অল ইসলাম লাইব্রেরি

61 - নবী ও সাহাবীদের মর্যাদা

1

يٰٓأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَّأُنْثٰى وَجَعَلْنٰكُمْ شُعُوْبًا وَّقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوْا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقٰكُمْ (الحجرات : 13) وَقَوْلِهِ وَاتَّقُوْا اللهَ الَّذِيْ تَسَّآءَلُوْنَ بِهٰ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبًا (النساء : 1) وَمَا يُنْهَى عَنْ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ الشُّعُوْبُ النَّسَبُ الْبَعِيْدُ وَالْقَبَائِلُ دُوْنَ ذَلِكَ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে। (আল-হুজুরাত ১৩) আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ভয় কর আল্লাহকে যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন- (আন্-নিসা ১)। এবং জাহিলীয়্যাত আমলের কথা-বার্তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে। الشُّعُوْبُ পূর্বতন বড় বংশ এবং الْقَبَائِلُ এর চেয়ে ছোট বংশ। ৩৪৮৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতে বর্ণিত الشُّعُوْبُ অর্থ বড় গোত্র এবং الْقَبَائِلُ অর্থ ছোট গোত্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে সবচেয়ে আল্লাহভীরু, সে-ই অধিক সম্মানিত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এ ধরনের কথা জিজ্ঞেস করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ)। (৩৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

3

কুলায়েব ইবনু ওয়ায়িল (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পালিতা আবূ সালমার কন্যা যায়নাবকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি বলুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মুযার গোত্রের ছিলেন? তিনি বললেন, বনু নযর ইবনু কিনানা উদ্ভুত গোত্র মুযার ব্যতীত আর কোন্ গোত্র হতে হবেন? এবং মুযার গোত্র নাযর ইবনু কিনানা গোত্রের একটি শাখা ছিল। (৩৪৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

4

কুলায়ব বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পালিতা কন্যা বলেনঃ আর আমার ধারণা তিনি হলেন যায়নাব। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর বাওশ, সবুজ মাটির পাত্র মুকাইয়ার ও মুযাফ্ফাত (আলকাতরা লাগানো পাত্র বিশেষ) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কুলায়ব বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, বলেন তো দেখি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গোত্রের ছিলেন? তিনি কি মুযার গোত্রের অন্তর্গত ছিলেন? তিনি জবাব দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযার গোত্র ব্যতীত আর কোন গোত্রের হবেন? আর মুযার নাযর ইবনু কিনানার বংশধর ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

5

আর মানুষের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্ট ঐ দু’মুখী ব্যক্তি যে একদলের সঙ্গে এক ভাবে কথা বলে, অপর দলের সঙ্গে আরেকভাবে কথা বলে। (৬০৫৮, ৭১৭৯, মুসলিম ৪৪/৪৮ হাঃ ২৫২৬, আহমাদ ১০৭৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৩ শেষাংশ)

6

আর মানব সমাজ খণির মত। জাহিলী যুগের উত্তম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও উত্তম যদি তারা দ্বীনী ইল্ম অর্জন করে। তোমরা নেতৃত্ব ও শাসনের ব্যাপারে ঐ লোককেই সবচেয়ে উত্তম পাবে যে এর প্রতি অনাসক্ত, যে পর্যন্ত না সে তা গ্রহণ করে। (৩৪৯৩, মুসলিম ৩৩/১ হাঃ ১৮১৮, আহমাদ ৯১৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৪ শেষাংশ)

7

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى এ আয়াতের প্রসঙ্গে রাবী তাউস(রহ.) বলেন যে, সায়িদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, কুরবা শব্দ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আত্মীয়কে বুঝান হয়েছে। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরাইশের এমন কোন শাখা-গোত্র নেই যাঁদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তার বন্ধন ছিল না। আয়াতটি তখনই নাযিল হয়। অর্থাৎ তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার প্রতি খেয়াল রাখ। (৪৮১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

8

আবূ মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই পূর্বদিক হতে ফিতনা-ফাসাদের উৎপত্তি হবে। নির্মমতা ও অন্তরের কাঠিন্য উট ও গরু নিয়ে ব্যস্ত লোকদের মধ্যে। পশ্মী তাঁবুর অধিবাসীরা রাবী‘আ ও মুযার গোত্রের যারা উট ও গরুর পিছনে চিৎকার করে (হাঁকায়), তাদের মধ্যেই রয়েছে নির্মমতা ও কঠোরতা। (৩৩০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

9

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, গর্ব-অহংকার পশমের তৈরি তাঁবুতে বসবাসকারী যারা (উট-গরু হাঁকানোর সময় চিৎকার করে) তাদের মধ্যে الْمَشْأَمَةُ অর্থ বাম দিক, বাম হাতকে الشُّؤْمَى এবং বাম দিককে أشْأَمُُ বলা হয়। আর শান্তভাব রয়েছে বকরী পালকদের মধ্যে। ঈমানের দৃশ্যতা এবং হিক্মাত ইয়ামানবাসীদের মধ্যে রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইয়ামান নাম দেয়া হয়েছে যেহেতু তা কা‘বা ঘরের ডানদিকে (দক্ষিণ) অবস্থিত এবং শাম (সিরিয়া) কা’বা ঘরের বাম (উত্তর) দিকে অবস্থিত বিধায় তার শাম নাম দেয়া হয়েছে। (৩৩০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

10

মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্‘ঈম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদের সাথে তার উপস্থিতিতে সংবাদ পৌঁছলো যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, শীঘ্রই কাহতান বংশীয় জনৈক বাদশাহর আগমন ঘটবে। এতদশ্রবণে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ক্রুদ্ধ হয়ে খুত্বাহ দেয়ার উদ্দেশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানার পর তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক এমন সব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও বর্ণিত হয়নি। এরাই মূর্খ, এদের হতে সাবধান থাক এবং এমন কাল্পনিক ধারণা হতে সতর্ক থাক যা ধারণাকারীকে বিপথগামী করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, যত দিন তারা দ্বীন কায়েমে লেগে থাকবে তত দিন খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ্ তাকে অধোঃমুখে নিক্ষেপ করবেন। (৭১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

11

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ বিষয় (খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা) সর্বদাই কুরাইশদের হাতে থাকবে, যতদিন তাদের দু’জন লোকও বেঁচে থাকবে। (৭১৪০, মুসলিম ৩৩/১ হাঃ ১৮২০, আহমাদ ২০৯৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

12

জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাযির হলাম। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মুত্তালিবের সন্তানদেরকে দান করলেন এবং আমাদেরকে বাদ দিলেন। অথচ তারা ও আমরা আপনার বংশগতভাবে সম স্তরের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব এক ও অভিন্ন। (৩১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪১ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫০ প্রথমাংশ)

13

‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বনূ যুহরার কতিপয় লোকের সঙ্গে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকটে হাযির হলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও দয়ার্দ্র ছিলেন। কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁদের আত্মীয়তা ছিল। (৩৫০৫, ৬০৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫০ শেষাংশ)

14

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, আশজা‘ ও গিফার গোত্রগুলো আমার সাহায্যকারী। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাড়া তাঁদের সাহায্যকারী আর কেউ নেই। (৩৫১২, মুসলিম ৪৪/৪৭ হাঃ ২৫২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

15

‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ)-এর পর ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সকল লোকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং তিনি সকল লোকদের মধ্যে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রতি সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে রিয্ক হিসেবে যা কিছু আস্ত তা জমা না রেখে সদাকাহ করে দিতেন। এতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, অধিক দান খয়রাত করা হতে তাকে বারণ করা উচিত। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমাকে দান করা হতে বারণ করা হবে? আমি যদি তার সঙ্গে কথা বলি, তাহলে আমাকে কাফ্ফারা দিতে হবে এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাঁর নিকট কুরাইশের কিছু লোক, বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশের কিছু লোক দ্বারা সুপারিশ করালেন। তবুও তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলা হতে বিরত থাকলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশ বনী যুহরার কতক বিশিষ্ট লোক যাদের মধ্যে ‘আবদুর রহমান ইবনু আস্ওয়াদ এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) ছিলেন তারা বললেন, আমরা যখন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইব তখন তুমি পর্দার ভিতরে ঢুকে পড়বে। তিনি তাই করলেন। পরে ইবনু যুবায়র (রাঃ) কাফ্ফারা আদায়ের জন্য তার নিকট দশটি ক্রীতদাস পাঠিয়ে দিলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাদের সবাইকে আযাদ করে দিলেন। অতঃপর তিনি বরাবর আযাদ করতে থাকলেন। এমন কি তার সংখ্যা চল্লিশে পৌঁছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি যখন কোন কাজ করার কসম করি, তখন আমার এরাদা থাকে যে আমি যেন সে কাজটা করে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাই এবং তিনি আরো বলেন, আমি যখন কোন কাজ করার কসম করি তা যথাযথ পূরণের ইচ্ছা রাখি। (৩৫০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

16

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘উসমান (রাঃ), যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ), ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ), সা‘ঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ) ‘আবদুর রাহমান ইবনু হারিস (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা সংরক্ষিত কুরআনকে সমবেতভাবে লিপিবদ্ধ করলেন। ‘উসমান (রাঃ) কুরাইশ বংশীয় তিন জনকে বললেন, যদি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং তোমাদের মধ্যে কোন শব্দে মতবিরোধ দেখা দেয় তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ কর। যেহেতু কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তাঁরা তা-ই করলেন। (৪৯৮৪, ৪৯৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

17

مِنْهُمْ أَسْلَمُ بْنُ أَفْصَى بْنِ حَارِثَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ مِنْ خُزَاعَةَ তার মধ্যে আসলাম ইবনু আফসা ইবনু হারিসাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আমির ও খুযা‘আহ গোত্রের অন্তর্গত। ৩৫০৭. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আসলাম গোত্রের কিছু লোক বাজারের নিকটে প্রতিযোগিতামূলক তীর নিক্ষেপের চর্চা করছিল। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাদেরকে দেখে বললেন, হে ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কেননা তোমাদের পিতাও তীর নিক্ষেপে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং আমি তোমাদের অমুক দলের পক্ষে রয়েছি। তখন একটি পক্ষ তাদের হাত গুটিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কী হল? তারা বলল, আপনি অমুক পক্ষে থাকলে আমরা কী করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। আমি তোমাদের উভয় দলের সাথে আছি। (২৮৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

18

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, কোন লোক যদি নিজ পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাকে তার পিতা বলে দাবী করে তবে সে আল্লাহর কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে বংশ সম্পর্কিত দাবী করল যে বংশের সঙ্গে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (৬০৩৫, মুসলিম ১/২৭ হাঃ ৬১, আহমাদ ২১৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

19

ওয়ায়িলাহ ইবনু আসকা‘ (রাঃ) বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন লোকের এমন লোককে পিতা বলে দাবি করা যে তার পিতা নয় এবং প্রকৃতই যা দেখেনি তা দেখার দাবি করা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি তা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করা নিঃসন্দেহে বড় মিথ্যা। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

20

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ‘আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাজির হয়ে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! এ গোত্রটি রাবী‘আহ বংশের। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রের কাফিররা বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে। আমরা সম্মানিত চার মাস ছাড়া অন্য সময় আপনার নিকট হাযির হতে পারি না। খুবই ভাল হতো যদি আপনি আমাদেরকে এমন কিছু আদেশ দিয়ে দিতেন যা আপনার নিকট হতে গ্রহণ করে আমাদের পিছনে অবস্থিত লোকদের পৌঁছে দিতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি কাজের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করছি। (এক) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, (দুই) সালাত কায়িম করা, (তিন) যাকাত আদায় করা, (চার) গনীমতের যে মাল তোমরা লাভ কর তার পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য বায়তুল মালে দান করা। আর আমি তোমাদেরকে দুববা (কদু পাত্র), হান্তম (সবুজ রং এর ঘড়া), নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্র), মযাফ্ফাত (আলকাতরা লাগানো মাটির পাত্র, এই চারটি পাত্রের) ব্যবহার করতে নিষেধ করছি। (৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

21

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় পূর্ব দিকে* ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছি, সাবধান! ফিতনা ফাসাদের উদ্ভব ঐদিক থেকেই হবে এবং ঐদিক থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে। (৩১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

