অল ইসলাম লাইব্রেরি

57 - খুমুস

1

‘আলী (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদার যুদ্ধের গনীমতের মালের মধ্য হতে যে অংশ আমি পেয়েছিলাম, তাতে একটি জওয়ান উটনীও ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুমুসের মধ্য হতে আমাকে একটি জওয়ান উটনী দান করেন। আর আমি যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর যাপন করব, তখন আমি বানূ কায়নুকা গোত্রের এক স্বর্ণকারের সঙ্গে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলাম যে, সে আমার সঙ্গে যাবে এবং আমরা উভয়ে মিলে ইযখির ঘাস সংগ্রহ করে আনব। আমার ইচ্ছা ছিল তা স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রয় করে তা দিয়ে আমার বিবাহের ওয়ালীমা সম্পন্ন করব। ইতোমধ্যে আমি যখন আমার জওয়ান উটনী দু’টির জন্য আসবাবপত্র যেমন পালান, থলে ও রশি ইত্যাদি একত্রিত করছিলাম, আর আমার উটনী দু’টি এক আনসারীর ঘরের পার্শ্বে বসা ছিল। আমি আসবাবপত্র যোগাড় করে এসে দেখি উট দু’টির কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কোমরের দিকে পেট কেটে কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। উটনী দু’টির এ হাল দেখে আমি অশ্রু চেপে রাখতে পারলাম না। আমি বললাম, কে এমনটি করেছে? লোকেরা বলল, ‘হামযা ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব এমনটি করেছে। সে এ ঘরে আছে এবং শরাব পানকারী কতিপয় আনসারীর সঙ্গে আছে।’ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেহারা দেখে আমার মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে পারলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজকের মত দুঃখজনক অবস্থা দেখেনি। হামযাহ আমার উট দু’টির উপর অত্যাচার করেছে। সে দু’টির কুঁজ কেটে ফেলেছে এবং পাঁজর ফেড়ে ফেলেছে। আর সে এখন অমুক ঘরে শরাব পানকারী দলের সঙ্গে আছে।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানি আনতে আদেশ করলেন এবং চাদরখানি জড়িয়ে পায়ে হেঁটে চললেন। আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করলাম। হামযাহ যে ঘরে ছিল সেখানে পৌঁছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তারা অনুমতি দিল। তখন তারা শরাব পানে বিভোর ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাহকে তার কাজের জন্য তিরস্কার করতে লাগলেন। হামযাহ তখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত। তার চক্ষু দু’টি ছিল রক্তলাল। হামযাহ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাকাল। অতঃপর সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং তাঁর হাঁটু পানে তাকাল। আবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর নাভির দিকে তাকাল। আবার সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর মুখমন্ডলের দিকে তাকাল। অতঃপর হামযাহ বলল, তোমরাই তো আমার পিতার গোলাম। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, সে এখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত আছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে হেঁটে সরে আসলেন। আর আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসলাম। (২০৮৯) (মুসলিম ৩৬/১ হাঃ ১৯৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2

অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টিত হবে না, আমরা যা ছেড়ে যাই, তা সাদাকাহ রূপে গণ্য হয়।’ এতে আল্লাহর রাসূলের কন্যা ফাতিমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন এবং আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সঙ্গে কথাবার্তা বলা ছেড়ে দিলেন। এ অবস্থা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর ফাতিমাহ (রাঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ফাতিমাহ (রাঃ) আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ত্যাজ্য খায়বার ও ফাদাকের ভূমি এবং মদিনার সদাকাহতে তাঁর অংশ দাবী করেছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ‘আমল করতেন, আমি তাই ‘আমল করব। আমি তার কোন কিছুই ছেড়ে দিতে পারি না। কেননা আমি আশংকা করি যে, তাঁর কোন কথা ছেড়ে দিয়ে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে না যাই। অবশ্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার সদাকাহ্কে ‘উমার (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট হস্তান্তর করেন। আর খায়বার ও ফাদাকের ভূমিকে আগের মত রেখে দেন। ‘উমার (রাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ সম্পত্তি দু’টিকে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জরুরী প্রয়োজন পূরণ ও বিপদকালীন সময়ে ব্যয়ের জন্য রেখেছিলেন। সুতরাং এ সম্পত্তি দু’টি তাঁরই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যিনি মুসলিমদের শাসক খলীফা হবেন।’ যুহরী (রহ.) বলেন, এ সম্পত্তি দু’টির ব্যবস্থাপনা আজ পর্যন্ত ও রকমই আছে। (৩৭১২, ৪০৩৬, ৪২৪১, ৬৭২৬) (মুসলিম ৩২/১৬ হাঃ ১৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬০ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

