অল ইসলাম লাইব্রেরি

95 - সত্যবাদীর সংবাদ গ্রহণ

1

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى: (فَلَوْلاَ نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ) وَيُسَمَّى الرَّجُلُ طَائِفَةً لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا) فَلَوْ اقْتَتَلَ رَجُلاَنِ دَخَلَ فِي مَعْنَى الآ(রাঃ)يَةِ وَقَوْلُهُ تَعَالَى: (إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا) وَكَيْفَ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَرَاءَهُ وَاحِدًا بَعْدَ وَاحِدٍ فَإِنْ سَهَا أَحَدٌ مِنْهُمْ رُدَّ إِلَى السُّنَّةِ আল্লাহর কথাঃ ‘‘তাদের প্রত্যেক দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অনুশীলন করতে পারে এবং ফিরে আসার পর তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে যাতে তারা (অসদাচরণ) থেকে বিরত হয়?’’ (সূরাহ আত্-তওবা ৯/১২২) طَائِفَةً শব্দটি এক ব্যক্তিকেও বুঝায়। কেননা, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘মু’মিনদের দু’দল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর একটি দল অপরটির উপর বাড়াবাড়ি করলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করে, তার বিরুদ্ধে তোমরা লড়াই কর যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি দলটি ফিরে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে ফায়সালা কর আর সুবিচার কর; আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন’’ (সূরাহ আল-হুজরাত ৪৯/৯)। অতএব যদি দু’ ব্যক্তি দ্বন্ধে লিপ্ত হয় তবে তা এ আয়াতের অর্থের মধ্যে শামিল হবে। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যদি কোন পাপাচারী তোমাদের কাছে কোন বার্তা নিয়ে আসে তোমরা তা পরখ করে দেখবে যাতে অজ্ঞতার কারণে তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না কর.....’’ (সূরাহ আল-হুজরাত ৪৯/৬)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরূপে তাঁর আমীরদেরকে পর্যায়ক্রমে এক এক করে পাঠাতেন- যাতে তাদের কেউ ভুল করলে তাকে সুন্নাতের দিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ৭২৪৬. মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। আমরা সবাই এক বয়সী যুবক ছিলাম। আমরা বিশ রাত তাঁর কাছে অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন কোমল হৃদয়ের। তিনি যখন অনুমান করলেন যে আমরা আমাদের স্ত্রী-পরিবারের প্রতি ঝুঁকে পড়েছি, কিংবা আসক্ত হয়ে পড়েছি তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা বাড়িতে কাদেরকে রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝে অবস্থান কর, আর তাদেরকে (দ্বীন) শিক্ষা দাও। আর তাদের হুকুম কর। তিনি (মালিক) কিছু বিষয় উল্লেখ করেছিলেন, যা আমি মনে রেখেছি বা মনে রাখতে পারিনি। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন) তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখছ সেভাবে সালাত আদায় কর। যখন সালাতের সময় হাজির হয়, তখন তোমাদের কোন একজন যেন তোমাদের জন্য আযান দেয়, আর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে যেন তোমাদের ইমামত করে। [৬২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

2

ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে নিজ সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না করে। কেননা, সে আযান দিয়ে থাকে, কিংবা বলেছিলেন আহবান জানায়, তোমাদের যারা সালাতরত তাদের নিরত হতে আর তোমাদের ঘুমন্তদের জাগিয়ে দিতে। এরূপ হলে ফারজ হয় না- এই বলে ইয়াহ্ইয়া উভয় হাতের তালুকে একত্র করলেন (অর্থাৎ আলো উপর-নীচে দীর্ঘ হলে) বরং এমন হলে ফজর হয়, এ বলে ইয়াহ্ইয়া তার দু’ তর্জনীকে ডানে-বামে বিস্তৃত করলেন। [৬২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

3

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ বিলাল (রাঃ) রাত থাকতে আযান দেয়, অতএব তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) আযান দেয়।[1] [৬১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