22

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কুরাইশ, আনসার, জুহায়নাহ, মুযায়নাহ, আসলাম, গিফার এবং আশজা‘ গোত্রগুলো আমার আপন জন। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কেউ তাদের আপন জন নেই। (৩৫০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

23

‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমর) (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উপবিষ্ট অবস্থায় বলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে মাফ করুন, আসলাম গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন আর ‘উসাইয়া গোত্র, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে। (মুসলিম ৪৪/৪৬ হাঃ ২৫১৮, আহমাদ ৪৭০২) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ

24

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আসলাম, গোত্র আল্লাহ্ তাদেরকে নিরাপত্তা দিন। গিফার গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে মাফ করুন। (মুসলিম ৪৪/৪৬ হাঃ ২৫১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

25

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বলত জুহায়নাহ, মুযায়নাহ, আসলাম ও গিফার গোত্র যদি আল্লাহর নিকট বানূ তামীম, বানূ আসাদ, বানূ গাতফান ও বানূ ‘আমের হতে উত্তম বিবেচিত হয় তবে কেমন হবে? তখন এক সাহাবী বললেন, তবে তারা বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা বানূ তামীম, বানূ আসাদ, বানূ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু গাত্ফান এবং বানূ ‘আমের ইবনু সা‘সা‘আহ হতে উত্তম। (৩৫১৬, ৬৬৩৫, মুসলিম ৪৪/৪৭ হাঃ ২৫২২, আহমাদ ২০৫০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

26

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আকরা‘ ইবনু হাবিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ‘আরয করলেন, আসলাম গোত্রের সুররাক হাজীজ, গিফার ও মুযায়না গোত্রদ্বয় আপনার নিকট বায়‘আত করেছে এবং (রাবী বলেন) আমার ধারণা জুহায়না গোত্রও। এ ব্যাপারে ইবনু আবূ ইয়াকুব সন্দেহ পোষণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি জান, আসলাম, গিফার ও মুযায়নাহ গোত্রত্রয়, (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি জুহায়নাহ গোত্রের কথাও উল্লেখ করেছেন যে বনূ তামীম, বনূ ‘আমির, আসাদ এবং গাত্ফান (গোত্রগুলো) যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হয়েছে, তাদের তুলনায় পূর্বোক্ত গোত্রগুলো উত্তম। রাবী বলেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, পূর্বোক্তগুলো শেষোক্ত গোত্রগুলোর তুলনায় অবশ্যই অতি উত্তম। (৩৫১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৬৩) ৩৫১৬ মীম. আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহানাহ গোত্রের কিছু অংশ অথবা জুহানাহ্ও কিছু অংশ মুযায়নাহ্ও কিছু অংশ আল্লাহর নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাতাফান গোত্র অপেক্ষা উত্তম বলে বিবেচিত হবে। (আ.প্র. ৩২৫৪, ই.ফা)

27

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত কাহ্তান গোত্র হতে এমন এক ব্যক্তির আগমন না হবে যে মানুষ জাতিকে তার লাঠির সাহায্যে পরিচালিত করবে। (৭১১৭, মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

28

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচালনায় যুদ্ধে শামিল ছিলাম। এ যুদ্ধে বহু মুহাজির সাহাবী যোগদান করেছিলেন। মুহাজিরদের মধ্যে একজন কৌতুক পুরুষ ছিলেন। তিনি কৌতুকবশতঃ একজন আনসারীকে আঘাত করলেন। তাতে আনসারী সাহাবী অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং উভয় গোত্রের সাহায্যের জন্য নিজ নিজ লোকদের আহবান জানালেন। আনসারী সাহাবী বললেন, হে আনসারীগণ! মুহাজির সাহাবী বললেন, হে মুহাজিরগণ সাহায্যে এগিয়ে আস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতদশ্রবণে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, জাহেলী যুগের ডাকাডাকি কেন? অতঃপর বললেন, তাদের ব্যাপার কী? তাঁকে ঘটনা জানানো হল। মুহাজির সাহাবী আনসারী সাহাবীর কোমরে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ধরনের হাঁকডাক ত্যাগ কর, এ অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল বলল, তারা আমাদের বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছে? আমরা যদি মদিনা্য় নিরাপদে ফিরে যাই তবে সম্মানিত ব্যক্তিগণ অবশ্যই বাহির করে দিবে অপদস্ত ব্যক্তিদেরকে। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এই খাবীসকে হত্যা করার অনুমতি দিবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকজন বলাবলি করবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে হত্যা করে থাকে। (৪৯০৫, ৪৯০৭, মুসলিম ৪৫/১৬ হাঃ ২৫৮৪, আহমাদ ১৯৩০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

29

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় যে গালে চপেটাঘাত করে, পরনের কাপড় ছিন্নভিন্ন করে এবং জাহিলীয়াতের যুগের মত হাঁকডাক করে। (১২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

30

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমর ইবনু লুহাই ইবনু কাম‘আহ ইবনু খিনদাফ খুযা‘আহ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল। (মুসলিম ৫১/১৩ হাঃ ২৮৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

31

যুহরী (রহ.) বলেন। আমি সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, বাহীরাহ বলে দেবতার নামে উৎসর্গ করা উটনী যার দুধ আটকিয়ে রাখা হত এবং কোন লোক তার দুধ দোহন করত না। সা-য়িবাহ বলে ঐ পশুকে যাকে তারা ছেড়ে দিত দেবতার নামে। তাকে বোঝা বহন ইত্যাদি কোন কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় না। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ‘আমর ইবনু ‘আমির খুয‘আহকে তার বহির্গত নাড়ি-ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেলা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি যে সা-য়্যিবাহ উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে। (৪৬২৩, মুসলিম ৫১/১৩ হাঃ ২৮৫৬, আহমাদ ৭৭১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

32

باب قصة إسلام أبي ذر ৬১/১০. অধ্যায় : আবূ যর গিফারী (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা।[1] ৩৫২২. আবূ জামরাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব? আমরা বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম মক্কা্য় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন। আমি আমার ভাইকে বললাম, তুমি মক্কা্য় গিয়ে ঐ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে এস। সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞেস করলাম- কী খবর নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি একজন মহান ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আমি বললাম, তোমার খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অতঃপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হলাম। মক্কা্য় পৌঁছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এমন- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞেস করাও আমি সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে থাকতে লাগলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলা ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে আমার প্রতি ইশারা করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চল। পথেই তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করেননি। আর আমিও ইচ্ছা করে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় আবার মসজিদে গেলাম যাতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু ওখানে এমন কোন লোক ছিল না যে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ঐ দিনও ‘আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে চলার সময় বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বল, তোমার বিষয় কী? কেন এ শহরে এসেছ? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখার আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি গোপন করব। আমি বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক লোকের আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর কাছে উপস্থিত হবার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমাকে অনুসরণ কর এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করি তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন লোক দেখতে পাই তবে আমি জুতা ঠিক করার অজুহাতে দেয়ালের পার্শ্বে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করছি। তুমি কিন্তু চলতেই থাকবে। আলী (রাঃ) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করে চলতে লাগলাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলিম হয়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ যার। এখনকার মত তোমার ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয়ের খবর জানতে পাবে তখন এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ্ আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমি কাফির মুশরিকদের সামনে উচ্চস্বরে তৌহীদের বাণী ঘোষণা করব। (ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন,) এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন, কুরাইশের লোকজনও সেখানে হাজির ছিল। তিনি বললেন, হে কুরাইশগণ! আমি নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। এতদশ্রবণে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল; যেন আমি মরে যাই। তখন ‘আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট পৌঁছে আমাকে ঘিরে রাখলেন। অতঃপর তিনি কুরাইশকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ অথচ তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ কথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গতদিনের মতই আমি আমার ইসলাম গ্রহণের পূর্ণ ঘোষণা দিলাম। কুরাইশগণ বলে উঠলো, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। গতদিনের মত আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করলো। এই দিনও ‘আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদেরকে উদ্দেশ্য করে ঐ দিনের মত বক্তব্য রাখলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটাই ছিল আবূ যার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রথম ঘটনা। (৩৮৬১, মুসলিম ৪৪/২৮ হাঃ ২৪৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

33

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহানাহ গোত্রের কিছু অংশ অথবা জুহানাহর কিছু অংশ কিংবা মুযায়নাহর কিছু অংশ আল্লাহর নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাত্ফান গোত্র চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হবে। (মুসলিম ৪৪/৪৭ হাঃ ২৫২১, আহমাদ ১০০৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

34

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হও, তবে সূরা আন্‘আমের ১৪০ আয়াতের অংশটুকু মনোযোগের সঙ্গে পাঠ কর। ‘‘অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যারা নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করেছে বোকামির দরুন ও অজ্ঞতাবশতঃ এবং হারাম করে নিয়েছে তা যা আল্লাহ্ তাদেরকে জীবিকা হিসেবে দিয়েছিলেন, কেবল আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশে। নিশ্চয় তারা বিপথগামী হয়েছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না।’’ (আল-আনআম ১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

35

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَأَبُوْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْكَرِيْمَ ابْنَ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ يُوْسُفُ بْنُ يَعْقُوْبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلِ اللهِ وَقَالَ الْبَرَاءُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ইবনু ‘উমার ও আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সম্ভ্রান্ত বংশ-ধারার সন্তান হলেন ইউসুফ (আঃ) ইবনু ইয়া‘কূব (আঃ) ইবনু ইসহাক (আঃ) ইবনু ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্ (আঃ)। বারা‘আহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের বংশধর। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৬৩ পরিচ্ছেদ) ৩৫২৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত ‘‘তোমার নিকট আত্মীয়গণকে সতর্ক কর’’ (আশ শু‘আরা ২১৪) অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বানী ফিহর, হে বনী ‘আদি! বিভিন্ন কুরাইশ শাখা গোত্রগুলিকে নাম ধরে ধরে ইসলামের পথে ডাক দিতে লাগলেন। (১৩৯৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭২ প্রথমাংশ)

36

ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত ‘‘তোমার নিকট আত্মীয়গণকে সতর্ক কর’’ (আশশু‘আরাঃ ২১৪) অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে গোত্র গোত্র ধরে ডাক দিতে লাগলেন। (১৩৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭২ শেষাংশ)

37

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দে মানাফের বংশধরগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে বাঁচাও। হে ‘আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে হিফাযত কর। হে যুবায়রের মা- আল্লাহর রাসূলের ফুফু, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমাহ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে রক্ষা কর। তোমাদেরকে আযাব হতে বাঁচানোর সামান্যতম ক্ষমতাও আমার নাই আর আমার ধন-সম্পদ হতে তোমরা যা ইচ্ছা তা চেয়ে নিতে পার। (২৭৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

38

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বললেন, তোমাদের মধ্যে অপর গোত্রের কেউ আছে কি? তারা বললেন না, অন্য কেউ নেই। তবে আমাদের এক ভাগিনা আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কোন গোত্রের ভাগ্নে সে গোত্রেরই অন্তর্ভুক্ত। (৩১৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

39

‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে (অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ তারিখে) আবূ বাকর (রাঃ) আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর কাছে দু’টি বালিকা ছিল। তারা দফ বাজিয়ে নেচে নেচে গান করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে শুয়েছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) এদেরকে ধমক দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে বললেন, হে আবূ বাকর! এদেরকে গাইতে দাও। কেননা, আজ ঈদের দিনও মিনার দিনগুলির অন্তর্ভুক্ত। (৯৪৯) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭৫ প্রথমাংশ)

40

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসসান (রাঃ) কবিতার ছন্দে মুশরিকদের নিন্দা করতে অনুমতি চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার বংশকে কিভাবে তুমি আলাদা করবে? হাসসান (রাঃ) বললেন, আমি তাদের মধ্য হতে এমনভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব যেমনভাবে আটার খামির হতে চুলকে আলাদা করে নেয়া হয়। ‘উরওয়াহ্ (রহ.) বলেন, আমি হাসসান (রাঃ)-কে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সম্মুখে তিরস্কার করতে উদ্যত হলে, তিনি আমাকে বললেন, তাকে গালি দিও না। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ হতে কবিতার মাধ্যমে শত্রুর কথার আঘাত প্রতিহত করত। (৪১৪৫, ৬১৫০, মুসলিম ৪৪/৩৪ হাঃ ২৪৮৭, ২৪৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

