অল ইসলাম লাইব্রেরি

77 - পোশাক

1

وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كُلُوا وَاشْرَبُوا وَالْبَسُوا وَتَصَدَّقُوا فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلاَ مَخِيلَةٍ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُلْ مَا شِئْتَ وَالْبَسْ مَا شِئْتَ مَا أَخْطَأَتْكَ اثْنَتَانِ سَرَفٌ أَوْ مَخِيلَةٌ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা খাও, পান কর, পরিধান কর এবং দান কর, কোন অপচয় ও অহঙ্কার না করে। ইবনু ‘আব্বাস বলেছেন, যা খাও, যা পরিধান কর, যতক্ষণ না দু’টো জিনিস তোমাকে বিভ্রান্ত করে- অপচয় ও অহঙ্কার। ৫৭৮৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সে লোকের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) দেখবেন না, যে অহঙ্কারের সাথে তার পরিধেয়) পোশাক টেনে চলে। [৩৬৬৫; মুসলিম ৩৭/৮, হাঃ ২০৮৫, আহমাদ ৫৩৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

2

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ নিজের পোশাক ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তার প্রতি কিয়ামতের দিন (দয়ার) দৃষ্টি দিবেন না। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে, আমি তাতে গিরা না দিলে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, যারা অহঙ্কারবশতঃ এমন করে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

3

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হল। তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে দাঁড়ালেন এবং কাপড় টেনে টেনে মসজিদে পৌঁছলেন। লোকজন একত্রিত হল। তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তখন সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনগুলোর দু’টি নিদর্শন, যখন তোমরা তাতে কোন কিছু হতে দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তা উজ্জ্বল হয়ে যায়। [১০৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

4

আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি একটি বর্শা নিয়ে এলেন এবং তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। তারপর সালাতের ইকামাত দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, (একটি হুল্লা’র) দু’টি চাদরে নিজেকে আবৃত করে বেরিয়ে আসলেন এবং বর্শার দিকে ফিরে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। আর লোকজন ও পশুকে দেখলাম, তারা তাঁর সম্মুখ দিয়ে এবং বর্শার পিছন দিয়ে চলাফেরা করছে। [১৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

5

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইযারের বা পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নীচে থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

6

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে সে ব্যক্তির দিকে (দয়ার) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ ইযার বা পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে পরিধান করে। [মুসলিম ৩৭/৩৯, হাঃ ২০৮৭, আহমাদ ৯০১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

7

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অথবা আবুল কাসিম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরিধান করতঃ চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ অতিক্রম করছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে। [মুসলিম ৩৭/১০, হাঃ ২০৮৮, আহমাদ ১০০৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

8

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক লোক তার লুঙ্গি পায়ের গোড়ালির নীচে ঝুলিয়ে পথ অতিক্রম করছিল। এমন সময় তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেয়া হল। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি সে মাটির নীচে ধ্বসে যেতে থাকবে। ইউনুস, যুহরী থেকে এ হাদীস এভাবেই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ‘শুআয়ব একে মারফূ‘ হিসাবে যুহরী থেকে বর্ণনা করেননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬১) জারীর ইবনু যায়দ রাহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের সঙ্গে তাঁর ঘরের দরজায় ছিলাম, তখন তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকমই বলতে শুনেছেন। [৩৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

9

শু‘বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহারিব ইবনু দিসারের সাথে ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় দেখা করলাম। তখন তিনি বিচারালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে এ হাদীসটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, তার দিকে আল্লাহ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তাকাবেন না। আমি বললামঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি ইযারের উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি ইযার বা কামিস কোনটিই নির্দিষ্টভাবে বলেননি। জাবালাহ ইবনু সুহায়ম, যায়দ ইবনু আসলাম ও যায়দ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। আর লায়স, মূসা ইবনু ‘উকবাহ ও ‘উমার ইবনু মুহাম্মাদ, নাফি‘ (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং কুদামাহ ইবনু মূসা সালিম (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে جَرَّ ثَوْبَه” বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

10

وَيُذْكَرُ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَحَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّهُمْ لَبِسُوا ثِيَابًا مُهَدَّبَةً. যুহরী, আবূ বাকর ইবনু মুহাম্মাদ, হামযাহ ইবনু আবূ উসায়দ ও মু‘আবিয়াহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরেছেন। ৫৭৯২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রিফা‘আ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফা’আর অধীনে (বিবাহিতা) ছিলাম। তিনি আমাকে ত্বালাক দেন এবং তালাক চূড়ান্তভাবে দেন, এরপর আমি ‘আবদুর রহমান ইবনু যুবায়রকে বিয়ে করি। কিন্তু আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের মত ব্যতীত কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রী লোকটি তার চাদরের আঁচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবনু সা‘ঈদ যাকে (ভিতরে যেতে) অনুমতি দেয়া হয়নি, দরজার কাছে থেকে স্ত্রী লোকটির কথা শোনেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন খালিদ বললঃ হে আবূ বাকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে জোরে জোরে যে কথা বলছে, তাত্থেকে কেন আপনি তাকে বাধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী লোকটিকে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা‘আর কাছে ফিরে যেতে চাও। তা হবে না, যতক্ষণ না সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর এটাই বিধান হয়ে যায়। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

11

وَقَالَ أَنَسٌ جَبَذَ أَعْرَابِيٌّ رِدَاءَ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم. আনাস (রাঃ) বলেনঃ এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাদর ধরে টেনেছিল। ৫৭৯৩. ‘আলী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আনতে বললেন। তিনি তা পরলেন, অতঃপর হেঁটে চললেন। আমি ও যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) তাঁর পশ্চাতে চললাম। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযাহ (রাঃ) ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলে তাঁরা তাঁদের অনুমতি প্রদান করলেন। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

12

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى حِكَايَةً عَنْ يُوسُفَ: (اذْهَبُوا بِقَمِيصِي هَذَا فَأَلْقُوهُ عَلَى وَجْهِ أَبِي يَأْتِ بَصِيرًا) মহান আল্লাহর বাণীঃ ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাঃ ‘তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমন্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠবেন।’ (সূরাহ ইউসুফ ১২:৯৩) ৫৭৯৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কাপড় পরবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা না পায়, তা হলে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা) পরতে পারবে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

13

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবরে রাখার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এলেন। তিনি তার লাশ কবর থেকে উঠানোর নির্দেশ দিলেন। তখন লাশ কবর থেকে উঠান হল এবং তাঁর দু’হাঁটুর উপর রাখা হল। তিনি তার উপর থুথু প্রদান করলেন এবং তাকে নিজের জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই বেশি জানেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

14

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জামাটি আমাকে দিন। আমি এটা দিয়ে তাকে কাফন দিব। আর তার জানাযাহর সালাত আপনি আদায় করবেন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করবেন। তিনি নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দেন এবং বলেন যে, তুমি (কাফন পরানো) শেষ করে আমাকে খবর দিবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযাহর সালাত আদায় করতে এলেন। ‘উমার(রাঃ) তাঁকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযাহর) সালাত আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ ‘তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর (উভয়ই সমান), তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ কক্ষনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮০)। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ ‘তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কক্ষনো তাদের জন্য (জানাযার) সালাত পড়বে না, আর তাদের কবরের পাশে দন্ডায়মান হবে না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮৪)। এরপর থেকে তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করা বর্জন করেন। [১২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

15

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দু’ব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরনে লোহার দু’টি বর্ম আছে। তাদের দু’ হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (প্রলম্বিত বর্মটি) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোক যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে থাকে এবং প্রতিটি অংশ আপন স্থানে থেকে যায়। আবূ হুরাইরাহ বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কেতাঁর আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি, তুমি যদি তা দেখতে যে, তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্তু প্রশস্ত হল না। [১৪৪৩] ইবনু তাউস (রহঃ) তার পিতা থেকে এবং আবূ যিনাদ, আ’রাজ থেকে এভাবে جُبَّتَيْنِ বর্ণনা করেন। আর জা‘ফর আ‘রাজ এর সূত্রে جُبَّتَانِ বর্ণনা করেছেন। হানযালা (রহ.) বলেনঃ আমি তাউসকে আবূ হুরাইরাহ থেকে جُبَّتَانِ বলতে শুনেছি। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

16

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান এবং তারপর ফিরে আসেন। আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে পৌঁছি। তিনি অযু করেন। তখন তাঁর পরনে শাম দেশীয় জুব্বা ছিল। তিনি কুলি করেন, নাক পরিষ্কার করেন এবং তাঁর মুখমন্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু’হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল সরু, তাই তিনি হাত দু’টি জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’ হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসেহ করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

17

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরে এক রাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হাঁ। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেঁটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের অন্ধকারে আমার নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তাঁর (উযূর) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমন্ডল ও দু’হাত ধুলেন। তিনি পশমের জামা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাত্থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাস্‌হ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলতে ইচ্ছে করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু’টি পরেছি। তারপর ও দু’টির উপর মাস্‌হ করলেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

18

মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি কাবা বণ্টন করেন, কিন্তু মাখরামাহকে কিছুই দিলেন না। মাখরামাহ বললঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চল। আমি তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি বললেনঃ ভিতরে যাও এবং আমার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাও। মিসওয়ার বলেনঃ আমি তাঁর জন্য আবেদন জানালে তিনি মাখরামাহর উদ্দেশে বের হয়ে আসলেন। তখন তাঁর পরনে ছিল রেশমী কাবা। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটি আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। মিসওয়ার বলেনঃ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ মাখরামাহ খুশি হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

19

‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি রেশমী কাবা হাদিয়া দেয়া হল। তিনি তা পরেন এবং তা পরে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি তা খুব জোরে খুলে ফেললেন, যেন এটি তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্য এটা সাজে না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ, লায়স থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। অন্যেরা বলেছেনঃ ‘ফাররূজ হারীর’ হল ‘রেশমী কাপড়’। [৩৭৫; মুসলিম ১/৯৪, হাঃ ২১৬, আহমাদ ৮০২২, ৮৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