3

মালিক ইবনু আউস ইবনু হাদাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বসা ছিলাম, যখন রোদ প্রখর হল তখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর দূত আমার নিকট এসে বলল, আমীরুল মু’মিনীন আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি তার সঙ্গে রওয়ানা হয়ে ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলাম। দেখতে পেলাম, তিনি একটি চাটাইয়ের উপর উপবিষ্ট ছিলেন। যাতে কোন বিছানা ছিল না। আর তিনি চামড়ার একটি বালিশে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করে বসে পড়লাম। তিনি বললেন, হে মালিক! তোমার গোত্রের কতিপয় লোক আমার নিকট এসেছেন। আমি তাদের জন্য সামান্য পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার আদেশ দিয়েছি। তুমি তা বুঝে নিয়ে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ কাজটির জন্য আমাকে ব্যতীত যদি অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন। তিনি বললেন, ওহে তুমি তা গ্রহণ কর। আমি তাঁর কাছেই বসা ছিলাম। এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান ইবনু আফফান, ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আউফ, যুবাইর (ইবনু আওয়াম) ও সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) আপনার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তাঁদের আসতে দাও। তাঁরা এসে সালাম করে বসে পড়লেন। ইয়ারফা ক্ষণিক সময় পরে এসে বলল, ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ) আপনার সাক্ষাতের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তাঁদেরকে আসতে দাও। অতঃপর তাঁরা উভয়ে প্রবেশ করে সালাম করলেন এবং বসে পড়লেন। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও এ ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দিন। বানূ নাযীরের সম্পদ হতে আল্লাহ তা‘আলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা দান করেছিলেন, তা নিয়ে তাঁরা উভয়ে বিরোধ করেছিলেন। ‘উসমান (রাঃ) এবং তাঁর সাথীগণ বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মু’মিনীন! এদের মধ্যে মীমাংসা করে দিন এবং তাঁদের একজনকে অপরজন হতে নিশ্চিত করে দিন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, একটু থামুন। আমি আপনাদেরকে সে মহান সত্তার শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান ও যমীন স্থির রয়েছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের (নবীগণের) মীরাস বণ্টিত হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা সদাকাহরূপে গণ্য হয়? এর দ্বারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছেন। ‘উসমান (রাঃ) ও তাঁর সাথীগণ বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বলেছেন। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ‘আলী এবং ‘আব্বাস (রাঃ)-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি। আপনারা কি জানেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বলেছেন? তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ, তিনি এমন বলেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এখন এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের বুঝিয়ে বলছি। ব্যাপার হলো এই যে, আল্লাহ তা‘আলা ফায়-এর সম্পদ হতে স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশেষভাবে দান করেছেন যা তিনি ব্যতীত কাউকেই দান করেননি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ وَمَا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ مِنْهُمْ ..... إِلَى قَوْلِهِ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ( الحشر : 6) আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের অর্থাৎ ইয়াহূদীদের নিকট হতে যে ফায় দিয়েছেন, তজ্জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি। আল্লাহ্ তা‘আলাই তো যাদের উপর ইচ্ছা তাঁর রাসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ তা‘আলা সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান- (হাশর ৬)। সুতরাং এ সকল সম্পত্তি নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল সম্পত্তি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখেননি এবং আপনাদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দেননি। বরং আপনাদেরকেও দিয়েছেন এবং আপনাদের কাজেই ব্যয় করেছেন। এ সম্পত্তি হতে যা উদ্বৃত্ত রয়েছে, তা হতে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবার-পরিজনের বাৎসরিক খরচ নির্বাহ করতেন। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকতো, তা আল্লাহর সম্পদে জমা করে দিতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজীবন এরূপই করেছেন। আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, আপনারা কি তা জানেন? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, আমরা অবগত আছি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, আপনারা কি এ বিষয় অবগত আছেন? অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওফাত দিলেন তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে দায়িত্ব প্রাপ্ত একথা বলে তিনি এ সকল সম্পত্তি নিজ দায়িত্বে নিয়ে নেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সবের আয়-উৎপাদন যে সব কাজে ব্যয় করতেন, সে সকল কাজে ব্যয় করেন। আল্লাহ তা‘আলা জানেন যে, তিনি এক্ষেত্রে সত্যবাদী, পুণ্যবান, সুপথপ্রাপ্ত ও সত্যাশ্রয়ী ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আবূ বাকর (রাঃ)-কে ওফাত দেন। এখন আমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর পক্ষ হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমি আমার খিলাফতকালের প্রথম দু’বছর এ সম্পত্তি আমার দায়িত্বে রেখেছি এবং এর দ্বারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বুকর (রাঃ) যা যা করতেন, তা করেছি। আল্লাহ তা‘আলাই জানেন যে, আমি এক্ষেত্রে সত্যবাদী, পুণ্যবান, সুপথপ্রাপ্ত ও সত্যাশ্রয়ী রয়েছি। অতঃপর এখন আপনারা উভয়ে আমার নিকট এসেছেন। আর আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন এবং আপনাদের উভয়ের কথা একই। আর আপনাদের ব্যাপার একই। হে ‘আব্বাস (রাঃ)! আপনি আমার নিকট আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের সম্পত্তির অংশের দাবী নিয়ে এসেছেন আর ‘আলী (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ইনি আমার নিকট তাঁর স্ত্রী কর্তৃক পিতার সম্পত্তিতে প্রাপ্য অংশ নিতে এসেছেন। আমি আপনাদের উভয়কেই বলছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমরা নবীগণের সম্পদ বণ্টিত হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাই তা সদাকাহরূপে গণ্য হয়।’ অতঃপর আমি সঙ্গত মনে করেছি যে, এ সম্পত্তিকে আপনাদের দায়িত্বে ছেড়ে দিব। এখন আমি আপনাদের বলছি যে, আপনারা যদি চান, তবে আমি এ সম্পত্তি আপনাদের নিকট সমর্পণ করে দিব। এ শর্তে যে, আপনাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার থাকবে, আপনারা এ সম্পত্তির আয় আমদানী সে সকল কাজে ব্যয় করবেন, যে সকল কাজে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাঃ) ও আমি আমার খিলাফতকালে এ যাবৎ ব্যয় করে এসেছি। তদুত্তরে আপনারা বলছেন, এ সম্পত্তিকে আমাদের নিকট দিয়ে দিন। আমি উক্ত শর্তের উপর আপনাদের প্রতি সমর্পণ করেছি। আপনাদেরকে (উসমান (রাঃ) ও তাঁর সাথীগণকে) উদ্দেশ্য করে আমি আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, বলুন তো আমি কি তাঁদেরকে এ শর্তে এ সম্পত্তি সমর্পণ করেছি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ)-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর নামে কসম দিচ্ছি, বলুন তো আমি কি এ শর্তে আপনাদের প্রতি এ সম্পত্তি সমর্পণ করেছি? তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনারা কি আমার নিকট এ ছাড়া অন্য কোন মীমাংসা চান? আল্লাহর কসম! যাঁর আদেশে আকাশ ও পৃথিবী আপন স্থানে প্রতিষ্ঠিত আছে, আমি এ ব্যাপারে এর বিপরীত কোন মীমাংসা করব না। যদি আপনারা এ শর্ত পালনে অক্ষম হন, তবে এ সম্পত্তি আমার দায়িত্বে ছেড়ে দিন। আপনাদের উভয়ের পক্ষ হতে এ সম্পত্তির দেখাশুনা করার জন্য আমিই যথেষ্ট। (২৯০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

4

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রাবী‘আ গোত্রের একটি উপদল। আপনার ও আমাদের মাঝে মুযার (কাফির) গোত্রের বসবাস। তাই আমরা আপনার নিকট নিষিদ্ধ মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময় আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কাজে আদেশ করুন, যার উপর আমরা ‘আমল করব এবং আমাদের পশ্চাতে যারা রয়ে গেছে, তাদেরকেও তা ‘আমল করতে আহবান জানাব। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ করছি এবং চারটি কাজ হতে নিষেধ করছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের অঙ্গুলিতে তা গণনা করে বলেন, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আন। আর তা হচ্ছে এ সাক্ষ্যদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই আর সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দান করা, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করা এবং আল্লাহর জন্য গনীমাত লদ্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা১। আর আমি তোমাদের শুকনো লাউয়ের খোলে তৈরি পাত্র, খেজুর গাছের মূল দ্বারা তৈরি পাত্র, সবুজ মটকা, আলকাতরার প্রলেপ দেয়া মটকা ব্যবহার করতে নিষেধ করছি। (৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

5

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উত্তরাধিকারীগণ একটি দ্বীনারও ভাগ বণ্টন করে নিবে না। আমি যা রেখে যাব, তা হতে আমার স্ত্রীগণের খরচাদি ও আমার কর্মচারীদের ব্যয় নির্বাহের পর বাকী যা থাকবে, তা সদাকাহরূপে গণ্য হবে।’ (২৭৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

6

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হল, তখন আমার ঘরে এমন কোন বস্তু ছিল না, যা খেয়ে কোন প্রাণী বাঁচতে পারে। শুধুমাত্র তাকের উপর আধা ওয়াসাক আটা পড়ে ছিল। আমি তা হতে খেতে থাকলাম এবং বেশ কিছুকাল কেটে গেল। অতঃপর আমি তা মেপে দেখলাম, ফলে তা শেষ হয়ে গেল।’ (৬৪৫১) (মুসলিম ৫৩ হাঃ ২৯৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

7

‘আমর ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুদ্ধাস্ত্র, সাদা খচ্চর ও কিছু যমীন ছাড়া কিছুই রেখে যাননি এবং তাও তিনি সদাকাহ হিসেবে রেখে গেছেন।’ (২৭৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

8

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (وَقَرْنَ فِيْ بُيُوْتِكُنَّ) (وَ لَا تَدْخُلُوْا بُيُوْتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُّؤْذَنَ لَكُمْ) আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর- (আহযাব ৩৩)। (হে মুসলিমগণ) তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবে না। (আহযাব ৫৩) ৩০৯৯. ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাস‘ঊদ হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ যখন অতি মাত্রায় বেড়ে গেল তখন তিনি আমার ঘরে অবস্থান করে রোগের সেবা শুশ্রুষার ব্যাপারে তাঁর অপর স্ত্রীগণের নিকট অনুমতি চান। তাঁকে অনুমতি হয়।’ (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

9

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ঘরে আমার পালার দিন আমার কন্ঠ ও বুকের মধ্য বরাবর মাথা রাখা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ও আমার মুখের লালাকে একত্রিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) একটি মিস্ওয়াক নিয়ে প্রবেশ করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা চিবাতে অক্ষম হন। তখন আমি সে মিসওয়াকটি নিয়ে চিবিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাঁত মেজে দেই। (৮৯০) (মুসলিম ৪৪/১৫ হাঃ ২৪৪৯, আহমাদ ১৮৯৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