41

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ وَالَّذِيْنَ مَعَه” أَشِدَّآءُ عَلَى الْكُفَّارِ (الفتح : 29) وَقَوْلِهِ مِنْم بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ (الصف : 6) আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়; মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সঙ্গে যারা আছেন তারা কুফরের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর’’ (আল-ফাতহঃ ২৯) আর তাঁর বাণীঃ ‘‘আমার পর যিনি আসবেন তাঁর নাম আহমাদ।’’ (সফঃ ৬) ৩৫৩২. জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহী আমার দ্বারা আল্লাহ্ কুফর ও শির্ককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। আমি আল-হাশির আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষে আগমনকারী)। (মুসলিম ৪৩/৩৪ হাঃ ২৩৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩,২৬৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

42

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি আশ্চর্যান্বিত হও না? আমার উপর আরোপিত কুরাইশদের নিন্দা ও অভিশাপকে আল্লাহ্ তা‘আলা কি চমৎকারভাবে দূরীভূত করছেন? তারা আমাকে নিন্দিত ভেবে গালি দিচ্ছে, অভিশাপ করছে অথচ আমি মুহাম্মাদ চির প্রশংসিত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

43

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার ও অন্যান্য নবীগণের অবস্থা এমন, যেন কেউ একটি গৃহ নির্মাণ করলো আর একটি ইটের স্থান শূন্য রেখে নির্মাণ কাজ শেষ করে গৃহটিকে সুসজ্জিত করে নিল। জনগণ মুগ্ধ হল এবং তারা বলাবলি করতে লাগল, যদি একটি ইটের জায়গাটুকু খালি রাখা না হত। (মুসলিম ৪৩/৭ হাঃ ২২৮৭, আহমাদ ১৪৮৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

44

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এমন, এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল; তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক পাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী। (মুসলিম ৪৩/৭ হাঃ ২২৮৬, আহমাদ ৭৪৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

45

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু হয় তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। ইবনু শিহাব বলেন, সা‘ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এভাবেই আমার কাছে বর্ণনা করেন। (৪৪৬৬, মুসলিম ৪৩/৩২ হাঃ ২৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

46

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাজারে গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যক্তি ‘হে আবুল কাসিম!’ বলে ডাক দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে ফিরে তাকালেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার আসল নামে নাম রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনামে কারো নাম রেখ না। (২১২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

47

জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমার আসল নামে অন্যের নামকরণ করতে পার, কিন্তু আমার উপনাম অন্যের জন্য রেখোনা। (৩১১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

48

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার নামে নামকরণ করতে পার, কিন্তু আমার উপনামে তোমাদের নাম রেখ না। (১১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

49

জু‘আইদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘সাইব ইবনু ইয়াযীদকে চুরানববই বছর বয়সে সুস্থ-সবল ও সুঠাম দেহের অধিকারী দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই জ্ঞাত আছ যে, আমি এখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আর বরকতেই চোখ ও কান দিয়ে উপকার লাভ করছি। আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগিনাটি রোগাক্রান্ত। আপনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দু‘আ করলেন। (১৯০) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ

50

জু‘আইদ (রহ.) বলেন, আমি সাইব ইবনু ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি যে, আমার খালা আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগিনা রোগাক্রান্ত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দু‘আ করলেন। তিনি ওযু করলেন, তাঁর ওযুর বাকী পানি আমি পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর পিছন দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম তাঁর স্কন্ধের মাঝে ‘‘মোহরে নাবুওয়্যাত’’ দেখলাম যা কবুতরের ডিমের মত অথবা বাসর ঘরের পর্দার বুতামের মত। (১৯০) ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ বলেন, الْحَجَلَةِ অর্থ সাদা চিহ্ন, যা ঘোড়ার কপালের সাদা অংশ এর অর্থ হতে গৃহীত। আর ইব্রাহীম ইবনু হামযাহ বলেন, কবুতরের ডিমের মত। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন বিশুদ্ধ زاء-এর পূর্বে را হবে অর্থাৎ زِرِّ । (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

51

‘উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ বাকর (রাঃ) বাদ আসর এর সালাত শেষে বের হয়ে চলতে লাগলেন। হাসান (রাঃ)-কে ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাঁকে স্কন্ধে তুলে নিলেন এবং বললেন, আমার পিতা কুরবান হোন! এ-ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদৃশ্য, আলীর সাদৃশ্য নয়। তখন ‘আলী (রাঃ) হাসছিলেন। (৩৭৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

52

আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আর হাসান (রাঃ) তাঁরই সদৃশ। (৩৫৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

53

আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। হাসান ইবনু ‘আলী ছিলেন (রাঃ) তাঁরই সদৃশ। (রাবী বলেন) আমি আবূ জুহায়ফাকে বললাম, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা দিন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৌর বর্ণের ছিলেন। কাল কেশরাজির মধ্যে সামান্য সাদা চুলও ছিল। তিনি তেরটি সবল উটনী আমাদেরকে দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের হাতে আসার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু হয়। (৩৫৪৩, মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

54

আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি আর তাঁর নীচ ঠোঁটের নিম্নভাগে দাড়িতে সামান্য সাদা চুল দেখেছি। (মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

55

হারীয ইবনু ‘উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন যে, তিনি কি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম দাড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

56

রাবী‘আহ ইবনু আবূ ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন- বেশি লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলে না। তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেরও নয়। মাথার চুল কোঁকড়ানোও ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হয়। প্রথম দশ বছর মক্কা্য় অবস্থানকালে ওয়াহী যথারীতি নাযিল হতে থাকে। অতঃপর দশ বছর মদিনা্য় কাটান। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর সময়ে তাঁর মাথা ও দাড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না। রাবী‘আ (রহ.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি চুল দেখেছি তা লাল রং-এর ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলে বলা হল যে, সুগন্ধি লাগানোর জন্য তা লাল হয়েছিল। (৩৫৪৮, ৫৯০০, মুসলিম ৪৩/৩১ হাঃ ২৩৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

57

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। ধবধবে সাদাও ছিলেন না, আবার তামাটে রং এরও ছিলেন না। কেশগুচ্ছ একেবারে কুঞ্চিত ছিল না, পুরোপুরি সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তিনি নবুওয়্যাত পান। তাঁর নবুওয়্যাত সময়ের প্রথম দশ বছর মক্কা্য় এবং পরের দশ বছর মদিনা্য় কাটান। তাঁর মৃত্যুকালে মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা ছিল না। (৩৫৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

58

বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে[১] সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। (মুসলিম ৪৩/২৫ হাঃ ২৩৩৭, আহমাদ ১৮৫৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

59

ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলে খেযাব লাগাতেন কি? তিনি বললেন, না। তাঁর কানের পাশে সামান্য কয়টা চুল সাদা হয়েছিল মাত্র। (৫৮৯৪, ৫৮৯৫, মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

60

বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয়ে কাঁধের মধ্যস্থল প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দর আমি কখনো কাউকে দেখিনি। ইউসুফ ইবনু আবূ ইসহাক তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। (৫৮৪৮, ৫৯০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

61

আবূ ইসহাক তাবি-ঈ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারাআ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক কি তলোয়ারের মত ছিল? তিনি বললেন না, বরং চাঁদের ন্যায় ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

62

হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুর বেলায় বাতহার দিকে বেরোলেন। সে স্থানে উযূ করে যুহরের দু’ রাকআত ও আসরের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তাঁর সামনে একটি বর্শা পোঁতা ছিল। বর্শার বাহির দিয়ে নারীরা যাতায়াত করছিল। সালাত শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’ হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও মুখমন্ডলে বুলাতে লাগলেন। আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে আমার মুখমন্ডলে বুলাতে লাগলাম। তাঁর হাত বরফের থেকেও স্নিগ্ধ শীতল ও কস্তুরীর থেকেও বেশি সুগন্ধিময় ছিল। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

63

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হত রমাযানের পবিত্র দিনে যখন জিবরাঈল (আঃ) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। জিব্রাঈল (আঃ) রমাযানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কুরআনের সবক দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। (৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

64

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি মনে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। খুশীর কারণে তাঁর চেহারায় খুশীর চিহ্ন পরিস্ফুট হচ্ছিল। তিনি তখন ‘আয়িশাহ্কে বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! তুমি শুননি, মুদলাজী যায়দ ও উসামাহ সম্পর্কে কী বলেছে? পিতা-পুত্রের শুধু পা দেখে বলল, এ পাগুলোর একটা অন্যটির অংশ। (৩৭৩১, ৬৭৭০, ৬৭৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

65

‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে তার তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলাম, খুশী ও আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠলো। তাঁর চেহারা এমনিই আনন্দে টগবগ করত। মনে হত যেন চাঁদের একটি টুকরা। তাঁর মুখমন্ডলের এ অবস্থা হতে আমরা তা বুঝতে পারতাম। (২৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

66

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বনি আদমের সর্বোত্তম যুগে আবির্ভূত হয়েছি। যুগের পর যুগ অতিবাহিত হয়ে আমি সেই যুগেই এসেছি যে যুগ আমার জন্য নির্দিষ্ট ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

67

ইবনু ‘আব্বাস (রহ.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল পিছনে দিকে আঁচড়ে রাখতেন আর মুশ্রিকগণ তাদের চুল দু‘ভাগ করে সিঁথি কেটে রাখত। আহলে কিতাব তাদের চুল পিছন দিকে আঁচড়ে রাখত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আহলে কিতাবের অনুসরণ পছন্দ করতেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল দু’ভাগ করে সিঁথি করে রাখতে লাগলেন। (৩৯৪৪, ৫৯১৭, মুসলিম ৪৩/২৪ হাঃ ২৩৩৬, আহমাদ ১২৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

68

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীল ভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে নৈতিকতায় সর্বোত্তম। (৩৭৫৯, ৬০২৯, ৬০৩৫, মুসলিম ৪৩/১৬ হাঃ ২৩২১, আহমাদ ৬৫১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

69

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত, তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হত। গুনাহ হতে তিনি অনেক দূরে অবস্থান করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রতিশোধ নিতেন। (৬১২৬, ৬৭৮৬, ৬৮৫৩, মুসলিম ৪৩/২০ হাঃ ২৩২৭, আহমাদ ১৩০৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

70

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে মোলায়েম কোন নরম ও গরদকেও আমি স্পর্শ করিনি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরের সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুঘ্রাণ আমি কখনো পাইনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

71

72

73

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাদ্যকে মন্দ বলতেন না। রুচি হলে খেতেন না হলে বাদ দিতেন। (৫৪০৯, মুসলিম ৩৩/৩৫ হাঃ ২০৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

74

‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ আসাদিইয়ি (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর হতে এমনভাবে আলাদা করতেন যে, আমরা তাঁর বগল দেখতে পেতাম। ইবনু বুকাইর বলেন, বাকর হাদীস বর্ণনা করে বলেছেন, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম। (৩৯০ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

75

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিস্কায় যতটা উঠাতেন অন্য কোন দু’আয় তাঁর বাহুদ্বয় এতটা ঊর্ধ্বে উঠাতেন না, কেননা এতে হাত এত ঊর্ধ্বে উঠাতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। আবূ মূসা (রহ.) হাদীস বর্ণনায় বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আর মধ্যে দু’ হাত উপরে উঠিয়েছেন এবং আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখেছি। (১০৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

