78 - আদব
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট কোন্ কাজ সব থেকে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেনঃ সময় মত সালাত আদায় করা। (‘আবদুল্লাহ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। ‘আবদুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেনঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। ‘আবদুল্লাহ বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি তাঁকে আরও অধিক প্রশ্ন করলে, তিনি আমাকে আরো জানাতেন। [৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেনঃ তোমার মা। লোকটি বললঃ অতঃপর কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমার বাপ। ইবনু শুবরুমাহ বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আইউব আবূ যুর‘আ থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৪৫/১, হাঃ ২৫৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলঃ আমি কি জিহাদে যাব? তিনি বললেনঃ তোমার কি পিতা-মাতা আছে? সে বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে তাদের (সেবা করার মাধ্যমে) জিহাদ কর। [৩০০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিজের পিতা-মাতাকে লা’নত করা। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপন পিতা-মাতাকে কোন লোক কীভাবে লা’নত করতে পারে? তিনি বললেনঃ সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়। [মুসলিম ১/৩৮, হাঃ ৯০, আহমাদ ৬৫৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন লোক হেঁটে চলছিল। তাদের উপর বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় পাহাড় হতে একটি পাথর তাদের গুহার মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলে। তাদের একজন অন্যদের বললঃ তোমরা তোমাদের কৃত ‘আমলের প্রতি লক্ষ্য করো যে নেক ‘আমল তোমরা আল্লাহর জন্য করেছ; তার ওয়াসীলাহ্য় আল্লাহর নিকট দু‘আ করো। হয়তো তিনি এটি হটিয়ে দেবেন। তখন তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার বয়োবৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল এবং ছোট ছোট শিশু ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্যে মাঠে পশু চরাতাম। যখন সন্ধ্যায় ফিরতাম, তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগেই পিতা-মাতাকে পান করতে দিতাম। একদিন পশুগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। ফলে আমার ফিরে আসতে দেরী হয়ে যায়। ফিরে দেখলাম তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি যেমন দুধ দোহন করতাম, তেমনি দোহন করলাম। তারপর দুধ নিয়ে এলাম এবং উভয়ের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘুম থেকে তাদের উভয়কে জাগানো ভাল মনে করলাম না। আর তাদের আগে শিশুদের পান করানোও অপছন্দ করলাম। আর শিশুরা আমাদের দু’পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। তাদের ও আমার মাঝে এ অবস্থা চলতে থাকে। শেষে ভোর হয়ে গেল। (হে আল্লাহ) আপনি জানেন যে, আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যেই এ কাজ করেছি। তাই আপনি আমাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাদের জন্যে একটু ফাঁক করে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পায়। দ্বিতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে এতখানি ভালবাসতাম, যতখানি একজন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসতে পারে। আমি তাকে একান্তে পেতে চাইলাম। সে অসম্মতি জানাল, যতক্ষণ আমি তার কাছে একশ’ দ্বীনার উপস্থিত না করি। আমি চেষ্টা করলাম এবং একশ’ স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করলাম। এগুলো নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যে বসলাম, তখন সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দাহ! আল্লাহকে ভয় করো, আমার কুমারিত্ব নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে গেলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যেই আমি তা করেছি। তাই আমাদের জন্যে এটি ফাঁক করে দিন। তখন তাদের জন্যে আল্লাহ আরও কিছু ফাঁক করে দিলেন। শেষের লোকটি বললঃ হে আল্লাহ! আমি একজন মজদুরকে এক ‘ফারক’[1] চাউলের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ শেষ করে এসে বলল, আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি তার প্রাপ্য তার সামনে উপস্থিত করলাম। কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করলো। তারপর তার প্রাপ্যটা আমি ক্রমাগত কৃষিকাজে খাটাতে লাগলাম। তা দিয়ে অনেকগুলো গরু ও রাখাল জমা করলাম। এরপর সে একদিন আমার কাছে এসে বললঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমার উপর যুল্ম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও। আমি বললামঃ ঐ গরু ও রাখালের কাছে চলে যাও। সে বললঃ আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস কর না। আমি বললামঃ তোমার সাথে আমি উপহাস করছি না। তুমি ঐ গরুগুলো ও তার রাখাল নিয়ে যাও। তারপর সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। (হে আল্লাহ!) আপনি জানেন যে, তা আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্যেই করেছি, তাই আপনি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দিন। তারপর আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন। [২২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
قَالَ بْنُ عَمْرٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ৫৯৭৫. মুগীরা ইবনু শু'বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মা-বাপের নাফরমানী করা, প্রাপকের প্রাপ্য আটক রাখা, যে জিনিস গ্রহণ করা তোমাদের জন্য ঠিক নয় তা তলব করা এবং কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেয়া। আর তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন গল্প-গুজব করা, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা ও সম্পদ অপচয় করা। [৮৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের সব থেকে বড় গুনাহ সম্পর্কে সতর্ক করব না? আমরা বললামঃ অবশ্যই সতর্ক করবেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার গণ্য করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা। এ কথা বলার সময় তিনি হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর (সোজা হয়ে) বসলেন এবং বললেনঃ মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, দু’বার করে বললেন এবং ক্রমাগত বলেই চললেন। এমনকি আমি বললাম, তিনি মনে হয় থামবেন না। [২৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরা গুনাহর কথা উল্লেখ করলেন অথবা তাঁকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শারীক করা, মানুষ হত্যা করা ও মা-বাপের নাফরমানী করা। তারপর তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের কবীরা গুনাহর অন্যতম গুনাহ হতে সতর্ক করবো না? পরে বললেনঃ মিথ্যা কথা বলা, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। শু‘বাহ (রহ.) বলেন, আমার বেশি ধারণা হয় যে, তিনি বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ বাকর (রাঃ)-এর কন্যা আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলামঃ তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবো কি না? তিনি বললেন, হাঁ। ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, এ ঘটনা প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি।’’ (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ৮) [২৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ কুরাইশরা যে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করেছিল, ঐ চুক্তিবদ্ধ সময়ে আমার মা তাঁর পিতার সঙ্গে এলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলামঃ আমার মা এসেছেন, তবে সে অমুসলিম। আমি কি তাঁর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমার মায়ের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো। [২৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ সুফ্ইয়ান থেকে জানিয়েছেন যে, (রোম সম্রাট) হিরাক্লিয়াস তাকে ডেকে পাঠায়। আবূ সুফ্ইয়ান বললো যে, তিনি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে, যাকাত দিতে, পবিত্র থাকতে এবং রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। [৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার (রাঃ) এক জোড়া রেশমী ডোরাদার কাপড় বিক্রি হতে দেখেন। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন, জুমু‘আর দিনে, আর আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরবেন। তিনি বললেনঃ এটা সে-ই পরতে পারে, যার জন্য কল্যাণের কোন হিস্যা নেই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ জাতীয় কারুকার্য খচিত কিছু কাপড় আসে। তিনি তা থেকে এক জোড়া কাপড় (হুল্লা) ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। তিনি (এসে) বললেনঃ আমি কীভাবে এটি পরবো? অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার তা বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দেইনি, বরং এ জন্যেই দিয়েছি যে, তুমি ওটা বিক্রি করে দেবে অথবা অন্যকে পরতে দেবে। তখন ‘উমার (রাঃ) তা মক্কায় তার ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। [৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি ‘আমল শিখিয়ে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [১৩৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি ‘আমল শিক্ষা দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। উপস্থিত লোকজন বললঃ তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার গণ্য করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। একে অর্থাৎ সওয়ারীকে) ছেড়ে দাও।বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি ঐ সময় তার সাওয়ারীর উপর ছিলেন। [১৩৯৬; মুসলিম ১/৪, হাঃ ১৩, আহমাদ ২৩৫৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [মুসলিম ৪৫/৬, হাঃ ২৫৫৬, আহমাদ ১৬৭৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক তার জীবিকা প্রশস্ত করতে এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিযক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। [২০৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যাবতীয় সৃষ্টিকে পয়দা করলেন। যখন তিনি সৃষ্টি কাজ সমাধা করলেন, তখন আত্মীয়তারসম্পর্ক বলে উঠলোঃ সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আপনার আশ্রয় লাভকারীদের এটাই যথাযোগ্য স্থান। তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হাঁ তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখবো। আর যে তোমা হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো। সে (রক্ত সম্পর্ক) বললোঃ হাঁ আমি সন্তুষ্ট হে আমার রব! আল্লাহ বললেনঃ তা হলে এ মর্যাদা তোমাকে দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইচ্ছে করলে (এ আয়াতটি) পড়োঃ ‘‘ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।’’ (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭/২২) [৪৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্ত সম্পর্কে মূল হল রাহমান। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ যে তোমার সাথে সুসম্পর্ক রাখবে, আমি তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমা হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও সে লোক হতে সম্পর্ক ছিন্ন করব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
(‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার হক রাহমানের মূল। যে তা সংরক্ষণ করবে, আমি তাকে সংরক্ষণ করব। আর যে তা ছিন্ন করবে, আমি তাকে আমা হতে) ছিন্ন করবো। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উচ্চস্বরে বলতে শুনেছি, আস্তে নয়। তিনি বলেছেনঃ অমুকের বংশ আমার বন্ধু নয়। ‘আমর বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু জা‘ফরের কিতাবে বংশের পরে জায়গা খালি রয়েছে। (কোন বংশের নাম নাই)। বরং আমার বন্ধু আল্লাহ ও নেককার মু’মিনগণ। ‘আনবাসা অন্য সূত্রে ‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি শুনেছিঃ বরং তাদের সাথে (আমার) আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে, আমি সুসম্পর্কের রস দিয়ে তা প্রাণবন্ত রাখি। [মুসলিম ১/৯৩, হাঃ ২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, আ’মাশ এ হাদীস মারফূ’রূপে বর্ণনা করেননি। অবশ্য হাসান (ইবনু ‘আমর) ও ফিতর (রহ.) একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়। বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলী হালাতে অনেক সাওয়াবের কাজ করেছি। যেমন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, গোলাম আযাদ করা এবং দান-খয়রাত করা, এসব কাজে কি আমি কোন সাওয়াব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্বকৃত নেকীর বদৌলতে তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে পেরেছ। ইমাম বুখারী (রহ.) অন্যত্র আবুল ইয়ামান সূত্রে (‘আত্বান্নাসুর স্থলে) ‘আত্বাহান্নাতু বর্ণনা করেছেন। (উভয় শব্দের অর্থ একই) মা‘মার, সালিহ্ ও ইবনু মুসাফিরও ‘আত্বাহান্নাসু বর্ণনা করেছেন। ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেন, তাহান্নুস মানে সৎ কাজ করা। ইবনু শিহাব তাঁর পিতা সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। [১৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উম্মু খালিদ বিন্ত খালিদ ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। আমার গায়ে তখন হলুদ রং এর জামা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সানাহ্ সানাহ্। ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় এর অর্থ সুন্দর, সুন্দর। উম্মু খালিদ বলেনঃ আমি তখন মোহরে নবূওয়াত নিয়ে খেলতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ও যা করছে করতে দাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কাপড় পুরোনো কর ও জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর, জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর জীর্ণ কর। তিনবার বললেন। ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেনঃ তিনি দীর্ঘ জীবন লাভকারী হিসেবে আলোচিত হয়েছিলেন। [৩০৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَه وَشَمَّهُ সাবিত (রহ.) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর পুত্র) ইবরাহীমকে চুমু দিয়েছেন ও তার ঘ্রাণ গ্রহণ করেছেন। ৫৯৯৪. ইবনু আবূ নু‘আয়ম থেকে বণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তাঁর কাছে একটি লোক মশার রক্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ কোন্ দেশের লোক তুমি? সে বললোঃ আমি ইরাকের বাসিন্দা। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ তোমরা এর দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে, অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তানকে হত্যা করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ওরা দু’জন (অর্থাৎ হাসান ও হুসাইন) দুনিয়াতে আমার দু’টি সুগদ্ধি ফুল। [৩৭৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই সে পেলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে। [১৪১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে আসলেন। তখন উমামাহ বিন্ত আবুল ‘আস তাঁর স্কন্ধের উপর ছিলেন। এই অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দন্ডায়মান হলেন। যখন তিনি রুকূতে যেতেন, তাকে নামিয়ে রাখতেন, আবার যখন উঠে দাঁড়াতেন, তখন তাকেও উঠিয়ে নিতেন। [৫১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাসান ইবনু ‘আলীকে চুম্বন করেন। সে সময় তাঁর নিকট আকরা‘ ইবনু হাবিস তামীমী উপবিষ্ট ছিলেন। আকরা‘ ইবনু হাবিস বললেনঃ আমার দশটি পুত্র আছে, আমি তাদের কাউকেই কোন দিন চুম্বন দেইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পানে তাকালেন, অতঃপর বললেনঃ যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না। [মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৮, আহমাদ ৭২৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো। আপনারা শিশুদের চুম্বন করেন, কিন্তু আমরা ওদের চুম্বন করি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় হতে দয়া উঠিয়ে নেন, তবে তোমার উপর আমার কি কোন অধিকার আছে? [মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৭, আহমাদ ২৪৪৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কতকগুলো বন্দী আসে। বন্দীদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোক ছিল। তার স্তন ছিল দুধে পূর্ণ। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে কোলে তুলে নিত এবং দুধ পান করাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললামঃ ফেলার ক্ষমতা রাখলেও সে কখনো ফেলবে না। তারপর তিনি বললেনঃ এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানের উপর যতটা দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর তার চেয়েও বেশি দয়ালু। [মুসলিম ৪৯/৪, হাঃ ২৭৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রহমতকে একশ‘ ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ পাঠিয়েছেন। ঐ এক ভাগ পাওয়ার কারণেই সৃষ্ট জগত পরস্পরের প্রতি দয়া করে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা উঠিয়ে নেয় এই আশঙ্কায় যে, সে ব্যথা পাবে। [৬৪২৯; মুসলিম ৪৯/৪, হাঃ ৬৪৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ গুনাহ সব হতে বড়? তিনি বললেনঃ কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ গণ্য করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপরে কোনটি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সাথে খাবে, এ আশঙ্কায় তোমার সন্তানকে হত্যা করা। [1] তিনি বললেনঃ তারপরে কোনটি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার সত্যতা প্রতিপন্ন করে অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না’’- (সূরা আল-ফুরক্বান (২৫/৬৮)। [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে নিজের কোলে উঠিয়ে নিলেন। তারপর তাকে তাহনীক [1] করালেন। শিশুটি তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল। তখন তিনি পানি আনতে বললেন এবং তা প্রস্রাবের জায়গায়) ঢেলে দিলেন। [২২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে তাঁর এক রানের উপর আমাকে বসাতেন এবং হাসানকে বসাতেন অন্য রানে। তারপর দু’জনকে একত্রে মিলিয়ে নিতেন। পরে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি এদের দু’জনের উপর রহম করুন, কেননা আমিও এদের ভালবাসি। অপর এক সূত্রে তামীমী বলেন, এ হাদীসটি সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহ জাগল। ভাবলাম, আবূ ‘উসমান থেকে আমি এতো এতো হাদীস বর্ণনা করেছি, এ হাদীসটি মনে হয় তার কাছ হতে শুনিনি। পরে খোঁজ করে দেখলাম যে, আবূ ‘উসমানের নিকট হতে শোনা যে সব হাদীস আমার কাছে লেখা ছিল, তাতে এটি পেয়ে গেলাম। [৩৭৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অন্য কোন মহিলার উপর ততটা ঈর্ষা পোষণ করতাম না, যতটা ঈর্ষা করতাম খাদীজার উপর। অথচ আমার বিয়ের তিন বছর আগেই তিনি মারা যান। কারণ, আমি শুনতাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম উল্লেখ করতেন। আর জান্নাতের মাঝে মণি-মুক্তার একটি ঘরের খোশ-খবর খাদীজাকে শোনানোর জন্যে তাঁর প্রতিপালক তাঁকে নির্দেশ দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও ছাগল যবহ করলে তার একটি টুকরো খাদীজার বান্ধবীদের কাছে অবশ্যই পাঠাতেন। [৩৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের দেখাশুনাকারী জান্নাতে এভাবে (একত্রে) থাকব। এ কথা বলার সময় তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় মিলিয়ে ইঙ্গিত করে দেখালেন। ([৫৩০৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সফওয়ান ইবনু সুলায়ম হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ‘রূপে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিধবা ও মিসকীনদের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মত। অথবা সে ঐ ব্যক্তির মত, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (‘ইবাদাতে) দন্ডায়মান থাকে। ([৫৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৭) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] আমার ধারণা যে কা‘নবী (বুখারীর উস্তাদ ‘আবদুল্লাহ) সন্দেহ প্রকাশ করেছেনঃ সে রাতভর দাঁড়ানো ব্যক্তির মত যে (‘ইবাদাতে) ক্লান্ত হয় না এবং এমন সিয়াম পালনকারীর মত, যে সিয়াম ভঙ্গ করে না। [৫৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ সুলাইমান মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কয়জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলাম। তখন আমরা ছিলাম প্রায় সমবয়সী যুবক। বিশ দিন তাঁর কাছে আমরা থাকলাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবারের নিকট প্রত্যাবর্তন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। যাদের আমরা বাড়িতে রেখে এসেছি তাদের ব্যাপারে তিনি আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন। আমরা তা তাঁকে জানালাম। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও দয়ার্দ্র। তাই তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও। তাদের (কুরআন) শিক্ষা দাও, (সৎ কাজের) আদেশ কর এবং যে ভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে সালাত আদায় কর। সালাতের ওয়াক্ত হলে, তোমাদের একজন আযান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামাত করবে। [৬২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার এক লোক পথে হেঁটে যাচ্ছিল। তার ভীষণ পিপাসা লাগে। সে একটি কূপ পেল। সে তাতে নামল এবং পানি পান করলো, তারপরে উঠে এলো। হঠাৎ দেখলো, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে। পিপাসার্ত হয়ে কাদা চাটছে। লোকটি ভাবলো, এ কুকুরটি পিপাসায় সেরূপ কষ্ট পাচ্ছে, যেরূপ কষ্ট আমার হয়েছিল। তখন সে কূপে নামল এবং তার মোজার মধ্যে পানি ভরলো, তারপর মুখ দিয়ে তা (কামড়ে) ধরে উপরে উঠে এলো। তারপর সে কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! জীব-জন্তুর (প্রতি দয়া প্রদর্শনের) জন্যও কি আমাদের পুরস্কার আছে? তিনি বললেনঃ হাঁ, প্রত্যেক দয়ালু অন্তরের অধিকারীদের জন্যে প্রতিদান আছে। [১৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতে দন্ডায়মান। আমরাও তাঁর সঙ্গে দন্ডায়মান হলাম। এ সময় এক বেদুঈন সালাতের মাঝেই বলে উঠলোঃ হে আল্লাহ! আমার ও মুহাম্মাদের উপর দয়া করো এবং আমাদের সঙ্গে আর কারো উপর দয়া করো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর বেদুঈন লোকটিকে বললেনঃ তুমি একটি প্রশস্ত ব্যাপারকে সংকুচিত করেছো অর্থাৎ আল্লাহর দয়া। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মু’মিনদের একটি দেহের মত দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়। [মুসলিম ৪৫/১৭, হাঃ ২৫৮৬, আহমাদ ১৮৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম যদি গাছ লাগায়, আর তাত্থেকে কোন মানুষ বা জানোয়ার কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সদাকাহ্য় পরিগণিত হবে। [২৩২০] আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে (সৃষ্টির প্রতি) দয়া করে না, (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তার প্রতি দয়া করা হয় না। [৭৩৭৬; মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا) إِلَى قَوْلِهِ: (مُخْتَالاً فَخُورًا) মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, কিছুকেই তাঁর শরীক করো না এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ লোককে ভালবাসেন না, যে অহংকারী, দাম্ভিক। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩৬) ৬০১৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে জিবরীল (আঃ) সর্বদা প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি, আমার ধারণা হয়, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন। [মুসলিম ৪৫/৪২, হাঃ ২৬২৪, আহমাদ ২৪৩১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারেঅসীয়ত করে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হয় যে, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন। [মুসলিম ৪৫/৪২, হাঃ ২৬২৫, আহমাদ ২৬০৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ শুরায়হ্ (রাঃ) থেকে বণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলছিলেনঃ আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কে সে লোক? তিনি বললেনঃ যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না। [মুসলিম ১/১৮, হাঃ ৪৬, আহমাদ ৮৮৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৮) ভিন্ন সূত্রে অনুরূপ একটি হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে মুসলিম মহিলাগণ! কোন প্রতিবেশী মহিলা যেন তার অপর প্রতিবেশী মহিলাকে (হাদিয়া ফেরত দিয়ে) হেয় প্রতিপন্ন না করে। তা ছাগলের পায়ের ক্ষুরই হোক না কেন। [২৫৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে জ্বালাতন না করে। যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা চুপ থাকে। [৫১৮৫; মুসলিম ১/১৯, হাঃ ৪৭, আহমাদ ৭৬৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ শুরায়হ্ ‘আদাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথা বলেছিলেন, তখন আমার দু’কান শুনছিল ও আমার দু’চোখ দেখছিল। তিনি বলছিলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান দেখায় তার প্রাপ্যের বিষয়ে। জিজ্ঞেস করা হলোঃ মেহমানের প্রাপ্য কী, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ একদিন একরাত ভালভাবে মেহমানদারী করা আর তিন দিন হলে (সাধারণ) মেহমানদারী, আর তার চেয়েও অধিক হলে তা হল তার প্রতি দয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। [৬১৩৫, ৬৪৭৬; মুসলিম ১/১৯, হাঃ ৪৮, আহমাদ ১৬৩৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের কার কাছে হাদিয়া পাঠাব? তিনি বললেনঃ যার দরজা তোমার বেশি কাছে, তার কাছে। [২২৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল সৎ ‘আমল সদাকাহ হিসেবে গণ্য। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি মুসলিমেরই সদাকাহ করা দরকার। উপস্থিত লোকজন বললঃ যদি সে সদাকাহ করার মত কিছু না পায়। তিনি বললেনঃ তাহলে সে নিজের হাতে কাজ করবে। এতে সে নিজেও উপকৃত হবে এবং সদাকাহ করবে। তারা বললঃ যদি সে সক্ষম না হয় অথবা বলেছেনঃ যদি সে না করে? তিনি বললেনঃ তাহলে সে যেন বিপন্ন মাযলূমের সাহায্য করে। লোকেরা বললঃ সে যদি তা না করে? তিনি বললেনঃ তা হলে সে সৎ কাজের আদেশ করবে, অথবা বলেছেন, সাওয়াবের কাজের নির্দেশ করবে। তারা বললঃ তাও যদি সে না করে? তিনি বললেনঃ তা হলে সে খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, এটাই তার জন্য সদাক্বাহ হবে। [১৪৪৫; মুসলিম ১২/১৬, হাঃ ১০০৮, আহমাদ ১৯৭০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, সুমিষ্ট ভাষাও সদাকাহ। ৬০২৩. আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তা'থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আবার জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর তা'থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিলেন। শু‘বাহ (রহ.) বলেনঃ দু’বার যে বলেছেন, এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচো এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে সুমিষ্ট ভাষার বিনিময়ে। [১৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললঃ السَّامُ عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর মৃত্যু উপনীত হোক। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি এর অর্থ বুঝলাম এবং বললামঃ وَعَلَيْكُمْ السَّامُ وَاللَّعْنَة তোমাদের উপরও মৃত্যু ও লা’নত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থাম, হে ‘আয়িশাহ! আল্লাহ যাবতীয় কার্যে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি শোনেননি, তারা কী বলেছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো বলেছি عَلَيْكُمْ আর তোমাদের উপরও। [২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা উঠে তার দিকে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার প্রস্রাব করায় বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন। [মুসলিম২/৩০, হাঃ ২৮৪, আহমাদ ১৩৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন। ইতোমধ্যে এক ব্যক্তি কিছু প্রশ্ন করার জন্য কিংবা কোন প্রয়োজনে আসলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে চাইলেন এবং বললেনঃ তোমরা তার জন্য (তাকে কিছু দেয়ার) সুপারিশ করো। এতে তোমাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে। আল্লাহ তাঁর নবীর দু‘আ অনুসারে যা ইচ্ছে তা করেন। [১৪৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
(كِفْلٌ) نَصِيبٌ قَالَ أَبُو مُوسَى: (كِفْلَيْنِ) أَجْرَيْنِ بِالْحَبَشِيَّةِ (كِفْلٌ) অর্থ অংশ। আবূ মূসা বলেছেনঃ হাব্শী ভাষায় (كِفْلَيْنِ) শব্দের অর্থ হলো, ‘‘দ্বিগুণ সাওয়াব।’’ (সূরা আল-হাদীদঃ ২৮) ৬০২৮. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন ভিখারী অথবা অভাবগ্রস্ত লোক এলে তিনি বলতেনঃ তোমরা সুপারিশ করো, তাহলে তোমরা সাওয়াব পাবে। অবশ্য আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের দু‘আ অনুযায়ী যা ইচ্ছে তা করেন। [১৪৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর নিকট গেলাম, যখন তিনি মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর সাথে কুফায় পদার্পণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করতেন। অতঃপর বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বভাবগতভাবে অশালীন ছিলেন না, আর ইচ্ছে করে অশালীন কথা বলতেন না। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম স্বভাবে যে সবচেয়ে উত্তম। [৩৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার একদল ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আস্-সামু ‘আলাইকুম! (তোমার মরণ হোক)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ তোমাদের উপরই এবং তোমাদের উপর আল্লাহর লা‘নত ও গযব পড়ুক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! একটু থামো। নম্রতা অবলম্বন করা তোমাদর কর্তব্য। রূঢ়তা ও অশালীনতা বর্জন করো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ তারা যা বলেছে, তা কি আপনি শোনেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা বললাম, তুমি কি তা শোননি? কথাটি তাদের উপরই ফিরিয়ে দিয়েছি। সুতরাং তাদের ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) আমার কথাই কবূল হবে আর আমার সম্পর্কে তাদের কথা কবূল হবে না। [২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গালি-গালাজকারী, অশালীন ও লা‘নতকারী ছিলেন না। তিনি আমাদের কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে, শুধু এতটুকু বলতেন, তার কী হলো। তার কপাল ধূলিমলিন হোক। [৬০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বললেনঃ সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান। এরপর সে যখন এসে বলল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দ সহকারে তার সাথে মেলামেশা করলেন। লোকটি চলে গেলে ‘আয়িশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার ব্যাপারে এমন বললেন, পরে তার সাথে আপনি আনন্দচিত্তে সাক্ষাৎ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তুমি কখন আমাকে অশালীন দেখেছ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার দুষ্টামির কারণে মানুষ তাকে ত্যাগ করে। [৬০৫৪, ৬৪৩১; মুসলিম ৪৫/২০, হাঃ ২৫৯১, আহমাদ ২৪১৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَأَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ وَقَالَ أَبُو ذَرٍّ لَمَّا بَلَغَهُ مَبْعَثُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لأَخِيهِ ارْكَبْ إِلَى هَذَا الْوَادِي، فَاسْمَعْ مِنْ قَوْلِهِ، فَرَجَعَ فَقَالَ رَأَيْتُهُ يَأْمُرُ بِمَكَارِمِ الأَخْلاَقِ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন। আর রমাযান মাসে তিনি আরও অধিক দানশীল হতেন। আবূ যার বর্ণনা করেন, যখন তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাবের খবর আসল তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেনঃ তুমি এই মক্কা উপত্যকার দিকে সফর কর এবং তাঁর কথা শুনে এসো। তাঁর ভাই ফিরে এসে বললেনঃ আমি তাঁকে উত্তম চরিত্রে ভূষিত হওয়ার নির্দেশ দিতে দেখেছি। ৬০৩৩. আনাস (রাঃ) বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর, সর্বাপেক্ষা অধিক দানশীল এবং লোকেদের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী ছিলেন। একবার রাত্রিবেলা (বিরাট শব্দে) মদিনাবাসীরা ভীত-শংকিত হয়ে পড়ে। তাই লোকেরা সেই শব্দের দিকে রওনা হয়। তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্মুখেই পেলেন, তিনি সে শব্দের দিকে লোকেদের আগেই বের হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলতে লাগলেনঃ তোমরা ভয় পেয়ো না, তোমরা ভয় পেয়ো না। এ সময় তিনি আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর জিন বিহীন অশ্বোপরি সাওয়ার ছিলেন। আর তাঁর স্কন্ধে একখানা তলোয়ার ঝুলছিল। এরপর তিনি বলতেনঃ এ ঘোড়াটিকে তো আমি সমুদ্রের মত (দ্রুত ধাবমান) পেয়েছি। অথবা বললেনঃ এ ঘোড়াটিতো একটি সমুদ্র। [২৬২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন জিনিস চাওয়া হলে, তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বভাবগতভাবে অশালীন ছিলেন না এবং তিনি ইচ্ছা করে কাউকে অশালীন কথা বলতেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব-চরিত্র উত্তম, সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। [৩৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একখানা বুরদাহ্ নিয়ে আসলেন। সাহল লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনারা কি জানেন বুরদাহ্ কী? তাঁরা বললেনঃ তা চাদর। সাহল বললেনঃ এটি এমন চাদর যা ঝালরসহ বোনা। এরপর সেই মহিলা আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে এটি পরার জন্য দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরখানা এমনভাবে গ্রহণ করলেন, যেন তাঁর এটির দরকার ছিল। এরপর তিনি এটি পরলেন। এরপর সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি সেটি তাঁর দেহে দেখে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটা কতই না সুন্দর! আপনি এটি আমাকে দিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘হাঁ’ (দিয়ে দেব)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে চলে গেলে, অন্যান্য সাহাবীরা তাঁকে দোষারোপ করে বললেনঃ তুমি ভাল কাজ করোনি। যখন তুমি দেখলে যে, এটি তাঁর প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি চাদরখানা এমনভাবে গ্রহণ করেছেন। এরপরও তুমি সেটা চাইলে। অথচ তুমি অবশ্যই জানো যে, তাঁর কাছে কোন জিনিস চাওয়া হলে তিনি কাউকে কখনো বিমুখ করেন না। তখন সেই ব্যক্তি বললঃ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পরেছেন, তখন তাঁর বারাকাত লাভের জন্যই আমি এ কাজ করেছি, যাতে এ চাদরে আমার কাফন হয়। [১২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কিয়ামত সন্নিকট হচ্ছে, ‘আমল কমে যাবে, অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেয়া হবে এবং হারজ বেড়ে যাবে। সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হারজ’ কী? তিনি বললেনঃ হত্যা, হত্যা। [৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দশটি বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কক্ষনো আমার প্রতি উঃ শব্দটি করেননি। এ কথা জিজ্ঞেস করেননি, তুমি এ কাজ কেন করলে এবং কেন করলে না? [২৭৬৮; মুসলিম ৪৩/১৩, হাঃ ২৩০৯, আহমাদ ১৩০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে কী কাজ করতেন? তিনি বললেনঃ তিনি পারিবারিক কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হত, তখন উঠে সালাতে চলে যেতেন। [৬৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তুমিও তাকে ভালবাসবে। তখন জিবরীল (আ.) তাকে ভালবাসেন এবং তিনি আসমানবাসীদের ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুককে ভালবাসেন, অতএব তোমরাও তাকে ভালবাসবে। তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালবাসে। তারপর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করা হয়। [৩২০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না সে কোন মানুষকে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে ভালবাসবে, আর যতক্ষণ না সে যে কুফরী থেকে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেছেন, তার দিকে ফিরে যাবার চেয়ে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অধিক প্রিয় মনে না করবে এবং যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় না হবেন। [১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু যাম্‘আহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের বায়ু নির্গমনে কাউকে হাসতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কেন তার স্ত্রীকে ষাঁড় পিটানোর মত পিটাবে? পরে হয়ত, সে আবার তার সাথে গলাগলিও করবে। সাওরী, ওহায়ব ও আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) হিশাম (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘ষাঁড় পিটানোর’ স্থলে ‘দাসকে বেত্রাঘাত করার ন্যায়’। [৩৩৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় (খুতবার কালে) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জান আজ কোন্ দিন? সকলেই বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজ সম্মানিত দিন। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা জান, এটি কোন্ শহর? সবাই জবাব দিলেনঃ আল্লাহ তা তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তখন তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত শহর। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জান, এটা কোন্ মাস? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা সম্মানিত মাস। তারপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের পরস্পরের) জান, মাল ও ইজ্জতকে হারাম করেছেন, যেমন হারাম তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর। [১৭৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী। শু‘বাহ (রহ.) সূত্রে গুনদারও এ রকম বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন অপর জনকে ফাসিক বলে যেন গালি না দেয় এবং একজন অন্যজনকে কাফির বলে অপবাদ না দেয়। কেননা, অপরজন যদি তা না হয়, তবে সে অপবাদ তার নিজের উপরই আপতিত হবে। [৩৫০৮; মুসলিম ১/২৭, হাঃ ৬১, আহমাদ ২১৫২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশালীন, লা‘নতকারী ও গালিদাতা ছিলেন না। তিনি কাউকে তিরস্কার করার সময় শুধু এটুকু বলতেনঃ তার কী হলো? তার কপাল ধূলিমলিন হোক। [৬০৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাবিত ইবনু যাহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি গাছের নীচে বাই‘আত গ্রহণকারীদের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দলের উপর কসম খাবে, সে ঐ দলেরই শামিল হয়ে যাবে। আর মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, এমন জিনিসের নযর আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়। আর কোন লোক দুনিয়াতে যে জিনিস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন সে জিনিস দিয়েই তাকে ‘আযাব দেয়া হবে। কোন লোক কোন মু’মিনের উপর অভিশাপ দিলে, তা তাকে হত্যা করারই শামিল হবে। আর কোন্ মু’মিনকে কাফির বললে, তাও তাকে হত্যা করার মতই হবে। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) নামক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু’জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে পরস্পর গালাগালি করছিল। তাদের একজন এতই রাগান্বিত হয়েছিল যে, তার চেহারা ফুলে বিগড়ে গিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি অবশ্যই একটিই কালেমা জানি। সে ঐ কালেমাটি পড়লে তার রাগ চলে যেত। তখন এক লোক তার কাছে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ কথাটি তাকে জানালো আর বললো যে, তুমি শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। তখন সে বললোঃ আমার মধ্যে কি কোন রোগ দেখতে পাচ্ছ? আমি কি পাগল? চলে যাও তুমি। [৩২৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘উবাদাহ ইবনু সমিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের ‘লাইলাতুল কাদর’ সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলিম ঝগড়া করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ‘লাইলাতুল কাদর’ সম্পর্কে তোমাদের খবর দিতে বেরিয়ে এসেছিলাম। এ সময় অমুক, অমুক ঝগড়া করছিল। এজন্য ঐ খবরের ‘ইলম’ আমার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। এটা হয়ত তোমাদের জন্য ভালোই হবে। অতএব তোমরা তা রমাযানের শেষ দশকের নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে খোঁজ করবে। [৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর উপর একখানা চাদর ও তাঁর গোলামের গায়ে একখানা চাদর দেখে বললাম, যদি আপনি ঐ চাদরটি নিতেন ও পরতেন, তাহলে আপনার এক জোড়া হয়ে যেত আর গোলামকে অন্য কাপড় দিয়ে দিতেন। তখন আবূ যার বললেনঃ একদিন আমার ও আরেক লোকের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। তার মা ছিল জনৈকা অনারব মহিলা। আমি তার মা তুলে গালি দিলাম। তখন লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা বলল। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি অমুককে গালি দিয়েছ? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি কি তার মা তুলে গালি দিয়েছ? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি তো এমন লোক যার মধ্যে জাহিলী যুগের স্বভাব আছে। আমি বললামঃ এখনো? এ বৃদ্ধ বয়সেও? তিনি বললেনঃ হাঁ! তারা তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা‘আলা ওদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যার ভাইকে তার অধীন করে দেন, সে নিজে যা খায়, তাকেও যেন তা খাওয়ায়। সে নিজে যা পরে, তাকেও যেন তা পরায়। আর তার উপর যেন এমন কোন কাজ না চাপায়, যা তার শক্তির বাইরে। আর যদি তার উপর এমন কঠিন ভার দিতেই হয়, তাহলে সে নিজেও যেন তাকে সাহায্য করে। [৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلممَا يَقُوْلُ ذُو الْيَدَيْنِ وَمَا لاَ يُرَادُ بِه شَيْنُ الرَّجُلِ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে ‘যুল্ ইয়াদাইন’ (লম্বা হাত বিশিষ্ট) বলেছেন। তবে কারো বদনাম কিংবা অবমাননা করার নিয়্যাতে (জায়িয) নয়। ৬০৫১. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত দু’রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর সিজদার জায়গার সম্মুখে রাখা একটা কাঠের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার উপর তাঁর এক হাত রাখলেন। সেদিন লোকেদের মাঝে আবূ বাকর, ‘উমার-ও হাযির ছিলেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। কিন্তু জলদি করে (কিছু) লোক বেরিয়ে গিয়ে বলতে লাগলঃ সালাত খাটো করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ছিল, যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘যুল্ ইয়াদাইন’ লম্বা হাত বিশিষ্ট) বলে ডাকতেন, সে বললঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত কম করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলেও যাইনি এবং (সালাত) কমও করা হয়নি। তারা বললেনঃ বরং আপনিই ভুলে গেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ ‘যুল্ ইয়াদাইন’ ঠিকই বলেছে। তারপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন ও সালাম ফিরালেন। এরপর ‘তাকবীর’ বলে আগের সিজদার মত অথবা তাত্থেকে লম্বা সিজদা করলেন। তারপর আবার মাথা তুললেন এবং তাকবীর বললেন এবং আগের সিজদার মত অথবা তাত্থেকে লম্বা সিজদা্ করলেন। এরপর মাথা উঠালেন এবং তাকবীর বললেন। [৪৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَلاَ يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ) এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে বিরত থাক। কতক অনুমান পাপের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো সেটাকে ঘৃণাই করে থাক। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ খুব বেশি তওবা ক্ববূলকারী, অতি দয়ালু...... পর্যন্ত।’’ সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১২) ৬০৫২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই এ দু’জন কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন গুনাহের কারণে কবরে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই কবরবাসী প্রস্রাব করার সময় সতর্ক থাকত না। আর ঐ কবরবাসী গীবত ক’রে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে সেটি দু’টুক্রো করে এক টুকরো এক কবরের উপর এবং এক টুকরো অন্য কবরের উপর গেড়ে দিলেন। তারপর বললেনঃ এ ডালের টুকরো দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাদের শাস্তি কমিয়ে দিবেন। [২১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ উসাইদ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারদের গৃহগুলোর মধ্যে নাজ্জার গোত্রের গৃহগুলোই উৎকৃষ্ট। [৩৭৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসার অনুমতি চাইলে তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে বংশের নিকৃষ্ট ভাই অথবা বললেনঃ সে গোত্রের নিকৃষ্ট সন্তান। লোকটি ভিতরে এলে তিনি তার সাথে নম্রতার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ লোকের ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। পরে আপনি আবার তার সাথে নম্রতার সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! নিশ্চয়ই সবচেয়ে খারাপ লোক সে-ই যার অশালীনতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তার সংসর্গ পরিত্যাগ করে। [৬০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কোন বাগানের বাইরে গেলেন। তখন তিনি এমন দু’জন লোকের শব্দ শুনলেন, যাদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তাদের দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে বড় গুনাহের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। আর তা হলো কবীরা গুনাহ। এদের একজন প্রস্রাবের সময় সতর্ক থাকত না। আর অন্য ব্যক্তি চোগলখোলী করে বেড়াতো। তারপর তিনি একটা কাঁচা ডাল আনিয়ে তা ভেঙ্গে দু’ টুকরো করে, এক কবরে এক টুকরো আর অন্য কবরে এক টুকরো গেড়ে দিলেন এবং বললেনঃ দু’টি যতক্ষণ পর্যন্ত না শুকাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের আযাব হালকা করে দেয়া হবে। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَوْلِهِ: (هَمَّازٍ مَشَّاءٍ بِنَمِيمٍ)، (وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ). يَهْمِزُ وَيَلْمِزُ يَعِيبُ আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে বার বার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত- যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে ফিরে।’’ সূরাহ আল-কলাম ৬৮ : ১০-১১) ‘‘দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে।’’ (সূরাহ আল-হুমাযাহ ১০৪ঃ ১) ৬০৫৬. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [মুসলিম১/৪৫, হাঃ ১০৫, আহমাদ ২৩৩০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মিথ্যা কথা এবং সে অনুসারে কাজ করা আর মূর্খতা পরিহার করলো না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার বর্জনের কোন প্রয়োজন নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৮) আহমাদ (রহঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তি আমাকে এর সূত্র জ্ঞাত করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তুমি আল্লাহর কাছে ঐ লোককে সব থেকে খারাপ পাবে, যে দু’মুখো। সে এদের সম্মুখে এক রূপ নিয়ে আসতো, আর ওদের সম্মুখে অন্য রূপে আসত। [৩৪৯৪; মুসলিম ৪৪/৪৮, হাঃ ২৫২৬, আহমাদ ১০৭৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গনীমত) ভাগ করলেন। তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক (মুনাফিক) লোক বললঃ আল্লাহর কসম! এ কাজে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সন্তুষ্টি চাননি। তখন আমি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানালাম। এতে তাঁর চেহারার রং পাল্টে গেল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ মূসা (আ.)-এর উপর দয়া করুন। তাঁকে এর থেকেও অনেক অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে; তবুও তিনি ধৈর্য অবলম্বন করেছেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে অন্য লোকের প্রশংসা করতে শুনলেন এবং সে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তো লোকটিকে মেরে ফেললে, কিংবা বললেনঃ লোকটির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিলে। [২৬৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে এক ব্যক্তির আলোচনা হল। তখন এক লোক তার খুব প্রশংসা করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তুমি তো তোমার সঙ্গীর গলা কেটে ফেললে। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। (তারপর তিনি বললেন) যদি কারো প্রশংসা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে, আমি তার ব্যাপারে এমন, এমন ধারণা পোষণ করি, যদি তার এরূপ হবার কথা মনে করা হয়। তার প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারীতো হলেন আল্লাহ, আর আল্লাহর তুলনায় কেউ কারো পবিত্রতা বর্ণনা করবে না। [২৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২২) খালিদ (রহঃ) সূত্রে ওহাইব বলেছেন وَيْلَكَ - ওয়াইলাকা
وَقَالَ سَعْدٌ مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لأَحَدٍ يَمْشِي عَلَى الأَرْضِ إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، إِلاَّ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ সা’দ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যমীনের উপর বিচরণকারী কোন লোকের ব্যাপারে এ কথা বলতে শুনিনি যে, সে জান্নাতী এক ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ছাড়া। ৬০৬২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযার সম্পর্কে কঠিন ‘আযাবের কথা উল্লেখ করলেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার লুঙ্গিও একদিক দিয়ে ঝুলে পড়ে। তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল নও। [৩৬৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত এত দিন এমন অবস্থায় অতিবাহিত করছিলেন যে, তাঁর খেয়াল হতো যেন তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন, অথচ তিনি মিলিত হননি। ‘আয়িশাহ বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আমি যে ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম, সে বিষয়ে আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। (আমি স্বপ্নে দেখলাম) আমার কাছে দু’জন লোক আসল। একজন বসলো আমার পায়ের কাছে এবং আরেকজন মাথার কাছে। পায়ের কাছে বসা ব্যক্তি মাথার কাছে বসা ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলঃ এ ব্যক্তির অবস্থা কী? সে বললঃ তাঁকে যাদু করা হয়েছে। সে আবার জিজ্ঞেস করলঃ তাঁকে কে যাদু করেছে? সে বললঃ লাবীদ্ ইবনু আ‘সাম। সে আবার জিজ্ঞেস করলঃ কিসের মধ্যে? সে বলল, নর খেজুর গাছের খোসার ভিতরে তাঁর চিরুনীর এক টুকরা ও আঁচড়ানো চুল ঢুকিয়ে দিয়ে ‘যারওয়ান’ কূপের মধ্যে একটা পাথরের নীচে রেখেছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখানে) গিয়ে দেখে বললেনঃ এ সেই কূপ যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। সেখানের খেজুর গাছের মাথাগুলো যেন শয়তানের মাথা এবং সে কূপের পানি যেন মেহদী ভেজা পানি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুকুমে তা কূপ থেকে বের করা হলো। ‘আয়িশাহ বলেন, তখন আমি বললাম। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন অর্থাৎ এটি প্রকাশ করলেন না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তো আমাকে আরোগ্য করে দিয়েছেন, আর আমি মানুষের নিকট কারো দুষ্কর্ম ছড়িয়ে দেয়া পছন্দ করি না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ লাবীদ্ ইবনু আ‘সাম ছিল ইয়াহূদীদের মিত্র বনূ যুরায়কের এক ব্যক্তি। [৩১৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। ধারণা বড় মিথ্যা ব্যাপার। তোমরা দোষ তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর হিংসা পোষণ করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না; বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। [৫১৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য তিন দিনের অধিক তার ভাইকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। [৬০৭৬; মুসলিম ৪৫/৭, হাঃ ২৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িও না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিও না, আর পরস্পরকে হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। [৫১৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অমুক অমুক ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কিছু জানে বলে আমি ধারণা করি না। রাবী লায়স বর্ণনা করেন যে, লোক দু’টি মুনাফিক ছিল। [৬০৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লায়স আমাদের কাছে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। (এতে রয়েছে) ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! অমুক অমুক লোক আমাদের দ্বীন, যার উপর আমরা রয়েছি, সে সম্পর্কে কিছু জানে বলে আমি ধারণা করি না। [৬০৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমার সকল উম্মাতকে মাফ করা হবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই অন্যায় যে, কোন লোক রাতের বেলা অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে, আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর দেয়া আবরণ খুলে ফেলল। [মুসলিম ৫৩/৮, হাঃ ২৯৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সফ্ওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক লোক ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি ‘নাজওয়া’ (কিয়ামতের দিন আল্লাহ ও তাঁর মু’মিন বান্দার মধ্যে গোপন আলোচনা)। ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী বলতে শুনেছেন? বললেন, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তি তার প্রতিপালকের এত কাছাকাছি হবে যে, তিনি তার উপর তাঁর নিজস্ব আবরণ টেনে দিয়ে দু’বার জিজ্ঞেস করবেনঃ তুমি এই এই কাজ করেছিলে? সে বলবেঃ হাঁ। আবার তিনি জিজ্ঞেস করবেনঃ তুমি এই এই কাজ করেছিলে? সে বলবেঃ হাঁ। এভাবে তিনি তার স্বীকারোক্তি গ্রহণ করবেন। এরপর বলবেনঃ আমি দুনিয়াতে তোমার এগুলো লুকিয়ে রেখেছিলাম। আজ আমি তোমার এসব গুনাহ ক্ষমা করে দিলাম। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ مُجَاهِدٌ: (ثَانِيَ عِطْفِهِ) مُسْتَكْبِرٌ فِي نَفْسِهِ، عِطْفُهُ رَقَبَتُهُ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, (আল্লাহর বাণী) عِطْفُه” অর্থাৎ তার ঘাড়(ثَانِيَ عِطْفِهِ) অর্থাৎ নিজে নিজে মনে অহংকার পোষণকারী। (সূরাহ আল-হাজ্জঃ ৯) ৬০৭১. হারিসাহ্ ইবনু ওহাব খুযায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জান্নাতীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? (তারা হলেন) ঐ সকল লোক যারা অসহায় এবং যাদের তুচ্ছ মনে করা হয়। তারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তাহলে তা তিনি নিশ্চয়ই পুরা করে দেন। আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? তারা হলোঃ কর্কশ স্বভাব, শক্ত হৃদয় ও অহংকারী। [৪৯১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘ঈসা (রহ.) সূত্রে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনাবাসীদের কোন এক দাসীও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত ধরে যেখানে চাইত নিয়ে যেত। আর তিনিও তার সাথে চলে যেতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ো না, হিংসা করো না এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন থেকো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাই থেকে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে থাকবে। [৬০৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাই-এর সাথে তিন দিনের অধিক এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে দেখা হলেও একজন এদিকে আরেকজন ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখবে। তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দিবে, সেই উত্তম লোক। [৬২৩৭; মুসলিম ৪৫/৮, হাঃ ২৫৬০, আহমাদ ২৩৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ كَعْبٌ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَهٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا وَذَكَرَ خَمْسِينَ لَيْلَةً কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন (তাবূক যুদ্ধের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তখনকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলা নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনি পঞ্চাশ দিনের কথাও উল্লেখ করেন। ৬০৭৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার রাগ ও খুশী উভয়টাই বুঝতে পারি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি তা কীভাবে বুঝে নেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যখন তুমি খুশী থাক, তখন তুমি বলঃ হাঁ, মুহম্মাদের প্রতিপালকের শপথ! আর যখন তুমি রাগান্বিত হও, তখন তুমি বলে থাকঃ না, ইব্রাহীমের প্রতিপালকের শপথ! ‘আয়িশাহ(রাঃ) বললেন, আমি বললাম, হাঁ। আমিতো কেবল আপনার নামটি পরিহার করি। [৫২২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি আমার বাবা-মাকে ইসলামের অন্তর্ভুক্তই পেয়েছি। আমাদের উপর এমন কোন দিন যায়নি, যে দিনের দু’ প্রান্তে সকালে ও বিকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসতেন না। একদিন দুপুর বেলা আমরা আবূ বাকর (রাঃ)-এর কক্ষে উপবিষ্ট ছিলাম। একজন বলে উঠলেনঃ এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি এমন সময় এসেছেন, যে সময় তিনি আমাদের এখানে আসেন না। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই তাঁকে এ মুহূর্তে নিয়ে এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে (মক্কা থেকে) বহির্গমনের আদেশ দেয়া হয়েছে। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَزَارَ سَلْمَانُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَكَلَ عِنْدَهُ সালমান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় আবূদ্ দারদা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে খাবার খান। ৬০৮০. আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসার পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলেন, অতঃপর তিনি তাদের সেখানে খাবার খেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে আসার ইচ্ছে করলেন, তখন ঘরের এক স্থানে (সালাতের জন্য) বিছানা পাতার আদেশ দিলেন। তখন তাঁর জন্য পানি ছিটিয়ে একটা চাটাই বিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি সেটির উপর সালাত আদায় করলেন এবং তাদের জন্য দু‘আ করলেন। [৬৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত যে, সালিত ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘ইস্তাবরাক কী’? আমি বললাম, তা মোটা ও সুন্দর রেশমী কাপড়। তিনি বললেনঃ আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারকে বলতে শুনেছি যে, ‘উমার (রাঃ) এক লোকের গায়ে একজোড়া মোটা রেশমী কাপড় দেখলেন। তখন তিনি সেটা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি কিনে নিন। যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসবে, তখন আপনি এটি পরবেন। তিনি বললেনঃ রেশমী কাপড় কেবল ঐ লোকই পরবে, যার আখিরাতে) কোন অংশ নেই। এরপর বেশ কিছুদিন পার হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এরূপ একজোড়া কাপড় পাঠালেন। তখন তিনি সেটি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এসে বললেনঃ আপনি এটা আমার নিকট পাঠালেন, অথচ নিজেই এ জাতীয় কাপড় সম্পর্কে যা বলার তা বলেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি তো এটা একমাত্র এ জন্যে তোমার নিকট পাঠিয়েছি, যেন তুমি এর বদলে কোন মাল সংগ্রহ করতে পার। [৮৮৬] এ হাদীসের কারণে ইবনু ‘উমার কারুকার্য খচিত কাপড় পরতে অপছন্দ করতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَبُو جُحَيْفَةَ آخٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ سَلْمَانَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ آخٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবূ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মদিনায় আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। ৬০৮২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) আমাদের নিকট আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিয়ের পর তাঁকে বললেনঃ তুমি ‘ওয়ালিমা’ করো, কমপক্ষে একটি ছাগল দিয়ে হলেও। [২০৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি জানেন কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে প্রতিশ্রুতি নেই? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আমার ঘরেই কুরায়শ আর আনসারদের মাঝে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির বন্ধন জুড়ে দেন। [২২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَم أَسَرَّ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكْتُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ اللهَ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى ফাতিমাহ (রাঃ) বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংগোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক। ৬০৮৪. ‘আয়িশাহ(রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রিফাআ’ কুরাযী তার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) দেন এবং অকাট্য ত্বলাক (তালাক) দেন। এরপর ‘আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি রিফাআ’র কাছে ছিলেন এবং রিফাআ’ তাকে শেষ তিন ত্বলাক (তালাক) দিয়ে দেন এবং তাঁকে ‘আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র বিয়ে করেন। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কাছে তো কেবল এই কাপড়ের মত আছে। (এ কথা বলে) তিনি তার ওড়নার আঁচল ধরে উঠালেন। রাবী বলেনঃ তখন আবূ বাকর(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন এবং সা‘ঈদ ইবনু আ’সও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের জন্য হুজরার দরজার কাছে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন সা’দ (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে উচ্চঃস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবূ বাকর! আপনি এই স্ত্রী লোকটিকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি আবার রিফাআ‘ এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না। যতক্ষণ না তুমি তার এবং সে তোমার মিলনের আস্বাদ গ্রহণ করবে। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইসমা‘ঈল (রহ.) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর নিকট কুরাইশের কয়েকজন মহিলা প্রশ্নাদি করছিলেন এবং তাদের আওয়াজ তাঁর আওয়াজের চেয়ে উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁরা জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দেয়ার পর যখন তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে হাসি মুখে রাখুন; হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার নিকট যে সব মহিলা ছিলেন, তাদের প্রতি আমি আশ্চর্য হচ্ছি যে, তাঁরা তোমার আওয়াজ শোনা মাত্রই জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এদের ভয় করার ব্যাপারে আপনার হকই বেশি। এরপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে নিজের জানের দুশমনরা! তোমরা কি আমাকে ভয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় কর না? তাঁরা জবাব দিলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক অধিক শক্ত ও কঠোর লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন, যখনই শয়তান পথ চলতে চলতে তোমার সামনে আসে, তখনই সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য রাস্তা ধরে। [৩২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
কুতাইবাহ ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) ... ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে (অবরোধ করে) ছিলেন, তখন একদিন তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আমরা ফিরে যাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী বললেনঃ আমরা তায়েফ জয় না করা পর্যন্ত এ স্থান ত্যাগ করব না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে সকাল হলেই তোমরা যুদ্ধে নেমে পড়বে। রাবী বলেনঃ তারা ভোর থেকেই তাদের সাথে ভয়ানক যুদ্ধ শুরু করলেন। এতে তাদের বহুলোক আহত হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আমরা আগামীকাল ফিরে চলে যাবো এবং তারা সবাই নিশ্চুপ থাকলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। [৪৩২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আমি (রমাযানে দিনে) আমার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করে দাও। সে বললঃ আমার গোলাম নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে এক নাগাড়ে দু’মাস সিয়াম পালন কর। সে বললঃ এতেও আমি অপারগ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে খাদ্য দাও। সে বললঃ তারও ব্যবস্থা নাই। তখন এক ঝুড়ি খেজুর এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? এইটি নিয়ে সদাকাহ করে দাও। লোকটা বললঃ আমার চেয়েও অধিক অভাবগ্রস্ত আবার কে? আল্লাহর কসম! মদিনার দু’ প্রান্তের মাঝে এমন কোন পরিবার নেই, যে আমাদের থেকে অধিক অভাবগ্রস্ত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশ পেল এবং তিনি বললেনঃ তাহলে এখন এটা তোমরাই খাও। [১৯৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একখানা গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানী চাদর ছিল। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে চাদরখানা ধরে খুব জোরে টান দিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধের উপর তাকিয়ে দেখলাম যে, জোরে চাদরখানা টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুঈনটি বললঃ হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আল্লাহর দেয়া যে সম্পদ আছে, তাত্থেকে আমাকে দেয়ার আদেশ কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু দান করার আদেশ করলেন। [৩১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
একদিন আমি অভিযোগ করে বললামঃ আমি ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে হাত রেখে দু‘আ করলেন। হে আল্লাহ! তাকে দৃঢ়চিত্ত করুন এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধানদাতা ও সৎপথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন। [৩০৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যাইনাব বিনত উম্মু সালামাহ ... উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার উম্মু সুলায়ম বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তো সত্য কথা বলতে লজ্জা করেন না। মেয়ে লোকের স্বপ্নদোষ হলে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ হাঁ। যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায়। তখন উম্মু সালামাহ হেসে দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ মেয়ে লোকেরও কি স্বপ্নদোষ হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা না হলে, সন্তানের সঙ্গে সাদৃশ্য হয় কীভাবে? [১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমনভাবে হাঁ করে দেখিনি যে, তাঁর আলা জিহ্বা দেখা যেত। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন। [৪৮২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জুমু‘আহর দিন মদিনায় এল, যখন তিনি খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে বললঃ বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে, আপনি বৃষ্টির জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করুন। তখন তিনি আকাশের দিকে তাকালেন তখন আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখলাম না। তখন তিনি বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। এ সময় মেঘ এসে মিলিত হতে লাগলো। তারপর এমন বৃষ্টি হলো যে, মদিনার খাল-নালাগুলো প্রবাহিত হতে লাগল এবং ক্রমাগত পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে থাকল, মাঝে আর বিরতি হয়নি। পরবর্তী জুমু‘আহয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ দিচ্ছিলেন, তখন ঐ ব্যক্তি অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমরা তো ডুবে গেছি। আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাদের উপর থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেন। তখন তিনি হেসে দিলেন এবং দু’বার অথবা তিনবার দু‘আ করলেন। হে আল্লাহ! (বৃষ্টি) আশে-পাশে নিয়ে যান, আমাদের উপর নয়। তখন মেঘপুঞ্জ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে মদিনার আশে-পাশে বর্ষণ করতে লাগল। আমাদের উপর আর বর্ষিত হলো না। এতে আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারামাত ও তাঁর দু‘আ কবূল হবার দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেন। [৯৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়িম থেকে অবশেষে সিদ্দীক-এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে তাতে খিয়ানাত করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আজ রাতে (স্বপ্নে), দু’জন লোককে দেখলাম। তারা বললঃ আপনি যে লোকটির গাল চিরে ফেলতে দেখলেন, সে বড়ই মিথ্যাচারী। সে এমন মিথ্যা বলত যে, দুনিয়ার সর্বত্র তা ছড়িয়ে দিত। ফলে, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত তার সাথে এ রকম ব্যবহার চলতে থাকবে। [৮৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মানুষের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চাল-চলনে, নীতিতে ও চরিত্রে, যার সবচেয়ে অধিক মিল ছিল, তিনি হলেন ইবনু উম্মু আব্দ। যখন তিনি নিজ ঘর থেকে বের হন, তখন থেকে ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত এ মিল দেখা যায়। তবে তিনি একা নিজ গৃহে কেমন ব্যবহার করেন, তা আমরা জানি না। [৩৭৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব। আর সবচেয়ে উত্তম পথ প্রদর্শন হলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথ প্রদর্শন। [৭২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কষ্টদায়ক কথা শোনার পর আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে বেশি ধৈর্যধারণকারী কেউ বা কোন কিছুই নেই। লোকেরা তাঁর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে, এরপরও তিনি তাদের বিপদ মুক্ত রাখেন এবং রিয্ক দান করেন। [৭৩৭৮; মুসলিম ৫০/৯, হাঃ ২৮০৪, আহমাদ ১৯৫৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গানীমাতের মাল বণ্টন করলেন। তখন এক আনসারী ব্যক্তি বললঃ আল্লাহর কসম! এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। তখন আমি বললামঃ জেনে রেখো, আমি নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা বলব। সুতরাং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে ছিলেন। এজন্য তাঁর কাছে কথাটা চুপে চুপে বললাম। এ কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে খুবই কষ্টদায়ক ঠেকল, তাঁর চেহারার রং বদলে গেল এবং তিনি এতই রাগান্বিত হলেন যে, আমি ভাবলাম, হায়! যদি আমি তাঁর কাছে এ খবর না দিতাম, তবে কতই না ভাল হত! এরপর তিনি বললেনঃ মূসা (আ.)-কে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে। তারপরও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কোন কাজ করলেন এবং অন্যদের সেটা করার অনুমতি দিলেন। তা সত্ত্বেও একদল লোক তাত্থেকে বিরত রইল। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছলে তিনি ভাষণ দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসার পর বললেনঃ কিছু লোকের কী হয়েছে, তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে চায়, যা আমি নিজে করছি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর সম্পর্কে তাদের থেকে বেশি জানি এবং আমি তাদের চেয়ে অনেক অধিক তাঁকে ভয় করি। [৭৩০১; মুসলিম ৪৩/৩৫, হাঃ ২৩৫৬, আহমাদ ২৫৫৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পর্দার অন্তরালের কুমারীদের চেয়েও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি তাঁর কাছে অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন আমরা তাঁর চেহারা দেখেই তা বুঝতে পারতাম। [৩৫৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে ‘হে কাফির’ বলে ডাকে, তখন তা তাদের দু’জনের কোন একজনের উপর বর্তায়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ তার ভাইকে কাফির বললে, তাদের দু’জনের একজনের উপর তা বর্তাবে। [মুসলিম১/২৬, হাঃ ৬০, আহমাদ ৫২৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের মিথ্যা শপথ করে, সে যা বলে তা-ই হবে। আর যে বস্তু দিয়ে কেউ আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। ঈমানদারকে লা‘নাত করা, তাকে হত্যা করার সমতুল্য। আর কেউ কোন ঈমানদারকে কুফরীর অপবাদ দিলে, তাও তাকে হত্যা করার সমতুল্য হবে। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ عُمَرُ لِحَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِنَّه مُنَافِقٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللهَ قَدْ اطَّلَعَ إِلٰى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ قَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাতিব ইবনু বালতা‘আ (রাঃ)-কে বলেছিলেন, ইনি মুনাফিক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা তুমি কী করে জানলে? অথচ আল্লাহ বদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ আমি তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিলাম। ৬১০৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মু‘আয ইবনু জাবাল(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আবার তিনি নিজ কাওমের নিকট এসে তাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। একবার তিনি তাদের নিয়ে সালাতে সূরা আল-বাক্বারাহ পড়লেন। তখন এক ব্যক্তি সালাত সংক্ষেপ করতে চাইল। কাজেই সে আলাদা হয়ে) সংক্ষেপে সালাত আদায় করলো। এ খবর মু‘আয -এর কাছ পৌঁছলে তিনি বললেনঃ সে মুনাফিক। লোকটির কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এমন এক কাওমের লোক, যারা নিজের হাতে কাজ করি, আর নিজের উট দিয়ে সেচের কাজ করি। মু‘আয গত রাতে সূরা আল-বাকারাহ দিয়ে সালাত আদায় করতে শুরু করলেন, তখন আমি সংক্ষেপে সালাত আদায় করে নিলাম। এতে মু‘আয বললেন যে, আমি মুনাফিক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মু‘আয! তুমি কি (লোকেদের) দ্বীনের ব্যাপারে অনাগ্রহী করতে চাও? এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। পরে তিনি তাকে বললেনঃ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا এবং سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلٰى তুমি এবং এর মত ছোট সূরা পড়বে। [৭০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি কসম করে এবং লাত্ ও উযযার কসম করে, তবে সে যেন لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ বলে। আর যদি কেউ তার সঙ্গীকে বলে, এসো আমরা জুয়া খেলি, তবে সে যেন সদাকাহ করে। [৪৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে একদিন আরোহীর মাঝে এমন সময় পেলেন, যখন তিনি তাঁর পিতার নামে শপথ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে তাদের বললেনঃ জেনে রাখ! আল্লাহ তোমাদের নিজের পিতার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। যদি কাউকে শপথ করতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহর নামেই শপথ করে, তা না হলে সে যেন চুপ থাকে। [২৬৭৮; মুসলিম ১/২৭, হাঃ ১৬৪৬, আহমাদ ৬২৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ اللَّهُ: (جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ) আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর। (সূরাহ আত-তওবা ৯: ৭৩) ৬১০৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাতে ছবি ছিল। তা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মধ্যে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ঐসব লোকের যারা এ সব ছবি অঙ্কণ করে। [২৪৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ অমুক ব্যক্তি সালাত দীর্ঘ করে। যে কারণে আমি ফজরের সালাত থেকে পিছনে থাকি। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন ওয়াজের মধ্যে সেদিনের চেয়ে অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। রাবী বলেন, এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘৃণা সৃষ্টিকারী আছে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ এবং কাজের লোক থাকে। [৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পান। এরপর তিনি তা নিজ হাতে খুঁচিয়ে সাফ করলেন এবং রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতে থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার চেহারার সম্মুখে থাকেন। কাজেই সালাতরত অবস্থায় কখনো সামনের দিকে নাকের শ্লেষ্মা ফেলবে না। [৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পথে পড়ে থাকা বস্ত্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ তুমি তা এক বছর পর্যন্ত প্রচার করতে থাকো, তারপর তার বাঁধন থলে চিনে রাখ। তারপর তা তুমি ব্যয় কর। এরপর যদি এর মালিক এসে যায়, তবে তুমি তাকে ফিরিয়ে দাও। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! হারিয়ে যাওয়া ছাগলের কী হুকুম? তিনি বললেনঃ সেটা তুমি নিয়ে যাও। কারণ এটা হয়ত তোমার জন্য অথবা তোমার কোন ভাই এর অথবা চিতা বাঘের। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আর হারানো উটের কী হুকুম? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। এমন কি তাঁর গাল দু’টি লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ তাতে তোমার কী? তার সাথেই তার পা ও পানি রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি তার মালিকের নাগাল পেয়ে যাবে। [৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের পাতা দিয়ে, অথবা চাটাই দিয়ে একটি ছোট হুজরা তৈরী করলেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ঐ হুজরায় (রাতে নফল) সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন একদল লোক তাঁর খোঁজে এসে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে লাগল। পরবর্তী রাতেও লোকজন সেখানে এসে হাযির হল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেরী করলেন এবং তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন না। তারা উচ্চস্বরে আওয়াজ দিতে লাগল এবং ঘরের দরজায় কংকর নিক্ষেপ করল। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ তোমরা যা করছ তাতে আমি ভয় করছি যে, এটি না তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হয়। সুতরাং তোমাদের উচিত যে, তোমরা ঘরেই সালাত আদায় করবে। কারণ ফরজ ছাড়া অন্য সালাত নিজ নিজ ঘরে পড়াই উত্তম। [৭৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ)، (الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ) মহান আল্লাহর বাণীঃ যারা বড় বড় পাপ এবং অশ্লীল কার্যকলাপ হতে বেঁচে চলে এবং রাগান্বিত হয়েও ক্ষমা করে। (সূরাহ আশ্-শূরা ৪২/৩৭)। এবং আল্লাহর বাণী) যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন। (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৩৪)। ৬১১৪. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [মুসলিম ৪৫/৩০, হাঃ ২৬০৯, আহমাদ ৭২২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সুলাইমান ইবনু সুরদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখেই দু’ব্যক্তি গালাগালি করছিল। আমরাও তাঁর কাছেই উপবিষ্ট ছিলাম, তাদের একজন অপর জনকে এত রেগে গিয়ে গালি দিচ্ছিল যে, তার চেহারা রক্তিম হয়ে গিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একটি কালিমা জানি, যদি এ লোকটি তা পড়তো, তবে তার রাগ দূর হয়ে যেত। অর্থাৎ যদি লোকটি ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশশাইত্বনির রাজীম’ পড়তো। তখন লোকেরা সে ব্যক্তিকে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন, তা কি তুমি শুনছো না? সে বললঃ আমি নিশ্চয়ই পাগল নই। [৩২৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বললঃ আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেনঃ তুমি রাগ করো না। লোকটি কয়েকবার তা বললেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক বারেই বললেনঃ রাগ করো না। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা কল্যাণ ছাড়া কোন কিছুই নিয়ে আনে না। তখন বুশায়র ইবনু কা’ব বললেনঃ হিকমাতের পুস্তকে লিখা আছে যে, কোন্ কোন্ লজ্জাশীলতা ধৈর্যশীলতা বয়ে আনে। আর কোন্ কোন্ লজ্জাশীলতা এনে দেয় শান্তি ও সুখ। তখন ‘ইমরান বললেনঃ আমি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছি। আর তুমি কিনা (তার স্থলে) আমাকে তোমার পুস্তিকা থেকে বর্ণনা করছ। [মুসলিম১/১২, হাঃ ৩৭, আহমাদ ২০০১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় লোকটি (তার ভাইকে) লজ্জা সম্পর্কে ভৎর্সনা করছিল এবং বলছিল যে, তুমি অধিক লজ্জা করছ, এমনকি সে যেন এ কথাও বলছিল যে, এটা তোমাকে ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দাও। কারণ নিশ্চয়ই লজ্জা হল ঈমানের অঙ্গ। [২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে অবস্থানকারিণী কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। [৩৫৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ববর্তী নবীদের (নবীদের) নাসীহাত থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার একটা হলো, যদি তুমি লজ্জাই না কর, তবে যা ইচ্ছে তাই কর। [৩৪৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন উম্মু সুলায়ম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তো সত্য বলার ক্ষেত্রে লজ্জা করতে নির্দেশ দেন না। সুতরাং মেয়ে লোকের স্বপ্নদোষ হলে কি তার উপরও গোসল করা ফারয (ফরয)? তিনি বললেন, হাঁ, যদি সে পানি, বীর্য দেখতে পায়। [১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি সবুজ গাছ, যার পাতা ঝরে না এবং একটির সঙ্গে আর একটি ঘেষা লাগে না। তখন কেউ কেউ বললঃ এটি অমুক গাছ, কেউ বলল অমুক গাছ। তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, এটি খেজুর গাছ। তবে যেহেতু আমি অল্প বয়স্ক তরুণ ছিলাম, তাই বলতে লজ্জাবোধ করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলে দিলেন যে, সেটি খেজুর গাছ। [৬১] আর শু’বাহ থেকে ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তারপর আমি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ যদি তুমি কথাটি বলে দিতে, তবে তা আমার কাছে এত এত অধিক খুশির কারণ হতো। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো এবং তাঁর সামনে নিজেকে পেশ করে বললঃ আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে? )খবরটি জানার) পরে আনাস (রাঃ)-এর মেয়ে বলেছিলঃ এ মহিলার লজ্জা কত কম! আনাস(রাঃ) বললেনঃ সে তোমার চেয়ে উত্তম। সে তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে নিজেকে পেশ করেছে। [৫১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আর মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে (ইয়ামানে) পাঠান, তখন তাদের ওয়াসীয়াত করেনঃ তোমরা (লোকের সাথে) নম্র ব্যবহার করবে, কঠোর হবে না। শুভ সংবাদ দেবে, বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে না। আর তোমরা দু’জনের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখবে। তখন আবূ মূসা (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এমন এক দেশে যাচ্ছি, যেখানে মধু হতে শরাব প্রস্তুত হয়। একে ‘বিত্উ’ বলা হয়। আর ‘যব’ থেকেও শরাব প্রস্তুত হয়, তাকে বলা হয় ‘মিযর’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক নেশার বস্তুই হারাম। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নম্র হও এবং কঠোর হয়ো না। শান্তি দান কর, বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন কোন দু’টি কাজের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি দু’টির মধ্যে অপেক্ষাকৃত সহজটি গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহর কাজ না হত। আর যদি তা গুনাহের কাজ হতো, তা হলে তিনি তাত্থেকে সবার চেয়ে দূরে সরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। অবশ্য কেউ আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার প্রতিশোধ নিতেন। [৩৫৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আযরাক ইবনু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ‘আহ্ওয়ায’ নামক স্থানে একটা খালের ধারে অবস্থান করছিলাম। খালটির পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। এমন সময় আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) একটি ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে সেখানে এলেন। তিনি ঘোড়াটিকে ছেড়ে দিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তখন ঘোড়াটা (দূরে) চলে গেল দেখে তিনি সালাত ছেড়ে দিয়ে ঘোড়ার পিছু নিলেন এবং ঘোড়াটি পেয়ে ধরে আনলেন। তারপর সালাত পূর্ণ করলেন। এ সময় আমাদের মধ্যে একজন বিরূপ সমালোচক ছিলেন। তিনি তা দেখে বললেনঃ এই বৃদ্ধের প্রতি লক্ষ্য কর, সে ঘোড়ার কারণে সালাত ছেড়ে দিল। তখন আবূ বারযাহ (রাঃ) এগিয়ে এসে বললেনঃ যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হারিয়েছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এভাবে ভৎর্সনা করেননি। তিনি আরও বললেনঃ আমার বাড়ী অনেক দূরে। সুতরাং যদি আমি সালাত আদায় করতাম এবং ঘোড়াটিকে এভাবেই ছেড়ে দিতাম, তাহলে আমি রাতে নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছতে পারতাম না। তিনি আরও উল্লেখ করলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভ করেছেন এবং তাঁর নম্র ব্যবহার দেখেছেন। [১২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিলো। তখন লোকজন তাকে শাসন করার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি অথবা একমাত্র পানি ঢেলে দাও। কারণ, তোমাদেরকে নম্র ব্যবহারকারী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, কঠোর ব্যবহারকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। [২২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَالِطِ النَّاسَ وَدِينَكَ لاَ تَكْلِمَنَّهُ. وَالدُّعَابَةِ مَعَ الأَهْلِ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা। ৬১২৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন, এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ ‘উমায়র! কেমন আছে তোমার নুগায়র? [৬২০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ إِنَّا لَنَكْشِرُ فِي وُجُوهِ أَقْوَامٍ وَإِنَّ قُلُوبَنَا لَتَلْعَنُهُمْ আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আমরা কোন কোন কাওমের সঙ্গে বাহ্যত হাসি-খুশি মেলামেশা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো তাদের উপর লা‘নাত বর্ষণ করে। ৬১৩১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে তার বংশের নিকৃষ্ট সন্তান। অথবা বললেনঃ সে তার গোত্রের ঘৃণ্যতম ভাই। যখন সে প্রবেশ করল, তখন তিনি তার সাথে নম্রভাবে কথাবার্তা বললেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। এখন আপনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন। তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আল্লাহর কাছে মর্যাদায় নিকৃষ্ট সে ব্যক্তি, যার অশালীন ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংসর্গ বর্জন করে চলে। [৬০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কয়েকটি রেশমের তৈরী সোনার বোতাম লাগান) ‘কাবা’ হাদিয়া দেয়া হলো। তিনি এগুলো সাহাবীদের মধ্যে বেঁটে দিলেন এবং তা থেকে একটি মাখরামাহ (রাঃ)-এর জন্য আলাদা করে রাখলেন। পরে যখন তিনি এলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি এটি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম। আইয়ূব নিজের কাপড়ের দিকে ইশারা করলেন, তিনি যেন তাঁর কাপড় মাখ্রামাহ্কে দেখাচ্ছিলেন। মাখরামাহ (রাঃ)-এর মেজাজের মধ্যে কিছু (অসন্তুষ্টির ভাব) ছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ مُعَاوِيَةُ لاَ حَكِيمَ إِلاَّ ذُو تَجْرِبَةٍ মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেছেনঃ অভিজ্ঞতা ব্যতীত সহনশীলতা সম্ভব নয়। ৬১৩৩. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না। [মুসলিম৫৩/১২, হাঃ ২৯৯৮, আহমাদ ৮৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ আমাকে কি এ খবর জানানো হয়নি যে, তুমি সারা রাত সালাতে অতিবাহিত কর। আর সারা দিন সিয়াম পালন কর। তিনি বললেনঃ তুমি (এ রকম) করো না। রাতের কিয়দংশ সালাত আদায় কর, আর ঘুমাও। কয়েকদিন সওম পালন কর, আর কয়েকদিন ইফতার কর (সওম ভঙ্গ কর)। তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে। তোমার উপর তোমার চোখের হক আছে, তোমার উপর তোমার মেহ্মানের হক আছে, আর তোমার উপর তোমার স্ত্রীরও হক আছে। নিশ্চয়ই তুমি তোমার আয়ু দীর্ঘ হবার আশা কর। কাজেই প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালনই তোমার পক্ষে যথেষ্ট। কেননা, নিশ্চয়ই প্রতিটি নেক কাজের পরিবর্তে তার দশগুণ সাওয়াব দেয়া হয়। সুতরাং এভাবে সারা বছরেই সিয়ামের সওয়াব পাওয়া যায়। তখন আমি কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর ব্যবস্থা দেয়া হলো। আমি বললামঃ এর চেয়েও অধিক পালনের সামর্থ্য আমার আছে। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সিয়াম পালন কর। তখন আমি আরও কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর দেয়া হলো। আমি বললামঃ আমি এর চেয়ে অধিক সিয়ামের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তবে তুমি আল্লাহর নবী দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম পালন কর। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম কী রকম? তিনি বললেন, আধা বছর সিয়াম পালন। [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ يُقَالُ هُوَ زَوْرٌ وَهَؤُلَاءِ زَوْرٌ وَضَيْفٌ وَمَعْنَاهُ أَضْيَافُهُ وَزُوَّارُهُ لِأَنَّهَا مَصْدَرٌ مِثْلُ قَوْمٍ رِضًا وَعَدْلٍ يُقَالُ مَاءٌ غَوْرٌ وَبِئْرٌ غَوْرٌ وَمَاءَانِ غَوْرٌ وَمِيَاهٌ غَوْرٌ وَيُقَالُ الْغَوْرُ الْغَائِرُ لَا تَنَالُهُ الدِّلَاءُ كُلَّ شَيْءٍ غُرْتَ فِيهِ فَهُوَ مَغَارَةٌ تَزَّاوَرُ تَمِيلُ مِنْ الزَّوَرِ وَالْأَزْوَرُ الْأَمْيَلُ আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বলা হয়ে থাকে। هُوَ زَوْرٌ وَهَؤُلاَءِ زَوْرٌ وَضَيْفٌ যার অর্থ দাঁড়ায় তার মেহমান ও দর্শনার্থী, কেননা, মাসদার বা ক্রিয়ামূল। قَوْمٍ رِضًا وَعَدْلٍ শব্দগুলোর মত। বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি বা ভূগর্ভস্থ কূপ। দু’টি ভূগর্ভস্থ পানির উৎস) এবং ভূগর্ভস্থ পানি। যেরূপ বলা হয়ে থাকে। الْغَوْرُ শব্দটির অর্থ اسم فاعل এর অর্থে অর্থাৎ الغائر এর অর্থ হয়ে থাকে। যেখানে কোন বালতি পৌঁছতে পারবে না। যে বস্তুর মধ্যে বালতি নামাবে সে স্থানকে مغارة অর্থাৎ নামানোর স্থান বলা হয়। تَزَّاوَرُ অর্থ দর্শনার্থী থেকে সরে যাওয়া। وَالأَزْوَرُ অর্থ الأَمْيَلُ অর্থাৎ সরে যাওয়া। ৬১৩৫. আবূ শুরায়হ্ কা‘বী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে। মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। আর সাধারণ মেহমানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হবে) ‘সদাকাহ’। মেযবানকে কষ্ট দিয়ে, তার কাছে মেহমানের অবস্থান করা বৈধ নয়। (অন্যসূত্রে) মালিক (রহ.) এ রকম বর্ণনা করার পর আরো অধিক বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৫,৫৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে সে যেন মেহমানের সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহতে ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে। [৫১৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কোন জায়গায় পাঠালে আমরা এমন কাওমের কাছে হাজির হই, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী? তখন তিনি আমাদের বললেনঃ যদি তোমরা কোন কাওমের নিকট হাজির হও, আর তারা তোমাদের মেহমানদারীর জন্য উপযুক্ত যত্ন নেয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা না করে, তা হলে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের থেকে মেহমানের হক আদায় করে নেবে। [২৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন কল্যাণকর কথা বলে, অথবা চুপ থাকে। [৫১৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবূ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন স্থাপন করেন। এরপর একদিন সালমান আবূ দারদা-এর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তখন তিনি উম্মু দারদা (রাঃ)-কে নিম্নমানের পোশাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেনঃ তোমার ভাই আবূ দারদার দুনিয়াতে কিছুর দরকার নেই। ইতোমধ্যে আবূ দারদা এলেন। অতঃপর তার জন্য খাবার তৈরি করে তাঁকে বললেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি তো সিয়াম পালন করছি।’ তিনি বললেনঃ আপনি যতক্ষণ না খাবেন ততক্ষণ আমিও খাব না। তখন তিনিও খেলেন। তারপর যখন রাত হলো, তখন আবূ দারদা সালাতে দাঁড়ালেন। তখন সালমান তাঁকে বললেনঃ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। তিনি শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার উঠে দাঁড়ালে, তিনি বললেনঃ (আরও) ঘুমান। অবশেষে যখন রাত শেষ হয়ে এল, তখন সালমান বললেনঃ এখন উঠুন এবং তারা উভয়েই সালাত আদায় করলেন। তারপর সালমান বললেনঃ তোমার উপর তোমার রবের হক আছে, (তেমনি) তোমার উপর তোমার হক আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার উপর হক আছে। সুতরাং তুমি প্রত্যেক হকদারের দাবী আদায় করবে। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে, তাঁর কাছে তার কথা উল্লেখ করলেনঃ তিনি বললেন, সালমান ঠিকই বলেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) কিছু লোককে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করলেন। তিনি (তাঁর পুত্র) ‘আবদুর রহমান-কে নির্দেশ দিলেন, তোমার এ মেহমানদের নিয়ে যাও। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাচ্ছি। আমি ফিরে আসার পূর্বেই তুমি তাঁদের খাওয়ানো সেরে নিও। ‘আবদুর রহমান তাদের নিয়ে চলে গেলেন এবং তাঁর ঘরে যা ছিল তা সামনে পেশ করে দিয়ে তাদের বললেন আপনারা খেয়ে নিন। তাঁরা বললেনঃ আমাদের এ বাড়ীর মালিক কোথায়? তিনি বললেনঃ আপনারা খেয়ে নিন। তাঁরা বললেনঃ বাড়ীর মালিক না আসা পর্যন্ত আমরা খাবো না। তিনি বললেনঃ আমাদের তরফ থেকে আপনারা আপনাদের খাবার খেয়ে নিন। কারণ, আপনারা না খেলে তিনি এলে আমার উপর রাগান্বিত হবেন। কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করলেন। আমি ভাবলাম যে, তিনি অবশ্যই আমার উপর রাগান্বিত হবেন। তারপর তিনি ফিরে আসলে আমি তাঁর থেকে এক পাশে সরে পড়লাম। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কী করেছেন। তখন তারা তাঁকে সব বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে ‘আবদুর রহমান! তখন আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডাকলেন, হে ‘আবদুর রহমান! এবারেও আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! আমি তোকে কসম দিচ্ছি। যদি আমার কথা শুনে থাকিস, তবে কেন আসছিস না? তখন আমি বেরিয়ে এসে বললাম, আপনি আপনার মেহমানদের জিজ্ঞেস করুন। তখন তারা বললেন, সে ঠিকই আমাদের খাবার এনে দিয়েছিল। তিনি বললেন, তবুও কি আপনারা আমার অপেক্ষা করছেন? আল্লাহর কসম! আমি আজ রাতে তো খাবো না। মেহমানরাও বললেনঃ আল্লাহর কসম! আপনি যে পর্যন্ত না খাবেন ততক্ষণ আমরাও খাবো না। তখন তিনি বললেন, আমি আজ রাতের মত মন্দ রাত আর দেখিনি। আমাদের প্রতি আক্ষেপ। আপনারা কি আমাদের খাবার কবূল করলেন না? তখন তিনি ‘আবদুর রহমানকে (ডেকে) বললেনঃ তোমার খাবার নিয়ে এসো। তিনি তা নিয়ে আসলে তিনিই খাবারের উপর নিজ হাত রেখে বললেন, বিসমিল্লাহ; এ প্রথম ঘটনাটা শয়তানের কারণেই ঘটেছে। তারপর তিনি খেলেন এবং তারাও খেলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
فِيهِ حَدِيثُ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ জুহাইফার হাদীস রয়েছে। ৬১৪১. ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর একজন কিংবা কয়েকজন মেহমান নিয়ে এলেন এবং সন্ধ্যার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কছে গেলেন। তিনি ফিরে আসলে আমার মা তাঁকে বললেনঃ আপনি মেহমানকে, কিংবা বললেন, মেহমানদের (ঘরে) রেখে (এতো) রাত কোথায় আটকা পড়েছিলেন? তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেনঃ আমি তাদের সামনে খাবার দিয়েছিলাম কিন্তু তারা, বা সে তা খেতে অস্বীকার করলেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) রেগে গাল মন্দ করলেন ও বদ্ দু‘আ করলেন। আর শপথ করলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। আমি লুকিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! তখন মহিলা (আমার মাও) কসম করলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খাবেন ততক্ষণ মাও খাবেন না। এদিকে মেহমানটি বা মেহমানরাও কসম খেয়ে বসলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খান, সে পর্যন্ত তারাও খাবেন না। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে শয়তান থেকে। তারপর তিনি খাবার আনতে বললেন। আর তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। কিন্তু তারা খাওয়া আরম্ভ করে যতবারই ‘লুকমা’ উঠাতে লাগলেন, তার নীচে থেকে তার চেয়েও অধিক খাবার বাড়তে লাগলো। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে বললেনঃ হে বানী ফেরাসের বোন এ কী? তিনি বললেনঃ আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো আমাদের পূর্বের খাবার থেকে এখন অনেক অধিক দেখছি। তখন সবাই খেলেন এবং তা থেকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি বর্ণনা করেন যে, তা থেকে তিনিও খেয়েছিলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
রাফি‘ ইবনু খাদীজ ও সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইসাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) খাইবারে পৌঁছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন। সেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহল ও ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর দুই ছেলে হুওয়াইসাহ ও মুহাইসাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যক্তির কথা বলতে লাগলেন। ‘আবদুর রহমান কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের ইজ্জত করবে। বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসম করে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জন কসম করে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন। সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো। [১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে এমন একটা বৃক্ষের খবর দাও, যার দৃষ্টান্ত মুসলিমের মত। তা সর্বদা তার প্রতিপালকের নির্দেশে খাদ্য দান করে, আর এর পাতাও ঝরে না। তখন আমার মনে হল যে, এটি খেজুর গাছ। কিন্তু যেহেতু সে স্থানে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) উপস্থিত থেকেও কথা বলছিলেন না, তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বললেন, সেটি হলো খেজুর গাছ। তারপর যখন আমি আমার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম, তখন আমি বললাম আববা! আমার মনেও খেয়াল এসেছিল যে, এটা নিশ্চয়ই খেজুর গাছ। তিনি বললেনঃ তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল? যদি তুমি তা বলতে, তাহলে এ কথা আমার কাছে এত এত ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। তিনি বললেনঃ আমাকে শুধু এ কথাই বাধা দিয়েছিল যে, আমি দেখলাম, আপনি ও আবূ বাকর (রাঃ) কেউই কথা বলছেন না। তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করলাম না। [৬১; মুসলিম ৫০/১৫, হাঃ ২৮১১, আহমাদ ৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَوْلِهِ: (وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لاَ يَفْعَلُونَ إِلاَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيرًا وَانْتَصَرُوا مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ). قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي كُلِّ لَغْوٍ يَخُوضُونَ. আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদ্ভ্রান্ত হয়ে ফিরে?আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না। কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যচ্ছে। সূরাহ শু‘আরা (২৬/২২৪-২৭) ইবনু ‘আব্বাস বলেন, (তারা প্রত্যেক ময়দানে উদভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়?) এর অর্থ হল তারা প্রত্যেক নিরর্থক কথায় ডুবে থাকে। ৬১৪৫. ‘উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জুনদুব হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন এবং তাঁর একটা আঙ্গুল রক্তে ভিজে গেল। তখন তিনি কবিতার ছন্দে বললেনঃ তুমি একটা রক্তে ভেজা আঙ্গুল ছাড়া কিছুই নও, আর যে কষ্ট ভোগ করছ তা তো কেবল আল্লাহর রাস্তাতেই। [২৮০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কবিরা যে সব কথা বলেছেন, তার মধ্যে কবি লবীদের কথাটাই সর্বাধিক সত্য। (তিনি বলেছেনঃ) শোন! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই বাতিল। তিনি আরও বলেছেন, কবি উমাইয়াহ ইবনু সালত ইসলাম গ্রহণের নিকটবর্তী হয়েছিল। [৩৮৪১; মুসলিম পর্ব ৪১/হাঃ ২২৫৬, আহমাদ ১০০৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে গেলাম। আমরা রাতে চলছিলাম। দলের মধ্যে থেকে একজন ‘আমির ইবনু আক্ওয়া (রাঃ) বললেন যে, আপনি কি আপনার কবিতাগুলো থেকে কিছু পড়ে আমাদের শুনাবেন না? ‘আমির ছিলেন একজন কবি। কাজেই তিনি দলের লোকদের হুদী গেয়ে শুনাতে লাগলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না। আমরা সদাকাহ দিতাম না, সালাত আদায় করতাম না। আমাদের পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করুন; যা আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত করেছি। যদি আমরা শত্রুর মুখোমুখী হই, তখন আমাদের পদদ্বয় সুদৃঢ় রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন, শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই। যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।’’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? লোকেরা বললেনঃ তিনি ‘আমির ইবনু আক্ওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! তার জন্য তো শাহাদাত নির্দিষ্ট হয়ে গেল। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন। তারপর আমরা খাইবারে পৌঁছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ (খাইবারে যুদ্ধে) তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করলেন। তারপর যেদিন খাইবার জয় হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জ্বালাল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা এত সব আগুন কেন জ্বালাচ্ছ? লোকেরা বললোঃ গোশত রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের গোশত? তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার গোশত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব গোশত ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলো ভেঙ্গে দাও। এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! বরং গোশতগুলো ফেলে আমরা হাঁড়িগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেনঃ আচ্ছা তাই কর। রাবী বলেনঃ যখন লোকেরা যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল। ‘আমির (রাঃ) এর তলোয়ার খানা ছোট ছিল। তিনি এক ইয়াহূদীকে মারার উদ্দেশে এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করলেন। কিন্তু তার তলোয়ারের ধারাল অংশ ‘আমির-এরই হাঁটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন। সালামাহ (রাঃ) বলেনঃ আমার চেহারার রং বদল হওয়া দেখে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললামঃ আমার বাপ-মা আপনার প্রতি কুরবান হোক! লোকেরা বলছে যে, ‘আমিরের ‘আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ এ কথাটা কে বলেছে? আমি বললামঃ অমুক, অমুক, অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুযাইর আনসারী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বললেনঃ তাঁর জন্য আছে দু’টি পুরস্কার, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরবে তাঁর মত লোক অল্পই হবে। [৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হাস্সান ইবনু সাবিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের নিন্দা করার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে এ নিন্দা থেকে আমার বংশের মর্যাদা কীভাবে রক্ষা পাবে? তখন হাস্সান বললেনঃ আমি তাদের থেকে আপনাকে এমনভাবে বের করে নেব, যেভাবে মাখানো আটা থেকে চুল বের করা হয়। রাবী ‘উরওয়াহ বর্ণনা করেন, একদিন আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে হাস্সান-কে গালি দিতে লাগলাম, তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাঁকে গালি দিওনা। কারণ, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পক্ষ হতে মুশরিকদের প্রতিরোধ করতেন। [৩৫৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ভাই অর্থাৎ কবি ইবনু রাওয়াহা অশ্লীল কথা বলেননি। তিনি বলতেনঃ আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন; যখন সকালের মন মাতানো আলো ফুটে উঠে। আমরা পথহারা হবার পর তিনি আমাদের সুপথ দেখিয়েছেন। আর আমরা অন্তরের সাথে একীন করলাম যে, তিনি যা বলেছেন, তা ঘটবেই। তিনি নিজ পৃষ্ঠদেশ বিছানা থেকে আলাদা রেখেই রাত্রি অতিবাহিত করেন। যখন কাফিরদের আনন্দের শয্যা তাদের পক্ষে খুব কষ্টকর হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আবূ হুরাইরাহ! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, ওহে হাস্সান! তুমি আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তর দাও। হে আল্লাহ! তুমি জিব্রীল (আ.)-এর দ্বারা তাকে সাহায্য কর। আবূ হুরাইরাহ বললেনঃ হাঁ। [৩৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি কাফিরদের নিন্দা করো। জিবরীল (আ.) এ কাজে তোমাকে সাহায্য করবেন। [৩২১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পেট কবিতা দিয়ে ভরার চেয়ে পুঁজে ভরা অনেক ভাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পেট কবিতা দিয়ে ভরার চেয়ে এমন পুঁজে ভরা উত্তম, যা তোমাদের পেটকে ধ্বংস করে ফেলে। [মুসলিম পর্ব ৪১/হাঃ ২২৫৭, আহমাদ ১০২০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হবার পর আবূ কু‘আইসের ভাই আফলাহ আমার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুমতি না নিয়ে তাকে অনুমতি দেব না। কারণ আবূ কু‘আইসের স্ত্রী আমাকে দুগ্ধ পান করিয়েছেন। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ লোক আমাকে দুধ পান করাননি। বরং তাঁর স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। তিনি বললেনঃ অনুমতি দাও। কারণ এ লোকটি তোমার (দুধ) চাচা। তোমার ডান হস্ত ধূলি ধূসরিত হোক। রাবী ‘উরওয়াহ বলেন, এ কারণেই ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন যে, বংশগত সম্পর্কে যারা হারাম হয়, দুধ পান সম্পর্কেও তোমরা তাদের হারাম গণ্য করবে। [২৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জ সমাপন শেষে) ফিরে আসার ইচ্ছে পোষণ করলেন। তখন ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে তাঁর দরজার সামনে সাফিয়্যাহ চিন্তিত ও বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বাগধারায় বললেনঃ ‘আকরা হালকা’। তুমি তো দেখছি, আমাদের আটকে দিবে। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরজ তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেনঃ হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে এখন রওনা দাও। [২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উম্মু হানী বিন্ত আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাঁকে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তখন তাঁর কন্যা ফাতিমাহ তাঁকে পর্দা দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এ কে? আমি বললামঃ আমি আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি বললেনঃ উম্মু হানীর জন্য মারহাবা। তারপর তিনি যখন গোসল শেষ করলেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং এক কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেষ করলে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি হুবাইরার ছেলে অমুককে নিরাপত্তা দান করেছিলাম কিন্তু আমার ভাই বলছে, সে তাকে হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মু হানী বলেনঃ এই সময়টি ছিল চাশতের সময়। [২৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটা কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে, তাকে বললেনঃ এতে সাওয়ার হও। সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি পুনরায় বললেনঃ এতে সাওয়ার হও। সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেনঃ এতে সওয়ার হও। সে বলল, এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অকল্যাণ হোক) তুমি এটির উপর সওয়ার হয়ে যাও। [১৬৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটা কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বললেনঃ তুমি এর উপর সওয়ার হও। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো কুরবানীর উট। তখন তিনি দ্বিতীয় বা কিংবা তৃতীয়বার বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অনিষ্ট হোক) তুমি এতে সওয়ার হও। [১৬৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সফরে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে তখন আনজাশাহ নামের এক কালো গোলাম ছিল। সে পুঁথি গাইছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আনজাশাহ! তোমার সর্বনাশ। তুমি উটটিকে কাঁচপাত্র সদৃশ সওয়ারীদের নিয়ে ধীরে চালাও। [১৬৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে অন্য জনের প্রশংসা করলো। তিনি বললেনঃ ‘ওয়াইলাকা’ (তোমার অমঙ্গল হোক) তুমি তো তোমার ভাই এর গর্দান কেটে দিয়েছ। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তিনি আরও বললেনঃ যদি তোমাদের কাউকে কারো প্রশংসা করতেই হয়, আর সে তার ব্যাপারে অবগত থাকে, তবে শুধু এতটুকু বলবে যে, আমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে এ রকম ধারণা পোষণ করি। প্রকৃত হিসাব নিকাশের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর আমি নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতা বর্ণনা করছি না। [২৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নিজ অধিকারভুক্ত কিছু মাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বণ্টন করে দিচ্ছিলেন। এমন সময় তামীম গোত্রের যুল খুয়াইসিরা নামক এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অমঙ্গল হোক) আমি ইনসাফ না করলে আর কে ইনসাফ করবে? তখন ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ না। কারণ, তার এমন কতকগুলো সঙ্গী আছে; যাদের সালাতের সামনে নিজেদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের সিয়ামের সামনে তোমাদের নিজেদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় ...... গোবর ও রক্তকে এমনভাবে অতিক্রম করে যায় যে তীরের অগ্রভাগ দেখলে তাতে কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না, তার উপরিভাগে দেখলেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। তার কাঠামোতেও কোন চিহ্ন নেই। তার পাতির মধ্যেও কোন চিহ্ন নেই। এমন সময় তাদের আবির্ভাব হবে, যখন মুসলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিবে। তাদের পরিচয় হলো, তাদের নেতা এমন এক ব্যক্তি হবে, যার একহাত স্ত্রীলোকের স্তনের মত অথবা পিত্তের মত কাঁপতে থাকবে। রাবী আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমি নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শুনেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম যখন তিনি এ দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তখন সে লোকটিকে যুদ্ধে নিহত লোকদের মধ্য থেকে তালাশ করে আনার পর তাকে ঠিক সেই হালাতেই পাওয়া গেল, যে হালাতের বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ ‘ওয়াইহাকা’ (আফসোস তোমার জন্য) এরপর সে বললঃ আমি রমাযানের মধ্যেই দিনের বেলায় আমার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ একটা গোলাম আযাদ করে দাও। সে বললঃ আমার কাছে তা নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি এক নাগাড়ে দু’ মাস সওম পালন কর। সে বললঃ আমি এতেও অপারগ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। লোকটি বললঃ আমি এটাও পারি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তখন তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং সদাকাহ করে দাও। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কি আমার পরিবার ছাড়া অন্যকে দেব? সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যস্থলে আমার চেয়ে অভাবী আর কেউ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন, তাঁর পার্শ্বের ছেদন দন্ত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ তবে তুমিই নিয়ে যাও। [১৯৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২০) যুহরি হতে ইউনুস এরকমই বর্ণনা করেছেন। যুহরি হতে ‘আবদুর রহমান বিন খালিদ ‘ওয়াইলাকা’ বলেছেন।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একজন গ্রাম্য লোক এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে হিজরাতের বিষয়ে কিছু বলুন। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার প্রতি, হিজরাত তো খুব কঠিন কাজ। তোমার কি উট আছে? সে বললঃ হাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি এর যাকাত দিয়ে থাক? লোকটি বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি সমুদ্রের ঐ পাশ থেকেই ‘আমল করে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার ‘আমল এতটুকু কমিয়ে দিবেন না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘ওয়াইলাকুম’ অথবা ‘ওয়াইহাকুম’ (তোমাদের জন্য আফসোস) আমার পরে তোমরা আবার কাফির অবস্থায় ফিরে যেয়ো না। যাতে তোমরা একে অন্যের গর্দান উড়িয়ে দেবে। [১৭৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে হবে? তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ, তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? সে জবাব দিলঃ আমি তো তার জন্য কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাস, কিয়ামতের দিন তুমি তাঁর সঙ্গেই থাকবে। তখন আমরা বললামঃ আমাদের জন্যও কি এরূপ? তিনি বললেনঃ হাঁ। এতে আমরা সে দিন অতিশয় আনন্দিত হলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, এ সময় মুগীরাহ’র একটি যুবক বয়সের ছেলে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে ছিল আমার বয়সী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এ যুবকটি অধিক দিন বেঁচে থাকে, তবে সে বৃদ্ধ হবার আগেই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হতে পারে। [৩৬৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
لِقَوْلِهِ: (إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ). আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ (আপনি বলে দিন) যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যই ভালবেসে থাকো, তা’হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ্ও তোমাদের ভালবাসবেন। (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৪/৩১) ৬১৬৮. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসবে সে তারই সাথী হবে। [৬১৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! এমন ব্যক্তির ব্যাপারে আপনি কী বলেন, যে ব্যক্তি কোন দলকে ভালবাসে, কিন্তু (‘আমলের ক্ষেত্রে) তাদের সমান হতে পারেনি? তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে সে তারই সাথী হবে। [৬১৬৮; মুসলিম ৪৫/৫০/, হাঃ ২৬৪০, আহমাদ ১৮১১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ এক ব্যক্তি একদলকে ভালবাসে, কিন্তু (‘আমলে) তাদের সমপর্যায়ের হতে পারেনি। তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সাথী হবে। [মুসলিম৪৫/৫০, হাঃ ২৬৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে হবে? তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? সে বললঃ আমি এর জন্য তো অধিক কিছু সালাত, সওম এবং সদাকাহ আদায় করতে পারিনি। কিন্তু আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাস তারই সাথী হবে। [৩৬৮৮; মুসলিম ৪৫/৫০, হাঃ ২৬৩৯, আহমাদ ১২০৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সা‘ঈদকে বললেনঃ আমি তোমার জন্য একটি কথা গোপন রেখেছি, তুমি বলতো সে কথাটা কী? সে বললঃ ‘দুখ’ তখন তিনি বললেনঃ ‘দূর হও’। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
রাবী সালিম আরও বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা‘আলার যথাবিহিত প্রশংসার পর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেনঃ আমি তোমাদের তার ব্যাপারে সাবধান করে দিচ্ছি। প্রত্যেক নবীই এর ব্যাপারে তাঁর কওমকে সাবধান করে গিয়েছেন। আমি এর ব্যাপারে এমন কথা বলছি যা অন্য কোন নবী তাঁর কওমকে বলেননি। তোমরা জেনে রাখ সে কানা; কিন্তু আল্লাহ কানা নন। [৩০৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৯) আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, خسأت الكلب অর্থাৎ আমি তাকে দূর করেছি। خايئين অর্থ বিতাড়নকারী।
وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِفَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَم مَرْحَبًا بِابْنَتِي وَقَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমাহ (রাঃ)-কে বলেছেনঃ আমার মেয়ের জন্য ‘মারহাবা’। উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ উম্মু হানী ‘মারহাবা’। ৬১৭৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলে তিনি বললেনঃ এই প্রতিনিধি দলের প্রতি ‘মারহাবা’, যারা লাঞ্ছিত ও লজ্জিত হয়ে আসেনি। তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রাবি‘য়া গোত্রের লোক। আমরা ও আপনার মাঝে অবস্থান করছে ‘মুযার’ গোত্র। এজন্য আমরা হারাম মাস ব্যতীত আপনার খিদমতে পৌঁছতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত নিয়ম-নীতি বাতলিয়ে দেন যা অনুসরণ করে আমরা জান্নাতে যেতে পারি এবং আমাদের পেছনে যারা রযেছে তাদের পথ দেখাতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি চারটি ও চারটি নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা সালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং গানীমাতের মালের পঞ্চমাংশ দান করবে। আর কদুর খোলে, সবুজ রং করা কলসে, খেজুর মূলের পাত্রে এবং আলকাতরা রঙানো পাত্রে পান করবে না। [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) শপথ ভঙ্গকারীর জন্য একটি পতাকা তোলা হবে এবং বলা হবে যে, এ হলো অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন। [৩১৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শপথ ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন একটা পতাকা দাঁড় করানো হবে। আর বলা হবে যে, এটা অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন। [৩১৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউ যেন এমন না বলে যে, আমার হৃদয় খবীস হয়ে গেছে। তবে এ কথা বলতে পারে যে, আমার হৃদয় কলুষিত হয়ে গেছে। [মুসলিম ৪০/৪০, হাঃ ২২৫০, আহমাদ ২৪২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউ যেন এ কথা না বলে, আমার অন্তর ‘খবীস’ হয়ে গেছে। বরং সে বলবেঃ আমার অন্তর কলুষিত হয়েছে। [মুসলিম ৪০/৪, হাঃ ২২৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, মানুষ কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই কাল, (এর নিয়ন্ত্রণের মালিক)। একমাত্র আমারই হাতে রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটে। [৪৮২৬; মুসলিম ৪০/১, হাঃ ২২৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আঙ্গুরকে ‘কারম’ বলো না। আর বলবে না বঞ্চিত যুগ। কারণ আল্লাহই যুগ বা কাল। [৬১৮৩; মুসলিম ৪০/১, হাঃ ২২৪৭, আহমাদ ১০৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَدْ قَالَ: «إِنَّمَا الْمُفْلِسُ الَّذِي يُفْلِسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». كَقَوْلِهِ: «إِنَّمَا الصُّرَعَةُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ». كَقَوْلِهِ: «لاَ مُلْكَ إِلاَّ لِلَّهِ». فَوَصَفَهُ بِانْتِهَاءِ الْمُلْكِ، ثُمَّ ذَكَرَ الْمُلُوكَ أَيْضًا، فَقَالَ: «(إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا)». তিনি বলেছেনঃ প্রকৃত সম্বলহীন হলো সে, যে লোক কিয়ামতের দিন সম্বলহীন। যেমন (অন্যত্র) তাঁরই বাণীঃ প্রকৃত বাহাদুর হলো সে লোক, যে রাগের সময় নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারে। আরও যেমন তাঁরই বাণীঃ আল্লাহ একমাত্র বাদশাহ। আবার তিনিই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সার্বভৌমত্বের মালিক। এরপর বাদশাহ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘বাদশাহরা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তারা তা ধ্বংস করে দেয়’’- (সূরাহ আন্-নামল ২৭/৩৪)। ৬১৮৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা (আঙ্গুরকে) ‘কারম’ বলে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ‘কারম’ হলো মু’মিনের অন্তর। [৬১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
فِيهِ الزُّبَيْرُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যুবায়র (রাঃ) এর একটি বর্ণনা আছে। ৬১৮৪. ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি সা‘দ (রাঃ) ছাড়া আর কারো ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা বলতে শুনিনি যে, আমার মাতা-পিতা তোমার প্রতি কুরবান। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ হে সা’দ! তুমি তীর চালাও। আমার মাতা-পিতা তোমার প্রতি কুরবান। আমার ধারণা হচ্ছে যে, এ কথা তিনি উহুদের যুদ্ধে বলেছেন। [২৯০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমরা আমাদের পিতা ও মাতাদের আপনার প্রতি কুরবান করলাম। ৬১৮৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তিনি ও আবূ ত্বলহা (মদিনায়) আসছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর উটের পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। পথে এক জায়গায় উটের পা পিছলে যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী পড়ে যান। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ)-ও তাঁর উট থেকে লাফ দিয়ে নামলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর নবী! আপনার কি কোন চোট লেগেছে? আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি কুরবান করুন। তিনি বললেনঃ না। তবে মহিলাটির খোঁজ নাও। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁর কাপড় দিয়ে চেহারা ঢেকে তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর উপরও একখানা বস্ত্র ফেলে দিলেন। তখন মহিলাটি উঠে দাঁড়ালেন। এরপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদের হাওদাটি উটের উপর শক্ত করে বেঁধে দিলেন। তাঁরা উভয়ে সাওয়ার হলেন এবং সবাই আবার রওয়ানা হলেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদিনার নিকটে পৌঁছলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেনঃ ‘‘আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ‘ইবাদাতকারী এবং একমাত্র স্বীয় রবের প্রশংসাকারী’’। তিনি মদিনায় প্রবেশ করা অবধি এ কথাগুলো বলছিলেন। [৩৭১] )আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একজনের একটি ছেলে জন্ম নিল। সে তার নাম রাখলো ‘কাসিম’। আমরা বললামঃ আমরা তোমাকে আবুল কাসিম ডাকবো না আর সে সম্মানও দেবো না। তিনি এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি বললেনঃ তোমার ছেলের নাম রাখ ‘আবদুর রহমান’। [৩১১৪; মুসলিম ৩৮/১, হাঃ ২১৩৩, আহমাদ ১৪৩০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
قَالَهُ أَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ৬১৮৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের এক লোকের একটি ছেলে জন্মাল। সে তার নাম রাখলো ‘কাসিম’। তখন লোকেরা বললঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তাকে এ কুন্ইয়াতে ডাকবো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রেখো, কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কারো কুন্ইয়াত রেখো না। [৩১১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রেখো, কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কুন্ইয়াত রেখো না। [১১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের মধ্যেকার এক লোকের একটি ছেলে হলে সে তার নাম রাখলো ‘কাসিম’। আমরা বললামঃ আমরা তোমাকে ‘আবুল কাসিম’ কুন্ইয়াতে ডাকবো না। আর এর মাধ্যমে তোমার চোখও ঠান্ডা করবো না। তখন লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা জানাল। তিনি বললেনঃ তোমার ছেলের নাম রাখ ‘আবদুর রহমান। [৩১১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তাঁর দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কী? তিনি বললেনঃ ‘হায্ন’।[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তোমার নাম ‘সাহল’। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন, তা অন্য কোন নাম দিয়ে আমি বদলাবো না। ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেনঃ এরপর থেকে আমাদের বংশের মধ্যে দুঃখকষ্টই চলে এসেছে। [৬১৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন মুনযির ইবনু আবূ উসায়দ জন্মলাভ করলেন, তখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে নিজের উরুর উপর রাখলেন। আবূ উসায়দ পাশেই উপবিষ্ট ছিলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনেই কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ইত্যবসরে আবূ উসায়দ কারো মাধ্যমে তাঁর উরু থেকে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কাজ থেকে মুক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ শিশুটি কোথায়? আবূ উসায়দ বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তার নাম কী? তিনি বললেনঃ অমুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তার নাম ‘মুনযির’। সে দিন হতে তার নাম রাখলেন ‘মুনযির’। [মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব (রাঃ)-এর নাম ছিল ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন বলা হল যে, এর দ্বারা তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেনঃ ‘যাইনাব’। [মুসলিম ৩৮/৩, হাঃ ২১৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ আমার নাম হাযন। তিনি বললেনঃ না বরং তোমার নাম ‘সাহল’। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখে গিয়েছেন, তা আমি পাল্টাতে চাই না। ইবনু মুসাইয়্যাব বলেন, ফলে এরপর থেকে আমাদের বংশে দুঃখকষ্টই লেগে আছে। [৬১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَنَسٌ قَبَّلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ يَعْنِي ابْنَهُ আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম-কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে। ৬১৯৪. ইসমা‘ঈল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম-কে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি তো বাল্যাবস্থায় মারা গিয়েছেন। যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে অন্য কেউ নবী হবার বিধান থাকত তবে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতেন। কিন্তু তাঁর পরে কোন নবী নাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) বলেন, আমি বারাআ’ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন ইবরাহীম মারা যান তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য জান্নাতে দুগ্ধদায়িনী থাকবে। [১৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নাম রাখ। কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কারো কুন্ইয়াত রেখ না। কেননা আমিই কাসিম। আমি তোমাদের মধ্যে (আল্লাহর নি‘য়ামাত) বণ্টন করি। [৩১১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কারো কুন্ইয়াত রেখো না। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে। শয়তান আমার সুরত গ্রহণ করতে পারে না। আর যে লোক ইচ্ছাপূর্বক আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামেই তার বাসস্থান করে নেয়। [১১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে জন্মালে আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি তার নাম রেখে দিলেন ইবরাহীম। তারপর তিনি একটা খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে তার জন্য বারাকাতের দু‘আ করলেন এবং তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। রাবী বলেন, সে ছিল আবূ মূসা (রাঃ) এর বড় ছেলে। [৫৪৬৭] (ধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে দিন ইবরাহীম মারা যান, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এটি আবূ বাকরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [১০৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের রুকু থেকে মাথা তুলে দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়্যাশ ইবনু আবী রাবী‘য়া এবং মক্কার দুর্বল মুসলিমদের শত্রুর জ্বালাতন থেকে মুক্তি দাও। আর হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে শক্তভাবে পাকড়াও করো। হে আল্লাহ্! তুমি তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দাও, যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ (আ.)