10

‘আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আসেন। তখন তিনি রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে ই‘তিকাফ অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর দরজার নিকটবর্তী মসজিদের দরজার নিকট পৌঁছলেন তখন দু’জন আনসার তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, একটু থাম, (এ মহিলা আমার স্ত্রী তারা বলল, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ রকম বলাটা তাদের নিকট কষ্টদায়ক মনে হল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘শয়তান মানুষের রক্ত কণিকার মত সর্বত্র বিচরণ করে। আমি আশঙ্কা করেছিলাম, না জানি সে তোমাদের মনে কোন সন্দেহ জাগ্রত করে দেয়।’ (২০৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

11

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর ঘরের উপর আরোহণ করি। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিবলাকে পেছন দিকে রেখে সিরিয়া মুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে নিতে দেখলাম। (১৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

12

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত তখন আদায় করতেন, যখন সূর্যের আলো তার আঙ্গিণা থেকে বাহির হয়ে যায়নি। (৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

13

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিতে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে ইশারা করে তিনবার বললেন, এ দিক থেকেই ফিতনা, যে দিক হতে সূর্য উদয়ের কালে শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে। (৩২৭৯, ৩৫১১, ৫২৯৬, ৭০৯২, ৭০৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

14

‘আমরাহ বিনতু ‘আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর নিকট ছিলেন। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) আওয়াজ শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি হাফসাহ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার মনে হয়, সে অমুক, হাফসাহ (রাঃ)-এর দুধ চাচা। দুধপান তা-ই হারাম করে, যা জন্মগত সম্পর্ক হারাম করে। (২৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

15

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন আবূ বাকর (রাঃ) খলীফা হন, তখন তিনি তাঁকে বাহরাইনে প্রেরণ করেন এবং তাঁর এ বিষয়ে একটি নিয়োগপত্র লিখে দেন। আর তাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোহর দ্বারা সীলমোহর করে দেন। উক্ত মোহরে তিনটি লাইন খোদিত ছিল। এক লাইনে মুহাম্মদ, এক লাইনে রাসূল ও এক লাইনে আল্লাহ। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

16

‘ঈসা ইবনু তাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) দু’টি পশমবিহীন পুরনো চপ্পল বের করলেন, যাতে দু’টি ফিতা লাগানো ছিল। সাবিত বুনানী (রহ.) পরে আনাস (রাঃ) হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, এ দু’টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকা ছিল। (৫৮৫৭, ৫৮৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

17

আবূ বুরদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) একটি মোটা তালি বিশিষ্ট কম্বল বের করলেন আর বললেন, এ কম্বল জড়ানো অবস্থায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়েছে। আর সুলাইমান (রহ.) হুমাইদ (রহ.) সূত্রে আবূ বুরদাহ (রাঃ) হতে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) ইয়ামানে তৈরি একটি মোটা তহবন্দ এবং একটি কম্বল যাকে তোমরা জোড়া লাগানো বলে থাক, আমাদের নিকট বের করলেন। (৫৮১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

18

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেয়ালা ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি ভাঙ্গা জায়গায় রূপার পাত দিয়ে জোড়া লাগান। আসিম (রহ.) বলেন, আমি সে পেয়ালাটি দেখেছি এবং তাতে আমি পান করেছি। (৫৬৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

19

‘আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তাঁরা ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়াহর নিকট হতে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতের পর মদিনা্য় আসলেন, তখন তাঁর সঙ্গে মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) মিলিত হলেন এবং বললেন, আপনার কি আমার নিকট কোন প্রয়োজন আছে? থাকলে বলুন। তখন আমি তাঁকে বললাম, না। তখন মিসওয়ার (রাঃ) বললেন, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরবারীটি দিবেন? আমার আশঙ্কা হয়, লোকেরা আপনাকে কাবু করে তা ছিনিয়ে নিবে। আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাকে এটি দেন, তবে আমার জীবন থাকা অবধি কেউ আমার নিকট হতে তা নিতে পারবে না। একবার ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ফাতিমাহ (রাঃ) থাকা অবস্থায় আবূ জাহল কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। আমি তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মিম্বারে দাঁড়িয়ে লোকদের এ খুত্বা দিতে শুনেছি, আর তখন আমি সাবালক। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ফাতিমা আমার হতেই। আমি আশঙ্কা করছি সে দ্বীনের ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে পড়ে।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ আবদে শামস গোত্রের এক জামাতার ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর জামাতা সম্পর্কে প্রশংসা করেন এবং বলেন, সে আমার সঙ্গে যা বলেছে, তা সত্য বলেছে, আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছে, তা পূরণ করেছে। আমি হালালকে হারামকারী নই এবং হারামকে হালালকারী নই। কিন্তু আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর দুশমনের মেয়ে একত্র হতে পারে না। (মুসলিম ৪৪/১৫ হাঃ ২৪৪৯, আহমাদ ১৮৯৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

20

ইবনু হানাফিয়্যা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) যদি ‘উসমান (রাঃ)-এর সমালোচনা করতেন, তবে সেদিনই করতেন, যেদিন তাঁর নিকট কিছু লোক এসে ‘উসমান (রাঃ) কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত আদায়কারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিল। ‘আলী (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন, ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তাঁকে সংবাদ দাও যে, এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমান। কাজেই আপনার কর্মচারীদের কাজ করার নির্দেশ দিন। তারা যেন সে অনুসারে কাজ করে। তা নিয়ে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমার এটির প্রয়োজন নেই। অতঃপর আমি তা নিয়ে ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে জ্ঞাত করি। তখন তিনি বললেন, এটি যেখান হতে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও। (৩১১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৮৯ প্রথমাংশ)

21

ইবনু হনাফিয়্যাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাও, এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাহ সম্পর্কিত নির্দেশ দিয়েছেন। (৩১১১) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৮৯ শেষাংশ)

22

حِيْنَ سَأَلَتْهُ فَاطِمَةُ وَشَكَتْ إِلَيْهِ الطَّحْنَ وَالرَّحَى أَنْ يُخْدِمَهَا مِنْ السَّبْيِ فَوَكَلَهَا إِلَى اللهِ যখন ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁর নিকট আটা পিষার কষ্টের কথা জ্ঞাপন করতঃ বন্দীদের নিকট হতে তাঁর খেদমতের জন্য দাসী চাইলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহলে সুফ্ফা ও বিধবাদের অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তাঁকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করেন। ৩১১৩. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ (রাঃ) আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতিমাহ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে একজন খাদিম চাইলেন। তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট তা উল্লেখ করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর নিকট বিষয়টি বললেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন। তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে চাইলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চেয়ে উত্তম জিনিসের সন্ধান দিব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘আল্হামদু লিল্লাহ’ এবং তেত্রিশবার ‘সুব্হানাল্লাহ’ বলবে, এটাই তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ।’ (৩৭০৫, ৫৩৬১, ৬৩১৮) (মুসলিম ৪৮/১৯ হাঃ ২৭২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

23

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের আনসারী এক ব্যক্তির একটি পুত্র জন্মে। সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করল। মানসূর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। আর সুলাইমান (রহ.) বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। আর সুলাইমান (রহ.) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, তার একটি পুত্র জন্মে। তখন সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনীয়াতের অনুরূপ কুনীয়াত রেখে না। আমাকে বণ্টনকারী করা হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর হুসাইন (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি বণ্টনকারীরূপে প্রেরিত হয়েছি। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর ‘আমর (রাঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, সে ব্যক্তি তার ছেলের নাম কাসিম রাখতে চেয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ, আমার কুনীয়াতের ন্যায় কুনীয়াত রেখ না।’ (৩১১৫, ৩৫৩৮, ৬১৮৬, ৬১৮৭, ৬১৮৯, ৬১৯৬) (মুসলিম ৩৮/১ হাঃ ২১৩৩, আহমাদ ১৪২৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