76

আবূ জুহায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নেয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবতাহ নামক জায়গায় দুপুর বেলায় একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। বিলাল (রাঃ) তাঁবু হতে বেরিয়ে এসে যুহরের সালাতের আযান দিলেন এবং আবার প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বেরিয়ে এলেন। লোকজন তা নেয়ার জন্য ঝাপিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি আবার তাঁবুতে ঢুকে একটি ছোট্ট বর্শা নিয়ে বেরিয়ে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বেরিয়ে আসলেন। আমি যেন তাঁর পায়ের গোছার উজ্জ্বলতা, এখনো দেখতে পাচ্ছি। বর্শাটি সম্মুখে পুঁতে রাখলেন। অতঃপর যুহরের দু’ রাক‘আত এবং পরে ‘আসরের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। বর্শার বাহির দিয়ে গাধা ও নারীরা চলাফেরা করছিল। (১৮৭ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

77

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি অমুকের অবস্থা দেখে কি অবাক হও না? তিনি এসে আমার হুজরার পাশে বসে আমাকে শুনিয়ে হাদীস বর্ণনা করেন। আমি তখন সালাতে ছিলাম। আমার সালাত শেষ হবার আগেই তিনি উঠে চলে যান। যদি আমি তাকে পেতাম তবে আমি অবশ্যই তাকে সতর্ক করে দিতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মত দ্রুততার সঙ্গে কথা বলতেন না। (৩৫৬৭, মুসলিম ৪৪/৩৫ হাঃ ২৪৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১২ শেষাংশ)

78

رَوَاهُ سَعِيْدُ بْنُ مِيْنَاءَ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم সা‘ঈদ ইবনু মীনাআ (রহ.) জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। ৩৫৬৯. আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, রমাযান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কেমন ছিল? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে ও অন্যান্য সব মাসের রাতে এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাক‘আত পড়তেন। এ চার রাক‘আত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর আরো চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এ চার রাক‘আতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাক‘আত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিত্র সালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়েন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না। (১১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

79

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদে কা‘বা হতে রাতে অনুষ্ঠিত ইসরা-এর ঘটনা বর্ণনা করছিলেন যে, তিন ব্যক্তি তাঁর নিকট হাযির হলেন মি‘রাজ সম্পর্কে ওয়াহী অবতরণের পূর্বে। তখন তিনি মাসজিদুল হারামে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের প্রথম জন বলল, তাদের কোন জন তিনি? মাঝের জন উত্তর দিল, তিনিই তাদের শ্রেষ্ঠ জন। আর শেষজন বলল, শ্রেষ্ঠ জনকে নিয়ে চল। এ রাতে এটুকুই হলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদেরকে আর দেখেন নাই। অতঃপর আর এক রাতে তাঁরা আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর তা দেখতে পাচ্ছিল। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ ঘুমাত কিন্তু তাঁর অন্তর কখনও ঘুমাত না। এভাবে সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের চোখ ঘুমাত কিন্তু অন্তর ঘুমাত না। অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে আকাশের দিকে চড়তে লাগলেন। (৪৯৬৪, ৫৬১০, ৬৫৮১, ৭৫১৭, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

80

‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক সফরে তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। সারা রাত পথ চলার পর যখন ভোর কাছাকাছি হল, তখন বিশ্রাম নেয়ার জন্য থেমে গেলেন এবং গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়লেন। অবশেষে সূর্য উদিত হয়ে অনেক উপরে উঠে গেল, [ইমরান (রাঃ) বলেন] যিনি সর্বপ্রথম ঘুম হতে জাগলেন তিনি হলেন আবূ বাকর (রাঃ)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জাগ্রত না হলে তাঁকে জাগানো হত না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) জাগলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর শিয়রের নিকট গিয়ে বসে উচ্চস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে লাগলেন। শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন এবং অন্যত্র চলে গিয়ে অবতরণ করে আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখন এক ব্যক্তি আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে দূরে দাঁড়িয়ে থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেন, হে অমুক! আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতে কিসে বাধা দিল? লোকটি বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাক মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর সে সালাত আদায় করল। (ইমরান (রাঃ) বলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অগ্রবর্তী দলের সঙ্গে পাঠিয়ে দিলেন এবং আমরা ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লাম। এই অবস্থায় আমরা পথ চলছি। হঠাৎ উষ্ট্রে আরোহী এক মহিলা আমাদের নযরে পড়ল। সে পানি ভর্তি দু’টি মশকের মাঝখানে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পানি কোথায়? সে বলল, (আশেপাশে) কোথায়ও পানি নেই। আমরা বললাম, তোমার ও পানির জায়গার মধ্যে দূরত্ব কতটুকু? সে বলল একদিন ও এক রাতের দূরত্ব। আমরা তাকে বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চল। সে বলল, আল্লাহর রাসূল কী? আমরা তাকে যেতে না দিয়ে তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেও ঐ রকম কথাই বলল যা সে আমাদের সঙ্গে বলেছিল। তবে সে তাঁর নিকট বলল, সে কয়েকজন ইয়াতীম সন্তানের মা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মশক দু’টি নামিয়ে ফেলতে আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি মশক দু’টির মুখে হাত বুলালেন। আমরা তৃষ্ণার্ত চল্লিশ জন মানুষ পানি পান করে পিপাসা মিটালাম। অতঃপর আমাদের সকল মশক, বাসনপত্র পানি ভর্তি করে নিলাম। তবে উটগুলোকে পানি পান করান হয়নি। এত সবের পরও মহিলার মশকগুলো এত পানি ভর্তি ছিল যে তা ফেটে যাবার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের নিকট যা কিছু আছে উপস্থিত কর। কিছু খেজুর ও রুটির টুকরা জমা করে তাঁকে দেয়া হল। এ নিয়ে নারীটি খুশীর সঙ্গে তার গৃহে ফিরে গেল। গৃহে গিয়ে সকলের নিকট সে বলল, আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, এক মহা যাদুকরের সঙ্গে অথবা মানুষে যাকে নবী বলে ধারণা করে তার সঙ্গে। আল্লাহ্ এই মহিলার মাধ্যমে এ বস্তিবাসীকে হিদায়াত দান করলেন। স্ত্রীলোকটি নিজেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং বস্তিবাসী সকলেই ইসলাম গ্রহণ করল। (৩৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

81

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি পানির পাত্র আনা হল, তখন তিনি যাওরা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ঐ পাত্রে রেখে দিলেন আর তখনই পানি অঙ্গুলির ফাঁক দিয়ে উপচে পড়তে লাগল। ঐ পানি দিয়ে উপস্থিত সকলেই উযূ করে নিলেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, আমরা তিনশ’ কিংবা প্রায় তিনশ’ জন ছিলাম। (১৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

82

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম যখন ‘আসরের সালাতের সময় সন্নিকট। সকলেই পেরেশান হয়ে পানি খুঁজছেন কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উযূর পানি আনা হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পাত্রে তাঁর হাত রেখে দিলেন এবং সকলকে এ পাত্রের পানি দ্বারা উযূ করতে নির্দেশ দিলেন। আমি দেখলাম তাঁর হাতের নীচ হতে পানি সজোরে উথ্লে পড়ছিল। তাদের শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত সকলেই এই পানি দিয়ে উযূ করলেন। (১৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

83

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে বেরিয়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সহাবাগণও ছিলেন। তারা চলতে লাগলেন, তখন সালাতের সময় হয়ে গেল, কিন্তু উযূ করার জন্য কোথাও পানি পাওয়া গেল না। কাফেলার এক ব্যক্তি সামান্য পানিসহ একটি পেয়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করলেন। তিনি পেয়ালাটি হাতে নিয়ে তারই পানি দ্বারা উযূ করলেন এবং তাঁর হাতের চারটি আঙ্গুল পেয়ালার মধ্যে সোজা করে ধরে রাখলেন। আর বললেন, উঠ তোমরা উযূ কর। সকলেই ইচ্ছামত উযূ করে নিলেন। তারা ছিলেন সত্তর বা এর কাছাকাছি। (১৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

84

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের সময় উপস্থিত হল। যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটে ছিল তারা উযূ করার জন্য নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক গেলেন না তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পাথরের তৈরী একটি পাত্র আনা হল। এতে সামান্য পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন। কিন্তু পাত্রটি ছোট্ট হওয়ার কারণে হাতের আঙ্গুলগুলো বিস্তৃত করতে পারলেন না বরং একত্রিত করে রেখে দিলেন। অতঃপর উপস্থিত লোকেরা ঐ পানি দ্বারাই উযূ করে নিল। হুমাইদ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কতজন ছিলেন? বললেন, আশি জন। (১৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

85

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ায় অবস্থানের সময় একদা সহাবাগণ পিপাসায় খুব কাতর হয়ে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে একটি পাত্রে অল্প পানি ছিল। তিনি উযূ করলেন। তাঁর নিকট পানি আছে ধারণা করে সকলে সেদিকে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কী হয়েছে? তাঁরা বললেন, আপনার সামনের পাত্রের সামান্য পানি ছাড়া উযূ ও পান করার মত পানি আমাদের নিকট নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন। তখনই তাঁর হাত উপচে ঝর্ণা ধারার মত পানি ছুটে বের হতে লাগলো। আমরা সকলেই পানি পান করলাম ও উযূ করলাম। সারিম (একজন রাবী) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, আমরা যদি এক লক্ষও হতাম তবুও আমাদের জন্য পানি যথেষ্ট হত। আমরা ছিলাম পনেরশ’। (৪১৫২, ৪১৫৩, ৪১৫৪, ৪৮৪০, ৫৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

86

বারা‘আ (ইবনু ‘আযিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুদাইবিয়ায় চৌদ্দশ’ লোক ছিলাম। হুদাইবিয়াহ একটি কূপ, আমরা তা থেকে পানি এমনভাবে উঠিয়ে নিলাম যে তাতে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট থাকল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কূপের কিনারায় বসে কিছু পানি আনার জন্য আদেশ করলেন। তিনি কুল্লি করে ঐ পানি কূপে নিক্ষেপ করলেন। অল্প সময় অপেক্ষা করলাম। তখন কূপটি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেল। আমরা পানি পান করে তৃপ্তি লাভ করলাম, আমাদের উটগুলোও পানি পান করে পরিতৃপ্ত হল। অথবা বলেছেন আমাদের উটগুলো পানি পান করে ফিরল। (৪১৫০, ৪১৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

87

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ত্বল্হা (রাঃ) উম্মু সুলায়মকে বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্ঠস্বর দুর্বল শুনেছি। আমি তাঁর মধ্যে ক্ষুধা বুঝতে পেরেছি। তোমার নিকট খাবার কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ আছে। এই বলে তিনি কয়েকটা যবের রুটি বের করলেন। অতঃপর তাঁর একখানা ওড়না বের করে এর কিয়দংশ দিয়ে রুটিগুলো মুড়ে আমার হাতে গোপন করে রেখে দিলেন ও ওড়নার অপর অংশ আমার শরীরে জড়িয়ে দিলেন এবং আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠালেন। রাবী আনাস বলেন, আমি তাঁর নিকট গেলাম। ঐ সময় তিনি কতক লোকসহ মসজিদে ছিলেন। আমি গিয়ে তাঁদের সামনে দাঁড়ালাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেন, তোমাকে আবূ ত্বলহা পাঠিয়েছে? আমি বললাম, জি, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাওয়ার দাও‘আত দিয়ে পাঠিয়েছে? আমি বললাম, জি-হাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গীদেরকে বললেন, চল, আবূ ত্বলহা আমাকে দাও‘আত করেছে। আমি তাঁদের আগেই চলে গিয়ে আবূ ত্বলহা (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের কথা শুনলাম। এতদশ্রবণে আবূ ত্বলহা (রাঃ) বলেন, হে উম্মু সুলাইম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে নিয়ে আসছেন। তাঁদেরকে খাওয়ানোর মত কিছু আমাদের নিকট নেই। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য বাড়ি হতে কিছুদূর এগুলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দেখা করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহা (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তার ঘরে আসলেন, আর বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তোমার নিকট যা কিছু আছে নিয়ে এসো। তিনি যবের ঐ রুটিগুলি হাযির করলেন এবং তাঁর নির্দেশে রুটিগুলো টুকরা টুকরা করা হল। উম্মু সুলায়ম ঘিয়ের পাত্র ঝেড়ে কিছু ঘি বের করে তরকারী হিসেবে উপস্থিত করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করে তাতে ফুঁ দিলেন অতঃপর দশজনকে নিয়ে আসতে বললেন। তাঁরা দশজন আসলেন এবং রুটি খেয়ে তৃপ্ত হয়ে চলে গেলেন। অতঃপর আরো দশজনকে আসতে বলা হল। তারা আসলেন এবং তৃপ্তি সহকারে রুটি খেয়ে চলে গেলেন। আবার আরো দশজনকে আসতে বলা হল। তাঁরাও আসলেন এবং পেট পুরে খেয়ে নিলেন। ঐভাবে উপস্থিত সকলেই রুটি খেয়ে তৃপ্ত হলেন। সর্বমোট সত্তর বা আশিজন লোক ছিলেন। (৪২২, মুসলিম ৩৬/২০ হাঃ ২০৪০, আহমাদ ১৩২৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

