অল ইসলাম লাইব্রেরি

25 - হজ্জ

1

(وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حَجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ) মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হাজ্জ করা ফরয যারা সেথায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষীহীন। (আলু ‘ইমরানঃ ৯৭) ১৫১৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশ‘আম গোত্রের জনৈক মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফার্য (ফরয)কৃত হাজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজ্জের সময়ের। (১৮৫৪, ১৮৫৫, ৪৩৯৯, ৬২২৮, মুসলিম ১৫/৭১, হাঃ ১৩৩৪, আহমাদ ৩০৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফা নামক স্থানে তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন। (১৬৬, মুসলিম ১৫/৫, হাঃ ১১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

3

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তাল্বিয়া পাঠ যুল-হুলাইফা হতে আরম্ভ হত যখন তাঁর বাহন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতো। হাদীসটি আনাস ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহ.)-এর সূত্রে জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

4

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর সাথে তাঁর ভাই ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তিনি ‘আয়িশাহ্কে ‘তান‘ঈম’ নামক স্থান হতে ছোট একটি হাওদায় বসিয়ে ‘উমরাহ করাতে নিয়ে যান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা হাজ্জে (গমনের উদ্দেশে) উটের পিঠে হাওদা মজবুত করে বাঁধ (সফর কর)। কেননা, হাজ্জও এক প্রকারের জিহাদ। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)

5

সুমামা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস হতে বর্ণিত যে, আনাস (রাঃ) হাওদায় আরোহণ অবস্থায় হাজ্জে গমন করেছেন অথচ তিনি কৃপণ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন করেন এবং সেই উটটিই তাঁর মালের বাহন ছিলো। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ৯৬৩ শেষাংশ)

6

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা ‘উমরাহ করলেন, আর আমি ‘উমরাহ করতে পারলাম না! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আবদুর রাহমান! তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে সাথে করে নিয়ে তান‘ঈম হতে গিয়ে ‘উমরাহ করিয়ে নিয়ে এসো। তিনি ‘আয়িশাকে উটের পিঠে ছোট একটি হাওদার পশ্চাদ্ভাগে বসিয়ে দেন এবং তিনি ‘উমরাহ আদায় করেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

7

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হাজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হাজ্জ)। (২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

8

উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজ্জে মাবরূর। (১৮৬১, ২৭৮৪, ২৮৭৫, ২৮৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

9

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ হতে বিরত রইল, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হাজ্জ হতে ফিরে আসবে যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিল। (১৮১৯, ১৮২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

10

যায়দ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে তাঁর অবস্থান স্থলে যান, তখন তাঁর জন্য তাঁবু ও চাঁদোয়া টানানো হয়েছিল। [যায়দ (রাঃ) বলেন] আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ স্থান হতে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধা জায়িয হবে? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদ্বাসীদের জন্য কারণ, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফাহ ও সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা (ইহরামের মীকাত) নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (১৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

11

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানের অধিবাসীগণ হাজ্জে গমনকালে পাথেয় সঙ্গে নিয়ে যেতো না এবং তারা বলছিল, আমরা আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল। কিন্তু মক্কায় উপনীত হয়ে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচনা করে বেড়াতো। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ (وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى) ‘‘তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা কর, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়’’।(আল-বাকারাহঃ ১৯৭) হাদীসটি ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) ‘আমর (রহ.) সূত্রে ‘ইক্রিমা (রহ.) হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

12

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মাদ্বীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজ্দবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। হাজ্জ ও ‘উমরাহ নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী সকলের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য এবং যারা এ সব মীকাতের ভিতরে (অর্থাৎ মক্কার নিকটবর্তী) স্থানের অধিবাসী, তারা যেখান হতে হাজ্জের নিয়্যাত করে বের হবে (সেখান হতে ইহরাম বাঁধবে)। এমন কি মক্কা্বাসী মক্কা্ হতেই (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধবে। (১৫২৬, ১৫২৯, ১৫৩০, ১৮৪৫, মুসলিম ১৫/২, হাঃ ১১৮১, আহমাদ ২২৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

13

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মদিনাবাসীগণ যুল-হুলাইফাহ হতে, সিরিয়াবাসীগণ জুহ্ফা হতে ও নজদবাসীগণ ক্বারণ হতে ইহরাম বাঁধবে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি (অন্যের মাধ্যমে) অবগত হয়েছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামলাম হতে ইহরাম বাঁধবে। (১৩৩, মুসলিম ১৫/২, হাঃ ১১৮২, আহমাদ ৫০৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

14

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল-মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। উল্লিখিত স্থানসমূহ হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান এবং মীকাতের ভিতরে স্থানের লোকেরা নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধবে। (১৫২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

15

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাতের সীমা নির্ধারিত করেছেন। (১৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

16

সালিম ইবন ‘আবদুল্লাহ (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ মদিনাবাসীদের মীকাত হলো যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের মীকাত (মাহইয়া‘আহ) যার অপর নাম জুহফা এবং নাজদবাসীদের মীকাত হলো ক্বার্ন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি শুনিনি, তবে লোকেরা বলে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীর মীকাত হলো ইয়ালামলাম। (১৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩৪ শেষাংশ)

17

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাবাসীদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম ও নাজদবাসীদের জন্য ক্বারণ। উল্লিখিত স্থানসমূহ হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র নিয়্যাতকারী সে স্থানের অধিবাসী এবং সে সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য এলাকার অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। আর যে মীকাতের ভিতরের অধিবাসী সে নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধাবে। (১৫২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

18

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনাবহাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নাজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল মানাযিল ও ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন। [1] উক্ত মীকাতসমূহ হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র উদ্দেশে আগমনকারী সে স্থানের অধিবাসীদের জন্য এবং অন্য কোন এলাকার লোক ঐ সীমা দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও। এছাড়াও যারা মীকাতের ভিতরের অধিবাসী তারা যেখান হতে সফর আরম্ভ করবে সেখান হতেই (ইহরাম আরম্ভ করবে) এমন কি মক্কাবাসীগণ মাক্কহ হতেই। (১৫২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

19

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ শহর দু’টি (কূফা ও বস্রা) বিজিত হলো, তখন সে স্থানের লোকগণ ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে নিবেদন করলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদবাসীগণের জন্য (মীকাত হিসেবে) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন ক্বারণ, কিন্তু তা আমাদের পথ হতে দূরে। কাজেই আমরা ক্বারণ-সীমা অতিক্রম করতে চাইলে তা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তা‘ হলে তোমরা লক্ষ্য কর তোমাদের পথে ক্বারণ-এর সম দূরত্বরেখা কোন্ স্থানটি? অতঃপর তিনি ‘‘যাতু ‘ইরক্ব’’ মীকাতরূপে নির্ধারণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

20

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার বাত্হা নামক উপত্যকায় উট বসিয়ে সালাত আদায় করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও তাই করতেন। (৪৮৪, মুসলিম ১৫/৩৭, হাঃ ১২৫৭, আহমাদ ৪৮৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

21

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মু‘আররাস নামক পথ দিয়ে (মদিনা্য়) প্রবেশ করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার দিকে সফর করতেন, মাসজিদুশ-শাজারায় সালাত আদায় করতেন ও ফিরার পথে যুল-হুলাইফাহ’র বাত্নুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন। (৪৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

22

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আকীক উপত্যকায় অবস্থানকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আজ রাতে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, (আমার এ ইহরাম) হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ’রও। (২৩৩৭, ৭৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

23

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, যুল-হুলাইফা (‘আকীক) উপত্যকায় রাত যাপনকালে তাঁকে স্বপ্নযোগে বলা হয়, আপনি বরকতময় উপত্যকায় অবস্থান করছেন। [রাবী মূসা ইবনু ‘উকবা (রহ.) বলেন] সালিম (রহ.) আমাদেরকে সাথে নিয়ে উট বসিয়ে ঐ উট বসাবার স্থানটির খোঁজ করেন, যেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) উট বসিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাত যাপনের স্থানটি খোঁজ করতেন। সে স্থানটি উপত্যকায় মসজিদের নীচু জায়গায় অবতরণকারীদের ও রাস্তার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। (১৭৮৯, ১৮৪৭, ৪৩২৯, ৪৯৮৫, মুসলিম ১৫/৭৭, হাঃ ১৩৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

24

সাফ্ওয়ান ইবনু ই‘য়ালা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ই‘য়ালা (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওয়াহী অবতরণ মুহূর্তটি আমাকে দেখাবেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘জি’রানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলে তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। এরপর তাঁর নিকট ওহী আসল। ‘উমার (রাঃ) ই‘য়ালা (রাঃ)-কে ইঙ্গিত করায় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তখন একখন্ড কাপড় দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’র উপর ছায়া করা হয়েছিল, ই‘য়ালা (রাঃ) মাথা প্রবেশ করিয়ে দেখতে পেলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমন্ডল লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হলো। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুববাটি খুলে ফেল এবং হাজ্জে যা করে থাক ‘উমরাহতেও তাই কর। (রাবী ইবনু জুরাইজ বলেন) আমি ‘আত্বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কি উত্তমরূপে পরিষ্কার করা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তাই। (১৭৮৯, ১৮৪৭, ৪৩২৯, ৪৯৮৫, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৮০, আহমাদ ১৭৯৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

25

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিঁথিতে যে সুগন্ধি তেল চকচক করছিল তা যেন আজও আমি দেখতে পাচ্ছি। (২৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৩ শেষাংশ)

26

নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার সময় [1] আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও। (১৭৪৫, ৫৯২২, ৫৯২৮, ৫৯৩০, মুসলিম ১/৪, হাঃ ১৩, আহমাদ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

27

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চুলে আঠালো বস্তু লাগিয়ে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। (১৫৪৯, ৫৯১৪, ৫৯১৫, মুসলিম ১৫/৩, হাঃ ১১৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

28

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার মসজিদের নিকট হতে ইহরাম বেঁধেছেন। (মুসলিম ১৫/৪, হাঃ ১১৮৬ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

29

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কী প্রকারের কাপড় পরবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখ্নুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে। [1] তোমরা জা‘ফরান বা ওয়ারস্ (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় পরবে না। [আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। চুল আঁচড়াবে না, শরীর চুলকাবে না। মাথা ও শরীর হতে উকুন যমীনে ফেলে দিবে।] (১৩৪, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৭৭, আহমাদ ৪৮৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

30

‘ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আরাফাহ হতে মুয্দালিফা পর্যন্ত একই বাহনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত ফযল [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)]-কে তাঁর পিছনে আরোহণ করান। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৬৮৫, ১৬৮৫, ১৬৮৭, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮১, আহমাদ ১৮৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