24

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এক জনের পুত্র জন্মে। সে তার নাম রাখল কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। সে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি পুত্র জন্মেছে। আমি তার নাম রেখেছি কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আনসারগণ ঠিকই করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখ, কিন্তু কুনীয়াতের মত কুনীয়াত ব্যবহার করো না। কেননা, আমি তো কাসিম (বণ্টনকারী)।’ (৩১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

25

মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মাত সর্বদা তাদের প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর আদেশ আসা পর্যন্ত আর তারা বিজয়ী থাকবে।’ (৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

26

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিতও করি না। আমি তো মাত্র বণ্টনকারী, যেভাবে নির্দেশিত হই, সেভাবে ব্যয় করি।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

27

খাওলাহ্ আনসারীয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহর দেয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

28

(وَقَالَ اللهُ تَعَالَى )وَعَدَكُمُ اللهُ مَغَانِمَ كَثِيْرَةً تَأْخُذُوْنَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهٰ( وَهِيَ لِلْعَامَّةِ حَتَّى يُبَيِّنَهُ الرَّسُوْلُ صلى الله عليه وسلم আর আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ ‘‘আল্লাহ তোমাদেরকে প্রচুর গনীমতের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করতে থাকবে। অতএব, এটা তিনি তোমাদের জন্য প্রথমে ত্বরান্বিত করেছেন’’- (সূরা ফাত্হ্ঃ ২০) [আয়াতের শেষ পর্যন্ত] গনীমত সাধারণ মুসলিমের জন্য ছিল কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ব্যাখ্যা করে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ৩১১৯. ‘উরওয়াহ আল-বারেকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়ার কপালের উপরিভাগের কেশদামে আছে কল্যাণ, সাওয়াব ও গনীমত কিয়ামত অবধি। (২৮৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

29

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, অতঃপর আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই উভয় সাম্রাজ্যের ধন ভান্ডার আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। (৩০২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

30

জাবির ইবনু সামূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে অতঃপর আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই উভয় সাম্রাজ্যের ধনভান্ডার আল্লাহর পথ ব্যয় হবে। (৩৬১৯, ৬৬২৯) (মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯১৯, আহমাদ ২০৯১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

31

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার জন্য গানীমাত হালাল করা হয়েছে। (৩৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

32

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং তাঁরই বাণীর প্রতি দৃঢ় আস্থায় তাঁরই পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহ তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সে যে সাওয়াব ও গনীমত লাভ করেছে তা সমেত তাকে ঘরে ফিরাবেন, যেখান হতে সে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। (৩৬) (মুসলিম ৩৩/২৮ হাঃ ১৮৭৬, আহমাদ ৯১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

33

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোন একজন নবী জিহাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এমন কোন ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে না, যে কোন মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হবার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু সে এখনো মিলিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও না যে ঘর তৈরি করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং সে তার প্রসবের অপেক্ষায় আছে। অতঃপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং ‘আসরের সালাতের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময়ে একটি জনপদের নিকটে আসলেন। তখন তিনি সূর্যকে বললেন, তুমিও আদেশ পালনকারী আর আমিও আদেশ পালনকারী। হে আল্লাহ্! সূর্যকে থামিয়ে দিন। তখন তাকে থামিয়ে দেয়া হল। অবশেষে আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন। অতঃপর তিনি গানীমাত একত্র করলেন। তখন সেগুলো জ্বালিয়ে দিতে আগুন এল কিন্তু আগুন তা জ্বালিয়ে দিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে (গানীমাতের) আত্মসাৎকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র হতে একজন যেন আমার নিকট বায়‘আত করে। সে সময় একজনের হাত নবীর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের লোকেরা যেন আমার নিকট বায়‘আত করে। এ সময় দু’ ব্যক্তির বা তিন ব্যক্তির হাত তাঁর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎকারী রয়েছে। অবশেষে তারা একটি গাভীর মস্তক পরিমাণ স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। অতঃপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। অতঃপর আল্লাহ আমাদের জন্য গানীমাত হালাল করে দিলেন এবং আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা লক্ষ্য করে তা আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন। (৫১৫৭) (মুসলিম ৩২/১১ হাঃ ১৭৪৭, আহমাদ ৮২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

34

যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, যদি পরবর্তী মুসলিমদের ব্যাপার না হতো, তবে যে জনপদই বিজিত হতো, তাই আমি সেই জনপদবাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এলাকা বণ্টন করে দিয়েছিলেন। (২৩৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

35

আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করল যে, কেউ যুদ্ধ করে গানীমাত লাভের জন্য, কেউ যুদ্ধ করে খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশে আর যুদ্ধ করে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করল?’ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা উচ্চ করার উদ্দেশে জিহাদ করে, সেই আল্লাহর রাহে জিহাদকারী।’ (১২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

36

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোনালী কারুকার্য খচিত কিছু রেশমী কাবা জাতীয় পোষাক হাদিয়া দেয়া হল। তিনি তাঁর সাহাবীগণের মধ্য হতে কয়েকজনকে তা বণ্টন করে দেন এবং তা হতে একটি কাবা মাখরামাহ ইবনু নাওফাল (রাঃ)-এর জন্য আলাদা করে রাখেন। অতঃপর মাখরামাহ (রাঃ) তাঁর পুত্র মিস্ওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে এসে দরজায় দাঁড়ালেন আর বললেন, তাঁকে আমার জন্য আহবান কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি একটি কাবা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর এর কারুকার্য খচিত অংশ তার সম্মুখে তুলে ধরে বললেন, হে আবুল মিসওয়ার! আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি। আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি। আর মাখরামাহ (রাঃ)-এর স্বভাবে কিছুটা রুঢ়তা ছিল। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু উলাইয়া (রহ.)-ও আইউব (রহ.) নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। আর হাতিম ইবনু ওয়ারদান (রহ.) বলেন, আইউব (রহ.) ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) সূত্রে মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কয়েকটি কাবা জাতীয় পোষাক এসেছিল। লাইস (রহ.) ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) নিকট হতে হাদীস বর্ণনায় আইয়ুব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (২৫৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

37

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু খেজুর গাছ নির্দিষ্ট করতেন কুরায়যা ও নাযীরের উপর বিজয় লাভ করা পর্যন্ত। অতঃপর তিনি সে গাছগুলো তাদের ফেরত দিয়ে দেন। (২৬৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