88

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নিদর্শনাবলীকে বরকতময় মনে করতাম আর তোমরা ঐসব ঘটনাকে ভীতিকর মনে কর। আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। আমাদের পানি কমে আসল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অতিরিক্ত পানি খোঁজ কর। (খুঁজে) সাহাবীগণ একটি পাত্র নিয়ে আসলেন যার ভিতর সামান্য পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ঐ পাত্রের ভিতর ঢুকিয়ে দিলেন এবং ঘোষণা করলেন, বরকতময় পানি নিতে সকলেই এসো। এ বরকত আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ হতে দেয়া হয়েছে। তখন আমি দেখতে পেলাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। কখনও আমরা খাবারের তাস্বীহ পাঠ শুনতাম আর তা খাওয়া হত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

89

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা (‘আবদুল্লাহ (রাঃ) উহুদ যুদ্ধে) ঋণ রেখে শাহাদাত লাভ করেন। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার পিতা অনেক ঋণ রেখে গেছেন। আমার কাছে বাগানের কিছু খেজুর ছাড়া অন্য কোন মাল নেই। কয়েক বছরের খেজুর একত্র করলেও তাঁর ঋণ শোধ হবে না। আপনি দয়া করে আমার সঙ্গে চলুন, যাতে পাওনাদারগণ আমার প্রতি কঠোর মনোভাব গ্রহণ না করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে গেলেন এবং খেজুরের একটি স্তূপের চারপাশে ঘুরে দু’আ করলেন। অতঃপর অন্য স্তুপের নিকটে গেলেন এবং এর উপরে বসলেন এবং জাবির (রাঃ)-কে বললেন, খেজুর বের করে দিতে থাক। সকল পাওনাদারের প্রাপ্য শোধ হয়ে গেল আর তাদের যত দিলেন তত থেকে গেল। (২১২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

90

‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) বর্ণনা করেন, আসহাবে সুফ্ফায় কতক অসহায় গরীব লোক ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেন, যার ঘরে দু’জনের খাবার আছে সে যেন এদের মধ্য হতে তৃতীয় একজন নিয়ে যায়। আর যার ঘরে চার জনের খাবার রয়েছে সে এদের মধ্য হতে পঞ্চম একজন বা ষষ্ঠ একজনকে নিয়ে যায় অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন। আবূ বাকর (রাঃ) তিনজন নিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে গেলেন দশজন এবং আবূ বাকর (রাঃ) তিনজন। ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, আমি, আমার আববা ও আম্মা। আবূ ‘উসমান (রাঃ) রাবী বলেন, আমার মনে নাই ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) কি এও বলেছিলেন যে, আমার স্ত্রী ও আমাদের পিতা-পুত্রের একজন গৃহভৃত্যও ছিল। আবূ বাকর (রাঃ) ঐ রাতে নবীজীর বাড়িতেই খেয়ে নিলেন এবং ইশার সালাত পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলেন। ইশার সালাতের পর পুনরায় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে গমন করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের খাবার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলেন। অনেক রাতের পর বাড়ী ফিরলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, মেহমান পাঠিয়ে দিয়ে আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, তাদের কি এখনো রাতের খাবার দাওনি। স্ত্রী বললেন, আপনার না আসা পর্যন্ত তারা খাবার খেতে রাযী হননি। তাদেরকে ঘরের লোকজন খাবার দিয়েছিল। কিন্তু তাদের অসম্মতির নিকট আমাদের লোকজন হার মেনেছে। ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) বলেন, আমি তাড়াতাড়ি সরে পড়লাম। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ওরে বেওকুফ! আহম্মক! আরো কিছু কড়া কথা বলে ফেললেন। অতঃপর মেহমান পক্ষকে সম্বোধন করে বললেন, আপনারা খেয়ে নিন। আমি কিছুতেই খাব না। ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা যখন গ্রাস তুলে নেই তখন দেখি পাত্রের খাবার অনেক বেড়ে যায়। খাওয়ার শেষে আবূ বাকর (রাঃ) দেখলেন তৃপ্ত হয়ে আহারের পরও পাত্রে খাবার আগের চেয়ে বেশি রয়ে গেছে। তখন স্ত্রীকে বললেন, হে বনী ফিরাস গোত্রের বোন! ব্যাপার কী? তিনি বললেন, হে আমার নয়নমণি! খাদ্যের পরিমাণ এখন তিনগুণের চেয়েও অধিক রয়েছে। আবূ বাকর (রাঃ) তা হতে কয়েক লোকমা খেলেন এবং বললেন, আমার কসম শয়তানের প্ররোচনায় ছিল। অতঃপর অবশিষ্ট খাদ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং ভোর পর্যন্ত ঐ খাদ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিফাযতে রইল। রাবী বলেন, আমাদের ও অন্য একটি গোত্রের মধ্যে সন্ধি ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে তাদের মোকাবেলা করার জন্য আমাদের বার জনকে নেতা বানানো হল। প্রত্যেক নেতার অধীনে আবার কয়েকজন করে লোক ছিল। আল্লাহ্ই ভাল জানেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কতজন করে দেয়া হয়েছিল! ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, এদের সকলেই এ খাবার হতে খেয়ে নিলেন। অথবা তিনি যেমন বলেছেন। (৬০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

91

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার মদিনা্বাসী অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষে নিপতিত হল। এ সময় কোন এক জুমু‘আর দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিয়েছিলেন, তখন এক লোক উঠে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়াগুলো নষ্ট হয়ে গেল, বকরীগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহর নিকটে বৃষ্টির জন্য দু’আ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ দু’হাত উঠিয়ে দু’আ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আকাশ কাঁচের মত নির্মল ছিল। হঠাৎ মেঘ সৃষ্টিকারী বাতাস শুরু হল এবং মেঘ ঘনীভূত হয়ে গেল। অতঃপর শুরু হল প্রবল বৃষ্টিপাত যেন আকাশ তার দরজা খুলে দিল। আমরা পানি ভেঙ্গে বাড়ী পৌঁছলাম। পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টিপাত হল। ঐ শুক্রবারে জুমু‘আর সময় ঐ ব্যক্তি বা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! গৃহগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর নিকটে দু’আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি হোক। আমাদের উপর নয়। [আনাস (রাঃ) বলেন,] তখন আমি দেখলাম, মদিনা্ আকাশ হতে মেঘরাশি চারিদিকে সরে গেছে আর মদিনা্কে মুকুটের মত মনে হচ্ছে। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

92

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের একটি কান্ডের সঙ্গে খুত্বা প্রদান করতেন। যখন মিম্বার তৈরি করে দেয়া হল। তখন তিনি মিম্বরে উঠে খুত্বা দিতে লাগলেন। কান্ডটি তখন কাঁদতে শুরু করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কান্ডটির নিকটে গিয়ে হাত বুলাতে লাগলেন। উপরোক্ত হাদীসটি ‘আবদুল হামীদ ও আবূ ‘আসিম (রহ.).....ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে.....নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

93

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৃক্ষের উপর কিংবা একটি খেজুর বৃক্ষের কান্ডের উপর শুক্রবারে খুত্বা দেয়ার জন্য দাঁড়াতেন। এমতাবস্থায় একজন আনসারী মহিলা অথবা একজন পুরুষ বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য একটি মিম্বার বানিয়ে দিব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ইচ্ছে হলে দিতে পার। অতঃপর তারা একটি কাঠের মিম্বার বানিয়ে দিলেন। যখন শুক্রবার এল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন, তখন কান্ডটি শিশুর মত চীৎকার করে কাঁদতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার হতে নেমে এসে ওটাকে জড়িয়ে ধরলেন। কিন্তু কান্ডটি শিশুর মত আরো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। রাবী বলেন, কান্ডটি এজন্য কাঁদছিল যেহেতু সে খুত্বাকালে যিক্র শুন্তে পেত। (৪৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

94

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, প্রথম দিকে খেজুরের কয়েকটি কান্ডের উপর মসজিদে নববীর ছাদ করা হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই খুত্বা দানের ইচ্ছা করতেন, তখন একটি কান্ডে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন। অতঃপর তাঁর জন্য মিম্বার তৈরি করে দেয়া হলে তিনি সেই মিম্বারে উঠে দাঁড়াতেন। ঐ সময় আমরা কান্ডটি হতে দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীর স্বরের মত কান্নার আওয়াজ শুনলাম। শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে তাকে হাত বুলিয়ে সোহাগ করলেন। অতঃপর কান্ডটি শান্ত হল। (৪৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

95

‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফিতনা সম্বন্ধীয় হাদীস স্মরণ রেখেছ যেমনভাবে তিনি বর্ণনা করেছেন। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমিই সর্বাধিক মনে রেখেছি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, বর্ণনা কর, তুমি তো অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশি দ্বারা সৃষ্ট ফিতনা-ফাসাদের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে সালাত, সাদ্কা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার দ্বারা। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি এ ধরনের ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি বরং উদ্বেলিত সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীষণ আঘাত হানে ঐ ধরনের ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ধরনের ফিতনা সম্পর্কে আপনার শঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই। আপনার এবং এ জাতীয় ফিতনার মধ্যে এশটি সুদৃঢ় কপাট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এ কপাটটি কি খোলা হবে, না ভেঙ্গে ফেলা হবে? হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তা হলে এ কপাটটি আর সহজে বন্ধ করা যাবে না। আমরা হুযাইফাহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘উমার (রাঃ) কি জানতেন, ঐ কপাট দ্বারা কাকে বুঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, অবশ্যই; যেমন নিশ্চিতভাবে জানতেন আগামী দিনের পূর্বে আজ রাতের আগমন অনিবার্য। আমি তাঁকে এমন একটি হাদীস শুনিয়েছি, যাতে ভুল-চুকের সুযোগ নেই। আমরা হুযাইফাহ্কে ভয়ে জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি, তাই মাসরূককে বললাম, মাসরূক (রহ.) জিজ্ঞেস করলেন, এ বন্ধ কপাট কে? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, ‘উমার (রাঃ) স্বয়ং। (৫২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

96

তোমাদের নিকট এমন যুগ আসবে যখন তোমাদের পরিবার-পরিজনরা ধন-সম্পদের অধিকারী হবার চাইতেও আমার সাক্ষাৎ পাওয়া তার নিকট অত্যন্ত প্রিয় বলে গণ্য হবে। (মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৬৪, আহমাদ ৮১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩১ শেষাংশ)

97

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যে পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ না হবে খুয ও কিরমান নামক স্থানে (বসবাসরত) অনারব জাতিগুলোর সঙ্গে, যাদের চেহারা লালবর্ণ, চেহারা যেন পিটানো ঢাল, নাক চ্যাপ্টা, চোখ ছোট এবং জুতা পশমের। ইয়াহ্ইয়া ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ ও আব্দুর রাজ্জাক (রহ.) হতে পূর্বের হাদীস বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন। (২৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

98

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিন বছর কাটিয়েছি। আমার জীবনে হাদীস মুখস্থ করার আগ্রহ এ তিন বছরের চেয়ে বেশি আর কখনো ছিল না। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। এরা হবে পারস্যবাসী অথবা পাহাড়বাসী অনারব এবং একবার সুফ্ইয়ান বলেছেন, তারা পারস্যবাসী বা পাহাড়বাসী অনারব। (২৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

99

‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কিয়ামতের আগে এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যারা পশমের জুতা ব্যবহার করে এবং তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে লড়াই করবে যাদের মুখমন্ডল হবে পিটানো ঢালের মত। (২৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

