অল ইসলাম লাইব্রেরি

10 - আযান

1

(وَقَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ) وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ اتَّخَذُوهَا هُزُؤًا وَلَعِبًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لاَ يَعْقِلُونَ( وَقَوْلُهُ )إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ) আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আর যখন তোমরা সালাতের জন্য আহবান কর, তখন তারা একে হাসি-তামাশা ও খেলা বলে মনে করে। কারণ তারা এমন লোক যাদের বোধশক্তি নেই-’’ (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৫৮)। আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেছেনঃ ‘‘আর যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য ডাকা হয়।’’ (সূরাহ্ আল-জুমু‘আহ ৬২/৯) ৬০৩. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (জামা‘আতে সালাত আদায়ের জন্য) সহাবা-ই কিরাম (রাযি.) আগুন জ্বালানো অথবা নাকূস বাজানোর কথা আলোচনা করেন। আবার এগুলোকে (যথাক্রমে) ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রথা বলে উল্লেখ করা হয়। অতঃপর বিলাল (রাযি.)-কে আযানের বাক্য দু’বার করে ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের বাক্য বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়।* (৬০৫, ৬০৬, ৬০৭, ৩৪৫৭; মুসলিম ৪/২, হাঃ ৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

2

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলতেন যে, মুসলিমগণ যখন মদিনা্য় আগমন করেন, তখন তাঁরা সালাতের সময় অনুমান করে সমবেত হতেন। এর জন্য কোন ঘোষণা দেয়া হতো না। একদা তাঁরা এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, নাসারাদের ন্যায় নাকূস বাজানোর ব্যবস্থা করা হোক। আর কয়েকজন বললেন, ইয়াহূদীদের শিঙ্গার ন্যায় শিঙ্গা ফোঁকানোর ব্যবস্থা করা হোক। ‘উমার (রাযি.) বললেন, সালাতের ঘোষণা দেয়ার জন্য তোমরা কি একজন লোক পাঠাতে পার না? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল, উঠ এবং সালাতের জন্য ঘোষণা দাও। (মুসলিম ৪/১, হাঃ ৩৭৭, আহমাদ ৬৩৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

3

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.)-কে আযানের শব্দ দু’ দু’বার এবং قَدْقَامَتِ الصَّلاَةُ ব্যতীত ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। (৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

4

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; মুসলিমগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাঁরা সালাতের সময়ের জন্য এমন কোন সংকেত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিলেন, যার সাহায্যে সালাতের সময় উপস্থিত এ কথা বুঝা যায়। কেউ কেউ বললেন, আগুন জ্বালানো হোক, কিংবা ঘণ্টা বাজানো হোক। তখন বিলাল (রাযি.)-কে আযানের শব্দগুলো দু’ দু’বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হলো। (৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

5

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.)-কে আযানের বাক্যগুলো দু’ দু’বার এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের বাক্যগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, আমি এ হাদীস আইয়ূবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তবে ‘কাদ্কামাতিস্ সালাতু’ ছাড়া। (৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

6

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযানের শব্দ না শোনে। যখন আযান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সে কয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না। (১২২২, ১২৩১, ১২১৩২, ৩২৮৫; মুসলিম ৪/৮, হাঃ ৩৮৯, আহমাদ ৯৯৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

7

وَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَذِّنْ أَذَانًا سَمْحًا وَإِلاَّ فَاعْتَزِلْنَا. ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) (মুআযযিনকে) বলতেন, স্বাভাবিক কন্ঠে সাদাসিধাভাবে আযান দাও, নতুবা এ পদ ছেড়ে দাও। ৬০৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী (রহ.) হতে বর্ণিত তাকে তার পিতা সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) তাঁকে বললেন, আমি দেখছি তুমি বক্রী চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালোবাস। তাই তুমি যখন বক্রী নিয়ে থাক, বা বন-জঙ্গলে থাক এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চকন্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন্, ইনসান বা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়ায্যিনের আওয়ায শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সায়ীদ (রাযি.) বলেন, একথা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শুনেছি। (৩২৯৬, ৭৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

8

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাদের নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হতে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস (রাযি.) বলেন, আমরা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌঁছলাম। যখন প্রভাত হলো এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা (রাযি.)-এর পিছনে সওয়ার হলাম। আমার পা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পায়ের সাথে লেগে যাচ্ছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসলো। হঠাৎ তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলো, তখন বলে উঠল, ‘এ যে মুহাম্মাদ, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তাঁর পঞ্চ বাহিনী সহ!’ আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখে বলে উঠলেনঃ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিণায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হয় মন্দ।’ (৩৭১; মুসলিম ৩২/৪৩, হাঃ ১৩৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৫৭৫ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

9

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুআয্যিন যা বলে তোমরাও তাই বলবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

10

‘ঈসা ইবনু তালহা (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা তিনি মু‘আবিয়া (রাযি.)-কে (আযানের জবাব দিতে) শুনেছেন যে, তিনি ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ পর্যন্ত মুআযযিনের মতই বলেছেন। (৬১৩, ৯১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

11

ইয়াহ্ইয়া (রহ.) হতে এমনই বর্ণিত আছে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেছেন, আমার কোনো ভাই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুআয্যিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ বলল, তখন তিনি (মু‘আবিয়াহ (রাযি.) لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِবললেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা এরূপ বলতে শুনেছি। (৬১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

12

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দু‘আ করেঃ ‘হে আল্লাহ্-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন’-কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা‘আত লাভের অধিকারী হবে।* (৪৭১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

13

وَيُذْكَرُ أَنَّ أَقْوَامًا اخْتَلَفُوا فِي الْأَذَانِ فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ سَعْدٌ. উল্লেখ করা হয়েছে যে, একদল লোক আযান দেয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করল। সা‘দ (রাযি.) তাঁদের মধ্যে কুরআহর (লটারী) মাধ্যমে নির্বাচন করলেন। ৬১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযানে ও প্রথম কাতারে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, তা যদি লোকেরা জানত, কুরআহর মাধ্যমে বাছাই ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করত। যুহরের সালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর ‘ইশা ও ফজরের সালাত (জামা‘আতে) আদায়ের কী ফাযীলাত তা যদি তারা জানত, তাহলে নিঃসন্দেহে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা হাজির হত। (৬৫৪, ৭২১, ২৬৮৯; মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৭, আহমাদ ৭২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

14

وَتَكَلَّمَ سُلَيْمَانُ بْنُ صُرَدٍ فِي أَذَانِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ لاَ بَأْسَ أَنْ يَضْحَكَ وَهُوَ يُؤَذِّنُ أَوْ يُقِيمُ. সুলাইমান ইব্‌নু সুরাদ (রহ.) আযানের মধ্যে কথা বলেছেন। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, আযান বা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার সময় হেসে ফেললে কোনো দোষ নেই। ৬১৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার বর্ষণ মুখর দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাদের উদ্দেশে খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। এদিকে মুআয্যিন আযান দিতে গিয়ে যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ -এ পৌঁছল, তখন তিনি তাকে এ ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিলেন যে, ‘লোকেরা যেন আবাসে সালাত আদায় করে নেয়।’ এতে লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বললেন, তাঁর চেয়ে যিনি অধিক উত্তম ছিলেন (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তিনিই এরূপ করেছেন। অবশ্য জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব। (তবে ওযরের কারণে নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করার অনুমতি আছে)। (৬৬৮, ৯০১; মুসলিম ৬/৩, হাঃ ৬৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

15

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাযি.) রাত থাকতেই আযান দেন। কাজেই ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযি.) আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা (সাহরীর) পানাহার করতে পার। ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন, ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযি.) ছিলেন অন্ধ। যতক্ষণ না তাঁকে বলে দেওয়া হত যে, ‘ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে’-ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। (৬২০, ৬২৩, ১৯১৮, ২৬৫৬, ৭২৪৮; মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯২, আহমাদ ৪৫৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

16

হাফসাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআযযিন সুবহে সাদিকের প্রতীক্ষায় থাকত (ও আযান দিত) এবং ভোর স্পষ্ট হত- জামা‘আত দাঁড়ানোর পূর্বে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন। (১১৭৩, ১১৮১; মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

17

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মাঝে দু’ রাক‘আত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন। (১১৫৯; মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

18

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা (সাহরী) পানাহার করতে থাক; যতক্ষণ না ইবনু উম্মে মাক্তূম (রাযি.) আযান দেন।* (৬১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

19

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়। বর্ণনাকারী যুহাইর (রহ.) তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি অপরটির উপর রাখার পর তাঁর ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন।* (৫২৯৮, ৭২৪৭; মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯৩, আহমাদ ৩৬৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

20

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাযি.) যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষণ তোমরা (সাহারী) পানাহার করতে পার। (৬২২=১৯১৯) (৬২৩=৬১৭) (মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯২, আহমাদ ২৪২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

21

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাযি.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যে সালাত রয়েছে। একথা তিনি তিনবার বললেন, (তারপর বলেন) যে চায় তার জন্য। (৬২৭; মুসলিম ৬/৫৬, হাঃ ৮৩৮, আহমাদ ১৬৭৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

22

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয্যিন যখন আযান দিতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের মধ্যে কয়েকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বের হওয়া পর্যন্ত (মসজিদের) খুঁটির নিকট গিয়ে দাঁড়াতেন এবং এ অবস্থায় মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অথচ মাগরিবের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যে কিছু (সময়) থাকত না। ‘উসমান ইবনু জাবালাহ ও আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, এ দু’য়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান খুবই সামান্য হত। (৫০৩; মুসলিম ৬/৫৫, হাঃ ৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

23

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআয্যিন ফজরের সালাতের প্রথম আযান শেষ করতেন তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সুবহে সাদিকের পর ফজরের সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন, অতঃপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের জন্য মুআয্যিন তাঁর নিকট না আসা পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন। (৯৯৪, ১১২৩, ১১৬০, ১১৭০, ৬৩১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

24

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যায়। তৃতীয়বার এ কথা বলার পর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে। (৬২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

25

মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম এবং আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং সালাত আদায় করবে। যখন সালাত উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের কেউ আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে ইমামত করবে। (৬৩০, ৬৩১, ৬৫৮, ৬৮৫, ৮১৯, ২৮৪৮, ৬০০৮, ৭২৪৬; মুসলিম ৫/৫৩, হাঃ ৬৭৪, আহমাদ ১৫৫৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

26

وَكَذَلِكَ بِعَرَفَةَ وَجَمْعٍ وَقَوْلِ الْمُؤَذِّنِ الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ أَوْ الْمَطِيرَةِ. ‘আরাফা ও মুয্-দালিফায় একই হুকুম এবং শীতের রাতে ও প্রবল বর্ষণের সময় মুয়ায্যিনের এ মর্মে ঘোষণা করা যে, ‘‘নিজ আবাস স্থলেই সালাত’’। ৬২৯. আবূ যার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। মুয়ায্যিন আযান দিতে চাইলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। কিছুক্ষণ পর মুয়ায্যিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। অতঃপর সে আবার আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। এভাবে বিলম্ব করতে করতে টিলাগুলোর ছায়া তার সমান হয়ে গেলো। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উত্তাপের প্রখরতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ বিশেষ। (৫৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

27

মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’জন লোক সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা উভয়ে যখন সফরে বেরুবে (সালাতের সময় হলে) তখন আযান দিবে, অতঃপর ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিবে এবং তোমাদের উভয়ের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

28

মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সমবয়সী একদল যুবক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাযির হলাম। বিশদিন ও বিশ রাত আমরা তাঁর নিকট অবস্থান করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও নরম স্বভাবের লোক ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যেতে চাই বা ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দ্বীন) শিক্ষা দাও, এবং (সৎ কাজের) নির্দেশ দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) মালিক (রাযি) আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যা আমার মনে আছে বা মনে নেই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় করবে। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামত করে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

29

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড এক শীতের রাতে ইবনু ‘উমার (রাযি.) যাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেনঃ তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়ায্যিনকে আযান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর। (৬৬৬; মুসলিম ৬/৩, হাঃ ৬৯৭, আহমাদ ৪৫৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

30

আবূ জুহায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আবতাহ্ নামক জায়গায় দেখলাম, বিলাল (রাযি.) তাঁর নিকট আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতের সংবাদ দিলেন। অতঃপর বিলাল (রাযি.) একটি বর্শা নিয়ে বের হলেন। অবশেষে আবতাহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে তা পুঁতে দিলেন, অতঃপর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

31

وَيُذْكَرُ عَنْ بِلَالٍ أَنَّهُ جَعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَجْعَلُ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤَذِّنَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ وَقَالَ عَطَاءٌ الْوُضُوءُ حَقٌّ وَسُنَّةٌ وَقَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ اللهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ. বিলাল (রাযি.) হতে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি আযানের সময় দু’ কানে দু’টি আঙ্গুল রাখতেন। তবে ইবনু ‘উমার (রাযি.) দু’ কানে আঙ্গুল রাখতেন না। ইব্রাহীম (রহ.) বলেন, বিনা উযূতে আযান (দিলে) কোন অসুবিধা নেই। আতা (রহ.) বলেন, (আযানের জন্য) উযূ জরুরী এবং সুন্নাত। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ আল্লাহর যিক্র করতেন। ৬৩৪. আবূ জুহায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বিলাল (রাযি.)-কে আযান দিতে দেখেছেন। (এরপর তিনি বলেন) তাই আমি তাঁর (বিলালের) ন্যায় আযানের মাঝে মুখ এদিক সেদিক (ডানে-বামে) ফিরাই। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

