8 - সালাত
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ فِي حَدِيثِ هِرَقْلَ فَقَالَ يَأْمُرُنَا يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেনঃ আমার নিকট আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাযি.) হিরাকল-এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি এ কথা বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন। ৩৪৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ যার (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হ’ল। অতঃপর জিবরীল (‘আঃ) অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিব্রীল (‘আ.) আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ আমি জিব্রীল (‘আ.)। (আকাশের রক্ষক) বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিব্রীল বললেনঃ হাঁ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হাঁ। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নবী ও সৎ সন্তান। আমি (রাসূলুল্লাহ) জিব্রীল (‘আ.)-কে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম (‘আ.)। আর তার ডানে বামে রয়েছে তাঁর সন্তানদের রূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিব্রীল (‘আ.) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আবূ যার (রাযি.) উল্লেখ করেন যে, তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা, ‘ঈসা এবং ইব্রাহীম (‘আলাইহিমুস্ সালাম)-কে পান। কিন্তু আবূ যার (রাযি.) তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আদম (‘আ.)-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহীম (‘আ.)-কে ষষ্ঠ আসমানে পান। আনাস (রাযি.) বলেনঃ জিব্রীল (‘আ.) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ইদরীস (‘আ.)এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদ্রীস (‘আ.) বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নবী। আমি (রাসূলুল্লাহ) বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইদ্রীস (‘আ.)। অতঃপর আমি মূসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি মূসা (‘আ.)। অতঃপর আমি ‘ঈসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ‘ঈসা (‘আ.)। অতঃপর আমি ইব্রাহীম (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে পুণ্যবান নবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (‘আ.) বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম (‘আ.)। ইবনু শিহাব বলেনঃ ইবনু হাযম (রহ.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ হাববা আল-আনসারী উভয়ে বলতেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইবনু হায্ম ও আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আপনার উম্মাতের উপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা‘আলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (‘আ)-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হলো। আবারও মূসা (‘আ)-এর নিকট গেলাম, এবারও তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (নেকির দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা (‘আ)-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেনঃ আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললামঃ পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিব্রীল (‘আ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা* পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তাৎপর্য আমি অবগত ছিলাম না। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী। (১৬৩৬, ৩৩৪২; মুসলিম ১/৭৪, হাঃ ১৬৩, আহমাদ ২১১৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মুকীম অবস্থায় ও সফরে দু’ রাক‘আত করে সালাত ফরজ করেছিলেন। পরে সফরের সালাত আগের মত রাখা হয় আর মুকীম অবস্থার সালাত বাড়িয়ে দেয়া হয়। (১০৯০, ৩৯৩৫; মুসলিম ৬/১, হাঃ ৬৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ). وَمَنْ صَلَّى مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে’’- (সূরাহ্ আরাফ ৭/৩১)। এবং এক বস্ত্র শরীরে জড়িয়ে সালাত আদায়কারী প্রসঙ্গ। وَيُذْكَرُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَزُرُّهُ وَلَوْ بِشَوْكَةٍ». فِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ، وَمَنْ صَلَّى فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُجَامِعُ فِيهِ مَا لَمْ يَرَ أَذًى، وَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لاَ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ. সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জামায় বোতাম লাগিয়ে নাও এমন কি কাঁটা দিয়ে হলেও। এই হাদীসের সনদ সম্পর্কে কথা আছে। যে কাপড় পরে স্ত্রী সহবাস করা হয়েছে তাতে কোন অপবিত্রতা দেখা না গেলে তা পরিধান করে সালাত আদায় করা যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, উলঙ্গ অবস্থায় যেন কেউ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে। ৩৫১. উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে রিওয়ায়াত হয়েছে , তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিবসে ঋতুমতী এবং পর্দানশীন নারীদের বের করে আনার আদেশ দিলেন, যাতে তারা মুসলিমদের জামা‘আত ও দু‘আয় অংশ গ্রহণ করতে পারে। অবশ্য ঋতুমতী নারীগণ সালাতের জায়গা হতে দূরে অবস্থান করবে। এক মহিলা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো ওড়না নেই। তিনি বললেনঃ তার সাথীর উচিত তাকে নিজের ওড়না পরিয়ে দেয়া। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৪) ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাজা’ (রহ.) সূত্রে উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ বলতে শুনেছি।
وَقَالَ أَبُو حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ صَلَّوْا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَاقِدِي أُزْرِهِمْ عَلَى عَوَاتِقِهِمْ. আবূ হাযিম (রহ.) সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, সহাবায়ে কিরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তহবন্দ কাঁধে বেঁধে সালাত আদায় করেছিলেন। ৩৫২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) হতে রিওয়ায়াত হয়েছে, তিনি বলেনঃ একদা জাবির (রাযি.) কাঁধে লুঙ্গি বেঁধে সালাত আদায় করেন। আর তাঁর কাপড় (জামা) আলনায় রাখা ছিল। তখন তাঁকে এক ব্যক্তি বললোঃ আপনি যে এক লুঙ্গি পরে সালাত আদায় করলেন? তিনি জবাবে বললেনঃ তোমার মত আহাম্মকদের দেখানোর জন্য আমি এমন করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে আমাদের কার দু’টো কাপড় ছিল? (৩৫৩, ৩৬১, ৩৭০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৩৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (৩৫২; মুসলিম, ৪/৫২, হাঃ ৫১৮, আহমাদ ১৫১৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ الزُّهْرِيُّ فِي حَدِيثِهِ الْمُلْتَحِفُ الْمُتَوَشِّحُ وَهُوَ الْمُخَالِفُ بَيْنَ طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ وَهُوَ الِاشْتِمَالُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ قَالَ قَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ الْتَحَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِثَوْبٍ وَخَالَفَ بَيْنَ طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ. যুহরী (রহ.) তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, الْمُلْتَحِفُ -এর অর্থ الْمُتَوَشِّحُ অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যে চাদরের উভয় অংশ বিপরীত কাঁধে রাখে। এভাবে উভয় কাঁধের উপর চাদর রাখাকে ইশতিমাল বলে। উম্মু হানী (রাযি.) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মাত্র চাদর গায়ে দিলেন এবং তিনি চাদরের উভয় প্রান্ত বিপরীত কাঁধে রাখলেন। ৩৫৪. ‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করেছেন, যার উভয় প্রান্ত বিপরীত দিকে রেখেছিলেন। (৩৫৫, ৩৫৬; মুসলিম ৪/৫২, হাঃ ৫১৭, আহমাদ ২৭৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর ঘরে একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] সে কাপড়ের উভয় প্রান্ত নিজের উভয় কাঁধে রেখেছিলেন। (৩৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি মাত্র পোষাক জড়িয়ে উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর ঘরে সালাত আদায় করতে দেখেছি, যার প্রান্তদ্বয় তাঁর দুই কাঁধের উপর রেখেছিলেন। (৩৫৪; মুসলিম ৪/৫২, হাঃ ৫১৭, আহমাদ ১৬৩৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাযি.) বলেনঃ আমি ফত্হে মক্কার বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে দেখলাম যে, তিনি গোসল করছেন আর তাঁর মেয়ে ফাতিমাহ (রাযি.) তাঁকে আড়াল করে রেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে সালাম প্রদান করলাম। তিনি জানতে চাইলেনঃ এ কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব। তিনি বললেনঃ মারহাবা, হে উম্মু হানী! গোসল শেষ করে তিনি এক কাপড় জড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাত সমাধা করলে তাঁকে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই [‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)] এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে চায়, অথচ আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সে ব্যক্তিটি হুবায়রার ছেলে অমুক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মু হানী (রাযি.) বলেনঃ এ সময় ছিল চাশতের ওয়াক্ত। (২৮০; মুসলিম ৩/১৬, হাঃ ৩৩৬, আহমাদ ২৬৯৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি কাপড়ে সালাত আদায়ের মাসআলাহ জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’টি করে কাপড় আছে? (৩৬৫; মুসলিম ৪/৫২, হাঃ ৫১৫, আহমাদ ৭১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন সালাত আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোন অংশ নেই। (৩৬০; মুসলিম ৪/৫২, হাঃ ৫১৬, আহমাদ ৭৩১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এক কাপড়ে সালাত আদায় করে, সে যেন কাপড়ের দু’ প্রান্ত বিপরীত পাশে রাখে। (৩৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম। এক রাতে আমি কোন দরকারে তাঁর নিকট গেলাম। দেখলাম, তিনি সালাতে রত আছেন। তখন আমার শরীরে মাত্র একখানা কাপড় ছিল। আমি কাপড় দিয়ে শরীর জড়িয়ে নিলাম আর তাঁর পার্শ্বে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি সালাত শেষ করে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! রাতের বেলা আসার কারণ কী? তখন আমি তাঁকে আমার প্রয়োজনের কথা জানালাম। আমার কাজ শেষ হলে তিনি বললেনঃ এ কিরূপ জড়ানো অবস্থায় তোমাকে দেখলাম? আমি বললামঃ কাপড় একটিই ছিল (তাই এভাবে করেছি)। তিনি বললেনঃ কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। আর যদি ছোট হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে। (৩৫২; মুসলিম ৫৩/১৮, হাঃ ৩০১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা শিশুদের মত নিজেদের লুঙ্গি কাঁধে বেঁধে সালাত আদায় করতেন। আর মহিলাদের প্রতি নির্দেশ ছিল যে, তারা যেন পুরুষদের ঠিকমত বসে যাওয়ার পূর্বে সিজদা হতে মাথা না উঠায়। (৮১৪, ১২১৫; মুসলিম ৪/২৯, হাঃ৪৪১, আহমাদ ১৫৫৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ الْحَسَنُ فِي الثِّيَابِ يَنْسُجُهَا الْمَجُوسِيُّ لَمْ يَرَ بِهَا بَأْسًا وَقَالَ مَعْمَرٌ رَأَيْتُ الزُّهْرِيَّ يَلْبَسُ مِنْ ثِيَابِ الْيَمَنِ مَا صُبِغَ بِالْبَوْلِ وَصَلَّى عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فِي ثَوْبٍ غَيْرِ مَقْصُورٍ. হাসান (রহ.) বলেনঃ মাজূসী (অগ্নিপূজক)-দের বানানো পোষাকে সালাত আদায় করায় কোন অসুবিধা নেই। আর মা‘মার (রহ.) বলেনঃ আমি যুহরী (রহ.)-কে ইয়ামান দেশীয় তৈরি কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, যা পেশাবের দ্বারা রঞ্জিত ছিল। ‘আলী (রাযি.) আধোয়া নতুন কাপড়ে সালাত আদায় করেছেন। ৩৬৩. মুগীরাহ ইবনু শু‘বা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে মুগীরাহ! বদনাটি নাও। আমি তা নিলাম। তিনি আমার দৃষ্টির অগোচরে গিয়ে প্রয়োজন সারলেন। তখন তাঁর শরীরে ছিল শামী জুববা। তিনি জুববার আস্তিন হতে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন সংকীর্ণ হবার ফলে তিনি নীচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন। আমি পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। আর তাঁর উভয় মোজার উপর মাস্হ করলেন ও পরে সালাত আদায় করলেন। (১৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নবুওয়াতের পূর্বে) কুরাইশদের সাথে কা‘বার (মেরামতের) জন্যে পাথর তুলে দিচ্ছিলেন। তাঁর পরিধানে ছিল লুঙ্গি। তাঁর চাচা ‘আব্বাস (রাযি.) তাঁকে বললেনঃ ভাতিজা! তুমি লুঙ্গি খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখলে ভাল হ’ত। জাবির (রাযি.) বলেনঃ তিনি লুঙ্গি খুলে কাঁধে রাখলেন এবং তৎক্ষণাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। এরপর তাঁকে আর কখনো নগ্ন অবস্থায় দেখা যায়নি। (১৫৮২, ৩৮২৯; মুসলিম ৩/১৯, হাঃ ৩৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট দাঁড়িয়ে এক কাপড়ে সালাত আদায়ের হুকুম জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের নিকট কি দু’খানা করে কাপড় আছে? অতঃপর এক ব্যক্তি ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ যখন তোমাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তখন তোমরাও নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশ কর। লোকেরা যেন পুরো পোশাক একত্রে পরিধান করে অর্থাৎ মানুষ লুঙ্গি ও চাদর, লুঙ্গি ও জামা, লুঙ্গি ও কাবা*, পায়জামা ও চাদর, পায়জামা ও জামা, পায়জামা ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও জামা পরে সালাত আদায় করে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন যে, আমার মনে হয় ‘উমার (রাযি.) জাঙ্গিয়া ও চাদরের কথাও বলেছিলেন। (৩৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, ইহরামকারী কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, সে জামা পরবে না, পায়জামা পরবে না, টুপি পরবে না, যাফরান বা ওয়ার্স রঙের রঞ্জিত কাপড় পরবে না। আর জুতা না পেলে মোজা পরবে। তবে তা কর্তন করে পায়ের গিরার নীচ পর্যন্ত নেবে। নাফি‘ (রহ.), ইবনু ‘উমার (রাযি.)-সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে রিওয়ায়াত হয়েছে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশতিমালে সম্মা (১) এবং এক কাপড়ে ইয়াহতিবা (২) করতে নিষেধ করেছেন যাতে তার লজ্জাস্থানে কাপড়ের কোন অংশ না থাকে। (১৯৯১, ২১৪৪, ২১৪৭, ৫৮২০, ৫৮২২, ৬২৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তা হল লিমাস (৩) ও নিবায (৪) আর ইশতিমালে সাম্মা এবং এক কাপড়ে ইহতিবা করতে নিষেধ করেছেন। (৫৮৪, ৫৮৮, ১৯৯৩, ২১৪৫, ২১৪৬, ৫৮১৯, ৫৮২১ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আবূ বাকর (রাযি.) [যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ হতে তাঁকে হাজ্জের আমীর বানানো হয়েছিল] কুরবানীর দিন ঘোষকদের সাথে মিনায় এ ঘোষণা করার জন্যে পাঠালেন যে, এ বছরের পরে কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হাজ্জ করতে পারবে না। আর কোন উলঙ্গ লোকও বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযি.)-কে আবূ বাকর (রাযি.)-এর পেছনে প্রেরণ করেন আর তাঁকে সূরাহ্ বারা‘আতের (প্রথম অংশের) ঘোষণা করার নির্দেশ দেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেনঃ তখন আমাদের সঙ্গে ‘আলী (রাযি.) কুরবানীর দিন মিনায় ঘোষণা দেন যে, এ বছরের পর হতে আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও আর ত্বওয়াফ করতে পারবে না। (১৬২২, ৩১৭৭, ৪৩৬৩, ৪৬৫৫, ৪৬৫৬, ৪৬৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি একটি মাত্র কাপড় নিজের শরীরে জড়িয়ে সালাত আদায় করছেন অথচ তাঁর একটা চাদর সেখানে রাখা ছিল। সালাতের পর আমরা বললামঃ হে আবূ ‘আবদুল্লাহ। আপনি সালাত আদায় করছেন, অথচ আপনার চাদর তুলে রেখেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তোমাদের মত নির্বোধদের দেখানোর জন্যে আমি এমন করেছি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (৩৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَيُرْوَى عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَجَرْهَدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ جَحْشٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْفَخِذُ عَوْرَةٌ وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ حَسَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَخِذِهِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ أَنَسٍ أَسْنَدُ وَحَدِيثُ جَرْهَدٍ أَحْوَطُ حَتَّى يُخْرَجَ مِنْ اخْتِلَافِهِمْ وَقَالَ أَبُو مُوسَى غَطَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رُكْبَتَيْهِ حِينَ دَخَلَ عُثْمَانُ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَنْزَلَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى خِفْتُ أَنْ تَرُضَّ فَخِذِي. ইবনু ‘আব্বাস, জারহাদ ও মুহাম্মাদ ইবনু জাহশ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, ঊরু সতরের অন্তর্ভুক্ত। আর আনাস (রাযি.) বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঊরু হতে কাপড় সরিয়েছিলেন (আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী [র] বলেন) সনদের দিক হতে আনাস (রাযি.)-এর হাদীস অধিক সহীহ্ আর জারহাদ (রাযি.)-এর হাদীস অধিকতর সতর্কতামূলক। এভাবেই আমরা (উম্মতের মধ্যে) মতবিরোধ এড়াতে পারি। আর আবূ মূসা (রাযি.) বলেছেনঃ ‘উসমান (রাযি.)-এর আগমনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাঁটু ঢেকে নেন। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাযি.) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওহী নাযিল করেছেন এমন অবস্থায় যখন তাঁর ঊরু ছিল আমার ঊরুর উপর। আমার নিকট তাঁর ঊরু এত ভারী বোধ হচ্ছিল যে, আমি আশংকা করছিলাম, হয়ত ঊরুর হাড় ভেঙ্গে যাবে। ৩৭১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার অভিযানে বের হয়েছিলেন। সেখানে আমরা খুব ভোরে ফজরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন। আবূ তালহা (রাযি.)-ও সওয়ার হলেন, আর আমি আবূ তালহার পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীকে খায়বরের পথে চালিত করলেন। আমার হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরুতে লাগছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরু হতে ইযার সরে গেল। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরুর উজ্জ্বলতা যেন এখনো আমি দেখছি। তিনি যখন নগরে প্রবেশ করলেন তখন বললেনঃ আল্লাহু আকবার। খায়বর ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কওমের প্রাঙ্গণে অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর হবে কতই না মন্দ! এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। আনাস (রাযি.) বলেনঃ খায়বারের অধিবাসীরা নিজেদের কাজে বেরিয়েছিল। তারা বলে উঠলঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেনঃ আমাদের কোন কোন সাথী ‘‘পূর্ণ বাহিনীসহ’’ (ওয়াল খামীস) শব্দও যোগ করেছেন। পরে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা খায়বর জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হলো। দিহ্য়া (রাযি.) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! বন্দীদের হতে আমাকে একটি দাসী দিন। তিনি বললেন যাও, তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াই (রাযি.)-কে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াইকে আপনি দিহ্য়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহ্য়াকে সাফিয়্যাহসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়্যাহসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে দেখলেন তখন (দিহ্য়াকে) বললেনঃ তুমি বন্দীদের হতে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (রহ.) আবূ হামযা (আনাস) (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কি মাহর দিলেন? আনাস (রাযি.) জওয়াব দিলেনঃ তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। অতঃপর পথে উম্মু সুলায়ম (রাযি.) সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে সাজিয়ে রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার নিকট খাবার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রাযি.) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওয়ালীমাহ। (৬১০, ৯৪৭, ২২২৮, ২২৩৫, ২৮৮৯, ২৮৯৩, ২৯৪৩, ২৯৪৪, ২৯৪৫, ২৯৯১, ৩০৮৫, ৩০৮৬, ৩৩৬৭, ৩৬৪৭, ৪০৮৩, ৪০৮৪, ৪১৯৭, ৪১৯৮, ৪১৯৯, ৪২০০, ৪২০১, ৪২১১, ৪২১২, ৪২১৩, ৫০৮৫, ৫১৫৯, ৫১৬৯, ৫৩৮৭, ৫৪২৫, ৫৫২৮, ৫৯৬৮, ৬১৮৫, ৬৩৬৩, ৬৩৬৯,৭৩৩৩; মুসলিম ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ عِكْرِمَةُ لَوْ وَارَتْ جَسَدَهَا فِي ثَوْبٍ لَأَجَزْتُهُ. ‘ইকরিমাহ (রহ.) বলেনঃ যদি একটি কাপড়ে মহিলার সমস্ত শরীর ঢেকে যায় তবে তাতেই সালাত জায়িয হবে। ৩৭২. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন আর তাঁর সঙ্গে অনেক মু’মিন মহিলা চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হতো। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতো। আর তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না। (৫৭৮, ৮৬৭, ৮৭২; মুসলিম ৫/৪০, হাঃ ৬৪৫, আহমাদ ২৪১০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা একটি কারুকার্য খচিত চাদর গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। আর সালাতে সে চাদরের কারুকার্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ল। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ এ চাদরখানা আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও, আর তার কাছ হতে আমবিজানিয়্যাহ (কারুকার্য ছাড়া মোটা চাদর) নিয়ে আস। এটা তো আমাকে সালাত হতে অমনোযোগী করে দিচ্ছিল। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাত আদায়ের সময় এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে। তখন আমি আশংকা করছিলাম যে, এটা আমাকে ফিতনায় ফেলে দিতে পারে। (৭৫২, ৫৮১৭; মুসলিম ৫/১৫, হাঃ ৫৫৬, আহমাদ ২৪১৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের এক দিকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সামনে থেকে তোমার এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত আদায়ের সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে। (৫৯৫৯ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটা রেশমী জুববা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সালাত শেষ হবার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এই পোশাক সমীচীন নয়।* (৫৮০১; মুসলিম ৩৭/২, হাঃ ২০৭৫, আহমাদ ১৭৩৪৮ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ জুহাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চামড়ার একটি লাল তাঁবুতে দেখলাম এবং তাঁর জন্য উযূর পানি নিয়ে বিলাল (রাযি.)-কে উপস্থিত দেখলাম। আর লোকেরা তাঁর উযূর পানির জন্যে প্রতিযোগিতা করছে। কেউ সামান্য পানি পাওয়া মাত্র তা দিয়ে শরীর মুছে নিচ্ছে। আর যে পায়নি সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে নিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর বিলাল (রাযি.) রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি লৌহফলকযুক্ত ছড়ি নিয়ে এসে তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা লাল ডোরাযুক্ত পোশাক পরে বের হলেন, তাঁর তহবন্দ কিঞ্চিৎ উঁচু করে পরা ছিল। সে ছড়িটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর মানুষ ও জন্তু-জানোয়ার ঐ ছড়িটির বাইরে চলাফেলা করছিলো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَلَمْ يَرَ الْحَسَنُ بَأْسًا أَنْ يُصَلَّى عَلَى الْجُمْدِ وَالْقَنَاطِرِ وَإِنْ جَرَى تَحْتَهَا بَوْلٌ أَوْ فَوْقَهَا أَوْ أَمَامَهَا إِذَا كَانَ بَيْنَهُمَا سُتْرَةٌ وَصَلَّى أَبُو هُرَيْرَةَ عَلَى سَقْفِ الْمَسْجِدِ بِصَلاَةِ الْإِمَامِ وَصَلَّى ابْنُ عُمَرَ عَلَى الثَّلْجِ আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেনঃ হাসান বাসরী (রহ.) বরফ ও পুলের উপর সালাত আদায় করা দোষের মনে করতেন না- যদিও তার নীচ দিয়ে, উপর দিয়ে অথবা সামনের দিক দিয়ে পেশাব প্রবাহিত হয়; যদি উভয়ের মাঝে কোন ব্যবধান থাকে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) মসজিদের ছাদে ইমামের সাথে সালাত আদায় করেছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বরফের উপর সালাত আদায় করেছেন। ৩৭৭. আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, লোকেরা সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করল (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) মিম্বার কিসের তৈরি ছিল? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞাত আর কেউ নেই। তা ছিল গাবা নামক স্থানের ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অমুক মহিলার আযাদকৃত দাস অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্যে তা তৈরি করেছিল। তা পুরোপুরি তৈরি ও স্থাপিত হবার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর দাঁড়িয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করে তাকবীর বললেন। লোকেরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়লেন ও রুকূতে গেলেন। সকলেই তাঁর পেছনে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। পুনরায় মিম্বারে ফিরে আসলেন এবং কিরাআত পড়ে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তাঁর মাথা তুললেন এবং পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। এ হলো মিম্বারের ইতিহাস। আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেনঃ ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ(রহ.) বলেছেন যে, আমাকে আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহ.) এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ আমার ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে উঁচু স্থানে ছিলেন। সুতরাং ইমামের মুক্তাদীদের চেয়ে উঁচু স্থানে দাঁড়ানোতে কোন দোষ নেই। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেনঃ আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.)-কে বললামঃ সুফইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.)-কে এ বিষয়ে বহুবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনি তাঁর নিকট এ বিষয়ে কিছু শোনেননি? তিনি জবাব দিলেনঃ না। (৪৪৮, ৯১৭, ২০৯৪, ২৫৬৯; মুসলিম ৫/১০, হাঃ ৫৪৪, আহমাদ ২২৯৩৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন, এতে তিনি পায়ের ‘গোছায়’ অথবা (রাবী বলেছেন) ‘কাঁধে’ আঘাত পান। তিনি তাঁর স্ত্রীদের হতে এক মাসের জন্যে পৃথক হয়ে থাকেন। তখন তিনি ঘরের উপরের কক্ষে অবস্থান করেন যার সিঁড়ি ছিল খেজুর গাছের কান্ডের তৈরি। সাহাবীগণ তাঁকে দেখতে এলেন, তিনি তাঁদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আর তাঁরা ছিলেন দাঁড়ানো। সালাম ফিরিয়ে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যে যে, মুক্তাদীরা তার অনুসরণ করবে। সুতরাং ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি রুকূ করলে তোমরাও রুকূ করবে। তিনি সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে। ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। অতঃপর ঊনত্রিশ দিন পূর্ণ হলে তিনি নেমে আসলেন। তখন লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ এ মাস ঊনত্রিশ দিনের। (৬৮৯, ৭৩২, ৭৩৩, ৮০৫, ১১১৪, ১৯১১, ২৪৬৯, ৫২০১, ৫২৮৯, ৬৬৮৪; মুসলিম ৪/১৯, হাঃ ৪১১, আহমাদ ১২০৭৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন হায়েয অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমি তাঁর বরাবর বসে থাকতাম। কখনো কখনো তিনি সিজদা করার সময় তাঁর কাপড় আমার গায়ে লাগতো। আর তিনি ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। (৩৩৩; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১৩, আহমাদ ২৬৮৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَصَلَّى جَابِرٌ وَأَبُو سَعِيدٍ فِي السَّفِينَةِ قَائِمًا وَقَالَ الْحَسَنُ تُصَلِّي قَائِمًا مَا لَمْ تَشُقَّ عَلَى أَصْحَابِكَ، تَدُورُ مَعَهَا وَإِلاَّ فَقَاعِدًا জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) নৌকায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। হাসান (রহ.) বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত- সাথীদের জন্যে কষ্টকর না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর নৌকার দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘুরে যাবে। অন্যথায় বসে সালাত আদায় করবে। ৩৮০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তাঁর দাদী মুলাইকাহ্ (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খাওয়ার দা’ওয়াত দিলেন, যা তাঁর জন্যই তৈরি করেছিলেন। তিনি তা হতে খেলেন, অতঃপর বললেনঃ উঠ, তোমাদের নিয়ে আমি সালাত আদায় করি। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই আনার জন্য উঠলাম, তা অধিক ব্যবহারে কালো হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেটা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্যে দাঁড়ালেন। আর আমি এবং একজন ইয়াতীম বালক (যুমাইরাহ) তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা দাদী আমাদের পেছনে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। (৭২৭, ৮৬০, ৮৭১, ৮৭৪, ১১৬৪; মুসলিম ৫/৪৮, হাঃ ৬৫৮, আহমাদ ১২৩৪২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَصَلَّى أَنَسٌ عَلَى فِرَاشِهِ وَقَالَ أَنَسٌ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَسْجُدُ أَحَدُنَا عَلَى ثَوْبِهِ. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) নিজের বিছানায় সালাত আদায় করতেন। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ কেউ নিজ কাপড়ের উপর সিজদা করত। ৩৮২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু’খানা তাঁর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে ছিল। তিনি সিজদা্য় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু’খানা গুটিয়ে নিতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু’খানা প্রসারিত করতাম। তিনি বলেনঃ সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। (৩৮৩, ৩৮৪, ৫০৮, ৫১১, ৫১২, ৫১৩, ৫১৪, ৫১৫, ৫১৯, ৯৯৭, ১২০৯, ৬২৭৬; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭০৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) ‘উরওয়াহ (রাযি.)-কে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর তিনি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মধ্যে পারিবারিক বিছানার উপর জানাযার মত আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন, আর ‘আয়িশাহ (রাযি.) তাঁর ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মাঝখানে তাঁদের বিছানায় যাতে তারা ঘুমাতেন আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে থাকতেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ الْحَسَنُ كَانَ الْقَوْمُ يَسْجُدُونَ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْقَلَنْسُوَةِ وَيَدَاهُ فِي كُمِّهِ. হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, লোকেরা পাগড়ী ও টুপির উপর সিজদা করতো আর তাদের হাত আস্তিনের মধ্যে থাকত। ৩৮৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ কেউ সিজদা কালে বেশী গরমের কারণে কাপড়ের প্রান্ত সিজদার স্থানে রাখতো। (৫৪২, ১২০৮; মুসলিম ৫/৩৩, হাঃ ৬২০, আহমাদ ১১৯৭০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ মাসলামাহ সা‘ঈদ ইবনু ইয়াযীদ আল-আযদী (রহ.) বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর না‘লাইন (চপ্পল) পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। (৫৮৫০; মুসলিম ৫/১৪, হাঃ ৫৫৫, আহমাদ ১১৯৭৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাম্মাম ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে দেখলাম যে, তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন আর উভয় মোজার উপরে মাসেহ করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কেও এরূপ করতে দেখেছি। ইবরাহীম (রহ.) বলেনঃ এ হাদীস মুহাদ্দিসীনের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। কারণ জারীর (রাযি.) ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উযূ করিয়েছি। তিনি (উযূর সময়) মোজা দু’টির উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন ও সালাত আদায় করলেন। (১৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার রুকু-সিজদা পুরোপুরি আদায় করছিল না। সে যখন সালাত শেষ করলো তখন তাকে হুযাইফাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমার সালাত ঠিক হয়নি। রাবী বলেনঃ আমার মনে হয় তিনি (হুযাইফাহ) এ কথাও বলেছেন, (এ অবস্থায়) তোমার মৃত্যু হলে তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকার বাইরে হবে। (৭৯১, ৮০৮ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। লাইস (রহ.) বলেনঃ জা’ফর ইবনু রবী‘আহ্ (রহ.) আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৮০৭, ৩৫৬৪; মুসলিম ৪/৪৫, হাঃ ৪৯৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩)৩৯০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। লাইস (রহ.) বলেনঃ জা’ফর ইবনু রবী‘আহ্ (রহ.) আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৮০৭, ৩৫৬৪; মুসলিম ৪/৪৫, হাঃ ৪৯৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
يَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন। ৩৯১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয় আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (৩৯২, ৩৯৩ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে লোকের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’’ স্বীকার করবে। যখন তারা তা স্বীকার করে নেয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয় এবং আমাদের যবহ করা প্রাণী খায়, তখন তাদের জান-মালসমূহ আমাদের জন্যে হারাম হয়ে যায়। অবশ্য রক্তের বা সম্পদের দাবীর কথা ভিন্ন। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হুমায়দ হতে (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মায়মূন ইবনু সিয়াহ আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ হামযাহ! কিসে মানুষের জান-মাল হারাম হয়? তিনি জবাব দিলেন, যে ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্’র সাক্ষ্য দেয়, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সেই মুসলিম। অন্য মুসলিমের মতই তার অধিকার রয়েছে। আর অন্য মুসলিমদের মতই তাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। ইবনু আবূ মারইয়াম, ইয়াহ্ইয়া ইবনু আয়ুব (রহ.).....আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (অনুরূপ) বর্ণনা করেন। (৩৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৫ শেষাংশ)
لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পায়খানা বা পেশাব করতে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হবে না, বরং তোমরা (উত্তর অঞ্চলের অধিবাসীরা) পূর্বদিকে কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে। ৩৯৪. আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানা করতে যাও, তখন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করবে না কিংবা পিঠও দিবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে। আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) বলেনঃ আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন পায়খানাগুলো ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী বানানো পেলাম। আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট তওবা ইসতিগফার করতাম। যুহরী (রহ.) ‘আত্বা (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি আবূ আইয়ূব (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি বলেছেনঃ সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর নিকটবর্তী (সহবাস) হবে না। (১৬২৪, ১৬৪৬, ১৭৯৪; মুসলিম ১৫/২৮, হাঃ ১২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭ শেষাংশ)
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট এলেন, এবং বললেনঃ ইনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তিনি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেছেন। ইবনু ‘উমার বলেনঃ আমি সেদিকে এগিয়ে গেলাম এবং দেখলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা হতে বেরিয়ে পড়েছেন। আমি বিলাল (রাযি.)-কে দুই কপাটের মাঝখানে দাঁড়ানো দেখে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কা‘বা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ, কা‘বায় প্রবেশ করার সময় তোমার বাঁ দিকের দুই স্তম্ভের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং কা‘বার সামনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৪৬৮, ৫০৪, ৫০৫, ৫০৬, ১১৬৭, ১৫৯৮, ১৫৯৯, ২৯৮৮, ৪২৮৯, ৪৪০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৮২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বায় প্রবেশ করেন, তখন তার সকল দিকে দু‘আ করেছেন, সালাত আদায় না করেই বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হবার পর কা‘বার সামনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন, এবং বলেছেন, এটাই ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ। (১৬০১, ৩৩৫১, ৩৩৫২, ৪২২৮; মুসলিম ১৫/৬৮ হাঃ ১৩৩০, আহমাদ ২১৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَكَبِّرْ আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্কে সামনে কর এবং তাকবীর বল। ৩৯৯. বারাআ ‘ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে ষোল বা সতের মাস সালাত আদায় করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ করা পছন্দ করতেন। মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ ‘‘আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৪)। অতঃপর তিনি কা‘বার দিকে মুখ করেন। আর নির্বোধ লোকেরা- তারা ইয়াহুদী- বলতো, ‘‘তারা এ যাবত যে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ অনুসরণ করে আসছিলো, তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বলুনঃ (হে নবী) পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪২)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এক ব্যক্তি সালাত আদায় করলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। তিনি আসরের সালাতের সময় আনসারগণের এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ (তিনি নিজেই) সাক্ষী যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তিনি সালাত আদায় করেছেন, আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে মুখ করেছেন। তখন সে গোত্রের লোকজন ঘুরে কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন- সওয়ারী তাঁকে নিয়ে যে দিকেই মুখ করত না কেন। কিন্তু যখন ফরজ সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন নেমে পড়তেন এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হতেন। (১০৯৪, ১০৯৯, ৪১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। রাবী ইব্রাহীম (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন বা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কী? তাঁরা বললেনঃ আপনি তো এরূপ এরূপ সালাত আদায় করলেন। তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হলেন। আর দু’টি সিজদা আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরলেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা দেয়। (৪০৪, ১২২৬, ৬৬৭১, ৭২৪৯; মুসলিম ৫/১৯, হাঃ ৫৭২, ৪১৭৪ আহমাদ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَدْ سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَيْ الظُّهْرِ وَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ ثُمَّ أَتَمَّ مَا بَقِيَ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীগণের দিকে মুখ করলেন। অতঃপর বাকী সালাত পূর্ণ করলেন। ৪০২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (৪৪৮৩, ৪৭৯০, ৪৯১৬) অপর সনদে হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রাযি.) হতে অনুরূপ শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন যে, এ রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাঁকে কা‘বামুখী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই তোমারা কা‘বার দিকে মুখ কর। তখন তাঁদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে। একথা শুনে তাঁরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪৪৮৮, ৪৪৯০, ৪৪৯১, ৪৪৯৩, ৪৪৯৪, ৭২৫১; মুসলিম ৫/২, হাঃ ৫২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেন। তখন মুসল্লীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতে কি কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা কী? তারা বললেনঃ আপনি যে পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তিনি নিজের পা ঘুরিয়ে (ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে) দু’ সিজদা (সিজদা সাহু) করে নিলেন। (৪০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে (দেয়ালে) ‘কফ’ দেখলেন। এটা তাঁর নিকট কষ্টদায়ক মনে হলো। এমনকি তাঁর চেহারায় তা ফুটে উঠলো। তিনি উঠে গিয়ে তা হাত দিয়ে পরিষ্কার করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। অথবা বলেছেন, তার ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মাঝখানে তার রব আছেন। কাজেই, তোমাদের কেউ যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে তা ফেলে। অতঃপর চাদরের আঁচল নিয়ে তাতে তিনি থুথু ফেললেন এবং তার এক অংশকে অন্য অংশের উপর ভাঁজ করলেন এবং বললেনঃ অথবা সে এমন করবে। (২৪১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৫১, আহমাদ ১২৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেওয়ালে থুথু দেখে তা পরিষ্কার করে দিলেন। অতঃপর লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা, সে যখন সালাত আদায় করে তখন তার সামনের দিকে আল্লাহ তা‘আলা থাকেন। (৭৫৩, ১২১৩, ৬১১১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৭, আহমাদ ৪৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
