু ইসমাঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায়আরও আছেঃ আবূ সাইয়্যারাহ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফাহ্ থেকে) নিয়ে যেত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুযদালিফাহ্ থেকে আল-মাশ'আরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না অবশেষে তিনি আরাফাতে পৌছে সেখানে অবতরণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৮, ইসলামীক সেন্টার)

161

উমর ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তার এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আমি এখানে কুরবানী করেছি এবং মিনার গোটা এলাকা কুরবানীর স্থান। অতএব তোমরা যার যার অবস্থানে কুরবানী কর। আর আমি এখানে অবস্থান করছি এবং গোটা 'আরাফাহই অবস্থানস্থল (মাওকিফ), মুযদালিফার সবই অবস্থানস্থল এবং আমি এখানে অবস্থান করছি।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৯, ইসলামীক সেন্টার)

162

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় (মক্কায়) এসে পৌছলেন প্রথমে হাজারে আসওয়াদের নিকট এসে তাতে চুমু খেলেন, অতঃপর তওয়াফ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২০, ইসলামীক সেন্টার)

163

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, কুরায়শগণ এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা (জাহিলী যুগে) মুযদালিফায় অবস্থান করত। তারা নিজেদের নামকরণ করেছিল "আলহুম্‌স'। আর সমস্ত আরববাসীরা আরাফাতে অবস্থান করত। যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, আল্লাহ তা'আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফায় অবস্থান করার ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্যও তাইঃ "অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২১, ইসলামীক সেন্টার)

164

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, আল-হুমস্ ব্যতীত সকল আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করত। কুরায়শ ও তাদের বংশধরগণকে 'আল-হুমস্’ বলা হতো। আরবরা উলঙ্গ অবস্থায়ই তওয়াফ করত। কিন্তু আল-হুমস্ তাদেরকে কাপড় দান করলে স্বতন্ত্র কথা। তাদের পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের কাপড় দান করত। আল-হুমস্ মুযদালিফার বাইরে যেত না, আর সব লোক ‘আরাফায় চলে যেত। হিশাম বলেন, আমার পিতা (উরওয়াহ্) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, আল হুমস্- যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেছেনঃ “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে”— (সুরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৯)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, লোকেরা আরাফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর আল-হুমস মুযদালিফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তারা বলত, আমরা কেবলমাত্র হারাম এলাকা থেকেই প্রত্যাবর্তন করব। অতঃপর যখন “তোমরা প্রত্যাবর্তন কর যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে” আয়াত নাযিল হল, তখন থেকে তারা আরাফায় গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২২, ইসলামীক সেন্টার)

165

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... জুবায়র ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) বলেন, আমার একটি উট হারিয়ে গেল। আরাফাহ দিবসে আমি তার খোঁজে বের হলাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানরত দেখলাম। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! ইনি তো হুমস্-এর অন্তর্ভুক্ত, কী ব্যাপার ইনি এখানে কেন? অথচ কুরায়শদেরকে হুমস্-এর মধ্যে গণ্য করা হতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৩, ইসলামীক সেন্টার)

166

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি বাতহা নামক স্থানে উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) নিয়্যাত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কী ধরনের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি- লাব্বায়কা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তদ্রুপ ইহরাম বাঁধলাম। তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছ। এখন বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কর এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করলাম, সাফা-মারওয়ার সাঈ করলাম, অতঃপর কায়স গোত্রের এক স্ত্রীলোকের নিকট এলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমি লোকদেরকে এভাবেই ফাতাওয়া দিতে থাকলাম 'উমার (রাযিঃ) এর খিলাফাত পর্যন্ত। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে বলল, হে আবূ মূসা অথবা (বলল) আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! আপনার কিছু ফাতাওয়া আপাততঃ স্থগিত রাখুন। কারণ আমীরুল মু'মিনীন (উমার) আপনার পরে হজ্জ সম্পর্কে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা আপনি জ্ঞাত নন। তখন আবূ মূসা (রাযিঃ) বললেন, হে লোক সকল! আমি যাদের ফাতাওয়া দিয়েছি (ইহরাম খোলা সম্পর্কে) তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ আমীরুল মু'মিনীন অচিরেই তোমাদের নিকট আসছেন, অতএব তার আনুগত্য করা তোমাদের কর্তব্য। রাবী বলেন, উমর (রাযিঃ) এলেন এবং আমি তার সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলি, তবে তা আমাদের নির্দেশ দেয় (হাজ্জ ও উমরাহ) পূর্ণ করার। আমরা যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের উপর আমল করি, তবে কুরবানীর পশু তার (কুরবানীর) স্থানে না পৌছা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম খুলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৪, ইসলামীক সেন্টার)

167

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৪, ইসলামীক সেন্টার)

168

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি বাতহা নামক স্থানে উট বসিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ ইহরাম বেঁধেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) এবং সাফা মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেল। অতএব আমি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর আমার গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। আমি আবূ বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে লোকদেরকে অনুরূপ ফাতাওয়া দিতাম। হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মৌসুম আগত, এ সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল, আপনি হয়ত জানেন না, আমীরুল মু'মিনীন (উমার) হাজের (হজ্জের/হজের) ব্যাপারে কী নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন। আমি বললাম, হে জনগণ! আমি যাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে যে ফাতাওয়া দিয়েছি- তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই আমীরুল মুমিনীন তোমাদের মধ্যে এসে পৌছবেন। তোমরা তার অনুসরণ করবে। তিনি (উমার) এসে পৌছলে আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি হাজ্জের ব্যাপারে নতুন কী বিধান দিচ্ছেন? তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরি, তবে আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ কর”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৯৬)। আর আমরা যদি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের অনুসরণ করি, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে করে নিয়ে আসা পশু যবাহ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৫, ইসলামীক সেন্টার)

169

ইসহাক ইবনু মানসূর ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যে বছর হজ্জ করেছিলেন, আমি সে বছর (হাজ্জ (হজ্জ/হজ)) এসে তার সঙ্গে মিলিত হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ মূসা! ইহরাম বাঁধার সময় তুমি কী নিয়্যাত করেছিলে? আমি বললাম, লাব্বায়কা! আমার ইহরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইহরামের অনুরূপ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে যাও, বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কর, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। ... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত শুবাহ ও সুফইয়ানের হাদীস দু'টির অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৬, ইসলামীক সেন্টার)

170

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তামাত্তু হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র অনুকূলে ফাতাওয়া দিতেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি আপনার ফাতাওয়া স্থগিত রাখুন। আপনি হয়ত জানেন না, আপনার পরে আমীরুল মুমিনীন হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ব্যাপারে কী বিধান প্রবর্তন করেছেন। পরে তিনি (আবূ মূসা) তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং (এ ব্যাপারে) তাকে জিজ্ঞেস করলেন। উমার (রাযিঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ (তামাত্তু) করেছেন। কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি না যে, বিবাহিত লোকেরা গাছের ছায়ায় স্ত্রীদের সাথে যৌন সঙ্গম করবে, অতঃপর এমন অবস্থায় হজ্জের জন্য রওনা হবে যে, তাদের মাথার চুল দিয়ে পানি টপকে পড়ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৭, ইসলামীক সেন্টার)

171

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেছেন, উসমান (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে নিষেধ করতেন। আর ‘আলী (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন। অতএব উসমান (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ) এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর ‘আলী (রাযিঃ) বললেন, আপনি অবশ্যই জানেন, আমরা নিশ্চিত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ করেছি। উসমান (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ; কিন্তু আমরা তখন আতঙ্কিত ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৮, ইসলামীক সেন্টার)

172

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ...... শুবাহ (রহঃ) এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২৯, ইসলামীক সেন্টার)

173

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) ও উসমান (রাযিঃ) উসফান' নামক স্থানে একত্রে হলেন। উসমান (রাযিঃ) তামাত্তু ও উমরাহ করতে নিষেধ করতেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করেছেন, আপনি তা নিষেধ করেছেন- এতে আপনার উদ্দেশ্য কী? উসমান (রাযিঃ) বললেন, আপনি আমাকে আপনার কথা থেকে রেহাই দিন। আলী (রাযিঃ) বললেন, আমি আপনাকে ছাড়তে পারি না। আলী (রাযিঃ) যখন এ অবস্থা দেখলেন, তিনি একত্রে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাঁধলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩০, ইসলামীক সেন্টার)

174

সাঈদ ইবনু মানসুর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের জন্যই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩১, ইসলামীক সেন্টার)

175

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আমাদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে অনুমোদিত ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩২, ইসলামীক সেন্টার)

176

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, দুটি মুত'আহ কেবল আমাদের যুগের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। অর্থাৎ মুত'আহ বিবাহ ও তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

177

কুতায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম নাখাঈ ও ইবরাহীম আত্ তায়মীর নিকট এলাম এবং বললাম, আমি এ বছর হজ্জ ও উমরাহ একত্রে করতে চাই। ইবরাহীম নাখাঈ বললেন, কিন্তু তোমার পিতা তো এরূপ সংকল্প করেননি। কুতায়বাহ (রহঃ) ইবরাহীম আত তায়মী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (পিতা) রাবাযাহ নামক স্থানে আবূ যার (রাযিঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার সামনে এ প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলেন। আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, তা আমাদের জন্য (একটা সুবিধা স্বরূপ) নির্দিষ্ট ছিল, তোমাদের জন্য নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

178

সাঈদ ইবনু মানসূর ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... গুনায়ম ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) কে তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমরা উমরাহ আদায় করেছি। এটা সে সময়কার কথা যখন তিনি (আমীর মু'আবিয়াহ্) কাফির ছিলেন এবং মাক্কার (মক্কার) বাড়িতে বসবাস করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

179

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... সুলায়মান আত তায়মী (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তিনি এ রিওয়ায়াতে মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

180

আমর আন নাকিদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... সুলায়মান আত তায়মী (রহঃ) থেকে উক্ত সূত্রে উভয়ের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং সুফইয়ানের হাদীসে তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

181

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) আমাকে বললেন, আমি আজ তোমাকে একটি হাদীস বলব, পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তা'আলা এর দ্বারা তোমাকে উপকৃত করবেন। জেনে রাখ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে যিলহাজ্জ মাসের দশ তারিখের মধ্যে উমরাহ করিয়েছিলেন। এটা রহিত করে কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইন্তিকাল পর্যন্ত তা করতে নিষেধ করেননি। পরে লোকেরা নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী মত পোষণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

182

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আল জুরায়রী (রহঃ) থেকে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে হাতিম তার রিওয়ায়াতে বলেছেন, “এক ব্যক্তি অর্থাৎ উমার (রাযিঃ) তার নিজ ইচ্ছানুযায়ী মত পোষণ করেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

183

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে একটি হাদীস শুনাব। আশা করি, আল্লাহ তোমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ একত্রে আদায় করেছেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এরূপ করতে নিষেধ করেননি এবং তা হারাম বলে কুরআনের কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। (রোগের কারণে) তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত আমাকে (ফেরেশতাগণ কর্তৃক) সালাম দেয়া অব্যাহত ছিল। আমি দাগ গ্রহণ করলে সালাম দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন দাগ দেয়া বন্ধ করলাম, পুনরায় সালাম দেয়া শুরু হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪০, ইসলামীক সেন্টার)

184

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ... মুত্বাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) আমাকে বললেন ... পরবর্তী অংশ উপরোক্ত মুআয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪১, ইসলামীক সেন্টার)

185

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুত্বাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) মৃত্যুকালীন রোগে আমাকে ডেকে পাঠান। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কয়েকটি হাদীস বলব, আশা করি আল্লাহ তা’আলা আমার পরে তোমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন। আমি বেঁচে থাকলে তুমি আমার সূত্রে বর্ণনা করা গোপন রাখবে। আর আমি মারা গেলে তুমি চাইলে তা বর্ণনা করতে পার। আমাকে সালাম করা হতো। জেনে রাখ, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ একত্রে আদায় করেছেন। অতঃপর এ বিষয়ে কোন আয়াতও নাযিল হয়নি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তা নিষিদ্ধ করেননি। এক ব্যক্তি (উমার) এ বিষয়ে যা ইচ্ছা করলেন, তা বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪২, ইসলামীক সেন্টার)

186

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জেনে রাখ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ একত্রে (একই ইহরামে) আদায় করেছেন। এরপর এ বিষয়ে কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও অনুরূপ করতে আমাদেরকে নিষেধ করেননি। এরপর এক ব্যক্তি এ বিষয়ে নিজ ইচ্ছামত যা বলার, তা বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

187

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

188

হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর মুকদামী (রহঃ) ...... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে মুত'আহ্ অর্থাৎ তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সম্পর্কিত আয়াত রহিতকারী কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তা করতে নিষেধ করেননি। পরবর্তীকালে এক ব্যক্তি নিজ ইচ্ছামত যা বলার, তাই বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

189

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তিনি বলেছেন, “আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি।" তিনি এরূপ বলেননি "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

190

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, বিদায় হাজ্জে (হজ্জে/হজে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন, প্রথমে উমরাহ ও পরে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন এবং পশু কুরবানী করেছেন। তিনি যুল হুলায়ফাহ থেকে সাথে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন। এখান থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে 'উমরার, অতঃপর হাজ্জের (হজ্জের/হজের) তালবিয়াহ্ পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সাথে উমরাহ যুক্ত করে তামাত্তু করেছে। কতক লোকেরা কুরবানীর পশু সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানীর পশু ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কা (মক্কা)-তে উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে, হাজ্জ শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোন জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই- তারা যেন বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে মাথার চুল খাটো করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর তারা (৮ যিলহাজ্জ) পুনরায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং (নির্দিষ্ট দিনে) কুরবানী করবে। কোন ব্যক্তি কুরবানীর পশু না পেলে হাজ্জ চলাকালীন সময়ে তিনদিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাতদিন সওম পালন করবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে প্রথমে রুকনে (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করলেন- তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) সমাপ্ত করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাঈ করলেন। এরপর তিনি কোন জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে অর্থাৎ তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করেন এবং কুরবানীর দিন নিজের পশু কুরবানী না করেন এবং কাবাহ ঘর-এর তাওয়াফ করেছেন। অতঃপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তার জন্য হালাল হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল, তারাও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

191

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) .... উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পালন এবং তার সাথের লোকদের তামাত্তু হাজ্জ সম্পাদন সম্পর্কে অবহিত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

192

–(১৭৬/১২২৯) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরামমুক্ত হল অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি আমার মাথার চুল জমাট করেছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেঁধেছি। অতএব আমি কুরবানী না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫০, ইসলামীক সেন্টার)

193

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হাফসাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, আপনি ইহরাম খুলেননি? ... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫১, ইসলামীক সেন্টার)

194

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হাফসাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরাম খুলেছে অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেঁধেছি এবং মাথার চুল জমাট করেছি। অতএব হাজ্জের (হজ্জের/হজের) যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫২, ইসলামীক সেন্টার)

195

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হাফসাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ..... মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ- কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

196

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসাহ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজের (হজ্জের/হজের) দিন তার স্ত্রীদের (উমরাহ সমাপনের পর) নির্দেশ দিলেন তারা যেন ইহরাম খুলেন। হাফসাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনাকে ইহরাম খুলতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, আমি মাথার চুল আঠালো করেছি এবং সাথে কুরবানীর পশু এনেছি। অতএব পশু কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

197

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হাঙ্গামা [হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর মধ্যকার সংঘাত] চলাকালীন সময়ে উমরাহ করার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ পৌছতে আমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হই তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যেরূপ করেছিলাম, এখনও তদ্রুপ করব। অতএব তিনি রওনা হলেন এবং উমরার ইহরাম বাঁধলেন, তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন; যতক্ষণ না আল বায়দা নামক স্থানে পৌছলেন। এখানে তিনি নিজের সঙ্গীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি নিজের জন্য হাজ্জ (হজ্জ/হজ)-কে উমরার সাথে বাধ্যতামূলক করলাম। (রাবী বলেন) অতএব তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন, সাতবার ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং নিজের (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার) জন্য এটাই (এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) ও এক সাঈ) যথেষ্ট বিবেচনা করলেন এবং কুরবানী করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

198

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবনু আবদুল্লাহ উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তারা উভয়ে বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশংকা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌছতে পারবেন না। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তার ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি উমরার নিয়্যত করলাম। অতঃপর তিনি রওনা হয়ে যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌছে উমরার জন্য তালবিয়াহ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি উমরাহ পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বায়দা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌছলেন। এখানে পৌছে তিনি বললেনঃ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ)-কেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌছে কুরবানীর পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের জন্য এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) (সাত চক্কর) ও এক সাঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

199

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ যে বছর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল- ঐ বছর উমর (রাযিঃ) হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সংকল্প করলেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ সূত্রে হাদীসের শেষাংশে উল্লেখ আছে যে, "তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধল, তার জন্য এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)ই (সাত চক্কর) যথেষ্ট এবং উভয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

200

মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ও কুতায়বাহ (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ যে বছর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল- সে বছর আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হজ্জে যাবার সংকল্প করলেন। তাকে বলা হল, লোকদের মধ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং আমাদের আশংকা হচ্ছে- তারা আপনাকে বাধা দিবে। তিনি বললেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ-" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। এরূপ পরিস্থিতিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, আমিও অনুরূপ করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি উমরার সংকল্প করেছি। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। অবশেষে যখন আল বায়দার উপকণ্ঠে পৌছলেন তখন তিনি বললেন, হাজ্জ ও উমরার অবস্থা একই, তোমরা সাক্ষী থাক। ইবনু রুমূহের বর্ণনায় আছেঃ আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি নিশ্চয়ই আমার উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) অনিবার্য করে নিলাম। অতঃপর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিলেন যা তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ ও উমরার একত্রে ইহরাম বেঁধে অগ্রসর হলেন। অবশেষে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে তিনি বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করলেন না। তিনি কুরবানীও করেননি। মাথা মুণ্ডান বা চুল ছাঁটেননি এবং (ইহরামের কারণে) যা কিছু তার জন্য হারাম হয়েছিল, তার কোনটি হালাল করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন ও মাথা কামালেন এবং তার মত অনুযায়ী তিনি তার প্রথম ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) দ্বারাই হাজ্জ ও উমরার তাওয়াফ সম্পাদন করে ফেলেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

201

আবূ রবী' আয যাহরানী, আবূ কামিল ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... নাফি সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেন। তবে এ সূত্রে হাদীসের প্রথমাংশে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ করেছেন- যখন তাকে বলা হল, আপনি বায়তুল্লাহ এ পৌঁছতে বাধাগ্রস্ত হবেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। তিনি হাদীসের শেষে উল্লেখ করেননি যে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন" যেমন লায়স (রহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

202

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব ও আবদুল্লাহ ইবনু আওন আল হিলালী (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ইয়াহইয়ার রিওয়ায়াতে আছে যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। ইবনু আওন এর রিওয়ায়াতে আছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬০, ইসলামীক সেন্টার)

203

সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একত্রে হাজ্জ ও উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি। (অধঃস্তন রাবী) বাকর বলেন, আমি এ হাদীস ইবনু উমর (রাযিঃ) এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) তালবিয়াহ পাঠ করেছেন। অতঃপর আমি (বাকর) আনাস (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে তার কাছে ইবনু উমর (রাযিঃ) এর বক্তব্য উল্লেখ করি। তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, তোমরা আমাদেরকেও শিশুই মনে কর। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে হাজ্জ ও উমরার তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬১, ইসলামীক সেন্টার)

204

উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসত্বাম আল আয়শী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একত্রে হাজ্জ ও উমরাহ আদায় করতে দেখেছেন। রাবী বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা শুধু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধেছি। আমি (বাকর) পুনরায় আনাস (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে আসি এবং ইবনু উমর (রাযিঃ) যা বলেছেন, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলাম। আনাস (রাযিঃ) বললেন, আমরা বুঝি তখন শিশু ছিলাম!* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬২, ইসলামীক সেন্টার)

205

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ওয়াবারাহ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমার (রাযিঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, আল মাওকিফ (আরাফাহ) এ যাবার পূর্বে বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করা আমার জন্য সঠিক হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তুমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করো না- যে পর্যন্ত না মাওকিফে আসো ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন এবং মাওকিফে যাবার পূর্বেই বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছেন। অতএব তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে বল, তোমার কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা মত ‘আমল করা উচিত, না ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর কথা মত? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