32

وَكَرِهَ ابْنُ سِيرِينَ أَنْ يَقُولَ فَاتَتْنَا الصَّلاَةُ وَلَكِنْ لِيَقُلْ لَمْ نُدْرِكْ وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ. ইবনু সীরীন (রহ.)-এর মতে ‘আমাদের সালাত ছুটে গেছে বলা’ অপছন্দনীয়। বরং ‘আমরা সালাত পাইনি’ এরূপ বলা উচিত। তবে এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তাই সঠিক। ৬৩৫. আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। হঠাৎ তিনি লোকদের (আগমনের) আওয়ায শুনতে পেলেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের কী হয়েছিল? তাঁরা বললেন, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ করবে না। যখন সালাতে আসবে ধীরস্থিরভাবে আসবে (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও আদায় করবে, আর যতটুকু ছুটে যায় তা (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) পূর্ণ করবে। (মুসলিম ৫/২৮, হাঃ ৬০৩, আহমাদ ২২৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

33

وَقَالَ مَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا قَالَهُ أَبُو قَتَادَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. তিনি বলেন, তোমরা ইমামের সাথে যতটুকু সালাত পাও তা আদায় করবে, আর তোমাদের যা ছুটে যায় তা (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) পুরা করে নিবে। আবু ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ কথা বর্ণনা করেছেন। ৬৩৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমরা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শুনতে পাবে, তখন সালাতের দিকে চলে আসবে, তোমাদের উচিত স্থিরতা ও গাম্ভীর্য অবলম্বন করা। তাড়াহুড়া করবে না। ইমামের সাথে যতটুকু পাও তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করবে। (৯০৮; মুসলিম ৫/২৯, হাঃ ৬০৪, আহমাদ ২২৭১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

34

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। (৬৩৮, ৯০৯; মুসলিম ৫/২৯, হাঃ ৬০৪, আহমাদ ২২৭১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

35

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। ধীরস্থিরতার প্রতি লক্ষ্য রাখা তোমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য। ‘আলী ইবনু মুবারক (রহ.) হাদীস বর্ণনায় শায়বান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৬৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

36

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কক্ষ হতে সালাতের জন্য তাশরীফ নিয়ে আসলেন। এদিকে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয়েছে এবং কাতার সোজা করে নেয়া হয়েছে, এমন কি তিনি মুসাল্লায় দাঁড়ালেন, আমরা তাকবীরের অপেক্ষা করছি, এমন সময় তিনি ফিরে গেলেন এবং বলে গেলেন তোমরা নিজ নিজ স্থলে অপেক্ষা কর। আমরা নিজ নিজ অবস্থায় অপেক্ষা করতে থাকলাম যে পর্যন্ত না তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। তাঁর মাথা হতে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছিল, তিনি গোসল করেছিলেন। (২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

37

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয়ে গেছে, লোকেরা তাদের কাতার সোজা করে নিয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসলেন এবং সামনে এগিয়ে গেলেন, তখন তাঁর উপর গোসল ফরজ ছিল। তিনি বললেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় অপেক্ষা কর। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং গোসল করলেন, অতঃপর ফিরে আসলেন, তখন তাঁর মাথা হতে পানি টপ্ টপ্ করে পড়ছিল। অতঃপর সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

38

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য ডুবতে লাগলো, [জাবির (রাযি.) বলেন,] যখন কথা হচ্ছিলো তখন এমন সময়, যখন সওম পালনকারী ইফ্তার করে ফেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও সে সালাতআদায় করিনি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বুতহান’ নামক উপত্যকায় গেলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সেখানে তিনি উযূ করলেন এবং সূর্যাস্তের পরে তিনি (প্রথমে) ‘‘আসর সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (৫৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

39

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেছে তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের এক পাশে এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, অবশেষে যখন লোকদের ঘুম আসছিল তখন তিনি সালাতে দাঁড়ালেন।* (৬৪৩, ৬২৯২; মুসলিম ৩/৩৩, হাঃ ৩৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

40

হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যাবার পর কোন ব্যক্তি কথা বললে তার সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলো এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পরও তাঁকে কথার মধ্যে ব্যস্ত রাখল। (৬৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

41

وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ مَنَعَتْهُ أُمُّهُ عَنِ الْعِشَاءِ فِي الْجَمَاعَةِ شَفَقَةً لَمْ يُطِعْهَا. হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, কোনো মা যদি তার সন্তানের প্রতি স্নেহবশত ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করতে নিষেধ করেন, তবে এ ক্ষেত্রে সন্তান তার মায়ের আনুগত্য করবে না। ৬৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু’টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামা‘আতেও হাযির হতো। (৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫১, আহমাদ ৭৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

42

وَكَانَ الْأَسْوَدُ إِذَا فَاتَتْهُ الْجَمَاعَةُ ذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ وَجَاءَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى جَمَاعَةً জামা‘আত না পেলে আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) অন্য মসজিদে চলে যেতেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন এক মসজিদে গেলেন যেখানে আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন। ৬৪৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী। (৬৪৯; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

43

আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামা‘আতে সালাত আদায়ের ফাযীলাত পঁচিশ গুণ বেশী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)

44

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’’ আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

45

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, জামা‘আতের সালাত তোমাদের কারো একাকী সালাত হতে পঁচিশ গুণ অধিক সওয়াব রাখে। আর ফজরের সালাতে রাতের ও দিনের মালাকগণ একত্রিত হয়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলতেন, তোমরা চাইলে (এর প্রমাণ স্বরূপ)’ (إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا) অর্থাৎ ‘‘ফজরের সালাতে (মালাকগণ) উপস্থিত হয়’’- (সূরাহ্ ইসরা ১৭/৭৮) এ আয়াত পাঠ কর। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৬১২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

46

শু‘আয়ব (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, জামা‘আতের সালাতে একাকী সালাত হতে সাতাশ গুণ অধিক সওয়াব হয়। (৬৪৫; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৯ শেষাংশ)

47

উম্মুদ দারদা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ দারদা (রাযি.) ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উম্মাতের মধ্যে জামা‘আতে সালাত আদায় বাদ দিয়ে তাঁর তরীকার আর কিছুই দেখছি না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

48

আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। (মুসলিম ৫/৫০, হাঃ ৬৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

49

অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকার- ১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি ২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি ৩. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ। তিনি আরও বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফাযীলাত তা জানত আর কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করা ছাড়া সে সুযোগ না পেতো, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করতো। (৭২০, ২৮২৯, ৫৭৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২২ দ্বিতীয় অংশ)

50

ইবনু মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। বানী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, কিন্তু মাদ্বীনার কোনো এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেননি। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সওয়াব কামনা কর না? মুজাহিদ (রহ) বলেন, خُطَاهُمْ آثَارُهُمْ অর্থাৎ যমীনে চলার পদচিহ্নসমূহ। (৬৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

51

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

52

মালিক ইব্‌নু হুওয়াইরিস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে র্বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের সময় হলে তোমাদের দু’জনের একজন আযান দিবে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে অধিক বড় সে ইমামাত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

53

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য মালাকগণ এ বলে দু‘আ করেন যে, হে আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহম করুন। আর তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তির সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া হতে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে পরিগণিত হবে। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

54

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে, ৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, ৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য, ৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’, ৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না, ৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে। (১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম ১২/৩০, হাঃ ১০৩১,আহমদ ৯৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

55

হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক রাতে তিনি ‘ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম। (৫৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

56

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন। (মুসলিম ৫/৫১, হাঃ ৬৬৯, আহমাদ ১০৬১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

57

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুর রহমান (রহ.)....হাফ্‌স ইব্‌নু আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ নামক আয্‌দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন ঃ ফজর কি চার রাক‘আত? ফাজ্‌র কি চার রাক‘আত?* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৩) গুনদার ও মু‘আয (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু ইসহাক (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম ৬/৯, হাঃ ৭১১, আহমাদ ২১৩০) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

58

আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট বসে নিয়মিত সালাত আদায় ও তার মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হলো যে, আবু বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার সে কথা বললেন এবং তারাও আবার তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা ব’লে বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মত। আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবূ বাকর (রাযি.) এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে একটু হাল্কাবোধ করলেন। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন,) আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দু’পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বাকর (রাযি.) পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আনা হলো, তিনি আবূ বাকর (রাযি.)-এর পাশে বসলেন। আ‘মাশকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামাত করছিলেন। আর আবূ বাকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। আ‘মাশ (রাযি.) মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হ্যাঁ। আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাযি.) হতে হাদীসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বাকর (রাযি.)-এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বাকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (১৯৮; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪১৮, ২৬১৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

59

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলো, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের নিকট সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’ জন লোকের কাঁধে ভর করে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’ পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিল। তিনি ছিলেন ‘আব্বাস (রাযি.) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ণনাকারী) উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান, তিনি কে ছিলেন, যার নাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

60

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) একদা তীব্র শীত ও বাতাসের রাতে সালাতের আযান দিলেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুআয্যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন- ‘‘প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও।’’ (৬৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

61

মাহমূদ ইবনু রাবী ‘আল-আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইত্বান ইবনু মালিক (রাযি.) তাঁর নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহিত হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ঘরে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করুন যে স্থানটিকে আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করবো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত আদায়ের জন্য কোন্ জায়গাটি তুমি ভাল মনে কর? তিনি ইঙ্গিত করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে স্থানে সালাত আদায় করলেন। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

62

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাদের উদ্দেশে খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। মুয়াযযিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِপর্যন্ত পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, ‘‘সালাত যার যার আবাসস্থলে।’’ এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো- যেন তারা বিষয়টাকে অপছন্দ করলো। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে, জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এমন উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে। (৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

63

আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক খন্ড মেঘ এসে এমনভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নাববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরি। এমন সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পানি ও কাদার উপর সিজদা্ করতে দেখলাম, এমন কি আমি তাঁর কপালেও কাদামাটির চিহ্ন দেখলাম। (৮১৩, ৮৩৬, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৭, ২০৩৬, ২০৪০; মুসলিম ১৩/৪০ হাঃ ১১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

64

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি যে, এক আনসারী (সাহাবী) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে অপারগ। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের এক প্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে চাটাইয়ের উপর দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। জারূদ গোত্রের এক ব্যক্তি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, নবী কি চাশ্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, ঐ দিন ছাড়া আর কোন দিন তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। (১১৭৯,২০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

65

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ مِنْ فِقْهِ الْمَرْءِ إِقْبَالُهُ عَلَى حَاجَتِهِ حَتَّى يُقْبِلَ عَلَى صَلاَتِهِ وَقَلْبُهُ فَارِغٌ ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.) (সালাতের) পূর্বে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন। আবূ দারদা (রাযি.) বলেছেন, জ্ঞানীর পরিচয় হল, প্রথমে নিজের প্রয়োজন মেটানো, যাতে নিশ্চিতভাবে সালাতে মনোনিবেশ করতে পারে। ৬৭১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও। (৫৪৬৫; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৬০, আহমাদ ২৪২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

66

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাতের পূর্বে তা খেয়ে নিবে খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। (৫৪৬৩; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

67

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে পড়ে, অপরদিকে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়। তখন পূর্বে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাতে আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন। (৬৭৪, ৫৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৬৩৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

68

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহ.) এ হাদীসটি ওয়াহ্ব ইবনু উসমান (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন এবং ওয়াহ্ব হলেন মদিনা্বাসী। (মুসলিম ৫/১৬,হাঃ ৫৫৯ আহমাদ ৪৭০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০ শেষাংশ)

69

‘আমর ইবনু উমাইয়াহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (বকরীর) সামনের রানের গোশ্ত কেটে খেতে দেখতে পেলাম, এমন সময় তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও নতুন উযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। (২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

70

আসওয়াদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারবর্গের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন। (৫৩৬৩, ৬০৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

71

আবূ কিলাবাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযি.) আমাদের এ মসজিদে এলেন। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবো, বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা নয় বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। [আইয়ূব (রহ.) বলেন] আমি আবূ কিলাবা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এই শাইখের মত আর শাইখ প্রথম রাক‘আতের সিজদা্ শেষ করে যখন মাথা উত্তোলন করতেন, তখন দাঁড়ানোর আগে একটু বসতেন। (৮০২, ৮১৮, ৮২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

72

আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি বললেন, আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক, যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবূ বাকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তোমরা ইউসুফের (‘আ.) সাথী মহিলাদেরই মতোই। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবূ বাকর (রাযি.)-এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশাতেই লোকদেরকে সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (৩৩৮৫; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪২০, আহমাদ ১৯৭২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