4

‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরে পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। তাকে বলা হল, সালাত কি বাড়ানো হয়েছে? তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? তাঁরা বললেন, আপনি পাঁচ রাক‘আত সালাত পড়েছেন। তখন তিনি সালামের পর দু’টো সাজদা দিলেন। [৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

5

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাক‘আত আদায় করেই সালাত শেষ করে দিলেন। তখন যুল ইয়াদাইন (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন। তিনি বললেনঃ যুল ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং অবশিষ্ট দু’রাক‘আত পড়লেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বলে তার সিজদার মত কিংবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন এবং মাথা উঠালেন, তারপর আবার তাকবীর বলে তাঁর সাজদার মত সিজদা করলেন ও মাথা উঠালেন। [৪৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

6

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা কু‘বার মসজিদে ফজরের সালাতে ছিলেন, এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কা‘বার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তোমরা কা‘বার দিকে মুখ করে দাঁড়াও। তখন তাদের মুখ ছিল সিরিয়ার দিকে, অতঃপর তারা কা‘বার দিকে ঘুরলেন। [৩০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

7

বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনাহয় আসলেন, তখন ষোল অথবা সতের মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত পড়লেন। আর তিনি কা‘বার দিকে মুখ করতে খুবই ভালবাসতেন। অতঃপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আমি তোমার আকাশের দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখাকে লক্ষ্য করেছি, যে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা) তুমি পছন্দ কর’’- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৪)। তখন তাঁকে কা‘বাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তি ‘আসরের সালাত পড়ছিল। এরপর সে বেরিয়ে আনসারীদের এক গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করল এবং সে সাক্ষ্য দিয়ে বলল যে, সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত পড়ে এসেছে আর কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তখন তাঁরা দিক পরিবর্তন করলেন। এ সময় তাঁরা ‘আসরের সালাতে রুকূ‘র হালতে ছিলেন। [৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

8

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বলহা আনসারী, আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু জাররাহ্ ও ইবাই ইবনু কা‘বকে আধাপাকা খেজুরের তৈরি শরাব পান করাচ্ছিলাম। তখন তাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বলল, শরাব হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আনাস! তুমি উঠে গিয়ে মটকাগুলো ভেঙ্গে ফেল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি উঠে গিয়ে আমাদের ঘটি দিয়ে ওগুলোর তলায় আঘাত করে ভেঙ্গে ফেললাম। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

9

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানের অধিবাসীদের উদ্দেশে বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য অবশ্য অবশ্যই এমন একজন লোক পাঠাব, যিনি পুরোপুরি বিশ্বস্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অতঃপর তিনি আবূ ‘উবাইদাহকে পাঠালেন। [৩৭৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

10

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মাতে একজন বিশ্বস্ত লোক থাকে আর এ উম্মাতের বিশ্বস্ত লোক হল আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ)। [৩৭৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

11

‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক আনসারী ছিলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুপস্থিত থাকতেন আমি তাঁর কাছে উপস্থিত থাকতাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা কিছু ঘটত তা আমি তাকে বর্ণনা করতাম। আর যখন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুপস্থিত থাকতাম আর তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা কিছু ঘটত তিনি এসে তা আমাকে বর্ণনা করতেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

12

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সেনাদল পাঠালেন এবং এক ব্যক্তিকে তাঁদের ‘আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তিনি (‘আমীর) আগুন জ্বালালেন এবং বললেন, তোমরা এতে প্রবেশ কর। কতক লোক তাতে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। তখন অন্যরা বলল, আমরা তো (মুসলিম হয়ে) আগুন থেকে পালাতে চেয়েছি। অতঃপর তারা এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানাল। তখন যাঁরা আগুনে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন তাদেরকে বললেনঃ যদি তারা তাতে প্রবেশ করত তাহলে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্তই সেখানে থাকত। আর অন্যদেরকে বললেনঃ আল্লাহর নাফরমানীর কাজে কোনরূপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হয় কেবলমাত্র ন্যায়সঙ্গত কাজে। [৪৩৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