206

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ওয়াবারাহ (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু উমার (রাযিঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করব অথচ আমি হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, কিসে তোমাকে বাঁধা দিচ্ছে? সে বলল, আমি অমুকের পুত্রকে দেখেছি, তিনি তা পছন্দ করেন না কিন্তু তার তুলনায় আপনি আমাদের অধিক প্রিয়। আমরা লক্ষ্য করছি যে, এ দুনিয়া তাকে প্রলুব্ধ করেছে। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যাকে দুনিয়া প্রলুব্ধ করেনি? অতঃপর তিনি বললেন, আমরা দেখেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধেছেন এবং বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন। অতএব তুমি সত্যবাদী হলে আল্লাহর হুকুম ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত অমুকের সুন্নাতের তুলনায় অনুসরণের বেলায় অগ্রগণ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

207

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু উমার (রাযিঃ) এর নিকট এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, উমরাহ করার উদ্দেশে আগমন করেছে, অতঃপর বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেছে কিন্তু সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেনি- সে কি তার স্ত্রীর সাথে মিলতে পারে? ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কাহ) আগমন করে সাতবার বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেন, মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করেন। আর তোমাদের জন্য অবশ্যই আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

208

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

209

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহ) ...... মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইরাকের অধিবাসী এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার পক্ষ থেকে আপনি উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করুন যে, এক ব্যক্তি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল, সে বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পর ইহরাম খুলতে পারবে কিনা? তিনি যদি আপনাকে বলেন, সে ইহরাম খুলতে পারবে না- তবে তাকে বলুন, এক ব্যক্তি বলেছে, সে ইহরাম খুলতে পারবে। রাবী বলেন, অতএব আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধেছে, সে তা সমাধান না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারবে না। আমি বললাম, কিন্তু এক ব্যক্তি তাই বলেছে। তিনি বললেন, সে যা বলছে তা দুঃখজনক। ইরাকের লোকটি আমার সাথে পুনরায় সাক্ষাৎ করলে আমি তাকে উপরোক্ত কথা বললাম। সে বলল, আপনি তাকে বলুন, কিন্তু এক ব্যক্তি বলে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করেছেন এবং আসমা (রাযিঃ) ও যুবায়র (রাযিঃ) অনুরূপ করেছেন কেন? রাবী বলেন, আমি তার নিকট গিয়ে এ বিষয় তাকে জানাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, তার কী হয়েছে যে, সে নিজে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করছে না? আমার মনে হয়, সে ইরাকী। আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সম্পর্কে আয়িশাহ (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে সর্বপ্রথম যে কাজ করেছেন তা ছিল এই যে, তিনি ওযু করেন, এরপর বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছেন, অতঃপর আবূ বকর (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন। তিনি (মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে) সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছেন এবং এরপর উমার (রাযিঃ)-ও অনুরূপ করেছেন। অতঃপর উসমান (রাযিঃ) হাজ্জ করেছেন। আমি তাকে সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে দেখেছি এবং এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ)-ও (অনুরূপ করেছেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রাযিঃ)-এর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। তিনিও সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছেন। এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর আমি মুহাজির ও আনসারদের অনুরূপ করতে দেখেছি। এছাড়া তারা অন্য কিছু করেননি। অতঃপর সর্বশেষে আমি যাকে অনুরূপ করতে দেখেছি, তিনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ)। তিনি হাজ্জকে উমরাহ দ্বারা ভঙ্গ করেননি। আর সে ইবনু উমর (রাযিঃ) তো তাদের মধ্যে বর্তমান আছে। তারা কেন তাকে জিজ্ঞেস করছে না? এভাবে যত লোক অতীত হয়েছে, তারা মাক্কায় (মক্কায়) পা রেখেই সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর তওয়াফ করতেন। অতঃপর তারা ইহরাম খুলতেন না। আর আমি, আমার মা [আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ)] ও আমার খালা [আয়িশাহ (রাযিঃ)]-কেও দেখেছি যে, তারা মাক্কা (মক্কায়) পৌঁছে প্রথমেই বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করেছেন। এরপরও ইহরাম খুলেননি। আমার মা (আসমা) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তার বোন (আয়িশাহ), যুবায়র (রাযিঃ) এবং অমুক অমুক শুধুমাত্র উমরার ইহরাম বেঁধে মাক্কায় (মক্কায়) এসেছেন এবং তারা (ত্বওয়াফ ও সাঈর পরে) রুকন (হাজারে আওসয়াদ) চুম্বন করার পর ইহরাম খুলেছেন। এ ব্যক্তি (ইরাকী) এ ব্যাপারে যা বলেছে, মিথ্যা বলেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

210

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে যেন ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমার সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তাই আমি ইহরাম খুলে ফেললাম। কিন্তু (আমার স্বামী) যুবায়র (রাযিঃ) এর সাথে কুরবানীর পশু ছিল, তাই তিনি ইহরাম খুলেননি। রাবী বলেন, আমি আমার স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করে বের হয়ে গিয়ে যুবাযর (রাযিঃ) এর পাশে বসলাম। তিনি বললেন, আমার নিকট থেকে উঠে যাও। আমি বললাম, তুমি কি আশংকা করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ব? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

211

আব্বাস ইবনু আবদুল আযম আল আম্বারী (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) পৌঁছলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু জুরায়জের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, যুবায়র (রাযিঃ) বললেন, “তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও, দূরে সরে যাও।” আমি (আসমা) বললাম, তুমি কি আশংকা করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ব?" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

212

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। আসমা (রাযিঃ) যখনই আল-হাজুন (হারাম শরীফের সীমার মধ্যে মাক্কার (মক্কার) উচ্চভূমিতে একটি পাহাড়) অতিক্রম করতেন, তখনই তিনি তাকে বলতে শুনতেন, সল্লাল্লাহু আলা রসূলহী (আল্লাহ তা'আলা তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুগ্রহ করুন)। আমরা তার সঙ্গে এখানে অবতরণ করেছিলাম, আমাদের বোঝা ছিল কম, বাহনের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং রসদও ছিল সামান্য। আমি, আমার বোন আয়িশাহ (রাযিঃ), যুবায়র (রাযিঃ) এবং আরও অমুক অমুক উমরাহ পালন করেছিলাম। আমরা যখনই বায়তুল্লাহ স্পর্শ করলাম, তখনই ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর তৃতীয় প্রহরে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলাম। অধঃস্তন রাবী হারূন তার রিওয়ায়াতে বলেছেন, “আসমা (রাযিঃ) এর মুক্তদাস” এবং তিনি 'আবদুল্লাহ' নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭০, ইসলামীক সেন্টার)

213

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুসলিম আল কুররী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট তামাত্তু হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি তার অনুমতি দিলেন কিন্তু ইবনু যুবায়র তা নিষেধ করতেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, এই তো ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর মা, তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করার অনুমতি দিয়েছেন। তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস কর। রাবী বলেন, আমরা তার কাছে গেলাম, তিনি ছিলেন স্থূলদেহী এবং তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুমতি দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭১, ইসলামীক সেন্টার)

214

ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... শু'বাহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অধঃস্তন রাবী আবদুর রহমানের বর্ণনায় “আল মুত‘আহ” উল্লেখ আছে- “মুত’আতুল হাজ্জ (হজ্জ/হজ)" নয় এবং ইবনু জাফার (রহঃ) এর বর্ণনায় শুবাহ (রহঃ) বলেন, মুসলিম আল কুররী (রহঃ) বলেছেন, তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) না মুত'আহ বিবাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তা আমি জানি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭২, ইসলামীক সেন্টার)

215

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... মুসলিম আল কুররী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার ইহরাম বাঁধলেন এবং তার সাহাবীগণ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ইহরাম খুলেননি। অন্যরা (তওয়াফ ও সাঈর পর) ইহরাম মুক্ত হয়ে গেলেন। যারা সাথে কুরবানীর পশু এনেছিলেন, তলহাহ্ (রাযিঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তিনিও ইহরাম খুলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

216

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় হাদীসের শেষাংশ এরূপঃ "যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, ত্বলহাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) এবং আরও এক ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তারা উভয়ে ইহরাম খুলে ফেলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

217

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন জাহিলী যুগে লোকেরা হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ পালন করাকে পৃথিবীর বুকে সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধ মনে করত এবং মুহাররম মাসকে ‘সফর মাস হিসেবে গণনা করত। তারা বলত, যখন উটের পিঠ ভালো হয়ে যাবে, হাজীদের পদচিহ্ন লুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফর মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ করতে চায়, তার জন্য তা করা জায়িয হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে যিলহাজের চার তারিখে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে তিনি তাদের হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ তাদের কাছে গুরুতর কাজ বলে মনে হল। অতএব তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে ইহরামমুক্ত হব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

218

নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবূল আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধলেন। তিনি যিলহাজ্জ মাসের ৪ তারিখের পর (মাক্কাহ (মক্কাহ) পৌছলেন এবং ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষে তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করতে চায়, সে তা করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

219

ইবরাহীম ইবনু দীনার, আবূ দাউদ আল মুবারাকী ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শু’বাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাওহ ও ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) এর বর্ণনায় নাসর (রহঃ) এর অনুরূপ কথা আছেঃ “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন।" আবূ শিহাব (রহঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ “আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম।" তাদের সকলের বর্ণনায় আছেঃ "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল বাত্বহা নামক স্থানে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন।” কিন্তু আল জাহযামী (রহঃ) এর বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

220

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের প্রথম) দশ দিনের চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মাক্কায় (মক্কায়) উপনীত হন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

221

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যি তুওয়া' নামক স্থানে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর (মাক্কা (মক্কা)-য়) পৌছলেন এবং তার সাহাবীগণের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন নিজেদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করে- কিন্তু যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে ব্যতীত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

222

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই সে উমরাহ যা থেকে আমরা ফায়দাহ উঠিয়েছি। অতএব যার সাথে কুরবানীর পশু নেই- সে যেন সম্পূর্ণরূপে ইহরাম খুলে ফেলে। কেননা উমরাকে কিয়ামত পর্যন্ত হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮০, ইসলামীক সেন্টার)

223

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জামরাহ্ আয যুবাঈ (রহঃ) বলেন, আমি তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করলাম। কতিপয় লোক আমাকে তা করতে নিষেধ করল। আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আমি বায়তুল্লাহতে আসলাম এবং ঘুমালাম। স্বপ্নে আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, উমরা কবুল হয়েছে এবং হাজ্জও কবুল হয়েছে। আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ স্বপ্লের কথা বললাম। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! এতো আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮১, ইসলামীক সেন্টার)

224

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর নিজের (কুরবানীর) উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বললেন এবং কুঁজের ডান দিক দিয়ে ফেড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হল। অতঃপর তিনি এর গলায় দু'টি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করলেন। অতঃপর তা যখন তাকে নিয়ে আল বায়দায় পৌছল, তখন তিনি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) তালবিয়াহ পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮২, ইসলামীক সেন্টার)

225

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে শুবাহ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অবশ্য তিনি এখানে বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফাহ এলেন তবে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন" এ কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

226

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হাসসান আ'রাজ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আল হুযায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলল, আপনি এ কী ফাতাওয়া দিচ্ছেন যা নিয়ে লোকেরা জটিলতায় পড়েছে? (তা এই) যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ এ তওয়াফ করবে, সে ইহরামমুক্ত হতে পারবে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, এটা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত, তা তোমাদের মনঃপুত হোক বা না হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

227

আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ... আবূ হাসসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলা হল, এ ব্যাপারটি লোকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করে, সে হালাল হয়ে যায় এবং তার ইহরাম উমরায় পরিণত হয় (যদিও হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম হয়ে থাকে)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, এটা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত যদিও তোমাদের নাক ধূলিমলিন হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

228

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি (মক্কায়) পৌছে) বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করল, সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেল- সে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পালনকারী হোক অথবা অন্য কিছু (উমরাহ) পালনকারী। আমি (ইবনু জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কালামের ভিত্তিতেঃ “অতঃপর এগুলো কুরবানীর স্থান মর্যাদাবান ঘরের নিকট”— (সূরা হাজ ২২ঃ ৩৩)। আমি বললাম, তা তো আরাফাহ থেকে ফেরার পর। তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন, (কুরবানীর স্থান সম্মানিত ঘরের নিকট) তা আরাফায় উকুফের পর হোক অথবা পূর্বে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কার্যক্রম থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং বিদায় হজ্জের সময়ে ইহরাম খোলার নির্দেশ দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

229

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি জান আমি কাঁচি দিয়ে মারওয়াহ পাহাড়ের নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল ছেটে দিয়েছি? আমি তাকে বললাম, এটা আপনার বিরুদ্ধে দলীল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

230

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) তাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি মারওয়াহ পাহাড়ে একটি কাঁচির সাহায্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল ছেটে দিয়েছি। অথবা আমি (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) মারওয়াহ পাহাড়ের উপর কাঁচির সাহায্যে তার মাথার চুল ছাঁটতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

231

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

232

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) ও আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা উচ্চস্বরে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাক্কায় (মক্কায়) উপনীত হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯০, ইসলামীক সেন্টার)

233

হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী (রহঃ) ..... আবূ নাযরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, (তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও মুত'আহ বিবাহ) সম্পর্কে ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর মধ্যে মতবিরোধ চলছে। জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তা করেছি। এরপর উমর (রাযিঃ) আমাদের তা করতে নিষেধ করেন। অতএব আমরা আর কখনও তা করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯১, ইসলামীক সেন্টার)

234

মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে আগমন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ উদ্দেশে ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি (উমরাহ করার পর) ইহরাম খুলে ফেলতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯২, ইসলামীক সেন্টার)

235

হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম (রহঃ) ..... সালীম ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

236

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

237

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “সে সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রাণ" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

238

হারমালাহ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

239

হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরাহ করেছেন এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সাথের উমরাহ ব্যতীত সকল উমরাহ্‌ই যুল কাদায় করেন। (১) হুদায়বিয়াহু থেকে বা হুদায়বিয়ার সময়ের উমরাহ যুল কাদাহ মাসে, (২) পরবর্তী বছরের উমরাহ যুল কাদাহ্ মাসে, (৩) জিরানাহ থেকে কৃত উমরাহ, যেখানে হুনায়নের গনীমাতের সম্পদ বণ্টন করা হয়েছিল, সে উমরাহ যুল কাদাহ্ মাসে এবং (৪) আর একটি উমরাহ যা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সাথে করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

240

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন? তিনি বললেন, একবার এবং উমরাহ করেছেন চারবার। ..... অবশিষ্ট বর্ণনা হাদ্দাবের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০০, ইসলামীক সেন্টার)

241

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে কয়বার যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, সতেরবার। রাবী বলেন, যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) আমাকে আরও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনিশবার যুদ্ধ করেছেন এবং তিনি হিজরাত করার পর একবার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন, তা হল বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ)। আবূ ইসহাক আরও বলেন, তিনি মাক্কাহ (মক্কাহ) থেকেও একবার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০১, ইসলামীক সেন্টার)

242

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ও ইবনু উমার (রাযিঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর ঘরে ঠেস দিয়ে বসেছিলাম এবং আমরা মিসওয়াক দিয়ে তার দাঁত মাজার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান (ইবনু উমার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি রজব মাসে উমরাহ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি (উরওয়াহ্) বললাম, হে আম্মা! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আবূ আবদুর রহমান কী বলছেন? তিনি বললেন, সে কী বলছে? আমি বললাম, তিনি বলছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে উমরাহ করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা আবূ ‘আবদুর রহমানকে ক্ষমা করুন। আমার জীবনের শপথ, তিনি রজব মাসে কখনও উমরাহ করেননি। আর তিনি যখনই উমরাহ করেছেন, অবশ্যই আবূ আবদুর রহমান তার সঙ্গে ছিল। রাবী বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) কথাগুলো শুনছিলেন, কিন্তু তিনি হ্যা-ও বলেননি এবং না-ও বলেননি, বরং নীরব ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০২, ইসলামীক সেন্টার)

243

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও উরওয়াহ ইবনু যুবায়র মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আয়িশার হুজরায় বসা ছিলেন এবং লোকেরা মসজিদে চাশতের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করছিল। আমরা এদের সালাত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা বিদ'আত। তাকে উরওয়াহ্ বললেন, হে আবূ আবদুর রহমান! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরাহ করেছেন? তিনি বললেন, চারটি উমরাহ, এর একটি রজব মাসে। আমরা তার কথা অসত্য মনে করা ও তা রদ করা অপছন্দ করলাম। আমরা হুজরাহ থেকে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মিসওয়াক করার শব্দ শুনতে পেলাম। উরওয়াহ বললেন, হে উম্মুল মু'মিনীন! আবূ আবদুর রহমান কী বলেছেন তা কি আপনি শুনছেন না? তিনি জিজ্ঞেস কররেন, সে কী বলে? উরওয়াহ্ বললেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরাহ করেছেন, এর একটি ছিল রজব মাসে। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা আবূ আবদুর রহমানকে রহম করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই উমরাহ করেছেন, সে তার সাথেই ছিল। তিনি কখনও রজব মাসে উমরাহ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৩, ইসলামীক সেন্টার)

244

আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ আয যাব্‌বী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সিনান নাম্নী এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে তোমাকে কিসে বাঁধা দিল? মহিলা বলল, অমুকের পিতা- তার স্বামীর দু'টি পানি বহনকারী উট আছে। এর একটি নিয়ে সে ও তার ছেলে হাজ্জে গিয়েছে। অপরটির সাহায্যে আমাদের গোলাম পানি বহন করছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে রমাযান মাসের উমরাহ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সমান কিংবা তিনি বলেছেন, আমাদের সঙ্গে একটি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সমান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৫, ইসলামীক সেন্টার)

245

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

246

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাজারার পথ দিয়ে (মাদীনাহ থেকে) বের হতেন এবং মু'আরাস এর পথ দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতেন। তিনি মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশকালে উচ্চ গিরিপথ দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং নিম্নপথ দিয়ে বের হতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৬, ইসলামীক সেন্টার)

247

যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রাবী বলেন, যুহায়রের রিওয়ায়াতে রয়েছে, বাতহার দিকের উচ্চপথ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৭, ইসলামীক সেন্টার)

248

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলেন, তখন উচ্চ এলাকা দিয়ে প্রবেশ করলেন এবং নীচু এলাকা দিয়ে বের হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৮, ইসলামীক সেন্টার)

249

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্ (মক্কা) বিজয়ের বছর মাক্কার (মক্কার) উচ্চভূমিতে অবস্থিত “কাদা” টিলা দিয়ে প্রবেশ করেন। হিশাম বলেন, আমার পিতা উভয় স্থান দিয়েই প্রবেশ করতেন, তবে অধিকাংশ সময় কাদা’ টিলা দিয়ে প্রবেশ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯০৯, ইসলামীক সেন্টার)

250

যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যী ত্বিওয়া নামক স্থানে ভোর পর্যন্ত রাত্রি যাপন করলেন, অতঃপর মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-ও তাই করতেন। ইবনু সাঈদের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, অথবা তিনি (উবায়দুল্লাহ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে সকাল পর্যন্ত অবস্থান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১০, ইসলামীক সেন্টার)

251

–(২২৭/...) আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু উমর (রাযিঃ) যী ত্বিওয়ায় ভোর পর্যন্ত রাত যাপন না করে মাক্কায় (মক্কায়) উপনীত হতেন না। তিনি (সেখানে) গোসল করতেন, অতঃপর দিনের বেলায় মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাই করতেন বলে তিনি বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১১, ইসলামীক সেন্টার)

252

মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) আগমন করলে প্রথমে যী ত্বিওয়ায় অবতরণ করতেন, সেখানে রাত যাপন করতেন, এরপর ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন (অতঃপর মাক্কাহ (মক্কা) শহরে প্রবেশ করতেন)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ সালাতের স্থান ছিল একটি অসমতল টিলার উপর, সেখানে নির্মিত মসজিদে নয়, বরং নিম্নদিকে অবস্থিত টিলায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১২, ইসলামীক সেন্টার)

253

মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার কাছে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ও কা'বার দীর্ঘ পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত দুই উপত্যকার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। টিলার পাশে নির্মিত মসজিদ তার বাঁ দিকে থাকত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের স্থান এ কালো টিলার পাদদেশে দশ হাত বা তার চেয়ে সামান্য কমবেশি দূরত্বে অবস্থিত ছিল। তিনি দুই টিলার দিকে মুখ করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন যা তার ও কা'বার পার্শ্ববতী বড় পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ছিল। তার উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৩, ইসলামীক সেন্টার)

254

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহয় প্রথমবারের ত্বওয়াফে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক পদক্ষেপে তওয়াফ করতেন। তিনি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর সময় (বাত্বনুল মাসীল) মাসীল উপত্যকার মধ্যবর্তী স্থানে দৌড়াতেন। ইবনু উমার (রাযিঃ)-ও তাই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৪, ইসলামীক সেন্টার)

255

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে হজ্জ ও উমরার জন্য বায়তুল্লাহর যে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করতেন, তাতে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক পদক্ষেপে সম্পন্ন করতেন। অতঃপর দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। অতঃপর সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৫, ইসলামীক সেন্টার)

