অল ইসলাম লাইব্রেরি

94 - আকাঙ্ক্ষা

1

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি কিছু লোক আমার সঙ্গে শারীক না হয়ে পিছনে থেকে যাওয়াটা অপছন্দ না করত, আর সকলকে (যুদ্ধে যাওয়ার) বাহন দিতে আমি অক্ষম না হতাম, তাহলে আমি কোন যুদ্ধ থেকেই পিছনে থাকতাম না। আমি অবশ্যই কামনা করি যে, আমাকে আল্লাহর পথে শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়।[1] [৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

2

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমি কামনা করি যেন আমি অবশ্যই আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি। এতে আমাকে শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয় আবার শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, আবার শহীদ করা হয়। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। এ সম্পর্কে আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি। [৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

3

وَقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ لِي أُحُدٌ ذَهَبًا নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ যদি ওহুদ পর্বত আমার জন্য স্বর্ণ হয়ে যেত। ৭২২৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি উহূদ (পাহাড়) পরিমাণ সোনা আমার কাছে থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই পছন্দ করতাম যে, তিন রাতও এ অবস্থায় অতিবাহিত না হোক যে ঋণ আদায় করার জন্য ছাড়া একটি দ্বীনারও আমার কাছে থাকুক যা গ্রহণ করার মত লোক পাই। [২৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

4

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কর্তব্য সম্পর্কে যদি আমি আগে জানতাম যা পরে জানতে পেরেছি, তাহলে আমি হাদী (অর্থাৎ কুরবানীর পশু) সঙ্গে নিয়ে আসতাম না এবং লোকেরা যখন (ইহরাম ছেড়ে) হালাল হয়েছে, তখন আমিও হালাল হয়ে যেতাম। [২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

5

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং আমরা হাজ্জের তালবিয়া পড়লাম। তারপর যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমরা মক্কা্য় এসে পৌঁছলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করতে এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করতে নির্দেশ দিলেন এবং এটাকে ‘উমরাহয় পরিণত করে ইহরাম খুলে হালাল হওয়ার জন্য বললেন। যাদের সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) ছিল তাদের ছাড়া। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ত্বলহা (রাঃ) ব্যতীত আমাদের আর কারো সঙ্গে হাদী ছিল না। এ সময় ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আসলেন। তাঁর সঙ্গে হাদী ছিল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তেমন ইহরাম বেঁধেছি। সাহাবীগণ (রাঃ) বললেন, আমরা মিনার দিকে যাচ্ছি। অথচ আমাদের কারো কারো পুরুষাঙ্গ (স্ত্রী সহবাসের জন্য) উত্তেজিত হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আমার এ কাজে যদি আগে জানতাম যা আমি পরে জানতে পারলাম, তাহলে আমি হাদী সঙ্গে আনতাম না। আর আমার সঙ্গে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। রাবী বলেন, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সঙ্গে সুরাকা ইবনু মালিক (রাঃ) সাক্ষাত করলেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা-ই আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করছিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি কেবল আমাদের জন্যই? তিনি বললেনঃ না, বরং এটা চিরদিনের জন্য। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) ঋতুমতী হয়ে মক্কা্য় পৌঁছেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দেশ করলেন, হাজ্জের যাবতীয় কার্য যথারীতি আদায় কর, তবে পবিত্র হবার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করো না এবং সালাত আদায় করো না। তারা যখন বাতহা নামক স্থানে নামলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা একটি হাজ্জ ও একটি ‘উমরাহ নিয়ে ফিরলেন। আর আমি কেবল একটি হাজ্জ নিয়ে ফিরছি? জাবির (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে তাঁকে তানঈমে নিয়ে যাবার হুকুম করলেন। পরে ‘আয়িশাহ (রাঃ) যিলহাজ্জ মাসে হাজ্জের দিনগুলোর পরে একটি ‘উমরাহ আদায় করেন। [১৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