73

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেন, আবূ বাকর (রাযি.)-কে বল সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আবূ বাকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তাঁর কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবে না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বল যে, আবূ বাকর (রাযি.) আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নার জন্য লোকেরা কিছুই শুনতে পাবে না। তাই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিন। হাফ্সাহ (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থাম, তোমরা ইউসুফ (‘আ.)-এর সঙ্গী মহিলাদের মত। আবূ বাকর (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তখন হাফ্সাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও ভাল কিছু পেলাম না। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

74

আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসারী, খাদিম এবং সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে পীড়িত অবস্থায় আবূ বাকর (রাযি.) সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এল এবং লোকেরা সালাতের জন্য কাতারে দাঁড়াল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরার পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন,তাঁর চেহারা যেন কুরআনে করীমের পৃষ্ঠা (এর ন্যায় ঝলমল করছিল)। তিনি মুচকি হাসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেয়ে আমরা খুশীতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম এবং আবূ বাকর (রাযি.) কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো সালাতে বেরিয়ে আসবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইশারায় জানালেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। অতঃপর তিনি পর্দা ছেড়ে দিলেন। সে দিনই তাঁর ওফাত হয়। (৬৮১,৭৫৪,১২০৫,৪৪৪৮,মুসলিম ৪/২১ হাঃ ৪১৯, আহমাদ ১৩০২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

75

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রোগাক্রান্ত থাকায়) তিনদিন পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে আসেননি। এমতাবস্থায় একসময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হল। আবূ বাকর (রাযি.) ইমামাত করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তাঁর চেহারার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমরা আর কখনো দেখিনি। যখন তাঁর চেহারা আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিতে আবূ বাকর (রাযি.)-কে (ইমামাতের জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। তারপর মৃত্যুর আগে তাঁকে আর দেখতে পাইনি। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

76

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাতের জামা‘আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আবূ বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরাআতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবার বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (‘আ.)-এর সাথী মহিলাদের মত। এ হাদীসটি যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যুবাইদী, যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া কালবী (রহ.) ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। এবং মা‘মার ও উকাইল (রহ.) যুহরী (রহ.)-এর মাধ্যমে হামযাহ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি (মুরসাল হিসেবে) বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

77

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেন, ইতোমধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু সুস্থতাবোধ করলেন এবং সালাতের জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন আবূ বাকর (রাযি.) লোকদের ইমামাত করছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখে পিছিয়ে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইঙ্গিত করলেন যে, যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযি.)-এর বরাবর তাঁর পাশে বসে গেলেন। তখন আবূ বাকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকেরা আবূ বাকর (রাযি.)-কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিল। (১৯৮; মুসলিম ১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

78

فِيهِ عَائِشَةُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. এ মর্মে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। ৬৮৪. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতোমধ্যে (আসরের) সালাতের সময় হয়ে গেলে, মুয়ায্যিন আবূ বাকর (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেবেন? তা হলে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আবূ বাকর (রাযি.) সালাত আরম্ভ করলেন। লোকেরা সালাতরত অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন সাহাবীগণ হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বাকর (রাযি.) সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগণ যখন অধিক করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করলেন- নিজের জায়গায় থাক। তখন আবু বাকর (রাযি.) দু‘হাত উঠিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবূ বাকর (রাযি.) বললেন, আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা শোভনীয় নয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের এক হাতে তালি দিতে দেখলাম। কারণ কী? শোন! সালাতে কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ্ বলবে। সুবহানাল্লাহ্ বললেই তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হবে। আর হাতে তালি দেয়া তো মহিলাদের জন্য। (১২০১,১২০৪,১২১৮,১২৩৪, ২৬৯০, ২৬৯৩, ৭১৯০ মুসলিম ৪/২২, হাঃ ৪২১ আহমাদ ২২৮৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

79

মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদল যুবক একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং প্রায় বিশ রাত্রি আমরা সেখানে থাকলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাই তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা যখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তখন তাদের এ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে এবং ঐ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে। অতঃপর যখন সালাতের সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামাত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

80

ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার গৃহে প্রবেশের) অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গাটি আমার সালাত আদায়ের জন্য তুমি পছন্দ কর। আমি আমার পছন্দ সই একটি স্থান ইঙ্গিত করে দেখালে তিনি সেখানে সালাতের জন্য দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আমরা সালাম ফিরালাম। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

81

وَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ بِالنَّاسِ وَهُوَ جَالِسٌ وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ إِذَا رَفَعَ قَبْلَ الْإِمَامِ يَعُودُ فَيَمْكُثُ بِقَدْرِ مَا رَفَعَ ثُمَّ يَتْبَعُ الْإِمَامَ وَقَالَ الْحَسَنُ فِيمَنْ يَرْكَعُ مَعَ الْإِمَامِ رَكْعَتَيْنِ وَلاَ يَقْدِرُ عَلَى السُّجُودِ يَسْجُدُ لِلرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ يَقْضِي الرَّكْعَةَ الْأُولَى بِسُجُودِهَا وَفِيمَنْ نَسِيَ سَجْدَةً حَتَّى قَامَ يَسْجُدُ. যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হয়, সে সময় তিনি বসে বসে লোকদের ইমামাত করেছেন। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, কেউ যদি ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তাহলে পুনরায় ফিরে গিয়ে ততটুকু সময় বিলম্ব করবে, যতটুকু সময় মাথা উঠিয়ে রেখেছিল। অতঃপর ইমামকে অনুসরণ করবে। হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে রুকূ‘ সহ দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে, কিন্তু সিজদা্ দিতে পারে না, সে শেষ রাক‘আতের জন্য দু’ সিজদা্ করবে এবং প্রথম রাক‘আত সিজদা্সহ পুনরায় আদায় করবে। আর যে ব্যক্তি ভুলক্রমে এক সিজদা্ না দিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে, সে (পরের রাক‘আতে) সে সিজদা্ করে নিবে। ৬৮৭. ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (অন্তিম কালের) অসুস্থতা সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু শুনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারাত্মকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি দাও। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর একটু হুঁশ ফিরে পেলে আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। আবার উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। অতঃপর তিনি উঠে বসলেন, এবং গোসল করলেন। এবং উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষারত। ওদিকে সাহাবীগণ ‘ইশার সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অপেক্ষায় মসজিদে বসে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযি.)-এর নিকট এ মর্মে একজন লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক আবূ বাকর (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তাই তিনি ‘উমার (রাযি.)-কে বললেন, হে ‘উমার! আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করে নিন। ‘উমার (রাযি.) বললেন, আপনিই এর অধিক যোগ্য। তাই আবূ বাকর (রাযি.) সে কয়দিন সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু নিজে হাল্কাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন। সে দু’জনের একজন ছিলেন ‘আব্বাস (রাযি.)। আবূ বাকর (রাযি.) তখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও। তাঁরা তাঁকে আবূ বাকর (রাযি.)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আবু বাকর (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বাকর (রাযি.)-এর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপবিষ্ট ছিলেন। ‘উবাইদুল্লাহ্ বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অন্তিম কালের অসুস্থতা সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ণনা করব না? তিনি বললেন, করুন। তাই আমি তাঁকে সে হাদীস শুনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশেই আপত্তি করলেন না, তবে তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, ‘আব্বাস (রাযি.)-এর সাথে যে অপর এক সাহাবী ছিলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কি আপনার নিকট তাঁর নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ‘আলী (রাযি.)। (১৯৮; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪১৮, আহমাদ ২৬১৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

82

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজগৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করছিলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, বসে যাও। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকূ‘ করে তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে এবং সে যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে, আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। (১১১৩,১২৩৬,৫৬৫৮; মুসলিম ৪/১৯, ৪১২,আহমাদ ২৪৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

83

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় সওয়ার হন অতঃপর তিনি তা হতে পড়ে যান, এতে তার ডান পাশে একটু আঘাত লাগে। তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত বসে আদায় করছিলেন, আমরাও তাঁর পিছনে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণই করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, সে যখন রুকূ‘ করে থাকে তোমরাও রুকু‘ করবে, সে যখন উঠে, তখন তোমরাও উঠবে, আর সে যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, হুমাইদী (রহ.) বলেছেন যে, ‘‘যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ নির্দেশ ছিলো পূর্বে অসুস্থকালীন। অতঃপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের বসতে নির্দেশ দেননি। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ‘আমলের মধ্যে সর্বশেষ ‘আমলই গ্রহণ করতে হবে। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

84

قَالَ أَنَسٌ فَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا. আনাস (রাযি.) বলেন, যখন ইমাম সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। ৬৯০. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি মিথ্যাবাদী নন তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সিজদা্য় না যেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করতেন না। তিনি সিজদা্য় যাওয়ার পর আমরা সিজদা্য় যেতাম। (৭৪৭, ৮১১ মুসলিম ৪/৩৯, ৪৭৪, আহমাদ ১৮৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৫৬) সুফইয়ান (রহ.) সূত্রে আবূ ইসহাক (রহ.) হতে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

85

86

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন। (মুসলিম ৪/২৫, হাঃ ৪২৭ আহমাদ ১০৫৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

87

وَكَانَتْ عَائِشَةُ يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ الْمُصْحَفِ وَوَلَدِ الْبَغِيِّ وَالْأَعْرَابِيِّ وَالْغُلَامِ الَّذِي لَمْ يَحْتَلِمْ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّهُمْ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ. وَلاَ يَمْنَعُ العَبْدُ مِنَ الْجَمَاعَةِ بِغَيْرِ عِلَّةٍ ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর গোলাম যাক্ওয়ান কুরআন দেখে কিরাআত পড়ে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর ইমামাত করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের মধ্যে যে আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে অধিক জানে সে তাদের ইমামাত করবে। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন,] বিনা কারণে গোলামকে জামা‘আতে উপস্থিত হতে বাধা দেয়া যাবে না]। ৬৯২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (মদিনা্য়) আগমনের পূর্বে মুহাজিরগণের প্রথম দল যখন কুবা এলাকার কোন এক স্থানে এলেন, তখন আবূ হুযাইফাহ (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম (রাযি.) তাঁদের ইমামাত করতেন। তাঁদের মধ্যে তিনি কুরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। (৭১৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

88

আনাস (ইবনু মালিক) (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শোন ও আনুগত্য কর, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশীকে নেতা নিয়োগ করা হয়-যার মাথা কিসমিসের মতো। (৬৯৬,৭১৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

89

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা তোমাদের ইমামাত করে। যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তাহলে তার সওয়াব তোমরা পাবে। আর যদি তারা ভুল করে, তাহলে তোমাদের জন্য সওয়াব আছে, আর ভুলত্রুটির দায়িত্ব তাদের (ইমামের) উপরই বর্তাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

90

وَقَالَ الْحَسَنُ صَلِّ وَعَلَيْهِ بِدْعَتُهُ. হাসান (রহ.) বলেন, তাঁর পিছনেও সালাত আদায় করে নিবে। তবে বিদ্‌‘আতের গুনাহ তার উপরই বর্তাবে। ৬৯৫। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহ.) ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আদী ইবনু খিয়ার (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাযি.) অবরুদ্ধ থাকার সময় তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, আসলে আপনিই জনগণের ইমাম। আর আপনার বিপদ কী তা নিজেই বুঝতে পারছেন। আর আমাদের ইমামাত করছে বিদ্রোহীদের নেতা। ফলে আমরা গুনাহগার হবার ভয় করছি। তিনি বললেন, মানুষের ‘আমলের মধ্যে সালাতই সর্বোত্তম। কাজেই লোকেরা যখন উত্তম কাজ করে, তখন তুমিও তাদের সাথে উত্তম কাজে অংশ নিবে, আর যখন তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মন্দ কাজ হতে বেঁচে থাকবে। যুবাইদী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, যুহরী (রহ.) বলেছেন, যারা ইচ্ছে করে হিজড়া সাজে, তাদের পিছনে বিশেষ জরুরী ছাড়া সালাত আদায় করা উচিত বলে মনে করি না।

91

আনাস (ইবনু মালিক) (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার (রাযি.)-কে বলেন, শোন এবং আনুগত্য কর, যদিও কোন হাবশী আমীর হয় যার মাথা কিস্মিসের মতো। (৬৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

92

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযি.)-এর ঘরে রাত কাটালাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করে আসলেন এবং চার রাক‘আত সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর উঠে সালাতে দাঁড়ালেন। তখন আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে নিলেন এবং পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আরও দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নিদ্রা গেলেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। তারপর তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য বের হলেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

93

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার খালা) মাইমুনাহ (রাযি.)-এর ঘরে ঘুমালাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাতে তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন। আর তিনি তের রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতে শুরু করল এবং তিনি যখন ঘুমাতেন তাঁর নাক ডাকত। অতঃপর তাঁর নিকট মুআয্যিন এলেন, তিনি বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং (নতুন) উযূ করেননি। ‘আমর (রাযি.) বলেন, এ হাদীস আমি বুকায়র (রাযি.)-কে শুনালে তিনি বলেন, কুরায়ব (রহ.)-ও এ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

94

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা (মায়মুনা (রাযি.)-এর নিকট রাত্রি যাপন করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতে দাঁড়ালেন, আমিও তাঁর সাথে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালাম। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

95

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। (৭০১, ৭০৫, ৭১১, ৬১০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