13

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ও যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, দু’ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি মুকাদ্দামা নিয়ে আসল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

14

আবুল ইয়ামান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয় যে, তিনি [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)] বলেছেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় একজন গ্রাম্য লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা‘আলার কিতাব অনুসারে আমার ফায়সালা করে দিন। তখন তার বিরোধী লোকটি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি সত্যই বলেছেন, আল্লাহর কিতাব অনুসারে তার ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি বল। তখন সে বলল, আমার ছেলে এ লোকটির বাড়িতে মজুর ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীসে উক্ত عَسِيفًا শব্দটি অর্থ মজুর। সে ছেলে এ লোকের স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে। কতক লোক আমাকে বলল যে, আমার ছেলের উপর ‘রজম’ কার্যকর হবে। তখন আমি মুক্তিপণ হিসাবে একশ বক্রী ও একটি দাসী দেই। অতঃপর আমি আলিমদের নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। তাঁরা আমাকে বললেন যে, তাঁর স্ত্রীর জন্য ‘রজম’। আর আমার ছেলের জন্য রয়েছে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তরের বিধান। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, অবশ্য অবশ্যই আমি তোমাদের দু’জনের মাঝে সেই মহান আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করব। বক্রী ও বাঁদী ফিরিয়ে নাও। তোমার ছেলের জন্য রয়েছে একশ’ বেত্রাঘাত ও একবছরের জন্য দেশান্তরের হুকুম। অতঃপর তিনি আসলাম গোত্রের এক লোককে ডেকে বললেন, হে উনায়স! তুমি এর স্ত্রীর নিকট যাও, যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে ‘রজম’ করো। উনায়স সেই মহিলার নিকট গেলেন, সে স্বীকার করল, তখন তিনি তাকে রজম করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

15

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, খন্দকের দিনে নবী লোকদের ডাকলেন। যুবায়র (রাঃ) তাতে সাড়া দিলেন। তিনি তাদেরকে আবার আহবান জানালেন, এবারও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনি আবার তাদের আহবান জানালেন। এবারেও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনবার। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক নবীর একজন হাওয়ারী (সাহায্যকারী) থাকে, আর যুবায়র হচ্ছে আমার হাওয়ারী। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির থেকে হিফয করেছি। একবার আইউব তাকে বললেন, হে আবূ বকর (রাঃ), আপনি জাবির (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করুন। কেননা, জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীস লোকদের খুবই চমৎকৃত করে। তখন তিনি সে মজলিসে বললেন, আমি জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছি। এ বলে তিনি একে একে অনেক হাদীস বর্ণনা করলেন, যেগুলো আমিও জাবির (রাঃ) থেকে শুনছি। আমি সুফ্ইয়ানকে বললাম যে, সাওরী বলেছেন যে, সেটা ছিল বনূ কুরায়যার যুদ্ধের দিন। তিনি বললেন, তুমি যেভাবে আমার কাছে উপবিষ্ট, ঠিক তেমনি কাছে বসে আমি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে হিফ্য করেছি যে, সেটি ছিল খন্দকের দিন। সুফ্ইয়ান বললেন, ওটা একই দিন। অতঃপর মুচকি হাসলেন। [২৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

16

যদি একজন তাকে অনুমতি দেয় তবে প্রবেশ করা বৈধ। ৭২৬২. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে দরজা পাহারা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। এক লোক এসে প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তারপর ‘উসমান (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। [৩৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

17

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোতলার কক্ষে ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কালো গোলামটি দরজার সামনে দাঁড়ানো। আমি তাকে বললাম, তুমি বল, এইযে ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এসেছে। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