100

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ইয়াহূদীরা তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন জয়লাভ করবে তোমরাই। স্বয়ং পাথরই বলবে, হে মুসলিম, এইতো ইয়াহূদী আমার পিছনে, একে হত্যা কর। (২৯২৫, মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

101

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (ভবিষ্যতে) মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যে, তারা জিহাদ করবে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কোন লোক আছেন কি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছেন? তখন তারা বলবে, হাঁ। তখন তাদেরকে জয়ী করা হবে। অতঃপরও তারা আরো জিহাদ করবে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি সহাবাদের সঙ্গ লাভ করেছেন? তখন তারা বল্বে, হাঁ। তখন তাদেরকে জয়ী করা হবে। (২৮৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

102

আদি ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করল। অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে ডাকাতের উপদ্রবের কথা বলে অনুযোগ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আদী! তুমি কি হীরা নামক স্থানটি দেখেছ! আমি বললাম, দেখি নাই, তবে স্থানটি আমার জানা আছে। তিনি বললেন, তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও তবে দেখবে একজন উষ্ট্রারোহী হাওদানশীল মহিলা হীরা হতে রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ শরীফে তাওয়াফ করে যাবে। আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না। আমি মনে মনে বলতে লাগলাম তাঈ গোত্রের ডাকাতগুলো কোথায় থাকবে যারা ফিতনা ফাসাদের আগুন জ্বালিয়ে দেশকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তিনি বললেন, তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও, তবে নিশ্চয়ই দেখতে পাবে যে তোমরা কিসরার ধনভান্ডার দখল করেছ। আমি বললাম, কিসরা ইবনু হুরমুযের? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, কিসরা ইবনু হুরমুযের। তোমার আয়ু যদি দীর্ঘ হয় তবে অবশ্যই তুমি দেখতে পাবে, লোকজন মুঠভরা যাকাতের স্বর্ণ-রৌপ্য নিয়ে বের হবে এবং এমন ব্যক্তির খোঁজ করে বেড়াবে যে তাদের এ মাল গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রহণকারী একটি লোকও পাবে না। তোমাদের প্রত্যেকটি মানুষ কিয়ামত দিবসে মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে। তখন তার ও আল্লাহর মাঝে অন্য কোন দোভাষী থাকবে না যিনি ভাষান্তর করে বলবেন। আল্লাহ্ বলবেন, আমি কি তোমার নিকট আমার বাণী পৌঁছানোর জন্য রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবে হাঁ, প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ বলবেন, আমি কি তোমাকে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি দান করিনি এবং দয়া মেহেরবাণী করিনি? তখন সে বলবে, হাঁ দিয়েছেন। অতঃপর সে ডান দিকে নযর করবে, জাহান্নাম ছাড়া আর কিছূই দেখতে পাবে না। আবার সে বাম দিকে নযর করবে, তখনো সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখবে না। আদী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আধখানা খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন হতে নিজেকে রক্ষা কর আর যদি তাও করার তৌফিক না হয় তবে মানুষের জন্য ভাল কথা বলে নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা কর। আদী (রাঃ) বলেন, আমি নিজে দেখেছি, এক উষ্ট্রারোহী মহিলা হীরা হতে একাকী রওয়ানা হয়ে কা’বাহ্ শরীফ তাওয়াফ করেছে। সে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করে না। আর পারস্য সম্রাট কিসরা ইবনু হুরমুযের ধনভান্ডার যারা দখল করেছিল, তাদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। তোমরা যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাক তাহলে দেখতে পাবে যেমন (ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে) আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, এক ব্যক্তি এক মুষ্টি ভর্তি সোনা-রূপা নিয়ে বের হবে কিন্তু কেউ নিতে চাইবে না। (১৪১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩৭) মুহিল্লি ইবনু খলীফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আদী ইবনু হাতিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। (বাকী হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় মুহিল্লি ইবনু খলীফা হাদীসটি আদী ইবনু হাতিম হতে সরাসরি শুনেছেন বলে উল্লেখিত হয়েছে) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)

103

104

‘উকবাহ ইবনু ‘অমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে মৃত ব্যক্তির সালাতে জানাযার মত উহুদ যুদ্ধে শহীদ সহাবাগণের কবরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ফিরে এসে মিম্বারে উঠে বললেন, আমি তোমাদের জন্য অগ্রগামী ব্যক্তি, আমি তোমাদের হয়ে আল্লাহর নিকটে সাক্ষ্য দিব। আল্লাহর কসম, আমি এখানে বসে থেকেই আমার হাউযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। পৃথিবীর ধন-ভান্ডারের চাবি আমার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমার মৃত্যুর পর তোমরা মুশ্রিক হয়ে যাবে এ আশঙ্কা আমি করি না। তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, দুনিয়ার ধন-সম্পদের মোহে তোমরা আত্মকলহে লিপ্ত হয়ে পড়বে। (১৩৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

105

উসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মদিনা্য় একটি উঁটু টিলায় উঠলেন, অতঃপর বললেন, আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? আমি দেখছি পানির স্রোতের মত ফাসাদ ঢুকে পড়ছে তোমাদের ঘরে ঘরে। (১৮৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

106

যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, শীঘ্রই একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এতে আরবের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। ইয়াজুজ ও মাজুজের দেয়ালে এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলে দু’টি আঙ্গুল গোলাকার করে দেখালেন। যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব, অথচ আমাদের মধ্যে বহু নেক ব্যক্তি আছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে। (৩৩৫৬) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪০ প্রথমাংশ)

107

উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন, সুবাহানাল্লাহ, আজ কী অফুরন্ত ধনভান্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তারই সঙ্গে অগণিত ফিতনা-ফাসাদ নাযিল করা হয়েছে। (১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪০ শেষাংশ)

108

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবূ সা‘সা‘আহকে বললেন, তোমাকে দেখছি তুমি বকরীকে অত্যন্ত ভালবেসে এদেরকে সর্বদা লালন-পালন কর, তাই, তুমি এদের যত্ন কর এবং রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা কর। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এমন এক সময় আসবে, যখন বকরীই হবে মুসলিমের উত্তম সম্পদ। তাকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় বৃষ্টি বর্ষণের স্থানে চলে যাবে এবং তাঁদের দ্বীনকে ফিতনা থেকে রক্ষা করবে। (১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

109

ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.)....নাওফাল ইবনু মু‘আবিয়া (রাঃ) হতে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে অতিরিক্ত আর একটি কথাও বর্ণনা করেছেন যে এমন একটি সালাত রয়েছে যে ব্যক্তির ঐ সালাত ফওত হয়ে গেল, তার পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪২ শেষাংশ)

110

ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শীঘ্রই স্বজনপ্রীতির বিস্তৃতি ঘটবে এবং এমন ব্যাপার ঘটবে যা তোমরা পছন্দ করতে পারবে না। সহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ অবস্থায় আমাদের কী করতে বলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে আর তোমাদের প্রাপ্য আল্লাহর কাছে চাইবে। (৭০৫২, মুসলিম ৩৩/৯ হাঃ ১৮৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

111

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরাইশ গোত্রের এ লোকগুলি (যুবকগণ) মানুষের ধ্বংস ডেকে আনবে। সহাবাগণ বললেন, তখন আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন? তিনি বললেন, মানুষেরা যদি এদের সংসর্গ ত্যাগ করত তবে ভালই হত। (৩৬০৫, ৭০৫৮, মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯১৭, আহমাদ ৮০১১) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪৪ প্রথমাংশ)

112

আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ মাক্কী (রহ.).....সাঈদ উমাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) এবং মারওয়ান (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলতে লাগলেন, আমি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের ধ্বংস কুরাইশের কতকগুলি অল্প বয়স্ক যুবকের হাতে এবং মারওয়ান বললেন, অল্প বয়স্ক ছেলেদের হাতে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, তুমি শুনতে চাইলে তাদের নামও বলতে পারি, অমুকের ছেলে অমুক, অমুকের ছেলে অমুক। (৩৬০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪৪ শেষাংশ)

113

হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম; এই ভয়ে যেন আমি ঐ সবের মধ্যে পড়ে না যাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলীয়্যাতে অকল্যাণকর অবস্থায় জীবন যাপন করতাম অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর আবার কোন অকল্যাণের আশঙ্কা আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ অকল্যাণের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মেশানো। আমি বললাম, মন্দ মেশানো কী? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাত ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কি আরো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন হাঁ, তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পড়ে যাই তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলিমদের দল ও তাঁদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, যদি মুসলিমদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষমূল দাঁতে আঁকড়ে ধরে হলেও তোমার দ্বীনের উপর থাকবে। (৩৬০৭, ৭০৮৪, মুসলিম ৩৩/১৩ হাঃ ১৮৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

114

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সঙ্গীরা কল্যাণ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আর আমি জানতে চেয়েছি অকল্যাণ সম্পর্কে। (৩৬০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

115

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত হবে না যে পর্যন্ত এমন দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে যাদের দাবী হবে এক। (৮৫, মুসলিম ৫২/৪ হাঃ ২৮৮৮, আহমাদ ৮১৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

116

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে। তাদের মধ্যে হবে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। তাদের দাবী হবে এক। আর কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাচারী দাজ্জালের আবির্ভাব না হবে। এরা সবাই নিজেকে আল্লাহর রাসূল বলে দাবী করবে। (৮৫, মুসলিম ৫২/৪ হাঃ ২৮৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

117

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি কিছু গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বানু তামীম গোত্রের জুলখোয়াইসিরাহ্ নামে এক ব্যক্তি এসে হাযির হল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ইনসাফ করুন। তিনি বললেন তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইন্সাফ না করি, তবে ইন্সাফ করবে কে? আমি তো নিষ্ফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হব যদি আমি ইন্সাফ না করি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, একে ছেড়ে দাও। তার এমন কিছু সঙ্গী সাথী রয়েছে তোমাদের কেউ তাদের সালাতের তুলনায় নিজের সালাত এবং সিয়াম নগণ্য বলে মনে করবে। এরা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর নীচে প্রবেশ করে না। তারা দ্বীন হতে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তীরের অগ্রভাগের লোহা দেখা যাবে কিন্তু কোন চিহ্ন পাওয়া যাবে না। কাঠের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। মাঝের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তার পালক দেখলে তাতেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। অথচ তীরটি শিকারী জন্তুর নাড়িভুঁড়ি ভেদ করে রক্তগোশত পার হয়ে বেরিয়ে গেছে। এদের নিদর্শন হল এমন একটি কাল মানুষ যার একটি বাহু নারীর স্তনের মত অথবা গোশত খন্ডের মত নড়াচড়া করবে। তারা লোকদের মধ্যে বিরোধ কালে আত্ম প্রকাশ করবে। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে এ কথা শুনেছি। আমি এ-ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তখন ‘আলী (রাঃ) ঐ লোককে খুঁজে বের করতে আদেশ দিলেন। খোঁজ করে যখন আনা হল আমি মনোযোগের সঙ্গে তাকিয়ে তার মধ্যে ঐ সব চিহ্নগুলি দেখতে পেলাম, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন। (৩৩৪৪, মুসলিম ১২/৪৭ হাঃ ১০৬৪, আহমাদ ১১৪৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

118

সুয়াইদ ইবনু গাফালা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি যখন তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন আমার এমন অবস্থা হয় যে, তাঁর উপর মিথ্যারোপ করার চেয়ে আকাশ হতে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় এবং আমরা নিজেরা যখন আলোচনা করি তখন কথা হল এই যে, যুদ্ধ ছল-চাতুরী মাত্র। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, শেষ যুগে একদল যুবকের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন। তারা মুখে খুব ভাল কথা বলবে। তারা ইসলাম হতে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান গলদেশ পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে না। যেখানেই এদের সঙ্গে তোমাদের দেখা মিলবে, এদেরকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। যারা তাদের হত্যা করবে তাদের এই হত্যার পুরস্কার আছে কিয়ামতের দিন। (৫০৫৭, ৬৯৩০, মুসলিম ১২/৪৮ হাঃ ১০৬৬, আহমাদ ৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

