অল ইসলাম লাইব্রেরি

74 - পানীয়

1

(إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ) হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া আর আস্তানা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণিত শয়তানী কাজ, তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পার। সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫ঃ ৯০) ৫৫৭৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করেছে অতঃপর তাত্থেকে তওবা করেনি, সে আখিরাতে তাত্থেকে বঞ্চিত থাকবে। [মুসলিম ৩৬/৮, হাঃ ২০০৩, আহমাদ ৪৬৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

2

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসরা (মি‘রাজের) রাতে ঈলিয়া নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে শরাব ও দুধের দু’টি পেয়ালা পেশ করা হল। তিনি উভয়টির প্রতি লক্ষ্য করলেন। এরপর দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল (আ.) বললেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত দ্রব্যের দিকে পথ প্রদর্শন করেছেন। অথচ যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। [1] [৩৩৯৪] যুহরী (রহ.) থেকে মা’মার, ইবনু হাদী, ‘উসমান, ইবনু ‘উমার ও যুবাইদী এরকম বর্ণনা করেছেন। আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

3

মুসলিম ইবনু ইবরাহীম (রহ.) ..... আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে এমন একটি হাদীস শুনেছি, যা আমি ছাড়া আর কেউ তোমাদের বর্ণনা করবে না। তিনি বলেন, কিয়ামতের কতক নিদর্শন হলঃ অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে, ইলম (দ্বীনী) হ্রাস পাবে, ব্যভিচার প্রকাশ হতে থাকবে, মদ্যপান ব্যাপক হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে আর নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, এমনকি, পঞ্চাশ জন নারীর পরিচালক হবে একজন পুরুষ। [৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

4

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময়ে মু’মিন থাকে না, মদ পানকারী মদ পান করার সময়ে মু’মিন থাকে না। চোর চুরি করার সময়ে মু’মিন থাকে না। ইবনু শিহাব বলেনঃ ‘আবদুল মালিক ইবনু আবূ বাকর ইবনু হারিস ইবনু হিশাম আমাকে জানিয়েছে যে, আবূ বাকর এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আবূ বাকর উপরোক্ত হাদীসের সাথে এটিও যোগ করতেন যে, মূল্যবান জিনিস, যার দিকে লোকজন চোখ উঁচিয়ে তাকিয়ে থাকে, ছিনতাইকারী তা ছিনতাই করার সময়ে মু’মিন থাকে না।[২৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

5

হাসান ইবনু সাববাহ্ (রহঃ) ... ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম ঘোষিত হয়েছে এমন অবস্থায় যে, মদিনা্য় আঙ্গুরের মদের কিছু অবশিষ্ট ছিল না। [৪৬১৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

6

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের উপর মদ হারাম হল, তখন আমরা মদিনায় আঙ্গুর থেকে তৈরী মদ খুব কম পেতাম। সাধারণভাবে আমাদের মদ ছিল কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

7

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলেনঃ অতঃপর জেনে রাখ মদ হারাম করে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা তৈরী হয় পাঁচ রকম জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। আর মদ হল, যা বুদ্ধিকে বিলোপ করে। [৪৬১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

8

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ‘উবাইদাহ, আবূ ত্বলহা ও উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করতে দিয়েছিলাম। এমন সময়ে তাদের নিকট এক আগন্তুক এসে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আনাস! দাঁড়াও আর এগুলো গড়িয়ে দাও। আমি তখন তা গড়িয়ে দিলাম। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

9

মু‘তামির তার পিতার সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ একটি আসরে দাঁড়িয়ে আমি তাদের অর্থাৎ চাচাদের ‘ফাযীখ’ অর্থাৎ কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম সবার ছোট। এমন সময় বলা হলঃ মদ হারাম করা হয়েছে। তখন তাঁরা বললেনঃ তা গড়িয়ে দাও। সুতরাং আমি তা ঢেলে দিলাম। রাবী বলেন, আমি আনাস -কে বললামঃ তাঁদের শরাব কিসের ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে তৈরী। তখন আনাস (রাঃ)-এর পুত্র আবূ বাকর বললেনঃ সেটিই কি ছিল তাদের মদ? জবাবে আনাস কোন অসম্মতি জানালেন না। [২৪৬৪] রাবী আরো বলেন, আমার কতক সঙ্গী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আনাস থেকে শুনেছেন তিনি বলেছেন, সেকালে এটিই তাদের মদ ছিল। আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