20

মুসাদ্দাদ (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, মু‘তামির বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আনাস (রাঃ) এর (মাথার) উপর হলুদ রেশমী টুপি দেখেছেন।

21

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কী পোশাক পরবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে শুধু মোজা পরতে পারবে, কিন্তু মোজা দু’টি পায়ের গোড়ালির নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যা‘ফরান ও ওয়ার্স রং লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

22

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে; আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে। [১৭৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

23

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন ইহরাম বাঁধি, তখন কী পোশাক পরতে আমাদেরকে নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তোমরা জামা, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা পরবে। আর তোমরা এমন কোন কাপড়ই পরবে না, যাতে যা‘ফরান বা ওয়ার্স রং লেগেছে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

24

সালিমের পিতা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম জামা, পাগড়ী, পায়জামা ও টুপি পরতে পারবে না। যা‘ফরান ও ওয়ার্স রঞ্জিত কাপড়ও নয় এবং মোজাও নয়। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া, যার জুতা নেই। যদি সে জুতা না পায় তাহলে দু’ মোজার পায়ের গোড়ালির নীচে থেকে কেটে নিবে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

25

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ عِصَابَةٌ دَسْمَاءُ وَقَالَ أَنَسٌ عَصَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلٰى رَأْسِه„ حَاشِيَةَ بُرْدٍ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বাইরে আসলেন, তখন তাঁর মাথার) উপর কালো রুমাল ছিল। আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মাথা চাদরের এক পার্শ্ব দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। ৫৮০৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতক মুসলিম হাবশায় হিজরাত করেন। এ সময় আবূ বাকর (রাঃ) হিজরাত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা মনে হয় আমাকেও (হিজরাতের) হুকুম দেয়া হবে। আবূ বাকর বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনিও কি এ আশা পোষণ করেন? তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বাকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরণ করে রাখেন এবং তাঁর অধীনস্থ দু’টি সাওয়ারীকে চার মাস যাবৎ সামূর গাছের পাতা খাওয়ান। ‘উরওয়াহ রাহ.) বর্ণনা করেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপুরের সময় আমরা আমাদের ঘরে বসে আছি। এ সময় এক লোক আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমন্ডল ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যে সময় তিনি সাধারণতঃ আমাদের কাছে আসেন না। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ আমার মা-বাপ তাঁর উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমন সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই এসে থাকবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হল। তিনি প্রবেশ করলেন। প্রবেশের সময় আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে তাদের হটিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো আপনারই পরিবারস্থ লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে মক্কা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আবূ বাকর বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হব? হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার এ দু’টি সাওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মূল্যের বিনিময়ে (নিব)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ তাদের উভয়ের জন্যে সফরের জিনিসপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম। আবূ বাকর -এর কন্যা আসমা তাঁর উড়নার এক অংশ ছিঁড়ে থলের মুখ বেঁধে দিল। এ কারণে তাকে যাতুন্ নিতাক উড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর ‘সাওর’ নামক পর্বত গুহায় পৌঁছেন। সেখানে তিন রাত কাটান। আবূ বাকর -এর পুত্র ‘আবদুল্লাহ তাঁদের সঙ্গে রাত্রি কাটাতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিসম্পন্ন যুবক। তিনি তাঁদের নিকট হতে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত কাটিয়েছেন। তিনি কারও থেকে পার্শ্ববর্তী স্থানে কিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আঁধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর নিয়ে তিনি তাদের দু’জনের কাছে পৌঁছে দিতেন। আবূ বাকর -এর দাস ‘আমির ইবনু ফুহাইরা তাঁদের আশে পাশে দুধওয়ালা বকরী চরাতেন, রাতের এক ঘণ্টা পার হলে সে তাঁদের নিকট ছাগল নিয়ে যেত (দুধ পান করাবার জন্যে)। তাঁরা দু’জনে (‘আমির ও ‘আবদুল্লাহ) গুহাতেই রাত কাটাতেন। ভোরে আঁধার থাকতেই ‘আমির ইবনু ফুহাইরা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এমন করতেন। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

26

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথার উপর লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিল। [১৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

27

وَقَالَ خَبَّابٌ شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً لَهُ. খাববাব বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অভিযোগ করছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। ৫৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তাঁর পরনে চওড়া পাড়ওয়ালা একটি নাজরানী ডোরাদার চাদর ছিল। একজন বেদুঈন তাঁর কাছে এলো। সে তাঁর চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমন কি আমি দেখতে পেলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন। [৩১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

28

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন স্ত্রী লোক একটি বুরদাহ নিয়ে এলো। সাহল (রাঃ) বললেনঃ তোমরা জান বুরদাহ কী? একজন উত্তর দিলঃ হাঁ, বুরদাহ হল এমন চাদর যার পাড় কারুকার্যময়। স্ত্রী লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি আমার নিজের হাতে বুনেছি আপনাকে পরানোর জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন। তখন তাঁর এটার প্রয়োজনও ছিল। এরপর তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেনঃ তখন সে চাদরটি ইযার হিসেবে তাঁর পরিধানে ছিল। দলের এক ব্যক্তি হাত দিয়ে চাদরটি স্পর্শ করল এবং বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এটি পরতে দিন। তিনি বললেনঃ হাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসলেন, যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছে ছিল, তারপরে উঠে গেলেন এবং চাদরটি ভাঁজ করে এ ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। উপস্থিত লোকেরা বললঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এটি চেয়ে তুমি ভাল করনি। তুমি তো জান যে, কোন প্রার্থীকে তিনি বঞ্চিত করেন না। লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কেবল এজন্যেই চেয়েছি যে, যেদিন আমার মৃত্যু হবে, সে দিন যেন এ চাদরটি আমার কাফন হয়। সাহল বলেনঃ এটি তাঁর কাফনই হয়েছিল। [১২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

29

আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল (বিনা হিসাবে) জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মুখমন্ডল চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। ‘উকাশাহ ইবনু মিহ্সান তাঁর পরিহিত রঙিন ডোরাওয়ালা চাদর উপরে তুলে ধরে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘উকাশাহ তোমার অগ্রগামী হয়েছে। [৬৫৪২; মুসলিম ১/৯৪, হাঃ ২১৬, আহমাদ ৮০২২, ৮৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

30

ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ কোন্ ধরনের কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অধিক প্রিয় ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারা-ইয়ামনী চাদর। [৫৮১৩; মুসলিম ৩৭/৫, হাঃ ২০৭৯, আহমাদ ১৪১১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

31

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হিবারা’ (ইয়ামনী চাদর) পরতে অধিক পছন্দ করতেন। [৫৮১২; মুসলিম ৩৭/৫, হাঃ ২০৭৯, আহমাদ ১৪১১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

32

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মারা যান, তখন (ইয়ামনী চাদর) দ্বারা তাঁকে ঢেকে রাখা হয়। [মুসলিম ১১/১৪, হাঃ ৯৪২, আহমাদ ২৬৩৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

33

‘আয়িশাহ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত, তখন তিনি তাঁর কারুকার্যপূর্ণ চাদর দ্বারা মুখ ঢেকে রাখেন। যখন তাঁর শ্বাসরোধ হয়ে আসত তখন তার মুখ থেকে তা সরিয়ে নিতেন। এ অবস্থায় তিনি বলতেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা’নাত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরগুলোকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করছিলেন। [৪৩৫, ৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

34

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। চাদরটি ছিল কারুকার্যপূর্ণ। তিনি কারুকার্যের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালেন, তারপর সালাম ফিরিয়ে বললেনঃ এ চাদরটি আবূ জাহমের কাছে নিয়ে যাও। কারণ, এখনই তা আমাকে সালাত থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছে। আর আবূ জাহম ইবনু হুযাইফার ‘আনবিজানিয়্যা’ (কারুকার্যবিহীন চাদর)-টি আমার জন্যে নিয়ে এসো। সে হচ্ছে আদী ইবনু কা‘ব গোত্রের লোক। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

35

আবূ বুরদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ একবার একখানি কম্বল ও মোটা ইযার নিয়ে আমাদের কাছে আসেন এবং তিনি বললেনঃ এ দু’টি পরা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রূহ কবয করা হয়। [৩৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

36

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুলামাসাহ’ ও ‘মুনাবাযাহ’ থেকে নিষেধ করেছেন এবং দু’সময়ে সালাত আদায় করা থেকেও অর্থাৎ ফজরের (সালাতের) পর সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের (সালাতের) পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আরও নিষেধ করেছেন একটি মাত্র কাপড় এমনভাবে পরতে, যাতে লজ্জাস্থানের উপরে তার ও আকাশের মধ্যস্থলে আর কিছুই থাকে না। আর তিনি কাপড় মুড়ি দিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। [৩৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

37

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’প্রকার কাপড় পরিধান করতে ও দু’প্রকার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ে তিনি ‘মুলামাসা’ ও ‘মুনাবাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল রাতে বা দিনে একজন অপর জনের কাপড় হাত দিয়ে স্পর্শ করা। এটুকু বাদে তা আর উলট-পালট করে দেখে না। আর মুনাবাযা হল- এক লোক অন্য লোকের প্রতি তার কাপড় নিক্ষেপ করা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিও তার কাপড় নিক্ষেপ করা এবং এর দ্বারাই তাদের ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া, দেখা ও পারস্পরিক সম্মতি ব্যতিরেকেই। আর দু’প্রকার পোশাক পরিধানের এর এক প্রকার) হল- ইশতিমালুস-সাম্মা’। সাম্মা হল এক কাঁধের উপর কাপড় এমনভাবে রাখা যাতে অন্য কাঁধ খালি থাকে, কোন কাপড় থাকে না। পোশাক পরার অন্য ধরন হচ্ছে- উপবিষ্ট অবস্থায় নিজের কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঘিরে রাখা, যাতে লজ্জাস্থানের উপর কাপড়ের কোন অংশ না থাকে। [৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

38

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ধরনের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। একটি কাপড়ে পুরুষের এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকা যে, তার লজ্জাস্থানের উপর সে কাপড়ের কোন অংশই থাকে না। আর একটি কাপড় এমনভাবে পেঁচিয়ে পরা যে, শরীরের এক অংশ খোলা থাকে। আর ‘মুলামাসাহ’ ও ‘মুনাবাযাহ’ থেকেও তিনি নিষেধ করেছেন)। [৩৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