256

আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে যখন হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতেন, তখন তিনি সাত চক্করের মধ্যে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে সমাধান করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৬, ইসলামীক সেন্টার)

257

আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু আবান আল জু'ফী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে এবং চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৭, ইসলামীক সেন্টার)

258

আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) হাজারে আসওয়াদ থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপে তওয়াফ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৮, ইসলামীক সেন্টার)

259

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ থেকে দ্রুত পদক্ষেপে তিন চক্কর দিয়েছেন এবং হাজারে আসওয়াদে পৌছে শেষ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯১৯, ইসলামীক সেন্টার)

260

আবূ ত্বাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত পদক্ষেপে হাজারে আসওয়াদ থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) সম্পন্ন করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৯২০, ইসলামীক সেন্টার)

261

আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, বায়তুল্লাহর চারদিক তিনবার দ্রুত গতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে প্রদক্ষিণ করা কি আপনি সুন্নাত মনে করেন? আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা তা সুন্নাত মনে করে। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্যও বলেছে। রাবী বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম- “তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে"- আপনার এ কথার ব্যাখ্যা কী? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) আগমন করলে মুশরিকরা বলল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণেরা শারীরিক দুর্বলতার কারণে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে সক্ষম হবে না। তারা তার প্রতি হিংসা পোষণ করত। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণকে দ্রুত পদক্ষেপে তিনবার এবং স্বাভাবিক গতিতে চারবার (বায়তুল্লাহ) প্রদক্ষিণ করার নির্দেশ দেন। আমি তাকে (পুনরায়) বললাম, আপনি আমাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সওয়ার অবস্থায় প্রদক্ষিণ সম্পর্কে অবহিত করুন, তা কি সুন্নাত? কারণ আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা মনে করে তা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে। আমি তাকে বললাম, “তারা সত্য বলেছে এবং অসত্যও বলেছে"- আপনার এ কথার ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) এলেন। তার আশেপাশে প্রচুর লোক সমাগম হলো। এমনকি যুবতী মেয়েরা পর্যন্ত (তাকে একটু দেখার জন্য) ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। লোকেরা বলাবলি করছিল, ইনি মুহাম্মাদ ইনি মুহাম্মাদ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে থেকে লোকদেরকে হটিয়ে দেয়া হতো না। তার আশেপাশে প্রচুর লোক সমাগম হবার কারণে তিনি (উটে) আরোহণ করেন, অথচ স্বাভাবিক গতিতে পদব্রজে যাওয়া ও সাঈ করা উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২১, ইসলামীক সেন্টার)

262

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আল জুরায়রী (রহঃ) সূত্রে অত্র সানাদে অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেন, “তারা মক্কাবাসী হিংসুক সম্প্রদায়।" তবে তিনি يَحْسُدُونَهُ বলেননি তারা তার সঙ্গে হিংসা করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২২, ইসলামীক সেন্টার)

263

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললাম, আপনার সম্প্রদায় বলে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফে ও সাফা মারওয়ার সাঈতে রামাল করেছেন, আর এটা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং অসত্য বলেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৯২৩, ইসলামীক সেন্টার)

264

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ..... আবুত্ব-তুফায়ল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললাম, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখছি। তিনি বললেন, আমার কাছে তার বিবরণ পেশ কর। তিনি বললেন, আমি তাকে মারওয়ার নিকট একটি উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় দেখেছি। তার চারপাশে লোকের ভীড় ছিল। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ, তিনিই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কারণ সাহাবীগণের তাড়িয়ে দেয়া হতো না এবং তাদের ধমকও দেয়া হতো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৪, ইসলামীক সেন্টার)

265

আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ মাক্কায় (মক্কায়) আগমন করলেন। ইয়াসরিবের জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মুশরিকরা বলল, আগামীকাল তোমাদের এখানে একদল লোক আসবে- যাদেরকে জ্বরে দুর্বল করে দিয়েছে এবং তারা তাতে ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়েছে। মুশরিকরা হাতীম-এ বসে থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তিন চক্কর দ্রুতপদে এবং হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মাঝখানে স্বাভাবিক গতিতে চলে- যাতে মুশরিকদেরকে তাদের বীরত্ব দেখানো যায়। মুশরিকরা বলল, তোমরা তো এদের সম্পর্কে ধারণা করেছিলে যে, জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে অথচ তারা এমন শক্তিশালী। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সাত চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেননি (যাতে তারা ক্লান্ত হয়ে না যায়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৫, ইসলামীক সেন্টার)

266

আমর আন নাকিদ, ইবনু আবূ উমার ও আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য দ্রুত পদক্ষেপে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছেন- যাতে তিনি মুশরিকগণকে স্বীয় শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৬, ইসলামীক সেন্টার)

267

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ্ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দুই ইয়ামানী রুকন ব্যতীত বায়তুল্লাহর অন্য কিছু স্পর্শ করতে দেখিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৭, ইসলামীক সেন্টার)

268

আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) তার পিতার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকনে আসওয়াদ (হাজারে আসওয়াদ সংযুক্ত কোণ) এবং তৎসংলগ্ন দিকের কোণ যা জুমাহী গোত্রের বসতির দিকে অবস্থিত, ব্যতীত বায়তুল্লাহর আর কোন রুকন স্পর্শ করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৮, ইসলামীক সেন্টার)

269

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ....... 'আবদুল্লাহ (ইবনু উমর) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কিছু স্পর্শ করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯২৯, ইসলামীক সেন্টার)

270

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ দুই রুকন অর্থাৎ ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ কোণ স্পর্শ করা পরিত্যাগ করিনি- যখন থেকে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা স্পর্শ করতে দেখেছি। তা কষ্টকর বা সুবিধাজনক যে কোন অবস্থায় হোক না কেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩০, ইসলামীক সেন্টার)

271

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে হাজারে আসওয়াদ স্বহস্তে স্পর্শ করে তাতে চুমু খেতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে দিন তা করতে দেখেছি- তখন থেকে আমি তা কখনো পরিত্যাগ করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩১, ইসলামীক সেন্টার)

272

আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল আল বাকরী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুই রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত কখনও অন্য কিছু স্পর্শ করতে দেখিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩২, ইসলামীক সেন্টার)

273

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে। তার পিতা তাকে বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করে বললেন, আল্লাহর শপথ আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র। আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। অনুরূপ একটি হাদীস যায়দ ইবনু আসলাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

274

মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকদ্দামী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাযিঃ) হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে চুম্বন করছি বটে কিন্তু অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর পাত্র। কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৪, ইসলামীক সেন্টার, নেই)

275

খালাফ ইবনু হিশাম, আল মুকদ্দামী, আবূ কামিল ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লৌহ মানব অর্থাৎ উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) কে কৃষ্ণ পাথর হাজারে আসওয়াদ চুমো দিতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই তোমাকে চুম্বন করব এবং আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও ক্ষতিও করতে পার না এবং উপকারও করতে পার না। আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমায় চুম্বন করতাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

276

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবিস ইবনু রবীআ'হ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার (রাযিঃ) কে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আমি অবশ্যই তোমায় চুম্বন করছি এবং আমি জানি যে, তুমি অবশ্যই একটি পাথর। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি কখনও তোমায় চুম্বন করতাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

277

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সুওয়ায়দ ইবনু গাফালাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করতে এবং তা জড়িয়ে ধরতে দেখেছি। তিনি বলেছেন, আমি তোমার প্রতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গভীর ভালোবাসা লক্ষ্য করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

278

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... সুফইয়ান (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, "উমর (রাযিঃ) বলেছেন, কিন্তু আমি আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমার প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতে দেখেছি। এ বর্ণনায় “তিনি তা জড়িয়ে ধরলেন” কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৯৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

279

আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করেন এবং একটি ছড়ির (মিহজান) সাহায্যে রুকন (পাথর) স্পর্শ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

280

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীর উপর থেকে (বায়তুল্লাহ) ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেন এবং তার ছড়ির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করেন- যেন লোকেরা তাকে দেখতে পায়। তিনি উঁচুতে থাকেন যাতে তারা তাকে মাসআলাহ-মাসায়িল জিজ্ঞেস করতে পারে, কেননা তিনি লোক দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪০, ইসলামীক সেন্টার)

281

আলী ইবনু খাশরম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ বিদায় হাজ্জে (হজ্জে/হজে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন- যাতে লোকেরা তাকে দেখতে পায়, তিনি সবার উপরে থাকেন এবং তার নিকট তারা (প্রয়োজনের বিষয়) জিজ্ঞেস করতে পারে। কারণ লোকেরা তাকে বেষ্টন করে রেখেছিল। ইবনু খাশরমের বর্ণনায় "তারা যেন তাকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে" কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪১, ইসলামীক সেন্টার)

282

হাকাম ইবনু মূসা আল কানত্বারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটে সওয়ার হয়ে কাবার চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করেন এবং রুকন স্পর্শ করেন- লোকদের তার নিকট থেকে হটিয়ে দেয়াটা অপছন্দ হওয়ার কারণে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪২, ইসলামীক সেন্টার)

283

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মা’রূফ ইবনু খাররাবুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ তুফায়ল (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে, তার সাথের লাঠি দিয়ে রুকন স্পর্শ করতে এবং লাঠিতে চুম্বন করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

284

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানলাম। তিনি বললেন, তুমি সওয়ার অবস্থায় লোকদের পেছন থেকে তওয়াফ কর। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি (সেভাবে) তওয়াফ করলাম- তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর পাশে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করছিলেন। আর তিনি তাতে তিলাওয়াত করছিলেনঃ আত্ব তুর, ওয়া কিতাবিম্ মাস্‌তুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৯৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

285

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে তার পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে বললাম, আমি মনে করি কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ না করলে তার কোন ক্ষতি হবে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? আমি বললাম, কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ 'সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ......... "— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)। তখন আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে আল্লাহ তার হাজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ করেন না। তুমি যা বলেছ যদি তাই হতো তবে আয়াতটি এভাবে হতো, “ঐ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন অসুবিধা নেই।" তুমি কি জান ব্যাপারটি কী ছিল? ব্যাপার তো ছিল এই যে, আনসারগণ জাহিলী যুগে দু'টি প্রতিমার নামে সমুদ্রের তীরে ইহরাম বাঁধত। একটির নাম ইনসাফ, অপরটির নাম নায়িলাহ। তারা এসে সাফা-মারওয়াহ সাঈ করত। অতঃপর মাথা কামাতো। ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা জাহিলী যুগে যা করত, সে কারণে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা খারাপ মনে করল। তাই আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম .........।" অতঃপর লোকেরা সাঈ করে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

286

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললাম, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে এতে আমার জন্য কোন দোষ মনে করি না। তিনি বললেন, কেন? আমি বললাম, কেননা মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ “সাফা মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম .....।" তখন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, তুমি যেরূপ বলছ, যদি তাই হতো, তবে আয়াতের বক্তব্য এরূপ হতোঃ “এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন দোষ নেই।" এ আয়াত আনসারদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়। জাহিলী যুগে তারা যখন লাব্বায়কা বলত- তা মানাৎ দেবীর নামে লাব্বায়কা ধ্বনি করত। তাই তারা মনে করত যে, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা তাদের জন্য ঠিক নয়। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (বিদায়) হজ্জে এসে তার নিকট এ বিষয়ে উল্লেখ করলে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। অতএব আমার জীবনের শপথ! যে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে- আল্লাহ তার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) পূর্ণ করবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

287

আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে বললাম, কোন ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে এতে আমি দোষের কিছু দেখি না এবং আমি নিজেও এতদুভয়ের মাঝে সাঈ বর্জন করায় কিছু মনে করি না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে বোনপুত্র! তুমি যা বলেছ তা মন্দ বলেছ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাফা-মারওয়ার মাঝে) ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) (সাঈ) করেছেন এবং মুসলিমরাও ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেছে। অতএব তা সুন্নাত। যে সব লোক (জাহিলী যুগে) 'মুশাল্লাল’ নামক স্থানে অবস্থিত নাফরমান মানাৎ দেবীর নামে ইহরাম বাঁধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তখন আল্লাহ তা’আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন, “সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কাবাহ ঘরের হাজ্জ কিংবা উমরাহ্ পালন করে, এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ করলে এতে তার কোন পাপ নেই ......... "— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)। তুমি যা বলেছ, ব্যাপারটি যদি তদ্রপ হতো তবে বলা হতো, “এ দু'টির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করলে তার কোন পাপ নেই।” ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গটি আমি আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশামের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি তাতে বিস্মিত হলেন এবং বললেন, এর নামই জ্ঞান। তিনি আরও বললেন, জ্ঞানবান সমাজের অনেক লোককে বলতে শুনেছি- সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ বর্জনকারী আরবের অধিবাসীরা বলত, এ দুই পাথরের মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করা জাহিলী যুগের কাজ। আর আনসার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলত, আমাদেরকে বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন : “সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।" আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান বলেন, আমিও মনে করি যে, উল্লেখিত দুই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

288

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে- তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কে খারাপ মনে করি। তখন আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেনঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ কিংবা উমরাহ পালন করে- এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই।" আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতদুভয়ের মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন। অতএব এতদুভয়ের মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) বর্জন করার কারো অধিকার নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

289

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, আনসার সম্প্রদায় ও গাসসান গোত্রের নিয়ম ছিল, তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধত। অতএব তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে পাপ মনে করত। এটা ছিল তাদের পূর্ব-পুরুষদের রীতি যে, তাদের কোন ব্যক্তি মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধলে সাফা মারওয়ার মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করত না। তারা ইসলাম গ্রহণের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন এ প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ নাযিল করেনঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করে, এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে আল্লাহ পুরস্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

290

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফকে খারাপ কাজ মনে করত। অতএব এই সঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়ঃ "সাফা-মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করে এতদুভয়ের মাঝে ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলে, তার কোন দোষ নেই ..... ” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫০, ইসলামীক সেন্টার)

291

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে একবারের অধিক সাঈ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫১, ইসলামীক সেন্টার)

292

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "একবার মাত্র সাঈ (সাত চক্কর), তা হচ্ছে প্রথমবারের সাঈ।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫২, ইসলামীক সেন্টার)

293

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

294

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) .... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় ফযলকে বাহনে তাঁর পিছনে বসলেন। রাবী বলেন, এরপর ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

295

কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে তার ভাই ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনে তার সফরসঙ্গী ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে সন্ধ্যাবেলা এবং মুযদালফায় ভোরবেলা লোকদের উদ্দেশে বললেন, যখন তারা অগ্রসর হচ্ছিল- “তোমরা ধীরে-সুস্থে অগ্রসর হও।" তিনিও নিজ উটের গতি ধীর করে অগ্রসর হচ্ছিলেন এবং এভাবে মুহাসসির পৌছলেন- যা মিনার অন্তর্গত। তিনি (এখানে) বললেন, তোমরা নুড়ি পাথর তুলে নাও যা জামরায় নিক্ষেপ করা হয়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

296

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী এ কথাটি উল্লেখ করেননি- "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত অনবরত তালবিয়াহ্ পাঠ করতে থাকলেন।" কিন্তু এতে উল্লেখ আছেঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন (নিক্ষেপের জন্য) নুড়ি কিভাবে ধরবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

297

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মুযদালিফায় (সমবেত) ছিলাম। এ সময় যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে, তাকে এ স্থানে বলতে শুনলামঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

298

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

299

ইউসুফ ইবনু হাম্মদ আল মা'নী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কে মুযদালিফায় বলতে শুনেছি যে, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে, তাকে আমি বলতে শুনেছিঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।” এরপর তিনি (ইবনু মাসউদ) তালবিয়াহ পাঠ করলেন এবং আমরাও তার সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬০, ইসলামীক সেন্টার)

300

আহমাদ ইবনু হাম্বাল, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা সকালবেলা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিনা থেকে আরাফার দিকে রওনা হলাম, তখন আমাদের মধ্যে কতক তালবিয়াহ পাঠকারী এবং কতক তাকবীর পাঠকারী ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬১, ইসলামীক সেন্টার)

301

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আরাফাহ দিবসের সকালবেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করছিল, আর কতক তালবিয়াহ পাঠ করেছিল। আমরা তাকবীর ধ্বনি করেছি। অধঃস্তন রাবী (আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সালামাহ) বলেন, আমি (আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহকে) বললাম, কী আশ্চর্য আপনি তাকে (আবদুল্লাহ ইবনু উমার) কেন জিজ্ঞেস করলেন না যে, আপনি এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কী করতে দেখেছেন? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬২, ইসলামীক সেন্টার)

302

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আস্ সাক্বাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর সাথে সকালবেলা মিনা থেকে আরাফায় যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা এ দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কিভাবে কী করতেন? তিনি বললেন, আমাদের কতক তালবিয়াহ পাঠ করত কিন্তু তাতে বাঁধা দেয়া হতো না এবং কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করত কিন্তু তাতেও বাঁধা দেয়া হতো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

303

সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাহ দিবসের সকালবেলা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিন আপনারা তালবিয়ার ক্ষেত্রে কী বলতেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি ও তার সাহাবীগণ এ পথ ভ্রমণ করেছি। আমাদের কতক 'আল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেছে এবং কতক তালবিয়াহ্ (লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা) উচ্চারণ করেছে। এতে আমাদের কেউ কারো দোষ ধরেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

304

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব থেকে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, পাহাড়ের সরু পথের নিকট পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন, এরপর হালকা ওযু করলেন, পূর্ণ ওযু নয়। আমি তাকে বললাম, সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। এরপর তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, মুযদালিফায় পৌছে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। এরপর সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং (এখানে) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর প্রত্যেকে নিজ নিজ উট বসাল (বিশ্রামের জন্য), এরপর ইশার সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং তিনি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। এ দুই সালাতের মধ্যে তিনি অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

305

মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য কোন এক গিরিপথে গেলেন। এরপর আমি তার ওযুর পানি ঢেলে দিলাম, এরপর বললাম, সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন কি? তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

306

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি গিরিপথের নিকটে পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন। উসামাহ্ এ কথা বলেননি যে, তিনি পানি ঢেলে দিয়েছেন। বরং বলেছেন, তিনি পানি চাইলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালাত তো তোমার সম্মুখে রয়েছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলতে থাকলেন এবং মুযদালফায় পৌছলেন। এরপর মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

307

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার বাহনে আরোহণ করলেন, তখন 'আরাফাহ দিবসের সন্ধ্যায় আপনারা কী করেছিলেন? তিনি বললেন, যে উপত্যকায় লোকেরা মাগরিবের সময় নিজের উটকে (বিশ্রামের জন্য) বসায়, সেখানে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট বসালেন এবং পেশাব করলেন। উসামাহ্ (রাযিঃ) পানি ঢেলে দেয়ার কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চেয়ে আনলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি বললেন, সালাত তোমার সম্মুখে। এরপর তিনি সওয়ার হয়ে রওনা করলেন। অবশেষে আমরা মুযদালিফায় আসলাম। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। লোকেরা নিজ নিজ স্থানে উট বসাল কিন্তু মাল-সামান খুলল না, এমনকি ইশার সালাতে দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর লোকেরা মাল-সামান নামাল। আমি (কুরায়ব) বললাম, ভোর হওয়ার পর আপনারা কী করলেন? তিনি (উসামাহ) বললেন, ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার বাহনে (তার পিছনে) সওয়ার হলেন এবং আমি কুরায়শদের অগ্রভাগে পদব্রজে রওনা হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

308

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে উপত্যকায় মাক্কার (মক্কার) সম্রান্ত লোকেরা অবতরণ করত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবতরণ করে পেশাব করলেন। তিনি পানি ঢেলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চাইলেন এবং হালকা ওযু করলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সালাত (সালাত/নামাজ/নামায)। তিনি বললেন, সালাত সামনে এগিয়ে আদায় করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

309

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীতে পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উপত্যকায় পৌছে তিনি তাঁর উটনী বসলেন, এরপর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন। তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি ওযু করলেন, এরপর সওয়ার হলেন এবং মুযদালিফায় পৌছে তিনি মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একত্রে আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭০, ইসলামীক সেন্টার)

310

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আরাফাহ্ থেকে প্রত্যাবর্তনের জন্য রওনা হলেন। উসামাহ (রাযিঃ) তার পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। উসামাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি মুযদালিফায় পৌছা পর্যন্ত অনবরত চলতে থাকলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭১, ইসলামীক সেন্টার)

311

আবূ রবী' আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, উসামাহ্ (রাযিঃ) কে আমার উপস্থিতিতে জিজ্ঞেস করা হল অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) আমি উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে ছিলেন, তখন তিনি কিভাবে চলেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি ধীর গতিতে সওয়ারী চালালেন, যখন খোলা জায়গা পেলেন, তখন দ্রুতগতিতে হাকালেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭২, ইসলামীক সেন্টার)