10

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মদ হারাম করা হয়েছে। আর সেকালে মদ তৈরী হত কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

11

وَقَالَ مَعْنٌ سَأَلْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنِ الْفُقَّاعِ فَقَالَ إِذَا لَمْ يُسْكِرْ فَلاَ بَأْسَ وَقَالَ ابْنُ الدَّرَاوَرْدِيِّ سَأَلْنَا عَنْه“ فَقَالُوا لاَ يُسْكِرُ لاَ بَأْسَ بِهِ. মা’ন (রহ.) বলেন, আমি মালিক ইবনু আনাসকে ‘ফুক্কা’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেনঃ নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবনু দারাওয়ারদী বলেন, আমরা এ সম্পর্কে অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন, নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে আপত্তি নেই। ৫৫৮৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘বিতা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় পানীয় হারাম। [২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

12

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘বিতা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। ‘বিতা’ হচ্ছে মধু হতে তৈরী নবীয। ইয়ামানের লোকেরা তা পান করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে সকল পানীয় নেশার সৃষ্টি করে তা-ই হারাম। যুহরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দুব্বা (কদূর খোল) এর মধ্যে নবীয তৈরী করবে না, মুযাফফাত (আলকাতরা যুক্ত পাত্র)’র মধ্যেও করবে না। [২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

13

যুহরী বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এগুলোর সঙ্গে হান্তাম (মাটির সবুজ পাত্র) ও নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূলের খোল) এর কথাও যোগ করতেন। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯২, ১৯৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

14

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘উমার (রাঃ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, নিশ্চয় মদ হারাম সম্পর্কীয় আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা প্রস্তুত হয় পাঁচটি জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, গম, যব ও মধু। আর খামর মদ) হল তা, যা বিবেক লোপ করে দেয়। আর তিনটি এমন বিষয় আছে যে, আমি চাচ্ছিলাম যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা না করা পর্যন্ত তিনি যেন আমাদের নিকট হতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যান। বিষয়গুলো হল, দাদার মীরাস, কালালার ব্যাখ্যা এবং সুদের প্রকারসমূহ। রাবী আবূ হাইয়্যান বলেন, আমি বললামঃ হে আবূ আমর! এক প্রকারের পানীয় জিনিস যা সিন্ধু অঞ্চলে চাউল দিয়ে তৈরী করা হয়, তার হুকুম কী? তিনি বললেনঃ সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আমলে ছিল না। কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেটি ‘উমার -এর আমলে ছিল না। হাম্মাদ সূত্রে আবূ হাইয়্যান থেকে হাজ্জাজ الْعِنَبِ আঙ্গুর) এর জায়গায় الزَّبِيب কিসমিস) বলেছেন। [৪৬১৯; মুসলিম ৫৪০/৬, হাঃ ৩৩২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

15

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদ প্রস্তুত করা হয় পাঁচটি বস্ত্ত থেকে। সেগুলো হলঃ কিসমিস, খেজুর, গম, যব ও মধু। [মুসলিম ৫৪/৬, হাঃ ৩০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

16

‘আবদুর রহমান ইবনু গানাম আশ’আরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমির কিংবা আবূ মালিক আশ’আরী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। তেমনি এমন অনেক দল হবে, যারা পাহাড়ের ধারে বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের নিকট কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা বলবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধ্বসিয়ে দেবেন, আর বাকী লোকদেরকে তিনি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

17

সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসাইদ সা‘ঈদী (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বিয়ের দাওয়াত দিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী নববধূ তাঁদের মধ্যে পরিবেশনকারিণী ছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা কি জান আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী জিনিস পান করতে দিয়েছিলাম? তিনি বলেন) আমি রাতেই কয়েকটি খেজুর একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। [৫১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

18

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতগুলো পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। তখন আনসারগণ বললেনঃ সেগুলো ছাড়া আমাদের কোন গত্যন্তর নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ব্যবহার করতে পার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৮) খালীফাহ বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ আমাদের কাছে সুফ্ইয়ান, মানসূর, সালিম ইবনু আবুল জাদ-জাবির (রহ.) থেকে এরকমই বর্ণনা করেন। )আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

