19 - তাহাজ্জুদ
(وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ )وَمِنْ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ( মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আপনি রাতের এক অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য’’। (সূরাহ্ আল-ইসরা ১৭/৭৯) ১১২০. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু‘আ পড়তেন- ‘‘হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীনের নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশ ও যমীনের মালিক, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাৎ সত্য; আপনার বাণী সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; নবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ্! আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার দিকেই রুজূ‘ করলাম; আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত সত্য প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই, অথবা (অপর বর্ণনায়) আপনি ব্যতীত প্রকৃত কোন সত্য মা‘বূদ নেই। সুফইয়ান (রহ.) বলেছেন, আবূ উমাইয়্যাহ (রহ.) তাঁর বর্ণনায় وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ (বাক্যটি) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। সুফইয়ান (রহ.).....ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৬৩১৭, ৬৩৮৫, ৭৪৪২, ৭৪৯৯; মুসলিম ৬/৩, হাঃ ৭৬৯, আহমাদ ২৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আমি এ স্বপ্ন (আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসাহ (রাযি.)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। অতঃপর হাফসাহ (রাযি.) তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ ‘আবদুল্লাহ্ কতই ভাল লোক! যদি রাত জেগে সে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করত! তারপর হতে ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন। (১১৫৭, ৩৭৩৯, ৩৭৪১, ৭০১৬, ৭০২৯, ৭০৩১; মুসলিম ৪৪/৩২, হাঃ ২৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫৫ শেষাংশ)
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদে) এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সিজদা্ এত পরিমাণ করতেন যে, তোমাদের কেউ (সাজ্দাহ হতে) তাঁর মাথা তোলার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফারয) সালাতের পূর্বে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুআয্যিন আসত। (৬২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জুনদাব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে এক রাত বা দু’ রাত তিনি (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠেননি। (১১২৫, ৪৯৫০, ৪৯৫১, ৪৯৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জুনদাব ইবনু ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিন বলেন, একবার সাময়িকভাবে জিব্রীল (‘আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাযিরা হতে বিরত থাকেন। এতে জনৈকা কুরায়শ নারী বলল, তার শয়তানটি তাঁর নিকট আসতে দেরী করছে। তখন অবতীর্ণ হল- ‘‘শপথ পূর্বাহ্নের ও রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম। আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি’’- (সূরাহ্ ওয়ায্যুহা ৯৩/১-৩)। (১১২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَطَرَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ وَعَلِيًّا عَلَيْهِمَا السَّلاَم لَيْلَةً لِلصَّلاَةِ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ সালাতে উৎসাহ দানের জন্য এক রাতে ফাতিমাহ ও ‘আলী (রাযি.)-এর ঘরে গিয়েছিলেন। ১১২৬. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম হতে জেগে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্! আজ রাতে কত না ফিতনা নাযিল করা হল! আজ রাতে কতই না (রহমতের) ভান্ডার নাযিল করা হল! কে জাগিয়ে দিবে বাড়ীগুলোর লোকজনকে? ওহে! শোন, দুনিয়ার অনেক পোষাক পরিহিতা আখিরাতে উলঙ্গ হয়ে যাবে। (১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমাহ (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেনঃ তোমরা কি সালাত আদায় করছ না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের আত্মাগুলো তো আল্লাহ্ তা‘আলার হাতে রয়েছে। তিনি যখন আমাদের জাগাতে ইচ্ছা করবেন, জাগিয়ে দিবেন। আমরা যখন একথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। আমার কথার কোন জবাব দিলেন না। পরে আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে আপন উরুতে করাঘাত করছিলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন- وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً ‘‘মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়’’- (সূরাহ্ আল-কাহ্ফ ১৮/৫৪)। (৪৭২৪, ৪৭৪৭, ৭৪৬৫; মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ‘আমল করা পছন্দ করতেন, সে ‘আমল কোন কোন সময় এ আশঙ্কায় ছেড়েও দিতেন যে, সে ‘আমল লোকেরা করতে থাকবে, ফলে তাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহা সালাত আদায় করেননি।