96

। জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মু‘আয ইব্‌নু জাবাল (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। একদা তিনি ‘ইশার সালাতে সূরাহ্‌ বাক্বারাহ পাঠ করেন। এতে এক ব্যক্তি জামা‘আত হতে বেরিয়ে যায়। এজন্য মু‘আয (রাযি.) তার সমালোচনা করেন। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পৌঁছলে তিনি তিনবার فَتَّانٌ (ফিতনাহ সৃষ্টিকারী) অথবা فَاتِنًا (বিশৃৃংখলা সৃষ্টিকারী) শব্দটি বললেন। এবং তিনি তাকে আওসাতে মুফাস্‌সালের দু’টি সূরাহ্‌ পাঠের নির্দেশ দেন। আম্‌র (রাযি.) বলেন, কোন্‌ দু’টি সূরাহ্‌র কথা তিনি বলেছিলেন, তা আমার স্মরণ নেই। (৭০০; মুসলিম ৪/৩৬ হাঃ ৪৬৫, আহমাদ ১৪২০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৬ শেষাংশ)

97

আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি অমুকের কারণে ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। তিনি (জামা‘আতে) সালাতকে খুব দীর্ঘ করেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিনের ন্যায় এতো অধিক রাগান্বিত হতে আর কোনোদিন দেখিনি। তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্য লোক নিয়ে সালাত আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকও থাকে। (৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৬৬০ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

98

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৬৭, আহমাদ ৭৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

99

وَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ طَوَّلْتَ بِنَا يَا بُنَيَّ. আবূ উসাইদ (রহ.) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বেটা! তুমি আমাদের সালাত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছ। ৭০৪. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা, তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘায়িত করেন। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিন তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন, সে দিনের মত রাগান্বিত হতে তাঁকে আর কোন দিন দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামাত করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকেরা রয়েছে। (৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

100

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী দু’টি উটের পিঠে পানি নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছিল। এ সময় তিনি মু‘আয (রাযি.)-কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দু’টি বসিয়ে দিয়ে মু‘আয (রাযি.)-এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে এলেন। মু‘আয (রাযি.) সূরাহ্ বাক্বারাহ বা সূরাহ্ আন-নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা‘আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু‘আয (রাযি.) এ জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে মু‘আয (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু‘আয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا এবং وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى (সূরাহ্) দ্বারা সালাত আদায় করলে না কেন? কারণ, তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোক সালাত আদায় করে থাকে। [শু‘বাহ (রহ.) বলেন] আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটিও হাদীসের অংশ। সায়ীদ ইবনু মাসরূক, মিসওআর এবং শাইবানী (রহ.)-ও অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ‘আমর, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মিকসাম এবং আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, মু‘আয (রাযি.) ‘ইশার সালাতে সূরাহ্ বাকারাহ পাঠ করেছিলেন। আ‘মাশ (রহ.) ও মুহারিব (রহ.) সূত্রে এরূপই রিওয়ায়াত করেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

101

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সংক্ষেপে এবং পূর্ণভাবে আদায় করতেন। (৮৬৮; মুসলিম ৪/৩৭ হাঃ ৪৬৯, আহমাদ ১১৯৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

102

আবু ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে সালাত সংক্ষেপ করি। কারণ শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না। বিশ্র ইবনু বাকর, বাকিয়্যাহ ও ইবনু মুবারাক আওযায়ী (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

103

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশংকায় সংক্ষেপ করতেন। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৭ আহমাদ ১২০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

104

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি। (৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

105

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি এবং শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, আমি জানি শিশু কান্না করলে মায়ের মন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। (৭০৯) আনাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

106

জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আয (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামাত করতেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

107

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকাকালে একবার বিলাল (রাযি.) তাঁর নিকট এসে সালাতের (সময় হওয়ার) সংবাদ দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি বললাম, আবূ বাকর (রাযি.) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সেকথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (‘আ.)-সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বাকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবূ বাকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন, ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে বের হলেন। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন]ঃ আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই, তিনি দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বাকর (রাযি.) তাঁকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাঁকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বাকর (রাযি.) পিছনে সরে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসলেন, আবূ বাকর (রাযি.) তাকবীর শুনাতে লাগলেন। মুহাযির (রহ.) আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দাঊদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

108

وَيُذْكَرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ائْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ. বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার অনুসরণ করবে, তোমাদের পিছনের লোকেরা যেন তোমাদের ইকতিদা করে। ৭১৩. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (রোগে) পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল (রাযি.) এসে সালাতের কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বাকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দেন (তবে ভাল হয়)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবূ বাকর (রাযি.)-কে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে একটু বল যে, আবূ বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার বদলে সে স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শোনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দিতেন (তবে ভাল হতো)। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদেরই মতো। আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবূ বাকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটু সুস্থবোধ করলেন এবং দু’জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তাঁর দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বাকর (রাযি.) যখন তাঁর আগমন টের পেলেন, পিছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (স্বস্থানে থাকার জন্য)। অতঃপর তিনি এসে আবূ বাকর (রাযি.)-এর বামপাশে বসে গেলেন। অবশেষে আবূ বাকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বাকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

109

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাত শেষ করে ফেললেন। যূল-ইয়াদাইন (রাযি.) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্যদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ যূল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আরও দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন এবং তাকবির বলে স্বাভাবিক সিজদার মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। (৪৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

110

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে বলা হল, আপনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি আরও দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর দু’টি (সাহু) সিজদা্ করলেন। (৪৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

111

(وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ شَدَّادٍ سَمِعْتُ نَشِيجَ عُمَرَ وَأَنَا فِي آخِرِ الصُّفُوفِ يَقْرَأُ )إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ( ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু শাদ্দাদ (রহ.) বলেন, আমি পিছনের কাতার হতে ‘উমার (রাযি.)-এর চাপা কান্নার আওয়ায শুনেছি। তিনি তখন (إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ) ‘(আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর নিকটই পেশ করছি’’ (সূরাহ্ ইউসুফ ১২/১৮)-এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন। ৭১৬. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম) রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আবূ বাকর (রাযি.) যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আবূ বাকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আমি হাফসাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবূ বাকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফ্সা (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থামো! তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতো। আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে (দুঃখ করে) বললেন, তোমার কাছ হতে আমি কখনো ভাল কিছু পাইনি। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

112

নু‘মান ইবনু বশীর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তা না হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৬, আহমাদ ১৮৪১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

113

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে নিবে। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই। (৭১৯, ৭২৫; মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৪ ১২৩৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

114

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হচ্ছে, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই। (৭১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

115

যদি লোকেরা জানত যে, আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ের কী ফাযীলাত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করে আগেভাগে আসার চেষ্টা করতো। আর ‘ইশা ও ফজরের জামা‘আতের কী ফাযীলাত যদি তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। এবং সামনের কাতারের কী ফাযীলাত তা যদি জানত, তাহলে এর জন্য তারা কুরআ ব্যবহার করতো। (৬১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৫ শেষাংশ)

116

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তিনি যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকু‘ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা্ করবেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আর তোমরা সালাতে কাতার সোজা করে নিবে, কেননা কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। (৭৩৪; মুসলিম ৪/১৯, হাঃ ৪১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

117

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নিবে, কেননা, কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। (মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৩, আহমাদ ১২৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

118

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তিনি (আনাস) মদিনা্য় আসলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগের তুলনায় আপনি আমাদের সময়ের অপছন্দনীয় কী দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন, অন্য কোন কাজ তেমন অপছন্দনীয় মনে হচ্ছে না। তবে তোমরা (সালাতে) কাতার ঠিকমত সোজা কর না। ‘উক্বাহ ইবনু ‘উবাইদ (রহ.) বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) আমাদের নিকট মদিনা্য় এলেন......বাকী অংশ অনুরূপ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

119

وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ رَأَيْتُ الرَّجُلَ مِنَّا يُلْزِقُ كَعْبَهُ بِكَعْبِ صَاحِبِهِ. নু‘মান ইবনু বশীর (রহ.) বলেন, আমাদের কাউকে দেখেছি পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির টাখ্নুর সাথে টাখ্নু মিলাতে। ৭২৫. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা, আমি আমার পিছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই। আনাস (রাযি.) বলেন আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (৭১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

120

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একরাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে সালাত আদায় করতে গিয়ে তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথার পিছনের দিক ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন। অতঃপর সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। পরে তাঁর নিকট মুয়ায্যিন এলে তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন, কিন্তু (নতুনভাবে) উযূ করলেন না। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

121

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমাদের ঘরে আমি ও একটি ইয়াতীম ছেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। আর আমার মা উম্মু সুলাইম (রাযি.) আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

122

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমি সালাত আদায়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত বা বাহু ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন এবং তিনি তাঁর হাতের ইঙ্গিতে বললেন, আমার পিছনের দিক দিয়ে। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

123

وَقَالَ الْحَسَنُ لاَ بَأْسَ أَنْ تُصَلِّيَ وَبَيْنَكَ وَبَيْنَهُ نَهْرٌ وَقَالَ أَبُو مِجْلَزٍ يَأْتَمُّ بِالْإِمَامِ وَإِنْ كَانَ بَيْنَهُمَا طَرِيقٌ أَوْ جِدَارٌ إِذَا سَمِعَ تَكْبِيرَ الْإِمَامِ. হাসান (রহ.) বলেন, তোমার ও ইমামের মধ্যে নহর থাকলেও ইকতিদা করতে অসুবিধা নেই। আবূ মিজলায (রহ.) বলেন, যদি ইমামের তাকবীর শোনা যায় তাহলে ইমাম ও মুক্তাদীর মধ্যে রাস্তা বা দেয়াল থাকলেও ইক্তিদা করা যায়। ৭২৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত তাঁর নিজ কামরায় আদায় করতেন। কামরার দেওয়ালটি ছিলো নীচু। ফলে একদা সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শরীর দেখতে পেলেন এবং (দেয়ালের অন্য পাশে) সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। সকালে তাঁরা এ কথা বলাবলি করছিলেন। দ্বিতীয় রাতে তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন। সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন। দু’ বা তিন রাত তাঁরা এরূপ করলেন। এরপরে (রাতে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকলেন, আর বের হলেন না। ভোরে সাহাবীগণ এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমার আশংকা হচ্ছিল যে, রাতের সালাত তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হতে পারে। (৭৩০, ৯২৪, ১১২৯ ২০১১, ২০১২, ৫৮৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

124

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি চাটাই ছিল। তিনি তা দিনের বেলায় বিছিয়ে রাখতেন এবং রাতের বেলা তা দিয়ে কামরা বানিয়ে নিতেন। সাহাবীগণ তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান এবং তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন। (৭২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

125

যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (বুস্র ইবনু সায়ীদ) (রহ.) বলেন, মনে হয়, যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) কামরাটি চাটাই দিয়ে তৈরি ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করেন। আর তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কিছু সাহাবীও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। তিনি যখন তাঁদের সম্বন্ধে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে থাকলেন। পরে তিনি তাঁদের নিকট এসে বললেন, তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় কর। কেননা, ফরজ সালাত ছাড়া লোকেরা ঘরে যে সালাত আদায় করে তা-ই উত্তম। ‘আফফান (রহ.) যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বলেছেন। (৬১১৩, ৭২৯০ মুসলিম ৬/২৯, ৭৮১, আহমাদ ১৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

126

আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়েন। ফলে তাঁর ডান পাঁজরে আঁচড় লাগে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় কোন এক সালাত আমাদের নিয়ে তিনি বসে আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে বসে সালাত আদায় করি। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্যই। তাই তিনি যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর তিনি যখন রুকু‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। তিনি যখন সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

127

আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে গিয়ে আহত হন। তাই তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে বসে সালাত আদায় করি। অতঃপর তিনি ফিরে বললেনঃ ইমাম অনুসরণের জন্যই বা তিনি বলেছিলেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। যখন তিনি উঠেন তখন তোমরাও উঠবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে এবং তিনি যখন সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

128

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন তিনি রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে আর তিনি যখন সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। (৭২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

129

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একইভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এমন করতেন না। (৭৩৬, ৭৩৭,৭৩৯ মুসলিম ৪/৯, হাঃ ৩৯০, আহমাদ ৪৫৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

130

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এমন করতেন এবং سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। তবে সিজদার সময় এ রকম করতেন না। (৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

131

আবূ কিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.)-কে দেখেছেন, তিনি যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’ হাত উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (মুসলিম ৪/৯ হাঃ ৩৯১, আহমাদ ২০৫৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

132

وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ رَفَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ. আবূ হুমাইদ (রহ.) তাঁর সাথীদের বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন। ৭৩৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না। (৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

133

নাফি‘ (রহ.) বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং দু’ হাত উঠাতেন আর যখন রুকূ‘ করতেন তখনও দু’ হাত উঠাতেন। অতঃপর যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখনও দু’ হাত উঠাতেন এবং দু’রাক‘আত আদায়ের পর যখন দাঁড়াতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এ সমস্ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বলে ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেন। এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালাম ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু তাহমান, আইয়ূব ও মূসা ইবনু ‘উক্বাহ (রহ.) হতে এ হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