38

‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উষ্ট্র যুদ্ধের দিন যুবায়র (রাঃ) যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! আজকের দিন যালিম অথবা মাযলূম ব্যতীত কেউ নিহত হবে না। আমার মনে হয়, আমি আজ মাযলূম হিসেবে নিহত হব। আর আমি আমার ঋণ সম্পর্কে অধিক চিন্তিত। তুমি কি মনে কর যে, আমার ঋণ আদায় করার পর আমার সম্পদের কিছু অবশিষ্ট থাকবে? অতঃপর তিনি বললেন, হে পুত্র! আমার সম্পদ বিক্রয় করে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও। তিনি এক তৃতীয়াংশের ওসীয়্যত করেন। আর সেই এক তৃতীয়াংশের এক তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়াত করেন তাঁর (আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়রের) পুত্রদের জন্য তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশকে তিন ভাগে বিভক্ত করবে ঋণ পরিশোধ করার পর যদি আমার সম্পদের কিছু উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তার এক তৃতীয়াংশ তোমার পুত্রদের জন্য। হিশাম (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর কোন কোন পুত্র যুবাইর (রাঃ)-এর পুত্রদের সমবয়সী ছিলেন। যেমন, খুবায়ের ও ‘আববাদ। আর মৃত্যুকালে তাঁর নয় পুত্র ও নয় কন্যা ছিল। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে তাঁর ঋণ সম্পর্কে ওসীয়্যত করছিলেন এবং বলছিলেন, হে পুত্র! যদি এ সবের কোন বিষয়ে তুমি অক্ষম হও, তবে এ ব্যাপারে আমার মাওলার সাহায্য চাইবে। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারিনি যে, তিনি মাওলা দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করেছেন। অবশেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে পিতা! আপনার মাওলা কে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখনই তাঁর ঋণ আদায়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনই বলেছি, হে যুবায়রের মাওলা! তাঁর পক্ষ হতে তাঁর ঋণ আদায় করে দিন। আর তাঁর করয শোধ হয়ে যেতো। অতঃপর যুবায়র (রাঃ) শহীদ হলেন এবং তিনি নগদ কোন দ্বীনার রেখে যাননি আর না কোন দিরহাম। তিনি কিছু জমি রেখে যান যার মধ্যে এটি হল গাবা। আরো রেখে যান মদিনা্য় এগারোটি বাড়ী, বসরায় দু’টি, কূফায় একটি ও মিসরে একটি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বলেন, যুবায়র (রাঃ)-এর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর নিকট কেউ যখন কোন মাল আমানত রাখতে আসত তখন যুবাইর (রাঃ) বলতেন, না, এভাবে নয়; তুমি তা আমার নিকট ঋণ হিসেবে রেখে যাও। কেননা আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।[১] যুবায়র (রাঃ) কখনও কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা বা কর আদায়কারী অথবা অন্য কোন কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অবশ্য তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গী হয়ে অথবা আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর ঋণের পরিমাণ হিসাব করলাম এবং তাঁর ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ পেলাম। রাবী বলেন, সাহাবী হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বলেন, হে ভাতিজা। বল তো, আমার ভাইযের কত ঋণ আছে? তিনি তা প্রকাশ না করে বললেন, এক লাখ। তখন হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সম্পদ দ্বারা এ পরিমাণ ঋণ শোধ হতে পারে, আমি এরূপ মনে করি না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাঁকে বললেন, যদি ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ হয়, তবে কী ধারণা করেন? হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি না যে, তোমরা এর সামর্থ্য রাখ। যদি তোমরা এ বিষয়ে অক্ষম হও, তবে আমার সহযোগিতা গ্রহণ করবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, যুবায়র (রাঃ) গাবাস্থিত ভূমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। আর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, যুবায়র (রাঃ)-এর নিকট কারা পাওনাদার রয়েছে, তারা আমার সঙ্গে গাবায় এসে মিলিত হবে। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) তাঁর নিকট এলেন। যুবায়র (রাঃ)-এর নিকট তার চার লাখ পাওনা ছিল। তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে বললেন, তোমরা চাইলে আমি তা তোমাদের জন্য ছেড়ে দিব। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, না। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) বললেন, যদি তোমরা তা পরে দিতে চাও, তবে তা পরে পরিশোধের অন্তর্ভুক্ত করতে পার। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) বললেন, তবে আমাকে এক টুকরা জমি দাও। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, এখান হতে ওখান পর্যন্ত জমি আপনার। রাবী বলেন, অতঃপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) গাবার জমি হতে বিক্রয় করে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করেন। তখনও তাঁর নিকট গাবার ভূমির সাড়ে চার অংশ অবশিষ্ট নিকট থেকে যায়। অতঃপর তিনি মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট এলেন। সে সময় তাঁর নিকট ‘আমর ইবনু ‘উসমান, মুনযির ইবনু যুবায়র ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যাম‘আ (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। মু‘আবিয়া (রাঃ) তাঁকে বললেন, গাবার মূল্য কত নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক অংশ এক লাখ হারে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কত বাকী আছে? ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, সাড়ে চার অংশ। তখন মুনযির ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। ‘আমর ইবনু ‘উসমান (রাঃ) বলেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। তখন মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বললেন, আর কী পরিমাণ বাকী আছে? ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বললেন, দেড় অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। মু‘আবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি তা দেড় লাখে নিলাম। রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) তাঁর অংশ মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট ছয় লাখে বিক্রয় করেন। অতঃপর যখন ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাঁর পিতার ঋণ পরিশোধ করে সারলেন, তখন যুবাইর (রাঃ)-এর পুত্ররা বললেন, আমাদের মীরাস ভাগ করে দিন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মাঝে ভাগ করব না, যতক্ষণ আমি চারটি হাজ্জ মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার না করি যে, যদি কেউ যুবাইর (রাঃ)-এর নিকট ঋণ পাওনা থাকে, সে যেন আমাদের নিকট আসে, আমরা তা পরিশোধ করব। রাবী বলেন, তিনি প্রতি হজ্জের মৌসুমে ঘোষণা প্রচার করেন। অতঃপর যখন চার বছর অতিবাহিত হল, তখন তিনি তা তাদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। রাবী বলেন, যুবাইর (রাঃ)-এর চার স্ত্রী ছিলেন। এক তৃতীয়াংশ পৃথক করে রাখা হলো। প্রত্যেক স্ত্রী বার লাখ করে পেলেন। আর যুবাইর (রাঃ)-এর মোট সম্পত্তি পাঁচ কোটি দু’লাখ ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

39

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাঃ) বাদার যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ছিলেন তাঁর স্ত্রী আর তিনি ছিলেন পীড়িত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, ‘বাদ্র যুদ্ধে যোগদানকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব ও (গানীমাতের) অংশ তুমি পাবে।’ (৩৬৯৮, ৩৭০৪, ৪০৬৬, ৪৫১৩, ৪৫১৪, ৪৬৫০, ৪৬৫১, ৭০৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

40

‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) রিওয়ায়াত করেছেন যে, যখন হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলিম হয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল যে, তাদের মালামাল ও বন্দী উভয়ই ফেরত দেয়া হোক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমার নিকট সত্য কথা অধিকতর প্রিয়। তোমরা দু’য়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ কর। বন্দী, নয় মালামাল। আর আমি তো তাদের (হাওয়াযিন গোত্রের) প্রতীক্ষা করেছিলাম আর তায়েফ হতে ফেরার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ দিন থেকে অধিক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’টোর মধ্যে যে কোন একটিই ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, আমরা আমাদের বন্দীদের ফেরত লাভই পছন্দ করি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের এ সব ভাই তাওবা করে আমার নিকট এসেছে। আর আমি উচিত মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের ফেরত দিব। যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে চায়, সে যেন তা করে আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় যে, তার অংশ বহাল থাকুক, সে যেন অপেক্ষা করে (কিংবা) আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রথম যে গনীমতের মাল দান করেছেন, আমি তাকে তা হতে তা দিয়ে দিব, তাও করতে পারে। উপস্থিত লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে তা গ্রহণ করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সঠিক জানতে পারিনি, তোমাদের মধ্যে কে এতে সম্মতি দিয়েছে, আর কে দেয়নি। কাজেই, তোমরা ফিরে যাও এবং নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাকে তোমাদের সিদ্ধান্ত জানাও। লোকেরা চলে গেল। আর তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফেরত এল এবং তাঁকে জানাল যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দীগণ সম্পর্কিত বিবরণ আমাদের নিকট এ রকমই পৌঁছেছে। (২৩০৭, ২৩০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