31

وَلَبِسَتْ عَائِشَةُ الثِّيَابَ الْمُعَصْفَرَةَ وَهِيَ مُحْرِمَةٌ وَقَالَتْ لاَ تَلَثَّمْ وَلاَ تَتَبَرْقَعْ وَلاَ تَلْبَسْ ثَوْبًا بِوَرْسٍ وَلاَ زَعْفَرَانٍ وَقَالَ جَابِرٌ لاَ أَرَى الْمُعَصْفَرَ طِيبًا وَلَمْ تَرَ عَائِشَةُ بَأْسًا بِالْحُلِيِّ وَالثَّوْبِ الأَسْوَدِ وَالْمُوَرَّدِ وَالْخُفِّ لِلْمَرْأَةِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُبْدِلَ ثِيَابَهُ ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ইহরাম অবস্থায় কুসুমীর রঙ্গে রঞ্জিত কাপড় পরেন এবং তিনি বলেন, নারীগণ ঠোঁট মুখমন্ডল আবৃত করবে না। ওয়ারস্ ও জাফরান রঙে রঞ্জিত কাপড়ও পরবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি উসফুরী (কুসুমী) রঙকে সুগন্ধি মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) (ইহরাম অবস্থায়) নারীদের জন্য অলঙ্কার পরা এবং কালো ও গোলাপী রং-এর কাপড় ও মোজা পরা দূষণীয় মনে করেননি। ইবরাহীম (নাখ্‘য়ী) (রহ.) বলেন, (ইহরাম অবস্থায়) পরনের কাপড় পরিবর্তন করায় কোন দোষ নেই। [1] ১৫৪৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হাজ্জের উদ্দেশে) মাদ্বীনা হতে রওয়ানা হন। তিনি কোন প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানী রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। যুল-হুলাইফা হতে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ তালবিয়া পাঠ করেন এবং কুরবানীর উটের গলায় মালা ঝুলিয়ে দেন, তখন যুলকা‘দা মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট ছিল। যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ দিনে মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম কা’বাঘরের তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করেন। তাঁর কুরবানীর উটের গলায় মালা পরিয়েছেন বলে তিনি ইহরাম খুলেননি। অতঃপর মক্কার উঁচু ভূমিতে হাজূন নামক স্থানের নিকটে অবস্থান করেন, তখন তিনি হাজ্জের ইহরামের অবস্থায় ছিলেন। (প্রথমবার) তাওয়াফ করার পর ‘আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্বে আর কা‘বার নিকটবর্তী হননি। অবশ্য তিনি সাহাবাগণকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী সম্পাদন করে মাথার চুল ছেঁটে হালাল হতে নির্দেশ দেন। কেননা যাদের সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই, এ বিধানটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে তার জন্য স্ত্রী-সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার ও যে কোন ধরনের কাপড় পরা জায়িয। (১৬২৫, ১৭৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

32

قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয় বর্ণনা করেছেন। ১৫৪৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় চার রাক‘আত ও যুল-হুলাইফায় পৌঁছে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। এরপর যখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করেন এবং তা তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

33

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় যোহরের সালাত চার রাক‘আত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফায় পৌঁছে আসরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করেন। রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

34

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত মাদ্বীনায় চার রাক‘আত আদায় করলেন এবং ‘আসরের সালাত যুল-হুলাইফায় দু’ রাক‘আত আদায় করেন। আমি শুনতে পেলাম তাঁরা সকলে উচ্চস্বরে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তালবিয়া পাঠ করছেন। [1] (১৫৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

35

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তালবিয়া নিম্নরূপঃ (অর্থ) আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নি‘আমত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোন অংশীদার নেই। (১৫৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

36

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তালবিয়া পাঠ করতেন তা আমি ভালরূপে অবগত (তাঁর তালবিয়া ছিল) আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির, সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই। আবূ মু‘আবিয়া (রহ.) ‘আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় সফিয়া (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আবূ ‘আতিয়্যাহ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

37

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মাদ্বীনায় যুহরের সালাত আদায় করেন চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফায় (পৌঁছে) ‘আসরের সালাত আদায় করেন দু’ রাক‘আত। এরপর সেখানেই ভোর পর্যন্ত রাত কাটালেন। সকালে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলেন। তখন তিনি আল্লাহ্‌র হামদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তালবিয়া পাঠ করলেন। সাহাবীগণ উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলেন। যখন আমরা (মক্কার উপকন্ঠে) পৌঁছলাম তখন তিনি সাহাবীগণকে (‘উমরা শেষ করে) হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। অবশেষে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে তাঁরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কিছু সংখ্যক উট দাঁড়ানো অবস্থায় নহর (যবেহ্) করলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় সাদা কাল মিশ্রিত রঙ-এর দু’টি মেষ যবেহ্ করেছিলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি আইয়ূব (রহ.) সূত্রে জনৈক রাবীর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

38

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নিয়ে তাঁর সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি তালবিয়া পাঠ করেন। (১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

39

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) যুল-হুলাইফায় ফজরের সালাত শেষ করে সওয়ারী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিতেন, প্রস্তুত হলে আরোহণ করতেন। সওয়ারী তাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে তিনি সোজা কিবলামুখী হয়ে হারাম শরীফের সীমারেখায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন। এরপর বিরতি দিয়ে যূ-তুওয়া নামক স্থানে পৌঁছে ভোর পর্যন্ত রাত যাপন করতেন এবং অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করে গোসল করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করে ছিলেন। ইসমা‘ঈল (রহ.) গোসল সম্পর্কিত বর্ণনায় আইয়ূব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৫৫৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃকিতাবুল হাজ্জ অনুচ্ছেদ ২৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)

40

নাফি‘ (রহ.) বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মক্কা গমনের ইচ্ছা করলে দেহে সুগন্ধিবিহীন তেল লাগাতেন। অতঃপর যুল-হুলাইফা’র মসজিদে পৌঁছে সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন। তাঁকে নিয়ে সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি ইহরাম বাঁধতেন। এরপর তিনি [ইবনু ‘উমার (রা)] বলতেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি। (১৫৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

41

মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর দু’ চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-র লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা (‘আ.) নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (৩৩৫৫, ৫৯১৩, মুসলিম ১/৭৩, হাঃ ১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৪৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

42

أَهَلَّ অর্থ تَكَلَّمَ بِهِ কথা বলা اسْتَهْلَلْنَا ও أَهْلَلْنَا الْهِلاَلَকথা বলা প্রকাশ পাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত এবং اسْتَهَلَّ الْمَطَرُ অর্থ মেঘ হতে বৃষ্টি হওয়া(وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ) ‘‘যে পশু যহে করার সময় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়।’’ (আল-মায়িদাহঃ ৩) এ অর্থ اسْتِهْلاَلِ الصَّبِيِّ (সদ্যজাত শিশুর আওয়াজ) অর্থ হতে গৃহীত। ১৫৫৬. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] এরপর আমি মক্কা্য় ঋতুমতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন। [1] সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

43

قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ১৫৫৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির (রাঃ) সুরাকাহ (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ ইবনু বকর (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। (১৫৬৮, ১৫৭০, ১৬৫১, ১৭৮৫, ২৫০৬, ৪৩৫২, ৭২৩০, ৭৩৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

44

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কী প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি হালাল হয়ে যেতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

45

আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে আমার গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন; তিনি (হাজ্জ-এর সফরে) বাত্হা নামক স্থানে অবস্থানকালে আমি (ফিরে এসে) তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ আমি ইহরাম বেঁধেছি। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে কি? আমি বললাম, নেই। তিনি আমাকে বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করতে আদেশ করলেন। আমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। পরে তিনি আদেশ করলে আমি হালাল হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আমার গোত্রীয় এক মহিলার নিকট আসলাম। সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে দিল অথবা বলেছেন, আমার মাথা ধুয়ে দিল। এরপর ‘উমার (রাঃ) তাঁর খিফাফতকালে এক উপলক্ষে আসলেন। (আমরা তাঁকে বিষয়টি জানালে) তিনি বললেনঃ কুরআনের নির্দেশ পালন কর। কুরআন তো আমাদেরকে হাজ্জ ও ‘উমরাহ পৃথক পৃথকভাবে যথাসময়ে পূর্ণরূপে আদায় করার নির্দেশ দান করে। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ আল্লাহ’র উদ্দেশে পূর্ণ কর’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আর যদি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতকে অনুসরণ করি, তিনি তো কুরবানীর পশু যবহ্ করার আগে হালাল হননি। (১৫৬৫, ১৭২৪, ১৭৯৫, ৪৩৪৬, ৪৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

46

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَشْهُرُ الْحَجِّ شَوَّالٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَعَشْرٌ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ السُّنَّةِ أَنْ لاَ يُحْرِمَ بِالْحَجِّ إِلاَّ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ وَكَرِهَ عُثْمَانُ أَنْ يُحْرِمَ مِنْ خُرَاسَانَ أَوْ كَرْمَانَ এবং তাঁর বাণীঃ ‘‘নতুন চাঁদ সম্পর্কে লোকেরা আপনাকে প্রশ্ন করে, বলুন, তা মানুষ এবং হাজ্জের জন্য সময় নির্দেশক’’- (আল-বাকারাঃ ১৮৯)। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, হাজ্জ-এর মাসগুলো হলঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ এবং যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সুন্নাত হল, হাজ্জের মাসগুলোতেই যেন হাজ্জের ইহরাম বাঁধা হয়। কিরমান ও খুরাসান হতে ইহরাম বেঁধে বের হওয়া ‘উসমান (রাঃ) অপছন্দ করেন। ১৫৬০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ-এর মাসে, হাজ্জ-এর দিনগুলোতে, হাজ্জ-এর মৌসুমে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে (হাজ্জে) বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম।‘ আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের নিকট বেরিয়ে ঘোষণা করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, কয়েকজন সাহাবী ‘উমরাহ করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাঁদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল। তাই তাঁরা (শুধু) ‘উমরাহ করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ওহে কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনি সহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে ‘উমরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না (আমি ঋতুমতী)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকল নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যেও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হাজ্জ-এর ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে ‘উমরাহ করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জ-এর জন্য বের হয়ে মিনায় পৌঁছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা হতে ফিরে (বাইতুল্লাহ পৌঁছে) তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করি। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তাঁর সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে নিয়ে হারাম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান হতে সে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা হতে ‘উমরাহ সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছে গেলাম। তিনি বললেনঃ কাজ সমাধা করেছ কি? আমি বললাম জী-হাঁ। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন। ضَيْرِ শব্দটি ضَارَ-يَضِيرُ-ضَيْرًا (ক্ষতিকর) শব্দ হতে উদগত। এমনই ভাবে ضَارَ يَضُورُ ضَوْرًا,ضَرَّ يَضُرُّ-ضَرًّا- সমার্থবোধক। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

47

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হাজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কা্য়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসেনি তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহরাম ছেড়ে দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ তাঁরা ইহরাম ছেড়ে দিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি ঋতুমতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্‘ঈম চলে যাও, সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! আমি বললাম, হাঁ করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মক্কার দিকে অবতরণ করছি। অথবা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৬২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

48

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ্বাতুল বিদার বছর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হাজ্জ ও ‘উমষ্মাহ! উভয়টির ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ শুধু হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলেন। যারা কেবল হাজ্জ বা এক সঙ্গে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন তাদের একজনও কুরবানী দিনের পূর্বে ইহরাম খোলেননি। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

49

মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, ‘উসমান (রাঃ) তামাত্তু‘, হাজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন- لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ (হে আল্লাহ! আমি ‘উমরাহ ও হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না। (১৫৬৯, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

50

‘ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কা্য়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহরামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

51

আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (১৫৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

52

নবী সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (১৬৯৭, ১৭২৫, ৪৩৯৭, ৫৯১৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯, আহমাদ ২৬৪৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

53

আবূ জামরাহ নাসর ইবনু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হাজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শু‘বাহ্ (রহ.) বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (১৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

54

আবূ শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করে বলেন, আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে হাজ্জে তামাত্তু‘র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কা্য় প্রবেশ করলাম, মক্কা্বাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হাজ্জের কাজ মক্কা্ হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রহ.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হাজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হাজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য় পৌঁছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহরাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হাজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এ ইহরামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহরাম বানাব? আমরা হাজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আবূ শিহাব (রহ.) হতে মারফূ‘ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

55

সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান নামক স্থানে অবস্থানকালে ‘আলী ও ‘উস্মান (রাঃ)-এর মধ্যে হাজ্জে তামাত্তু‘ করা সম্পর্কে পরস্পরে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। ‘আলী (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করেছেন, আপনি কি তা হতে বারণ করতে চান? ‘উসমান (রাঃ) বললেন, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দিন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাঁধেন। (১৫৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