134

সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।* আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, সাহল (রহ.) এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করা হতো। তবে তিনি এমন বলেননি যে, সাহল (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

135

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার কিব্লা শুধুমাত্র এদিকে? আল্লাহর শপথ, তোমাদের রুকূ’ তোমাদের খুশু‘ কোন কিছুই আমার নিকট গোপন থাকে না। আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের দেখি আমার পিছন দিক হতেও। (৪১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

136

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রুকূ‘ ও সিজদা্গুলো যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আমার পিছনে হতে বা রাবী বলেন, আমার পিঠের পিছনে হতে তোমাদের দেখতে পাই, যখন তোমরা রুকূ‘ ও সিজদা্ কর। (৪১৯; মুসলিম ৪/২৪, হাঃ ৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

137

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বাকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দিয়ে সালাত শুরু করতেন। (মুসলিম ৪/১৩, হাঃ ৩৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

138

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি- ‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’ (মুসলিম ৫/২৭, হাঃ ৫৯৮, আহমাদ ৭১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

139

আসমা বিনত আবূ বাকর (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আবা রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর উঠলেন, পরে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় রইলেন। আবার সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে ফিরে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? মালাকগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি‘ (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রাযি.) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে। (২৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

140

وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ فَرَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কুসূফ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে পিছিয়ে আসতে দেখেছিলে তখন আমি জাহান্নাম দেখেছিলাম; তার এক অংশ অপর অংশকে বিচূর্ণ করছে। ৭৪৬. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে। (৭৬০, ৭৬১, ৭৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

141

বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তাঁরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, তখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় গেছেন। (৬৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

142

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এজন্য সালাত আদায় করেন। সহাবা-ই-কিরাম (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনাকে দেখলাম যেন কিছু একটা ধরতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পরে দেখলাম, আবার পিছিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয় এবং তারই একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। আমি যদি তা নিয়ে আসতাম, তাহলে দুনিয়া স্থায়ী থাকা পর্যন্ত তোমরা তা হতে খেতে পারতে। (২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

143

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মসজিদের কিব্লার দিকে ইশারা করে বললেন, এইমাত্র আমি যখন তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম তখন এ দেওয়ালের সামনের দিকে আমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আজকের মতো এত ভাল ও মন্দ আমি আর দেখিনি, একথা তিনি তিনবার বললেন। (৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

144

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের কী হলো যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেনঃ যেন তারা অবশ্যই এ হতে বিরত থাকে, অন্যথায় অবশ্যই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়া হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

145

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়। (৩২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

146

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নকশা করা চাদর পরে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পরে তিনি বললেনঃ এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে আকর্ষিত করেছিল। এটি আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং এর বদলে একটি ‘আম্বজানিয়্যাহ’ (নকশা ছাড়া মোটা কাপড়) নিয়ে এসো। (৩৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

147

وَقَالَ سَهْلٌ الْتَفَتَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَرَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. সাহল (রহ.) বলেছেন, আবূ বাকর (রাযি.) তাকালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলেন। ৭৫৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিব্লার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ্ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবনু ‘উক্বাহ ও ইবনু আবূ রাওয়াদও (রহ.) নাফি‘ (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

148

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমগণ ফজরের সালাতে রত এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পর্দা উঠালে তাঁরা চমকে উঠলেন। তিনি তাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁরা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আবূ বাকর (রাযি.) তাঁর ইমামাতের স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হবার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতে চান। মুসলিমগণও সালাত ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিতে তাঁদের বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত পুরো করো। অতঃপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। এ দিনেরই শেষে তাঁর ওফাত হয়। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

149

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফাবাসীরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার (রাযি.)-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। সা‘দ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ‘ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দু’ রাক‘আত একটু দীর্ঘ ও শেষের দু’ রাক‘আত সংক্ষেপ করতাম। ‘উমার (রাযি.) বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর ‘উমার (রাযি.) কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা‘দ (রাযি.)-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা‘দ (রাযি.) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তাঁরা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইবনু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা‘দাহ্ বলে ডাকা হত- দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা‘দ (রাযি.) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা‘দ (রাযি.) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি তিনটি দু‘আ করছিঃ হে আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সা‘দ (রাযি.)-এর দু‘আ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহ.) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত। (৭৫৮, ৭৭০; মুসলিম ৪/৩৪, হাঃ ৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

150

‘উবাদাহ ইবনু সমিত (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না।* (মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৪, আহমাদ ২২৮০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

151

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন একজন সাহাবী এসে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমিতো সালাত আদায় করনি। তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তিনি বললেনঃ ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন- আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর সিজদা্ হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করবে। (৭৯৩, ৬২৫১,৬২৫২,৬৬৬৭ মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৭, আহমাদ ৯৬৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

152

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সা‘দ (রাযি.) বলেন, আমি তাদেরকে নিয়ে বিকালের দু’ সালাত (যুহর ও ‘আসর) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের মত সালাত আদায় করতাম। এতে কোন ত্রুটি করতাম না। প্রথম দু’ রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘায়িত এবং শেষ দু’ রাক‘আতে তা সংক্ষিপ্ত করতাম। ‘উমার (রাযি.) বলেন, তোমার ব্যাপারে এটাই ধারণা। (৭৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

153

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সঙ্গে আরও দু’টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রথম রাক‘আতে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আত সংক্ষেপ করতেন। কখনো কোন আয়াত শুনিয়ে পড়তেন। ‘আসরের সালাতেও তিনি সূরাহ্ ফাতিহার সাথে অন্য দু’টি সূরাহ্ পড়তেন। প্রথম রাক‘আত দীর্ঘ করতেন। ফজরের প্রথম রাক‘আতও তিনি দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষেপ করতেন। (৭৬২,৭৭৬,৭৭৮,৭৭৯ মুসলিম ৪/৩৪, হাঃ ৪৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

154

আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাববাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনারা কী করে তা বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়ায়। (৭৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

155

আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাববাব ইবনু আরত্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কী করে তাঁর কিরাআত বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়ায়। (৭৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

156

আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসরের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহার সাথে আর একটি করে সূরাহ্ পড়তেন। আর কখনো কখনো কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

157

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল ফায্ল (রাযি.) তাঁকে ( وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا) সুরাটি তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন, বেটা! তুমি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাতে এ সূরাহ্টি পড়তে শেষবারের মত শুনেছিলাম। (৪৪২৯; মুসলিম ৪/৩৫, হাঃ ৪৬২, আহমাদ ২৬৯৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

158

মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা যায়িদ ইবনু সাবিত (রাযি.) আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, মাগরিবের সালাতে তুমি যে কেবল ছোট ছোট সুরা তিলাওয়াত কর? অথচ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দু’টি দীর্ঘ সূরাহর মধ্যে অধিকতর দীর্ঘটি পাঠ করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

159

জুবায়র ইবনু মৃত‘ইম (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ্ আত-তূর পড়তে শুনেছি। (৩০৫০, ৪০২৩,৪৮৫৪ মুসলিম ৪/৩৫, হাঃ ৪৬৩৪ আহমাদ ১৬৭৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

160

আবূ রাফি‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সঙ্গে ‘ইশার সালাত আদায় করলাম। সেদিন তিনি (إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে এ সিজদা্ করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এ সূরাহ্য় সিজদা্ করব। (৭৬৮,১০৭৪, ১০৭৮ মুসলিম ৫/২০ হাঃ ৫৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

161

‘আদী (ইবন সাবিত) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারাআ (রাযি.) হতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ‘ইশা সালাতের প্রথম দু‘ রাক‘আতের এক রাক‘আতে সূরাহ্ التِّينِ وَالزَّيْتُونِপাঠ করেন। (৭৬৯, ৪৯৫২, ৭৫৪৬; মুসলিম ৪/৩৫ হাঃ ৪৬৪, আহমাদ ১৮৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

162

আবূ রাফি‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সঙ্গে ‘ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সিজদা্ কেন? তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে এ সূরাহয় সিজদা্ করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া অবধি আমি এতে সিজদা্ করব। (৭৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

163

বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘ইশার সালাতে وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ পড়তে শুনেছি। আমি তাঁর চেয়ে কারো সুন্দর কন্ঠ অথবা কিরাআত শুনিনি। (৭৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

164

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) সা‘দ (রাযি.)-কে বললেন, আপনার বিরুদ্ধে তারা (কূফাবাসীরা) সর্ব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি সালাত সম্পর্কেও। সা‘দ (রাযি.) বললেন, আমি প্রথম দু’রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করে থাকি এবং শেষের দু’ রাক‘আতে তা সংক্ষেপ করি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে যেমন সালাত আদায় করেছি, তেমনই সালাত আদায়ের ব্যাপারে আমি ত্রুটি করিনি। ‘উমার (রাযি.) বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, আপনার ব্যাপারে ধারণা এমনই, কিংবা (তিনি বলেছিলেন) আপনার সম্পর্কে আমার এ রকমই ধারণা। (৭৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

165

সাইয়ার ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সালাতসমূহের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত সুর্য ঢলে গেলেই আদায় করতেন। আর ‘আসর (এমন সময় যে, সালাতের শেষে) কোন ব্যক্তি সূর্য সতেজ থাকাবস্থায় মদিনার প্রান্তে ফিরে আসতে পারতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। আর তিনি রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ‘ইশা বিলম্ব করতে কোন দ্বিধা করতেন না এবং ‘ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। আর তিনি ফজর আদায় করতেন এমন সময় যে, সালাত শেষে ফিরে যেতে লোকেরা তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারতো। এর দু’ রাক‘আতে অথবা রাবী বলেছেন, এক রাক‘আতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত পাঠ করতেন। (৫৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

166

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পড়া হয়। তবে যে সব সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে সব সালাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা সূরাহ্ আল-ফাতিহার উপরে আরো অধিক না পড়, সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি অধিক পড় তা উত্তম। (মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

167

(وَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ طُفْتُ وَرَاءَ النَّاسِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَيَقْرَأُ بِ )الطُّورِ(. উম্মু সালামাহ (রাযি.) বলেন, আমি লোকদের পিছনে তাওয়াফ করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করছিলেন এবং সূরাহ্ তূর পাঠ করছিলেন। ৭৭৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের উর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিন্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ঘুরে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন ‘উকায বাজারের পথে নাখ্লা নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করলো। অতঃপর তারা বলে উঠলো, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা গোত্রেরর নিকট ফিরে আসল এবং বলল হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং কখনো আমরা আমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে কাউকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ সূরাহ্ নাযিল করেন। মূলতঃ তাঁর নিকট জিনদের কথাবার্তাই ওয়াহীরূপে অবতীর্ণ করা হয়েছে। (৪৯২১; মুসলিম ৪/৩৩ হাঃ ৪৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

168

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে কিরাআত পাঠের জন্য আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ থেকেছেন। (আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ) ‘‘তোমার প্রতিপালক ভুল করেন না’’- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৬৪)। ‘‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’’ (সূরাহ্ আল-আহযাব ৩৩/২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