39

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন শরীরের এক পাশ খোলা রেখে অন্য পাশ ঢেকে পরতে। আর এক কাপড়ে পুরুষকে এমনভাবে ঢেকে বসতে, যাতে তার লজ্জাস্থানের উপর ঐ কাপড়ের কোন অংশ না থাকে। [৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

40

উম্মু খালিদ হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু কাপড় নিয়ে আসা হয়। তার মধ্যে কিছু কালো নকশীদার ছোট চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমরা এগুলো পরব, তোমাদের মত কী? উপস্থিত সকলে চুপ থাকল। তারপর তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাকে বহন করে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতে একটি চাদর নিলেন এবং তাকে পরিয়ে দিলেন। এরপর বললেনঃ (এটি) তুমি পুরাতন কর ও ছিঁড়ে ফেল (অর্থাৎ তুমি বহুদিন বাঁচ)। ঐ চাদরে সবুজ অথবা হলুদ রঙের নকশী ছিল। তিনি বললেনঃ হে খালিদের মা! هٰذَا سَنَاهْ অর্থাৎ এটি কত সুন্দর! হাবশী ভাষায় সানাহ্ অর্থ সুন্দর। [৩০৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

41

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মু সুলাইম যখন একটি সন্তান প্রসব করলেন তখন আমাকে জানালেন, হে আনাস! শিশুটিকে দেখ, যেন সে কিছু না খায়, যতক্ষণ না তুমি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যাও, তিনি এর তাহনীক করবেন। আমি তাকে নিয়ে গেলাম। দেখলাম, তিনি একটি বাগানে আছেন, আর তাঁর পরনে হুরাইসিয়া নামের চাদর আছে। তিনি যে উটে করে মক্কা বিজয়ের দিনে অভিযানে গিয়েছিলেন তার পিঠে ছিলেন। [১৫০২; মুসলিম ৩৭/৩০, হাঃ ২১১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

42

‘ইকরামাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। রিফা‘আ তার স্ত্রীকে ত্বালাক দেয়। পরে ‘আবদুর রহমান কুরাযী তাকে বিবাহ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তার গায়ে একটি সবুজ রঙের উড়না ছিল। সে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করল এবং (স্বামীর প্রহারজনিত) স্বীয় গাত্রের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এলেন, আর স্ত্রীগণ একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে, তখন ‘আয়িশাহ বললেনঃ কোন মু’মিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে বেশি সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ ‘আবদুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দু’টি ছেলে সাথে করে এলো। স্ত্রী লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এ ব্যতীত আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে অধিক তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আঁচল ধরে দেখাল। ‘আবদুর রহমান বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে মিথ্যা বলছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায় দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফা‘আর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয় তাহলে রিফা‘আ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার যোগ্য হতে পার না, যতক্ষণ না ‘আবদুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেন, এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এই আসল ঘটনা, যে জন্য স্ত্রী লোকটি এমন করেছে। আল্লাহর কসম! কাকের সাথে কাকের যেমন মিল থাকে, তার চেয়েও বেশি মিল আছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ ‘আবদুর রহমানের সাথে তাঁর পুত্রদের)। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

43

সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডানে ও বামে দু’জন পুরুষ লোককে দেখলাম। তাদের পরনে সাদা পোশাক ছিল। তাদের এর আগেও দেখিনি, আর পরেও দেখিনি। [৪০৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

44

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তাঁর পরনে তখন সাদা পোশাক ছিল। তখন তিনি ছিলেন নিদ্রিত। কিছুক্ষণ পর আবার এলাম, তখন তিনি জেগে গেছেন। তিনি বললেনঃ যে কোন বান্দা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে এবং এ অবস্থার উপরে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও। আমি বললামঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আবূ যারের নাক ধূলি ধুসরিত হলেও। আবূ যার যখনই এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন আবূ যারের নাসিকা ধূলাচ্ছন্ন হলেও বাক্যটি বলতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী) বলেনঃ এ কথা প্রযোজ্য হয় মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে যখন সে তওবা করে ও লজ্জিত হয় এবং বলে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’, তখন তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। [১২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

45

ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ‘উসমান নাহদী এর থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমাদের কাছে ‘উমার (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে এক পত্র আসে, এ সময় আমরা ‘উতবাহ ইবনু ফারকাদের সঙ্গে আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। (পত্রে লেখা ছিলঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তবে এটুকু এবং ইঙ্গিত দিলেন বুড়ো আঙ্গুলের সাথে মিলিত দু’আঙ্গুল দ্বারা (বর্ণনাকারী বলেনঃ) আমরা বুঝতে পারলাম যে (কতটুকু জায়িয তা) জানিয়ে তিনি পাড় ইত্যাদি বুঝাতে চেয়েছেন। [৫৮২৯, ৫৮৩০, ৫৮৩৪, ৫৮৩৫; মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ২০৬৯, আহমাদ ৩৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

46

আবূ ‘উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। এ সময় ‘উমার আমাদের কাছে লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন; কিন্তু এটুকু এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’আঙ্গুল দিয়ে এর পরিমাণ আমাদের বলে দিয়েছেন। যুহাইর মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল তুলে দেখিয়েছেন। [৫৮২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

47

আবূ ‘উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমরা উত্বাহর সাথে ছিলাম। ‘উমার তার কাছে লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে আখিরাতে রেশম পরানো হবে না, সে ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়ায় রেশম পরবে না। আবূ ‘উসমান (রহ.) তার দু’আঙ্গুল অর্থাৎ শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করলেন। [৫৮২৮; মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ২০৬৯, আহমাদ ৩৬৫]] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

48

ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ মাদাইনে অবস্থান করছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। এক গ্রাম্য লোক একটি রৌপ্য পাত্রে কিছু পানি নিয়ে আসল। হুযাইফাহ তা ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি ছুঁড়ে ফেলতাম না; কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করেছি, সে নিবৃত হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণ, রৌপ্য, পাতলা ও মোটা রেশম তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের জন্য) দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য আখিরাতে। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

49

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। শু’বাহ (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরতে পারবে না। [মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ৬০৭৩, আহমাদ ১১৯৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

50

খালীফাহ ইবনু কা‘ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরকে খুতবায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নাই)

51

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৪) আবূ মা‘মার আমাদের বলেছেন ...... ‘উমার (রাঃ) নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নাই)

52

‘ইমরান ইবনু হিত্তান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ -এর নিকট রেশম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, ইবনু ‘উমারের নিকট জিজ্ঞেস কর। ইবনু ‘উমারকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, আবূ হাফস অর্থাৎ ‘উমার ইবনু খাত্তাব বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ায় যে ব্যক্তিই রেশমী কাপড় পরবে, তার আখিরাতে কোন অংশ নেই। আমি বললামঃ তিনি সত্য বলেছেন। আবূ হাফস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মিথ্যারোপ করেননি। ‘ইমরানের সূত্রে ঐ রকমই হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

53

وَيُرْو‘ى فِيهِ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. এ সম্পর্কে যুবাইদীর সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে। ৫৮৩৬. বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যে একখানা রেশমী বস্ত্র উপহার পাঠানো হয়। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সা‘দ ইবনু মু‘আযের রুমাল এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে। [৩২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

54

وَقَالَ عَبِيدَةُ هُوَ كَلُبْسِهِ ‘আবীদাহ বলেন, এটা পরিধানের মতই। ৫৮৩৭. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও চিকন রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে ও তাতে উপবেশন করতে নিষেধ করেছেন। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

55

وَقَالَ عَاصِمٌ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ قُلْتُ لِعَلِيٍّ مَا الْقَسِّيَّةُ قَالَ ثِيَابٌ أَتَتْنَا مِنْ الشَّأْمِ أَوْ مِنْ مِصْرَ مُضَلَّعَةٌ فِيهَا حَرِيرٌ وَفِيهَا أَمْثَالُ الأُتْرُنْجِ وَالْمِيثَرَةُ كَانَتْ النِّسَاءُ تَصْنَعُه“ لِبُعُولَتِهِنَّ مِثْلَ الْقَطَائِفِ يُصَفِّرْنَهَا. وَقَالَ جَرِيرٌ عَنْ يَزِيدَ فِي حَدِيثِهِ الْقَسِّيَّةُ ثِيَابٌ مُضَلَّعَةٌ يُجَاءُ بِهَا مِنْ مِصْرَ فِيهَا الْحَرِيرُ وَالْمِيثَرَةُ جُلُودُ السِّبَاعِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ عَاصِمٌ أَكْثَرُ وَأَصَحُّ فِي الْمِيثَرَةِ. আসিম ... আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাসসী’ কী? তিনি বললেন, এক প্রকার কাপড়- যা শাম সিরিয়া) অথবা মিসর থেকে আমাদের দেশে আমদানী হয়ে থাকে। চওড়া দিক থেকে নক্শী করা হয়, তাতে রেশম থাকে এবং উৎরুনজের মত তা কারুকার্যখচিত হয়। আর মীসারা এমন বস্ত্র, যা স্ত্রী লোকেরা তাদের স্বামীদের জন্যে প্রস্তুত করে, মখমলের চাদরের মত তা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। জারীর ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বর্ণনায় আছে- কাসসী হচ্ছে নক্শী বস্ত্র যা মিসর থেকে আমদানী হয়, তাতে রেশম থাকে। আর মীসারা হলো হিংস্র জন্তুর চামড়া। ৫৮৩৮. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লাল বর্ণের মীসারা ও কাসসী পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

56

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র ও ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরিধান করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন। [২৯১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

57

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি রেশমী হুল্লা পরতে দেন। আমি তা পরে বের হই। কিন্তু তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মুখমন্ডলে গোস্বার ভাব আমি লক্ষ্য করি। কাজেই আমি তা টুকরো করে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বেঁটে দেই।[২৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