উম্মুল ‘মুমিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেয়ালে নাকের শ্লেষ্মা, থুথু কিংবা কফ দেখলেন এবং তা পরিষ্কার করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা‘ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ও আবূ সা‘ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কাঁকর নিলেন এবং তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ কফ ফেললে তা যেন সে সামনে অথবা ডানে না ফেলে। বরং সে বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪০৮, ৪০৯; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৮, আহমাদ ১১০২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার সামনে বা ডানে থুথু নিক্ষেপ না করে; বরং তার বামে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন যখন সালাতে থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিভৃতে কথা বলে। কাজেই সে যেন তার সামনে, ডানে থুথু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা (বাম) পায়ের নীচে ফেলে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেয়ালে কফ দেখলেন, তখন তিনি কাঁকর দিয়ে তা মুছে দিলেন। অতঃপর সামনের দিকে অথবা ডান দিকে থুথু ফেলতে নিষেধ করলেন। কিন্তু (প্রয়োজনে) বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলতে বললেন। যুহরী (রহ.) হুমাইদ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে অনুরূপ রিওয়ায়াত আছে। (৪০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহের কাজ, আর তার কাফফারাহ (প্রতিকার) হচ্ছে তা দাবিয়ে দেয়া (মুছে ফেলা)। (মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৫২, আহমাদ ১২৭৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে সে তার সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। কেননা সে যতক্ষণ তার মুসল্লায় থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহর সাথে চুপে চুপে কথা বলে। আর ডান দিকেও ফেলবে না। তার ডান দিকে থাকেন ফেরেশতা। সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে এবং পরে তা দাবিয়ে দেয়। (৪০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে (দেয়ালে) কফ দেখে তা নিজ হাতে মুছে ফেললেন আর তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল। বা সে কারণে তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেলো এবং এর প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে চুপে চুপে কথা বলে। অথবা (বলেছেন) তখন তার প্রতিপালক, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ ও তার মাঝখানে থাকেন। কাজেই সে যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে থুথু না ফেলে, বরং (প্রয়োজনে) তার বাম দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে। অতঃপর তিনি চাদরের কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশের উপর অপর অংশ ভাঁজ করে দিলেন এবং বললেনঃ অথবা এমন করবে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার দৃষ্টি (কেবল) ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে? আল্লাহর কসম! আমার নিকট তোমাদের খূশু’ (বিনয়) ও রুকূ’ কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই। (৭৪১; মুসলিম ৪/২৪, হাঃ ৪২৪, আহমাদ ৮০৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে উঠলেন এবং ইরশাদ করলেনঃ তোমাদের সালাতে ও রুকূ‘তে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার পেছন হতে দেখে থাকি, যেমন এখন তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি। (৭৪২, ৬৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের জন্যে তৈরি ঘোড়াকে ‘হাফ্য়া’ (নামক স্থান) হতে ‘সানিয়াতুল ওয়াদা’ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি নয়, সে ঘোড়াকে ‘সানিয়া’ হতে যুরাইক গোত্রের মাসজিদ পর্যন্ত দৌঁড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) অগ্রগামী ছিলেন। (২৮৬৮, ২৮৬৯, ২৮৭০, ৭৩৩৬; মুসলিম ৩৩/২৫, হাঃ ১৮৭০, আহমাদ ৪৪৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ الْقِنْوُ الْعِذْقُ وَالِاثْنَانِ قِنْوَانِ وَالْجَمَاعَةُ أَيْضًا قِنْوَانٌ مِثْلَ صِنْوٍ وَصِنْوَانٍ. আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, الْقِنْوُ একই জিনিসের নাম। এর দ্বিবচন الْعِذْقُ এবং বহুবচনেও قِنْوَانِ যেমন صِنْوٍ ও وَصِنْوَانٍ । ৪২১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বাহরাইন হতে কিছু সম্পদ এলো। তিনি বললেনঃ এগুলো মসজিদে রেখে দাও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ যাবত যত সম্পদ আনা হয়েছে তার মধ্যে এ সম্পদই ছিল পরিমাণে সবচে’ বেশী। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে চলে গেলেন এবং এর দিকে দৃষ্টি দিলেন না। সালাত শেষ করে তিনি এসে সম্পদের নিকট গিয়ে বসলেন। তিনি যাকেই দেখলেন, কিছু সম্পদ দিয়ে দিলেন। ইতোমধ্যে ‘আব্বাস (রাযি.) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকেও কিছু দিন। কারণ আমি নিজের ও ‘আকীলের (এ দু’জন বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের কয়েদী ছিলেন) পক্ষ হতে মুক্তিপণ দিয়েছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ নিয়ে যান। তিনি তা কাপড়ে ভরে নিলেন। অতঃপর তা উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কাউকে বলুন, যেন আমাকে এটি উঠিয়ে দেয়। তিনি বললেন না। ‘আব্বাস (রাযি.) বললেনঃ তাহলে আপনি নিজেই তা তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। অতঃপর ‘আব্বাস (রাযি.) তা হতে কিছু সম্পদ রেখে দিলেন। অতঃপর পুনরায় তা তুলতে চেষ্টা করলেন। (এবারও তুলতে না পেরে) তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কাউকে আদেশ করুন যেন আমাকে তুলে দেয়। তিনি বললেনঃ না। ‘আব্বাস (রাযি.) বললেনঃ তাহলে আপনিই আমাকে তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। অতঃপর ‘আব্বাস (রাযি.) আরো কিছু সম্পদ নামিয়ে রাখলেন। এবার তিনি উঠাতে পারলেন এবং তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই লোভ দেখে এতই বিস্মিত হয়েছিলেন যে, তিনি ‘আব্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি চোখের আড়াল হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে একটি দিরহাম অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত উঠলেন না। (৩০৪৯, ৩১৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃঃ ২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মসজিদে পেলাম আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সাহাবী। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তোমাকে কি আবূ তালহা পাঠিয়েছেন? আমি বললামঃ জী হাঁ। তিনি বললেনঃ খাবার জন্য? আমি বললামঃ জী, হাঁ। তখন তাঁর আশেপাশে যাঁরা ছিলেন, তিনি তাঁদেরকে বললেনঃ উঠ। অতঃপর তিনি চলতে শুরু করলেন। (রাবী বলেন) আর আমি তাঁদের সামনে সামনে অগ্রসর হলাম। (৩৫৭৮, ৫৩৮১, ৫৪৫০, ৬৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য ব্যক্তিকে দেখতে পেলে কি তাকে হত্যা করবে? পরে মসজিদে সে ও তার স্ত্রী একে অন্যকে ‘লি‘আন’ করল। তখন আমি তা প্রত্যক্ষ করলাম। (৪৭৪৫, ৪৭৪৬, ৫২৫৯, ৫৩০৮, ৫৩০৯, ৬৮৫৪, ৭১৬৫, ৭১৬৬, ৭৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ তোমার ঘরের কোন্ জায়গায় আমার সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর? তিনি বলেনঃ তখন আমি তাঁকে একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বললেন। আমরা তাঁর পেছনে কাতার করে দাঁড়ালাম। তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৪২৫ ৬৬৭, ৬৮৬, ৮৩৮, ৮৪০, ১১৮৬, ৪০০৯, ৪০১০, ৫৪০১, ৬৪২৩, ৬৯৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَصَلَّى الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ فِي مَسْجِدِهِ فِي دَارِهِ جَمَاعَةً. বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) নিজের বাড়ির মসজিদে জামা‘আত করে সালাত আদায় করেছিলেন। ৪২৫. মাহমূদ ইবনু রাবী‘ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, ‘ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.), যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আনসারগণের অন্যতম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাযির হয়ে আরয করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের বাসস্থানের মধ্যবর্তী নিম্নভূমিতে পানি জমে যাওয়াতে তা পার হয়ে তাদের মসজিদে পৌঁছতে এবং তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতে সমর্থ হই না। আর হে আল্লাহর রাসূল! আমার একান্ত ইচ্ছা যে, আপনি আমার ঘরে এসে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করেন এবং আমি সেই স্থানকে সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিই। রাবী বলেনঃ তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমি তা করব। ‘ইতবান (রাযি.) বলেনঃ পরদিন সূর্যোদয়ের পর আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযি.) আমার ঘরে তাশরীফ আনেন। আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। ঘরে প্রবেশ করে তিনি না বসেই জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ঘরের কোন্ স্থানে সালাত আদায় করা পছন্দ কর? তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে ঘরের এক প্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আমরাও দাঁড়ালাম এবং কাতারবন্দী হলাম। তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন। তিনি (‘ইতবান) বলেনঃ আমরা তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য বসালাম এবং তাঁর জন্য তৈরি ‘খাযীরাহ’* নামক খাবার তাঁর সামনে পেশ করলাম। রাবী বলেনঃ এ সময় মহল্লার কিছু লোক ঘরে ভীড় জমালেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, ‘মালিক ইবনু দুখাইশিন’ কোথায়? অথবা বললেনঃ ‘ইবনু দুখশুন’ কোথায়? তখন তাঁদের একজন জওয়াব দিলেন, সে মুনাফিক। সে মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ বলো না। তুমি কি দেখছ না যে, সে আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’’ বলেছে? তখন সে ব্যক্তি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আমরা তো তার সম্পর্ক ও নাসীহাত কামনা মুনাফিকদের সাথেই দেখি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তো এমন ব্যক্তির প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলে। রাবী‘ ইব্ন শিহাব (রহ.) বলেনঃ অতঃপর আমি মাহমূদ ইব্ন রাবী‘ (রাযি.)-এর হাদীস সম্পর্কে হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যিনি বানূ সালিম গোত্রের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এ হাদীস সমর্থন করলেন। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبْدَأُ بِرِجْلِهِ الْيُمْنَى فَإِذَا خَرَجَ بَدَأَ بِرِجْلِهِ الْيُسْرَى. ইবনু ‘উমার (রাযি.) প্রবেশের সময় প্রথম ডান পা দিয়ে শুরু করতেন এবং বের হবার সময় প্রথম বাঁ পা দিয়ে শুরু করতেন। ৪২৬. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আঁচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও। (১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ». وَمَا يُكْرَهُ مِنَ الصَّلاَةِ فِي الْقُبُورِ. وَرَأَى عُمَرُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يُصَلِّي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَالَ الْقَبْرَ الْقَبْرَ. وَلَمْ يَأْمُرْهُ بِالإِعَادَةِ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়াহূদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা নবীগণের কবরকে মাসজিদ বানিয়েছে। আর কবরের উপর সালাত আদায় করা মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাযি.) আনাস ইব্নু মালিক (রাযি.)-কে একটি কবরের নিকট সালাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ কবর! কবর! কিন্তু তিনি তাঁকে সালাত পুনরায় আদায় করতে বলেননি। ৪২৭. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ (রাযি.) হাবশায় তাঁদের দেখা একটা গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাদের অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ বানাতো। আর তার ভিতরে ঐ লোকের মূর্তি তৈরি করে রাখতো। কিয়ামত দিবসে তারাই আল্লাহর নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট সৃষ্টজীব বলে পরিগণিত হবে। (৪৩৪, ১৩৪১, ৩৭৩; মুসলিম ৫/৩, হাঃ ৫২৮, আহমাদ ২৪৩০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় পৌঁছে প্রথমে মদিনার উচ্চ এলাকায় অবস্থিত বানূ ‘আমর ইবনু ‘আওফ নামক গোত্রে উপনীত হন। তাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দ দিন (অপর বর্ণনায় চবিবশ দিন) অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে পাঠালেন। তারা কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে উপস্থিত হলো। আমি যেন এখনো সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁর বাহনের উপর, আবূ বাকর (রাযি.) সে বাহনেই তাঁর পেছনে আর বানূ নাজ্জারের দল তাঁর আশেপাশে। অবশেষে তিনি আবূ আয়্যূব আনসারী (রাযি.)-র ঘরের সাহানে অবতরণ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হয় সেখানেই সালাত আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোঁয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। এখন তিনি মাসজিদ তৈরি করার নির্দেশ দেন। তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বানূ নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ হতে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহর নিকটই আশা করি। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুর গাছ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলা হলো, অতঃপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেয়া হলো, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো অতঃপর মসজিদের কিবলায় সারিবদ্ধ করে রাখা হলো এবং তার দুই পাশে পাথর বসানো হলো। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত (প্রকৃত) আর কোন কল্যাণ নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা কর।’’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগল থাকার স্থানে সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি আনাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি যে, মাসজিদ নির্মাণের পূর্বে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ছাগলের খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করেছেন। (২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে তাঁর উটের দিকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ আমি দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন করতেন। (৫০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ وَأَنَا أُصَلِّي. যুহরী (রহ.) বলেনঃ আমাকে আনাস (রাযি.) জানিয়েছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সামনে আগুন (জাহান্নাম) পেশ করা হলো, তখন আমি সালাতে ছিলাম। ৪৩১. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সূর্য গ্রহণ হলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। (২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরেও কিছু সালাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিও না। (১১৮৭; মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৭, আহমাদ ৪৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَيُذْكَرُ أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَرِهَ الصَّلاَةَ بِخَسْفِ بَابِلَ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘আলী (রাযি.) ব্যাবিলনের ধ্বংসস্তূপে সালাত আদায় করা মাকরূহ মনে করতেন। ৪৩৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এসব ‘আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত প্রবেশ করবে না। কান্না না আসলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের প্রতিও আসতে না পারে। (৩৩৮০, ৩৩৮১, ৪৪১৯, ৪৪২০, ৪৭০২; মুসলিম ৫৩/১ হাঃ ২৯৮, আহমাদ ৫২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ عُمَرُtإِنَّا لاَ نَدْخُلُ كَنَائِسَكُمْ مِنْ أَجْلِ التَّمَاثِيلِ الَّتِي فِيهَا الصُّوَرُ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُصَلِّي فِي الْبِيعَةِ إِلاَّ بِيعَةً فِيهَا تَمَاثِيلُ. ‘উমার (রাযি.) বলেছেন আমরা তোমাদের গির্জাসমূহে প্রবেশ করি না, কারণ তাতে মূর্তি রয়েছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) গির্জায় সালাত আদায় করতেন। তবে যেখানে প্রতিমা ছিল সেখানে নয়। ৪৩৪.‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। উম্মু সালামাহ (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তাঁর হাবশায় দেখা মারিয়া নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে যে সব প্রতিচ্ছবি দেখেছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরা এমন সম্প্রদায় যে, এদের মধ্যে কোন সৎ বান্দা অথবা বলেছেন কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মাসজিদ বানিয়ে নিত। আর তাতে ঐ সব ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি স্থাপন করতো। এরা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম সৃষ্টজীব। (৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উতবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদরে নিজ মুখমন্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ‘আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন। (১৩৩০, ১৩৯০, ৩৪৫৩, ৩৪৫৪, ৪৪৪১, ৪৪৪৩, ৪৪৪৪, ৫৮১৫, ৫৮১৬; মুসলিম ৫/৩, হাঃ ৫৩১, আহমাদ ১৮৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের ধ্বংস করুন। কেননা তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। (মুসলিম ৫/৩, হাঃ ৫৩০, আহমাদ ৭৮৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যা একমাসের দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়। (২) সমস্ত যমীন আমার জন্যে সালাত আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাতের ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত আদায় করে নেয়। (৩) আমার জন্যে গানীমাত হালাল করা হয়েছে। (৪) অন্যান্য নবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। (৫) আমাকে সার্বজনীন সুপারিশের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। (৩৩৫; মুসলিম ৫/৫, হাঃ ৫২১, আহমাদ ১৪২৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। কোন আরব গোত্রের একটা কালো দাসী ছিল। তারা তাকে আযাদ করে দিল। অতঃপর সে তাদের সাথেই থেকে গেল। সে বলেছে যে, তাদের একটি মেয়ে গলায় লাল চামড়ার উপর মূল্যবান পাথর খচিত হার পরে বাইরে গেল। দাসী বলেছেঃ সে হারটা হয়তো নিজে কোথাও রেখে দিয়েছিল, অথবা কোথাও পড়ে গিয়েছিল। তখন একটা চিল তা পড়ে থাকা অবস্থায় গোশ্তের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। দাসী বলেছেঃ অতঃপর গোত্রের লোকেরা বেশ খোঁজাখুঁজি করতে লাগলো। কিন্তু তারা তা পেল না। তখন তারা আমার উপর এর দোষ চাপাল। সে বলেছেঃ তারা আমার উপর তল্লাশী শুরু করলো, এমন কি আমার লজ্জাস্থানেও। দাসীটি বলেছেঃ আল্লাহর কসম! আমি তাদের সাথে সেই অবস্থায় দাঁড়ানো ছিলাম, এমন সময় চিলটি উড়ে যেতে যেতে হারটি ফেলে দিল। সে বলেছেঃ তাদের সামনেই তা পড়লো। তখন আমি বললামঃ তোমরা তো এর জন্যেই আমার উপর দোষ চাপিয়েছিলে। তোমরা আমার সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলে অথচ আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই তো সেই হার! সে বলেছেঃ অতঃপর সে রাসসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ তার জন্যে মসজিদে (নাবাবীতে) একটা তাঁবু অথবা ছাপড়া করে দেয়া হয়েছিল। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ সে (দাসীটি) আমার নিকট আসতো আর আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতো। সে আমার নিকট যখনই বসতো তখনই বলতোঃ ‘‘সেই হারের দিনটি আমার প্রতিপালকের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। জেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর হতে মুক্তি দিয়েছে।’’ ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে বললামঃ কি ব্যাপার, তুমি আমার নিকট বসলেই যে এ কথাটা বলে থাক? ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ সে তখন আমার নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল। (৩৮৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ أَبُو قِلاَبَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَدِمَ رَهْطٌ مِنْ عُكْلٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانُوا فِي الصُّفَّةِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ كَانَ أَصْحَابُ الصُّفَّةِ الْفُقَرَاءَ. আবূ কিলাবাহ (রহ.) আনাস ইব্ন মালিক (রাযি.) হতে বর্ণনা করেনঃ ‘উক্ল গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলেন এবং সুফ্ফায় অবস্থান করলেন। ‘আবদুর রহমান ইব্ন আবূ বাকর (রাযি.) বলেনঃ সুফ্ফাবাসীগণ ছিলেন দরিদ্র। ৪৪০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদে নববীতে ঘুমাতেন। তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবক। তাঁর কোন পরিবার-পরিজন ছিল না। (১১২১, ১১৫৬, ৩৭৩৮, ৩৭৪০, ৩৭৪১, ৭০১৫, ৭০১৬, ৭০২৮, ৭০২৯, ৭০৩০, ৭০৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪২১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ (রাযি.)-এর গৃহে এলেন, কিন্তু ‘আলী (রাযি.)-কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তাঁর মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ায় তিনি আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেন। আমার নিকট দুপুরের বিশ্রামও করেননি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ দেখ তো সে কোথায়? সে ব্যক্তি খুঁজে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন, তখন ‘আলী (রাযি.) কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তাঁর শরীরের এক পাশের চাদর পড়ে গিয়েছে এবং তাঁর শরীরে মাটি লেগেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীরের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বললেনঃ উঠ, হে আবূ তুরাব! উঠ, হে আবূ তুরাব!* (৩৭০৩, ৬২০৪, ৬২৮০; মুসলিম ৪৪/৪, হাঃ ২৪০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সত্তরজন আসহাবে সুফফাকে দেখেছি, তাঁদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল লুঙ্গি কিংবা ছোট চাদর, যা তাঁরা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। (নীচের দিকে) কারো নিস্ফে সাক বা হাঁটু পর্যন্ত আর কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তাঁরা লজ্জাস্থান দেখা যাবার ভয়ে কাপড় হাত দিয়ে ধরে রাখতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَصَلَّى فِيهِ কা‘ব ইবনু মালিক (রাযি.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর হতে ফিরে এসে প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করতেন। ৪৪৩. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। রাবী মিস‘আর (রাযি.) বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রহ.) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর। জাবির (রাযি.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায় করে দিলেন বরং কিছু বেশী দিলেন। (১৮০১, ২০৯৭, ২৩০৯, ২৩৮৫, ২৩৯৪, ২৪০৬, ২৪৭০, ২৬০৩, ২৬০৪, ২৭১৮, ২৮৬১, ২৯৬৭, ৩০৮৭, ৩০৮৯, ৩০৯০, ৪০৫২, ৫০৭৯, ৫০৮০, ৫২৪৩, ৫২৪৪, ৫২৪৫, ৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫৩৬৭, ৬৩৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। (১১৬৩; মুসলিম ৬/১০, হাঃ ৭১৪, আহমাদ ১৫৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পরে হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ মালাকগণ তার জন্যে দু‘আ করতে থাকেন। তাঁরা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তার উপর রহম কর। (১৭৬; মুসলিম ৫/৪৯, হাঃ ৬৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ كَانَ سَقْفُ الْمَسْجِدِ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ وَأَمَرَ عُمَرُ بِبِنَاءِ الْمَسْجِدِ وَقَالَ أَكِنَّ النَّاسَ مِنَ الْمَطَرِ وَإِيَّاكَ أَنْ تُحَمِّرَ أَوْ تُصَفِّرَ فَتَفْتِنَ النَّاسَ وَقَالَ أَنَسٌ يَتَبَاهَوْنَ بِهَا ثُمَّ لاَ يَعْمُرُونَهَا إِلاَّ قَلِيلاً وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتْ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى. আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেনঃ মসজিদে নাবাবীর ছাদ ছিল খেজুর গাছের ডালের তৈরি। ‘উমার (রাযি.) মাসজিদ নির্মাণের হুকুম দিয়ে বলেনঃ আমি লোকদেরকে বৃষ্টি হতে রক্ষা করতে চাই। মসজিদে লাল বা হলুদ রং লাগানো হতে সাবধান থাক, এতে মানুষকে তুমি ফিতনায় ফেলবে। আনাস (রাযি.) বলেনঃ লোকেরা মাসজিদ নিয়ে গর্ব করবে অথচ তারা একে কমই (‘ইবাদাতের মাধ্যমে) আবাদ রাখবে। ইব্নু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেনঃ তোমরা তো ইয়াহূদী ও নাসারাদের মত মাসজিদকে কারুকার্যমণ্ডিত করে ফেলবে। ৪৪৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে মাসজিদ তৈরি হয় কাঁচা ইট দিয়ে, তার ছাদ ছিল খেজুরের ডালের, খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আবূ বাকর (রাযি.) এতে কিছু বাড়ান নি। অবশ্য ‘উমার (রাযি.) বাড়িয়েছেন। আর তার ভিত্তি তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে যে ভিত্তি ছিল তার উপর কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল দিয়ে নির্মাণ করেন এবং তিনি খুঁটিগুলো পরিবর্তন করে কাঠের (খুঁটি) লাগান। অতঃপর ‘উসমান (রাযি.) তাতে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অনেক বৃদ্ধি করেন। তিনি দেয়াল তৈরি করেন নক্শী পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে। খুঁটিও দেন নক্শা করা পাথরের, আর ছাদ বানিয়েছিলেন সেগুন কাঠের। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلاَّ اللهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ( আর আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ মুশরিকদের এ অধিকার নেই যে, তারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের কর্মসমূহ বিফল হয়ে গেছে। আর এরা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে। আল্লাহর মাসজিদসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ তো কেবল তারাই করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি, এবং সালাত কায়িম করে ও যাকাত দেয়, ও আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। বস্তুতঃ এদেরই সম্বন্ধে আশা করা যায় যে, তারা হিদায়াত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরাহ্ আত-তওবা্ ৯/১৭-১৮) ৪৪৭. ‘ইকরিমাহ (রহ.) বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাকে ও তাঁর ছেলে ‘আলী (রহ.)-কে বললেনঃ তোমরা উভয়ই আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-এর নিকট যাও এবং তাঁর হতে হাদীস শুনে আস। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাদরে হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসলেন এবং পরে হাদীস বর্ণনা শুরু করলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নাববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন। তিনি বললেনঃ আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর ‘আম্মার (রাযি.) দু’টো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে তাঁর দেহ হতে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ ‘আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা তাকে আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেনঃ তখন ‘আম্মার (রাযি.) বললেনঃ ‘‘আমি ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।’’ (২৮১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহাল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেনঃ তুমি তোমার গোলাম কাঠমিস্ত্রীকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠের মিম্বার বানিয়ে দেয় যাতে আমি বসতে পারি। (৩৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪২৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। জনৈকা মহিলা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার বসার জন্যে কিছু তৈরি করে দিব? আমার এক কাঠমিস্ত্রী গোলাম আছে। তিনি বললেনঃ তোমার ইচ্ছে হলে সে যেন একটি মিম্বার বানিয়ে দেয়। (৯১৮, ২০৯৫, ৩৫৮৪, ৩৫৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি যখন মসজিদে নাববী নির্মাণ করেছিলেন তখন লোকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলেনঃ তোমরা আমার উপর অনেক বাড়াবাড়ি করছ অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মাসজিদ নির্মাণ করে, বুকায়র (রহ.) বলেনঃ আমার মনে হয় রাবী ‘আসিম (রহ.) তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন। (মুসলিম ৫/৪, হাঃ ৫৩৩, আহমাদ ৪৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তীর সাথে করে মসজিদে নাববী অতিক্রম করছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এর ফলাগুলো হাত দিয়ে ধরে রাখ। (৭০৭৩, ৭০৭৪; মুসলিম ৪৫/৩৪, হাঃ ২৬১৪, আহমাদ ১৪৩১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ বুরদাহ (রহ.)-এর পিতা ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তীর নিয়ে আমাদের মাসজিদ অথবা বাজার দিয়ে চলে সে যেন তার ফলা হাত দিয়ে ধরে রাখে, যাতে করে তার হাতে কোন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। (৭০৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রহ.) হতে বর্ণিত। হাসসান ইবনু সাবিত আনসারী (রাযি.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর কসম দিয়ে এ কথার সাক্ষ্য চেয়ে বলেনঃ আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে শুনেছেন, হে হাস্সান! আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ হতে (কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের) জবাব দাও। হে আল্লাহ! হাসসানকে রুহুল কুদুস (জিব্রীল) (‘আ.) দ্বারা সাহায্য কর। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বললেনঃ হাঁ। (৩২১২, ৬১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উরওয়াহ ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলাম এমতাবস্থায় হাবশীরা তাদের বর্শা বল্লম নিয়ে খেলা করছিল। (৪৫৪; মুসলিম ৮/৪, হাঃ ৮৯২, আহমাদ ২৬৩৮৮, ২৪৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১ শেষাংশ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ (রাযি.) তাঁর নিকট এসে কিতাবাতের* দেনা পরিশোধের জন্য সাহায্য চাইলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি চাইলে আমি (তোমার মূল্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিব এ শর্তে যে, উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমার। তার মালিক ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে বললোঃ আপনি চাইলে বাকী মূল্য বারীরাকে দিতে পারেন। রাবী সুফইয়ান (রহ.) আর একবার বলেছেনঃ আপনি চাইলে তাকে আযাদ করতে পারেন, তবে উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমাদের। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন তখন আমি তাঁর নিকট ব্যাপারটি বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কারণ উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকে তারই, যে আযাদ করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়ালেন। সুফইয়ান (রহ.) আর একবার বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ লোকদের কী হলো? তারা এমন সব শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। কেউ যদি এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তার সে শর্তের কোন মূল্য নেই। এমনকি এরূপ শর্ত একশবার আরোপ করলেও। মালিক (রহ.).....‘আমরা (রহ.) হতে বারীরাহ (রাযি.)-এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তবে মিম্বারে আরোহণ করার কথা উল্লেখ করেননি। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ ‘আমরাহ (রহ.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জা‘ফর ইবনু ‘আওন (রহ.) ইয়াহইয়া (রহ.)-এর মাধ্যমে ‘আমরাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে শুনেছি। (১৪৯৩, ২১৫৫, ২১৬৮, ২৫৩৬, ২৫৬০, ২৫৬১, ২৫৬৩, ২৫৬৪, ২৫৬৫, ২৫৭৮, ২৭১৭, ২৭২৬, ২৭২৯, ২৭৩৫, ৫০৯৭, ৫২৭৯, ৫২৮৪, ৫৪৩০, ৬৭১৭, ৬৭৫১, ৬৭৫৪, ৬৭৫৮, ৬৭৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪৩৬ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
কা‘ব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদের ভিতরে ইবনু আবূ হাদরাদ (রহ.)-এর নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতেই তাদের কথার আওয়ায শুনলেন এবং তিনি পর্দা সরিয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ হে কা‘ব! কা‘ব (রাযি.) উত্তর দিলেন, লাববায়ক রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু ছেড়ে দাও। আর হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা‘ব (রাযি.) বললেনঃ আমি তাই করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি ইবনু আবূ হাদরাদকে বললেনঃ উঠ আর বাকীটা দিয়ে দাও। (৪৭১, ২৪১৮, ২৪২৪, ২৭০৬, ২৭১০; মুসলিম ২২/৪, হাঃ ১৫৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একজন কালো বর্ণের পুরুষ অথবা বলেছেন কালো বর্ণের মহিলা মাসজিদ ঝাড়ু দিত। সে মারা গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বললেন, সে মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও। অতঃপর তিনি তার কবরের নিকট গেলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। (৪৬০, ১৩৩৭; মুসলিম ১১/২৩, হাঃ ৯৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুদ সম্পর্কীয় সূরাহ্ বাকারাহর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে সে সব আয়াত সাহাবীগণকে পাঠ করে শুনালেন। অতঃপর তিনি মদের ব্যবসা হারাম করে দিলেন। (২০৮৪, ২২২৬, ৪৫৪০, ৪৫৪১, ৪৫৪২, ৪৫৪৩; মুসলিম ২২/১২, হাঃ ১৫৮০, আহমাদ ২৬৪৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ )نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا( لِلْمَسْجِدِ يَخْدُمُهَا. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) (এ আয়াত) ‘‘আমার গর্ভে যা আছে তা একান্ত আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম’’ (সূরাহ্ আলে ইমরান ৩/৩৫)-এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ মসজিদের খিদমাতের জন্য উৎসর্গ করলাম। ৪৬০. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একজন পুরুষ অথবা বলেছেন একজন মহিলা মাসজিদ ঝাড় দিত। [রাবী সাবিত (রহ.) বলেনঃ] আমার মনে হয় তিনি বলেছেন একজন মহিলা। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরে জানাযার সালাত আদায় করেছেন। (৪৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গত রাতে একটা অবাধ্য জিন হঠাৎ আমার সামনে প্রকাশ পেল। রাবী বলেন, অথবা তিনি অনুরূপ কোন কথা বলেছেন, যেন সে আমার সালাতে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দিলেন। আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে ভোর বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলায়মান (‘আ.)-এর এই উক্তি আমার স্মরণ হলো, ‘‘হে প্রভু! আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়’’- (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮/৩৫)। (বর্ণনাকারী) রাওহ্ (রহ.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই শয়তানটিকে অপমানিত করে ছেড়ে দিলেন। (১২১০, ৩২৮৪, ৩৪২৩, ৪৮০৮; মুসলিম ৫/৮, হাঃ ৫৪১, আহমাদ ৭৯৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَكَانَ شُرَيْحٌ يَأْمُرُ الْغَرِيمَ أَنْ يُحْبَسَ إِلَى سَارِيَةِ الْمَسْجِدِ. কাযী শুরাইহ* (রহ.) দেনাদার ব্যক্তিকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার নির্দেশ দিতেন। ৪৬২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন অশ্বারোহী মুজাহিদকে নজদের দিকে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামাহ ইবনু উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ সুমামাকে ছেড়ে দাও। (ছাড়া পেয়ে) তিনি মসজিদে নাবাবীর নিকট এক খেজুর বাগানে গিয়ে সেখানে গোসল করলেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেনঃ ‘‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।’’ (৪৬৯, ২৪২২, ২৪২৩, ৪৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রাযি.)-এর হাতের শিরা যখম হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (তাঁর জন্য) একটা তাঁবু স্থাপন করলেন, যাতে নিকট হতে তাঁর দেখাশুনা করতে পারেন। মসজিদে বানূ গিফারেরও একটা তাঁবু ছিল। সা‘দ (রাযি.)-এর প্রচুর রক্ত তাঁদের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে তাঁবুর লোকেরা! তোমাদের তাঁবু হতে আমাদের দিকে কী প্রবাহিত হচ্ছে? তখন দেখা গেল যে, সা‘দের যখম হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। অবশেষে এতেই তিনি মারা গেলেন। (২৮১৩, ৩৯০১, ৪১১৭, ৪১২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَعِيرٍ. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উটে সওয়ার হয়ে তওয়াফ করেছেন। ৪৬৪. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (বিদায় হজ্জে) আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ সওয়ার হয়ে লোকদের হতে দূরে থেকে ত্বওয়াফ কর। আমি ত্বওয়াফ করলাম। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর পাশে الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করছিলেন। (১৬১৯, ১৬২৬, ১৬৩৩, ৪৮৫৩; মুসলিম ১৫/৪২, হাঃ ১২৭৬ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’জন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হতে অন্ধকার রাতে বের হলেন। (তাঁদের একজন ‘আবক্বাদ ইবনু বিশর (রাযি.) আর দ্বিতীয় জন সম্পর্কে আমার ধারণা যে, তিনি ছিলেন উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাযি.)) আর উভয়ের সাথে চেরাগ সদৃশ কিছু ছিল, যা তাঁদের সামনের দিকটাকে আলোকিত করছিল। তাঁরা উভয়ে যখন আলাদা হয়ে গেলেন, তখন প্রত্যেকের সাথে একটা করে (আলো) রয়ে গেল। অবশেষে এভাবে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে পৌঁছলেন। (৩৬৩৯, ৩৮০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে-তা গ্রহণ করলেন। তখন আবূ বাকর (রাযি.) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন্ বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে- এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কী আছে?)। মূলতঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বাকর (রাযি.) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বাকর, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বাকর। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বাকর। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বাকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে। (৩৬৫৪, ৩৯০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগের সময় এক টুকরা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে বাইরে এসে মিম্বারে বসলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা সিফাত বর্ণনার পর বললেনঃ জান-মাল দ্বারা আবূ বাকর ইবনু আবূ কুহাফার চেয়ে অধিক কেউ আমার প্রতি ইহসান করেনি। আমি কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে অবশ্যই আবূ বাকরকে গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের বন্ধুত্বই উত্তম। আবূ বাকরের দরজা ব্যতীত এই মসজিদের ছোট দরজাগুলো সব বন্ধ করে দাও। (৩৬৫৬, ৩৬৫৭, ৬৭৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَقَالَ لِي عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ يَا عَبْدَ الْمَلِكِ لَوْ رَأَيْتَ مَسَاجِدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبْوَابَهَا. আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেনঃ আমাকে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেছেন যে, আমাকে সুফ্ইয়ান (রহ.) ইবনু জুরায়জ (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমাকে ইবনু আবী মুলাইকাহ (রহ.) বলেছেন, ‘‘হে ‘আবদুল মালিক! তুমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর মাসজিদ ও তার দরজাগুলো যদি দেখতে’’। ৪৬৮. ইবনু ‘উমার হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন ‘উসমান ইবনু তালহা (রাযি.)-কে ডাকলেন। তিনি দরজা খুলে দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , বিলাল, উসামাহ ইবনু যায়দ ও ‘উসমান ইবনু ত্বলহাহ (রাযি.) ভিতরে গেলেন। অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। অতঃপর সকলেই বের হলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেনঃ আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে বিলাল (রাযি.)-কে (সালাতের কথা) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে সালাত আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ কোন্ স্থানে? তিনি বললেন, দুই স্তম্ভের মাঝামাঝি। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেনঃ কয় রাক‘আত আদায় করেছেন তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় অশ্বারোহী সৈন্য নজদ অভিমুখে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এলেন। অতঃপর তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। (৪৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে নাববীতে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করলো। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)। তিনি বললেনঃ যাও, এ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস। আমি তাদের নিয়ে তাঁর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ স্থানের লোক? তারা বললোঃ আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা দু’জনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছো! (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
কা‘ব ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে তিনি ইবনু আবূ হাদরাদের নিকট তাঁর প্রাপ্য সম্পর্কে মসজিদে নাববীতে তাগাদা করেন। এতে উভয়ের আওয়ায উঁচু হয়ে গেল। এমন কি সে আওয়ায আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতে শুনতে পেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে বের হয়ে এলেন এবং কা‘ব ইবনু মালিককে ডেকে বললেনঃ হে কা‘ব! উত্তরে কা‘ব বললেনঃ লাববায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করলেন যে, তোমার প্রাপ্য হতে অর্ধেক ছেড়ে দাও। কা‘ব (রাযি.) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল ইবনু আবূ হাদরাদ (রাযি.)-কে বললেনঃ উঠ এবার (বাকী) ঋণ পরিশোধ কর। (৪৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি মিম্বারে ছিলেন- আপনি রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে বলেন? তিনি বলেনঃ দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত করে আদায় করবে। যখন তোমাদের কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন সে আরো এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। আর এটি তার পূর্ববর্তী সালাতকে বিত্র করে দেবে। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলতেনঃ তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত হিসেবে আদায় কর। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নির্দেশ দিয়েছেন। (৪৭৩, ৯৯০, ৯৯৩, ৯৯৫, ১১৩৭; মুসলিম ৬/২০, হাঃ ৭৪৯, ৭৫৩, আহমাদ ৬০১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হবার আশঙ্কা করবে, তখন আরো এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। সে রাক‘আত তোমার পূর্বের সালাতকে বিত্র করে দিবে। ওয়ালীদ ইব্ন কাসীর (রহ.) বলেনঃ ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বলেছেন যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাঁদের বলেছেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সম্বোধন করে বললেন, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। (৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ ওয়াক্বিদ লায়সী (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এলেন। তাঁদের দু’জন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এগিয়ে এলেন আর একজন চলে গেলেন। এ দু’জনের একজন হালকায় খালি স্থান পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি তাদের পেছনে বসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তা হতে অবসর হয়ে বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে খবর দেব? এক ব্যক্তি তো আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলো। আল্লাহও তাকে আশ্রয় দিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি লজ্জা করলো, আর আল্লাহ তা‘আলাও তাকে (বঞ্চিত করতে) লজ্জাবোধ করলেন। তৃতীয় ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, কাজেই আল্লাহও তার হতে ফিরে থাকলেন। (৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আব্বাদ ইবনু তামীম (রহ.) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি (তাঁর চাচা) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মসজিদে চিত হয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা রেখে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। ইবনু শিহাব (রহ.) সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘উমার ও ‘উসমান (রাযি... ‘আনহুমা) এমন করতেন। (৫৯৬৯, ৬২৮৭; মুসলিম ৩৭/২২, হাঃ ২১০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قَالَ الْحَسَنُ وَأَيُّوبُ وَمَالِكٌ. হাসান বাসরী, আইয়ূব এবং মালিক (রহ.) এরূপ বলেছেন। ৪৭৬. ‘উরওয়াহ বিন যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার জ্ঞানমতে আমি আমার মাতা-পিতাকে সব সময় দ্বীনের অনুসরণ করতে দেখেছি। আর আমাদের এমন কোন দিন যায়নি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিনের উভয় প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের নিকট আসেননি। অতঃপর আবূ বাকর (রাযি.)-এর মাসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি তাঁর ঘরের আঙ্গিণায় একটি মাসজিদ তৈরি করলেন। তিনি এতে সালাত আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সেখানে দাঁড়াতো এবং এতে তারা বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবূ বাকর (রাযি.) ছিলেন একজন অধিক ক্রন্দনকারী ব্যক্তি। তিনি কুরআন পড়া শুরু করলে অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। তাঁর এ অবস্থা নেতৃস্থানীয় মুশরিক কুরাইশদের নেতৃবৃন্দকে শঙ্কিত করে তুলল। (২১৩৮, ২২৬৩, ২২৬৪, ২২৯৭, ৩৯০৫, ৪০৯৩, ৫৮০৭, ৬০৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَصَلَّى ابْنُ عَوْنٍ فِي مَسْجِدٍ فِي دَارٍ يُغْلَقُ عَلَيْهِمْ الْبَابُ ইবনু ‘আওন (রহ.) ঘরের মসজিদে সালাত আদায় করতেন যার দরজা বন্ধ করা হতো। ৪৭৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতের সাথে সালাত আদায় করলে ঘর বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ সওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা, তোমাদের কেউ যদি ভাল করে উযূ করে কেবল সালাতের উদ্দেশেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার এক-একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তাকে সালাতেই গণ্য করা হয়। আর সালাত শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে ততক্ষণ মালাকগণ তার জন্যে এ বলে দু’আ করেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন- যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, উযূ ভেঙ্গে যাওয়ার কোন কাজ সেখানে না করে। (১৭৬; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৭৬৪৯, আহমাদ ৫৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার বা ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙুলে প্রবেশ করান। (৪৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আসিম ইবনু ‘আলী (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ আমি এ হাদীস আমার পিতা হতে শুনেছিলাম, কিন্তু আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। পরে এ হাদীসটি আমাকে ঠিকভাবে বর্ণনা করেন ওয়াকিদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে। তিনি বলেনঃ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর! যখন তুমি নিকৃষ্ট লোকদের সাথে অবস্থান করবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে? (৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪ শেষাংশ)
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিন আরেকজন মু‘মিনের জন্যে ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে। এ ব’লে তিনি তার হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন। (২৪৪৬, ৬০২৬; মুসলিম ৫৪/১৭, হাঃ ২৫৮৫, আহমাদ ১৯৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের বিকালের এক সালাতে ইমামত করলেন। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেনঃ আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সালাতের নাম বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর মসজিদে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তিনি তাঁর ডান হাত বাঁ হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তাঁর ডান গাল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেনঃ সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে? উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বাকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.)-ও ছিলেন। কিন্তু তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। আর লোকজনের মধ্যে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। অতঃপর (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? তাঁরা বললেনঃ হাঁ। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সালাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মতো বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। লোকেরা প্রায়ই ইবনু সীরীন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করতো, ‘‘পরে কি তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন?’’ তখন ইবনু সীরীন (রহ.) বলতেনঃ আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) আমাকে খবর দিয়েছেন যে,ঃ অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন। (৭১৪, ৭১৫, ১২২৭, ১২২৯, ৬০৫১, ৭২৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-কে রাস্তার বিশেষ বিশেষ স্থান অনুসন্ধান করে সে সব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বর্ণনা করতেন যে, তাঁর পিতাও এসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। আর তিনিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এসব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেনঃ নাফি‘ (রহ.)-ও আমার নিকট ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি সালিম (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি। আমার জানামতে তিনিও সেসব স্থানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নাফি’ (রহ.)-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তবে ‘শারাফুর-রাওহা’ নামক স্থানের মাসজিদটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। (১৫৩৫, ২৩৩, ৭৩৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমারাহ ও হাজ্জের জন্যে রওয়ানা হলে ‘যুল-হুলায়ফা’য় অবতরণ করতেন, বাবলা গাছের নীচে ‘যুল হুলায়ফা’র মসজিদের স্থান। আর যখন কোন যুদ্ধ হতে অথবা হাজ্জ বা ‘উমারাহ করে সেই পথে ফিরতেন, তখন উপত্যকার মাঝখানে অবতরণ করতেন। যখন উপত্যকার মাঝখান হতে উপরের দিকে আসতেন, তখন উপত্যকার তীরে অবস্থিত পূর্ব নিম্নভূমিতে উট বসাতেন। সেখানে তিনি শেষ রাত হতে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করতেন। এ স্থানটি পাথরের উপর নির্মিত মসজিদের নিকট নয় এবং যে মাসজিদ টিলার উপর, তার নিকটেও নয়। এখানে ছিল একটি ঝিল, যার পাশে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সালাত আদায় করতেন। এর ভিতরে কতগুলো বালির স্তূপ ছিল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিম্নভূমিতে পানির প্রবাহ হয়ে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) যে স্থানে সালাত আদায় করতেন তা সমান করে দিয়েছে। (১৫৩২, ১৫৩৩, ১৭৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) [নাফি’ (রহ.)-কে] বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘শারাফুর-রাওহা’র মসজিদের নিকট ছোট মসজিদের স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছিলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সে স্থানের পরিচয় দিতেন এই বলে যে, যখন তুমি মসজিদে সালাতে দাঁড়াবে তখন তা তোমার ডানদিকে। আর সেই মাসজিদটি হলো যখন তুমি (মদ্বীনা হতে) মক্কা্ যাবে তখন তা ডানদিকের রাস্তার এক পাশে থাকবে। সে স্থান ও বড় মসজিদের মাঝখানে ব্যবধান হলো একটি ঢিল নিক্ষেপ পরিমাণ অথবা তার কাছাকাছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪৬২ দ্বিতীয় অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ দ্বিতীয় অংশ)
আর ইবনু ‘উমার (রাযি.) ‘রাওহা’র শেষ মাথায় ‘ইরক’ (ছোট পাহাড়)-এর নিকট সালাত আদায় করতেন। সেই ‘ইরক’-এর শেষ প্রান্ত হলো রাস্তার পাশে মসজিদের কাছাকাছি মক্কা যাওয়ার পথে রাওহা ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে একটি মাসজিদ নির্মিত হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) এই মসজিদে সালাত আদায় করতেন না, বরং সেটাকে তিনি বামদিকে ও পেছনে ফেলে অগ্রসর হয়ে ‘ইরক’-এর নিকটে সালাত আদায় করতেন। আর ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) রাওহা হতে বেরিয়ে ঐ স্থানে পৌঁছার পূর্বে যুহরের সালাত আদায় করতেন না। সেখানে পৌঁছে যোহর আদায় করতেন। আর মক্কা্ হতে আসার সময় এ পথে ভোরের এক ঘণ্টা পূর্বে বা শেষ রাতে আসলে সেখানে অবস্থান করে ফজরের সালাত আদায় করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ তৃতীয় অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ তৃতীয় অংশ)
‘আবদুল্লাহ (রাযি.) আরো বর্ণনা করেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রুওয়ায়ছা’র নিকটে রাস্তার ডানদিকে রাস্তা সংলগ্ন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একটা বিরাট গাছের নীচে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ‘রুওয়ায়ছা’র ডাকঘরের দু’মাইল দূরে ঢিলার পাশ দিয়ে রওয়ানা হতেন। বর্তমানে গাছটির উপরের অংশ ভেঙে গিয়ে মাঝখানে ঝুঁকে গেছে। গাছের কান্ড এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আর তার আশেপাশে অনেকগুলো বালির স্তূপ বিস্তৃত রয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ চতুর্থ অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ চতুর্থ অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেনঃ ‘আরজু’ গ্রামের পরে পাহাড়ের দিকে যেতে যে উচ্চভূমি আছে, তার পাশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এই মসজিদের পাশে দু’তিনটি কবর আছে। এসব কবরে পাথরের বড় বড় খন্ড পড়ে আছে। রাস্তার ডান পাশে গাছের নিকটেই তা অবস্থিত। দুপুরের পর সূর্য ঢলে পড়লে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) ‘আর্জ’-এর দিক হতে এসে গাছের মধ্য দিয়ে যেতেন এবং ঐ মসজিদে যুহরের সালাত আদায় করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪৬২ পঞ্চম অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ পঞ্চম অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাস্তার বাঁ দিকে বিরাট গাছগুলোর নিকট অবতরণ করেন যা ‘হারশা’ পাহাড়ের নিকটবর্তী নিম্নভূমির দিকে চলে গেছে। সেই নিম্নভূমিটি ‘হারশা’-এর এক প্রান্তের সাথে মিলিত। এখান হতে সাধারণ সড়কের দূরত্ব প্রায় এক তীর নিক্ষেপের পরিমাণ। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সেই গাছগুলোর মধ্যে একটির নিকট সালাত আদায় করতেন, যা ছিল রাস্তার নিকটে এবং সবচেয়ে উঁচু। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ ষষ্ঠ অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ ষষ্ঠ অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন ‘মাররুয যাহরান’ উপত্যকার শেষ প্রান্তে নিম্নভূমিতে, যা মাদ্বীনার দিকে যেতে ছোট পাহাড়গুলোর নীচে অবস্থিত। তিনি সে নিম্নভূমির মাঝখানে অবতরণ করতেন। এটা মক্কা্ যাওয়ার পথে বাম পাশে থাকে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মনযিল ও রাস্তার মাঝে দূরত্ব এক পাথর নিক্ষেপ পরিমাণ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ সপ্তম অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ সপ্তম অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাঁকে আরও বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘যূ-তুওয়া’য় অবতরণ করতেন এবং এখানেই রাত যাপন করতেন আর মক্কা্য় আসার পথে এখানেই ফজরের সালাত আদায় করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত আদায়ের সেই স্থানটা ছিল একটা বড় টিলার উপরে। যেখানে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে সেখানে নয় বরং তার নীচে একটা বড় টিলার উপর। (১৭৬৭, ১৭৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ অষ্টম অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ অষ্টম অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাঁর নিকট আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়ের দু’টো প্রবেশপথ সামনে রাখতেন যা তার ও দীর্ঘ পাহাড়ের মাঝখানে কা‘বার দিকে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে যে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে, সেটিকে তিনি [ইবনু ‘উমার (রাযি.)] টিলার প্রান্তের মাসজিদটির বাম পাশে রাখতেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের জায়গা ছিল এর নীচের কাল টিলার উপরে। এটি প্রথম টিলা হতে প্রায় দশ হাত দূরে। অতঃপর যে পাহাড়টি তোমার ও কা‘বার মাঝখানে পড়বে তার দু’প্রবেশ দ্বারের দিকে মুখ করে তুমি সালাত আদায় করবে। (মুসলিম ১৫/৩৮, হাঃ ১২৫৯, ১২৬০, আহমাদ ৫৬০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ শেষাংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একটা মাদী গাধার উপর সওয়ার হয়ে এলাম, তখন আমি ছিলাম সাবালক হবার নিকটবর্তী। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে দেয়াল ব্যতীত অন্য কিছুকে সুতরাহ বানিয়ে মিনায় লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। কাতারের কিছু অংশ অতিক্রম করে আমি সওয়ারী হতে অবতরণ করলাম। গাধীটিকে চরাতে দিয়ে আমি কাতারে শামিল হয়ে গেলাম। আমাকে কেউই এ কাজে বাধা দেয়নি। (৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন যখন বের হতেন তখন তাঁর সম্মুখে ছোট নেযা (বল্লম) পুঁতে রাখতে নির্দেশ দিতেন। সেদিকে মুখ করে তিনি সালাত আদায় করতেন। আর লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়াতো। সফরেও তিনি তাই করতেন। এ হতে শাসকগণও এ পন্থা অবলম্বন করেছেন। (৪৯৮, ৯৭২, ৯৭৩; মুসলিম ৪/৪৭, হাঃ ৫০১, আহমাদ ৪৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে ‘বাতহা’ নামক স্থানে যুহরের দু’ রাক‘আত ও ‘আসরের দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তখন তাঁর সামনে বল্লম পুঁতে রাখা হয়েছিল। তাঁর সম্মুখ দিয়ে (সুত্রার বাইরে) নারী ও গাধা চলাচল করতো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের স্থান ও দেয়ালের মাঝখানে একটা বকরী চলার মত ব্যবধান ছিল। (৭৩৩৪; মুসলিম ৪/৪৯, হাঃ ৫০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সালামাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদের দেয়াল ছিল মিম্বারের এত নিকট যে, মাঝখান দিয়ে একটা বকরীরও চলাচল কঠিন ছিল। (মুসলিম ৪/৪৯, হাঃ ৫০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে বর্শা পুঁতে রাখা হতো, আর তিনি সেদিকে সালাত আদায় করতেন। (৪৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতার কাছ হতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ একদা দুপুরে আমাদের সামনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলেন। তাঁকে উযূর পানি দেয়া হলো। তিনি উযূ করলেন এবং আমাদের নিয়ে যুহর ও ‘আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাতের সময় তাঁর সামনে ছিল বল্লম, যার বাইরের দিক দিয়ে নারী ও গাধা চলাচল করতো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন, তখন আমি ও একজন বালক তাঁর পিছনে যেতাম। আর আমাদের সাথে থাকতো একটা লাঠি বা একটা ছড়ি অথবা একটা ছোট নেযা, আরো থাকতো একটা পানির পাত্র। তিনি তাঁর প্রয়োজন সেরে নিলে আমরা তাঁকে ঐ পাত্রটি দিতাম। (১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ জুহাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দুপুরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে তাশরীফ আনলেন। তিনি ‘বাতহা’ নামক স্থানে যোহর ও ‘আসরের সালাত দু’-দু’রাক‘আত করে আদায় করলেন। তখন তাঁর সামনে একটা লৌহযুক্ত ছড়ি পুঁতে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন উযূ করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁর উযূর পানি নিজেদের শরীরে (বরকতের জন্য) মাসেহ করতে লাগলো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ عُمَرُ الْمُصَلُّونَ أَحَقُّ بِالسَّوَارِي مِنَ الْمُتَحَدِّثِينَ إِلَيْهَا وَرَأَى عُمَرُ رَجُلاً يُصَلِّي بَيْنَ أُسْطُوَانَتَيْنِ فَأَدْنَاهُ إِلَى سَارِيَةٍ فَقَالَ صَلِّ إِلَيْهَا. ‘উমার (রাযি.) বলেনঃ বাক্যালাপে রত ব্যক্তিদের চেয়ে মুসল্লীরাই স্তম্ভ সামনে রাখার অধিক হকদার। এক সময় ইবনু ‘উমার (রাযি.) দেখলেন, এক ব্যক্তি দু’টো স্তম্ভের মাঝখানে সালাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে একটি খুঁটির নিকট এনে বললেনঃ এটি সামনে রেখে সালাত আদায় কর। ৫০২. ইয়াযীদ ইবনু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ (রাযি.)-এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নাববীর সেই স্তম্ভের নিকট সালাত আদায় করতেন যা ছিল মাসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুঁজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কী?) তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এটি খুঁজে বের করে এর নিকট সালাত আদায় করতে দেখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিশিষ্ট সাহাবীদের পেয়েছি। তাঁরা মাগরিবের সময় দ্রুত স্তম্ভের নিকট যেতেন। শু’বাহ (রাযি.) ‘আমর (রহ.) সূত্রে আনাস (রাযি.) হতে (এ হাদীসে) অতিরিক্ত বলেছেনঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসা পর্যন্ত। (৬২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ-এ প্রবেশ করেছিলেন। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামা ইবনু যায়দ (রাযি.), ‘উসমান ইবনু ত্বলহা (রাযি.) এবং বিলাল (রাযি.)। তিনি অনেকক্ষণ ভিতরে ছিলেন। অতঃপর বের হলেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাঁর পরে প্রবেশ করেছে। আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ সামনের দুই খুঁটির মধ্যখানে। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর উসামা ইবনু যায়দ, বিলাল এবং ‘উসমান ইবনু তালহা হাজাবী (রাযি.) কা‘বায় প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রবেশের সাথে সাথে ‘উসমান (রাযি.) কা‘বার দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ ভিতরে ছিলেন। বিলাল (রাযি.) বের হলে আমি তাঁকে বললামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করলেন? তিনি বললেনঃ একটা খুঁটি বাম দিকে, একটা খুঁটি ডান দিকে আর তিনটা খুঁটি পেছনে রাখলেন। আর তখন বায়তুল্লাহ ছিল ছয়টি খুঁটি বিশিষ্ট। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইসমাঈল (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন যে, তাঁর (নবীর) ডান পাশে দু’টো স্তম্ভ ছিল। (৩৯৭; মুসলিম ১৫/৬৮, হাঃ ১৩২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) যখন কা‘বা শরীফে প্রবেশ করতেন তখন সামনের দিকে চলতে থাকতেন এবং দরজা পেছনে রাখতেন। এভাবে এগিয়ে গিয়ে যেখানে তাঁর ও দেওয়ালের মাঝে প্রায় তিন হাত পরিমাণ ব্যবধান থাকতো, সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। তিনি সে স্থানেই সালাত আদায় করতে চাইতেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন বলে বিলাল (রাযি.) তাঁকে খবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ কা’বা ঘরে যে-কোন প্রান্তে ইচ্ছা, সালাত আদায় করাতে আমাদের কারো কোন দোষ নেই। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। [রাবী নাফি‘ (রহ.) বলেন] আমি [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) কে] জিজ্ঞেস করলামঃ যখন সওয়ারী নড়াচড়া করতো তখন (তিনি কী করতেন?) তিনি বলেনঃ তিনি তখন হাওদা নিয়ে সোজা করে নিজের সামনে রাখতেন, আর তার শেষাংশের দিকে সালাত আদায় করতেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন]: ইবনু ‘উমার (রাযি.)-ও তা করতেন। (৪৩০; মুসলিম ৪/৪৭, হাঃ ৫০২, আহমাদ ৪৪৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর, গাধার সমান করে ফেলেছ! আমি নিজে এ অবস্থায় ছিলাম যে, আমি চৌকির উপর শুয়ে থাকতাম আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে চৌকির মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন। এভাবে আমি সামনে থাকা পছন্দ করতাম না। তাই আমি চৌকির পায়ের দিকে সরে গিয়ে চুপি চুপি নিজের লেপ হতে বেরিয়ে পড়তাম। (৩৮০/৩৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৯৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَرَدَّ ابْنُ عُمَرَ فِي التَّشَهُّدِ وَفِي الْكَعْبَةِ وَقَالَ إِنْ أَبَى إِلاَّ أَنْ تُقَاتِلَهُ فَقَاتِلْهُ. ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাশাহহুদে বসা অবস্থায় এবং কা‘বা শরীফেও (অতিক্রমকারীকে) বাধা দিয়েছেন এবং তিনি বলেন, সে অতিক্রম করা হতে বিরত থাকতে অস্বীকার করে লড়তে চাইলে মুসল্লী তার সাথে লড়বে। ৫০৯, আবূ মা‘মার (রহ.) ও আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহ.) .... আবূ সালেহ সাম্মান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে দেখেছি। তিনি জুমু‘আর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত আদায় করছিলেন। আবু মু‘আইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে, তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এজন্যে সে পুনরায় তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবারে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) প্রথমবারের চেয়ে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-ও মারওয়ানের নিকট গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা‘ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কী ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরাং রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান। (৩২৭৪; মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৫০৫, আহমাদ ১১২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
বুসর ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, যায়দ ইবনু খালিদ (রাযি.) তাঁকে আবূ জুহায়ম (রাযি.)-এর নিকট পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কী শুনেছেন। তখন আবূ জুহায়ম (রাযি.) বললেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানতো এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো। আবুন-নাযর (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন। (মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৭৫০৭, আহমাদ ১৭৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَكَرِهَ عُثْمَانُ أَنْ يُسْتَقْبَلَ الرَّجُلُ وَهُوَ يُصَلِّي وَإِنَّمَا هَذَا إِذَا اشْتَغَلَ بِهِ فَأَمَّا إِذَا لَمْ يَشْتَغِلْ فَقَدْ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مَا بَالَيْتُ إِنَّ الرَّجُلَ لاَ يَقْطَعُ صَلاَةَ الرَّجُلِ. ‘উসমান (রাযি.) সালাতরত অবস্থায় কাউকে সামনে রাখা মাকরূহ মনে করতেন। এ হুকুম তখনই প্রযোজ্য যখন তা মুসল্লীকে অন্যমনস্ক করে দেয়। কিন্তু যখন অন্যমনস্ক করে না, তখনই যায়দ ইব্নু সাবিত (রাযি.)-এর মতানুসারে কোন ক্ষতি নেই। তিনি বলেনঃ একজন আরেকজনের সালাত নষ্ট করতে পারে না। ৫১১. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী জিনিসের আলোচনা করা হল। লোকেরা বললোঃ কুকুর, গাধা ও মহিলা সালাত নষ্ট করে দেয়। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুরের সমান করে দিয়েছ! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সালাত আদায় করছেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝে চৌকির উপর কাত হয়ে শুয়ে থাকতাম। কোন কোন সময় আমার বের হবার দরকার হতো এবং তাঁর সামনের দিকে যাওয়া অপছন্দ করতাম। এজন্যে আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম। আ‘মাশ (রহ.) ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিত্র পড়ার সময় তিনি আমাকেও জাগাতেন, তখন আমিও বিত্র পড়তাম। (৩৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে শুয়ে থাকতাম আর আমার পা দু’টো থাকত তাঁর কিবলার দিকে। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে টোকা দিতেন, আর আমি আমার পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দু’টো প্রসারিত করে দিতাম।‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ তখন ঘরে কোন বাতি ছিল না। (৩৮২/৫৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী কুকুর, গাধা ও নারী সম্বন্ধে আলোচনা চলছিল।‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছ? আল্লাহর কসম! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তখন আমি চৌকির উপরে তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে ছিলাম। আমার প্রয়োজন হলে আমি তার সামনে বসা খারাপ মনে করতাম। তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কষ্ট হতে পারে। আমি তাঁর পায়ের পাশ দিয়ে চুপিসারে বের হয়ে যেতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠে সালাতে দাঁড়াতেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে আড়াআড়িভাবে তাঁর পরিজনদের বিছানায় শুয়ে থাকতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেয়ে যয়নবের গর্ভজাত ও আবুল আস ইবনু রাবী‘আহ ইবনু ‘আবদ শামস (রহ.)-এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ (রাযি.)-কে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন। (৫৯৯৬; মুসলিম ৫/৯, হাঃ ৫৪৩, আহমাদ ২২৬৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার বিছানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুসাল্লার বরাবর ছিল। আর আমি আমার বিছানায় থাকা অবস্থায় কোন কোন সময় তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর এসে পড়তো। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর পাশে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর পড়তো। সে সময় আমি ঋতুমতী ছিলাম। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সমান করে বড়ই খারাপ করেছ। অথচ আমি নিজেকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের সময় আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করার ইচ্ছা করতেন তখন আমার পা দু’টোতে টোকা মারতেন আর আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার নিকটে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর কুরাইশের একদল তাদের মাজলিসে উপবিষ্ট ছিল। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বললঃ তোমরা কি এই রিয়াকারকে লক্ষ করছ না? তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে অমুক গোত্রের উট যবহ্ করার স্থান পর্যন্ত যেতে পার? সেখান হতে গোবর, রক্ত ও নাড়িভুড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষা করবে। যখন তিনি সাজদায় যাবেন, তখন এগুলো তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিবে। এ কাজের জন্য তাদের চরম দুর্ভাগা ব্যক্তি (‘উক্ববাহ ইবনু আবূ মু‘আইত) উঠে দাঁড়াল (এবং তা নিয়ে আসলো)। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদায় গেলেন তখন সে তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে সেগুলো রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির রয়ে গেলেন। এতে তারা পরস্পর হাসাহাসি করতে লাগলো। এমনকি হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর লুটোপুটি করতে লাগল। (এ অবস্থা দেখে) এক ব্যক্তি ফাতিমাহ (রাযি.)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি দৌড়ে চলে এলেন। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির ছিলেন। অবশেষে তিনি [ফাতিমাহ (রাযি.)] সেগুলো তাঁর উপর হতে ফেলে দিলেন এবং মুশরিকদের লক্ষ্য করে তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর। ’’ হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ ‘‘আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ অতঃপর তিনি নাম নিয়ে বললেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি ‘আমার ইবনু হিশাম, ‘উত্বাহ ইবনু রাবী‘আহ, শায়বাহ ইবনু রাবী‘আহ, ওয়ালীদ ইবনু ‘উত্বাহ, উমায়্যাহ ইবনু খালাফ, ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু‘আইত এবং ‘উমারাহ ইবনু ওয়ালীদকে ধ্বংস কর।’’ ‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)] বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এদের সকলকেই বদরের দিন নিহত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বাদ্র কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এই কুয়াবাসীদের উপর চিরস্থায়ী অভিসম্পাত। (২৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)