169

170

وَيُذْكَرُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ قَرَأَ النَّبِيُّ ﷺ الْمُؤْمِنُونَ فِي الصُّبْحِ حَتَّى إِذَا جَاءَ ذِكْرُ مُوسَى وَهَارُونَ أَوْ ذِكْرُ عِيسَى أَخَذَتْهُ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ وَقَرَأَ عُمَرُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى بِمِائَةٍ وَعِشْرِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمَثَانِي وَقَرَأَ الْأَحْنَفُ بِالْكَهْفِ فِي الْأُولَى وَفِي الثَّانِيَةِ بِيُوسُفَ أَوْ يُونُسَ وَذَكَرَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ عُمَرَالصُّبْحَ بِهِمَا وَقَرَأَ ابْنُ مَسْعُودٍ بِأَرْبَعِينَ آيَةً مِنَ الْأَنْفَالِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَقَالَ قَتَادَةُ فِيمَنْ يَقْرَأُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ أَوْ يُرَدِّدُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ كُلٌّ كِتَابُ اللهِ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সায়িব (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী ﷺ ফজরের সালাতে সূরাহ্ মু’মিনূন পড়তে শুরু করেন। যখন মূসা (‘আ.) ও হারূন (‘আ.) বা ‘ঈসা (‘আ.)-এর আলোচনা এল, তাঁর কাশি উঠল আর তখন তিনি রুকূ‘তে চলে গেলেন। ‘উমার (রাযি.) প্রথম রাক‘আতে সূরাহ্ বাক্বারাহর একশ’ বিশ আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মাসানী সূরাহহসমূহের কোন একটি তিলাওয়াত করেন। আহনাফ (রহ.) প্রথম রাক‘আতে সূরাহ্ কাহ্ফ তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরাহ্ ইউসুফ বা সূরাহ্ ইউনুস তিলাওয়াত করেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘উমার (রাযি.)-এর পিছনে এ দু’টি সূরাহ্ দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) (প্রথম রাক‘আতে) সূরাহ্ আল-আনফালের চল্লিশ আয়াত পড়েন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মুফাসসাল সূরাহ্ সমূহের একটি পড়েন। যে ব্যক্তি দু’ রাক‘আতে একই সূরাহ্ ভাগ করে পড়ে বা দু’ রাক‘আতে একই সূরাহ্ দুহরিয়ে পড়ে তার সম্পর্কে কাতাদাহ্ (রহ.) বলেন, সবই আল্লাহর কিতাব। (অর্থাৎ জায়িয)। ৭৭৪. মীম। আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। কুবার মসজিদে এক আনসারী ব্যক্তি তাঁদের ইমামাত করতেন। তিনি সশব্দে কিরা-আত পড়া হয় এমন কোন সালাতে যখনই কোন সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন, قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ সূরাহ্ দ্বারা শুরু করতেন। তা শেষ করে অন্য একটি সূরাহ্ এর সাথে মিলিয়ে পড়তেন। আর প্রতি রাক‘আতেই তিনি এমন করতেন। তাঁর সঙ্গীরা এ ব্যাপারে তাঁর নিকট বললেন যে, আপনি এ সূরাহটি দিয়ে শুরু করেন, এটি যথেষ্ট হয় বলে আপনি মনে করেন না তাই আর একটি সূরাহ্ মিলিয়ে পড়েন। হয় আপনি এটিই পড়বেন, না হয় এটি বাদ দিয়ে অন্যটি পড়বেন। তিনি বললেন, আমি এটি কিছুতেই ছাড়তে পারব না। আমার এভাবে ইমামাত করা যদি আপনারা অপছন্দ করেন, তাহলে আমি আপনাদের ইমামাত ছেড়ে দেব। কিন্তু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তাদের মাঝে উত্তম। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তাদের ইমামাত করুক এটা তাঁরা অপছন্দ করতেন। পরে নবী যখন তাঁদের এখানে আগমন করেন, তাঁরা বিষয়টি নবী ﷺ-কে জানান। তিনি বললেন, হে, অমুক! তোমার সঙ্গীগণ যা বলেন তা করতে তোমাকে কিসে বাধা দেয়? আর প্রতি রাক‘আতে এ সূরাহ্টি বাধ্যতামূলক করে নিতে কিসে উদ্বুদ্ধ করছে? তিনি বললেন, আমি এ সূরাহটি ভালবাসি। নবী ﷺ বললেনঃ এ সূরাহর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (আ.প্র. অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৩৩৬, ই.ফা. অনুচ্ছেদ ৪৯৮) ৭৭৫. আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্‌সাল সূরাহগুলো এক রাক‘আতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সমতূল্য যে সব সূরাহ্ মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাসসাল সূরাহসমূহের বিশটি সূরাহ্ উল্লেখ পূর্বক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতে এর দু’টি করে সূরাহ্ পড়তেন। (৪৯৯৬, ৫০৪৩; মুসলিম ৬/৪৯ হাঃ ৮২২, আহমাদ ৪৪১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

171

আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা ও দু’টি সূরাহ্ পড়তেন এবং শেষ দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাক‘আতে যত দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাক‘আতে তত দীর্ঘ করতেন না। ‘আসরে এবং ফজরেও এ রকম করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

172

আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কী করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়া দেখে। (৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

173

আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে আরেকটি সুরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

174

আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এ রকম করতেন ফজরের সালাতেও। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

175

وَقَالَ عَطَاءٌ آمِينَ دُعَاءٌ أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةً وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُنَادِي الْإِمَامَ لاَ تَفُتْنِي بِآمِينَ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَدَعُهُ وَيَحُضُّهُمْ وَسَمِعْتُ مِنْهُ فِي ذَلِكَ خَيْرًا. ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ‘আমীন’ হল দু‘আ। তিনি আরও বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) ও তাঁর পিছনের মুসুল্লীগণ এমনভাবে ‘আমীন’ বলতেন যে, মসজিদে গুমগুম আওয়ায হতো। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমাকে ‘আমীন’ বলার সুযোগ হতে বঞ্চিত করবেন না। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) কখনই ‘আমীন’ বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীন বলার জন্য) উৎসাহিত করতেন। আমি তাঁর কাছ হতে এ সম্পর্কে হাদীস শুনেছি। ৭৮০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকাহর ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন। (৬৪০২; মুসলিম ৪/১৮, হাঃ ৪১০, আহমাদ ৮২৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

176

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানে মালাইকাহ্ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

177

আবু হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ পড়লে তোমরা ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার এ (আমীন) বলা মালাকগণের (আমীন) বলার সাথে একই সময় হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) আবূ সালামাহ (রহ.) সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এবং নু‘আইম- মুজমির (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে হাদীস বর্ণনায় সুমাই (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৪৪৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

178

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রুকূ‘তে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই তিনি রুকূ‘তে চলে যান। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

179

قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ. এ ব্যাপারে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে মালিক ইবনু হুওয়ারিস (রাযি.) হতেও রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। ৭৮৪. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বসরায় ‘আলী (রাযি.)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আদায়কৃত সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবার (মাথা) উঠাতে ও নামাতে তাকবীর বলতেন। (৭৮৬, ৮২৬; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯৩, আহমাদ ১৯৯৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

180

আবূ সালামাহ ... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং প্রতিবার উঠা বসার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (৭৮৯, ৭৯৫, ৮০৩ মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২ আহমাদ ৮২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

181

মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) ‘আলী ইবনু তালিব (রাযি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন সিজদা্য় গেলেন তখন তাকবীর বললেন, সিজদা্ হতে যখন মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন, আবার দু’ রাক‘আতের পর যখন দাঁড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন তখন ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) আমার হাত ধরে বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বা তিনি বলেছিলেন, আমাদের নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করেছেন। (৭৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৪২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

182

‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাকামে (ইব্রাহীমের নিকট) এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, প্রতিবার উঠা ও ঝুঁকার সময় এবং দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর বলছেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে এ কথা জানালে তিনি বললেন, তুমি মাতৃহীন হও,* একি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত নয়? (৭৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

183

‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় এক বৃদ্ধের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বাইশবার তাকবীর বললেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, লোকটি তো আহাম্মক। তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। এ যে আবুল কাসিম-এর সুন্নাত। মূসা (রহ.) বলেন, আবান (রহ.) ক্বাতাদাহ্ (রহ.) সূত্রেও ‘ইকরিমাহ (রাযি.) হতে এ হাদীসটি সরাসরি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

184

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদা্য় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদা্য় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সালিহ্ (রহ.) লাইস (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে وَلَكَ الْحَمْدُ উল্লেখ করেছেন। (৭৮৫; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২, আহমাদ ৮২৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

185

وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ أَمْكَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ. আবূ হুমায়দ (রাযি.) তাঁর সঙ্গীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকূ‘র সময়) দু’ হাত দিয়ে উভয় হাঁটুতে ভর দিতেন। ৭৯০. মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। এবং (রুকু‘র সময়) দু’ হাত জোড় করে উভয় উরুর মাঝে রাখলাম। আমার পিতা আমাকে এমন করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আগে আমরা এমন করতাম; পরে আমাদেরকে এ হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাত হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (মুসলিম ৫/৫, হাঃ ৫৩৫, আহমাদ ১৫৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

186

যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা (রাযি.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে রুকূ‘ ও সিজদা্ ঠিকমত আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, তোমার সালাত হয়নি। যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তাহলে আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যে আদর্শ দিয়েছেন সে আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

187

بَاب اسْتِوَاءِ الظَّهْرِ فِي الرُّكُوعِ ১০/১২০. অধ্যায়: রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখা। আবূ হুমাইদ (রাযি.) তাঁর সাথীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করতেন এবং রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখতেন। ৭৯২. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ‘, সিজদা্ এবং দু’ সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ‘ হতে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল। (৮০১, ৮২০; মুসলিম ৪/৩৮ হাঃ ৪৭১, আহমাদ ১৮৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

188

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একসময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাশরীফ আনলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি আবার সালাত আদায় করল এবং আবার এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম দিল। তিনি বললেনঃ আবার গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। অতঃপর লোকটি বলল, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যতটুকু তোমার পক্ষে সহজ ততটুকু পড়বে। অতঃপর রুকূ‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ আদায় করবে। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। ধীরস্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর সিজদা্ হতে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদা্য় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর পুরো সালাত এভাবে আদায় করবে। (৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

189

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেন-سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’।* (৮১৭, ৪২৯৩, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

190

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে (রুকূ‘ হতে উঠতেন) তখন اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন, আর তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন এবং রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং উভয় সিজদা্ হতে যখন দাঁড়াতেন, তখন اللهُ أَكْبَرُ বলতেন। (৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

191

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। কেননা, যার এ উক্তি মালাইকাহর উক্তির সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (৩২২৮; মুসলিম ৪/১৮, হাঃ ৪০৯, আহমাদ ৯৯৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

192

আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করব। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) যুহর, ‘ইশা ও ফজরের সালাতের শেষ রাক‘আতেঃسَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ’ বলার পর কুনূত পড়তেন। এতে তিনি মু’মিনগণের জন্য দু‘আ করতেন এবং কাফিরদের প্রতি অভিসম্পাত করতেন। (৮০৪, ১০০৬,২৯৩২, ৩৩৮৬, ৪৫৬০, ৪৫৯৮, ৬২০০, ৬৩৯৩, ৬৯৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৫৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

193

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে) কুনূত ফজর ও মাগরিবের সালাতে পড়া হত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

194

রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন, তখন পিছন হতে এক সহাবা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকাহ এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

195

وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ رَفَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَوَى جَالِسًا حَتَّى يَعُودَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَهُ. আবূ হুমায়দ (রহ.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যে, মেরুদন্ডের হাড় যথাস্থানে ফিরে আসতো। ৮০০. সাবিত (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের বর্ণনা দিলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করে দেখালেন। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠালেন, তখন (এতক্ষণ) দাঁড়িয়ে রইলেন যে, আমরা মনে করলাম, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন। (৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

196

বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ‘ ও সিজদা্ এবং তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন, এবং দু‘ সিজদার মধ্যবর্তী সময় সবই প্রায় সমান হত। (৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

197

আবূ ক্বিলাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কেমন ছিল তা আমাদের দেখালেন। তখন সালাতের কোন ওয়াক্ত ছিল না। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং পুর্ণাঙ্গরূপে কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ‘তে গেলেন এবং ধিরস্থিরভাবে রকূ‘ আদায় করলেন; অতঃপর তাঁর মাথা উঠালেন এবং কিছুক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে আমাদের এই শায়খ আবূ বুরাইদ (রহ.)-এর ন্যায় সালাত আদায় করলেন। আর আবূ বুরাইদ (রহ.) দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন। (৬৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

198

وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ. নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন।* ৮০৩. আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) ও আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) রমাযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন, আবার রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (রুকূ‘ হতে উঠার সময়) سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, সিজদা্য় যাওয়ার পূর্বে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু’ রাক‘আত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাক‘আতে এরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত এ রকমই ছিল। (৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

199

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। আর কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের জন্য দু‘আ করতেন। দু‘আয় তিনি বলতেন, হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়্যাস ইবনু আবূ রাবী‘আ (রাযি.) এবং অপরাপর দুর্বল মুসলিমদেরকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ্! মুদার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন, ইউসুফ (আ)-এর যুগে যেমন খাদ্য সংকট ছিল তাদের জন্যও তেমন খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে দিন। (রাবী বলেন) এ যুগে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী মুদার গোত্রের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিরোধী ছিল। (৭৯৭; মুসলিম ৫/৫৪, হাঃ ৬৭৫ আহমাদ ৭৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭ শেষাংশ)

200

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে যান। কোন কোন সময় সুফ্ইয়ান (রহ.) হাদীস বর্ণনা করার সময় عن فرس শব্দের স্থলে من فرس শব্দ বলতেন। ফলে তাঁর ডান পাঁজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তাঁর শুশ্রূষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফ্ইয়ান (রহ.) আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে ইক্তিদা করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। তিনি যখন রুকূ‘ হতে উঠেন তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা্ করেন, তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, মা‘মারও কি এরূপ বর্ণনা করেছেন? [‘আলী (রহ.) বলেন] আমি বললাম, হ্যাঁ। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, তিনি ঠিকই স্মরণ রেখেছেন, এরূপই যুহরী (রহ.) وَلَكَ الْحَمْدُ বর্ণনা করেছেন। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, (যুহরীর কাছ হতে) ডান পাঁজর যখম হবার কথা মুখস্থ করেছিলাম। কিন্তু যখন তাঁর কাছ হতে বেরিয়ে আসলাম, তখন ইবনু জুরায়জ (রহ.) বললেন, আমিও তাঁর নিকট ছিলাম। (তিনি বলেছেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ডান পায়ের নলা যখম হয়েছিল। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