58

‘আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘উমার (রাঃ) একটি রেশমী হুল্লা বিক্রি হতে দেখে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি কিনতেন, তাহলে কোন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসলে এবং জুমু‘আর দিনে পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেনঃ এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে যার আখিরাতে কোন হিস্যা নেই। পরবর্তী সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা পাঠান। তিনি কেবল তাঁকেই পরতে দেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি আমাকে পরিধান করতে দিয়েছেন, অথচ এ ব্যাপারে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। [৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

59

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা উম্মে কুলসূমের পরনে হালকা নকশা করা রেশমী চাদর দেখেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

60

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক বছর যাবৎ অপেক্ষায় ছিলাম যে, ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে সে দু’টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে জোট বদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু আমি তাঁকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের নিকট গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ (তাঁরা হলেন) ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন কিছু বলে গণ্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ তাদের (মর্যাদার কথা) উল্লেখ করলেন, তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের হক আছে এবং এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা চলবে না। একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হচ্ছিল। সে আমার উপর শক্ত ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সে স্থানেই। স্ত্রী বললেনঃ তুমি আমাকে এমন বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসাহর কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দেয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মু সালামাহ -এর কাছে এলাম এবং তাঁকেও তেমনি বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমার! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন। এক লোক ছিলেন আনসারী। তিনি যখন রসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে দূরে থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, যা কিছু হতো সে সব আমি তাঁকে গিয়ে জানাতাম। আর আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতাম, আর তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এখানে যা কিছু ঘটতো তা এসে আমাকে জানাতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চারপাশে যারা (রাজা-সম্রাট) ছিল তাদের উপর রাসূলের কর্তৃত্ব কায়িম হয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাসসান শাসক। তার আক্রমণের আমরা আশঙ্কা করতাম। হঠাৎ আনসারী যখন বললঃ এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাকে বললামঃ কী সে ঘটনা! গাসসানী কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চেয়েও ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম সকল কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষের কুঠুরিতে অবস্থান করছেন। প্রবেশ দ্বারে অল্প বয়স্ক একজন খাদিম বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্যে অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যাতে তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেছে। তাঁর মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ, তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসাহ ও উম্মু সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মু সালামাহ আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সে সব আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে থাকার পর নামলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

61

উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। তখন তিনি বলছিলেনঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, কত যে ফিতনা এ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। আরও কত যে ফিতনা অবতীর্ণ হয়েছে, কে আছে এমন যে, এ কক্ষবাসীগণকে ঘুম থেকে জাগ্রত করবে। পৃথিবীতে এমন অনেক পোশাক পরিহিতা মহিলাও আছে যারা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র থাকবে। যুহরী (রহ.) বলেন, হিন্দ বিন্‌ত হারিস-এর জামার আস্তিনদ্বয়ের বুতাম লাগানো ছিল। [১১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

62

খালিদের কন্যা উম্মু খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু কাপড় আনা হয়। তাতে একটি নকশাওয়ালা কালো চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমি এ চাদরটি কাকে পরাব এ সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? সবাই চুপ থাকল। তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সুতরাং তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি নিজ হাতে তাঁকে ঐ চাদর পরিয়ে দিয়ে বললেনঃ পুরাতন কর ও দীর্ঘদিন ব্যবহার কর। তারপর তিনি চাদরের নক্শার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং হাতের দ্বারা আমাকে ইশারা করে বলতে থাকলেনঃ হে উম্মু খালিদ! এ সানা। হাবশী ভাষায় ‘সানা’ অর্থ সুন্দর। ইসহাক (রহ.) বলেনঃ আমার পরিবারের এক স্ত্রীলোক আমাকে বলেছে, সে ঐ চাদর উম্মু খালিদের পরনে দেখেছে। [৩০৭১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

63

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম ৩৭/২৩, হাঃ ২১০১, আহমাদ ১২৯৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

64

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, মুহরিম যেন ওয়ারস্ ঘাসের কিংবা জাফরানের রং দ্বারা রঙানো কাপড় না পরে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

65

বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাঝারি আকৃতির। আমি তাঁকে লাল হুল্লা পরা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছু আমি দেখিনি। [৩৫৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

66

বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর শুশ্রুষা, জানাযায় শরীক হওয়া এবং হাঁচিদাতার জবাব দান।[1] আর তিনি আমাদের সাতটি হতে নিষেধ করেছেনঃ রেশমী বস্ত্র, মিহিন রেশমী বস্ত্র, রেশম মিশ্রিত কাতান বস্ত্র, মোটা বস্ত্র এবং লাল ‘মীসারা’ বস্ত্র পরিধান করতে। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

67

আবূ মাসলামা সা‘ঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘না‘লাই’[1] পায়ে রেখে সালাত আদায় করেছেন কি? তিনি বলেছেনঃ হ্যাঁ। [৩৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

68

‘উবায়দ ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখেছি, যা আপনার সঙ্গীদের মধ্যে কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেনঃ সেগুলো কী, হে ইবনু জুরাইজ? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি আপনি তাওয়াফ করার সময় (কা‘বার) রু’কনগুলোর মধ্য হতে ইয়ামানী দু’টো রুকন ব্যতীত অন্যগুলোকে স্পর্শ করেন না। আমি দেখেছি, আপনি পশমহীন চামড়ার জুতা পরিধান করেন। আমি দেখেছি আপনি হলুদ রঙের কাপড় পরেন এবং যখন আপনি মক্কায় ছিলেন তখন দেখেছি, অন্য লোকেরা (যিলহাজ্জের) চাঁদ দেখেই ইহরাম বাঁধতো, আর আপনি তালবিয়ার দিন (অর্থাৎ আট তারিখ) না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাঁধতেন না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ আরকান সম্পর্কে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইয়ামানী দু’টি রুকন ছাড়া অন্য কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমহীন চামড়ার জুতার ব্যাপার হলো, আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন জুতা পরতেন, যাতে কোন পশম থাকতো না এবং তিনি জুতা পরা অবস্থাতেই অযূ করতেন (অর্থাৎ পা ধুতেন)। তাই আমি সে রকম জুতা পরতেই পছন্দ করি। আর হলুদ বর্ণের কথা হলো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রং দিয়ে রঙিণ করতে দেখেছি। সুতরাং আমিও এর দ্বারাই রং করতে ভালবাসি। আর ইহরাম সম্পর্কে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বাহনে হাজ্জের কাজ আরম্ভ করার জন্যে উঠার আগে ইহরাম বাঁধতে দেখিনি। [১৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

69

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, ইহরাম বাঁধা ব্যক্তি যেন জাফরান কিংবা ওয়ার্‌স ঘাস দ্বারা রং করা কাপড় না পরে। তিনি বলেছেনঃ যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে এবং পায়ের গোড়ালির নীচ থেকে (মোজার উপরের অংশ) কেটে ফেলে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

70

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মুহরিম অবস্থায়) যে লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে, আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে। [১৭৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

71

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতা লাভ করতে, মাথা আঁচড়াতে ও জুতা পায়ে দিতে ডান দিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। [১৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

72

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরে তখন সে যেন ডান দিক থেকে শুরু করে, আর যখন খোলে তখন সে যেন বাম দিকে শুরু করে, যাতে পরার সময় উভয় পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় এবং খোলার সময় শেষে হয়। [মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭, আহমাদ ৭১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

73

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। হয় দু’পা-ইখোলা রাখবে অথবা দু’ পায়ে পরবে। [মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

74

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চপ্পলে দু’টো করে ফিতা ছিল। [৫৮৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

75

‘ঈসা ইবনু তাহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। একবার আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এমন দু'টো চপ্পল আমাদের কাছে আনলেন যার দু'টো করে ফিতা ছিল। তখন সাবিত বুনানী বললেনঃ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চপ্পল ছিল। [৫৮৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

76

‘আওনের পিতা (ওয়াহব ইবনু ‘আবদুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তখন তিনি একটি লাল রঙের চামড়ার তাঁবুতে ছিলেন। আর বিলালকে দেখলাম তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অযুর পানি উঠিয়ে দিচ্ছেন এবং লোকজন অযুর পানি নেয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে। যে তাত্থেকে কিছু পায়, সে তা মেখে নেয়। আর যে সেখান হতে কিছু পায় না, সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে কিছু গ্রহণ করে। [১৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

77

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের নিকট সংবাদ প্রেরণ করেন এবং তাদের চামড়ার একটি তাঁবুতে জমায়েত করেন। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

78

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা চাটাই দিয়ে ঘেরাও দিয়ে সালাত আদায় করতেন। আর দিনের বেলা তা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একত্রিত হয়ে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে লাগল। এমনকি বহু লোক একত্রিত হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ‘আমল করতে থাক তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা ক্লান্ত হন না, বরং তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আর আল্লাহর নিকট ঐ ‘আমল সবচেয়ে প্রিয়, যা সর্বদা করা হয়, তা কম হলেও। [৭২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

79

মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা মাখরামাহ একদা) তাকে বললেনঃ হে প্রিয় বৎস! আমার কাছে খবর এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু কাবা এসেছে। তিনি সেগুলো বণ্টন করছেন। চলো আমরা তাঁর কাছে যাই। আমরা গেলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বাসগৃহে পেলাম। আমাকে (আমার পিতা) বললেনঃ বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার কাছে ডাক। আমার নিকট কাজটি অতি কঠিন বলে মনে হল। আমি বললামঃ আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডাকবো? তিনি বললেনঃ বৎস, তিনি তো কঠোর স্বভাবের লোক নন। যা হোক, আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তাঁর গায়ে তখন স্বর্ণের বোতাম লাগান মিহি রেশমী কাপড়ের কাবা ছিল। তিনি বললেনঃ হে মাখরামাহ! এটা আমি তোমার জন্যে সংরক্ষণ করেছিলাম। এরপর তিনি ওটা তাকে দিয়ে দিলেন।[1][২৫৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)

80

বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি বা তিনি বলেছেন, স্বর্ণের বলয়, মিহি রেশম, মোটা রেশম ও রেশম মিশ্রিত কাপড়, রেশম এর তৈরী লাল রঙের হাওদা, রেশম মিশ্রিত কিস্সী কাপড় ও রৌপ্য পাত্র। আর তিনি আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর শুশ্রূষা, জানাযার অনুসরণ করা, হাঁচির উত্তর দেয়া, সালামের জবাব দেয়া, দা’ওয়াত গ্রহণ করা, শপথকারীর শপথ পূরণে সাহায্য করা এবং মাযলূম ব্যক্তির সাহায্য করা। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