41

যাহদাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এ সময় মুরগীর (গোশত) সম্বন্ধে আলোচনা উঠল। তথায় তাইমুল্লাহ গোত্রের এমন লাল বর্ণের এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিল, যেন সে মাওয়ালী (রোমক ক্রীতদাস)-দের একজন। তাকে খাওযার জন্য ডাকলেন। তখন সে বলল, আমি মুরগীকে এমন বস্তু খেতে দেখেছি, যাতে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি শপথ করেছি যে, তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আস, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে হাদীস শুনাচ্ছি। আমি কয়েকজন আশ‘আরী ব্যক্তির পক্ষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সাওয়ারী চাইতে যাই। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাওয়ারী দিব না এবং আমার নিকট তোমাদের দেয়ার মত কোন সাওয়ারীও নেই। এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হলো। তখন তিনি আমাদের খোঁজ নিলেন এবং বললেন, সেই আশ‘আরী লোকেরা কোথায়? অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁচু সাদা চুলওয়ালা পাঁচটি উট আমাদের দিতে বললেন। যখন আমরা উট নিয়ে রওয়ানা দিলাম বললাম, আমরা কী করলাম? আমাদের কল্যাণ হবে না। আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম, আমরা আপনার নিকট সাওয়ারীর জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন আপনি শপথ করে বলেছিলেন, আমাদের সাওয়ারী দিবেন না। আপনি কি তা ভুলে গিয়েছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের সাওয়ারী দেইনি বরং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাওয়ারী দান করেছেন। আর আল্লাহর কসম, আমার অবস্থা এই যে, ইন্শাআল্লাহ্ কোন বিষয়ে আমি কসম করি এবং তার বিপরীতটি কল্যাণকর মনে করি, তখন সেই কল্যাণকর কাজটি আমি করি এবং কাফ্ফারা দিয়ে শপথ হতে মুক্ত হই। (৪৩৮৫, ৪৪১৫, ৫৫১৭, ৫৫১৮, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৭৮, ৬৬৮০, ৬৭১৮, ৬৭১৯, ৬৭২১, ৭৫৫৫) (মুসলিম ২৬/৩ হাঃ ১৬৩৯, আহমাদ ১৯৫৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

42

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। এ যুদ্ধে গনীমত হিসেবে তাঁরা বহু উট লাভ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাগে এগারোটি কিংবা বারটি করে উট পড়েছিল এবং তাঁদেরকে পুরস্কার হিসেবে আরো একটি করে উট দেয়া হয়। (৪৩৩৮) (মুসলিম ৩২/১২ হাঃ ১৭৪৯, আহমাদ ৪৫৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

43

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত কোন কোন সেনা দলে কোন কোন ব্যক্তিকে সাধারণ সৈন্যদের প্রাপ্য অংশের চেয়ে অতিরিক্ত দান করতেন। (মুসলিম ৩২/১২ হাঃ ১৭৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

44

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকতেই আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরাত করার খবর পৌঁছে। তখন আমরাও তাঁর নিকট হিজরাত করার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। আমি এবং আমার আরো দু’ভাই এর মধ্যে ছিলাম। আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তাদের একজন হলেন আবূ বুরদাহ, অন্যজন আবূ রুহ্ম। রাবী হয়ত বলেছেন, আমার গোত্রের আরোও কতিপয় লোকের মধ্যে; কিংবা বলেছেন, আমার গোত্রের তিপ্পান্ন বা বায়ান্ন জন লোকের মধ্যে। অতঃপর আমরা একটি নৌযানে উঠলাম। ঘটনাক্রমে আমাদেরকে নৌযানটি হাবশার নাজ্জাশী বাদশাহর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমরা জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হই। জা‘ফর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন এবং এখানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আপনারাও আমাদের সঙ্গে এখানে থাকুন। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে থেকে গেলাম। অবশেষে আমরা সকলে একত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। এমন সময় আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলাম, যখন তিনি খায়বার বিজয় করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করলেন। (বর্ণণাকারী বলেন), কিংবা তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরও তা হতে দিয়েছেন। আমাদের ছাড়া খায়বার বিজয়ে অনুপস্থিত কাউকেই তা হতে অংশ দেননি, জা‘ফর (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণের সঙ্গে আমাদের এ নৌযাত্রীদের মধ্যে বণ্টন করেছেন। (৩৮৭৬, ৪২৩০, ৪২৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

45

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে (দুইহাত মিলিয়ে) এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দান করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু অবধি তা এলো না। অতঃপর যখন বাহরাইনের মাল এল, তখন আবূ বাকর (রাঃ) ঘোষণাকারীকে এ ঘোষণা দেয়ার আদেশ করলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যার কোন ঋণ বা ওয়াদা আছে, সে যেন আমার নিকট আসে। অতঃপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এত এত ও এত দেয়ার কথা বলেছেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) তিনবার আঁজলা ভরে দান করেন। সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাঁর দুই হাত একত্র করে আঁজলা করে আমাদের বললেন, ইবনু মুনকাদির এরূপই বলেছেন। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি (জাবির) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁর নিকট চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন না। আবার আমি তাঁর নিকট এলাম। তখনও তিনি আমাকে দিলেন না আবার আমি তাঁর নিকট তৃতীয়বার এসে বললাম, আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। আবার আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। এখন আমাকে আপনি দেবেন, না হয় আমার সঙ্গে কৃপণতা করবেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তুমি আমাকে বলছ, ‘কৃপণতা করবেন?’ আমি যতবারই তোমাকে দিতে অস্বীকার করি না কেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, আমি তোমাকে দেই। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, ‘আমর (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে এক আঁজলা দিয়ে বললেন, এটা গুণে নাও। আমি গণনা করে দেখলাম, পাঁচ শত। তখন তিনি বললেন, এ রকম আরও দু’বার নিয়ে নাও। আর ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনায় আছে যে, [আবূ বাকর (রাঃ) বলেছেন], ‘কৃপণতার চেয়ে বড় রোগ কী হতে পারে?’ (২২৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

46

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি‘য়রানা নামক জায়গায় গানীমাতের মাল বণ্টন করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি বলল, ইন্সাফ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি যদি ইন্সাফ না করি, তবে তুমি হবে হতভাগা।’ (মুসলিম ১২/৪৭ হাঃ ১০৬৩, আহমাদ ১৪৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

47

জুবাইর ইবনু মুতয়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদারের যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি মুতয়িম ইবনু আদী (রাঃ) জীবিত থাকতেন আর আমার নিকট এ সকল নোংরা লোকের জন্যে সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর সম্মানার্থে এদের মুক্ত করে দিতাম।’ (৪০২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

48

قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِبَنِي الْمُطَّلِبِ وَبَنِيْ هَاشِمٍ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ এর দলীল এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের খুমুস হতে বানূ হাশিম ও বানূ মুত্তালিবকেই দিয়েছেন। قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ لَمْ يَعُمَّهُمْ بِذَلِكَ وَلَمْ يَخُصَّ قَرِيْبًا دُوْنَ مَنْ هُوَ أَحْوَجُ إِلَيْهِ وَإِنْ كَانَ الَّذِيْ أَعْطَى لِمَا يَشْكُوْ إِلَيْهِ مِنْ الْحَاجَةِ وَلِمَا مَسَّتْهُمْ فِيْ جَنْبِهِ مِنْ قَوْمِهِمْ وَحُلَفَائِهِمْ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে সকল কুরাইশকে দেননি এবং যে ব্যক্তি অধিকতর অভাবগ্রস্ত তার উপর কোন আত্মীয়কে অগ্রাধিকার দেননি। যদিও তিনি যাদের দিয়েছেন তা এ জন্যে যে, তারা তাঁর নিকট তার অভাবের কথা তাঁকে জানিয়েছে। আর এ জন্যে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ গ্রহণ করায় তারা নিজ গোত্র ও স্বজনদের দ্বারা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ৩১৪০. জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বানূ মুত্তালিবকে দিয়েছেন, আর আমাদের বাদ দিয়েছেন। অথচ আমরা এবং তারা আপনার সঙ্গে একই স্তরে সম্পর্কিত। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বানূ মুত্তালিব ও বানূ হাশিম একই স্তরের। লায়স (রহ.) বলেন, ইউনুস (রহ.) আমাকে এ হাদীসটিতে আরো বেশি বলেছেন যে, জুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ আবদ শাম্স ও বানূ নাওফলকে অংশ দেননি। ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেন, আবদ শামস্, হাশিম ও মুত্তালিব একই মায়ের গর্ভজাত সহোদর ভাই। তাঁদের মাতা হলেন আতিকা বিনতু মুররা আর নাওফল ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই। (৩৫০২, ৪২২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