56

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে (মক্কা্য়) উপনীত হলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা হাজ্জকে ‘উমরাহ’তে পরিণত করলাম। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

57

‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে হাজ্জে তামাত্তু‘ করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছামত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (৪৫১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

58

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হাজ্জে তামাত্তু‘ সম্পর্কে তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হাজ্জের বছর আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহরাম বাঁধলেন, আর আমরাও ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কা্য় পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হাজ্জ-এর ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহরাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত সে হালাল হতে পারে না। এরপর যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হাজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা‘য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হাজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হাজ্জ চলাকালে তিনটি সওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সওম পালন করবে অর্থাৎ নিজ দেশে ফিরে’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগণ হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তাঁর কুরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কা্বাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘(হাজ্জে তামাত্তু‘) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আল্লাহ তাঁর কুরআনে হাজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো ঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু‘ হাজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সওম পালন করতে হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৩৭ এর শেষাংশ) الرَّفَثُ অর্থ স্ত্রী সহবাস, الْفُسُوقُ অর্থ গুনাহ, الْجِدَالُ অর্থ বিবাদ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)

59

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অতঃপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। (১৫৫৩, মুসলিম ১৫/৩৮, হাঃ ১২৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

60

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও এরূপ করতেন। (১৫৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

61

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানিয়্যাতুল ‘উলয়া (হারামের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কা্য় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন। (১৫৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

62

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হায় অবস্থিত সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফ্লার দিক দিয়ে বের হন। (১৫৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

63

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন। (১৫৭৮, ১৫৭৯, ১৫৮০, ১৫৮১, ৪২৯০, ৪২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

64

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উঁচু স্থানে অবস্থিত। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

65

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক হতে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, (আমার পিতা) ‘উরওয়া (রহ.) কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭, মুসলিম ১৫/৩৭, হাঃ ১২৫৭, আহমাদ ৪৮৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৫ সম্পূর্ণ নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

66

‘উরওয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর মক্কার উঁচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়া (রহ.) অধিকাংশ সময় কুদা’র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

67

‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়াহ উভয় পথেই প্রবেশ করতেন, তবে কুদা-র পথে তাঁর বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সে পথেই অধিকাংশ সময় প্রবেশ করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, ‘কাদা’ ও ‘কুদা’ দু’টি স্থানের নাম। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

68

وَقَوْلِهِ تَعَالَى : (وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنْ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنْ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ) এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘এবং সেই সময়কে স্মরণ করুন যখন কা‘বাঘরকে মানব জাতির মিলন কেন্দ্র ও নিরাপত্তা স্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকেই সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর এবং ইব্রাহীম ও ইসমা‘ঈলকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী, রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য আমার ঘরকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম। স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহীম বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর করুন আর এ অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন। তিনি বললেন, যে কেউ কুফরী করবে তাকেও কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিব। অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব এবং তা কত নিকৃষ্ট পরিণাম! স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল কা’বা ঘরের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তারা বলেছিলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ কাজ গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত উম্মাত করুন। আমাদেরকে ‘ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হন, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (আল-বাকারাঃ ১২৫-১২৮) ১৫৮২. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘বা ঘর পুনর্নির্মাণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বহন করছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের ওপর দিয়ে নাও। তিনি তা করলে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর উভয় চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। তখন তিনি বললেনঃ আমার লুঙ্গি দাও এবং তা বেঁধে নিলেন। (৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

69

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি কি জান না! তোমার কওম যখন কা‘বা ঘরের পুনর্নির্মাণ করেছিল তখন ইব্রাহীম (‘আ.) কর্তৃক কা‘বা ঘরের মূল ভিত্তি হতে তা সঙ্কুচিত করেছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে ইবরাহীমী ভিত্তির উপর পুনঃস্থাপন করবেন না? তিনি বললেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায়ের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্য আমি তা করতাম। ‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমর) (রাঃ) বলেন, যদি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নিশ্চিতরূপে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় যে, বায়তুল্লাহ হাতীমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইবরাহিমী ভিত্তির উপর নির্মিত না হবার কারণেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তওয়াফের সময়) হাতীম সংলগ্ন দু’টি কোণ স্পর্শ করতেন না। (১২৬, মুসলিম ১৫/৬৯, হাঃ ১৩৩৩, আহমাদ ২৫৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

70

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা‘বা নির্মাণের) সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কা‘বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমার কওমতো এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম। (১২৬, মুসলিম ১৫/৭০, হাঃ ১৩৩৩, আহমাদ ২৪৭৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

71

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যদি তোমার গোত্রের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্যই কা‘বা ঘর ভেঙ্গে ইব্রাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম। কেননা কুরায়শগণ এর ভিত্তি সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। আর আমি আরো একটি দরজা করে দিতাম। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) বলেন, হিশাম (রহ.) বলেছেন : خَلْفًا অর্থ দরজা। (১২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

72

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত তাহলে আমি কা‘বা ঘর সম্পর্কে নির্দেশ দিতাম এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হত। অতঃপর বাদ দেয়া অংশটুকু আমি ঘরের অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তা ভূমি বরাবর করে দিতাম ও পূর্ব-পশ্চিমে এর দু’টি দরজা করে দিতাম। এভাবে কা‘বাকে ইব্রাহীম (‘আ.) নির্মিত ভিত্তিতে সম্পন্ন করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ উক্তি কা‘বা ঘর ভাঙ্গতে (‘আবদুল্লাহ) ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে অনুপ্রাণিত করেছে। (রাবী) ইয়াযীদ বলেন, আমি ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি যখন কা‘বা ঘর ভেঙ্গে তা পুনর্নির্মাণ করেন এবং বাদ দেয়া অংশটুকু (হাতীম) তার সাথে সংযোজিত করেন এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর নির্মিত ভিত্তির পাথরগুলো উটের কুঁজোর ন্যায় আমি দেখতে পেয়েছি। (রাবী) জারীর (রহ.) বলেন, আমি তাকে (ইয়াযীদকে) বললাম, কোথায় সেই ভিত্তি মূলের স্থান? তিনি বললেন, এখনই আমি তোমাকে দেখিয়ে দিব। আমি তাঁর সাথে বাদ দেয়া দেয়াল বেষ্টনীতে (হাতীমে) প্রবেশ করলাম। তখন তিনি একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এখানে। জরীর (রহ.) বলেন, দেয়াল বেষ্টিত স্থানটুকু পরিমাপ করে দেখলাম ছয় হাত বা তার কাছাকাছি। (১২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

73

وَقَوْلِهِ تَعَالَى : (إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ (أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ) ও মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আমি তো আদিষ্ট হয়েছি এ নগরীর প্রতিপালকের ‘ইবাদাত করতে। যিনি একে করেছেন সম্মানিত, সব কিছু তাঁরই। আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি, যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই- (আন-নামালঃ ৯১)। এবং তাঁর বাণীঃ আমি কি তাদের এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সব রকম ফলমূল আমদানি হয় আমার দেয়া রিয্ক স্বরূপ? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।’’ (আল-কাসাসঃ ৫৭) ১৫৮৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ (মক্কা) শহরকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, এর একটি কাঁটাও কর্তন করা যাবে না, এতে বিচরণকারী শিকারকে তাড়া করা যাবে না, এখানে প্রচারের উদ্দেশ্য ব্যতীত পড়ে থাকা কোন বস্তু কেউ তুলে নিবে না। (১৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

74

لِقَوْلِهِ تَعَالَى : (إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ) الْبَادِي الطَّارِي (مَعْكُوفًا) مَحْبُوسًا তার কেনা-বেচা এবং বিশেষভাবে মাসজিদুল হারামে সকল মানুষের সমান অধিকার। এ পর্যায়ে আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে ও মাসজিদুল হারাম থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করে, যে মাসজিদুল হারামকে স্থানীয় ও বহিরাগত সব মানুষের জন্য সমান করেছি, আর যে ব্যক্তি তথায় ইচ্ছাপূর্বক অন্যায়ভাবে কোন পাপ কাজ করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।’’ (আল-হাজ্জঃ ২৫) الْبَادِي অর্থ হলো الطَّارِي (আগন্তুক) ও مَعْكُوفًا অর্থ হলো مَحْبُوسًا (আবদ্ধ) ১৫৮৮. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মক্কা্য় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন্ স্থানে অবস্থান করবেন? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? ‘আকীল এবং তালিব আবূ তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, জা‘ফর ও ‘আলী (রাঃ) হননি। কেননা তাঁরা দু’জন ছিলেন মুসলিম। ‘আকীল ও তালিব ছিল কাফির। এজন্যই ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, মু’মিন কাফির-এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। ইবনু শিহাব (যুহরী) (রহ.) বলেন, (পূর্ববর্তীগণ নিম্ন উদ্ধৃত আয়াতে উক্ত বিলায়াতকে উত্তরাধিকার বলে) এই তাফসীর করতেন। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে, নিজেদের ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করেনি তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের নেই যে পর্যন্ত না তারা হিজরাত করে। আর যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য, কিন্তু তোমাদের সাথে যে ক্বাওমের চুক্তি রয়েছে তাদের মুকাবিলায় নয়। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা সবই দেখেন।’’ (আল-আনফালঃ ৭২)। (৩০৫৮, ৪২৮২, ৬৭৬৪, মুসলিম ১৫/৮০, হাঃ ১৩৫১, আহমাদ ২১৮২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

75

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিনা হতে ফিরে) যখন মক্কা্ প্রবেশের ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ আগামীকাল খায়ফ বনী কেনানায় (মুহাসসাবে) ইনশাআল্লাহ আমাদের অবস্থানস্থল হবে যেখানে তারা (বনূ খায়ফ ও কুরাইশরা) কুফরীর উপর শপথ করেছিল। (১৫৯০, ৩৮৮২, ৪২৮৩, ৪২৮৫, ৭৪৭৯, মুসলিম ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১৪, আহমাদ ৭২৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

76

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফ বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হলো মুহাসসাব। কুরায়শ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিব-এর বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাদের হাতে সমর্পণ করবে না সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে। সালামাহ (রহ.) ‘উকাইল (রহ.) সূত্রে এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনু যাহ্হাক (রহ.) আওযায়ী (রহ.) সূত্রে ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত এবং তাঁরা উভয়ে [সালামাহ ও ইয়াহইয়া (রহ.)] বনূ হাশিম ও ইবনুল মুত্তালিব বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহ.) বলেন, বনী মুত্তালিব হওয়াই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। (১৫৮৯, মুসলিম ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১৪, আহমাদ ১০৯৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

77

بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ২৫/৪৬. মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الأَصْنَامَ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلاَةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ) الآيَةَ ‘‘স্মরণ কর, ইবরাহীম বলেছিলেনঃ হে আমার প্রতিপালক! এ নগরীকে নিরাপত্তাময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন। হে আমার রব! এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে; তাই যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে সে তো আমার দলভুক্ত, কিন্তু যে আমার কথা অমান্য করবে, আপনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের মধ্য থেকে কতককে কৃষি অনুপযোগী অনুর্বর উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের কাছে আবাদ করেছি। হে আমাদের রব! যেন তারা সালাত কায়িম করে। সুতরাং আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দিন এবং ফলাদি দিয়ে তাদের রুজীর ব্যবস্থা করুন, যাতে তারা শোকর করে।’’ (ইবরাহীমঃ ৩৫-৩৭) جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلاَئِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন মহাসম্মানিত ঘর কা‘বাকে, সম্মানিত মাসকে, কুরবানীর জন্য কা‘বায় প্রেরিত পশুকে এবং গলায় মালা পরিহিত পশুকে। এর কারণ এই যে, তোমরা যেন জানতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে আসমানে এবং যা কিছু আছে জমিনে, আর আল্লাহ তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (আল-মায়িদাহঃ ৯৭) ১৫৯১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাবাশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কা‘বাগৃহ ধ্বংস করবে। (১৫৯৬, মুসলিম ৫২/১৮, হাঃ ২৯০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