81

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। ‘আমর (রহ.) বাশীর (রহ.)-কে এ রকমই বর্ণনা করতে শুনেছেন। [মুসলিম ৩৭/১১, হাঃ ২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

82

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করেন। আংটির মোহর হাতের তালুর দিকে ঘুরিয়ে রাখেন। লোকেরা ঐ রকমই আংটি) ব্যবহার করা শুরু করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের আংটিটি ফেলে দিয়ে রৌপ্যের আংটি বানিয়ে নিলেন। [৫৮৬৬, ৫৮৬৭, ৫৮৭৩, ৫৮৭৬, ৬৬৫১, ৭২৯৮; মুসলিম ৩৭/১১, হাঃ ২০৯১, আহমাদ ৫৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

83

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি পরেন। আংটিটির মোহর হাতের তালুর ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে রাখেন। তাতে তিনি مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ খোদাই করেছিলেন। লোকেরাও এ রকম আংটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। যখন তিনি দেখলেন যে, তারাও ঐ রকম আংটি ব্যবহার করছে, তখন তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বলেনঃ আমি আর কখনও এটা ব্যবহার করব না। এরপর তিনি একটি রূপার আংটি ব্যবহার করেন। লোকেরাও রূপার আংটি পরা শুরু করে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে আবূ বাকর (রাঃ), তারপর ‘উমার (রাঃ) ও তারপর ‘উসমান (রাঃ) তা ব্যবহার করেছেন। শেষে ‘উসমান (রাঃ)-এর (হাত) থেকে আংটিটি ‘আরীস’ নামক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

84

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করতেন। এরপর তা বাদ দেন এবং বলেনঃ আমি আর কক্ষনো সেটা ব্যবহার করব না। লোকেরাও তাদের আংটি খুলে ফেলে দেয়। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

85

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে রৌপ্যের একটি আংটি দেখেছেন। তারপর লোকেরাও রৌপ্যের আংটি তৈরি করে এবং ব্যবহার করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরে তাঁর আংটি বর্জন করেন। লোকেরাও তাদের আংটি বর্জন করে। যুহরীর সূত্রে ইবরাহীম ইবনু সা’দ, যিয়াদ ও শু‘আয়ব (রহ.)-ও এ রকম বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩৭/১৪, হাঃ ২০৯৩, আহমাদ ১২৬৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

86

হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আংটি পরেছেন কিনা? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে এশার সালাত আদায় করতে অর্ধরাত পর্যন্ত দেরী করেন। এরপর তিনি আমাদের মাঝে আসলেন। আমি যেন তাঁর আংটির ঔজ্জ্বল্য দেখতে লাগলাম। তিনি বললেনঃ লোকজন সালাত আদায় করে শুয়ে গেছে। আর যতক্ষণ থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষারত আছ, ততক্ষণ তোমরা সালাতের ভিতরেই আছ। [৫৭২; মুসলিম ৫/৩৯, হাঃ ৬৪০, আহমাদ ১৩৮২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

87

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটি ছিল রৌপ্যের। আর তার নাগিনাটিও ছিল রৌপ্যের। ইয়াহ্ইয়া ইবনু আইউব, হুমায়দ, আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণনা করেছেন। [৬৫; মুসলিম ৩৭/১১, হাঃ ২০৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

88

সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমি নিজেকে হিবা করে দেয়ার জন্যে এসেছি। এ কথা বলে সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তিনি তাকালেন ও মাথা নীচু করে রাখলেন। মহিলাটির দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ হলে এক ব্যক্তি বললঃ আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে একে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে মাহর দেয়ার মত কিছু আছে কি? সে বললঃ না। তিনি বললেনঃ খুঁজে দেখ। সে চলে গেল। কিছু সময় পর ফিরে এসে বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ আবার যাও এবং খোঁজ করো, একটি লোহার আংটি হলেও (আন)। সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললঃ কসম আল্লাহর! কিছুই পেলাম না, একটি লোহার আংটিও না। তার পরনে ছিল একটি মাত্র লুঙ্গি, তার উপর চাদর ছিল না। সে আরয করলঃ আমি এ লুঙ্গিটি তাকে দান করে দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার লুঙ্গি যদি সে পরে তবে তোমার পরনে কিছুই থাকে না। আর যদি তুমি পর, তবে তার গায়ে এর কিছুই থাকে না। এরপর লোকটি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি তাকে ডাকার জন্যে হুকুম দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে? সে বললঃ অমুক অমুক সূরা। সে সূরাগুলোকে গণনা করে শুনাল। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের যা কিছু মুখস্থ আছে, তার পরিবর্তে মেয়ে লোকটিকে তোমার অধীনে দিয়ে দিলাম। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

89

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনারব একটি দলের কাছে বা কিছু লোকের কাছে পত্র লিখতে চাইলেন। তখন তাঁকে বলা হল যে, তারা এমন পত্র গ্রহণ করে না যার উপর মোহরাঙ্কিত থাকে না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। তাতে অঙ্কিত ছিল مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ [বর্ণনাকারী আনাস বলেন] আমি যেন (এখনও) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আঙ্গুলে বা তাঁর হাতে সে আংটির ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করছি। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

90

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। সেটি তাঁর হাতে ছিল। এরপর তা আবূ বাকর (রাঃ)-এর হাতে আসে। অতঃপর তা ‘উমার (রাঃ)-এর হাতে আসে। অতঃপর তা ‘উসমান (রাঃ)-এর হাতে আসে। শেষ পর্যন্ত তা ‘আরীস নামক এক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। তাতে অঙ্কিত ছিল محَمَّدٌ رَسُوْل اللهِ। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

91

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আংটি তৈরী করেন। তারপর তিনি বলেনঃ আমি একটি আংটি তৈরী করেছি এবং তাতে একটি নকশা করেছি। সুতরাং কেউ যেন নিজের আংটিতে নকশা না করে। তিনি (আনাস) বলেনঃ আমি যেন তাঁর কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আংটিটির ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করছি। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

92

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোম সম্রাটের নিকট পত্র লিখতে মনস্থ করেন, তখন তাঁকে বলা হল, আপনার পত্র যদি মোহরাঙ্কিত না হয়, তবে তারা তা পাঠ করে না। এরপর তিনি রৌপ্যের একটি আংটি বানান এবং তাতে محَمَّدٌ رَسُوْل اللهِ খোদাই করা ছিল। [আনাস বলেন] আমি যেন (এখনও) তাঁর হাতে সে আংটির শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

93

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি তৈরী করেন। যখন তিনি তা পরিধান করতেন, তখন তার নাগিনা হাতের তালুর দিকে রাখতেন। লোকেরাও স্বর্ণের আংটি তৈরী শুরু করল। এরপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলী প্রকাশ করার পর বলেনঃ আমি এ আংটি তৈরী করেছিলাম। কিন্তু তা আর পরিধান করব না। এরপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলেন। লোকেরাও (তাদের আংটি) ছুঁড়ে ফেলল। [৫৮৬৫] জুওয়ায়রিয়াহ (রহ.) বলেনঃ ‘আমার ধারণা যে, বর্ণনাকারী (নাফি‘) এ কথাও বলেছেন যে, আংটিটি তাঁর ডান হাতে ছিল। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

94

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের একটি আংটি তৈরী করেন। তাতে محَمَّدٌ رَسُوْل اللهِ এর নকশা অঙ্কন করেন। এরপর তিনি বলেনঃ আমি একটি রৌপ্যের আংটি বানিয়েছি এবং তাতে محَمَّدٌ رَسُوْل اللهِ এর নকশা অঙ্কন করেছি। সুতরাং কেউ যেন তার আংটিতে এ নকশা অঙ্কণ না করে। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

95

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বাকর (রাঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন তিনি তাঁর [আনাস (রাঃ)-এর] কাছে (যাকাতের পরিমাণ সম্পর্কে) একটি পত্র লেখেন। আংটিটির নকশা তিন লাইনে ছিল। এক লাইনে ছিল مُحَمَّدُ এক লাইনে ছিল, رَسُوْل আর এক লাইনে ছিল اللهِ। [১৪৪৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

96

আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ আহমাদের সূত্রে আনাস থেকে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটি (তাঁর জীবদ্দশায়) তাঁর হাতেই ছিল। তাঁর (মৃত্যুর) পরে তা আবূ বাকর (রাঃ)-এর হাতে থাকে। আবূ বাকর (রাঃ)-এর (ইন্তিকালের) পরে তা ‘উমার (রাঃ)-এর হাতে থাকে। যখন ‘উসমান (রাঃ)-এর কাল আসল, তখন (একবার) তিনি ঐ আংটি হাতে নিয়ে ‘আরীস’ নামক কূপের উপর বসেন। আংটিটি বের করে নাড়াচাড়া করছিলেন। হঠাৎ তা (কূপের মধ্যে) পড়ে যায়। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তিনদিন যাবৎ ‘উসমান (রাঃ)-এর সাথে তালাশ করলাম, কূপের পানি ফেলে দেয়া হলো, কিন্তু আংটিটি আর পেলাম না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

97

وَكَانَ عَلٰى عَائِشَةَ خَوَاتِيمُ ذَهَبٍ. ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর স্বর্ণের কয়েকটি আংটি ছিল। ৫৮৮০. ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এক ঈদে হাজির ছিলাম। তিনি খুতবার আগেই সালাত আদায় করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ ইবনু ওয়াহ্ব, ইবনু জুরায়জ থেকে এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তিনি স্ত্রীলোকেদের নিকট আসেন। তাঁরা (সদাকাহ হিসেবে) বিলাল -এর কাপড়ে মালা ও আংটি ফেলতে লাগল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

98

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে বের হলেন এবং (ঈদের) দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। তার পূর্বে এবং পরে আর কোন নফল সালাত আদায় করেননি। তারপর তিনি মহিলাদের নিকট আসেন এবং তাদের সদাকাহ করার জন্যে নির্দেশ দেন। মহিলারা তাদের হার ও মালা সদাকাহ করতে থাকল। [৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