18

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِحْيَةَ الْكَلْبِيَّ بِكِتَابِهِ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى قَيْصَرَ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাহইয়া কালবী (রাঃ)-কে তাঁর চিঠি দিয়ে বসরার গভর্নরের নিকট পাঠিয়েছিলেন, যাতে সেটি সে (রোমের বাদশাহ) কায়সারের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়। ৭২৬৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পারস্যের বাদশাহ) কিসরার নিকট তাঁর চিঠি পাঠালেন। তিনি দূতকে নির্দেশ দিলেন, সে যেন এ চিঠি নিয়ে বাহরাইনের শাসকের নিকট দেয়। আর বাহরাইনের শাসক যেন তা কিসরার কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। কিসরা এ চিঠি পড়ে তা টুকরা টুকরা করে ফেলল। ইবনু শিহাব বলেন, আমার ধারণা ইবনু মুসাইয়্যেব বলেছেন যে, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপর বদ্ দু‘আ করলেন, যেন আল্লাহ তাদেরকেও একেবারে টুকরো টুকরো করে দেন।[1] [৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

19

সালামাহ ইবনু আক্ওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন আসলাম কবীলার এক লোককে বললেনঃ তোমার কওমের মধ্যে ঘোষণা কর, কিংবা বলেছিলেনঃ লোকের মাঝে ঘোষণা কর যে, যারা আহার করেছে তারা যেন অবশিষ্ট দিন পূর্ণ করে, আর যারা আহার করেনি তারা যেন সওম রাখে। [১৯২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

20

আবূ জামরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে তার খাটে বসাতেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল। তিনি বললেনঃ এ কোন্ প্রতিনিধিদল? তারা বলল, আমরা রাবী‘আ গোত্রের। রাসূলুল্লাহ্সাঃ বললেনঃ গোত্র ও তার প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ, যারা অপমানিত হয়নি এবং লজ্জিতও হয়নি। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ও আমাদের মাঝে মুদার গোত্রের কাফিররা (বাধা হয়ে) আছে। কাজেই আমাদের এমন আদেশ দিন, যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং আমাদের পরবর্তীদেরকেও জানাতে পারি। তারা পানীয় দ্রব্যের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল। তিনি তাদের চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন এবং চারটি বিষয়ের আদেশ করলেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান কী তোমরা জান? তারা বলল, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ সাক্ষ্য দান করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় তাতে সওমের কথাও ছিল। আর গনীমতের মাল হতে পাঁচ ভাগের এক ভাগ দাও এবং তিনি তাদের জন্য দুববা (লাউয়ের খোলের পাত্র), হান্তাম (মাটির সবুজ রঙের পাত্র), (মুযাফ্ফাত এক রকম তৈলাক্ত পাত্র), নাকীর (কাঠের খোদাই করা পাত্র) নিষেধ করলেন। কোন কোন বর্ণনায় ‘নাকীর’-এর জায়গায় ‘মুকাইয়ার’ কথাটির উল্লেখ রয়েছে। এবং তিনি তাদের বললেন, এ কথাগুলো ভার। ভাবে মনে রেখ এবং তোমাদের পিছনে যারা আছে তাদের কাছে পৌঁছে দিও।[1] [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

21

তওবা আনবারী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শা‘বী আমাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাসান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের (অধিক সংখ্যার) বিষয়টি কি দেখতে পাচ্ছেন না? অথচ আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে দু’বছর কিংবা দেড় বছর থেকেছি। কিন্তু তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মাঝে কতিপয় ব্যক্তি সমবেত ছিলেন, তাদের মাঝে সা‘দও ছিলেন, তারা গোশ্ত খাচ্ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নীদের কেউ তাদের ডেকে বললেন যে, এটা দবের গোশ্ত। তারা (আহার থেকে) বিরত হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ খাও বা খাওয়াও, এটা হালাল। কিংবা তিনি বললেনঃ কোন অসুবিধে নেই কোন দোষ নেই। তবে এটা আমার খাদ্য নয়। [মুসলিম ৩৪/৭, হাঃ ১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)