19

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রকমের পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলা হল, সব মানুষের নিকট তো মশক মওজুদ নেই। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কলসীর জন্য অনুমতি দেন, তবে আলকাতরার প্রলেপ দেয়া পাত্রের জন্য অনুমতি দেননি। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ২০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

20

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা ও মুযাফফাত ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। ‘উসমান (রহ.) বলেন, জারীর (রহ.) সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৪, আহমাদ ৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

21

ইবরাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে ‘নবীয’ তৈরী করা মাকরূহ। তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বলেছিলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন? তখন তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অর্থাৎ আহলে বায়তকে দুব্বা ও মুযাফফাত নামক পাত্রে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন। (ইবরাহীম বলেন) আমি বললামঃ ‘আয়িশাহ (রাঃ) কি জার (মাটির কলসী) ও হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র) এর কথা উল্লেখ করেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বর্ণনা করেছি। আমি যা শুনিনি তাও কি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব? [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৫, আহমাদ ২৪২৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

22

মূসা বিন ইসমাঈল (রহ.) ...... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবুজ রং এর কলসী ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আমি বললামঃ তাহলে সাদা রং এর পাত্রে (নবীয) পান করা যাবে কি? তিনি বললেনঃ না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

23

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ উসাইদ সা‘ঈদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ওলীমার দাওয়াত করেছিলেন। সেদিন তার স্ত্রী নববধু অবস্থায় সবার খিদমত করছিলেন। তিনি বললেনঃ আপনারা কি জানেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিসের রস পান করতে দিয়েছিলাম? আমি তাঁর জন্য রাতে কতকগুলো খেজুর পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। [৫১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

24

وَمَنْ نَهٰى عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ مِنَ الأَشْرِبَةِ وَرَأٰى عُمَرُ وَأَبُو عُبَيْدَةَ وَمُعَاذٌ شُرْبَ الطِّلاَءِ عَلٰى الثُّلُثِ وَشَرِبَ الْبَرَاءُ وَأَبُو جُحَيْفَةَ عَلٰى النِّصْفِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اشْرَبْ الْعَصِيرَ مَا دَامَ طَرِيًّا وَقَالَ عُمَرُ وَجَدْتُ مِنْ عُبَيْدِ اللهِ رِيحَ شَرَابٍ وَأَنَا سَائِلٌ عَنْه“ فَإِنْ كَانَ يُسْكِرُ جَلَدْتُهُ. এবং যারা নেশা সৃষ্টিকারী সকল পানীয় নিষিদ্ধ বলেন তার বর্ণনা। ‘উমার, আবূ ‘উবাইদাহ ও মু‘আয ‘তিলা’ অর্থাৎ আঙ্গুরের যে রসকে পাকিয়ে এক-তৃতীয়াংশ করা হয়েছে, তা পান করা জায়িয মনে করেন। বারা ও আবূ জুহাইফাহ পাকিয়ে অর্ধেক থাকতে রস পান করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস বলেছেনঃ আমি তাজা অবস্থার আঙ্গুরের রস পান করেছি। ‘উমার বলেছেনঃ আমি উবাইদুল্লাহর মুখ হতে শরাবের গন্ধ পেয়েছি এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসও করেছি। যদি তা নেশার সৃষ্টি করত, তাহলে আমি বেত্রাঘাত করতাম। ৫৫৯৮. আবুল জুওয়াইরিয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ‘বাযাক’ সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তর দিলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বাযাক’ উৎপাদনের আগে বিদায় হয়ে গেছেন। কাজেই যে বস্ত্ত নেশা জন্মায় তা-ই হারাম। তিনি বলেনঃ হালাল পানীয় পবিত্র। তিনি বলেন, হালাল ও পবিত্র পানীয় ছাড়া অন্যসব পানীয় ঘৃণ্য হারাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

25

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

26

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বলহা, আবূ দুজনা এবং সুহাইল ইবনু বাইযা (রাঃ)-কে কাঁচা ও শুকনো খেজুরের মেশানো রস পান করাচ্ছিলাম। এ সময়ে মদ হারাম করা হল, তখন আমি তা ফেলে দিলাম। আমি ছিলাম তাঁদের পরিবেশনকারী এবং তাঁদের সবার ছোট। সে সময় আমরা এটিকে মদ গণ্য করতাম। ‘আমর ইবনু হারিস বলেনঃ ক্বাতাদাহ (রহ.) আমাদের নিকট عَنْ أَنَسٍ এর স্থলে سَمِعَ أَنَساً বর্ণনা করেছেন। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