312

আবূ বাকর ইবনু আবূ শয়বাহ্ (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হুমায়দের রিওয়ায়াতে আছে, রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, عَنَق এর চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে চলাকেنَّصُّ বলা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

313

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

314

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একত্রে আদায় করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

315

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার পিতা বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একত্রে আদায় করেছেন। তিনি এ দুই সালাতের মধ্যে অন্য কোন সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) (সুন্নাত বা নাফল) আদায় করেননি। তিনি মাগরিব তিন রাকাআত এবং ইশা দু'রাকাআত আদায় করেছেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ)-ও (মুযদালিফায়) অনুরূপভাবে সালাত আদায় করতেন এবং এ অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৯৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

316

মুহাম্মাদ ইবনলু মুসান্না (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (মুযদালিফায়) মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) এক ইকামাতে একই সাথে আদায় করেছেন। এরপর তিনি ইবনু উমার (রাযিঃ) সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনিও অনুরূপভাবে সালাত আদায় করেছেন। আর ইবনু উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

317

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শু’বাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে, “তিনি একই ইকামাতে দু' ওয়াক্তের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

318

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুযদালফায়) মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) একত্রে (একই সময়ে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নিয়্যাতে) আদায় করেছেন। তিনি এক ইকামাতেই মাগরিবের সালাত তিন রাকাআত এবং ইশার সালাত দু'রাকাআত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮০, ইসলামীক সেন্টার)

319

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সাথে (আরাফাহ থেকে মুযদালফায়) এলাম। তিনি আমাদের সাথে মাগরিব ও ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) এক ইকামাতে আদায় করেন। সালাত শেষ করে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে আমাদের নিয়ে এভাবে সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮১, ইসলামীক সেন্টার)

320

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নির্ধারিত ওয়াক্তেই সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে দেখেছি। তবে মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করেছেন এবং রাতের ভোরে ফজরের সালাত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অর্থাৎ ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮২, ইসলামীক সেন্টার)

321

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনার শেষাংশ নিম্নরূপঃ "ওয়াক্ত হবার সাথে সাথেই অন্ধকারের মধ্যে তা আদায় করেছেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

322

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদাহ (রাযিঃ) মুযদালিফার রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগেই এবং রাস্তায় জনতার ভিড় হবার পূর্বেই মিনার উদেশে যাত্রার জন্য তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি ছিলেন স্থূলদেহী। (অধঃস্তন রাবী) আল-কাসিম বলেন, الثَّبِطَةُ শব্দের অর্থ الثَّقِيلَةُ (ভারী)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। অতএব তিনি তার আগেই রওনা হয়ে গেলেন এবং আমরা ফাজর (ফজর) পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলাম। তারপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলাম। আমিও যদি সাওদাহ (রাযিঃ) এর মতো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি নিয়ে আগে ভাগে চলে যেতাম, তবে তা আরও আনন্দদায়ক হতো- যে আনন্দ এখন আমি অনুভব করছি, তার তুলনায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

323

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদাহ (রাযিঃ) ছিলেন ভারী ও স্থূলদেহী। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুযদালিফাহ্ থেকে রাত থাকতেই প্রস্থান করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, হায়! যদি সাওদাহ্ (রাযিঃ) এর মতো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমিও অনুমতি প্রার্থনা করতাম! আয়িশাহ (রাযিঃ) ইমামের সাথে মুযদালিফাহ্ হতে রওনা হতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

324

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ...... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম আমিও যদি সাওদাহ (রাযিঃ) এর অনুরূপ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতাম। তিনি মিনায় পৌছে ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেন এবং লোকদের পৌছার পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলা হল, সাওদাহ (রাযিঃ) কি তার নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি ছিলেন স্থূলদেহী এবং ভারী, তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

325

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ‘আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

326

মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকদ্দামী (রহঃ) ... আসমা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আসমা (রাযিঃ) মুযদালিফাহ অবস্থানকালে জিজ্ঞেস করলেন, চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। পরে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সাথে রওনা হও। আমরা রওনা হলাম এবং জামরাহ (পৌছে) তিনি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, এরপর নিজের তাঁবুতে সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, হে সম্মানিত মহিলা! আমরা খুব ভোরে রওনা হয়েছিলাম। তিনি বললেন, কোন অসুবিধা নেই হে বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের খুব ভোরে রওনা হবার অনুমতি দিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

327

‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছেঃ "আসমা (রাযিঃ) বলেন, হে বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীকে অনুমতি দিয়েছিলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

328

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ... (সালিম) ইবনু শাওওয়াল (রহঃ) উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত থাকতেই তাকে মুযদালিফাহ থেকে মিনায় (পাঠিয়ে দেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯০, ইসলামীক সেন্টার)

329

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... সালিম ইবনু শাওওয়াল সূত্রে উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আমল থেকে এরূপ করতাম, অর্থাৎ রাতের অন্ধকারেই মুযদালিফাহ্ থেকে মিনায় চলে আসতাম। নাকিদ এর বর্ণনায় আছে, “মুযদালিফাহ থেকে আমরা রাতের অন্ধকারেই রওনা হতাম।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯১, ইসলামীক সেন্টার)

330

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মালপত্র নিয়ে অথবা (অপর বর্ণনা অনুযায়ী) দুর্বল লোকদের সাথে রাত থাকতেই মুযদালিফাহ থেকে (মিনার উদ্দেশে) পাঠিয়ে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯২, ইসলামীক সেন্টার)

331

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের যে দুর্বলদের (মুযদালিফাহ্ থেকে) সর্বাগ্রে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

332

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্‌ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের যে দুর্বলদের আগেভাগে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের সাথে ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

333

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার মালপত্র নিয়ে ভোর রাতে মুযদালিফাহ থেকে (মিনায়) পাঠিয়ে দেন। আমি (ইবনু জুরায়জ) আত্বাকে বললাম, আপনি জানেন কি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে গভীর রাতে পাঠিয়েছেন"? তিনি বললেন, না, কেবল ভোর রাতের কথাই আমি জানি। আমি তাকে পুনরায় বললাম, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, “আমরা ফজরের সালাতের পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছি।” তাহলে তিনি ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) কোথায় আদায় করেছেন? আতা বললেন, না, আমি এতটুকুই জানি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

334

আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিম ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার সাথের দুর্বল লোকদেরকে মুযদালিফার নিকটবর্তী স্থান মাশ'আরুল হারামে রাতে অবস্থানের জন্য আগে ভাগেই পাঠিয়ে দিতেন। অতএব তারা রাতের বেলা যতক্ষণ ইচ্ছা আল্লাহর যিকর করত। ইমামের অবস্থান ও ফিরে আসার পূর্বেই তারা (এখান থেকে) রওনা হতো। অতএব তাদের মধ্যে কেউ ফজরের সালাতের সময় মিনায় পৌছত এবং কেউ ফজরের সালাতের পরে। তারা এখানে পৌছে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করত। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্বল ও বৃদ্ধদের এ অনুমতি প্রদান করেছেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

335

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্‌ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) উপত্যকার মধ্যখানে দাঁড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং প্রতিটি পাথরের সাথে তাকবীর বলেছেন। রাবী বলেন, তাকে বলা হল, লোকেরা তো উচ্চ স্থানে দাঁড়িয়ে পাথর নিক্ষেপ করে। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বললেন, সে সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, এ সেই স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সূরা আল বাকারাহ নাযিল হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

336

মিনজাব ইবনু হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলতে শুনেছি; জিবরীল (আঃ) যে ক্রমবিন্যাসে কুরআন মাজীদ সাজিয়েছেন, তোমরা তদনুযায়ী তা সুবিন্যস্ত কর। যেমন, প্রথম সে সূরা যার মধ্যে গাভী সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। এরপর যে সূরায় মহিলাদের সম্পর্কে, এরপর সে সূরা যার মধ্যে ইমরান পরিবার সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। আ'মাশ (রহঃ) বলেন, এরপর আমি ইবরাহীমের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে হাজ্জাজের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি তাকে গালি দিলেন। এরপর বললেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ আমাকে বলেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর সাথে ছিলেন। তিনি জামরাতুল আকাবায় এলেন, উপত্যকার মাঝে দাঁড়ালেন এবং জামরাহকে নিজের সম্মুখভাগে রাখলেন, এরপর উপত্যকার মাঝে দাঁড়িয়ে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, প্রত্যেকবার নিক্ষেপের সাথে সাথে 'আল্ল-হু আকবার' বললেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান লোকেরা উপত্যকার উপরিভাগ থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। তিনি বললেন, সে সত্তার শপথ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, এ সেই স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সুরাহ আল বাকারাহ নাযিল হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

337

ইয়াকুব আদ দাওরাকী ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি, তোমরা বল না সূরাতুল বাকরাহ ..... এরপর ইবনু মুসহির বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

338

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাযিঃ) এর সাথে হজ্জ করেন। রাবী বলেন, তিনি (আবদুল্লাহ) জামরায় সাতটি কাকর নিক্ষেপ করেন- বায়তুল্লাহকে বামদিকে এবং মিনাকে ডানদিকে রেখে এবং তিনি বলেন, এই সে স্থান যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সূরা আল বাকারাহ নাযিল করা হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০১, ইসলামীক সেন্টার)

339

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, “তিনি (আবদুল্লাহ) যখন জামরাতুল আকাবায় এলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০১, ইসলামীক সেন্টার)

340

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাযিঃ) কে বলা হল, লোকেরা আকাবার উচ্চভূমি থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ) উপত্যকার মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে তা নিক্ষেপ করলেন। এরপর তিনি বলেন, সে সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই, যার উপর সূরা আল বাক্বারাহ নাযিল হয়েছে, তিনি এই স্থান থেকে কাঁকর নিক্ষেপ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ৩০০২. ইসলামীক সেন্টার)

341

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেনঃ “আমার নিকট থেকে তোমরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) নিয়ম-কানুন শিখে নাও। কারণ আমি জানি না- এ হাজ্জের পর আমি আর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে পারব কিনা।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৩, ইসলামীক সেন্টার)

342

সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... উম্মুল হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি এবং আমি দেখেছি, তিনি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করে সওয়ারীতে চড়ে ফিরে আসেন এবং তার সাথে ছিলেন বিলাল ও উসামাহ্ (রাযিঃ)। তাদের একজন উটের লাগাম ধরে তা টেনে নিচ্ছিলেন এবং অপরজন সূর্যের তাপের কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার উপর কাপড় ধরে রাখছিলেন। উম্মুল হুসায়ন (রাযিঃ) আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক কথা বললেন। এরপর আমি তাকে বলতে শুনেছি- যদি নাক-কান কাটা কোন কাফ্রী (কালো) ক্রীতদাসকেও তোমাদের নেতা নিয়োগ করা হয় এবং সে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করে, তবে তার (নির্দেশ) শোন এবং আনুগত্য কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৪, ইসলামীক সেন্টার)

343

আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ... উম্মুল হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। আমি উসামাহ্ ও বিলালকে দেখেছি যে, তাদের একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটের লাগাম ধরে আছেন এবং অপরজন কাপড় দিয়ে তাকে রৌদ্র তাপ থেকে ছায়া দান করছেন। এমতাবস্থায় তিনি জামরায় কাঁকর নিক্ষেপ করেন। ইমাম মুসলিম বলেন, আবূ আবদুর রহীমের নাম খালিদ ইবনু আবূ ইয়াযীদ যিনি মুহাম্মাদ ইবনু সালামার মামা ওয়াকী’ এবং হাজ্জাজ আ'ওয়ার তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৫, ইসলামীক সেন্টার)

344

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জামরায় ক্ষুদ্র পাথর নুড়ি (পাথর) নিক্ষেপ করতে দেখেছি (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৬, ইসলামীক সেন্টার)

345

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন, পুনরায় দ্বিপ্রহরের পরে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৭, ইসলামীক সেন্টার)

346

আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৮, ইসলামীক সেন্টার)

347

সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইস্তিঞ্জায় ব্যবহৃত ঢিলার সংখ্যা বেজোড়, জামরায় নিক্ষিপ্ত পাথরের সংখ্যা বেজোড়, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর সংখ্যা বেজোড় এবং ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)ও বেজোড়। অতএব তোমাদের যে কেউ যখন ইস্তিঞ্জায় ঢিলা ব্যবহার করবে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ব্যবহার করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৯, ইসলামীক সেন্টার)

348

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ও কুতায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (ইবনু উমার) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুণ্ডন করলেন। তার কিছু সংখ্যক সাহাবীও মাথা মুণ্ডন করলেন আর কিছু সংখ্যক চুল খাটো করলেন। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অথবা দু’বার বললেনঃ যারা মাথা মুণ্ডন করেছে, আল্লাহ তাদের উপর অনুগ্রহ করুন। অতঃপর তিনি বললেনঃ যারা চুল খাটো করেছে, তাদের উপরও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১০, ইসলামীক সেন্টার)

349

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদের প্রতিও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। তারা বললেন, চুল খাটোকারীদের জন্যও (দু’আ করুন) হে আল্লাহ রসূল! তিনি বললেন, এবং চুল খাটোকারীদের প্রতিও। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুফইয়ান এ হাদীসটি মুসলিম ইবনু হাজ্জাজ-এর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১১, ইসলামীক সেন্টার)

350

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের জন্য (দু’আ করুন)। তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে আল্লাহ রহম করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের জন্যও। তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল ছোটকারীদের প্রতিও। তিনি বললেন, চুল ছোটকারীদের প্রতিও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১২, ইসলামীক সেন্টার)

351

ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণনায় আছে, "চতুর্থবারে তিনি বললেনঃ চুল খাটোকারীদের উপরও (রহম করুন)।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৩, ইসলামীক সেন্টার)

352

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে ক্ষমা করুন। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদের (ক্ষমার জন্য দু'আ করুন)। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদেরও। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের গুনাহ মাফ করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চুল খাটোকারীদেরও। তিনি বললেন, চুল খাটোকারীদেরও (গুনাহ ক্ষমা করুন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৪, ইসলামীক সেন্টার)

353

উমাইয়াহ ইবনু বিসত্বাম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরোক্ত হাদীসে অনরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৫, ইসলামীক সেন্টার)

354

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু হুসায়ন (রহঃ) থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদী) বিদায় হজ্জকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার এবং চুল খাটোকারীদের জন্য একবার দুআ করতে শুনেছেন। ওয়াকীর বর্ণনায় বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ)' কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৬, ইসলামীক সেন্টার)

355

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জকালে নিজের মাথার চুল মুণ্ডন করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৭, ইসলামীক সেন্টার)

356

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় এলেন, অতঃপর জামরায় এসে পাথর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি মিনায় নিজ স্থানে ফিরে এলেন এবং কুরবানী করলেন। অতঃপর হাজ্জাম (ক্ষৌরকার)-কে ইশারায় বললেনঃ মাথার ডান পাশ থেকে শুরু কর, অতঃপর বাম পাশ। অতঃপর তিনি লোকদেরকে নিজের চুল দান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৮, ইসলামীক সেন্টার)

357

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ বাকর (রহঃ) তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারা দিয়ে হাজ্জামকে মাথার ডান পাশ থেকে শুরু করতে বললেন। অতঃপর তিনি কাছের লোকদের মাঝে নিজের মাথার চুল দান (বণ্টন) করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি হাজ্জামকে মাথার বাম পাশের চুল কাটার ইঙ্গিত করলেন। সে তাই করল। এ চুলগুলো তিনি উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ)-কে দান করলেন। আর আবূ কুরায়বের বর্ণনায় আছেঃ হাজ্জাম ডান পাশ থেকে ক্ষৌরকার্য শুরু করল। তিনি লোকদের একটি দু'টি করে চুল দিলেন। অতঃপর বাঁ পাশের চুল কাটার নির্দেশ দিলেন এবং সে তাই (মাথা মুণ্ডন) করল। অতঃপর তিনি বললেনঃ আবূ তুলহাহ! এখানে আসো। অতএব তিনি এবারের চুলগুলো তাকে দান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০১৯, ইসলামীক সেন্টার)

358

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর কুরবানীর উটের নিকট ফিরে এসে তা যাবাহ করলেন। হাজ্জাম নিকটেই বসা ছিল। তিনি মাথার দিকে হাতের ইশারা করলেন এবং সে তার মাথার ডান পাশের চুল কামিয়ে দিল। তিনি তা নিকটস্থ লোকদের মধ্যে বণ্টন করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, মাথার অপরাংশ কামাও। তিনি বললেন, আবূ তুলহাহ কোথায়? তখন তিনি সেগুলো তাকেই দান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২০, ইসলামীক সেন্টার)

359

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর কুরবানী করলেন, অতঃপর মাথা কামালেন- তিনি ক্ষৌরকারের প্রতি মাথার ডান পাশ এগিয়ে দিলেন এবং সে তা চেঁছে দিল। অতঃপর তিনি আবূ তলহাহ আল আনসারী (রাযিঃ) কে ডাকলেন এবং তাঁকে (নিজের) চুল দান করলেন। অতঃপর তিনি মাথার বাম পাশ এগিয়ে দিলেন এবং বললেন, কামিয়ে দাও। (অতএব ক্ষৌরকার) তা কামিয়ে দিল। তিনি চুলগুলো আবূ তলহাহ (রাযিঃ) কে দিয়ে বললেন, এগুলো লোকদের মধ্যে বণ্টন কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২১, ইসলামীক সেন্টার)

360

ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সঙ্গে মিনায় অবস্থান করলেন- যাতে তারা প্রয়োজনীয় বিষয় তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারে। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! না জানার কারণে আমি কুরবানী করার পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই, তুমি কুরবানী কর। অতঃপর এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হলে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না, ফলে পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে নিয়েছি। তিনি বললেন, অসুবিধা নেই, তুমি পাথর নিক্ষেপ কর। রাবী বলেন, অজ্ঞতাবশতঃ কাজ আগে অথবা পরে করা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলেই তিনি বলেন, তুমি এখন করে নাও, তাতে কোন দোষ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২২, ইসলামীক সেন্টার)

361

হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ঈসা ইবনু ত্বলহাহ আত তামীমী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীর উপর অবস্থান করলেন। লোকেরা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকল। তাদের কেউ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না যে, কুরবানীর পূর্বে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। তাই আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পাথর নিক্ষেপ কর, এতে কোন দোষ হবে না। অপর ব্যক্তি এসে বলল, আমি জানতাম না যে, মাথা কামানোর পূর্বে কুরবানী করতে হবে। অতএব আমি কুরবানীর পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, তুমি কুরবানী কর। রাবী বলেন, মানুষ অজ্ঞতাবশতঃ যে সব কাজের ক্ষেত্রে পরেরটি আগে করে ফেলেছে, এ সম্পর্কে বা এ জাতীয় বিষয় সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলেই আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তা করে নাও, এতে কোন দোষ হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৩, ইসলামীক সেন্টার)

362

হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৪, ইসলামীক সেন্টার)

363

‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনু ‘আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন ভাষণ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি জানতাম না যে, এ কাজ অমুক অমুক কাজের পূর্বে করতে হয়। এরপর আর এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মনে করেছিলাম এ কাজ অমুক অমুক তিনটি (পাথর নিক্ষেপ, কুরবানী, মাথা কামানো) কাজের পূর্বে করতে হয়। তিনি বললেনঃ করে নাও, কোন অসুবিধে নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৫, ইসলামীক সেন্টার)

364

আবদ ইবনু হুমায়দ ও সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবনু বাকর এর বর্ণনা ঈসার বর্ণনার অনুরূপ। তবে তার বর্ণনায় “ঐ তিন কাজ" কথাটুকু উল্লেখ নেই। ইয়াহইয়া আল উমাবীর বর্ণনায় আছেঃ “আমি কুরবানী করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করেছি, পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করেছি ইত্যাদি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৬, ইসলামীক সেন্টার)

365

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আমি যব্‌হ করার পূর্বে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, এখন যাবাহ কর। (অতঃপর একজন) বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই, তুমি এখন পাথর নিক্ষেপ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৭, ইসলামীক সেন্টার)

366

ইবনু আবূ উমার ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিনায় তার উটের উপর অবস্থানরত দেখেছি। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট এলো ..... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৮, ইসলামীক সেন্টার)

367

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুহ্‌যায (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার নিকট অবস্থানরত ছিলেন। আমি এক ব্যক্তিকে তার নিকট এসে বলতে শুনলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে মাথা কামিয়ে নিয়েছি। তিনি বললেন, কোন অসুবিধে নেই, পাথর নিক্ষেপ করে নাও। আরেক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন, কোন দোষ নেই, পাথর নিক্ষেপ করে নাও। অপর এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের পূর্বে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করে ফেলেছি। তিনি বললেন, পাথর নিক্ষেপ কর, তাতে কোন অসুবিধে নেই। রাবী বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি, সেদিন যে সম্পর্কেই (আগে-পিছে করার ক্ষেত্রে) তার নিকট জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বলেছেনঃ কোন দোষ নেই, এখন করে নাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০২৯, ইসলামীক সেন্টার)