49

وَمَنْ قَتَلَ قَتِيْلًا فَلَهُ سَلَبُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُخَمِّسَ وَحُكْمِ الْإِمَامِ فِيْهِ কেউ কাউকে হত্যা করল, অতঃপর নিহত ব্যক্তির নিকট থেকে প্রাপ্ত মালামালের খুমুস বের না করেই তা তারই প্রাপ্য আর ইমাম কর্তৃক এ রকম আদেশ দান করা। ৩১৪১. ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমি বাদার যুদ্ধে সারিতে দাঁড়িয়ে আছি, আমি আমার ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম, অল্প বয়স্ক দু’জন আনসার যুবকের মাঝখানে আছি। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের চেয়ে শক্তিশালীদের মধ্যে থাকি। তখন তাদের একজন আমাকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করল, চাচা! আপনি কি আবূ জাহ্লকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তবে ভাতিজা, তাতে তোমার দরকার কী? সে বলল, আমাকে জানানো হয়েছে যে, সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালাগালি করে। সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। আমি যদি তাকে দেখতে পাই, তবে আমার দেহ তার দেহ হতে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে নির্ধারিত, সে মারা যায়। আমি তার কথায় আশ্চর্য হলাম। তা শুনে দ্বিতীয়জন আমাকে খোঁচা দিয়ে ঐ রকমই বলল। তৎক্ষণাৎ আমি আবূ জাহলকে দেখলাম, সে লোকজনের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন আমি বললাম, এই যে তোমাদের সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে। তারা তৎক্ষণাৎ নিজের তরবারী নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরে এসে তাঁকে জানালো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? তারা উভয়ে দাবী করল, আমি তাকে হত্যা করেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের তরবারী তোমরা মুছে ফেলনি তো? তারা উভয়ে বলল, না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছো। অবশ্য তার নিকট হতে প্রাপ্ত মালামাল মু‘আয ইবনু ‘আমর ইবনু জামূহের জন্য। তারা দু’জন হলো, মুআয ইবনু ‘আফরা ও মু‘আয ইবনু ‘আমর ইবনু জামূহ। মুহাম্মাদ (রহ.) বলেছেন, তিনি ইউসুফ ও তাঁর পিতা ইবরাহীম (রহ.)-কে সৎ ব্যক্তি হিসেবে শুনেছেন। (৩৯৬৪, ৩৯৮৮) (মুসলিম ৩২/১৩ হাঃ ১৭৫২, আহমাদ ১৬৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

50

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের বছর আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন শত্রুর সম্মুখীন হলাম, তখন মুসলিম দলের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হল। এমন সময় আমি মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে একজন মুসলিমের উপর চেপে বসেছে। আমি ঘুরে তার পেছনের দিক দিয়ে এসে তরবারী দ্বারা তার ঘাড়ের রগে আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে এগিয়ে এল এবং আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল যে, আমি তাতে মৃত্যুর আশংকা করলাম। মৃত্যু তাকেই ধরল এবং আমাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, লোকদের কী হয়েছে? ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর হুকুম। অতঃপর লোকজন ফিরে এলো এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন, তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে নিহত করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছ যে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছ যে, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বার ঐরূপ বললেন, আমি আবার দাঁড়ালাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ ক্বাতাদাহ! তোমার কী হয়েছে? আমি তখন পুরো ঘটনা বললাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) ঠিক বলেছে। সে ব্যক্তি হতে প্রাপ্ত মাল-সামান আমার নিকট আছে। আপনি আমার পক্ষ হতে একে সম্মত করিয়ে দিন। তখন আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এমন করবেন না যে, আল্লাহর সিংহদের মধ্যে হতে কোন সিংহ আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে যুদ্ধ করবে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তির মাল-সামান তোমাকে দিবেন! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বাকর (রাঃ) ঠিকই বলেছে। ফলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আমাকে দিলেন। আমি তা হতে একটি বর্ম বিক্রয় করে বানূ সালমায় একটি বাগান কিনি। এটাই ইসলামে প্রবেশের পর আমার প্রথম সম্পত্তি, যা আমি পেয়েছিলাম। (২১০০) (মুসলিম ৩২/১৩ হাঃ ১৭৫১, আহমাদ ২২৬৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

51

رَوَاهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم এ বিষয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৩১৪৩. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাইলাম। তখন তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর আমাকে বললেন, হে হাকীম, এ সকল মাল সবুজ শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা লোভহীন অন্তরে গ্রহণ করে, তার তাতে বরকত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভনীয় অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বারকাত দেয়া হয় না। তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত, যে আহার করে কিন্তু পেট পূর্ণ হয় না। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন আপনার পর আমি দুনিয়া হতে বিদায় নেয়া পর্যন্ত আর কারো মাল আকাঙ্ক্ষা করব না।’ পরে আবূ বাকর (রাঃ) হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)-কে ভাতা নেয়ার জন্য ডাকতেন কিন্তু তিনি কোন কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাঁকে ভাতা দানের উদ্দেশে ডাকলেন কিন্তু তিনি তাঁর নিকট থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘হে মুসলিমগণ। আমি হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)-কে তার জন্য সে প্রাপ্য দিতে চেয়েছি যা আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য সম্পদ হতে অংশ রেখেছেন। আর সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। এভাবে হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আর কারো কাছ হতে আমৃত্যু কিছুই গ্রহণ করেননি। (১৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

52

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী যুগে আমার উপর একদিনের ই‘তিকাফ (মানৎ) ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা পূরণ করার আদেশ করেন। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ‘উমার (রাঃ) হুনাইনের যুদ্ধের বন্দীর নিকট হতে দু’টি দাসী লাভ করেন। তখন তিনি তাদেরকে মক্কায় একটি গৃহে রেখে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের বন্দীদেরকে সৌজন্যমূলক মুক্ত করার আদেশ করলেন। তারা মুক্ত হয়ে অলি-গলিতে ছুটতে লাগল। ‘উমার (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, দেখ তো ব্যাপার কী? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তবে তুমি গিয়ে সে দাসী দু’জনকে মুক্ত করে দাও। নাফি‘ (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিয়েররানা হতে ‘উমরাহ করেন নি। যদি তিনি ‘উমরাহ করতেন তবে তা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে লুকানো থাকতো না। আর জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করতেন যে, (উমর (রাঃ) দাসী দু’টি খুমুস হতে পেয়েছিলেন। মা‘আমার (রহ.)....ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিকট হতে নযরের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু তিনি একদিনের কথা বলেননি। (২০৩২) (মুসলিম ২৭/৭ হাঃ ১৬৫৬, আহমাদ ৬৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

53

‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দলকে দিলেন আর অন্য দলকে দিলেন না। তারা যেন এতে মনোক্ষুণ্ণ হলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন লোকদের দেই, যাদের সম্পর্কে বিগড়ে যাওয়া কিংবা ধৈর্যচ্যুত হবার আশঙ্কা করি। আর অন্যদল যাদের অন্তরে আল্লাহ্ তা‘আলা যে কল্যাণ ও মুখাপেক্ষীহীনতা দান করেছেন, তার উপর ছেড়ে দেই। আর ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) তাদের মধ্যে। ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, তার স্থলে যদি আমাকে লাল বর্ণের উট দেয়া হত তাতে আমি এতখানি আনন্দিত হতাম না। আর আবূ আসিম (রহ.) জারীর (রহ.) হতে হাদীসটি এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন যে, হাসান (রহ.) বলেন, আমাকে ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু মালামাল অথবা বন্দী আনা হয়, তখন তিনি তা বণ্টন করেন। (৯২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