78

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের সওম ফরজ হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ ‘আশূরার সওম পালন করতেন। সে দিনই কা‘বা ঘর (গিলাফে) আবৃত করা হতো। অতঃপর আল্লাহ যখন রমাযানের সওম ফরজ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘আশূরার সওম যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে। (১৮৯৩, ২০০১, ২০০২, ৩৮৩১, ৪৫০২, ৪৫০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

79

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াজূজ ও মাজূজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লাহর হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালিত হবে। আবান ও ইমরান (রহ.) কাতাদাহ্ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবনু হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। ‘আবদুর রাহমান (রহ.) শু‘বাহ্ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, ‘‘বাইতুল্লাহর হাজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না।’’ প্রথম রিওয়ায়াতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, কাতাদাহ্ (রহ.) রিওয়ায়াতটি ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে এবং ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে শুনেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

80

আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘বার সামনে আমি শাইবাহর সাথে কুরসীতে বসলাম। তখন তিনি বললেন, ‘উমার (রাঃ) এখানে বসেই বলেছিলেন, আমি কা‘বা ঘরে রক্ষিত সোনা ও রূপা বণ্টন করে দেয়ার ইচ্ছা করেছি। (শাইবাহ বলেন) আমি বললাম, আপনার উভয় সঙ্গী [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ)] তো এরূপ করেননি। তিনি বললেন, তাঁরা এমন দু’ ব্যক্তিত্ব যাঁদের অনুসরণ আমি করব। (৭২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

81

قَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ يَغْزُو جَيْشٌ الْكَعْبَةَ فَيُخْسَفُ بِهِمْ ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি সেনাদল কাবা আক্রমণ করবে, কিন্তু তাদেরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেয়া হবে। ১৫৯৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কালো বর্ণের বাঁকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কাবা ঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উৎপাটন করে দিচ্ছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

82

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কা‘বা ঘর ধ্বংস করবে। (১৫৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

83

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। (১৬০৫, ১৬১০, মুসলিম ১৫/৪১, হাঃ ১২৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

84

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উসামাহ ইবনু যায়দ, বিলাল ও ‘উসমান ইবনু তালহা (রাঃ) বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন খুলে দিলেন তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কা‘বার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইয়ামানের দিকের দু’টি স্তম্ভের মাঝখানে। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

85

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন তিনি কা‘বা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন দরজা পিছনে রেখে সোজা সম্মুখের দিকে চলে যেতেন, এতদূর অগ্রসর হতেন যে, সম্মুখের দেয়ালটি মাত্র তিন হাত পরিমাণ দূরে থাকতো এবং বিলাল (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সালাত আদায় করতেন। অবশ্য কা‘বার ভিতরে যে কোন স্থানে সালাত আদায় করাতে কোন দোষ নেই। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

86

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَحُجُّ كَثِيرًا وَلاَ يَدْخُلُ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বহুবার হাজ্জ করেছেন কিন্তু কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেননি। ১৬০০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরাহ করতে গিয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে এ সকল সাহাবী ছিলেন যারা তাঁকে লোকদের হতে আড়াল করে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন কি-না, এক ব্যক্তি আবূ আওফা (রাঃ)-এর নিকট তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, না। (১৭৯১, ৪১৮৮, ৪২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

87

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা্) এলেন, তখন কা‘বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কা‘বা ঘরের ভিতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইব্রাহীম ও ইসমা‘ঈল (‘আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয় তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইব্রাহীম ও ইসমাঈ‘ল (‘আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি। (৩৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

88

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মক্কা্ আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াসরিব-এর (মাদ্বীনার) জ্বর দুর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে ‘রামল’ করতে (উভয় কাঁধ হেলে দুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবীদের প্রতি দয়াবশত সব ক’টি চক্করে রামল করতে আদেশ করেননি। (৪২৫৬, মুসলিম ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

89

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা্য় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম (চুম্বন, স্পর্শ- করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রামল করতে দেখেছি। (১৬০৪, ১৬১৬, ১৬১৭, ১৬৪৪, মুসলিম ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

90

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রামল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন। লাইস (রহ.) হাদীস বর্ণনায় সুরাইজ ইবনু নু‘মান (রহ.)-এর অনুসরণ করে বলেন, কাসীর ইবনু ফারকাদ (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

91

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না। (১৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

92

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন ইসতিলাম (চুমু) করতে দেখেছি, তখন হতে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দু’-এর ইসতিলাম (চুমু) করা বাদ দেইনি। [রাবী ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন] আমি নাফি‘ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি ঐ ‘দু’ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন? তিনি বললেন, সহজে ইসতিলাম করার উদ্দেশে তিনি (এতদুভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন। (১৬১১, মুসলিম ১৫/৪০, হাঃ ১২৬৮, আহমাদ ৪৮৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

93

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। দারাওয়ার্দী (রহ.) হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করে ইবনু আবিয যুহরী (রহ.) সূত্রে তার চাচা (যুহরী) (রহ.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। (১৬১২, ১৬৩, ১৬৩২, ৫২৯৩, মুসলিম ১৫/৪২, হাঃ ১২৭২), আহমাদ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

94

আবুশ-শা‘সা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কে আছে বায়তুল্লাহর কোন অংশ (কোন রুকনের ইস্তিলাম) ছেড়ে দেয়; মু‘আবিয়াহ (রাঃ) (চার) রুকনের ইস্তিলাম করতেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমরা এ দু’রুকন-এর চুম্বন করি না। তখন মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, বায়তুল্লাহর কোন অংশই বাদ দেয়া যেতে পারে না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) সব কয়টি রুকন ইস্তিলাম করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)

95

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি। (১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

96

আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম না। (১৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,১৫০৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

97

যুবাইর ইবনু ‘আরাবী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপরাগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কী? তিনি (ইবনু ‘উমার) বললেন, আপনার অভিমত কী? এ কথাটি ইয়ামানে রেখে দাও। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। (১৬০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

98

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইঙ্গিত করতেন। (১৬০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

99

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিন হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছুর দ্বারা তার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং তাকবীর বলতেন। [1] (১৬০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫১৪) ইব্রাহীম ইবনু তাহমান (রহ.) খালিদ হায্যা (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় তার (খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ) অনুসরণ করেছেন।

100

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। (রাবী) ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই তাওয়াফটি ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। (তিনি আরো বলেন) অতঃপর আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ) অনুরূপভাবে হাজ্জ করেছেন। এরপর আমার পিতা যুবাইর (রাঃ)-এর সাথে আমি হাজ্জ করেছি তাতেও দেখেছি যে, সর্বপ্রথম তিনি তাওয়াফ করেছেন। এরপর মুহাজির, আনসার সকল সাহাবা (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমার মা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি, তাঁর বোন এবং যুবাইর ও অমুক অমুক ব্যক্তি ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছেন, যখন তাঁরা তাওয়াফ সমাধা করেছেন, হালাল হয়ে গেছেন। (১৬১৪=১৬৪১) (১৬১৫=১৬৪২, ১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

101

‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে হাজ্জ বা ‘উমরাহ উভয় অবস্থায় সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতেন, তার প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলতেন। তাওয়াফ শেষে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে সাফা ও মারওয়ায় সা‘ঈ করতেন। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

102

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ পৌঁছে প্রথম তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চলতেন। সাফা ও মারওয়ায় সা‘ঈ করার সময় উভয় টিলার মধ্যবর্তী নিচু স্থানটুকু দ্রুতগতিতে চলতেন। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

103

ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] আমাকে ‘আমর ইবনু ‘আলী (রহ.) ..... থেকে ইবনু জুরাইজ (রহ.) বর্ণনা করেন যে, ‘আত্বা (রহ.) বলেছেন, ইবনু হিশাম (রহ.) যখন মহিলাদের পুরুষের সঙ্গে তাওয়াফ করতে নিষেধ করেন, তখন ‘আত্বা (রহ.) তাঁকে বললেন, আপনি তাদের কী করে নিষেধ করেছেন, অথচ নবী সহধর্মিণীগণ পুরুষদের সঙ্গে তাওয়াফ করেছেন? [ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন] আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, তা কি পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পরে, না পূর্বে? তিনি [‘আত্বা (রহ.)] বললেন, হাঁ, আমার জীবনের কসম, আমি পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরের কথাই বলছি। আমি জানতে চাইলাম পুরুষগণ মহিলাদের সাথে মিলে কিভাবে তাওয়াফ করতেন? তিনি বললেন, পুরুষগণ মহিলাগণের সাথে মিশে তাওয়াফ করতেন না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বরং পুরুষদের পাশ কাটিয়ে তাওয়াফ করতেন, তাদের মাঝে মিশে যেতেন না। এক মহিলা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে বললেন চলুন, হে উম্মুল ‘মু’মিনীন! আমরা তওয়াফ করে আসি। তিনি বললেন, ‘‘তোমার মনে চাইলে তুমি যাও’’ আর তিনি যেতে অস্বীকার করলেন। তাঁরা রাতের বেলা পর্দা করে বের হয়ে (সম্পূর্ণ না মিশে) পুরুষদের পাশাপাশি থেকে তাওয়াফ করতেন। উম্মুল মু’মিনীনগণ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে চাইলে সকল পুরুষ বের করে না দেয়া পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে থাকতেন। ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ‘উবাইদ ইবনু ‘উমাইর এবং আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে গেলাম, তিনি তখন ‘সবীর’ পর্বতে অবস্থান করছিলেন। [ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন] আমি বললাম, তখন তিনি কি দিয়ে পর্দা করছিলেন? ‘আত্বা (রহ.) বললেন, তখন তিনি পর্দা ঝুলান তুর্কী তাঁবুতে ছিলেন, এছাড়া তাঁর ও আমাদের মাঝে অন্য কোন কিছু ছিল না। (অকস্মাৎ দৃষ্টি পড়ায়) আমি তাঁর গায়ে গোলাপী রং-এর চাদর দেখতে পেলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)

104

নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ বাহনে আরোহণ করে মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ কর। আমি মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ করছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরের পার্শ্বে সালাত আদায় করছিলেন এবং এতি তিনি (وَالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ) এই (সূরাটি) তিলাওয়াত করেছিলেন। (৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

105

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, সে চামড়ার ফিতা বা সূতা অথবা অন্য কিছু দ্বারা আপন হাত অপর এক ব্যক্তির সাথে বেঁধে দিয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তাঁর বাঁধন ছিন্ন করে দিয়ে বললেনঃ হাত ধরে টেনে নাও। (১৬২১, ৬৭০২, ৬৭০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

106

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কা‘বা ঘর তাওয়াফ করতে দেখতে পেলেন এ অবস্থায় যে, চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে (তাকে টেনে নেয়া হচ্ছে)। তখন তিনি তা বিছিন্ন করে দিলেন। (১৬২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

107

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের পূর্বে যে হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-কে আমীর নিযুক্ত করেন, সে হাজ্জে কুরবানীর দিন [আবূ বাকার (রাঃ)] আমাকে একদল লোকের সঙ্গে পাঠালেন, যারা লোকদের কাছে ঘোষণা করবে যে, এ বছরের পর হতে কোন মুশরিক হাজ্জ করবে না এবং উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। (৩৬৯, মুসলিম ১৫/৭৭, হাঃ ১৩৪৭, আহমাদ ৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