368

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কুরবানী, মাথা মুণ্ডন, পাথর নিক্ষেপ, আগের অনুষ্ঠান পরে এবং পরের অনুষ্ঠান আগে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩০, ইসলামীক সেন্টার)

369

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন ত্বওয়াফুল ইফাযাহ সম্পন্ন করেন, অতঃপর মিনায় ফিরে এসে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেন। নাফি' বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ)-ও কুরবানীর দিন ত্বওয়াফুল ইফাযাহ সম্পন্ন করতেন, অতঃপর ফিরে এসে মিনায় যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩১, ইসলামীক সেন্টার)

370

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল আযীয ইবনু রুফাই' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রযিঃ) কে বললাম, আপনার যা স্মরণ আছে সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়ার দিন (৮ই যিলহাজ্জ) যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপনান্তে) বিদায়ের দিন তিনি আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবত্বাহ উপত্যকায়। অতঃপর তিনি বললেন, তোমার প্রশাসকগণ যা করেন, তদ্রুপ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩২, ইসলামীক সেন্টার)

371

মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) আবত্বাহ নামক স্থানে অবতরণ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

372

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মায়মুন (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু উমার (রাযিঃ) মুহাস্‌সাবে যাত্রা বিরতি সুন্নাত মনে করতেন। তিনি বিদায়ের দিন (১২ অথবা ১৩ যিলহাজ্জ) সেখানে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। নাফি' বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্‌সাবে যাত্রা বিরতি করেছেন এবং তার পরে খলীফাগণও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

373

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবত্বাহে অবতরণ করা সুন্নাত নয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এজন্য সেখানে যাত্রা বিরতি করেছিলেন যে, সেখান থেকে তার জন্য যাত্রা করা সহজতর ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

374

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ রবী' আয যাহরানী ও আবূ কামিল (রহঃ) ... হিশাম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

375

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ বাকর (রাযিঃ), উমার (রাযিঃ) ও ইবনু উমর (রাযিঃ) আবত্বাহে অবতরণ করতেন। যুহরী বলেন, আমাকে উরওয়াহ অবহিত করেছেন যে, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) আবতাহে যাত্রা বিরতি করতেন না। তিনি বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র (বিশ্রামের জন্য) এখানে যাত্রা বিরতি করতেন যাতে সামনের পথ অতিক্রম সহজ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

376

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্‌, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু আবূ উমার ও আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাসসাবে যাত্রা বিরতি বাধ্যতামূলক নয়। এটি একটি মাঞ্জিল যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রা বিরতি করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

377

কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ রাফি (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিনা থেকে রওনা হলেন তখন তিনি আমাকে আবত্বাহে যাত্রা বিরতির নির্দেশ দেননি। বরং আমি সেখানে পৌছে তাঁবু খাটালাম, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সেখানে অবতরণ করলেন। আবূ রাফি (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মালপত্রের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

378

হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আগামীকাল সকালে খায়ফে বানী কিনানায় অবতরণ করব যেখানে তারা (কাফিররা) কুফরীর উপর অবিচল থাকার শপথ নিয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪০, ইসলামীক সেন্টার)

379

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনায় থাকা কালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন। আগামীকাল সকালে আমরা কিনানাহ গোত্রের ঘাটিতে অবতরণ করব যেখানে তারা কুফুরীর উপর অটল থাকার শপথ করেছিল। তা হচ্ছে- কুরায়শ ও কিনানাহ গোত্র হাশিম ও মুত্ত্বালিব গোত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, এরা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং বাণিজ্যিক লেনদেন করবে না- যতক্ষণ তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাদের হাতে অর্পণ না করবে- এ হচ্ছে সেই মুহাস্‌সাব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪১, ইসলামীক সেন্টার)

380

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের বিজয় দান করেন তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের মাঞ্জিল হবে খায়ফে, যেখানে কুরায়শরা কুফুরীর উপর অটল থাকার শপথ করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪২, ইসলামীক সেন্টার)

381

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্ত্বলিব (রাযিঃ) মিনার রাতগুলো মাক্কাতে (মক্কাতে) অতিবাহিত করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। কারণ পানি সরবরাহের দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত ছিল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

382

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

383

মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... বাকর ইবনু আবদুল্লাহ আল মুযানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে কাবার সন্নিকটে বসা ছিলাম। এ সময় এক বেদুঈন তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার? আমি দেখছি আপনার চাচাতো ভাইয়েরা (আগন্তুকদের) মধু ও দুধ পান করায়। আর আপনারা নবীয (খেজুরের তৈরি শরবত) পান করান? তা কি আপনাদের দরিদ্রতার কারণে, না কৃপণতার কারণে? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) "আলহামদু লিল্লাহ" উচ্চারণ করে বললেন, আমাদের না দারিদ্র্য আক্রান্ত করেছে, না কৃপণতা। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীতে চড়ে এখানে এলেন এবং তাকে এক পেয়ালা নবীয দিলাম। তিনি তা পান করলেন এবং অবশিষ্টটুকু উসামাকে পান করালেন। এরপর তিনি বললেন, “তোমরা খুবই উত্তম কাজ করেছো এবং এরূপই করতে থাক।" অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা করার নির্দেশ দিয়েছেন- আমরা তার পরিবর্তন করতে চাই না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

384

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার কুরবানীর উটগুলোর নিকট দাঁড়াতে এবং এগুলোর গোশত, চামড়া ও ঝুল দান খয়রাত করে দিতে নির্দেশ দিলেন এবং তা দিয়ে কসাইয়ের মজুরি দিতে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে তার মজুরি পরিশোধ করে দেব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

385

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ‘আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) 'আবদুল করীম আল জাযারী (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

386

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় কসাইয়ের মজুরির কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

387

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, মুহাম্মাদ ইবনু মারযুক ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ‘আলী ইবনু আবূ তলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার কুরবানীকৃত উটগুলোর নিকট অবস্থানের নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে উটের সমস্ত গোশত, চামড়া ও ঝুল মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করারও নির্দেশ দিলেন এবং তা থেকে কসাইকে মজুরি স্বরূপ কিছু দিতে নিষেধ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

388

(…) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন ..... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫০, ইসলামীক সেন্টার)

389

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর (৬ষ্ঠ হিজরী) আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫১, ইসলামীক সেন্টার)

390

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট বা গরু সাতজনে মিলে কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫২, ইসলামীক সেন্টার)

391

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করি। আমরা সাত শারীকে একটি করে উট বা গরু কুরবানী করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

392

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ ও উমরাহ্ পালনকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাতজনে মিলে একটি উট কুরবানী করেছি। এক ব্যক্তি জাবির (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করল, জাযুর-এ যে ক'জন শারীক হতে পারে- বাদানাহ-তেও কি অনুরূপ শারীক হওয়া যায়? তখন তিনি বললেন, উভয় তো একই। জাবির (রাযিঃ) হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ঐদিন ৭০টি উট কুরবানী করেছি। প্রতিটি উটেই ৭ জন শারীক ছিলাম।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

393

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন। তিনি (জাবির (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইহরাম খোলার সময় কয়েকজন শারীক হয়ে এক-একটি পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন। এটা সে সময়ের কথা যখন তিনি তাদেরকে (উমরাহ আদায়ের পর) হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরাম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

394

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। আমরা সাত শারীকে মিলে একটি গরু কুরবানী করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

395

উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন আয়িশাহ (রাযিঃ) এর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

396

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করেছেন। কিন্তু ইবনু বাকর (রহঃ) কর্তৃক আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, তিনি তার হাজ্জ (হজ্জ/হজ) উদ্‌যাপনকালে একটি গাভী কুরবানী করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

397

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যিয়াদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাযিঃ) এক ব্যক্তির কাছে এলেন। সে তার উটকে বসিয়ে কুরবানী করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বললেন, এটাকে দাঁড় করিয়ে কুরবানী কর। এটাই তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

398

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুম্‌হ ও কুতায়বাহ্ (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র ও 'আম্‌রাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ থেকে তার কুরবানীর পশু (মাক্কার (মক্কার) হারামে) পাঠাতেন। আমি তার কুরবানীর পশুর (গলায় বাধার জন্য) মালা তৈরি করে দিতাম। এরপর তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে ইহরামধারীদের বিরত থাকতে হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬০, ইসলামীক সেন্টার)

399

হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে এ সানাদে (উপরোক্ত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬১, ইসলামীক সেন্টার)

400

সাঈদ ইবনু মানসূর, যুহায়র ইবনু হারব, খালাফ ইবনু হিশাম ও কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চোখে সে দৃশ্য ভাসছে- আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর (গলায় পরানোর জন্য) মালা তৈরি করে দিচ্ছি। ..... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬২, ইসলামীক সেন্টার)

401

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার হাত দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর মালা বানিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না এবং তা পরিহার করতেন না (যা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরামধারীকে পরিহার করতে হয়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

402

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর মালা বানিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কুরবানীর পশুকে চিহ্নিত করেন ও গলায় মালা বেঁধে দেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ পাঠিয়ে দেন এবং মাদীনায় অবস্থান করেন। ফলে তার উপর এমন কোন জিনিস হারাম হয়নি যা তার জন্য হালাল ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

403

‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ...... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কুরবানীর পশু (মাক্কায় (মক্কায়)) পাঠিয়ে দিতেন। আমি নিজ হাতে এর মালা তৈরি করে দিতাম। অতঃপর তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে কোন ইহরামবিহীন ব্যক্তি বিরত থাকে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

404

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রঙিন পশমের সূতা যা আমাদের কাছে ছিল, তা দিয়ে এ সব মালা তৈরি করেছি। অতঃপর তিনি ভোরবেলা ইহরামবিহীন অবস্থায় উপনীত হন এবং আমাদের কাছে আসেন, ইহরামবিহীন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে যা করে, তিনিও তাই করেছেন; কিংবা তিনি বলেন, লোকে তার স্ত্রীর কাছে যেভাবে এসে থাকে, তিনিও সেভাবে আসেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

405

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন নিজেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর মেষের জন্য মালা তৈরি দেখতে পাচ্ছি। তিনি তা হারামে পাঠিয়ে দেন এবং আমাদের মাঝে অবস্থান করেন ইহরামবিহীন ব্যক্তির মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

406

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম এবং তিনি তা নিজের কুরবানীর পশুর গলায় পরিয়ে দিতেন, এরপর তা (মাক্কায় (মক্কায়)) পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (মাদীনায়) অবস্থান করতেন এবং এমন কোন কিছু থেকে বিরত থাকতেন না- যা থেকে ইহরামধারী ব্যক্তি বিরত থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

407

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর হারামে (কুরবানীর উদ্দেশে) ছাগল পাঠান এবং এর গলায় মালা বাঁধেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

408

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বকরীর গলায় মালা পরিয়ে তা (কুরবানীর উদ্দেশে বায়তুল্লাহয়) পাঠিয়েছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিলেন এবং কোন জিনিস তাঁর জন্য হারাম ছিল না (যা মুহরিমের জন্য হারাম)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭০, ইসলামীক সেন্টার)

409

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আমারাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু যিয়াদ (রহঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে লিখেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি (মাক্কার (মক্কার) হারামে) কুরবানীর পশু পাঠায়, হাজীদের জন্য যা করা হারাম তার জন্যও তা করা হারাম যতক্ষণ না ঐ পশু কুরবানী করা হয়। আমি কুরবানীর পশু (হারামে) পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত আমাকে লিখে জানাবেন।" আমরাহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) যেভাবে বলেছেন, ব্যাপারটি তা নয়। আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর (গলায় বাঁধার) জন্য মালা তৈরি করে দিয়েছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তা পশুর গলায় বেঁধেছেন, অতঃপর আমার পিতার মাধ্যমে তা (হারাম শরীফ) পাঠিয়েছেন। কিন্তু এর ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এমন কোন জিনিস হারাম হয়নি- যা আল্লাহ তা'আলা তার জন্য হালাল করেছেন। অতঃপর পশু কুরবানী করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭১, ইসলামীক সেন্টার)

410

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে পর্দার আড়াল থেকে হাত তালি দিয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি নিজ হাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম। অতঃপর তিনি (তার) কুরবানীর পশু (মাক্কায় (মক্কায়)) পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু পশু কুরবানী হওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি এমন কোন জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না যা থেকে সাধারণত ইহরামধারী ব্যক্তিগণ বিরত থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭২, ইসলামীক সেন্টার)

411

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

412

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট টেনে নিয়ে যেতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ এর পিঠে সওয়ার হও। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা কুরবানীর উট। তিনি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়বারে বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

413

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ যিনাদ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, একদা এক ব্যক্তি গলায় মালা পরিহিত একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

414

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে এ হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে একটি এই যে, তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি কুরবানীর একটি উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর গলায় মালা পরিহিত ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা কুরবানীর পশু। তিনি বললেন, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে চড়ে যাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

415

আমর আন নাকিদ, সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে একটি উট টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন, এর পিঠে চড়ে যাও। সে বলল, এটা কুরবানীর উট। তিনি দু'তিনবার বললেন, এর পিঠে চড়ে যাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

416

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে কুরবানীর উট অথবা কুরবানীর পশু নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি বললেন, পিঠে চড়ে যাও। সে বলল, এটা কুরবানীর উট, কুরবানীর পশু। তিনি বললেন, তাহলেও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

417

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে একটি কুরবানীর উট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল...এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

418

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট কুরবানীর পশু পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রয়োজনবোধে এর পিঠে আরোহণ করতে পার, একে কষ্ট না দিয়ে- যতক্ষণ না অন্য সওয়ারী পাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮০, ইসলামীক সেন্টার)

419

সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ) এর নিকট কুরবানীর পশুর পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি সহানুভূতির সাথে এর পিঠে আরোহণ কর- যদি অন্য সওয়ারী না পাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮১, ইসলামীক সেন্টার)

420

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মূসা ইবনু সালামাহ্ আল হুযালী (রহঃ) বলেন, আমি ও সিনান ইবনু সালামাহ উমরাহ পালনের জন্য রওনা হলাম। সিনানের একটি কুরবানীর উট ছিল। সে পশুটি হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পশুটি অচল হয়ে পড়লে এ ব্যাপারে সে অসহায় ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ল এবং (মনে মনে বলল) এ যদি সামনে অগ্রসর না হতে পারে, তবে এটাকে কী করে গন্তব্যস্থলে নেয়া যাবে? সে বলল, যদি মাক্কাহ (মক্কা) পর্যন্ত পৌছতে পারতাম তবে এ সম্পর্কে ভালরূপে মাসআলাহ জেনে নিতাম। রাবী বলেন, আমরা দিনের প্রথমভাগে আবার চলতে শুরু করলাম এবং বাতহা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম। সিনান বলল, চল আমরা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে (বিষয়টি) আলোচনা করি। রাবী বলেন, সিনান তার নিকটে নিজের উটের কথা বর্ণনা করল। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তুমি উত্তমরূপে অবহিত ব্যক্তির নিকটই বিষয়টি বর্ণনা করেছ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির মাধ্যমে ষোলটি উট (মাক্কার (মক্কার) হারামে) পাঠালেন এবং তাকে এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন। রাবী বলেন, সে রওনা হয়ে গেল এবং পুনরায় ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি এর মধ্যকার কোন পশু চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে, তবে কী করব? তিনি বললেনঃ তা যাবাহ কর এবং এর (গলায় বাঁধা) জুতা জোড়া রক্তে রঞ্জিত করে এর কুজের উপর রেখে দাও। এর গোশত তুমিও খাবে না, তোমার সঙ্গীদের কেউও খাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮২, ইসলামীক সেন্টার)

421

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আঠারটি উট (কুরবানীর জন্য মাক্কার (মক্কার) হারামে) পাঠালেন। ..... অবশিষ্ট আবদুল ওয়ারিসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে হাদীসের প্রথমাংশের (সিনানের সাথে সংশ্লিষ্ট) ঘটনা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

422

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তার নিকট যুআয়বা আবূ কবীসাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরবানীর উটসহ (মাক্কায় (মক্কায়)) পাঠাতেন এবং বলে দিতেনঃ "এগুলোর মধ্যকার কোন উট দুর্বল হয়ে চলতে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং তুমি এর মৃত্যুর আশংকা করলে তা যাবাহ করে দিও। অতঃপর এর (গলায় বাঁধা) জুতা জোড়া রক্ত রঞ্জিত করে এর কুঁজে ছাপ মেরে দিও। তুমি এবং তোমার সঙ্গীদের কেউই গোশত খাবে না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

423

সাঈদ ইবনু মানসূর ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বিভিন্ন পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “কেউই যেন শেষবারের মতো বায়তুল্লাহ তওয়াফ না করা পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন না করে।” যুহায়রের বর্ণনায় (في) (মাঝে) কী অব্যয়টি উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

424

সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, লোকদেরকে (প্রত্যাবর্তনকালে) শেষবারের মত বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋতুবতী মহিলাদেরকে তা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

425

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আপনি কি এ ফাতাওয়া দিচ্ছেন যে, হায়যগ্রস্ত মহিলা বিদায়ী তওয়াফ না করেই প্রস্থান করতে পারবে? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বললেন, যদি আপনি আশ্বস্ত না হতে পারেন, তবে অমুক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাওস বলেন, যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হাসতে হাসতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি মনে করি আপনি সত্য কথাই বলেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

426

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

427

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

428

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

429

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

430

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

431

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

432

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

433

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

434

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং উসামাহ্, বিলাল ও উসমান ইবনু তলহাহ্ আল হাজাবী (রাযিঃ) কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, বের হয়ে আসলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করেছেন? তিনি বললেন, তিনি দু'টি থাম নিজের বাঁ দিকে, একটি থাম ডান পাশে এবং তিনটি থাম পিছনে রেখে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। তৎকালে বায়তুল্লাহ ছয়টি থামের উপর দণ্ডায়মান ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

435

আবূ রবী' আয যাহরানী, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাক্কায় (মক্কায়)) এলেন এবং কাবার চত্বরে অবতরণ করলেন। অতঃপর উসমান ইবনু তলহাহ (রাযিঃ) কে ডেকে পাঠালেন। তিনি চাবি নিয়ে এলেন এবং (কা'বার) দরজা খুললেন। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল, উসামাহ্ ইবনু যায়দ ও উসমান ইবনু তলহাহ্ (রাযিঃ) ভিতরে প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরজা (ভিতর থেকে) বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন, অতএব তা বন্ধ করে দেয়া হলো। তারা কিছু সময় ভিতরে অবস্থান করলেন। অতঃপর দরজা খোলা হল। ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বাইরে সকলের আগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হলাম এবং বিলাল তার পিছনে ছিলেন। আমি বিলালকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবার অভ্যন্তরে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কোন জায়গায়? বিলাল (রাযিঃ) বললেন, তার সামনের দুটি থামের মাঝখানে। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, তিনি কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন, বিলালের নিকট তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

436

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর উষ্ট্রীতে আরোহণ করে (মাক্কায় (মক্কায়)) আগমন করেন। উসামাহ্ (রাযিঃ) উষ্ট্রীকে কাবার চত্বরে বসান। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনু তলহাহ (রাযিঃ) কে ডাকলেন এবং বললেন, আমার নিকট (কা'বার) চাবি নিয়ে এসো। তিনি তার মায়ের নিকট উপস্থিত হয়ে চাবি চাইলেন কিন্তু তিনি তাকে চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। উসমান (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ। তাঁকে চাবি দিন, অন্যথায় এ তরবারি আমার পিঠ ভেদ করে চলে যাবে। অতঃপর তিনি তাকে চাবি দিলেন। তিনি চাবি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার নিকট হস্তান্তর করেন। তিনি কা'বার দরজা খুললেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাম্মাদ ইবনু যায়দের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

437

যুহায়র ইবনু হারব, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উসামাহ্, বিলাল ও উসমান ইবনু তলহাহ্ (রাযিঃ)। লোকেরা অনেকক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখল। অতঃপর তা খোলা হল। আমিই সর্বপ্রথম (অগ্রসর হয়ে ভিতরে) প্রবেশ করে বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন? বিলাল বললেন, সামনের দু' থামের মাঝখানে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

438

হুমায়দ ইবনু মাস'আদাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কা'বার নিকটে পৌছলেন। ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বিলাল ও উসামাহ (রাযিঃ) কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। উসমান ইবনু তুলহাহ্ (রাযিঃ) দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারা কিছু সময় কাবার অভ্যন্তরে অবস্থান করলেন। অতঃপর দরজা খোলা হল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলেন। আমি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম এবং বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন? তারা বললেন, এখানে। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, তিনি কত রাকাআত সালাত আদায় করেছেন তা আমি তাদের নিকট জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০০, ইসলামীক সেন্টার)