54

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কুরায়শদের দেই তাদের মনোস্তুষ্টির জন্য। কেননা তারা জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী।’ (৩১৪৭, ৩৫২৮, ৩৭৭৮, ৩৭৯৩, ৪৩৩১, ৪৩৩২, ৪৩৩৩, ৪৩৩৪, ৪৩৩৭, ৫৮৬০, ৬৭৬২, ৭৪৪১) (মুসলিম ১২/৪৬ হাঃ ১০৫৯, আহমাদ ১৩৯১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

55

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাওয়াযিন গোত্রের মাল থেকে যা দান করার তা দান করলেন। আর তিনি কুরাইশ গোত্রের লোকদের একশ’ করে উট দিতে লাগলেন। তখন আনসারদের হতে কিছু সংখ্যক লোক বলতে লাগল, আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। তিনি কুরায়শদেরকে দিচ্ছেন, আমাদেরকে দিচ্ছে না। অথচ আমাদের তলোয়ার থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের কথা পৌঁছান হল। তখন তিনি আনসারদের ডেকে পাঠালেন এবং চর্ম নির্মিত একটি তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন আর তাঁদের সঙ্গে তাঁদের ব্যতীত আর কাউকে ডাকলেন না। যখন তাঁরা সকলে একত্রিত হলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, ‘আমার নিকট তোমাদের ব্যাপারে যে কথা পৌঁছেছে তা কী?’ তাঁদের মধ্যে বয়স্ক লোকেরা তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে বয়স্করা কিছুই বলেননি। আমাদের কতিপয় তরুণরা বলেছেঃ আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। তিনি আনসারদের না দিয়ে কুরায়শদের দিচ্ছেন; অথচ আমাদের তরবারি হতে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি এমন লোকদের দিচ্ছি, যাদের কুফরীর যুগ মাত্র শেষ হয়েছে। তোমরা কি এতে খুশী নও যে, লোকেরা দুনিয়াবী সম্পদ নিয়ে ফিরবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে মনযিলে ফিরবে আর আল্লাহর কসম, তোমরা যা নিয়ে মনযিলে ফিরবে, তা তারা যা নিয়ে ফিরবে, তার চেয়ে উত্তম।’ তখন আনসারগণ বললেন, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এতেই সন্তুষ্ট।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমার পরে তোমরা তোমাদের উপর অন্যদের খুব প্রাধান্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা ধৈর্য অবলম্বন করবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাউযে কাওসারে মিলিত হবে।’ আনাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমরা ধৈর্যধারণ করতে পারিনি। (৩১৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

56

জুবাইর ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, আর তখন তাঁর সাথে আরো লোক ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন হতে আসছিলেন। বেদুঈন লোকেরা তাঁর নিকট গনীমতের মাল নেয়ার জন্য তাঁকে আঁকড়ে ধরল। এমনকি তারা তাঁকে একটি বাবলা গাছের সাথে ঠেকিয়ে দিল এবং কাঁটা তাঁর চাদর আটকে ধরল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন। অতঃপর বললেন, ‘আমার চাদরটি দাও। আমার নিকট যদি এ সকল কাঁটাদার বুনো গাছের পরিমাণ পশু থাকত, তবে সেগুলো তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দিতাম। অতঃপরও আমাকে তোমরা কখনো কৃপণ, মিথ্যাচারী এবং কাপুরুষ পাবে না।’ (২৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

57

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তখন তিনি নাজরানে প্রস্তুত মোটা পাড়ের চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে খুব জোরে টেনে দিল। অবশেষে আমি দেখলাম, জোরে টানার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্কন্ধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। অতঃপর বেদুঈন বলল, ‘আল্লাহর যে সম্পদ আপনার নিকট আছে তা হতে আমাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিন।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিলেন। (৫৮০৯, ৬০৮৮) (মুসলিম ১২/৪৪ হাঃ ১০৫৭, আহমাদ ১২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

58

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে বণ্টনে অন্যদের উপর অগ্রাধিকার দেন। তিনি আকরা‘ ইবনু হাবিছকে একশ’ উট দিলেন। উয়াইনাকেও এ পরিমাণ দেন। উচ্চবংশীয় আরব ব্যক্তিদের দিলেন এবং বণ্টনে তাদের অতিরিক্ত দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! এতে সুবিচার করা হয়নি। অথবা সে বলল, এতে আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির প্রতি খেয়াল রাখা হয়নি। (রাবী বলেন) তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবশ্যই এ কথা জানিয়ে দিব। তখন আমি তাঁর নিকট এলাম এবং তাঁকে একথা জানিয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি সুবিচার না করেন, তবে কে সুবিচার করবে? আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি সবর করেছেন।’ (৩৪০৫, ৪৩৩৫, ৪৩৩৬, ৬০৫৯, ৬১০০, ৬২৯১, ৬৩৩৬) (মুসলিম ১২/৩৯ হাঃ ১০৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

59

আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজের মাথায় সে জমি থেকে খেজুর দানা বহন করে আনতাম, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। যে জমিটি আমার ঘর থেকে এক ‘ফারসাখে’র দু’তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত ছিল। আর আবূ যামরাহ (রহ.)...হিশামের পিতা ‘উরওয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে বানূ নাযীর গোত্রের সম্পত্তি হতে এক টুকরা ভূমি দিয়েছিলেন। (৫২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

60

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে হিজায এলাকা থেকে নির্বাসিত করেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার জয় করেন, তখন তিনিও ইয়াহূদীদের সেখান হতে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। আর সে যমীন বিজিত হবার পর আল্লাহ্, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমগণের অধিকারে এসে গিয়েছিল। তখন ইয়াহূদীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিবেদন করল, যেন তিনি তাদেরকে এখানে এ শর্তে থাকার অনুমতি দেন যে, তারা কৃষি কাজ করবে এবং তাদের জন্য অর্ধেক ফসল থাকবে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যতদিন আমাদের ইচ্ছা তোমাদের এ শর্তে থাকার অনুমতি দিলাম। তারা এভাবে থেকে গেল। অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাঁর শাসনকালে তাদের তায়মা বা আরীহা নামক স্থানের দিকে নির্বাসিত করেন। (২২৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

61

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবার দুর্গ অবরোধ করেছিলাম। কোন এক লোক একটি থলে ফেলে দিল; তাতে ছিল চর্বি। আমি তা নিতে উদ্যত হলাম। হঠাৎ দেখি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আছেন। এতে আমি লজ্জিত হয়ে পড়লাম। (৪২২৪, ৫৫০৮) (মুসলিম ৩২/২৫ হাঃ ১৭৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

62

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের সময় মধু ও আঙ্গুর লাভ করতাম। আমরা তা খেয়ে নিতাম, জমা রাখতাম না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

63

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধের সময় আমরা ক্ষুধায় কষ্ট ভোগ করছিলাম। খায়বার বিজয়ের দিন আমরা পালিত গাধার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তা যব্হ করলাম। যখন তা হাঁড়িতে ফুটছিল তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিলঃ তোমরা হাঁড়িগুলো উপুড় করে ফেল। গাধার গোশত হতে তোমরা কিছুই খাবে না। ‘আবদুল্লাহ (ইবনু আবূ আওফা) (রাঃ) বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কারণে নিষেধ করেছেন, যেহেতু তা হতে খুমুস বের করা হয়নি। (রাবী বলেন) আর অন্যরা বললেন, বরং তিনি এটাকে অবশ্যই হারাম করেছেন। (শায়বানী বলেন), আমি এ ব্যাপারে সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চিতই তিনি তা হারাম করে দিয়েছেন। (৪২২০, ৪২২২, ৪২২৪, ৫৫২৬) (মুসলিম ৩৪/৫ হাঃ ১৯৩৭, আহমাদ ১৯১৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)