201

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত পুর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তাঁরা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে তেমনিভাবে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, যে যার উপাসনা করতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর বাকী থাকবে শুধুমাত্র উম্মাহ্, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাঁদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেনঃ ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের আগমন না হবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন আগমন হবে তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেন, ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তারা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবেঃ (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) হে আল্লাহ্! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সা‘দান কাঁটার মতো। তোমরা কি সা‘দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখতে সা‘দান* কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের ‘আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে ‘আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হতে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তা‘আলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাহ্কে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হতে বের করে আনা হয়। মালাইকাহ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হতে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বানী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের করা হবে। তাদের উপর ‘আবে-হায়াত’ ঢেলে দেয়া হবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমন্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ্ তা‘আলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তা‘আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার নিকট পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হতে চাই না। আল্লাহ্ তারক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে না, আপনার ইযয্তের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য ও তার আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ্ তা‘আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ্ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ। (৬৫৭৩, ৭৩৩৭ মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮২, আহমাদ ৭৭২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

202

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মালিক (রহ.) যিনি ইবনু বুহাইনা (রাযি.) তাঁর হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত এমন ফাঁক করতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লায়স (রহ.) বলেন, জা‘ফার বিন রাবী‘আহ (রহ.) আমার নিকট এ রকম বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

203

بَاب يَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ ১০/১৩১. অধ্যায়ঃ সালাতে উভয় পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী রাখা। قَالَهُ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏. আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী صلى الله عليه وسلم‏ হতে এ রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৮০৮. হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকূ‘ ও সিজদা্ পূর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করা, তখন হুযাইফাহ (রাযি.) তাকে বললেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকা হতে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে। (৩৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

204

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল দু’ হাত, দু’ হাঁটু ও দু’ পা। (৮১০, ৮১২, ৮১৫, ৮১৬; মুসলিম ৪৩/৪৪, হাঃ ৪৯০, আহমাদ ২৫৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

205

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছি। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

206

বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত- যিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাতে সালাত আদায় করতাম। তিনি سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সিজদার জন্য পিঠ ঝুঁকাত না। ( ৬৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

207

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

208

আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালামাহ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘লাইলাতুল কাদর’ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের প্রথম দশ দিন ‘ইতিকাফ করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ই‘তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই‘তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমাযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই‘তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদ্র’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা্ করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করল। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

209

সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হবার কারণে তা গলার সাথে বেঁধে নিতেন। আর নারীদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা্ হতে মাথা উঠাবে না যে পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে। (৩৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

210

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা্ করতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

211

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা্ করতে, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশিত হয়েছি। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

212

‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকূ‘ ও সিজদা্য় অধিক পরিমাণে سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আল্লাহ্! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’’ পাঠ করতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন।* (৭৯৪; মুসলিম ৪/৪২, হাঃ ৪৮৪, আহমাদ ২৪২১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

213

মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে কিছুদিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাবার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করবে। সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামাত করবে।(৬২৮; মুসলিম ৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮১ শেষাংশ)

214

বারাআ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিজদা্, রুকূ‘ এবং দু’ সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান (সময়ের) হতো। (৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

215

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত (রহ.) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন কিছু করতেন যা তোমাদের করতে দেখিনা। তিনি রুকূ‘ হতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজ্দাহর কথা) ভুলে গেছেন। (৮০০; মুসলিম ৪/৩৮, হাঃ ৪৭২, আহমাদ ১৩১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

216

وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ سَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَوَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلاَ قَابِضِهِمَا. আবূ হুমাইদ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ করেছেন এবং তাঁর দু’হাত রেখেছেন, কিন্তু বিছিয়েও দেননি আর তা গুটিয়েও দেননি। ৮২২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’ হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

217

মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর সালাতের বেজোড় রাক‘আতে (সাজ্দাহ হতে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

218

আবু কিলাবাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) এসে আমাদের এ মসজিদে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। এখন আমার সালাত আদায়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা তোমাদের দেখাতে চাই। আইয়ুব (রহ.) বলেন, আমি আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর [মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.)-এর] সালাত কীরূপ ছিল? তিনি [আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)] বলেন, আমাদের এ শায়খ অর্থাৎ আমর ইবনু সালিমাহ (রহ.)-এর সালাতের মতো। আইয়ুব (রহ.) বললেন, শায়খ তাকবীর পূর্ণ বলতেন এবং যখন দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠাতেন তখন বসতেন, অতঃপর মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (৬৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৮ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

219

وَكَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يُكَبِّرُ فِي نَهْضَتِهِ. ইবনু যুবায়র (রাযি.) উঠার সময় তাকবীর পাঠ করতেন। ৮২৫. সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) সালাতে আমাদের ইমামাত করেন। তিনি প্রথম সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা্করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তাশাহ্হুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (সালাত আদায় করতে) দেখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

220

মুতাররিফ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও ‘ইমরান (রাযি.) একবার ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা্ করার সময় তাক্বির বলেছেন। উঠার সময় তাক্বির বলেছেন এবং দু’ রাক‘আত শেষে দাঁড়ানোর সময় তাক্বির বলেছেন। সালাম ফিরানোর পর ‘ইমরান (রহ.) আমার হাত ধরে বললেন, ইনি তো (‘আলী) আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিলেন। (৭৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

221

وَكَانَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ تَجْلِسُ فِي صَلاَتِهَا جِلْسَةَ الرَّجُلِ وَكَانَتْ فَقِيهَةً. উম্মু দারদা (রাযি.) তাঁর সালাতে পুরুষের মত বসতেন, তিনি ছিলেন দ্বীন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানী। ৮২৭. ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু উমার (রাযি.)-কে সালাতে আসন পিঁড়ি করে বসতে দেখেছেন। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাযি.) বলেন, আমি সে সময় অল্প বয়স্ক ছিলাম। আমিও এমন করলাম। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.) আমাকে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেন, সালাতে (বসার) সুন্নাত তরীকা হল তুমি ডান পা খাড়া রাখবে এবং বাঁ পা বিছিয়ে রাখবে। তখন আমি বললাম, আপনি এমন করেন? তিনি বললেন, আমার দু’পা আমার ভার বহন করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

222

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (রাযি.) বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দু’ হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন তখন দু’ হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যাতে মেরুদন্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। অতঃপর যখন সিজদা্ করতেন তখন দু’ হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না। এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুলির মাথা ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী করে দিতেন। যখন দু’রাকআতের পর বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন। লায়স (রহ.) ....... ইবনু আত্বা (রহ.) হতে হাদীসটি শুনেছেন। আবূ সালিহ্ (রহ.) লায়স (রহ.) হতে كُلُّ قَفَارٍ বলেছেন। আর ইবনু মুবারক (রহ.) ..... মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) হতে كُلُّ فَقَارٍ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

223

لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ مِنْ الرَّكْعَتَيْنِ وَلَمْ يَرْجِعْ. কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাক‘আত শেষে (তাশাহহুদ না পড়ে) দাঁড়ালেন এবং আর (বসার জন্য) ফেরেননি। ৮২৯. বানূ ‘আবদুল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস এবং রাবী কোন সময়ে বলেছেন রাবীয়া ইবনু হারিসের আদাকৃত দাস, ‘আবদুর রহমান ইবনু হুরমুয (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, বনূ ‘আব্দ মানাফের বন্ধু গোত্র আয্দ শানআর লোক ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রাযি.) যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের অন্যতম। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথমে দু’ রাকাআত পড়ার পর না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবে সালাতের শেষভাবে মুক্তাদীগণ সালামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসাবস্থায় তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’বার সিজদা্ করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন। ( ৮৩০, ১২২৪, ১২২৫, ১২৩০, ৬৬৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

224

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মালিক (রাযি.)- যিনি ইবনু বুহাইনা- হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। দু’ রাক‘আত পড়ার পর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন অথচ তাঁর বসা জরুরী ছিল। অতঃপর সালাতের শেষভাগে বসে তিনি দু’টো সিজদা্ করলেন। (৮২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৪ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

225

শাকীক ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম, ‘‘আস্সালামু আলা জিব্রীল ওয়া মিকাইল এবং আস্সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান।’’ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্ নিজেই তো সালাম, তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ ‘‘সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।’’ কেননা, যখন তোমরা এ বলবে তখন আসমান ও যমীনের আল্লাহর সকল নেক বান্দার নিকট পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে اَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল)-ও পড়বে। (৮৫৩, ১২০২, ৬২৩০, ৬২৬৫, ৬৩২৮, ৭৩৮১; মুসলিম ৪/১৬, হাঃ ৪০২, আহমাদ ৩৫৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

226

‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতে দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

227

আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু‘আটি বলবে- قُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ‘‘হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’’ (৮৩৪, ৬৩২৬, ৭৩৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

228

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ্ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ‘‘সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি।’’ তোমরা যখন তা বলবে তখন আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। (এরপর বলবে) ‘‘আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ অতঃপর যে দু‘আ তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে। (৮৩১)ঞ্জ(আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

229

قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ رَأَيْتُ الْحُمَيْدِيَّ يَحْتَجُّ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْ لاَ يَمْسَحَ الْجَبْهَةَ فِي الصَّلاَةِ. আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, আমি হুমাইদী (রহ.)-কে দেখেছি যে, সালাত শেষ হবার পূর্বে কপাল না মুছার ব্যাপারে এ হাদীস দিয়ে দলিল পেশ করতেন। ৮৩৬. আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা্ করতে দেখেছি। এমন কি তাঁর কপালে কাদামাটির চিহ্ন লেগে থাকতে দেখেছি। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

230

উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তখন সালাম শেষ হলেই মহিলাগণ দাঁড়িয়ে পড়তেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানোর পূর্বে কিছুক্ষণ বসে অপেক্ষা করতেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ই ভাল জানেন, আমার মনে হয়, তাঁর এ অপেক্ষা এ কারণে যাতে মুসাল্লীগণ হতে যে সব পুরুষ ফিরে যান তাদের পূর্বেই মহিলারা নিজ অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারেন। (৮৩৭, ৮৪৯, ৮৫০, ৮৬৬, ৮৭০, ৮৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

231

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَسْتَحِبُّ إِذَا سَلَّمَ الْإِمَامُ أَنْ يُسَلِّمَ مَنْ خَلْفَهُ. ইবনু ‘উমার (রাযি.) ইমামের সালাম ফিরানোর সময় মুক্তাদীগণের সালাম ফিরানো মুস্তাহাব মনে করতেন। ৮৩৮. ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

232

তিনি বলেছেন, আমি ‘ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) যিনি বনূ সালিম গোত্রের একজন, তাঁকে বলতে শুনেছি, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে গেছে এবং আমার বাড়ি হতে আমার কাওমের মাসজিদ পর্যন্ত পানি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন যেটা আমি সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইন্শা আল্লাহ্, আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযি.) আমার বাড়িতে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে দিলাম। তিনি না বসেই বললেনঃ তোমার ঘরের কোন্ স্থানে তুমি আমার সালাত আদায় পছন্দ কর? তিনি পছন্দ মত একটি স্থান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায়ের জন্য ইঙ্গিত করে দেখালেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও তাঁর পিছনে কাতারে দাঁড়ালাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তাঁর সালামের সময় সালাম ফিরালাম। (৪২৪; মুসলিম ১/১০, হাঃ ৩৩, ১৬৪৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

233

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় মুসল্লীগণ ফরজ সালাত শেষ হলে উচ্চস্বরে যিকর করতেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি এরূপ শুনে বুঝতাম, মুসল্লীগণ সালাত শেষ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

234

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকবীর শুনে আমি বুঝতে পারতাম সালাত শেষ হয়েছে। ‘আলী (রাযি.) বলেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবূ মা‘বাদ (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর আযাদকৃত দাসসমূহের মধ্যে অধিক সত্যবাদী দাস ছিলেন। ‘আলী (রহ.) বলেন, তার নাম ছিল নাফিয। (৮৪১; মুসলিম ৫/২৩, হাঃ ৫৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

235

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্রলোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তাঁরা আমাদের মত সালাত আদায় করছেন, আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হাজ্জ, ‘উমরাহ, জিহাদ ও সদাক্বাহ করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে। তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার করে তাসবীহ্ (সুবহানাল্লাহ্), তাহমীদ (আলহামদু ল্লিল্লাহ্) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। (এ নিয়ে) আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। কেউ বলল, আমরা তেত্রিশ বার তাসবীহ্ পড়ব। তেত্রিশ বার তাহমীদ আর চৌত্রিশ বার তাকবীর পড়ব। অতঃপর আমি তাঁর নিকট ফিরে গেলাম। তিনি বললেন, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বলবে, যাতে সবগুলোই তেত্রিশবার করে হয়ে যায়। (৬৩২৯; মুসলিম ৫/২৬, হাঃ ৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৯৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

236

মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.)-এর কাতিব ওয়ার্রাদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) আমাকে দিয়ে মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-কে একখানা পত্র লিখালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ‘‘এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।’’ শু‘বাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে এ রকমই বলেছেন, আপনার নিকট (সৎকাজ ছাড়া) এবং হাসান (রহ.) বলেন, جد অর্থ সম্পদ এবং শু‘বাহ (রহ.)....ওয়ার্রাদ (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

237

সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন। (১১৪৩, ১৩৮৬, ২০৮৫, ২৭৯১, ৩২৩৬, ৩৩৫৪, ৩৩৫৪, ৩৬৭৪, ৬০৯৬, ৭০৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

238

যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে। (১০৩৮, ৪১৪৭, ৭৫০৩; মুসলিম ১/৩২ হাঃ ৭১, আহমাদ ১৭০৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