99

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার (আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন পুরুষ লোককে তার খোঁজে পাঠান। এমন সময় সালাতের সময় উপস্থিত হয়। তাদের কারও অযু ছিল না এবং তারা পানিও পেল না। কাজেই অযু ছাড়াই তাঁরা সালাত আদায় করে নিলেন। (ফিরে এসে) তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] ইবনু নুমায়র হিশামের সূত্রে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ হার ‘আয়িশাহ আসমা থেকে ধার নিয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

100

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَرَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالصَّدَقَةِ فَرَأَيْتُهُنَّ يَهْوِينَ إِلٰى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) মহিলাদের সদাকাহ করার নির্দেশ দেন। তখন আমি দেখলাম, তারা তাদের নিজ নিজ কান ও গলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ৫৮৮৩. ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) ঈদের দিনে দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। না এর আগে তিনি কোন সালাত আদায় করেন, না এর পরে। অতঃপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল তিনি মহিলাদেরকে সদাকাহ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নিজেদের কানের দুল নিক্ষেপ করতে লাগল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

101

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদিনার কোন এক বাজারে ছিলাম। তিনি (বাজার থেকে) ফিরলেন। আমিও ফিরলাম। তিনি বললেনঃ ছোট শিশুটি কোথায়? এ কথা তিনবার বললেন। হাসান ইবনু ‘আলীকে ডাক। দেখা গেল হাসান ইবনু ‘আলী হেঁটে চলেছে। তাঁর গলায় ছিল মালা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে তাঁর হাত উঠালেন। হাসানও এভাবে নিজের হাত উঠালো। তারপর তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালবাসে, তাকেও আপনি ভালবাসুন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা বলার পর থেকে হাসান ইবনু ‘আলীর চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি। [২১২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

102

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৩) ‘আমরও এরকমই বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে শু‘য়বা এ সংবাদ দিয়েছেন।

103

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুককে বের করেছেন এবং ‘উমার (রাঃ) অমুককে বের করে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

104

উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁর ঘরে ছিলেন। তখন ঐ ঘরে এক হিজড়া ছিল। সে উম্মু সালামাহর ভাই ‘আবদুল্লাহকে বললঃ হে ‘আবদুল্লাহ! আগামীকাল তায়েফের উপর যদি তোমরা জয়ী হও, তবে আমি তোমাকে বিন্ত গাইলানকে দেখাব। সে সামনের দিকে আসলে, (তার পেটে) চার ভাঁজ দেখা যায়। আর যখন সে পিছনের দিকে যায়, তখন (তার পিঠে) আট ভাঁজ দেখা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওরা যেন তোমাদের কাছে কক্ষনো না আসে। [৪৩২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

105

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُحْفِي شَارِبَهُ حَتَّى يُنْظَرَ إِلَى بَيَاضِ الْجِلْدِ، وَيَأْخُذُ هَذَيْنِ، يَعْنِي بَيْنَ الشَّارِبِ وَاللِّحْيَةِ. ইবনু ‘উমার (রাঃ) গোঁফ এত ছোট করতেন যে, চামড়ার শুভ্রতা দেখা যেত এবং তিনি গোঁফ ও দাড়ির মাঝের পশমও কেটে ফেলতেন। ৫৮৮৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গোঁফ কেটে ফেলা ফিতরাত স্বভাবের) অন্তর্ভুক্ত। [৫৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

106

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ফিতরাত (অর্থাৎ মানুষের জন্মগত স্বভাব) পাঁচটিঃ খাত্না করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নিম্নে), বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ খাটো করা। [1] [৫৮৯১, ২৬৯৭; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৭, আহমাদ ৭১৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

107

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাভির নীচের পশম কামানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা মানুষের স্বভাব। [1] [৫৮৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

108

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- ফিতরাত পাঁচটিঃ খাত্না করা, (নাভির নীচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা ও বগলের পমশ উপড়ে ফেলা। [৫৮৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

109

ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। [৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

110

عَفَوْا كَثُرُوا وَكَثُرَتْ أَمْوَالُهُمْ. ‘আফাও’ অর্থ বর্ধিত করা। তাদের মাল বর্ধিত হয়েছে। ৫৮৯৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে (বড় রাখবে)। [৫৮৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৪৬৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

111

মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি খিযাব লাগিয়েছেন? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য তাঁকে অতি অল্পই পেয়েছিল। [৩৫৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

112

সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিযাব লাগানোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খিযাব লাগানোর অবস্থা পর্যন্ত পৌঁছেননি। আমি তাঁর সাদা দাড়িগুলো গুণতে চাইলে, সহজেই গুণতে পারতাম। [৩৫৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

113

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মু সালামাহর কাছে পাঠাল। (উম্মু সালামাহর কাছে রক্ষিত) একটি পানির পাত্র হতে (আনাসের পুত্র) ইসরাঈল তিনটি আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিল। ঐ পাত্রের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি চুল ছিল। কারো চোখ লাগলে কিংবা কোন রোগ দেখা দিলে, উম্মু সালামাহর নিকট হতে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিত। আমি সে পাত্রের মধ্যে একবার তাকালাম, দেখলাম লাল রং-এর কয়েকটি চুল। [৫৮৯৭, ৫৮৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

114

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি চুল বের করলেন, যাতে খিযাব লাগানো ছিল। [৫৮৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

115

আবূ নু‘আয়ম .... ইবনু মাওহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু সালামাহ তাকে (ইবনু মাওহাবকে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লাল রং এর চুল দেখিয়েছেন। [৫৮৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

116

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহূদ ও নাসারারা (চুল ও দাড়িতে) রং লাগায় না। কাজেই তোমরা তাদের উল্টো কর। [৩৪৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

117

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না অতিরিক্ত লম্বা ছিলেন, না বেঁটে ছিলেন; না ধবধবে সাদা ছিলেন, আর না ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন; চুল অতিশয় কোঁকড়ানোও ছিল না, আর সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে নবুওত দান করেন। এরপর মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সকালে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন। এ সময় তাঁর মাথায় ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা হয়নি। [1] [৩৫৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

118

বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাল জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্য কাউকে আমি অধিক সুন্দর দেখিনি। (ইমাম বুখারী বলেন) আমার জনৈক সঙ্গী মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল প্রায় তাঁর কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছত। আবূ ইসহাক (রহ.) বলেনঃ আমি বারাআ’ (রাঃ)-কে কয়েককবার এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। যখনই তিনি এ হাদীস বর্ণনা করতেন, তখনই হাসতেন। শু‘বাহ বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল তাঁর উভয় কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছতো। [৩৫৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

119

(‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এক রাত্রিতে স্বপ্নে কা‘বা ঘরের সন্নিকটে এক গেরুয়া রঙের পুরুষ লোক দেখতে পেলাম। এমন সুন্দর গেরুয়া লোক তুমি কখনও দেখনি। তাঁর মাথার চুল ছিল কাঁধ পর্যন্ত। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা এমন সুন্দর চুল তুমি কখনও দেখনি। লোকটি চুল আঁচড়িয়েছে, আর তাত্থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। সে দু’জন লোকের উপর ভর দিয়ে কিংবা দু’জন লোকের স্কন্ধে ভর করে কা‘বা ঘর প্রদক্ষিণ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? জবাব দেয়া হলোঃ ইনি মরিয়মের পুত্র ‘ঈসা) মাসীহ্! অন্য আরেকজন লোক দেখলাম, যার চুল ছিল খুবই কোঁকড়ান, ডান চোখ টেরা, ফুলে উঠা আঙ্গুর যেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? বলা হলোঃ ইনি মাসীহ্ দাজ্জাল। [৩৪৪০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

120

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো। [৫৯০৪; মুসলিম ৪৩/২৬, হাঃ ২৩৩৮, আহমাদ ১৩৫৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

121

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো। [৫৯০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

122

ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল- না একেবারে সোজা, না বেশি কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত। [৫৯০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

123

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত গোশতে পূর্ণ ছিল। তাঁর পরে আমি কোন লোককে এমন দেখিনি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল ছিল মাঝারি রকমের, অধিক কোঁকড়ানোও না, অধিক সোজাও না। [৫৯০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

124

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথা ও দু’ পা ছিল গোশতপূর্ণ। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত অপর (কাউকে এত অধিক সুন্দর) দেখিনি। তাঁর হাতের তালু ছিল চওড়া। [৫৯০৮, ৫৯১০, ৫৯১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

125

আনাস ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’ পা ছিল গোশতপূর্ণ। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তাঁর পরে তাঁর মত কাউকে দেখিনি। [৫৯০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

126

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’ পা ও হাতের দু’ কব্জা গোশতবহুল ছিল। [৫৯০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

127

আনাস (রাঃ) অথবা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’টি কব্জি ও দু’টি পা গোশতপূর্ণ ছিল। আমি তাঁর পরে তাঁর মত কাউকে দেখিনি। [৫৯০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

128

মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে ছিলাম। তখন লোকজন দাজ্জালের কথা আলোচনা করল। একজন বললঃ তার দু’চোখের মাঝে লেখা থাকবে ‘কাফির’। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ আমি এমন কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনিনি। তবে তিনি বলেছেনঃ তোমরা যদি ইবরাহীম (আঃ)-কে দেখতে চাও, তা হলে তোমাদের সঙ্গী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তাকাও। আর মূসা (আঃ) হচ্ছেন শ্যাম রঙের মানুষ, কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী, নাকে লাগাম পরান লাল বর্ণের উষ্ট্রে আরোহণকারী। আমি যেন তাঁকে লক্ষ্য করছি তিনি তালবিয়া (লাব্বাইকা.......) পাঠরত অবস্থায় (মক্কা) উপত্যকায় নামছেন। [১৫৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

129

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি- যে লোক চুলে জট পাকায়, সে যেন তা মুড়ে ফেলে। আর তোমরা মাথার চুলে তালবীদকারীদের মত চুলে জট পাকিও না। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুল তালবীদ করা অবস্থায় দেখেছি।[1] [১৫৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