119

খাববাব ইবনু আরত্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে কা‘বা শরীফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করবেন না? তিনি বললেন, তোমাদের আগের লোকদের অবস্থা ছিল এই, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খুঁড়া হত এবং ঐ গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখন্ডিত করা হত। এটা তাদেরকে দ্বীন হতে টলাতে পারত না। লোহার চিরুনী দিয়ে শরীরের হাড় গোশত ও শিরা-উপশিরা সব কিছু ছিন্নভিন্ন করে দিত। এটা তাদেরকে দ্বীন হতে সরাতে পারেনি। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ এ দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একজন উষ্ট্রারোহী সান‘আ হতে হাযারামাউত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করবে না। অথবা তার মেষপালের জন্য নেকড়ে বাঘের ভয়ও করবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ। (৩৮৫২, ৬৯৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

120

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনু কায়েস (রাঃ)-কে তাঁর মাজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার সম্পর্কে জানি। তিনি গিয়ে দেখেন সাবিত (রাঃ) তাঁর ঘরে অবনত মস্তকে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে সাবিত! কী অবস্থা তোমার? তিনি বললেন, অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলার স্বর হতে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন সাবিত (রাঃ) এসব কথা বলেছে। মূসা ইবনু আনাস (রহ.) বলেন, ঐ সাহাবী এক মহা সুসংবাদ নিয়ে হাযির হলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যাও সাবিতকে বল, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত নও বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। (৪৮৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

121

বার‘আ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর বাড়িতে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ঘোড়াটি তখন লাফালাফি করতে লাগল। তখন ঐ সাহাবী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর নিকটে দু’আ করলেন। তখন তিনি দেখলেন, একখন্ড মেঘ এসে তাকে ঢেকে দিয়েছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! তুমি এভাবে তিলাওয়াত করবে। এটা তো প্রশান্তি ছিল, যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে নাযিল হয়েছিল। (মুসলিম ৬/৩৬ হাঃ ৭৯৫, আহমাদ ১৮৫৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

122

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ বাকর (রাঃ) আমার পিতার কাছে আমাদের বাড়িতে আসলেন। তিনি আমার পিতার কাছ হতে একটি হাওদা কিনলেন এবং আমার পিতাকে বললেন, তোমার ছেলে বারাকে আমার সঙ্গে হাওদাটি বয়ে নিয়ে যেতে বল। আমি হাওদাটি বয়ে তাঁর সঙ্গে চললাম। আমার পিতাও ওটার মূল্য নেয়ার জন্য আমাদের সঙ্গী হলেন। আমার পিতা তাঁকে বললেন, হে আবূ বাকর! দয়া করে আপনি আমাদেরকে বলুন, আপনারা কী করেছিলেন যে রাতে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী ছিলেন? তিনি বললেন, হাঁ। অবশ্যই আমরা সারা রাত পথ চলে পরদিন দিন দুপুর অবধি চললাম। যখন রাস্তাঘাট লোকশূন্য হয়ে পড়ল, রাস্তায় কোন মানুষের আনাগোনা ছিল না। হঠাৎ একটি লম্বা ও চওড়া পাথর আমাদের নযরে পড়লো, যার ছায়ায় সূর্যের তাপ প্রবেশ করছিল না। আমরা সেখানে গিয়ে নামলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নিজ হাতে একটি জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিলাম, যাতে সেখানে তিনি ঘুমাতে পারেন। আমি ওখানে একটি চামড়ার বিছানা পেতে দিলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি আপনার নিরাপত্তার জন্য পাহারায় থাকলাম। তিনি শুয়ে পড়লেন। আর আমি চারপাশের অবস্থা দেখার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, একজন মেষ রাখাল তার মেষপাল নিয়ে পাথরের দিকে ছুটে আসছে। সেও আমাদের মত পাথরের ছায়ায় আশ্রয় নিতে চায়। আমি বললাম, হে যুবক! তুমি কার রাখাল? সে মদিনার কি মক্কার এক লোকের নাম বলল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার মেষপালে কি দুধেল মেষ আছে? সে বলল, হাঁ আছে। আমি বললাম, তুমি কি দুহে দিবে? সে বলল, হাঁ। অতঃপর সে একটি বক্রী ধরে নিয়ে এল। আমি বললাম, এর স্তন ধূলা-বালি, পশম ও ময়লা হতে পরিষ্কার করে নাও। রাবী আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, আমি বারাআ (রাঃ)-কে দেখলাম এক হাত অন্য হাতের উপর রেখে ঝাড়ছেন। অতঃপর ঐ যুবক একটি কাঠের বাটিতে কিছু দুধ দোহন করল। আমার সঙ্গেও একটি চামড়ার পাত্র ছিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর পানি ও পান করার পানি রাখার জন্য নিয়েছিলাম। আমি দুধ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তাঁকে জাগানো ভাল মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি জেগে উঠলেন। আমি দুধ নিয়ে হাযির হলাম। আমি দুধের মধ্যে কিছু পানি ঢেলেছিলাম তাতে দুধের নীচ পর্যন্ত ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দুধ পান করুন। তিনি পান করলেন, আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন কি আমাদের যাত্রা শুরুর সময় হয়নি? আমি বললাম, হ্যাঁ হয়েছে। পুনরায় শুরু হল আমাদের সফর। ততক্ষণে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সুরাকা ইবনু মালিক আমাদের পিছন নিয়েছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের অনুসরণে কে যেন আসছে। তিনি বললেন, চিন্তা করোনা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিরুদ্ধে দু’আ করলেন। তৎক্ষণাৎ আরোহীসহ ঘোড়া তার পেট পর্যন্ত মাটিতে দেবে গেল, শক্ত মাটিতে। রাবী যুহায়র এই শব্দটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন আমার ধারণা এ রকম শব্দ বলেছিলেন। সুরাকা বলল, আমার বিশ্বাস আপনারা আমার বিরুদ্ধে দু‘আ করেছেন। আমার জন্য আপনারা দু‘আ করে দিন। আল্লাহর কসম আপনাদের খোঁজকারীদেরকে আমি ফিরিয়ে নিয়ে যাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু‘আ করলেন। সে বেঁচে গেল। ফিরে যাবার পথে যার সঙ্গে তার দেখা হত, সে বলত আমি সব দেখে এসেছি। যাকেই পেয়েছে, ফিরিয়ে দিয়েছে। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, সে আমাদের সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। (২৪৩৯, মুসলিম ৩৬/১০ হাঃ ২০০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

123

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএকদিন অসুস্থ একজন বেদুঈনকে দেখতে গেলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল যে, পীড়িত ব্যক্তিকে দেখতে গেলে বলতেন, কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই, ইশাআল্লাহ গোনাহ হতে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। ঐ বেদুঈনকেও তিনি বললেন। চিন্তা করো না গুনাহ হতে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। বেদুঈন বলল, আপনি বলেছেন গোনাহ হতে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। তা নয়। বরং এতো এমন এক জ্বর যা বয়োঃবৃদ্ধের উপর প্রভাব ফেলছে। তাকে কবরের সাক্ষাৎ করাবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাই হোক। (৫৬৫৬, ৫৬৬২, ৭৪৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

124

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক খ্রিস্টান ব্যক্তি মুসলিম হল এবং সূরা বাকারাহ ও সূরা আলে-ইমরান শিখে নিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সে ওহী লিখত। অতঃপর সে আবার খ্রিস্টান হয়ে গেল। সে বলতে লাগল, আমি মুহাম্মাদ -কে যা লিখে দিতাম তার চেয়ে বেশি কিছু তিনি জানেন না। (নাউজুবিল্লাহ) কিছুদিন পর আল্লাহ্ তাকে মৃত্যু দিলেন। খ্রিস্টানরা তাকে দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে বাইরে নিক্ষেপ করে দিয়েছে। এটা দেখে খ্রিস্টানরা বলতে লাগল- এটা মুহাম্মাদ এবং তাঁর সাহাবীদেরই কাজ। যেহেতু আমাদের এ সাথী তাদের হতে পালিয়ে এসেছিল। এ জন্যই তারা আমাদের সাথীকে কবর হতে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। তাই যতদূর পারা যায় গভীর করে কবর খুঁড়ে তাকে আবার দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে আবার বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবারও তারা বলল, এটা মুহাম্মাদ ও তাঁর সাহাবীদের কান্ড। তাদের নিকট হতে পালিয়ে আসার কারণে তারা আমাদের সাথীকে কবর হতে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবার আরো গভীর করে কবর খনন করে দাফন করল। পরদিন ভোরে দেখা গেল কবরের মাটি এবারও তাকে বাইরে নিক্ষেপ করেছে। তখন তারাও বুঝল, এটা মানুষের কাজ নয়। কাজেই তারা লাশটি ফেলে রাখল। (মুসলিম ৫০/৫০ হাঃ ২৭৮১, আহমাদ ১৩৩২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

125

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হবে, অতঃপর অন্য কোন কিসরা হবে না। যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়ই ঐ দু’এর ধন-ভান্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। (৩০২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

126

জাবির ইবনু সামূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবার পর আর কোন কিসরা হবে না এবং কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবার পর আর কোন কায়সার হবে না। তিনি আরো বলেছেন, নিশ্চয়ই তাদের ধন-ভান্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। (৩১২১) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ

127

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)...বলেন,) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম আমার দু’হাতে সোনার দু’টি বালা। বালা দু’টি আমাকে চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নেই আমার নিকট অহী এল, আপনি ফুঁ দিন। আমি তাই করলাম। বালা দু’টি উড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করলাম, আমার পর দু’জন কায্যাব বের হবে। এদের একজন আনসী, অপরজন ইয়ামামাহবাসী মুসায়লামাতুল কায্যাব। (৪৩৭৪, ৪৩৭৫, ৪৩৭৯, ৭০৩৪, ৭০৩৭, মুসলিম ৪২/৪ হাঃ ২২৭৩, ২২৭৪, আহমাদ ১১৮১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫৯ শেষাংশ)

128

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মক্কা্ হতে হিজরাত করে এমন জায়গায় যাচ্ছি যেখানে বহু খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে। স্থানটি মদিনা্ ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াস্রিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রাংশ ভেঙ্গে গেল। উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের যে বিপদ ঘটেছিল এটা তা-ই। অতঃপর দ্বিতীয় বার তলোয়ারটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন সেটি আগের চেয়েও আরো উত্তম হয়ে গেল। এটা হল যে, আল্লাহ্ মুসলিমগণকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দিবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম, একটি গরু (যবহ হচ্ছে) এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ্ যা করেন সবই ভাল। এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের শাহাদাত বরণ। আর খায়ের হল- আল্লাহর পক্ষ হতে ঐ সকল কল্যাণই কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরস্কার যা আল্লাহ্ আমাদেরকে বাদার দিবসের পর দান করেছেন। (৪০৮১, ৭০৩৫, ৭০৪১, মুসলিম ৪২/৪ হাঃ ২২৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

129

তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম বার আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতেন, এ বছর দু’বার পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায় বেলা উপস্থিত এবং অতঃপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। অতঃপর বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসী নারীদের অথবা মু’মিন নারীদের তুমি সরদার হবে। এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬১ শেষাংশ)

130

তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে বলেছিলেন, যে রোগে তিনি রোগাক্রান্ত হয়েছেন এ রোগেই তাঁর মৃত্যু হবে; তাই আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি চুপিচুপি আমাকে বলেছিলেন, তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাঁর সঙ্গে মিলিত হব, এতে আমি হাসলাম। (৩৬২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬২ শেষাংশ)

131

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন। একদা ‘আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তাঁকে বললেন, তাঁর মত ছেলে আমাদেরও আছে। এতে তিনি বললেন, এর কারণ তো আপনি নিজেও জানেন। তখন ‘উমার (রাঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ডেকে إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, এ আয়াতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মৃত্যু সন্নিকট বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ আয়াতের অর্থ তুমি যা জান তা ছাড়া ভিন্ন কিছু আমি জানি না। (৪২৯৪, ৪৪৩০, ৪৯৬৯, ৪৯৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