6

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে রইলেন। পরে তিনি বললেনঃ যদি আমার সাহাবীদের কোন নেককার লোক আজ রাতে আমার পাহারা দিত! হঠাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনলাম। তখন তিনি বললেনঃ এ কে? বলা হল, এ হচ্ছে সা‘দ, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন, এমন কি আমরা তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পেলাম।[1] ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, বিলাল (রাঃ) আওড়াচ্ছিলেন- হায়! আমার উপলব্ধি, আমি কি উপত্যকায় রাত কাটাতে পারব, যখন আমার পাশে থাকবে জালীর ও ইয্খির (ঘাস)। পরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ খবর পৌঁছিয়ে দিলাম। [২৮৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

7

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যাবে না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন সে তা দিন রাত তিলাওয়াত করে। কেউ বলল, একে যা দেয়া হয়েছে, যদি আমাকেও তা দেয়া হত, তবে সে যেমন করছে, আমিও তেমন করতাম। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ মাল দিয়েছেন, সে তা যথোচিতভাবে খরচ করে। কেউ বলল, তাকে যা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাকে দেয়া হত, তাহলে আমি অবশ্যই তাই করতাম, সে যা করে। [৫০২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

8

(وَلاَ تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللهُ بِهٖ بَعْضَكُمْ عَلٰى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبْنَ وَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهٖ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا) আল্লাহর নির্দেশ : তোমরা তা কামনা করো না যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন। পুরুষেরা তাদের কৃতকার্যের অংশ পাবে, নারীরাও তাদের কৃতকর্মের অংশ পাবে এবং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩২) ৭২৩৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে না শোনতাম যে, তোমরা মৃত্যু কামনা করো না, তাহলে অবশ্যই আমি কামনা করতাম। [৫৬৭১; মুসলিম ৪৮/৪, হাঃ ২৬৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

9

কায়স (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব ইবনু আরাত্ (রাঃ) এর সেবা শুশ্রুষা করার জন্য এলাম। তিনি সাতটি দাগ লাগিয়েছিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাদেরকে মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতেন নিষেধ না করতেন, তাহলে আমি অবশ্যই এজন্য দু‘আ করতাম। [৫৬৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

10

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎ হয় তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে নেক কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি পাপী হয়, তাহলে হয়ত সে তওবা করবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, আবূ ‘উবায়দ-এর নাম হচ্ছে সা‘দ ইবনু ‘উবায়দ আব্দুর রহমান ইবনু আয্হার এর আযাদকৃত গোলাম। [৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

11

বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সঙ্গে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, মাটি তাঁর পেটের শুভ্রতাকে ঢেকে ফেলেছে। তিনি বলছিলেন : (হে আল্লাহ্!) যদি আপনি না করতেন তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না এবং আমরা দান-সদাকাহ করতাম না, আর আমরা সালাতও পড়তাম না। অতএব আপনি আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন। প্রথম দলটি, কখনো বলতেন, একদল লোক আমাদের উপর যুল্ম করেছে। যখন তারা ফিতনার ইচ্ছে করে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। ‘প্রত্যাখ্যান করি’- উচ্চস্বরে বলতেন। [২৮১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

12

আবূ নাযর সালিম (রাঃ) যিনি ‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর আযাদ করা গোলাম এবং তার কাতিব (সচিব) ছিলেন, বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তার কাছে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) চিঠি লিখলেন, আমি তা পড়লাম। তাতে লেখা ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার কামনা করো না বরং আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে নিরাপত্তা কামনা কর। [২৮১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

13

وَقَوْلِهِ تَعَالٰى: (لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً) আল্লাহর বাণীঃ তোমাদেরকে দমন করার ক্ষমতা আমার যদি থাকত! (সূরাহ হূদ ১১/৮০) ৭২৩৮. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) দু’জন লি‘আনকারীর বিষয়ে বর্ণনা করলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু শাদ্দাদ বললেন, এটা কি সেই স্ত্রীলোক যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, বিনা প্রমাণে যদি কোন মহিলাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদন্ড দান) করতাম? তিনি বললেন, না, সে মহিলাটি প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করেছিল। [৫৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