130

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুল জট করা অবস্থায় মুহরিম হয়ে উচ্চস্বরে তাল্বিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ লাব্বাইকা আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন শরীক নেই। আমি হাযির, নিশ্চয়ই প্রশংসা এবং দয়া কেবল আপনারই, আর রাজত্বও। এতে আপনার কোন শরীক নেই। এ শব্দগুলো থেকে বাড়িয়ে তিনি অতিরিক্ত কিছু বলেননি। [১৫৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

131

(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী হাফসাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হলো, তারা তাদের ‘উমরাহর ইহরাম খুলে ফেলেছে, অথচ আপনি এখনও আপনার ইহরাম খুলেননি। তিনি বললেনঃ আমি আমার মাথার চুল জড়ো করে রেখেছি এবং আমার সঙ্গী অর্থাৎ কুরবানীর পশু)-কে কিলাদাহ[1] পরিয়েছি। তাই তা যব্হ করার আগে আমি ইহরাম খুলব না। [১৫৬৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

132

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সব বিষয়ে আহলে কিতাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে চলা পছন্দ করতেন, যে সব বিষয়ে তাঁকে (কুরআনে) কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়নি। আর আহলে কিতাবরা তাদের চুল ঝুলিয়ে রাখত এবং মুশরিকরা তাদের মাথার চুলে সিঁথি কাটতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল ঝুলিয়েও রাখতেন, সিঁথিও কাটতেন। [৩৫৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

133

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম অবস্থায় সিঁথিতে যে খুশবু ব্যবহার করতেন, আমি যেন তার ঔজ্জ্বল্য এখনও দেখতে পাচ্ছি। ‘আবদুল্লাহ বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঁথিতে অর্থাৎ ‘মাফারিক’ শব্দের পরিবর্তে তিনি ‘মাফরাক’ শব্দ বলেছেন। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

134

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি আমার খালা মাইমূনাহ বিন্ত হারিসের নিকট রাত কাটাচ্ছিলাম। ঐ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর কাছে ছিলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে রাতের সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বাম পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার চুলের ঝুটি ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৮১) আবূ বিশর (রহ.) থেকেبِذُؤَابَتِي অথবা بِرَأْسِي বলে বর্ণনা করেছেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

135

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কাযা’ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। রাবী ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ‘কাযা’ কী? তখন ‘আবদুল্লাহ আমাদের ইঙ্গিতে দেখিয়ে বললেনঃ শিশুদের যখন চুল কামানো হয়, তখন এখানে ওখানে চুল রেখে দেয়। এ কথা বলার সময় ‘উবাইদুল্লাহ তাঁর কপাল ও মাথার দু’পাশে দেখালেন। ‘উবাইদুল্লাহকে আবার জিজ্ঞেস করা হলঃ বালক ও বালিকার জন্য কি একই নির্দেশ? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের কথা বলেছেন। ‘উবাইদুল্লাহ বলেনঃ আমি এ কথা আবার জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ পুরুষ শিশুর মাথার সামনের ও পিছনের দিকের চুল কামানো দূষণীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) ‘কাযা’ বলা হয়- কপালের উপরে কিছু চুল রেখে বাকী মাথার কোথাও চুল না রাখা। তেমনিভাবে মাথার চুল একপাশ থেকে অথবা অপর পাশ থেকে কাটা। [৫৯২১; মুসলিম ৩৭/১৩, হাঃ ২১২০, আহমাদ ৪৪৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

136

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। [৫৯২০; মুসলিম ৩৭/৩১, হাঃ ২১২০, আহমাদ ৪৪৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

137

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মুহরিম অবস্থায় নিজ হাতে খুশ্বু লাগিয়ে দিয়েছি এবং মিনাতেও সেখান থেকে রওনা হবার আগে তাঁকে আমি খুশবু লাগিয়েছি। [১৫৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

138

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যত উৎকৃষ্ট খুশবু পেতাম, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লাগিয়ে দিতাম। এমন কি সে খুশবুর ঔজ্জ্বল্য তাঁর মাথায় ও দাড়িতে দেখতে পেতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

139

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একলোক একটি ছিদ্র দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে উঁকি মারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চিরুনী দিয়ে মাথা আঁচড়াচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি যদি জানতাম যে, তুমি ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখছ, তা হলে এ (চিরুনী) দিয়ে আমি তোমার চোখ বিঁধিয়ে দিতাম। দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্যই তো অনুমতি গ্রহণ করার বিধি রাখা হয়েছে। [৬২৪১, ৬৯০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

140

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হায়িয অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথা আঁচড়ে দিয়েছি। [২৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৮৮) হিশাম তার পিতার সূত্রে ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

141

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিরুনী দিয়ে আঁচড়াতে ও অযু করতে যথাসাধ্য ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। [১৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

142

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ বানী আদমের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্যেই- সওম ব্যতীত। তা আমার জন্য, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। আর সাওম পালনকারীদের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিস্কের ঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধযুক্ত। [১৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

143

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যে সব সুগন্ধি পেতাম, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট সুগন্ধটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মুহরিম অবস্থায় লাগিয়ে দিতাম। [১৫৩৯; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২৪, আহমাদ ৪৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

144

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (কেউ তাঁকে খুশবু হাদিয়া দিলে) তিনি (সে) খুশবু ফিরিয়ে দিতেন না এবং বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশবু প্রত্যাখ্যান করতেন না। [২৫৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

145

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজ হাতে যারীরা নামের সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি, হালাল অবস্থাতেও এবং ইহরাম অবস্থাতেও। [১৫৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

146

‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উল্কি অঙ্কণ করে এবং যারা অঙ্কণ করায়, আর সে সব নারীদর উপর যারা চুল, ভ্রূ তুলে ফেলে এবং সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাঁত কেটে সরু করে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে, যা আল্লার সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে। রাবী বলেনঃ আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছেঃ রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর।’’ (সূরাহ আল-হাশর (৫৯ঃ৭) [৪৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

147

হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি হাজ্জ করার সময় মু‘আবিয়াহ ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ)-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন। ঐ সময় তিনি এক দেহরক্ষীর হাত থেকে এক গুচ্ছ চুল নিজ হাতে নিয়ে বলেনঃ তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকম করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেনঃ বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এরূপ করা আরম্ভ করে। [৩৪৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

148

ইবনু আবূ শাইবাহ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। আল্লাহ তা‘আলা লা‘নত করেন সে সব নারীদেরকে যারা নিজে পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদেরকে তা লাগিয়ে দেয়, যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আঁকে এবং অন্যকে করিয়ে দেয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

149

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক আনসারী নারী বিয়ে করে। এরপর সে রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে তার সব চুল পড়ে যায়। লোকজন তাকে পরচুলা লাগিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। আর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ লা‘নত করেছেন ঐসব নারীকে যারা নিজেরা পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদেরকে তা লাগিয়ে দেয়। [৫২০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

150

আসমা বিনত আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমি আমার একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এরপর সে রোগাক্রান্ত হয়, ফলে তার মাথার চুল পড়ে যায়। তার স্বামী এর কারণে আমাকে তিরস্কার করে। আমি কি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দিব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরচুলা লাগায় এবং যে তা অন্যকে লাগিয়ে দেয়, তাদের নিন্দা করলেন। [৫৯৩৬, ৫৯৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

151

আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মহিলা পরচুলা লাগায়, আর যে অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপর লা‘নত করেছেন। [৫৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

152

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ নারীর উপর লা’নত করেন, যে পরচুলা লাগায়, আর অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়। আর যে নারী উল্কি অঙ্কণ করে এবং যে তা করায়। নাফি' (রহঃ) বলেনঃ উল্কি অঙ্কণ হয় উঁচু গোশতের উপরে। [৫৯৪০, ৫৯৪২, ৫৯৪৭; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২৪, আহমাদ ৪৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

153

সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মু‘আবীয়াহ (রাঃ) শেষবারের মত যখন মাদ্বীনায় আসেন, তখন তিনি আমাদের সামনে খুৎবাহ দেন। তিনি এক গোছা চুল বের করে বললেন, আমি ইয়াহূদী ছাড়া অন্য কাউকে এ জিনিস ব্যবহার করতে দেখিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে অর্থাৎ পরচুলা ব্যবহারকারী নারীকে প্রতারক বলেছেন।[৩৪৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

154

‘আলক্বামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সৌন্দর্যের উদ্দেশে যে সব নারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আঁকে, যে সব নারী ভ্রূ উপড়ে ফেলে এবং যেসব নারী দাঁত সরু করে দাঁতের মাঝে ফাঁক করে- যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয়, তাদের উপর ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) লা‘নত করেছেন। উম্মু ইয়াকূব বললঃ এ কেমন কথা? ‘আবদুল্লাহ বললেনঃ আমি কেন তাকে লা‘নত করব না, যাকে আল্লাহর রাসূল লা‘নত করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবও। উম্মু ইয়াকূব বললঃ আল্লাহর কসম! আমি পূর্ণ কুরআন পাঠ করেছি, কিন্তু এ কথা তো কোথাও পাইনি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি যদি তা পড়তে, তবে অবশ্যই পেতেঃ(‏وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا‏)‏‏ ‘‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর তোমাদেরকে যাত্থেকে নিষেধ করে তাত্থেকে বিরত থাক’’- (সূরাহ হাশর ৫৯/৭)। [৪৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

155

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পরচুলা লাগার পেশাধারী নারী, যে নিজের মাথায় পরচুলা লাগায়, উল্কি অঙ্কণকারী নারী এবং যে অঙ্কণ করে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের লা‘নত করেছেন। [৫৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

156

আসমা (বিন্‌ত আবূ বকর) (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি তাকে বিয়ে দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগাব? তিনি বললেনঃ পরচুলা লাগিয়ে দেয় ও পরচুলা লাগিয়ে নেয় এমন নারীকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। [৫৯৩৫; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২২, আহমাদ ২৪৮৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

157

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি অথবা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উল্কি অঙ্কণকারী এবং পেশাধারী নারী এবং পরচুলা ব্যবহারকারী পরচুলা লাগানোর পেশাধারী নারীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন। [৫৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