* আমি সে সালাত আদায় করি। (১১৭৭; মুসলিম ৬/১৩, হাঃ ৭১৮, আহমাদ ২৫৪১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেনঃ তোমরা যা করেছ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এ আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। এটা ছিল রমাযান মাসের ঘটনা। (৭২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَ يَقُومُ حَتَّى تَفَطَّرَ قَدَمَاهُ وَالْفُطُورُ الشُّقُوقُ انْفَطَرَتْ انْشَقَّتْ. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন, এমনকি তাঁর পদদ্বয় ফেটে যেতো। وَالْفُطُورُ অর্থ ‘ফেটে যাওয়া’ انْفَطَرَتْ ‘ফেটে গেল’। ১১৩০. মুগীরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত আদায় করতেন; এমনকি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’ পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হলে তিনি বলতেন, আমি কি একজন শুকরিয়া আদায়কারী বান্দাহ হব না? (৪৮৩৬, ৬৪৭১; মুসলিম ৫০/১৮, হাঃ ২৮১৯, আহমাদ ১৮২৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস(রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (‘আ.)-এর সালাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (‘আ.)-এর সিয়াম। তিনি [দাঊদ (‘আ.)] অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন। (১১৫২, ১১৫৩, ১৯৭৪ হতে ১৯৮০, ৩৪১৮, ৩৪২০, ৫০৫২, ৫০৫৪, ৫১৯৯, ৬১৩৪, ৬২৭৭; মুসলিম ১৩/৩৫, হাঃ ১১৫৯, আহমাদ ৬৫০১, ৬৯৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কোন্ ‘আমলটি সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল? তিনি বললেন, নিয়মিত ‘আমল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাক শুনতে পেতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৬৫) আশ‘আস (রাযি.) তাঁর বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোরগের ডাক শুনে উঠতেন এবং সালাত আদায় করতেন। (৬৪৬১, ৬৪৬২; মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আমার নিকট ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সাহরির সময় হতো। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪২, আহমাদ ২৫৭৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) সাহারী খেলেন। যখন তারা দু’ জন সাহারী শেষ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। [ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন] আমরা আনাস ইবনু মালিক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁদের সাহারী সমাপ্ত করা ও (ফজরের) সালাত শুরু করার মধ্যে কী পরিমাণ ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, কেউ পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটা সময়। (৫৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করেছিলাম। (আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন) আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী ইচ্ছে করেছিলেন? তিনি বললেন, ইচ্ছে করেছিলাম, বসে পড়ি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইক্তিদা ছেড়ে দেই। (মুসলিম ৬/২৭, হাঃ ৭৭৩, আহমাদ ৪১৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতেন তখন মিস্ওয়াক দ্বারা তাঁর মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কী? তিনি বললেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক‘আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে। (৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত ছিল তের রাক‘আত অর্থাৎ রাতে। (মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) বাদে সাত বা নয় কিংবা এগার রাক‘আত। (মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, যার ভিতর আছে বিতর এবং ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত)। (মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