439

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমূহ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ ইবনু যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবনু তলহাহ (রাযিঃ) বায়তুল্লাহয় প্রবেশ করলেন। অতঃপর তারা দরজা বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর যখন তারা দরজা খুললেন, তখন প্রথমেই আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাথে মিলিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ভিতরে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি দু' ইয়ামানী থামের মাঝখানে সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০১, ইসলামীক সেন্টার)

440

হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উসামাহ্ ইবনু যায়দ, বিলাল ও উসমান ইবনু তলহাহ (রাযিঃ) কে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখলাম। তাদের সঙ্গে আর কেউ প্রবেশ করেনি। অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, বিলাল অথবা উসমান ইবনু তলহাহ (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বার কেন্দ্রস্থলে ইয়ামানী দু স্তম্ভের* মাঝখানে দাঁড়িয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০২. ইসলামীক সেন্টার)

441

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আমি আতা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদেরকে কেবল ত্বওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়নি?” ‘আতা বললেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তো কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষেধ করেননি, বরং আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এর সকল পাশে দুআ করেছেন কিন্তু বের হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেননি। তিনি বের হয়ে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দুরাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন এবং বলেছেন, এ হল কিবলাহ্। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এর পার্শ্ব বলতে কী বুঝায়? তা দিয়ে কি কোণ বুঝানো হয়েছে? তিনি (আতা) আরও বললেন, এর সমস্ত পার্শ্ব ও কোণই কিবলাহ।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৩, ইসলামীক সেন্টার)

442

শায়ান ইবনু ফারিখ (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। আর তাতে ছিল ছয়টি স্তম্ভ। একটি থামের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দু'আ করেছেন কিন্তু সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৪, ইসলামীক সেন্টার)

443

সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ আওফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ আদায়কালে বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন কি? তিনি বললেন, না।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৫, ইসলামীক সেন্টার)

444

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার জাতির লোকদের কুফর পরিত্যাগের যুগটি নিকটবর্তী না হলে আমি কা'বাহ ঘর ভেঙ্গে তা ইবরাহীম (আঃ) এর ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করতাম। কারণ কুরায়শগণ কাবাহ্ ঘর নির্মাণের সময় এর আয়তন ছোট করে দিয়েছে। আর তার পেছনে একটি দরজা স্থাপন করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৬, ইসলামীক সেন্টার)

445

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৭, ইসলামীক সেন্টার)

446

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি দেখনি যে, তোমার গোত্রের লোকেরা কা'বাহ ঘর নির্মাণের সময় তা ইবরাহীম (আঃ) এর ভিতগুলোর চেয়ে ছোট করে দেয়? আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি তা ইবরাহীম (আঃ) এর ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করতে চান? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কওমের কুফরী পরিত্যাগের যুগটি যদি নিকটতর না হতো (তবে তাই করতাম)। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, যদিও বা আয়িশাহ (রাযিঃ) তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে শুনে থাকবেন। কিন্তু হাজারের নিকটবর্তী উভয় রুকনের স্পর্শ ত্যাগ করতে দেখিনি। তবে বায়তুল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) এর গোটা ভিতের উপর পুনর্নির্মিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৮, ইসলামীক সেন্টার)

447

আবূ ত্বাহির ও হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি জাহিলী যুগের কাছাকাছি না হতো অথবা নিকট অতীতে কুফুরী ত্যাগ না করত, তবে আমি অবশ্যই কা'বায় পুঞ্জীভূত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতাম, এর দরজা ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম এবং হাতীমকে কা'বার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১০৯, ইসলামীক সেন্টার)

448

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু মীনা (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ আমার খালা আয়িশাহ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিকট অতীতে শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে এর ভিত ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম। এর দুটি দরজা করতাম- একটি পূর্বদিকে, অপরটি পশ্চিমদিকে এবং আল হাজার (হাতীম) এর ছয় গজ স্থান কা'বার অন্তর্ভুক্ত করতাম। কেননা কুরায়শরা কাবাহ ঘর নির্মাণকালে এর ভিত ছোট করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১০, ইসলামীক সেন্টার)

449

হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়ার সময় কা'বাহ ঘর দগ্ধীভূত হয়েছিল- যখন সিরীয় বাহিনী মাক্কায় (মক্কায়) যুদ্ধে লিপ্ত ছিল (৬৩ হিজরী) এবং কা'বার যা হবার তাই হল। হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মৌসুমে লোকদের আগমনের সময় 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কা'বাকে এ অবস্থায় রেখে দিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল লোকদেরকে উদ্দীপ্ত করা অথবা তাদের মধ্যে সিরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনোবল সৃষ্টি করা। লোকেরা সমবেত হলে তিনি বললেন, হে জনগণ! আমাকে কা'বাহ ঘর সম্পর্কে পরামর্শ দিন। আমি কি তা ভেঙ্গে ফেলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলব, নাকি শুধু এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, আমার মনে একটি মতের উদয় হয়েছে, আমি মনে করি যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তুমি মেরামত করবে এবং লোকদের ইসলাম গ্রহণ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুওয়াত লাভকালীন সময়ে কাবাহ ঘর ও পাথরসমূহ যে অবস্থায় ছিল, তা সে অবস্থায় রেখে দিবে। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বললেন, আপনাদের কারো ঘর অগ্নিদগ্ধ হলে তা সংস্কার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন না। অতএব আপনাদের প্রতিপালকের ঘর কী করে এরূপ জীৰ্ণ অবস্থায় রাখা যেতে পারে? আমি আমার রব এর কাছে তিনদিন ইস্তিখারা করব (অভিপ্রায় অবগত হবার জন্য)। অতঃপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনদিন পর তিনি কা'বাহ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। লোকেরা আশংকা করল যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কাবার ছাদে উঠবে, সে হয়ত কোন আসমানী গযবে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি (ছাদ ভাঙ্গার জন্য) কাবার ছাদে উঠল এবং তার একটি পাথর নীচে ফেলল। লোকেরা যখন দেখল সে কোন বিপদে পড়েনি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল এবং কা'বাহ ঘর ভেঙ্গে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিল। অতঃপর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কতগুলো থাম স্থাপন করে এগুলোর সাথে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। অবশেষে কা'বার দেয়ালের গাথুনি উচ্চ হল। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বললেন, অবশ্যই আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “লোকেরা যদি নিকট অতীতে কুফুরী ত্যাগ না করত এবং আমার নিকটও কা'বাকে পুনর্নির্মাণ করার মত অর্থসামর্থ্যও নেই- তাহলে আমি অবশ্যই আল-হাজার (হাতীম) এর পাঁচ গজ স্থান কা'বাহ ঘরের অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং লোকদের প্রবেশের জন্য ও বের হবার জন্য এর দু'টি দরজা বানাতাম।" ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, বর্তমানে আমার হাতে তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে এবং লোকদের তরফ থেকেও কোন প্রতিবাদের আশংকা নেই। রাবী বলেন, এরপর তিনি হাতীমের পাঁচ গজ এলাকা কা'বার অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে তা (পুরাতন) ভিতের উপর গড়ে উঠল যার উপর ইবরাহীম (আঃ) তা গড়েছিলেন এবং লোকেরা তা অবলোকন করল। এ ভিতের উপর দেয়াল গড়ে তোলা হল। কা'বার দৈর্ঘ্য ছিল আঠার গজ। তা যখন (প্রস্থে) বাড়ানো হল, তখন (স্বাভাবিকভাবেই দৈর্ঘ্য) তা ছোট হওয়ায় দৈর্ঘ্যে তা আরও দশ গজ বৃদ্ধি করা হল এবং এর দু'টি দরজা নির্মাণ করা হল, একটি প্রবেশের জন্য এবং অপরটি প্রস্থানের জন্য। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) শহীদ হলে হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) 'আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানকে তা লিখে জানাল। সে আরও জানাল যে, ইবনু যুবায়র (কাবাহ ঘর) সে ভিতের উপর নির্মাণ করেছে [যা ছিল ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত] এবং মাক্কার (মক্কার) বিশ্বস্ত লোকেরা তা যাচাই করে দেখেছে। 'আবদুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন যে, কোন বিষয়ে ইবনু যুবায়রকে অভিযুক্ত করার প্রয়োজন আমাদের নেই। সে দৈর্ঘ্যে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা বহাল রাখ এবং হাতীমের দিকে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা ভেঙ্গে পূর্বাবস্থায় নিয়ে অসো। আর সে যে (নতুন) দরজা খুলেছে তা বন্ধ করে দাও। এরপর হাজ্জাজ তা ভেঙ্গে পূর্বের ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১১, ইসলামীক সেন্টার)

450

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... হারিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রবী'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ বলেন, হারিস ইবনু আবদুল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের রাজত্বকালে তার নিকট গিয়েছিলেন। আবদুল মালিক বললেন, আমি মনে করি না যে, আবূ যুবায়র অর্থাৎ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট এমন কিছু শুনেছেন যার দাবি তিনি করে থাকেন। অর্থাৎ ইবরাহীম (আঃ) এর ভিতের উপর কা'বাহ ঘরের পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভিপ্রায় সম্পর্কিত কোন হাদীস তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট শুনেননি। হারিস বলেন, হ্যাঁ, আমি নিজেই তার নিকট এ হাদীস শুনেছি। আবদুল মালিক বললেন, আপনি তাকে কী বলতে শুনেছেন? হারিস বলেন, “আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমার কওমের লোকের কা'বাহ ঘরের ভিত (আয়তনে) ছোট করে ফেলেছে। অতীতে তারা শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু কা'বার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি আমার পরে তা পুননির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এসো, আমি তোমাকে তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু দেখিয়ে দিই”- অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশাহ-কে (হাতীম সংলগ্ন) প্রায় সাত গজ স্থান দেখিয়ে দিলেন। এ হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ কর্তৃক বর্ণিত। ওয়ালীদ ইবনু আত্বা এ বর্ণনার উপর আরো বৃদ্ধি করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি জমিনের সমতলে দুটি দরজাও নির্মাণ করতাম একটি পূর্বদিকে এবং অপরটি পশ্চিম দিকে। তুমি কি জান তোমার গোত্রের লোকেরা কাবার দরজা (ভূমি থেকে) উচুতে স্থাপন করেছে কেন?” আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে (তারা এটা করেছে) যাতে কেবল সে ব্যক্তিই কা'বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে যাকে তারা অনুমতি দিবে। যখন কোন ব্যক্তি কা'বার অভ্যন্তরে প্রবেশের ইচ্ছা করত, তারা তাকে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দিত। এমনকি সে যখন তাতে প্রবেশ করত, তখন তারা তাকে টেনে নিচে ফেলে দিত।" 'আবদুল মালিক হারিসকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, কিছুক্ষণ তিনি হাতের ছড়ি দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলেন, এরপর বললেনঃ আমি তার (ইবনু যুবায়র) কাজ স্ব অবস্থায় বহাল রাখার আকাঙ্ক্ষা করছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১২, ইসলামীক সেন্টার)

451

মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু জাবালাহ ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সানাদে ইবনু বাকর এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৩, ইসলামীক সেন্টার)

452

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ কাযা'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)-কালে বলে উঠলেন, আল্লাহ ইবনু যুবায়রকে ধ্বংস করুন- যেহেতু সে উম্মুল মু'মিনীন [আয়িশাহ (রাযিঃ)] এর উপর মিথ্যারোপ করেছে যে, সে তাকে নাকি বলতে শুনেছে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তোমার সম্প্রদায় যদি অতীতে কুফুরী পরিত্যাগকারী না হতো তবে আমি কাবাহ ঘর ভেঙ্গে তাতে হাতীমের অংশ যুক্ত করে দিতাম। কারণ তোমার সম্প্রদায় কা'বার আয়তন ছোট করে দিয়েছে।” (আবদুল মালিকের এ কথার উপর) হারিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রবী'আহ বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! এ কথা আর বলবেন না। কারণ আমি নিজে উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আবদুল মালিক বললেন, কা'বাহ ঘর ভাঙ্গার পূর্বে যদি আমি তা শুনতে পেতাম, তাহলে ইবনু যুবায়রের ভিতের উপরই তা অটুট রাখতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৪, ইসলামীক সেন্টার)

453

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, হাতীমের দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তবে তারা কেন এটাকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করেনি? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী? তিনি বললেন, তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড, যাতে তাদের কাঙ্খিত ব্যক্তি তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। তোমার কওমের জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এ আশংকা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে- তা হলে আমি অবশ্যই (হাতীমের) দেয়াল বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং কা'বার দরজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৫, ইসলামীক সেন্টার)

454

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল হাজার (হাতীম) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। এরপর পূর্বোক্ত আবূল আহওয়াস-এর হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আছে ['আয়িশাহ (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন] “এর দরজা উচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী যে, সিড়ি ব্যতীত তাতে উঠা যায় না?” এতে আরো আছেঃ "তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যাবার আশংকায়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৬, ইসলামীক সেন্টার)

455

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সওয়ারীতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় খাস'আম গোত্রের এক মহিলা তার নিকট মাসআলাহ জিজ্ঞেস করতে আসলো। ফাযলও তার দিকে তাকাচ্ছিল এবং মহিলাটিও ফাযলের দিকে তাকাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল এর মুখমণ্ডল অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তার বান্দাদের উপর যে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ফারয (ফরয) করেছেন- তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপরও ফারয (ফরয) হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনের উপর অবস্থান করতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এটা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সময়কার ঘটনা * (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৭, ইসলামীক সেন্টার)

456

‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে তার ভাই ফাযলের সূত্রে বর্ণিত খাস'আম গোত্রের এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তার উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ ফারয (ফরয) হয়েছে। কিন্তু তিনি উটের পিঠে বসে থাকতে সক্ষম নন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৮, ইসলামীক সেন্টার)

457

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাওহা নামক স্থানে একদল আরোহীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং তিনি বললেন, তোমরা কোন সম্প্রদায়ের লোক? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তারা আরও জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল। এরপর এক মহিলা তার সামনে একটি শিশুকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, এর জন্য হাজ্জ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সাওয়াব রয়েছে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১১৯, ইসলামীক সেন্টার)

458

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার শিশু পুত্রকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! এর জন্য হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ এবং তোমার জন্য রয়েছে সাওয়াব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২০, ইসলামীক সেন্টার)

459

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা তার শিশুকে তুলে ধরে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সাওয়াব হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২১, ইসলামীক সেন্টার)

460

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২২, ইসলামীক সেন্টার)

461

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের উপর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ফারয (ফরয) করা হয়েছে। অতএব তোমরা হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! তা কি প্রতি বছর? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং সে তিনবার কথাটি বলল। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি হ্যাঁ বললে তা ওয়াজিব হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা আমাকে ততটুকু কথার উপর থাকতে দাও যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই- তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৩, ইসলামীক সেন্টার)

462

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন সাথে মাহরাম ব্যক্তি ছাড়া একাকী তিন দিনের (দূরত্বে) সফর না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৪, ইসলামীক সেন্টার)

463

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে তিন দিনের অতিরিক্ত' আর ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণনায় রয়েছে- সালাসাহ্ (তিনরাত)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৫, ইসলামীক সেন্টার)

464

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান এনেছে- তার জন্য সাথে কোন মাহরাম ব্যক্তি ছাড়া তিন দিনের দূরত্বে পথের সফর করা বৈধ নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৬, ইসলামীক সেন্টার)

465

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) .... কাযাআহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট থেকে একটি হাদীস শুনে আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি তা সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনিনি তা কেন তার নামে বলব। কাযাআহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ সাঈদ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা কেবল তিনটি মসজিদের দিকেই (সাওয়াবের উদ্দেশে) সফর করঃ "আমার এ মাসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মাসজিদুল আকসা।" আমি তাকে আরও বলতে শুনেছিঃ “কোন মহিলা যেন দু' দিনের পথেও সফর না করে- তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ অথবা তার স্বামী ব্যতীত।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৭, ইসলামীক সেন্টার)

466

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চারটি কথা শুনেছি এবং তা আমার পছন্দ হয়েছে ও আমার কাছে ভাল লেগেছে। সাথে স্বামী অথবা কোন মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত কোন মহিলাকে দু' দিনের পথও সফর করতে তিনি নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১২৮, ইসলামীক সেন্টার)

467

অনুবাদ উপলব্ধ নেই

468

আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন স্ত্রীলোক যেন তিন দিনের দূরত্বের পথ একাকী সফর না করেন- তার সাথে একজন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩০, ইসলামীক সেন্টার)

469

ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আছেঃ "তিন দিনের অতিরিক্ত দূরত্ব সাথে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩, ইসলামীক সেন্টার)

470

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম মহিলার জন্য সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এক রাতের পথও সফর করা বৈধ নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩২, ইসলামীক সেন্টার)

471

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার জন্য সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এক দিনের দূরত্বের পথ সফর করা হালাল নয়।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

472

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে- তার জন্য সঙ্গে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত একাকী এক দিন ও এক রাতের দূরত্বের পথও সফর করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

473

আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোকের জন্য তার সাথে কোন মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত তিন দিনের দুরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

474

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে- তার পিতা অথবা তার ছেলে অথবা তার স্বামী অথবা তার ভাই অথবা তার অপর কোন মাহরাম আত্মীয় তার সফর সঙ্গী না হলে তার জন্য তিনদিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

475

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

476

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভাষণ দিতে শুনেছিঃ সাথে মাহরাম পুরুষ না থাকা অবস্থায় কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে। কোন স্ত্রীলোক যেন সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকী সফর না করে। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে- যা অমুক স্থানে যুদ্ধে যাবে। তিনি বললেন, তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

477

আবূ রবী আয যাহরানী (রহঃ) ..... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

478

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিম্নোক্ত কথার উল্লেখ নেইঃ "কোন পুরুষ লোক যেন কোন মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে, কিন্তু তার সাথে তার কোন মাহরাম পুরুষ থাকলে স্বতন্ত্র কথা।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪০, ইসলামীক সেন্টার)

479

হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরের উদ্দেশে তার উটে আরোহণের সময় তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলতেন, এরপর যে দু'আ পাঠ করতেন তার অর্থ এইঃ “পবিত্র মহান সে সত্তা- যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ। আমাদের এ সফরে আমরা তোমার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং তোমার সন্তুষ্টি বিধানকার কাজের তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফর আমাদের জন্য সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই (আমাদের) সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।" এরপর তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখনও উপরোক্ত দুআ পড়তেন এবং এর সাথে যোগ করতেনঃ (অর্থ) “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪১, ইসলামীক সেন্টার)

480

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন সফরের কষ্ট থেকে, দুঃখজনক প্রত্যাবর্তন থেকে, সুখময় অবস্থার পর দুঃখময় অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, মাযলুমের বদদুআ থেকে এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতিকর দৃশ্য অবলোকন থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪২, ইসলামীক সেন্টার)

481

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল-আহওয়াল (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য 'আবদুল ওয়াহিদের বর্ণনায় "ফীল মাল ওয়াল আহল" এবং মুহাম্মাদ ইবনু হাযম এর বর্ণনায় প্রত্যাবর্তনকালে প্রথমে 'আহল' শব্দ রয়েছে। উভয়ের বর্ণনায় রয়েছেঃ “আয় আল্লাহ! “আমি সফরের কষ্ট ক্লান্তি হতে তোমার কাছে পানাহ চাই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

482

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ, অভিযান, হাজ্জ (হজ্জ/হজ) অথবা উমরাহ করে ফিরে আসার সময় যখন কোন উচু টিলা বা কংকরময় উচ্চভূমিতে আরোহণ করতেন তখন তিনবার "আল্ল-হু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ধ্বনি দিতেন, এরপর এ দু'আ পড়তেন। (অর্থ) "আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তার কোন শারীক নেই। তারই রাজত্ব (বা সার্বভৌমত্ব), তার জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (আমরা) প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকার, আমাদের প্রতিপালককে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তার ওয়াদা পুরন করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

483

যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু উমার ও ইবনু রাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। শুধুমাত্র আইয়ুবের বর্ণনায় দু’বার তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

484

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবূ তলহাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং সফিয়্যাহ্ (রাযিঃ) তার উষ্ট্রীর পিঠে পেছনে সওয়ার ছিলেন। আমরা যখন মাদীনাহ শহরতলীতে পৌছলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ পড়লেনঃ (অর্থ) “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রভুর ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী।” আমরা মাদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি অবিরত এ দু'আ পড়তে থাকতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

485

হুমায়দ ইবনু মাস'আদাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

486

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফার কংকরময় ভূমি (বাতহা)-তে তার উট বসালেন এবং সেখানে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় রলেন। নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)ও তাই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