132

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রোগে আক্রান্ত হবার পর একটি চাদর পরে মাথায় একটি কাল কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে ঘর হতে বের হয়ে মিম্বরের উপর গিয়ে বসলেন। আল্লাহ্ তা‘আলার হাম্দ ও সানা পাঠ করার পর বললেন, আম্মা বাদ। লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, আর আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। অবশেষে তাঁদের অবস্থা লোকের মাঝে যেমন খাদ্যের মধ্যে লবণের মত হবে। তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির মানুষের উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা থাকবে সে যেন আনসারদের ভাল কাজ গ্রহণ করে এবং তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে। এটাই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ মজলিস যা তিনি করেছিলেন। (৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

133

আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাসান (রাঃ)-কে নিয়ে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁকে সহ মিম্বারে আরোহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমার এ ছেলেটি সরদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে বিবদমান দু’দল মুসলিমের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন। (২৭০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

134

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফর এবং যায়দ [ইবনু হারিস (রাঃ)] এর শাহাদাত অর্জনের সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের উভয়ের শাহাদাত অর্জনের সংবাদ আসার পূর্বেই। তখন তাঁর দু’চোখ হতে অশ্রু ঝরছিল। (১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

135

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট আনমাত (গালিচার কার্পেট) আছে কি? আমি বললাম আমরা তা পাব কোথায়? তিনি বললেন, শীঘ্রই তোমরা আনমাত লাভ করবে। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলি, আমার বিছানা হতে এটা সরিয়ে দাও। তখন সে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, শীঘ্রই তোমরা আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তা রাখতে দেই। (মুসলিম ৩৭/৭ হাঃ ২০৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

136

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ) ‘উমরাহ আদায় করার জন্য গেলেন এবং সাফ্ওয়ানের পিতা উমাইয়াহ ইবনু খালাফ এর বাড়িতে তিনি অতিথি হলেন। উমাইয়াহ্ও সিরিয়ায় গমনকালে (মদিনা্য়) সা‘দ (রাঃ)-এর বাড়িতে অবস্থান করত। উমাইয়াহ সা‘দ (রাঃ)-কে বলল, অপেক্ষা করুন, যখন দুপুর হবে এবং যখন চলাফেরা কমে যাবে, তখন আপনি গিয়ে তাওয়াফ করে নিবেন। সা‘দ (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ জাহাল এসে হাযির হল। সা‘দ (রাঃ)-কে দেখে জিজ্ঞেস করল, এ ব্যক্তি কে যে কা‘বার তাওয়াফ করছে সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমি সা‘দ। আবূ জাহাল বলল, তুমি নির্বিঘ্নে কা’বার তাওয়াফ করছ? অথচ তোমরাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীদেরকে আশ্রয় দিয়েছ? সা‘দ (রাঃ) বললেন, হাঁ। এভাবে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হল। তখন উমাইয়া সা‘দ (রাঃ)-কে বলল, আবুল হাকামের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বল না, কারণ সে মক্কা্বাসীদের নেতা। অতঃপর সা‘দ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি যদি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে বাধা প্রদান কর, তবে আমিও তোমার সিরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিব। উমাইয়া সা‘দ (রাঃ)-কে তখন বলতে লাগল, তোমার স্বর উঁচু করো না এবং সে তাঁকে বিরত করতে চেষ্টা করতে লাগল। তখন সা‘দ (রাঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তারা তোমাকে হত্যা করবে। উমাইয়া বলল, আমাকেই? তিনি বললেন হাঁ। উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও মিথ্যা কথা বলেন না। অতঃপর উমাইয়া তার স্ত্রীর নিকট ফিরে এসে বলল, তুমি কি জান, আমার ইয়াসরিবী ভাই আমাকে কী বলেছে? স্ত্রী জিজ্ঞেস করল কী বলেছে? উমাইয়া বলল, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। তার স্ত্রী বলল, আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেন না। যখন মক্কার মুশরিকরা বাদারের উদ্দেশে রওয়ানা হল এবং আহবানকারী আহবান জানাল। তখন উমাইয়ার স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিল, তোমার ইয়াসরিবী ভাই তোমাকে যে কথা বলছিল সে কথা তোমার মনে নেই? তখন উমাইয়া না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিল। আবূ জেহেল তাকে বলল, তুমি এ অঞ্চলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। আমাদের সঙ্গে দুইএকদিনের পথ চল। উমাইয়াহ তাদের সঙ্গে চলল। আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছায় সে নিহত হল। (৩৯৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

137

আবূ ‘উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে জানানো হল যে, একবার জিবরাঈল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তখন উম্মু সালামাহ (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি এসে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলেন। অতঃপর উঠে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, লোকটিকে চিনতে পেরেছ কি? তিনি বললেন, এতো দেহ্ইয়া। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম। আমি দেহ্ইয়া বলেই বিশ্বাস করছিলাম কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর খুত্বায় জিব্রাঈল (আঃ)-এর আগমনের কথা বলতে শুনলাম। [সুলায়মান (রাবী) বলেন] আমি আবূ ‘উসমানকে জিজ্ঞেস করলাম এ হাদীসিট আপনি কার নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর নিকট শুনেছি। (৪৯৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

138

আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমার) (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা (স্বপ্নে) লোকজনকে একটি মাঠে সমবেত দেখতে পেলাম। তখন আবূ বাকর (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং এক অথবা দুই বালতি পানি উঠালেন। পানি উঠাতে তিনি দুর্বলতা বোধ করছিলেন। আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর উমর (রাঃ) বালতিটি হাতে নিলেন। বালতিটি তখন বড় আকার ধারণ করল। আমি মানুষের মধ্যে পানি উঠাতে ‘উমারের মত সুদক্ষ ও শক্তিশালী ব্যক্তি আর দেখিনি। শেষে উপস্থিত লোকো তাদের উটগুলিকে পানি পান করিয়ে উটশালে নিয়ে গেল। হাম্মাম (রহ.) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছি আবূ বাকর দু’বালতি পানি উঠালেন। (৩৬৭৬, ৩৬৮২, ৭০১৯, ৭০২০, মুসলিম ৪৪/২, হাঃ ২৩৯৩, আহমাদ ৪৯৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

139

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ইয়াহূদীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কী বিধান পেয়েছ? তারা বলল, আমরা এদেরকে অপমানিত করব এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বাহির করল এবং প্রস্তর হত্যা করা সম্পর্কীয় আয়াতের উপর হাত রেখে তার আগের ও পরের আয়াতগুলি পাঠ করল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমার হাত সরাও। সে হাত সরাল। তখন দেখা গেল প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার আয়াত আছে। তখন ইয়াহূদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যই বলছেন। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার আয়াতই আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তর নিক্ষেপে দু’জনকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি ঐ পুরুষটিকে মেয়েটির দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। সে মেয়েটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। (১৩২৯, মুসলিম ২৯/৬, হাঃ ১৬৯৯, আহমাদ ৪৪৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

140

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। (৩৮৬৯, ৩৮৭১, ৪৮৬৪, ৪৮৬৫, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০০, আহমাদ ৩৫৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

141

আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা্বাসী কাফিররা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিদর্শন দেখানোর জন্য বললে তিনি তাদেরকে চাঁদ দু’ভাগ করে দেখালেন। (৩৮৬৮, ৪৮৬৭, ৪৮৬৮, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

142

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দু’খন্ড হয়েছিল। (৩৮৭০, ৪৮৬৬, মুসলিম ৫০/৮, হাঃ ২৮০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

143

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবী অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে বের হলেন, তখন তাদের সঙ্গে দু’টি বাতির মত কিছু তাদের সম্মুখ ভাগ আলোকিত করে চলল। যখন তাঁরা আলাদা হয়ে গেলেন তখন প্রত্যেকের সঙ্গে এক একটি বাতি চলতে লাগল। তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছা পর্যন্ত। (৪৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

144

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমনকি যখন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) আসবে তখনও তারা বিজয়ী থাকবে। (৭৩১১, ৭৪৫৯, মুসলিম ৩৩/৫৩, হাঃ ১৯২১ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

145

মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর দ্বীনের উপর অটল থাকবে। তাদেরকে যারা অপমান করতে চাইবে অথবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাঁরা এই অবস্থার উপর থাকবে। ‘উমাইর ইবনু হানী (রহ.) মালিক ইবনু ইউখামিরের (রহ.) বরাত দিয়ে বলেন, মু‘আয (রাঃ) বলেছেন, ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে। মু‘আবিয়াহ (রহ.) বলেন, মালিক (রহ.)-এর ধারণা যে ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে বলে মু‘আয (রাঃ) বলেছেন। (৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

146

আর তা হলো এইঃ ‘উরওয়াহ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ঘোড়ার কপালের কেশদামে বরকত ও কল্যাণ আছে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি। রাবী বলেন, আমি তার গৃহে সত্তরটি ঘোড়া দেখেছি। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য যে বকরীটি কেনা হয়েছিল তা ছিল কুরবানীর জন্য। (২৮৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৭৮ শেষাংশ)

147

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালের কেশদামে কিয়ামত অবধি কল্যাণ ও বরকত আছে। (২৮৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

148

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত আছে। (২৮৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

149

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া তিন প্রকার। একজনের জন্য পুণ্য, আর একজনের জন্য আবরণ ও অন্য আর একজনের জন্য পাপের কারণ। সে ব্যক্তির জন্য পুণ্য, যে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়াকে সর্বদা প্রস্তুত রাখে এবং সে ব্যক্তি যখন লম্বা রশি দিয়ে ঘোড়াটি কোন চারণভূমি বা বাগানে বেঁধে রাখে তখন ঐ লম্বা দড়ির মধ্যে চারণভূমি অথবা বাগানের যে অংশ পড়বে তত পরিমাণ সাওয়াব সে পাবে। যদি ঘোড়াটি দড়ি ছিঁড়ে ফেলে এবং দুই একটি টিলা পার হয়ে কোথাও চলে যায় তার পরে তার লাদাগুলিও নেকী বলে গণ্য হবে। যদি কোন নদী-নালায় গিয়ে পানি পান করে, মালিক যদিও পানি পান করানোর ইচ্ছা করেনি তাও তার নেক আমলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নিজের অস্বচ্ছলতা দারিদ্রের গ্লানি ও পরমুখাপেক্ষিতা হতে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়া পালন করে এবং তার গর্দান ও পিঠে আল্লাহর যে হক রয়েছে তা ভুলে না যায়। তবে এই ঘোড়া তার জন্য আযাব হতে আবরণ হবে। অপর এক ব্যক্তি যে অহংকার, লোক দেখানো এবং আহলে ইসলামের সঙ্গে শত্রুতার কারণে ঘোড়া লালন-পালন করে এ ঘোড়া তার জন্য পাপের বোঝা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন আয়াত আমার নিকট অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক অনন্য আয়াতটি আমার নিকট নাযিল হয়েছেঃ যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তার প্রতিফল অবশ্যই দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিফল দেখতে পাবে। (যিলযালঃ ৭৮) (২৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

150

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব সকালে খায়বারে পৌঁছলেন। তখন খায়বারবাসী কোদাল নিয়ে ঘর হতে বের হচ্ছিল। তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে তারা বলতে লাগল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরা সেনা বাহিনী নিয়ে এসে পড়েছে। (এ বলে) তারা দৌড়াদৌড়ি করে তাদের সুরক্ষিত কিল্লায় ঢুকে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’হাত উপরে উঠিয়ে বললেন, ‘‘আল্লাহু আকবার’’ খায়বার ধ্বংস হোক, আমরা যখন কোন জাতির, আঙ্গিণায় অবতরণ করি তখন এসব সাবধানকৃত লোকদের প্রভাতটি অত্যন্ত অশুভ হয়। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

151

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হতে অনেক হাদীস আমি শুনেছি, তবে তা আমি ভুলে যাই। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার চাদরটি বিছাও। আমি চাদর বিছালাম। তিনি তাঁর হাত দিয়ে চাদরের মধ্যে কী যেন রাখলেন এবং বললেন, চাদরটি চেপে ধর। আমি চেপে ধরলাম, অতঃপর আমি আর কোন হাদীস ভুলিনি। (১১৮) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