الْقُرْآنَ تَرْتِيلاً إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقِيلاً إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وِطَاءً وَأَقْوَمُ قِيلاً إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلاً( وَقَوْلُهُ )عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلاَةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا( قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا نَشَأَ قَامَ بِالْحَبَشِيَّةِ وِطَاءً قَالَ مُوَاطَأَةَ الْقُرْآنِ أَشَدُّ مُوَافَقَةً لِسَمْعِهِ وَبَصَرِهِ وَقَلْبِهِ لِيُوَاطِئُوا لِيُوَافِقُوا. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হে চাদর আবৃত রাসূল! রাতে সালাতে দন্ডায়মান থাকুন সামান্য পরিমাণে রাত বাদ দিয়ে। অর্ধ রাত্রি কিংবা তার চেয়ে কিছু কম। অথবা তার চেয়ে কিছু বৃদ্ধি করুন। আর কুরআন পাঠ করুন ধীরে ধীরে, খুব স্পষ্টভাবে। অবশ্যই আমি আপনার প্রতি অচিরেই এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করছি। নিশ্চয় রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তি দলনে প্রবলতর এবং বক্তব্যের ব্যাপারে বিশেষ ক্রিয়াশীল। দিনের বেলায় তো রয়েছে আপনার বহু কাজ।’’ (সূরাহ্ মুয্যাম্মিল ৭৩/১-৭)। আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘তিনি অবগত আছেন যে, তোমরা এর যথাযথ হিসাব রাখতে পার না। অতএব, তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন। সুতরাং কুরআনের যতটুকু তোমাদের পক্ষে পাঠ করা সহজ, ততটুকু পাঠ করো। তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব, কুরআনের যতটুকু তিলাওয়াত করা সহজ, ততটুকু তোমরা তিলাওয়াত করো। আর তোমরা সালাত কায়িম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম কর্জ দাও। আর তোমরা নিজেদের মঙ্গলের জন্য যা কিছু নেক কাজ অগ্রে প্রেরণ করবে, আল্লাহর কাছে তা তোমরা পাবে তদপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরাহ্ মুয্যাম্মিল ৭৩/২০)। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, হাবশী ভাষার نَشَأَ শব্দটির অর্থ قَامَ (উঠে দাঁড়াল) আর وِطَاءً শব্দের অর্থ হল- কুরআনে অধিক অনুকূল। অর্থাৎ তাঁর কান, চোখ এবং হৃদয়ের অধিক অনুকূল এবং তাই তা কুরআনের মর্ম অনুধাবনে অধিকতর উপযোগী। لِيُوَاطِئُوا শব্দের অর্থ হল ‘যাতে তারা সামঞ্জস্য বিধান করতে পারে’। ১১৪১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতেন না। এমন কি আমরা ধারণা করতাম যে, সে মাসে তিনি সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতে থাকতেন, এমন কি আমাদের ধারণা হত যে, সে মাসে তিনি সিয়াম ছাড়বেন না। তাঁকে তুমি সালাত রত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাই দেখতে পেতে এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেতে। সুলাইমান ও আবূ খালিদ আহ্মার (রহ.) হুমায়দ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনু জা‘ফার (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৯৭২, ১৯৭৩, ৩৫৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, অতঃপর সালাত আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলূষ কালিমা ও আলস্য সহকারে। (৩২৬৯; মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৬, আহমাদ ৭৩১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭১. , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে।* (৮৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭২. , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক ব্যক্তির ব্যাপারে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাতের জন্য জাগ্রত হয়নি, তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইরশাদ করলেনঃ শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে। (৩২৭০; মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(وَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ )كَانُوا قَلِيلاً مِنْ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ( أَيْ مَا يَنَامُونَ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ. আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ ‘‘রাতের সামান্য পরিমাণ তাঁরা নিদ্রারত থাকেন, শেষ রাতে তাঁরা ইসতিগফার করেন।’’ (সূরাহ্ আয্-যারিয়াত ৫১/১৮) ১১৪৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (৬৩২১, ৭৪৯৪; মুসলিম ৬/২৩, হাঃ ৭৫৮, আহমাদ ৭৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ سَلْمَانُ لِأَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا نَمْ فَلَمَّا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ قَالَ قُمْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَ سَلْمَانُ. সালমান (রাযি.) আবূ দারদা (রাযি.)