108

(রাবী) ‘আমর (রহ.) বলেন, আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়। (৩৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫২২ শেষাংশ)

109

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করেন, এরপর (প্রথম) তাওয়াফের পরে ‘আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহর নিকটবর্তী হননি। (তাওয়াফ করেননি)। (১৫৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

110

وَصَلَّى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَارِجًا مِنْ الْحَرَمِ ‘উমার [ইবনু খাত্তাব (রাঃ)] দু’ রাক‘আত সালাত হারাম সীমানার বাইরে আদায় করেছেন। ১৬২৬. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালাম, অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু হারব (রহ.) ... নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ হতে প্রস্থান করার ইচ্ছা করলে উম্মু সালামাহ (রাযি.)-ও মক্কা্ ত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি (অসুস্থতার কারণে) তখনও বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁকে বললেনঃ যখন ফজরের সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হবে আর লোকেরা সালাত আদায় করতে থাকবে, তখন তোমার উটে আরোহণ করে তুমি তাওয়াফ আদায় করে নিবে। তিনি তাই করলেন। এরপর (তাওয়াফের) সালাত আদায় করার পূর্বেই মক্কা্ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। (৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

111

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সাত চক্করে (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সাফার দিকে বেরিয়ে গেলেন। [ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন] মহান আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২৩)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

112

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ مَا لَمْ تَطْلُعْ الشَّمْسُ وَطَافَ عُمَرُ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَرَكِبَ حَتَّى صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ بِذِي طُوًى ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূর্যোদয়ের পূর্বেই তাওয়াফের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন। (একদা) ‘উমার (রাঃ) ফজরের সালাতের পর তাওয়াফ করে বাহনে আরোহণ করেন এবং তাওয়াফের দু’রাক‘আত সালাত যু-তুওয়া (নামক স্থানে) পৌঁছে আদায় করেন। ১৬২৮. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, কিছু লোক ফজরের সালাতের পর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করল। অতঃপর তারা নসীহতকারীর (নসীহত শোনার জন্য) বসে গেল। অবশেষে সূর্যোদয় হলে তারা দাঁড়িয়ে (তাওয়াফের) সালাত আদায় করল। তখন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তারা বসে রইল আর যে সময়টিতে সালাত আদায় করা মাকরূহ তখন তারা সালাতে দাঁড়িয়ে গেল! (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

113

‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমার) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি, তিনি সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (৫৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

114

‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) আরও বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে ‘আসরের সালাতের পর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (‘আসরের সালাতের পরের) এই দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা ব্যতীত তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন না। (৫৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫২৮ শেষাংশ)

115

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখন তাঁর হাতের বস্তু (লাঠি) দিয়ে তার দিকে ইঙ্গিত করতেন ও তাকবীর বলতেন। (১৬০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

116

উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ার হয়ে লোকেদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা (الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ) (الطور : 1-2ِ) (আত্-তূর) তিলাওয়াত করছিলেন। (৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

117

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কা্য় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। (১৬৪৩, ১৬৪৪, ১৬৪৫, মুসলিম ১৫/৬০, হাঃ ১৩১৫, আহমাদ ৬৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

118

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে ফায্ল! তোমার মার নিকট যাও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য তার নিকট হতে পানীয় নিয়ে এসো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই পান করান। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা এই পানিতে হাত রাখে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই দিন এবং এই পানি হতেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন। লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করাচ্ছিল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কাজ করে যাও। তোমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রশি এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইঙ্গিত করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

119

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি মক্কায় অবস্থানকালে ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল এবং জিবরাঈল (‘আ.) অবতরণ করলেন। এরপর তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দ্বারা ধুলেন, এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি সোনার পেয়ালা নিয়ে এলেন এবং তা আমার বুকে ঢেলে দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে গেলেন এবং জিবরাঈল (‘আ.) এই আসমানের তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশ্তাকে বললেন, (দরজা) খোল। তিনি বললেন কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। (৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)

120

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (রাবী’) ‘আসিম বলেন, ‘ইকরিমা (রাঃ) হলফ করে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন। (৫৬১৭, মুসলিম ৩৬/১৫, হাঃ ২০২৭, আহমাদ ২৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

121

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধে নেয়। অতঃপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কা্য় উপনীত হয়ে ঋতুমতী হলাম। যখন আমরা হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে আমাকে তান‘ঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি ‘উমরাহ পালন করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হলো তোমার পূর্ববর্তী (অসমাপ্ত) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ঐ হাজ্জের সময় যাঁরা (কেবল) ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বেঁধে এসেছিলেন, তাঁরা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যাঁরা একসাথে ‘উমরাহ ও হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

122

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তাঁর (হাজ্জ যাত্রার) বাহন প্রস্তুত, তখন তাঁর ছেলে বললেন, আমার আশঙ্কা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কা‘বায় যেতে বাধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রওনা হয়েছিলেন, কুরায়শ কাফিররা তাঁকে বাইতুল্লাহ যেতে বাধা দিয়েছিল। আমাকেও যদি বাইতুল্লাহ বাধা দেয়া হয়, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। ‘‘কেননা, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাব ২১)। এরপর তিনি বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি‘ (রহ.) বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন। (১৬৪০, ১৬৯৩, ১৭০৮, ১৭২৯, ১৮০৬, ১৮০৭, ১৮০৮, ১৮১০, ১৮১২, ১৮১৩, ৪১৮৩, ৪১৮৪, ৪১৮৫, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০, আহমাদ ১৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

123

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কা্য় আসেন, ঐ বছর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবদমান দু’ দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে’’- (আহযাব : ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্কল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি বললেন, হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্গে হাজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী কররেন, মাথা মুন্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করেছেন। (১৬৩৯, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

124

মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনু নাওফাল কুরাশী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবনু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাযি.)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি। (১৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

125

‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ‘‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে, এ দু’টির মাঝে যাতায়াত করলে তার কোন দোষ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (আমার ধারণা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সা‘ঈ না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি [‘আয়িশাহ (রাযি.)]বললেন, ওহে বোনপো! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তা-ই হতো, তাহলে আয়াতের শব্দ বিন্যাস এভাবে হতো (لاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ) -‘‘দু’টোর মাঝে সা‘ঈ না করায় কোন দোষ নেই।’’ কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাঁধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সাফা-মারওয়া সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করতাম (এখন কী করবো?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ) অবতীর্ণ করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সা‘ঈ করা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দু’য়ের সা‘ঈ পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবূ বাকার ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-কে ঘটনাটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ব্যতীত বহু ‘আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সকলেই সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাতে হলো না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন- ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ) আবূ বাকার (রাঃ) আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সা‘য়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সা‘য়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বাইতুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি? অবশেষে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করার কথা উল্লেখ করেন। (১৭৯০, ৪৪৯৫, ৪৭৬১, মুসলিম ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

126

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ السَّعْيُ مِنْ دَارِ بَنِي عَبَّادٍ إِلَى زُقَاقِ بَنِي أَبِي حُسَيْنٍ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, বনূ ‘আব্বাদ-এর বসতি হতে বনূ আবূ হুসাইন-এর গলি পর্যন্ত সা‘ঈ করবে। ১৬৪৪. ইবনে ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ-ই-কুদূমের সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন ও পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চলতেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘ঈর সময় বাতনে মসীলে দ্রুত চলতেন। আমি (‘উবাইদুল্লাহ) নাফি‘কে বললাম, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কি রুকন ইয়ামানীতে পৌঁছে হেঁটে চলতেন? তিনি বললেন, না। তবে হাজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় হলে (একটুখানি মন্থর গতিতে চলতেন), কারণ তিনি তা চুম্বন না করে সরে যেতেন না। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

127

‘আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, কোন ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে গিয়ে শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে? তখন তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করলেন। [এতটুকু বলে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন] ‘‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

128

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করলেন। এরপর তিনি (ইবনু ‘উমার) তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

129

‘আসিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললাম, আপনারা কি সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজেই হাজ্জ বা ‘উমরাহকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সা‘ঈ করায় কোন দোষ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (৪৪৯৬, মুসলিম ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

130

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদেরকে নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যেকার সা‘ঈতে দ্রুত চলেছিলেন। (৪২৫৭, মুসলিম ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

131

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় আসার পর ঋতুমতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সকল কাজ অপর হাজীদের ন্যায় সম্পন্ন করে নাও। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

132

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধেন, তাঁদের মাঝে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [‘আলী (রাঃ)] বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হাজ্জ-এর সফরে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ঋতুমতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হাজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকার (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, যেন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে নিয়ে তান‘ঈমে চলে যান, (সেখানে গিয়ে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধবেন)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হাজ্জের পর ‘উমরাহ আদায় করে নিলেন। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

133

হাফসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দূর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মু’মিনদের দু‘আয় বের হওয়া উচিত। উম্মু ‘আতিয়্যা (রাঃ) উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা ব্দপ্পব্দ‘‘ (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন। তিনি বললেনঃ যুবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুমতীদেরও বের হওয়া উচিত। তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলিমদের দু‘আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুমতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুমতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি ‘আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না? (৩২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

134

بَاب الإِهْلاَلِ مِنْ الْبَطْحَاءِ وَغَيْرِهَا لِلْمَكِّيِّ وَلِلْحَاجِّ إِذَا خَرَجَ إِلَى مِنًى ২৫/৮২. অধ্যায় : মাক্কাহ্র অধিবাসী এবং হাজ্জ (তামাত্তু‘) সম্পন্নকারীদের ইহরাম বাঁধার জায়গা বাতহা ও এ ছাড়া অন্যান্য স্থান অর্থাৎ মাক্কাহ্র সমস্ত ভূমি এবং মাক্কাহ্বাসী হাজীগণ যখন মিনার দিকে রওয়ানা করবে তখন তাদের করণীয় কী? وَسُئِلَ عَطَاءٌ عَنْ الْمُجَاوِرِ يُلَبِّي بِالْحَجِّ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُلَبِّي يَوْمَ التَّرْوِيَةِ إِذَا صَلَّى الظُّهْرَ وَاسْتَوَى عَلَى رَاحِلَتِهِ وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ t قَدِمْنَا مَعَ النَّبِيِّ فَأَحْلَلْنَا حَتَّى يَوْمِ التَّرْوِيَةِ وَجَعَلْنَا مَكَّةَ بِظَهْرٍ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَهْلَلْنَا مِنْ الْبَطْحَاءِ وَقَالَ عُبَيْدُ بْنُ جُرَيْجٍ لِابْنِ عُمَرَ رَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى يَوْمَ التَّرْوِيَةِ فَقَالَ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ ‘আত্বা (রহ.)-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) তালবিয়ার দিন (যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে) যুহরের সালাত শেষে সওয়ারীতে আরোহণ করে তালবিয়া পাঠ আরম্ভ করতেন। ‘আবদুল মালিক (রহ.), ‘আত্বা ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাক্কাহ্য় এসে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত বিনা ইহরামে অবস্থান করি এবং মাক্কাহ্ নগরীকে পিছনে রেখে যাওয়ার সময় আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করেছিলাম। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন যে, আমরা বাতহায় ইহরাম বাঁধি। ‘উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহ.) ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে বললেন, যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ দেখেই লোকেরা ইহরাম বাঁধতেন, কিন্তু আপনাকে দেখেছি মাক্কাহ্য় অবস্থান করেও যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেননি! তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে যতক্ষণ না সওয়ারী উঠে দাঁড়াতো ততক্ষণ তাঁকে তালবিয়া পাঠ করতে দেখিনি। ১৬৫৩. ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু রুফাইয়‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর। (১৬৫৪, ১৭৬৩, মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

135

‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে মিনার দিকে বের হলাম, তখন আনাস (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে। (১৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