27

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসমিস, শুকনো খেজুর, কাঁচা ও পাকা খেজুর মিশাতে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম ৩৬/৫, হাঃ ১৯৮৬, আহমাদ ১৪২০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

28

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুরমা ও আধাপাকা খেজুর এবং খুরমা ও কিসমিস একত্র করতে নিষেধ করেছেন। আর এগুলোর প্রত্যেকটিকে আলাদাভাবে ভিজিয়ে ‘নবীয’ তৈরী করা যাবে। [মুসলিম ৩৬/৫, হাঃ ১৯৮৮, আহমাদ ২২৬৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

29

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِلشَّارِبِينَ). মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘পান করাই ওদের পেটের গোবর আর রক্তের মাঝ থেকে বিশুদ্ধ দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্য খুবই উপাদেয়।’[1] (নাহল ১৬ঃ ৬৬) ৫৬০৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভ্রমণ করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে পেশ করা হয়েছিল দুধের একটি পেয়ালা এবং শরাবের একটি পেয়ালা। [৩৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

30

উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিয়াম পালনের ব্যাপারে লোকেরা সন্দেহ করে। তখন আমি তাঁর নিকট দুধ ভর্তি একটি পেয়ালা পাঠালাম। তিনি তা পান করলেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান অনেক সময় এভাবে বলতেন, আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিয়াম পালন সম্পর্কে লোকেরা সন্দেহ করছিল। তখন উম্মুল ফাযল (রাঃ) তাঁর কাছে দুধ পাঠিয়েছিলেন। হাদীসটি মাউসূল না মুরসাল, এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, এটি উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত। [১৬৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

31

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ এক বাটী দুধ নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এটিকে ঢাকলে না কেন? একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার। [৫৬০৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

32

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ নামক এক আনসারী নাফি' নামক জায়গা থেকে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এটিকে ঢেকে আননি কেন? এর উপর একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার। আবূ সুফ্ইয়ান (রহ.) এ হাদীসটি জাবির সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৫৬০৫; মুসলিম ৩৬/১২, হাঃ ২০১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

33

বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাকর। আবূ বাকর (রাঃ) বলেনঃ আমরা এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন খুব পিপাসার্ত। আবূ বাকর (রাঃ) বলেনঃ আমি তখন একটি পাত্রে ভেড়ার দুধ দুইলাম। তিনি তা পান করলেন, আমি খুব খুশি হলাম। এমন সময় সুরাকা ইবনু জু’শুম একটি ঘোড়ার উপর চড়ে আমাদের কাছে আসলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বদ দু‘আ করতে চাইলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরয করল, যেন তিনি তার জন্য বদ দু‘আ না করেন এবং সে যেন নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন। [২৪৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

34

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম সদাকাহ হল উপহার স্বরূপ দেয়া দুধেল উটনী কিংবা দুধেল বকরী, যা সকালে একটি পাত্র পূর্ণ করে আর বিকালে পূর্ণ করে আরেকটি। [২৬২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

35

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধপান করেছেন, এরপর তিনি কুলি করেছেন এবং বলেছেনঃ এর মধ্যে তৈল আছে। [২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৯১), ইসলামিক ফাউন্ডেশন

36

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সম্মুখে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ তুলে ধরা হল। তখন দেখলাম চারটি নহর। দু’টি নহর হল যাহেরী, আর দু’টি নহর হল বাতেনী। যাহেরী দু’টি হল, নীল ও ফোরাত। আর বাতেনী দু’টি হল, জান্নাতের দু’টি নহর। আমার সম্মুখে তিনটি পেয়ালা তুলে ধরা হল, একটি পেয়ালায় আছে দুধ, একটি পেয়ালায় আছে মধু আর একটিতে শরাব। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করলাম এবং পান করলাম। তখন আমাকে বলা হল, আপনি এবং আপনার উম্মাত স্বভাবজাত বস্ত্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁরা তিনটি পেয়ালার কথা উল্লেখ করেননি। [৩৫৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৯৯২), ইসলামিক ফাউন্ডেশন