239

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ তোমরা যেন সালাতে রত থাকবে। (৫৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

240

নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরজ সালাত আদায় করতেন সেখানে দাঁড়িয়ে অন্য সালাত আদায় করতেন। এরূপ ক্বাসিম (রহ.) ‘আমল করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে মারফূ‘ হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, ইমাম তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করবেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] এ হাদীসটি মারফূ‘ হিসেবে রিওয়ায়াত করা ঠিক নয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০০ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)

241

। হিন্দ বিন্‌ত হারিস ফিরাসিয়াহ যিনি উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর বান্ধবী তাঁর সূত্রে নবী পত্নী উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরাতেন, অতঃপর মহিলারা ফিরে গিয়ে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফিরবার পূর্বেই। ইব্‌নু ওহাব (রহ.) ইউনুস (রহ.) সূত্রে শিহাব (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন এবং ‘উসমান ইব্‌নু ‘উমার (রহ.) বলেন, আমাকে ইউনুস (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন, আর যুবাইদী (রহ.) বলেন, আমাকে যুহরী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, হিন্দ বিনত হারিস কুরাশিয়াহ (রাযি.) তাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মা‘বাদ ইব্‌নু মিকদাদ (রহ.)-এর স্ত্রী। আর মা‘বাদ বনূ যুহরার সাথে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি (হিন্দ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণের নিকট যাতায়াত করতেন। শু‘আয়ব (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ কুরাশিয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন। আর ইব্‌নু আবূ আতীক (রহ.) যুহরী (রহ.) সূত্রে হিন্দ ফিরাসিয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহ.) ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌নু সায়ীদ (রহ.) সূত্রে ইব্‌নু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের এক মহিলা তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

242

‘উকবাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদিনা্য় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান এবং মুসল্লীগণকে ডিঙ্গিয়ে তাঁর সহধর্মিণীগণের কোন একজনের কক্ষে গেলেন। তাঁর এই দ্রুততায় মুসল্লীগণ ঘাবড়িয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট ফিরে এলেন এবং দেখলেন যে, তাঁর দ্রুততার কারণে তাঁরা বিস্মিত হয়ে গেছেন। তাই তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট রাখা কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়ে যায়। তা আমার জন্য বাধা হোক, তা আমি পছন্দ করি না। তাই আমি সেটার বণ্ঠনের নির্দেশ দিলাম। (১২২১, ,১৪৩০, ৬২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

243

وَكَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ يَنْفَتِلُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ وَيَعِيبُ عَلَى مَنْ يَتَوَخَّى أَوْ مَنْ يَعْمِدُ الِانْفِتَالَ عَنْ يَمِينِهِ আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) কখনো ডান দিকে এবং কখনো বাম দিকে ফিরে যেতেন। নির্দিষ্ট করে ডান দিকে ফিরে যাওয়া দোষের মনে করতেন। ৮৫২. আসওয়াদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় সালাতের কোন কিছু শয়তানের জন্য না করে। তা হল, কেবল ডান দিকে ফিরানো আবশ্যক মনে করা। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অধিকাংশ সময়ই বাম দিকে ফিরতে দেখেছি। (মুসলিম ৬/৭ হাঃ ৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

244

وَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكَلَ الثُّومَ أَوْ الْبَصَلَ مِنَ الْجُوعِ أَوْ غَيْرِهِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধা বা কোন কারণে অবশ্যই কেউ যেন রসুন বা পিঁয়াজ খেয়ে আমাদের মসজিদের নিকটে না আসে। ৮৫৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেন, যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ হতে অর্থাৎ কাঁচা রসুন খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদে না আসে। (৪২১৫, ৪২১৭, ৪২১৮, ৫৫২১, ৫৫২২ মুসলিম ৫/১৭ হাঃ ৫৬, আহমাদ ৪৭১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

245

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি এ জাতীয় গাছ হতে খায়, তিনি এ দ্বারা রসুন বুঝিয়েছেন, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। (রাবী আতা (রহ.) বলেন) আমি জাবির (রাযি.) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন (জাবির (রাযি.) বলেন, আমার ধারণা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দ্বারা কাঁচা রসুন বুঝিয়েছেন এবং মাখ্লাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে দুর্গন্ধযুক্ত হবার কথা উল্লেখ করেছেন। (৮৫৫, ৫৪৫২, ৭৩৫৯; মুসলিম ৫/১৭, হাঃ ৫৬৪, আহমাদ ১৫২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

246

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে। (উক্ত সানাদে আরো বর্ণিত আছে যে,) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পাত্র যার মধ্যে শাক-সবজি ছিল আনা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রক্ষিত শাক-সবজি সম্পর্কে জানানো হলো, তখন একজন সহাবা [আবূ আইয়ুব (রাযি.)]-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, তাঁর নিকট এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন, এ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি খাও। আমি যাঁর সাথে গোপনে আলাপ করি তাঁর সাথে তুমি আলাপ কর না (মালাইকাহর সাথে আমার আলাপ হয়, তাঁরা দুর্গন্ধকে অপছন্দ করেন)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৬) আহমাদ ইবনু সালিহ্ (রহ.) ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বলেছেন, أُتِيَ بِبَدْرٍ ইবনু ওয়াহ্ব-এর অর্থ বলেছেন, খাঞ্চা যার মধ্যে শাক-সব্জী ছিল। আর লায়স ও আবূ সাফওয়ান (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে রিওয়ায়াত বর্ণনায় الْقِدْرِ এর বর্ণনা উল্লেখ করেননি। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] الْقِدْرِ -এর বর্ণনা যুহরী (রহ.)-এর উক্তি না হাদীসের অংশ তা আমি বলতে পারছি না। (৮৫৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

247

‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রসুন খাওয়া সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তখন আনাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ জাতীয় গাছ হতে খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকট না আসে এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে। (৫৪৫১ মুসলিম ৫/১৭, হাঃ ৫৬৩, আহমাদ ৯৫৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

248

শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের নিকট গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে লোকদের ইমামাত করেন। লোকজন কাতারবন্দী হয়ে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ ‘আমর! কে আপনাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি আল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু)। (১২৪৭, ১৩১৯, ১৩২১, ১৩২২, ১৩২৬, ১৩৩৬, ১৩৪০ মুসলিম ১১/২৩, হাঃ ৯৫৪, আহমাদ ২৫৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

249

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,জুমু‘আহর দিন প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত (মুসলিমের) গোসল করা ওয়াজিব। (৮৭৯, ৮৮০, ৮৯৫, ২৬৬৫ মুসলিম ৭/১, হাঃ ৮৪৬, আহমাদ ১১২৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

250

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা (উম্মুল মু’মিনীন) মাইমূনাহ (রাযি.) এর নিকট রাত্র কাটালাম। সে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও সেখানে নিদ্রা যান। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি উঠলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশ্ক হতে পানি নিয়ে হাল্কা উযূ করলেন। ‘আমর (বর্ণনাকারী) এটাকে হাল্কা এবং অতি কম বুঝলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি উঠে তাঁর মতই সংক্ষিপ্ত উযূ করলাম, অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বামপাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে করে দিলেন। অতঃপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়ায হতে লাগল, অতঃপর মুআয্যিন এসে সালাতের কথা জানালে তিনি উঠে তাঁর সালাতের জন্য চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কিন্তু (নতুন) উযূ করলেন না। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আমি আমর (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, লোকজন বলে থাকেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চোখ নিদ্রায় যেত কিন্তু তাঁর কাল্ব (হৃদয়) জাগ্রত থাকত। ‘আমর (রহ.) বললেন, ‘উবায়দ ইবনু ‘উমার (রহ.)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই নবীগণের স্বপ্ন ওয়াহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ [ইব্রাহীম (‘আ.), ইসমা‘ঈল (‘আ.)-কে বললেন] ‘‘আমি স্বপ্ন দেখলাম, তোমাকে কুরবানী করছি।’’ (সূরাহ্ আস্ -সাফ্ফাত ৩৭/১০২)। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

251

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। ইসহাক (রহ.)-এর দাদী মুলাইকা (রাযি.) খাদ্য তৈরি করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করলেন। তিনি তার তৈরি খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা উঠে দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাযি.) বলেন, আমি একটি চাটাইয়ে দাঁড়ালাম যা অধিক ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি এতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন, আমার সঙ্গে একটি ইয়াতীম বাচ্চাও দাঁড়াল এবং বৃদ্ধা আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। আমাদের নিয়ে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

252

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি গাধার উপর আরোহণ করে অগ্রসর হলাম। তখন আমি প্রায় বয়ঃপ্রাপ্ত। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় প্রাচীর ব্যতীত অন্য কিছু সামনে রেখে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি কোন এক কাতারের সম্মুখ দিয়ে অগ্রসর হয়ে এক জায়গায় নেমে গেলাম এবং গাধাটিকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম। অতঃপর আমি কাতারে ঢুকে পড়লাম। আমার এ কাজে কেউ আপত্তি করলেন না। (৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

253

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ে দেরি করলেন। অবশেষে ‘উমার (রাযি.) তাঁকে আহবান করে বললেন, নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ আর এ সালাত আদায় করে না। (রাবী বলেন,) সে সময় মাদ্বীনাবাসী ছাড়া আর কেউ সালাত আদায় করতো না। (৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

254

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে কখনো ‘ঈদের মাঠে গমন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, গেছি। তবে তাঁর নিকট আমার যে মর্যাদা ছিল তা না থাকলে আমি অল্প বয়ষ্ক হবার কারণে সেখানে যেতে পারতাম না। তিনি কাসীর ইবনু সালাতের বাড়ির নিকট যে নিশানা ছিল সেখানে আসলেন (সালাত আদায়ের) পরে খুত্বা দিলেন। অতঃপর মহিলাদের নিকট গিয়ে তিনি তাদের ওয়ায ও নাসীহাত করেন। এবং তাদের সদাক্বাহ করতে নির্দেশ দেন। ফলে মহিলারা তাঁদের হাতের আংটি খুলে বিলাল (রাযি.)-এর কাপড়ের মধ্যে নিক্ষেপ করতে থাকলেন। অতঃপর নবী ও বিলাল (রাযি.) বাড়ি পৌঁছলেন। (৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১৪ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

255

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ে দেরি করলেন। ফলে ‘উমার (রা,) তাঁকে আহবান করে বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেনঃ এ সালাতের জন্য পৃথিবীতে অন্য কেউ অপেক্ষারত নেই। সে সময় মদিনা্বাসী ছাড়া অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হতো না। তারা সুর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের লালিমা অদৃশ্য হবার সময় হতে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ‘ইশা সালাত আদায় করতেন। (৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

256

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের স্ত্রীরা রাতের বেলা মসজিদে আসতে চায় তাহলে তাদের অনুমতি দিবে। শু‘বাহ (রহ.).....ইবনু ‘উমার (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনায় ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৭৩, ৮৯৯, ৯০০, ৫২৩৮; মুসলিম ৪/৩০, হাঃ ৪৪২, আহমাদ ৫২১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

257

হিন্দ বিনত হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী সালামাহ (রাযি.) তাঁকে জানিয়েছেন, নারীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উঠে যেতেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায়কারী পুরুষগণ, আল্লাহ্ যতক্ষণ ইচ্ছা করেন অবস্থান করতেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল উঠলে পুরুষরাও উঠে যেতেন। (৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

258

‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন নারীরা চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের দরুণ তখন তাঁদেরকে চেনা যেতো না। (৩৭২) (আ.প্র, ৮১৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

259

আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাতে দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘায়িত করব বলে ইচ্ছা করি, অতঃপর শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করি এ আশংকায় যে, তার মা কষ্ট পাবে। (৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

260

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, নারীরা কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাঈলের নারীদের যেমন বারণ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। (রাবী) ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) বলেন,) আমি ‘আমরাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কি নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হাঁ। (মুসলিম ৪/৩০, হাঃ ৪৪৫, আহমাদ ২৬০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

261

উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তখন মহিলারা তাঁর সালাম শেষ করার পর উঠে যেতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানোর পূর্বে স্বীয় স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। রাবী যুহরী (রহ.) বলেন, আমাদের মনে হয়, তা এজন্য যে, অবশ্য আল্লাহ্ ভাল জানেন, যাতে পুরুষদের যাবার পূর্বেই নারীরা চলে যেতে পারে। (৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮২১ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

262

আনাস (ইবনু মালিক) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সুলাইম (রাযি.)-এর ঘরে সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম আর উম্মু সুলাইম (রাযি.) আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

263

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করতেন। অতঃপর মু’মিনদের স্ত্রীগণ চলে যেতেন, অন্ধকারের জন্য তাদের চেনা যেতনা অথবা বলেছেন, অন্ধকারের জন্য তাঁরা একে অপরকে চিনতেন না। (৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

264

‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কারো স্ত্রী যদি (সালাতের জন্য মসজিদে যাবার) অনুমতি চায় তাহলে তার স্বামী তাকে যেন বাধা না দেয়। (৮৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

265

আনাস (ইবনু মালিক) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সুলাইম (রাযি.)-এর ঘরে সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম আর উম্মু সুলাইম (রাযি.) আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

266