136

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, ‘উমার (রাঃ)-ও। আর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন। (১০৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

137

হারিসাহ ইবনু ওয়াহব খুযা‘য় (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম। (১০৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

138

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। আবূ বাকর-এর সাথে দু’ রাক‘আত এবং ‘উমার-এর সাথেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে [অর্থাৎ ‘উসমান (রাঃ)-এর সময় হতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে] আহা! যদি চার রাক‘আতের পরিবর্তে মকবূল দু’রাক‘আতই আমার ভাগ্যে জুটত! (১০৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

139

উম্মু ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন। (১৬৬১, ১৯৮৮, ৫২০৪, ৫২১৮, ৫২৩৬, মুসলিম ১৩/১৮, হাঃ ১১২৩, আহমাদ ২৬৯৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

140

মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকার সাকাফী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে ‘আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না। (৯৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

141

সালিম (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হাজ্জের ব্যাপারে ইবনু ‘উমার-এর বিরোধিতা করবে না। ‘আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তাঁর (ইবনু ‘উমারের) সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার, হে আবূ ‘আবদুর রহমান? ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তা হলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলেন, এ মুহূর্তেই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তা হলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। হাজ্জাজ ‘আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলেছে। (১৬৬২, ১৬৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

142

উম্মু ফাযল বিনত হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন। (১৬৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

143

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مَعَ الإِمَامِ جَمَعَ بَيْنَهُمَا ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে না পারলে উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। ১৬৬২. সালিম (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম (রহ.) বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে ‘আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও ‘আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (স)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে? (১৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)

144

সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হাজ্জের ব্যাপারে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে অনুসরণ করেন। যখন ‘আরাফার দিন হল, তখন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইবনু ‘উমার (রহ.) আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন ও কোথায়? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দিন, আমি গায়ে একটু পানি ঢেলে নিই। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার ও আমার পিতার মাঝে চলতে লাগলেন। আমি বললাম, আজ আপনি যদি সঠিকভাবে সুন্নাত মুতাবিক কাজ করতে চান তাহলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে। (১৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

145

জুবাইর ইবনু মুত‘য়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয়।[1] এখানে তিনি কী করছেন? (মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

146

‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস্ হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হল। (৪৫২০, মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

147

‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘আরাফা হতে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন,عَنَقَ হতেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نَصَّ বলা হয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, فَجْوَةٌ অর্থ مُتَّسَعٌ খোলা পথ, এর বহুবচন হল فَجَوَاتٌ ও فِجَاءٌ। رَكْوَةٌ ও رِكَاءٌ শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) (مَنَاصٌ) (ص : ৩০) এর অর্থ হল, ‘‘পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।’’ (সদঃ ৩০) (২৯৯৯, ৪৪১৩, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৩ ,ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

148

উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। (১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

149

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সালাত আদায় করতেন। (১৬৬৮, ১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

150

কুরাইব (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন। (১৫৪৪, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১৬৮০, ১৬৮১, আহমাদ ২১৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬২ শেষাংশ)

151

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে খুব হাঁকডাক ও উট পিটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের চাবুক দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন কর। কেননা, উট দ্রুত হাঁকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। أَوْضَعُوا অর্থাৎ তারা দ্রুত চলত। (خِلاَلَكُمْ)তোমাদের ফাঁকে ঢুকে, (وَفَجَّرْنَا خِلاَلَهُمَا) উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

152

উসামাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফা হতে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং উযূ করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন না। আমি তাঁকে বললাম, সালাত? তিনি বললেন, সালাত তো তোমার সামনে। অতঃপর তিনি মুযদালিফায় এসে উযূ করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন। অতঃপর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে নিজ নিজ উট দাঁড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। ‘ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেননি। (১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

153

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশা এক সাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সালাত আদায় করেননি। (১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

154

আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জের সময় মুযদালিফায় মাগরিব এবং ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন। (৪৪১৪, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৭, আহমাদ ২৩৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

155

‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হাজ্জ আদায় করলেন। তখন ‘ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি রাতের খাবার আনালেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলল। ‘আমর (রহ.) বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুহাইর (রহ.) হতেই হয়েছে। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেনঃ এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সালাত ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন সালাত আদায় করেননি। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এ দু’টি সালাত তাদের প্রচলিত ওয়াক্ত হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্র ফজরের সালাত আদায় করেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি। (১৬৮২, ১৬৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

156

সালিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ‘আরে হারামের নিকট উকূফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকর করতেন। অতঃপর ইমাম (মুযদালিফায়) উকূফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কঙ্কর মারতেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন, তাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন। (মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

157

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রাতে মুযদালিফা হতে পাঠিয়েছেন। (১৬৭৮, ১৮৫৬, মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯৩, ১২৯৪, আহমাদ ২২০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

158

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাঁদের একজন। (১৬৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

159

আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি ডুবেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কঙ্কর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, হে মহিলা! আমার মনে হয়, আমরা বেশি অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন। (মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

160

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওদা (রাঃ) মুযদালিফার রাতে (মিনা যাওয়ার জন্য) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চাইলেন, তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। সওদাহ (রাঃ) ছিলেন ভারী ও ধীরগতিসম্পন্না নারী। (১৬৮১, মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

161

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সওদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সওদার মত আমিও যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য হতে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হতো।(১৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

162

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’টি সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সালাত তার ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন। (১৬৭৫, মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৮৯, আহমাদ ৩৬৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

163

‘আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে মক্কা্ রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের সাথে উভয় সালাত (মাগরিব ও ‘ইশা) আদায় করলেন এবং এ দু’ সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন। অতঃপর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি। এরপর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দু’ সালাত অর্থাৎ মাগরিব ও ‘ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ‘ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে উকূফ করেন। এরপর বললেন, আমীরুল মুমিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তাঁর কথা দ্রুত ছিল, না ‘উসমান (রাঃ)-এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত। (মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৮৯, আহমাদ ৩৬৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

164

‘আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি মুযদালিফাতে ফজরের সালাত আদায় করে (মাশ‘আরে হারামে) উকূফ করলেন এবং তিনি বললেন, মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হত না। তারা বলত, হে সাবীর! আলোকিত হও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার আগেই রওয়ানা হলেন। (৩৮৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

165

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল (রাঃ)-কে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসিয়েছিলেন। সেই ফাযল (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌঁছে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৫৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

166

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আরাফা হতে মুযদালিফা আসার পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওয়ারীর পেছনে উসামাহ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনার পথে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা উভয়েই বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৫৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

167

আবূ জামরাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে তামাত্তু‘ হাজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা আদায় করতে আদেশ দিলেন। এরপর আমি তাঁকে কুরবানী সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তামাত্তু‘র কুরবানী হলো একটি উট, গরু বা বকরী অথবা এক কুরবানীর পশুর মধ্যে শরীকানা এক অংশ। আবূ জামরাহ (রহ.) বলেন, লোকেরা তামাত্তু‘ হাজ্জকে যেন অপছন্দ করত। একদা আমি ঘুমালাম তখন দেখলাম, একটি লোক যেন (আমাকে লক্ষ্য করে) ঘোষণা দিচ্ছে, উত্তম হাজ্জ এবং মাকবূল তামাত্তু‘। এরপর আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বললেন, এটাই তো আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। আদম, ওয়াহাব ইবনু জারীর এবং গুনদার (রহ.) শু‘বাহ্ (রহ.) হতে মাকবূল ‘উমরাহ এবং উত্তম হাজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। (১৫৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

168

(وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ لَنْ يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلاَ دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرْ الْمُحْسِنِينَ) قَالَ مُجَاهِدٌ سُمِّيَتْ الْبُدْنَ لِبُدْنِهَا وَالْقَانِعُ السَّائِلُ وَالْمُعْتَرُّ الَّذِي يَعْتَرُّ بِالْبُدْنِ مِنْ غَنِيٍّ أَوْ فَقِيرٍ وَشَعَائِرُ اسْتِعْظَامُ الْبُدْنِ وَاسْتِحْسَانُهَا وَالْعَتِيقُ عِتْقُهُ مِنْ الْجَبَابِرَةِ وَيُقَالُ وَجَبَتْ سَقَطَتْ إِلَى الأَرْضِ وَمِنْهُ وَجَبَتْ الشَّمْسُ ‘‘আর উটকে আমি করেছি তোমাদের জন্য আল্লাহ্‌র নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, তোমাদের জন্য এতে রয়েছে মঙ্গল। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর; তারপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং সাহায্য কর ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে এবং যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকেও। আমি এভাবে ঐ পশুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যেন তোমরা শোকর কর। আর আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং না এগুলোর রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যেন তোমরা আল্লাহ্‌র মহত্ব ঘোষণা কর, যেহেতু তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মশীলদেরকে।’’ (আল-হাজ্জঃ ৩৬-৩৭) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, কুরবানীর উটগুলোকে মোটা তাজা হওয়ার কারণে الْبُدْنَ বলা হয়, الْقَائِ অর্থাৎ যাচ্ঞাকারী, الْمُعْتَرُّ ঐ ব্যক্তি, যে ধনী হোক বা দরিদ্র, কুরবানীর উটের গোশত খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। شَعَائِرُ অর্থাৎ কুরবানীর উটের প্রতি সম্মান করা এবং ভাল জানা। الْعَتِيقُ অর্থাৎ যালিমদের হতে মুক্ত হওয়া وَجَبَتْ অর্থ যমীনে লুটিয়ে পড়ে। এ অর্থেই হল وَجَبَتْ الشَّمْسُ সূর্য অস্তমিত হয়েছে। ১৬৮৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এ-তো কুরবানীর উট। এরপরও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন। (১৭০৬, ২৭৫৫, ৬১৬০, মুসলিম ১৫/৬৫, হাঃ ১৩২২, আহমাদ ১০৩১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

169

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (২৭৫৪, ৬১৫৯, মুসলিম ১৫/৬৫, হাঃ ১২২৩, আহমাদ ১২০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

170

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধেন, এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

171

‘উরওয়া (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু’ করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহ.) ইব্ন ‘উমার (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। (মুসলিম ১৫/২৪, হাঃ ১২২৭, ১২২৮, আহমাদ ৬২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৮২ শেষাংশ)

172

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর পুত্র ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বাইতুল্লাহ হতে আপনার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ’’- (আহযাবঃ ২১)। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) ‘উমরাহ আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি। তাই তিনি ‘উমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টির জন্য ইহরাম বেঁধে বললেন, হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র ব্যাপার তো একই। এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান হতে কুরবানীর জানোয়ার কিনলেন এবং মক্কা্ পৌঁছে (হাজ্জ ও ‘উমরাহ) উভয়টির জন্য একটি তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুললেন না। (১৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

173

মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মাদ্বীনা হতে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌঁছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ‘আর করলেন। এরপর তিনি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন। (১৬৯৪=১৮১১, ২৭১২, ২৭৩১, ৪১৫৮, ৪১৭৮, ৪১৮১) (১৬৯৫=২৭১১, ২৭৩২, ৪১৫৭, ৪১৭৯, ৪১৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

174

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশ‘আর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি। (১৬৯৮, ১৬৯৯, ১৭০১ হতে ১৭০৫, ২৩১৭, ৫৫৬৬, মুসলিম ১৫/৬৪, হাঃ ১৩২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

175

হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর জানোয়ারকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হাজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না। (১৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

176

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনা হতে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না। (১৬৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