37

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ত্বলহা (রাঃ)ছিলেন মদিনার আনসারদের মধ্যে সবার চেয়ে অধিক খেজুর গাছের মালিক। আর তাঁর নিকট তাঁর প্রিয় সম্পত্তি ছিল ‘বাইরুহা’ নামক বাগানটি। সেটি ছিল মসজিদে নববীর ঠিক সামনে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাগানে যেতেন এবং সেখানকার উৎকৃষ্ট পানি পান করতেন।’ আনাস (রাঃ) বলেন, যখন আয়াত অবতীর্ণ হলঃ ‘তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৯২)। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ ‘তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না’ - আর আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হল ‘বাইরুহা’ বাগান। এটিকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সদাকাহ করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব এবং সঞ্চয় আশা করি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটিকে গ্রহণ করুন, আল্লাহর ইচ্ছেয় যেখানে ব্যয় করতে আপনি ভাল মনে করেন, সেখানে ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুব ভাল, এটিতো লাভজনক (কিংবা বলেছেন) মুনাফা দানকারী। কথাটিতে রাবী ‘আবদুল্লাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। তবে আমি ভাল মনে করি যে, তুমি এটিকে আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করে দেবে। আবূ ত্বলহা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। এরপর আবূ ত্বলহা বাগানটি তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে এবং তাঁর চাচাত ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।ইসমাঈল ও ইয়াহ্ইয়া رَابِحٌ এর জায়গায় رَايِحٌ বলেছেন। [১৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

38

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বাড়ীতে এসে দুধ পান করতে দেখেন। আনাস(রাঃ) বলেন, আমি একটি ছাগী দোহন করলাম এবং কূপের পানি মিশিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করলাম। তিনি পেয়ালাটি নিয়ে পান করেন। তাঁর বাঁদিকে ছিলেন আবূ বাকর ও ডানদিকে ছিল এক বেদুঈন। তিনি বেদুঈনকে তাঁর অতিরিক্ত দুধ দিলেন। এরপর বললেনঃ ডান দিকের আছে অগ্রাধিকার। [২৩৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

39

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক লোকের কাছে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর এক সাহাবী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীকে বললেনঃ তোমার কাছে যদি মশকে রাখা গত রাতের পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাও। আর না থাকলে আমরা সামনে গিয়ে পান করব। রাবী বলেন, লোকটি তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে গত রাতের পানি আছে। আপনি কুটীরে চলুন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি তাঁদের দু’জনকে নিয়ে গেল এবং একটি পেয়ালায় পানি নিয়ে তাতে তার একটা বক্রীর দুধ দোহন করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তাঁর সাথে আগন্তুক লোকটিও পান করলেন। [৫৬২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

40

وَقَالَ الزُّهْرِيُّ لاَ يَحِلُّ شُرْبُ بَوْلِ النَّاسِ لِشِدَّةٍ تَنْزِلُ، لأَنَّهُ رِجْسٌ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ)، وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ فِي السَّكَرِ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِيمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ. যুহরী (রহ.) বলেছেন, ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হলেও মানুষের পেশাব পান করা হালাল নয়। কেননা, পেশাব অপবিত্র। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদঃ ‘‘তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সকল পবিত্র জিনিস।’’ সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ৪ ও ৫) ইবনু মাস‘ঊদ নেশাদ্রব্য সম্পর্কে বলেছেনঃ আল্লাহ তোমাদের উপর যে সব বস্ত্ত হারাম করেছেন তাতে তোমাদের জন্য কোন রোগমুক্তির উপাদান নেই। ৫৬১৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্রব্য ছিল মিষ্টিদ্রব্য ও মধু। [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

41

নাযযাল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফা মসজিদের ফটকে ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট পানি আনা হলে তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তোমরা আমাকে যেমনভাবে পান করতে দেখলে তিনিও তেমনি করেছেন। [৫৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

42

নাযযাল ইবনু সাবরা হতে বর্ণিত। তিনি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি মানুষের নানান প্রয়োজনে কূফা মসজিদের চত্বরে বসে পড়লেন। অবশেষে ‘আসরের সালাত আদায়ের সময় হয়ে গেল। তখন পানি আনা হল। তিনি পানি পান করলেন এবং নিজের মুখমন্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। বর্ণনাকারী আদম এখানে তাঁর মাথা ও দু’ পায়ের কথা উল্লেখ করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন এরপর ‘আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় অযূর উদ্বৃত্ত পানি পান করে নিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজন দাঁড়িয়ে পান করাকে ঘৃণা করে, অথচ আমি যেমন করেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তেমন করেছেন। [৫৬১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