14

‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এশার সালাত দেরি হল। তখন ‘উমার (রাঃ) বের হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি বের হয়ে এলেন, তাঁর মাথা থেকে পানি টপ টপ করে পড়ছে। তিনি বলছিলেন, যদি আমার উম্মাতের জন্য কিংবা বলেছিলেন, লোকেদের জন্য, সুফ্ইয়ানও বলেছেন, আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে এ সময়ে সালাত পড়ার হুকুম দিতাম। ইবনু জুরায়জ ‘আত্বার সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সালাত বিলম্ব করলেন। ফলে ‘উমার (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি তাঁর মাথার পাশ থেকে পানি মুছতে মুছতে বের হয়ে এসে বললেনঃ আসলে এটাই সময়। এরপর বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম.....। ‘আমর এ হাদীসটি ‘আত্বা থেকে বর্ণনা করেন, সে সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নাম নেই। তবে ‘আমর বলেছেন যে, তাঁর মাথা থেকে পানি টপ টপ করে পড়ছিল। আর ইবনু জুরায়জ বলেন, তিনি তাঁর মাথার এক পাশ থেকে পানি মুছছিলেন। আবার ‘আমরের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম। আর ইবনু জুরায়জ বলেন, এটাই সময়। যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম.....। তবে ইব্রাহীম ইবনু মুনযির ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে। [৫৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

15

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে আমি তাদেরকে মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। [৮৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

16

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (কোন এক) মাসের শেষভাগে নবী বিরতিহীন সওম রাখলেন এবং আরো কতিপয় লোকও বিরতিহীনভাবে সওম রাখল। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমার এ মাস প্রলম্বিত হত, তবুও আমি এভাবে বিরতিহীন সওম পালন করতাম। যাতে অধিক কষ্টকারীরা তাদের কষ্ট করা ত্যাগ করে। আমি তো তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে আহার করান এবং পান করান। সুলায়মান ইবনু মুগীরাহ আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুমায়দ-এর অনুসরণ করেছেন। [১৯৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

17

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতিহীন সওম পালন করতে নিষেধ করলেন। সাহাবীগণ বললেন, আপনি বিরতিহীন সওম পালন করছেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের কে আছ আমার মতো? আমি তো রাত কাটাই যাতে আমার প্রতিপালক আমাকে খাওয়ান ও পান করান। কিন্তু তারা যখন বিরত থাকতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন তিনি তাদেরসহ একদিন, তারপর আর একদিন সওম পালন করলেন। তারপর তারা নতুন চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি চাঁদ আরো (কয়দিন) পরে উদিত হত, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের (সওম) বাড়াতাম। তিনি যেন তাদেরকে শাসন করছিলেন। [১৯৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

18

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কা‘বার বাইরের দেয়াল (হাতীম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সেটা কি কা‘বা ঘরের অংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা এ অংশকে ঘরে শামিল করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের খরচে কমতি দেখা দিয়েছিল। আমি বললামঃ এর দরজাটা এত উঁচুতে বানানো হল কেন? তিনি বললেনঃ এটা তোমার কওম এ জন্য করেছিল, যাতে তারা যাকে ইচ্ছে ঢুকতে দেবে এবং যাকে ইচ্ছে বাধা দেবে। তোমার কওম যদি সবে জাহিলীয়্যাত মুক্ত না হত, অতঃপর তাদের অন্তর বিগড়ে যাবার আশঙ্কা না করতাম তাহলে দেয়ালটিকে ঘরের মাঝে শামিল করে দিতাম এবং এর দরজাকে ভূমি বরাবর করে দিতাম। [১২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

19

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি হিজরাত (মহান আল্লাহ কর্তৃক ঘোষিত একটি মর্যাদাপূর্ণ পন্থা) না হত, তাহলে আমি আনসারদের একজন হতাম। আর যদি লোকেরা এক উপত্যকা দিয়ে চলত আর আনসাররা অন্য উপত্যকা দিয়ে কিংবা গিরিপথ দিয়ে চলত, তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলতাম। [৩৭৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

20

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যদি হিজরাত না হত, তাহলে আমি আনসারদের একজন হতাম। আর লোকেরা যদি কোন এক উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলত, তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলতাম। আবূ তাইয়াহ্ (রহ.) আনাস (রাঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকম হাদীস ‘উপত্যকার’ কথা উল্লেখ করে ‘আব্বাস ইবনু তামীম-এর অনুসরণ করেছেন। [৪৩৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)