487

মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ইবনু মুহাজির আল মিসরী ও কুতায়বাহ (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) যুল হুলায়ফার বাতহা প্রান্তরে তার উট বসাতেন যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট বসাতেন এবং সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

488

মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) অথবা উমরাহ সমাপনান্তে ফেরার পথে যুল হুলায়ফার কংকরময় ভূমিতে নিজের উট বসাতেন যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট বসাতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫০, ইসলামীক সেন্টার)

489

মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। যুল হুলায়ফায় রাতের শেষ ভাগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (কোন আগন্তুক মালাক) আবির্ভূত হয়। তাকে বলা হল, আপনি বারাকাতপূর্ণ পাথরময় স্থানে (অবস্থান করছেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫১, ইসলামীক সেন্টার)

490

মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফার উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থানকালে রাতের বিশেষ প্রহরে তার নিকট (কোন মালাক) আবির্ভূত হয় এবং বলা হয়ঃ আপনি বারাকাতপূর্ণ কংকরময় স্থানে (অবস্থান করছেন)। মূসা উকবাহ (রহঃ) বলেন, সালিম (রহঃ) আমাদের সাথে সফরকালে মসজিদের নিকট তার উট বসাতেন যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) নিজের উট বসাতেন এবং এ স্থানকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবতরণ (অবস্থান) স্থল মনে করতেন। স্থানটি উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে নির্মিত মসজিদের নিম্নদেশের সমতলে মাসজিদ ও কিবলার মাঝখানে অবস্থিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫২, ইসলামীক সেন্টার)

491

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের পূর্ববতী (বছরের) যে হাজ্জে (হজ্জে/হজে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর সিদীক (রাযিঃ) কে আমীর নিয়োগ করেছিলেন, সে হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সময় তিনি (আবূ বাকর) আমাকে সহ একদল লোকদের কুরবানীর দিন জনগণের মধ্যে নিম্নোক্ত ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেনঃ “এ বছরের পর মুশরিকরা আর হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করবে না।” ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর এ হাদীস অনুযায়ী হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান বলতেন- “মহান হাজ্জের (হজ্জের/হজের) দিন হচ্ছে এ কুরবানীর দিন"* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

492

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নেই- যেদিন আল্লাহ তা'আলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তা'আলা নিকটবতী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে মালায়িকার সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেনঃ তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩১৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

493

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত মাঝখানের গুনাহসমূহের কাফফারাহ স্বরূপ এবং ক্রটিমুক্ত (অথবা আল্লাহর নিকট গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

494

সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

495

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ (কাবাহ) ঘরে (হাজ্জের (হজ্জের/হজের) উদ্দেশে) আসে, অতঃপর অশ্লীল আচরণও করে না এবং দুষ্কর্মও করে না সে এমন (নিষ্পাপ) ভাবে প্রত্যাবর্তন করে যে তার জননী তাকে (নিষ্পাপ অবস্থায়) প্রসব করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

496

সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে এ সানাদের পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে হাদীসটি এভাবে শুরু হয়েছে “যে ব্যক্তি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করে এবং (এ সময়) কোনরূপ অশ্লীল আচরণও করে না, দুষ্কর্মও করে না।” (ইসলামী ফাউন্ডেশন ৩১৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

497

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

498

আবূ ত্বহির, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উসামাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু হরিসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি মাক্কায় (মক্কায়) আপনার বাড়িতে অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, “আকীল কি আমাদের জন্য কোন চার দেয়াল বা ঘর অবশিষ্ট রেখেছে?" আবূ তলিবের (মৃত্যুর পর তার পুত্র) আকীল ও ত্বলিব তার ওয়ারিস হয়, কিন্তু জাফার ও আলী তার কোন কিছুর ওয়ারিস হতে পারেনি। কেননা তারা উভয়ে (আবূ ত্বালিবের মৃত্যুর সময়) ছিলেন মুসলিম এবং ‘আকীল ও তলিব ছিল কাফির। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬০, ইসলামীক সেন্টার)

499

মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আগামীকাল কোথায় অবতরণ করবেন? এটা ছিল তার বিদায় হাজ্জ (হজ্জ/হজ)কালীন ঘটনা, যখন আমরা মাক্কার (মক্কার) নিকটবর্তী হয়েছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, ‘আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাসস্থান অবশিষ্ট রেখেছে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬১, ইসলামীক সেন্টার)

500

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর মর্জি আপনি আগামীকাল কোথায় অবতরণ করবেন? এটা মাক্কাহ্ (মক্কা) বিজয়কালের বক্তব্য। তিনি বললেন, ‘আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাসস্থান অবশিষ্ট রেখেছে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬২, ইসলামীক সেন্টার)

501

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ... 'আলা ইবনুল হাযরামী (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপনান্তে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে মুহাজিরগণ তিনদিন মাক্কায় (মক্কায়) অবস্থান করবে। তিনি যেন এ বাক্যের দ্বারা তিন দিনের অধিক না হবার কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৩, ইসলামীক সেন্টার)

502

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আলা ইবনুল হাযরামী (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহাজিরগণ হজ্জ সমাপনান্তে মাক্কায় (মক্কায়) তিনদিন অবস্থান করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৪, ইসলামীক সেন্টার)

503

হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... 'আলা ইবনুল হাযরামী (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপনান্তে মুহাজিরগণ তিন রাত মাক্কায় (মক্কায়) অবস্থান করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৫, ইসলামীক সেন্টার)

504

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আলা ইবনুল হাযরামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুষ্ঠানাদি শেষ করার পর মুহাজিরগণ মাক্কায় (মক্কায়) তিনদিন অবস্থান করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৬, ইসলামীক সেন্টার)

505

হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৭, ইসলামীক সেন্টার)

506

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরাতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত অব্যাহত থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহবান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তা'আলা এ শহরকে সম্মানিত করেছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক কিয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তখন “আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির (লম্বা ঘাস) সম্পর্কে (অনুমতি দিন)। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বললেন, কিন্তু ইযখির (তোলার অনুমতি দেয়া হল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৮, ইসলামীক সেন্টার)

507

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) মানসূর (রহঃ) থেকে এ সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি "যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন" কথাটুকুর উল্লেখ করেননি এবং কিতাল শব্দের পরিবর্তে কতল শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৬৯, ইসলামীক সেন্টার)

508

কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ শুরায়হ আল আদাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আমর ইবনু সাঈদ (ইবনুল আস ইবনু উমাইয়্যাহ) যখন মাক্কাহ (মক্কা) অভিযানের উদ্দেশে সৈন্য বাহিনীসহ রওনা করেন তখন আবূ শুরায়হ (রাযিঃ) তাকে বলেন, হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলতে যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দু' কান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সে দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই মাক্কা (মক্কা) কে আল্লাহ তা'আলা হারামে পরিণত করেছেন- কোন মানুষ তাকে হারামের মর্যাদায় উন্নীত করেনি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখেতার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তা'আলা তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি তাও এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সে হুরমাত (মর্যাদা) গতকালের মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন (এ কথা) অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দেয়। আবূ শুরায়হ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল- আমর আপনাকে কী জবাব দিল? তিনি বললেন, হে আবূ শুরায়হ! এ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম (কাবাহ্) কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭০, ইসলামীক সেন্টার)

509

যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা যখন তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাক্কাহ (মক্কা) বিজয় দান করলেন- তখন তিনি লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চিত আল্লাহ তা'আলা হস্তী বাহিনীর মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশে বাধা প্রদান করেছেন এবং তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদেরকে মাক্কাহ (মক্কাহ) অভিযানে বিজয়ী করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত বৈধ ছিল না। আর আমার জন্যও একদিনের কিছু সময় এখানে যুদ্ধ করা হালাল করা হয়েছিল। আমার পরে আর কারও জন্য তা কখনও হালাল করা হবে না। অতএব এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার কাটাদার গাছও উপড়ানো যাবে না এবং এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী (তা তুলে নিতে পারবে)। কারও কোন আত্মীয় নিহত হলে তার জন্য দুটি অবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের অধিকার রয়েছেঃ হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে নতুবা হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস যা আমরা কবরে দিয়ে থাকি এবং আমাদের ঘরের চালায় ব্যবহার করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিন্তু ইযখির ঘাস (এর কাটার অনুমতি দেয়া হল)। ইয়ামানের অধিবাসী আবূ শাহ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে (এ কথাগুলো) লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। ওয়ালীদ (রহঃ) বলেন, আমি আওযাঈ (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ "হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন"-তাঁর এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, যে ভাষণ তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতে শুনলেন তা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭১, ইসলামীক সেন্টার)

510

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু লায়স কর্তৃক বানু খুযাআর এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ শেষোক্ত গোত্রের লোকেরা মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের সময়ে প্রথমোক্ত গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি নিজ সওয়ারীতে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা হস্তী বাহিনীর মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ প্রতিরোধ করেন এবং তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদেরকে এর উপর বিজয়ী করেন। সাবধান আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কখনও কারও জন্য তা হালাল নয়। সাবধান! আমার জন্যও এক দিনের সামান্য সময় এখানে (রক্তপাত) বৈধ করা হয়েছিল। সাবধান! এ মুহুর্তে আবার তা (আমার জন্যও) হারাম হয়ে গেল। অতএব এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না এবং পথে পড়ে থাকা বস্তুও তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি (তা তুলতে পারবে)। যার কোন আত্মীয় নিহত হয়েছে তার দুটি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। হয় ফিদয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে, নতুবা কিসাস স্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করতে হবে। রাবী বলেন, আবূ শাহ (রাযিঃ) নামক ইয়ামানের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। কুরায়শ বংশের এক ব্যক্তি বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস- আমরা তো তা আমাদের ঘর তৈরির কাজে এবং কবরে ব্যবহার করে থাকি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭২, ইসলামীক সেন্টার)

511

সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো জন্য মাক্কায় (মক্কায়) অস্ত্র বহন করা হালাল নয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৩, ইসলামীক সেন্টার)

512

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ আল কা'নবী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কা) বিজয়ের সময়ে লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করেন। তিনি যখন তা মাথা থেকে নামিয়ে রাখলেন তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, ইবনু খাত্বালা-কে কা'বার গেলাফের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। [ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করেন যে, ইমাম যুহরী (রহঃ) আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে তাকে এ হাদীস বলেছেন, কিনা] তিনি বলেন, হ্যাঁ।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৪, ইসলামীক সেন্টার)

513

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামিমী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ আস্ সাকাকী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। কুতায়বাহ্ (রহঃ) বলেন, “তিনি মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের দিন ইহরামবিহীন অবস্থায় কালো পাগড়ী পরিধান করে মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করেন। কুতায়বাহ্ (রহঃ) এর রিওয়ায়াতে উল্লেখ রয়েছে যে, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালো পাগড়ী পরিধান করে মাক্কাহ্ (মক্কাহ্) বিজয়ের দিন মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৫, ইসলামীক সেন্টার)

514

‘আলী ইবনু হাকীম আল আওদী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের দিন কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) প্রবেশ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৬, ইসলামীক সেন্টার)

515

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক্ক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাফার ইবনু আমর ইবনু হুরায়স (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় লোকদের উদ্দেশে (মাক্কাহ (মক্কাহ) বিজয়ের দিন) ভাষণ দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৭, ইসলামীক সেন্টার)

516

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ... জাফার ইবনু আমর ইবনু হুরায়স (রাযিঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কালো পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় মিম্বারের উপর (উপবিষ্ট) দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি পাগড়ীর দু' প্রান্ত কাঁধের মাঝ বরাবর ঝুলিয়ে রেখেছেন। আবূ বাকর (রহঃ) এর বর্ণনায় মিম্বারের উপর কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৮, ইসলামীক সেন্টার)

517

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবরাহীম (আঃ) মাক্কা (মক্কা) কে হারাম বানিয়েছেন এবং এখানকার বাসিন্দাদের জন্য দু'আ করেছেন। আর আমি নিশ্চয়ই মাদীনাকে হারামে পরিণত করলাম ঠিক যেভাবে ইবরাহীম (আঃ) মাক্কা (মক্কা) কে হারামে পরিণত করেছেন। আমি এখানকার মুদ ও সা' (ওজন পরিমাপের দুটি একক) এর জন্য দুআ করলাম যেরূপ ইবরাহীম (আঃ) মাক্কার (মক্কার) অধিবাসীদের জন্য দুআ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৭৯, ইসলামীক সেন্টার)

518

আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আমর ইবনু ইয়াহইয়া আল মাযিনী (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮০, ইসলামীক সেন্টার ৩১৭৭)।

519

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবরাহীম (আঃ) মাক্কা (মক্কা) কে হারামে পরিণত করেছেন, আর আমি দু'টি কৃষ্ণ প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। তিনি মাদীনাকে বুঝিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮১, ইসলামীক সেন্টার)

520

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... নাফি ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি মাক্কাহ (মক্কা) ও তার বাসিন্দা এবং এর হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। তখন রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) তাকে ডাক দিয়ে বললেন, কী ব্যাপার! আমি আপনাকে মাক্কাহ (মক্কা), তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করতে শুনছি, অথচ মদীনাহ, তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি কিছুই বলেননি; অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার দু' প্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ হাদীস আমাদের নিকট একটি খাওলানী চামড়ায় লিপিবদ্ধ আছে। আপনি চাইলে আমি তা আপনার সামনে পড়ে শোনাতে পারি। রাবী বলেন, মারওয়ান চুপ হয়ে গেলেন, অতঃপর বললেন, অবশ্য আমিও এ রকম কিছু শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮২, ইসলামীক সেন্টার)

521

আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন্‌ নাকিদ (রহঃ) ..... জবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) মাক্কার (মক্কার) হারাম নির্ধারণ করেছেন, আর আমি মদীনাকে হারাম বলে ঘোষণা করছি- এর দু' প্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে। অতএব এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৩, ইসলামীক সেন্টার)

522

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আমির ইবনু সা'দ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে হারাম বলে ঘোষণা দিচ্ছি। এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মাদীনাহ তার অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর স্থান, যদি তারা বুঝে। যে ব্যক্তি অনাগ্রহবশতঃ মাদীনাহ্ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার চাইতে উত্তম ব্যক্তিকে তার স্থলবর্তী করেন। আর যে ব্যক্তি এখানে ক্ষুধা ও কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করে, আমি তার জন্য কিয়ামতের দিন শাফা'আতকারী অথবা বলেছেন, সাক্ষী হব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৪, ইসলামীক সেন্টার)

523

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তৎপরবর্তী অংশ উপরোক্ত ইবনু নুমায়রের অনুরূপ। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত আছে যে, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) যে ব্যক্তিই মাদীনাবাসীদের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের আগুনে এমনভাবে বিগলিত করবেন, যেভাবে আগুনের তাপে সীসা গলে যায় অথবা লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৫, ইসলামীক সেন্টার)

524

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আমির ইবনু সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সাদ (রাযিঃ) আল-আকীকে তার আবাসে রওনা হলেন। পথিমধ্যে তিনি একটি ক্রীতদাসকে একটি গাছ কাটতে অথবা (লাঠি দিয়ে) এর পাতা ঝরাতে দেখলেন। অতএব তিনি তার অস্ত্র কেড়ে নিলেন। তিনি ফিরে এলে ঐ গোলামের মুনিব এসে তার সাথে আলাপ করলেন এবং তাদের গোলামের নিকট থেকে তিনি যা কেড়ে নিয়েছেন তা তাদের কাছে অথবা তাদের গোলামের কাছে ফেরত দিতে অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন, যে জিনিস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছেন তা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। অতএব তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৬, ইসলামীক সেন্টার)

525

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... 'আমর ইবনু আবূ আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তুলহাহ্ (রাযিঃ) কে বললেনঃ তোমাদের বালকদের মধ্য থেকে একজন বালক আমার খিদমাতের জন্য খুঁজে আনো। অতএব আবূ তুলহাহ (রাযিঃ) আমাকে বাহনে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই (বাহন থেকে) নামতেন, আমি তার প্রয়োজনীয় সেবা করতাম। এ হাদীসে তিনি আরও বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রসর হতে থাকলেন এবং উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হল- তিনি বললেনঃ “এ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী।" তিনি যখন মাদীনার নিকটবর্তী হলেন তখন বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাদের (মাদীনার অধিবাসীদের) মুদ ও সা এ বারাকাত দান করুন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৭, ইসলামীক সেন্টার)

526

সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি মাদীনার দু' প্রান্তের কংকরময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম করছি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৮, ইসলামীক সেন্টার)

527

হামিদ ইবনু উমার (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অতএব যে ব্যক্তি এখানে কোন পাপ করে, তিনি পুনরায় আমাকে বললেন, তা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার যে, এখানে কোন পাপ করে তার উপর আল্লাহ, তার মালাক এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার ফারয (ফরয) অথবা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করবেন না।* রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর পুত্র বললেন, “অথবা যে কোন পাপীকে আশ্রয় দিল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৯, ইসলামীক সেন্টার)

528

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল আহওয়াল (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা হারাম। অতএব এখানকার উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না। যে ব্যক্তি তা করবে তার উপর আল্লাহ, তার মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯০, ইসলামীক সেন্টার)

529

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! তাদের বারাকাত দান করুন দাঁড়িপাল্লায়, তাদের সা' এ এবং তাদের মুদ-এ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯১, ইসলামীক সেন্টার)

530

যুহায়র ইবনু হারব ও ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আস্ সামী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করলেনঃ “হে আল্লাহ। আপনি মাক্কা (মক্কা) তে বারাকাত দান করেছেন, মাদীনায় তার দ্বিগুণ বারাকাত দান করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯২, ইসলামীক সেন্টার)

531

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের (আহলে বায়ত) কাছে আল্লাহর কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, অর্থাৎ ঐ সহীফাহ্ যা তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স* এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফারয (ফরয) ও নাফল ইবাদাত কবুল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। রাবী বলেন, আবূ বাকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে "তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী" এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবতী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় "তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত" কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)

532

‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করা হবে না। তাদের (‘আলী ও ওয়াকী) উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকী’র বর্ণনায় “কিয়ামতের দিন" কথাটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)

533

আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে ইবনু মুসহির ও ওয়াকী'র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় “গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়” কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লা'নাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)

534

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনাহ হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল (কিছুই) কবুল করা হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)

535

আবূ বাকর ইবনু নাযর ইবনু আবূ নাযর (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি কিয়ামতের দিন কথাটুকু বলেননি। তিনি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, “মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর। কেউ যদি মুসলিম প্রদত্ত নিরাপত্তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তবে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কিছুই কবুল হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)

536

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি মাদীনায় হরিণ বিচরণ করতে দেখি তবে তাকে ভয় দেখাব না। (কেননা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার দু’পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)

537

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম ঘোষণা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যদি মাদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশে হরিণ বিচরণ করতে দেখি, তবে আমি তাকে উত্যক্ত করব না এবং তিনি মাদীনার চারপাশের বারো মাইল পর্যন্ত চরণভূমি ঘোষণা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)

538

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন প্রথম (পাকা) ফল দেখতে পেত, তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসত এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তা গ্রহণ করতেন তখন তিনি নিম্নোক্ত দুআ পড়তেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে) বারাকাত দান করুন, আমাদের মাদীনায় বারাকাত দান করুন, আমাদের সা’-এ বারাকাত দান করুন এবং আমাদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) আপনার বান্দা, প্রিয় বন্ধু ও নবী। আর আমিও আপনার বান্দা ও নবী। তিনি মাক্কার (মক্কার) জন্য আপনার নিকট দু'আ করেছেন। আমিও আপনার নিকট মাদীনার জন্য দুআ করছি- যেমন তিনি মাক্কার (মক্কার) জন্য আপনার নিকট দু'আ করেছিলেন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু।” রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কোন শিশুকে ডাকতেন এবং তাকে এ ফল দিয়ে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০০, ইসলামীক সেন্টার)

539

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মৌসুমের প্রথম ফল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেয়া হত। তিনি তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাদীনায়, আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে), আমাদের মুদ-এ ও আমাদের সা’-এ বারাকাত দান করুন, বারাকাতের উপর বারাকাত দান করুন।" অতঃপর তিনি ফলটি তার নিকট উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুকে দিয়ে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০১, ইসলামীক সেন্টার)