43

আবূ নু‘আইম (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করেছেন। [১৬৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

44

উম্মুল ফাযল বিনতু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে বিকালে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে পেয়ালাটি নিলেন এবং তা পান করলেন। [১৬৫৮] আবুন নাযর থেকে মালিক عَلٰى بَعِيرِه (তাঁর উটের উপর ছিলেন) কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

45

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে পানি মেশানো দুধ পেশ করা হল। তাঁর ডান পার্শ্বে ছিল এক বেদুঈন ও বাম পার্শ্বে ছিলেন আবূ বাকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন। তারপর বেদুঈন লোকটিকে তা দিয়ে বললেনঃ ডানের লোকের অধিকার আগে। এরপর তার ডানের লোকের। [২৩৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

46

সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শরবত পেশ করা হল, তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানে ছিল একটি বালক, আর বামে ছিলেন কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকটিকে বললেনঃ তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে যে, আমি ঐ বয়স্ক লোকদের আগে পান করতে দেই? বালকটি বললঃ আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট হতে আমার ভাগ পাওয়ার ব্যাপারে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দেব না। রাবী বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পেয়ালাটি তার হাতে তুলে দিলেন। [২৩৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

47

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক লোকের নিকট গেলেন। তাঁর সাথে ছিল তাঁর এক সাহাবী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবী সালাম দিলে লোকটি সালামের জবাব দিল। এরপর সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা কুরবান! এটি ছিল প্রচন্ড গরমের সময়। এ সময় লোকটি তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তোমার কাছে গতরাতের মশ্কে রাখা পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাতে পার। তা নাহলে আমরা আমাদের সামনের পানি থেকে পান করে নেব। তখন লোকটি বাগানে পানি দিচ্ছিল। এরপর লোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে গতরাতে মশ্কে রাখা পানি আছে। এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুটীরে নিয়ে গেল। একটি পাত্রে কিছু পানি ঢেলে তাতে ঘরে পোষা বকরীর দুধ দোহন করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন। এরপর সে আবার দোহন করল। তখন তাঁর সঙ্গে যিনি এসেছিলেন তিনি তা পান করলেন। [৫৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

48

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার বংশের লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদেরকে অর্থাৎ আমার চাচাদেরকে ‘ফাযীখ’ নামক শরাব পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম তাঁদের মাঝে সবার চেয়ে ছোট। এমন সময় বলা হলঃ শরাব হারাম হয়ে গেছে। তাঁরা বললেনঃ এ শরাবগুলো ঢেলে দাও। আমি তা ঢেলে দিলাম। বর্ণনাকারী (সুলাইমান তাইমী) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ তাদের শরাব কী দিয়ে তৈরী ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুরের তৈরী। আনাস (রাঃ)-এর পুত্র আবূ বাকর বললেন, এটিই ছিল তাঁদের যুগের শরাব। তাতে আনাস (রাঃ) কোন অসম্মতি ব্যক্ত করেননি। [২৪৬৪] সুলাইমান বলেন, আমার কতক বন্ধু আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছেনঃ সে যুগে এটিই ছিল তাঁদের শরাব। আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

49

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকে রাখ। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু অংশ অতিক্রম করলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে। কেননা, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে, কমপক্ষে পাত্রগুলোর উপর কোন বস্ত্ত আড়াআড়ি করে রেখেও। আর (শয্যা গ্রহণের সময়) তোমরা তোমাদের প্রদীপগুগুলো নিভিয়ে দেবে। [৩২৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

50

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন ঘুমাবে তখন বাতি নিভিয়ে দেবে, দরজাগুলো বন্ধ করবে, মশকের মুখ বন্ধ করবে, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি ঢেকে রাখবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি আরো বলেছেন, কমপক্ষে একটি কাঠ আড়াআড়ি করে পাত্রের উপর রেখে দেবে। [৩২৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