-এর যুগে দিয়েছিলে। [৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَبُو حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا أَبَا هِرٍّ আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ‘ইয়া আবা হিররিন’ বলে ডাক দেন। ৬২০১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এই যে জিবরীল (আ.) তোমাকে সালাম বলছেন। তিনি বললেনঃ তাঁর উপরও আল্লাহর শান্তি ও রহমত নাযিল হোক। এরপর তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেন, যা আমি দেখি না। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার উম্মু সালীম সফরের সামগ্রীবাহী উটে সাওয়ার ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোলাম আন্জাশ উটগুলোকে জলদি হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আনজাশ! তুমি কাঁচের পাত্র বহনকারী উটগুলো আস্তে আস্তে হাঁকাও। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল; ‘তাকে আবূ ‘উমায়র’ বলে ডাকা হতো। আমার ধারণা যে, সে তখন মায়ের দুধ খেতো না। যখনই সে তাঁর নিকট আসতো, তিনি বলতেনঃ হে আবূ ‘উমায়র! কী করছে তোমার নুগায়র? সে নুগায়র পাখিটা নিয়ে খেলতো। আর প্রায়ই যখন সালাতের সময় হতো, আর তিনি আমাদের ঘরে থাকতেন, তখন তাঁর নীচে যে বিছানা থাকতো, একটু পানি ছিটিয়ে ঝেড়ে দেয়ার জন্য আমাদের আদেশ করতেন। তারপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম। আর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। [৬১২৯; মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘আলী (রাঃ) এর নিকট তাঁর নামগুলোর মধ্যে ‘আবূ তুরাব’ কুন্ইয়াত ছিল সবচেয়ে অধিক প্রিয় এবং এ নামে ডাকলে তিনি খুব খুশী হতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই তাকে ‘আবূ তুরাব’ কুন্ইয়াতে ডেকেছিলেন। একদিন তিনি ফাতেমাহ (রাঃ) এর সঙ্গে রাগ করে বেরিয়ে এসে মসজিদের দেয়ালের পাশে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তালাশ করছিলেন। এক ব্যক্তি বললঃ তিনি তো ওখানে দেয়ালের পাশে শুয়ে আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে এমন হালতে পেলেন যে, তাঁর পিঠে ধূলাবালি লেগে আছে। তিনি তাঁর পিঠ থেকে ধূলা ঝাড়তে লাগলেন আর বলতে লাগলেনঃ হে আবূ তুরাব! উঠে বসো। [৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার কাছে কিয়ামতের দিনে ঐ লোকের নাম সবচেয়ে ঘৃণিত, যে তার নাম রেখেছে ‘রাজাদের রাজা’। [৬২০৬; মুসলিম ৩৮/৪, হাঃ ২১৪৩, আহমাদ ৭৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিকট সবচেয়ে খারাপ নামধারী অথবা বলেছেন, সব নামের মধ্যে ঘৃণিত নাম হলো সে ব্যক্তির,যে ‘রাজাদের রাজা’ নাম গ্রহণ করেছে। সুফ্ইয়ান বলেন যে, অন্যেরা এর ব্যাখ্যা করেছেন, ‘শাহান শাহ’। [৬২০৫; মুসলিম ৩৮/৪, হাঃ ২১৪৩, আহমাদ ৭৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ مِسْوَرٌ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ إِلاَّ أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ তালিব চায়। ৬২০৭. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন। তখন তাঁর গায়ে একখানা ফাদাকী চাদর ছিল এবং তাঁর পেছনে উসামাহ বসাছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধের পূর্বে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) এর শুশ্রূষা করার উদ্দেশে হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছিলেন। তাঁরা চলতে চলতে এক মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল ছিল। এটা ছিল ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উবাইর এর (প্রকাশ্যে) ইসলাম গ্রহণের আগের ঘটনা। মজলিসটি ছিল মিশ্রিত। এতে ছিলেন মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজকও ইয়াহূদী। মুসলিমদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা ও ছিলেন। সাওয়ারীর চলার কারণে যখন উড়ন্ত ধূলাবালি মজলিসকে ঢেকে ফেলেছিল, তখন ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢেকে নিয়ে বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলি উড়িওনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন এবং সাওয়ারী থামিয়ে নামলেন। তারপর তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দা’ওয়াত দিয়ে কুরআন পড়ে শোনালেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উবাই ইবনু সালূল তাঁকে বললঃ হে ব্যক্তি! আপনি যা বলেছেন যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম কথা আর কিছুই নেই। তবে আপনি আমাদের মজলিসসমূহে এসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। যে আপনার কাছে যাবে, তাকেই আপনি নাসীহাত করবেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা বললেনঃ না, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মজলিসসমূহে আসবেন। আমরা আপনার এ বক্তব্য পছন্দ করি। তখন মজলিসের মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীরা পরস্পর গালমন্দ করতে লাগল। এমনকি তাদের মধ্যে হাঙ্গামা হবার জোগাড় হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিবৃত্ত করতে লাগলেন, অবশেষে তারা চুপ করল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) এর নিকট পৌঁছলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা‘দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে যা বলেছে, তা কি তুমি শোননি? সে এমন এমন কথা বলেছে। তখন সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার কথা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার তরফ থেকে আপনার প্রতি হক এমন সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যখন এই শহরের অধিবাসীরা পরস্পর পরামর্শ করে স্থির করেছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরাবে এবং (রাজকীয়) পাগড়ী তার মাথায় বাঁধবে। কিন্তু যখন আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দিয়েছেন তা দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে বানচাল করে দিলেন, তখন সে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। এজন্যই সে আপনার সাথে এ ধরনের আচরণ করেছে যা আপনি দেখছেন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এমনিই মুশরিক ও কিতাবীদের ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের আগের কিতাবধারীদের ও মুশরিকদের নিকট হতে দুঃখজনক অনেক কথা শুনবে.....। ’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩ঃ ১৮৬) শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘‘কিতাবীরা অনেকেই কামনা করে.....।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২ঃ ১০৯) তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের ক্ষমা করতে থাকেন। অবশেষে তাঁকে তাদের সাথে জিহাদ করার অনুমতি দেয়া হয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিযান চালালেন, তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফির বীর পুরুষদের এবং কুরাইশ সরদারদের মধ্যে যারা নিহত হবার তাদের হত্যা করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বিজয় বেশে গনীমত নিয়ে ফিরলেন। তাঁদের সাথে কাফিরদের অনেক বাহাদুর ও কুরাইশদের অনেক নেতাও বন্দী হয়ে আসে। সে সময় ইবনু ‘উবাই ইবনু সালূল ও তাঁর সাথী মূর্তিপূজক মুশরিকরা বললঃ এ ব্যাপার (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম) তো প্রবল হয়ে পড়ছে। সুতরাং এখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ কর। তারপর তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। [২৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবূ তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো সব সময় আপনার হিফাযত করতেন এবং আপনার জন্য অন্যের উপর রাগ করতেন। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি এখন জাহান্নামের হালকা স্তরে আছেন। যদি আমি না হতাম, তাহলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন। [৩৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ إِسْحَاقُ سَمِعْتُ أَنَسًا مَاتَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ فَقَالَ كَيْفَ الْغُلاَمُ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هَدَأَ نَفَسُهُ، وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ قَدِ اسْتَرَاحَ. وَظَنَّ أَنَّهَا صَادِقَةٌ ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবূ ত্বলহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মু সুলায়ম বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে। তিনি মনে করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন। ৬২০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদের সহ) এক সফরে ছিলেন। হুদী গায়ক হুদী[1] গান গেয়ে চলেছিল। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, আফসোস তোমার প্রতি ওহে আনজাশা! তুমি কাঁচপাত্র তুল্য সাওয়ারীদের সাথে সদয় হও। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তাঁর আনজাশা নামে এক গোলাম ছিল। সে হুদী গান গেয়ে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেনঃ হে আনজাশা! তুমি ধীরে উট হাঁকাও, যেহেতু তুমি কাঁচপাত্র তুল্যদের (আরোহী) উট হাঁকিয়ে যাচ্ছ। আবূ কিলাবাহ বর্ণনা করেন, কাঁচপাত্র সদৃশ শব্দ দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীলোকদেরকে বুঝিয়েছেন। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হুদী গায়ক গোলাম ছিল। তাকে আনজাশা বলে ডাকা হতো। তার সুর ছিল মধুর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে আন্জাশা! তুমি ধীরে হাঁকাও, যেন কাঁচের পাত্রগুলো ভেঙ্গে না ফেল। ক্বাতাদাহ বলেন, তিনি ‘কাঁচপাত্রগুলো’ শব্দ দ্বারা স্ত্রীলোকদেরকে বুঝিয়েছেন। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
মুসাদ্দাদ (রহ.) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার মদিনাতে (ভয়ংকর শব্দ হলে) ভীতি দেখা দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহা (রাঃ) এর একটা অশ্বে সওয়ার হয়ে এগিয়ে গেলেন এবং (ফিরে এসে) বললেনঃ আমি তো কিছুই দেখতে পেলাম না। আমি এ ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মতই পেয়েছি। [২৬২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কয়েকজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওরা কিছুই না। তারা আবার বললে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ ওরা কিছুই না। তারা আবার বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তারা তো কোন সময় এমন কথা বলে দেয়, যা বাস্তবে ঘটে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কথাটি জিন থেকে পাওয়া। জিনেরা তা আসমানের (ফেরেশতাদের থেকে) ছোঁ মেরে নিয়ে এসে তাদের বন্ধু গণকদের কানে তুলে দেয়, যেভাবে মুরগী তার বাচ্চাদের মুখে দানা তুলে দেয়। তারপর এ গণকরা এর সঙ্গে আরও শতাধিক মিথ্যা কথা মিলিয়ে দেয়। [৩২১০; মুসলিম ৩৯/৩৫, হাঃ ২২২৮, আহমাদ ২৪৬২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ أَيُّوبُ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানের দিকে মস্তক উত্তোলন করেন। ৬২১৪. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ এরপর আমার প্রতি ওয়াহী আগমন বন্ধ হয়ে গেল। এ সময় আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন আমি আসমানের দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনে আকাশের পানে চোখ তুললাম। তখন হঠাৎ ঐ ফেরেশতাকে আসমান ও যমীনের মাঝে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট দেখলাম, যিনি হেরায় আমার নিকট এসেছিলেন। [৩২১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে মাইমূনাহ (রাঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর গৃহে ছিলেন। যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অথবা কিয়দংশ বাকী ছিল তখন তিনি উঠে বসলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত্র ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য বহু নিদর্শন আছে।’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৯০)। [১১৭] (ধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি মদিনার এক বাগানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে একটা লাঠি ছিল। তিনি তা দিয়ে পানি ও কাদার মাঝে খোঁচা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বাকর (রাঃ)। আমি তাঁর জন্য দরজা খুললাম এবং জান্নাতের শুভ সংবাদ দিলাম। তারপর আরেক লোক দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ জানালাম। দেখলাম; তিনি ‘উমার (রাঃ)। আমি তাঁর জন্য দরজা খুললাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। আবার আরেক লোক দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি হেলান দিয়েছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসে বললেনঃ খুলে দাও এবং তাঁকে একটি কঠিন বিপদে পড়ার পর জান্নাতবাসী হবার সুসংবাদ দও। আমি গিয়ে দেখি, তিনি ‘উসমান (রাঃ)। আমি তাঁর জন্যও দরজা খুলে দিলাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আমি তাও বিবৃত করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলাই আমার সাহায্যকারী। [৩৬৭৪]ম (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমরা এক জানাযায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি একটা লাকড়ি দিয়ে যমীনে মৃদু আঘাত দিয়ে বললেনঃ তোমাদের কোন লোক এমন নয় যার বাসস্থান জান্নাতে অথবা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়ে যায়নি। লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ তা হলে কি আমরা তার উপর নির্ভর করব না। তিনি বললেনঃ ‘আমল করে যাও। কারণ যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য তা সহজ করে দেয়া হবে। (এরপর তিলাওয়াত করলেন) ‘‘যে ব্যক্তি দান খয়রাত করবে, তাক্ওয়া অর্জন করবে ..... শেষ পর্যন্ত’’- (সূরাহ আল-লায়ল ৯২/৫)। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে বললেনঃ সুব্হানাল্লাহ! অদ্যকার রাতে কত যে ধন-ভান্ডার এবং কত যে বিপদাপদ অবতীর্ণ করা হয়েছে। কে আছ যে এ হুজরাবাসিনীদের অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীদের জাগিয়ে দেবে যাতে তাঁরা সালাত আদায় করে। দুনিয়ার কত বস্ত্র পরিহিতা, আখিরাতে উলঙ্গ হবে! [১১৫] ‘উমার বর্ণনা করেন, আমি একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললাম, আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে ‘তালাক’ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। তখন আমি বললামঃ ‘আল্লাহু আকবার’। আধুনিক প্রকাশনী- , ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী সফীয়্যাহ বিন্ত হুইয়াই (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রমাযানের শেষ দশ দিনে মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ই’তিকাফের অবস্থায় তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। তিনি রাতের প্রথম ভাগে কিছু সময় তাঁর সঙ্গে কথাবার্তার পর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এগিয়ে দেয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। শেষে যখন তিনি মসজিদের দরজার নিকট পৌঁছলেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবি উম্মু সালামাহর ঘরের নিকটে অবস্থিত, তখন তাঁদের পাশ দিয়ে আনসারের দু’জন লোক যাচ্ছিল। তাঁরা দু’জনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিল এবং নিজ পথে রওয়ানা হল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ ধীরে চল। ইনি হলেন সফীয়্যাহ বিন্ত হুইয়াই। তারা বললোঃ সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল। তাদের দু’জনের মনে তা গুরুত্বপূর্ণ মনে হল। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই শয়ত্বন মানুষের রক্তের ভিতর চলাচল করে থাকে। তাই আমার আশঙ্কা হলো যে, সম্ভবতঃ সে তোমাদের অন্তরে সন্দেহ জাগিয়ে দিতে পারে। [২০৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৭,৫৭৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঢিল ছুঁড়তে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেনঃ এটা শিকার মারতে পারে না এবং শত্রুকেও আহত করতে পারে না বরং কারো চোখ ফুঁড়ে দিতে পারে আবার কোন লোকের দাঁত ভেঙ্গে দিতে পারে। [৪৮৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সম্মুখে দু’ ব্যক্তি হাঁচি দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনের জবাব দিলেন। অন্যজনের জবাব দিলেন না। তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ এ ব্যক্তি আল্হামদু লিল্লাহ বলেছে। আর ঐ ব্যক্তি আল্হামদু লিল্লাহ বলেনি। [৬২২৫; মুসলিম ৫৩/৯, হাঃ ২৯৯১, আহমাদ ১১৯৬২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং সাতটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতে, জানাযার সঙ্গে চলতে, হাঁচিদাতার জবাব দিতে, দা’ওয়াত কবূল করতে, সালামের জওয়াব দিতে, মাযলূমকে সাহায্য করতে এবং শপথ পুরা করতে আমাদের আদেশ দিয়েছেন। আর সোনার আংটি অথবা বালা ব্যবহার করতে, সাধারণ রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে, মিহিন রেশমী বস্ত্র, রেশমী যিন ব্যবহার করতে, কাসীই ব্যবহার করতে এবং রৌপ্য পাত্র ব্যবহার করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। কাজেই কেউ হাঁচি দিয়ে الْحَمْدُ للهِ বলবে, যারা তা শোনবে তাদের প্রত্যেককে তার জবাব দেয়া ওয়াজিব হবে। আর হাই তোলা, শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, তাই যথাসম্ভব তা রোধ করা উচিত। কারণ কেউ যখন মুখ খুলে হা করে তখন শয়তান তাতে হাসে। [৩২৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয়, তখন সে যেন الْحَمْدُ للهِ বলে। আর শ্রোতা যেন এর জবাবে يَرْحَمُكَ اللهُ বলে। আর যখন সে يَرْحَمُكَ اللهُ বলবে, তখন হাঁচিদাতা তাকে বলবেঃ يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দু’ ব্যক্তি হাঁচি দিলেন। তিনি একজনের হাঁচির জবাব দিলেন এবং অন্যজনের জবাব দিলেন না। অন্য লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন, কিন্তু আমার হাঁচির জবাব দিলেন না। তিনি বললেনঃ সে ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ বলেছে, কিন্তু তুমি ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ বলনি। [৬২২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। যদি তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে তবে প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা ওয়াজিব। আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। কাজেই তোমাদের কোন ব্যক্তির হাই উঠলে সে যেন তা যথাসম্ভব রোধ করে। কেননা কেউ হাই তুললে শয়তান তার প্রতি হাসে। [৩২৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)