-কে (রাতের প্রথমাংশে) বললেন, (এখন) ঘুমিয়ে পড়, শেষ রাত হলে তিনি বললেন, (এখন) উঠে পড়। (বিষয়টি অবগত হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সালমান যথার্থ বলেছে। ১১৪৬. আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বলেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআয্যিন আযান দিলে শীঘ্র উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, নইলে উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন। (মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৯, আহমাদ ২৬২১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমাযান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাক‘আত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (একদা) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতরের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। (২০১৩, ৩৫৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের কোন সালাতে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে কিরা‘আত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি বসে কিরা‘আত পড়তেন। যখন (পঠিত) সূরাহর ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সেগুলো পড়ার পর রুকূ‘ করতেন। (১১১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ফজরের সালাতের সময় বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক সন্তুষ্টিব্যঞ্জক যে ‘আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে (মি’রাজের রাতে) আমি আমার সামনে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল (রাযি.) বললেন, আমার নিকট এর চেয়ে (অধিক) সন্তুষ্টিব্যঞ্জক হয় এমন কিছুতো আমি করিনি। দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাক্দীরে লেখা ছিল। (মুসলিম ৪৪/২১, হাঃ ২৪৫৮, আহমাদ ৯৬৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, দু’টি স্তম্ভের মাঝে একটি রশি টাঙানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ রশিটি কী কাজের জন্য? লোকেরা বললো, এটি যায়নাবের রশি, তিনি (‘ইবাদাত করতে করতে) অবসন্ন হয়ে পড়লে এটির সাথে নিজেকে বেঁধে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ না, ওটা খুলে ফেল। তোমাদের কারো প্রাণবন্ত থাকা পর্যন্ত ইবাদাত করা উচিত। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে বসে পড়ে। (মুসলিম ৬/৩১, হাঃ ৭৮৪, আহমাদ ১১৯৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ আসাদের এক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলাটি কে? আমি বললাম, অমুক। তিনি রাতে ঘুমান না। তখন তাঁর সালাতের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেনঃ রাখ রাখ। সাধ্যানুযায়ী ‘আমল করতে থাকাই তোমাদের কর্তব্য। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা (সাওয়াব দানে) ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়। (৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৮৪ শেষাংশ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল আ‘স (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ্! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ‘ইবাদাত করত, পরে রাত জেগে ‘ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। আবূ সালামাহ (রাযি.) হতেও এ রকম বর্ণিত আছে। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবুল ‘আব্বাস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি রাত ভর ‘ইবাদাতে জেগে থাক আর দিনভর সিয়াম পালন কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা আমি করে থাকি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ একথা নিশ্চিত যে, তুমি এমন করতে থাকলে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তোমার দেহের অধিকার রয়েছে, তোমার পরিবার পরিজনেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই তুমি সিয়াম পালন করবে এবং বাদও দেবে। রাতে জেগে ‘ইবাদাত করবে এবং ঘুমাবেও। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে জেগে ওঠে (উপরোক্ত) দু‘আ পড়ে- (দু‘আর অর্থ) ‘‘এক আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হাম্দ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ্ মহান, গুনাহ হতে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত।’’ অতঃপর বলে, ‘‘হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন।’’ বা (অন্য কোন) দু‘আ করে, তাঁর দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর উযূ করে (সালাত আদায় করলে) তার সালাত কবূল করা হয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হায়সাম ইবনু আবূ সিনান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) তাঁর ওয়ায বর্ণনাকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমাদের এক ভাই অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাযি.) অনর্থক কথা বলেননি।* ‘‘আর আমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল, যিনি তিলাওয়াত করেন তাঁর (আল্লাহর) কিতাব, যখন ফজরের আলো উদ্ভাসিত হয়। তিনি আমাদের গোমরাহীর পর হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন, তাই আমাদের অন্তরগুলো তাঁর প্রতি এ বিশ্বাস রাখে যে যা তিনি বলেছেন তা অবশ্যই সত্য। তিনি রাত যাপন করেন পার্শ্বদেশকে শয্যা হতে দূরে সরিয়ে রেখে, যখন মুশরিকরা থাকে আপন শয্যাসমূহে নিদ্রামগ্ন।’’ আর ‘উকায়ল (রহ.) ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। যুবাইদী (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রেও তা বর্ণনা করেছেন। (৬১৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (তাঁদের দেখা) স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন। লাইলাতুল কদর রমাযানের শেষ দশকের সপ্তম রাতে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, (লাইলাতুল কদর শেষ দশকে হবার ব্যাপারে) তোমাদের স্বপ্নগুলোর মধ্যে পরস্পর মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা শেষ দশকে অনুসন্ধান করে। (২০১৫, ৬৯৯১; মুসলিম ৪৪/৩১, হাঃ ২৪৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৪ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আট রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং দু’রাক‘আত আদায় করেন বসে। আর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেন আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)-এর মাঝে। এ দু’রাক‘আত তিনি কখনো পরিত্যাগ করতেন না। (৬১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করার পর ডান কাতে শয়ন করতেন। (৬২৬; মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৬, আহমাদ ২৫১৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সুন্নাত) সালাত আদায় করার পর আমি জেগে থাকলে, তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন, নতুবা সালাতের সময় হওয়া সম্পর্কে অবগত করানো পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন। (১১১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের) দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন, নইলে (ডান) কাতে শয়ন করতেন। (বর্ণনাকারী ‘আলী বলেন), আমি সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কেউ এ হাদীসে (দু’রাক‘আত স্থলে) ফজরের দু‘ রাক‘আত রিওয়ায়াত করে থাকেন। (এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?) সুফ্ইয়ান (রহ.) বললেন, এটা তা-ই। (১১১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না। (মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর সকালে আযান শোনার পর সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। (৬২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত (সুন্নাত) এত সংক্ষিপ্ত করতেন এমনকি আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি (শুধু) উম্মুল কিতাব (সূরাহ্ ফাতিহা) তিলাওয়াত করলেন? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ مُحَمَّدٌ وَيُذْكَرُ ذَلِكَ عَنْ عَمَّارٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَأَنَسٍ وَجَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَعِكْرِمَةَ وَالزُّهْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ مَا أَدْرَكْتُ فُقَهَاءَ أَرْضِنَا إِلاَّ يُسَلِّمُونَ فِي كُلِّ اثْنَتَيْنِ مِنْ النَّهَارِ মুহাম্মাদ ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, বিষয়টি আম্মার আবূ যার, আনাস, জাবির ইবনু যায়দ (রাযি.) এবং ‘ইকরিমাহ ও যুহরী (রহ.) হতেও উল্লিখিত হয়েছে। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ আনসারী (রহ.) বলেছেন, আমাদের শহরের (মদিনার) ফকীহ্গণকে দিনের সালাতে প্রতি দু‘রাক‘আত শেষে সালাম ফিরাতেতে দেখেছি। ১১৬২. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সব কাজে ইস্তিখারাহ্* শিক্ষা দিতেন। যেমন পবিত্র কুরআনের সূরাহ্ আমাদের শিখাতেন। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরজ নয় এমন দু’রাক‘আত সালাত আদায় করার পর এ দু’আ পড়েঃ ‘‘প্রভু হে! আমি তোমার জ্ঞানের ওয়াসিলাহ্তে তোমার অনুমতি কামনা করছি; তোমার কুদরতের ওয়াসিলায় শক্তি চাচ্ছি আর তোমার অপার করুণা ভিক্ষা করছি। কারণ তুমিই সর্বশক্তিমান আর আমি দুর্বল। তুমিই জ্ঞানী আর আমি অজ্ঞ এবং তুমিই সর্বজ্ঞ। প্রভু হে! তুমি যদি মনে কর যে, এই জিনিসটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায়, ইহকালে ও পরকালে সত্বর কিংবা বিলম্বে আমার পক্ষে মঙ্গলজনক হবে তা হলে আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দাও এবং তার প্রাপ্তি আমার জন্য সহজতর করে দাও। অতঃপর তুমি তাতে বারাকাত দাও। আর যদি তুমি মনে কর এই জিনিসটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায় ইহকালে ও পরকালে আমার জন্য ক্ষতিকর হবে শীঘ্র কিংবা বিলম্বে তাহলে তুমি তাকে আমা হতে দূর করে দাও এবং আমাকে তা হতে দূরে রাখো; অতঃপর তুমি আমার জন্য যা মঙ্গলজনক তা ব্যবস্থা কর- সেটা যেখান থেকেই হোক না কেন এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্টচিত্ত করে তোল।’’ তিনি ইরশাদ করেন هَذَا الْأَمْرَ তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে। (৬৩৮২, ৭৩৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ কাতাদাহ ইবনু রিব’আ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাক‘আত সালাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) আদায় করার পূর্বে বসবে না। (৪৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইব্নু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, তারপর চলে গেলেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুহরের পূর্বে দু’রাক‘আত, যুহরের পরে দু’রাক‘আত, জুমু‘আর পরে দু’রাক‘আত, মাগরিবের পরে দু’রাক‘আত এবং ‘ইশার পরে দু’রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করেছি। (৯৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুৎবাহ প্রদানকালে ইরশাদ করলেনঃ তোমরা কেউ এমন সময় মসজিদে উপস্থিত হলে, যখন ইমাম (জুমু‘আহর) খুৎবা দিচ্ছেন, কিংবা মিম্বরে আরোহণের জন্য (হুজরাহ হতে) বেরিয়ে পড়েছেন, তাহলে সে তখন যেন দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। (৯৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর বাড়িতে এসে তাঁকে খবর দিল, এইমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা শরীফে প্রবেশ করলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, আমি অগ্রসর হলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘর হতে বের হয়ে পড়েছেন। বিলাল (রাযি.) দরজার নিকট দাঁড়িয়ে আছেন। আমি বললাম, হে বিলাল! রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন স্থানে? তিনি বললেন, দু’স্তম্ভের মাঝখানে।* তারপর তিনি বেরিয়ে এসে কা‘বার সামনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৩৯৭) ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দু’রাক‘আত সালাতুয্ যুহা (চাশ্ত-এর সালাত)-এর আদেশ করেছেন। ইতবান (ইব্নু মালিক আনসারী) (রাযি.) বলেন, একদা অনেকটা বেলা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাক্র এবং ‘উমার (রাযি.) আমার এখানে আসলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারে দাঁড়ালাম আর তিনি (আমাদের নিয়ে) দু’রাক‘আত সালাত (চাশ্ত) আদায় করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরও বলেন, আমার বোন (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসাহ (রাযি.) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হবার পর সংক্ষিপ্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। (ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন,) এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন আমরা কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হতাম না। ইবনু আবু যিনাদ (রহ.) বলেছেন, মূসা ইবনু ‘উক্বাহ (রাযি.) নাফি‘ (রহ.) হতে ‘ইশার পরে তাঁর পরিজনের মধ্যে কথাটি বর্ণনা করেছেন। (৬১৮; মুসলিম ৬/১৫, হাঃ ৭২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১০৩ শেষাংশ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আট রাক‘আত একত্রে (যুহর ও ‘আসরের) এবং সাত রাক‘আত একত্রে (মাগরিব-‘ইশার) সালাত আদায় করেছি। (সে ক্ষেত্রে সুন্নাত আদায় করা হয়নি।) ‘আমর (রহ.) বলেন, আমি বললাম, হে আবুশ্ শা’সা! আমার ধারণা, তিনি যুহর শেষ ওয়াক্তে এবং আসর প্রথম ওয়াক্তে আর ‘ইশা প্রথম ওয়াক্তে ও মাগরিব শেষ ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমিও তাই মনে করি। (৫৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুওয়াররিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি যুহা সালাত আদায় করে থাকেন? তিনি বললেন, না। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘উমার (রাযি.) তা আদায় করতেন কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, আবূ বাকর (রাযি.)? তিনি বললেন, না। আমি প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বললেন, আমি তা মনে করি না। (৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হানী (রাযি.) ব্যতীত অন্য কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চাশ্তের সালাত আদায় করতে দেখেছেন, এমন আমাদের নিকট কেউ বর্ণনা করেননি। তিনি উম্মে হানী (রাযি.) অবশ্য বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন (পূর্বাহ্নে) তাঁর ঘরে গিয়ে গোসল করেছেন। (তিনি বলেছেন) যে, আমি আর কখনো (তাঁর) অনুরূপ সংক্ষিপ্ত সালাত দেখিনি। তবে কিরা‘আত ছাড়া তিনি রুকূ‘ ও সিজদা্ পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করছিলেন। (১১০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যুহা-এর সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি। তবে আমি তা আদায় করে থাকি। (১১২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَهُ عِتْبَانُ بْنُ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. ‘ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উল্লেখ করেছেন। ১১৭৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খলীল ও বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যাত (বিশেষ আদেশ) করেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত তা আমি পরিত্যাগ করব না। (তা হল) (১) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম, (২) সালাতুয্-যুহা এবং (৩) বিতর (সালাত) আদায় করে শয়ন করা। (১৯৮১; মুসলিম ৬/১৩, হাঃ ৭২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক স্থুল দেহ বিশিষ্ট আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয্ করলেন, আমি আপনার সঙ্গে (জামা‘আতে) সালাত আদায় করতে পারি না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উদ্দেশে খাবার তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত করে নিজ বাড়িতে নিয়ে এলেন এবং একটি চাটাই এর এক অংশে (কোমল ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশে) পানি ছিটিয়ে (তা বিছিয়ে) দিলেন। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর উপরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। ইবনু জারূদ (রহ.) আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশ্ত-এর সালাত আদায় করতেন? আনাস (রাযি.) বললেন, সেদিন বাদে অন্য সময়ে তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। (৬৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল মু’মিনীন হাফসাহ (রাযি.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুআয্যিন আযান দিতেন এবং ফজর উদিত হত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১১০ শেষাংশ)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত এবং (ফজরের পূর্বে) দু’রাক‘আত সালাত ছাড়তেন না। ইবনু আবূ আদী ও ‘আমর (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ইয়াহ্ইয়া (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (মুসলিম ৬/১৩, হাঃ ৭৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা মাগরিবের (ফরযের) পূর্বে (নফল) সালাত আদায় করবে; লোকেরা এ ‘আমলকে সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, এটা কারণে তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ এ তার জন্য যে ইচ্ছা করে। (৭৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইয়াযানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উকবাহ ইবনু জুহানী (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বললাম, আবূ তামীম (রহ.) সম্পর্কে এ কথা বলে কি আমি আপনাকে বিস্মিত করে দিব না যে, তিনি মাগরিবের (ফরয) সালাতের পূর্বে দু’ রাক‘আত (নফল) সালাত আদায় করে থাকেন। ‘উক্বাহ (রাযি.) বললেন, (এতে বিস্ময়ের কী আছে?) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে তো আমরা তা আদায় করতাম। আমি প্রশ্ন করলাম, তা হলে এখন কিসে আপনাকে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, কাজকর্মের ব্যস্ততা। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাহমূদ (রহ.) বলেন যে, ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.)