177

وَقَالَ عُرْوَةُ عَنْ الْمِسْوَرِ قَلَّدَ النَّبِيُّ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَهُ وَأَحْرَمَ بِالْعُمْرَةِ ‘উরওয়া (রহ.) মিসওয়ার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশুর কিলাদা পরান ও ইশ‘আর করেন এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধেন। ১৬৯৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশ‘আর করলেন এবং তাকে তিনি কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বাইতুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মাদ্বীনায় থাকলেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল তা হতে কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি। (১৬৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

178

যিয়াদ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মক্কা্) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি হারাম হয়নি। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

179

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্য বকরী পাঠালেন। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

180

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (কুরবানীর পশুর) কিলাদাগুলো পাকিয়ে দিতাম আর তিনি তা বকরীর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তিনি নিজ পরিবারে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

181

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বকরীর কিলাদা পাকিয়ে দিতাম আর তিনি সেগুলো পাঠিয়ে দিয়ে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

182

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি, তাঁর ইহরাম বাঁধার আগে। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

183

উম্মুল মুমিনীন [‘আয়িশাহ (রাযি.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে যে পশম ছিল আমি তা দিয়ে কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। (১৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

184

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেনঃ এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকটিকে দেখেছি যে, সে ঐ পশুটির পিঠে চড়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সাথে চলছিল আর পশুটির গলায় জুতার মালা ঝুলানো ছিল। মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রহ.) এ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। ‘উসমান ইবনু ‘উমার (রহ.)...আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (১৬৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

185

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَشُقُّ مِنْ الْجِلاَلِ إِلاَّ مَوْضِعَ السَّنَامِ وَإِذَا نَحَرَهَا نَزَعَ جِلاَلَهَا مَخَافَةَ أَنْ يُفْسِدَهَا الدَّمُ ثُمَّ يَتَصَدَّقُ بِهَا ইবনু ‘উমার (রাঃ) শুধু কুঁজের স্থানের ঝুল ফেড়ে দিতেন। আর তা নহর করার সময় নষ্ট করে দেয়ার আশঙ্কায় ঝুলটি খুলে নিতেন এবং পরে তা সদাকাহ করে দিতেন। ১৭০৭. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যবেহকৃত কুরবানীর উটের পৃষ্ঠের আবরণ এবং তার চামড়া সদাকাহ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (১৭১৬, ১৭১৬, ১৭১৭, ১৭১৮, ২২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

186

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু যুবাইরের খিলাফতকালে খারিজীদের হাজ্জ আদায়ের বছর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জ পালন করার ইচ্ছা করেন। তখন তাঁকে বলা হল, লোকেদের মাঝে পরস্পর লড়াই সংঘটিত হতে যাচ্ছে, আর তারা আপনাকে বাধা দিতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, (আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন) ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। কাজেই আমি সেরূপ করব যেরূপ করেছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর ‘উমরাহ ওয়াজিব করে ফেলেছি। এরপর বায়দার উপকন্ঠে পৌঁছে তিনি বললেন, হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, ‘উমরাহ’র সাথে আমি হাজ্জকেও একত্রিত করলাম। এরপর তিনি কিলাদা পরিহিত কুরবানীর জানোয়ার নিয়ে চললেন, যেটি তিনি আসার পথে কিনেছিলেন। অতঃপর তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ করলেন। তাছাড়া অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং সে সব বিষয় হতে হালাল হননি যেসব বিষয় তাঁর উপর হারাম ছিল- কুরবানীর দিন পর্যন্ত। তখন তিনি মাথা মুড়ালেন এবং কুরবানী করলেন। তাঁর মতে প্রথম তাওয়াফ দ্বারা হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ সম্পন্ন হয়েছে। এ সব করার পর তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছেন। (১৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

187

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিল-কা‘দাহ মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোন ইচ্ছা ছিল না। যখন আমরা মক্কার কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ করে হালাল হয়ে যায়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর গোশ্ত আনা হলে আমি বললাম, এ কী? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া (রহ.) বলেন, উক্ত হাদীসখানা কাসিমের নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, সঠিকভাবেই তিনি হাদীসটি তোমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

188

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কুরবানীর স্থানে কুরবানী করতেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, (অর্থাৎ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর স্থানে। (৯৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

189

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুযদালিফা হতে শেষ রাতের দিকে হাজীদের সাথে, যাদের মধ্যে আযাদ ও ক্রীতদাস থাকত, নিজ কুরবানীর জানোয়ার পাঠিয়ে দিতেন, যাতে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর স্থানে পৌঁছে যায়। (৯৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

190

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সাতটি উট দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদ্বীনাতেও হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি দুম্বা তিনি কুরবানী করেছেন। এখানে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

191

যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও। (এ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন যে,] শু‘বাহ্ (রহ.) ইউনুস সূত্রে যিয়াদ (রহ.) হতে হাদীসটি أَخْبَرَنِي শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

192

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ سُنَّةَ مُحَمَّدٍ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (صَوَافَّ) قِيَامًا ইবনু ‘উমার (রহ.) বলেন, তা-ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, (কুরআনের শব্দ) (صَوَافَّ) এর অর্থ দাঁড় করিয়ে (কুরবানী করা)। ১৭১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যোহর চার রাক‘আত এবং যুল হুলাইফাতে ‘আসর দু’রাক‘আত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কা্য় প্রবেশ করে তিনি সহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদ্বীনাহ্তে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি ভেড়া কুরবানী দেন। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

193

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যুহর চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফাতে ‘আসর দু’ রাক‘আত আদায় করেন। আইয়ূব (রহ.) এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, এরপর তিনি সেখানে রাত যাপন করেন। ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করার পর সওয়ারীতে আরোহণ করেন। সওয়ারী বায়দায় পৌঁছে সোজা হয়ে দাঁড়ালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

194

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর জানোয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি ওগুলোর গোশ্ত বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৫) ১৭১৬ (মীম). ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে এবং এর হতে পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কিছু না দিতে। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৫ শেষাংশ)

195

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশ্ত, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং তা হতে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দেয়া হয়। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

196

‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ’ উট পাঠান এবং আমাকে গোশত সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

197

بَاب ২৫/১২৩. অধ্যায় : (وَإِذْ بَوَّأْنَا لإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لاَ تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ) ‘‘যখন আমি ইবরাহীমকে কা‘বা গৃহের স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে, আমার সাথে কোন কিছু শারীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাওয়াফকারীদের জন্য, সালাতে দন্ডায়মান লোকেদের জন্য, রুকু‘কারী ও সিজদাকারীদের জন্য এবং মানুষের মধ্যে হাজ্জের জন্য ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের দুর্বল উটের পিঠে সাওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা উপস্থিত হতে পারে তাদের কল্যাণময় স্থানে এবং তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সে সব চতুষ্পদ জন্তু যবহ করার সময় যা তাদেরকে তিনি রিয্ক হিসেবে দান করেছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং বিপন্ন, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। তারপর তারা যেন দূর করে ফেলে নিজেদের শরীরের অপরিচ্ছন্নতা এবং নিজেদের মানৎ পূর্ণ করে ও প্রাচীন কা‘বাগৃহের তাওয়াফ করে। এটাই বিধান। আর যে কেউ আল্লাহর পবিত্র অনুষ্ঠান সমূহের মর্যাদা রক্ষা করে তার জন্য তা হবে তার রবের কাছে উত্তম। তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে চতুষ্পদ জন্তু। ঐগুলো ছাড়া যা তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয়েছে। সুতরাং তোমরা দূরে থাক মূর্তি পূজার অপবিত্রতা হতে এবং দূরে থাক মিথ্যা কথা হতে।’’ (আল-হাজ্জঃ ২৬-৩০) وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ لاَ يُؤْكَلُ مِنْ جَزَاءِ الصَّيْدِ وَالنَّذْرِ وَيُؤْكَلُ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ وَقَالَ عَطَاءٌ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ مِنْ الْمُتْعَةِ ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি‘ (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। শিকারের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ এবং মানতের জন্য যে জানোয়ার যবহ করা হয়, তা খাওয়া যাবে না। এছাড়া অন্যান্য সব কুরবানীর গোশ্ত খাওয়া যাবে। ‘আত্বা (রহ.) বলেন, তামাত্তু‘র কুরবানীর গোশত খেতে পারবে এবং (অন্যকেও) খাওয়াতে পারবে। ১৭১৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশ্ত মিনা’র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি ‘আত্বা (রহ.)-কে বললাম, জাবির (রাঃ) কি বলেছেন আমরা মদ্বীনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন, না। (২৯৮০, ৫৪২৪, ৫৫৬৭, মুসলিম ৩৫/৫, হাঃ ১৯৭২, আহমাদ ১৪৪১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

198

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল-কা‘দার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ ব্যতীত আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কী? বলা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তরফ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি কাসিম (রহ.)-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, ‘আমরাহ্ (রহ.) হাদীসটি ঠিক ভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

199

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, যে মাথা কামানোর আগে কুরবানী অথবা অনুরূপ কোন কাজ করেছে। তিনি বললেনঃ এতে কোন দোষ নেই, এতে কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

200

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই তাওয়াফে যিয়ারা করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী পুনরায় বললেন, আমি যবহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী আবারও বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। ‘আবদুর রহীম ইবনু সুলাইমান রাযী, কাসিম ইবনু ইয়াহইয়া ও ‘আফ্ফান (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ (রহ.)...জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। (৮৪, মুসলিম ১৫/৫৭, হাঃ ১৩০৭, আহমাদ ২৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

201

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কঙ্কর মেরেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ এতো কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

202

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হাজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন। অতঃপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (তখন হতে) ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হাজ্জ এবং ‘উমরাহ সম্পর্কে) ফতোয়া দিতাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার যথাস্থানে পৌঁছার আগে হালাল হননি। (১৫৫৯, মুসলিম ১৫/২২, হাঃ ১২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

203

হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লোকদের কী হল যে, তারা ‘উমরাহ করে হালাল হয়ে গেল অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হননি! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আমার মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং পশুর গলায় কিলাদা ঝুলিয়েছি। তাই কুরবানী না করে আমি হালাল হতে পারি না। (১৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

204

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের সময় তাঁর মাথা কামিয়েছিলেন। (৪৪১০, ৪৪১১, মুসলিম ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০৪, আহমাদ ৫৬১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

205

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। এবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। লায়স (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এ কথাটি তিনি একবার অথবা দু’বার বলেছেন। রাবী বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, চতুর্থবার বলেছেনঃ চুল যারা ছোট করেছে তাদের প্রতিও। (মুসলিম ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০২, আহমাদ ৭১৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

206

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি তিনবার বলেন, এরপর বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের উপরও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

207

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের একদলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন। (১৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

208

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও মু‘আবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল ছোট ছোট করে দিয়েছিলাম। (মুসলিম ১৫/৩৩, হাঃ ১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

209

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বাইতুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেঁটে হালাল হয়ে যায়। (১৫৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

210

وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزِّيَارَةَ إِلَى اللَّيْلِ. وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَزُورُ الْبَيْتَ أَيَّامَ مِنًى আবূ যুবাইর (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারাহ্ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। আবূ হাসসান (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার দিনগুলোতে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতেন। ১৭৩২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন অর্থাৎ কুরবানীর দিন। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এটি মারফূ‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৮, আহমাদ ৪৭৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ১২৮ কিতাবুল হাজ্জ্ব. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

211

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ করলাম। এ সময় সাফিয়্যাহ (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো ঋতুমতী। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ (রাযি.) তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে রওয়ানা হও। কাসিম, ‘উরওয়া ও আসাদ (রহ.) সূত্রে ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করেছেন। (২৯৪, মুসলিম ১৫/৬৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৪৫৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

212

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যবহ করা, মাথা কামান ও কঙ্কর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