158

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্যের জন্যে উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, ভ্রূ উত্তোলনকারী নারী এবং দাঁত সরু করে মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারী নারী, যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয়, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। (রাবী বলেন) আমি কেন তাকে অভিশাপ করব না, যাকে আল্লাহর রাসূল অভিশাপ করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। [৪৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

159

160

161

আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য ও কুকুরের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, উল্কি অঙ্কনকারী উল্কি গ্রহণকারী নারীদের উপর লা‘নত করেছেন। [২০৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

162

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এক মহিলাকে আনা হয়। সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি আঁকতো। তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি (তোমাদের মধ্যে) এমন কে আছে যে উল্কি আঁকার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শুনেছে? আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আমি শুনেছি। তিনি বললেন, কী শুনেছ? আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মহিলারা যেন উল্কি না আঁকে এবং উল্কি না আঁকিয়ে নেয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

163

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরচুলা ব্যবহারকারী এবং এ পেশাধারী এবং উল্কি অঙ্কনকারী এবং তা গ্রহণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। [৫৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

164

‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যে নারী উল্কি আঁকে ও আঁকায়, যে নারী ভ্রূ উপড়ে ফেলে এবং যে নারী দাঁত কেটে চিকন করে দাঁতের মাঝখানে ফাঁক করে- যে কাজগুলো দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে রূপান্তর ঘটে, এদের উপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করুন। আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবেই তা বিদ্যমান আছে। [৪৮৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

165

আবূ ত্বলহা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং ঐ ঘরেও না, যে ঘরে ছবি থাকে। লায়স (রহ.) ... আবূ ত্বলহা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (এ বিষয়ে) শুনেছি। [৩২২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

166

মুসলিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরূকের সাথে ইয়াসার ইবনু নুমাইরের ঘরে ছিলাম। মাসরূক ইয়াসারের ঘরের আঙিনায় কতগুলো মূর্তি দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সব থেকে শক্ত শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি তৈরি করে।[1][মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৯, আহমাদ ৩৫৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

167

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা এ জাতীয় (প্রাণীর) ছবি তৈরী করে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবেঃ তোমরা যা বানিয়েছিলে তাতে জীবন দাও। [৭৫৫৮; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

168

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ঘরের এমন কিছুই না ভেঙ্গে ছাড়তেন না, যাতে কোন (প্রাণীর) ছবি থাকত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

169

আবূ যুর‘আ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর সাথে মদিনার এক ঘরে প্রবেশ করি। ঘরের উপরে এক ছবি নির্মাতাকে তিনি ছবি তৈরী করতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- (আল্লাহ বলেছেন) ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি অত্যাচারী আর কে, যে আমার সৃষ্টি সদৃশ কোন কিছু সৃষ্টি করতে যায়? তা হলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু পরিমাণ কণা সৃষ্টি করুক! তারপর তিনি একটি পানির পাত্র চেয়ে আনলেন এবং (‘উযূ করতে গিয়ে) বগল পর্যন্ত দু’হাত ধুলেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আবূ হুরাইরাহ! আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে) কিছু শুনেছেন কি? তিনি বললেনঃ (হাঁ) অলঙ্কার পরার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত (ধোয়া উত্তম)। [৭৫৫৯; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১১১, আহমাদ ৯০৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

170

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি আমার কক্ষে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙিয়েছিলাম। তাতে ছিল প্রাণীর) অনেকগুলো ছবি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ কিয়ামতের দিন সে সব লোকের সব থেকে শক্ত আযাব হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির (প্রাণীর) সদৃশ তৈরী করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমরা ওটা দিয়ে একটি বা দু’টি বসার আসন তৈরী করি। [২৪৭৯; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭, আহমাদ ২৪১৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

171

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফর থেকে ফিরে আসলেন। সে সময় আমি নকশাওয়ালা (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে পর্দা লটকিয়ে ছিলাম। আমাকে তিনি তা খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তখন আমি খুলে ফেললাম। [২৪৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

172

আর আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই (পাত্র থেকে পানি নিয়ে) গোসল করতাম। [২৫০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

173

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ছবিওয়ালা গদি ক্রয় করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তা দেখে) দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন, প্রবেশ করলেন না। আমি বললামঃ যে পাপ আমি করেছি তা থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এ গদি কিসের জন্যে? আমি বললামঃ আপনি এতে বসবেন ও টেক লাগাবেন। তিনি বললেনঃ এসব ছবির প্রস্তুতকারীদের কিয়ামতের দিন ‘আযাব দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, যা তোমরা তৈরী করেছিলে সেগুলো জীবিত কর। আর যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

174

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথী আবূ ত্বলহা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। এ হাদীসের (এক রাবী) বুসর বলেনঃ যায়দ একবার অসুস্থ হয়ে পড়ল। আমরা তার সেবা শুশ্রূষার জন্যে গেলাম। তখন তার ঘরের দরজাতে ছবিওয়ালা পর্দা দেখতে পেলাম। আমি নবী সহধর্মিণী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর পালিত ‘উবাইদুল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, ছবির ব্যাপারে প্রথম দিনই যায়দ আমাদের কি জানায়নি? তখন ‘উবাইদুল্লাহ বললেন, তিনি যখন বলেছিলেন, তখন কি তুমি শোননি যে, কারুকাজ করা কাপড় বাদে? ইবনু ওয়াহ্ব অন্য সূত্রে আবূ ত্বলহা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৩২২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

175

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট কিছু পর্দার কাপড় ছিল, তা দিয়ে তিনি ঘরের এক দিকে পর্দা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ আমার থেকে এটা সরিয়ে নাও, কেননা এর ছবিগুলো সালাতের মধ্যে আমাকে বাধা দেয়। [৩৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

176

সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমার) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জিবরীল (আ.) (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (আগমনের) ওয়াদা করেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরী করেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে পড়লেন। তখন জিবরীলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটল। তিনি যে মনোকষ্ট পেয়েছিলেন সে বিষয়ে তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেনঃ যে ঘরে ছবি বা কুকুর থাকে সে ঘরে আমরা কক্ষনো প্রবেশ করি না। [৩২২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

177

নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, (একবার) তিনি ছবিওয়ালা গদি খরিদ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তা দেখতে পেলেন, তখন দরজার উপর দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রবেশ করলেন না। [‘আয়িশাহ (রাঃ)] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় অসন্তুষ্টি বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট এ গুনাহ থেকে তওবা করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ গদি কোত্থেকে আসলো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনার উপবেশন ও হেলান দেয়ার জন্য আমি এটি ক্রয় করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ এসব ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আযাব দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে তা জীবিত কর। তিনি আরো বললেনঃ যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

178

আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য ও যিনাকারীর উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি অঙ্কণকারী আর যে তা করায় এবং ছবি নির্মাতাকে অভিশাপ করেছেন। [২০৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

179

ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। আর লোকজন তাঁর কাছে নানান কথা জিজ্ঞেস করছিল। কিন্তু জবাবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (হাদীস) উল্লেখ করছিলেন না। অবশেষে তাঁকে ছবির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাকে কঠোরভাবে হুকুম দেয়া হবে ঐ ছবির মধ্যে জীবন দান করার জন্যে। কিন্তু সে জীবন দান করতে পারবে না। [২২২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

180

উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) গাধার পিঠে চড়েন। পিঠের উপরে ফাদাকের তৈরী মোটা গদি ছিল। উসামাহকে তিনি তাঁর পশ্চাতে উপবিষ্ট করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

181

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আসেন, তখন ‘আবদুল মুত্তালিব গোত্রের তরুণরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। তাদের একজনকে তিনি তাঁর সম্মুখে এবং অন্য একজনকে তাঁর পশ্চাতে উঠিয়ে নেন। [১৭৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

182

وَقَالَ بَعْضُهُمْ صَاحِبُ الدَّابَّةِ أَحَقُّ بِصَدْرِ الدَّابَّةِ إِلاَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُ. কেউ কেউ বলেছেন, জানোয়ারের মালিক সামনে বসার অধিক হকদার, তবে যদি কাউকে সে অনুমতি দেয়। ৫৯৬৬. আইউব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খারাপ তিন লোকের কথা ইকরামার কাছে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন তিনি কুসামকে তাঁর সওয়ারীর) সম্মুখে ও ফায্লকে পশ্চাতে উপবিষ্ট করেন। অথবা কুসামকে পশ্চাতে ও ফায্লকে সম্মুখে উপবিষ্ট করেন। তবে কে তাদের মধ্যে মন্দ অথবা কে তাদের মধ্যে ভাল? [১৭৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

183

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলাম। আমার ও তাঁর মাঝে লাগামের রশি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। তিনি বললেনঃ মু‘আয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মু‘আয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর আরও কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মু‘আয ইবনু জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তুমি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহর হক এই যে, তারা একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদাত করবে, অন্য কিছুকে তাঁর অংশীদার গণ্য করবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। তারপর বললেনঃ হে মু‘আয ইবনু জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ বান্দারা যখন তাদের দায়িত্ব পালন করে, তখন আল্লাহর প্রতি বান্দার অধিকার কী, তা জান কি? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের ‘আযাব দিবেন না। [২৮৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

184

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খাইবার থেকে (মদিনায়) প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমি আবূ ত্বলহার সাওয়ারীর উপর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলাম, আর তিনি সাওয়ারী চালাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক সহধর্মিণী তাঁর সাওয়ারীর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলেন। হঠাৎ উষ্ট্রী হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আমি বললামঃ মহিলা, এরপর আমি নেমে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনি তোমাদের মা। আমি হাওদাটি শক্ত করে বেঁধে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীতে উঠলেন। যখন তিনি মদিনার নিকটবর্তী হলেন, কিংবা রাবী বলেছেন, তিনি যখন (মদিনা) দেখতে পেলেন, তখন বললেনঃ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদাতকারী, তাঁর) প্রশংসাকারী। [২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

185

‘আববাদ ইবনু তামীম এর চাচা (‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদের ভিতর চিৎ হয়ে শয়ন করতে দেখেছেন যখন তাঁর এক পা অন্য পায়ের উপর উঠানো ছিল। [৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)