-কে (যিনি ছিলেন বদর জিহাদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উপস্থিত বদরী সাহাবীগণের অন্যতম) বলতে শুনেছেন যে, আমি আমার কাওম বনূ সালিমের সালাতে ইমামাত করতাম। আমার ও তাদের (কাওমের মসজিদের) মধ্যে ছিল একটি উপত্যকা। বৃষ্টি হলে উপত্যকা আমার মাসজিদ গমনে বাধা সৃষ্টি করতো এবং এ উপত্যকা অতিক্রম করে তাদের মসজিদে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর হতো। তাই আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হয়ে আরয করলাম, (হে আল্লাহর রাসূল!) আমি আমার দৃষ্টিশক্তির কমতি অনুভব করছি (উপরন্তু) আমার ও আমার গোত্রের মধ্যকার উপত্যকাটি বৃষ্টি হলে প্লাবিত হয়ে যায়। তখন তা পার হওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই আমার একান্ত আশা যে আপনি শুভাগমন করে আমার ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করবেন; আমি সে স্থানটিকে সালাতের স্থানরূপে নির্ধারিত করে নিব। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শীঘ্রই তা করবো। পরের দিন সূর্যের উত্তাপ যখন বেড়ে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযি.) আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রবেশের) অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে স্বাগত জানালাম, তিনি উপবেশন না করেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরের কোন্ জায়গায় আমার সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর? যে স্থানে সালাত আদায় করা আমার মনঃপূত ছিল, তাঁকে আমি সে স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন, আমরা সারিবদ্ধভাবে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তাঁর সালাম ফেরানোর সময় আমরাও সালাম ফিরালাম। অতঃপর তাঁর উদ্দেশে যে খাযীরা প্রস্তুত করা হচ্ছিল তা আহারের জন্য তাঁর প্রত্যাগমনে আমি বিলম্ব ঘটালাম। ইতিমধ্যে মহল্লার লোকেরা আমার বাড়িতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অবস্থানের সংবাদ শুনতে পেয়ে তাঁদের কিছু লোক এসে গেলেন। এমন কি আমার ঘরে অনেক লোকের সমাগম ঘটলো। তাঁদের একজন বললেন, মালিক (ইবনু দুখায়শিন) করল কী? তাকে দেখছি না যে? তাঁদের একজন জবাব দিলেন, সে মুনাফিক! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ এমন কথা বলবে না। তুমি কি লক্ষ্য করছ না যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করেছে। সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তবে আল্লাহর কসম! আমরা মুনাফিকদের সাথেই তার ভালবাসা ও আলাপ-আলোচনা দেখতে পাই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা সে ব্যক্তিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করে। মাহমূদ (রাযি.) বলেন, এক যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদল লোকের নিকট বর্ণনা করলাম তাঁদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী আবূ আইয়ুব (আনসারী) (রাযি.) ছিলেন। তিনি সে যুদ্ধে ওফাত পেয়েছিলেন। আর ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া (রাযি.) রোমানদের দেশে তাদের আমীর ছিলেন। আবূ আইয়ুব (রাযি.) আমার বর্ণিত হাদীসটি অস্বীকার করে বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি যে কথা বলেছ তা যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। ফলে তা আমার নিকট ভারী মনে হল। তখন আমি আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করলাম যে, যদি এ যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি আমাকে নিরাপদ রাখেন, তাহলে আমি ইত্বান ইবনু মালিক (রাযি.)-কে তাঁর কাউমের মসজিদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো, যদি তাঁকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে যাই। অতঃপর আমি ফিরে চললাম এবং হাজ্জ কিংবা উমরার নিয়্যাতে ইহরাম করলাম। অতঃপর সফর করতে করতে আমি মদিনা্য় উপনীত হয়ে বনূ সালিম গোত্রে উপস্থিত হলাম। দেখতে পেলাম ‘ইত্বান (রাযি.) যিনি তখন একজন বৃদ্ধ ও অন্ধ ব্যক্তি কাউমের সালাতে ইমামাত করছেন। তিনি সালাত সমাপ্ত করলে আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং আমার পরিচয় দিয়ে উক্ত হাদীস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি প্রথমবারের মতই হাদীসটি আমাকে শুনালেন। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু কিছু সালাত তোমাদের ঘরে আদায় করবে, তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানাবে না। ‘আবদুল ওহ্হাব (রহ.) আইউব (রাযি.) হতে হাদীস বর্ণনায় ওয়াহ্ব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)