540

হাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু উলাইয়্যাহ্ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ মাওলা আল মাহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা মাদীনায় কষ্ট ও দুঃখে পতিত হন। তিনি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক এবং আমরা দুঃখ দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছি। তাই আমি আমার পরিবারকে কোন শস্য শ্যামল এলাকায় স্থানান্তরের মনস্থ করেছি। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, তা করো না বরং মাদীনাকে আঁকড়ে থাক। কারণ, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেন যে এবং উসফান পর্যন্ত পৌছলেন। এখানে তিনি কয়েক রাত অবস্থান করলেন। লোকেরা বলল, আল্লাহর কসম আমরা এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি। অথচ আমাদের পরিবার পরিজন আমাদের পশ্চাতে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা তাদের (নিরাপত্তার) ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছি না। এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছলে তিনি বলেনঃ কী ব্যাপার, তোমাদের এ কথা আমার নিকটে পৌছেছে। রাবী বলেন, আবূ সাঈদ (রাযিঃ) কথাটা কিভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তা আমার হুবহু মনে নেই। সে সত্তার নামে শপথ অথবা সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্য আমি মনস্থ করেছি, অথবা যদি তোমরা চাও- রাবী বলেন, আবূ সাঈদ (রাযিঃ) কোনটি বলেছেন তা আমার সঠিক মনে নেই। তবে আমি নিশ্চিত আমার উষ্ট্রীকে অগ্রসর হবার নির্দেশ দিব এবং মাদীনায় পৌছা পর্যন্ত তার একটি গিটও খুলব না। (যাত্রা বিরতি করব না)। অতঃপর তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) মাক্কা (মক্কা) কে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং তা পবিত্র ও সম্মানিত হয়েছে। আর আমি মাদীনাকে হারাম ঘোষণা করলাম- যা দু' পাহাড়ের (আয়র ও উহুদ) মধ্যস্থলে অবস্থিত। অতএব এখানে রক্তপাত করা যাবে না, এখানে যুদ্ধের উদ্দেশে অস্ত্রবহন করা যাবে না এবং পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত গাছপালার পাতাও পাড়া যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের এ শহরে বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ আমাদের সা’-এ বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ আমাদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ! বারাকাতের সাথে আমাদের আরো দুটি বারাকাত দান করুন।" সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! মাদীনার এমন কোন প্রবেশ পথ বা গিরি পথ, বা পাহাড়ের পথ নেই যেখানে তোমাদের মাদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু'জন করে মালাক পাহারায় নিযুক্ত নেই। পুনরায় তিনি লোকদের উদ্দেশে বললেন, “তোমরা রওনা হও।" অতএব আমরা রওনা হলাম এবং মাদীনাহ এসে পৌছলাম। সে সত্তার শপথ যার নামে আমরা শপথ করি অথবা যার নামে শপথ করা হয়- হাম্মাদ তাঁর উধ্বতন রাবী কোনটি বলেছেন সে সম্বন্ধে সন্দেহে পড়েছেন। আমরা মাদীনাহ প্রবেশ করে বাহনের পিঠের হাওদা তখনও খুলিনি ইত্যবসরে আবদুল্লাহ ইবনু গাতফান গোত্রের লোকেরা আমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করে, অথচ ইতোপূর্বে এরূপ কিছু করার দুঃসাহস তাদের হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০২, ইসলামীক সেন্টার)

541

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ আমাদের মুদ ও সা’-এ বারাকাত দিন এবং বারাকাতের সাথে আরও দু'টি বারাকাত করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৩, ইসলামীক সেন্টার)

542

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৪, ইসলামীক সেন্টার)

543

কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ মাওলা আল মাহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল হাররার রাতগুলোতে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট এলেন এবং মাদীনাহ থেকে (কোথাও) চলে যাওয়ার পরামর্শ করলেন। তিনি তার কাছে এখানকার দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও নিজের বৃহৎ পরিবারের অভিযোগ করলেন। তিনি তাকে আরও জানালেন যে, তিনি এখানকার ক্লেশ ও রুক্ষ আবহাওয়া বরদাশত করতে পারছেন না। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) তাকে বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়, আমি তোমাকে মদীনাহ ত্যাগের পরামর্শ দিতে পারি না। কারণ, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এখানকার কষ্ট সহ্য করে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন অবশ্যই আমি তার জন্য শাফা’আত করব অথবা সাক্ষী হব, যদি সে মুসলিম হয়ে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৫, ইসলামীক সেন্টার)

544

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ মাদীনার দু' প্রান্তের প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে আমি হারাম ঘোষণা করছি, যেমন, ইবরাহীম (আঃ) মাক্কা (মক্কা) কে হারাম ঘোষণা করেছেন। (অধঃস্তন রাবী) ‘আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আবূ সাঈদ (রাযিঃ) যদি আমাদের কারও হাতে পাখি দেখতে পেতেন তবে তিনি তার হাত থেকে পাখিকে মুক্ত করে ছেড়ে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৬, ইসলামীক সেন্টার)

545

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত দিয়ে মাদীনার দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ ঐ স্থান হারাম ও নিরাপদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৭, ইসলামীক সেন্টার)

546

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় এলাম এবং তা ছিল অস্বাস্থ্যকর স্থান। আবূ বাকর ও বিলাল (রাযিঃ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের অসুস্থতা লক্ষ্য করে দু'আ করলেনঃ “হে আল্লাহ! মাদীনাকে আমাদের জন্য প্রিয় স্থান করুন যেমন মাক্কা (মক্কা) কে প্রিয় স্থান করেছেন অথবা আরও অধিক, তাকে স্বাস্থ্যকর স্থানে পরিণত করুন, আমাদের জন্য এখানকার সা' ও মুদ-এ বারাকাত দান করুন এবং জ্বর জুহফায় সরিয়ে দিন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৮, ইসলামীক সেন্টার)

547

আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২০৯, ইসলামীক সেন্টার)

548

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এখানকার দুঃখ কষ্ট সহ্য করে আমি কিয়ামতের দিন অবশ্যই তার জন্য শাফা’আত করব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১০, ইসলামীক সেন্টার)

549

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যুবায়রের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফিৎনার সময় 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর নিকট বসা ছিলেন। তার নিকট তার এক আযাদকৃত বাদী সালাম দিয়ে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি (মাদীনাহ থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করছি। আমাদের উপর দিয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে বললেন, বোকা মেয়ে, থেকে যাও। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি মাদীনার দুঃখ কষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে আমি কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী হব অথবা তার শাফা'আতকারী হব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১১, ইসলামীক সেন্টার)

550

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এখানকার দুঃখকষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে আমি কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী হব অথবা তার শাফা'আতকারী হব। এখানকার বলতে মাদীনাকে বুঝানো হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১২, ইসলামীক সেন্টার)

551

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজর (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি মাদীনার দুঃখকষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে, তার জন্যই আমি কিয়ামতের দিন শাফা'আতকারী হব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৩, ইসলামীক সেন্টার)

552

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৪, ইসলামীক সেন্টার)

553

ইউসুফ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাদীনার দুঃখকষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করবে... অবশিষ্টাংশ আগের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৫, ইসলামীক সেন্টার)

554

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার প্রবেশ পথে মালায়িকাহ প্রহরারত। তথায় মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৬, ইসলামীক সেন্টার)

555

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাসীহ (দাজ্জাল) মাদীনাহ্ আক্রমণের উদ্দেশে এসে উহুদ পাহাড়ের পশ্চাতে অবতরণ করবে এবং মালায়িকাহ্ তার মুখ (গতি) সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দিবে আর তথায় সে ধ্বংস হবে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৭, ইসলামীক সেন্টার)

556

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মাদীনার) লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি তার চাচাত ভাইকে এবং নিকটাত্মীয়কে ডেকে বলবে, ‘আসো, কোন উর্বর এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করি, আসো, কোন শস্য-শ্যামল এলাকায় গিয়ে বাস করি। কিন্তু মাদীনাই তাদের জন্য উত্তম যদি তারা জানত। সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি কোন ব্যক্তি মাদীনার উপর বিরক্ত হয়ে চলে যায় তবে আল্লাহ তা'আলা তার চাইতে উত্তম ব্যক্তি তার স্থলবর্তী করবেন। সাবধান মাদীনাহ হচ্ছে হাপর তুল্য, যা নিজের মধ্য থেকে নিকৃষ্ট জিনিস (ময়লা) বের করে দেয়। কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ মাদীনাহ তার বুক থেকে নিকৃষ্ট লোকদের বের করে না দিবে যেমন হাপর লোহার ময়লা দূর করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৮, ইসলামীক সেন্টার)

557

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এমন একটি জনপদে (হিজরাতের) জন্য আদিষ্ট যা সমস্ত জনপদ খেয়ে ফেলবে (আধিপত্য বিস্তার করবে)। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব নামে অভিহিত করেছে। অথচ তা হল মাদীনাহ্। তা লোকদের এমনভাবে বের করবে যেমনিভাবে হাপর লোহার ময়লা বের করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২১৯, ইসলামীক সেন্টার)

558

আমর আন নাকিদ, ইবনু আবূ উমার ও ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকেও এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এরা দু’জন বলেছেনঃ “যেমন হাপর ময়লা দূর করে" এবং "লোহা" শব্দের উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২০, ইসলামীক সেন্টার)

559

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন (গ্রাম্য লোক) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (ইসলামে দীক্ষিত হবার) বায়’আত হল। অতঃপর বেদুঈন মাদীনায় প্রবল জরে আক্রান্ত হল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়’আত প্রত্যাহার করুন। তিনি তার কথা প্রত্যাখ্যান করলেন। সে পুনরায় তার নিকট এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে নিন। তিনি তা অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়’আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়’আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। অতঃপর বেদুঈন (মাদীনাহ থেকে) চলে গেল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “মাদীনাহ হচ্ছে হাপর স্বরূপ, সে নিজের বুক থেকে ময়লা বহিষ্কার করে দেয় এবং পবিত্র জিনিস ধুয়ে মুছে সাফ করে"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২১, ইসলামীক সেন্টার)

560

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হল ত্বয়বাহ (পবিত্র) অর্থাৎ মদীনাহ্, তা ময়লা দূর করে দেয় যেমন আগুন রূপার ময়লা দূর করে দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২২, ইসলামীক সেন্টার)

561

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, হান্নাদ ইবনু আস্ সারী ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা মাদীনার নাম রেখেছেন ত্বাবাহ্’। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৩, ইসলামীক সেন্টার)

562

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, ইবরাহীম ইবনু দীনার ও মুহাম্মাদ রাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শহরের অর্থাৎ মাদীনার অধিবাসীদের ক্ষতি করতে চাইবে আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৪, ইসলামীক সেন্টার)

563

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, ইবরাহীম ইবনু দীনার ও ইবনু রাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এখানকার (মাদীনার) অধিবাসীদের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে গলিয়ে ফেলবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৫, ইসলামীক সেন্টার)

564

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৬, ইসলামীক সেন্টার)

565

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাদীনাবাসীদের ক্ষতি করতে চাইবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৭, ইসলামীক সেন্টার)

566

কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ..... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে আকস্মিক আক্রমণ অথবা ক্ষতিসাধন এর কথা উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৮, ইসলামীক সেন্টার)

567

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) ও সাদ ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ মাদীনাবাসীদের মুদ-এ বারাকাত দান করুন" ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এতে আরো আছেঃ “যে ব্যক্তি এখানকার অধিবাসীদের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দিবেন যেমন পানিতে লবণ গলে যায়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২২৯, ইসলামীক সেন্টার)

568

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাম (সিরিয়া) বিজিত হবে। ফলে একদল লোক সপরিবারে মাদীনাহ থেকে চলে যাবে উট হাঁকাতে হাঁকাতে। অথচ মাদীনাহ তাদের জন্য কল্যাণকর ছিল যদি তারা বুঝতে পারত। এরপর ইয়ামান বিজিত হবে। ফলে একদল লোক উট হাকিয়ে সপরিবারে চলে যাবে (মাদীনাহ থেকে)। অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা বুঝতে পারত। এরপর ইরাক বিজিত হবে। ফলে একদল লোক উট হাঁকিয়ে সপরিবারে মাদীনাহ থেকে বের হয়ে যাবে অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩০, ইসলামীক সেন্টার)

569

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। ইয়ামান বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাঁকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত। অতঃপর শাম (সিরিয়া) বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাঁকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা বুঝতে পারত। অতঃপর ইরাক বিজিত হবে। ফলে একদল লোক নিজেদের পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে উট হাকিয়ে তথায় চলে যাবে। অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা বুঝতে পারত।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩১, ইসলামীক সেন্টার)

570

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ সম্পর্কে বলেছেনঃ “এখানকার লোকেরা মাদীনাহ ত্যাগ করবে, সে স্থান তাদের জন্য কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও। আর তা এমনভাবে জনশূন্য হয়ে যাবে যে, তা হিংস্র জন্তু ও পাখির আবাসে পরিণত হবে।" ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, আবূ সফওয়ান- আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মালিক ছিলেন ইয়াতীম। তিনি ইবনু জুরায়জের তত্ত্বাবধানে দশ বছর প্রতিপালিত হন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩২, ইসলামীক সেন্টার)

571

আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ লোকেরা মদীনাহ ত্যাগ করবে তাদের জন্য তা (মাদীনায় বসবাস) কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও এবং কেবল হিংস্র জন্তু ও পাখিরাই সেখানে বসবাস করবে। অতঃপর মুযায়নাহ গোত্রের দুটি রাখাল মাদীনার উদ্দেশে রওনা হবে উচ্চস্বরে নিজেদের মেষপাল হাঁকিয়ে। তারা সে স্থান হিংস প্রাণীতে ভর্তি দেখতে পাবে। তারা সানিয়াতুল বিদা উপত্যকা পর্যন্ত পৌছে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৩, ইসলামীক সেন্টার)

572

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ আল মাযিনী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৪, ইসলামীক সেন্টার)

573

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৫, ইসলামীক সেন্টার)

574

যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু নুমায়র (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান। আর আমার মিম্বার আমার (কাওসার নামক) হাওযের উপরে অবস্থিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৬, ইসলামীক সেন্টার)

575

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুমায়দ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে রওনা হলাম। অতঃপর আবূ হুমায়দ (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে তিনি বললেন, (যুদ্ধ শেষে) আমরা পুনরায় অগ্রসর হলাম এবং ওয়াদিল কুরায়* পৌছলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামঃ বললেন, “আমি দ্রুত অগ্রসর হই। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে চলতে চায় সে আমার সঙ্গে দ্রুত চলুক। আর যার ইচ্ছা সে থেমে থেমে আসুক। তখন আমরা রওনা হলাম এবং অবশেষে মাদীনাহ আমাদের দৃষ্টিগোচর হলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ (মাদীনাহ) হচ্ছে ত্বাবাহ এবং এ হচ্ছে উহুদ আর উহুদ এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৭, ইসলামীক সেন্টার)

576

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উহুদ এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৮, ইসলামীক সেন্টার)

577

উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকালেন এবং বললেন, উহুদ এমন একটি পাহাড় যে আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৩৯, ইসলামীক সেন্টার)

578

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার এ মসজিদে (মসজিদে নবাবীতে) এক (রাকাআত) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য কোন ৷ মসজিদে এক হাজার (রাক'আত) সালাতের চেয়েও উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪০, ইসলামীক সেন্টার)

579

মুহাম্মদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে আদায়কৃত এক হাজার (রাকাআত সালাতের তুলনায় অধিক ফাযীলাতপূর্ণ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪১, ইসলামীক সেন্টার)

580

ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) এর শাগরিদ আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান ও আবূ আবদুল্লাহ আগার (জুহায়নাহ গোত্রের মুক্তদাস) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে হাজার (রাকাআত) সালাতের তুলনায় অধিক ফাযীলাতপূর্ণ। কেননা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীগণের সমাপ্তি (সর্বশেষ নবী) এবং তার মসজিদ (নবী-রসূলগণ কর্তৃক নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে) সর্বশেষ মসজিদ। আবূ সালামাহ্ ও আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, নিঃসন্দেহে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) যে সব কথা বলেছেন, তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস থেকেই বলেছেন। এজন্য আমরা তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তার নিকট থেকে এ হাদীস সত্যায়িত করে নেয়ার প্রয়োজনবোধ করিনি। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর ইন্তিকালের পর তার নিকট থেকে এ হাদীসের সত্যায়ন সম্পর্কে আমরা পরস্পর আলোচনা করি এবং একে অপরকে দোষারূপ করি যে, কেন আমরা এ হাদীস সম্পর্কে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করিনি যে, তিনি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন কিনা। এ অবস্থায় একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনু কারিয এর কাছে বসলাম এবং এ হাদীস ও তা আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কর্তৃক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে বর্ণিত হওয়া সম্পর্কে আলোচনা উত্থাপন করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনু কারিয (রহঃ) আমাদের বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চিত আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “অতএব অবশ্যই আমি নবীগণের সমাপ্তি এবং আমার মাসজিদ সর্বশেষ মাসজিদ"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪২, ইসলামীক সেন্টার)

581

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনু কারিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) অন্য সকল মসজিদে এক হাজার (রাক’আত) সালাতের চেয়ে উত্তম অথবা এ মসজিদ ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাতের সমতুল্য কিন্তু মসজিদুল হারামের কথা স্বতন্ত্র। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৩, ইসলামীক সেন্টার)

582

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৪, ইসলামীক সেন্টার)

583

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার এ মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাতের চেয়ে অধিক ফাযীলাতপূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৫, ইসলামীক সেন্টার)

584

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৬, ইসলামীক সেন্টার)

585

ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ..... উক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৭, ইসলামীক সেন্টার)

586

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৮, ইসলামীক সেন্টার)

587

কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক রোগাক্রান্ত হওয়ার পর বলল, আল্লাহ আমাকে রোগমুক্তি দান করলে আমি গিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে অবশ্যই সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। অতঃপর সে আরোগ্য লাভ করল এবং (বায়তুল মুকাদ্দাস) যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল এবং সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মায়মূনাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে সালাম দিয়ে এ সম্পর্কে অবহিত করল। তিনি বললেন, তুমি এখানে থাক, যা কিছু পাথেয় নিয়েছে তা খাও এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে সালাত আদায় কর। কারণ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “এ মসজিদে এক (রাকাআত) সালাত আদায় মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে এক হাজার (রাকাআত) সালাত আদায়ের চেয়েও অধিক ফাযীলাতপূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৪৯, ইসলামীক সেন্টার)

588

আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উটের পিঠে হাওদা আঁটা যাবে না (সফর করা যাবে না) তিনটি মসজিদ ব্যতীতঃ এ মসজিদ, মাসজিদুল হারাম ও মুসজিদুল আকসা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫০, ইসলামীক সেন্টার)

589

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা এভাবে শুরু হয়েছেঃ "তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫১, ইসলামীক সেন্টার)

590

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযীঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবলমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবেঃ কাবাহ মসজিদ, আমার এ মসজিদ এবং ঈলিয়ার মাসজিদ (বায়তুল মুকাদ্দাস) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫২, ইসলামীক সেন্টার)

591

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর পুত্র আবদুর রহমান (রহঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে" সে মাসজিদ সম্পর্কে আপনার পিতাকে আপনি কিরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তার কোন এক স্ত্রীর ঘরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে মাসজিদ কোনটি যার ভিত্তি তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? রাবী (আবূ সাঈদ) বলেন, তিনি একমুষ্টি কাকর তুলে তা জমিনের বুকে নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর বললেনঃ “তা তোমাদের এ মসজিদ মাদীনার মাসজিদ।" রাবী (আবূ সালামাহ) বলেন, এখন আমি বললাম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চিত আমিও আপনার পিতাকে এভাবেই ঐ মসজিদের উল্লেখ করতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৩, ইসলামীক সেন্টার)

592

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সানাদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদের নাম উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৪, ইসলামীক সেন্টার)

593

আবূ জাফর আহমাদ ইবনু মানী' (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে অথবা বাহনে চড়ে মসজিদে যিয়ারাতের জন্য যেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)

594

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে অথবা বাহনে চড়ে কুবা মসজিদে আসতেন। অতঃপর তিনি সেখানে দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন।* অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবূ বকর (রাযিঃ) বলেছেন, ইবনু নুমায়র (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি সেখানে দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৬, ইসলামীক সেন্টার)

595

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে বা বাহনে চড়ে কুবায় আসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৭, ইসলামীক সেন্টার)

596

আবূ মা'ন আর রাক্কাশী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৮, ইসলামীক সেন্টার)

597

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনে চড়ে এবং পদব্রজে কুবায় আসতেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৫৯, ইসলামীক সেন্টার)

598

ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনে চড়ে ও পদব্রজে কুবায় আসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৬০, ইসলামীক সেন্টার)

599

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) প্রতি শনিবার কুবায় আসতেন। তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রতি শনিবার এখানে আসতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৬১, ইসলামীক সেন্টার)

600

ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি শনিবার কুবায় আসতেন। তিনি বাহনে চড়ে এবং পায়ে হেঁটে সেখানে আসতেন। ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ)ও অনুরূপ ‘আমল করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৬২, ইসলামীক সেন্টার)

601

আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম (রহঃ) ..... ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এ সূত্রে “প্রতি শনিবার" কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৬৩, ইসলামীক সেন্টার)