213

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিনাতে কুরবানীর দিন (বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞেস করা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই। তাঁকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করে বললেন, আমি যবহ (কুরবানী) করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কঙ্কর মেরেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

214

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেনঃ একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। অতঃপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ কঙ্কর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। (৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

215

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ। এরপর অপর এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ, আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কঙ্কর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি। এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞেস করা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাঁকে যা-ই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। (৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

216

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। অতঃপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মা‘মার (রহ.) সালিহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৮(ক). ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ

217

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন্ মাস? তারা বললেনঃ সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইয্যত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়েছি? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তাঁর উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। (৭০৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

218

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘আরাফাত ময়দানে খুত্বা দিতে শুনেছি। (১৮৪১, ১৮৪৩, ৫৮০৪, ৫৮৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

219

আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুত্বা দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি জান আজ কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব চেয়ে বেশি জানেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। আমরা ধারণা করলাম সম্ভবতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম পাল্টিয়ে অন্য নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি নীরব হয়ে গেলেন। আমরা মনে করতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম পাল্টিয়ে অন্য কোন নামে নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি যিলহজ্জের মাস নয়? আমরা বললাম, হাঁ। অতঃপর তিনি বললেনঃ এটি কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই সবচেয়ে বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে গেলেন। ফলে আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এর নাম বদলিয়ে অন্য নামকরণ করবেন। তিনি বললেনঃ এ কি সম্মানিত শহর নয়? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল তোমাদের জন্য তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত এমন সম্মানিত যেমন সম্মান রয়েছে তোমাদের এ দিনের, তোমাদের এ মাসের এবং তোমাদের এ শহরের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ শোন! আমি কি পৌঁছিয়েছি তোমাদের কাছে? সাহাবীগণ বললেন, হাঁ (হে আল্লাহর রাসূল)। অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার দাওয়াত) পৌঁছিয়ে দেয়। কেননা, যাদের কাছে পৌঁছানো হবে তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন থাকে যে, শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী। তোমরা আমার পরে পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। (৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

220

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে বললেনঃ তোমরা কি জান, এটি কোন্ দিন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত শহর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন্ মাস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত মাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ মাস, এ শহর, এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত, তেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জান, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইয্যত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন। হিশাম ইবনু গায (রহ.) নাফি‘ (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হাজ্জে আকবারের দিন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এটি-ই বিদায় হাজ্জ। (৪৪০৩, ৬০৪৩, ৬১৬৬, ৬৭৮৫, ৬৮৬৮, ৭০৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

221

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, [‘আব্বাস (রাঃ) পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কা্য় অবস্থানের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চাইলে] তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। (১৬৩৪ ) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

222

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। (উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় তবে এ হাদীসে পূর্বোক্ত হাদীসের শব্দرَخَّصَ -এর স্থলেأَذِنَ শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে)। (১৬৩৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

223

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আব্বাস (রাঃ) পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কা্য় অবস্থানের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। (১৬৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

224

وَقَالَ جَابِرٌ رَمَى النَّبِيُّ يَوْمَ النَّحْرِ ضُحًى وَرَمَى بَعْدَ ذَلِكَ بَعْدَ الزَّوَالِ জাবির (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন চাশতের সময় এবং পরবর্তী দিনগুলোতে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন। ১৭৪৬. ওয়াবারা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কখন কঙ্কর নিক্ষেপ করব? তিনি বললেন, তোমার ইমাম যখন কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তখন তুমিও নিক্ষেপ করবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, আমরা সময়ের অপেক্ষা করতাম, যখন সূর্য ঢলে যেত তখনই আমরা কঙ্কর নিক্ষেপ করতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

225

‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বাতন ওয়াদী হতে কঙ্কর মারেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! লোকেরা তো এর উচ্চস্থান হতে কঙ্কর মারে। তিনি বললেন, সে সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এটা সে স্থান, যেখানে সূরা আল-বাকারাহ নাযিল হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ওয়ালীদ (রহ.)...আ‘মাশ (রহ.) হতে এরূপ বর্ণনা করেন। (১৭৪৮, ১৭৮৯, ১১৭৫০, মুসলিম ১৫/৫০, হাঃ ১২৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

226

ذَكَرَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم এ কথাটি ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। ১৭৪৮. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি জামরাতুল কুবরা বা বড় জামরার কাছে গিয়ে বায়তুল্লাহকে বামে ও মিনাকে ডানে রেখে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। আর বলেন, যাঁর প্রতি সূরা আল-বাকারাহ নাযিল হয়েছে তিনিও এরূপ কঙ্কর মেরেছেন। (১৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

227

‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করলেন। তখন তিনি বাইতুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে দেখেছেন। এরপর তিনি বললেন, এ তাঁর দাঁড়াবার স্থান যাঁর প্রতি সূরা বাকরা নাযিল হয়েছে। (১৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

228

আ‘মাশ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারাহ’র উল্লেখ রয়েছে, সে সূরার মধ্যে আলে ‘ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা আল-বাকারাহ, সূরা আলে ‘ইমরান ও সূরা আন-নিসা বলা পছন্দ করতো না। বর্ণনাকারী আ‘মাশ (রহ.) বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম (রহ.)-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জামারায়ে ‘আকাবাতে কংকর মারার সময় তিনি ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কঙ্কর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যাঁর উপর নাযিল হয়েছে সুরা বাকারাহ (অর্থাৎ সূরা বাকারাহ বলা বৈধ)। (১৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

229

بَاب مَنْ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ وَلَمْ يَقِفْ ২৫/১৩৯. অধ্যায় : জামরায়ে ‘আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করে অপেক্ষা না করা। قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে ইবনু ‘উমার (রাঃ) এ কথা বর্ণনা করেন। ১৭৫১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত তুলে দু‘আ করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় কঙ্কর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে ‘আকাবায় কঙ্কর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি। (১৭৫২, ১৭৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

230

সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিকটবর্তী জামরায় সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে এসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় অনুরূপভাবে কঙ্কর মারতেন। এরপর বাঁ দিক হয়ে সমতল ভূমিতে এসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অতঃপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে ‘আকাবায় কঙ্কর মারতেন এবং এর কাছে তিনি দেরী করতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি অনুরূপ করতে দেখেছি। (১৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

231

যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মসজিদে মিনার দিক হতে প্রথমে অবস্থিত জামরায় যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঙ্কর মারতেন, সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রত্যেকটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন এবং এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর দ্বিতীয় জামরায় এসে সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর বাঁ দিকে মোড় নিয়ে ওয়াদীর কাছে এসে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অবশেষে ‘আকাবার কাছে জামরায় এসে তিনি সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলতেন। এরপর ফিরে যেতেন, এখানে বিলম্ব করতেন না। যুহরী (রহ.) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)-কে তাঁর পিতার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (রাবী বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও তাই করতেন। (১৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

232

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার এ দু’ হাত দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খুশবু লাগিয়েছি, যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করেছেন এবং তাওয়াফে যিয়ারাহর পূর্বে যখন তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়েছেন। এ কথা বলে তনি তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করলেন। (১৫৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

233

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুমতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে। (৩২৯, মুসলিম ১৫/৬৭, হাঃ ১৩২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

234

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করে উপত্যকায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করে বাইতুল্লাহর দিকে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেন। লায়স (রহ.)...আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনায় ‘আমর ইবনু হারিস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৭৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

235

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ) ঋতুমতী হলেন এবং পরে এ কথাটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবগত করানো হয়। তখন তিনি বললেনঃ সে কি আমাদের যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারাহ্ সমাধা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তো আর বাধা নেই। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

236

‘ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারাহর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদিনা্বাসী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়দের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদিনা্য় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেবে। তাঁরা মদিনা্য় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাঁদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মে সুলাইম (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁদের সাফিয়্যা (উম্মুল মু’মিনীন) (রাঃ)-এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদাহ (রহ.) ‘ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

237

বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবে না। পরবর্তীতে তাঁকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন। (৩৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

238

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম। হাজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় পৌঁছে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়ার সা‘য়ী করলেন। তবে ইহরাম খুলেননি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার ছিল। তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ঋতুমতী হয়ে পড়লেও (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা হাজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল-হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবী তো হাজ্জ ও ‘উমরাহ করে ফিরছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তান‘ঈম (নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর আমি ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈমের দিকে গেলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন। মুসাদ্দাদ (রহ.)-এর বর্ণনায় এ হাদীসে (হাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর (রহ.) মনসূর (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ (রহ.)-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

239

‘আবদুল ‘আযীয ইবনু রুফা‘য় (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মনে রেখেছেন এমন কিছু কথা আমাকে বলুন, তারবিয়ার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি বললাম, প্রত্যাবর্তনের দিন ‘আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবতাহ নামক স্থানে। (তারপর বললেন,) তুমি তাই কর, যেভাবে তোমার শাসকগণ করেন। (১৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

240

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায়ের পর মুহাস্সাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন, পরে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে গেলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। (১৭৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

241

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় অর্থাৎ এর দ্বারা আবতাহ বুঝানো হয়েছে। (মুসলিম ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১১, আহমাদ ২৫৭৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

242

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাস্সাবে অবতরণ করা (হজ্জের- কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন। (মুসলিম ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১২, আহমাদ ১৯২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

243

َالنُّزُولِ بِالْبَطْحَاءِ الَّتِي بِذِي الْحُلَيْفَةِ إِذَا رَجَعَ مِنْ مَكَّةَ মক্কা্ হতে ফেরার সময় যুল-হুলাইফার বাতহাতে অবতরণ। ১৭৬৭. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) দু’ পাহাড়ের মধ্যস্থিত যু-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর মক্কার উঁচু গিরিপথের দিক হতে প্রবেশ করতেন। হাজ্জ বা ‘উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কা্ আসলে তিনি মসজিদে হারামের দরজার সামনে ব্যতীত কোথাও উট বসাতেন না। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে হাজারে আসওয়াদের কাছে আসতেন এবং সেখান হতে তাওয়াফ আরম্ভ করতেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করতেন। তিনবার দ্রুতবেগে আর চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর ফিরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং নিজের মানযিলে ফিরে যাওয়ার আগে সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা‘য়ী করতেন। আর যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ হতে ফিরতেন তখন যুল-হুলাইফা উপত্যকার বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন। (৪৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

244

খালিদ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.)-কে মুহাসসাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি নাফি‘ (রহ.) হতে আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , ‘উমার ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) সেখানে অবতরণ করেছেন। নাফি‘ (রহ.) হতে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুহাসসাবে যোহর ও ‘আসরের সালাত আদায় করতেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি মাগরিবের কথাও বলেছেন, খালিদ (রাঃ) বলেন, ঈসা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন। এ কথা ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

245

ইবনু ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত যে, তিনি যখনই মক্কা্ আসতেন তখনই যু-তুয়া উপত্যকায় রাত যাপন করতেন। আর সকাল হলে (মক্কা্য়) প্রবেশ করতেন। ফিরার সময়ও তিনি যু-তুয়ার দিকে যেতেন এবং সেখানে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করতেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। (৪৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৪৮ কিতাবুল হাজ্জ্ব. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

246

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যুল-মাজায ও ‘উকায লোকেদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘হাজ্জের মৌসুমে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই’- (আল-বাকারাঃ ১৯৮)। (২০৫০, ২০৯৮, ৪৫১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

247

‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কা্য়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ ‘আকরা’, বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাযি.) বললেন, হাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে চল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো (‘উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেনঃ তাহলে এখন তুমি তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ আদায় করে নাও। অতঃপর তাঁর সঙ্গে তার ভাই [‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)] গেলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (‘উমরা আদায় করার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাৎ করবে। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৬২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)