51

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ খুলে, তাতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। [৫৬২৬; মুসলিম ৩৬/১৩, হাঃ ২০২৩, আহমাদ ১১৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

52

(আবূ সাইদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘ইখ্তিনাসিল আসকিয়া’ মশ্কের মুখ খুলে তাতে মুখ লাগিয়ে পান করা) হতে নিষেধ করতে শুনেছি। ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, মা‘মার কিংবা অন্য কেউ বলেছেন, ‘ইখ্তিনাস’ হল মশ্কের মুখে মুখ লাগিয়ে তাত্থেকে পানি পান করা। [৫৬২৫; মুসলিম ৩৬/১৪, হাঃ ২০২৩, আহমাদ ১১৬৬২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

53

আইউব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইকরামাহ (রহঃ) আমাদের বললেন, আমি তোমাদের সংক্ষিপ্ত এমন কতকগুলো কথা জানাব কি যেগুলো আমাদের কাছে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন? (তা হল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় কিংবা ছোট মশকের মুখে পানি পান করতে এবং প্রতিবেশীকে তার দেয়ালের উপর খুঁটি গাড়ার ব্যাপারে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন। [1] [২৪৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

54

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ থেকে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। [২৪৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

55

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ থেকে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

56

‘আবদুল্লাহর পিতা আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন পানি পান করবে সে যেন তখন পানির পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে। আর তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করে, সে যেন ডান হাতে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং তোমাদের কেউ যখন শৌচ কার্য করে তখন সে যেন ডান হাতে তা না করে। [1] [১৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

57

সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি দুই কিংবা তিন নিঃশ্বাসে পাত্র হতে পানি পান করতেন। তিনি মনে করতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

58

ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা (রাঃ) মাদায়েন অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি পানি পান করতে চাইলেন। তখন এক গ্রামবাসী একটি রূপার পাত্রে পানি এনে তাঁকে দিল। তিনি পানি সহ পেয়ালাটি ছুঁড়ে মারলেন। এরপর তিনিবললেনঃ আমি এটি ছুঁড়ে ফেলতাম না, কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করার পরও সে তাত্থেকে বিরত হয়নি। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করেছেন মোটা ও পাতলা রেশমের কাপড় পরতে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের পান-পাত্র ব্যবহার করতে। তিনি আরো বলেছেনঃ উল্লেখিত বস্ত্তগুলো হ’ল দুনিয়াতে কাফির সম্প্রদায়ের জন্য; আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

59

ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফা (রাঃ)-এর সঙ্গে বাইরে বের হলাম। এ সময় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা আলোচনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্য পাত্রে পান করবে না। আর মোটা বা পাতলা রেশম বস্ত্র পরিধান করবে না। কেননা, এগুলো দুনিয়াতে তাদের (অর্থাৎ অমুসলিমদের) জন্য ভোগ্যবস্তু। আর তোমাদের জন্য হল আখিরাতের ভোগ্য বস্ত্ত। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

60

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে সে তো তার উদরে জাহান্নামের অগ্নি প্রবিষ্ট করায়। [মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৫, আহমাদ ২৬৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

61

বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা শুশ্রুষা করতে, জানাযার পেছনে যেতে, হাঁচি প্রদানকারীর জবাব দিতে, দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ করতে, সালামের প্রসার ঘটাতে, অত্যাচারিতকে সাহায্য করতে এবং শপথকারীকে শপথ রক্ষার সুযোগ করে দিতে। আর আমাদের তিনি নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, কিংবা তিনি বলেছেন, রৌপ্য পাত্রে পানি পান করতে, মায়াসির অর্থাৎ এক প্রকার নরম ও মসৃন রেশমী কাপড় কালসী অর্থাৎ রেশম মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করতে এবং পাতলা কিংবা মোটা এবং অলঙ্কার খচিত রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে। [১২৩৯; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৬, আহমাদ ১৮৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

62

উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন ‘আরাফাহ’র দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিয়াম পালন সম্পর্কে সন্দেহ করল। তখন আমি তাঁর নিকট একটি পেয়ালায় কিছু দুধ পাঠালাম। তিনি তা পান করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

63

وَقَالَ أَبُو بُرْدَةَ قَالَ لِي عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلاَمٍ أَلاَ أَسْقِيكَ فِي قَدَحٍ شَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ. আবূ বুরদাহ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) আমাকে বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে সেই পাত্রে পান করতে দেব না যে পাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করেছেন? ৫৬৩৭. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরবের এক মহিলার কথা আলোচনা করা হলে, তিনি আবূ উসাইদ সা‘ঈদী (রাঃ)-কে আদেশ দিলেন, সেই মহিলার নিকট কাউকে পাঠাতে। তখন তিনি তার নিকট একজনকে পাঠালে সে আসলো এবং সায়িদা গোত্রের দূর্গে অবতরণ করল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে তার কাছে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূর্গে তার কাছে প্রবেশ করে দেখলেন, এক স্ত্রীলোক মাথা ঝুঁকিয়ে বসে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন, তখন সে বলে উঠল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে পানাহ দিলাম। তখন লোকেরা তাকে বলল, তুমি কি জান ইনি কে? সে বললঃ না। তারা বললঃ ইনি তো আল্লাহর রাসূল। তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছিলেন। সে বলল, এ মর্যাদা থেকে আমি চিরদিনের জন্য বঞ্চিতা। এরপর সেই দিনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে গেলেন এবং তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ অবশেষে বানী সায়িদার চত্বরে এসে বসে পড়লেন। এরপর বললেনঃ হে সাহল! আমাদের পানি পান করাও। সাহল বলেন, তখন আমি তাঁদের জন্য এ পেয়ালাটিই বের করে আনি এবং তা দিয়ে তাঁদের পান করাই। বর্ণনাকারী বলেন, সাহল তখন আমাদের কাছে সেই পেয়ালা বের করে আনলে আমরা তাতে করে পানি পান করি। তিনি বলেছেনঃ পরবর্তীতে ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয তাঁর নিকট হতে সেটি দান হিসাবে পেতে চাইলে, তিনি তাঁকে তা হেবা করে দেন। [৫২৫৬; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

64

আসিম আহওয়াল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ব্যবহৃত একটি পেয়ালা দেখেছি। সেটি ফেটে গিয়েছিল। এরপর তিনি তা রূপা দিয়ে জোড়া দেন। বর্ণনাকারী আসিম বলেন, সেটি ছিল উৎকৃষ্ট, চওড়া ও নুযর কাঠের তৈরী। আসিম বলেন, আনাস বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ পেয়ালায় বহুবার পানি পান করিয়েছি। [৩১০৯] আসিম বলেন, ইবনু সীরীন বলেছেনঃ পেয়ালাটিতে বৃত্তাকারে লোহা বসানো ছিল। তাই আনাস (রাঃ) ইচ্ছে করেছিলেন, লোহার বৃত্তের জায়গায় সোনা বা রূপার একটি বৃত্ত বসাতে। তখন আবূ ত্বলহা তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বানিয়েছেন, তাতে কোন পরিবর্তন করো না। ফলে তিনি তার ইচ্ছে পরিত্যাগ করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

65

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম, তখন আসরের ওয়াক্ত। অথচ আমাদের সাথে বেঁচে যাওয়া অল্প পানি ছাড়া কিছুই ছিল না। তখন সেটুকু একটি পাত্রে রেখে পাত্রটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করা হল। তিনি পাত্রটির মধ্যে নিজের হাত প্রবেশ করালেন এবং আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে দিলেন। এরপর বললেনঃ এসো, যাদের অযূর দরকার আছে। বারাকাত তো আসে আল্লাহর নিকট হতে। জাবির বলেন, তখন আমি দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আঙ্গুলগুলোর ফাঁক থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। লোকজন অযূ করল এবং পানি পান করল। আমিও আমার পেটে যতটুকু সম্ভব ছিল ততটুকু পান করতে কসুর করলাম না। কেননা, আমি জানতাম এটি বারাকাতের পানি। রাবী বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বললামঃ সে দিন আপনারা কত জন ছিলেন? তিনি বললেনঃ এক হাজার চারশ’ জন। জাবির -এর সূত্রে ‘আমর এরকমই বর্ণনা করেছেন। সালিম, জাবিরের সূত্রের মাধ্যমে হুসাইন ও ‘আমর ইবনু মুররা চৌদ্দশ’র জায়গায় পনেরশ’র কথা বলেছেন। সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব জাবির থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৩৫৭৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন